Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026

    ভুতুড়ে ট্রেন – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026

    ব্রাহ্মণ ভূত – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    সামবেদ-সংহিতা (বঙ্গানুবাদ : দুর্গাদাস লাহিড়ী)

    দুর্গাদাস লাহিড়ী এক পাতা গল্প1842 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    ১.২ ঐন্দ্র পর্ব [২য় অধ্যায়]

    সামবেদ-সংহিতা — ঐন্দ্র পর্ব [২য় অধ্যায়]

    প্রথমা দশতি

    ছন্দ আর্চিক। কৌথুমী শাখা। ঐন্দ্র পর্ব। দ্বিতীয় অধ্যায়।

    দেবতা ইন্দ্র (৩য় ঋকের দেবতা অগ্নি বা হবীংষি)৷
    ছন্দ গায়ত্রী৷৷
    ঋষি : ১ শংযুর্বার্হস্পত্য, ২ শ্রুতকক্ষ সুকক্ষ অথবা আঙ্গিরস, ৩ হর্যত প্ৰাগাথ, ৪।৫ শ্রুতকক্ষ বা সুকক্ষ (৫ সুকক্ষ আঙ্গিরস), ৬। দেবজামি ইন্দ্ৰমাতা ঋষিকা, ৭।৮ গোযুক্তি-অশ্বসুক্তি 
    কাণ্বায়ন, ৯।১০ মেধাতিথি কাণ্ব, আঙ্গিরস প্রিয়মেধ৷

    তদ বো গায় সুতে সচা পুরুহ্তায় সত্বনে। শং যদ গবে ন শাকিনে৷৷ ১৷৷ যস্তে নূনং শতক্রতবিন্দ্র দ্যুতিমো মদঃ। তেন নূনং মদে মদেঃ ২৷৷ গাব উপ বটাবটে মহী যজ্ঞস্য রপসুদা। উভা কর্ণা হিরণ্যয়া৷৷ ৩৷৷ অরমায় গায়ত শ্রুতকারং গবে। অরমিন্দ্রস্য ধামে৷৷ ৪৷৷ বৃমিং বাজা মহে বৃত্ৰায় হবে। স বৃষা বৃষভো ভুবৎ৷৷ ৫৷৷ ভূমি বলাদধি সহসা জাত ওজসঃ। ত্বং সন্ বৃষ বৃষেদসি৷৷ ৬৷৷  যজ্ঞ ইন্দ্রমবর্ধয়দ যদ ভূমিং ব্যবৰ্তয়ৎ। চক্ৰাণ ওপশং দিবি৷৷ ৭ যদিন্দ্রাহং যথা ত্বমীশীয় বস্ব এক ইৎ। স্তোতা মে গোসখা স্যাৎ৷৷ ৮ পন্যং পন্যমিৎ সোতার আ ধাবত মদ্যায়। সোমং বীরায় শূরায়৷৯৷৷ ইদং বসো সুতমন্ধঃ পিবা সুপূর্ণমুদর। অনাভয়িন্ ররিমা তে৷৷ ১০৷

    মন্ত্ৰাৰ্থ— ১। যে স্তোত্র (অথবা, যে কর্ম) জ্ঞানীর এবং পরমৈশ্বর্যসম্পন্ন দেবতার যুগপৎ প্রীতিপ্রদ হয়; হে আমার মনোবৃত্তিনিবহ!–তোমরা বিশুদ্ধসত্ত্বভাবাপন্ন হয়ে, তেমনই স্তোত্রের সাথে (অথবা, তেমনই কর্মের দ্বারা) সর্বজনেরনমস্য, শত্রুগণের অভিভাবকারী (অথবা, পরমধন-প্রদাতা) দেবতাকে আরাধনা কর। [ভাব এই যে, সৎকর্মের দ্বারা যেমন জ্ঞানী পরিতুষ্ট হন, তেমন পরম-ঐশ্বর্যসম্পন্ন দেবতাও তৃপ্তিলাভ করেন; অতএব, বিশুদ্ধ-সত্ত্বভাবাপন্ন হয়ে, সৎকর্মের সাথে আমরা দেবতার আরাধনায় প্রবৃত্ত হব–সঙ্কল্প করছি। [এই মন্ত্রটির গেয়গানের ঋষি—শংযুবাৰ্হস্পত্য বা ভরদ্বাজ। গেয়গানের নাম–রৌদ্র, মার্গীয়ব]।

    ২। অশেষপ্রজ্ঞানস্বরূপ পরমৈশ্বর্যশালী হে দেব! আপনার দীপ্ততম স্বপ্ৰকাশশীল যে (সাধকের অনুভূত) শুদ্ধসত্ত্বভাব (পরমানন্দস্বরূপ), সেই প্রসিদ্ধ শুদ্ধসত্ত্বের দ্বারা, ইদানীং–আমাদের এই অজ্ঞানতমসাচ্ছন্ন অবস্থায়, কৃপাপূর্বক আমাদের সত্ত্বভাবান্বিত পরমানন্দবিশিষ্ট করুন। [ভাব এই যে, সেই ভগবান্ যেন তার শুদ্ধসত্ত্বের প্রভাবে কৃপাপূর্বক আমাদের সত্ত্বভাবান্বিত সুতরাং পরমানন্দযুক্ত করুন]।

    ৩। হে আমার জ্ঞানকিরণনিবহ (অথবা, বাগরূপ স্তোত্রমন্ত্র সমূহ), তোমরা সৎকর্মের আধারভূত সেই ভগবানে গিয়ে উপস্থিত হও; (তাতে) এই পৃথিবীই সৎকর্মসমূহের সুফল প্রদানে সমর্থ হবে; ভক্তি ও কর্মরূপ (সংসার-সাগর পরিত্রাণকারী) ক্ষেপণীদ্বয় তোমাদের আকাঙক্ষণীয় হোক। [আমাদের জ্ঞান, ভক্তি ও কর্ম সহ মিলিত হোক; তাতে জন্মজরামরণধর্মী এই পৃথিবীই ইষ্টফল প্রদান করবেন]। অথবা–হে আমার জ্ঞানসমূহ (জ্ঞানরূপ কিরণসমূহ)! রক্ষক সেই মহাপুরুষ ভগবানে উপগত হও, অর্থাৎ তাকে লাভ কর। সেই ভগবান্ সর্মসমূহের ফলপ্রদ পাত্র (অর্থাৎ, তিনিই সৎকর্মের ফলদানকারী)। হে জ্ঞাননিবহ! তোমরা এবং সৎকর্মসমূহ উভয়েই ক্ষেপণীরূপ। কর্ণসদৃশ; অতএব, তোমরা উভয়েই স্বর্ণতুল্য অর্থাৎ স্বর্ণের ন্যায় আমাদের আকাঙক্ষণীয়। [ভাব এই যে, –ক্ষেপণী অর্থাৎ হাল এবং দাঁড়) যেমন নৌকাকে তার লক্ষ্যস্থল প্রাপ্ত করায়, তেমনই তোমরা উভয়েই (জ্ঞাননিবহ এবং সৎকর্মসমূহ) ভগবানকে প্রাপ্ত করিয়ে দাও; সুতরাং তোমরা আমাদের আকাঙক্ষণীয় হও। [মন্ত্রটিতে বৈষ্ণব পক্ষের অনুমত একটি অর্থও উদ্ধার করা যায়। তাতে নামযজ্ঞের শ্রেষ্ঠত্ব পরিকল্পনা করা যায়; এবং শ্রীচৈতন্য ও শ্রীনিত্যানন্দ প্রভুদ্বয়ের গৌরকান্তির বিষয় হিরণ্যয়া পদের লক্ষ্যস্থল বলে মনে করা যেতে পারে। সে পক্ষে গাবঃ পদ বাকীর্থক শ্রীহরির নাম ইত্যাদি কীর্তনমূলক বলে মনে করা যায়। মহী যজ্ঞস্য রপসুদা বাক্যে নামরূপ যজ্ঞই সকল ফল প্রদান করতে পারে–অন্য যজ্ঞের আর আবশ্যক হয় না–এমন ভাব আসতে পারে]। [মূল ঋগ্বেদের সাথে এই মন্ত্রটির একটু পাঠান্তর দেখা যায়। মন্ত্রদ্রষ্টা ঋষি-হর্যতঃ প্রগাথ (প্রগাথের পুত্র হর্যত ঋষি)। মতান্তরে প্রগথনং প্রগাথ। গেয়গানের নাম–এটতে; অর্থাৎ এটত ঋষি এই গানের প্রবর্তক]।

    ৪। হে মন! তুমি ভগবানের ব্যাপ্তিরূপের অনুধ্যান কর, তার শব্দরূপে অনুধ্যান কর, এবং তার জ্যোতিরূপের অনুধ্যান কর। [ভাব এই যে, ভগবান্ তিন মূর্তিতে বিরাজমান। বিশ্বের অন্তরালে ওতপ্রোতভাবে বিশ্বচৈতন্যরূপে ব্যাপিত ঈশ্বর–তাঁর ব্যাপ্তিরূপ। এই বিশ্বমূর্তির অনুভূতি হলে তার অমৃতময়ী বাণী শ্রবণ করতে পারবে–হৃদয় করে প্রতিনিয়ত ধ্বনিত-পবিত্র আহ্বান। সেই স্বর শুনলেই জ্যোতিরূপের দিব্য আলোকে হৃদয় আলোকিত হবে–অজ্ঞানরূপ অন্ধকার চিরতরে অপসৃত হবে। তখনই গায়ক-সাধক নিজতত্ত্ব খুঁজে পাবে]। [এই মন্ত্রটির এবং এর গেয়গানের ঋষি– শ্রুতকক্ষ। দুটি গানের নাম-শ্রৌতকক্ষ]।

    ৫। হে আমার মন! আত্ম-উদ্বোধন-রূপ এই মহান্ যজ্ঞে তোমার অজ্ঞানতারূপ শত্রুকে বলিদানের জন্য পরমৈশ্বর্যশালী সেই ভগবান্ তোমার অভীষ্টপূরক হোন। [অজ্ঞানের নাশক সেই ভগবান্ আমাদের পূজায় পরিতৃপ্ত হয়ে আমার অভীষ্ট পূরণ করুন]। [এর চারটি গেয়গান আছে। প্রথমটি পার্থ ঋষির নামে প্রচলিত; দ্বিতীয়টি পার্থ বা দাবসুর বা আঙ্গিরস ঋষির নামে প্রখ্যাত; তৃতীয়টি বশিষ্ঠ ঋষির। চতুর্থটি বশিষ্ঠ ঋষির বা বশিষ্ঠ ও ইড়া ঋষিগণের নামে প্রচলিত এবং ঐ তৃতীয় ও চতুর্থ গানের নাম যথাক্রমে নিবেষ্বঃ এবং নিবেষ্ব সংক্ষারঃ]।

    ৬। হে ভগবান্! শক্তি হতে (রজস্তমের অনভিভূত ক্ষমতা থেকে) তেজঃ হতে (রজঃ ও তমের নাশক-সামর্থ্য থেকে) জ্যোতি হতে (চিত্তের নির্মলতা রূপ সত্ত্বভাব থেকে) আপনি উৎপন্ন হন। হে শ্রেষ্ঠ অভীষ্টবর্ষণকারী! আপনি সত্ত্বভাবের বর্ষণকারী হোন। [ভাব এই যে, সেই ভগবানকে সত্ত্বভাবের দ্বারাই লাভ করা যায়; অতএব আমাকে সত্ত্বভাবই প্রদান করুন। [এই গানের ঋষি দেবপত্নীগণ ইন্দ্ৰমাতৃগণ। গেয়গানের নাম–শার্যাত]।

    ৭। সৎকর্ম ভগবানকে বৃদ্ধিপ্রাপ্ত করে, অর্থাৎ সন্তুষ্ট করে; সেই সন্তোষ-হেতু, সেই ভাগবান স্বর্গলোকে অবস্থিতি করেও এই ভূলোককে–এর অন্তর্গত সৎকর্মানুষ্ঠাতাকে–বিশেষভাবে রক্ষা করেন। [সৎকর্মই ভগবানের সন্তোষ-বিধান করে এবং সৎকর্মে অনুষ্ঠাতাকে ও ভূলোককে পালন করে থাকে]। [এর গেয়গানের বিষয়ে উক্ত আছে–ইন্দ্রান্যাঃ সাম]।

    ৮। হে পরমৈশ্বর্যশালিন দেব! যদি তোমার স্তবকারী ভক্ত বা সাধক আমার জ্ঞান-উন্মেষণের সহায় (সাথীভূত) হতেন; তাহলে, হে দেব! আপনি যেমন অদ্বিতীয় সর্বজ্ঞ ও ধনবান অর্থাৎ পরমৈশ্বর্যরূপ ধনবান, আমিও তেমন (আপনার ঐশ্বর্যে) ঐশ্বর্যযুক্ত হতে পারতাম অর্থাৎ তন্ময় হতাম। [ভাবার্থ–হে ইন্দ্রদেব! আপনাকে স্তব করতে জানি না, অর্থাৎ আমি অজ্ঞান; যদি কেউ আপনার স্তবকার্যে আমাদের জ্ঞানান্বেষণ কার্যে আমার শিক্ষক হতেন, তাহলে আমিও আপনার ঐশ্বর্যে ঐশ্বর্যযুক্ত অর্থাৎ আপনাতে তন্ময় হতে পারতাম। –মন্ত্রটি পিতার কাছে পুত্রের আবদারের মতো, ভগবানের কাছে সাধক-গায়কের আত্মশ্লাঘাসূচক আত্মনিবেদনরূপ আবদার সূচনা করছে। যেন ভগবানই অজ্ঞ অধম সেই সাধক-গায়কের উপদেশক বা সত্যপথের প্রদর্শকরূপে তার কাছে আসেন এবং পথ দেখান। তাতেই তার অজ্ঞানতা দূর হয়ে জ্ঞানের উন্মেষ হোক; ভেদবুদ্ধি তিরোহিত হোক। ফলে ঈশ্বর ও ভক্ত এক হয়ে যাক]। [এই মন্ত্রের দুটি গেয়গানের নাম–গোষুক্তং এবং অশ্বসূক্তং]।

    ৯। আত্মার উদ্বোধন-যজ্ঞে অভিভবকারী হে প্রাণসমূহ অথবা চিত্তবৃত্তিনিবহ! ব্যবহার্য (ব্যবহারিক অর্থাৎ অতাত্ত্বিক) অনিত্য ধন ইত্যাদি এবং প্রশংসনীয় (অর্থাৎ বাস্তব নিত্যসত্য) সোম (অমৃত অর্থাৎ অমৃতের মতো ভগবানের তৃপ্তিপ্রদ হৃৎ-গত সত্ত্বভাব বা ভক্তিসুধা সকলই) সেই বীর (অর্থাৎ স্বর্গ মর্ত্য-পাতালে বিক্রমকারী) শূর–(অর্থাৎ সৃষ্টি-স্থিতি-প্রলয় বিষয়ে শৌর্যসম্পন্ন) ভগবানকে প্রাপ্ত কর অর্থাৎ প্রদান কর। [ভাবার্থ-হে চিত্তবৃত্তিনিবহ! তোমরা যদি আত্ম-উদ্বোধনযজ্ঞে অভিসব করতে ইচ্ছা কর, তাহলে তোমাদের বাহ্যধন ইত্যাদি আর অন্তরের সত্ত্বভাব ইত্যাদি ভগবানে অর্পণ কর]। [ঋষি–মেধাতিথির পুত্র আঙ্গিরস। গেয়গান—গৌরীবীতম]।

    ১০। হে জরামরণভয় বিরহিত (হে অনন্ত)! নিখিল প্রাণিগণের আশ্রয় পরমধনদাতা দেব! আমাদের মনঃপ্রসূত বিশুদ্ধ এই অন্ন (সত্ত্বভাব-রূপ ভক্তিরসামৃত) আপনাকে বিধিপূর্বক প্রকৃষ্টরূপে প্রদান করছি (উৎসর্গ করছি)। যাতে আপনার উদর পূর্ণ হয়, অর্থাৎ আপনার সম্যক্ তৃপ্তি সাধিত হয়, তেমনভাবেই আপনি তা পান করুন। [ভাব এই যে, অকিঞ্চন আমরা, একমাত্র হৃদয়ের ভক্তিই আমাদের সম্বল। তুমি সেই ভক্তিসুধা পান করে পরিতৃপ্ত হও এবং আমাদের পরমাশ্রয় প্রদান করো। কণ্বপুত্র প্রিয়মেধ এই মন্ত্রটির ঋষি। তিনটি গেয়গানের নাম–গারাণি। এর গায়ক-ঋষি মেধাতিথি]।

    .

    দ্বিতীয়া দশতি

    ছন্দ আর্চিক। কৌথুমী শাখা। ঐন্দ্র পর্ব। দ্বিতীয় অধ্যায়।

    দেবতা ইন্দ্র (৯ অগ্নি ও ইন্দ্র)
    ছন্দ গায়ত্রী
    ।
    ঋষিঃ ১।২ সুকক্ষ ও শ্রুতকক্ষ আঙ্গিরস, ৩ ভরদ্বাজ (ঋগ্বেদে শংযু বার্হস্পত্য), ৪ শ্রুতকক্ষ (ঋগ্বেদে সুকক্ষ আঙ্গিরস), ৫।৬ মধুচ্ছন্দা বৈশ্বামিত্র, ৭।৯।১০ ত্রিশোক কাণ্ব, ৮ বশিষ্ঠ মৈত্রাবরুণি।

    উঘেদভি তামঘং বৃষভং নর্যাপস। অস্তারমেষি সূর্য৷৷৷৷৷ যদদ্য কচ্চ বৃত্ৰহমুদগা অভি সূর্য। সর্বং তদিন্দ্র তে বশে৷ ২৷৷ য আনয়ৎ পরাবতঃ সুনীতী তুবশং যদুম্। ইন্দ্রঃ স নো যুবা সখা৷ ৩৷৷ মা ন ইন্দ্রাভ্যা ৩ দিশঃ সূরা অদ্ভুদা যমৎ। ত্ব সুজা বনেম তৎ৷৷ ৪৷৷ এন্দ্র সানসিং রয়িং সজিহ্বানং সদাসহ। বর্ষিষ্ঠমূতয়ে ভর৷৷ ৫৷ ইন্দ্রং বয়ং মহাধন ইন্দ্ৰমর্ভে হবামহে। যুজং বৃত্ৰেযু বর্জিণ৷৷ ৬৷৷ অপিবৎ কবঃ সুতমিঃ সহস্রবাহ্। তত্রাদদিষ্ট পৌংস্যম৷৷ ৭৷ বয়মি স্বয়বোহভি প্র ননানুমো বৃষ। বিদ্ধী জ্বাস্য নো বসো৷ ৮। আ ঘা যে অগ্নিমিন্ধতে স্থণন্তি বহিরানুষ। যেযামিন্দ্রো, যুবা সখা৷ ৯৷ ভিন্ধি বিশ্বা অপ দ্বিষঃ পরি বাধো জহী মৃধঃ। বসু স্পাহঁং তদা ভর৷ ১০৷৷

    মন্ত্ৰার্থ— ১। হে জ্ঞানাধার স্বপ্ৰকাশ দেব! বিখ্যাত-ধনযুক্ত (অর্থাৎ সত্ত্বভাবরূপ পরমধনযুক্ত) যাঞ্চাকারীদের প্রতি ধনবর্ষণকারী (অর্থাৎ সদা-দানধর্ম-পরায়ণ), জনহিতরত ও ঔদার্যগুণবিশিষ্ট সৎকর্মকারীর প্রতি (তাদের হৃদয়ে) আপনি উদিত হন। [ভাব এই যে, সৎকর্মশীল জনের হৃদয় ভগবানের বিশেষ বিভূতিস্বরূপ পরমৈশ্বর্যশালী সেই দেবতা উদিত হবেন, এ আর আশ্চর্য কি? আমাদের মতো অকৃতী জনগণের অন্তরে যদি তিনি আপনা-আপনি প্রকাশিত হয়ে অবস্থান করতে পারেন, তবেই তার মহিমা বুঝতে পারা যাবে। অতএব প্রার্থনা–সেই ভগবান্ এই পাপাত্মা আমার হৃদয়ে অধিষ্ঠিত হয়ে আমাকে উদ্ধার করুন]। [গেয়গানের নাম–সৌপর্ণ, শরুপ্রবেতস, বিলম্ব ইত্যাদি। মন্ত্রটির ঋষি–সূতকক্ষ অথবা শ্রুতকক্ষ]।

    ২। হে অজ্ঞাননাশক (বাহ্য ও আন্তর শত্রুনাশক) জ্ঞানময় দেব! এই দিনে (সর্বকালে অর্থাৎ এই জরামরণশীল সংসারে) যা কিছু আমিত্বরূপে আমার বলে অভিমত পদার্থসমূহকে লক্ষ্য করে তুমি উদিত হচ্ছ অর্থাৎ তাদের জ্ঞাত করছ; তা সকলই (আমাদের বস্তুজাত ও তোমার স্বায়ত্ত (আপন অধিকারভুক্ত) হয়, অর্থাৎ সে সকলই তোমারই। [ভাবার্থ-যে সকল পদার্থ আমার বলে অভিমান করি, সে সবই, সেই ভগবানেরই। শুধু তাই কেন–ভগবান্ সর্বকালেই বিশ্বনিয়ন্তা; বিশ্বের যাবতীয় বস্তুজাত, সর্বকালেই তার শাসনে নিয়ন্ত্রিত হয়]। [এর গেয়গানের নাম-শাকলং]।

    ৩। যে পরম শক্তিশালী ভগবান্ ইন্দ্রদেব, সুধারা-ক্রমে–সৎপথ-প্রদর্শনের দ্বারা, অতি দূরদেশ হতে অর্থাৎ সত্ত্বসংশ্রবশূন্য স্থান হতে, সৎকর্মকারীকে (অথবা, কালচক্রে চিরবিদ্যমান তুর্বশ রাজর্ষিকে) এবং সাধনপরায়ণ জনকে (অথবা-কালচক্রে চিরবিদ্যমান রাজর্ষি যদুকে) সর্বতোভাবে। আত্মসমীপে আনয়ন করেছিলেন (সামীপ্য-দান করেছিলেন); জনগণের পরিত্রাণসাধনে সদাকাল সমান উৎসাহসম্পন্ন সেই ভগবান্ ইন্দ্রদেব আমাদের সখা (অন্তরঙ্গ সুহৃৎ) হোন। [ভাব এই যে, হে আমার মন! পরিত্রাণকারক ভগবান্ ইন্দ্রদেবকে তুমি নিজের সখা বলে জ্ঞান কর। তাতেই তোমার পরিত্রাণ হবে]। অথবা-সজ্ঞান ও সৎকর্ম-রূপ শ্রেষ্ঠ (দুটি) নীতি, তুর্বশ অর্থাৎ জ্ঞানেন্দ্রিয়কে এবং যদু অর্থাৎ কর্মেন্দ্রিয়কে (তাদের) প্রতিকূল আচরণ হতে রক্ষা করে, সেই দুটি নীতিকে যে এ পরমৈশ্বর্যশালী দেব স্থাপনা করেন অর্থাৎ আমাদের হৃদয়ে জন্মিয়ে দেন, সেই দেব তরুণ অর্থাৎ বলবত্তর হয়ে আমাদের সজ্ঞানে ও সৎকর্মে সহায়, হোন। [ভাব এই যে, –হে দেব! প্রতিকূলাচারী আমাদের জ্ঞানেন্দ্রিয়কে ও কর্মেন্দ্রিয়কে সজ্ঞান ও সৎকর্মের দ্বারা পরিচালিত করুন]। [এই মন্ত্রের ঋষি ভরদ্বাজ। এর দুটি গেয়গান আছে। সেই দুটিরই নাম–আভরদ্বসবে]।

    ৪। হে দেব! তেমন আদেশ করুন অর্থাৎ বিধান করুন, –যাতে অনুসরণকারী আমাদের বাহ্য ও আন্তর শত্রু বিষয় বিষাক্তকর্মে আমাদের আয়ত্ত না করে, এবং সেই শত্রুকে যেন আপনার সহায়তায় বিনাশ করতে পারি। [ভাব এই যে, –সেই দেব তা-ই করুন, যাতে আমরা বাহ্য ও আন্তর শত্রু কর্তৃক পরাভূত না হই এবং তাকে দমন করতে পারি]। [গেয়গান সম্বন্ধে উক্ত আছে–গান্বে ইবে]।

    ৫। হে ভগবন! রজস্তমঃ কর্তৃক অভিভব হতে অথবা অজ্ঞানতা-হেতুক অভিভব হতে আমাদের রক্ষা করবার জন্য অর্থাৎ আমাদের মুক্তির জন্য, সত্ত্বভাব বা জ্ঞান দান করুন, অর্থাৎ আমাদের হৃদয়ে সম্পূর্ণরূপে আধান করুন। সেই সত্ত্বভাব বা জ্ঞান কেমন? না–আমাদের আকাঙক্ষণীয়, রজস্তমোরূপ শত্রুর জয়কারী বা অজ্ঞানতারূপ শত্ৰুজয়কারী; রজঃ তমঃ বা অজ্ঞানতা সৰ্বথা তাকে সহ্য করতে পারে না অর্থাৎ তাদের দুজনের (রজঃ ও তমঃ দুয়ের) অভিভবের কারণ, এবং অতিশয় বৃদ্ধ অর্থাৎ শ্রেষ্ঠ। [প্রার্থনার ভাব এই যে, সেই ভগবান্ এমন শ্রেষ্ঠ সত্ত্বভাব বা জ্ঞান আমাদের হৃদয়ে উৎপাদন করুন, যার দ্বারা রজঃ তমঃ বা অজ্ঞানতা দমন করতে সমর্থ হই]। [এর দুটি গেয়গানের ঋষি– ইন্দ্র বা বিশ্বামিত্র। গানের নাম–রোহিকুলীয়]।

    ৬। বহুধন-লাভে (মহাসংগ্রামে), অল্পধন-লাভে (সামান্য সংগ্রামে), অজ্ঞানতা-রূপ রিপুর (অথবা আমাদের প্রতিবাদী শত্রুর) দমনের জন্য, সৎকর্মের সহায় (অথবা যোগ্য) বজ্রধারী ভগবান্ ইন্দ্রদেবকে সৎকর্মের অনুষ্ঠাতা (অথবা শত্রুকর্তৃক পীড়িত) আমরা আহ্বান করি। [পূর্বের মন্ত্রটিতে ভগবানের প্রভাব বর্ণিত হয়েছে; এখানে তার অনুগ্রহ প্রার্থনা প্রকাশ পেয়েছে]। [ঋগ্বেদ; এর গেয়গান দুটি সম্বন্ধে উক্ত আছে–ইন্দ্রাণ্যাঃ সামনী]।

    ৭। ভগবান্ ইন্দ্রদেব, আত্মা অথবা মনঃ হতে উৎপন্ন শুদ্ধসত্ত্বভাব রূপ রস পান করেন; সহস্রবাহু অর্থাৎ অশেষকর্মকারী সেই ভগবান্ ইন্দ্রদেবকে অথবা অন্য দেবতাকে সেই রস যা প্রদত্ত হয়, তিনি তা গ্রহণ করেন এবং তাকে (সত্ত্বভাব-রূপ রসদাতাকে) বিনিময়-রূপে পুরুষ-সম্বন্ধি কিছু (অর্থাৎ তত্ত্বজ্ঞান) দান করেন। [ভাবার্থ-ভগবান্ কৃপালু। তাকে কিছু দান করলে, তিনি তা গ্রহণ করে তার বিনিময়ে অন্য কিছু প্রত্যর্পণ করেন। অথবা শুদ্ধসত্ত্বভাব, পরমাত্মারূপ ভগবনদবিষয়ে জন্মালে পরমাত্মার স্বরূপ-জ্ঞান-রূপ তত্ত্বজ্ঞান লাভ হয়]। [এই সাম-মন্ত্রের ঋষি ইন্দ্র]।

    ৮। হে অভীষ্টদানকারী ইন্দ্র! তোমার অংশে মিলিত হতে ইচ্ছুক হয়ে আমরা (ঈশ্বরকামী জন) তোমাকে প্রকৃষ্টরূপে পুনঃ পুনঃ স্তব করছি। হে কাম্যধন! আমাদের অভিপ্রায় অবগত হও এবং আমাদের প্রাপ্ত হয়ে আমাদের অজ্ঞানতা বিনাশ কর। [ভাব এই যে, –আমরা ভগবানের সঙ্গে মিলিত হতে ইচ্ছুক হয়ে সেই দেবতার (পরমৈশ্বর্যশালী ইন্দ্রের) আরাধনা করছি; আমাদের অভিপ্রায় জেনে নিকটে এসে তিনি আমাদের অজ্ঞানতা বিনাশ করুন। হৃদয়ে জ্ঞানময় দেবের আবির্ভাব হলে তখন তার সাথে মিলিত হওয়াই হলো। তখন সবই জ্ঞানময়, সবই জ্যোতির্ময় হয়ে ওঠে। সেই-ই তো ঈশ্বর-প্রাপ্তি]। [এর চারটি গেয়গান ও গেয়গানের ঋষি– সম্বন্ধে লিখিত আছে–ধৃষতো মারুতস্য সাম, ভারদ্বাজ ঋষি, অদারসৃৎ, ধৃষৎ-ঋষি, অদারসৃৎ এবং মারুতস্য ভরদ্বাজস্য ইমে অদারসৃতী]।

    ৯। যে জনগণ অর্থাৎ আত্মার উদ্বোধন-যজ্ঞ করতে ইচ্ছুক, যে জনগণ যে সকল কার্যের আনুকূল্যে অর্থাৎ আত্মার উদ্বোধন-যজ্ঞ কার্য-সকলের আনুকূল্যে, অজ্ঞান-অন্ধকার-নাশক বলে জ্ঞানরূপ। জ্যোতিঃকে প্রজ্বলিত করতে পারেন এবং কুশরূপ হৃদয়কে বিস্তৃত করতে পারেন বা করেন, তাদের এই সকল যজ্ঞে, শ্রেষ্ঠ সেই ভগবান্ ইন্দ্রদেবকে সহায়রূপে অনুসক্ত করতে (প্রাপ্ত হতে পারেন)। [ভাব এই যে, জ্ঞান উদ্দীপিত এবং সত্ত্বভাবে হৃদয় বিস্তৃত হলে জ্ঞানময় ভগবান্ সেখানে আবির্ভূত হন]। [মন্ত্রের ঋষি কণ্বগোত্রীয় ত্রিশোক। এর তিনটি গেয়গান সম্বন্ধে লিখিত আছে–ঐধ্নহাণি বা]।

    ১০। হে ভগবন! অজ্ঞানরূপ আমাদের অবিদ্যা-শত্রুদের আপনি বিনাশ করুন, এবং পীড়নকারী কামনা-সংগ্রামকে সকল রকমে বিদূরিত করুন। তার পর, আমাদের আকাঙক্ষণীয় সেই জ্ঞানধন দান করুন; অর্থাৎ আমাদের হৃদয়ে জ্ঞান-জন্মিয়ে দিন। [ভাব এই যে, –অজ্ঞান নিবৃত্ত হলে কামনার নিবৃত্তি আসে, আর কামনাব অবসানে প্রকৃষ্ট জ্ঞান প্রকাশিত হয়]। [গেয়গান সম্বন্ধে উক্ত আছে– অহেঃ প্রৈড্বস্য সামাহেধ্মো বা পৈড্বস্য পৈল্বস্য বা]।

    .

    তৃতীয়া দশতি

    ছন্দ আর্চিক। কৌথুমী শাখা। ঐন্দ্র পর্ব। দ্বিতীয় অধ্যায়।

    দেবতা ইন্দ্র (১ মরুদগণ, ৪ বিশ্বদেবগণ; ৫ ব্ৰহ্মণস্পতি; ৭ সবিতা)৷৷
    ছন্দ 
    গায়ত্রী।
    ঋষিঃ ১ কণ্ব ঘৌর, ২ ত্রিশোক কাণ্ব
    , ৩৯ বৎস কাণ্ব, ৪ কুসীদী কাণ্ব, ৫ মেধাতিথি কাণ্ব, ৬, শ্রুতকক্ষ বা সুকক্ষ আঙ্গিরস, ৭ শ্যবাশ্ব আত্রেয়, ৮ প্রগাথ কাণ্ব, ১০ ইরিম্বিঠি কাণ্ব।

    ইহেব শূন্থ এষাং কশা হস্তেষু যদ বদান। নি যামং চিত্ৰমৃঞ্জতে৷৷ ১৷ ইম ট ত্ব বি চক্ষতে সখায় ইন্দ্র সোমনঃ। পুষ্টাবন্তো যথা পশু৷ ২৷৷ সমস্য মন্যবে বিশশা বিশ্বা নমস্ত কৃষ্টয়া। সমুদ্ৰায়েব সিন্ধবঃ৷৷ ৩৷৷ দেবানামিদবো মহৎ তদা বৃণীমহে বয়ম্। বৃষ্ণামস্মভ্য মূতয়ে৷৷ ৪৷৷ সোমানাং স্মরণং কৃণুহি ব্ৰহ্মণম্পতে। কক্ষীবন্তং ষ ঔশিজঃ ॥ ৫৷ বোধন্মনা ইদত্ত নো বৃত্ৰহা ভূর্যাসুতি। শৃণোতু শক্র আশিষ৷ ৬৷ অদ্য নো দেব সবিতঃ প্রজাবৎ সাবীঃ সৌভগম। পরা দুঃস্বপ্নং সুব৷৷ ৭৷ কৃতস্য বৃষভো যুবা তুবিগ্রীবো অনানতঃ। ব্রহ্মা কস্তং সপৰ্যতি৷৮৷৷ উপরে গিরীণা সঙ্গমে চ নদীনা। ধিয়া বিপো অজায়ত৷৷ ৯। প্র সম্রাজং চর্ষণীনামিং স্তোতা নব্যং গীর্ভিঃ। নরং নৃহং মংহিষ্ঠ৷৷ ১০৷৷

    মন্ত্ৰাৰ্থ– ১। সেই বিবেকরূপী মরুৎ-দেবগণের হস্তে আয়ত্তাধীনে অবস্থিত বিবেকরূপ তাড়নদণ্ড যে কঠোর উপদেশ-বাক্য প্রদান করে, ইহসংসারেও সে বাক্য শুনতে পাই। বিবেকের সেই উপদেশ, সংসার-সমরাঙ্গণে নানা রকম শৌর্যকে বিভূষিত (জয়যুক্ত করে।) [ভাব এই যে, –সেই মরুৎ দেবতাগণ বিবেক-রূপ দণ্ডের তাড়না দ্বারা নিয়ত আমাদের সতর্ক করছেন। যদি আমরা তাঁর তাড়না শ্রবণ করি, তাহলে ইহসংসারেই জয়শ্রী লাভ করতে পারি। অথবা বিবেকরূপী দেববিভূতিসকলের হস্তস্থিত কশা অর্থাৎ আত্মার উদ্বোধনহেতুক বাক্যসমূহ অথবা শাস্ত্রবাক্যসমূহ যে শিক্ষা প্রদান করে, অথবা বাবদূক অর্থাৎ বাকসংযমাদিবিরহিত লোকের প্রতি যে আত্মার উদ্বোধনের হেতুভূত নানা রকম নিয়ম (কর্তব্যসমূহ) প্রকাশ করে; তা এই সময়েই (যৌবনদশাতেই অর্থাৎ শক্তি থাকতে থাকতে) আমি যেন শুনি অর্থাৎ আমার শোনা উচিত। [ভাব এই যে, আমি অত্যন্ত অসংযমী; দেব বিভূতিগুলি আত্মার উদ্বোধনের জন্য যে সকল কর্তব্য প্রকাশ করেছেন, তা শক্তি থাকতে থাকতেই পালন করা উচিত। নতুবা শেষকালে নিজের গাত্রও (শরীর) ভার হয়ে পড়বে, তখন আর কিছুই করতে সমর্থ হব না। এই মন্ত্রে নিত্যসত্য বিবেক-তত্ত্বই প্রখ্যাপিত আছে। মানুষ যদি ভগবানের নিকট হতে আগত বিবেক-বাণী স্মরণ করে, তার অনুসরণে কর্মপর হয়, তবে তাতে সংসার-সমরে তার জয় অবশ্যম্ভাবী]। [গেয়গান সম্বন্ধে উক্ত আছে–ঐষম্।

    ২। সংযোজিতপাশ ব্যাধ, তার আহরণীয় মৃগ প্রভৃতিকে যেমন আয়ত্ত মনে করে, হে ভগবন ইন্দ্রদেব, এই সংসারী-মানবগণ (আমরা) শুদ্ধসত্ত্বভাবাপন্ন, অতএব তোমার সাহায্যলাভে যোগ্য হয়ে, তোমাকে তেমন আয়ত্ত মনে করে (করি)। [ভাব এই যে, –পাশের দ্বারা মৃগের মত, শুদ্ধসত্ত্বভাবের দ্বারা মানবগণ ভগবানকে আয়ত্ত করতে সমর্থ হয়]। [এর গেয়গানের ঋষি–পৌষম।

    ৩। প্রবহমান নদীসকল, সমুদ্রের জন্য অর্থাৎ সমুদ্রের সাথে মিলনের জন্য প্রণত হচ্ছে অর্থাৎ তার উদ্দেশ্যে নিজেকে প্রেরণ করছে; তেমনই, আত্ম-উৎকর্ষসাধক বিশ্বাসী জনগণ, ব্যাপক সেই ভগবানের অর্চনা করবার জন্য অর্থাৎ তার সাথে মিলিত হবার জন্য প্রণত হচ্ছে অর্থাৎ তার উদ্দেশে আত্ম-প্রেরণ করছে। [ভাব এই যে, –বিশ্ববাসীসকলেই ভগবানের উদ্দেশ্যে প্রণত হচ্ছে; অতএব হে মন! তুমিও সেই বিশ্বের অন্তর্গত হয়ে তাঁর প্রতি তেমনই প্রণত হও–আত্মনিবেদন কর]। [গেয়গান বিষয়ে লিখিত আছে–মরুতাং সংবেশীয়ং সিন্ধুষাম বা]।

    ৪। আমাদের (সংসাবিদের) রক্ষার অর্থাৎ মুক্তির জন্য অভীষ্টবর্ষণশীল অর্থাৎ ইষ্টদাতা দেবভাবসমূহের অর্থাৎ ভগবৎ-বিভূতি-সমূহের ব্যাপক অথবা সহনীয় পূজনীয়), ইষ্টপ্রাপ্তিকারক, অথবা সর্বজ্ঞ এবং রক্ষক, সেই প্রসিদ্ধ (সাধকগণের অনুভূত) দেবত্ব বা ঐশ্বর্যকে আমরা (সংসারিগণ) সম্যকরূপে প্রার্থনা করি [ভাব এই যে, –এই সংসারদুঃখ-নিবৃত্তির জন্য দুঃখবিনাশন সেই ভগবানকে আমরা প্রার্থনা করি]। [এর ১ম ও ২য় এবং ৩য় ও ৪র্থ গেয়গান সম্বন্ধে যথাক্রমে উক্ত আছে-হাবিষ্মতে দ্বে এবং হাবিষ্কৃতে দ্বে]।

    ৫। হে বাঙ্ময়ের শাস্ত্রেব অথবা জ্ঞানের অধিপতে! আমি পাপী, আমার প্রতি সত্ত্বভাবের (সৎ বৃত্তিসমূহের অথবা সৎ-জ্ঞানের) প্রকাশ (উদ্বোধ) করুন, –যে আমি উশিজের অর্থাৎ জ্ঞানাগ্নিদেবের (পরমাত্মার) অপত্য অর্থাৎ অংশস্বরূপ হই। [ভাব এই যে, –আমি সেই ব্রাহ্মণস্পতি দেবতার অংশভূত সন্তান হলেও এখন পাপে লিপ্ত হয়েছি; কৃপা করে তিনি আমাতে সত্ত্বভাব সংস্থাপন করে পাপ থেকে আমাকে উদ্ধার করুন। কক্ষীবন্ত অর্থে পাপবন্ত; ঔশিজঃ অর্থে উশিজ বা জ্ঞানাগ্নি ইত্যাদি অর্থ সমীচীন]। অথবা–হে পবিত্ৰকারিণ! যে পাপাত্মা পরীক্ষার অনলে পুড়ে জ্ঞানাগ্নির দ্বারা বিশুদ্ধিকৃত হয়, সেই পাপীকে আপনি যেমন পরিত্রাণ করেন; তেমনই এই প্রার্থনাকারীকে (আমাকে) দেবানুগ্রহপ্রাপক (বিশুদ্ধ) করুন। [ভাব এই যে, পাপাত্মা যেমন জ্ঞানাগ্নির দ্বারা বিশুদ্ধিকৃত হয়ে দেব-সন্নিকর্ষ লাভ করে, তেমনই, সেই ভগবান্ এই পাপী আমাকেও দেবভাব সমন্বিত করুন। –ব্ৰহ্মণাস্পতি অর্থে পবিত্রকারী দেবতা, ঔশিজঃ অর্থে পরীক্ষার অনলে সংস্কারজাত বা জ্ঞানাগ্নির দ্বারা বিশুদ্ধীকৃত ইত্যাদি অর্থই সমীচীন হয়েছে]। (যজুর্বেদ ৩ অধ্যায়; ২৮ কণ্ডিকা গেয়গান–কাক্ষীবতং]।

    ৬। অশেষ সত্ত্বভাবসম্পন্ন, সর্বজ্ঞ, বাহ্য ও আন্তর শত্রুনাশক, ভগবান্ ইন্দ্রদেব আমাদের আশাসন অর্থাৎ স্তব শুনুন, এবং আমাদের অভিপ্রায়-বোদ্ধা হোন। [ভাব এই যে, –সচ্চিদানন্দ, সর্বান্তর্যামী সর্বজ্ঞ সেই ভগবান্ আমাদের আবেদনস্তোত্রে আমাদের অভিপ্রায় বুঝে আমাদের বাহ্য ও আন্তর শত্রুকুল বিনাশ করুন]। [এই সামের গেয়গানের নাম–ঔষসম্]।

    ৭। হে জ্ঞানপ্রদাতা দ্যোতমান্ ভগবন! আমাদের পুত্রের ন্যায় স্নেহে নিত্যকাল প্রজ্ঞানরূপ পরমধন প্রদান করুন; স্বপ্নের ন্যায় দুঃখকে দূরে তাড়িয়ে দিন। [প্রার্থনার ভাব এই যে, -সেই ভগবান্ প্রজ্ঞানরূপ পরমধন দানে পুত্রের প্রতি পিতার মতো স্নেহে আমাদের প্রতিপালন করুন; নিদ্রাভঙ্গে স্বপ্ন যেমন দূরীভূত হয়ে যায়, প্রজ্ঞানের সাহায্যে আমাদের দুঃখ তেমনই দূরীভূত হোক]। [এর দুটি গেয়গানের প্রবর্তক বিষয়ে যথাক্রমে ভরদ্বাজস্য মৌক্ষম, দক্ষণিধনং বা এবং ভরদ্বাজস্য মৌক্ষম্ এমন প্রচারিত আছে।

    ৮। সেই প্রখ্যাত অভীষ্টপ্রদ, চিরনূতন (চিরমঙ্গলময়), সর্বব্যাপক, সর্বশ্রেষ্ঠ, পরমাত্মা–কোথায়? [ভাব এই যে, ভগবান্ সবত্র বিদ্যমান্ আছেন]। সেই ব্রহ্মকে কোন স্তোতা (কেই বা) পূজা করে? [ভাব এই যে, সকলেরই পূজা সেই ভগবাকে প্রাপ্ত হয়। অথবা অন্যভাব এই যে, –পরমাত্মা সর্বব্যাপী; কিন্তু যে জন ভেদবুদ্ধিসম্পন্ন, সে তাকে লক্ষ্য করে না; সুতরাং তার দ্বারা ব্রহ্মের স্থাননির্দেশও অসম্ভব এবং পূজাও অসাধ্য। –এই মন্ত্রের প্রশ্নে ও পরবর্তী মন্ত্রের উত্তরে অপূর্ব সামঞ্জস্য লক্ষিত হবে]। [এর গেয়গান তিনটির বিষয়ে উক্ত আছে–ভারদ্বাজানি আর্ষভাণি বা সৈন্ধুক্ষিতানি বা]।

    ৯। পাষাণসদৃশ অতি কঠোরস্বভাব হৃদয়ের মধ্যেও, সত্ত্বভাবের (ভক্তিপ্রবাহের) মিলনে, প্রজ্ঞার দ্বারা (জ্ঞানোৎপত্তির সাথে) জ্ঞানময় ভগবান্ আবির্ভূত হন। [ভাব এই যে, -অতিবিশুষ্ক পাষাণের মতো হৃদয়েও ভক্তিপ্রবাহের দ্বারা আর্দ্র হয়ে জ্ঞানময় ভগবানকে প্রাপ্ত হওয়া যায়]। [গেয়গানের নাম-শাক্ত্য সামনি]।

    ১০। হে আমার চিত্তবৃত্তিসমূহ! তোমরা, সেই সাধকগণের মধ্যে সম্যক্ বিরাজমান, চিরনবীন, , নেতৃস্থানীয়, শত্রুবিমর্দক, শ্রেষ্ঠদানশীল, সেই ভগবান্ ইন্দ্রদেবকে বেদ মন্ত্রের দ্বারা সর্বতোভাবে প্রকৃষ্টরূপে আরাধনা কর। ভাব এই যে, হে জীব! সাধকবৃন্দের পদাঙ্ক অনুসরণ কর; তার দ্বারাই ভগবানের অনুকম্পা লাভ করতে সক্ষম হবে। –এই আত্ম-উদ্বোধনা–মানুষের নিত্য কর্তব্য] [এই মন্ত্রটির ১ম ও ২য় গেয়গানের নাম–বার্ষন্ধরে এবং ৩য় ও ৪র্থ গেয়গানের নাম–কুশস্য প্রস্তীকৌ]।

    .

    চতুর্থ দশতি

    ছন্দ আর্চিক। কৌথুমী শাখা। ঐন্দ্র পর্ব। দ্বিতীয় অধ্যায়।

    দেবতা ইন্দ্র (৪ ইন্দ্র ও পূষা) ৷৷
    ছন্দ গায়ত্রী৷
    ঋষি : ১ শ্রুতকক্ষ বা সুকক্ষ আঙ্গিরস, ২ মেধাতিথি কাণ্ব (ঋগ্বেদ শংযু বার্হস্পত্য), ৩ গৌতম রাহুগণ, ৪ ভরদ্বাজ বার্হস্পত্য, ৫ বিন্দু বা পূতদক্ষ আঙ্গিরস, ৬৭ শ্রুতকক্ষ বা সুকক্ষ আঙ্গিরস, ৮ বৎস কাণ্ব, ৯ শুনঃশেপ আজীগর্তি
    , ১০ শুনঃশেপ আজীগর্তি বা বামদেব৷

    অপাদু শিন্ধসঃ সুদক্ষস্য প্রহোষিণঃ। ইন্দোরিন্দ্রো যবাশিরঃ৷৷ ১ ইমা উ জ্বা পুরূবশোহভি প্রনোনুবুর্গিরঃ। গাবো বৎসং ন ধেনবঃ। ২৷৷ অত্রাহ গোরমন্বত নাম ত্বরপীচ্যম। ইখা চন্দ্রমসসা গৃহে৷ ৩৷৷ যদিা অনয়দ্রিতো মহীরপো বষন্তমঃ। তত্র পূষা ভবৎ সচা৷৷ ৪৷৷ গৌধয়তি মরুতাং শ্রবসুর্মাতা মঘোনা। : যুক্তা বহী রথানা৷ ৫৷৷ উপ নো হরিতিঃ সুতং যাহি মদানাং পতে। উপ নো হরিভিঃ সুত৷ ৬৷৷ ইষ্টা হত্ৰা অসৃক্ষতেং বৃধন্তো অধ্বরে। অচ্ছাবভৃথমোজসা৷৷ ৭৷৷ অহমিদ্ধি পিতুস্পরি মেধামৃতস্য জগ্রহ। অহং সূৰ্য্য ইবাজনি৷ ৮৷৷ রেবতীর্নঃ সধমাদ ইন্দ্ৰে সন্তু তুবিবাজাঃ। ক্ষুমন্তো যাভিৰ্মদেম৷৷ ৯৷৷ সোমঃ পূষা চ চেততুবিশ্বাসাং সুক্ষিতীনাম্ দেবত্ৰা রথ্যোহিতা৷১০৷৷

    মন্ত্ৰার্থ–১। শ্রেষ্ঠশিরস্ত্রাণশোভিত (বিশ্বের অধিপতি) ভগবান ইন্দ্রদেব, সৎকর্মকারী সুদক্ষ সাধকের উপহার-প্রদত্ত অমৃতোপম শ্রেষ্ঠখাদ্য শুদ্ধসত্ত্বকে (ভক্তিসুধাকে) গ্রহণ করেন। [ভাব এই যে, সৎকর্ম সম্পন্ন সাধকবর্গের হৃদয়স্থিত ভক্তিসুধাকেই ভগবান্ আদরের সাথে গ্রহণ করে থাকেন]। [এর দুটি গেয়গানের প্রবর্তক-বিষয়ে লিখিত আছে–ঔপর্গবে, সৌশ্রবসে বা অথমখে বা মথাথে বা সৌমিত্রে বা শৈখণ্ডিনে বা]।

    ২। হে পরমৈশ্বর্যশালিন (অথবা বহুজনের আশ্রয়স্থল হে ভগবন)! আপনার প্রতি একান্ত অনুরাগী জ্ঞানপ্ৰভা (অথবা, ভক্তিপূর্ণ স্তুতিসমূহ) যেমন নিবাস-স্থান-স্বরূপ আপনাতে ধাবিত (সম্মিলিত হয়), অথবা সদ্য-প্রসূতা গাভীসমূহ যেমন আপন সন্তানের প্রতি ধাবমান হয়; তেমন, আমাদের এই স্তোত্রসমূহ আপনাকে লক্ষ্য করে প্রকৃষ্টরূপে আপনাকে প্রাপ্ত হোক। [প্রার্থনার ভাব এই যে, –সেই ভগবান্ যেন তাঁর অনুকম্পায় আমাদের প্রার্থনাকে ভক্তিযুত করেন; আর তা শ্রবণ করে তিনি যেন আমাদের পরিত্রাণ করেন]। [গেয়গানের নাম–তাষ্ট্ৰী সাম]।

    ৩। চন্দ্রমণ্ডলে (স্বচ্ছ হৃদয়ে) সূর্যরশ্মিসমূহ (ত্রাণকারক দেবতার প্রভা) আপনা-আপনিই প্রতিফলিত হয়; এইরকমে আপনা-আপনি সঞ্চারিত জ্ঞানরশ্মি সমূহ আমার হৃদয়ে সম্পূর্ণরূপে প্রতিফলিত হোক। [ভাব এই যে, সূর্যরশ্মির সম্পাতে চন্দ্র যেমন আপনা-আপনিই স্নিগ্ধজ্যোতিঃ সম্পন্ন হয়, পরিত্রাণকারী দেবতার কৃপায় আমার হৃদয় তেমনই জ্ঞানে উদ্ভাসিত হোক]। [গেয়গানের নাম–তাষ্ট্ৰী সাম ত্বষ্ট্ররাতিথ্যে ইত্যাদি]।

    ৪। যখন পরমধন-প্রদায়ক ভগবান্ ইন্দ্রদেব মহান্ শুদ্ধসত্ত্বভাবকে অবিরত এই সংসারে আনয়ন করেন, অর্থাৎ আমাদের প্রদান করেন; তখন সৎ-ভাবের পোষক (পূষা) দেবতা মনুষ্যসমূহের অর্থাৎ আমাদের সহায় হন। [ভাব এই যে, ভগবানের করুণার সঙ্গে সঙ্গেই সকল রকম সৎ-ভাব এসে আমাদের মধ্যে আবির্ভূত হয়]। [এই সামমন্ত্রের দুটি গেয়গানের নাম-পৌষে]।

    ৫। মনুষ্যগণকে সৎপথে পরিচালনার জন্য সৎ-উপদেশ-রূপ ধনপ্রদাতা বিবেকরূপী মরুৎ দেবগণের মাতা অর্থাৎ তাদের উৎপত্তি কারণ রূপ জ্ঞানকিরণ-নিবহ (অর্থাৎ জ্ঞানদেবতা); সংসারের শুভাকাঙ্ক্ষী হয়ে মনুষ্যের কর্মসমূহের সংশোধক হন; এবং মরুৎ-দেবগণের সাথে মিলিত হয়ে মনুষ্যগণকে পালন করেন। [ভাব এই যে, আত্ম অঙ্গীভূত বিবেকসহ অভিন্নভাবে জগতের হিতসাধনে জ্ঞানদেব নিত্যকাল ব্রতী হয়ে রয়েছেন]। অথবা–হে মন্ত্ররূপিণি বাক্‌! আপনি সৎ উপদেশ-রূপ ধনের অধিকারী বিবেকরূপী মরুৎ-দেবগণের মাতা অর্থাৎ উৎপাদিকা হন; [ভাব এই যে, –সেবা-অর্চনা-মূলক মন্ত্র উচ্চারণের দ্বারাই বিবেকের উৎপত্তি হয়]। হে দেবি! তোমা হতেই ও আত্মমঙ্গল প্রচেষ্টা মনুষ্যগণের মধ্যে জাগরিত হয়, এবং তাদের কর্মসমূহের বাহক বা সংশোধক উৎপন্ন হয়ে থাকে। [ভাব এই যে, –দেবতার আরাধনায় মন্ত্র-প্রযুক্তির ফলে মানুষের আত্ম-উৎকর্ষ সাধিত হয়]। অতএব, হে দেবি! আপনি সকলের পূজনীয়া হন। [এখানে গৌঃ পদটিতে জ্ঞানকিরণ বা এ জ্ঞান অর্থ গ্রহণই সমীচীন। মরুৎ-দেবগণ বিবেকরূপী দেবতা]। [গেয়গান-শ্যাবাশ্বে]। :

    ৬। হে আনন্দের অধিস্বামিন (পরমানন্দনিলয়)! আপনি জ্ঞানকিরণ-বিস্তারের সাথে আমাদের শুদ্ধসত্ত্বের বা সৎকর্মের প্রতি আগমন করুন; এবং আগমন করে, জ্ঞানকিরণ-বিস্তারের দ্বারা আমাদের শুদ্ধসত্ত্বকে বা সুকর্মকে পরিপোষণ করুন। [ভাব এই যে, আমাদের কর্ম জ্ঞানের সাথে মিলিত হোক; তার দ্বারাই আমরা যেন পরমানন্দ প্রাপ্ত হই]। [গেয়গান সম্বন্ধে উক্ত আছে–প্রজাপতেঃ সুতং রায়ষ্ঠীয়ে সহোরয়িষ্ঠীয়ে বা]।

    ৭। সৎ-সম্বন্ধে পরিপুষ্ট, ইষ্টসাধক হে আমার কর্মসমূহ! তোমরা ত্রুটিবিচ্যুতিনিবারক (পূর্ণতাসাধক) সেই ভগবান্ ইন্দ্রদেবের প্রতি একান্তে আপনাদের সমর্পণ কর। [মন্ত্রটি আত্ম-উদ্বোধন মূলক, ভাব এই যে, আমাদের শ্রেয়ঃ-সাধক সকল সৎকর্ম ভগবানে সমর্পিত হোক]। [এই সামের গেয়গান সম্বন্ধে উক্ত আছে, -ইষ্টা হোত্ৰীয়ম্ অপ্সরসং বা অপাংনিধিৰ্বা]।

    ৮। লোকসমূহের পালক বা রক্ষক সৎ-স্বরূপ ভগবানের প্রজ্ঞানরূপ স্বরূপ-শক্তিকে আমি হৃদয়ে পোষণ করি; তাহলে, হৃদয়ে সত্যভাব পোষণকারী আমি সূর্যের ন্যায় প্রকাশমান্ হতে পারি। (ভাব এই যে, ভগবানের স্বরূপশক্তির ধারণার সঙ্গে সঙ্গে ভগবৎ-বিভূতি লাভের দ্বারা আত্মপ্রকাশ হয়]। [গেয়গান সম্বন্ধে উক্ত আছে, প্রজাপতেঃ নিধনকামম সিন্ধুযাম বা]।

    ৯। পরমৈশ্বর্যসম্পন্ন ভগবান্ ইন্দ্রদেবে প্রীতিযুক্ত হলে, স্তুতিপরায়ণ আমরা যে শুদ্ধসত্ত্বের দ্বারা আনন্দ অনুভব করি, আমাদের সেই শুদ্ধভাবসমূহ পরমার্থযুক্ত (পরমাত্মায় বিনিবিষ্ট) হোক। [ভাব এই যে, ভগবানের প্রীতি-সাধনের কামনায় উদ্বুদ্ধমান আমরা আনন্দপ্রদ যে শুদ্ধসত্ত্বভাব লাভ করি, তার সবই ভগবানে বিনিযুক্ত হোক]। [এর গেয়গানটি–রেবত্যঃ বাজদাবৰ্য্যো বা]।

    ১০। সত্ত্বকর্মসমূহে অবস্থিত সৎকর্মকারী নরনারীর, হিতসাধক সাম ও পূষা দেবদ্বয় (সত্ত্বস্বরূপ সত্ত্বপোষক দেবদ্বয়) সকল রকম কর্মক্ষয়কর অবস্থার (মুক্তিসমূহের) বিষয় জ্ঞাপন করেন। [ভাব এই যে, সৎকর্মে নিয়োজিত নরনারীগণ সৎকর্মের দ্বারাই নিজেদের মুক্তির উপায় প্রত্যক্ষ করেন]। [গেয়গান–সোমপোষেয়ম্ গো অশ্বীয়ং বা।

    .

    পঞ্চমী দশতি

    ছন্দ আর্চিক। কৌথুমী শাখা। ঐন্দ্র পর্ব। দ্বিতীয় অধ্যায়।

    দেবতা ইন্দ্র৷
    ছন্দ গায়ত্রী৷
    ৷
    ঋ
    ষি : ১।৪ শ্রুতকক্ষ বা সুকক্ষ আঙ্গিরস, ২ বশিষ্ঠ মৈত্রাবরুণি, ৩ মেধাতিথি কাণ্ব, প্রিয়মেধ আঙ্গিরস, ৫ ইরিম্বিঠি কাণ্ব, ৬।১০ মধুচ্ছন্দা বৈশ্বামিত্র, ৭ ত্রিশোক কাণ্ব, ৮ কুসীদী কাণ্ব, ৯ শুনঃশেপ আজীগর্তি।

    পান্তমা বো অন্ধস ইন্দ্রমভি প্র গায়ত। বিশ্বাসাহং শতক্রতুং মংহিষ্ঠং চর্ষণীনা৷৷ ১ প্র ব ইন্দ্রায় মাদনং হর্যায় গায়ত। সখায়ঃ সোমপানো৷ ২৷৷ বয়মু ত্বা তদিদৰ্থা ইন্দ্র ত্বয়ন্তাঃ সখায়। কথা উথেভির্জরন্তে৷৷ ৩৷৷ ইন্দ্রায় মদ্ধনে সুতং পরি ষ্টোন্তু নো গিরঃ। অর্কমচন্তু কারবঃ৷৷ ৪৷৷ অয়ং ত ইন্দ্র সোমো নিপূততা অধি বহিষি। এহীমস্য দ্রবা পিব৷৷ ৫৷ সুরূপকৃত্মমূতয়ে সুদুঘামিব গোদুহে। .. জুহুমসি দ্যবিদ্যবি৷৷ ৬। অভি ত্বা বৃষভা সুতে সুতং সৃজামি পীতয়ে। তৃম্পা ব্যশ্নহী মদ৷৷ ৭৷ য ইন্দ্র চমসে সোমশ্চমূম্ তে সুতঃ। পিবেদস্য ত্বমশিষে৷৷ ৮৷৷ যোগেযোগে তবস্তরং বাজেবাজে হবামহে। সখায় ইন্দ্ৰমূতয়ে৷ ৯৷৷ আ ত্রেতা নি যীদতেন্দ্রমভি প্র গায়ত। সখায়ঃ স্তোমবাহসঃ৷ ১০।

    মন্ত্ৰাৰ্থ– ১। হে আমার চিত্তবৃত্তিসমূহ! তোমাদের প্রদত্ত শুদ্ধসত্ত্বকে (সৎকর্মকে) সর্বতোভাবে গ্রহণকারী, সকল রকম শক্রর অভিভবকারী, অশেষ-প্রজ্ঞাসম্পন্ন, সাধকগণের সর্বথা হিতসাধক, ভগবান্ ইন্দ্রদেবকে সম্যক্ আরাধনা কর। [ মন্ত্রটি আত্ম-উদ্বোধনমূলক। নিজের চিত্তবৃত্তিগুলিকে ভগবানে ন্যস্ত করার জন্য সঙ্কল্প প্রকাশ পেয়েছে। [ঋগ্বেদ; গেয়গানগুলি যথাক্রমে অধ্যর্দ্ধেডবৈতহব্যম্ ইহবদ্বামদেব্যম্‌, ওকোনিধনং বৈতহব্যম প্রভৃতি নামে পরিচিত]।

    ২। হে আমার সহচর সুহৃৎস্বরূপ চিত্তবৃত্তিনিবহ! তোমাদের সম্বন্ধীয় আনন্দপ্রদ স্তোত্রকে অজ্ঞানরশ্মিসম্পন্ন (জ্ঞানবিতরক) শুদ্ধসত্ত্বের বা সৎকর্মের গ্রহণকারী ভগবান্ ইন্দ্রদেবের উদ্দেশে সর্বথা সমর্পণ কর। [আত্ম-উদ্বোধক মন্ত্রের ভাব এই যে, -সাধক-গায়কের সকল কর্ম রা সকল স্তোত্রমন্ত্র ভগবানে সন্ন্যস্ত হোক]। [মন্ত্রটির ছটি গেয়গানের ১ম ও ২য়টি শাক্তে সাবনী, ৩য় ও ৪র্থটি গৌরীবীতে এবং ৫ম ও ৬ষ্ঠ গেয়গান যথাক্রমে শাক্তং সামও গৌরীবীতম নামে অভিহিত। অথবা–সর্বাণি শাক্তসামানি, সর্বাণি বা গৌরীবীতানি]।

    ৩। হে ভগবান্ ইন্দ্রদেব! আমাদের অঙ্গীভূত সুহৃৎস্বরূপ চিত্তবৃত্তিসমূহ আপনাকে কাময়মান হোক; [ভাব এই যে, আমাদের চিত্তবৃত্তিসমূহ ভগবৎপরায়ণ হোক–এটাই আকাঙ্ক্ষা]; অকিঞ্চন অতিক্ষুদ্র এই প্রার্থনাকারিগণ সেই উদ্দেশে আপনাকে স্তোত্রমন্ত্র সমূহের দ্বারা স্তব করছে। [ভাব এই যে, –চিত্তবৃত্তিকে ভগবৎ-অনুসারিণী করবার জন্য এই প্রার্থনা জানাচ্ছি]। অথবা–হে ভগবন ইন্দ্রদেব! আপনাকে পাবার অভিলায়ী, আপনার স্তোত্রপরায়ণ (কেবল আপনারই সম্বন্ধীয় বাক্য উচ্চারণশীল) উপাসক আমরা, যখন আপনার সখিত্বলাভে সমর্থ (অর্থাৎ কর্মের দ্বারা সালোক্য ইত্যাদি অবস্থা প্রাপ্ত) হব; তখন আমাদের ন্যায় অকিঞ্চনগণও বেদমন্ত্রের দ্বারা (বেদমার্গ-অনুসরণে) মোক্ষের অধিকারী হবে। [ভাব এই যে, –স্তোত্রের ও কর্মের দ্বারা ভগবানের সখিত্বলাভে সমর্থ হলে আপনা আপনিই মুক্তি অধিগত হবে]। [এর গেয়গান দুটি কাণ্বে ইমে ইত্যাদিরূপে অভিহিত]।

    ৪। আনন্দস্বরূপ ভগবান্ ইন্দ্রদেবের উদ্দেশে আমাদের শুদ্ধসত্ত্ব বা সৎকর্ম এবং স্তুতিবাক্যসমূহ সর্বথা প্রযুক্ত হোক; এবং কর্মপরায়ণ আমাদের চিত্তবৃত্তিসমূহ সকলের অর্চনীয় জ্যোতিঃকে অর্থাৎ সেই ভগবানকে আরাধনা করুক। [ভাব এই যে, আমাদের সকল কর্ম ও স্তোত্র পরমানন্দময় ভগবানে সমর্পিত হোক; আমরা সর্বথা তার অর্চনায় নিযুক্ত থাকি]। [এই মন্ত্রের প্রথম দুটি গেয়গানের নাম-গৌরীবীতে ইমে এবং তৃতীয় গেয়গানের নাম–ইদং শ্রৌতকক্ষ]।

    ৫। হে ভগবন ইন্দ্রদেব! এই আপনা-আপনি সঞ্জাত শুদ্ধসত্ত্বভাব আপনার জন্য রিপুগণ কর্তৃক বিমর্দিত বা বিচ্ছিন্নীকৃত হৃদয়ে নিরন্তর কর্মের বা স্তোত্রের দ্বারা সকলরকমে পবিত্ৰীকৃত হোক; এখন এই সত্ত্বভাবের প্রতি আপনি আগমন করুন; এবং করুণা করে তা গ্রহণ করুন। [ভাব এই যে, আমাদের হৃদয়ে সত্ত্বভাবের সঞ্চার হোক, আর ভগবান্ এসে তা গ্রহণ করুন]। [এর ১ম ও ২য় গেয়গান–ইমে দ্বে সৌমিত্রে, এবং ৩য়টির নাম–ইহ বদ্দৈবোদাসম্]।

    ৬। সৎকর্মের কর্তা (সৎকর্মের পোষক অথবা সৎকর্মের শ্রেষ্ঠ সম্পাদয়িতা) ভগবানকে আমাদের রক্ষার উদ্দেশে প্রত্যহ আহ্বান করছি (তার নিকট প্রার্থনা জানাচ্ছি); তিনি গোদুহে সুদুদ্ধার ন্যায় (অর্থাৎ আপনা-আপনি বর্ষণকারী স্নিগ্ধ চন্দ্রসুধার মতো, অথবাসকল রত্নপ্রদা পৃথ্বীমাতার মতো, অথবাসুদোহা গাভীর মতো) আমাদের নিকট আগমন করুন। [প্রার্থনার ভাব এই যে, –চন্দ্রকিরণ যেমন আপনা-আপনি বর্ষণশীল, অভিন্নভাবে সর্বলোকের তৃপ্তিসাধক হে ভগবান, তেমনভাবেই আপনি আমাদের প্রতি করুণা-পরায়ণ হোন]। [এই মন্ত্রের চারটি গেয়গান যথাক্রমে–শাক্করবর্ণম, বীঙ্ক, , ঐণ্ববে বৈণবে বা ঔদলে অভিধায়ে অভিহিত]।

    ৭। হে অভীষ্টপূরক ভগবন! সর্বথা হৃদয় সত্ত্বসমন্বিত হলে, আপনাকে লক্ষ্য করে আপনার গ্রহণের জন্য, শুদ্ধসত্ত্বকে বা সৎকর্মকে সৃষ্টি করি অর্থাৎ সম্পাদন করি; [ভাব এই যে, হৃদয়ে শুদ্ধসত্ত্বের সমাবেশ হলে, ভগবানের প্রীতির জন্য আমরা সৎকর্মের অনুষ্ঠানে প্রবৃত্ত হই]; তৃপ্তিকর আনন্দপ্রদ সেই শুদ্ধসত্ত্বকে আপনি সর্বথা প্রাপ্ত হোন; [ভাব এই যে, আমাদের কর্ম আপনার সাথে সম্বন্ধযুত হোক–এটাই প্রার্থনা]। অথবা-হে অভীষ্টপূরক ভগবন! আপনাকে লক্ষ্য করে, সর্বতোভাবে আপনার পানের জন্য বা গ্রহণের জন্য, তৃপ্তিকর আনন্দপ্রদ শুদ্ধসত্ত্বকে বা সৎকর্মকে সৃষ্টি করি; [ভাব এই যে, –ভগবানের তৃপ্তির জন্য আমার যেন সৎকর্মের সাধনে প্রবৃত্তি হয়]; আর সেই সৎকর্মে বা শুদ্ধসত্ত্বে আপনি পরিব্যাপ্ত থাকুন; [সাধক-গায়কের প্রার্থনা এই যে, তার কর্মসমূহ, ভগবানের সাথে সম্বন্ধযুক্ত হোক। অর্থাৎ ভগবান্ যখন ভক্তের শুদ্ধসত্ত্বে পরিব্যাপ্ত হবেন, তখনই তার সকল কর্ম সর্ব সৎ ও ভগবৎ-সম্বন্ধে যুক্ত হবে। তখন সাধকের সব পাওয়াই সম্পূর্ণ হবে]। [এর গেয়গান সম্বন্ধে উক্ত-আছে-আষভানি ত্রীণি সৈঙ্কুক্ষিতানি বা বাধ্রাশ্বানি বা]।

    ৮। হে ভগবন ইন্দ্রদেব! আপনার জন্য সৎকর্মের দ্বারা সঞ্জাত বা পবিত্ৰীকৃত প্রসিদ্ধ যে শুদ্ধসত্ত্বভাব বৃহৎ ও ক্ষুদ্র আমাদের হৃদয়-রূপ পাত্রসমূহে সর্বতোভাবে বিদ্যমান আছে, সেই শুদ্ধসত্ত্বের অংশ বা সারভাগকে আপনি গ্রহণ করুন; যেহেতু আপনি ঈশ্বর হন, সেইজন্য সেই সবই আপনাকে নিবেদন করছি। [প্রার্থনার ভাব এই যে, আমাদের কর্মের তারতম্য অনুসারে যে শুদ্ধসত্ত্বভাব সঞ্জাত হয়, ভগবান্ যেন কৃপা করে তা সবই গ্রহণ করেন]। [এর দুটি গেয়গান কৌৎসে পাল্কাবাজে বা দানাবাজে বা এইভাবে অভিহিত হয়]।

    ৯। সৎকর্মানুষ্ঠানের দ্বারা তার সখিসদৃশ-প্রিয়, আমাদের চিত্তবৃত্তিনিবহ অর্থাৎ তার কৃপাই আমরা, আমাদের প্রত্যেক কর্মের আরম্ভকালে, ইন্দ্রিয়বৃত্তি সমূহের পরস্পর সংঘর্ষ উপস্থিত হলে, আমাদের রক্ষা করবার নিমিত্ত, সেই অতি বলবান্ ভগবান্ ইন্দ্রদেবকে আহ্বান করি। [ভাব এই যে, –প্রতিটি কর্মের আরম্ভে সাত্ত্বিক বৃত্তিগুলির সাথে দুষ্ট ইন্দ্রিয়-বৃত্তিগুলির সংঘর্ষ অবশ্যম্ভাবী; তা থেকে রক্ষার জন্য সর্বশক্তিমান্ ভগবানের কাছে প্রার্থনা করি]। [এর তিনটি গেয়গান সম্বন্ধে এমন লিখিত আছে সৌমেধানি, পূর্বতিথানি বা পৌর্বাতিথানি বা]।

    ১০। স্তোমবাহক (স্তুতিকারক), সখিস্বরূপ (ভগবানের সাথে সখ্যভাবে মিলিত) হে আমার চিত্তবৃত্তিনিবহ! তোমরা সত্বর আগমন কর; (ভগবৎ-সামীপ্যগামী হও)। [এই মন্ত্রটি আত্ম-উদ্বোধন মূলক; চিত্তবৃত্তি সর্বধা ভগবৎ-পরায়ণ হোক–এটাই অভিপ্রায়। এই জন্যই সাধক-গায়ক বলছেন– হে আমার চিত্তবৃত্তির্নিবহ! তোমরাই তো আমার হৃদয়ে মানসযজ্ঞে যাগ-উপকরণরূপে প্রস্তুত। তোমরাই স্তোমবাহ, তোমরাই সখা, তোমরাই সেই ভগবানের স্বরূপ উপলব্ধি করতে সমর্থ। তোমরাই তার সাথে সখিত্ব স্থাপন করতে পার। এস, প্রস্তুত হও; ভগবৎ-চরণে পুস্পাঞ্জলি প্রদান কর]। [এই গেয়গানটি সম্বন্ধে দৈবাতিথং, মৈধাতিথং বা এইরকম উক্ত আছে]।

    .

    ষষ্ঠী দশতি

    ছন্দ আর্চিক। কৌথুমী শাখা। ঐন্দ্র পর্ব। দ্বিতীয় অধ্যায়।

    দেবতা ইন্দ্র (৭ সদসম্পতি; ১০ মরুদগণ)৷
    ছন্দ গায়ত্রী।
    ঋষি : ১ গাথি বিশ্বমিত্র, ২. মধুচ্ছদা বৈশ্বামিত্র, ৩ কুসীদী কাণ্ব, ৪ প্রিয়মেধ আঙ্গিরস, ৫।৮ বামদেব গৌতম, ৬।৯ শ্রুবক্ষ বা সুবক্ষ আঙ্গিরস, ৭ মেধাতিথি কাণ্ব, ১০ বিন্দু বা পূতদক্ষ আঙ্গিরস।

    ইদং হ্যাজসা সুতং রাধানাং পতে। পিবা জ্বাস্য গির্বণঃ৷ ১৷৷  মহ ইন্দ্রঃ পুরশ্চ নো মহিমস্তু বত্রিণে। দ্যোর্ন প্রথিনা শবঃ। ২. আ তু ন ইন্দ্র ক্ষুমন্তং চিত্রং গ্রাভং সং গৃভায়। মহাহস্তী দক্ষিণেন৷৷ ৩৷৷ অভি প্র গোপতিং গিরেন্দ্রমর্চ যথা বিদে। সূনুংসত্যস্য সৎপতি৷ ৪৷ কয়া নশ্চিত্ৰ আভুবদূতী সদাবৃধঃ সখা। কয়া শচিয়া বৃতা৷৷ ৫৷৷ ত্যমু বঃ সত্ৰাসাহং বিশ্বাসু গীর্ঘাষতম্। আ চ্যাবয়তয়ে৷ ৬৷ সদসম্পতিমদ ভূতং প্রিয়মিন্দ্রস্য কাম্য। সনিং মেধামসিষ৷৭৷ যে তে পন্থা অবধা দিবো যেভিশ্বমৈরয়ঃ। উত শ্ৰোষন্তু নো ভুব৷৷ ৮৷ ভদ্রং ভদ্রং ন আ ভরেমুর্জং শতক্রতো। যদি মৃড়য়াসি নঃ ৷৷ ৯৷৷ অস্তি সোমো অয়ং সুতঃ পিবন্ত্যস্য মরুতঃ। উত স্বরাজো অশ্বিনা৷ ১০৷৷

    মন্ত্ৰার্থ–১। পরমার্থ রূপ ধনের অধিপতি, স্তুতিমন্ত্রের দ্বারা অর্চনীয় (হে ভগবন)! আমাদের কর্মকে অনুসরণ করে আপন প্রভাবের দ্বারা অর্থাৎ অনুগ্রহপূর্বক এই কর্মের অর্থাৎ কর্ম হতে সঞ্জাত (কর্মের সারভূত অংশ) শুদ্ধসত্ত্বকে অবিলম্বে সর্বতোভাবে গ্রহণ করুন। [ভাব এই যে, আমাদের কর্ম সত্ত্বসমন্বিত হোক এবং ভগবন তার আপন মাহাত্মে তা গ্রহণ করুন]। [এই মন্ত্রের তিনটি গেয়গানের নাম প্রসঙ্গে উক্ত আছে–আঙ্গিরসং মাধুচ্ছন্দসংবা, আঙ্গিরসং ক্রৌঞ্চং বা, আঙ্গিরসং ঘৃতশ্চুন্নিধন প্রাজাপত্যং মাধুচ্ছন্দসং বা]।

    ২। শ্রেষ্ঠ মহত্ত্বসম্পন্ন ভগবান্ ইন্দ্রদেব আমাদের আশ্রয় হোন; আর, বজ্রধারী, শত্রুনাশক সেই দেবতায় আমাদের রক্ষণের নিমিত্ত মহত্ত্ব বিদ্যমান হোক; পার্থিব বস্তুর বা রিপুপ্রাধান্যের দ্বারা শবতুল্য শক্তিহীন জন (অকর্মণ্য এই প্রার্থনাকারী) স্ববাসীর ন্যায় সৎকর্মপর হোক। [প্রার্থনার ভাব এই যে, –সেই দেবতা আপন মহত্ত্বের প্রভাবে আমাদের আশ্রয়-স্বরূপ হোন এবং আমাদের, সর্বথা সমুন্নত সৎকর্মপর করুন]। [এই মন্ত্রের তিনটি গেয়গান সম্বন্ধে উক্ত আছে–বাম্রাণি, প্রৈয়মেধানি বা বৈশ্যানি বা আশ্বানি বা উগদাতৃদমনানি বা]।

    ৩। হে ভগবন ইন্দ্রদেব! আমাদের প্রতি আগমন করুন; এবং আরাধনীয় অর্থাৎ আকাঙক্ষণীয় বৈচিত্র্যসম্পন্ন পরমার্থ-রূপ ধনকে আমাদের জন্য সর্বতোভাবে গ্রহণ করুন; আর, অনুকম্পাপূর্বক সেই ধন বিতরণের জন্য পরমদানশীল হোন; অথবা, আমাদের উচ্চারিত স্তুতিরূপ অলৌকিক শক্তিসম্পন্ন ধনকে (আপনার গ্রহণীয় অর্চনাকে বা পূজাকে) আপনি সর্বতোভাবে গ্রহণ করুন; এবং অনুকম্পা-পূর্বক আমাদের সম্বন্ধে পরম দানশীল হোন। [প্রার্থনার ভাব এই যে, –সেই ভগবান আমাদের প্রতি কৃপা করে পরমধন (যে ধনের জন্য সংসার লালায়িত; সেই বিচিত্র পরমার্থধন) গ্রহণপূর্বক আমাদের বিতরণের জন্য এই মর্ত্যলোকে আগমন করুন]। [ঋগ্বেদ; গেয়গান– গৌরীবিতে, আপালবৈণবে, বৈণবে বা আপালে বা আকূপরিবা পারবতে বা এমন উক্ত আছে]।

    ৪। হে আমার মন! তুমি সেই পৃথ্বীপতি (অথবা জ্ঞানকিরণ সমূহের পালক বা রক্ষক), সত্য হতে উৎপন্ন (সত্যের অঙ্গীভূত অথবা সৎকর্মের দ্বারা জাত), সৎ-জনের পালক, ভগবান্ ইন্দ্রদেবকে লক্ষ্য করে স্তুতির দ্বারা প্রকৃষ্টরূপে অর্চনা কর; এবং তাঁর প্রকৃত স্বরূপ অবগত হও; অথবা, যে রকমে তিনি জানতে পারেন–তেমন পূজা কর। [ভগবানের স্বরূপ অবগত হয়ে প্রকৃষ্টরূপে তাঁর পূজায় ব্রতী হও-মন্ত্র এমন আত্ম-উদ্বোধনা প্রকাশ করছে। [এর তিনটি গেয়গানের প্রথম দুটি ধুরীঃ সামনী এবং তৃতীয়টি মহাগৌরীবিত গৌরীবিতং বা নামে অভিহিত]।

    ৫। চিরনবীনত্বসম্পন্ন, অভিনবকর্মযুত, সুহৃৎস্থানীয় সেই দেবতা–কি রকম কর্মের দ্বারা আমাদের অভিমুখী হন? আর, প্রজ্ঞাসহ অনুষ্ঠীয়মান কোন কর্মের দ্বারাই বা তিনি প্রাপ্তব্য হন? [কোন্ কর্মের দ্বারা কি রকমে ভগবানকে প্রাপ্ত হওয়া যায়, সেই বিষয়ে প্রার্থনাকারী অনুসন্ধিৎসু হয়েছেন; মন্ত্রে তাঁর সেই ব্যাকুলতা প্রকাশ পেয়েছে। (যজুর্বেদ ২৬ অধ্যায়। ৪ কণ্ডিকা; অথর্ববেদ ২০।১২৪।১; এবং এই সামবেদেও অপর স্থানে দৃষ্ট হয়। গেয়গান তিনটি– বাচঃ সামনী এবং মহাবামদেব্যং বামদেব্যং বা নামে অভিহিত]।

    ৬। হে আমার মন! তোমাদের নিজেদের রক্ষার জন্য, শত্রুগণের অভিভবকারী, সকল স্তোত্রে বিস্তৃত অর্থাৎ স্তোত্ররূপে অবস্থিত সেই প্রসিদ্ধ দেবতাকে উৎকর্ষের সাথে অভিমুখে আগমন করাও অর্থাৎ আনয়ন কর; [আত্ম-উদ্বোধন-প্রকাশক এই মন্ত্রের ভাব এই যে, হে মানুষ! তোমার কর্মের দ্বারা তুমি যাতে ভগবানের সামীপ্য লাভ কর, তার জন্য উদ্বুদ্ধ হও। মনে রেখো, সেই ভগবান শত্রুগণের অভিভবকারী। তিনি সকল স্তোত্রমন্ত্রের সাথে বিদ্যমান আছেন]। [দুটি গেয়গান-ইন্দ্রস্য সত্ৰাসাহীয়ে, অজিতস্য আজিত্তী]।

    ৭। অপূর্বকর্মকারক, ভগবান্ ইন্দ্রদেবের সখা অর্থাৎ অভিন্নরূপ, কমনীয়। ধনদাতা, শ্রেষ্ঠজ্ঞানের পালক সদসম্পতি দেবতাকে প্রজ্ঞালাভের জন্য প্রার্থনা করছি। [ভাব এই যে, প্রজ্ঞালাভের জন্য আমি শ্রেষ্ঠজ্ঞানপালক দেবতার শরণ যাচ্ঞা করছি। [গেয়গানের নাম—বামদেব্যম্]।

    ৮। হে ভগবন! আপনার সম্বন্ধী অর্থাৎ আপনাকে, প্রাপ্তিমূলক প্রসিদ্ধ যে পথসকল (মনুষ্যের সৎকর্মরূপ), আছে এবং যে সকল পথের (কর্মের) দ্বারা জগৎ পরিচালিত হয়; সেই পথের তত্ত্ব আমাদের বর্তমান নিবাসস্থান অর্থাৎ ইহজীবন জ্ঞাত হোক। [ভাব এই যে, ভগবৎ-নির্দিষ্ট ভগবৎপ্রাপ্তিমুলক কর্মসমূহ ইহজীবনে একান্ত জ্ঞাতব্য; প্রার্থনা–হে ভগবন! সেই কর্মসমূহ আমাদের জানিয়ে দিন বা শিখিয়ে দিন]। [গেয়গানের নাম–অশ্বিনীঃ সাম]।

    ৯। অশেষপ্রজ্ঞাব (অশেষকর্মকারী) হে ভগবন ইন্দ্রদেব! আমাদের কর্ম লক্ষ্য করে আপনি যদি আমাদের সুখী করেন অর্থাৎ আমাদের সুখের অভিলাষী হন, তাহলে আমাদের প্রতি শ্রেষ্ঠ কল্যাণসাধক অভীষ্টবর্ষণ (অথবা অন্নদান) করুন, আর আমাদের বলপ্রাণ প্রদান করুন। [প্রার্থনার এ ভাব, -হে ভগবন! যাতে আমাদের পরম শ্রেয়ঃ সাধিত হয়, তা-ই বিহিত করুন]। [গেয়গানের ৫ নাম–গোতমস্য ভদ্রম]।

    ১০। আমাদের কর্মের দ্বারা সঞ্জাত যে বিশুদ্ধ সত্ত্বভাব থাকে, সেই শুদ্ধসত্ত্বের অংশকে স্বয়ং দীপ্যমানন্ (সর্বত্র প্রকাশশীল) মরুৎ-গণ (বিবেকরূপী দেবতারা) আপনা-আপনিই গ্রহণ করেন, এবং অশ্বিদেবদ্বয়ও (অন্তর্ব্যাধি ও বহির্বাধিনাশক দেবতা দুজনও) তা গ্রহণ করেন। [ভাব এই যে, সৎকর্মের দ্বারা হৃদয়ে একটু শুদ্ধসত্ত্বের সঞ্চার হলেই সেখানে বিবেকের ক্রিয়া প্রত্যক্ষীভূত হতে থাকে অর্থাৎ বিবেকরূপী দেবতার অনুকম্পা প্রাপ্ত হওয়া যায়। সেখানেই অন্তর্ব্যাধি ও বহির্ব্যাধি সকলরকম ব্যাধির শান্তি আনয়ন করে]। [এর গেয়-গানটি–আশ্বিনোঃ সাম, বা সোম-সাম নামে অভিহিত হয়]।

    .

    সপ্তমী দশতি

     ছন্দ আর্চিক। কৌথুমী শাখা। ঐন্দ্র পর্ব। দ্বিতীয় অধ্যায়।

    দেবতা ইন্দ্র (৪ অশ্বিদ্বয়, ১০ বায়ু)৷
    ছন্দ গায়ত্রী।
    ঋষি : ১ ইন্দ্ৰমাতা দেবজামিগণ, ২। গোধা ঋষিকা, ৩ দধ্যঙ আথর্বণ, ৪ প্ৰস্কণ্ব কাণ্ব, ৫ গৌতম রাহুগণ, ৬ মধুচ্ছন্দা বৈশ্বামিত্র, ৭ 
    বামদেব গৌতম, ৮ বৎস কাণ্ব, ৯ শুনঃশেপ আজীগর্তি, ১০ উল বাতায়ন৷৷

    ঈজ্বয়ন্তীরপব ইন্দ্ৰং জাতমুপাসতে। বানাসঃ সুবীর্য৷ ১৷৷ নকি দেবা ইনীমসি ন ক্যা যোপয়ামসি। মন্ত্ৰত্যং চরামসি৷৷ ২৷৷ দোষো আগাদ বৃহগায় দ্যুম গামন্নাথৰ্বণ। স্তুতি দেবং সবিতার৷৷ ৩৷৷ _ এযো ঊষা অপূর্বা ব্যুচ্ছতি প্রিয়া দিবঃ ৷৷ স্তষে বামশ্বিনা বৃহৎ৷৷ ৪৷৷ ইন্দ্রো দধীচে অস্থভির্বত্রাণ্যপ্রতিশ্রুতঃ। জঘান নবতীর্নব৷ ৫৷ ইন্দ্রেহি মৎস্যন্ধসসা বিশ্বেভিঃ সোমপর্বভিঃ। মহা অভিষ্টিরোজসা৷৷ ৬ ৷৷ আ তু ন ইন্দ্র বৃহন্নস্মাকমর্ধমা গহি। মহান্ মহীভিরাতিভিঃ। ৭৷ ওজস্তদস্য তিত্বিষ উভে যৎ সমবর্তয়ৎ। ইন্দ্ৰশ্চর্মে রোদসী৷৷ ৮৷৷ অয়মু তে সমতসি কপোত ইব গর্ভধি। বচস্তচ্চিন্ন ওহসে৷৷ ৯। বাত আ বাতু ভেষজং শম্ভু ময়োভু নো হৃদে। প্র ন আয়ুংষ তারিষৎ৷৷ ১০৷

    মন্ত্ৰাৰ্থ— ১। ভগবানের অনুসারী, শুদ্ধসত্ত্বের অভিলাষী-চিত্তবৃত্তিসমূহ, সৎকর্মের দ্বারা উৎপন্ন ভগবান্ ইন্দ্রদেবকে প্রাপ্ত হয়ে থাকে, এবং নিজেদের শোভনকর্মনিঃসৃত ধন সেই দেবতা হতে প্রাপ্ত হয়ে সম্ভোগ করে। [ভগবানে নিবিষ্টচিত্ত জনগণ নিজেদের কর্মের দ্বারাই মুক্তিলাভ করে থাকেন]। [গেয়গানের নাম–ত্বাষ্ট বা ত্বাষ্ট্রী সাম]।

    ২। হে দেবগণ (দীপ্তিদান ইত্যাদি গুণের অভিব্যঞ্জক ভগবৎ-বিভূতি-সমূহ)! আপনাদের সম্বন্ধে যেন কোনরকম হিংসা অর্থাৎ বিপরীত কর্ম না করি; (আপনাদের বিরাগভাজন কোনও কর্ম করব মন্ত্র এমনই সঙ্কল্পে-প্রকাশক); আপনাদের সম্বন্ধে কোনরকম মোহগ্রস্ত না হই অর্থাৎ মোহজনক কর্ম সর্বথা পরিত্যাগ করব; (আপনাদের কর্ম-সম্পাদনে সর্বথা অনুরাগসম্পন্ন হব–এই ভাব); আর যেন শাস্ত্রবিহিত কর্ম আচরণ করি;(কখনও অপকর্ম করবনা–এই সঙ্কল্প)। [এর গেয়গানের নাম– গোধা সাম]।

    ৩। শ্রেয়ঃপথের অনুসারী, দিব্যজ্ঞান-পিপাসু (অথবা-চঞ্চলগমনশীল) হে আমার মন! অপরাধ বা পাপ (ত্রুটি-বিচ্যুতি) তোমার কর্মের সাথে নিত্য সংঘটিত হচ্ছে; অথবা, তোমার জীবনের শেষমুহূর্ত ঘনিয়ে এসেছে; সে কারণ, অপরাধ পরিহারের জন্য, সর্বথা সর্বক্ষণ ভগবানের আরাধনা কর; আর, দীপ্তিদান ইত্যাদি গুণবিশিষ্ট জ্ঞানপ্রদাতা (মঙ্গলপ্রেরক) সবিতৃদেবতাকে পূজা করার অনুসরণে প্রবৃত্ত হও। [মন্ত্রটি আত্ম-উদ্বোধক; উদ্বোধনার ভাব এই যে, জীব! তুমি হেলায় দিন হারিয়ে এসেছ; যদি শ্রেয়ঃ চাও, এখনও সাবধান হও। –প্রচলিত ভাষ্যে অথর্ব ঋষির পুত্রকে সম্বোধন করে মন্ত্রটি উচ্চারিত হয়েছে বলে নির্দেশ করা হয়। কিন্তু প্রকৃত অর্থে যে মঙ্গলের পথে গমন করতে চায় বা অনুসারী হয় সেই আর্থবণ। সুতরাং এই মন্ত্রের সম্বোধন মনকেই উদ্দেশ করে করা হয়েছে ধারণা করাই সমীচীন। লক্ষণীয়, চঞ্চলগমন তো মনই। জ্ঞানের পিপাসা তো মনেই প্রকাশ পায়]। [এই মন্ত্রের গেয়গানের নাম–সবিতুঃ সাম। বিবরণকারের মতে, মন্ত্রের ঋষি বামদেব।

    ৪। সেই (জ্ঞানিগণের দৃশ্যমানা) অভিনবত্বসম্পন্না, রমণীয়া, জ্ঞানোন্মেষকারিণী ঊষা দেবতা, যখন দ্যুলোক হতে এসে অজ্ঞানান্ধকার নাশ করেন, তখন, হে অন্তর্ব্যাধিবহির্ব্যাধিনাশক দেবদ্বয়, আমি আপনাদের আরাধনা করি। [আমাদের হৃদয়ে জ্ঞানের উন্মেষ হলে, আমরা দেবপূজা-পরায়ণ হই– এটাই ভাবার্থ]। [গেয়গানের নাম-উষস সাম]।

    ৫। প্রত্যাখ্যান-শব্দরহিত (প্রার্থনাপূরক) ভগবান্ ইন্দ্রদেব, দেবভাবরক্ষণের নিমিত্ত আত্মত্যাগ পরায়ণ জনের ক্ষুদ্র শক্তিসমূহের দ্বারাই, নবনব-প্রভাব-বিশিষ্ট (অশেষ শক্তিসম্পন্ন) অজ্ঞানতাজনিত পাপসমূহকে নাশ করে থাকেন। [হে জীব! তোমার শক্তি অল্প, আর পাপের প্রভাব ভীষণ; কিন্তু সে জন্য ভয় করো না; সৎকার্যে উৎসৃষ্টপ্রাণ হতে পারলে, ভগবানই সহায় হয়ে তোমার পাপকে এ বিনষ্ট করবেন]। [এর গেয়গানের নাম–তুষ্টুরাতিথ্যেহে]।

    ৬। হে ভগবন ইন্দ্রদেব! আপনি (আমাদের হৃদয়ে) আগমন করুন; বিশ্ববাসী এই ভক্তজনের (আমাদের) আপনার আরাধনা-রূপ যজ্ঞ-উৎসবে অর্থাৎ সৎকর্মে, ভক্তিরূপ অন্নের দ্বারা, মহান আপনি, পরিতুষ্ট হোন; আর আপন প্রভাবে আমাদের শত্রুদের নিপাত করুন। [প্রার্থনার ভাব, হে ভগবন! আমাদের পূজায় (হৃদয়ের ভক্তিসুধায়) পরিতুষ্ট হোন; আর, আমাদের অন্তরের মধ্যে স্থায়ী শত্রুকে এবং বহির্জগতের রাক্ষস নাস্তিক ইত্যাদি শত্রুকে অর্থাৎ সকলরকম শত্রুকে নাশ করুন]। [যজুর্বেদ ৩১।২৫; এর গেয়গানের নাম–পৌষম)।

    ৭। শত্রুনাশক (অজ্ঞানতানাশকারী) হে ভগবন ইন্দ্রদেব! আমাদের প্রতি শীঘ্র আগমন করুন; মহত্ত্বসম্পন্ন আপনি মহতী রক্ষার সাথে আমাদের নিকট আগমন করুন। [ভাব এই যে, -হে ভগবন! আপনি আমাদের নিকট আগমন করুন এবং আমাদের সর্বথা রক্ষা করুন। –এটি একটি সরল প্রার্থনামূলক মন্ত্র। –পাপের জ্বালায় আমরা জর্জরীভূত; আপনি পাপনাশক; আমাদের পাপ নাশ করুন। আপনি কাছে এলেই পাপ পলায়ন করবে, আমরা রক্ষা প্রাপ্ত হব। বৃত্র বলতে কোনও দেহধারী অসুরকে বোঝায় না, অজ্ঞানতারূপ মানুষের শত্রুই বৃত্ৰনামে অভিহিত হয়েছে]। [এর গেয়গানের নাম-ইন্দ্রস্য মায়া]।

    ৮। এই ভগবান্ ইন্দ্রদেবের সেই প্রসিদ্ধবল সর্বদা প্রদীপ্ত অর্থাৎ প্রকাশিত আছে; সেই বলের দ্বারা ইন্দ্রদেব দ্যাবাপৃথিবী উভয় লোককে চর্মের ন্যায় সম্প্রসারণ-সঙ্কোচন-দ্বারা সম্যক্‌-রূপে আবর্তিত (পরিচালিত) করেন। [মন্ত্রটি ভগবানের মাহাত্ম্য প্রকাশ করছে। ভাব এই যে, –ভগবানের প্রভাবের দ্বারা দ্যুলোক ও ভূলোক সকলরকমে পরিচালিত হচ্ছে]। [গেয়গানের নাম–ইন্দ্রস্য সংবৰ্ত্তস্য বা সংবৰ্ত্তে]।

    ৯। হে দেব! আপনার উদ্দেশে সম্পাদিত জ্ঞানোৎপন্ন শুদ্ধসত্ত্বভাব–যার সাথে আপনার কপোত কপোতীর ন্যায় সম্মিলন হয়, সেই ভাবসহযুত আমাদের স্তোত্র (সৎকর্ম) আপনি নিশ্চিতই প্রাপ্ত হয়ে থাকেন। [ভাব এই যে, –জ্ঞানের সাথে সম্বন্ধযুত সৎকর্ম ও স্তোত্র নিশ্চয়ই ভগবৎ-সান্নিধ্য লাভ করে]। [এর গেয়গানের নাম–আঙ্গিরসস্য শৌনঃশেপম্ চ্যাবনং বা]।

    ১০। হে ভগবন! আপনার কৃপায় বায়ু আমাদের হৃদয়ে ব্যাধিবিনাশক শান্তিপ্রদ ঔষধ আনয়ন করুন; এবং আমাদের জীবনকালকে, প্রবর্তিত করুন। [প্রার্থনার ভাব এই যে, বায়ু (সর্বদেবময় ব্রহ্মের অন্যতম বিভূতি) যে ভেষজ এনে দেবেন, তা শান্তিপ্রদ ও সুখদায়ক হোক–অর্থাৎ তার কৃপায় আমাদের হৃদয় নির্মল হোক, হৃদয়ের কলুষকালিমা দূরে যাক, হৃদয়ে চিরশান্তি বিরাজ করুক]। [এর গেয়গানের নাম–প্রতীচীনেডং কাশীতম]।

    .

    অষ্টমী দশতি

    ছন্দ আর্চিক। কৌথুমী শাখা। ঐন্দ্র পর্ব। দ্বিতীয় অধ্যায়।

     দেবতা ইন্দ্র৷৷
    ছন্দ গায়ত্রী।
    ঋষিঃ ১ কণ্ব
    , ২।৩।৯ বৎস কাণ্ব (ঋগ্বেদে ২।৯ বশোহশ্ব্য), ৪ শ্রুতকক্ষ বা সুকক্ষ আঙ্গিরস, ৫ মধুচ্ছন্দা বৈশ্বামিত্র, ৬ বামদেব গৌতম, ৭ ইরিম্বিঠি কাণ্ব, ৮ সত্যধৃতি বারুণি৷৷

    যং রক্ষন্তি প্রচেতসো বরুণো মিত্রো অর্যমা। নকিঃ স দভ্যতে জনঃ৷৷ ১৷৷ .. গব্যো যু নো যথা পুরাশযোত রথয়া। বরিবস্যা মহোনা৷৷ ২। ইমাস্ত ইন্দ্র পৃশ্নয়ো ঘৃতং দুহত আশির। এনামৃতস্য পিপুষীঃ৷৷ ৩৷৷ অয়া ধিয়া চ গব্যয়া পুরুণাম পূরুষ্টুত। যৎ সোমেলোম আভুবঃ৷৷ ৪। পাবকা নঃ সরস্বতী বাজের্ডিবাজিনীবতী। যজ্ঞং বন্ধু ধিয়াবসু৷৷ ৫৷৷ ক ইমং নাহুষী ইন্দ্রং সোমস্য তর্পয়াৎ। স নো বসূন্যা ভরাৎ৷৷ ৬৷৷ আ যাহি সুষুমা হি ত ইন্দ্র সোমং পিবা ইমম্। এদং বহিঃ সদো মম৷৷ ৭৷৷ মহি ত্ৰীণামবস্তু দ্যুক্ষং মিত্রস্যাৰ্যঃ। দুরাধর্ষং বরুণস্য। ৮। ত্ববতঃ পুরূবসো বয়মিন্দ্র প্রণেতঃ। স্মসি স্থাতৰ্হরীণা। ৯।

    মন্ত্ৰাৰ্থ— ১। করুণাবর্ষণশীল বরুণ মিত্রের ন্যায় হিতকরী মিত্র, গতিকারক অর্যমা প্রভৃতি প্রজ্ঞানসম্পন্ন দেবগণ যে জনকে আশ্রয়-দান করেন, আশ্রয়প্রাপ্ত সেইজন কারো কর্তৃক হিংসিত হয় না। [ভাব এই যে, ভগবানের করুণাপ্রাপ্ত জন সর্বথা রক্ষা প্রাপ্ত হয়। বরুণ, মিত্র ও অর্যমা; ভগবানের বিভিন্ন বিভূতি বিভিন্ন নাম-রূপ-ক্রিয়ার দ্বারা পরিচিত। এখানে বরুণ বলতে ভগবানের সেই বিভূতিকে বোঝায় যিনি মঙ্গল বর্ষণ করেন, সর্বদা সুমঙ্গল এনে দেন। মিত্র বলতে ভগবানের সেই বিভূতি, যা বন্ধুর মতো, সুহৃদের মতো হিতকরী। অর্যমা পদে গতিকারক অর্থাৎ মুক্তিপ্রদাতা ভগবৎ-বিভূতিকে বোঝাচ্ছে। তাদের কল্যাণেই গায়ক-সাধক মোক্ষপথের প্রতি অগ্রসর হতে চাইছেন। তারা তার মোক্ষপথের বাধা অপসারণ করে দেবেনই]] [এর গেয়গানের নাম– সৌমিত্রম)।

    ২। হে ভগবন! আপনি চিরকাল আমাদের জ্ঞানপ্রাপ্তির ইচ্ছার দ্বারা এবং ব্যাপ্তিপ্রাপ্তির ইচ্ছার দ্বারা, আর উচ্চগতি প্রদানের উপযোগী যান-প্রাপ্তির ইচ্ছার দ্বারা, পরিচালিত হয়ে ধনর্মমূহের শ্রেষ্ঠ অংশকে (মোক্ষকে) সর্বতোভাবে আমাদের প্রদান করুন। [প্রার্থনার ভাব, –সেই ভগবান্ আমাদের অভিলাষের অনুরূপ ফল আমাদের প্রদান করুন। আমরা যেন জ্ঞানলাভের জন্য আকাঙ্ক্ষা করি; আমরা যেন ব্যাপ্তির অর্থাৎ সংসারের সকলকেই আপনার (নিজের) বলে মনে করতে পারি এবং এর এ আমরা যেন নিজেদের পরিত্রাণের (পাপ বা রিপু শত্রুদের আক্রমণ থেকে নিজেদের দূরে রক্ষার) উপযোগী সৎকর্ম-রূপ যান প্রস্তুত করতে পারি]। [ঋগ্বেদ; গেয়গানের নাম–শ্যাবাশ্বে]।

    ৩। হে ভগবন ইন্দ্রদেব! আপনার সম্বন্ধীয়, আপনা-আপনিই প্রকাশমান, সত্যের পরিবর্ধনকারী, জ্ঞানরশ্মিসমূহ, সকলের অনুভাব্য জীবহিতসাধক শুদ্ধসত্ত্বকে দোহন করে আনে–হৃদয়ে সঞ্চারিত করে। [ভাব এই যে, ভগবানের সাথে সম্বন্ধবিশিষ্ট সত্যের বৃদ্ধিকারী যে জ্ঞান, সেই জ্ঞানই হৃদয়ে শুদ্ধসত্ত্বকে প্রতিষ্ঠা করে]। [এর গেয়গানের নাম–শৈস্বাণ্ডিনম্]।

    ৪। বহুনামধারী, বহুজনের পূজিত (হে দেব)! যখন আপনি আমাদের অনুষ্ঠিত সকল সৎকর্মের মধ্যে অর্থাৎ আমাদের সাথে সকল সত্ত্বভাবের মধ্যে আবির্ভূত হন, তখন আমরা আপনার সম্বন্ধীয় জ্ঞানের অনুসারী বুদ্ধি-যুক্ত হয়ে থাকি। [ভাব এই যে, আমরা যখন সৎকর্মপরায়ণ হই, তখনই ভগবানের সম্বন্ধীয় জ্ঞান (মহাজ্ঞান) লাভ করি, সৎকর্মের সঙ্গে সঙ্গেই ভগবৎ-প্রাপ্তি ঘটে–এটাই তাৎপর্য। [এর গেয়গানের নাম—বৈতহব্যম্]।

    ৫। পতিতপাবনী (পবিত্ৰকারিণী), জয়প্রদায়িনী (অন্নবতী, অন্নপ্রদানকারিণী), কর্মফলবিধায়িনী (কর্মানুসারে ধনদাত্রী), দেবী সরস্বতী (জ্ঞানাধিষ্ঠাত্রী দেবী) আমাদের যজ্ঞ (আরব্ধ ধর্ম) জয়ের সাথে সম্পন্ন করে দেন। [প্রার্থনার ভাব এই যে, –সেই জ্ঞানাধিষ্ঠাত্ দেবীর কৃপায় আমাদের কর্মানুষ্ঠান আমাদের জয়যুক্ত করুক, –আমাদের কর্মের সাথে আমরা যেন পরমধন (মোক্ষ) লাভ কৰি]। [এর, গেয়গানের নাম–ভারদ্বাজং]।

    ৬। বন্ধনদশাগ্রস্ত লোক সমূহের মধ্যে কোন্ জন শুদ্ধসত্ত্বের দ্বারা এই ভগবান্ ইন্দ্রদেবকে পূজা করে থাকে? [ঘোর-বন্ধনদশায় আগ্রস্ত কেউই শুদ্ধসত্ত্বের দ্বারা ভগবানের প্রীতিসম্পাদন করে না– এটাই ভাবার্থ]; সেই ভগবান্ ইন্দ্রদেব বন্ধনদশাগ্রস্ত আমাদের শুদ্ধসত্ত্বরূপ ধনসমূহ প্রদান করুন, অথবা আমাদের কৃত কর্মে প্রীত হয়ে লোকসমূহকে শুদ্ধসত্ত্বের দ্বারা পরিপূর্ণ করুন। [ভাব এই যে, বন্ধনদশাগ্রস্ত মানুষ শুদ্ধসত্ত্বসম্পন্ন হোক–অর্থাৎ ভগবান্ তাদের হৃদয়ে সত্ত্বভাব প্রদান করে সকল বন্ধন থেকে মুক্ত করুন]। [গেয়গানের নাম–অরুণস্য বৈতহব্যস্য সাম সোভরং বা]।

    ৭। হে ভগবন ইন্দ্রদেব! আমাদের নিকট আগমন.করুন; আমরা মরদেহবিশিষ্ট মনুষ্য (অথবা, আপনার প্রভাবের দ্বারা আমরা যেন শুদ্ধসত্ত্বসম্পন্ন হতে পারি, তা বিহিত করুন); অতএব, জন্মসহজাত এই যে অতি সামান্য শুদ্ধসত্ত্ব আছে, সর্বতোভাবে তা গ্রহণ করুন, এবং আমার এই উপেক্ষিত হৃদয়-রূপ দর্ভাসনে আসীন হোন। [সেই ভগবান্ কৃপা করে আমায় সত্ত্বসম্পন্ন করুন, এবং আমার এই উপেক্ষিত হৃদয়ে আসন গ্রহণ করুন]। [এর গেয়গানের নাম–সৌভরম্]।

    ৮। মিত্রস্থানীয় মিত্রদেবতার, গতিকারক পথপ্রদর্শক অর্ঘমন্ দেবতার, করুণাবারি বর্ষক বরুণদেবতার–এই তিন দেবতার শত্রুনাশক তেজঃ এবং মহৎ রক্ষণ আমাদের অধিগত হোক। [প্রার্থনার ভাব এই যে, ভগবানের কৃপায় তার ঐতিন বিভূতিধারী দেবতার তেজঃ ও রক্ষা আমাদের মধ্যে অবিচলিত থাকুক]। (যজুর্বেদ ৩।১১; এর গেয়গানের নাম-ইমে দ্বে পাষ্ঠৌহে]।

    ৯। বহুধনবিশিষ্ট, সকল কর্মের উৎকর্ষসাধক, জ্ঞানকিরণসমূহের অধিষ্ঠাতা, হে ভগবন ইন্দ্রদেব! অর্চনাকারী আমরা আপনার অঙ্গীভূত অর্থাৎ আপনার সাথে মিলনাভিলাষী হয়েছি। [প্রার্থনার ভাব এই যে, সেই ভগবান্ ইন্দ্রদেব আমাদের আশ্রয় দান করুন; আমরা তাঁর সাথে মিলনের অভিলাষী। ইন্দ্র বহুধনবান্ কর্মপূরক। তিনি জ্ঞানকিরণসমূহের অধিষ্ঠাতা, তারই কৃপায় আমরা এ জ্ঞানলাভে সমর্থ হই, অথরা জ্ঞানের অভ্যন্তরে তিনি বিদ্যমান্। জ্ঞানই ঈশ্বরলাভের একমাত্র পথ]। [গেয়গানের নাম–সাকমশ্বং ধুরাং সাম বা]।

    .

    নবমী দশতি

    ছন্দ আর্চিক। কৌথুমী শাখা। ঐন্দ্র পর্ব। দ্বিতীয় অধ্যায়।

    দেবতা ইন্দ্র৷৷
    ছন্দ গায়ত্রী।
    ঋষিঃ ১ প্রগাথ কাণ্ব, ২ গাথি বিশ্বামিত্র, ৩।১০ বামদেব গৌতম, ৪।৫ শ্রুতকক্ষ আঙ্গিরস, ৫ মধুচ্ছন্দা বৈশ্বামিত্র, ৭ গৃৎসমদ শৌনক, ৮।৯ ভরদ্বাজ বার্হস্পত্য।

    উত্বা মন্তু সোমাঃ কৃণুষ রাধো অদ্রিবঃ। অব ব্রহ্মদ্বিষো জহি:৷৷ ১৷৷ গির্বণঃ পাহি নঃ সুতং মধধধারাভিরজ্যসে। ইন্দ্র ত্বাদামি যশঃ ॥ ২॥ সদা ব ইন্দ্ৰশক্ষদা উপো ন স সপর্যন্। ন দেবো বৃতঃ নূর ইন্দ্রঃ ৷৷ ৩৷৷ আ ত্বা বিশবিঃ সমুদ্রমিব সিন্ধবঃ। ন জ্বামিন্দ্রাতিরিচ্যতে৷৷ ৪৷৷ ইন্দ্ৰমিদ গাথিনো বৃহদিন্দ্রমকেভিরর্কিণঃ। ইন্দ্রং বাণীরনূষত৷৷ ৫৷৷ ইন্দ্র ইষে দদাতু ন ঋভুক্ষণমৃভুং রয়িম্। বাজী দদাতু বাজিন৷৷ ৬৷৷ ইন্দ্রো অঙ্গ মহভয়মভীষদপ চুচ্যবৎ। স হি স্থিরো বিচৰ্ষণিঃ৷ ৭৷৷ ইমা উ স্ব সুতেসুতে নক্ষন্তে গির্বণে গিরঃ। গাবো বৎসং ন ধেনবঃ৷৷ ৮। ইন্দ্রানু পূষণা বয়ং সখ্যায় স্বস্তয়ে। .. হুমেব বাজতয়ে৷ ৯৷৷ ন কি ইন্দ্ৰ হৃদুত্তরং ন জ্যায়ো অস্তি বৃত্ৰহন। ন ক্যেবং যথা ত্ব৷ ১০৷

    মন্ত্ৰাৰ্থ— ১। অদ্রির ন্যায় দৃঢ় অচঞ্চল হে ভগবন! শুদ্ধসত্ত্বভাবসমূহ (সৎকর্মনিবহ) আপনাকে এ এ আনন্দিত (বিচলিত) করে; আপনি আমাদের পরমার্থরূপ ধন এবং রক্ষা প্রদান করুন; আর আমাদের রিপুশত্রুগণকে বিনাশ করুন। [প্রার্থনার ভাব এই যে, –সেই ভগবান্ (ভগবানের প্রতি হিংসাপরায়ণ, সৎকর্মে বাধাপ্রদানকারী) শত্রুগণকে নাশ করে আমাদের আশ্রয় দিন ও পরমার্থ (মোক্ষ) প্রদান করুন। মতান্তরে, আমাদের কাম-ক্রোধ ইত্যাদি যে রিপুগণ ভগবৎ-কার্যে বাধা প্রদান করে, ভগবান্ যেন সেই. রিপু-শত্রুগণকে নাশ করেন। ইন্দ্রের কৃপাতেই ইন্দ্রিয়-বিজয়ী হওয়ার আকাঙ্ক্ষাই পরিব্যক্ত]। [এর গেয়গানের নাম–যামম]।

    ২। স্তুতিমন্ত্রসেব্য (স্তুতিমন্ত্রের দ্বারা প্রাপ্য) হে ভগবন ইন্দ্রদেব! আমাদের শুদ্ধসত্ত্বকে আপনি গ্রহণ করুন; যখনই আপনি শুদ্ধসত্ত্বের দ্বারা অভিসিঞ্চিত হন, তখনই আপনার সম্বন্ধযুত (আপনার প্রদত্ত) শ্রেয়ঃ আমাদের প্রদান করেন। [ভাব এই যে, –সেই ভগবান্ তার তৃপ্তিপ্রদ শুদ্ধসত্ত্বকে আমাদের হৃদয়ে সঞ্চারিত করে আমাদের শ্রেয়ঃসাধন করুন]। [গেয়গানের নাম–আঙ্গিরসম হরিশ্রীনিধনম]।

    ৩। হে আমার চিত্তবৃত্তিসমূহ! তোমাদের সমীপে নিত্যবিদ্যমান্ (পরিভ্রাম্যমান) সেই ভগবান্ ইন্দ্রদেব তোমাদের সর্বদা সর্বতোভাবে সৎকর্মসাধনের জন্য আকর্ষণ করছেন; শৌর্যসম্পন্ন সেই ইন্দ্রদেব তোমাদের কর্তৃক সম্পূজিত হলে তোমাদের দেবত্ববিধায়ক হবেন। [আত্ম-উদ্বোধক এই মন্ত্র। এর ভাব এই যে, ভগবান্ সর্বদা সৎকর্ম-সম্পাদনের জন্য তোমাদের উদ্বুদ্ধ করছেন; সেই উদ্বোধনা শুনে তোমরা পূজাপরায়ণ হও; তার দ্বারাই শ্রেয়ঃ হবে]। [এই সাম-মন্ত্রটির গেয়গানের নাম—বৈরূপম]।

    ৪। হে ভগবন ইন্দ্রদেব! আমাদের শুদ্ধসত্ত্বভাবসমূহ অর্থাৎ আমাদের সকল কর্ম, নদীসকল যেমন সমুদ্রে প্রবেশ করে অর্থাৎ সাগরগামী নদীসকলের ন্যায়, আপনাতে সম্মিলিত হোক; [ভাব এই যে, নদী যেমন আপনা-আপনিই সাগর-সঙ্গমে অভিলাষিণী, আমার কর্মসমূহ তেমনই ভগবৎ-পরায়ণ (ঈশ্বরমুখী) হোক, –এটাই আকাঙ্ক্ষা]; যেহেতু হে ভগবন! আপনাকে কেউই অতিক্রম করতে পারে না। [ভাব এই যে, –সেই ভগবানই শ্রেষ্ঠ, তার সমকক্ষ কেউই নেই; অতএব তারই শরণ গ্রহণ করছি]। [এর গেয়গানের নাম–আসিতং সিন্ধুষাম বা]।

    ৫। সামগানকারী উদগাতৃগণ মহৎ সামগানে ইন্দ্রদেবেরই স্তব করেন; ঋগ্বেদীয় হোতৃগণ ঋক মন্ত্রে ইন্দ্রদেবেরই স্তব করেন; যজুর্বেদীয় অধ্বর্যুগণ যজুঃ-মন্ত্রে ইন্দ্রদেবেরই স্তব করেন। [ভাব এই যে, –অর্চনাকারী সকলেই ভগবান্ ইন্দ্রদেবের অর্চনা করে থাকেন]। [এর গেয়গানের নাম–যমস্য ইন্দ্রস্য বা অর্কঃ]।

    ৬। ভগবান্ ইন্দ্রদেব আমাদের অভীষ্টপূরণের জন্য আমাদের ঋভুক্ষণ অর্থাৎ দেবত্বনিলয় (সাধুসঙ্গরূপ স্বর্গ), ঋভু অর্থাৎ নরদেহে দেবত্ব, এবং পরমার্থ রূপ ধন (মোক্ষ) প্রদান করুন; আর, সৎকর্মরূপী সেই দেবতা আমাদের সৎকর্ম-সাধন-সামর্থ্য প্রদান করুন। [ভাব এই যে, সৎকর্মসমূহের দ্বারা যারা দেবত্বপ্রাপ্ত, তারাই ঋভুগণ; ভগবানের অনুম্পার দ্বারা আমরা ঋভুত্ব পাবার ইচ্ছা করি; ভগবান আমাদের সেই অবস্থায় নিয়ে চলুন]। [এর গেয়গানের নাম–সৌমিত্রে]।

    ৭। দৃঢ়চেতা সর্বদ্রষ্টা সেই ভগবান্ ইন্দ্রদেব ভীষণ ভয়ের কারণকে নিশ্চয়ই শীঘ্র অভিভব করেন ও দূর করেন। [ভাব এই যে, ভগবান্ ইন্দ্রদেবের প্রভাবের দ্বারা ভীষণ ভয়ের কারণও দূর হয়]। [এর গেয়গানের নাম–ইন্দ্রস্য অভয়ঙ্করম]।

    ৮। স্তুতিমন্ত্রসেব্য হে ভগবন! বিশুদ্ধীকৃত অর্থাৎ সৎকর্মসহযুত হলে, আমাদের এই স্তুতিমন্ত্রসকল, ভগবানে একান্ত অনুরাগিণী জ্ঞানপ্রভা যেমন নিবাসস্থান ভগবানকে প্রাপ্ত হয়, তেমনই (অথবা রে সদ্যপ্রসূতা গাভীগণ যেমন আপন সন্তানের প্রতি ধাবমা হয় তেমন) আপনাকে সর্বথা প্রাপ্ত হয়ে থাকে। [বিশুদ্ধভাবে অথবা সৎকর্মের সাথে উচ্চারিত বেদমন্ত্রগুলি নিশ্চয়ই ভগবানকে প্রাপ্ত হয়; অর্থাৎ আমাদের স্তোত্রমন্ত্রগুলি বিশুদ্ধ সৎকর্ম সহযুত তথা ভক্তিযুত হোক এবং ত্বরায় ভগবানকে প্রাপ্ত হোক]। [এর গেয়গানের নাম–ত্বাষ্ট্ৰিসাম]।

    ৯। শান্তিলাভের আশায় এবং সৎকর্মসাধনের নিমিত্ত শক্তিলাভের আশায়, শক্তি ও শান্তিপুষ্টিসাধক। ইন্দ্ৰ-পূষণ দেবদ্বয়কে, ত্বরায় সখ্যভাবে পাবার জন্য আমরা আহ্বান করছি। [যে দেবতা দুজন শান্তিপুষ্টিবিধায়ক হন, সবরকমেই তাদের আরাধনা করা কর্তব্য। ইন্দ্র ভগবানের পরমৈশ্বর্যশালী বিভূতি; তার মধ্যে ঈশ্বরের শক্তি যেন কেন্দ্রীভূত হয়ে আছে। পূষণ দেবতায় পুষ্টি অর্থাৎ শান্তির ভাব পাওয়া যায়; অভাব পূরণই পুষ্টি; সুতরাং তার মধ্যে ঈশ্বরের সেই বিভূতিই বিরাজমান]। [এর গেয়গানের নাম-পৌষম]।

    ১০। অজ্ঞানতানাশক হে ভগবন ইন্দ্রদেব! আপনা হতে উৎকৃষ্টতর (ঐশ্বর্যসম্পন্ন) কেউ নেই; আপনার অপেক্ষা প্রশস্ততর (দাতা) কেউ নেই;আপনি যেমন যেমন, গুণ-মহিমা-বিশিষ্ট, তেমন তেমন গুণ-মহিমা-সম্পন্নও কেউ নেই। [জগতে ভগবানের বিভূতিধারী পরমৈশ্বর্যশালী দেবতা ইন্দ্রের সমকক্ষ কেউ নেই)। [এর গেয়গানের নাম–ইন্দ্রাণ্যাঃ সাম]।

    .

    দশমী দশতি

    ছন্দ আৰ্চিক। কৌথুমী শাখা। ঐন্দ্র পর্ব। দ্বিতীয় অধ্যায়।

    দেবতা ইন্দ্র৷
    ছন্দ গায়ত্রী৷
    ঋষি : ১।৪ ত্রিশোক কাণ্ব, ২ মধুচ্ছন্দা বৈশ্বামিত্র, ৩ বৎস কাণ্ব (ঋগ্বেদে অশ্বপুত্র বশ), ৫ সুকক্ষ আঙ্গিরস, ৬।৯ বামদেব গৌতম, ৭ গাথি বিশ্বামিত্র, 
    ৮ গোযুক্তি ও অশ্বসূক্তি কাণ্ব, ১০ শ্রুতকক্ষ বা সুকক্ষ আঙ্গিরস।

    তরণিং বো জনানাং এদং বাজস্য গোমতঃ। সমানমু প্রশংসিষ৷ ১৷৷ অগ্রমিন্দ্র তে গিরঃ প্রতি মুদহাসত। সজো বৃষভং পতি৷৷ ২৷৷ সুনীথো ঘা স মর্তো যং মরুত যমযমা। মিত্রাশাস্ত্যহঃ৷৩৷৷ যীডাবিন্দ্র যৎ স্থিরে যৎ পৰ্শানে পরাভূতম্। বসু স্পাহং তদা ভর। ৪। শ্রুতং বো বৃহন্তমং প্র শর্ধংচষণীনা। আশিষে রাধসে মহে৷৷ ৫। অরং ত ইন্দ্র এবসে গমেম শূর ত্ববতঃ। অরং শত্রু পরেমণি৷৷ ৬৷৷ ধানাবন্তং করম্ভিণমপূবন্তমুথিন। ইন্দ্র প্রাতর্জুষস্ব নঃ৷৷ ৭। অপাং ফেনেন নমুচেঃ শির ইন্দ্রোদবর্তয়ঃ। বিশ্বা যদজয় স্মৃধঃ ॥ ৮৷৷ ইমে ত ইন্দ্র সোমাঃ সুতাসে যে চ সোত্বাঃ। তেষাং মৎস্য প্রভূবসো৷ ৯৷৷ তুভ্যং সুতাসঃ সোমাঃ স্তীর্ণং বহির্বিভাবসসা। স্তোতৃভ্য ইন্দ্র মৃড়য়৷৷ ১০।

    মন্ত্ৰাৰ্থ—  ১। হে আমার চিত্তবৃত্তিসমূহ! তোমাদের (সৎপথে পরিচালনার উদ্দেশ্যে) এবং লোকসমূহের মঙ্গলসাধনের উদ্দেশে, পরিত্রাণ-সাধক, শত্রুবিমর্দক, জ্ঞানসমন্বিত সৎকর্মের প্রদাতা সেই দেবতাকে নিরন্তর প্রকৃষ্টভাবে পূজা করছি। [মন্ত্রটি আত্ম উদ্বোধক; নিজের হিতসাধনের জন্য এবং জনগণের হিত সাধনের জন্য দেবতার আরাধনা কর্তব্য, আমি (সাধক-গায়ক) সেই বিষয়ে সঙ্কল্পবদ্ধ]। [এর গেয়গানের নাম–শ্যাবাশ্বং তারণং বা। মতান্তরে মন্ত্রটির ঋষির নাম–বিরূপ]।

    ২। হে ভগবন ইন্দ্রদেব! বেদমন্ত্রস্বরূপ যে বাক্য আমি উচ্চারণ করি, অভীষ্টপূরক প্রতিপালক আপনার সমীপেই তা গমন করে থাকে, এবং আপনি সাদরে তা গ্রহণ করে থাকেন। [মন্ত্রটি ভগবানের মহিমা-প্রকাশক। ভগবানের সৃষ্ট স্তোত্রমন্ত্রের দ্বারাই ভগবানকে প্রাপ্ত হওয়া যায়। বলা বাহুল্য, বেদ ঈশ্বরেরই সৃষ্টি; কখনও কোন ঋষি নিজেকে বেদ-রচয়িতা বলে ঘোষণা করেননি। ঋষিবিশেষকে মন্ত্রদ্রষ্টা বলা হয়]। [এর গেয়গানের নাম–বৈরূপম]।

    ৩। যে মনুষ্যকে বিবেকরূপী দেবগণ, মরুৎ-গণ রক্ষা করেন, যে মনুষ্যকে গতিকারক বা প্রথ প্রদর্শক অমণ-দেবগণ রক্ষা করেন এবং যাকে শান্তিবিধায়ক সুহৃস্থানীয় মিত্রদেবগণ রক্ষা করেন; মরণধর্মশীল সেই মানুষ নিশ্চয়ই সুখস্থান স্বর্গলাভ করে। [দেবগণের কৃপাপ্রাপ্ত জন ইহজীবনে স্বর্গসুখের অধিকারী হয়ে থাকে–এটাই ভাব]। [এর গেয়গানের নাম–সৌমিত্রম্ কৌৎসং বা]।

    ৪। হে ভগবন ইন্দ্রদেব! যে ধন দৃঢ় স্থানে সুরক্ষিত অবস্থায় আছে, যে ধন স্থির অপরিবর্তনীয় অবস্থায় রক্ষিত আছে, আর যে-ধন অজ্ঞাত স্থানে রক্ষিত আছে, সেই সকল রকম ধন আমাদের প্রদান, করুন। [ভাব এই যে, –দৃঢ়বক্ষিত দুষ্প্রাপ্য অজ্ঞাত নিত্যস্বরূপ যে ধন আপনাতে বিদ্যমান্ আছে, এ সেই ধন আমাকে প্রদান করুন–এই-ই প্রার্থনা]। [এর গেয়গানের নাম—তৌভম্]।

    ৫। হে আমার চিত্তবৃত্তিসমূহ! তোমাদের জন্য (আমার আত্মহিত-সাধন উদ্দেশ্যে) এবং হিতসাধনের নিমিত্ত (অথবা আত্মা-উৎকর্ষ সাধক মহাত্মগণের পদাঙ্ক অনুসরণে) অজ্ঞানতানাশক সকল শক্তির আশ্রয়স্থল সেই প্রসিদ্ধ দেবতাকে মহৎ ধনের নিমিত্ত প্রকৃষ্টরূপে পূজা করি। [সধুগণের পদাঙ্ক অনুসরণে অথবা মানুষের মঙ্গল সাধনের জন্য এবং আত্ম-উৎকর্ষ বিধানের জন্য সকল মঙ্গলকারণ ভগবানকে আরাধনা করছি]। [এর গেয়গানের নাম-শ্রৌতং]।

    ৬। শৌর্যসম্পন্ন শক্তিমন্ হে ভগবন ইন্দ্রদেব! আমাদের এবং লোকসমূহের মঙ্গল সাধনের নিমিত্ত, আপনার সাথে মিলনে অভিলাষী হয়ে (আপনার অঙ্গীভূত হয়ে) আপনার সম্বন্ধীয় শ্রেষ্ঠ কর্মসমূহে সর্বতোভাবে আমরা যেন মিলতে পারি, তারই বিধান করুন। [সেই ভগবান্ এমনই বিধান করুন–আমরা যেন নিখিল-মঙ্গল সাধনের জন্য সব রকমে তাঁর পূজাপরায়ণ হই ]। [এই সাম মন্ত্রটির গেয়গানের নাম–আভীষবম]।

    ৭। হেভগবন ইন্দ্রদেব! আমাদের উচ্চারিত আন্তরিক প্রীতিভক্তিযুত কেন্দ্রীভূতচিত্তবৃত্তিসমন্বিত স্তোত্রকে প্রথমে (কর্ম-প্রারম্ভে) আপনি গ্রহণ করুন। [ সেই ভগবান আমাদের উচ্চারিত প্রীতিভক্তিসমন্বিত পূজাকে গ্রহণ করুন]। [এর গেয়গানের নাম পৌষম]।

    ৮। হে ভগবন ইন্দ্রদেব! যখন আপনি শুদ্ধসত্ত্বের প্রবাহের দ্বারা পাপের প্রাধান্যকে নাশ করেন, তখন সকল শত্রুগণের স্পর্ধা নাশ প্রাপ্ত হয়। [মন্ত্রটি ভগবানের মহিমাজ্ঞাপক ও প্রার্থনাসূচক। এর ভাব, সেইভগবান্ যখন পাপকেনাশ করেন, হৃদয়ে শুদ্ধসত্ত্ব প্রদান করেন, তখন সকল অসৎবৃত্তি দূরীভূত হয়। অথবা–সেই ভগবান্ আমাকে শুদ্ধসত্ত্ব প্রদান করুন; তার দ্বারা আমার পাপকে নাশ করুন এবং অসৎ বৃত্তির প্রভাবকে বিদূরিত করুন–পৌরাণিক নমুচি দৈত্যের সাথে ইন্দ্রের যুদ্ধ, ইন্দ্র কর্তৃক জলের ফেনার দ্বারা নমুচির মস্তক ছিন্নকরণ ইত্যাদি অবলম্বনে এই মন্ত্রটির ব্যাখ্যা প্রচলিত আছে। কিন্তু প্রকৃতার্থে এখানে অপাং ফেনেন পদ দুটিতে শুদ্ধসত্ত্বসমূহের দ্বারা অর্থ গৃহীত হয়েছে। নমুচি শব্দে পাপকে বোঝায়; যে সঙ্গ ত্যাগ করতে চায় না (ন+মুচ), যে তোমাকে মুক্তির পথে অগ্রসর হতে দেয় না, সেই নমুচি বা নমুচি অসুর। অতএব অপাং ফেনেন নমুচেঃ শিরঃ এই ব্যাকাংশের শব্দগত অর্থ জলের ফেনার দ্বারা নমুচির শিরকে থেকে রূপক ভেঙ্গে শুদ্ধসত্ত্বের প্রবাহের দ্বারা পাপের প্রভাবকে অর্থ গ্রহণই সঙ্গত]। [এর গেয়গানের নাম–ইন্দ্রস্য ক্ষুরপবি]।

    ৯। ত্রাণকারী প্রভূত ধনবন্ হে ভগবন ইন্দ্রদেব! বিশুদ্ধ (অবিমিশ্র) এবং সংশোধনযোগ্য (বিমিশ্র) আমাদের হৃদয়ে অবস্থিত সর্বদা অনুভূত যে শুদ্ধসত্ত্বভাবসকল (ভক্তিসমূহ) আপনার জন্য বিদ্যমান আছে, তার অংশ গ্রহণপূর্বক আপনি পরিতৃপ্ত হোন। [প্রার্থনার ভাব এই যে, –সেই ভগবান্ তেমনই করুন, যাতে অবিমিশ্রা ও বিমিশ্রা যে ভক্তি আমাদের হৃদয়ে সঞ্চিত হয়, তার সবই তিনি গ্রহণ করতে পারেন; আর সেই সঙ্গে তিনি যেন আমাদের পরিত্রাণ করতে পারেন]। [এই সাম-মন্ত্রটির গেয়গানের নাম-সৌমিত্রম]।

    ১০। পরম-ধনের অধিকারী হে ভগবন ইন্দ্রদেব! আপনার জন্য বিশুদ্ধসত্ত্ব-ভাবসমূহ আমাদের হৃদয়ে বিস্তীর্ণ হোক; আর আপনি এই প্রার্থনাকারী আমাদের কৃপা করুন। [সেই ভগবানের কৃপায় আমাদের হৃদয়ে শুদ্ধসত্ত্ব সঞ্জাত হোক, আর তিনি আমাদের সুখী করুন]। [এর গেয়গানের নাম সৌমিত্রং]।

    .

    একাদশী দশতি

    ছন্দ আর্চিক। কৌথুমী শাখা। ঐন্দ্র পর্ব। দ্বিতীয় অধ্যায়।

    দেবতা ইন্দ্র৷৷
    ছন্দ গায়ত্রী।
    ঋষিঃ ১ শুনঃশেপ আজীগর্তি, ২ শ্রুতকক্ষ বা সুকক্ষ আঙ্গিরস, ৩ ত্রিশোক কাণ্ব
    , ৪৯ মেধাতিথি কাণ্ব, ৫ গোতম রাহুগণ, ৬ ব্রহ্মাতিতি কাণ্ব, ৭ গাথি বিশ্বামিত্র বা জমদগ্নি ভার্গব, ৮ প্রস্কণ্ব কাণ্ব৷

    আ ব ইন্দ্রং ক্রিবিং যথা খাজয়ন্তঃ শতক্রতু। মংহিষ্ঠং সিঞ্চ ইন্দুভিঃ ১। অতশ্চিদি ন উপা যাহি শতবাজয়া। ইষা সহবাজয়া। ২।আ বুন্দং বৃত্ৰহা দদে জাতঃ পৃচ্ছা বি মাতরম্। ক উগ্রাঃ কে হ সৃঘিরে৷ ৩৷৷ বৃবদুথং হবামহে সুপ্রকরম্নমূতয়ে। সাধঃ কৃথন্তমবসে৷৷ ৪৷ ঋজুনীতী নো বরুণণা মিত্রো নয়তি বিদ্বান। অর্যমা দেবৈঃ সজোষাঃ ॥ ৫৷৷ দূরাদিহেব যৎ সতোহরুণপসুরশিশিত। বি ভাণুং বিশ্বথাতন৷ ৬৷ আ নো মিত্রাবরুণা ঘৃতৈর্গদ্যুতিমুক্ষত। মধ্বা রজাংসি সুক্ৰ৷৭৷ ত্যে সূনবো গিরঃ কাষ্ঠা যত্নেত। বাশা অভিজ্ঞ যাবে৷৮। ইদং বিষ্ণুর্বিচক্রমে লেখা নি দধে পদ। সমূঢ়স্য পাংসুরে৷ ৯.

    মন্ত্ৰাৰ্থ— ১। সৎকর্ম-সাধনেচ্ছু হে শুদ্ধসত্ত্বসমূহ! তোমাদের অভ্যুদয়ের জন্য, প্রজ্ঞাসম্পন্ন সর্বব্যাপক ইন্দ্রদেবকে, ভক্তিসুধা দ্বারা, শস্যে জলসিঞ্চনের ন্যায়, সম্যকরূপে অভিসিঞ্চন করছি। [লোকে যেমন অন্নবৃদ্ধির জন্য জলসেচনের দ্বারা শস্যকে সিঞ্চন করে থাকে, আমিও তেমনই এ শুদ্ধসত্ত্বভাব সমূহের পরিবৃদ্ধির জন্য ভক্তিরসের দ্বারা ভগবানকে উপাসনা করছি। [এর গেয়গানের নাম–কৌৎসম]।

    ২। হে ভগবন ইন্দ্রদেব! অশেষ সৎকর্ম-সহযুত পরিত্রাণোপায়ের সাথে অতঃপর (অথবা স্বর্গলোক থেকে) আপনি আমাদের প্রাপ্ত হোন অর্থাৎ উদ্ধার করুন। [প্রার্থনার ভাব এই যে, সেই ভগবান্ আমাদের সৎকর্ম সমন্বিত করে পরিত্রাণ করুন]। [এর গেয়গানের নাম–ঔষসং]।

    ৩। শত্রুনাশক রিপুবিমর্দক দেবতাবা দেবভাব, হৃদয়ে উৎপন্ন হয়ে, আপন উৎপত্তিস্থান ভগবানকে নিশ্চয়ই অনুরূণ করে (অর্থাৎ কখনও বিপথগামী হয় না); এবং শত্রুনাশক আয়ুধ গ্রহণ করে, কোন্ কোন্ শত্রুপ্রচণ্ডবলসম্পন্ন ও বীর্যে বিশ্রুত অর্থাৎ বীর্যবান, তাদের সকলকে হনন করে, অথবা তাদের সকলের হন্তারক হয়; [ভাব এই যে, সত্ত্বভাব ভগবানের পদাঙ্কের অনুসারী হয়ে কাম ক্রোধ ইত্যাদি অন্তর শত্রুগুলিকে উন্মূলিত করে]। [এর গেয়গানের নাম–ঔষসং]।

    ৪। আমাদের রক্ষণের এবং পালনের জন্য সেই প্রসূতবাহু (সদাদানশীল) সাধুত্বপ্রদাতা মরূপ দেবতাকে আমরা আহ্বান করি। [ভাব এই যে, রক্ষণপালন সকলের মূলীভূত সাধুত্ব প্রদাতা ভগবানের শরণ যাচ্ঞা করছি]। [এর গেয়গানের নাম–ভারদ্বাজম]।

    ৫। কৃপাবারিবর্ষক বরুণদেব, সুহৃৎস্থানীয় হিতকরী মিত্রদেব, সমানপ্রীতি অর্থাৎ মিত্রবরুণের ন্যায় করুণাসম্পন্ন অর্যমণদেব, নেতব্য উত্তমস্থান জেনে, আমাদের সরলমার্গে অভিমত ফল প্রাপ্ত করেন। [যখন আমরা দেবগণের অনুকম্পালাভে সমর্থ হই, দেবগণ তখন মুক্তির পথ প্রদর্শনকরেন]। অথবা করুণাবারিবর্ষক, সুহৃদের ন্যায় হিতসাধক, আপনা-আপনি করুণাপরায়ণ, গতিকারক পথপ্রদর্শক সেই দেবতা, আমাদের অর্থাৎ আমাদের ত্রুটি-বিচ্যুতি জেনে, সরল পথে আমাদের অভীষ্টস্থানে নিয়ে যান। [দেবগণ আপনা হতেইকৃপাপরায়ণ হয়ে আমাদের পরিত্রাণ করেন]। [এর গেয়গানের নাম–কৌৎসম]।

    ৬। যখন জ্ঞানদ্যুতি (জ্ঞানের উন্মোষিকা দীপ্তি) অতি দূরস্থান হতে (অন্যলোক হতে) ইহলোকে আমাদের নিকটে সর্বথা প্রকাশিত হয়; অর্থাৎ আমরা যখন জ্ঞানলাভে সমর্থ হই; তখন সেই জ্ঞানপ্রভা বহুকমভাবে প্রকাশ পায়; অর্থাৎ তখন নানা সৎকর্মানুষ্ঠানে প্রবৃত্তি আসে; [জ্ঞানোন্মেষ-সহকারে সকল সৎকর্মানুষ্ঠানে পরিবর্ধিত হয়]। [এর গেয়গানের নাম–ঔষসম্]।

    ৭। শোভনকর্মযুক্ত (সৎকর্মপ্রাপক) হে মিত্রবরুণ দেবতাদ্বয় (মিত্রস্থানীয় আর অভীষ্টপূরক সেই দেবদ্বয়) আমাদের জ্ঞানমার্গকে অথবা নিবাসস্থানকে শুদ্ধসত্ত্বের অথবা ভক্তিরসের দ্বারা সর্বতোভাবে সিঞ্চন করুন; আর রজোভাবসমূহকে অথবা পারলৌকিক আবাসস্থানসমূহকে অমৃতের দ্বারা, (মধুররসের দ্বারা) অভিসিঞ্চন করুন। [সেই ভগবান্ মিত্ররূপে করুণাবারিবর্ষণের দ্বারা ইহলোকে ও পরলোকে আমাদের শাস্তি দান করুন]। [এর গেয়গানের নাম-মিত্রাবরুণয়োঃ সংযোজনম]।

    ৮। সেই প্রসিদ্ধ মরুৎ-দেবগণ (ভগবানের বিভূতিধারী বিবেকরূপী দেবগণ) শ্রেষ্ঠ বাক্যের উৎপাদক; তাঁদের গতিরূপে (কর্মপথে) দিকসমূহবিস্তৃত রয়েছে কাল তাদের অভিমুখেই প্রধাবিত রয়েছে। [দিককাল-শব্দ সেইমরুৎ-দেবতাদের শাসনেইপরিচালিত অথবা বিবেকের অধীন আছে। [এর গেয়গানের নাম–ঋতুষাম]।

    ৯। বিশ্বব্যাপী পরমেশ্বর বিষ্ণু এই সমগ্র জগৎকে বিশেষভাবে ব্যেপে আছেন; অতীত অনাগত বর্তমান–তিন কালেই তার ঐশ্বর্য-মহিমা নিরন্তর ধৃত (অক্ষুণ্ণ) রয়েছে অথবা তিনি ধারণ করে আছেন; সেইবিষ্ণুত্র জ্যোতির্ময় পদে(প্রভুত্বে) এইনিখিল জগৎ সম্যকভাবে অবস্থিত আছে। [এই মন্ত্রে বিষ্ণুর স্বরূপ পরিবর্ণিত। বিশ্বব্যাপক বিষ্ণুর প্রভুত্বে নিখিল জগৎ সদাকাল অবস্থিত। বিষ্ণুই পা বিভূতিস্বরূপে অনুপরমাণুক্রমে সকলকে অধিকার করে বিদ্যমান্ আছেন]। [এর গেয়গানের নাম বিষ্ণোঃসাম]।

    .

    দ্বাদশী দশতি

    ছন্দ আর্চিক। কৌথুমী শাখা। ঐন্দ্র পর্ব। দ্বিতীয় অধ্যায়।

    দেবতা ইন্দ্র৷৷
    ছন্দ 
    গায়ত্রী।
    ঋষি : ১।৭।৮ মেধাতিথি কাণ্ব, ২ বামদেব গৌতম
    , ৩।৫ মেধাতিথি কাণ্ব ও প্রিয়মেধ আঙ্গিরস, ৪ গাথি বিশ্বামিত্র, ৬ দুর্মিত্র বা সুমিত্র কৌৎস, ৯ গাথি বিশ্বামিত্র বা অভীপাদ উদল, ১০ শ্রুতকক্ষ আঙ্গিরস৷৷

    আতীহি মদ্যুষালিণং সমুংসমুপেরয়। অস্য রাতে সুতং পি৷৷ ১। কন্তু প্রচেতসে মহে বচো দেবায় শস্যতে। তদিধ্যয্য বর্ধন৷৷ ২. উথং চ ন শস্যমানং নাগোরয়িরা চিকেত। ন গায়ত্রং গীয়মান৷৷ ৩৷৷ ইন্দ্র উথেভিমন্দিষ্ঠো বাজানাং চ বাজপতিঃ। হরিবাৎসুতানাং সখা ৷৷ ৪৷৷ আ হুপ নঃ সুতং বাজেভির্মা হৃণীযথাঃ। মহ ইব যুবজানিঃ ৫৷ কদা বসো স্তোত্রং হর্যত আ অব শসা রুধবাঃ। দীর্ঘং সুতং বাতাপ্যায়৷৷ ৬৷ ব্রাহ্মণাদিন্দ্র রাধসঃ পিবা সোমমৃতূরনু। তবেদং সখ্যমস্তত৷ ৭৷ বয়ং ঘা.তে অপি স্মসি স্তোতার ইন্দ্র গির্বণঃ। ত্বং নো জিম্ব সোমপাঃ ৮। এ পৃষ্ণু কাসু চিনুমণং তনুষু ধেহি নঃ। সত্ৰাজিদুগ্র পৌংস্য। ৯। এবাহসি বীরয়ুরেবা শূর উত স্থিরঃ। এবা তে রাধ্যং মনঃ৷৷ ১০৷

    মন্ত্ৰাৰ্থ— ১। হে ভগবন! আমাদের প্রতি হিংসাপরায়ণ শত্রুকে (পাপের প্রবাহকে) আপনি অতিক্রম করুন (বিতাড়িত করুন); আর শুদ্ধসত্ত্বকে আমাদের নিকট প্রেরণ করুন (অর্থাৎ আমাদের প্রদান করুন); আর আমাদের অনুষ্ঠীয়মান সৎকর্মে শুদ্ধসত্ত্বকে (বিশুদ্ধা ভক্তিকে) গ্রহণ করুন। [সেই ভগবান্ রিপুগণকে বিমর্দন করে হৃদয়ে সত্ত্বভাব সঞ্চার-পূর্বক আমাদের কর্মসমূহে স্বয়ং অধিষ্ঠিত হোন]। [এর গেয়গানের নাম–কৌৎসম]।

    ২। মহৎ, সর্বমত, দীপ্তিদান ইত্যাদি গুণযুক্ত সেই দেবতার উদ্দেশে উচ্চারিত অযোগ্য মন্ত্র (আমাদের উচ্চারিত বাক্য) দেবতার অনুগ্রহে প্রশস্ত অর্থাৎ দেবতার গ্রহণীয় হোক। তাই অর্থাৎ সেই মন্ত্রই প্রার্থনাকারী আমাদের প্রবৃদ্ধির কারণ অর্থাৎ শ্রেয়ঃসাধক হোক। [ভাব এই যে, –মন্ত্র উচ্চারণের ত্রুটি-বিচ্যুতিকে পরিহার করে ভগবান আমাদের পরিবর্ধন করুন অর্থাৎ আমাদের সুমঙ্গল দান করুন–এটাই প্রার্থনা]। [এই সাম-মন্ত্রটির গেয়গানের নাম–কাশ্যপম আপসরসং বা]।

    ৩। অভক্তের (অস্তোতার) শত্রু সেই ভগবান, অভক্তের পঠ্যমান্ বা উচ্চারিত বেদমন্ত্রও গ্রহণ করেন না, এবং গীয়মান সাম-মন্ত্রও শ্রবণ করেন না। [হৃদয়ে যদি ভক্তি সঞ্জাত না হয়, তাহলে মন্ত্রের উচ্চারণে কোন ফলই নাই]। [এর গেয়গানের নাম–বার্হদুকথম্‌]।

    ৪। সৎকর্মকারিদের সৎকর্মের পালক, শুদ্ধসত্ত্ব ইত্যাদি অধিকারিদের (ভক্তিমানদের) সখা, জ্ঞানাধার ভগবান্ ইন্দ্রদেব সেই তাদেরই (অর্থাৎ সৎকর্মকারিদের, ভক্তিমান্‌দের) স্তোত্র ও মন্ত্রে প্রীত হন। [যে জন সৎকর্মকারী, যে জন ভক্তিমান, তারই পূজা ভগবান্ গ্রহণ করেন]। [এই সাম-মন্ত্রটির গেয়গানের নাম–বার্হদুকথম]।

    ৫। হে দেব! আমাদের শুদ্ধসত্ত্বের (ভক্তির) সমীপে আপনি আগমন করুন; আমাদের অনুষ্ঠিত পূজাপ্রকরণসমূহের দ্বারা (সৎকর্মসমূহের দ্বারা) অপ্রীত হবেন না; পরন্তু যুবজানি (অর্থাৎ যার যুবতী পত্নী আছে, এমন জন) যেমন নিজের জায়ার প্রতি মহান্ অনুরক্ত হয়, তেমনই আপনি আমাদের আপনার প্রতি অনুরাগসম্পন্ন করুন। (ভাব এই যে, যুবতী পত্নীর প্রতি চরিত্রবান্ মানুষ যেমন একান্ত অনুরাগী হয়, সেই মহান্ দেবতা তেমনই তারঁ প্রতি আমাদের একান্ত অনুরক্ত করুন। অথবা, -যুবতী পত্নীর প্রতি যেমন তার পতি আপনা আপনিই অনুরক্ত হন, আমাদের প্রতি আপনি তেমনই অনুরাগসম্পন্ন হোন]। [এর গেয়গানের নাম–কৌৎসম]।

    ৬। আশ্রয় প্রদাতা হে ভগবন! কোনকালে (কতদিনে) আমাদের উচ্চারিত মন্ত্র সর্বতোভাবে আপনাকে কামনা করবে? (অথবা, কোন্ কালে কতদিনে আমাদের উচ্চারিত স্তোত্রমন্ত্র আপনার কাম্য হবে?); কবে কতদিনে অসৎবৃত্তি অবরুদ্ধ হবে? কবে কতদিনে সৎ-বৃত্তির প্রবাহ মুক্তগতি হবে? আর কতদিনে মহৎ শুদ্ধসত্ত্ব আপনার প্রতি প্রবাহ-রূপে প্রবাহিত হবে? [হে ভগবন! আমার পাপপ্রবৃত্তিকে নিবৃত্তি করে আমাতে সত্ত্বের সমাবেশ করুন, এবং আমাকে ত্বরায় আশ্রয় দিন। এটাই প্রার্থনার ভাব। -এখানে চার-রকম প্রার্থনা প্রকাশ পেয়েছে। প্রথম–আমার স্তোত্র বা পূজা আপনার অভিলাষের অনুরূপ অর্থাৎ সত্ত্বসমন্বিত হোক; দ্বিতীয়–আমার অসৎ-বৃত্তি অবরুদ্ধ অর্থাৎ সঙ্কুচিত হোক; তৃতীয়–আমার হৃদয়ে সৎবৃত্তির মন্দাকিনী-ধারা প্রবাহিত হোক; চতুর্থ–আমার কর্মের দ্বারা মহৎ শুদ্ধসত্ত্ব উৎপন্ন হয়ে আপনাতে গিয়ে লীন হোক]। [এর গেয়গানের নাম–ইমে দ্বে কৌৎসে]।

    ৭। হে ভগবন! আপনি সকল ঋতুকে অনুসরণ করে অর্থাৎ সদাকাল, ব্রহ্মপরায়ণ সাধকদের নিকট হতে শুদ্ধসত্ত্বরূপ ধনসমূহ (পূজা) গ্রহণ করে থাকেন; কেননা, আপনার সখিত্ব সাধকের সাথে অবিচ্ছিন্ন। প্রার্থনা–আমাদের এই পূজা গ্রহণ করুন। [ভাব এই যে, হে ভগবন! আপনি ভক্তবর্গের সখা (তাদেরই পূজা সর্বদা গ্রহণ করে থাকেন; আমরা বিমূঢ় ভক্তিশূন্য; কৃপা করে আমাদের এই পূজা গ্রহণ করুন আমাদের ত্রাণ করুন]। [এর গেয়গানের নাম-অৰ্দ্ধসদ্মনমম]।

    ৮। স্তুতিমন্ত্রসেব্য হে ভগবন ইন্দ্রদেব! প্রার্থনাকারী আমরাও অবিলম্বে যেন আপনার স্তবপরায়ণ হই; আর, হে শুদ্ধসত্ত্বগ্রহণকারি! আপনি আমাদের সুখী করুন। [ভাব এই যে, –সেই ভগবান্ আমাদের তাঁর পূজাপরায়ণ করে আমাদের প্রতিপালন করুন]। অথবা–স্তুতিসমূহের দ্বারা অর্থাৎ আরাধনার দ্বারা অধিগম্য হে ভগবন ইন্দ্রদেব! আপনি শুদ্ধসত্ত্বের গ্রহণকারী হন; যাতে প্রার্থনাকারী আমরা আপনার উপাসক অর্থাৎ শুদ্ধসত্ত্বসমন্বিত হতে পারি, তারই বিধান করুন; আর আমাদের সুখী করুন অর্থাৎ পরিত্রাণ করুন। [ভাব এই যে, –সেই ভগবান্ যেহেতু শুদ্ধসত্ত্বের অনুসারী, সেই জন্যই আমরা প্রার্থনা করি–তিনি আমাদের শুদ্ধসত্ত্বের অধিকারী করে আমাদের সাথে মিলিত হোন]। [এর গেয়গানের নাম–অৰ্দ্ধসদ্মনম]।

    ৯। হে ভগবন ইন্দ্রদেব! আমাদের সম্বন্ধীয় সবরকম সংগ্রামেই (রিপুগণের সাথে আমাদের সংগ্রামে) আমাদের দেহে (প্রতি অঙ্গে) মনুষ্যোচিত বল সর্বদা স্থাপন করুন; আর, হে তেজস্বিন্! বিশ্ববিজয়ী পারুষ্য (সৎকর্ম-সাধন-সামর্থ্য) আমাদের প্রদান করুন। [প্রার্থনার ভাব এই যে, হে ভগবন! রিপুদমনে ও সৎকর্মের সাধনে আমাদের পুরুষোচিত শক্তি প্রদান করুন। সত্রাজিৎ পদে সৎকর্মের দ্বারা বিশ্ববিজয়ের ভাবার্থ প্রকাশ পায়। দ্বাদশ-দিনব্যাপী সত্ৰাজিৎ যজ্ঞের অনুষ্ঠানে সকল শত্রুকে জয় করা যায়। সৎকর্ম-অনুষ্ঠানে পরম পদলাভই সত্রাজিৎ যজ্ঞের সমাধানের ফল]। [এই সাম-মন্ত্রের গেয়গানের নাম–অভীপাদস্য ঔদলস্য সাম]।

    ১০। হে ভগবন! আপনি নিশ্চিতই শত্রুদের হননের জন্য কাময়মান হন (অথবা উপাসকগণকে শৌর্যসম্পন্ন করতে অভিলাষী হন); যে হেতু আপনি সর্বতোভাবে শৌর্যসম্পন্ন এবং দৃঢ় আছেন; আমাদের অন্তঃকরণ সর্বতোভাবে আপনার আরাধনায় নিয়োজিত হোক। [ভাব এই যে, শৌর্যপ্রদাতা স্বয়ং শৌর্যবান্ সেই দেবতা আমাদের অন্তরকে তার অনুসারী করুন–এটাই প্রার্থনা। এই মন্ত্রের প্রথম চরণ–ভগবানের মাহাত্ম্য-প্রকাশক, দ্বিতীয় চরণ–তার অনুগত প্রার্থনা পরিজ্ঞাপক। তিনি তার উপাসকদের শৌর্যসম্পন্ন করেন অর্থাৎ রক্ষা করেন; এটাই তার প্রকৃতি। অতএব, আমরা যেন তার উপাসক হতে পারি, উপাসক হয়ে শৌর্য বা রক্ষা লাভ করি]। [এর গেয়গানের নাম–অমিহীযবম। মন্ত্রের ঋষি সুকক্ষ বলেও উক্ত আছে]।

    – দ্বিতীয় অধ্যায় সমাপ্ত –-

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleশুক্ল যজুর্বেদ সংহিতা (অনুবাদ : দুর্গাদাস লাহিড়ী)
    Next Article কৃষ্ণ যজুর্বেদ সংহিতা (অনুবাদ : দুর্গাদাস লাহিড়ী)

    Related Articles

    দুর্গাদাস লাহিড়ী

    কৃষ্ণ যজুর্বেদ সংহিতা (অনুবাদ : দুর্গাদাস লাহিড়ী)

    August 28, 2025
    দুর্গাদাস লাহিড়ী

    শুক্ল যজুর্বেদ সংহিতা (অনুবাদ : দুর্গাদাস লাহিড়ী)

    August 28, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026
    Our Picks

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026

    ভুতুড়ে ট্রেন – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026

    ব্রাহ্মণ ভূত – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }