Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    সায়েন্স ফিকশন সমগ্র – হুমায়ূন আহমেদ

    হুমায়ূন আহমেদ এক পাতা গল্প1195 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    ০৭. ধন্যবাদ ফিবোনাক্কি

    বদরুল চোখ বড় বড় করে বলল, আবার কাগজ?

    মনসুর সাহেব বললেন, হ্যাঁ।

    মনসুর সাহেবের চোখ লাল। চুল উস্কুখুম্বু। গায়ে জ্বর আছে। আজ তিনি ক্লাসেও যাননি।

    কাগজ কতগুলো দেব? পাঁচ দিস্তা?

    না। দশ দিস্তা।

    গতকালই তো স্যার পাঁচ দিস্তা কাগজ নিয়ে গেছেন। শেষ হয়ে গেছে?

    হ্যাঁ।

    এক রাতে অঙ্ক করে ভরিয়ে ফেলেছেন?

    না। অন্য কাজে…

    বদরুল কৌতূহল চাপতে পারল না। আগ্রহ নিয়ে বলল, পাঁচ দিস্তা কাগজ দিয়ে কি করেছেন?

    নৌকা বানালাম। নৌকা বানালেন?

    কাগজের নৌকা?

    হুঁ।

    সেই নৌকা দিয়ে কি করলেন স্যার?

    মনসুর সাহেব অস্বস্তির সঙ্গে বললেন—নদীতে ভাসিয়ে দিয়েছি।

    বদরুলের মুখ হা হয়ে গেল। সে গলার বিস্ময় চাপা দেয়ার প্রাণপণ চেষ্টা করতে করতে বলল—মগরা নদীতে সব কাগজের নৌকা ভাসিয়ে দিয়েছেন?

    হুঁ।

    খুব ভালো করেছেন। পুলাপানরা কাগজের নৌকা ভাসাবে, আমরা ভাসাব না তা হয় না। বসেন স্যার চা খান।

    না চা খাব না। শরীর ভালো না।

    চা না খেলেও একটু বসুন। আপনার মতো জ্ঞানী লোকের পাশে কিছুক্ষণ থাকলেও গায়ে জ্ঞানের বাতাস লাগবে। প্লিজ স্যার চেয়ারটায় বসুন।

    মনসুর সাহেব কথা বাড়ালেন না। বসলেন।

    আপনি হলেন স্যার জ্ঞান-সমুদ্র। ছোটখাটো জ্ঞানী প্রায়ই দেখা যায় জ্ঞান-চৌবাচ্চা, জ্ঞান-ডোবা, জ্ঞান-পুকুর। কিন্তু জ্ঞান-সমুদ্র কখনো দেখা যায়। না। আপনি যে এসে বসে থাকেন এত ভালো লাগে।

    মনসুর সাহেব এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছেন। ছেলেটা ভালো রসিকতা করছে। সে সবার সঙ্গেই রসিকতা করে না শুধু তার সঙ্গেই করছে।

    বদরুল চোখ বড় বড় করে বলল, আমি স্যার একটা কাজ করব। আপনার কিছু পায়ের ধুলা ডেনোর একটা টিনে ভয়ে রাখব। জীবনের একটা সঞ্চয় হয়ে থাকবে। লোকজনদের বলতে পারব হায়াৎ মউতের কথাতো বলা যায় না। হঠাৎ একদিন মরে গেলেন তখন ধুলা পাব কোথায়?

    আমি আজ উঠি বদরুল?

    জ্বি আচ্ছা।

    মনসুর সাহেব উঠে দাঁড়াতে দাঁড়াতে বললেন–রসিকতা আমি করতে পারি না। সবাই সব জিনিস পারে না। রসিকতা করার বিদ্যা আমার অনায়ত্ত। তুমি করতে পার। তোমার রসিকতা শুনতে ভালো লাগে। তোমার রসিকতা শোনার ললাভেই মাঝে মাঝে এখানে এসে বসে থাকি।

    বদরুল হা করে তাকিয়ে রইল। মনসুর সাহেব বললেন—তোমাকে দেখি আর ভাবি প্রকৃতি মানুষকে কত বিচিত্র ক্ষমতা দিয়েই না পাঠিয়েছেন। রসিকতা করতে হলে তীক্ষ্ণবুদ্ধির প্রয়োজন। তুমি নির্বোধ। তারপরেও তুমি অসাধারণ সব রসিকতা কর। তোমাকে এই ক্ষমতা দিয়ে প্রকৃতি চোখে আঙুল দিয়ে আমাদের একটা জিনিস বুঝিয়ে দেন—তা হচ্ছেদেখ আমাকে দেখ। দেখ কি করতে পারি। বদরুল যাই। শরীরটা ভালো লাগছে না। নয়ত আরো কিছুক্ষণ বসতাম।

    তিনি সরাসরি বাসার দিকে রওনা হলেন। স্কুলে গেলেন। তাঁর পকেটে একটা দরখাস্ত সেখানে লিখলেন

    …আমার শরীর খুবই অসুস্থ। স্কুলের দায়িত্ব পালনে বর্তমানে অক্ষম। আমার অতি জরুরি কিছু ব্যক্তিগত কাজও শেষ করা প্রয়োজন। কাজেই আমি আর স্কুলে আসব না বলে স্থির করেছি। অবসর গ্রহণের আগেই আমি অবসর প্রার্থনা করছি।…

    হেডমাস্টার সাহেব স্কুলে ছিলেন না। ফুড ফর ওয়ার্ক প্রগ্রামে সরকার গম দিচ্ছে তিনি সেই গমের ব্যাপারে সিও সাহেবের সঙ্গে কথা বলতে গেছেন। কখন ফিরবেন ঠিক নেই। মনসুর সাহেব হেডস্যারের টেবিলে দরখাস্ত রেখে বাসার দিকে রওনা হলেন। তাঁর গায়ের তাপ আরো বেড়েছে, তিনি ঠিকমতো পা ফেলতেও পারছেন না। তাঁর মনে হল প্রকৃতির একটা নিষ্ঠুর দিক আছে। এই নিষ্ঠুরতা তিনি মানুষের ক্ষেত্রেই সবচে বেশি প্রয়োগ করেন। বয়সের সঙ্গে মানুষের জ্ঞান বাড়ে, বুদ্ধি বাড়ে, বিচক্ষণতা বাড়ে, যুক্তি বাড়ে কিন্তু এই সবের সমন্বয় করে কাজ করার যে ক্ষমতা তা কমতে থাকে। পরিপূর্ণ মাত্রায় সব দেয়ার শেষে হঠাৎ একদিন তিনি একসঙ্গে সব কেড়ে নেন।

     

    হরমুজ বলল, স্যার আপনের কি হইছে?

    শরীর ভালো না জ্বর আসছে। আর কিছু না। দুপুরে আমি কিছু খাব না। উপাষ দিব।

    ডাক্তার আনি।

    না ডাক্তার লাগবে না। তুমি ব্যস্ত হয়ো না।

    আপনার শরীরের এই অবস্থা আমি ব্যস্ত হব না। এটা স্যার কি বলেন।

    তুমি ভালো করে আমাকে লেবুর সরবত দাও। আর কিছু লাগবে না।

    লেবুর সরবত বানিয়ে এনে হরমুজ মনসুর সাহেবের গায়ে হাত রেখে প্রায় কেঁদে ফেলল। জ্বরে সর্বাঙ্গ পুড়ে যাচ্ছে। সে ভীত গলায় বলল, এত জটিল অবস্থা।

    মনসুর সাহেব ক্ষীণ গলায় বললেন, অবস্থা মোটেই জটিল না। অবস্থা সহজ। তুমি এখন আমার সামনে থেকে যাও আমি কাজ করব।

    এই শরীরে কি কাজ করবেন।

    কাজ শুরু করলে শরীরের কথা মনে থাকবে না।

    আপনার পায়ে ধরি স্যার আপনি বিশ্রাম করেন।

    হরমুজ সত্যি সত্যি পা ধরতে এগিয়ে এল। মনসুর সাহেব ধমক দিয়ে তাকে বিয়ে করে সত্যি সত্যি কাগজ কলম নিয়ে বসলেন। পুরানো সব ফাইল বের করলেন। সব হাতের কাছে থাকুক। একটা ভালো ক্যালকুলেটর থাকলে খুব উপকার হত। হিসেবগুলি দ্রুত করা যেত। আজিজ বেপারিকে বললে সে এনে দেবে। এই লোক তাকে পছন্দ করে। খুবই পছন্দ করে। এই জীবনে তিনি তেমন কিছু পান নি মানুষের ভালোবাসা পেয়েছেন। হরমুজের কথা ধরা যাক। তাকে অসুস্থ দেখে সে প্রায় কেঁদে ফেলেছিল। হেডমাস্টার সাহেবের কথাই ধরা যাক। তিনি অসুস্থ শুনলে দ্রলোক স্কুল ছুটি দিয়ে সব ছাত্র নিয়ে চলে আসবেন। ডাক্তার বজলুর রহমান…এমনকি বদরুল…

    মাথায় যন্ত্রণা হচ্ছে। তীব্র যন্ত্রণা। একটু আগে লেবুর সরবত খেয়েছেন এখন আবার পিপাসা বোধ করছেন। শরীরও কাঁপছে। ঘরে থার্মোমিটার থাকলেও জ্বর মাপা যেত। ঘরে কোনো থার্মোমিটার নেই।

    মনসুর সাহেব উবু হয়ে বসেছেন—বসার ভঙ্গির জন্যেই কি লিখতে কষ্ট হচ্ছে। তিনি বুকের নিচে বালিশ দিয়ে শুয়ে পড়লেন। বুকে হাঁপ ধরছে। ধরুক। ঘরে আলো কমে আসছে। আকাশে কি মেঘ আছে। চৈত্র মাসে এসব কি শুরু হল দুদিন পর পর বৃষ্টি—মনসুর সাহেব অঙ্কের পাশাপাশি লিখলেন–

    বৃষ্টি পড়ে টাপুর টুপুর
    নদেয় এল বান।

     

    স্যার কেমন আছেন?

    মনসুর সাহেব মাথা ঘুরিয়ে দেখলেন–ফিবোনাক্কি। দিনের বেলা এই প্রথম তাঁর দেখা পাওয়া। বাহ সুন্দর চেহারাতে। এত সুন্দর চোখ। যে কোনো সুন্দর জিনিস দেখামাত্র হাত দিয়ে ছুঁতে ইচ্ছা করে, শুরু চোখ ঠুতে ইচ্ছে করে না। ফিবোনাক্কি আবার বলল, কেমন আছেন স্যার?

    ভালো।

    কাজতো অনেকদূর করেছেন।

    চেষ্টা করছি।

    ঐ দুটা লাইন কি স্যার কবিতা?

    হুঁ।

    হঠাৎ কবিতা লিখলেন যে?

    বুঝতে পারছি না।

    আমার মনে হয় আপনার এখন বিশ্রাম করা উচিত। শুয়ে থাকুন।

    শুয়েই তো আছি।

    চোখ বন্ধ করে শুয়ে থাকেন।

    অল্প কিছু বাকি আছে ঐটা শেষ হলেই…

    মনসুর সাহেব কাগজের উপর ঝুঁকে পড়লেন। ফিবোনাক্কি বলল আমাকে কিছু কাগজ দেবেন স্যার।

    কি করবে?

    নৌকা বানাব। কাগজের নৌকা। ঐদিন নৌকা বানিয়ে খুব আরাম পেয়েছি। আপনি কি স্যার মগরা নদীতে আমার ভাসানো কাগজের নৌকা দেখেছেন?

    না।

    সবগুলি নৌকা যখন চলছিল দেখতে খুব মজা লাগছিল।

    তোমার কথায় আমার কাজের অসুবিধা হচ্ছে।

    তাহলে স্যার আর কথা বলব না। আমি যদি নিঃশব্দে নৌকা বানিয়ে যাই তাহলে কি কাজের অসুবিধা হবে?

    না।

    স্যার ঘরে কি মোম আছে।

    কেন?

    নৌকা পানিতে ভাসালে সমস্যা যা হয় তা হল কাগজ ভিজে যায়। কাগজ ভিজে নৌকা পানিতে তলিয়ে যায়। আমি ভাবছি মোম গলিয়ে নৌকার পেছনে লাগিয়ে দেব। তাহলে নৌকা আর ডুববে না।

    ঘরে মোম নেই।

    হরমুজকে দিয়ে আনানো যায় না?

    ফিবোনাক্কি তুমি আমাকে বিরক্ত করছ।

    নৌকার নিচটায় মোমতো মাখিয়ে দিলে নৌকা ভারি হবে বাতাসে সহজে দুলবে না।

    তুমি অকারণ কথা বলছ ফিবোনাক্কি—আমার চিন্তায় অসুবিধা হচ্ছে।

    আমি খুব দুঃখিত—স্যার পাই সংখ্যাটির রহস্যময়তা সম্পর্কে আপনার কি ধারণা? পাই হল বৃত্তের পরিধি এবং ব্যাসের অনুপাত। আপাত দৃষ্টিতে কত সহজ একটা ব্যাপার। আপনার রাশিমালায় এই পাই নিয়ে আসা যায় না…

    তুমি আমাকে আমার মতো কাজ করতে দাও।

    আমি আপনাকে সাহায্য করতে এসেছি।

    আমার কারোর সাহায্যের প্রয়োজন নেই।

    স্যার খুব ভুল কথা বলছেন—একা একা আগানো যায় না। আগাতে হলে সাহায্য লাগে…

    সবার লাগে না। গণিতজ্ঞ এবেলিয়ানের লাগেনি, রামানুজনের লাগেনি, আমার দাদাজানের লাগেনি…

    আপনার দাদাজানকে এঁদের সঙ্গে তুলনা করাটা কি ঠিক হচ্ছে?

    হ্যাঁ ঠিক হচ্ছে। তিনি মহান গণিতজ্ঞ ছিলেন তার প্রতিভা বাইরের কেউ জানতে পারেনি।

    ফিবোনাক্কি হাসছে। শব্দ করে হাসছে। মনসুর সাহেব বললেন, হাস কেন?

    হাসছি কারণ গণিতজ্ঞরা দুর্ভাগা। বেশির ভাগ গণিতজ্ঞের প্রতিভা অজ্ঞাত থেকে গেছে। সেই তুলনায় নিম্নমানের প্রতিভা অতি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে।

    যেমন?

    যেমন ধরুন গানের প্রতিভা। একজনের সুন্দর গানের গলা—তার প্রতিভা কখনোই চাপা থাকবে নাসে গান গাইবে। কেউ তা শুনবে। তারা অন্যদের জানাবে প্রতিভার খবর ছড়াবে জিওমেট্রিক্যাল প্রসেনের নিয়মে কিন্তু আপনাদের বেলায় ব্যাপারটা ভিন্ন। আপনারা কাজ করবেন সেই কাজ ফাইলবন্দি পড়ে থাকবে। এক সময় ফাইল যাবে হারিয়ে।

    তুমি আমাকে বিরক্ত করছ ফিবোনাক্কি। তোমার জন্যে আমি কাজ করতে পারছি না।

    আর বিরক্ত করব না কাজ করুন। আপনার মাথার যন্ত্রণার অবস্থা কি? এখনো যন্ত্রণা হচ্ছে?

    হ্যাঁ।

    খুব বেশি?

    হ্যাঁ।

    হরমুজকে বলুন যন্ত্রণার কোনো ওষুধ নিয়ে আসতে।

    তুমি আমাকে খুব বিরক্ত করছ।

    আপনার কষ্ট দেখে খারাপ লাগছে বলেই করছি। আর করব না।

    মনসুর সাহেব লিখে যাচ্ছেন। তাঁর চোখ আবার সমস্যা করছে—পানি পড়ছে। চোখ ঝাপসা হয়ে যাওয়ায় দেখতে অসুবিধা হচ্ছে। মাথার যন্ত্রণা তীব্র থেকে তীব্রতর হচ্ছে। কিছুক্ষণ ঘুমুতে পারলে ভালো হত। একবার ঘুমুতে গেলে সেই ঘুম আর ভাঙবে না। ঝুম ঝুম শব্দ হচ্ছে। বৃষ্টি হচ্ছে না-কি?

    ফিবোনাক্কি।

    জ্বি স্যার।

    বৃষ্টি হচ্ছে না-কি।

    হচ্ছে স্যার। এই জন্যেইতো নৌকা বানিয়ে এত আরাম পাচ্ছি।

    ফিবোনাক্কি নৌকা বানাচ্ছে। একটা দুটা না অসংখ্য। দ্রুত বানিয়ে যাচ্ছে। সে ঘর ভর্তি করে ফেলছে কাগজের নৌকায়।

    ফিবোনাক্কি গুন গুন করে গাইছে

    বৃষ্টি পড়ে টাপুর টুপুর নদে এল বান
    বৃষ্টি পড়ে টাপুর টুপুর নদে এল বান
    বৃষ্টি পড়ে টাপুর টুপুর নদে এল বান।

    একই লাইন বার বার, বার বার। গান শুনতে শুনতেই মনসুর সাহেব ঘুমিয়ে পড়লেন।

     

    হরমুজ হেডমাস্টার সাহেবকে খবর দিয়ে নিয়ে এসেছে। হেডমাস্টার সাহেব সত্যি সত্যি স্কুল ছুটি দিয়ে এসেছেন। এসেছেন আজিজ খা, বদরুল।

    মনসুর সাহেব চিৎ হয়ে পড়ে আছেন। মুখের কষ বেয়ে রক্তের ক্ষীণ ধারা। বুক ওঠা নামা করছে। প্রাণ এখনো আছে। কতক্ষণ থাকবে সেটাই কথা।

    ঘরময় কাগজ ছড়ানো—লেখা কাগজ, ভেঁড়া কাগজ, আর অসংখ্য কাগজের নৌকা।

    আজিজ খাঁ বললেন, এসব কি? কাগজের নৌকা।

    বদরুল বলল, স্যারের মাথায় গণ্ডগোল হয়ে গিয়েছিল—আমার কাছ থেকে কাগজ নিতেন—নৌকা বানিয়ে নদীতে ছাড়তেন।

    আজিজ খাঁ হুংকার দিয়ে বললেন, আগে বলনি কেন? কেন আগে বলনি?

    বদরুল কাঁদছে। তার চোখ দিয়ে টপ টপ পানি পড়ছে। হরমুজ কাদোকাদো গলায় বলল, এই কাগজগুলাই স্যারের সর্বনাশ করেছে। স্যার দিন রাত লেখতেন-লেখতে লেখতে…

    হেডমাস্টার সাহেব ক্ষিপ্ত গলায় বললেন—সব কাগজ নিয়ে আগুন দিয়ে। পুড়িয়ে ফেল। সব কাগজ। একটাও যেন না থাকে। হারামজাদা কাগজ।

    অচেতন অবস্থাতেও মনসুর সাহেব কথা বলার চেষ্টা করলেননা না। বলতে পারলেন না—শুধু তাঁর ঠোট কাপল।

    হেডমাস্টার সাহেব বললেন—এক্ষুণি উনাকে ঢাকায় নিয়ে যাবার ব্যবস্থা। করতে হবে। এক সেকেন্ডও দেরি করা যাবে না—আশ্চর্য কেউ একজন বললও না লোকটার এই অবস্থা? আমার চিৎকার করে কাঁদতে ইচ্ছা করছে… বলতে বলতে হেডমাস্টার সাহেবের চোখে পানি এসে গেল।

    আজিজ খা গাড়ি নিয়ে এসেছেন। গাড়ি সরাসরি ঢাকা যাবে। হরমুজ সব কাগজ আগুনে দিয়েছে। আগুন জ্বলছে দাউ দাউ করে

     

    হাসপাতালের ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিটে কিছুক্ষণের জন্যে মনসুর সাহেবের জ্ঞান ফিরল। অপরিচিত ঠাণ্ডা ঘর। শরীরে নানা যন্ত্রপাতি লাগানো। অক্সিজেন দেয়া হচ্ছে। কয়েকজন ডাক্তার এবং নার্স উদ্বিগ্ন চোখে তাকিয়ে আছেন। মনসুর সাহেব ব্যস্ত হয়ে খুঁজলেন ফিবোনাক্কিকে। ঐ তো ফিবোনাক্কি। তার সঙ্গে কথা বলা দরকার। কিন্তু ঠোট ফাঁক করার ক্ষমতা তার নেই কথাতো অনেক দূরের ব্যাপার। তিনি মনে মনে ডাকলেন—ফিবোনাক্কি।

    ফিবোনাক্কি সঙ্গে সঙ্গে জবাব দিল, জি স্যার।

    ওরা আমার সমস্ত কাগজপত্র আগুন দিয়ে পুড়িয়ে ফেলেছে।

    স্যার আমি জানি।

    তুমি কি খুশি হয়েছ ফিবোনাক্কি?

    ফিবোনাক্কি জবাব দিল না। মনসুর সাহেব বললেন–আমি তোমাকে আমার কল্পনার একটি অংশ ভেবে ভুল করেছিলাম। তুমি আমার কল্পনার অংশ নও। তুমি আসলেই শূন্য জগতের কেউ।

    স্যার আপনি ঠিকই ধরেছেন।

    তোমাকে পাঠানো হয়েছিল আমার কাজ নষ্ট করে দেয়ার জন্যে।

    জ্বি স্যার।

    যখন বুঝতে পারলাম তখন আর করার কিছু নেই। মনে হচ্ছে কিছুক্ষণের মধ্যেই মারা যাচ্ছি তাই না ফিবোনাক্কি।

    স্যার আমার তাই ধারণা।

    মৃত্যু কেমন ফিবোনাক্কি?

    মৃত্যু কেমন আমি বলতে পারছি না স্যার। আমাদের জগতে মৃত্যু নেই। আমরা বাস করি মৃত্যুহীন জগতে।

    ও।

    আমরা যদি আমাদের জগতটাকে সুরক্ষিত রাখতে চাই সেটা কি অন্যায়?

    না অন্যায় নয়।

    পৃথিবীর মানুষরা আমাদের জগতে ঢুকে পড়তে চাচ্ছে। তারা শূন্যের রহস্য একবার ধরে ফেললে আমাদের কি হবে? আমরা থাকতে চাই আমাদের মতো। সেখানে কারোরই প্রবেশাধিকার নেই। আমরা কিছুতেই এ রহস্য ভেদ করতে দেব না। যারাই এই চেষ্টা করবে তাদেরই আমরা দূরে সরিয়ে দেব। তাদের কাজ নষ্ট করে দেব।

    আমি এখন তোমাদের রহস্য জানি। আমিতো সমাধান করেছি।

    স্যার আমি জানি। এই জন্যেইতো আপনার কাজ পুড়িয়ে দেবার ব্যবস্থা হয়েছে।

    আমাতেই তো সব শেষ হচ্ছে না। আবারো একজন আসবেন।

    আমরা লক্ষ রাখি। কিছুই আমাদের লক্ষের বাইরে নয়।

    মনসুর সাহেবের ঘুম পাচ্ছে। চোখ আর মেলে রাখতে পারলেন না। মনে হচ্ছে। এটাই শেষ ঘুম। ফিবোনাক্কি বলল-স্যার শুনুন। তিনি বললেন, শুনছি।

    আমাকে ক্ষমা করে দিন স্যার। আমি যা করেছি আমার জগতের দিকে তাকিয়ে করেছি। আপনিও নিশ্চয়ই আপনার পৃথিবী, আপনার প্রিয় জগৎ রক্ষার জন্যে যা করণীয় তা করবেন। করবেন না স্যার?

    হ্যাঁ করব।

    স্যার আমি কি কিছু করতে পারি আপনার জন্যে।

    আমার সময় শেষ—এই শেষ সময়ে তুমি কি করবে?

    আপনার মস্তিষ্কে অনেক সুখ স্মৃতি আছে। তার একটি দেখতে দেখতে যেন আপনার জীবনের ইতি হয় সেই ব্যবস্থা করব।

    তার প্রয়োজন নেই ফিবোনাক্কি।

    আপনার জন্যে কিছু একটা করতে ইচ্ছা হচ্ছে স্যার। আমাকে দয়া করে অনুমতি দিন আপনার মস্তিষ্কের অতি গোপন একটা জায়গা থেকে মিষ্টি একটা স্মৃতি আমি বের করে আনি—আপনার ভালো লাগবে। আপনার খুব ভালো লাগবে।…

    মনসুর সাহেব কিছু বলার আগেই ঝমঝুম শব্দ শুনতে পেলেন। বৃষ্টির শব্দ। টিনের চালে বৃষ্টি পড়ছে। তিনি দেখলেন তিনি তাদের গ্রামের বাড়িতে শোবার ঘরে আধাশোয়া হয়ে আছেন। হাতে একটা বই। গভীর রাত। পাশের টেবিলে হারিকেন জ্বলছে। হারিকেনের ক্ষীণ আলোয় তিনি বৃষ্টির রাতে বই পড়ছেন দরজা ঠেলে কে ঢুকছে? আরে রূপা না! হাঁ রূপা। তাঁর কিশোরী বধূ। আহা কতদিন পর দেখলেন রূপাকে। এত সুন্দর মেয়ে। এত মিষ্টি চেহারা। রূপা বলল—এই বৃষ্টি হচ্ছে! বৃষ্টিতে ভিজবে?

    না না-পাগল হয়েছ দুপুর রাতে বৃষ্টিতে ভিজব কি? তোমার কি সব পাগলামি।

    রূপা মন খারাপ করে বসে আছে। তার চোখ ভিজে উঠেছে। ফিবোনাক্কি এই স্মৃতি কেন দেখাল। এই স্মৃতি তাঁর জীবনের দুঃখময় স্মৃতির একটি। তিনি সে রাতে স্ত্রীর সঙ্গে বৃষ্টিতে ভিজতে যাননি। এইসব ছেলেমানুষি তার চরিত্রে ছিল না।

    তিনি দেখছেন অভিমানে রূপার চোখ ভিজিয়ে উঠতে শুরু করেছে। তখন তিনি বই ফেলে দিয়ে বললেন—চল যাই ভিজি। রূপা আনন্দে হেসে ফেলল।

    ঘটনা এ রকম ঘটে নি। তিনি রূপাকে অগ্রাহ্য করে সে রাতে বই পড়েছেন—এখানে ঘটনা বদলে যাচ্ছে। ফিবোনাক্কি তাঁর স্মৃতি পাল্টে দিচ্ছে

    তিনি দেখছেন–রূপাকে নিয়ে উঠোনে নেমে গেছেন। ঝুম বৃষ্টি পড়ছে। বৃষ্টির শব্দের সঙ্গে গলা মিলিয়ে রূপা হাসছে খিলখিল করে…আহ কী সুন্দর স্মৃতিকী মধুর স্মৃতি। ফিবোনাক্কি চমক্কার একটি স্মৃতি তৈরি করে তাঁকে উপহার দিচ্ছে। তিনি গাঢ় স্বরে বললেন—ধন্যবাদ ফিবোনাক্কি। ধন্যবাদ।

    রূপার হাত ধরে তিনি বৃষ্টিতে ভিজছেন। এক একবার বিদ্যুৎ চমকাচ্ছে। সেই আলোয় দেখছেন জলভেজা আশ্চর্য মায়াবী এক মুখ…তিনি আবারো বললেন—ধন্যবাদ ফিবোনাক্কি।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40 41 42 43 44 45 46 47 48 49 50 51 52 53 54 55 56 57 58 59 60 61 62 63 64 65 66 67 68 69 70 71 72 73 74 75 76 77 78 79 80 81 82 83 84 85 86 87 88 89 90 91 92 93 94 95 96 97 98 99 100 101 102 103 104 105 106 107 108 109 110 111 112 113 114 115 116 117 118 119 120 121 122 123 124 125 126 127 128 129 130 131 132 133 134 135 136 137 138 139 140 141 142
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleনীল অপরাজিতা – হুমায়ূন আহমেদ
    Next Article মিসির আলির অমিমাংসিত রহস্য – হুমায়ূন আহমেদ

    Related Articles

    হুমায়ূন আহমেদ

    বোতল ভূত – হুমায়ূন আহমেদ

    January 3, 2026
    হুমায়ূন আহমেদ

    নিউইয়র্কের নীলাকাশে ঝকঝকে রোদ – হুমায়ূন আহমেদ

    January 3, 2026
    হুমায়ূন আহমেদ

    রং পেন্সিল – হুমায়ূন আহমেদ

    January 3, 2026
    হুমায়ূন আহমেদ

    বিবিধ / অগ্রন্থিত লেখা – হুমায়ূন আহমেদ

    January 3, 2026
    হুমায়ূন আহমেদ

    আজ হিমুর বিয়ে – হুমায়ূন আহমেদ

    January 3, 2026
    হুমায়ূন আহমেদ

    কৃষ্ণপক্ষ – হুমায়ূন আহমেদ

    January 3, 2026
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Our Picks

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }