Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026

    ভুতুড়ে ট্রেন – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026

    ব্রাহ্মণ ভূত – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    সরস গল্প সমগ্র – তারাপদ রায়

    তারাপদ রায় এক পাতা গল্প1280 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    সার্জন সাহেবের বাড়িতে

    সার্জন সাহেবের বাড়িতে

    বছর কুড়ি আগে একটা সরকারি চাকরি নিয়ে দিল্লি চলে গিয়েছিলেন দিগন্ত রায়চৌধুরী। কলকাতার আচ্ছা ছেড়ে, সংসার গুটিয়ে প্রথম যখন দিগন্তবাবুকে দিল্লি যেতে হল নিতান্তই জীবিকার প্রয়োজনে, তাঁর মনে হয়েছিল খুব বেশিদিন হয়তো কলকাতা ছেড়ে টিকতে পারবেন না।

    কিন্তু তারপরে যেরকম হয় যথাসময়ে দিল্লির সঙ্গে দিগন্তবাবু নিজেকে মানিয়ে নিয়েছেন। এখন সেখানেই পাকাপাকি বসবাস। এমনকী অবসর গ্রহণের পরে দিল্লিতেই থেকে যাবেন বলে দক্ষিণ দিল্লির শেষপ্রান্তে একটা ছোটখাটো ফ্ল্যাটও বায়না করেছেন।

    আগে তবু কালেভদ্রে দু-চার বছরে এক-আধবার কোনও না কোনও কারণে কলকাতায় আসা হত। একবার ভাইপোর পইতে, একবার বিশেষ ঘনিষ্ঠ বন্ধুর বিয়ে, আরও দুবার অফিসের টুকটাক কাজ নিয়ে কলকাতায় এসেছিলেন দিগন্তবাবু। আত্মীয়স্বজন, ঘনিষ্ঠ বন্ধুবান্ধব, পুরনো অফিসের সহকর্মীদের সঙ্গে দেখা-সাক্ষাৎ হয়েছিল।

    সেসবও অনেক দিন, অনেক বছর হয়ে গেল। কলকাতার প্রতি আকর্ষণ ক্রমশ কমে এসেছে। প্রধান আত্মীয়দের এখন অনেকেই কলকাতা এবং জগৎসংসারের মায়া কাটিয়ে পরলোকে প্রস্থান করেছেন। দু-একজন বন্ধুও সে পথ অনুসরণ করেছে। আর বাকিরা ছড়িয়ে ছিটিয়ে নানা জায়গায়, তাদের নিজেদের মধ্যেও কদাচিৎ দেখা হয়। আবার তাদের মধ্যে কেউ কেউ এখন দিগন্তবাবুর মতোই প্রবাসী, দু-একজন বিদেশেও স্থায়ী আস্তানা গেড়েছে।

    বছর পাঁচেকের মধ্যে কলকাতায় আসা হয়নি। শেষবার যখন এসেছিলেন সেও খুব অল্প সময়ের জন্য। অফিসের একটা কাজ ছিল, শুক্রবার এসেছিলেন, সে দিনটা অফিসের ব্যাপারে গেল, তারপর দুদিন শনিবার রবিবার ছুটি ছিল, সেই দুটো দিন কলকাতায় কাটিয়ে সোমবার ভোরের বিমানে দিল্লি ফিরেছিলেন দিগন্ত।

    ওই ছুটির দিন দুটোয় বন্ধুবান্ধব একটু জমায়েত করে আগের মতো হই-হুঁল্লোড় করার ইচ্ছে ছিল তার। দুঃখের কথা সেবার তার সে আশা পূর্ণ হয়নি। বেশ কয়েকজনের সঙ্গে যোগাযোগ করাই সম্ভব হল না। কারও কারও ঠিকানা বদল হয়েছে। যাদের টেলিফোন আছে তাদেরও টেলিফোন নম্বর বদলিয়ে গেছে কিংবা টেলিফোন বাজেনি। বাজলেও ভুল বেজেছে, কেউ ধরেনি কিংবা যে ধরেছে সে অন্য লোক, ফোন তুলে নম্বর শুনে বিজাতীয় ভাষায় ধমকিয়ে দিয়েছে।

    শেষ পর্যন্ত তবু কয়েকজনের সঙ্গে সংযোগ করা গিয়েছিল, কিন্তু তাদের মধ্যেও কেমন যেন ছাড়া ছাড়া ভাব। কলকাতায় যে সরকারি অতিথিশালায় দিগন্তবাবু ওঠেন, লোয়ার সার্কুলার রোডের সেই বাড়িতে বন্ধুদের শনিবার সন্ধ্যাবেলায় নিমন্ত্রণ করেছিলেন তিনি। ইচ্ছে ছিল সবাই এলে কিছুক্ষণ গল্পগুজব করে তারপর কাছাকাছি কোনও একটা জায়গায় গিয়ে কিঞ্চিৎ পানভোজন করবেন।

    কিন্তু কেউই প্রায় এল না। শুধু মহিমাময় এসেছিল। সেও সন্ধে সাড়ে সাতটা নাগাদ উঠি উঠি করতে লাগল। একেবারে জমল না ব্যাপারটা। আটটা নাগাদ বন্ধুকে দরজা পর্যন্ত এগিয়ে দিগন্তবাবু একটা সিনেমা দেখতে একাই বেরিয়ে গেলেন।

    সিনেমা ভাঙার পর অতিথিশালায় এসে দেখেন বেশ হইচই হচ্ছে। তার অন্য এক পুরনো বন্ধু। জয়দেব, তারও সন্ধ্যাবেলা আসার কথা ছিল, তখন আসেনি, এখন সঙ্গে তিনজন সম্পূর্ণ অন্য লোক। নিয়ে, চারজনেরই সম্পূর্ণ টালমাটাল অবস্থা, অতিথিশালার ঘরে ঘরে ধাক্কা দিয়ে মিস্টার দিগন্ত রায়চৌধুরীকে খুঁজছে।

    প্রায় মধ্যরাত। সবাই ঘুমিয়ে পড়েছে। সবাইকে ঘুম ভাঙিয়ে ওরা চারজন স্থলিতচরণে এবং জড়িত কণ্ঠে রীতিমতো তত্ত্বতালাসি চালাচ্ছে তার জন্য।

    লম্বা টানা বারান্দার দুপাশে সারি দেওয়া ঘর। প্রায় প্রতিটি ঘরেই অতিথি রয়েছে, তাঁদের মধ্যে দরজার ফাঁক দিয়ে সদ্যজাগ্রতা বিস্ৰস্তবসনা মহিলাও রয়েছেন, তারা আলো জ্বালিয়ে জেগে উঠে বসেছেন। পর্যায়ক্রমে জয়দেব ও তার বন্ধুরা দিগন্ত, দিগন্তবাবু, মিস্টার রায়চৌধুরী, রায়চৌধুরী। মশায় ইত্যাদি নানা সম্বোধনে ঘরে ঘরে করাঘাত করে তাঁকে খুঁজছে এবং কোনও ঘরেই পাচ্ছে না–আর সব ঘরেই সরি, ভেরি সরি, খুব দুঃখিত, মাফ কিজিয়ে ইত্যাদি নানা ভাষায় মদ্যপজনোচিত ক্ষমাপ্রার্থনা করছে।

    সিঁড়ি দিয়ে উঠতে উঠতে এই দৃশ্য দেখে দিগন্ত প্রথমে ভেবেছিলেন আত্মগোপন করবেন। মাতালের গোঁ বড়জোর দশ মিনিট থাকে। সুতরাং কিছুক্ষণ উলটো দিকের ফুটপাতে পায়চারি করলেই বিড়ম্বনার হাত থেকে অনায়াসে রক্ষা পাওয়া যাবে।

    দিগন্ত রায়চৌধুরী তাই করতে যাচ্ছিলেন, কিন্তু সেই মুহূর্তে তার মনে হল এই দেড় দশকে কলকাতা শহর অনেক বদলিয়ে গিয়েছে, অনেক পরিবর্তন হয়েছে এই শহরের তার চেনাজানা। লোকেদের মধ্যে। এই তো সন্ধ্যাবেলা মহিমাময় এসেছিল, আগে কী আড্ডাবাজ ছিল, জয়দেবের এককাঠি ওপরে, এখন কেমন হয়ে গেছে। শুধু জয়দেব, একমাত্র জয়দেব আগের মতো আছে। একমাত্র সেই এখনও পুরনো বন্ধুদের খোঁজে মধ্যরাতে তোলপাড় করে। কুড়ি বছর আগের জয়দেবের নানা গল্প দিগন্তের মনে পড়ল। একবার তার জন্ডিস হয়েছিল। পি জি হাসপাতালের দোতলায় একটা ওয়ার্ডে ছিলেন, সেখানে রাত আড়াইটার সময় আজকের মতোই সেদিন। জয়দেবের সদল অনুপ্রবেশ। আরেকবার জয়দেবের সঙ্গে শান্তিনিকেতন যাওয়ার কথা। ট্রেন ছাড়া পর্যন্ত জয়দেব এল না। তারপর ট্রেন যখন বেশ জোরগতিতে প্ল্যাটফর্ম ছেড়ে বেরিয়ে যাচ্ছে, হঠাৎ অন্ধকার থেকে ভূতের মতো এক লাফ দিয়ে জীবন বিপন্ন করে জয়দেব কামরায় উঠল।

    অনেক দূরে একটা নতুন হোটেলের কার্নিশ থেকে একটা সাবানের রঙিন বিজ্ঞাপন একবার নীল হচ্ছে, একবার লাল হচ্ছে, একবার পুরো অন্ধকার হয়ে যাচ্ছে। যে কোনও শহরে যে কোনও রাতে এরকম হয়ে থাকে। এখন রঙিন আলোর ওই নেবা-জ্বলার দিকে তাকিয়ে অনেক পুরনো কথা মনে পড়ল দিগন্ত রায়চৌধুরীর। তিনি আর দেরি করলেন না, দ্রুতপদে সিঁড়ি দিয়ে উঠে মাতাল-ত্রয়ীর বেষ্টনী ভেদ করে জয়দেবকে দুহাতে জড়িয়ে ধরলেন।

    এ অবশ্য পাঁচ বছরের পুরনো ঘটনা। গত পাঁচ বছরে দিগন্তবাবুর আর কলকাতা আসা হয়নি। এবারও আসার কথা ছিল না। একটা কাজে পাটনা এসেছিলেন। আসার কয়েকদিন আগে বন্ধু মহিমাময় অর্থাৎ মহিমার কাছ থেকে একটা চিঠি পেয়েছিলেন দিল্লিতে। পুরনোদের মধ্যে ওই মহিমাই এখনও সময়ে অসময়ে যোগাযোগ রাখে। মহিমা লিখেছে, জয়দেবের শরীর খারাপ। খুব সম্ভব পেটে আলসার। গুডবাই নার্সিংহোমে ভর্তি হয়েছে, সেখানেই পরীক্ষা-নিরীক্ষা চলছে। এখনও সব জানা যায়নি।

    এ চিঠি পেয়ে একটু দ্বিধায় পড়েছিলেন দিগন্তবাবু। তাঁর প্রথম খটকা লেগেছিল এই চিন্তা করে যে, কোনও নার্সিংহোমের নাম গুডবাই নার্সিংহোম হওয়া উচিত কিনা। এবং যদি এরকম নামই। হয়, তা হলে সেখানে কারও ভর্তি হওয়া উচিত কিনা। তবে জয়দেবের ব্যাপারই আলাদা।

    তা ছাড়া দিগন্তবাবুর একদিন পরে মনে পড়ল, তাদের পুরনো ভবানীপুরের পাড়ায় বলহরি ডাক্তারের কথা। বলহরি নাম হওয়া সত্ত্বেও তার রোগীর কোনও অভাব হত না। বলহরি ডাক্তারের ডিসপেনসারি সর্বদাই লোকের ভিড়ে গমগম করত।

    পাটনা থেকে একবেলার জন্যে কলকাতায় এলেন দিগন্তবাবু, একটু জয়দেবের ব্যাপারটা খোঁজ নেবার জন্যে। ঠিক কী হয়েছে, কী চিকিৎসা চলছে।

    তবে মহিমার চিঠিতেই দিগন্তবাবু জানতে পেরেছিলেন তাদের এক পুরনো বন্ধু, ডাক্তার লোকনাথ দত্ত, যিনি সার্জন হিসাবে আজ কিছুদিন হল বেশ নাম করেছেন, তাঁরই তত্ত্বাবধানে আছে জয়দেব। গুডবাই নার্সিংহোমের সঙ্গেও ডাক্তার লোকনাথ দত্ত জড়িত রয়েছেন। রোগীরা অনেকে এখানেই ভরতি হয়, এখানেই লোকনাথ তাদের অপারেশন করেন।

    পাটনা থেকে রাত্রির ট্রেনে উঠে সকালে এসে কলকাতায় পৌঁছেছেন দিগন্ত। বিকেলের প্লেনে দিল্লি ফিরবেন। হাতে সময় খুব কম। তাও আবার ট্রেনটা হাওড়ায় আসতে তিন ঘণ্টা লেট হয়েছে।

    কলকাতায় পৌঁছে হাওড়া স্টেশন থেকে প্রথমেই মহিমাকে একটা ফোন করার চেষ্টা করলেন। কিন্তু পেলেন না, হয় হাওড়া স্টেশনের ফোনটা খারাপ, না হয় মহিমার ফোন খারাপ। অথবা দুটোই খারাপ।

    সে যা হোক, ফোন করা নিয়ে বেশিক্ষণ সময় নষ্ট না করে একটা ট্যাকসি নিলেন। ফোন করার চেয়ে হাওড়া স্টেশনে ট্যাকসি ধরা কঠিন নয়। প্রায় আধ ঘণ্টা চেষ্টার পর বহুকষ্টে এবং মিটারের ওপর পনেরো টাকা বেশি দেবেন কবুল করে শেয়ালদা পাড়ায় একটা পুরনো হোটেলে এসে উঠলেন। রাত্রিবাস করতে হচ্ছে না, হোটেলের দরকার তেমন নেই, তবু স্নান-খাওয়া করার জন্যে আর যদি ফোন-টোন করা যায় সেই উদ্দেশ্যে একদিনের জন্যে ষাট টাকা ভাড়ায় একটা ঘর নিলেন। তারপর স্নান-টান সেরে মুখে দুটি ভাত দিয়ে দিগন্ত রাস্তায় বেরোলেন। এর মধ্যে হোটেলের ম্যানেজারের ঘর থেকে আরেকবার মহিমাকে এবং সেই সঙ্গে গুডবাই নার্সিংহোমে ফোন করার বৃথা চেষ্টা করেছিলেন। কাউকে অবশ্য পাননি, তবে এর মধ্যে ক্রস কানেকশনে একটি চাঞ্চল্যকর কথোপকথন শুনতে পান। ভেজাল তেল খেয়ে সদ্য পক্ষাঘাতগ্রস্ত এক রোগীকে অভিজ্ঞ পক্ষাঘাতগ্রস্ত দ্বিতীয় এক রোগী কীভাবে দেয়াল ধরে হাঁটতে হয় নির্দেশ দিচ্ছিলেন, সেটা শুনে দিগন্ত চমকৃত হন এবং ভবিষ্যতে যদি সত্যি কখনও পক্ষাঘাত হয় সেই জন্যে এই নির্দেশাবলি তিনি মনোযোগ দিয়ে শোনেন। বেশ কিছুক্ষণ লেগেছিল শুনতে, ফলে হোটেল ম্যানেজারের কেমন সন্দেহ হয় যে এটা রং নম্বর নয়, দিগন্তবাবু কথা বলছেন না শুধু শুনছেন, রং নম্বর বলে টেলিফোনের খরচ কাটিয়ে দেবেন বলে। ফলে কিঞ্চিৎ অপমানিত হয়ে দিগন্তবাবুকে ফোনের জন্যে দেড় টাকা দিতে হয়। এরপরে তিনি রাগ করে তখনই তার ছোট সুটকেসটা যেটা হোটেলে রেখেছিলেন সেটা হোটেল থেকে নিয়ে রাস্তায় সরাসরি বেরিয়ে পড়লেন।

    রাস্তায় নেমে আবার বহুকষ্টে ট্যাকসি। মহিমার চিঠিতে দুটো ঠিকানা আর ফোন নম্বর দেওয়া আছে, একটা গুডবাই নার্সিংহোমের অন্যটা ডাক্তার লোকনাথ দত্তের। মহিমার ইনল্যান্ড লেটারটা খুলে ডাক্তার লোকনাথ দত্তের ঠিকানা আর ফোন নম্বর চোখে পড়তে দিগন্তের মনে হল একবার ডাক্তার দত্তকে ফোনে ধরতে পারলে হত। কিন্তু কোথায় ফোন করতে যাবেন, আর ফোন পাবেন কি না এই সব ভেবে নিরস্ত হলেন।

    একটু খুঁজে বেলেঘাটায় সি আই টি রোডের ধারে গুডবাই নার্সিংহোম পাওয়া গেল। সাইনবোর্ডটা দেখে একটু বিস্মিত হলেন দিগন্ত, একটু কৌতুকও বোধ করলেন। গুডবাই নার্সিংহোম নয়, গুডবাই ম্যাটারনিটি হোম, ঠিকানা মিলিয়ে দেখলেন ঠিকই আছে। মানে জয়দেব এখানেই ভরতি হয়েছে। কিন্তু ম্যাটারনিটি হোমে আলসারের কী চিকিৎসা হবে! শুধু জয়দেবের পক্ষেই এ কাজ করা সম্ভব।

    অবশ্য ভেতরে গিয়ে খোঁজ নিতে গিয়ে দিগন্ত জানতে পারলেন যে ম্যাটারনিটি হোম হলেও যখন প্রসূতির সংখ্যা কম থাকে ছোটবড় চিকিৎসা বা অপারেশনের জন্যে অন্য রোগীও নেওয়া হয়।

    সে ঠিক আছে, কিন্তু ম্যাটারনিটি হোমে জয়দেবের পাত্তা পাওয়া গেল না। জানা গেল, জয়দেব বাবু এখানেই চিকিৎসার জন্যে এসেছে বটে কিন্তু তিনি প্রতিদিন সকালবেলা বেরিয়ে যান আর ফেরেন অনেক রাতে। এর মধ্যে আবার দুদিন রাতেই আসেননি।

    জয়দেবের স্বভাব দিগন্তবাবুর জানা আছে। তিনি এ খবরে মোটেই বিস্মিত হলেন না, বরং এই ভেবে আশ্বস্ত বোধ করলেন যে জয়দেবের শরীরের অবস্থা খুব খারাপ নয়–তা হলে এত চলাফেরা করতে পারত না।

    গুডবাইয়ের লোকেদের কাছে দিগন্ত জানার চেষ্টা করলেন, জয়দেবের শারীরিক অবস্থা এখন সত্যি কীরকম। তারা বললেন, সে বলা অসম্ভব। ভাল করে পরীক্ষাই করা যাচ্ছে না, জয়দেবকে ধরাই কঠিন। তবে ডাক্তার এল এন দত্ত দেখেছেন, তিনি সম্ভবত অপারেশন করবেন। তার কাছে জানা যেতে পারে।

    দিগন্ত বুঝতে পারলেন এল এন দত্ত মানে লোকনাথ দত্ত, তাদের পূর্বপরিচিত বন্ধুস্থানীয় ডাক্তার। এখন সার্জন হিসেবে বেশ নাম হয়েছে। মহিমার চিঠিতে সে কথা আগেই জেনেছেন।

    দিগন্তবাবু গুডবাইয়ের রিসেপশনে বললেন, আমি জয়দেববাবুর পুরনো বন্ধু, দিল্লি থেকে এসেছি, সার্জন দত্তও হয়তো আমাকে চিনবেন। সার্জন সাহেবের সঙ্গে আমি একটু দেখা করতে চাই।

    স্থূলকায়া একজন অবসরপ্রাপ্ত নার্স রিসেপশনে বসেন, তিনি জানালেন, সার্জন সাহেব তো এ বেলা আসবেন না। বিকেলে একটা হার্নিয়া অপারেশন আছে, পাঁচটা নাগাদ আসবেন।

    গুডবাই থেকে সুটকেস হাতে আবার রাস্তায় নেমে পড়লেন দিগন্তবাবু। বেলা প্রায় একটা বাজে। চারদিকে গনগনে গরম, কাঠফাটা রোদে চোখ ঝলসে যাচ্ছে। তিনি ঠিক করলেন এসেছেনই যখন অন্তত একবার ডাক্তার লোকনাথ দত্তের বাড়িতে গিয়ে জয়দেবের ব্যাপারটা খোঁজ নিয়ে যাবেন। যদিও বেলা একটায় কারও বাড়িতে যাওয়া সঙ্গত নয়, কী আর করা যাবে–তা ছাড়া লোকনাথ দত্ত একসময়ের চেনা।

    কাছাকাছি কোথাও কোনও ট্যাকসি নেই। সুটকেস হাতে রোদে হেঁটে ঘামতে ঘামতে দিগন্ত বড় রাস্তার মোড়ে এসে দাঁড়ালেন। ট্যাকসি এখানেও নেই। একটা সামান্য খালি মিনিবাস এলে সেটায় উঠলেন। মহিমার চিঠিতে ঠিকানাটা ছিল ডাক্তার দত্তের। এখান থেকে বেশি দূরে না, ভি আই পি রোডে উলটোডাঙার মোড়ের কাছে ডাক্তার দত্ত থাকেন।

    মিনিবাস থেকে নেমে একটু খুঁজতেই বাসাটা পাওয়া গেল। বাইরের দরজায় পুরনো ঢঙের পিতলের নেমপ্লেটে ঝকঝকে অক্ষরে নামটা লেখা রয়েছে–ডক্টর এল এন দত্ত এম বি বি এস। আর নীচে চিঠির নীচের পুনশ্চের মতো কাঠের নেমপ্লেটে এম এস এবং আরও দশটি ইংরেজি অক্ষর। বোঝা গেল পিতলের নেমপ্লেট বানানোর পরে এই উপাধিগুলো আয়ত্ত হয়েছে।

    কিন্তু দিগন্তবাবুর ভাগ্য আজ ভাল নয়।

    সার্জন সাহেব বাড়ি নেই। ডক্টরের ঘরে একটি ফুটফুটে মেয়ে, বয়েস নয়-দশ বছর হবে, সোফার ওপরে উবু হয়ে বসে আপনমনে একটা বড় ড্রয়িংখাতায় একটা লালরঙের বাঘের ছবি আঁকছিল। দিগন্তবাবু দরজায় গিয়ে দাঁড়াতে সে তাড়াতাড়ি বাঘের মুখে কয়েকটা নীল রঙের গোঁফ এঁকে দিয়ে তার দিকে জিজ্ঞাসু দৃষ্টিতে তাকাল।

    দিগন্তবাবু প্রশ্ন করলেন, সার্জন সাহেব বাড়ি আছেন?

    লাল রিবন বাঁধা চুলের বেণী সমেত পুরো মাথাটা নেড়ে মেয়েটি বলল, না, নেই।

    দিগন্তবাবু ভাবললেন একটু বসে গেলে হয়, হয়তো আসতে দেরি হবে না, তাই মেয়েটিকে জিজ্ঞাসা করলেন, তুমি কি সার্জন দত্তের মেয়ে?

    মেয়েটি বলল, হ্যাঁ। এবং দিগন্তবাবু জিজ্ঞাসা করার আগেই বলল, আমার নাম নীলাম্বরী দত্ত। বাবা বলে নীলা, মা বলে নীলু।

    মেয়েটিকে বেশ সাব্যস্ত মনে হল দিগন্তবাবুর। তিনি তাকে বললেন, দ্যাখো নীলাম্বরী, আমি তোমার বাবার একজন পুরনো বন্ধু। এখন দিল্লিতে থাকি, অনেকদিন দেখাশোনা নেই। একটা ব্যাপারে তোমার বাবার কাছে একটু খোঁজ নিতে এসেছিলাম।

    নীলাম্বরী বলল, কিন্তু বাবা তো এখন আসবে না। বাবা গেছে ডাক্তার চক্রবর্তীর নার্সিং হোমে। সেখানে একটা অ্যাপেন্ডিসাইটিস অপারেশন আছে।

    এইটুকু মেয়ের মুখে অ্যাপেন্ডিসাইটিসের মতো জটিল শব্দের উচ্চারণ শুনে একটু চমকিত হলেন দিগন্তবাবু। কিছুক্ষণ চুপ করে থেকে জিজ্ঞাসা করলেন, তা কতক্ষণ লাগবে মনে হয়?

    নীলাম্বরী বলল, যদি ফেটে-টেটে গিয়ে না থাকে তা হলে ঘণ্টাখানেকের মধ্যে বাবার কাজ সারা হয়ে যাবে।

    এই শুনে দিগন্তবাবু বললেন, তা হলে আসতে দেরি হওয়ার কথা নয়।

    নীলাম্বরী বলল, পাগল নাকি! বাবার কি একটা অপারেশন? সকালে একটা করেছে, তারপর বাড়ি এসে জলখাবার খেয়ে এই অপারেশনটা করতে গেছে। অপারেশনের পরে ডাক্তার চক্রবর্তীর বাড়িতে দুপুরের ভাত খাবে। তারপর সেখান থেকে যাবে দমদম।

    অন্যমনস্কভাবে দিগন্তবাবু বললেন, দমদম!

    নীলাম্বরী বলল, দমদম সেবায়তনে একটা আলসারের অপারেশন আছে। রোগী বুড়ো, তার আবার হার্ট ভাল নয়।

    নীলাম্বরীর মুখে এরকম সব কঠিন কথা শুনে এতক্ষণ দিগন্তবাবু বেশ কৌতুকবোধ করছিলেন, জিজ্ঞাসা করলেন, তার পরে?

    নীলাম্বরী বলল, তারপরে ওই গুডবাই নার্সিংহোম, বেলেঘাটায়। সেটায় হয়তো তেমন সময় লাগবে না হার্নিয়া অপারেশন।

    এসব শুনে দিগন্তবাবু বুঝতে পারলেন এখানে এখন আর অপেক্ষা করার মানে হয় না। তার চেয়ে মহিমার একটা খোঁজ করলে হয়। তার কাছে যদি কিছু জানা যায়।

    সুটকেস নিয়ে রাস্তায় বেরোতে বেরোতে তিনি দেখলেন নীলাম্বরী তাঁর পিছনে পিছনে দরজা পর্যন্ত এগিয়ে এসেছে। একটু থেমে দাঁড়িয়ে তিনি নীলাম্বরীকে জিজ্ঞাসা করলেন, তুমি যে এত সব কঠিন অসুখের নাম করলে, যেগুলো তোমার বাবা অপারেশন করছে, সেগুলো কী ব্যাপার তুমি জানো কি?

    নির্বিকার মুখে নীলাম্বরী বলল, হা জানি। অ্যাপেন্ডিসাইটিস সাধারণ হলে এক হাজার টাকা, আলসার দেড় হাজার টাকা, হার্নিয়া সাড়ে সাতশো টাকা।

    উত্তর শুনে হতভম্ব হয়ে দিগন্তবাবু রাস্তায় এসে দাঁড়ালেন। বাইরে রোদের তাপ আরও চড়া। রাস্তায় ধোঁয়া উঠছে। এই রোদে জয়দেব কোথায় ঘুরে বেড়াচ্ছে কে জানে। আর খোঁজ করে লাভ নেই। একটা ট্যাকসি হাতের কাছে পেয়ে গেলেন, সেটা ধরে সোজা এয়ারপোর্টে।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40 41 42 43 44 45 46 47 48 49 50 51 52 53 54 55 56 57 58 59 60 61 62 63 64 65 66 67 68 69 70 71 72 73 74 75 76 77 78 79 80 81 82 83 84 85 86 87 88 89 90 91 92 93 94 95 96 97 98 99 100 101 102 103 104 105 106 107 108 109 110 111 112 113 114 115 116 117 118 119 120 121 122 123 124 125 126
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleখাজুরাহ সুন্দরী
    Next Article কীর্তিহাটের কড়চা – তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়

    Related Articles

    তারাপদ রায়

    রম্যরচনা ৩৬৫ – তারাপদ রায়

    August 22, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026
    Our Picks

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026

    ভুতুড়ে ট্রেন – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026

    ব্রাহ্মণ ভূত – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }