Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026

    ভুতুড়ে ট্রেন – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026

    ব্রাহ্মণ ভূত – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    সরস গল্প সমগ্র – তারাপদ রায়

    তারাপদ রায় এক পাতা গল্প1280 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    এখনই

    এখনই

    সংবাদসমীক্ষা

    অধ্যাপক সুদর্শন সেন বাইরের ঘরে বসে চা খেতে খেতে খবরের কাগজ পড়ছিলেন। তিনি নিজের পয়সা দিয়ে একটা ইংরেজি, একটা বাংলা, দুটো খবরের কাগজ রাখেন। এ ছাড়া আর একটি বাংলা কাগজে তিনি কখনও-সখনও প্রবন্ধাদি লিখে থাকেন বলে, পত্রিকা কর্তৃপক্ষ সেই কাগজটা তাঁকে বিনামূল্যে দেয়।

    এখন সকাল সাতটা। এখন থেকে সকাল নটা সাড়ে নটা পর্যন্ত তিনটে কাগজই তিনি প্রথম পৃষ্ঠার হেডলাইন, ফটো-ক্যাপশন থেকে শেষ পৃষ্ঠার প্রিন্টার্স-লাইন আগাগোড়া উলটে পালটে পড়বেন। অনেক অসঙ্গতি, ভুল বার করবেন।

    এই তো সেদিন মার্কিন রাষ্ট্রপতি কটকটি বিস্কুট খেতে খেতে আরাম করে চেয়ারে শরীর এলিয়ে দূরদর্শনে খেলা দেখছিলেন। হঠাৎ অজ্ঞান হয়ে মেঝেতে পড়ে যান। অবশ্য সঙ্গে সঙ্গেই তাঁর জ্ঞান ফিরে আসে। এরকম অবস্থা যেকোনও সুস্থ মানুষের যেকোনও সময় হতে পারে। এ হল সাময়িক ব্ল্যাক-আউট।

    মার্কিন রাষ্ট্রপতির এই হঠাৎ অজ্ঞান হওয়া, তা নিয়ে সারা পৃথিবী মাথা ঘামিয়েছে। সুদর্শনবাবুও মাথা ঘামিয়েছেন। কিন্তু সেটা একটু অন্য কারণে। তিনি যে কাগজ প্রতিদিন বিনামূল্যে পান, সেই কাগজে লিখেছে বুশসাহেব প্রেটজেল নামে ওষুধের ট্যাবলেট খেতে গিয়ে গলায় আটকে অজ্ঞান হয়ে যান।

    মার্কিনিদের কটকটি বিস্কুটের নাম প্রেটজেল, এটা কোনও ওষুধের ট্যাবলেট নয়। যিনি অনুবাদ করেছেন, ব্যাপারটা গুলিয়ে ফেলেছেন। প্রবীণ অধ্যাপক এ ধরনের ভুল মোটেই বরদাস্ত করেন না।

    সুদর্শনবাবু কাগজ পড়া থামিয়ে টেলিফোন করেন পত্রিকার সহকারী সম্পাদককে। সহকারী সম্পাদক রাজকমল রায় একদা অধ্যাপনা করতেন, সুদর্শনবাবুর সঙ্গে একই কলেজে পড়াতেন। পরে অধ্যাপনা ছেড়ে সাংবাদিকতায় চলে যান।

    এই রাজকমলবাবুই মাঝেমধ্যে সুদর্শনকে দিয়ে নানা বিষয়ে প্রবন্ধ লেখান। সংবাদ সাময়িকী জাতীয় রচনা সুদর্শন খুব ভাল লেখেন। তথ্যের প্রতি তাঁর কড়া দৃষ্টি, হেঁয়ালিহীন ভাষা।

    প্রেসিডেন্ট বুশ অজ্ঞান হওয়ার সংবাদ খুব গুরুত্ব দিয়ে বেরিয়েছিল রাজকমলবাবুদের কাগজে এবং সেখানেই বলা হয়েছিল, ওষুধের ট্যাবলেট গলায় আটকে বুশসাহেব অজ্ঞান।

    সুদর্শনবাবু তাঁর ওয়েবস্টারের বড় ডিকশনারিতে ওই প্রেটজেল শব্দের অর্থ ভাল করে যাচাই করে সেই সকালেই অনুজপ্রতিম রাজকমলকে ফোন করে বললেন, রাজকমল আজকের কাগজে ওটা কী করেছ?

    বলা বাহুল্য, রাজকমল ব্যাপারটার দায় এড়িয়ে যেতে চাইছিলেন, সুদর্শনবাবুকে অনুরোধ করলেন, দাদা চেপে যান। পাঠকেরা কেউ ওসব খেয়াল করবে না।

    তা সুদর্শনবাবু ভাল করেই জানেন। বেশ কয়েক বছর আগে ভারতীয় বিমানবাহিনীর প্রধান সুব্রত মুখার্জি বিদেশে ডিনারের আগে হঠাৎ হার্টফেল করে মারা যান। মৃত্যুর সময় তিনি অ্যাপেটাইজার খাচ্ছিলেন যার নাম হর্স-দ্য-অ্যাভুয়ার, ছোট বিস্কুটের ওপরে আচার বা চিজ বা একরত্তি খাদ্য, ফরাসি মুখরোচক। কিন্তু ওই হর্স শব্দটি বিভ্রান্ত করেছিল অনুবাদককে, পরদিন সকালে কাগজে ছাপা হল, ঘোড়ার মাংস গলায় ঠেকিয়া এয়ার মার্শালের মৃত্যু।

    এই ঘটনার পর বহুকাল চলে গেছে, কিন্তু এখনও কোথাও কোথাও শোনা যায় এয়ার মার্শালের ঘোড়ার মাংসের হাড় গলায় ঠেকে মৃত্যু হয়েছিল। এরই সূত্র ধরে অনেকে এ রকমও মন্তব্য করেন। যে, বাঙালির ছেলের ওরকম অখাদ্যকুখাদ্য না খাওয়াই উচিত।

    সে যা হোক, আজ সকালে ঘুম থেকে উঠে খবরের কাগজের পৃষ্ঠায় একটা অপেক্ষাকৃত কম গুরুত্বের সংবাদ নিয়ে মাথা ঘামাচ্ছেন অধ্যাপক সেন।

    তিনটে কাগজে সংবাদটা তিন রকমভাবে বেরিয়েছে। ইংরেজি দৈনিকে খুবই ছোট করে খবরটি ছাপা হয়েছে, সেখানে বলা হয়েছে যে মধ্য কলকাতায় এক পুরনো সমাজবিরোধীকে একটি অফিসে অগ্নিসংযোগের কালে হাতেনাতে ধরা হয়েছে। এর কারণ জানা যায়নি, পুলিশি তদন্ত চলছে।

    বাংলা কাগজগুলোর একটায় সংবাদটিকে যথেষ্ট গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। তাঁরা অবশ্য ঘটনাটি অন্যভাবে নিয়েছেন, তাঁদের সংবাদের ওপরে একটা ছোট হেডলাইন, পাগলের কীর্তি।

    ঘটনার বিবরণ প্রায় একই রকম। তবে এই সংবাদটিতে দুষ্কৃতকারীকে পুরনো সমাজবিরোধী না বলে বুড়ো পাগল বলা হয়েছে। আরও বলা হয়েছে যে উক্ত ব্যক্তি, যে ওই অফিসে আগুন লাগাতে গিয়েছিল, সে ওই অফিসেরই কর্তা ও মালিক।

    এই দুটি সংবাদেই বলা হয়েছে যে গ্রেফতারের সময় উক্ত ব্যক্তির হাতে এক বোতল কেরোসিন ছিল।

    তৃতীয় পত্রিকাটির একটু রঙচঙে খবরের দিকে ঝোঁক। এই পত্রিকাতেই রাজকমল আছেন এবং সুদর্শনবাবু লেখেন।

    এই কাগজে বেশ বড় করে হেডলাইন দিয়ে ছাপা হয়েছে।

    ছদ্মবেশী আতঙ্কবাদী পুলিশের জালে।

    এই পত্রিকার সংবাদেও একটু ব্যতিক্রম দেখা গেল। এরা লিখেছে সন্ত্রাসবাদীর হাতে পেট্রলের টিন ছিল, সে পেট্রলে রাইটার্স বিল্ডিংস, হাওড়া স্টেশনের মতো বড়ো বাড়ি পুড়িয়ে দেওয়া যায়। পুরো ব্যাপারটা গোয়েন্দা পুলিশ দেখবে। প্রয়োজনে সি-বি-আই, মার্কিনি এফ-বি-আই, এমনকি ইন্টারপোলের সাহায্য নেওয়া হবে।

    তিনটে পত্রিকাই চায়ের টেবিলের ওপরে পাশাপাশি ফেলে এই সামান্য ব্যাপারটির একটি সামঞ্জস্য রচনা করার চেষ্টা করছিলেন অধ্যাপক সেন।

    এটা তাঁর একটা বাতিক। সেই কবে ছোটবেলায় তাঁর জ্যাঠামশায় তাঁকে বলেছিলেন, পূর্ব-পশ্চিম, উত্তর-দক্ষিণ–এই যেমন চার দিক, প্রত্যেক ঘটনার তেমনই চার দিক আছে। প্রথম, আমি যেমন জানি বা দেখেছি। দ্বিতীয়, তুমি যেমন জান বা দেখেছ। তৃতীয়, সে যেমন জানে বা দেখেছে। আর চতুর্থ দিক হল, সত্যিই যা ঘটেছে।

    এই বয়সে এসে, প্রত্যহ সকালবেলা তিনটি খবরের কাগজের নানা রকম সংবাদ যাচাই করতে করতে জ্যাঠামশায়ের কথা মনে পড়ে যায় সুদর্শনবাবুর।

    বহুকাল পরলোকহত জ্যাঠামশায়ের উপদেশ মনে রেখে খবরের কাগজ খুঁটিয়ে দেখেন সুদর্শনবাবু।

    গরমিল সাধারণত বেশি দেখা যায় স্থানীয় সংবাদে। খুন-মারামারির বিবরণ এক এক কাগজ এক এক রকম ছাপে। সেগুলি বিশ্লেষণ করে ভালই সময় কাটে অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপকের।

    ঘটনার বিবরণে প্রকাশ

    তিনটি খবরের কাগজ পাশাপাশি বিছিয়ে আজ সকালে অধ্যাপক সুদর্শন সেন গভীর অভিনিবেশসহকারে অগ্নিসংযোগের একটা ঘটনার সমীক্ষা করছিলেন। রীতিমতো তুলনামূলক পর্যালোচনা।

    এরকম ব্যাপারে তাঁর কৌতূহল যতটা, ধৈর্য ততোধিক। দুয়েকবার মূল ঘটনা অনুধাবন করবার জন্যে সশরীরে সংবাদের উৎসমূলে গিয়ে খোঁজখবর করেছেন। সব সময় অভিজ্ঞতা সুখের হয়নি। অকুস্থলের লোকেরা তাঁকে সঙ্গত কারণেই সন্দেহের দৃষ্টিতে দেখেছে। একবার পুলিশের পাল্লায়ও পড়েছিলেন, কী প্রয়োজন, কেন এসব খোঁজ করছেন–এইসব প্রশ্ন।

    সেটা ছিল একই পাড়ার দুই প্রতিদ্বন্দ্বী দলের মধ্যে সাংঘাতিক মারামারির ঘটনা। দলে জনাবিশেক জখম হয়েছিল, দশজনকে হাসপাতালে পাঠাতে হয়েছিল, তার মধ্যে একজন, দু-কানকাটা বোঁচা নামে পরিচিত এক স্থানীয় মস্তান, মরণাপন্ন অবস্থায়।

    সাধারণত ঠাকুমা-দিদিমারা শিশুর নাক একটু বেশি চ্যাপটা হলে সেই নবজাতককে বোঁচা নামে সম্বোধন করতে থাকেন, যে ডাকনাম সারাজীবন মানুষটার সঙ্গে লেপটে থাকে, এমন কী তার ভাল নাম যদি হয় শান্তনীল কিংবা অপরাজিত তবু লোকসমাজে তার পরিচয় হয় বোঁচা, বোঁচাদা কিংবা বোঁচাবাবু নামে। কেউ কেউ মোটা বোঁচা, কিংবা নেকা বোঁচাতেও পরিণত হয়।

    এক্ষেত্রে সুদর্শনবাবু সমস্যার আরও গভীর প্রদেশে গিয়েছিলেন। কানকাটা বোঁচা কথাটা অধ্যাপক মহোদয়কে বিচলিত করেছিল। বোঁচা মানে যৎসামান্য নাক, তদুপরি কানকাটা, মাস্তান-ফাস্তান যাই হোক, নাক কান হীন মানুষটির জন্যে সরল প্রকৃতির দর্শনের অধ্যাপক সুদর্শন সেনের খুব মায়া হয়েছিল। খবরের কাগজে ঘটনার বিবরণ পাঠ করে তিনি ঘটনাস্থলে গিয়ে কানকাটা বোঁচার খবর নিতে গিয়েছিলেন।

    এলাকায় পুলিশের গোয়েন্দারা ঘোরাঘুরি করছিল, সুদর্শনবাবুর মহৎ উদ্দেশ্য তারা অনুধাবন করতে পারেনি, তাদের মনে সন্দেহ দেখা দেয়, তারা তাঁকে থানায় নিয়ে যায়।

    ভাগ্য ভাল যে ওই থানার এক দারোগা ছিল সুদর্শনবাবুর প্রাক্তন ছাত্র। ছাত্রজীবনে সুদর্শন স্যারের নানারকম খামখেয়ালিপনার বিষয় নিয়ে বন্ধুবান্ধবের সঙ্গে সে নিজেও খুব হাসাহাসি করেছে।

    একবার ক্লাসরুমে ঘরের ভেন্টিলেটারের চড়ুই পাখির বাসা থেকে পাখির ডিম মেঝেতে পড়ে ভেঙে যায়। সুদর্শনবাবু তখন পড়াচ্ছিলেন, ক্লাসে প্রায় দেড়শো ছাত্র–সব উপেক্ষা করে চড়ুই বাবা-মা প্রচণ্ড লাফালাফি, ঝাঁপাঝাঁপি চিৎকার-চেঁচামেচি করতে লাগল। পরের দিন বাজার থেকে একটা খুব ছোট মুরগির ডিম কিনে সেটা সুদর্শনবাবু রুমালে আলতো করে জড়িয়ে পকেটে নিয়ে কলেজে এলেন। তারপর একজন লম্বা ছাত্রকে অনুরোধ করে জানলায় উঠিয়ে ভেন্টিলেটারে চড়ুইয়ের বাসায় ডিমটা রেখে দেন। চড়ুই মা-বাবাকে ভোলানোর জন্যে এই ব্যবস্থা। ছাত্ররা কেউ কেউ বলেছিল, স্যার, চড়ুইয়ের এত বড় ডিম! চড়ুই মেনে নেবে না। আত্মসন্তুষ্ট অধ্যাপক সেদিন বলেছিলেন, ওই টুকু পাখি চড়ই, তার পক্ষে এই তারতম্য ধরা খুব সহজ হবে না।

    সেদিনের সেই ছাত্র এখন দারোগা। তিনি এখন নিজের চেয়ারে বসে টেবিলের পাশে দাঁড়ানো এক ছিঁচকে চোরের হাত-পায়ের গিটে গিটে রুলার দিয়ে মারছিলেন। থানায় মারধর নিষেধ। একধরনের আসামিদের বলা থাকে, চেঁচাবি না। যদি বাইরে কেউ টের পায় থানার পিছনের গ্যারেজে নিয়ে ডাণ্ডা-ধোলাই দেব। তাই প্রহৃত আসামিটি বিনা বাক্যব্যয়ে নীরবে অশ্রুবিসর্জন করছিল।

    এই সময়ে সুদর্শনবাবুকে নিয়ে গোয়েন্দাদের থানায় প্রবেশ। সেই চড়ুইয়ের বাসায় ডিম তুলে দেয়া লম্বা ছাত্রটি এখন দারোগা। তিনি এখন আসামিকে কেঁচকি দেওয়ার কথা ভাবছিলেন। পিঠের নীচে যেখানে মেরুদণ্ডের শুরু, উত্তমাঙ্গ এবং অধমাঙ্গ শরীরের এই দুই অংশের সীমানা, সেখানে দক্ষ হাতে পেটালে যথাসময়ে প্রহৃত ব্যক্তির হেঁচকি উঠতে থাকে, এই হেঁচকি অন্তত চব্বিশ ঘণ্টা থাকে। হেঁচকি তোলার এই মারকেই বলে কেঁচকি।

    সুদর্শন স্যারকে দেখে কেঁচকি মার মুলতুবি রেখে তাড়াতাড়ি দারোগাবাবু এগিয়ে এলেন, স্যার, আপনি এখানে?

    .

    তিনটি কাগজের তিন রকম খবর পাশাপাশি বিশ্লেষণ করতে করতে আজ সুদর্শনবাবু পরিষ্কার বুঝতে পারলেন ব্যাপারটা বেশ জটিল। যেটুকু বোঝা যাচ্ছে তা হল, এক বৃদ্ধ স্বহস্তে নিজের অফিসে অগ্নিসংযোগ করতে গিয়ে আনাড়ির মতো ধরা পড়ে গিয়েছেন।

    কিন্তু কেন তিনি এরকম করলেন? সুদর্শনবাবু ঠিক করলেন, ঘটনাস্থলে যাবেন। কী দুঃখে, কতটা দুঃখে সেই বৃদ্ধ নিজের অফিসে আগুন লাগাতে পারেন–সুদর্শনের সমবেদনাপূর্ণ বিশ্লেষণের জন্যে পরিপূর্ণ তথ্য প্রয়োজন। তিনি ঠিক করলেন, নিশ্চয় ঘটনাস্থলে যাবেন। কালকেই যাবেন।

    এরপর একটু ভাবলেন। গেলে দেরি করা উচিত নয়। আজকেই যাওয়া উচিত। আবার ভাবছেন খোঁজখবর করতে গিয়ে আবার ঝামেলার মধ্যে না পড়েন। তিনি যে নিতান্তই মানবিক কৌতূহলবশত এধরনের খোঁজখবর নিচ্ছেন এ কথা সকলকে বোঝানো কঠিন।

    ঠিক এই সময়ে সামনের দরজায় দ্রুত এবং ব্যস্ত করাঘাতে চিন্তায় ছেদ পড়ল অধ্যাপক সেনের। ধাক্কার চোটে দরজা ভেঙে যেতে পারে তাই তাড়াতাড়ি ছুটে গেলেন।

    একতলার সামনের দিকের এই ঘরটা এ বাড়ির বাইরের ঘর। এখানেই অধ্যাপক সেন চা খান, খবরের কাগজ পড়েন, লেখাপড়া করেন। ছাত্র-ছাত্রীরা এলে তাদের সঙ্গে কথা বলেন, বন্ধুবান্ধবদের সঙ্গে আড্ডা দেন।

    একতলা-দোতলার দু ঘর-দু ঘর ছোট চার ঘরের বাড়ি। রিটায়ার করার পর বাইরের ঘরটায় আশ্রয় নিয়েছেন সুদর্শনবাবু। শুধু স্নান-খাওয়া এবং শোয়ার জন্যে ভেতরে যান। ভেতরে গেলেই নানা ঝামেলা। এখুনি বাজারে যাও, ডাক্তার ডাক, না হলে ইলেকট্রিক মিস্ত্রিকে খবর দাও। এধরনের কাজ পছন্দ নয়, অবসরপ্রাপ্ত অকৃতদার অধ্যাপকের। ভ্রাতুস্পুত্রর সঙ্গে থাকেন। মাসের শেষে পেনশন থেকে চার হাজার টাকা ভ্রাতুস্পুত্রবধূর হাতে তুলে নিয়ে তিনি নিশ্চিন্তে বাইরের ঘরে অবসরজীবনের অধিকাংশ সময় অতিবাহিত করেন। সাধারণত কেউ তাঁকে বিশেষ ঘাঁটায় না। তিনি নিরিবিলিতেই থাকেন।

    তবে একটা কাজ তাঁকে করতেই হয়। সেটা হল এই বাইরের ঘরের দরজা খোলা আর বন্ধ করা। কেউ এ বাড়িতে আসতে গেলে বা এ বাড়ি থেকে যেতে গেলে এই একটা দরজাই ভরসা।

    যাচ্ছি। যাচ্ছি। বলে চেঁচিয়ে বাইরে যে ধাক্কা দিচ্ছিল তাকে নিবৃত্ত করে সুদর্শন গিয়ে বাইরের ঘরের দরজা খুললেন। সঙ্গে সঙ্গে জিনসের প্যান্ট এবং লাল-নীল স্ট্রাইপ শার্ট পরিহিতা এক উদ্ভিন্নযৌবনা অষ্টাদশী দুই হাতে তার নরম শরীরের মধ্যে সুদর্শনকে জাপটিয়ে ধরে কাঁদতে লাগল, ও দেড়তলার মামা, দাদুকে যে পুলিশ নিয়ে গেছে।

    দেড়তলার মামা

    এই পর্বে প্রবেশের মুখে দেড়তলার মামা এবং আনুষঙ্গিক ব্যাপারগুলি পরিষ্কার করে না বললে পাঠক-পাঠিকার প্রতি অন্যায় করা হবে।

    এই মাত্র প্রবীণ অধ্যাপককে দেড়তলার মামা সম্বোধন করে যে বিস্ৰস্তবসনা এই বাইরের ঘরে এবং কাহিনিতে প্রবেশ করল, তার নাম ঝিমলি, সেই ঝিমলির মাতামহের বাড়ির দেড়তলার ঘরে প্রথম জীবনে বেশ কয়েক বছর সুদর্শনবাবু ভাড়া ছিলেন। মফস্সল থেকে এম.এ. পাশ করে কলকাতায় এসে অধ্যাপনার কাজে যোগ দিয়েছিলেন। সেই সময়ে দেড়তলার বড়সড় ঘরটিতে ডেরা বাঁধেন। অনেক পরে, সাত ঘাটের জল ঘেঁটে অবশেষে একসময় দোতলা বাড়িতে ঠাঁই জুটেছে।

    তা, এই বাড়ির দোতলায় বাড়িওলা তারিণীবাবু থাকেন। দেড়তলা মানে মেজানিন ফ্লোরে সুদর্শনবাবু ছাড়াও একতলায় আরও দু-তিন ঘর ভাড়াটে ছিলেন। বাড়িটা মানিকতলা অঞ্চলে।

    সুদর্শনবাবুর মনে আছে ও বাড়িতে কেউ তাঁকে নাম ধরে ডাকত না। তারিণীবাবু এবং তাঁর স্ত্রী তাঁকে একটু স্নেহের সঙ্গে দেড়তলার ছেলেটি বলতেন। তখনও বর্তমান ঝিমলির মা রমা বেশ ছোট, আট-দশ বছর বয়স হবে। সে সুদর্শনবাবুর খুব ন্যাওটা ছিল। দেড়তলার দাদার চারপাশে ঘুরঘুর করত।

    চিরকুমার সুদর্শনবাবুর এখন মনে পড়লে হাসি পায়, রমা কলেজে পড়ার সময় একবার তার সঙ্গে বিয়ের তোড়জোড় হয়েছিল। সেই সময়েই প্রায় জোর করেই সুদর্শনবাবু ওখান থেকে উঠে একটা মেসে চলে গিয়েছিলেন।

    কিন্তু সম্পর্ক ছিন্ন হয়নি। বাড়িওলা তারিণীবাবু সুদর্শনবাবুর নিয়মিত খোঁজখবর রেখেছেন, তা তিনি যেখানে যখন থেকেছেন। এমনকী সুদর্শনবাবুর কলেজেও গেছেন। দরকারে এবং অদরকারে। সুদর্শনবাবুকেও ও বাড়িতে যেতে হয়েছে। রমার বিয়ের আগে পর্যন্ত রমা তাঁকে নিয়মিত ভাইফোঁটা দিয়েছিল, শুধু যে সময় রমার সঙ্গে বিয়ের কথা উঠেছিল সেই দু-এক বছর বাদ দিয়ে।

    এ ছাড়া নববর্ষ, বিজয়া দশমী, উৎসবে-অনুষ্ঠানে তারিণীবাবুর বাড়িতে অবারিত দ্বার সুদর্শনের।

    তিরিশ পঁয়তিরিশ বছর কম সময় নয়। রমা বড় হল। রমার বিয়ে হল। তারিণীবাবুর স্ত্রীকে, যদিও বয়সের তেমন ব্যবধান ছিল না, সুদর্শন অন্যান্য ভাড়াটের দেখাদেখি মাসিমা বলতেন। সেই মাসির সঙ্গে ঘুরে ঘুরে রমার বিয়ের বাজার করলেন। এমনকী রমার বিয়েতে সাত পাকের সময় পিড়ি পর্যন্ত ধরেছিলেন।

    সেই রমা বিয়ে হয়ে দিল্লি চলে গেল। পরে একদিন বিধবা হয়ে শিশুকন্যা ঝিমলিকে নিয়ে কলকাতায় ফিরে এল। ঝিমলি একেবারে ছোটবেলার রমার মতো দেখতে, তারও একই দোষ, সেও সুদর্শনের খুব ন্যাওটা। কবে সুদর্শন তারিণীবাবুর বাড়ির দেড়তলায় থাকতেন সেই সূত্রে রমা তাঁকে দেড়তলার দাদা বলত, এখন রমার মেয়ে ঝিমলি তাঁকে দেড়তলার মামা বলে।

    .

    এতক্ষণ এ গল্পের আশেপাশের চরিত্র ইত্যাদি নিয়ে অনেক কিছু বলা হল কিন্তু এই গল্প যাঁর জন্যে, এই গল্পের যিনি মূল ও মুখ্য চরিত্র সেই তারিণীবাবু সম্পর্কে প্রায় কিছুই বলা হয়নি।

    এ কাহিনিতে তারিণীবাবুর পদবি বা উপাধি অপ্রয়োজনীয়। অশীতিপর সুস্থ, সচল, কর্মময় বাঙালি একালে বিরল। সেদিক থেকে তারিণীবাবু উল্লেখযোগ্য ব্যক্তিত্ব।

    মানিকতলার মোড়ের কাছে একটা ছোট বাড়ি আর বউবাজারের কালীবাড়ির পশ্চিমে একটা দুশো বছরের পুরনো গলিতে ভাঙা তিনতলা বাড়ির পুরো একতলা জুড়ে, তারিণীবাবুর পৈতৃক ব্যবসায় ভারত স্টেশনার্স অ্যান্ড সাপ্লায়ার্স।

    চিরকাল অবশ্য এ নাম ছিল না, প্রথমে নাম ছিল, ইম্পিরিয়াল স্টেশনার্স। এরপর প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পর নাম হয় ভিক্টরি সাপ্লায়ার্স। পরে চল্লিশের দশকে মুসলিম লিগের আমলে নাম পালটিয়ে করা হয়, মুন অ্যান্ড স্টার স্টেশনার্স অ্যান্ড সাপ্লায়ার্স। তবে গত পঞ্চাশ বছর ধরে ভারত স্টেশনার্স অ্যান্ড সাপ্লায়ার্স নামটি চলছে।

    মধ্য কলকাতায় বিবাদী বাগের কাছাকাছি অঞ্চলে ওই রকম কোম্পানি অনেক আছে। এগুলি অধিকাংশই বাঙালি মধ্যবিত্তের পুরনো ব্যবসা। এদের কাজ হল বিভিন্ন সরকারি এবং সওদাগরি দপ্তরে অফিসের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র, কলম পেনসিল, আলপিন থেকে আলমারি–যা কিছু একটি অফিসের প্রয়োজনে লাগে এইসব সরবরাহ করা। ছোটখাটো ছাপার কাজ, ফর্ম, মেমো, প্যাড, ভিজিটিং কার্ড, এমনকী বার্ষিক রিপোর্ট পর্যন্ত এইসব কোম্পানির মাধ্যমে মুদ্রিত হয়।

    সাদা বাংলায় এর নাম সাপ্লাইয়ের ব্যবসা। এঁরা বাজার থেকে জিনিস সংগ্রহ করে বিভিন্ন অফিসে তাদের চাহিদামতো সরবরাহ করেন। কেনাবেচার মধ্যে যে ফারাক থাকে সেইটাই লাভ।

    .

    আজ সকালে হঠাৎ বিপর্যস্ত এবং উত্তেজিত অবস্থায় ঝিমলিকে বাড়িতে আসতে দেখে সুদর্শনবাবু বুঝলেন নিশ্চয়ই কিছু একটা বড় রকমের গোলমাল হয়েছে তারিণীবাবুর বাড়িতে।

    সোফায় বসিয়ে ভেতরের ঘর থেকে এক গেলাস জল এনে ঝিমলির হাতে দিয়ে বললেন, আগে জল খেয়ে নে। তারপর কী হয়েছে শুনছি।

    গলা-পিঠ আর মুখের ঘাম রুমাল দিয়ে আলগোছে মুছে নিয়ে ঝিমলি বলল, সর্বনাশ হয়ে গেছে, দেড়তলার মামা। মা আমাকে তোমার কাছে পাঠাল।

    মুখোমুখি বসে ঝিমলির মুখের দিকে তাকিয়ে সুদর্শনবাবুর অনেকদিন আগের সব কথা মনে পড়ল। ঝিমলির মা রমা এই বয়সে ঠিক এই রকমই দেখতে ছিল। এই বয়সেই রমার সঙ্গে তাঁর বিয়ের কথা উঠেছিল।

    হাতের গেলাসের জলটা কিন্তু খেল না ঝিমলি। একটু বসেই উঠে পড়ল, সুদর্শনবাবুর হাত ধরে টানল। বলল, দেরি করা যাবে না। আমাদের খুব বিপদ। তুমি আমার সঙ্গে চলো। মা কী করবে বুঝতে পারছে না।

    কী হয়েছে? কী করবে? আমিও তো কিছু বুঝতে পারছি না। ব্যাপারটা কী আগে বল তো?

    ঝিমলি বলল, সাংঘাতিক ব্যাপার। দাদুকে কাল পুলিশ ধরেছে।

    অবাক হয়ে সুদর্শনবাবু বললেন, তারিণীবাবুকে পুলিশে ধরেছে? কেন?

    আমরা তা জানি না, ঝিমলি বলল, তবে থানা থেকে খবর দিয়েছে, দাদু নাকি অফিসঘরে আগুন লাগানোর চেষ্টা করেছিলেন। সেই সময় তাঁকে লোকজনেরা ধরে পুলিশের হাতে তুলে দেয়।

    ঝিমলির কথা শুনে সুদর্শনবাবুর আজ একটু আগে পড়া অগ্নিসংযোগের সংবাদগুলি মনে পড়ল। তাড়াতাড়ি জামাকাপড় বদলিয়ে, খবরের কাগজ তিনটে হাতে নিয়ে তিনি ঝিমলির সঙ্গে বেরিয়ে পড়লেন।

    শেষ কথা

    অধ্যাপক সুদর্শন সেনের বর্তমান বাসা থেকে তাঁর প্রাক্তন বাসা, ঝিমলির মাতামহ তারিণীবাবুর বাড়ি খুব দূরে নয়। ট্যাক্সিতে বড়জোর মিনিট দশেক লাগে।

    ট্যাক্সি থেকে নামামাত্র ঝিমলি দৌড়ে গিয়ে মাকে খবর দিল যে, দেড়তলার মামা এসেছে।

    রমা বোধহয় এতক্ষণ নীরবে চিন্তা করছিল। এবার অধ্যাপক সেনের আগমনে হাউমাউ করে কেঁদে উঠল। কিন্তু খুব বেশিক্ষণ ধরে হাউমাউ করার সুযোগ মেলেনি।

    সুদর্শনবাবুরা আসবার প্রায় সঙ্গে সঙ্গে তাঁদের ট্যাক্সির পিছনে একটি পুলিশভ্যান থামে। তার মধ্য থেকে তারিণীবাবুকে সঙ্গে করে একজন পুলিশ কর্মচারী নামেন। তিনি বাইরের ঘরে ঢুকে রমার কাছে তারিণীবাবুকে সমর্পণ করে বললেন, বুড়ো কর্তার মাথার গোলমাল হয়েছে। না হলে কেউ নিজের অফিসে আগুন লাগাতে যায়।

    ভদ্রলোক চলে যাচ্ছিলেন, অধ্যাপক সেন একটু বিচলিত কণ্ঠে বললেন, বহু ধন্যবাদ। কিন্তু কোনও দিন কোথাও এর আগে দেখেছি বলে মনে পড়ে না যে, থানা থেকে মুক্ত আসামিকে বাড়ি পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে।

    এই কথা শুনে পুলিশের ভদ্রলোক নিজের বুকের একটা ব্যাজের দিকে অঙ্গুলি নির্দেশ করে বললেন, দেখতে পাচ্ছেন না, জনসংযোগ সপ্তাহ চলছে? ভদ্রলোক রাগে গরগর করতে করতে চলে গেলেন।

    এদিকে তারিণীবাবুর ভয়াবহ বিধ্বস্ত অবস্থা। তাঁর এই সাতাত্তর বছর বয়সে জীবনের প্রথম হাজতবাস সে খুব সামান্য ব্যাপার নয়। মারধর না করুক, সারা রাত অভুক্ত অবস্থায় মেঝেতে বসে, এক পাল চোর-গুণ্ডার সঙ্গে বেশ তিক্ত অভিজ্ঞতা হয়েছে।

    একটু বসে ধাতস্থ হয়ে বাথরুমে গিয়ে জামাকাপড় ছেড়ে স্নান করে এলেন তারিণীবাবু। রমা মেয়েকে সঙ্গে নিয়ে এরই মধ্যে আলু আর লুচি ভেজে ফেলেছে। তারিণীবাবু বাইরের ঘরে আসতে তাঁর সঙ্গে জলখাবার খেতে খেতে সুদর্শনবাবু সঙ্গে আনা খবরের কাগজ তিনটে তারিণীবাবুকে দেখিয়ে বললেন, আপনার কীর্তিকলাপ সবই এইসব কাগজে প্রকাশিত হয়েছে।

    তারিণীবাবু ওই সংবাদ শুনে বিশেষ বিচলিত হলেন বলে মনে হল না। শুধু জিজ্ঞাসা করলেন, নাম-ধাম কিছু দিয়েছে নাকি?

    সুদর্শনবাবু বললেন, না তা নয়? কিন্তু আসল ব্যাপারটা কী?

    সুদর্শনবাবুর প্রশ্নটা এড়িয়ে গিয়ে তারিণীবাবু আবার প্রশ্ন করলেন, তোমরা জানলে কী করে?

    সুদর্শনবাবু বললেন, আমাকে রমা জানিয়েছে। রমাকে জানিয়েছে বোধহয়…।

    কথা শেষ হওয়ার আগে রমা বলল, আমাকে তো কেউ কিছু কাল বলেনি। হাসপাতালে ফোন করেছি। লালবাজারে ফোন করেছি। অবশেষে আজ সকালে খবর পেলাম তোমাকে পুলিশ ধরেছে।

    পুলিশ ধরেছিল। তা ছেড়েও তো দিয়েছে। খুব জব্দ করা গেছে পুলিশকে।তারিণীবাবু হাসতে হাসতে বললেন।

    মূল ঘটনাটা কী সেটা জানার জন্যে খুবই কৌতূহলী হয়ে পড়লেন সুদর্শন। কিন্তু কতক্ষণ অপেক্ষা করা যায়? চট করে কোনও কিছু তারিণীবাবু কবুল করবেন বলে মনে হচ্ছে না।

    অবশ্য একটা সুবিধে হয়ে গেল, অন্য ভাবে।

    একটু আগে ঝিমলি বাজারের থলে হাতে বেরিয়ে গিয়েছিল। বাজার থেকে ফিরে রান্নাঘরে বাজারটা নামিয়ে দিয়ে এসে সে বলল, দেড়তলার মামা, তুমি দুপুরে এখান থেকে খেয়ে যাবে। তারপর লোভ দেখাল, চিতলমাছের পেটি এনেছি। বড় বড় পেটি। দাদুর ফিরে আসা সেলিব্রেট করতে হবে।

    .

    দাদুর ফিরে আসা ভালই সেলিব্রেট করা হল।

    রমা ভাল রান্না করে, একেবারে ওর মায়ের মতো। প্রথম যৌবনে প্রবাসের দিনে রমার মায়ের রান্না কারণে-অকারণে কতবার যে খেয়েছেন সুদর্শন। সেসব স্বাদ এখনও জিভে লেগে আছে।

    আজ রমার রান্না মটরের ডাল ছড়ানো আদাবাটা মাখা লাউয়ের তরকারি, কাঁচা লঙ্কা, কাঁচা টমাটো দিয়ে মাখো মাখো রাঙা আলু আর রাঙা কুমডোর যুগলবন্দি, হালকা সরষেবাটা দিয়ে চিতল মাছের ঝোল আর সব শেষে গুড়, লঙ্কা, গন্ধরাজ লেবুর রস আর খোসা ছাড়ানো সেদ্ধ কাঁচা তেঁতুলের অম্লমধুর স্বাদ, পুরো মধ্যাহ্নভোজন ব্যাপারটা অনির্বচনীয় করে তুলেছিল।

    এই সুখাদ্যের জন্যেই হয়তো, তারিণীবাবু শেষ পাতে তেঁতুলের চাটনি চাটতে চাটতে সব কথা বলে ফেললেন।

    সেসব কথা গুছিয়ে বলা যাবে না। সময়াভাব, স্থানাভাব আছে।

    তা ছাড়া সব সময় সব কথা বলারও কোনও প্রয়োজন নেই।

    এই কাহিনির জন্যে যেটুকু প্রয়োজন শুধুমাত্র সেটুকু বললেই যথেষ্ট।

    আর দেরি নয়, এখনই

    আজ কিছুদিন হল তারিণীবাবুর ভারত সাপ্লায়ার্স কোম্পানির ব্যবসা ভাল চলছে না। এ জাতীয় সব ব্যবসারই এখন খারাপ অবস্থা।

    ভারত সাপ্লায়ার্সের শতকরা নব্বই ভাগ কাজ সরকারি অফিসগুলির সঙ্গে।

    আজ কয়েক বছর হল সরকারি অফিসগুলো থেকে বিলের পেমেন্ট পেতে খুব দেরি হচ্ছে। আগে সারা বছরের বিলের পেমেন্ট আর্থিক বছরের শেষে একত্রিশে মার্চের মধ্যে পাওয়া যেত। তারপরে আগের বছরের বিলের পেমেন্ট পরের বছরের মার্চ মাসে পাওয়া যেত।

    আজকাল আর সেসব ব্যাপার নেই। কোন বিলের টাকা কবে পাওয়া যাবে, তার কোনও নিশ্চয়তা নেই।

    আগে যেমন এ বছরের বিল এ বছরেই পাওয়া যেত। না হলে, বড়জোর সামনের বছরে। কিন্তু আজকাল পাঁচ-সাত বছরেও বিল পাশ হয় না। তারিণীবাবুর হিসেব এরকম, তিনি এখনও চুরানব্বই-পঁচানব্বই সালের বিলের পেমেন্ট পাননি। কবে পাবেন জানেন না।

    তার মানে সারা বছরের পেমেন্ট বাকি। ভারত সাপ্লায়ার্সের মাত্র দশ বারো জন কর্মচারির মাইনের টাকা সংগ্রহ করতেই তারিণীবাবু হিমসিম খেয়ে যাচ্ছেন। দুয়েকটা বেসরকারি সংস্থার কাজ হাতে আছে, খোলা বাজারের কেনাকাটায় কিছু কমিশন থাকছে। কোনও রকমে চালিয়ে যাচ্ছিলেন তারিণীবাবু, কিন্তু তাঁরও সাপ্লায়ার্স বোধহয় আর জোড়াতালি দিয়ে চলবে না।

    তারিণীবাবুর অফিসের ম্যানেজার স্বর্ণেন্দু নামে এক বি.কম পাশ যুবক। বেশ চটপটে এবং কাজের ছিল ছেলেটা, কিন্তু সরকারি অফিসের বিল আদায়ে মোটেই সুবিধে করতে পারছে না। তা ছাড়া আজ কয়েক মাস হল তহমিনা নামে একটি লাজুক মেয়েকে এমপ্লয়মেন্ট টাইপিস্ট পদে নিযুক্ত করেছেন।

    সারাদিন এই তহমিনার সঙ্গে স্বর্ণেন্দুর কী সব গুজগুজ, ফুসফুস। তার আর কোনও কাজেই মন নেই। তাকে দিয়ে বিল আদায়ের কাজ অসম্ভব।

    জগন্ময়বাবু আছেন পুরনো ক্যাশিয়ার। আগে তিনিও প্রয়োজনে বিলের তাগাদা দিতে যেতেন। কিন্তু কোমরে বাত হওয়ায় আজকাল আর বিশেষ হাঁটাহাঁটি করতে পারেন না। কোনও রকমে অফিসে এসে বসে থাকেন, আর সদাসর্বদা ছোট ছোট স্লিপে কী সব হিসেব করেন।

    এ ছাড়া বাকি ছয়-সাতজন তারা সবাই ধান্দায় ঘুরছে। অধিকাংশই বিশ্বাসযোগ্য নয়, কিন্তু কাউকে বলা যাবে না। কোনও গুরুত্বপূর্ণ কাজের দায়িত্বও দেওয়া যাবে না। এদিকে মাঝেমধ্যেই ইনকিলাব জিন্দাবাদ করতে করতে সরকারি হারে মহার্ঘভাতা দাবি করে চেঁচায়। কোম্পানির টাকা কোথা থেকে আসবে, তা নিয়ে এরা যদি একটুও ভাবত।

    ভাবতে হয় তারিণীবাবুকেই। তাই আজকাল তিনি নিজেই বিলের তাগাদায় যান। বিভিন্ন সরকারি অফিসে ঘোরেন।

    সম্প্রতি সরকারি অফিসগুলিতে তাড়াতাড়ি কাজ হওয়ার একটা চেষ্টা চলেছে। কিন্তু বিল পেমেন্টের ক্ষেত্রে তাতে কোনও লাভ নেই। বিল পাশ হলে কী হবে, সরকারের ঘরে অর্থ না থাকলে বিলের টাকা আসবে কোথা থেকে।

    আজকাল বিভিন্ন অফিসে একটা নতুন জিনিস দেখতে পাচ্ছেন তারিণীবাবু। খুব পছন্দ হয়েছে তাঁর।

    জিনিসটা একটা বিজ্ঞপ্তি। বড় বড় হরফে হিন্দি, বাংলা, ইংরেজি এবং উর্দুতে লেখা

    আর দেরি নয়, এখনই।
    যার যা করবার আছে
    এখনই করে ফেলুন।

    পোস্টারের মতো মুদ্রিত এই বিজ্ঞপ্তিগুলি একটা অফিসের দেয়ালের বিভিন্ন জায়গায় সেই অফিসের দুজন পিয়ন আঠা দিয়ে লাগাচ্ছিল। তাদের কাছে চাইতে তারা সানন্দে একটা পোস্টার তারিণীবাবুকে দিয়ে দিল।

    পরের দিন সকাল সকাল অফিসে গিয়ে ভেতরের দিকে একটা দেয়ালে এই পোস্টারটি স্বহস্তে তারিণীবাবু লাগালেন। অফিসে এসে সবাই খুব মনোযোগ দিয়ে দেখল।

    তারিণীবাবু সবাইকে ঘুরে ঘুরে বললেন, বিজ্ঞপ্তিটা খেয়াল রাখবেন। হাতের কাজ মোটেই ফেলে রাখবেন না। যার যা কাজ এখনই করে ফেলুন। এখনই।

    .

    তারিণী কল্পনাও করতে পারেননি, এই বিজ্ঞপ্তির পরিণাম কী ভয়াবহ হতে পারে।

    তাঁর খাস আর্দালি রামলাল বছর খানেক হল দু মাসের ছুটি চাইছিল দেশে যাওয়ার জন্যে। ওই বিজ্ঞপ্তি দেখার সঙ্গে সঙ্গে সে, অন্যান্যবারের মতো তারিণীবাবু যাতে বাধা দিতে না পারেন তাই কোনও রকম ঝুঁকি না নিয়ে টেবিলে একটি ছুটির দরখাস্ত রেখে দেশে রওনা হয়ে গেল।

    এর অল্প পরেই আর একটা দরখাস্ত এল, তাতে যুগ্ম স্বাক্ষর স্বর্ণেন্দু এবং তহমিনার। দরখাস্তে লেখা আছে।

    শ্রদ্ধেয় স্যার,
    আর দেরি নয়, এখনই। বিজ্ঞপ্তি পাঠ করে অনুপ্রাণিত হয়ে আমরা এত দিন যা নিয়ে ইতস্তত করছিলাম সেই বিয়ের ব্যাপারে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছি। এখন ম্যারেজ রেজিস্ট্রারের কাছে যাচ্ছি। বিয়ে, হনিমুন ইত্যাদি বাবদ আমরা কেউ মাস দেড়েক অফিসে আসতে পারব না।
    ছুটি ও আশীর্বাদ প্রার্থনা করি,
    তহমিনা এবং স্বর্ণেন্দু।

    .

    এর পরে আরও সব দরখাস্ত। বিজ্ঞপ্তি পাঠ করে সবাই উজ্জীবিত হয়েছে যা করার আছে এখনই করে ফেলার জন্য। সবচেয়ে ভয়ানক চিঠি ক্যাশিয়ারবাবুর। সেই যে কাগজের টুকরোগুলোর কী সব খুচখাচ হিসেব রাখতেন, সেইসব হিসেব আলপিন দিয়ে গেঁথে সঙ্গে চিঠি দিয়ে জানিয়েছেন।

    কোম্পানির ক্যাশখাত অনুযায়ী নগদ যে এক লক্ষ দশ হাজার টাকা থাকার কথা তাহার মধ্যে বেয়াল্লিশ হাজার টাকা আমি ইতিমধ্যে তছরুপ করেছি, হিসাব সঙ্গের স্লিপগুলিতে আছে। বাকি আটষট্টি হাজার টাকা সঙ্গে নিয়ে গেলাম। আমাকে খুঁজিবার চেষ্টা করিবেন না।

    দুপুরের মধ্যে অফিস প্রায় ফাঁকা। যে চার-পাঁচজন ছিল তারা একজোট হয়ে তারিণীবাবুকে ঘেরাও দিল, সরকারি হারে মহার্ঘভাতা দিতে হবে, দিতেই হবে। আজ থেকেই দিতে হবে। তারা তারিণীবাবুকে দিয়ে কবুল করিয়ে অবশেষে সন্ধ্যা ছয়টার পরে গেল।

    ঘেরাও থাকা অবস্থায় চুপচাপ বসে বসে তারিণীবাবু নিজেও কী করবেন স্থির করে ফেলেন।

    আজ এখনই করতে হবে, আর দেরি নয়।

    কাজটি সাংঘাতিক। অগ্নিসংযোগ। আজ পঁচিশ বছর ধরে বছরে বছরে দশ হাজার টাকা করে ফায়ার ইনসিওরেন্স প্রিমিয়াম দিয়ে আসছেন। কখনও এক পয়সা উসুল হয়নি। এবার সুযোগ এসেছে, অফিস পুড়ে গেলে অগ্নিবিমাবাবদ লাখ পনেরো টাকা পাওয়া যাবে।

    যেমন চিন্তা, তেমন কাজ। অফিসের প্যাসেজে, চা করার সাজসরঞ্জাম, জনতা স্টোভ, কয়েক বোতল কেরোসিন তেল আছে। এক বোতল তেল নিয়ে দেয়ালে যেখানে আর দেরি নয়, পোস্টারটি সেঁটেছিলেন সেখানেই প্রথমে কেরোসিন তেল ঢেলে আগুন লাগাতে যান। দুঃখের বিষয়, পাশের গঙ্গা কেমিক্যালস কোম্পানির দারোয়ান ব্যাপারটা দেখে ফেলে।

    তারপর হইচই পুলিশ ইত্যাদি। তবে পুলিশ জেরা করার পরেও ঘুণাক্ষরেও বুঝতে পারেনি তারিণীবাবু ইন্সিওরেন্সের টাকার জন্যে আগুন লাগাচ্ছিলেন। পুলিশ ভেবেছে, এটা বাণিজ্যে অসফল বৃদ্ধের পাগলামি।

    .

    তারিণীবাবুর কাহিনি শেষ হতে হতে দুপুর গড়িয়ে গেছে। ঝিমলি গিয়ে বিকেলের চা করে নিয়ে এল।

    চা খেয়ে ধীরে ধীরে সুদর্শন সেন বাড়ির দিকে ফিরলেন। তাঁর জীবনে এই প্রথম একটা সংবাদ যার চার দিকই তিনি দেখতে পেয়েছেন।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40 41 42 43 44 45 46 47 48 49 50 51 52 53 54 55 56 57 58 59 60 61 62 63 64 65 66 67 68 69 70 71 72 73 74 75 76 77 78 79 80 81 82 83 84 85 86 87 88 89 90 91 92 93 94 95 96 97 98 99 100 101 102 103 104 105 106 107 108 109 110 111 112 113 114 115 116 117 118 119 120 121 122 123 124 125 126
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleখাজুরাহ সুন্দরী
    Next Article কীর্তিহাটের কড়চা – তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়

    Related Articles

    তারাপদ রায়

    রম্যরচনা ৩৬৫ – তারাপদ রায়

    August 22, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026
    Our Picks

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026

    ভুতুড়ে ট্রেন – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026

    ব্রাহ্মণ ভূত – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }