Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    সায়েন্স ফিকশন সমগ্র ৪ – মুহম্মদ জাফর ইকবাল

    মুহম্মদ জাফর ইকবাল এক পাতা গল্প1092 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    ০১. দ্রুমান ইঞ্জিন

    দ্রুমান ইঞ্জিন

    রিশি মনিটরে একটা গ্রহকে স্পষ্ট করতে করতে বলল, আমি আমার জীবনে যতগুলো গ্রহ দেখেছি তার মাঝে সবচেয়ে খারাপ হচ্ছে এই গ্রহটা।

    টিরিনা তার অবাধ্য চুলগুলোকে পিছনে সরিয়ে বলল, কেন? তুমি হঠাৎ এই গ্রহটার বিপক্ষে প্রচার শুরু করছ কেন? একটা গ্রহ হচ্ছে গ্রহ-তার মাঝে আবার ভালো খারাপ আছে নাকি?

    থাকবে না কেন? একশবার থাকবে।

    টিরিনা মুখ টিপে হেসে বলল, কী রকম?

    মনে কর যে গ্রহে খোলা আকাশ, নিশ্বাস নেবার মতো বাতাস আর পানিতে ঢাকা বিশাল বিশাল সাগর বা হ্রদ আছে সেটা হচ্ছে ভালো গ্রহ। যে গ্রহে সেগুলো নেই সেটা হচ্ছে খারাপ গ্রহ।

    টিরিনা খিলখিল করে হেসে বলল, তার মানে তুমি আসলে পৃথিবীকে ধরে নিয়েছ আদর্শ গ্রহ—যে গ্রহ যত বেশি পৃথিবীর কাছাকাছি সেই গ্রহ তোমার কাছে তত ভালো।

    রিশিকে এক মুহূর্তের জন্য একটু বিভ্রান্ত দেখায়, সে দ্রুত নিজেকে সামলে নিয়ে বলল, সেটা কি খুব অযৌক্তিক ব্যাপার হল? এখন না হয় আমরা সারা বিশ্বব্রহ্মাণ্ডে ছড়িয়ে পড়েছি—কিন্তু একসময় তো আমরা সবাই পৃথিবীতেই থাকতাম। আমাদের শরীরের বিবর্তন হয়েছে পৃথিবীর পরিবেশের উপযোগী হয়ে কাজেই পৃথিবীর মতো গ্রহকে ভালো বললে তোমার এত আপত্তি কেন?

    টিরিনা হাসল। বলল, মোটেও আপত্তি নেই। আমি শুধু বিষয়টি বোঝার চেষ্টা করছি।

    রিশি টিরিনার মুখে সূক্ষ্ম হাসি আবিষ্কার করে মুখটা অকারণে কঠোর করে বলল, উহুঁ, তুমি বোঝার চেষ্টা করছ না।

    তা হলে আমি কী করছি?

    তুমি আমার সাথে কৌতুক করার চেষ্টা করছ।

    টিরিনা আবার খিলখিল করে হেসে উঠল। হাসতে হাসতেই বলল, ঠিক আছে সেটাই না হয় হল—এটাও কি খুব বড় অপরাধ? আমরা দুইজন একটা মহাকাশযানে করে প্রায় আস্ত একটা গ্যালাক্সি পার হয়ে যাচ্ছি। বেশিরভাগ সময় কাটে আমাদের হিমঘরে। লিকুইড হিলিয়াম তাপমাত্রায় জমে পাথর হয়ে থাকি। দশ-বারো বছরে এক-আধবার আমাদের জাগিয়ে তোলা হয়। কিছুদিন আমরা জেগে থাকি তখন তোমার সাথে আমি কৌতুকও করতে পার না?

    রিশি বলল, না সেটা আমি বলি নি। কৌতুক করতে পারবে না কেন, অবশ্যই পারবে। মানুষের যদি কৌতুকবোধ না থাকত তা হলে তারা মনে হয় এখনো বিবর্তনের উল্টো রাস্তায় গিয়ে বনে-জঙ্গলে ঘুরে বেড়াত।

    টিরিনা চোখ বড় বড় করে রিশির দিকে তাকিয়ে বলল, তা হলে তোমার ধারণা বিবর্তনে আমরা ঠিক দিকেই এগুচ্ছি?

    রিশি বলল, কেন? তোমার কি সন্দেহ আছে নাকি?

    কী জানি? টিরিনা কাধ কঁকিয়ে বলল, এই আমাদের ছোটাছুটি দেখে মনে হয় বনে-জঙ্গলে ঘুরে বেড়ালেই বুঝি ভালো ছিল। তুমি দেখেছ আমরা এখন এক মুহূর্ত বিশ্রাম নিই না। দিশ-বারো বছরে একবার আমাদের হিমঘর থেকে বের করে, আমরা তখন ছোটাছুটি করতে থাকি। ইঞ্জিন পরীক্ষা করি, জ্বালানি পরীক্ষা করি, ট্রাজেক্টরি পরীক্ষা করি, মনিটরের আসনে বসে থাকি—তোমার কি ধারণা এটা খুব চমৎকার একটা জীবন?

    রিশি একটু অবাক হয়ে বলল, তোমার কী হয়েছে টিরিনা? আমি ভেবেছিলাম তুমি খুব আগ্রহ নিয়ে এই স্পেসশিপে এসেছিলে! হঠাৎ করে খেপে গেলে কেন?

    টিরিনা হাসল। বলল, না খেপি নি। এগুলোও বিবর্তনের ফল, মেয়েদের শরীরে অন্যরকম হরমোন থাকে—তোমরা ছেলেরা সেটা বুঝবে না। ছেলেরা এসব বিষয়ে একটু ভোতা হয়

    এবারে রিশি হা হা করে হেসে উঠল, বলল, তোমার কপাল ভালো মহাকাশযানে শুধু আমি আর তুমি! অন্য কেউ হলে পুরুষ জাতির বিরুদ্ধে অশোভন উক্তি করার জন্য তোমার বিরুদ্ধে নালিশ করে দিত, পঞ্চম মাত্রার অপরাধ হিসেবে তোমার এতক্ষণে বিচার হয়ে যেত।

    ভারি তোমার বিচার—তোমার এই বিচারকে আমি ভয় পাই নাকি? বড়জোর এক বেলা কফি খেতে দেবে না।

    শাস্তি হচ্ছে শাস্তি। কী পরিমাণ শাস্তি পেয়েছ সেটা গুরুত্বপূর্ণ নয়। শাস্তি পেয়েছ কি না সেটা গুরুত্বপূর্ণ।

    মহাকাশযানের এই লম্বা যাত্রাগুলোতে যারা কোনো শাস্তি পায় না, উল্টো তাঁদেরই শাস্তি হওয়া দরকার বুঝতে হবে তাদের ভেতরে কোনো উৎসাহ-উদ্দীপনা নেই। আনন্দ স্ফূর্তি নেই।

    ভালোই বলেছ। বলে হাসতে হাসতে রিশি আবার মনিটরের দিকে তাকাল এবং তার মুখের হাসি মিলিয়ে সেখানে এবারে একটা বিতৃষ্ণার ভাব ফুটে ওঠে। সে মাথা নেড়ে বলল, ছি! এটা একটা গ্রহ হল নাকি?

    টিরিনা একটু এগিয়ে যায় গ্রহটা দেখার জন্য, মনিটরে কদাকার গ্রহটিকে একনজর দেখে বলল, তুমি ঠিকই বলেছ, এটা ভালো গ্রহ না। বিচ্ছিরি একটা গ্রহ।

    এর মাঝে বাতাস আছে কিন্তু সেই বাতাস হালকাভাবে বিষাক্ত। এই গ্রহ শীতল নয় কিন্তু তাপমাত্রা এমন যে তুমি কখনোই অভ্যস্ত হবে না। আলো আছে কিন্তু ঠিক ভুল তরঙ্গ দৈর্ঘ্যের, সবকিছুকে দেখাবে লালচে পচা ঘায়ের মতো।

    টিরিনা গ্রহটাকে তীক্ষ্ণ চোখে দেখতে দেখতে বলল, গ্রহটার কোনো নাম আছে নাকি?

    না। এই পচা গ্রহকে কেউ নাম দিয়ে সময় নষ্ট করবে ভেবেছ? এর কোনো নাম নেই—এটার কপালে জুটেছে শুধু একটা সংখ্যা, সাত সাত তিন দুই নয়।

    টিরিনা তথ্যকেন্দ্রের মডিউলটি টেনে নামাতে নামাতে বলল, দেখি আমাদের তথ্যকেন্দ্রে এর সম্পর্কে কোনো তথ্য আছে নাকি।

    মডিউলের সাথে যোগাযোগ করার এক মুহূর্ত পরেই টিরিনা চিৎকার করে বলল, কী আশ্চর্য!

    রিশি এগিয়ে আসে, কী হয়েছে?

    টিরিনা উত্তেজিত গলায় বলল, তুমি এটা বিশ্বাস করবে না, কিছুতেই বিশ্বাস করবে।

    কী বিশ্বাস করব না?

    তোমার এই ভয়ংকর পচা গ্ৰহটাতে কোনো একজন মানুষ আটকা পড়ে আছে। সে বিপদ সংকেত পাঠাচ্ছে!

    রিশি চোখ কপালে তুলে বলল, কী বলছ তুমি?

    আমি ঠিকই বলছি, এই দেখ। টিরিনা তথ্যকেন্দ্রের মডিউলটি রিশির সামনে খুলে দিল। সত্যি সত্যি সেখানে দেখা যাচ্ছে এই গ্রহটি থেকে কোনো একজন মানুষ চতুর্থ মাত্রার একটা বিপদ সংকেত পাঠাচ্ছে। বিপদ সংকেতটি কোনো যান্ত্রিক ত্রুটি থেকে আসছে না। তার মাঝে বিপদ সংকেতের বিভিন্ন পর্যায়ের কোড রয়েছে, সেটি নিখুঁতভাবে নিরাপত্তাসূচক সংকেত ব্যবহার করছে। বিপদ সংকেতটি খুব দুর্বল। যে পাঠাচ্ছে সে তার শক্তিটুকু অপচয় করছে না, যে পরিমাণ সংকেত না পাঠালেই নয় তার বেশি কিছু পাঠাচ্ছে না।

    রিশি আর টিরিনা বিপদ সংকেতটি বিশ্লেষণ করল, যে এখালে আটকা পড়ে আছে তার ভয়াবহ সংকট। খাবার এবং পানীয় শেষ হয়ে গেছে, কোনোরকম জ্বালানি নেই, সঞ্চিত শক্তিও শেষ হয়ে যাচ্ছে। টিরিনা কিছুক্ষণ তথ্যকেন্দ্রের মডিউলটির দিকে তাকিয়ে থেকে মাথা নেড়ে বলল, একটা জিনিসের হিসাব মিলছে না।

    কী জিনিস?

    এই গ্রহে কোনো মানুষের বেঁচে থাকার কথা নয়।

    পরিষ্কার সিগন্যাল পাঠাচ্ছে—

    সিগন্যাল পাঠানোর কথা নয়।

    কেন?

    এই গ্রহ থেকে প্রাকৃতিকভাবে কোনো শক্তি আসবে না যতখানি শক্তি নিয়ে শুরু করবে সেটাই সম্বল।

    হ্যাঁ। রিশি মাথা নাড়ল, বলল, প্রায় কুড়ি বছর আগে প্রথম দলটা গিয়েছে। তাদের সাথে যে সাপ্লাই ছিল সেটা খুব বেশি হলে চার বছরের। চার বছরের আগেই ঠিক করা হল গ্রহটা ছেড়ে চলে আসা হবে–।

    টিরিনা উত্তেজিত গলায় বলল, এই এখানেই হিসেব মিলছে না—যতবার তাদেরকে উদ্ধার করতে পাঠানো হয়েছে ততবারই অভিযাত্রী দল রয়ে গিয়েছে—ফিরে আসে নি। কিন্তু যে পরিমাণ রসদ জাছে সেটা দিয়ে কিছুতেই তাদের চলার কথা নয়।

    রিশি মাথা নাড়ল, কিন্তু চলছে। এই দেখ একজন হলেও সে কোনোভাবে বেঁচে আছে। সে পাগলের মতো বিপদ সংকেত পাঠিয়ে যাচ্ছে।

    তার মানে কিছু বুঝতে পারছ?

    রিশি বলল, না। তুমি বুঝতে পারছ?

    হ্যাঁ।

    কী?

    আমাদের এই গ্রহে গিয়ে এই উন্মাদ মানুষটাকে উদ্ধার করতে হবে।

    রিশি ভুরু কুঁচকে বলল, তুমি কেমন করে জান মানুষটা উন্মাদ?

    এরকম জঘন্য একটা গ্রহে কোনোরকম খাবার পানীয় ছাড়া একা একা কুড়ি বছর থাকতে হলে যে কোনো মানুষ পাগল হয়ে যাবে।

    রিশি বলল, ঠিকই বলেছ। আমি হলে আত্মহত্যা করে ঝামেলা চুকিয়ে দিতাম।

    এই মানুষ করে নি, সেই জন্যই বলছি মানুষটা নিশ্চয়ই উন্মাদ। এই গ্ৰহটাকে মোটামুটিভাবে ভালবেসে ফেলেছে।

    যে মানুষটা আছে তার পরিচয়টা কী? বের করা যাবে?

    উহুঁ। এখন পর্যন্ত অনেকে গিয়েছে, যে কেউ হতে পারে।

    রিশি বলল, যাবার আগে মানুষগুলো সম্পর্কে একটু খোঁজখবর নিয়ে যেতে হবে।

    হ্যাঁ। আমি তথ্যকেন্দ্র থেকে বের করছি।

    আমি তা হলে স্কাউটশিপটা রেডি করি। রিশি কন্ট্রোল রুম থেকে বের হয়ে যেতে যেতে বলল, একটু আগে তুমি অভিযোগ করেছিলে শুধু হিমঘরে ঘুমিয়ে ঘুমিয়ে সময় কাটাতে হয়, জীবনে কোনো উত্তেজনা নেই! এখন কী মনে হচ্ছে জীবনে উত্তেজনা এসেছে?

    টিরিনা হাসল। বলল, হ্যাঁ খানিকটা উত্তেজনা এসেছে। মানুষটা একটু খ্যাপা টাইপের মতো হলে উত্তেজনাটুকু আরেকটু বাড়বে।

     

    দূর থেকে গ্রহটাকে যত কদাকার মনে হচ্ছিল কাছে এসে সেটা তার চাইতে অনেক বেশি কদাকার মনে হল। রিশি ঠিকই বলেছিল এই গ্রহের প্রাকৃতিক আলোটা লালচে, পুরো গ্রহটাকে কেমন যেন পচা ঘায়ের মতো মনে হয়। স্কাউটশিপ দিয়ে গ্রহটার ভেতরে নামতে নামতে টিরিনা এক ধরনের বিতুল্লা নিয়ে গ্রহটার দিকে তাকিয়ে রইল। কোনো একজন মানুষ যদি একা একা এখানে কুড়ি বছর কাটিয়ে দেয় তার নিশ্চিতভাবেই পাগল হয়ে যাবার কথা।

    বিপদ সংকেতের সিগন্যালটি খুঁজে বের করে কিছুক্ষণেই তারা একটা বিধ্বস্ত আবাসস্থল খুঁজে বের করে ফেলল। স্কাউটশিপ দিয়ে আবাসস্থলের উপরে দুপাক ঘুরে তারা কাছাকাছি নেমে আসে। বৈরী গ্রহটায় টিকে থাকার উপযোগী মহাকাশচারীর পোশাক পরতে পরতে টিরিনা বলল, রিশি, স্বয়ংক্রিয় অস্ত্রটা নিতে ভুলো না।

    কেন?

    যে মানুষটা আছে সে কেমন মানুষ আমরা জানি না। যদি বাড়াবাড়ি খ্যাপা ধরনের হয় তা হলে একটু সাবধান থাকা ভালো।

    হুঁ। রিশি মাথা নেড়ে বলল, এটাই এখন বাকি আছে একটা মানুষকে উদ্ধার করতে এসে আমরা তাকে খুন করে যাই।

    আমি বলি নি তাকে খুন করে যাও। বলেছি একটু সাবধান থাক।

    রিশি হাসল। বলল, আমি জানি টিরিনা। তোমার সাথে ঠাট্টা করছি। একটু পরে যখন এই মানুষটার সাথে দেখা হবে আমি গ্যারান্টি দিয়ে বলতে পারি তখন কোনো ঠাট্টা-তামাশা করা যাবে না!

    মহাকাশচারীর প্রায় আধা কিম্ভূতকিমাকার পোশাক পরে দুজনে পা টেনে টেনে প্রায় বিধ্বস্ত আবাসস্থলের কাছে হাজির হল। পুরোটা প্রায় ধসে আছে—সত্যিকার অর্থে কোনো দরজা নেই। কিছু ইট-পাথর সরিয়ে একটা সুড়ঙ্গ মতন করে রাখা আছে—এটাকেই মনে। হয় দরজা হিসেবে ব্যবহার করা হয়। রিশি গিয়ে সেই দরজায় ধাক্কা দিল, একটু পেছনে। টিরিনা স্বয়ংক্রিয় অস্ত্র হাতে দাঁড়িয়ে রইল। বার কয়েক শব্দ করার পর ঘড়ঘড় করে শব্দ করে একটা গোলাকার দরজা খুলে যায়। রিশি সতর্কভাবে ভেতরে ঢুকল, পেছনে পেছনে টিরিনা। ভেতরে আবছা অন্ধকার, চারপাশে একটা মলিন বিবর্ণ ভাব, দেখেই কেমন যেন অসুস্থ-অশুভ বলে মনে হয়। ঘড়ঘড় শব্দ করে আবার দরজাটা বন্ধ হয়ে যায়, তারা শুনতে পারল একটা দুর্বল পাম্প ভেতরের বিষাক্ত বাতাস সরিয়ে নিশ্বাস নেবার উপযোগী বাতাস দিয়ে ভরে দিচ্ছে। সহজ কাজটুকু করতে দীর্ঘ সময় লেগে গেল, যে মানুষটি এখানে থাকে সে তার সঞ্চিত শক্তি বাচিয়ে রাখার জন্য কোথাও এতটুকু বাজে খরছ করতে রাজি নয়।

    একসময় ভেতরে বাতাসের চাপ গ্রহণযোগ্য হয়ে এল এবং তখন ঘড়ঘড় শব্দ করে ভেতরের দরজা খুলে গেল। রিশি এবং টিৰিনা হাতে স্বয়ংক্রিয় অস্ত্রটি ধরে রাখে। দরজার অনাপাশে উসকোখুসকো চুলের মধ্যবয়স্ক একজন মানুষ দাঁড়িয়ে আছে। মানুষটিও দুই হাতে একটি টাইটেনিয়ামের রড ধরে রেখেছে, তার চোখ দুটো অপ্রকৃতিস্থ মানুষের মতো জ্বলজ্বল করছে। রিশি একটু ইতস্তুত করে বলল, আমরা তোমার বিপদ সংকেত পেয়ে তোমাকে উদ্ধার করতে এসেছি।

    মানুষটা হাতের টাইটেনিয়ামের রডটি ধরে রেখে সতর্ক গলায় বলল, এল। ভেতরে এস। মানুষটির গলার স্বর শুষ্ক এবং কঠিন।

    রিশি ভেতরে ঢুকতে ঢুকতে বলল, আমার নাম রিশি। আর আমার সাথে আছে টিরিনা।

    মানুষটি বলল, আমার নাম মান। তোমাকে অভিবাদন ধ্রুমান।

    তোমাদেরকেও অভিবাদন। আমাকে উদ্ধার করতে আসার জন্য তোমাদের প্রতি অনেক কৃতজ্ঞতা।

    রিশি একটু অবাক হয়ে দেখল, মানুষটি মুখে তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছে কিন্তু হাতে শক্ত করে টাইটেনিয়ামের বন্ডটি ধরে রেখেছে। মানুষটি বলল, তোমরা ইচ্ছে করলে এই পোশাক খুলে ফেলতে পার। আমার এই ঘর দেখে খুব বিবর্ণ মনে হলেও এটি পুরোপুরি নিরাপদ।

    রিশি এবং টিরিনাও সেটা লক্ষ করেছে। মহাকাশচারীর পোশাকের নিরাপত্তাসূচক আলোটি অনেকক্ষণ থেকেই সবুজ হয়ে আছে। টিরিনা তার পোশাকটি খুলতে গিয়ে থেমে গেল, জিজ্ঞেস করল, মান! তুমি হাতে এই টাইটেনিয়ামের রডটি অস্ত্রের মতো করে ধরে রেখেছ কেন?

    মান নিজের হাতের দিকে তাকাল এবং মনে হল ব্যাপারটি প্রথমবার লক্ষ করল। সে একটু অপ্রস্তুত হয়ে হাতের টাইটেনিয়ামের রঙটি একটা শেলফে রেখে বলল, তোমরা কিছু মনে করো না। আমি বিশ বছর একা একা এই হটাতে আছি। আমার আচার-ব্যবহারে নানা ধরনের অসঙ্গতির জন্ম হয়েছে—তোমরা কিছু মনে করো না।

    টিরিনা হেলমেটটা খুলে হাতে নিয়ে বলল, না আমরা কিছু মনে করব না। একা একা থাকার জন্য বিশ বছর খুব দীর্ঘ সময়।

    রিশি বলল, কোনো রকম খাওয়া, পানীয়, জ্বালানি ছাড়া তুমি কেমন করে এতদিন এখানে বেঁচে আছ?

    কষ্ট করে।

    কিন্তু শুধু কষ্ট করে তো এটি সম্ভব নয়।

    দ্রুমান একটু হাসার চেষ্টা করল, সব মানুষকেই হাসলে সুন্দর দেখায় কিন্তু যে কোনো কারণেই হাসিমুখে দ্রুমানকে মুহূর্তের জন্য কেমন জানি ভয়ংকর দেখাল। সে তার এই ভয়ংকর হাসিটি বিস্তৃত করে বলল, আমাকে বেঁচে থাকার জন্য অনেক ফন্দিফিকির করতে হয়েছে।

    রিশি তার পোশাক খুলতে খুলতে বলল, হ্যাঁ, ফিরে যাবার আগে আমরা তোমার ফন্দিফিকির দেখতে চাই।

    দ্রুমান আবার ভয়ংকর হাসিটি হেসে বলল, দেখবে। নিশ্চয়ই দেখবে।

    টিরিনা বলল, তোমার এখানে দেখছি নিয়মিত ইলেকট্রিক সাপ্লাই আছে। তার মানে কোনো এক ধরনের জেনারেটর আছে।

    দ্রুমান মাথা নাড়ল, হঁ আছে।

    সেটা তুমি কী দিয়ে চালাও? আমাদের মহাকাশযানের তথ্যকেন্দ্রে দেখেছি এই গ্ৰহটাতে বাইরের কোনো শক্তি নেই। খুব বাজে গ্রহ।

    দ্রুমান বিচিত্র একটি দৃষ্টিতে টিরিনার দিকে তাকাল। বলল, আমার কাছে এখন এটাকে আর বাজে গ্রহ মনে হয় না। মানুষ যখন দীর্ঘদিন কোনো রোগে ভোগে তখন সেই রোগটার জন্য মায়া পড়ে যায়। আর এটা একটা আস্ত গ্রহ।

    টিরিনা চোখ কপালে তুলে বলল, তার মানে এই হটার জন্যও তোমার একটু মায়া পড়ে গেছে।

    দ্রুমান একটা নিশ্বাস ফেলল। বলল, গ্রহটার থেকে বেশি মায়া পড়েছে আমার এই জায়গাটার জন্য। এর প্রত্যেকটা পাথরের টুকরো আমার নিজের হাতে বানো। বেঁচে থাকার জন্য কী না করেছি। শেষ পর্যন্ত যখন ইলেকট্রিসিটির ব্যাপারটা নিশ্চিত করতে পারলাম তখন মনে হল হয়তো বেঁচে যাব।

    রিশি বলল, তোমাকে অভিনন্দন দ্রুমান—এরকম একটা পরিবেশে বেঁচে থাকা প্রায় অলৌকিক একটা ব্যাপার।

    দ্রুমান মাথা ঘুরিয়ে বলল, তুমি ঠিকই বলেছ, আসলেই এটা অলৌকিক।

    টিরিনা ঘরটির ভেতরে ঘুরে দেখে। দেয়ালে আলোর সুইচ ছিল। প্রায় অন্যমনস্কভাবে সে একটা সুইচ টিপে আলো জ্বালিয়ে দিল, সাথে সাথে পুরো ঘরটি উজ্জ্বল আলোতে ভরে যায়। দ্রুমান হঠাৎ চিৎকার করে ওঠে, না।

    না? টিরিনা অবাক হয়ে বলল, কী না?

    দ্রুমান কঠিন গলায় প্রায় ছুটে এসে আলোটা নিভিয়ে দিতেই পুরো ঘরটি আবার আবছা অন্ধকারে ঢেকে গেল। দ্রুমান কঠিন গলায় বলল, তুমি আলো জ্বালবে না। শক্তির অপচয় করবে না।

    টিরিনা একটু অপ্রস্তুত হয়ে যায়। একটু ইতস্তত করে বলল, কিন্তু কিছুক্ষণের মাঝে তোমাকে আমরা নিয়ে যাব। তোমাকে এখানে থাকতে হবে না। এতদিন যেভাবে শক্তি বাচিয়েছ তোমাকে আর সেভাবে শক্তি বাঁচাতে হবে না!

    হ্যাঁ। নিশি বলল, তুমি দুই-তিন বছরে যে পরিমাণ শক্তি খরচ কর আমাদের স্কাউটশিপে তার থেকে বেশি শক্তি জমা আছে?

    থাকুক। তার মানে এই নয় যে তুমি শক্তির অপচয় করবে।

    রিশি আর তর্ক করল না। বলল, ঠিক আছে। এটা তোমার জায়গা, তুমি যেটা বলবে সেটাই নিয়ম।

    হ্যাঁ। দ্রুমান মাথা নেড়ে বলল, সেটা সব সময় মনে রাখবে। এটা আমার জায়গা। আমার অনুমতি ছাড়া এখানে তোমরা কিছু স্পর্শ করবে না। বুঝেছ?

    রিশি মাথা নাড়ল। বলল, বুঝেছি!

    মানুষটি একা একা থেকে পুরোপুরি অসামাজিক হয়ে গেছে, স্বাভাবিক ভদ্রতার বিষয়গুলোও পুরোপুরি ভুলে গেছে।

    শুধু যে স্বাভাবিক ভদ্রতার বিষয়গুলো ভুলে গেছে তাই নয় রিশি আর টিরিনা একটু অবাক হয়ে আবিষ্কার করল, মানুষটির আরেকটি বিচিত্র অভ্যাসের জন্ম হয়েছে। সে সব সময় নিজের সাথে কথা বলে। বেশিরভাগ সময় বিড়বিড় করে কিন্তু প্রায় সময়েই বেশ জোরে জোরে। তার এই ঘর, থাকার জায়গা, বিদ্যুৎ সরবরাহ, শক্তি, শক্তির অপচয়, খাবার আর পানীয়ের সঞ্চয় এইসব বিষয় নিয়ে সব সময় নিজের সাথে পরামর্শ করছে। মানুষটি আবার দুর্ব্যবহার করবে এ ধরনের একটা ঝুঁকি থাকা সত্ত্বেও টিরিনা জিজ্ঞেস করল, দ্রুমান, তুমি নিশ্চয়ই দীর্ঘদিন সত্যিকারের খাবার খাও নি?

    না। আমার সব খাবার পুনরুজ্জীবিত খাবার।

    শরীর থেকে যে বর্জ্য বেরিয়ে আসে সেটাকে পরিশোধন করে আবার খাবার তৈরির পদ্ধতিটি অনেক পুরোনো কিন্তু তার পরেও একজন মানুষ দিনের পর দিন এরকম খাবার খেয়ে যাচ্ছে চিন্তা করে বিশির শরীর কেমন জানি গুলিয়ে এল। টিরিনা বলল, আজকে তোমার সম্মানে এখানে একটি আনুষ্ঠানিক ভোজের আয়োজন করতে পারি।

    দ্রুমান রু কুঁচকে বলল, তোমাদের কাছে কী কী খাবার আছে?

    মেষ শাবকের মাংস থেকে শুরু করে সমুদ্রের মাছ, যবের রুটি থেকে শুরু করে ভুট্টা দানা, সত্যিকার ফলের কাস্টার্ড থেকে শুরু করে স্নায়ু উত্তেজক পানীয় সবকিছু আছে।

    দ্রুমানের চোখ কেমন জানি চকচক করে ওঠে, সে সুড়ুৎ করে জিবে লোল টেনে বলল, শ্চমৎকার।

    রিশি বলল, আমাদের হাতে খুব সময় নেই। আমার মনে হয় আমরা আমাদের ভোজটি দ্রুত সেরে নিয়ে রওনা দিয়ে দিই।

    দ্রুমান রিশির কথার কোনো উত্তর দিল না। অবিশ্বাস্য ব্যাপার কিন্তু তাকে দেখে মনে হয় এই অভ গ্রহের অসুস্থ পরিবেশ ছেড়ে চলে যাওয়ার তার কোনো তাড়াহুড়ো নেই। রিশি বলল, মান। তোমার কি প্রস্তুত হতে সময় লাগবে? স্কাউটশিপ দিয়ে মহাকাশযানে পৌঁছাতে বেশ সময় লাগবে—সেটা নিশ্চয়ই বুঝতে পারছ?

    মান কোনো উত্তর দিল না, বিড়বিড় করে বর্জ্য পরিশোধনের সময় নিয়ে সে পুরোপুরি অপ্রাসঙ্গিক একটা কথা বলল। রিশি মোটামুটি নিশ্চিত হতে শুরু করেছে এই মানুষটি সম্ভবত খানিকটা অপ্রকৃতিস্থ।

    ঘরটিতে তিন জন মানুষের বসে খাওয়ার ব্যবস্থা নেই। দুটি এলুমিনিয়ামের বাক্স এনে ব্রিশি এবং টিরিনার বসার জায়গা করা হল। যে টেবিলটাকে খাবারের টেবিল হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে টিরিনা তার উপর একটা নিও পলিমারের চাদর বিছিয়ে দিল। তার উপর নানা রকম খাবার, গরম করে রাখা হয়েছে। দ্রুমান লোভাতুর চোখে খাবারগুলোর দিকে তাকিয়ে আছে—সে শেষবার কবে এরকম একটি ভোজে অংশ নিয়েছিল নিশ্চয়ই মনে করতে পারবে না।

    টিরিনা স্নায়ু উত্তেজক পানীয়ের বোতলটি খুলে দ্রুমানকে জিজ্ঞেস করল, তোমার কাছে গ্লাস আছে?

    দ্রুমান মাথা নাড়ল, বলল, ছে। তারপর উঠে একটা ড্রয়ার খুলে তিনটা ক্রিস্টালের গ্লাস নিয়ে এল। টিরিনা গ্লাসে পানীয় ঢালতে ঢালতে বলল, কী সুন্দর গ্লাস।

    দ্রুমান মাথা নাড়ল, বলল, হ্যাঁ। বিশেষ বিশেষ দিনে আমি এই গ্লাস ব্যবহার করি।

    টিরিনা তার গ্লাসটি উঁচু করে বলল, মান, এই গ্রহে তোমার শেষ দিনটি উপলক্ষে

    রিশি মাথা নাড়ল, বলল, শেষ দিন উপলক্ষে।

    দ্রুমান কোনো কথা না বলে একদৃষ্টে তাদের দিকে তাকিয়ে রইল। যখন এক-দুটি কথা বলা ভদ্রভা তখন সে চুপ করে থাকে, কিন্তু যখন প্রয়োজন নেই তখন সে নিজের সাথে বিড়বিড় করে কথা বলে।

    টিরিনা পানীয়টিতে চুমুক দিয়ে বলল, চমৎকার পানীয়।

    রিশিও পানীয়তে চুমুক দিয়ে বলল, হ্যাঁ। চমৎকার।

    দ্রুমান বিড়বিড় করে বলল, নিহিলিয়ান ডাবল ডোজ।

    স্নায়ুকে আক্রমণ করার এক ধরনের ভয়ংকর বিষের নাম নিহিলিয়ান। দ্রুমান হঠাৎ করে এই বিষটির নাম উচ্চারণ করছে কেন ভেবে টিরিনা খুব অবাক হল। সে ভুরু কুঁচকে বলল, তুমি নিহিলিয়ানের কথা কী বলছ?

    গ্লাসের ভেতরে আমি দিয়ে রাখি। শুকিয়ে থাকে দেখে বোঝা যায় না।

    রিশি আর টিরিনা ভয়ংকরভাবে চমকে উঠল, টিরিনা আর্তকণ্ঠে চিৎকার করে বলল, কী বলছ তুমি?

    হ্যাঁ চমৎকার বিষ। আমার সবচেয়ে পছন্দের।

    রিশি লাফিয়ে উঠে দাঁড়াতে চেষ্টা করে অবাক হয়ে আবিষ্কার করল, হঠাৎ করে তার হাত-পা অবশ হয়ে গেছে। সে দাড়াতে পারছে না। নড়তে পারছে না।

    দ্রুমান একদৃষ্টে রিশি আর টিরিনার দিকে কিছুক্ষণ তাকিয়ে থেকে বলল, তোমরা আর নড়তে পারবে না। আরো কিছুক্ষণ তোমার জ্ঞান থাকবে, তারপর তোমরা অজ্ঞান হয়ে যাবে।

    রিশি অনেক কষ্ট করে কোনোভাবে বলল, কেন?

    কারণ তোমরা হবে আমার শক্তির সঞ্চয়। আমি একা একা এখানে কীভাবে এতদিন বেঁচে আছি তোমরা বুঝতে পারছ না? বেঁচে আছি কারণ আমি শক্তির কোনো অপচয় করি নি। আমি আমার জেনারেটরের জন্য কী ইঞ্জিন ব্যবহার করেছি জানতে চাও? ব্যবহার। করেছি সৃষ্টিজগতের সর্বশ্রেষ্ঠ ইঞ্জিন। তোমরা জান সেটা কী?

    রিশি ফিসফিস করে বলল, মানুষের শরীর?।

    হ্যাঁ। মানুষের শরীর। দ্রুমান জিব দিয়ে পরিতৃপ্তির একটা শব্দ করে বলল, বির্তনে লক্ষ লক্ষ বছরে মানুষের শরীরকে নিখুত করা হয়েছে, সৃষ্টি জগতে এর চাইতে ভালো কোনো ইঞ্জিন তৈরি হয় নি। আমি সেই ইঞ্জিনকে ব্যবহার করেছি আমার জেনারেটরে।

    রিশি জিজ্ঞেস করতে চাইল সেই ইঞ্জিনগুলো কারা কিন্তু সে কিছু জিজ্ঞেস করতে পারল না, হঠাৎ করে তার হাত-পা অবশ হয়ে আসতে শুরু করেছে, সে দেখতে পাচ্ছে শুনতে পাচ্ছে কিন্তু কিছু করতে পারছে না।

    দ্রুমান বিড়বিড় করে বলল, নিহিলিয়ান হচ্ছে বিষের রাজা। একটু হিসেব করে দিতে হয়, বেশি দিলে কোমাতে চলে যাবে—কম দিলে ঘণ্টা খানেকের মাঝে শরীর মেটাবলাইজ করে ফেলবে, শরীর সচল হয়ে যাবে। মাঝামাঝি একটা পরিমাণ আছে যেটা দিলে তোমরা প্রথমে সবকিছু দেখবে, বুঝবে কিন্তু কিছু করতে পারবে না। আস্তে আস্তে জ্ঞান হারাবে। সেই জন্য এটা আমার প্রিয় বিষ।

    দ্রুমান ঘর থেকে বের হয়ে একটা ট্রলি নিয়ে এল। ট্রলিটা রিশির পাশে রেখে আবার নিজের সাথে কথা বলতে থাকে, এখন তোমাদের আমি ইঞ্জিন ঘরে নিয়ে যাব। এত সুন্দর করে ডিজাইন করেছি, তোমাদের এটা দেখা উচিত। মানুষ যখন একটা সুন্দর সঙ্গীত রচনা করে তখন সে চায় এটা দশজন শুনুক, সুন্দর ভাস্কর্য করলে চায় দশজন দেখুক।

    দ্রুমান রিশিকে টেনে ট্রলির উপরে শুইয়ে বলল, এইখানেও সেই একই ব্যাপার। একজন মানুষ একা একা বিশ বছর থেকে এখানে আছে, সে পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ ইঞ্জিনকে ব্যবহার করছে জেনারেটর চালানোর জন্য, শক্তির কোনো অপচয় নেই। একেবারে নিখুত একটা প্রক্রিয়া, আমি কীভাবে করেছি এটা তোমাদের দেখা দরকার। এইজন্য আমি নিহিলিয়ান বিষটা পছন্দ করি। তোমাদের শরীর পুরোপুরি অচল, কিন্তু তুমি দেখতে পাচ্ছ, তুমি শুনতে পাচ্ছ, বুঝতে পারছ। কী চমৎকার!

    দ্রুমান প্রথমে রিশিকে তারপর টিরিনাকে ট্রলিতে করে ঠেলে ঠেলে এক পাশে একটা বন্ধ ঘরের সামনে নিয়ে আসে। ঘরের বড় তালা খুলতেই একটা বোটকা গন্ধ পেল রিশি। সে তার মাথা ঘুরাতে পারছে না, তাই এখনো কিছু দেখতে পাচ্ছে না। দ্রুমান রিশি আর টিরিনাকে ভেতরে ঢুকিয়ে ঠুলিটা ভাজ করে তাদেরকে আধশোয়া অবস্থায় নিয়ে আসতেই তারা পুরো দৃশ্যটি দেখতে পেল, একটা ভয়ংকর আতঙ্কে তারা চিৎকার করে উঠত কিন্তু তাদের শরীর পুরোপুরি অবশ বলে তারা শুধু নিঃশব্দে তাকিয়ে রইল।

    ঘরের মাঝামাঝি জেনারেটরটি দাঁড় করানো আছে তার চারপাশে প্রায় পঞ্চাশ জন নগ্ন মানুষ শুয়ে আছে। মানুষগুলো নিশ্চয়ই অচেতন, কারণ তাদের কোথাও প্রাণের স্পন্দন নেই, শুধু তাদের পাগুলো জেনারেটরের মূল শ্যাফটটাকে যন্ত্রের মতো ঘুরিয়ে যাচ্ছে। প্রমান এক ধরনের উচ্ছসিত গলায় বলল, দেখেছ আমার ইঞ্জিন? আমি এটার নাম দিয়েছি দ্রুমান ইঞ্জিন।

    সে কাছাকাছি একজন মানুষের কাছে গিয়ে বলল, ভালো করে তাকিয়ে দেখ, এই যে এই টিউব দিয়ে তার জন্য পুষ্টিকর তরল আসছে। এই টিউবটা নাকের ভেতর দিয়ে সরাসরি ফুসফুসে চলে গেছে। আমি এটা দিয়ে একেবারে বিশুদ্ধ অক্সিজেন সাপ্লাই দিই। শরীরের যা বর্জ্য সেগুলো এই টিউব দিয়ে আমি বের করে নিয়ে আসি। ডান দিকে তাকিয়ে দেখ আমার সিনথেজাইজার বর্জ্য থেকে সবগুলো যৌথমূল আলাদা করে আবার নূতন করে পুষ্টিকর তরল তৈরি করা হয় সেটা আবার তাদের শরীরে চলে আসছে। একটা পরিপূর্ণ সিস্টেম, বাইরে থেকে বলতে গেলে আমার কিছুই লাগছে না।

    দ্রুমান তার জেনারেটর ঘরের ভেতর ঘুরতে থাকে, কোনো কোনো মানুষের চোখের পাতা তুলে পরীক্ষা করে সন্তুষ্টির মতো শব্দ করে আবার রিশি আর টিরিনার কাছে ফিরে আসে, তোমরা নিশ্চয়ই ভাবছ মানুষগুলো এটা কেন করছে অত্যন্ত যুক্তিসঙ্গত প্রশ্ন। দ্রুমান নিজেই তার চোখে-মুখে প্রশ্ন করার ভঙ্গি নিয়ে এসে বলল, আর এই প্রশ্নের উত্তরই হচ্ছে আমার সাফলা! আমার আবিষ্কার।

    দ্রুমান কাছাকাছি এসে একজনের হাতটা একটু উপরে তুলে আবার ছেড়ে দিতেই সেটা নির্জীবের মতো পড়ে যায়, ঈমান বলল, দেখেছ? হাতগুলো পুরোপুরি অচল। আস্তে আস্তে শুকিয়ে কাঠির মতো হয়ে গেছে। জেনারেটরের শ্যাফটটা ঘোরানো হচ্ছে পা দিয়ে, হাতের কোনো প্রয়োজন নেই তাই আস্তে আস্তে হাতগুলো অচল হয়ে যাচ্ছে। এই জেনারেটর চালানোর জন্য আমার দরকার একেবারে সুস্থ সবল নীরোগ মানুষ। এখানে সবাই সুস্থ সবল। আর নীরোগ। শুধু সুস্থ সবল আর নীরোগ নয়, তারা অসম্ভব সুখী মানুষ। তোমরা দেখতে পাচ্ছ তাদের মুখে এক ধরনের পরিতৃপ্তির হাসি? দেখেছ?

    খুব ধীরে ধীরে রিশির চেতনা লোপ পেয়ে যাচ্ছে কিন্তু তার ভেতরেও সে দেখতে পেল কাছাকাছি শুয়ে থাকা নগ্ন মেয়েটির মুখে সূক্ষ্ম এক ধরনের হাসি, সেই মুখে কোনো যন্ত্রণার চিহ্ন নেই। দ্রুমানের নিজের মুখেও এক ধরনের পরিতৃপ্তির হাসি ফুটে উঠল, সে বলল, দুঃখ কষ্ট আনন্দ বেদনা এর সবই তো আসলে আমাদের মস্তিস্কের এক ধরনের প্রক্রিয়া। আমি সেই প্রক্রিয়াটাকেই নিয়ন্ত্রণ করছি। এদের মস্তিষ্কের কিছু কিছু জায়গা পাকাপাকিভাবে নষ্ট করে দিয়েছি যেন তারা আর কোনো দিন জেগে উঠে কারো কাছে অভিযোগ করতে না। পারে। কিছু কিছু জায়গা একটু পরিবর্তন করে দিয়েছি যার কারণে তাদের মুখে এরকম আনন্দের হাসি। তারা খুব আনন্দের সাথে এই কাজটা করছে। তাদের ভেতরে কোনো দুঃখ-কষ্ট নেই, হিংসা নেই, রাগ নেই, ক্ষোভ নেই, তারা খুব সুখে আছে। মাঝে মাঝে তাদেরকে দেখলে আমার এক ধরনের হিংসা হয়। মনে হয় আহা আমিও যদি তাদের মতো সুখী হতে পারতাম, আনন্দিত হতে পারতাম।

    দ্রুমানের মুখে সত্যিই এক ধরনের বিষণ্ণতাব ফুটে ওঠে। তাকে দেখে মনে হতে থাকে সত্যি বুঝি এই মানুষগুলোর মতো সুখী হবার জন্য তার ভেতরে এক ধরনের ব্যাকুলতার জন্ম হয়েছে। সে রিশির চোখের পাতা টেনে চোখের মণিটা একনজর দেখে বলল, নিহিলিয়ানের কাজ শুরু করেছে। এখন তোমরা অচেতন হয়ে গেছ। তোমরা আর আমার কথা শুনতে পাচ্ছ না। কিন্তু তাতে কিছু যায় আসে না। আমি একা একা কথা বলতে পারি। আমি বিশ বছর থেকে নিজের সাথে কথা বলছি। নিজের সাথে কথা বলার থেকে চমৎকার ব্যাপার আর কিছু হতে পারে না। এর মাঝে কোনো বিরোধ নেই, তর্কবিতর্ক নেই। তোমরা ব্যাপারটা চেষ্টা করে দেখলে পারতে। এখন অবিশ্যি দেরি হয়ে গেছে, কারণ তোমরা আর কোনো দিন চেতনা ফিরে পাবে না। এক ধরনের ঐশ্বরিক আনন্দ দিয়ে আমি তোমাদের প্রমান ইঞ্জিন তৈরি করে ফেলব।

    দ্রুমান টিরিনার ট্রলিটা ঠেলে ঘরের এক কোনায় নিতে নিতে বলল, আমার এই ইঞ্জিন ঘরেই সবকিছু। অস্ত্রোপচারটাও এই ঘরে করি। অবিশ্যি অস্ত্রোপচারের কাজটা খুব সহজ। আমি এই হেলমেটটা তোমাদের মাথায় পরিয়ে দেব  মান একটা হেলমেট তুলে দেখাল, তারপর বলল, হেলমেটের নয়টা জায়গায় নয়টা ভ্রু আছে সেগুলো ঘুরিয়ে টাইট করতে হয়, বাস সাথে সাথে কাজ শেষ। ভিতরে কয়টা লিভার আছে, সেগুলো মস্তিষ্কের ঠিক ঠিক জায়গায় ফুটো করে কিছু পরিবর্তন করে দেয়। অত্যন্ত চমৎকার একটা যন্ত্র! এটা আমাকে তৈরি করে দিয়েছে ডক্টর নিশিনা–ঐ দেখ ডান দিক থেকে তিন নম্বর জায়গায় শুয়ে নগ্ন দেহে হাসিমুখে সে কাজ করে যাচ্ছে। বেচারা বুঝতেই পারে নি আমি তার ওপরে সেটা প্রথমবার ব্যবহার করব। কিছু কিছু মানুষ জীবনের জটিলতাগুলো বুঝতে পারে না।

    দ্রুমান টিরিনার ট্রলিটা তার কাজ চালানোর মতো অপারেশন থিয়েটারে নিয়ে উপরের উজ্জ্বল আলোটা জ্বেলে দিয়ে বলল, এই আলোটা জ্বালানোর জন্য আমার বাড়তি কিছু শক্তি ক্ষয় হচ্ছে কিন্তু আমি সেজন্য আজকে মোটেও চিন্তিত নই। আমি একটু বাড়তি আলো আজকে ব্যবহার করতেই পারি কারণ আমার জেনারেটরে আজকে দুটো নতুন দ্রুমান ইঞ্জিন লাগাতে যাচ্ছি। তোমরা দুজন। আমার বিদ্যুৎ শক্তি কয়েক শতাংশ বেড়ে যাবে আজ থেকে। কী চমৎকীর!

    দ্রুমান টিরিনার অচেতন দেহের দিকে তাকিয়ে জিব দিয়ে একটা শব্দ করে বলল, তোমার পোশাকটা আগে খুলে নিই! কিছুক্ষণের ভেতরেই তুমি বেঁচে থাকার জন্য যেসব বাহুলা করতে হয় তার সবকিছু থেকে মুক্তি পেয়ে যাবে। তোমার শরীরে যে পোশাক আছে বা নেই তুমি সেটাও জানবে না। দ্রুমান টিরিনার পোশাকের জিপ টেনে খুলতে খুলতে বলল, তোমার এই সুন্দর সুগঠিত শরীর অন্যরকম হয়ে যাবে, হাতগুলো আস্তে আস্তে শুকিয়ে যাবে, ঘাড় আর বুকের মাংসপেশি অকেজো হয়ে যাবে। তবে পা দুটো আরো সুগঠিত হয়ে যাবে। কোমরের মাংসপেশিগুলো হবে শক্ত–

    দ্রুম্মান টিরিনার পোশাকের জিপ টেনে নিচে নামিয়ে এনে বলল, আমি তোমাকে এভাবে নগ্ন করে ফেলছি, তোমার কোনো আপত্তি নেই তো?

    ঠিক তখনই একটা বিচিত্র ব্যাপার ঘটল, টিরিনার চোখ দুটো খুলে যায়। সে একদৃষ্টে দ্রুমানের দিকে তাকিয়ে থেকে আস্তে আস্তে বলল, হ্যাঁ আপত্তি আছে।

    দ্রুমান ইলেকট্রিক শক খাওয়া মানুষের মতো ছিটকে পেছনে সরে যায়। তার চোখেমুখে বিস্ময় এবং তার থেকে বেশি আতঙ্ক। সে একটা হাত সামনে বাড়িয়ে অপ্রকৃতিস্থ মানুষের মতো বলল, তু-ত-তুমি-তুমি-

    আমি। টিরিনা তার ট্রলিতে উঠে বসল তারপর পোশাকের খুলে ফেলা জিপটি টেনে আবার বন্ধ করে দিয়ে বলল, তুমি দীর্ঘদিন একা একা আছ তাই বিজ্ঞান আর প্রযুক্তির কী কী উন্নতি হয়েছে তার খবর রাখ না।

    প্রমান এদিক-সেদিক তাকিয়ে ছুটে গিয়ে স্টেইনলেস স্টিলের একটা ধারালো সার্জিক্যাল চাকু হাতে নিয়ে চাপা গলায় চিৎকার করে বলল, খবরদার। খবরদার বলছি—

    টিরিনা ট্রলি থেকে তার পা দুটো নিচে নামিয়ে বলল, তুমি শুধু শুধু উত্তেজিত হয়ে না মান।

    খুন করে ফেলব আমি, তোমাকে খুন করে ফেলব।

    আমার জন্য এই শব্দটা ব্যবহার করায় একটা সমস্যা আছে। টিরিনা হাসি হাসি মুখ করে বলল, একজন মানুষ আরেকজন মানুষকে খুন করতে পারে। আমি তো ঠিক মানুষ নই।

    দ্রুমান ভয় পাওয়া গলায় বলল, তুমি তা হলে কী?

    সেটি আমিও পুরোপুরি নিশ্চিত নই। খুব স্থূলভাবে যদি বলতে চাও রোবট বা এনরয়েড বলতে পার। কেউ কেউ আবার সাইবর্গ বলে। তুমি কোনটা বলতে চাও সেটা আমি জানি না। টিরিনা উঠে দাঁড়িয়ে মানের দিকে অগ্রসর হয়ে বলল, তবে সেটা খুব গুরুত্বপূর্ণ না। যে জিনিসটা তোমার জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ সেটা হচ্ছে তোমার জেনে রাখা ভালো যে তুমি যে চাকুটা হাতে নিয়েছ সেটা দিয়ে আমার চামড়ায় আঁচড়ও দিতে পারবে না। কাটার কোনো প্রশ্নই আসে না।

    দ্রুমান বিড়বিড় করে বলল, মিথ্যা কথা বলছ। তুমি মিথ্যা কথা বলছ।

    টিরিনা একটু হাসার চেষ্টা করে বলল, তোমাকে কোনো কিছু বিশ্বাস করানোর জন্য আমার কোনো মাথাব্যথা নেই। তবে আমি চাই না তুমি নতুন করে কোনো বোকামি কর। আমি খালি হাতে তোমার মাথাটা গুড়ো করে ফেলতে পারব।

    মিথ্যা কথা বলছ তুমি—

    আমার চোখের দিকে তাকাও দ্রুমান।

    দ্রুমান টিরিনার চোখের দিকে তাকায় এবং আতঙ্কে থরথর করে কাপতে থাকে। টিরিনার দুটি চোখ জ্বলছে, তীব্র আলোতে ঝলসে উঠছে দুটি চোখ।

    টিরিনা ফিসফিস করে বলল, আমি মানুষ নই। কিন্তু আমার ভাবনা-চিন্তা মানুষের মতো। আরেকজন মানুষ এখন যা করত এখন আমিও তোমাকে তাই করব।

    কী করবে তুমি?

    টিরিনা এক পা এগিয়ে হঠাৎ খপ করে দ্রুমানের হাত ধরে ফেলল, প্রচণ্ড যন্ত্রণায় প্রমান আর্তনাদ করে ওঠে, তার হাত থেকে ধারালো চাকুটা পড়ে যায়। টিরিনা ফিসফিস করে বলল, তুমি তোমার এই জেনারেটরে আরো একটি দ্রুমান ইঞ্জিন হয়ে থাকবে।

    দ্রুমান কাতর গলায় বলল, না!

    নগ্ন দেহে পা দিয়ে প্যাডেল ঘুরিয়ে তুমি তোমার বন্ধু ডক্টর নিশিনার পাশাপাশি শুয়ে থাকবে। তোমার বন্ধু ভক্টর নিশিনার মুখে যেরকম প্রশান্তির হাসি ফুটে আছে তোমার মুখেও

    সেরকম হাসি ফুটে থাকবে।

    না-না–

    টিরিনা তার যান্ত্রিক হাত দিয়ে মুহূর্তে দ্রুমানকে ট্রলিতে চিৎ করে শুইয়ে ফেলল। দ্রুত হাতে নিও পলিমারের স্ট্যাপ দিয়ে ট্রলিতে বেঁধে ফেলে বলল, তুমি একটু আগে বলেছ তোমার এককালীন সহকর্মী, তোমাকে উদ্ধার করতে আসা মহাকাশচারীদের দেখে মাঝে মাঝে তোমার হিংসা হয়। তোমার আর হিংসা হবে না। তুমি এখন তাদের একজন হয়ে যাবে।

    দ্রুমান মাথা নাড়ল, বলল, না। আমি তাদের একজন হতে চাই না।

    টিরিনা শেলফের ওপর রাখা হেলমেটটা হাতে নিয়ে মানের দিকে এগিয়ে আসে, তার মাথায় পরিয়ে নিচু গলায় বলল, চুপ করে শুয়ে থাক দ্রুমান। শক্তির অপচয় করো না।

     

    স্কাউটশিপের মৃদু কম্পনে রিশির জ্ঞান ফিরে আসে। সে ঘোলাটে চোখে টিরিনার দিকে তাকিয়ে বলল, আমি কোথায়?

    তুমি স্কাউটশিপে।

    রিশি প্রাণপণে মনে করার চেষ্টা করে, কিছু একটা ভয়ংকর ব্যাপার ঘটেছিল মানুষের শরীর নিয়ে। নগ্ন দেহে অসংখ্য মানুষ কোথায় জানি শুয়ে আছে, কিন্তু সে মনে করতে পারছে না। টিরিনা তার মাথায় হাত রেখে বলল, তুমি ঘুমাও রিশি। তোমার কোনো ভয় নেই। কেউ তোমার ক্ষতি কতে পারবে না।

    রিশি কয়েক মুহূর্ত টিরিনার দিকে তাকিয়ে থেকে চোখ বন্ধ করে ফেলল। স্মৃতি মুছে ফেলার যে ওষুধটা দেওয়া হয়েছে সেটা কাজ করতে শুরু করেছে।

    টিরিনা এক ধরনের গভীর ভালবাসা নিয়ে রিশির মুখের দিকে তাকিয়ে থাকে। এই মানুষটিকে নিরাপদে পৌঁছে দেবার জন্য সে এসেছে। সে নিশ্চয়ই তাকে রক্ষা করবে। বুক আগলে রক্ষা করবে।

    মানুষের মতো অসহায় আর কে এই জগতে?

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40 41 42 43 44 45 46 47 48 49 50 51 52 53 54 55 56 57 58
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleতারপর কী হল – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    Next Article কাবিল কোহকাফী – মুহম্মদ জাফর ইকবাল

    Related Articles

    মুহম্মদ জাফর ইকবাল

    ছোটগল্প – মুহম্মদ জাফর ইকবাল

    November 19, 2025
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল

    সাদাসিধে কথা – মুহম্মদ জাফর ইকবাল

    November 19, 2025
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল

    মেকু কাহিনী – মুহম্মদ জাফর ইকবাল

    November 19, 2025
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল

    আমার বন্ধু রাশেদ – মুহম্মদ জাফর ইকবাল

    November 19, 2025
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল

    সায়েন্স ফিকশান সমগ্র ১ – মুহম্মদ জাফর ইকবাল

    November 19, 2025
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল

    টুনটুনি ও ছোটাচ্চু – মুহম্মদ জাফর ইকবাল

    November 19, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Our Picks

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }