Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    সায়েন্স ফিকশন সমগ্র ৪ – মুহম্মদ জাফর ইকবাল

    মুহম্মদ জাফর ইকবাল এক পাতা গল্প1092 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    ০২. ঘৃণার সঙ্গে বসবাস

    ঘৃণার সঙ্গে বসবাস

    নিশি গোল কোয়ার্টজের জানালার সামনে দাঁড়িয়ে আছে। নির্দিষ্ট জিনের কিছু বেস পেয়ারকে পরিবর্তন করে আজকাল যে কোনো মানবীকে সুন্দরী করে দেওয়া যায় বলে সৌন্দর্যের গুরুত্বটি কমে এসেছে-তারপরও একটু ভালো করে লক্ষ করলেই বোঝা যায় নিশির। সৌন্দর্যটি অন্যরকম। তার কিশোরীর মতো ছিপছিপে দেহ, সেখানে চলাচলে এক ধরনের। লাবণ্য, আকাশের মতো নীল চোখ, লালচে চুল এবং কোমল ও মসৃণ তুক। তার ভেতরে এক ধরনের সতেজ আত্মবিশ্বাস, যেটি সব সময়েই চোখে-মুখে স্পষ্ট হয়ে থাকে। তার। অনুভূতি সব সময়েই খুব চড়া সুরে বাঁধা থাকে, এই মুহূর্তে যেটি উত্তেজনায় প্রায় আকাশছোঁয়া হয়ে আছে। তার সমস্ত মুখমণ্ডল প্রচণ্ড ক্রোধে রক্তাভ এবং অপ্রতিরোধ্য এক ধরনের আক্রোশে তার শরীর অল্প অল্প কঁপছে। নিশি এক ঝটকা মেরে তার মুখের ওপর পড়ে থাকা চুলগুলোকে পেছনে সরিয়ে ঘরের মাঝামাঝি বসে থাকা অণ্ডনের দিকে তাকিয়ে বলল, তোমার এবং আমার মাঝে যে সম্পর্ক সেটা সম্ভবত পৃথিবীর মাঝে সবচেয়ে খারাপ সম্পর্ক।

    অশুন নিশির আনুষ্ঠানিকভাবে বিয়ে করা স্বামী। অশুন সুদর্শন-শক্ত-সমর্থ এক যুবক। তার বয়স নিশির বয়সের কাছাকাছি, মানসিক কাঠামো, বুদ্ধিমত্তা, আত্মবিশ্বাস এমনকি কথা বলার ভঙ্গিও দুজনের প্রায় একই রকম। দুজন এত কাছাকাছি ধরনের মানুষ হবার পরও কোনো একটি বিচিত্র কারণে একজন আরেকজনকে গ্রহণ করতে পারে নি। এই গ্রহণ করতে না পারাটুকু যুদি মৃদু অপছন্দের মাঝে সীমাবদ্ধ থাকত তা হলে একটি কথা ছিল, কিন্তু বাস্তবে তা হয় নি, তারা একজন আরেকজনকে সমস্ত মন-প্রাণ দিয়ে ঘৃণা করে। প্রাচীনকালে পরিবারের কাঠামোটির খুব গুরুত্ব ছিল, পরিবার হিসেবে টিকে থাকার একটি বড় শর্ত ছিল সন্তান পালন করা। তখন একজন পুরুষ ও রমণীর পক্ষে পরস্পরকে এত তীব্রভাবে ঘৃণা করে একসাথে বসবাস করা কোনোভাবেই সম্ভব ছিল না। কিন্তু এখন পরিবেশটি অন্যরকম। নিশি এবং অশুন যে একসাথে স্বামী ও স্ত্রী হিসেবে বসবাস করছে তার একটিমাত্র কারণ হচ্ছে পরস্পরের প্রতি অকল্পনীয় এক ধরনের ঘৃণী। এই ঘৃণা এত তীব্র এবং গভীর যে নিজের অজান্তেই তারা সেই ঘৃণাকে ভালবাসতে শুরু করেছে, লালন করতে শুরু করেছে। দুজন দুজনকে ছেড়ে গেলে এই তীব্র ঘৃণাটুকু হারিয়ে যাবে বলেই হয়তো ভারা আর আলাদা হয়ে যেতে পারছে না।

    নিশি তীব্র দৃষ্টিতে অণ্ডনের মুখের দিকে তাকিয়ে থেকে বলল, আমি এখনো বিশ্বাস করতে পারছি না যে তোমাকে আমি একদিন বিয়ে করেছিলাম।

    অশুন একটু হাসার ভঙ্গি করে বলল, কেন? বিশ্বাস না করার কী আছে?

    তুমি বলতে চাও তোমাকে সত্যি আমি একসময় পছন্দ করতাম? তোমাকে আমি কিছুক্ষণের জন্য হলেও ভালবেসেছিলাম?

    না। অশুন মাথা নাড়ল, বলল, তুমি আমাকে কোনো দিন ভালবাস নি, আমি এই ব্যাপারটি তোমাকে নিশ্চিতভাবেই বলতে পারি।

    নিশি তার সুন্দর রু দুটি কুঁচকে জিজ্ঞেস করল, তুমি এই ব্যাপারটিতে এত নিশ্চিত কেমন করে হলে?

    কারণ আমাকে বা অন্য কোনো মানুষকেই তোমার ভালবাসার ক্ষমতা নেই। প্রকৃতপক্ষে তোমার মস্তিষ্কের গঠনে কাউকে ভালবাসা সম্ভব নয়।

    নিশি কষ্ট করে নিজের ক্রোধকে সংবরণ করে বলল, তাই যদি সত্যি হয় তা হলে তোমাকে কেন আমি একদিন বিয়ে করেছিলাম?

    কৌতূহল। অশুন মাথা নেড়ে বলল, তুমি একজন মেয়ে, পুরুষ কেমন করে আচরণ করে সে সম্পর্কে তোমার কোনো ধারণা ছিল না। তাই তুমি কৌতূহলী হয়ে আমাকে বিয়ে করেছিলে।

    আর তুমি? নিশি তীব্র স্বরে বলল, আর তুমি কেন আমাকে বিয়ে করেছিলে?

    অশুন আনন্দহীন এক ধরনের হাসি হেসে বলল, ভুল করে। আমি তোমাকে ভুল করে বিয়ে করেছিলাম। এটি অস্বীকার করার কোনো উপায় নেই যে তোমার ভেতরে এক ধরনের সম্মোহনী ক্ষমতা ছিল, সে কারণে আমি তোমার প্রতি এক ধরনের জৈবিক আকর্ষণ অনুভব করেছিলাম।

    এখন সেই সম্মোহনী ক্ষমতা নেই? সেই জৈবিক আকর্ষণ নেই?

    না নেই। অশুন প্রবল বেগে মাথা নেড়ে বলল, বিন্দুমাত্র অবশিষ্ট নেই। আমার কাছে তুমি আর একটি ঘিনঘিনে বিষাক্ত সাপের মাঝে কোনো পার্থক্য নেই। একটা বিষাক্ত সাপকে আমি যেরকম বিন্দুমাত্র দ্বিধা না করে পিষে মেরে ফেলতে পারি ঠিক সেরকম তোমাকে পিষে মেরে ফেলতে অামার একটুও দ্বিধা হবে না।

    নিশি নিচু গলায় হিসহিস করে বলল, তা হলে মেরে ফেলছ না কেন?

    অশুন হা-হা করে হেসে বলল, আইনের ভয়ে। যদি আইনের কোনো বাধা না থাকত তা হলে এতদিনে আমি নিশ্চয়ই তোমাকে খুন করে ফেলতাম। আজ থেকে এক শ বছর আগে হলে আমি নিশ্চিতভাবে তোমাকে শারীরিকভাবে আঘাত করতাম! তোমার খুব সৌভাগ্য যে জিনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং বাবহার করে মহিলাদের শারীরিক শক্তি পুরুষের সমান করে ফেলা হয়েছে। তা না হলে আমি নিশ্চয়ই তোমাকে নির্দয়ভাবে আঘাত করতাম।

    নিশি বিস্ফারিত চোখে অশুনের দিকে তাকিয়ে রইল। অশুন মৃদু হাসি ফুটিয়ে বলল, আমার প্রিয় ফ্যান্টাসি কী জান?

    কী?

    তোমাকে জনসমক্ষে অপমান করে একটি শারীরিক শাস্তি দিচ্ছি।

    নিশি একটা নিশ্বাস ফেলে বলল, আমি এখন একটু একটু বুঝতে পারছি কেন তোমাকে বিয়ে করেছিলাম। তুমি ঠিকই বলেছু, কৌতূহল এবং সম্ভবত এই কৌতূহলের কারণেই আমি তোমাকে এখনো স্বামী হিসেবে রেখে দিয়েছি। রাস্তায় ছুড়ে ফেলে দেই নি। কিছু একটাকে কেউ যখন খুব ঘেন্না করে তখন মানুষের সেটাকে নিয়ে এক ধরনের কৌতূহল হয়। শরীরের কোথাও যদি ঘা হয় তখন বারবার সেটা দেখার কৌতূহল হয়–অনেকটা সেরকম। তুমি হচ্ছ আমার জীবনের সেই দগদগে ঘা। লাল হয়ে পেকে থাকা খুঁজে ভরা বিষাক্ত ঘা।

    অশুন এক ধরনের বিস্ময় নিয়ে নিশির মুখের দিকে তাকিয়ে ছিল। নিশি থামতেই সে মাথা নেড়ে বলল, তুমি এখনো খুব গুছিয়ে কথা বলতে পারি নিশি।

    এর মাঝে গুছিয়ে বলার কিছু নেই। সত্যি কথা গুছিয়ে বলতে হয় না—উচ্চারণ করলেই হয়। তোমার সাথে বিয়ে না হলে ঘৃণা ব্যাপারটি কী সেটা আমি কোনো দিন জানতে পারতাম না। আমার জীবনটা এক অর্থে অসম্পূর্ণ থেকে যেত।

    ঘৃণা একটা পারস্পরিক ব্যাপার। অশুন মাথা নেড়ে বলল, এটা কখনো একপক্ষীয় হতে পারে না। নিশি, আমিও তোমাকে ঘৃণা করি। ভয়ংকর ঘৃণা করি। সত্যি কথা বলতে কী মেয়েমানুষ কত খারাপ হতে পারে সেটা তোমাকে না দেখলে আমি কখনো জানতে পারতাম না।

    নিশির মুখে বিগ্রুপের একটা হাসি ফুটে উঠল। বলল, চমৎকার! তোমার মতো নিচু শ্রেণীর মানুষের কাছে আমি এর থেকে ভালো কোনো কথা আশা করি নি।

    কেন? আমি নতুন কী বলেছি?

    তুমি ঘৃণা কর আমাকে অথচ সেজন্য পুরো নারী জাতিকে নিয়ে একটা কুৎসিত কথা বললে!

    অশুন এতক্ষণ ঘরের মাঝামাঝি বসে ছিল, এবারে সে খানিকটা ব্যস্ত ভঙ্গিতে উঠে দাভলি এবং নিশির কাছাকাছি হেঁটে এসে বলল, তুমি একটা জিনিস জান? আমি কিন্তু তোমাকে তুমি হিসেবে ঘৃণা করি না। নিশি নামক একটি নির্বোধ মহিলা হিসেবে তুমি কিন্তু খুব খারাপ নও। বলা যেতে পারে একটা নির্বোধ মহিলার পক্ষে যতটুকু ভালো হওয়া সম্ভব তুমি মোটামুটি তাই। আমি তোমাকে ঘৃণা করি একটি মেয়ে হিসেবে। তোমার সবচেয়ে বড় সমস্যা হচ্ছে যে তুমি একজন মেয়ে। বড় ধরনের সার্জারি না করে তুমি এর থেকে মুক্তি পাবে না। মেয়েমানুষ বিবর্তনের খুব বড় একটি ক্রটি।।

    নিশির চোখ থেকে আগুন বের হতে থাকে। সে জোরে জোরে কয়েকবার নিশ্বাস নিয়ে বলল, আমি অনেক কষ্ট করে নিস্ত্রেকে শান্ত রাখছি। একটা লোহার রড দিয়ে আঘাত করে তোমার খুলি গুড়ো করে দেওয়া উচিত।

    অশুন হালকা পায়ে একটা নিরাপদ দূরত্বে সরে গিয়ে বলল, তুমি না হয়ে অন্য কোনো মেয়ে হলে সম্ভবত তাই করত। আমার ধারণা নির্বোধ মেয়ে প্রজাতির তুমি মোটামুটি একটি গ্রহণযোগ্য সদস্য।

    নিশি কয়েক মুহূর্ত চুপ করে থেকে বলল, অশুন, তুমি কোনো দিন প্রাচীন ইতিহাস পড়েছ?

    হ্যাঁ। কিছু পড়েছি।

    তুমি জান আজ থেকে কয়েকশ বছর আগে পৃথিবীর সব পুরুষ তোমার মতো চিন্তা করত? তাদের সবাই ভাবত পৃথিবীতে পুরুষ হচ্ছে শ্রেষ্ঠ? নারী হচ্ছে দুর্বল? তুমি যে একজন আদিম মানুষ সেটি কি জান?

    অশুন মাথা নাড়ল, হ্যাঁ জানি। আমি একজন প্রাচীন মানুষের মতো চিন্তা করি। প্রাচীন সবকিছু কিন্তু ভুল নয়, প্রাচীন অনেক কিছু সত্যি। অনেক কিছু খুঁটি। প্রাচীনকালে মানুষ অনেক কিছু অভিজ্ঞতা থেকে আবিষ্কার করেছিল, তার বেশিরভাগ ছিল সত্যি। এটিও তাই। মেয়ে হচ্ছে নিকৃষ্ট জীব। সত্যি স্বীকার করে নাও নিশি।

    নিশি তীব্র দৃষ্টিতে অশুনের দিকে তাকিয়ে বলল, তুমি কি জান এই কথাগুলো বলে তুমি প্রমাণ করেছ যে তুমি একটি আকাট নির্বোধ? আহাম্মকঃ বুদ্ধিহীন জড়পদার্থ? অশিক্ষিত মূর্খ? জংলি ভূত?

    অশুন শব্দ করে হেসে বলল, অপ্রিয় সত্যি কথা সবার ভালো নাও লাগতে পারে।

    তুমি কি হিটলারের নাম শুনেছ? যে মনে করত একটি বিশেষ সম্প্রদায়ের মানুষ হচ্ছে শ্রেষ্ঠ। তুমি কি জান তার কী অবস্থা হয়েছিল? ইতিহাস তাকে কীভাবে আঁস্তাকুড়ে ছুড়ে ফেলেছিল তুমি জান?

    জানি।

    তোমার মতো একটা মূখ আহাম্মক বুদ্ধিহীন জড়পদার্থ অশিক্ষিত জংলি ভূতের সেই একই অবস্থা হবে। চেষ্টা করে কোনো লাভ নেই জানি তবুও আমি চেষ্টা করে দেখি তোমাকে খানিকটা জ্ঞান দেওয়া যায় কি না! তুমি কি জান মায়ের গর্ভে প্রতিটি সন্তান প্রকৃতপক্ষে মেয়ে হয়ে বড় হতে থাকে, ওয়াই ক্রমোজম শুধুমাত্র মেয়ে হয়ে গড়ে ওঠাকে বন্ধ করে দেয়। আর সেই ব্যাপারটিকে বলা হয় পুরুষ। তুমি কি জান পুরু বলে আসলে কোনো প্রজাতি নেই? যারা মেয়ে হয়ে বড় হতে পারে নি সেটাই হচ্ছে পুরুষ–তুমি কি এটা জান?

    অশুন মাথা নাড়ল। বলল, হ্যাঁ। আমি শুনেছি।

    শুনেছ। কিন্তু বিশ্বাস কর নি।

    আমি বিশ্বাস করলেই কী আর না করলেই কী আসে যায়?

    অনেক কিছু আসে যায়। তুমি কি আসলেই গর্দভ নাকি শুধু গর্দভের ভান করছ সেটা আমার জানা দরকার।

    অশুন ক্রুদ্ধ চোখে নিশির দিকে তাকাল। নিশি তার মুখে শ্লেষের হাসি ফুটিয়ে বলল, তুমি জান মানব প্রজাতির অস্তিত্ব বাঁচিয়ে রাখার জন্য আসলে পুরুষ মানুষের কোনো প্রয়োজন নেই? তুমি জান শুধুমাত্র মেয়েদের দিয়ে মানুষের অস্তিত্ব বাচিয়ে রাখা যায়? তুমি জান মানুষের ক্লোন করার জন্য পুরুষের প্রয়োজন হয় না শুধুমাত্র নারীদের দিয়েই ক্লোন করা সম্ভব।

    হ্যাঁ, আমি জানি। কিন্তু এটা দিয়ে তুমি কী বোঝাতে চাইছ?

    নিশি মাথা নেড়ে বলল, আমি কী বোঝাতে চাইছি সেটা যদি তুমি এখনো বুঝতে না পার তা হলে আমি নিশ্চয়ই আমার সময় নষ্ট করছি। তোমার বুদ্ধিমত্তা যদি শিম্পাঞ্জির কাছাকাছি হয়ে থাকে তা হলে আমার সম্ভবত তোমার সাথে কথা বলে সময় নষ্ট করার কোনো অর্থ হয় না!।

    অশুন মুখে বিদ্রুপের হাসি ফুটিয়ে বলল, এমনও তো হতে পারে যে তুমি মেয়েদের স্বভাবসুলভ জড়তার, বুদ্ধিহীনতার কারণে সহজে একটা কথা পরিষ্কার করে বলতে পারছ না।

    না, সেটা হতে পারে না। কিন্তু তবু তুমি যদি চাও আমি তোমাকে আরো পরিষ্কার কথা বলতে পারি। আমি বলতে চাইছি এটি বিজ্ঞানের পরীক্ষিত সত্য যে পুরুষ হচ্ছে বাহুল্য। অশুন, তোমার ভাগ্য খুব ভালো যে তুমি এই সময়ে পুরুষ হিসেবে জন্ম নিয়েছ। আজ থেকে কয়েকশ বছর পর পুরুষ হিসেবে জন্ম নেওয়ার চেষ্টা কর নি। তা হলে তোমার জন্ম হত না। কারণ বসন্ত রোগের জীবাণুকে যেভাবে পৃথিবী থেকে অপসারণ করা হয়েছে প্রকৃতি ঠিক সেভাবে তোমাদের মতো পুরুষকে পৃথিবী থেকে অপসারণ করত।

    অন অবাক হয়ে নিশির দিকে তাকিয়ে থেকে বলল, তুমি সত্যিই এটা বিশ্বাস কর, নাকি আমার সাথে ঝগড়া করার জন্য এটা বলছ?।

    নিশি বলল, এর মাঝে বিশ্বাস করা না করার কী আছে? এটি বিজ্ঞানের পরীক্ষিত সত্য বিশ্বাস করা না করার সাথে এর কোনো সম্পর্ক নেই। বিজ্ঞান বলেছে বংশ বৃদ্ধি করার জন্য পুরুষ মানুষের কোনো প্রয়োজন নেই। প্রকৃতি বাহুল্যকে সহ্য করে না–প্রকৃতি পুরুষকেও সহ্য করবে না!

    অন এক ধরনের বিস্ময় নিয়ে নিশির দিকে তাকিয়ে রইল। কয়েকবার চেষ্টা করে বলল, তুমি বিজ্ঞানের পরীক্ষিত সত্যের কথা বলছ কিন্তু বিজ্ঞানের অবদানের কথা বলছ না?

    বিজ্ঞানের কোন অবদান?

    মানুষের জন্ম প্রক্রিয়ার ব্যাপারটি। পুরুষ আর মহিলার এক ধরনের জৈবিক প্রক্রিয়া দিয়ে শিল্প জন্ম হত। শিশুর জন্ম নিশ্চিত করার জন্য প্রকৃতি সেই জৈবিক প্রক্রিয়ার মাঝে এক ধরনের আনন্দের ব্যবস্থা রেখেছিল। তুমি কি জান মানুষের মস্তিষ্কে স্টিমুলেশন দিয়ে এখন কৃত্রিমভাবে তার থেকে এক শ গুণ বেশি আনন্দ দেওয়া সম্ভব? তুমি কি জান শিশুর জন্ম দেওয়ার জন্য সেই জৈবিক প্রক্রিয়া এখন সম্পূর্ণ অপ্রয়োজনীয়? তুমি কি জান যে এখন একটি শিশুর জন্ম দেওয়ার জন্য পুরুষ কিংবা মহিলা কিছুরই প্রয়োজন নেই? হিসাব করে সাজিয়ে রাখা কিছু ডিএনএ দিয়ে একটা জৈব ল্যাবরেটরিতে এখন যে মানুষের জন্ম দেওয়া যায় সেটা তুমি জান?

    জানি।

    অশুন এক ধরনের উত্তেজনা নিয়ে বলল, ত্রা হলে ভবিষ্যতে যে মানব শিশুর জন্ম হবে ল্যাবরেটরিতে, তাদের যে বড় করা হবে কমিউনে সেটা কি তুমি অনুমান করতে পারছ না? এখন মেয়েদের একমাত্র দায়িত্ব হচ্ছে সন্তানকে গর্ভধারণ করা এবং সন্তানের জন্ম দেওয়া। জন্ম দেওয়ার সেই প্রক্রিয়াটিই যখন উঠে যাবে তখন এই পৃথিবীতে মেয়েদের যে কোনো প্রয়োজনই থাকবে না তুমি কি সেটা জান না?

    নিশি কয়েক মুহূর্ত অবাক হয়ে অন্তনের দিকে তাকিয়ে থেকে বলল, তুমি সত্যিই আমাকে এটা বিশ্বাস করতে বলো?

    হ্যাঁ বলি। অশুন কঠিন মুখে বলল, সত্যকে স্বীকার করে না, কারণ সত্য তোমাকে মুক্তি দেবে।

    নিশি হঠাৎ খিলখিল করে হেসে উঠে বলল, মানুষ নির্বোধ হলে খুব সুবিধা। তখন তাদের খুব ছোট একটা জগৎ হয় আর সেই বোকার জগতে তারা মহানন্দে বেঁচে থাকতে পারে। তুমিও সেরকম বোকার একটা স্বর্গে মহানন্দে বেঁচে আছ। কৃমি যেরকম বিষ্ঠায় বেঁচে থাকে অনেকটা সেরকম! কী আশ্চর্য, এই যুগে একজন মানুষ বলছে ভবিষ্যতে এই পৃথিবীতে থাকবে শুধু পুরুষ!

    অগুন জোরগলায় বলল, অবিশ্যি থাকবে শুধু পুরুষ। পুরুষ মানুষ শক্তিশালী, ভাদের বুদ্ধিমত্তা বেশি, তারা বেশি সৃজনশীল, তারা কর্মঠ, তাদের রসবোধ তীক্ষ্ণ, তারা ত্যাগী, তারা আত্মবিশ্বাসী তারা সবদিক দিয়ে শ্রেষ্ঠ। প্রকৃতি কেন তা হলে এই শ্রেষ্ঠ প্রজাতিকে বেছে নেবে না? মেয়েদের একমাত্র দায়িত্ব সন্তান জন্ম দেওয়া, সেটিই যখন তাদের হাতে থাকবে না তখন তাদের অস্তিত্বের প্রয়োজনটা কোথায়? তারা তখন সম্পূর্ণ অপ্রয়োজনীয় জঞ্জাল। তারা নোংরা আবর্জনা।

    নিশি তীব্র দৃষ্টিতে অশুনের দিকে তাকিয়ে থেকে বলল, তোমার ধারণাটা সত্যি কি না সেটা পরীক্ষা করে দেখতে চাও?

    অশুন ভুরু কুঁচকে বলল, সেটা কীভাবে করা হবে?

    আমি তোমাকে একটা চ্যালেঞ্জ দেব। সেই চ্যালেঞ্জটি গ্রহণ কর।

    কী চ্যালেঞ্জ?

    তুমি জান প্রযুক্তি এমন একটা পর্যায়ে পৌঁছেছে যে ইচ্ছে করলে একজন মানুষকে শীতলঘরে কয়েক হাজার বছর রেখে দেওয়া যায়।

    অশুন ভুরু কুঁচকে বলল, হ্যাঁ জানি।

    তোমাকে আমি চ্যালেঞ্জ করছি যে আমার সাথে এরকম একটি শীতলঘরে এক হাজার বছর থেকে বের হয়ে এসে দেখবে কার কথা সত্যি। তোমার না আমার?

    অশুন অবাক হয়ে নিশির দিকে তাকিয়ে বোঝার চেষ্টা করল সে কি ঠাট্টা করছে নাকি সত্যি কথা বলছে। কিন্তু নিশির চোখে-মুখে ঠাট্টার কোনো চিহ্ন নেই। সে ইতস্তত করে বলল, কিন্তু এটি বেআইনি কাজ। পৃথিবীতে এভাবে ভবিষ্যতে যাওয়ার বিরুদ্ধে কঠোর আইন রয়েছে।

    নিশি শব্দ করে হেসে বলল, এই আইনকে ফাঁকি দেওয়ার অনেক উপায় আছে অসুন।

    কিন্তু–

    অশুনকে বাধা দিয়ে নিশি বলল, আমি জানি আমার এই চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করার সাহস তোমার নেই। অশুন তুমি আর দশটা পুরুষ মানুষের মতো ভীতু, দুর্বল এবং কাপুরুষ। সবচেয়ে বড় কথা তুমি খুব ভালো করে জান তুমি যদি আমার চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করে এক হাজার বছর ভবিষ্যতে যাও তা হলে হিমঘর থেকে কের হয়ে দেখবে সারা পৃথিবীতে শুধু মেয়ে, পুরুষ মানুষের কোনো চিহ্ন নেই। তোমাকে যখন দেখবে আমি নিশ্চিত তোমাকে চিড়িয়াখানায় উলঙ্গ করে রেখে দেবে। ভবিষ্যতের মেয়েরা টিকিট কেটে তোমাকে দেখতে আসবে চিড়িয়াখানায়! সম্পূর্ণ অপ্রয়োজনীয় এই মানব প্রাণীটি কেমন করে পৃথিবীতে এসেছিল সেটা নিয়ে কথা বলে তারা সম্ভবত হাসতে হাসতেই মারা যাবে!

    অশুন মুখে শ্লেষের হাসি ফুটিয়ে বলল, আর যদি ঠিক তার উল্টো হয়? যদি দেখা যায় সবাই পুরুষ মহিলা বলে কিছু নেই এবং তোমাকেই যদি উলঙ্গ করে চিড়িয়াখানায় রেখে দেয়?

    নিশি মুখে বিচিত্র একটা হাসি ফুটিয়ে বলল, সেটাই যদি তুমি বিশ্বাস কর তা হলে আমার চ্যালেঞ্জটুকু গ্রহণ করার সাহস তোমার নেই কেন?

    কে বলেছে সাহস নেই?

    তা হলে আমার চ্যালেঞ্জ গ্রহণ কর।

    অশুন কঠোর মুখে বলল, অবশ্যই গ্রহণ করব। কেন গ্রহণ করব জান?

    কেন?

    যখন আমরা হিমঘর থেকে বের হয়ে আসব, তখন তোমাকে যেভাবে টেনেহিচড়ে ধ্বংস করে প্রকৃতিকে ত্রুটিমুক্ত করবে সেই দৃশাটি দেখার জন্য। এই দৃশ্যটি দেখে আমি যে আনন্দ পাব পৃথিবীর আর কেউ সে আনন্দ কোনো দিন পাবে বলে আমি বিশ্বাস করি না।

    নিশি মাথা নাড়ল। বলল, আমি তোমার মনের ভাবটি ঠিক ঠিক বুঝতে পারছি অশুন। আমি ঠিক জানি তুমি কী ভাবছ—কারণ আমিও ঠিক একই জিনিস ভাবছি। তোমাকে ধ্বংস হতে দেখার চাইতে বেশি আনন্দ পৃথিবীতে আর কিছুতে নেই। এই পরিচিত জগৎ থেকে এক হাজার বছর ভবিষ্যতের অনিশ্চিত জ্বগতে যেতে আমার কোনো দ্বিধা নেই শুধু এই একটি কারণে, আমি এই তীব্র আনন্দটুকু পেতে চাই। এই আনন্দটুকুর জন্য আমি সবকিছু দিতে পারি।

    চমৎকার।

    নিশি শীতল গলায় বলল, তুমি তা হলে আমার চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করলে?

    হ্যাঁ করছি।

    নিশি এবং অশুন একজন আরেক জনের দিকে স্থির দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইল। সেই দৃষ্টিতে এত ভয়ংকর ঘৃণা প্রকাশ পেতে থাকে যে নিজের অজান্তেই দুজনের বুক কেঁপে ওঠে।

    * * * * *

    স্টিল ভন্টের দরজা খুলে নিশি এবং অশুন হিমঘর থেকে বের হয়ে এল। পৃথিবীতে এর মাঝে এক হাজার বছর পার হয়ে গেছে, যদিও এই দুজনের কাছে মনে হচ্ছে মাত্র কিছুক্ষণ আগে তারা এর মাঝে প্রবেশ করেছে।

    নিশি অণ্ডনের দিকে তাকিয়ে বলল, কী আশ্চর্য! আমার এখনো বিশ্বাস হচ্ছে না যে তোমার মতো একটি নর্দমার কীটের সাথে আমি এক হাজার বছর কাটিয়ে দিয়েছি!

    হ্যাঁ। অশুন একটি নিশ্বাস ফেলে বলল, ভাগ্যিস আমার দেহ কয়েক ডিগ্রি কেলভিন তাপমাত্রায় ছিল, তোমার কাছে অচেতন না হয়ে থাকার কথা কল্পনা করা যায়?

    নিশি ছটফট করে বলল, আমার আর অপেক্ষা করার ধৈর্য নেই। আমি এই মুহূর্তে বের হয়ে যেতে চাই। দেখতে চাই পৃথিবীতে শুধু মেয়ে আর মেয়ে। আমি চাই তারা মুহূর্তে তোমাকে ধরে নিয়ে যাক, তোমাকে ছিন্নভিন্ন করে ফেলুক।

    হ্যাঁ। অশুন মাথা নেড়ে বলল, তুমি ঠিকই বলেছ। আমিও আর অপেক্ষা করতে পারছি না। আমরা যখন বের হব তারপর আর হয়তো তোমার সাথে দেখা হবে না। তোমাকে শেষ একটি কথা বলে যাই।

    কী কথা?

    তোমাকে যখন ধ্বংস করতে নিয়ে যাবে তখন তুমি একটি জিনিস ভেবে আনন্দ পাবার চেষ্টা করো।

    নিশি জিজ্ঞেস করল, কী জিনিস?

    তোমার মৃত্যুটি আমাকে অপূর্ব এক ধরনের আনন্দ দেবে। অচিন্তনীয় আনন্দ। তোমার কারণে আমি এই আনন্দটি পেতে পেরেছি।

    সেটি নিয়ে কথা না বলে পরীক্ষা করেই দেখা যাক। চল আমরা বাইরে যাই। মানুষ খুঁজে বের করি।

    হ্যাঁ চল। অশুন বলল, আর কিছুক্ষণ পর তোমাকে আর কখনোই দেখতে হবে না ব্যাপারটি চিন্তা করেই আনন্দে আমার নাচতে ইচ্ছে করছে।

    নিশি মুচকি হেসে বলল, দেখা যাক কে সত্যিই নাচে।

    নিশি এবং অশুন বাইরে এসে আবিষ্কার করল চারপাশের পৃথিবীটি তারা যেরকম কল্পনা করেছিল প্রায় সেভাবেই গড়ে উঠেছে। মানুষ প্রকৃতির সাথে যুদ্ধ না করে তার সাথে সহাবস্থান করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে চারপাশে এক ধরনের শান্ত কোমল পরিবেশ বড় বড় গাছ, নির্মেঘ আকাশ, হ্রদে টলটল জলরাশি। তারা যেখানে আছে সেটি একটি বনাঞ্চল। চারপাশে বিচিত্র বুনোফুল, সেখানে প্রজাপতি খেলা করছে। গাছের ডালে পাখির কিচিরমিচির শব্দ, বাতাসে হেমন্তকালের শীতল বাতাসের স্পর্শ।

    দুজনে প্রায় আধাঘণ্টা হেঁটে প্রথমবার একটি লোকালয়কে খুঁজে পেল। ছবির মতো সুন্দর বাসার সামনে নানা বয়সী মানুষ একটি আনন্দমুখর পরিবেশে হইচই করছে। নিশি এবং অশুন নিশ্বাস বন্ধ করে মানুষগুলোর দিকে এগিয়ে যায়। প্রথমে একটি শিশু তাদের দেখে হঠাৎ আতঙ্কে চিৎকার করতে থাকে এবং অন্যরা তাদের দিকে এগিয়ে আসে, কিছুক্ষণের মাঝেই নানা বয়সী মানুষ এক ধরনের বিস্ময়াভিভূত চোখ নিয়ে তাদের ঘিরে পাড়ায়। নিশি এবং অশুন মানুষগুলোর দিকে অবাক হয়ে তাকিয়ে দেখে বোঝার চেষ্টা করে এরা কি পুরুষ নাকি নারী? কিন্তু তারা বুঝতে পারে না। মানুষগুলো অবোধ্য ভাষায় কথা বলছে, তারা কিছু বুঝতে পারছে না। কিছুক্ষণের মাঝেই একজন একটি ভাষা অনুবাদক যন্ত্র নিয়ে আসে। মধ্যবয়স্ক মানুষটি সেটি মুখে লাগিয়ে জিজ্ঞেস করল, তোমরা কী? তোমরা কোথা থেকে এসেছ?

    নিশি এবং অন একজন আরেকজনের দিকে তাকাল, এটি কী ধরনের প্রশ্ন? অন বলল, আমরা মানুষ। আমরা সুদূর অতীত থেকে এসেছি।

    কী আশ্চর্য! কম বয়সী একজন আশ্চর্যধ্বনি করে বলল, তোমরা দুজন দেখতে দুরকম কেন?

    নিশি এবং অশুন এই প্রথমবারের মতো নিজেদের ভেতর সূক্ষ্ম এক ধরনের আতঙ্ক অনুভব করে। নিশি কঁপা গলায় বলল, আমরা দুজন দেখতে দুরকম কারণ আমাদের একজন নারী অন্যজন পুরুষ।

    নিশির কথা শুনে আতঙ্কের একটা শব্দ করে সবাই এক পা পিছিয়ে যায়। মানুষগুলো ফিসফিস করে ভয় পাওয়া গলায় বলে, সর্বনাশ! পুরুষ নারী!

    মানুষগুলো একটু দূর থেকে তাদের ভয় পাওয়া চোখে দেখতে থাকে। ছোট ছোট শিশুগুলো বড়দের পেছনে লুকিয়ে যায়। মধ্যবয়স্ক মানুষটি কঁপা গলায় বলল, সর্বনাশ হয়েছে। প্রাচীনকালের পুরুষ আর নারী চলে এসেছে! এক্ষুনি নিরাপত্তাকর্মীদের ডাক।

    নিশি অবাক হয়ে বলল, তোমরা এত অবাক হচ্ছ কেন? তোমরা কি নারী না পুরুষ?

    মানুষগুলো কোনো কথা না বলে অবাক হয়ে তাদের দিকে তাকিয়ে থাকে। নিশি এবং অশুন বুঝতে পারে মানুষগুলোর চেহারা পুরুষ বা নারী দুইই হতে পারে। তারা আগে কখনো এরকম চেহারার মানুষ দেখে নি। অশুন বলল, তোমরা কথা বলছ না কেন? তোমরা কি পুরুষ না নারী?

    মধ্যবয়স্ক মানুষটি বলল, নারী-পুরুষ এইসব আদিম বিভাজন বহুঁ আগে শেষ হয়ে গেছে। এখন এখানে নারী-পুরুষের মতো কোনো ভাগ নেই। এখানে সবাই মানুষ!

    কিন্তু—কিন্তু–

    কিন্তু কী?

    নারী আর পুরুষ যদি না থাকে তা হলে শিশুদের জন্ম হয় কেমন করে?

    শিশুদের জন্ম হয় না। ডিজাইন করে তৈরি করা হয়।

    কে তৈরি করে।

    আমাদের ল্যাবরেটরিতে।

    নিশি কাঁপা গলায় বলল, তোমরা তোমাদের শিশুদের ভালবাস?

    কেন ভালবাসব না? আমাদের সবাইকে নিখুঁতভাবে তৈরি করা হয়েছে। বুদ্ধি দিয়ে, ভালবাসা দিয়ে, স্বপ্ন দিয়ে। তোমরা সেটা বুঝবে না।

    কেন বুঝব না? নিশি প্রশ্ন দৃষ্টিতে বলল, না বোঝার কী আছে?

    আমরা জানি প্রাচীনকালে মানুষের মস্তিষ্ক অপরিণত ছিল। তারা পুরুষ-মহিলা, সাদাকালো, জাতি-ধর্ম-ভাষা এসব নিয়ে মাথা ঘামাত। এখন আমরা তার ঊর্ধ্বে এসেছি।

    কিন্তু–অশুন বলল, কিন্তু–

    তোমরা বুঝবে না। মধ্যবয়স্ক মানুষটি এক ধরনের ভয় পাওয়া গলায় বলল, আমার মনে হয় তোমাদের এখনই নিরাপত্তা বেষ্টনীতে নিয়ে যাওয়া দরকার।

    নিশি এবং অশুন ঠিক তখন এক ধরনের চাপা যান্ত্রিক শব্দ শুনতে পেল। তারা চোখ তুলে তাকিয়ে দেখল, আকাশপথে নিরাপত্তাকর্মীরা আসছে। নিশি এবং অন একজন। আরেকজনের দিকে তাকাল, তাদের দৃষ্টিতে ঘৃণার সাথে সাথে এই প্রথমবারের মতো আতঙ্কের ছায়া ফুটে ওঠে।

    * * * * *

    ভবিষ্যতের পৃথিবীতে নিশি এবং অশুন দীর্ঘদিন বেঁচে ছিল। তাদেরকে একটা ছোট ঘরে আটকে রাখা হয়েছিল। অবিশ্বাস্য হলেও সত্যি একজনের প্রতি অন্যজনের প্রচণ্ড ঘৃণা তাদেরকে এই দীর্ঘসময় বেঁচে থাকতে সাহায্য করেছিল।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40 41 42 43 44 45 46 47 48 49 50 51 52 53 54 55 56 57 58
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleতারপর কী হল – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    Next Article কাবিল কোহকাফী – মুহম্মদ জাফর ইকবাল

    Related Articles

    মুহম্মদ জাফর ইকবাল

    ছোটগল্প – মুহম্মদ জাফর ইকবাল

    November 19, 2025
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল

    সাদাসিধে কথা – মুহম্মদ জাফর ইকবাল

    November 19, 2025
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল

    মেকু কাহিনী – মুহম্মদ জাফর ইকবাল

    November 19, 2025
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল

    আমার বন্ধু রাশেদ – মুহম্মদ জাফর ইকবাল

    November 19, 2025
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল

    সায়েন্স ফিকশান সমগ্র ১ – মুহম্মদ জাফর ইকবাল

    November 19, 2025
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল

    টুনটুনি ও ছোটাচ্চু – মুহম্মদ জাফর ইকবাল

    November 19, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Our Picks

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }