Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    সায়েন্স ফিকশন সমগ্র ৪ – মুহম্মদ জাফর ইকবাল

    মুহম্মদ জাফর ইকবাল এক পাতা গল্প1092 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    ১৩. মুখোমুখি

    মুখোমুখি

    আমি আর জিগি সাবধানে দরজা খুলে বের হয়ে এলাম। মাথার ওপরে কপোট্রনের ইন্টাফেসটা বসাতে বেশ কষ্ট হয়েছে। সত্যিকারের সাইবর্গের মাথার চুলগুলো ইলেকট্রোলাইসিস করে তুলে ফেলা হয়। করোটিতে ইন্টারফেসটা ক্রু দিয়ে আটকানো হয়–আমাদের সেরকম কিছু নেই বলে যে কোনো মুহূর্তে পুরোটা খুলে পড়ে যাবার একটা আশঙ্কা আছে। হাঁটতে হচ্ছে সাবধানে, এক হিসেবে ব্যাপারটি মন্দ নয় কারণ তার ফলে আমাদের দেখাচ্ছে সত্যিকারের সাইবর্গের মতো।

    প্রথম কিছুক্ষণ আমরা ধরা পড়ে যাব সেরকম একটা আশঙ্কা আমাদের ভেতর কাজ করছিল। কিছুক্ষণের মাঝেই অবিশ্যি বুঝে গেলাম কেউ কিছু সন্দেহ করছে না। আমরা চোখে–মুখে সাইবর্গীয় একটা উদভ্রান্ত দৃষ্টি ফুটিয়ে হেঁটে যেতে থাকি। করিডরের এক মাথায় একটি লিফট। অন্যপাশে বিচিত্র একটি মহাকাশযান, তার ভেতরে কিছু কাজকর্ম করা হচ্ছে। আমি আর জিগি কাছাকাছি এসে দেখতে পেলাম বড় একটি গোলাকার মঞ্চের মতো জায়গা, সেখানে পাশাপাশি দুটি আসন, আসনগুলো খালি যারা এখানে বসবে তারা এখনো এসে পৌঁছায় নি।

    কিছুক্ষণের মাঝেই অবিশ্যি তারা পৌঁছে গেল। নুরিগাকে তার খাঁচার ভেতরে করে এনেছে, সে খাঁচার গারদগুলো ধরে স্থির দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে। নুরিগার পেছনেই একটি অপূর্ব সুন্দরী মেয়ে, তাকে দুপাশ থেকে দুটি শক্তিশালী সাইবর্গ ধরে রেখেছে। মেয়েটির চোখে–মুখে একটি বিচিত্র ধরনের আতঙ্ক, মনে হচ্ছে এখানে কী হচ্ছে সে বুঝতে পারছে না। এই মেয়েটি নিশ্চয়ই রিয়া–আমি তার সাথে কথা বলেছি। পরাবাস্তব জগতে আমার একটা অস্তিত্বের সাথে তার একটা অস্তিত্ব আটকা পড়ে আছে। হঠাৎ সম্পূর্ণ অপরিচিত এই মেয়েটির জন্যে আমি আমার বুকে গভীর মমতা অনুভব করলাম, আমার ইচ্ছে হল আমি তার কাছে ছুটে গিয়ে বলি, রিয়া তোমার কোনো ভয় নেই–আমরা তোমাকে রক্ষা করব।

    কিন্তু আমি সেটা বলতে পারলাম না, রিয়ার ঠিক পেছনে খ্রাউস, তার আশপাশে অসংখ্য সাইবর্গ–তাদের অনেকে সশস্ত্র।

    রিয়াকে দুই হাতে ধরে প্রায় টেনে নিয়ে যাচ্ছিল, তার মাঝে হঠাৎ করে সে থমকে দাঁড়িয়ে পেছনে ঘুরে তাকাল। খ্রাউসের চোখের দিকে তাকিয়ে বলল, এখানে কী হচ্ছে। আমাকে বলবে?

    খ্রাউস শীতল গলায় বলল, বিশেষ কিছু নয়।

    অবিশ্যি বিশেষ কিছু। তোমরা আমার কাছে খবর পাঠিয়েছ যে আমার মাথার ট্রাইকিনিওয়াল ইন্টারফেসটা খুলে দেবে। আমি সব কাজ ফেলে ছুটে এসেছি। এখানে হাজির হওয়া মাত্র আমাকে ধরে টেনেহিঁচড়ে নিয়ে যাচ্ছ যেন আমি একটা খুনি আসামি। আমাকে এভাবে ধরে নিয়ে যাচ্ছ কেন?

    কারণ আছে রিয়া।

    কী কারণ–সেটাই আমি জানতে চাই।

    খ্রাউস কিছু একটা বলতে যাচ্ছিল, তার আগেই রিয়া ক্রুদ্ধ গলায় বলল, তার আগে আমাকে আরো একটা প্রশ্নের উত্তর দাও।

    কী প্রশ্ন?।

    রিয়া খাঁচার ভেতরে আটকে থাকা নুরিগাকে দেখিয়ে বলল, এই মানুষটাকে তোমরা খাঁচার ভেতরে আটকে রেখেছ কেন? তোমরা বুঝতে পারছ না কাজটি কী ভয়ংকর অমানবিক?

    খ্রাউস হা–হা করে হেসে বলল, তুমি হচ্ছ পৃথিবীর সবচেয়ে নিখুঁত মানুষ কাজেই তোমার মানবিক অনুভূতিগুলো অন্য দশজন থেকে ভিন্ন। সবকিছুতেই অমানবিক কারণ খুঁজে পাও।

    তুমি বলতে চাও এটা অমানবিক নয়? অন্য দশজনের বেলায়

    এটা হয়তো অমানবিক কিন্তু এর বেলায় নয়।

    কেন?

    খ্রাউস উত্তর দেবার আগেই নুরিগা বিচিত্র ভঙ্গিতে হেসে উঠে বলল, কারণ আমি পৃথিবীর সবচেয়ে খারাপ মানুষ।

    রিয়া অবাক হয়ে বলল, কী বললে? পৃথিবীর সবচেয়ে খারাপ মানুষ?

