Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    আমি নকুবাবু – সুশীলকুমার চট্টোপাধ্যায়

    January 17, 2026

    বিশ্বমনা : রবীন্দ্রনাথ – সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়

    January 17, 2026

    গল্পে বারভূঁইয়া – সতীশ চন্দ্র গুহ

    January 17, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    সাদা আমি কালো আমি (১ম খণ্ড) – রুণু গুহ নিয়োগী

    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা এক পাতা গল্প492 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    সাদা আমি কালো আমি – ১.২০

    ২০

    পরিণতি যাই হোক আমাদের সবরকম পরিস্থিতির মোকাবিলা করে অপরাধী ধরবার জন্য তদন্তের স্বার্থে এগিয়ে যেতেই হবে। সেদিন ছিল রবিবার, তাড়া নেই। সকালে কোয়ার্টারে বসে জড়তা কাটাচ্ছি। এগারটা নাগাদ ফোন বেজে উঠল। অলস হাতে তুলে কানে রাখতেই ওপার থেকে তৎকালীন ডি.সি. হেড কোয়ার্টার কমলকুমার মজুমদারের গলা পেলাম। সাথে সাথেই বুঝলাম ছুটির হাওয়া আর খাওয়া যাবে না। বললাম, “বলুন স্যার।” তিনি বললেন, “কন্ট্রোল রুমে একটা ছেলে এসে সেখান থেকে ফোনে আমায় বলল, তার কাছে ইন্টারন্যাশানালি ওয়ান্টেড একটা লোকের খোঁজ আছে, সেই লোকটা নাকি আজ কলকাতায় থাকবে। আপনি গিয়ে ব্যাপারটা দেখুন তো।” আমি জানতে চাইলাম, “লোকটার নাম, ঠিকানাটা ছেলেটা বলেনি?” তিনি জানালেন, “না, ছেলেটা বলছে, সে কথা বলবে শুধু কোন উঁচুস্তরের অফিসারেরই সঙ্গেই। কন্ট্রোল রুমের কোনও অফিসারকে ও কিছু বলেনি, তারা তখন ফোনে আমাকে ধরিয়ে দিয়েছে।” বললাম, “ঠিক আছে, আমি যাচ্ছি।” ফোন নামিয়ে রেখে ভাবলাম, সকালবেলাতেই আবার কোন আন্তর্জাতিক অপরাধীর খবর এল রে বাবা, রোববারটাই মাটি করবে না কি?

    কন্ট্রোল রুম বিল্ডিংয়ের ওপরেই চারতলায় আমার কোয়ার্টার। রেসিডেনসিয়াল অফিসার হিসাবে ওখানে থাকি। মজুমদার সাহেবের নির্দেশ পেয়ে সিঁড়ি দিয়ে পায়ে পায়ে নেমে এলাম দোতলায় কন্ট্রোল রুমে। কন্ট্রোল রুমের গোল টেবিলের গোটা পঞ্চাশেক ফোনের সামনে একটা চেয়ারে বসে আছে একটা অচেনা আঠাশ-তিরিশ বছরের যুবক। গায়ের রঙ মাজা, চোখ মুখ বেশ ধারাল। সাদা ফুলহাতা জামার সাথে গাঢ় নীল রঙের জিনসের প্যান্ট। এক ঝলকেই বোঝা যায় বেশ স্মার্ট।

    ডিউটি অফিসারের কাছে জানতে চাইলাম, কে এসেছেন বিশেষ খবর নিয়ে? তিনি আমায় সেই যুবককে দেখিয়ে দিলেন। আমি সরাসরি তাঁকে জিজ্ঞেস করলাম, “বলুন কি খবর এনেছেন?” সে আমার দিকে তাকিয়ে চোস্ত ইংরেজতে বলল, “কিন্তু আপনি কে? কি নাম আপনার? পরিচয়ে খুশি হলে তবে কথা বলব।”

    এতদিন পুলিশে চাকরি করছি, প্রশ্নের জবাবে কেউ ওই ভাবে উত্তর এড়িয়ে নাম জিজ্ঞেস করেনি। ছেলেটার উদ্ধত ভাব আর ঝরঝরে ইংরেজি আমাকে ভেতরে ভেতরে নাড়া দিলেও সেটা লুকিয়ে আমি তাঁর বিশ্বাসভাজন হওয়ার জন্য বললাম, “আপনি আমাকে আপনার কথা বলতে পারেন, আমার নাম রুণু গুহ নিয়োগী।” আমার নাম শুনে সে একটু চিন্তা করেই বলল, “হ্যাঁ, আপনার নাম শুনেছি, আপনাকে বলা যেতে পারে। কিন্তু এখানে আমি কোনও কথাই বলব না, আলাদা ঘরে চলুন যেখান থেকে কোনও কথা বাইরে আসবে না।” আমি পাশের কাঁচে ঘেরা ওয়্যারলেস রুমটার দিকে তাকাতে সে বলল, “না ওখানেও হবে না, অন্য লোক আছে।”

    আমি অগত্যা কন্ট্রোল রুমের পাশে উঁচুপদের অফিসারের যে বড় চেম্বারটা আছে সেখানে নিয়ে গেলাম তাঁকে। ছেলেটা ঘন ঘন একটার পর একটা সিগারেট টেনে যাচ্ছে। তাঁকে একটা চেয়ারে বসতে দিয়ে জিজ্ঞেস করলাম, “বলুন কি বিশেষ খবর?” ছেলেটা বলল, “ইন্টারন্যাশানালি হটলি ওয়ান্টেড একজন আজ রাতে কলকাতায় থাকবে, কোথায় থাকবে আমি জানি, তাকে চিনিয়ে দিতে পারি, কিন্তু আমার শর্ত অনুযায়ী চললে, তবেই।” প্রশ্ন করলাম, “কি শর্ত?” সে বলল, “সে ঠিক আজ রাত বারটায় একটা বাড়িতে থাকবে, আপনারা সেই বাড়ি ঘিরে ফেলবেন, আমি তার সাথে দু-চার মিনিট কথা বলব, তারপর আপনারা আপনাদের কাজ করবেন।” জানতে চাইলাম, “কি নাম তার?” ছেলেটা বলল, “তা আমি এখন জানাব না, জায়গায় গিয়ে জানাব।”

    আমার প্রশ্ন, “লোকটা স্মাগলার না খুনী, কি?” ছেলেটা বলল, “সে আপনি যা ইচ্ছা ভাবতে পারেন, বলেছি তো সে ইন্টারন্যাশানালি হটলি ওয়ান্টেড।” বললাম, “তার মানে ইন্টারপোলও তাকে খুঁজছে?” সে বলল, “হ্যাঁ, হ্যাঁ, ইন্টারপোল, সি-আই-এ, কে-জি-বি সবার কাছেই সে হাইলি ওয়ান্টেড।” জানতে চাইলাম, “তা আপনি তাঁকে কি ভাবে চেনেন? কি করে জানলেন সে আজ রাতে কলকাতায় থাকবে?” সে দৃঢ় স্বরে বলল, “এসব কোন কথাই আমি এখন বলব না। ভুল বলে থাকলে আমাকে আপনি গ্রেফতার করবেন, আমি তো আপনাদের হেফাজতেই থাকছি, আর তো কোথাও যাচ্ছি না।” জিজ্ঞেস করলাম, “আপনার নামটা কি, কোথায় থাকেন?” ছেলেটা এবারও বলল, “সেটাও এখন আমি জানাব না, কাজ হয়ে গেলে সবই জানতে পারবেন। আমি তো পালাচ্ছি না।”

    মনে মনে ভাবলাম, কি ফ্যাসাদেই না পড়েছি, নিজের নাম, • অপরাধীব নাম কোনও পরিচয়ই বলছে না, কিন্তু কিছু না জেনে এগিয়ে যাই কি করে? রোববারটাই মনে হচ্ছে মাটি করে দেবে। বড়সাহেবরা তো দিব্যি চলয়িত্ব দিযে ছুটি উপভোগ করছেন। এদিকে ছেলেটার ঝকঝকে ইংরেজি ও বাংলা, কথাবার্তায় আমি বেশ ইমপ্রেড। এড়িয়ে যাওয়া যায় না।

    আমাকে নীরব থাকতে দেখে ছেলেটা ‘বলে উঠল, “দেখুন, আপনারা তাকে হাতে পেয়েও যদি কিছু না করেন তো আমার কিছু বলাব নেই। আমার কথায় বিশ্বাস না করলে কলকাতা পুলিশ একটা বিরাট গৌরবের থেকে বঞ্চিত হবে, আমার আর কি?” বললাম, “ঠিক আছে, আপনি শুধু তার নাম, কি ধবনের অপরাধী সে, রাতে কোথায় আসবে তা বলুন না, দেখবেন আমরা তাকে গ্রেফতার করি কি না করি।” ছেলেটা বলল, “আমি তো বলেইছি এখন আমি কিছু জানাব না, কারণ যার কথা আমি বলছি, সে অসম্ভব বুদ্ধিমান, উচ্চশিক্ষিত, তুখোড়, তাঁর বিস্তার সর্বত্র।” প্রশ্ন করলাম, “তার মানে আপনি কি ভয় পাচ্ছেন আমাকে জানালে, সেই খবরটা তাঁর কাছে পৌঁছে যেতে পারে?” ছেলেটা বলল, “হ্যাঁ, তাই আমি কিছুতেই বলব না।” বললাম, “আপনি নিশ্চিন্ত থাকতে পারেন, তেমন কোন সম্ভাবনা নেই।” সে সাথে সাথে উত্তর দিল, “হয়ত আপনার কাছে নেই, কিন্তু আমার কাছে আছে, আমি সেই সম্ভাবনাটা রাখব কেন?”

    কন্ট্রোল রুমের ডিউটি অফিসার আমায় এসে বললেন, আমার ফোন এসেছে। আমি কন্ট্রোল রুমে গিয়ে ফোন ধরতেই, ওপার থেকে মজুমদার সাহেব প্রশ্ন করলেন, “কি হল রুণুবাবু কিছু জানতে পারলেন?” বললাম, “না স্যার, কিছুই বুঝতে পারছি না।” তারপর ছেলেটার সমস্ত বক্তব্য তাঁকে জানালে তিনি বললেন, “দেখুন, কতটা জানতে পারেন, কিছু জানলে আমাকে জানাবেন। আমি চিন্তায় থাকব।” বললাম, “ঠিক আছে, নিশ্চয়ই জানাব।”

    কন্ট্রোল রুমে সেদিন ডিউটি অফিসার যে ছিল সে বহু বাংলা ছবিতে জাঁদরেল পুলিশ অফিসার হিসাবে অভিনয় করেছে। তাকে বললাম, ““যাও না, ছেলেটাকে গিয়ে জেরা করে ার কর রহস্যটা কি। সিনেমা ‘তো আকছার কবছ।” সে হেসে বলল, “দূর, ওগুলো সিনেমাতেই হয়, ওসব সংলাপ আর দৃশ্য চিত্রনাট্যকাররা লিখে দেন, আর পরিচালকরা আমাদের দিয়ে সেগুলো করিয়ে নেন। এখানে; আর ছবির সংলাপ বললে চলবে না, এটা যে একেবারে বাস্তব। এখানে অভিনেতার বদলে তোমরা।” ‘ওর কথা শেষ হতে না হতে ফোন, ফোন তুলেই অফিসার” আমার হাতে দিয়ে বলল, “ডি.সি. ডি.ডি.।” আমি ফোন ধরে বললাম, “স্যার।” তিনিও জানতে চাইলেন ওই ছেলেটার খবর। আমি যা যা ঘটেছে সব কথা তাঁকে বলতে তিনি বললেন, “আমি বাড়ি থেকে একটু বেরচ্ছি, তুমি সব চিন্তা করে সাবধানে এগবে।”

    ফোন রেখে আমি বিভিন্ন দিক. ভারছি। একবার মনে হচ্ছে ছেলেটার কথামত যাই-ই না, দেখি কাকে পাওয়া যায়। আবার ভাবছি; দূর, মা জেনে না বুঝে একটা অচেনা, অজানা ছেলের কথা বিশ্বাস করে কাকে গ্রেফতার করে কি বিপদে জড়িয়ে পড়ব, ওই রকম ছেলেমানুষী কি আর আমাদের সাজে? তবে একটা কোনখানে রহস্য আছে, সেই ‘রহস্যটাই ভেদ করতে হবে। কিন্তু ছেলেটা ফোন একগুঁয়ে, তাকে ভাঙাটা অত সহজ হবে না। ওর কথাবার্তায় ব্যাপারটা ফালতু বলে উড়িয়েও দিতে পারছি না। তবে ছেলেটা যে লালবাজার সম্পর্কে ওয়াকিবহাল নয় সেটা বুঝে গৈছি, কারণ সে জানলে অপরাধীর খবর দিতে কন্ট্রোল রুমে না এসে গোয়েন্দা বিভাগে যেত। তার মানে ছেলেটা অপরাধ জগতের লোক নয়, কারণ অপরাধ জগতের লোকেরা এগুলো ভালই জানে। অথচ অপরাধ জগতের লোক না হয়ে সে কি করে ‘আন্তর্জাতিক অপরাধীর খোঁজ নিয়ে এল? কি সেই রহস্য?

    ছেলেটাকে প্রশ্ন করলাম, “আপনি যেখানে আমাদের নিয়ে যেতে চাইছেন তা কি কলকাতার উত্তরে না দক্ষিণে বা অন্য কোন দিকে?” ছেলেটা আমার প্রশ্ন শুনে একটু চুপ করে থেকে কিছু একটা ভেবে নিয়ে বলল, “দক্ষিণে।” জানতে চাইলাম, “এখান থেকে কতদূর?” সে বলল, “তা এখন বলব না, আপনারা গেলেই তা জানতে পারবেন, আমি তো আপনাদের সঙ্গেই যাব।” বললাম; “কতক্ষণ লাগবে যেতে?” সে বলল, “বললাম তো এখন কিছু জানাব না, কতক্ষণ লাগবে জার্নালেই তো আপনারা বুঝতে পারবেন দূরত্বটা কতখানি।”

    ভাবলাম, কি টেটিয়া রে বাবা! কিছুতেই ভাঙছে না। আমি ভাল করে ওর শরীরের ভাষা পড়ার চেষ্টা করছি। চেন স্মোকার। মাঝেমাঝে রুমাল দিয়ে মুখ মুছছে। গরমকাল, ঘাম: হতেই পারে। আমি উঠে চেম্বারের এয়ারকন্ডিশন মেশিনটা চালিয়ে দিলাম। ততক্ষণে বৈশাখের বিকেল গড়িয়ে সন্ধ্যা প্রায় ছুঁয়েছে। আবার ফোন।

    কন্ট্রোল রুমে গিয়ে ধরলাম, মজুমদার সাহেব জানতে চাইলেন কতদূর এগিয়েছে। বললাম, “একটুও না।” তিনি বললেন, “আমি কিছুক্ষণ কোয়ার্টারে থাকব না, আপনি ফোর্স লাগলে নিয়ে যাবেন, কি হল না হল জানাবেন। চিন্তায় থাকব।”

    ফোন রেখে একা একা দাঁড়িয়ে ভাবছি, কি করা যায়? ছেলেটার কথায় একটা ঝুঁকি নেব কি? পেলেও তো পেতে পারি কোনও “অমূল্যরতন।” একটা দিন আমার নষ্ট করল অথচ কোনও কথাই তার থেকে আমি বার করতে পারিনি। বিরক্ত লাগছে, এইভাবে প্রায় উড়ো খবরের ভিত্তিতে ফোর্স নিয়ে কোথায় গিয়ে পড়ব, কে জানে? আবার ছেলেটার দৃঢ়তা দেখেও তাচ্ছিল্য করা যাচ্ছে না। যদি বিশেষ অপরাধীর খবর পেয়েও ধরতে না পারি তবে আমাদের বড় বড় সাহেবরা জানতে পারলে সম্পূর্ণ দোষটা আমার ঘাড়ে চাপিয়ে দেবে। আর তার চেয়ে বড় হল, তখন নিজেকেই নিজে দোষী মনে করব। এইরকম দোটানা মন নিয়ে ছেলেটার সামনে এসে বসলাম।

    বললাম, “আপনি তো ভাই কোন কথাই বলছেন না, অথচ আমাদের সমস্যাটাও বুঝতে পারছেন না।” ছেলেটা বলল, “দেখুন, আপনি ফোর্স রেডি করুন, সে কিন্তু বেশিক্ষণ সেখানে থাকবে না, ওখান থেকে চলে গেলে আপনারাই পস্তাবেন; তখন কিন্তু আমাকে কিছু বলতে পারবেন না।” দুজনের মধ্যে পরস্পরের কথা এড়িয়ে গিয়ে প্রসঙ্গ থেকে প্রসঙ্গান্তরে চলে যাওয়ার যেন আড়াআড়ি যুদ্ধ চলছে। বললাম, “আপনি তো তার আস্তানাটা বলছেন না, আচ্ছা আপনি কোথায় থাকেন, মানে কলকাতার কোন্ দিকে?” সে একটু ভেবে বলল, “উত্তরে।”

    যেন শুনিনি এমন ভাব করে অন্য কথা পাড়লাম, ওর উদ্দেশ্যের সঙ্গে যার কোন সম্পর্ক নেই। আমি ইচ্ছে করেই সময় কাটাচ্ছি যাতে তার উত্তেজনা বাড়ে। আমরা জানি যতবড় চতুরই হোক না কেন, অনবরত কথা বলার মাঝে দু একটা বেফাঁস কথা লোকে বলে ফেলে, যা আমাদের কাজে লেগে যায়। আর সেই ফাঁক দিয়েই আমরা তীর ছুঁড়ে করি লক্ষ্যভেদ। কথার মাঝে চট করে জিজ্ঞেস করলাম, “কতক্ষণ লাগবে সেখানে যেতে?” সে এবার বলে ফেলল, “দশ-পনের মিনিট।” বুঝলাম তার ভেতর ভেতর উত্তেজনা বাড়ছে। এতক্ষণ দূরত্বটাও বলছিল না। বললাম, “ও, তাহলে তো বেশি দূর নয়। এখনও তো অনেক দেরি আছে। ইতিমধ্যে আপনি আপনার বাড়ি ঘুরে আসতে পারবেন।” সে বলল, “না, আমি আর কোথাও যাব না, একবারে কাজ শেষ করে বাড়ি ফিরব।” আমার প্রচেষ্টা ছিল তাকে যদি বের করতে পারি, তবে সে কোথায় কোথায় যায়, কার সাথে কথা বলে, বাড়িটাই বা কোথায় তা এক নজরদার ওর পেছনে লাগিয়ে জেনে নেব। তার জন্য একটা নজরদারও ঠিক করে রেখেছিলাম। কিন্তু সে যেতে অস্বীকার করাতে, আমার পরিকল্পনাকে গুটিয়ে ফেলতে বাধ্য হলাম।

    রাত বাড়ছে। সে বারবার ঘড়ির দিকে তাকাচ্ছে আর আমাকে বলছে, “আপনি কিন্তু ফোর্স রেডি করছেন না।” আমি ওর কথার কোনও গুরুত্ব না দিয়ে প্রশ্ন করলাম, “আপনার বাড়িতে কে কে আছেন?” সে জানাল। আমি ঝট করে উঠে কন্ট্রোল রুমের দিকে চলতে শুরু করলাম, যাতে তার উত্তেজনা আরও বাড়ে। উত্তেজনা বাড়ার লক্ষণ তো দেখছিই। ঘরে এয়ার-কন্ডিশন চলছে, তবু তার কপালে ঘাম হচ্ছে, আর সে রুমাল দিয়ে মাঝেমধ্যে মুছছে।

    কন্ট্রোল রুমে দাঁড়িয়ে ভাবছি, কেন সে আমাদের আগে অপরাধীর সাথে দেখা করাতে চায়? কি কারণে? সেটা কি তার ব্যক্তিগত কোনও প্রতিশোধস্পৃহার জ্বালায়? কি হতে পারে তার সেই জ্বালার কারণ?

    চা আনলাম। চা নিয়ে গেলাম ছেলেটার কাছে। কাপটা ধরিয়ে দিয়ে বললাম, “এই যে আপনি আমাদের আগে তার সঙ্গে কথা বলতে চাইছেন, তখন যদি সে আপনাকে আঘাত করে বা খুন করে তার দায় কে নেবে?” সে বলল, “না-না, তেমন কোনও সম্ভাবনা নেই, সম্ভাবনা থাকলে তো আমি বলতামই, তিনি হাইলি হাইলি ইন্টেলেকচুয়াল লোক। এত বুদ্ধি যে আপনারা ভাবতেই পারবেন না। তাছাড়া একটা বিখ্যাত ব্যক্তির বাড়িতে এসে থাকবে। আমি তাকে চিনিয়ে দেব, আমি তো আছিই আপনাদের সঙ্গে।”

    আমি ওর উত্তেজিত মুখের দিকে তাকিয়ে কথা শুনছি। চা শেষ করে আবার আমি ফিরে এলাম কন্ট্রোল রুমে। রাত তখন প্রায় পৌনে এগারটা। কন্ট্রোল রুম, ওয়্যারলেস রুমের ডিউটি অফিসার ও কর্মীরা পাল্টে গেছেন। মাথার মধ্যে চিন্তার কাটাকুটি খেলতে খেলতে কন্ট্রোল রুমের টেবিলে এক পাশে পড়ে থাকা সেদিনের বাংলা পত্রিকাটা চোখের সামনে মেলে ধরে এলোমেলো ভাবে পড়তে পড়তে হঠাৎ একটা ছোট খবরের ওপর চোখ আটকে গেল। আমি সেই খবরের চারদিকটা দাগ দিয়ে দিলাম।

    কন্ট্রোল রুম থেকে ছেলেটার কাছে গিয়ে প্রথমেই তাকে প্রশ্ন করলাম, “আপনার গান-বাজনা, সাহিত্য কেমন লাগে?” আমার হঠাৎ প্রসঙ্গহীন প্রশ্নে সে একটু চমকে উঠে বলল, “ভাল লাগে। কিন্তু দেরি হচ্ছে, এখনও প্রস্তুত হচ্ছেন না?” তার কথার উত্তর না দিয়ে বললাম, “চলুন আপনার বাড়িটা দেখে আসি।” সে বলল, “সে কি? আমার রাড়ি গিয়ে ফিরে এসে সেখানে যেতে যেতে অনেক দেরি হয়ে যাবে, দেখছেন, না, এখনই এগারটা বাজে।” গম্ভীর ভাবে বললাম, “সে চিন্তা আমার, এখান থেকে তো মাত্র দশ মিনিট সময় লাগবে, আমি সব রেডি রাখছি, আপনার বাড়ি থেকে ফিরে এসেও অনেক সময় থাকবে। আমি আপনার বাড়ি না চিনে: অপরাধী ধরতে যাব না, আপনি যদি পালিয়ে যান; তখন কি করব?” ছেলেটা উত্তেজিত হয়ে বলল, “না না, আমি পালাব না; আর পালাব কি করে, আপনারা তো বাড়িটা ঘিরে রাখবেন। তবু যদি কোন ভুল করি তবে আমাকে সঙ্গে নিয়ে গিয়ে আমার বাড়ি থেকে বাবা-মাকেও নয়। গ্রেফতার করে নিয়ে আসবেন, কিন্তু এখন আপনারা রেডি হন।”

    বললাম, “না, আপনার বাড়ি না দেখে আমি কোথাও যাব না। কারণ, তাকে গ্রেফতারের পর জেরা করে জানতে এবং সাক্ষ্য প্রমাণের জন্য আপনাকে আমাদের দরকার হবে; তখন আপনাকে আমরা কোথায় পাব? তাছাড়া আপনি যে সত্যিই এখানকার লোক তা জানব কি করে? অন্যখান থেকে এসেও আমাদের ফ্যাসাদে ফেলতে পারেন।” ছেলেটা আমার কথায় একটু ভেঙে পড়ে বলল, “ঠিক আছে চলুন, কিন্তু গাড়িতে আপনি ছাড়া আর কেউ থাকবে না, আমি গাড়ি থেকেই আপনাকে বাড়ি দেখিয়ে দিয়ে সোজা চলে আসব, যাতে ঠিক সময়ে পৌঁছতে পারি।” বললাম, “তাই-ই হবে। কিন্তু সেই বাড়িটা যে আপনার তা বুঝব কি করে? আপনি তো অন্য কোন বাড়িও দেখিয়ে দিতে পারেন।” সে বলল, “আমার বাড়ির সামনে আমার বাবার নামে একটা নেমপ্লেট লাগান আছে।” তারপর সে. তাঁর বাবার নামটা বলল। এই প্রথম সে কোনও নাম বলল।

    দ্রুত কন্ট্রোল রুমে এসে আমাদের গোয়েন্দা বিভাগে ফোন করলাম। ধরলাম শচীকে। ওকে বললাম, “এক্ষুণি আমাদের একটা বুদ্ধিমান কনস্টেবল নিয়ে কন্ট্রোল রুমে আমার কাছে এস।” লালবাজারের পশ্চিম দিকের গোয়েন্দা দফতরের বিল্ডিং থেকে কন্ট্রোল রুমের উত্তর দিকের বাড়িতে শচী ও কনস্টেবল, অসিত যেন উড়ে আমার সামনে এসে হাজির। আমি ওদের কাজ বুঝিয়ে দিতে অসিত নেমে চলে গেল। আমি শচীকে নিয়ে ছেলেটার কাছে এসে বললাম, “আমাদের এই অফিসার” আপনার সঙ্গে যাবেন, ‘ একেই আপনি বাড়ি চিনিয়ে দিয়ে সোজা আসামীর জায়গায় চলে যাবেন।” তারপর শচীর দিকে ফিরে ‘ওকে একটা পোর্টেবল ওয়্যারলেস দিয়ে বললাম, “তুমি বাড়ি দেখে ফেরার পথে আমায় ওয়্যারলেসে জানিয়ে দেবে, আমি এখান থেকে ফোর্স নিয়ে সেই জায়গায় পৌঁছে যাব।” ছেলেটাকে আর কোনও কথা বলতে না দিয়ে, তাড়া দিলাম তাড়াতাড়ি যেতে। শচী আর ছেলেটা কন্ট্রোল রুম থেকে বেরিয়ে নিচে অপেক্ষমান আমাদের এক প্রাইভেট গাড়িতে গিয়ে পেছনের সিটে বসল। ড্রাইভারের পাশে সামনের সিটে অন্য কয়েকজন কনস্টেবল বসেছে। আর বাঁদিকে দরজার দিকে অসিত। অসিতও ড্রাইভারকে ততক্ষণে আমার নির্দেশ পৌঁছে দিয়েছে।

    তাদের গাড়ি বেরিয়ে যেতে আমি নেমে এসে আমাদের একটা ট্যাক্সিতে উঠে ওদের পেছন পেছন ছুটলাম। তখন আমরা গোয়েন্দাগিরির কাজে ট্যাক্সি ব্যবহার করতাম। তাতে নজরদারী করার সুবিধা পাওয়া যেত, যার ওপর নজর রাখা হচ্ছে সে বুঝতে না পারে হাজারও ট্যাক্সির ভিড়ে কোনও এক ট্যাক্সির আরোহীর শাণিত দৃষ্টি রয়েছে তার ওপর।

    আমার ট্যাক্সির নম্বরটা দেওয়া আছে অসিতকে। সঙ্গে রেখেছি একটা পোর্টেবল ওয়্যারলেস সেট, শচীর সাথে যোগাযোগ রাখার জন্য। ট্যাক্সির ড্রাইভার দারুণ দক্ষ। অন্য গাড়ির থেকে কতটা দূরত্ব রেখে নজর রাখতে রাখতে যেতে হবে তার কুশলী হাত যেন সেই জন্যই তৈরি। ঘড়ির কাঁটা টিকটিক করে এগিয়ে চলেছে রাত বারটার দিকে, সাথে হৃদযন্ত্রের ধকধক শব্দও বোধহয় শোনা যাবে। আসামী ধরতে যাব কলকাতার দক্ষিণ দিকে, অথচ যাচ্ছি উত্তরের দিকে।

    বের হওয়ার আগে আরও দুতিনবার মজুমদার সাহেব কন্ট্রোল রুমে ফোন করে জানতে চেয়েছিলেন আমার অগ্রগতির ফল, কিন্তু একটুও এগোয়নি ছাড়া কোন উত্তরই তাঁকে দিতে পারিনি। আমি যে কোথায় চলেছি তাও জানেন না। কোথাও আলো কোথাও অন্ধকার রাস্তা চিরে চিরে একটা নির্দিষ্ট দূরত্ব রেখে দুটো গাড়ি দ্রুত ছুটছে কলকাতার উত্তর দিক পার হয়ে, এখন বরানগরে। বরানগরের এদিক ওদিক ঘুরে একটা অন্ধকার রাস্তায়, দূর থেকে দেখলাম আমাদের প্রাইভেট গাড়ি একটু আস্তে হয়েই আবার জোরে ছুটতে শুরু করল। আমিও ট্যাক্সিটা ওইখানে রাখতে বললাম।

    আমার নির্দেশ মত অসিতও গাড়ি থেকে স্লিপ করে নেমে গেছে। শচীরা এগিয়ে যাচ্ছে। অসিত আমার কাছে এসে জানাল কোন বাড়িটা ছেলেটা দেখিয়েছে।

    আমি আর অসিত সেই একতলা বাড়িটার সামনে এসে প্রথমে নেমপ্লেটের নামটা মিলিয়ে দেখে সদর দরজার কড়া নাড়লাম। দরজা খুললেন একজন মাঝবয়সী ভদ্রমহিলা। তিনি আমাদের দেখে অবাক হয়ে গেলেন। বললাম, “ভয় নেই মাসীমা, আমরা লালবাজার থেকে এসেছি, আপনার ছেলের নামটা কি?” তিনি লালবাজার শুনে কোনমতে ছেলের নাম বলেই কেঁদে ফেলে জিজ্ঞেস করলেন, “কেন কি হয়েছে ওর?” বললাম, “কিছু হয়নি, আমরা একটু ওর ঘরটা দেখব।” তিনি আমাদের ছেলেটার ঘরের দিকে নিয়ে গেলেন। দরজাটা ভেজানো ছিল, ধাক্কা দিয়ে খুলে লাইটের সুইচটা টিপে দিতেই আমি চমকে উঠে ঘরের চারদিক দেখতে লাগলাম।

    সারা ঘরের দেওয়াল জুড়ে শুধু একজনেরই ছবি। শুধু দেওয়ালে নয়, টেবিলে, খাটে, চেয়ারের সর্বত্র শুধু তাঁর বিভিন্ন রকমের ছবি। টেবিলের ওপর দেখলাম পড়ে আছে সেদিনের পত্রিকাটা। সেটা খুলে দেখলাম, আমি যে খবরটার ওপর লালবাজারে দাগ দিয়ে এসেছি, এখানেও ঠিক সেই খবরের ওপর ছেলেটা লালকালি দিয়ে দাগ দিয়ে রেখেছে। তার পাশে অনেক হিজিবিজি লেখা।

    আমার সাথে সাথে ভদ্রমহিলাও ঘরে ঘুরছেন। ছবিগুলো দেখিয়ে বললেন, “সারাদিন খালি ওঁরই ধ্যান, জ্ঞান, ওঁরই ফটো আগলে নিয়ে বসে থাকে। আজ সকাল থেকে দেখলাম ওর মনটা কেমন যেন অস্থির, কোন কথারই ঠিক মত উত্তর দিল না। সকালে প্রায় কিছু না খেয়েই বেরিয়ে গেল। যাওয়ার সময় বলল, ফিরতে রাত হবে।” আমি তাঁর কথা শুনতে শুনতে শচীকে ওয়্যারলেসে নির্দেশ দিয়ে দিলাম, “দাঁড়াও, আর এগবে না।”

    শচী অবশ্য আমার কথামত খারাপ হয়ে যাওয়ার বাহানায় গাড়ি দাঁড় করিয়ে ফেলেছে। ড্রাইভার গাড়ির বনেট খুলে সারানর অভিনয় করে যাচ্ছে। ছেলেটা অস্থির, ড্রাইভারকে বারবার বলছে, “কি হল? ঠিক হয়েছে?” ড্রাইভার বলছে, “তেল আসছে না ঠিকমত, আমি দেখছি, ঠিক হয়ে যাবে।” ছেলেটা উত্তেজনার চরমে পৌঁছে গেছে, শচীকে বলছে, “কি হবে?” শচী বলছে, “হবে, হবে, ঠিক হবে।”

    আমরা ছেলেটার বাড়ি থেকে বেরিয়ে ট্যাক্সিতে চেপে বসলাম। ট্যাক্সি দাঁড় করালাম শচীদের গাড়ির সামনে। ট্যাক্সি থেকে আমাকে নামতে দেখে ছেলেটা যেন ভূত দেখল, বলে উঠল, “আপনি?” তার কথার উত্তর না দিয়ে বললাম, “আপনি গাড়ি থেকে নেমে আসুন।” ছেলেটা বলল, “কেন, যাবেন না?” বললাম, “যাব, তবে আপনাকে নিয়ে নয়। আপনি নামুন।” আমার গলার স্বরে এমন ঝাঁঝ ছিল যে ছেলেটা আর দ্বিরুক্তি না করে গাড়ি থেকে নেমে এল। বললাম, “আপনি আমাদের যেখানে নিয়ে যেতেন তার ঠিকানা আমি পেয়ে গেছি; ওখানে আমরাই যাব, আপনার প্রয়োজন নেই।” আমার কথা শুনে সে ঝট করে আমার হাতটা ধরে ঝরঝর করে কেঁদে ফেলে বলল, “আমার সব স্বপ্ন আপনি ভেঙে দিলেন? একটাই স্বপ্ন ছিল, তা আর পূর্ণ হে হবে না? কি নিয়ে বাঁচব?”

    আমি গাড়িতে শচীর পাশে বসতে বসতে বললাম, “ট্যাক্সি নিয়ে বাড়ি যান।” আমাদের ট্যাক্সিচালককে সেই নির্দেশ দিয়ে দিলাম। আমাদের গাড়ি ছেড়ে দিল। গাড়ি বেশ কিছুটা চলার পর শচী আমাকে জিজ্ঞেস করল, “কি ব্যাপার বলুন তো, ছেলেটা আসতে আসতে বলল, ইন্টারন্যাশানালি হটলি ওয়ান্টেড একটা লোকের খবর আছে ওর কাছে, আর তারপর দেখলাম সোর্সই আপনার হাত ধরে কাঁদছে।”

    শচীর কথার উত্তর না দিয়ে চুপ করে রইলাম। গাড়ি ছুটছে কলকাতার দিকে। হঠাৎ একটা চায়ের দোকান দেখে গাড়ি থামিয়ে চায়ের অর্ডার দিয়ে শচীকে বললাম, “কি শুনতে চাইছ?” শচী বলল, “ব্যাপারটা আমরা কিছুই বুঝতে পারলাম না, তাই জানতে চাইছি, কে ছেলেটা?” সবাই আমার দিকে উদগ্রীব হয়ে তাকিয়ে আছে। আমি তাদের সকাল থেকে যা যা ঘটেছে সব বললাম। শচী বলল, “তারপর?” বললাম, “ছেলেটার মতিগতি কোন কিছুই বুঝতে পারছিলাম না। একবার ভাবলাম, ব্যর্থ প্রেমিক-টেমিক নাকি, ব্যর্থতার জ্বালায় কাউকে আমাদের হাতে ধরিয়ে দিচ্ছে, কারণ সে শর্ত রেখেছিল, আমাদের দিয়ে বাড়ির দরজা খোলানর পর সে প্রথমে অপরাধীর সাথে কথা বলতে চায়। তারপর পত্রিকার খবরটা দাগ দিয়ে আমি ঠিক করি তার বাড়ি আমি আগে যাবই যাব। তখন ওকে রাজি করিয়ে ফোন করি তোমায়। এরপর তো তোমরা সবই জান।” শচীর প্রশ্ন, “তারপর?” বললাম, “ওর বাড়িতে বাবার নেমপ্লেটটা মিলিয়ে দেখে ভাবলাম, সে তাহলে মিথ্যা বলেনি। তারপর ওর ঘরে গিয়ে সারা ঘরময় একজনের ফটো দেখলাম আর পত্রিকায় আমি যেভাবে দাগ দিয়ে এসেছি লালবাজারে ঠিক তেমনভাবেই ওর টেবিলে দেখলাম রয়েছে খবরটার ওপর দাগ। তখন আমি বুঝে গেলাম আমার ধারণাই সত্যি, কোথায় সে আমাদের নিয়ে যেতে চেয়েছিল।”

    শচী উত্তেজিত হয়ে প্রশ্ন করল, “কোথায় নিয়ে যেতে চেয়েছিল?”

    বললাম, “বিশপ লেফ্রয় রোডের একটা বাড়িতে।”

    শচী জিজ্ঞেস করল, “সেখানে কার বাড়িতে?” আমি কিছু বলার আগেই অসিত বলল, “সত্যজিৎ রায়ের বাড়িতে। ওর সারা ঘরে শুধু সত্যজিৎ রায়ের ফটো।”

    শচী জানতে চাইল, “সেখানে কেন?” বললাম, “পত্রিকায় ছোট্ট খবরটা ছিল আগামীকাল সোমবার, ১৮ই বৈশাখ সত্যজিৎবাবু জন্মদিন, তিনি বাড়িতে সারাদিন অনাড়ম্বরভাবে কাটিয়ে দেবেন।”

    শচী বলল, এই খবরের সঙ্গে স্মাগলারের কি সম্পর্ক?” বললাম, “খবরটা পড়েই আমার মনে হয় রাত বারটার সঙ্গে খবরটার একটা সম্পর্ক আছে। সঙ্গে সঙ্গেই ওর ঘরটা দেখব বলে ঠিক করে নিই।”

    শচী জানতে চাইল, “কিন্তু কি উদ্দেশ্য ছিল ছেলেটার?” বললাম, “উদ্দেশ্য ছিল আমাদের দিয়ে তাঁর বাড়িটা ঘিরিয়ে ফেলবে, আমাদের দিয়ে সদর দরজা খোলাবে, কারণ এমনিতে তো অত রাতে অজানা লোকের জন্য ওই বাড়ির দরজা কেউ খুলবে না। তারপর পুলিশ তল্লাশিতে এসেছে শুনলে সত্যজিৎবাবু নিশ্চয়ই ঘুম থেকে উঠে বেরিয়ে আসতেন। আর তখন রাত বারটা বেজে যেত, তারিখ পাল্টে যেত, সত্যজিৎবাবুর জন্মদিন এসে যেত। তখন সেই সুযোগে ছেলেটা সত্যজিৎবাবুকে তাঁর জন্মদিনের প্রথম অভিনন্দন জানাত। এটাই ছিল ওর বিরাট আনন্দ, এতে সে নিজেও খ্যাত হতে চেয়েছিল।”

    শচী বলল, “আমাদের গাড্ডায় ফেলে সে এতবড় একটা পরিকল্পনা করেছিল?”

    বললাম, “পাগল ফ্যানের পাগলামি আর কি! হটলি ওয়ান্টেড-ফোয়ান্টেড গল্প ফেঁদে আজ আমার চাকরিটা খেয়েছিল আর কি।”

    রাত বারটা বেজে গেছে। লালবাজারে পৌঁছে মজুমদার সাহেবকে ফোন করে সব জানালে তিনি বললেন, “দারুণ সামলেছেন তো ব্যাপারটা, একটা বিরাট বদনামের হাত থেকে আমরা বেঁচে গেলাম!”

    সেই ছেলেটা এখন অনেক বড় হয়ে গেছে। সুপ্রতিষ্ঠিত বামপন্থী সাহিত্যিক। প্রায় প্রতিদিনই নন্দন-রবীন্দ্রসদন-শিশির মঞ্চ এলাকায় তাঁকে দেখা যায়!

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleবিদ্যাসাগর-জীবনচরিত – শম্ভুচন্দ্র বিদ্যারত্ন
    Next Article গল্পে বারভূঁইয়া – সতীশ চন্দ্র গুহ

    Related Articles

    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা

    আমি নকুবাবু – সুশীলকুমার চট্টোপাধ্যায়

    January 17, 2026
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা

    বিশ্বমনা : রবীন্দ্রনাথ – সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়

    January 17, 2026
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা

    গল্পে বারভূঁইয়া – সতীশ চন্দ্র গুহ

    January 17, 2026
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা

    বিদ্যাসাগর-জীবনচরিত – শম্ভুচন্দ্র বিদ্যারত্ন

    January 17, 2026
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা

    পাকদণ্ডী – লীলা মজুমদার

    January 17, 2026
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা

    কৃষ্ণসাধিকা মীরাবাঈ – পৃথ্বীরাজ সেন

    January 17, 2026
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমি নকুবাবু – সুশীলকুমার চট্টোপাধ্যায়

    January 17, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমি নকুবাবু – সুশীলকুমার চট্টোপাধ্যায়

    January 17, 2026
    Our Picks

    আমি নকুবাবু – সুশীলকুমার চট্টোপাধ্যায়

    January 17, 2026

    বিশ্বমনা : রবীন্দ্রনাথ – সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়

    January 17, 2026

    গল্পে বারভূঁইয়া – সতীশ চন্দ্র গুহ

    January 17, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }