০৮. পুষ্প থাকে পুরনো ঢাকায়
পুষ্প থাকে পুরনো ঢাকায়।
চানখাঁর পুল থেকে ভেতরের দিকে যেতে হয়। বিরাট দোতলা বাড়ি। উপরের তলা ভাড়া দেয়া। নিচের তলায় ভাগাভাগি করে পুতপরা থাকে এবং পুতেপর বড়চাচা থাকেন। পুষ্পের বাবা এবং বড়চাচা দুজনেই ওকালতি করেন। দুজনেরই পসার নেই। পুষ্পের বাবা এজাজুদ্দিন ওকালতি ছাড়াও হোমিওপ্যাথি করেন। হোমিওপ্যাথিতে তার কিছুটা পসার আছে। লোকজন বাসায় এসে ভিজিট দিয়ে ব্যবস্থা পত্র নেয়।
পুষ্পদের বাসায় অনেকগুলি ভাইবোন। নিজের এবং চাচাতো বোনদের সংখ্যা সাত। ভাই ছজন। এরা রাতে কে কোথায় ঘুমায় কোনো ঠিক নেই। প্রায়ই দেখা যায় অনেক রাতে একজন পড়াশোনা শেষ করে উঠেছে। কোথায় ঘুমাবে জায়গা খুঁজে বেড়াচ্ছে।
রান্না দুবাড়িতেই আলাদাভাবেই হয়, তবে কে কোন বাড়িতে খাবে তারও কোনো ঠিক নেই। পুম্পের বড়চাচা খলিলুদ্দিন বেশির ভাগ সময়ই পুষ্পদের সঙ্গে খান। নিজের স্ত্রীর রান্না তিনি খেতে পারেন না। খেতে বসে বেশির ভাগ সময়ই খুব অপমানসূচক কথা বলেন। আজ তাই বলছেন। আজ রান্না হয়েছে তেলাপিয়া মাছ। তিনি মুখে দিয়েই থু করে ফেলে দিলেন। এবং থমথমে গলায় বললেন, জিনিসটা কি?
তার স্ত্রী হাসিনা ক্ষীণ স্বরে বললেন, তেলাপিয়া মাছ।
তেলাপিয়া মাছ রাঁধতে তোমাকে কে বলল?
সবাই খায়।
সবাই খায়? কোন শালা তেলাপিয়া মাছ খায়? বল কোন শালা খায়?
তিনি মাছের বাটি উল্টে ফেলে গটি গট করে উঠে পাশে ছোট ভাইদের বাসায় খেতে গেলেন। সেখানেও তেলাপিয়া মাছ রান্না হয়েছে। তবে সেখানে তিনি কোনো উচ্চবাচ্য করলেন না।
পুষ্প এই দুই পরিবারেরই বড় মেয়ে। পরিবারে সবচে বড় মেয়েকে কখনো ঠিক বড় মনে হয় না। মনে হয় সে ছোটই রয়ে গেছে। পুষ্প সম্পর্কে এই ধারণা আরো কিছুদিন থাকত, তবে এখন আর নেই। পুষ্প রিহার্সেলে রোজ শাড়ি পরে যাচ্ছে। শাড়ি পরলেই মেয়েটাকে তরুণীর মত দেখায়।
পুষ্পের বাবা এজাজুদিন ভেবেছিলেন দু’এক দিনের ব্যাপার। এখন মনে হচ্ছে দু একদিনের ব্যাপার না। রোজই যাচ্ছে। ওরা অবশ্যি গাড়ি করে নিয়ে যাচ্ছে দিয়ে যাচ্ছে। এবং দোতলায় ভাড়াটে মেয়েটাও যাচ্ছে। তবু একটা অস্বস্তি থেকেই যায়। স্বভাব-চরিত্রে কোনো দাগ পড়ে গেলে মুশকিল।
এজাজুদিন স্ত্রীকে ক’দিন ধরেই এই কথাটা বোঝাতে চেষ্টা করছেন। গম্ভীর গলায় বলছেন, একটা দাগ পড়ে গেলে মুশকিল। দাগ তো শরীরের কোনো অসুখ না যে থুজ টু হানড্রেড দেব আর রোগ আরাম হবে।
এজাজুদিন সাহেবের স্ত্রী মমতা তার স্বামীর কোনো মমতাকেই তেমন পাত্তা দেন না। মেয়ের নাটক করার ব্যাপারে তার সায় আছে। রক্ষণশীল পরিবারের মেয়ে হয়েও আছে। কেন আছে এই ব্যাপারটা ঠিক পরিষ্কার নয়। এক’দিন তিনি মেয়ের অভিনয়ও দেখে এলেন। মেয়েকে শুধু বললেন, ছেলেটার গায়ের উপর এমন লেপ্টে পড়ে যাওয়ার দরকার কী? একটু দূরে দূরে থাক।
পুষ্প বলেছে, আচ্ছা।
মমতা বলেছেন, যখন ছেলেটা হাত ধরবে, তখন হাত ঝাড়া দিয়ে ফেলে দিবি। যে বউয়ের দিকে ফিরেও তাকায় না, খালি বই লেখে–তার সঙ্গে এত কি মাখামাখি? বুঝলি, হাত ঝাড়া দিয়ে ফেলে দিবি।
পুষ্প হেসে বলেছে, আচ্ছা।
তোর স্বামী হয়েছে যে, ঐ ছেলেটা কে?
তার নাম আসিফ।
বিয়ে করেছে?
হুঁ।
বউকে তো দেখলাম না।
উনি এখন আসেন না। শরীর ভাল না।
দেখতে কেমন?
খুব সুন্দরী। অবাক হয়ে তাকিয়ে থাকতে হয়।
ছেলেটির স্ত্রী খুবই সুন্দরী, এটা শোনার পর মমতার দুশ্চিন্তা পুরোপুরি চলে যায়। থিয়েটারের লোকগুলিকে তাঁর ভালই লাগে। বিশেষ করে মেয়েগুলিকে। এর মধ্যে একজন–যে মায়ের ভূমিকা করে তাকে তাঁর খুবই মনে ধরল। দেখেই মনে হয় শক্ত ধরনের মহিলা। এরকম শক্ত ধরনের মহিলা থাকলে নিশ্চিন্ত হওয়া যায়। মমতা পুরোপুরি নিশ্চিন্ত হলেন। মহিলাকে বললেন, আমার মেয়েটাকে একটু চোখে চোখে রাখবেন। সেই মহিলা সঙ্গে সঙ্গে বললেন, সে কি, আী মেয়ে তো আমারও মেয়ে। মমতা বড় শান্তি পেলেন।
পুষ্প যে পরিবার থেকে এসেছে, সেই পরিবারের সদস্যরা কোনো কিছুই নিয়েই তেমন মাথা ঘামায় না। এতগুলি ছেলেমেয়ে যেখানে বড়ো হয় সেখানে কারো ওপর তেমনভাবে নজর রাখা যায় না। কেউ অন্যায় কিছু করলেও তা মনে থাকে না। এজাজুদিন সাহেব এক’দিন দেখলেন এ বাড়ির এক ছেলে রাস্তায় পা ছড়িয়ে দাঁড়িয়ে সিগারেট ফকছে। তিনি রাগে কাঁপতে কাঁপিতে বাড়ি ফিরে এলেন। অপরাধী কে তা তিনি ঠিক ধরতে পারলেন না। কে ছিল? বাবলু না মহিন? অনেকক্ষণ হৈচৈ করার পর তার রাগ কমল।
পুষ্প হৈচৈ কান্নাকাটি করে থিয়েটারে যোগ দেবার ব্যবস্থা করেছে। প্রথমে ব্যাপারটায় সবার খুব আপত্তি থাকলেও এখন মনে হচ্ছে কারোর মনেই নেই। পুষ্পর চাচা এক’দিন রাতে গাড়ি থেকে নামতে দেখে অবাক হয়ে বললেন, কোথেকে আসছিস?
পুষ্প বলল, থিয়েটার থেকে।
থিয়েটার। কিসের থিয়েটোর?
ভুলে গেছেন চাচা? আমি একটা নাটক করছি না?
নাটক, কবে?
সামনের মাসে।
ও আচ্ছা। রাত-বিরাতে ফিরতে হয় নাকি? এটা তো ভাল কথা না। দশটা বাজে। দশটা পর্যন্ত নাটক করলে পড়বি কখন?
এই নাটকটিা করে আর করব না। চাচা।
গুড। ভেরি গুড।
রিহার্সেল থেকে পুষ্প সব সময় হাসিখুশি হয়ে ফেরে। আজ তার মুখটা কালো। যেন বিরাট কোনো দুর্ঘটনা ঘটেছে। অথচ রিহার্সেলে তার সময়টা খুব ভাল কেটেছে। আজমল নামের একজন ভারিক্কি ধরনের লোক তাকে অনেক মজার মজার কথা বলেছে। সেই সব কথার মধ্যে একটা হচ্ছে, এই মেয়ে, ফস করে কাউকে বিয়ে করে বসবে না। তাহলে নাটক মাথায় উঠবে। তোমার অভিনয় খুব ভাল হচ্ছে। কিছুদিন পর দেখবে পথে বের হতে পারবে না। অটোগ্রাফ অটোগ্রাফ বলে লোকজন মাথা খারাপ করে দেবে। অটোগ্রাফ কি করে দিতে হয় সেটাও শিখে নাও। খুব সহজ একটা সিগনেচার তৈরি কর, যাতে খুব দ্রুত অটোগ্রাফ দিতে পার। কালো চশমা পরা অভ্যেস করতে হবে। যাতে লোকজন চট করে চিনতে না পারে।
লীনা আপাও তার সঙ্গে অনেক কথা বললেন। গায়ে হাত রেখে এত আন্তরিকভাবে কথা বললেন যে, তার চোখ প্রায় ভিজে উঠল। রিহার্সেল পুরোপুরি শেষ হবার পর সবাই মিলে যখন চা খাচ্ছে তখন তাকে বললেন, তোমার জন্যে কি কিছু আনতে হবে পুরুপ? আমি ইন্ডিয়া যাচ্ছি। তোমার পছন্দের কোনো জিনিস। যদি থাকে তাহলে বল, আমি অবশ্যই নিয়ে আসব। তবে খুব দামি কিছু আনতে বলবে না। আমার হাতে তেমন টাকা পয়সা নেই।
পুষ্প বলল, আমার জন্যে চন্দন কাঠের একটা পুতুল আনবেন।
অবশ্যই আনব।
আপনি কতদিন থাকবেন?
শুরুতে কথা হয়েছিল দশদিনের। এখন শুনছি। এক মাসের প্রোগ্রাম হচ্ছে। তবে আমি এতদিন কাটাব না। তোমাদের নাটকের আগে অবশ্যই ফিরে আসব।
পুষ্প বলল, নাটক আপনাদের খুব প্রিয়?
হ্যাঁ প্ৰিয়। খুবই প্রিয়। নাটকের একটা দল মানে পরিবারের বাইরে একটা পরিবার।
পুষ্প চুপ করে রইল।
লীনা বলল, কিছুদিন যাক, তখন তুমিও এটা বুঝবে। সবাই কিছুদিন পরপর একসঙ্গে হতে না পারলে দেখবে ভাল লাগছে না। অস্থির অস্থির লাগছে। গ্রুপ নাটকের কত সমস্যা, তার পরেও যে গ্রুপ নাটক টিকে আছে–কেন আছে? এই কারণেই আছে।
বিদায় নেবার সময় লীনা। আপা তার দিকে তাকিয়ে এমন মিষ্টি করে হাসল, তবু তার অসম্ভব মন খারাপ হল। কারণটা খুব অদ্ভুত।
বৃষ্টি পড়ছিল বাইরে। তারা সবাই বারান্দায়। জলিল ভাই বললেন, সবাইকে আমি গাড়িতে পৌঁছে দেব। দরকার হলে দুট্রিপ দেব। নো প্রবলেম। সবাই তাতে খুশি। আর আশ্চর্য, আসিফ ভাই বলল, আমাদের পৌঁছে দিতে হবে না। বৃষ্টিতে ভিজতে ভিজতে রিকশায় করে যাওয়ার অন্য রকম আনন্দ আছে। কাজেই শুভ রাত্রি।
তারা সত্যি সত্যি রাস্তায় নামল। আসিফ ভাই লীনা। আপার হাত ধরে হাঁটছেন। বৃষ্টির মধ্যে দু’জন নেমে যাচ্ছে।
গা ঘোষাঘেষি করে হাঁটছে। কি অপূর্ব দৃশ্য! প্রথম কয়েক মুহূর্ত পুষ্পের মন আনন্দে পূর্ণ হল। তার পরপরই চোখে পানি এসে পড়ার মত কষ্ট হতে লাগল।
কেন তার কষ্ট হচ্ছে এটা সে জানে। কিন্তু তার বিশ্বাস করতে মন চাচ্ছে না। তার কষ্টের কারণটা সে জানে, অথচ কাউকে সে বলতে পারবে না–এও একটা বিরাট কষ্ট। ভাল একজন বন্ধু যদি তার থাকত, তাহলে কি সে তাকে এটা বলতে পারত? না পারত না। কোনোদিন কাউকে এটা বলা যাবে না। চিরকাল গোপন রাখার মত কিছু কিছু ঘটনা সব মানুষের জীবনেই হয়ত ঘটে। বাইরের কেউ কোনোদিন তা জানতে পারে না। বড়চাচার মেয়ে মিতুরও একটা গোপন কথা আছে, যা সে কাউকে বলতে পারবে না। শুধু পুষ্পকে এক’দিন কাঁদতে কাঁদতে বলেছে, একটা গোপন কথা তোকে বলব। কাউকে না বলতে পারলে আমি মরে যাব।
পুষ্প বলল, কী?
মিতু বলল, কিছু না, এমনি ঠাট্টা করছি। বলতে বলতে আবার কেঁদে অস্থির হল। মিতুর গোপন কথা পুষ্প জানে না। মিতু বলেনি। কাউকে হয়ত সে আর বলবে না। গোপন কথা বলতে গোপনই থেকে যাবে।
পুষ্প বাড়িতে ঢুকে শান্ত ভঙ্গিতে হাত-মুখ ধুয়ে মাকে গিয়ে বলল, ভাত দাও মা।
মমতা বললেন, তোর কি হয়েছে রে? এমন লাগছে কেন?
ভীষণ মাথা ধরেছে। খেয়ে শুয়ে পড়ব।
তোর চাচির ওখানে গিয়ে খেয়ে আয়। ডাল ছাড়া ঘরে আর কিছু খাবার নেই।
ডাল দিয়েই খাব। ও ঘরে এখন আর যেতে ইচ্ছা করছে না।
মমতা উঠে গিয়ে রান্নাঘরেই মেয়েকে ভাত বেড়ে দিলেন। পুষ্প বলল, তুমি খাবে না মা?
মমতা বললেন, বুকে অম্বলের ব্যথা উঠেছে, এক কাপ দুধ খেয়ে শুয়ে পড়ব। তোকে একটা ডিম ভেজ দেই।
দাও।
মমতা ডিম ভাজতে ভাজতে বললেন, আজ এক কাণ্ড হয়েছে সন্ধ্যাবেলা একটা গাড়ি করে দুতিন জন মহিলা এসে উপস্থিত। কাউকে চিনি না বললাম–কাকে চান?
মোটামত একজন মহিলা বললেন, আমরা আপনার প্রতিবেশী, বেড়াতে এসেছি। আমার তখনি সন্দেহ হল। প্রতিবেশী হলে গাড়ি করে আসবে কেন? কেমন অস্বস্তি অস্বস্তি ভাব। হেন তেন নানান কথার পর ফাঁস করে বলল, আপনার বড় মেয়েটার কি বিয়ে দেবেন? চিন্তা কর অবস্থা। চিনি না জানি না এসেই বলে কি না–বড় মেয়ের রিয়ে দেবেন?
পুষ্প বলল, তুমি কি বললে?
আমি আবার কি বলব? আমি বললাম, জি না। মেয়ের বিয়ের কথা এখনো ভাবছি না। ওমা, তার পরেও যায় না। বসেই আছে।
পুষ্প বলল, চুপ কর তো মা। শুনতে ভাল লাগছে না।
আহা, আসল মজাটা তো শুনলি না। খুব ফর্সা করে একজন মহিলা আছেন, উনি বললেন বিয়ের সম্পর্ক এলে মুখের ওপর না বলতে নেই আপা। প্রপোজাল শুনুন, তারপর বলুন না।
আমি বললাম, এম এ পাস করার আগে মেয়ের বাবা মেয়ের বিয়ে দেবে না। ভদ্রমহিলা বললেন, এম এ পাস তো বিয়ের পরেও করতে পারে। কি যে যন্ত্রণা! কিছুতেই যাবে না।
তারপর বিদেয় করলে কি ভাবে?
শেষপর্যন্ত বললাম, আপা, আমাদের এক জায়গায় যাবার কথা আছে। তারপর উঠল।
পুষ্প বলল, তোমার মজার কথা শেষ হয়েছে, না আরো বাকি আছে?
আসলটাই তো বলা হয়নি। ওরা চলে গেলে দেখি টেবিলের উপর চশমা পরা একটা ছেলের ছবি। ইচ্ছা করে ফেলে গেছে। মিতুর কাছে ছবিটা আছে। দেখতে চাইলে ওকে বল।
আমি কেন দেখতে চাইব?
আহা রেগে যাচ্ছিস কেন? দেখতে না চাইলে দেখবি না। নাটক থিয়েটার করতে পারিস, একটা ছেলের ছবি দেখলে তোর মান যাবে নাকি?
নাটক থিয়েটার আমি আর করব না।
কি বললি?
নাটক আমি আর করব না।
হঠাৎ কি হল?
আমার ভাল লাগছে না।
পুষ্প উঠে চলে গেল। সে রাতে মিতুর সঙ্গে শোয়। আজ নিশ্চয়ই দেশের বাড়ি থেকে কেউ এসেছে। চিড়িয়াখানা দেখবে কিংবা চিকিৎসা করবে। কারণ মিতুর বিছানায় অপরিচিত একজন মহিলা ঘুমুচ্ছেন। মিতুও তার স্বভাবমত হাত-পা ছড়িয়ে ঘুমুচ্ছে। পুষ্প তার নিজের শোবার জায়গা খোজার জন্যে ব্যস্ত হল না। ভেতরের দিকে বারান্দায় চলে গেল। রেলিং দেয়া বারান্দায় এক কোণে একটা ইজিচেয়ার। পুষ্পর বাবা এই চেয়ারে বসে রোজ সকালে খবরের কাগজ পড়েন। রাতে চেয়ারটা ঘরে নিয়ে যাওয়া হয়। আজ নেয়া হয়নি।
পুষ্প চেয়ারে এসে বসল। বৃষ্টি হচ্ছে না। ঝিঝি ডাকছে। ঝিঝি ডাকা মানে বাকি রাতটায় আর বৃষ্টি হবে না। আকাশ পরিষ্কার হয়ে চাঁদ উঠবে। চাঁদ উঠলে পুষ্পদের বাড়ির ভেতরটা খুব সুন্দর দেখা যায়। ভেতরের উঠোনে দুটো প্রকাণ্ড কামিনী গাছ আছে। সেই গাছে চাঁদের আলো পড়ে। বড়োই রহস্যময় লাগে।
পুষ্প চুপচাপ বসে আছে। বসে থাকতে থাকতে এক সময় সে ঘুমিয়েও পড়ল। ঘুমিয়ে ঘুমিয়ে চমৎকার একটা স্বপ্নও দেখল। এই স্বপ্নটি বড়ো মধুর ছিল, তবু সে ঘুমের মধ্যেই খুব কাঁদল।