    হ্যাঁ। খুব একটা মজার কথা বলছে এরকম একটা ভঙ্গি করে নুরিগা বলল, পৃথিবীর সবচেয়ে খারাপ মানুষ থেকে জিন্সগুলো নিয়ে আমাকে তৈরি করেছে। তাই আমি পৃথিবীর সবচেয়ে খারাপ মানুষ।

    এটা কী ধরনের যুক্তি মানুষ খারাপ হয়ে যেতে পারে কিন্তু তার জিন্স কেমন করে খারাপ হয়? ছোট বাচ্চা বড় হলে কি তার জিন্স পাল্টে যায়? কখনো একটা ছোট শিশু দেখেছ যে অপরাধী? দেখেছ?

    নুরিগা আবার হা–হা করে হেসে উঠে বলল, এটা তুমি ওদের বোঝাতে পারবে না।

    রিয়া তীব্র দৃষ্টিতে ব্রাউসের দিকে তাকাল, কিন্তু খ্রাউস তার দৃষ্টিকে পুরোপুরি উপেক্ষা করে বলল, চল, ওকে নিয়ে চল।

    রিয়া ঝাঁকুনি দিয়ে নিজেকে মুক্ত করার চেষ্টা করে বলল, তুমি এখনো বলে নি কেন আমাকে নিয়ে যাচ্ছ।

    বলি নি, কারণ সেটা শুনলে হয়তো তোমার ভালো লাগবে না।

    রিয়া খানিকক্ষণ নিঃশব্দে খ্রাউসের দিকে তাকিয়ে থেকে কাঁপা গলায় বলল, তোমরা আমাকে আর নুরিগাকে নিয়ে নিশ্চয়ই কোনো একটা অন্যায় কাজ করতে যাচ্ছ। অমানবিক কাজ করতে যাচ্ছ।

    ন্যায়–অন্যায় মানবিক–অমানবিক খুব আপেক্ষিক ব্যাপার।

    রিয়া ভয়ার্ত মুখে বলল, তার মানে তোমরা সত্যি সত্যি আমাদেরকে নিয়ে ভয়ংকর কিছু করছ।

    খ্রাউস রিয়ার কথার উত্তর না দিয়ে সাইবর্গগুলোকে বলল, এদেরকে নিয়ে যাও ভেতরে।

    রিয়া আরো কিছু একটা বলতে যাচ্ছিল কিন্তু সাইবর্গগুলো তাকে সে সুযোগ দিল না– অত্যন্ত রূঢ়ভাবে তাকে ধরে টেনেহিঁচড়ে নিতে শুরু করল। আমার আবার ইচ্ছে করল রিয়ার কাছে ছুটে গিয়ে তাকে বলি, তোমার কোনো ভয় নেই রিয়া। আমরা তোমাকে রক্ষা করব–যেভাবে পারি রক্ষা করব। কিন্তু তাকে সেটা বলতে পারলাম না। সাইবর্গগুলোর পেছনে নিঃশব্দে হাঁটতে থাকলাম।

    মহাকাশযানের ভেতরে যাবার আগে সবাইকে কোন ধরনের স্পেস সুট পরে নেবে বলে আমার একটা ধারণা ছিল কিন্তু দেখা গেল সেটি সত্যি নয়। সাইবর্গগুলো রিয়াকে তার আসনের কাছাকাছি দাঁড় করিয়ে সরে গেল, খ্রাউস কোথাও কোনো সুইচ স্পর্শ করতেই অদৃশ্য কোনো একটি শক্তির ক্ষেত্র নিচে নেমে এসে রিয়াকে আটকে ফেলল। রিয়া সেই অদৃশ্য ক্ষেত্রকে আঘাত করে কিন্তু সেটাকে ছিন্ন করতে পারে না। আমি শুনতে পেলাম সে কাতর গলায় চিৎকার করে বলছে, আমাকে এখান থেকে বের হতে দাও। তোমরা এভাবে আমাকে আটকে রাখতে পারবে না।

    খ্রাউস রিয়ার কাতর চিৎকারকে পুরোপুরি উপেক্ষা করে নুরিগাকে ভেতরে নিয়ে আসার জন্যে ইঙ্গিত করল। সাইবর্গগুলো তাদের যান্ত্রিক ক্ষিপ্রতায় নুরিগাকে ধাক্কা দিয়ে তার খাঁচাসহ ভেতরে নিয়ে গেল। তার জন্যে নির্দিষ্ট জায়গায় নুরিগাকে দাঁড় করিয়ে খ্রাউস কোথায় জানি স্পর্শ করতেই ওপর থেকে আবার এক অদৃশ্য শক্তি বলয় নিচে নেমে এসে নুরিগাকে তার ভেতরে আটকে ফেলল। খ্রাউস এবারে একটা সাইবর্গকে ইঙ্গিত দিতেই সে খাঁচার দরজা খুলে নুরিগাকে শক্তি বলয়ের মাঝে রেখে খাঁচাটা টেনে বের করে সরিয়ে নিল। মুরিগা পাথরের মতো মুখ করে নিঃশব্দে দাঁড়িয়ে রইল, শক্তি বলয়টি স্পর্শ করে দেখারও তার কোনো কৌতূহল নেই। খ্রাউস চাৰ্বদিকে তাকিয়ে সন্তুষ্ট হয়ে বলল, চমৎকার!

    রিয়া এতক্ষণে নিজেকে খানিকটা সামলে নিয়েছে। হঠাৎ করে সে বুঝতে পেরেছে যে তার আর কিছু করার নেই। সে স্থির হয়ে দাঁড়িয়ে থেকে বলল, তুমি এখন কী করবে?

    খ্রাউস মহাকাশযানটির চারদিকে তাকিয়ে ভেতর থেকে বের হয়ে এল। হাতে একটা চতুষ্কোণ কন্ট্রোল প্যানেলের ওপরে সযত্নে হাত বুলিয়ে বলল, তোমরা নিজেরাই দেখবে। তবে মনে হয় এখন সময় হয়েছে তোমাদের বলে দেবার। খ্রাউস মুখে এক ধরনের হাসি ফুটিয়ে গলায় খানিকটা নাটকীয়তা এনে বলল, পৃথিবীর সর্বশ্রেষ্ঠ মানবী রিয়া এবং সর্বনিম্ন মানব নুরিগা তোমাদের দুজনকে অভিনন্দন। কারণ তোমরা পৃথিবীর প্রথম মানব সন্তান যারা মহাজাগতিক অভিযান করে দূর কোনো একটি গ্যালাক্সিতে কোনো এক বুদ্ধিমান মহাজাগতিক প্রাণীর জগতে যাচ্ছ।

    রিয়া আর্তনাদ করে উঠল, চিৎকার করে বলল, না!

    হ্যাঁ। খ্রাউসের মুখে একটা পরিতৃপ্তির হাসি ফুটে ওঠে, সে চোখ নাচিয়ে বলে, বুদ্ধিমান একটি মহাজাগতিক প্রাণীর সাথে আমাদের যোগাযোগ হয়েছে। তারা আমাদের দিয়েছে নতুন নতুন প্রযুক্তি–তার বদলে আমরা তাদের দিচ্ছি দুটি পূর্ণাঙ্গ মানুষ। সবচেয়ে নিখুঁত এবং সবচেয়ে বড় অপরাধী।

    রিয়া শক্তি বলয়ে আটকা পড়ে থেকে রক্তহীন ফ্যাকাসে মুখে ব্রাউসের দিকে তাকিয়ে রইল। খ্রাউস হাতের চৌকোনা কন্ট্রোল প্যানেলের একটা বড় সুইচ স্পর্শ করতেই তীক্ষ্ণ এলার্মের শব্দ বেজে ওঠে। দেয়ালে হঠাৎ করে কিছু সংখ্যা ফুটে ওঠে। সংখ্যাগুলো প্রতি সেকেন্ডে একটি করে কমে কাউন্ট ডাউন ক্ষ হয়ে যায়। খ্রাউস মুখের হাসিকে আরো বিস্তৃত করে বলল, আজ আমার খুব আনন্দের দিন। মহাজাগতিক প্রাণীদের আমি কথা দিয়েছিলাম, আমি আমার কথা রেখেছি! তারাও তাদের কথা রেখেছে, আমাকে দিয়েছে অসাধারণ সব প্রযুক্তি!

    রিয়া চিৎকার করে বলল, তুমি এটা করতে পার না। পৃথিবীর মানুষ তোমাকে ক্ষমা করবে না। এটা অন্যায়, এটা বেআইনি।

    তুমি সত্যিই বলেছ। এটা বেআইনি। এটা অন্যায় কি না জানি না, কিন্তু এটা বেআইনি। কাজেই এটা কারো জানার কথা নয়। তাই আমার কাজে সাহায্য করার জন্যে আমি সাইবর্গ তৈরি করেছি। অসংখ্য সাইবর্গ। কাজ শেষ হলে তাদেরকে আমি ব্যাক্টেরিয়ার মতো মেরে ফেলব। এই দেখ–তাদেরকে আমি এখানে অচল করে রেখে যাব। এদেরকে নিয়ে এই পুরো এলাকাটা ধ্বংস করে দেওয়া হবে।

    খ্রাউস তার হাতের কন্ট্রোল প্যানেলের কোনো একটা সুইচ স্পর্শ করতেই মহাকাশযানটিকে ঘিরে থাকা অসংখ্য সাইবর্গ পা ভেঙে একসাথে লুটিয়ে পড়ল। দুজন ছাড়া আমি এবং জিগি।

    খ্রাউস সবিস্ময়ে আমাদের দিকে তাকিয়ে থাকে, সে নিজের চোখকে বিশ্বাস করতে পারে না। আমি একটু এগিয়ে নিচে পড়ে থাকা একটা সাইবর্গের হাত থেকে একটা ভয়ংকর দর্শন স্বয়ংক্রিয় অস্ত্র হাতে তুলে নিয়ে উসের দিকে এগিয়ে গেলাম। নিচু গলায় বললাম, না খ্রাউস, তোমার যন্ত্র ঠিকই আছে। সেখানে কোনো সমস্যা নেই। সমস্যা অন্য জায়গায়। আমরা সাইবর্গ নই।

    আমি মাথা থেকে কপোট্রনিক ইন্টারফেস খুলে ফেলতেই খ্রাউস বিস্ময়ে চিৎকার করে উঠল। বলল, তোমরা?

    হ্যাঁ।

    খ্রাউস হঠাৎ পাগলের মতো হেসে উঠে বলল, তোমরা একটু দেরি করে ফেলেছ! এই দেখ পৃথিবীর মানুষ কীভাবে দূর গ্যালাক্সিতে পাড়ি দেয়–

    আমি মাথা নাড়লাম। বললাম, দেবে না।

    পৃথিবীর কোনো শক্তি নেই যেটি এখন এই অভিযানকে থামাতে পারবে।

    আছে।

    খ্রাউস চিৎকার করে বলল, নেই।

    তুমি নিজের চোখেই দেখো–

    খ্রাউস অবিশ্বাসের দৃষ্টিতে কাউন্ট ডাউন সংখ্যার দিকে তাকিয়ে রইল। এটি কমতে কমতে শূন্যতে এসে স্থির হতেই প্রচণ্ড একটা বিস্ফোরণের শব্দ হল। হঠাৎ করে সমস্ত জায়গাটা দুলে উঠল, তীব্র আলোর একটা ঝলকানি দেখতে পেলাম, শক্তি বলয় থেকে রিয়া এবং নুরিগা দুজন দুদিকে ছিটকে পড়ল। কর্কশ এক ধরনের এলার্ম বাজতে থাকে, আঁজালো পোড়া গন্ধ এবং ধোঁয়ায় হঠাৎ করে চারদিকে অন্ধকার হয়ে আসে। খ্রাউস অবিশ্বাসের দৃষ্টিতে আমার দিকে তাকাল। দেখতে দেখতে সেই মুখ ভয়ংকর ক্রোধে হিংস্র হয়ে ওঠে, হঠাৎ করে সে আমার ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ল। আমি হাতের অস্ত্রটি দিয়ে তাকে গুলি করার চেষ্টা করলাম কিন্তু সে আশ্চর্য ক্ষিপ্রতায় নিজেকে রক্ষা করে আমার টুটি চেপে ধরল। খাউসের শরীরে ভয়ংকর শক্তি–আমার মনে হল তার লোহার মতো হাত দিয়ে বুঝি আমার। ঘাড়টি একটি কাঠির মতো ভেঙে ফেলবে।

    ঠিক তখন একটা বিস্ফোরণের শব্দ হল এবং শক্তিশালী একটি অস্ত্রের গুলিতে খ্রাউসের পুরো মাথাটি উড়ে গেল। প্রায় সাথে সাথেই থ্রাউসের আঙুলগুলো আমার গলায় শিথিল হয়ে আসে। আমি নিজেকে কোনোভাবে মুক্ত করে নিশ্বাস নেবার চেষ্টা করতে থাকি এবং তখন আমি একটা আর্তচিৎকার শুনতে পেলাম। মাথা ঘুরিয়ে দেখলাম রিয়া দুই হাতে নিজের মুখ চেপে ধরে নিজের চিৎকার থামানোর চেষ্টা করছে। কী দেখে সে চিৎকার করছে আমি অনুমান করতে পারি, টলতে টলতে কোনোভাবে সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে খ্রাউসের দেহের দিকে তাকালাম। গুলির আঘাতে তার মাথাটি উড়ে গিয়েছে, গলার শূন্য স্থান থেকে প্যাঁচপেচে সবুজ এক ধরনের তরল বের হচ্ছে, তার মাঝে কিলবিলে এক ধরনের প্রাণী। নুরিগা অস্ত্র হাতে হতবাক হয়ে দাঁড়িয়ে আছে, সে এইমাত্র গুলি করে খ্রাউসের মাথাটি উড়িয়ে দিয়েছে, কখনো কল্পনাও করে নি তারপর তাকে এই দৃশ্য দেখতে হবে।

    আমি বুক ভরে নিশ্বাস নিতে গিয়ে খকখক করে কেশে ফেললাম। কোনোভাবে কাশি থামিয়ে বললাম, এত অবাক হবার কিছু নেই। খ্রাউস মানুষ নয়। মহাজাগতিক প্রাণীর ডিকয়।

    নুরিগা মাথা নেড়ে বলল, আমার আনন্দটি পুরো হল না। আমি মানুষটি ভালো নই– মাথার ঘিলু উড়িয়ে দিলে এক ধরনের আনন্দ পাই। এটি তো দেখছি মানুষ নয়–এর মাথাও নেই, ঘিলুও নেই।

    রিয়া খ্রাউসের ভয়ংকর পরিণতি থেকে চোখ সরিয়ে নিয়ে আমার দিকে তাকিয়ে বলল, আমাদের রক্ষা করার জন্যে তোমাদের অনেক ধন্যবাদ। আমার নাম রিয়া–

    আমি জানি। আমি হেসে বললাম, আমার নাম ত্রাতুল। তোমার সাথে কথা বলেছিলাম মনে আছে?

    রিয়ার চোখ উজ্জ্বল হয়ে ওঠে। মাথা নেড়ে বলল, হ্যাঁ অবিশ্যি মনে আছে। রিয়া আরো কিছু একটা বলতে যাচ্ছিল কিন্তু জিগি বাধা দিল, উত্তেজিত গলায় বলল, পাশের হলঘরে আগুন লেগে গেছে। আমাদের এক্ষুনি সরে পড়তে হবে। একটা একটা করে সাইবর্গকে চালু করে দাও। তাড়াতাড়ি। সবাই হাত লাগাও।

    রিয়া জিজ্ঞেস করল, কেমন করে সাইবর্গ চালু করতে হয়?

    এই দেখো–কানের নিচে একটা সুইচ আছে। দু সেকেন্ড চাপ দিয়ে ধরে রেখো, এরা চালু হয়ে যাবে।

    কিছুক্ষণের মাঝেই সবগুলো সাইবর্গ জেগে উঠে ছোটাছুটি শুরু করল। আমরা তাদেরকে লিফট দিয়ে উঠে যাবার নির্দেশ দিয়ে ছুটতে শুরু করি। করিডরের ভেতর দিয়ে ছুটে যাবার সময় হঠাৎ করে একটা করুণ আর্তনাদ শুনতে পেলাম। আমি থমকে দাঁড়িয়ে বললাম, সর্বনাশ!

    রিয়া ভয়ার্ত মুখে বলল, কী হয়েছে।

    এই হলঘরের ভেতরে আগুন লেগেছে। তোমাদের বাচানোর জন্যে যে কাজটা করেছি তাতে আর কোনো উপায় ছিল না। কিন্তু–।

    কিন্তু কী? ভেতরে দুজন আটকা পড়ে আছে। সাইবর্গের হোষ্ট। দুজন বুদ্ধিহীন মানুষ।

    জিগি আমার দিকে আতঙ্কিত চোখে তাকাল। আমি কানার সিকিউরিটি কার্ড দিয়ে করিডরের দরজা খুলতেই হলঘরের ভেতর থেকে প্রচণ্ড গরম একটা আগুনের হলকা যেন আমাদের ঝলসে দিল। আমি সাবধানে ভেতরে তাকালাম, দূরে একটা চতুষ্কোণ যন্ত্রের পাশে দাঁড়িয়ে সাইবর্গ দুটি ভয়ে আতঙ্কে চিৎকার করছে, তাদের চারপাশে দাউদাউ করে আগুন জ্বলছে। আমি চিৎকার করে হাত নেড়ে ডাকলাম, এস–এদিকে চলে এস।

    বুদ্ধিহীন মানুষ দুজন আমার কথা শুনল কি না কিংবা শুনলেও বুঝতে পারল কি না জানি না। তারা একই জায়গায় দাঁড়িয়ে আতঙ্কে চিৎকার করতে লাগল। আমি আবার হাত নেড়ে ডাকলাম, আমার দেখাদেখি জিগি আর রিয়াও হাত নেড়ে ডাকতে লাগল কিন্তু কোনো লাভ হল না।

    নুরিগা একটু এগিয়ে গিয়ে বলল, ডেকে লাভ নেই।

    তা হলে?

    গিয়ে নিয়ে আসতে হবে। তোমরা দাঁড়াও আমি যাচ্ছি।

    তুমি যাচ্ছ? আমি অবাক হয়ে বললাম, তুমি এর ভেতরে যাচ্ছ? তোমার কি মাথা খারাপ হয়ে গেছে?

    না। মাথা খারাপ হয় নি। কিন্তু কাউকে যদি ভেতরে যেতে হয় তা হলে কি আমারই যাওয়া উচিত না? কেউ যদি মারাই যায় তা হলে সবচেয়ে খারাপ মানুষটাই মারা যাক।

    নুরিগার গলার স্বরে এক ধরনের জ্বালা ছিল সেটা আমাদের কানে স্পষ্ট ধরা পড়ল। আমি কিছু বলার আগেই রিয়া তার হাত স্পর্শ করে বলল, যে যাই বলুক, আমরা তোমাকে কখনো সবচেয়ে খারাপ মানুষ বলি নি।

    নুরিগা মাথা নেড়ে বলল, এসব নিয়ে পরে কথা বলা যাবে, ভেতরে দেরি হয়ে যাচ্ছে। আমি যাচ্ছি।

    আমাদেরকে কোনো কথা বলার সুযোগ না দিয়ে নুরিগা ছুটে ভেতরে ঢুকে গেল। আগুনের ভেতর দিয়ে ছুটে গিয়ে সে আতঙ্কিত দুজনকে ধরে টেনে নিয়ে আসতে থাকে। মানুষ দুটো তখনো কিছু বুঝতে পারছে না–একটানা চিৎকার করে যাচ্ছে। দরজার কাছাকাছি এসে একজনকে সে ধাক্কা দিয়ে বের করে দেয়, দ্বিতীয় মানুষটা তার হাত থেকে নিজেকে ছুটিয়ে নিয়ে আবার ভেতরে ছুটে যাবার চেষ্টা করে। নুরিগা আবার তাকে পেছন থেকে জাপটে ধরে নিয়ে আসে। দরজার দিকে তাকে ঠেলে দিতেই হলঘরের ভেতরে প্রচণ্ড একটা বিস্ফোরণের শব্দ হল। আগুনের একটা জ্বলন্ত গোলা ছুটে এসে হঠাৎ করে নুরিগাকে গ্রাস করে নেয়, আমরা হতবাক হয়ে দেখলাম প্রচণ্ড আগুনে নুরিগার সমস্ত শরীর দাউদাউ করে জ্বলছে। নুরিগা টলতে টলতে কোনোভাবে দাঁড়িয়ে থাকতে চেষ্টা করে কিন্তু পারে না, হুমড়ি খেয়ে পড়ে গেল, কোনোভাবে মাথা তুলে আমাদের দিকে তাকিয়ে কিছু একটা বলার চেষ্টা করল কিন্তু কথা শেষ হবার আগেই জ্বলন্ত একটি অগ্নিকূপ তাকে পুরোপুরি আড়াল করে ফেলল। চারদিকে শুধু আগুন আর আগুন। তার ভয়ংকর লেলিহান শিখা আর উত্তপ্ত বাতাসের হলকার মাঝে মনে হল আমরা শুনতে পেলাম নুরিগা চিৎকার করে বলছে, যাও! তোমরা যাও।

    রিয়া দুই হাতে মুখ ঢেকে হাউমাউ করে কেঁদে ফেলে, কিছু একটা বলতে যাচ্ছিল কিন্তু জিগি তার সুযোগ দিল না, বলল, পালাও, এক্ষুনি পালাও। পুরো এলাকাটি এক্ষুনি ধসে পড়বে।

    আমি রিয়ার হাত ধরে টেনে ছুটতে থাকি। জিগি সাইবর্গ মানুষ দুটির হাত ধরে আমাদের পিছু পিছু ছুটতে থাকে। করিডরের শেষ মাথায় লিফটের ভেতরে ঢুকে সুইচ স্পর্শ করার সাথে সাথে পুরো এলাকাটা আরো একটি ভয়ংকর বিস্ফোরণে কেঁপে উঠল, ভয়ংকর আগুনের লেলিহান শিখা আমাদের দিকে ছুটে আসে কিন্তু তার আগেই লিফটটি উপরে উঠতে শুরু করেছে। জিগি ফিসফিস করে বলল, আমরা বেঁচে গেলাম।

    এত নিশ্চিত হয়ো না। আমি জিগির দিকে তাকিয়ে হাসার চেষ্টা করে বললাম, আমরা এখনো এই কেন্দ্রের ভেতরে আটকা পড়ে আছি। এটা উসের আস্তানা। লিফট থেকে বের হওয়া মাত্রই আমরা ধরা পড়ে যাব।

    জিগি এক ধরনের আতঙ্ক নিয়ে আমার দিকে তাকাল। রিয়া কাঁপা গলায় বলল, কিন্তু আমরা সত্যি কথাটি সবাইকে জানিয়ে দেব।

    কেমন করে জানাবে?

    রিয়া হতবুদ্ধির মতো আমার দিকে তাকাল, আমি বললাম, সবাইকে জানাতে হলে আগে এখান থেকে বের হতে হবে। কেমন করে বের হবে?

    কেউ নেই সাহায্য করার?

    আছে। আমি মাথা নাড়লাম, তার নাম হচ্ছে ক্রানা। ক্ৰানা সাহায্য করেছে বলে আমরা এত দূর আসতে পেরেছি। যেভাবেই হোক আমাদের ক্রানাকে খুঁজে বের করতে হবে।

    ঠিক এই সময় লিফট থেমে গেল। লিফটের দরজা নিঃশব্দে খুলে যেতেই দেখি ঠিক আমাদের সামনে জানা উদ্বিগ্ন মুখে দাঁড়িয়ে আছে। আমাদের দেখে কানার মুখ হাসিতে উজ্জ্বল হয়ে উঠল, বলল, তোমরা বেঁচে আছ তা হলে

    আমি ক্ৰানাকে কথা শেষ করতে না দিয়ে ফিসফিস করে বললাম, আমাদের যেভাবে হোক বের হওয়ার একটা ব্যবস্থা করে দাও

    প্রয়োজন নেই?

    না।

    কেন?

    বাইরে সবাইকে বলতে হবে এখানে কী হচ্ছে।

    ক্রানা শব্দ করে হেসে বলল, তার কোনো প্রয়োজন নেই।

    কেন?

    সারা পৃথিবীর সবাই এখন এটি জানে!

    কেমন করে জানে?

    এস আমার সাথে

    ক্ৰানা আমাদের বড় একটি হলোগ্রাফিক স্ক্রিনের সামনে নিয়ে গিয়ে বলল, এই দেখ, সারা পৃথিবীতে একটু পরে পরে এই বুলেটিনটি প্রচারিত হচ্ছে।

    আমরা রুদ্ধশ্বাসে তাকিয়ে রইলাম, হঠাৎ করে হলোগ্রাফিক স্ক্রিনে একটি নারীমূর্তি স্পষ্ট হয়ে উঠল, আমরা অবাক হয়ে দেখলাম সেটি রিয়া। তার মুখে এক ধরনের ব্যাকুল ভাব, চোখে শঙ্কা। অনিশ্চিতভাবে সামনে তাকিয়ে কাঁপা গলায় বলল, পৃথিবীর মানুষেরা, আমি পুরোপুরি নিশ্চিত নই তোমরা আমাকে দেখতে পাচ্ছ কি না, আমার কথা শুনতে পাচ্ছ কি না। আমার নাম রিয়া, পৃথিবীতে অনেকে আমাকে কৌতুক করে ডাকত রাজকুমারী রিয়া, কারণ আমাকে জিনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং করে তৈরি করা হয়েছিল–বলা হয়ে থাকে আমি হচ্ছি পৃথিবীর নিখুঁত মানবী–যদিও আমি সেটা বিশ্বাস করি না, কোনো মানুষ সবচেয়ে নিখুঁত হতে পারে না, তা হলে মানুষের ভেতরের শক্তিকে ক্ষুদ্র করে দেখা হয়।

    আমার মনে হয় পৃথিবীর অনেক মানুষই আমার কথা শুনেছে, সেটা নিয়ে খানিকটা কৌতূহল এবং অনেক ক্ষেত্রে কৌতুক অনুভব করেছে। কিন্তু আজ আমি তোমাদের সামনে বলতে এসেছি যে এটি কৌতূহল বা কৌতুকের ব্যাপার নয়। এটি একটি ভয়ংকর ষড়যন্ত্রের ব্যাপার।

    আমি নিশ্চিত তোমরা জান না আমাকে যেরকম পৃথিবীর সবচেয়ে নিখুঁত হিসেবে তৈরি করা হয়েছে ঠিক সেরকম পৃথিবীর সবচেয়ে বড় অপরাধী হিসেবে একজনকে সৃষ্টি করার চেষ্টা করা হয়েছে। কাজটি করা হয়েছে গোপনে। সেই মানুষটি কখনো কোনো অপরাধ করে নি কিন্তু তবুও তাকে অপরাধী হিসেবে বিবেচনা করে শিকল দিয়ে বেঁধে খাঁচার মাঝে আটকে রাখা হয়েছে। পৃথিবীর ইতিহাসে এরকম নিষ্ঠুরতার কথা কেউ শুনেছে বলে আমার মনে হয় না। পৃথিবীর মানুষেরা, তোমরা এখনো পুরোটুকু শুনো নি–আমি নিশ্চিত শুনলে তোমরা আতঙ্কে শিউরে উঠবে।

    আমাদের দুজনকে তৈরি করার পেছনে একটি কারণ রয়েছে। কারণটি বৈজ্ঞানিক কৌতূহল নয়। কারণটি বলা যায় এক কথায়, ব্যবসায়িক। আর সেই ব্যবসাটি হচ্ছে কোনো এক মহাজাগতিক প্রাণীর সাথে। তারা পৃথিবীতে দেবে প্রযুক্তি তার বিনিময়ে পৃথিবী দেবে দুজন মানুষ। সবচেয়ে ভালো এবং সবচেয়ে খারাপ। একজন পুরুষ একজন মহিলা। আর এই সব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে গোপনে। পৃথিবীর সকল মানুষের অজান্তে।

    পৃথিবীর মানুষেরা–আমি জানি না, তোমরা আমার কথা শুনছ কি না। যদি শুনছ– আমি নিশ্চিত তোমরা নিশ্চয়ই ঘৃণা, আতঙ্ক এবং ক্রোধে শিউরে উঠছ। কিন্তু তোমরা এখনো পুরোটুকু শুনো নি।

    এই যে আমাকে দেখছ, আমি কিন্তু সত্যিকারের রিয়া নই। সত্যিকারের রিয়া এখন কোথায় আছে আমি জানি না। সম্ভবত তাকে দূর কোনো এক গ্যালাক্সিতে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে, ল্যাবরেটরিতে যেরকম করে গিনিপিগকে বিশ্লেষণ করা হত সেরকমভাবে বিশ্লেষণ করার জন্যে। আমি প্রকৃত রিয়ার একটি অস্তিত্ব। আমাকে একটা পরাবাস্তব জগতে তৈরি করা হয়েছে। আমার সাথে আরো অনেকে আছে। তারা আমাকে সাহায্য করেছে এই পরাবাস্তব জগৎটি দখল করে তোমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করার জন্যে।

    পৃথিবীর মানুষেরা। শুধু তোমরাই পারবে এই নিঃসঙ্গ ভয়ংকর পরাবাস্তব জগৎ থেকে আমাদের উদ্ধার করে আনতে। শুধু তোমরাই পারবে এই ভয়ংকর ষড়যন্ত্র রুখে দিতে। শুধু তোমরা। তোমাদের শুভবুদ্ধি আর তোমাদের ভালবাসা।

    রিয়ার প্রতিচ্ছবিটি খুব ধীরে ধীরে অস্পষ্ট হয়ে গেল। আমি রিয়ার দিকে তাকালাম, তার চোখে পানি টলটল করছে, আমি নরম গলায় বললাম, খুব সুন্দর করে বলেছ রিয়া।

    রিয়া মাথা নাড়ল, বলল, আমি বলি নি। ও বলেছে।

    ও আর তুমি এক রিয়া। তোমরা এখন দুজন দু জায়গায় আছ কিন্তু আবার তোমরা এক হবে।

    ঠিক এই সময় সমুদ্রের গর্জনের মতো এক ধরনের শব্দ শুনতে পেলাম। আমি অবাক হয়ে বললাম, এটি কীসের শব্দ?

    ক্রানা বলল, মানুষের। হাজার হাজার লক্ষ লক্ষ মানুষ বাইরে এসে একত্র হচ্ছে। তারা সব ভেঙে ভেতরে ঢুকে পড়তে চাইছে।

    সত্যি?

    হা সত্যি।

    ক্রানা রিয়ার দিকে তাকিয়ে বলল, মানুষ খুব খেপে উঠছে, তোমাকে একটু বাইরে গিয়ে তাদের শান্ত করতে হবে। তুমি ছাড়া আর কেউ পারবে না। রাষ্ট্রপতি আসছেন, বিজ্ঞান একাডেমির সভাপতিও আসছেন। সশস্ত্র বাহিনীর প্রধানরা চলে এসেছেন।

    রিয়া অবাক হয়ে তাকিয়ে রইল, ক্রানা হাত ধরে বলল, এস।

    শেষ কথা

    হ্রদের তীরে নৌকাটা পুরোপুরি থামার আগেই সবাই হৈ–হুঁল্লোড় করে নেমে এল। পানিতে ঝাপাঝাপি করে সবাই ভিজে গেছে কিন্তু কারো কোনো ভ্রুক্ষেপ নেই। সবাই মিলে ছুটি কাটাতে এসেছে–আজ এখানে কারণে–অকারণে আনন্দ এবং হাসির মেলা।

    ক্রানা তার দুই বছরের বাচ্চাটিকে ধরে রেখেছিল, সে নামার জন্যে আঁকুপাকু করতে থাকে। তাকে নামিয়ে দিতেই সে থপথপ করে দুই পা এগিয়ে গিয়ে তাল সামলাতে না পেরে হমড়ি খেয়ে পড়ে গেল। সেভাবেই সে হামাগুড়ি দিয়ে একটা লাল কাঁকড়ার কাছে এগিয়ে যায়। তাকে দেখে কাকড়াটি বালুর ভেতরে অদৃশ্য হয়ে গেল, শিশুটি তখন অবাক হয়ে চারদিকে দেখে, হাতের মুঠোর জিনিস যে হারিয়ে যেতে পারে এই অভিজ্ঞতাটুকু বুঝি এমন করেই মানুষের হয়।

    ক্রানা হ্রদের উথাল–পাতাল বাতাসে তার উড়ন্ত চুলগুলো সামলানোর চেষ্টা করতে করতে বলল, আচ্ছা রিয়া এবং ত্রাতুল, তোমরা প্রতি বছর এখানে বেড়াতে আস কেন?

    রিয়া আদুরে মেয়ের মতো আমার হাত জড়িয়ে ধরে রহস্য করে বলল, ব্যাপারটা গভীরভাবে রোমান্টিক! আমার সাথে ত্রাতুলের দেয়া হয়েছিল এখানে।

    জিগি গলা উঁচিয়ে বলল, বাজে কথা বলে না। তোমার সাথে ত্রাতুলের দেখা হয়েছিল পরাবাস্তব জগতে। একটা যন্ত্রের ভেতরে তার মেমোরি সেলে। তোমরা সত্যিকার মানুষ পর্যন্ত ছিলে না!

    রিয়া তীক্ষ্ণ চোখে জিগির দিকে তাকিয়ে বলল, তুমি কি বুকে হাত দিয়ে বলতে পারবে যে এই জগৎট সত্যি? তুমি সত্যি? তুমি কি বলতে পারবে যে তুমি এই মুহূর্তে অন্য কারো পরাবাস্তব জগতে বসে নেই?

    জিগিকে খানিকটা বিভ্রান্ত দেখায়, সে দুর্বলভাবে হাসার চেষ্টা করে বলল, না, তা অবিশ্যি পারব না–কিন্তু

    রিয়া মুখে কপট গাম্ভীর্য এনে বলল, কাজেই তুমি বড় বড় কথা বলো না। আমাদের কাছে আমাদের সেই জগৎটাই ছিল বাস্তব। তুমি যেটুকু বাস্তব দেখেছ তার চাইতেও বেশি বাস্তব।

    রিয়া একটি গভীর নিশ্বাস ফেলে বলল, সেই জায়গাটা ছিল এরকম। পাহাড়ের পাদদেশে নীল হ্রদ, দীর্ঘ বালুবেলা, বালুবেলার কাছে ঘন অরণ্য। তার সাথে হু–হুঁ করে। উথাল–পাতাল বাতাস। এখানে এলে আমাদের সেই জায়গাটার কথা মনে পড়ে তাই আমরা এখানে আসি।

    জিগি হাল ছেড়ে দেওয়ার ভঙ্গি করে মাথা নেড়ে বলল, আমি ভাবতেও পারি না। একজন মানুষ তার পরাবাস্তব জগতের স্মৃতি নিয়ে এরকম বাড়াবাড়ি করতে পারে!

    ক্রানা বলল, মনে আছে প্রথমবার যখন পরাবাস্তব জগৎ থেকে ত্রাতুল আর রিয়ার মাথায় স্মৃতি ফিরিয়ে নিয়ে আসা হল তখন কী হয়েছিল?

    হ্যাঁ! জিগি চোখ বড় বড় করে বলল, স্মৃতি লোড করার আগে দুজন প্রায় অপরিচিত মানুষ। কিন্তু লোড করার পর চোখ খুলেই দুজন দুজনের কাছে ছুটে এসে একজন আরেকজনকে জড়িয়ে ধরে সে কী হাউমাউ করে কান্না!

    আমি দুর্বল গলায় আপত্তি করার চেষ্টা করে বললাম, আমার যতদূর মনে আছে কান্নাকাটির অংশটি ছিল রিয়ার।

    রিয়া একটু লজ্জা পেয়ে বলল, ছিলই তো! তা আমি কী করব? জিনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং করে আমাকে এমনভাবে তৈরি করেছে যে অল্পতেই আমার চোখে পানি এসে যায়।

    জিগি চোখ ঘুরিয়ে বলল, তোমার ভারি মজা রিয়া। কিছু একটা হলেই জিনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিংকে দোষ দিতে পার। আমাদের বেলায় যাই করি না কেন পুরো দোষটা হয় আমাদের নিজেদের!

    জিগির কথা শুনে সবাই হো হো করে হেসে ওঠে, জিগির চতুর্দশ নম্বর বান্ধবী তার মাথায় একটা হালকা চাটি দিয়ে বলল, নিজেকে অন্যের সাথে তুলনা করো না জিগি। তোমার বেলায় সব দোষ যে আসলেই তোমার সেটা আমার থেকে ভালো করে কেউ জানে না।

    এই সাধারণ কথাটি শুনেই আবার সবাই হো হো করে হেসে উঠল।

    .

    সূর্য ডুবে যাবার পর আমি আর রিয়া বালুবেলায় হাঁটতে বের হলাম। আকাশে বড় একটা চাঁদ উঠেছে। তার ম্লান আলোতে দূরের পর্বতমালাকে কেমন জানি অপার্থিব দেখায়। সন্ধ্যাবেলার উথাল-পাতাল বাতাসে হ্রদের পানি ছলাৎ ছলাৎ করে তীরে এসে আঘাত করছে। চারপাশে সুনসান নীরবতা, মনে হয় আমরা বুঝি কোনো একটি অতিপ্রাকৃত জগতে চলে এসেছি।

    রিয়া আমাকে শক্ত করে ধরে রেখেছে যেন আমাকে ছাড়লেই আমি অদৃশ্য হয়ে যাব। এই মেয়েটির সাথে পরিচয় না হলে আমি কখনোই সত্যিকার অর্থে ভালবাসা জিনিসটি কী সেটা বুঝতে পারতাম না। তার ভালবাসার ক্ষমতা এবং সেটা প্রকাশ করার ক্ষমতা দেখে আমি মাঝে মাঝে অবাক হয়ে যাই।

    মাথার ওপর দিয়ে হঠাৎ করে একটা পাখি শব্দ করে ডেকে ডেকে উড়ে গেল, সেই ডাক শুনে কেমন জানি মন খারাপ হয়ে যায়। রিয়া একটা ছোট নিশ্বাস ফেলে বলল, মনে আছে ত্রাতুল?

    কীসের কথা বলছ?

    নুরিগার কথা।

    আমি একটা নিশ্বাস ফেলে বললাম, মনে নেই আবার?

    আমি চোখের সামনে সেই দৃশ্যটি দেখতে পাই। পরাবাস্তব জগতে এরকম একটি বালুবেলায় নুরিগা আমাদের কাছ থেকে বিদায় নিয়েছিল। আমরা তখন জেনে গেছি সত্যিকারের পৃথিবীতে দুটি সাইবর্গকে বাঁচাতে গিয়ে সত্যিকারের নুরিগা মারা গেছে, তার এখন পৃথিবীতে ফিরে যাবার কোনো উপায় নেই। পরাবাস্তব একটি জগতে সে চিরদিনের জন্যে আটকা পড়ে থাকবে। গভীর বেদনায় তার ভেতরটা নিশ্চয়ই দুমড়ে মুচড়ে যাচ্ছিল কিন্তু আমাদের সামনে সেটা প্রকাশ করল না। আমাদের দুজনকে আলিঙ্গন করে সে ফিসফিস করে বলেছিল, বিদায় ত্রাতুল। বিদায় রিয়া। পৃথিবীতে তোমাদের জীবন আনন্দময় হোক।

    আমরা কী বলব বুঝতে পারছিলাম না। নুরিগা অন্যমনস্ক ভঙ্গিতে বলল, আমার জন্যে তোমাদের ভালবাসার কথা আমার মনে থাকবে। তোমাদের সাথে দেখা না হলে আমি ভাবতাম সত্যিই বুঝি আমার জীবনের কোনো মূল্য নেই। সত্যিই বুঝি আমি তুচ্ছ। আমি অপরাধী।

    রিয়া কোনো কথা না বলে ফুঁপিয়ে কেঁদে উঠেছিল। নুরিগা ফিসফিস করে বলেছিল, আমি কখনো ভাবি নি আমার জন্যে কেউ চোখের পানি ফেলবে। তুমি জান রিয়া, আজ আমার কোনো দুঃখ নেই?

    তারপর নুরিগা হ্রদের বালুবেলায় বিষণ্ণ পদক্ষেপে হেঁটে হেঁটে চলে গিয়েছিল। আমরা দেখেছিলাম তার দীর্ঘ অবয়ব সন্ধ্যার অন্ধকারে দূরে মিলিয়ে যাচ্ছে। কোথায় আছে এখন সে? কেমন আছে?

    আমি রিয়ার দিকে তাকালাম, তার চোখে পানি চিকচিক করছে।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40 41 42 43 44 45 46 47 48 49 50 51 52 53 54 55 56 57 58
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleতারপর কী হল – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    Next Article কাবিল কোহকাফী – মুহম্মদ জাফর ইকবাল

    Related Articles

    মুহম্মদ জাফর ইকবাল

    ছোটগল্প – মুহম্মদ জাফর ইকবাল

    November 19, 2025
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল

    সাদাসিধে কথা – মুহম্মদ জাফর ইকবাল

    November 19, 2025
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল

    মেকু কাহিনী – মুহম্মদ জাফর ইকবাল

    November 19, 2025
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল

    আমার বন্ধু রাশেদ – মুহম্মদ জাফর ইকবাল

    November 19, 2025
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল

    সায়েন্স ফিকশান সমগ্র ১ – মুহম্মদ জাফর ইকবাল

    November 19, 2025
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল

    টুনটুনি ও ছোটাচ্চু – মুহম্মদ জাফর ইকবাল

    November 19, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Our Picks

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }