Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026

    ভুতুড়ে ট্রেন – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026

    ব্রাহ্মণ ভূত – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    সামবেদ-সংহিতা (বঙ্গানুবাদ : দুর্গাদাস লাহিড়ী)

    দুর্গাদাস লাহিড়ী এক পাতা গল্প1842 Mins Read0
    ⤶

    ৩.২১ উত্তরার্চিক — একবিংশ অধ্যায়

    উত্তরার্চিক — একবিংশ অধ্যায়

    এই অধ্যায়ের মন্ত্রগুলির দেবতা (সূক্তানুসারে)—১।২(২,৩)।৩।৪।৬(১,২)।৭।৯(১) ইন্দ্র; ৫ (২) ইন্দ্র অথবা মরুৎগণ; ২(১) বৃহস্পতি বা অপা; ৫(১) অপা; ৫(৩)।৬(৩) ইষুদেবতা; ৮(১) কবচ সোম ও বরুণ দেবতা; ৮(২) লিঙ্গোক্তা সংগ্রামাশিব; ৮(৩) দেবগণ ও ব্রহ্মদেবতা; ৯(২,৩) বিশ্বদেবগণ।
    ছন্দ– ১-৪।৫(১)।৬(১)৷৮(১)
    ।৯(১,২) ত্রিষ্টুপ; ৫(২,৩)।৬(২)।৭(১,২)।৮(২) অনুষ্টুপ; ৬(২)।৮(৩) পঙক্তি; ৯(৩) বিরাট; ৭(৩) জগতী।
    ঋষি—১-৩।৪।৫।(১,২) অপ্রতিরথ ঐন্দ্র; ৫(৩)।৬(৩)।৮(১,৩
    ) পায়ু ভারদ্বাজ; ৬(১,২)।৭(১,২) শাস ভারদ্বাজ; ৮(২)।৯(১) জয় ঋষি; ৭(৩)।৯(২,৩) গোতম রাহুগণ।

    একতম খণ্ড

    সূক্ত ১– আশুঃ শিশানো বৃষভো ন ভীমো ঘনাঘনঃ ক্ষোভণশ্চর্যণীনাম। সক্ৰন্দনোহনিমিষ একবীরঃ শত: সেনা অজয়ৎ সাকমিঃ । ১। সঙক্রন্দনেনিমিষেণ জিষ্ণুনা যুকারেণ দুশ্চ্যবননন ধৃষ্ণুণা। তদিণে জয়ত তৃৎ সহধং যুধোনর ইমুহস্তেন বৃষ্ণা ৷৷ ২ স ইমুহস্তৈঃ স নিষঙ্গিভির্বশী সং স্রষ্টা স যুধ ইন্দ্রো গণেন। সং সৃষ্টজিৎ সোমপা বাশগ্ৰধা প্রতি হিতাভিরস্তা৷৷ ৩৷

    সূক্ত ২–। বৃহম্পতে পরিদীয়া রথেন রক্ষোহামিত্রা অপবাধমানঃ। প্রভঞ্জৎসেনাঃ প্ৰমৃণো যুধা জয়নুস্মাকমেধ্যবিতা থানা৷১। বলবিজ্ঞায়ঃ স্থবিরঃ প্রবীরঃ সহস্বান বাজী সহমান উগ্রঃ। অভিবীরো অভিসা সহোজা জৈত্ৰমিন্দ্র রথমাতিষ্ঠ গোবিৎ৷৷ ২৷৷ গোত্রভিং গোবিদং বজ্রবাহং জয়ন্তমজম প্রমৃণমোজসা। ইমং সজাতা অনু বীরয়ধৃমিং সখায়ো অনু সংরভধম্ ॥৩॥

    সূক্ত ৩– অভিগোত্রাণি সহসা গাহমাতোহদয়ো বীরঃ শতমরিন্দ্রঃ। দুশ্চ্যবনঃ পৃতনাষাডযুধে৩ইস্মাকং সেনা অবতু প্র যুৎসু৷৷৷৷৷ ইন্দ্র আসাং নেতা বৃহস্পতিদক্ষিণা যজ্ঞঃ.পুর এতু সোমঃ। দেবসেনানামভিভঞ্জতীনাং জয়ন্তীনাং মরুতে যগ্র৷ ২৷ ইন্দ্রস্য বৃষ্ণো বরুণস্য রাজ্ঞ আদিত্যানাং মরুতাং শর্ধ উগ্র। মহামনসাং ভুবনচ্যবানাং ঘোযো দেবানাং জয়তামুদন্থাৎ৷৷ ৩৷৷

    সূক্ত ৪– উদ্ধয় মঘবন্নায়ুধান্যুৎ সত্বনাং মামকানাং মংসি। উদ্ বৃত্ৰহ বাজিনাং বাজিনান্য থানাং জয়তাং যন্তু ঘোষাঃ ॥১॥ অস্মাকমিন্দ্রঃ সমৃতেষু ধজে্যুম্মাকং যা ইষবস্তা জয়ন্তু। অম্মাকং বীরা উত্তরে ভবস্ম উ দেবা অবতা হবে৷ ২৷ অসৌ যা সেনা মরুতঃ পরোমভ্যেতি ন ওজসা স্পর্ধমানা। তাং গৃহত তমসাপ্ৰতেন মখৈতেষামনন্যা অন্যং ন জানাৎ৷৷ ৩।

    সূক্ত ৫– অমীষাং চিত্তং প্রতিলোভয়ন্তী গৃহাণাঙ্গান্যপবে পরেহি। অভি প্রেহি নির্দহ হসু শশাকৈরন্ধোনামিত্ৰাস্তমসা সচন্তা৷৷৷৷ প্রেত জয়তা নর ইন্ট্রো বঃ শৰ্ম যচ্ছতু। উগ্রা বঃ সন্তু বাহবোহনাধৃষ্যা যথাসথ৷৷ ২৷ অবসৃষ্ট পরা শত শরব্যে ব্রহ্মসংশিতে। গচ্ছামিত্রান প্ৰ পদ্যস্ব মামীষাং কং চ নোচ্ছিষঃ। ৩. কঙ্কাঃ সুপর্ণা অনু যন্তেনা গৃধাণামমসাবস্তু সেনা। মৈষাং মোচ্যঘহারশ্চ নেন্দ্ৰ বয়াং স্যেনাননুসংযন্তু সর্বান্। ১। অমিত্রসেনাং মঘবন্নস্মাঞ্ছযতীমভি। উভৌ তমিন্দ্র বৃহন্নগ্নিশ্চ দহতং প্রতি৷৷ ২৷৷ যত্র বাণাঃ সম্পত্তি কুমার বিশাখা ইব। এ তত্র নো ব্ৰহ্মণম্পতিরদিতিঃ শৰ্ম যচ্ছতু। বিশ্বাহা শর্ম যচ্ছতু৷৩৷৷

    সূক্ত ৭– বিরক্ষো বি মৃধো জহি বি বৃত্রস্য হন্ রুজ। বি মমিন্দ্র বৃহন্নমিত্রস্যাভিদাসতঃ৷৷৷৷ বি ন ইন্দ্ৰ মৃধো জহি নীচা যচ্ছ পৃতন্যতঃ। যো অস্ম অভি দাসত্যধরং গময়া তমঃ। ২৷৷ ইন্দ্রস্য বাহু স্থবিরেী যুবানাবনাধৃষ্যে সুপ্রতীকাবসহ্যৌ। তৌ যুঞ্জীত প্রথমৌ যোগ আগতে যাভ্যাং জিতমসুরানাং সহোমহৎ৷৷ ৩৷৷

    সূক্ত ৮– মর্মাণি তে বর্মাণা ছাদয়ামি সোমস্তা রাজামৃতেনানুবস্তাম্। উর্বরীয়ো বরুণস্তে কৃপোতু জয়ন্তং ত্বানুদেবা মদন্তু৷১৷৷ অদ্ধা অমিত্রা ভবতাশীৰ্ষাণোহইয় ইব। তেষাং বো অগ্নিনুন্ননামিন্দ্রো হন্তু বরংবর৷৷ ২৷ যো নঃ যোইরো যশ্চ নিষ্ঠ্যো জিঘাংসতি। দেবাস্তং সর্বে ধূবন্তু ব্ৰহ্ম বর্ম মতান্তরং শৰ্ম বর্ম মমান্তর৷৷৩৷

    সূক্ত ৯– মৃগো ন ভীমঃ কুচরো গিরিষ্ঠাঃ পরাবত আ জগন্থা পরস্যাঃ। সৃং সংশায় পবিমিন্দ্র তিগ্মং বি শব্দুন তাঢ়ি বি মৃধো নুদস্ব৷ ১। ভদ্রং কর্ণেভিঃ শৃণুয়াম দেবা ভদ্রং পশ্যেমাক্ষভির্যজত্রাঃ। স্থিরৈরঙ্গৈস্তুংসস্তভিৰ্যশেমহি দেবহিতং যদায়ুঃ। ২। স্বস্তি ন ইন্দ্রো বৃদ্ধশ্রবাঃ স্বস্তি নঃ পূষা বিশ্ববেদাঃ। স্বস্তি নস্তাক্ষ্যো৷ অরিষ্টনেমিঃ স্বস্তি নো বৃহস্পতির্দধাতু। ওঁ স্বস্তি, নো বৃহস্পতির্দধাতু। ৩৷৷

    মন্ত্ৰার্থ— ১সূক্ত/১সাম– আশুমুক্তিদায়ক, অভীষ্টবষক, মৃত্যুজনক, ভয়ঙ্কর, শত্রুনাশক, আত্ম উক-সাধকবর্গের রিপুগণের বিনাশক, চিরসতর্ক অর্থাৎ চৈতন্যময়, অদ্বিতীয় বীর, ভগবান্ ইন্দ্রদেব সমস্ত রিপুকে অপ্রতিহতপ্রভাবে বিনাশ করেন। (মন্ত্রটি নিত্যসত্যমূলক। ভাব এই যে, ভগবান্ সাধকদের রিপুসমূহকে বিনাশ করেন)। [ভগবান্ আশুঃ– আশুমুক্তিদায়ক। তিনি মানুষকে, তার সন্তানকে বিপদ থেকে যত শীঘ্র সম্ভব রক্ষা করবার জন্য ব্যগ্র থাকেন। তাই তিনি আশুমুক্তিদাতা। তিনি সাধকের পক্ষে যেমন পিতৃস্বরূপ, পাপের-রিপুর পক্ষে তেমনি যমস্বরূপ। তাই বলা হয়েছে ভীমঃ ন শিশানঃ মৃত্যুজনক ভয়ঙ্কর, অর্থাৎ তিনি পাপকে সমূলে বিনাশ করেন। ঘনঘনঃ পদে এই এক ভাবই বিবৃত হয়েছে। চর্ষণীনাং ক্ষোভণঃ সংক্রন্দনঃ পদ তিনটির অর্থ এই যে, আত্ম-উৎকর্ষ সাধকদের ক্ষোভ যারা উৎপন্ন করে, অর্থাৎ যারা সাধকদের অনিষ্ট করে, সেই রিপুদের তিনি বিনাশ করেন। সংক্রন্দনঃ পদের সাধারণ অর্থ- কাঁদানো। রিপুগণ ভীষণ দুঃখ অনুভব করে, তারা বিধ্বস্ত হয়, এটাই এখানকার মূল কথা। একবীর অর্থাৎ অদ্বিতীয় অপ্রতিহতপ্রভাব বীর– যাঁর শক্তির কাছে সকলেই মস্তক অবনত করে। ভগবান্ ব্যতীত এই বিশেষণের যোগ্য আর কেউ হতে পারে না। কিন্তু তার বীরত্বের পরিচয় কোথায়? তাই বলা হয়েছে- সাকং শতং সেনাঃ অজয়ৎ অর্থাৎ এক উদ্যোগেই তিনি শতসংখ্যক শত্রুসেনাকে জয় করতে পারেন। বলা বাহুল্য, এই শতং পদে কোন নির্দিষ্ট সংখ্যা বোঝাচ্ছে না। সবরকম শত্রুকেই বোঝাচ্ছে। সাকং পদের বিশেষ ভাব এই যে, যখনই তিনি ইচ্ছা করেন, তখনই শক্ৰজয় করতে সমর্থ হন। — মন্ত্রের একটি প্রচলিত বঙ্গানুবাদইন্দ্র সর্বব্যাপী শত্রুদের পক্ষে তীক্ষ্ণ, বৃষের ন্যায় ভয়ঙ্কর, শক্রবধকারী, মনুষ্যদেব বিচলিত করেন, মনুষ্যেরা এস্ত হয়। শত শত্রুদের রোদন করান, সর্বদা সকল দিক দৃষ্টি করেন, সমবেত বিস্তার সৈন্য তিনি একাকী জয় করেন। এইরকম প্রচলিত হিন্দী, অনুবাদও পাওয়া যায়]।

    ১/২– রিপুগণের সাথে যুদ্ধকারী বহু-সৎকর্মনেতা হে আমার চিত্তবৃত্তিসমূহ! তোমরা শত্রুনাশক চিরসতর্ক অর্থাৎ চৈতন্যময় রিপুজয়ী যুদ্ধকারী অন্য কর্তৃক অবিচালিত রিপুনাশক রক্ষাস্ত্রধারী অভীষ্টবর্ষক ভগবান্ ইন্দ্রদেবের দ্বারা অর্থাৎ তার সহায়ে (অথবা তার কৃপায়) রিপুসংগ্রাম জয় করো, সেই প্রসিদ্ধ দুর্ধর্ষ রিপুকে বিনাশ করো। (মন্ত্রটি আত্ম-উদ্বোধুক এবং প্রার্থনামূলক। ভাব এই যে, আমরা যেন ভগবানের কৃপায় রিপুজয়ী হতে পারি)। [একটি প্রচলিত ব্যাখ্যা লক্ষণীয়– হে যুদ্ধকারী মনুষ্যগণ! ইন্দ্রকে সহায় পেয়ে জয়ী হও, বিপক্ষ পরাভব করো। তিনি শত্রুকে রোদন করান, সর্বদা সকল দিক দেখেন, যুদ্ধ করে জয়ী হন। তাকে কেউ স্থান-ভ্রষ্ট করতে পারে না, তিনি দুর্ধর্ষ, তার হস্তে বাণ আছে, তিনি বারিবর্ষণ করেন। — ভাষ্যকারও মন্ত্রের প্রায় এই ভাবই গ্রহণ করেছেন। — সুলতঃ মন্ত্রের প্রধান ভাব এই যে, — ভগবানের সাহায্যে ভগবানের কৃপায় আমরা যেন রিপুজয় করতে পারি। মানুষ রিপুজয় করতে সমর্থ হয় সত্য; কিন্তু তা একমাত্র ভগবানেরই কৃপা ভিন্ন সাধ্য নয়। মন্ত্রে সেই কৃপা অথবা ভগবৎসাহায্যের কথাই আলোচিত হয়েছে। তিনি রিপুগণের ক্রন্দনের হেতু, তাঁর ধর্ষণে রিপুর দল পরাজিত বিধ্বস্ত হয়। সুতরাং এমন শক্তিশালী মহানের সাহায্য গ্রহণ স্থা করাই সঙ্গত। তার দ্বারাই আমাদের অভীষ্ট সিদ্ধ হতে পারে]।

    ১/৩– প্রসিদ্ধ অশেষ মহিমান্বিত দেবতা শত্রুনাশক রক্ষাস্তুরূপ আয়ুধ ধারণের দ্বারা সকলকে বশীভূত করেন। সেই দেবতা আত্মশক্তির দ্বারা বিশ্বকে বশীভূত করেন। যোদ্ধা প্রসিদ্ধ সেই ভগবান্ ইন্দ্রদেব স্বভক্তের সাথে সম্মিলিত হন; ভক্তের সাথে মিলিত, ভক্তগণের শুদ্ধসত্ত্বগ্রহীতা পরমশক্তিসম্পন্ন রক্ষাস্ত্রধারী অর্থাৎ অমিততেজঃ সেই দেবতা শত্রুনাশক অস্ত্রের দ্বারা রিপুবর্গকে নাশ করেন। (মন্ত্রটি নিত্যসত্যমূলক। ভাব এই যে, ভগবান্ সাধকদের সাথে মিলিত হন; তাঁদের রিপু বিনাশ করেন)। [ভগবান্ অপরিমিত শক্তিশালী। কিন্তু শক্তিই তার একমাত্র গুণ নয়; তার বিশেষত্ব তাঁর মহত্বে। তার মহত্ব প্রকাশ পায়– মানুষের প্রতি করুণায়। তিনি মানুষকে রক্ষা করেন এবং এর জন্যই তার অস্ত্রধারণ। শুধু তাই নয়, তিনি তার ভক্তের হৃদয়ে আবির্ভূত হন, -ভক্তের সাথে মিলিত হন। তাই তো ভক্ত সাধক সমস্ত পরিত্যাগ করে তার দিকে ছুটে যায়। তিনিও যেন তাকে ডেকে বলেন- এস এস, পাপতাপদগ্ধ নরনারী, শান্তিবারি গ্রহণ করো, ধন্য হও, কৃতার্থ হও। — অথচ একটি প্রচলিত বঙ্গানুবাদ লক্ষণীয় বাণধারী ও তুণীরযুক্ত ব্যক্তিগণ তার সঙ্গে বিদ্যমান আছে, তিনি সকলকে বশ করেন। যুদ্ধকালে বিস্তর শত্রুর সঙ্গে সঙ্গে যুদ্ধ করেন, যারই অভিমুখে গমন করেন, তাকেই জয় করেন, তিনি সোমপান করেন, তাঁর বিলক্ষণ ভুজবল, ও ভয়ানক ধেনু সেই ধনু থেকে বাণ ত্যাগ করে শত্রু পাতিত করেন। মন্তব্য নিষ্প্রয়োজন]।

    ২/১– হে বিশ্বপালক দেব! আমাদের সৎকর্মসাধনে প্রীত হয়ে (অথবা আমাদের হৃদয়রূপ রথে) আগমন করুন; আপনি রিপুনাশক– শবর্গকে সর্বতোভাবে নাশকারী, রিপুদলকে প্রকৃষ্টরূপে বিনাশ করে রিপুসংগ্রাম জয় পূর্বক আমাদের সৎকর্মের (অথবা হৃদয়রূপ রথের) রক্ষক হোন। (মন্ত্রটি প্রার্থনামূলক। প্রার্থনার ভাব এই যে, হে বিশ্বপতি ভগবন! কৃপাপূর্বক আমাদের রিপুগণকে বিনাশ করুন এবং আমাদের সর্বতোভাবে সর্ব বিপদ থেকে রক্ষা করুন)। [প্রথমেই এই মন্ত্রটির একটি প্রচলিত বঙ্গানুবাদ লক্ষণীয়– হে বৃহস্পতি! রাক্ষসদের বধ করতে করতে এবং শত্রুদের পীড়া দিতে দিতে রথযযাগে আগমন করো, শত্রুসেনা ধ্বংস করো, বিপক্ষ যোদ্ধৃবর্গকে পাতিত করো, জয়ী হও, আমাদের রথগুলি রক্ষা করো। এর সঙ্গে ভাষ্যানুযায়ী একটি হিন্দী অনুবাদও অনুধাবনীয়হে বহুদেবতাকে রক্ষক ইন্দ্র! রথপর চড়কর আও, আবার রাক্ষসসাঁকো নাশকর্তা আউর শত্রুওঁকো পীড়া দেতা হুআ শওকী সেনাওকো ছিন্নভিন্ন করতা হুআ নষ্ট কর যুদ্ধমে সর্বত্র বিজয় পাতাহুআ হমারে রথোকা রক্ষক হো৷ — মন্ত্রটির এই ব্যাখ্যার সাথে আমাদের ব্যাখ্যার অনেকাংশে ঐক্য আছে। বৃহস্পতি পদে ভাষ্যকার অর্থ করেছেন- বৃহতাং পতি। সঙ্গতই অর্থ। যিনি মহতের অর্থাৎ সৎকর্মপরায়ণ সাধুদের রক্ষক, যিনি বিশ্বের রক্ষক, তারই চরণে প্রার্থনা নিবেদিত হয়েছে]।

    ২/২– সর্বশক্তিমন্ হে দেব! সকলের শক্তিস্বরূপ, অঞ্চল প্রভূত শক্তিসম্পন্ন, শজয়ী শক্তিমান্, রিপুনাশক, তীব্ৰতেজঃসম্পন্ন বীরত্বসম্পন্ন, সকলের প্রাণস্বরূপ শক্তিস্বরূপ সর্বজ্ঞ আপনি, জয়দায়ক সৎকর্মসাধনসামর্থ্য আমাদের প্রদান করুন। (মন্ত্রটি প্রার্থনামূলক। ভাব এই যে, হে ভগবন! কৃপাপূর্বক আমাদের সর্বত্র জয়শীল করুন)। [তিনি বলবিজ্ঞায়ঃ অর্থাৎ সকলের শক্তির মূল উৎস। মানুষ বা অন্য কোনও প্রাণী বা বস্তুর মধ্যে যে শক্তির ক্রিয়া দেখতে পাওয়া যায়, তা ভগবানেরই শক্তির বিকাশমাত্র। সজলজলদে বিশ্বধ্বংসকারী যে বিদ্যুৎ-চমক, তা তাঁরই ক্রোধাগ্নিস্ফুলিঙ্গ মাত্র। — যেখানে যে শক্তির বিকাশ দেখতে পাওয়া যায়, তা তাঁরই শক্তির কণা-বিকাশমাত্র। তাই তাঁর সম্বন্ধে বলা হয়েছে– প্রবীরঃ, বাজী, অভিবীরঃ অর্থাৎ শক্তিপ্রকাশক। সসীম মানুষের পক্ষে অসীম তার ৫ মহিমাগাথা প্রকাশের অসামর্থ্যতার জন্যই একার্থ-প্রকাশক এই বহু শব্দের ব্যবহার। তিনি গোবিৎ, অর্থাৎ জ্ঞানস্বরূপ। মন্ত্রের মধ্যে শেষভাগের প্রার্থনার সঙ্গেই ভগবানের মাহাত্ম্য-খ্যাপনের ঘনিষ্ঠ সম্বন্ধ রয়েছে। সেই প্রার্থনার ভাব এই যে, -ভগবান্ পরমশক্তির আধার, তিনি সর্বশক্তিমান্ সর্বত্র জয়শীল। তাঁর কৃপায় আমরা যেন সর্বত্র জয়লাভ করতে পারি, আমরা যেন রিপুজয়ে সমর্থ হই। একটি প্রচলিত বঙ্গানুবাদে বলা হয়েছে– হে ইন্দ্র! তুমি শত্রুর বল জান, ….তুমি বলের পুত্রস্বরূপ। এমন যে তুমি, গাভী জয়ের জন্য জয়শীল রথে আরোহণ করো। মন্তব্য নিষ্প্রয়োজন]।

    ২/৩– জন্মসহগত মিত্রভূত হে আমার চিত্তবৃত্তিসমূহ! তোমরা পাষাণসদৃস দুর্ধর্ষ রিপুনাশক পরাজ্ঞানযুক্ত সর্বজ্ঞ রক্ষাস্ত্রধারী রিপুসংগ্রামজয়কারী, রিপুজয়ী স্বশক্তির দ্বারা.রিপুনাশক এই প্রসিদ্ধ দেবকে অনুসরণ করে রিপুজয় করো; এবং তাকেই অনুসরণ করে শক্তির অনুশীলন করো। (মন্ত্রটি আত্ম-উদ্বোধক। ভাব এই যে, হে আমার চিত্তবৃত্তিসমূহ! ভগবানের অনুসারী হও)। [এই মন্ত্রের একটি প্রচলিত বঙ্গানুবাদ– ইন্দ্র মেঘদের বিদীর্ণ করেন, গাভী লাভ করেন, তার হস্তে বর্জ। তিনি অস্থির শত্রুসৈন্য আপন তেজে জয় ও বধ করেন। হে আত্মীয়জন! এর দৃষ্টান্তে বীরত্ব করো; হে সখাগণ! এর অনুসারী হয়ে পরাক্রম প্রকাশ করো। ব্যাখ্যার প্রধান কথা এই যে, ভগবানকে অনুসরণ করো। তিনি শক্তিশালী; তাঁর অনুসরণে আমরাও শক্তি লাভ করতে পারব। তিনি শুক্রজয়ী; তার পদাঙ্ক অনুসরণে আমরাও রিপুজয়ে সমর্থ হবো। — ভাষ্যকারও এই মত গ্রহণ করেছেন]।

    ৩/১– পাষাণসদৃশ কঠোর রিপুবর্গকে আপন শক্তিতে ধ্বংসকারী, পাপনাশে দয়াহীন, শক্তিসম্পন্ন বহুকর্মোপেত, অপ্রতিহতশক্তি, রিপুনাশক, অপরাজেয় ভগবান্ ইন্দ্রদেব রিপুসংগ্রামে আমাদের রিপুজয়শক্তিকে রক্ষা করুন। (মন্ত্রটি প্রার্থনামূলক। প্রার্থনার ভাব এই যে, ভগবান্ কৃপাপূর্বক আমাদের রিপুনাশিকা শক্তি প্রদান করুন এবং সেই শক্তি রক্ষা করুন)। [মন্ত্রের প্রার্থনার মূল উদ্দেশ্য– আত্মরক্ষা; আত্মরক্ষা করতে হলে রিপুদের আক্রমণকারীর আক্রমণ ব্যর্থ করা চাই, সেইজন্য শক্তির প্রয়োজন। ভগবানের সেই শক্তির বিষয়ই মন্ত্রের মধ্যে প্রখ্যাপিত হয়েছে]। [গোত্রাণি পদের সাধারণ অর্থ পর্বত। সেই পৰ্বতকে যিনি ছিন্নভিন্ন করতে পারেন, তাঁর নাম– গোত্রভিদ। গোত্র শব্দের এই অর্থ গ্রহণ করে ইন্দ্র সম্বন্ধে নানা আখ্যায়িকার সৃষ্টি হয়েছে। একটি আখ্যায়িকা এই পুরাকালে পর্বতের পাখা ছিল এবং সেই পাখার সাহায্যে পর্বতগুলি উড়ে বেড়াত। কিন্তু যেখানে নামত, সেই জায়গার সমস্তই চূর্ণবিচূর্ণ হয়ে যেত। এতে প্রজাদের অত্যন্ত ক্লেশ হওয়াতে তারা ভগবান্ ইন্দ্রদেবের কাছে অভিযোগ করলে, তিনি প্রজাদের রক্ষার জন্য বজ্রের দ্বারা সমস্ত পর্বতের পাখা কেটে দেন। সেই অবধি পর্বতগুলি স্থিরভাবে এক জায়গায় দণ্ডায়মান আছে। এই আখ্যায়িকার উপর আর একটুখানি রং ফলিয়ে অন্য এক শ্রেণীর ব্যাখ্যাতা বলেন যে, মেঘেরই আর এক নাম পর্বত। মেঘগুলি পর্বতের মতো দেখায়, তার রূপকচ্ছলে ইন্দ্রের মেঘের উপর আধিপত্য প্রকাশিত হয়েছে। কারণ ইন্দ্র মধ্য-আকাশের দেবতা ইত্যাদি। — এইসব মতের সাথে আমাদের কোনও সহানুভূতি নেই। গোত্র শব্দের অর্থ পর্বত। কিন্তু ভগবানের পাহাড় ভাঙ্গার কোন সদর্থ খুঁজে পাওয়া যায় না। আমরা মনে করি, গোত্র পদে এখানে পাষাণকঠোর দুর্ধর্ষ রিপুদের লক্ষ্য করছে। যিনি সেই ভীষণ শত্রুদের বিনাশ করেন, তিনিই গোত্রভিদ। পরের কয়েকটি পদেও ভগবানের রিপুনাশিকা শক্তিরই মাহাত্ম্য পরিকীর্তিত হয়েছে। যাই হোক, পাঠকদের অবগতির জন্য একটি প্রচলিত বঙ্গানুবাদ উদ্ধৃত হলো– শত যজ্ঞকারী বীর ইন্দ্র মেঘদের দিকে ধাবমান হচ্ছেন, তাঁর দয়া নেই, তিনি স্থানভ্রষ্ট হন না, শত্রুসেনা পরাভব করেন, তাঁর সঙ্গে কেউ যুদ্ধ করতে পারে না; যুদ্ধস্থলে তিনি আমাদের সেনাবর্গকে রক্ষা করুন। মন্তব্য নিষ্প্রয়োজন]।

    ৩/২– ভগবান্ ইন্দ্রদেব দেবসেনাবর্গের অর্থাৎ দেবভাবসমূহের পরিচালক হন; বিশ্বপতি অথবা জ্ঞানাধিপতিদের এই দেবসেনাবর্গের (অথবা দেবভাবসমূহের) দক্ষিণভাগে থাকুন; সৎকর্মসাধক, শুদ্ধসত্ত্ব অগ্রে গমন করুন; বিবেকরূপী জ্ঞানদেবগণ, রিপুজয়ী রিপুনাশক দেবভাবসমূহের অগ্রে গমন করুন। (মন্ত্রটি প্রার্থনামূলক। প্রার্থনার ভাব এই যে, — ভগবান্ সর্বতোভাবে আমাদের পরিচালিত করুন, আমাদের সৎ-বৃত্তিগুলিকে রক্ষা করুন)। [মন্ত্রের মধ্যে একটি যুদ্ধর বর্ণনা আছে। যুদ্ধের সেনা ও সেনাপতির অবস্থান নির্ণয় করা হয়েছে। কিন্তু সে কেমন যুদ্ধ? কার সাথে যুদ্ধ? যুদ্ধমান উভয় পক্ষ কারা? প্রচলিত ব্যাখ্যা ইত্যাদিতে অনেকস্থলেই দেখা যায় যে, সেই যুদ্ধে যেন মানুষ ও অসুর অথবা দেবতা ও অসুর দুই পক্ষরূপে দণ্ডায়মান। সেই দুই পক্ষের মধ্যে যে যুদ্ধ চলে বা চলছে, তা আমরা অস্বীকার করি না। কিন্তু প্রচলিত মত অনুসারে যে রকমে এই যুদ্ধের ব্যাখ্যা করা হয়, তা আমরা স্বীকার করতে পারি না। এই সব ব্যাখ্যা দেখলে মনে হয় যে, অসুর ইত্যাদি যেন আমাদের মতোই হস্ত-পদ ইত্যাদি বিশিষ্ট। এমন ব্যাখ্যা থেকে পাশ্চাত্য পণ্ডিতেরা অবধারণ করেন যে, এই যুদ্ধ আর্য ও অনার্যের মধ্যে সংঘটিত হয়েছিল এবং বেদে সেই যুদ্ধের বর্ণনাই পাওয়া যায়। এই সূত্র গ্রহণ করে তারা আর্য ও অনার্যদের আদি নিবাস, আর্যদের ভারতজয়, আর্য-অনার্যযুদ্ধ প্রভৃতি প্রকাণ্ড প্রকাণ্ড মতবাদ গড়ে তুলেছেন। কিন্তু এই মন্ত্র সেইসব মতবাদকে নিরস্ত করে দিয়েছে। মন্ত্রের মধ্যে দেবসেনানাং পদ থাকায় বেদোক্ত যুদ্ধের প্রকৃতি নির্ণীত হয়েছে। এই যুদ্ধ দেবাসুরের যুদ্ধ। নিশ্চয়। দেবভাবের সাথে পশুভাবের অথবা পাপের অবিরত সংগ্রাম চলছে। মন্ত্রে সেই যুদ্ধেরই বর্ণনা পাওয়া যায়। মন্ত্রের অভ্যন্তরে প্রবেশ করলে প্রকৃত বিষয় অধিগত হয়। এই মন্ত্রে যেমন স্পষ্টভাবে যুদ্ধের বর্ণনা আছে এবং যেমন স্পষ্টতরভাবে যুদ্ধের প্রকৃতি বর্ণিত হয়েছে, তাতে আমাদের গৃহীত অর্থের সার্থকতা সহজেই পরিলক্ষিত হবে]।

    ৩/৩– অভীষ্টবর্ষক ভগবান ইন্দ্রদেবের, সকলের অধিপতিস্বরূপ করুণাশীল দেবতার এবং জ্ঞানদেবের, বিবেকরূপী দেবতার দিব্যশক্তি আমরা যেন লাভ করি; উদারহৃদয় বিশ্বপালক জয়শীল দেবভাবসমূহের জয়ধ্বনি উত্থিত হয়। (মন্ত্রটি প্রার্থনামূলক এবং নিত্যসত্যপ্রখ্যাপক। ভাব এই যে, আমরা যেন ভগবানের দিব্যশক্তি লাভ করি; বিশ্বের সকল জীব ভগবানের মাহাত্ম্য কীর্তন করেন। [মন্ত্রের প্রথমাংশে ভগবানের বিভিন্ন বিভূতির উদ্দেশে, বিভিন্ন বিভূতির প্রতি প্রার্থনা নিবেদিত হয়েছে। ইন্দ্রকে বৃষ্ণ অর্থাৎ অভীষ্টবর্ষক বলা হয়েছে। সেই ইন্দ্রদেবের এবং জ্ঞানদেবের ও বিবেকরূপী দেবতার শক্তি যাতে আমরা লাভ করতে পারি, মন্ত্রের প্রথমাংশে সেই প্রার্থনাই দেখতে পাই। অর্থাৎ ই আমরা যেন আমাদের অভীষ্ট পূর্ণ করবার শক্তি লাভ করি, জ্ঞান ও বিবেক যেন আমাদের পথ প্রদর্শন করেন– এটাই প্রার্থনার ভাব। সাধকগণ, জ্ঞানী ব্যক্তিগণ ভগবানের জয় ঘোষণা করেন। কেন? মন্ত্রের একটি পদের দ্বারা সেই কারণ ব্যক্ত করা হয়েছে। সেই পদ মহামনসাং। মানুষেরা সেই ও বিশ্বশাসকের জয়ঘোষণা করে, কারণ তিনি মহামনা উদার-হৃদয়। সেই জন্যই তাঁর জয়ধ্বনি উত্থিত হয়। — মন্ত্রের যে ভাব প্রচলিত ব্যাখ্যা ইত্যাদিতে পাওয়া যায়, তার একটি উদাহরণ বারিবর্ষণকারী ইন্দ্র, রাজা বরুণ, আদিত্যগণ ও মরুৎগণ এঁদের ক্ষমতা অতি ভয়ানক। মহানুদার দেবতাগণ যখন ভুবনকে কম্পান্বিত করে জয়ী হতে লাগলেন, তখন কোলাহল উপস্থিত হলো। আমরা রাজ্ঞ বরুণস্য পদে সর্বেষাং অধিপতি স্বরূপস্য করুণাশীলস্য দেবস্য অর্থ করেছি। আদিত্যানাং পদে জ্ঞানদেবস্য অর্থ গ্রহণ করেছি। মরুত্যাং পদের অর্থে বিবেকরূপী দেবতার প্রতিই লক্ষ্য আসে। — ইত্যাদি]।

    ৪/১– পরমধনদাতা হে দেব! আমাদের অস্ত্র অর্থাৎ শত্রুনাশক প্রহরণসমূহ শক্তিসমন্বিত করুন। আমাদের আত্মীয়বর্গের মনোবৃত্তি ইত্যাদি মহৎ করুন; পাপনাশক অজ্ঞানতানাশক হে দেব! তীব্র সাধনসম্পন্ন লোকসমূহের সাধনাকে মুক্তিপ্রাপিকা করুন; জয়দায়ক সৎকর্মসমূহের জয়ধ্বনি উত্থিত হোক। (মন্ত্রটি প্রার্থনামূলক। ভাব-এই যে, হে ভগবন! কৃপাপূর্বক আমাদের মহৎ-বৃত্তিসম্পন্ন রিপুজয়সমর্থ করুন)। [এই মন্ত্রের একটি প্রচলিত বঙ্গানুবাদ– হে ইন্দ্র! অস্ত্রশস্ত্র প্রস্তুত করো। আমাদের অনুচরদের মন উৎসাহিত করো। হে বৃত্রবধকারী! ঘোটকদের বল উদ্ৰিক্ত হোক, জয়শীল রথের নির্ঘোষধ্বনি উত্থিত হোক। এই ব্যাখ্যা দেখে মনে হয়, কোনও যুদ্ধের প্রারম্ভে যেন কেউ সেনাপতি ইন্দ্রদেবকে উপদেশ দিচ্ছে অথবা অনুরোধ করছে। কিন্তু কে এই উপদেশদাতা বা অনুরোধকারী? এর অর্থই বা কি? — এই মন্ত্রের ভাষ্যার্থ বঙ্গানুবাদ থেকে অনেকাংশে সহজবোধ্য। যেমন ভাষ্যানুসারী একটি হিন্দী অনুবাদ– হে ইন্দ্র! হমারে আয়ুষকে উত্তম হর্ষযুক্ত কর, হমারে সৈনিকোকো মননকো হর্ষযুক্ত করো; হে ইন্দ্র! অশ্বোকে বেগোকো প্রকট করো, বিজয়পানেওয়ালে রোকে শব্দ প্রকট হো। আমাদের অস্ত্রশস্ত্র তীক্ষ্ণ করবার জন্য অর্থাৎ আমাদের অন্তর্নিহিত রিপুনাশিকা শক্তিকে পরিবর্ধিত করবার জন্য ভগবানের কাছে উপযুক্ত প্রার্থনাই করা হয়েছে। উর্ধর্ষয়: পদের সাধারণ অর্থ হর্ষযুক্ত করা। কিন্তু অস্ত্রকে হর্ষযুক্ত করার অর্থ অস্ত্রকে শাণিত করা, তার রিপুনাশিকা শক্তি পরিবর্ধিত করা। মন্ত্রের প্রথম অংশে ভগবানের কাছে প্রার্থনা করা হয়েছে যে, আমাদের রিপুনাশিকা শক্তি যেন বর্ধিত হয়, আমাদের সকলের হৃদয়মন যেন পবিত্র উন্নত হয়। আমাদের ভগবৎসাধনা যেন সাফল্যমণ্ডিত হয়। দ্বিতীয় অংশের মর্ম এই যে, সৎকর্মসাধনকারী সর্বত্র জয়লাভ করেন। তাই সৎকর্মের মহিমা ঘোষিত হয়েছে]।

    ৪/২– ভগবান্ ইন্দ্রদেব আমাদের রিপুনাশিকা সেনাতে রক্ষকস্বরূপ হোন; আমাদের যে রক্ষাস্ত্র তা. জয়লাভ করুক; প্রার্থনাকারী আমাদের আত্মরক্ষাকারী শক্তি জয়যুক্তা হোক; দেবভাবসমূহ আমাদের নিশ্চিতভাবে রিপুসংগ্রামে রক্ষা করুন। (মন্ত্রটি প্রার্থনামূলক। প্রার্থনার ভাব এই যে, ভগবান্ আমাদের সর্ববিপদ থেকে রক্ষা করুন, আমাদের শক্তি রিপুনাশিকা হোক]। [প্রার্থনাটির সকল অংশের মধ্যেই একটি ভাব সমানরূপে বর্তমান আছে। সেই ভাব জয়লাভ করা। মন্ত্রের প্রথম অংশের অর্থ-ভগবান্ আমাদের সেনাসমূহের রক্ষক হোন। সেই সেনা কি এবং সেই সেনার আবশ্যকতাই বা কি? আমাদের চারিদিকে শত্রুকুল রয়েছে। সেই রিপুগণ আমাদের সর্বদাই বিপথে– পাপপথে পরিচালিত করবার চেষ্টা করছে। সেই প্রলোভন থেকে, পাপের সেই আকর্ষণী শক্তি থেকে আত্মরক্ষা করবার উপযোগী কতকগুলি শক্তিও আমাদের মধ্যে আছে। কিন্তু সেই শক্তি রক্ষা করা চাই। পাপশক্তির সাথে সংগ্রামে পুণ্যশক্তিও হ্রাসপ্রাপ্ত হয়, কিন্তু তা যে পরিমাণে ক্ষয় পায় তার দ্বিগুণ পরিমাণে ভগবানের অক্ষয় ভাণ্ডার থেকে পরিপূরিত হয়। এই যে ভগবৎশক্তির আবির্ভাব– যার দ্বারা পাপের আক্রমণ নিবারিত হয়, তাকেই ভগবানের রক্ষাশক্তি বলা হয়েছে। শুধু তাই নয়। আমাদের মধ্যে যে শক্তি– পুণ্যশক্তি আছে, তাই যেন জয়যুক্ত হয়। পাপের আক্রমণ যেন আমাদের বিচলিত করতে না পারে। সকল রকম দেবভাব আমাদের জীবনে প্রাধান্যলাভ করুক। এটাই মন্ত্রের তাৎপর্য। মন্ত্রের একটি প্রচলিত বঙ্গানুবাদে বলা হয়েছে-যখন ধ্বজা উত্তোলিত হয়, তখন ইন্দ্র আমাদেরই দিকে থাকেন; আমাদের বাণগুলি যেন জয়ী হয়। আমাদের বীরগণ যেন শ্রেষ্ঠ হয়; দেবতাগণ যুদ্ধে আমাদের রক্ষা কর। — মন্তব্য নিষ্প্রয়োজন]।

    ৪/৩– বিবেকরূপী হে দেবগণ! যে দুর্ধর্ষ আক্রমণকারী রিপু প্রবলশক্তির সাথে আমাদের, অভিমুখী হয়ে আগমন করে, সেই রিপুকে কর্মনাশক তমোবলের দ্বারা বিনাশ করুন; যে রকমে এই রিপুগণের সকলে শক্তিহীন হয়, তেমন করুন। (মন্ত্রটি প্রার্থনামূলক। প্রার্থনার ভাব এই যে, -ভগবান কৃপাপূর্বক আমাদের রিপুদের বিনাশ করুন)। [এই মন্ত্রে মরুৎগণকে সম্বোধন করে প্রার্থনা উচ্চারিত হয়েছে। মরুৎবললে আমরা বিবেকরূপী দেবতাকে লক্ষ্য করি। বিবেকের শক্তিতেই মানুষ সৎকর্মে আত্মনিয়োগ করতে পারে, এই বিবেকের অনুপ্রেরণাতেই মানুষ সৎপথে আপনাকে পরিচালিত করে, আবার যখন ভ্রান্তির বশে কেউ পাপের পথে পদার্পণ করে, তখন এই বিবেকের তাড়নাতেই আবার সৎ-মার্গে প্রত্যাবর্তন করে। এই বিবেক, সান্ত মানবহৃদয়ে অনন্ত ভগবানের প্রতিনিধি। এই বিবেকই মানুষের প্রকৃত রক্ষক ও পরিচালক। এই বিবেকের নির্দেশেই মানুষ আপাতঃমনোহর সুখের প্রলোভন পরিত্যাগ করে আপাতঃপ্রতীয়মান কঠোর সাধকজীবন গ্রহণ করতে সমর্থ হয়। আলোচ্য মন্ত্রে রিপুর আক্রমণ ব্যর্থ করবার জন্য সেই বিবেকশক্তির শরণ গ্রহণ করা হয়েছে। প্রার্থনার বিশেষ মর্ম এই যে, আমাদের আক্রমণকারী রিপুগুলি যেন ধ্বংস প্রাপ্ত হয়। এই মূলভাবটি নানা আকারে মন্ত্রে বিকশিত করবার চেষ্টা করা হয়েছে]।

    ৫/১– হে ধ্বংসশক্তি! তুমি আমাদের নিকট হতে দূরে গমন করো; আমাদের রিপুগণের শক্তি বিনাশ করে তাদের অবয়বসমূহ গ্রহণ করো; রিপুগণের হৃদয়ে অভিগমন করো, সকল রকম দুঃখের দ্বারা নিঃশেষে বহন করো; রিপুগণ প্রলয়ঙ্করী ধ্বংসশক্তির দ্বারা যুক্ত হোক। (মন্ত্রটি প্রার্থনামূলক। প্রার্থনার ভাব এই যে, আমাদের রিপুগণ নিঃশেষে ধ্বংস হোক)। [মন্ত্রের মূলভাব– রিপুনাশ। চারদিক থেকেই সর্বদা রিপুদের দ্বারা আক্রান্ত মানুষেরা কর্তব্যসাধনে বাধাপ্রাপ্ত হচ্ছে। তাই সেই রিপুদের ধ্বংস সাধনের জন্যই মন্ত্রে প্রার্থনা করা হয়েছে। -মন্ত্রের সম্বোধ্যপদ-অঘে। এই পদের ঋগ্বেদীয় পাঠ– অপে। উভয়ের অর্থই সমান, উভয় পদই ব্যাধি, দুঃখ, ধ্বংসশক্তি প্রভৃতিকে লক্ষ্য করে। মন্ত্রে ধ্বংসশক্তিকে আহ্বান করা হয়েছে। আমাদের কাছ থেকে ধ্বংসশক্তি দূরে গমন করুক, ই আমরা যেন অব্যাহত শক্তিতে আমাদের জীবনের চরম লক্ষ্য সাধনে আত্মনিয়োগ করতে পারি। কিন্তু এ এ জীবনকে সৎপথে– সৎকার্যে নিয়োজিত করতে হলে অসৎশক্তির অপসারণ করা– ধ্বংস করা প্রয়োজন। ভগবানের কৃপা ব্যতীত তা সম্ভবপর নয়। তাই এই প্রার্থনা]।

    ৫/২– সৎকর্মনেতা হে আমার চিত্তবৃত্তিসমূহ! তোমরা প্রকৃষ্টরূপে গমন করো, ঊর্ধ্বলোকে গমন করো এবং রিপুজয় করো; ভগবান্ ইন্দ্রদেব তোমাদের পরমমঙ্গল প্রদান করুন; যে রকমে তোমরা অপ্রতিহত হও, সেই রকমে তোমাদের সাধনশক্তি তীব্ৰতেজঃসম্পন্ন হোক। (মন্ত্রটি আত্ম-উদ্বোধক এবং প্রার্থনামূলক। ভাব এই যে, আমরা যেন মোক্ষের আকাঙ্ক্ষী রিপুজয়ী হই; ভগবান্ আমাদের পরম মঙ্গল প্রদান করুন)। [প্রথমেই এই মন্ত্রের একটি প্রচলিত বঙ্গানুবাদ লক্ষণীয়– হে মনুষ্যগণ! অগ্রসর হও, জয়ী হও; ইন্দ্র তোমাদের সুখী করুন। তোমরা নিজে যেমন দুর্ধর্ষ তোমাদের বাহুও তেমনই ভয়ঙ্কর হোক। এখানে প্রশ্ন ওঠে– কে কাকে উদ্বোধিত করছে? মন্ত্রের দ্বিতীয় অংশে আছে– ইন্দ্ৰ তোমাদের সুখী করুন। বক্তা যেন ইন্দ্রের কৃপার অতীত; বক্তা যেন অন্যের মঙ্গল দেখলেই সুখী, তার আর ইন্দ্রের কৃপার প্রয়োজন নেই। কিন্তু বেদ-গ্রন্থ ইত্যাদির মর্ম পর্যালোচনা করলে এটাই মনে হয় যে, তাতে ব্যক্তিগত সাধন তত্ত্বই পরিব্যক্ত হয়েছে। অনেক মন্ত্রের মধ্যেই যে বিশ্বজনীন উদার ভাব নিহিত আছে, তার মধ্যেও প্রার্থনাকারীর নিজের মঙ্গলও নিহিত আছে। আমরা এ স্থলে তাই বলতে চাই যে, মন্ত্রটি আত্ম-উদ্বোধক। সাধক নিজের মনোবৃত্তিগুলিকে সম্বোধন করে। মন্ত্রটি উচ্চারণ করছেন। নরঃ পদে সৎকর্ম ইত্যাদির নেতা নিজের সুপ্রবৃত্তিসমূহকে লক্ষ্য করা হয়েছে]।

    ৫/৩– প্রার্থনাপূত হে রক্ষাস্ত্র! তুমি নিক্ষিপ্ত হয়ে দূরে গমন করো এবং দূরে গমন করে রিপুগণকে প্রাপ্ত হও; রিপুগণের কোন একজনকেও অবশিষ্ট রেখো না অর্থাৎ সমস্ত রিপুকে সমূলে বিনাশ করো। (মন্ত্রটি প্রার্থনামূলক। প্রার্থনার ভাব এই যে, আমাদের সকল রিপুকে সমূলে বিনাশ করতে যেন সমর্থ হই)। [প্রচলিত মত অনুসারে মন্ত্রের দেবতা ইষুঅর্থাৎ বাণ। বাণকে লক্ষ্য করেই মন্ত্র উচ্চারিত হয়েছে। যেমন, একটি প্রচলিত বঙ্গানুবাদ– হে মন্ত্রের দ্বারা তীক্ষ্ণীকৃত, হিংসাকুশল (ই)! তুমি বিসৃষ্ট হয়ে পতিত হও, গমন করো এবং অমিত্রদেরও প্রাপ্ত হও। তুমি অমিত্রদের কাউকে অবশিষ্ট রেখো না। – এই মন্ত্রটি ঋগ্বেদ সংহিতার যে সূক্ত থেকে সংকলিত হয়েছে, প্রচলিত মত অনুসারে সেই সমগ্র সূক্তটিই যুদ্ধের সাজসজ্জা ও তার বর্ণনায় পরিপূর্ণ। বর্তমান মন্ত্রটির বক্তব্য-বিষয় সেই সূক্তানুসারী এবং এর দেবতা বা উদ্দিষ্ট বস্তু ইষু। আধুনিক ব্যাখ্যাতাদের মতে এই সূক্ত থেকে প্রাচীন যুগের যুদ্ধের সরঞ্জামের পরিচয় পাওয়া যায়। তাঁরা মনে করেন যে, পরবর্তীকালে পুরাণ। ইত্যাদিতে ব্রহ্মাস্ত্র, মন্ত্রপূত অস্ত্র প্রভৃতির যে বিবরণ পাওয়া যায়, তার মূল ঐ মন্ত্রে নিহিত আছে। মন্ত্রের প্রথমাংশ- শব্যে ব্রহ্মসংশিতে অর্থাৎ মন্ত্রপূত শর। পরবর্তীকালেও যুদ্ধের সময় বাণ মন্ত্রপূত করে নিক্ষিপ্ত হতো। সম্ভবতঃ ব্রহ্মসংশিতে পদ থেকে পৌরাণিক ব্রহ্মাস্ত্রের সৃষ্টি হয়েছে। — আমরা এইসব গবেষণা গ্রহণ করতে পারিনি। আমরা মনে করি, প্রার্থনাতে সাধনশক্তির প্রতিই ইঙ্গিত আছে। সেই শক্তির প্রভাবেই আমরা রিপুবর্গের কবল থেকে আত্মরক্ষা করতে পারি। যাতে আমরা রিপুদের সমূলে বিনাশ করতে পারি, মন্ত্রে সেই প্রার্থনাই উচ্চারিত হয়েছে]।

    ৬/১– ঊর্ধ্বগতিদায়ক হে দেবভাব সমূহ! মৃত্যুদূত, আমাদের বাধাদানকারী রিপুগণকে প্রাপ্ত হোক; এই রিপুসেনা গৃধ্রুনামক পক্ষিবিশেষের ভক্ষ্য হোক অর্থাৎ রিপুর্গণ বিনষ্ট হোক; এদের মধ্যে কেউই যেন মুক্ত না হয়, অর্থাৎ সকল রিপু বিনষ্ট হোক; হে ভগবন ইন্দ্রদেব! হীনশক্তি রিপুও বিনষ্ট হোক; সাধনশক্তি আমাদের সকলকে প্রাপ্ত হোক। (মন্ত্রটি প্রার্থনামূলক। প্রার্থনার ভাব এই যে, আমাদের সকল রিপু বিনষ্ট হোক; আমরা যেন পরাশক্তি লাভ করি)। [ভগবানের কৃপায় আমরা যেন রিপুগণের আক্রমণ থেকে উদ্ধার লাভ করতে পারি। এটাই মন্ত্রের সারমর্ম। প্রচলিত মতও তা-ই। যেমন, ভাষ্যানুসারী একটি হিন্দী বঙ্গানুবাদ- সুন্দর পরোওয়ালে মাংসভক্ষী পক্ষী ইন শত্রুওকে পীছে লগৈ; বহ শত্রুসেনা গৃপক্ষিয়েকী ভোজনরূপ হো.ইন শওমেসে কোই ভীন বচৈ; হে ইন্দ্র! জো অধিক পাপী ন হো রহ ভী ন ছুটৈ পক্ষীরূপ মাংসভক্ষী রাক্ষস ইন সবোকা পীছালৈ। — কঙ্কাঃ পদের ভাষ্যার্থ ঐ নামধেয় পক্ষীবিশেষ। হিন্দী অনুবাদকার অর্থ করেছেন– মাংসভক্ষী পক্ষী। মাংস ভক্ষণকারী পক্ষী বিশেষের দ্বারা মৃত্যুকে বোঝায়। কারণ কোন জন্তু মরে গেলেই তার মাংস ভক্ষিত হয়। তাই কঙ্কা শব্দে আমরা মৃত্যুদূত অর্থ গ্রহণ করেছি। বিশেষতঃ কঙ্কা শব্দের আভিধানিক অর্থ মৃত্যু। এই অর্থই সঙ্গত। আমরা রিপুবর্গের মৃত্যুকামনা করি, অর্থাৎ তারা যাতে ধ্বংস প্রাপ্ত হয়, আমরা তাই ইচ্ছা করি। সুতরাং মৃত্যুদূত রিপুবর্গকে প্রাপ্ত হোক একথা বলার তাৎপর্য এই যে, রিপুগণ ধ্বংসপ্রাপ্ত হোক। সমগ্র মন্ত্রের মধ্যেই এই ভাব নিহিত আছে। — মন্ত্রের শেষভাগে একটি প্রার্থনা আছে, তার মর্ম– আমরা যেন পরমশক্তি লাভ করি। রিপুনাশের সঙ্গে শক্তিলাভের ঘনিষ্ঠ সম্বন্ধ আছে। তাই রিপুনাশের প্রার্থনার পরেই শক্তিলাভের জন্য প্রার্থনা করা হয়েছে]।

    ৬/২– পরমধনদাতা পাপনাশক হে ভগবন! আপনি এবং জ্ঞানদেব আপনারা উভয়ে আমাদের প্রতি শত্রুভাবাপন্ন প্রসিদ্ধ রিপুসেনাকে নিঃশেষে ভস্ম করুন। (মন্ত্রটি প্রার্থনামূলক। প্রার্থনার ভাব এই যে, হে ভগবন! কৃপাপূর্বক আমাদের রিপুগণকে বিনাশ করুন)। [মঘব বৃহ- এই দুটি সম্বোধন পদ ব্যবহৃত হয়েছে। বৃহন পদের দ্বারাই প্রার্থনার ভাব অনেক পরিমাণে হৃদয়ঙ্গম করা যায়। বৃত্র শব্দের অর্থ জ্ঞানাবরক অর্থাৎ পাপ। সেই বৃত্রকে যিনি হনন করেন তিনিই বৃত্ৰহন। সেই পাপনাশের জন্যই প্রার্থনা করা হয়েছে। সুতরাং পাপনাশক বিভূতির উদ্বোধনই সঙ্গত। পাপই আমাদের সর্বাপেক্ষা ভীষণ শত্রু; পাপের প্রলোভনেই আমরা হিতাহিত জ্ঞানশূন্য হয়ে চতুর্দিকে ছুটতে থাকি, আপাতঃমনোহর বস্তুর লোভে চিরন্তন, শাশ্বত সুন্দরকে উপেক্ষা করি, এবং সেই পাপের প্রলোভনের জন্য অধঃপতন হয়। সুতরাং মানুষের সর্বাপেক্ষা শ্রেষ্ঠতম কামনা– পাপের, মোহের, রিপুগণের কবল থেকে উদ্ধার লাভ করা। কারণ রিপুর আক্রমণ থেকে, মোহমায়ার বন্ধন থেকে উদ্ধার পেলেই মুক্তিলাভ সম্ভবপর হয়। তাই মন্ত্রের মধ্যে প্রধান কথা– রিপুনাশ]।

    ৬/৩– চপল কুমারগণ যেমন ইতস্ততঃ গমন করে তেমনভাবে যে সংগ্রামে অস্ত্রসমূহ নিক্ষিপ্ত হয়, সেই রিপুসংগ্রামে পরম আরাধনীয় দেব পরমসুখ প্রদান করুন; অনন্তস্বরূপিণী দেবী আমাদের সর্বদা পরমকল্যাণ প্রদান করুন। (মন্ত্রটি প্রার্থনামূলক। প্রার্থনার ভাব এই যে, হে ভগবন! আমাদের রিপুজয়োৎপন্ন পরমকল্যাণ প্রদান করুন)। [রিপুসংগ্রামে ভগবান্ আমাদের রক্ষা করুন– এটাই মন্ত্রের প্রধান ভাব। এই ভাবটি একটি উপমার সাহায্যে পরিস্ফুট করবার পক্ষে চেষ্টা করা হয়েছে; কিন্তু নানা ব্যাখ্যাকার নানাভাবে অর্থ গ্রহণ করেছেন। একটি প্রচলিত বঙ্গানুবাদ– মুণ্ডিত কুমারগণের মতো বাণসমূহ যে (যুদ্ধভূমিতে) সম্পতিত হয়, সেখানে ব্ৰহ্মণস্পতি আমাদের সর্বদা সুখ দান করুন। অদিতি সুখ দান করুন। — কুমারাঃ বিশিখা ইবঃ উপমার অর্থ সম্বন্ধে যত বিতণ্ডার সৃষ্টি হয়েছে। ভাষ্যকার প্রকৃতপক্ষে কোন ব্যাখ্যা দেননি, অনুবাদকারও তার দৃষ্টান্ত অনুসরণ করেছেন। সুতরাং ভাষ্যে এবং অনুবাদে এই অংশ মোটেই স্পষ্ট হয়নি। স্বর্গীয় সত্যব্রত সামশ্রমী এই অংশের যে ব্যাখ্যা করেছেন, তা এই– অতিশিশু বালকগণ যেমন ইতস্ততঃ ছুটাছুটি করে বেড়ায়, তাদের গতির বা লক্ষ্যস্থলের কোন স্থিরতা থাকে না, তেমনিভাবে যে যুদ্ধক্ষেত্রে অনবরত অস্ত্রশস্ত্র ইত্যাদি পতিত হচ্ছে, অর্থাৎ যে যুদ্ধক্ষেত্র অতিশয় বিপদসঙ্কুল ও ভয়ানক সেই যুদ্ধক্ষেত্রে ভগবান্ আমাদের যেন পরম মঙ্গল প্রদান করেন, মন্ত্রে সেই প্রার্থনাই করা হয়েছে। এমন যুদ্ধক্ষেত্রে কিভাবে মঙ্গলাশা করা যেতে পারে? একমাত্র উপায়– জয়লাভের দ্বারা। রিপুসংগ্রামে জয়লাভ করলে, রিপুগণ পদানত হলে মানুষ পরাশান্তির অধিকারী হতে সমর্থ হয়। তাই মন্ত্রে সেইজন্যই প্রার্থনা দৃষ্ট হয়]।

    ৭/১– হে ভগবন ইন্দ্রদেব! অসুর ইত্যাদিকে বিনাশ করুন; রিপুবর্গকে বিনাশ করুন; জ্ঞান আবরক অসুরের কপোলপ্রান্ত ভগ্ন করুন। অর্থাৎ তাকে বিনাশ করুন; পাপনাশক হে দেব! আমাদের অনিষ্টকারী শত্রুর শক্তিও বিনাশ করুন। (মন্ত্রটি প্রার্থনামূলক। প্রার্থনার ভাব এই যে, হে ভগবন! আমাদের সকল রিপুকে সমূলে বিনাশ করুন)। [এই মন্ত্রটিতেও রিপুনাশের জন্য প্রার্থনা করা হয়েছে। মন্ত্রের প্রথম অংশ, রক্ষঃ বিজহি-রাক্ষস ইত্যাদিকে বিশেষভাবে বিনষ্ট করুন। এই রাক্ষস কারা? আপাতঃদৃষ্টিতে মনে হয় যে, পুরাণ ইত্যাদিতে রাক্ষস ইত্যাদির যে বর্ণনা আছে, তারা রক্তমাংসের জীব, কেবল কুলবৃত্তির অধীন, অন্য জীবের সঙ্গে তাদের এই মাত্র প্রভেদ। বাস্তবিকপক্ষে রাক্ষস প্রভৃতি কোন বিশেষ জীব নয়। মায়া-মোহ পাপ প্রভৃতি মানুষের চিরন্তন শত্রুসমূহকেই রাক্ষস অসুর প্রভৃতি বলে বর্ণনা করা হয়েছে। বেদের মধ্যেও আমরা রাক্ষস ইত্যাদির যে পরিচয় পাই, তারা নরমাংসভোজী শরীরধারী কোন জীব নয়। আমাদের অন্তরস্থিত রিপুগণই সর্বাপেক্ষা ভীষণ রাক্ষস, তারাই আমাদের সমস্ত শক্তি ও সৎ-বৃত্তিকে গ্রাস করে। সেই রাক্ষস নিধনের জন্যই মন্ত্রে প্রার্থনা করা হয়েছে। পরের অংশে বলা হয়েছে– বৃত্রস্য হন্ বিরুজ– বৃত্রের মুখ ভেঙ্গে দাও। বৃত্র বলতে জ্ঞান-আবরক অসুরকে বোঝায়। সেই বৃত্রের চোয়াল (কপোলপ্রান্ত) ভেঙ্গে দেওয়ার অর্থ– তার শক্তি নাশ করা, তাকে ধ্বংস করা। সমগ্র মন্ত্রেই একই ভাব প্রকাশিত হয়েছে। প্রচলিত অর্থও এই ভাব সমর্থন করে। — যেমন, একটি প্রচলিত বঙ্গানুবাদ– হে বৃত্রসংহারী ইন্দ্র। রাক্ষসকে ও শত্রুদের বধ করো; বৃত্রের দুই হন্ ভঙ্গ করে দাও। অনিষ্টকারী বিপক্ষের ক্রোধকে নিষ্ফল করো। ভাব এক হলেও প্রচলিত বঙ্গানুবাদে পৌরাণিক বৃত্রাসুরের প্রতি লক্ষ্য আছে]।

    ৭/২– বলাধিপতি হে দেব! আমাদের রিপুগণকে বিশেষরূপে জয় করুন, ; সংগ্রামকারী আমাদের শত্রুকে বিনাশ করুন; যে শত্রু আমাদের বিনাশ করতে ইচ্ছা করে সেই শত্রুকে চিরবিনাশ করান। (মন্ত্রটি প্রার্থনামূলক। প্রার্থনার ভাব এই যে, হে ভগবন! কৃপাপূর্বক আমাদের সর্বরিপু বিনাশ করুন)। [বর্তমান মন্ত্রটিও এর পূর্ববর্তী মন্ত্রের মতো প্রার্থনামূলক এবং উভয় মন্ত্রের ভাবও প্রায় একইরকম। উভয় মন্ত্রেই রিপুবিনাশের জন্য ভগবানের কাছে প্রার্থনা করা হয়েছে। দুর্বল মানুষ– মোহ-মায়া ইত্যাদি অমিতবলশালী রিপুদের সঙ্গে যুদ্ধে পরাজিত হয়, মোক্ষমার্গে অগ্রসর হতে পারে না। কিন্তু দুর্বলের বল ভগবান্। তিনিই মানুষকে সকলরকম বিপদ থেকে উদ্ধার করেন, তাই তার চরণেই প্রার্থনা করা হচ্ছে। মন্ত্রের যেসব ব্যাখ্যা প্রচলিত আছে, তাদের মধ্যেও এই ভাবই ফুটে উঠেছে]।

    ৭/৩– হে আমার মনোবৃত্তিসমূহ! ভগবা-ইন্দ্রদেবের যে বাহুদ্বয় দ্বারা রিপুগণের ভীষণ বল জয় করা হয়, সুদৃঢ় নিত্যতরুণ অপ্রতিহতবল সুমনোহর শত্ৰুকর্তৃক অসহনীয় প্রসিদ্ধ সেই বাহুদ্বয়কে। তোমরা সংগ্রামকালে সর্বাগ্রে যোজনা করো। (মন্ত্রটি আত্ম-উদ্বোধক। ভাব এই যে, আমরা যেন সর্বকর্মে ভগবানের সাহায্য প্রার্থনা করি)। [মানুষকে অনবরতই নানা বিরুদ্ধশক্তির সাথে সংগ্রাম করতে হচ্ছে। সংগ্রাম ব্যতীত অগ্রসর হবার উপায় নেই। এই বিরুদ্ধশক্তির সাথে যুদ্ধ করে যিনি জয়লাভ করতে পারেন, তিনিই উন্নতি করতে সমর্থ হন। প্রাত্যহিক সাংসারিক জীবনে যেমন এই কথা সত্য, ঠিক তেমনিভাবে পারমার্থিক জীবনেও সত্য, বরং ধর্মজীবনে রিপুসংগ্রাম আরও তীব্রতর হয়। মানুষকে প্রতি পদে বাধা অতিক্রম করে অগ্রসর হতে হয়। নতুবা অগ্রসর হবার উপায় নেই। কিন্তু ক্ষুদ্র মানুষের কতটুকু শক্তি আছে যে, সে ভীষণ রিপুদের সাথে সংগ্রামে জয়লাভ করতে সমর্থ হবে? তার দুর্বল বাহু সামান্য ভারেই অবনত হয়ে পড়ে, তাই পরম শক্তিশালী ভগবানের বিশাল বাহুর আশ্রয়লাভের আকাঙ্ক্ষা পরিব্যক্ত হয়েছে। আমরা যেন শক্তিলাভের জন্য, রিপুজয়ের জন্য, ভগবানের শরণাপন্ন হই, সেই রকম মনোবৃত্তি যেন আমাদের মধ্যে উৎপন্ন হয়– এটাই মন্ত্রের বিশেষ ভাব। সেই জন্যই সাধক, নিজেকে উদ্বোধিত করছেন। অবশ্য বাহু বলতে হাত দুখানিই বোঝাচ্ছে না, বাহুর মালিক সেই পরমদেবতাকেই লক্ষ্য করছে। কিন্তু বাহু দুখানি কেমন? যাভ্যাং অসুরাণাং মহৎ সহো জিতং। যে বাহুদ্বয়ের দ্বারা অসুরগণের মহৎ বল জয় করা হয়, অর্থাৎ সেই বাহু শজয়ে– সিদ্ধহস্ত। আমরাও শত্ৰুজয় চাই। তাই শত্রুর নাশকারী সেই পরম-শক্তিশালী হস্তের আশ্রয় যেন গ্রহণ করতে পারি। এটাই মন্ত্রের মর্মার্থ]।

    ৮/১– হে দেব! আপনার রক্ষাশক্তির দ্বারা আমার মর্মস্থানসমূহ (অর্থাৎ প্রাণকেন্দ্রসমূহ) যেন সমাচ্ছাদিত করতে পারি; হে আমার মন! লোকাধিপতি শুদ্ধসত্ত্ব তোমাকে অমৃতের দ্বারা আচ্ছাদিত করুন; করুণাপরায়ণ দেব তোমার মহৎ সুখ সম্পাদন করুন; দেবভাবসমূহ জয়েছু তোমাকে আনন্দিত করুন- পরিগ্রহ করুন। (মন্ত্রটি প্রার্থনামূলক। ভাব এই যে, হে ভগবন! কৃপাপূর্বক আমাদের সর্ববিপদ থেকে উদ্ধার করুন, এবং আমাদের পরমসুখ প্রদান করুন)। [ঋগ্বেদে এই মন্ত্র সম্বন্ধে উল্লেখ আছে– সোম বরুণ ও কবচ অর্থাৎ ধর্মদেবতা তার এমন ব্যাখ্যা প্রচলিত আছে। তোমার মর্মস্থানসমূহ বর্মদ্বারা আচ্ছাদন করব; তারপর সোম রাজা তোমাকে অমৃত দ্বারা আচ্ছাদন করুন। বরুণ তোমাকে শ্রেষ্ঠ অপেক্ষাও শ্রেষ্ঠ (সুখ) দান করুন; তুমি জয়ী হলে দেবগণ হৃষ্ট হোন। — এই ব্যাখ্যা থেকে এটাই স্পষ্ট হচ্ছে যে, কেউ যেন অন্য কারও শরীরে বর্ম পরিয়ে দিতে দিতে এই মন্ত্র পাঠ কছে। প্রচলিত ও এই ভাবের অনুকূল। একজন ব্যাখ্যাকার ঋগ্বেদীয় মূল সূক্তটির টীকায় লিখেছেন- যুদ্ধ যাত্রাকালে রাজাকে বর্ম ইত্যাদি পরিধান করাবার সময় সূক্তের– ঋকগুলি উচ্চারণ করতে হয়। এই সূক্ত থেকে যুদ্ধের অস্ত্রশস্ত্র ও আয়োজন দ্রব্যসমূহের পরিচয়। পাওয়া যায়। এই দিক থেকেও মন্ত্রের প্রচলিত অর্থ গ্রহণ করা হয়েছে। অর্থাৎ রাজার যুদ্ধযাত্রার প্রাক্কালে তাঁর অনুচর যেন তাকে বৃর্ম পরাচ্ছে এবং মন্ত্রপাঠ করছে। পৌরাণিক সাহিত্যে আমরা এই ৫ ভাবই প্রতিফলিত দেখি। কিন্তু আমাদের ব্যাখ্যা ভিন্নপথ অবলম্বন করেছে। আমাদের ধারণা, এখানে যে বর্ম ও, মর্মের আলোচনা করা হয়েছে, তাতে জড় কোন বস্তুর সংশ্রব নেই। ভগবানের যে পরম মঙ্গলশক্তি আমাদের ঘিরে আছে, যে শক্তির প্রভাবে আমরা রিপুসঙ্কুল এই জগতে বেঁচে আছি, মোক্ষমার্গে অগ্রসর হবার সুযোগ পাচ্ছি, তাকেই আমরা প্রকৃত বর্ম বলে মনে করি। মর্ম বলতে প্রাণকেন্দ্রকেই বোঝায়, যে শক্তিকেন্দ্রে আঘাত লাগলে, যা বিনষ্ট হলে, মানুষের মৃত্যু অধঃপতন অবশ্যম্ভাবী]।

    ৮/২– হে রিপুগণ! বিষশূন্য সর্প যেমন অনিষ্ট করতে পারে না, তেমনই ভাবে তোমরা অনিষ্ট সাধন করতে সমর্থ হও; ভগবান্ ইন্দ্রদেব দুর্ধর্ষ অগ্নির ন্যায় দাহকারী তোমাদের নেতৃস্থানীয় সকলকে বিনাশ করুন। (মন্ত্রটি প্রার্থনামূলক। প্রার্থনার ভাব এই যে, আমাদের সকল রিপু বিনষ্ট হোক)। [মন্ত্রের মূলভাব– আমরা যেন রিপুর বিনাশ সাধনে সমর্থ হই; ভগবানের কৃপায় যেন আমাদের রিপুকুল ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়। এই ভাবই একটি অভিনব উপায়ে প্রকাশিত করা হয়েছে। মন্ত্রে রিপুকেই সম্বোধন করা হয়েছে। তার ভাব রিপুগণ শক্তিহীন হোক, তারা ধ্বংসপ্রাপ্ত হোক; অর্থাৎ শত্রুদের যেন অভিশাপ দেওয়া হয়েছে- তোমরা ধ্বংস হও, তোমরা শক্তিহীন হও। কেমন শক্তিহীন? মস্তকহীন সর্পের মতো, অর্থাৎ বিষহীন সর্প যেমন মানুষের কোন অনিষ্ট করতে পারে না, ঠিক তেমনভাবে শক্তিহীন রিপুকুলও মানুষের কোন অনিষ্ট করতে পারে না। এই উপমাতে দুটি বিষয় লক্ষ্য করবার আছে। প্রথম বিষয়– মস্তকহীন; মস্তক না থাকলে কোন প্রাণী বেঁচে থাকতে পারে না। সুতরাং মস্তকহীন বলায় একদিকে প্রকারান্তরে প্রাণহীন বলা হয়েছে। অবশ্য বহির্জগতের দিক থেকে বিষের মধ্যেই সর্পের সর্পত্ব, সুতরাং প্রাণহীন ও বিষহীন একাৰ্থে প্রযুক্ত হতে পারে। দ্বিতীয় বিষয় এই যে, উপমাতে সর্পের সাথে রিপুগণের তুলনা করা হয়েছে। এটা বিশেষভাবে প্রণিধানযোগ্য। রিপুগণ সর্পের মতোই ক্র, সর্পের মতোই সাঙ্ঘাতিক জীব, সর্পের মতোই প্রাণহন্তারক; বরং সর্প। এই জড় দেহ নষ্ট করে, রিপুগণ মানুষের আত্মাকে নষ্ট করে। সুতরাং এই উপমা অতিশয়সঙ্গত– হয়েছে। একটি প্রচলিত হিন্দী অনুবাদ– হে শওঁ! তুম শির কটেহুএ সর্পোকী সমান অন্ধে হোজাও উন অগ্নিকে ভস্মীভূত কিয়েহু তুম শত্রুওঁঘেঁসে শ্রেষ্ঠ শ্রেষ্ঠকো ইন্দ্র নষ্ট করে। এটি ভাষ্যানুসারী। ভাষ্যের সাথে আমাদের ব্যাখ্যা তুলনা করবার জন্যই এই অনুবাদটি উদ্ধৃত হলো]।

    ৮/৩– হে ভগবন! আত্মীয়ের ন্যায় প্রতীয়মান যে জন শত্রু হয়, এবং অন্তরস্থিত যে রিপু আমাদের বিনাশ করতে ইচ্ছা করে, সকল দেবভাব সেই অন্তঃশত্রুকে বিনাশ করুন। পরমব্রহ্ম (অথবা প্রার্থনা) আমার রিপুবারক রক্ষাকবচ হোন, পরমকল্যাণই আমার রিপুবারক রক্ষাকবচ হোন। (মন্ত্রটি প্রার্থনামূলক। প্রার্থনার ভাব এই যে, ভগবান্ আমাদের সর্ব রিপুকে বিনাশ করুন; তিনিই আমাদের রক্ষক হোন)। [প্রথমেই এই মন্ত্রের প্রচলিত একটি বঙ্গানুবাদ লক্ষণীয়– যে জ্ঞাতি আমাদের প্রতি হৃষ্ট নন, যিনি দূরে থেকে আমাদের বধ করতে ইচ্ছা করেন, তাকে সমস্ত দেবগণ হিংসা করুন, মন্ত্রই আমার (শর) নিবারক বর্ম। মন্ত্রের অন্তর্গত স্ব পদের অর্থ করা হয়েছে জ্ঞাতি। তাই মন্ত্রের। প্রথমাংশের অর্থ করা হয়েছে যে সকল জ্ঞাতি আমাদের শত্রু, কিন্তু স্বঃ পদে আমাদের আপাতঃমধুর পাপ-প্রলোভনে মুগ্ধকারী রিপুদের লক্ষ্য করা হয়েছে। কারণ তারাই আমাদের সর্বাপেক্ষা ভীষণতম রিপু। তারা আত্মীয়তার বাহ্য-আড়ম্বরে আমাদের বিশ্বাস অর্জন করে পরে ছুরিকাঘাতে হৃৎপিণ্ড ছেদন করে। মায়া ও মোহের অনুচর এই ভীষণ রিপুদের কথাই স্বঃ পদে বলা হয়েছে। তাদের প্রকৃতি সম্বন্ধে নিষ্ট্যঃ পদের অর্থ আমাদের সচেতন করে দিচ্ছে। এই পদের ভাষ্যার্থতিরোভূতঃঅর্থাৎ লুক্কায়িত। তাদের স্বরূপ অবস্থা গোপন করে অন্য অবস্থায় প্রকাশিত। শুধু তাই নয়, আমাদের অন্তরের মধ্যে থেকে আমাদের বন্ধুরূপেই তারা দেখা দেয়, এবং আমাদের বিপথগামী করে। যাতে সেই সব ভীষণ রিপু নিঃশেষে ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়, মন্ত্রে তার জন্যই প্রার্থনা করা, হয়েছে]।

    ৯/১– ভগবন হে ইন্দ্রদেব! আপনি তীক্ষায়ুধচরণ কঠোরস্বভাব সিংহতুল্য ভয়ঙ্কর হন; দ্যুলোক হতে আপনি আগমন করুন, আমাদের প্রাপ্ত হোন; আগমন করে সর্বত্রগমনশীল তীক্ষ্ণ রক্ষাস্ত্রকে রিপুনাশের উপযুক্ত করে, সেই অস্ত্রের দ্বারা রিপুগণকে বিশেষভাবে বিনাশ করুন; আমাদের শত্রুসমূহকে সম্যকরূপে পরাজয় করুন। (মন্ত্রটি প্রার্থনামূলক। প্রার্থনার ভাব এই যে, ভগবান আমাদের রিপুসমূহকে বিনাশ করুন; সেই পরমদয়াল দেব আমাদের প্রাপ্ত হোন)। [এই মন্ত্রের প্রথম অংশে পাপনাশের জন্য ভগবান্ যে ভয়ঙ্কর রূপ ধারণ করেন, একটি উপমার দ্বারা তা-ই বর্ণিত হয়েছে। সেই উপমা- কুচরঃ গিরিষ্ঠাঃ মৃগঃ ন ভীমঃ– পর্বতচারী ভীষণ দুর্দান্ত সিংহের মতো, ভয়ঙ্কর তিনি। কুচর পদের অর্থ কুৎসিৎ-চরণ, অর্থাৎ যার পদ নখর ইত্যাদির জন্য কুৎসিৎ হয়েছে। অথবা কুৎসিৎ ব্যবহার হয় বলে চরণকে কুচর বলা যায়। কারণ, পদের কার্য গমনাগমন; কিন্তু তীক্ষ্ণ নখরযুক্ত পায়ের দ্বারা যখন আক্রমণ করা যায়, তখন পদের কার্যের বিসদৃস দ্বারা যখন আক্রমণ করা যায়, তখন পদের কার্যের বিসদৃশ ব্যবহার হয়। সিংহ ব্যাঘ্র ইত্যাদি হিংস্র জন্তুগণ পদের দ্বারা আক্ৰমণ আত্মরক্ষা প্রভৃতিও করে, তাই তাদের কুচর বলা হয়। গিরিষ্ঠাঃ পদের অন্তর্নিহিত ভাব এই যে, যারা পর্বতে বাস করে, তারা কঠোরস্বভাব হয়; অধিকন্তু পর্বতের কঠোরতার সাথে ভগবানের কঠোরতার তুলনা করাও গিরিষ্ঠাঃ পদের অন্য উদ্দেশ্য। সাধারণ হিংস্র জীবগণ পর্বতবাসী হলে তাদের স্বভাবজাত দুর্দান্ত ভাব আরও বর্ধিত হয়। উপযুক্ত উপমার দ্বারা এটাই বোঝাবার চেষ্টা করা হয়েছে যে, করুণানিধান ভগবান্ বিশ্বরিপুনাশের জন্য ভীষণাদপি ভীষণরূপ কঠোর থেকে কঠোরতর ভাব পরিগ্রহণ করেন। কারণ তখন ধ্বংসই সৃষ্টির নামান্তর। পাপের বিনাশেই পুণ্যের প্রতিষ্ঠা। তাই প্রলয়ে সৃষ্টির বীজ নিহিত থাকে। ধ্বংস ও সৃষ্টি উভয় একসঙ্গেই বর্তমান থাকতে পারে এবং বিশ্বরক্ষার জন্যই ধ্বংসের প্রয়োজন হয়। তিনি সাধুদের পরিত্রাণ ও দুবৃত্তদের বিনাশের জন্য যুগে যুগে অবতীর্ণ হন– এ তো চিরন্তন! এই মন্ত্রের দ্বারা-ভগবানের সেই চিরন্তনী প্রতিশ্রুতির ভাবই পরিস্ফুট হচ্ছে। ভগবানের এই ধ্বংসশক্তির পরিচয় দিয়েই মন্ত্র বলছেন- হে দয়াল প্রভু, আমাদের হৃদয়ে আগমন করুন। আমরা শত্রুকুল পরিবেষ্টিত, আমাদের রক্ষা করুন, আপনার ভীষণ অস্ত্র ভীষণতর করুন, আমাদের রিপুকুলকে বিতাড়িত করুন। — মন্ত্রটির প্রথম অংশের নিত্যসত্যের সাথে শেষাংশের প্রার্থনার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক আছে। প্রথম অংশে যে সত্য প্রকটিত হয়েছে, সেই সত্যের উপর ভিত্তি করেই প্রার্থনা করা হয়েছে] [মন্ত্রটি ঋগ্বেদ ব্যতীত অন্যান্য বেদেও পরিদৃষ্ট হয়; যথা;-শুক্ল যজুর্বেদের, ১৮শ অধ্যায়ের ৭১তি কণ্ডিকা; অথর্ববেদ সংহিতার ১১/২৩/৩ মন্ত্র]।

    ৯/২– দীপ্তিদান ইত্যাদি গুণবিশিষ্ট সকল দেবগণ অর্থাৎ হে দেবভাবসমূহ। আপনাদের প্রসাদে আমাদের কর্ণসমূহের দ্বারা আমরা যেন ভজনীয় কল্যাণবচন অর্থাৎ ভগবৎ-মহিমা শ্রবণ করতে সমর্থ হই; (আকাঙ্ক্ষা এই যে, দেবভাব-প্রভাবে আমাদের শ্রোত্ৰ সদাকাল যেন ভগবনকথামৃত শ্রবণপরায়ণ হয়)। ষজনীয় আকাঙক্ষণীয় অনুসরণীয় হে দেবগণ বা দেবভাবসমূহ! আপনাদের প্রসাদে আমাদের চক্ষুসমূহের দ্বারা আমরা যেন সুশোভন ভগবানের রূপ দেখতে সমর্থ হই; (আকাঙ্ক্ষা এই যে, দেবত্বের প্রভাবে আমাদের চক্ষু সদাকাল শোভন ভগবৎ-মূর্তি দর্শনে সমর্থ হোক)। আর, হে দেবগণ! আপনাদের প্রসাদে আমাদের অচঞ্চল অর্থাৎ ভগবৎপরায়ণ হস্তপদ ইত্যাদি বহিরবয়বসমূহের দ্বারা (স্থূলদেহের দ্বারা) এবং অন্তর ইত্যাদি সমন্বিত আভ্যন্তরীণ শরীরের দ্বারা (সূক্ষ্মদেহের দ্বারা) যুক্ত হয়ে, আমরা ভগবানের স্তব করতে করতে অর্থাৎ দেবভাবসমূহের অনুসরণ করতে করতে, দেবকর্মে ৷ রত অর্থাৎ ভগবানে উৎসৃষ্টকর্ম শ্রেষ্ঠ অভিলষিত জীবন যেন প্রাপ্ত হই; (প্রার্থনার ভাব এই যে, হে দেবগণ! আপনাদের অনুকম্পায় আমাদের জীবন ভগবৎ-পরায়ণ ভগবৎ-উদ্দেশ্যে বিহিত কর্মপর হোক– এই আকাঙ্ক্ষা)। [মন্ত্রে যৎও আয়ুঃ পদ দুটি আছে। তা থেকে সিদ্ধান্ত করা হয়ে থাকে, যে আয়ুঃ দেবগণ নির্দিষ্ট করে রেখেছেন, তারই কথা এখানে বলা হয়েছে। ভাষ্যের মত এই যে, দেবগণ মানুষের জন্য ১১৬ বৎসর বা ১২০ বৎসর পরমায়ুঃ নির্ধারিত করে গেছেন, এবং প্রার্থনাকারী সেই আয়ুঃ পাবার আকাঙ্ক্ষা প্রকাশ করছেন। এ পক্ষে দেবহিতং পদে দেবগণ কর্তৃক নির্দিষ্ট অর্থ গ্রহণ করা হয়। কিন্তু আমরা বলি, দেবহিতং যৎ আয়ুঃ এই পদ তিনটির ভাব অন্যরকম। এখানে যৎ পদে সেই শ্রেষ্ঠ অভিলষিত অর্থ আসে। যে আয়ু বা যে জীবন আকাঙক্ষণীয়, এবং যে আয়ুঃ দেবহিতংঅর্থাৎ দেবতার কার্যে বিহিত ভগবানের কর্মে বিনিযুক্ত, এখানে সেই আয়ুর কামনাই প্রকাশ পেয়েছে। পর পর প্রার্থনার ভাব অনুধাবন করলে, এই অর্থেই সঙ্গতি দেখা যায়। মন্ত্রের প্রথম প্রার্থনা, দেবগণের কৃপায় আমরা যেন সেই কর্ণসকল প্রাপ্ত হই– যে কর্ণসমূহের দ্বারা রুদ্রং অর্থাৎ মঙ্গল-বচন ভগবনকথা শুনতে সামর্থ্য পাই। দ্বিতীয় প্রার্থনা, সেই চক্ষুসকল যেন আমরা প্রাপ্ত হই– যে চক্ষুসকলের দ্বারা ভদ্রংঅর্থাৎ শোভন ভগবানের রূপ দর্শন করবার সামর্থ্য আসে। কর্ণের ও চক্ষুর বিষয় বলতে বলতে, ক্রমে সকল অঙ্গের প্রতি দৃষ্টি পড়েছে। বাহির ও আন্তর ভেদে ॥ দুরকম অঙ্গের পরিকল্পনা করা যায়। প্রথমে তাই অঙ্গৈঃ বলেই পরে তনুভিঃ পদ প্রযুক্ত হয়েছে। একের ভাব– বহিরঙ্গ, অন্যের ভাব- অন্তরঙ্গ। দৃঢ়ৈঃ (স্থিরৈঃ) পদে অবিচলিত একাগ্র ভাব আসে। আমাদের দেহ-মন-প্রাণ সমস্ত অবিচলিত-ভাবে ভগবানের সেবায় ভগবৎকার্যে বিনিযুক্ত হোক, দূঢ়ৈঃ অঙ্গৈঃ তনুভিঃ পদ তিনটিতে এই ভাব প্রাপ্ত হওয়া যায়। সেই সকল সমন্বিত দেবহিতং যৎ আয়ুঃ মন্ত্রের দ্বিতীয় চরণে তারই কামনা করা হয়েছে। ফলতঃ চক্ষুকর্ণ প্রভৃতি বহিরঙ্গগুলি ও চিত্ত ইত্যাদি অন্তরঙ্গসমূহ ভগবনকার্যে বিনিবিষ্ট হোক– এমন জীবন আমরাও যেন প্রাপ্ত হই, এটাই এখানকার প্রার্থনা। যেন তাঁরই কথা শুনি, যেন তাঁরই রূপ দেখি, যেন তারই কার্যে দেহ-মন সমর্পণ করতে পারি, আমাদের মধ্যে দেবভাবের বিকাশ হয়ে আমাদের সেইরকম জীবন প্রস্ফুট; হোক। এটাই এই মন্ত্রের প্রার্থনার নিগুঢ় তাৎপর্যার্থ]।

    ৯/৩– প্রভূতমঙ্গলনিলয় (প্রকৃষ্ট ধনোপেত) ভগবান্ ইন্দ্রদেব আমাদের সুখকর মঙ্গলপ্রদ হোন। সর্বজ্ঞানাধার (সকল ধনের অধিকারী) পোষ পূষাদের আমাদের সুখকর মঙ্গলপ্রদ হোন; সৎপথে গমনশীল বা জ্যোতির্ময়, অপ্রতিহত অহিংসিত অবিনাশী কালচক্র অথবা অবাধজীবনগতি অর্থাৎ অনন্তজীবনবিশিষ্ট অরিষ্টনেমি দেবতা আমাদের সুখকর মঙ্গলপ্রদ হোন; দেবগণের পালয়িতা প্রজ্ঞানরূপ বৃহস্পতিদেব আজ আমাদের ধারণ করুন– রক্ষা করুন। (ভাব এই যে, -সকল দেবতার রক্ষা আমাদের প্রাপ্ত হোক; জ্ঞানের প্রভাবে আমরা যেন সেই রক্ষা প্রাপ্ত হই)। [এই মন্ত্রের প্রচলিত অর্থের সাথে আমাদের পরিগৃহীত অর্থের কিছু পার্থক্য লক্ষিত হবে: প্রথমতঃ ক্রিয়াপদের বিষয়ে আমরা মতান্তর পোষণ করি। ভাষ্যে স্বস্তি-পদকে কর্মপদরূপে গ্রহণ করে দধাতু ক্রিয়াপদকে চারটি কর্তৃপদের সাথে অন্বিত করা হয়েছে। কিন্তু আমরা ঐ স্বস্তি পদকে সু ও অস্তি পদ দুটির সংযোগ বলে মনে করি। সু পদে সুখকর মঙ্গলপ্রদ অর্থ আনয়ন করা যায়। অস্তি ক্রিয়াপদে হয় অর্থে সঙ্গতি দেখি। অপিচ, ঐ অস্তি পদের প্রতিবাক্যে লোটের পদ গ্রহণ করলে, প্রার্থনাপক্ষে ভাব বেশ পরিস্ফুট হতে পারে। আমরা তাই স্বস্তি-পদের প্রতিবাক্যে সুখকরঃ মঙ্গলপ্রদঃ ভবতু প্রভৃতি পদ গ্রহণ করেছি। ঐরকম অর্থ পরিগ্রহণের পক্ষে একটি বিশেষ যুক্তি আছে। মন্ত্রে তিনটি স্বস্তি পদ দৃষ্ট হয়; এবং একটি দধাতু পদ আছে। আর মন্ত্রের মধ্যে চারটি কর্তৃপদ দেখতে পাই। তাতেই। বোঝা যায়, তিনটি স্বস্তি ও একটি দধাতুএই চারটি পদ ঐ চারটি কর্তৃপদের সাথে সম্বন্ধযুক্ত হয়ে রয়েছে। –এরপর দেবগণের সম্বন্ধে কি ভাব প্রাপ্ত হওয়া যায়, তা বোঝা যাক। বৃদ্ধশ্রবাঃ পদ ভগবান্ ইন্দ্রদেবের বিশেষণের মধ্যে পরিগণিত। ভাষ্যে প্রকাশ প্রভূত স্তোত্র বা হবিঃ ইন্দ্রদেব প্রাপ্ত হন বলে তিনি বৃদ্ধশ্রবাঃ বিশেষণে বিশেষিত হয়ে থাকেন। কিন্তু এখানে আরও দুরকম ভাব গ্রহণ করা যায়। বস শব্দে মঙ্গল বোঝায়– ধন বোঝায়। প্রভূত প্রকৃষ্ট মঙ্গল বা ধন যাঁতে আছে, তিনিই বৃদ্ধশ্রবাঃ। আমরা মনে করি– এই অর্থই সঙ্গত। এইরকম বিশ্ববেদাঃ পদে সকল ধনের অধিকারী বা সকল জ্ঞানের আধার বলে নির্দেশ করতে পারি। যিনি পোষণকারী পুষ্টিবিধায়ক দেবতা, তাতে যে সকল জ্ঞান কেন্দ্রীভূত হয়ে আছে, তা বলাই বাহুল্য। সেই জ্ঞানের দ্বারা, সেই ধনের দ্বারা তিনি মানুষকে পরিপুষ্ট করৈন; তাই তিনি পূষা অর্থাৎ পোষণকারী দেবতা। তাক্ষ্য বা অরিষ্টনেমিঃ পদ দুটিতে আমরা সম্পূর্ণ অন্য ভাব পরিগ্রহণ করি। তাক্ষঃ পদে ভাষ্যে তৃক্ষের পুত্র গরুত্মানঅর্থ গ্রহণ করা হয়েছে। এই অর্থ যে সৃঙ্গত, তা মনে হয় না। পরন্তু ভাষ্য অনুসারে অরিষ্টনেমিঃ পদ ঐ তাক্ষের বিশেষণৈর মধ্যে গণ্য হয়েছে। তাতে অর্থ দাঁড়িয়েছে রথের চক্ৰধারাযুক্ত গরুড়। বিষ্ণুত্র বাহন গরুড়, তিনি যেন রথরূপে (রথচক্ররূপে) বিদ্যমান থেকে বিষ্ণুকে বহন করেন। এইরকম একটা কুহেলিকাপূর্ণ ভাব নিয়ে ভাষ্য অনুসারে ঐ দুটি পদ গ্রহণ করা আবশ্যক হয়। কিন্তু আমরাও বলি, এখানে গতি-অর্থক তৃ ধাতু থেকে তাক্ষঃ পদ ব্যুৎপন্ন। তাতে ঐ পদে সৎপথে গমনশীল বা জ্যোতির্ময় অর্থ গ্রহণ করতে পারি। অরিষ্টনেমিঃ পদে অপ্রতিহত অবিনাশী কালচক্র অর্থ প্রাপ্ত হই। তাতে অহিংসিত অবাধ জীবনগতি বা অনন্তজীবনযাঁর, তিনিই অরিষ্টনেমিঃ পদে অভিহিত হন। এই রকম বৃহস্পতি পদে দেবগণের পালয়িতা অর্থাৎ দেবভাবের প্রবর্ধক প্রজ্ঞানরূপ দেবতার এ প্রতি লক্ষ্য আসে। ফলতঃ ভগবানের চতুর্বিধা :(বৃদ্ধশ্রবাঃ, বিশ্ববেদাঃ অরিষ্টনেমিঃ, বৃহস্পতি) বিভূতিকে সম্বোধন করে আত্মরক্ষার প্রার্থনা জ্ঞাপন করা হয়েছে– এটাই এখানে প্রতিপন্ন হয়। তিনি আদিদেব। সৃষ্টির আদিকালে একমাত্র তিনিই বিদ্যমান ছিলেন। তিনি প্রাণের প্রাণ মহাপ্রাণ। তার থেকেই ক্ষিতি (পৃথিবী), অপ (জল), তেজঃ (অগ্নি), মরুৎ (বায়ু) ও ব্যোম (আকাশ) উদ্ভূত হয়েছে। তিনি সকলের আদিভূত, তিনি পুরাণ– তিনি অনাদি। তিনি অজর অমর ক্ষয়বৃদ্ধিরহিত। তিনি সকল জ্ঞানের সকল সৎ বুদ্ধির আধার। তিনি বিশ্ববেদাঃ- সকল জ্ঞানের আধার। তাঁর শরণ গ্রহণ করো; তিনি তোমায় দিব্যজ্ঞান প্রদান করবেন। তার চরণে পুস্পাঞ্জলি প্রদান করো; একৈকশরণ্যভাবে তাঁর প্রতি ভক্তিমান হও। তাহলেই তাঁকে প্রাপ্ত হবে তাহলেই পরাগতিলাভে সমর্থ হবে। যিনি একাগ্র মনে ভগবানকে যাবজ্জীবন নিরন্তর স্মরণ করেন, সেই সদা স্মরণশীল যোগীর তিনি সহজলভ্য। মুক্ত মহাত্মারা তাকে লাভ করে আর দুঃখালয় নশ্বর সংসারে পুনর্জন্ম প্রাপ্ত হন না। পৃথিবী থেকে ব্রহ্মলোক (ব্রহ্মভুবন) পর্যন্ত সপ্ত লোকই (অর্থাৎ ভূঃ, ভুবঃ, স্বঃ, মহা, জন, তপঃ ও সত্যলোক বা ব্রহ্মলোক বা ব্রহ্মার লোক) পুনরাবর্তনশীল; কিন্তু তাঁকে লাভ করলে আর পুনর্জন্ম হয় না। অতএব একমাত্র তাঁরই শরণ নাও, তোমায় আর গতাগতির যন্ত্রণা ভোগ করতে হবে না। এই মন্ত্রেরই শুধু নয়, সমগ্র বেদের মধ্যেই এই কথাই ধ্বনিত প্রতিধ্বনিত হয়েছে]।

    — সামবেদ-সংহিতা সমাপ্ত —

    ⤶
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleশুক্ল যজুর্বেদ সংহিতা (অনুবাদ : দুর্গাদাস লাহিড়ী)
    Next Article কৃষ্ণ যজুর্বেদ সংহিতা (অনুবাদ : দুর্গাদাস লাহিড়ী)

    Related Articles

    দুর্গাদাস লাহিড়ী

    কৃষ্ণ যজুর্বেদ সংহিতা (অনুবাদ : দুর্গাদাস লাহিড়ী)

    August 28, 2025
    দুর্গাদাস লাহিড়ী

    শুক্ল যজুর্বেদ সংহিতা (অনুবাদ : দুর্গাদাস লাহিড়ী)

    August 28, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026
    Our Picks

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026

    ভুতুড়ে ট্রেন – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026

    ব্রাহ্মণ ভূত – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }