Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    সায়েন্স ফিকশন সমগ্র ৪ – মুহম্মদ জাফর ইকবাল

    মুহম্মদ জাফর ইকবাল এক পাতা গল্প1092 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    ১. নীরা ত্রাতিনা

    নীরা ত্রাতিনা গোল জানালা থেকে ভেসে ভেসে সরে যাচ্ছিল, সে হাত বাড়িয়ে জানালার কাচটা স্পর্শ করে নিজেকে থামিয়ে নেয়। জানালার শীতল কাঁচে মুখ স্পর্শ করে সে দূর পৃথিবীর দিকে তাকায়, দুই হাজার কিলোমিটার দূরের নীল পৃথিবীটাকে কী সুন্দরই না। দেখাচ্ছে! উপর থেকে মহাদেশগুলোকে স্পষ্ট দেখা যায়, সাদা মেঘে বিষুব অঞ্চলটা ঢেকে আছে। এরকম কোনো একটা মেঘের নিচে এই মুহূর্তে তার প্রিয় শহর টেহলিস আড়াল পড়ে গেছে। কতদিন সে তার শহরে যায় নি, মহাকাশে ভেসে ভেসে সে কী গভীর একটা ভালবাসা নিয়েই না মেঘের আড়ালে লুকিয়ে থাকা শহরটির দিকে তাকিয়ে থাকে।

    ফ্লাইট ক্যাপ্টেন রিশান মহাকাশ স্টেশনের শেষ মাথায় বড় টেলিস্কোপটায় চোখ লাগিয়ে বাইরে তাকিয়ে ছিল। সে টেলিস্কোপ থেকে চোখ সরিয়ে ভেতরে তাকিয়ে নীরা ত্রাতিনাকে দেখতে পায়। ছিপছিপে কম বয়সী তরুণী, ঝকঝকে খাপখোলা তলোয়ারের মতো চেহারা। এই কম বয়সেই নিজেকে একজন সত্যিকার মহাকাশচারী হিসেবে পরিচিত করে ফেলেছে। মেয়েটির জন্য রিশান মাঝে মাঝেই নিজের বুকের গভীরে কোথাও এক ধরনের ভালবাসা অনুভব করে। কখনো সেটা সে প্রকাশ করে নি, কিন্তু সেটা কি এই মেয়েটার কাছে গোপন রয়েছে?

    রিশান তার টেলিস্কোপটা ছেড়ে দেয়াল স্পর্শ করে ভাসতে ভাসতে নীরা ত্রাতিনার কাছে এগিয়ে এল। কাছাকাছি এসে জানালা স্পর্শ করে নিজেকে থামিয়ে বলল, নীরা, এত মনোযোগ দিয়ে কী দেখছ তুমি? O।

    নীরা ত্রাতিনা রিশানের দিকে তাকিয়ে শব্দ করে হাসল, বলল, এই মহাকাশ থেকে পৃথিবী ছাড়া দেখার মতো আর কী আছে বলো?

    রিশান বলল, তুমি যেভাবে দেখছ, তাতে মনে হচ্ছে পৃথিবীটা আগে কখনো দেখ নি।

    নীরা ত্রাতিনা মাথা নাড়ল, বলল, সেটা তুমি কিন্তু খুব ভুল বলে নি। এখান থেকে আমি যতবার পৃথিবীকে দেখি ততবার মনে হয় আমি যেন প্রথমবার দেখছি।

    রিশান বলল, আর দু সপ্তাহের মাঝে পৃথিবীটাকে তুমি আরো অনেক কাছে থেকে দেখতে পাবে!

    নীরা ত্রাতিনা বড় বড় চোখে বলল, সত্যি?

    হ্যাঁ। আমি খবর পেয়েছি, নতুন ক্রু আসছে। আমরা পৃথিবীতে ফিরে যাচ্ছি।

    নীরা ত্রাতিনা অবিশ্বাসের গলায় বলল, আমার এখনো বিশ্বাস হচ্ছে না!

    প্রথমে আমারও বিশ্বাস হয় নি। তখন আমি মহাকাশ কেন্দ্রে যোগাযোগ করেছি, তারা বলেছে এটি সত্যি।

    নীরা একটা লম্বা নিশ্বাস নিয়ে বলল, দেখবে একেবারে শেষ মুহূর্তে প্রোগ্রামটা বাতিল করে দেবে।

    না, তার সুযোগ নেই। মহাকাশ স্টেশনে টানা ছয় মাসের বেশি কারো থাকার নিয়ম নেই।

    নিয়ম নেই তাতে কী হয়েছে? হয়তো আমাদের দিয়েই নিয়ম করবে। টানা ছয়। মাসের বেশি একটা মহাকাশ স্টেশনে থাকলে মহাকাশচারীদের মেজাজ কেমন তিরিক্ষে হয়ে থাকে সেটা নিয়েই হয়তো গবেষণা হবে।

    রিশান শব্দ করে হেসে বলল, তোমার ভয় নেই নীরা। সেসব নিয়ে গবেষণা বহুকাল আগে শেষ হয়ে গেছে।

    তা হলে তুমি বলছ আমরা সত্যি সত্যি পৃথিবীতে ফিরে যাচ্ছি?

    হ্যাঁ নীরা, আমরা দু সপ্তাহের মাঝে পৃথিবীতে ফিরে যাচ্ছি।

    চমৎকার! নীরা জানালা থেকে হাতটা সরাতেই ভেসে উপরে উঠে যেতে শুরু করে। মহাকাশ স্টেশনের ছাদ স্পর্শ করে নিজেকে থামিয়ে বলল, এই সুসংবাদটি দেবার জন্য চল একটু স্ফুর্তি করা যাক।

    রিশান হাসি হাসি মুখে জিজ্ঞেস করল, তুমি কী রকম স্ফুর্তি করার কথা ভাবছ?

    উত্তেজক পানীয় খেয়ে সবাইকে নিয়ে খানিকক্ষণ চেঁচামেচি করা যেতে পারে। আমার কাছে খাঁটি প্রাকৃতিক উপাদানে তৈরি একটা কেক আছে, ভালো কোনো ঘটনার জন্য অপেক্ষা করছিলাম। মহাকাশ স্টেশনে এর থেকে ভালো কোনো ঘটনা আর কী হতে পারে।

    ঠিকই বলেছ। রিশান বলল, তুমি সবাইকে খবর দিয়ে কেকটা কাটা শুরু কর। আমি আসছি। টেলিস্কোপে একটা গ্রহাণু একটু দেখে আসি।

    নীরা ত্রাতিনা ভুরু কুঁচকে বলল, হঠাৎ করে এই গ্রহাণু দেখার জন্য ব্যস্ত হচ্ছ কেন?

    মহাকাশ কেন্দ্র থেকে বলেছে। গতিপথটা নাকি সুবিধার নয়। পৃথিবীর কক্ষপথে পড়তে পারে।

    নীরা ত্রাতিনা শব্দ করে হাসল, বলল, পৃথিবীর মানুষের ভয় বড় বেশি। মহাকাশে একটা নুড়ি পাথর দেখলেও তাদের ঘুম নষ্ট হয়ে যায়।

    রিশান মাথা নাড়ল, বলল, ঠিকই বলেছ। তবে বেচারাদের খুব বেশি দোষ দেওয়া যায় না, পঁয়ষট্টি মিলিয়ন বছর আগেকার ঘটনা মনে হয় ভুলতে পারছে না। পুরো ডাইনোসর জগৎ উধাও হয়ে গেল-সেই তুলনায় মানুষ তো রীতিমতো অসহায় প্রাণী!

    ঠিক আছে তুমি গ্রহাণুটা দেখে আস। আমি সবাইকে ডেকে আনি।

    .

    আধঘণ্টা পর মহাকাশ স্টেশনের তিরিশ জন ক্রু নিয়ে একটা জমাট পার্টি শুরু হল। নীরা ত্রাতিনার বাচিয়ে রাখা কেক, কিছু বেআইনি উত্তেজক পানীয় এবং নিয়মবহির্ভূত গানবাজনায় ছোট মহাকাশযানটা রীতিমতো উদ্দাম হয়ে ওঠে। মহাকাশ স্টেশনের তরশূন্য পরিবেশে বিচিত্র নাচগানের চেষ্টা করতে গিয়ে ছোট দুর্ঘটনা ঘটিয়ে একটা অবলাল ক্যামেরার মূল্যবান লেন্সটা ভেঙে ফেলার পর সিকিউরিটি অফিসার ফুল হাত তুলে পার্টির সমাপ্তি ঘোষণা করল, গলা উঁচিয়ে বলল, অনেক হয়েছে। সবাই এখন থাম। বাকিটুকু পৃথিবীর জন্য থাকুক।

    আমুদে পদার্থবিজ্ঞানী রিশি বলল, পৃথিবীতে কি আমরা এই নাচ নাচতে পারব? কখনো পারব না।

    না পারলে নাই। কিন্তু তোমরা যা শুরু করেছ আরেকটু হলে মহাকাশ স্টেশনের দেয়াল ভেঙে বের হয়ে যাবে।

    জীববিজ্ঞানী কিরি বলল, আর একটু থুল।

    উঁহু। আর না। তোমরা যেভাবে বেআইনি উত্তেজক পানীয় খাচ্ছ যদি পৃথিবীতে সেই খবর পৌঁছায় তা হলে নির্ঘাত আমাকে জেলে পুরে রাখবে।

    নীরা ত্রাতিনা খিলখিল করে হেসে বলল, তুমি সেটা নিয়ে মন খারাপ করো না। কথা দিচ্ছি আমরা প্রতি সপ্তাহে জেলে তোমার সাথে খাবারের প্যাকেট নিয়ে দেখা করতে আসব।

    থুল জোর করে মুখ শক্ত করে বলল, তুমি আমাকে দেখতে আসবে না আমি তোমাকে দেখতে আসব সে ব্যাপারে তুমি এত নিশ্চিত হলে কেমন করে?

    রিশি ঠাট্টা করে কী একটা বলতে যাচ্ছিল সিকিউরিটি অফিসার থুল তার সুযোগ দিল। হাত নেড়ে বলল, আর ঠাট্টা-তামাশা নয়। পার্টি শেষ। এখন যে যার কাজে যাও।

    কাজেই কিছুক্ষণের ভেতরে যে যার কাজে চলে গেল। নীরা ত্রাতিনার এই মুহূর্তে কোনো কাজ নেই, ভেসে ভেসে নিজের কেবিনের দিকে যেতে যেতে তার রিশানের সাথে দেখা হয়ে গেল, হালকা গলায় বলল, খুব মজা হল আজকে তাই না?

    রিশান অন্যমনস্ক গলায় বলল, হুঁ।

    নীরা ত্রাতিনা রিশানকে ভালো করে লক্ষ করল, মুখটায় এক ধরনের দুশ্চিন্তার ছাপ। সে দেয়ালে হাত দিয়ে নিজেকে থামিয়ে বলল, কী ব্যাপার রিশান, কিছু হয়েছে নাকি?

    না। কিছু হয় নি।

    তা হলে তোমাকে এত দুশ্চিন্তিত মনে হচ্ছে কেন?

    ঐ গ্রহাণুটা-

    কী হয়েছে গ্রহাণুটার?

    পাজি গ্রহাণুটা একেবারে পৃথিবীর কক্ষপথে।

    কত দূরে আছে?

    এখনো অনেক দূর, প্রায় সাড়ে চার মিলিয়ন কিলোমিটার।

    তা হলে এত দুশ্চিন্তা করছ কেন? এত দূরে থাকতে কখনো নিশ্চিত করে কিছু বলা যায় না।

    রিশান চিন্তিত মুখে বলল, না, দুশ্চিন্তা করছি না। তবে

    তবে কী?

    যদি এটা তার গতিপথ না বদলায় তা হলে আমাদের এটাকে চূর্ণবিচূর্ণ করতে হবে। তার মানে বুঝতে পেরেছ?

    নীরা ত্রাতিনা মাথা নাড়ল, বলল, হ্যাঁ। বুঝতে পারছি। সেটা করতে হবে আমাদের।

    হ্যাঁ।

    নীরা ত্রাতিনা দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলল, তার মানে আমাদের পৃথিবীতে ফিরে যাওয়া পিছিয়ে যাবে।

    হ্যাঁ। রিশান জোর করে একটু হাসার চেষ্টা করে বলল, পার্টিটা মনে হয় আমরা একটু আগেই করে ফেলেছি!

    নীরা ত্রাতিনা বলল, মোটও আগে করি নি। ঠিক সময়ে করেছি।

    কীভাবে ঠিক সময়ে করা হল?

    যদি পৃথিবীতে ফিরে যেতে না পারি তা হলে এই গ্রহাণুকে আমাদের চূর্ণবিচূর্ণ করতে হবে। তা হলে ধরে নাও পার্টিটা হয়েছে পাজি গ্রহাণুকে চূর্ণবিচূর্ণ করা উপলক্ষে।

    রিশান শব্দ করে হেসে বলল, মহাকাশে ছুটে আসা গ্রহাণুকে ধ্বংস করা হচ্ছে পৃথিবীর সবচেয়ে বিপজ্জনক, সবচেয়ে ভয়ংকর কাজগুলোর একটি। সেটা উপলক্ষে পার্টি করতে হলে বেশ নার্ভের প্রয়োজন!

    নীরা ত্রাতিনা বলল, আমার নার্ভ নিয়ে কোনো সমস্যা নেই।

    রিশান বলল, জানি।

    যদি সত্যি সত্যি নিউক্লিয়ার মিসাইল নিয়ে যেতে হয় আমি কিন্তু যাব।

    ঠিক আছে।

    এখন কি তুমি টেলিস্কোপে আবার গ্রহাণুটাকে দেখতে যাচ্ছ?

    হ্যাঁ।

    আমি কি তোমার সাথে দেখতে পারি?

    হ্যাঁ। অবশ্যই দেখতে পার।

    নীরা ত্রাতিনা আর রিশান ভেসে ভেসে মহাকাশ স্টেশনের বড় টেলিস্কোপটার দিকে এগিয়ে যেতে থাকে।

    .

    এই মহাকাশ স্টেশনটি পৃথিবী থেকে দুই হাজার কিলোমিটার উপরে একটা কক্ষপথে বসানো রয়েছে। দুই ঘণ্টার কাছাকাছি সময়ে এটা পৃথিবীকে একবার করে প্রদক্ষিণ করে। এই মহাকাশ স্টেশনে সব সময় বিজ্ঞানীদের একটি দল থাকে, মহাকাশ নিয়ে নানা গবেষণা করার জন্য তাদের পাঠানো হয়। দৈনন্দিন কাজের বাইরেও তাদের আরো নানা ধরনের কাজ করতে হয়-কোনো একটি গ্রহাণু পৃথিবীর দিকে ছুটে এলে সেটাকে মাঝপথে থামিয়ে বিস্ফোরিত করে দেওয়া সেরকম একটা কাজ।

    টেলিস্কোপের আইপিসে চোখ লাগিয়ে নীরা ত্রাতিনা বলল, কী বীভৎস দেখতে!

    হ্যাঁ, এই গ্রহাণুটা দেখতে ভালো নয়।

    কেমন লালচে রং দেখছ? পচা ঘায়ের মতন।

    রিশান বলল, হ্যাঁ। এটা এস-টাইপ গ্রহাণু। লোহা আর ম্যাগনেসিয়ামে তৈরি। শতকরা পনের ভাগ গ্রহাণু এরকম।

    নীরা ত্রাতিনা জিজ্ঞেস করল, প্রহাণুটা তার কক্ষপথ ছেড়ে পৃথিবীর দিকে ছুটে আসতে শুরু করল কেন?

    ঠিক বোঝা যাচ্ছে না। সম্ভবত অন্য কোনো গ্রহাণুর সাথে ধাক্কা লেগে গতিপথ পাল্টে গেছে।

    নীরা ত্রাতিনা খানিকক্ষণ গ্রহাণটা লক্ষ করে বলল, গ্রহাণ হিসেবে এটা বেশ বড়।

    হ্যাঁ। প্রায় বারো কিলোমিটার। সত্যি সত্যি পৃথিবীতে আঘাত করলে পৃথিবী শেষ হয়ে যাবে।

    নীরা ত্রাতিনা টেলিস্কোপ থেকে চোখ সরিয়ে বলল, শুধু শুধু দুশ্চিন্তা না করে চল এর গতিপথটা বের করে ফেলি।

    হ্যাঁ। আমি সেজন্য এসেছি।

    আমার এখন সেরকম কোনো কাজ নেই। তোমাকে সাহায্য করতে পারি?

    অবশ্যই। তুমি যদি শুধু পাশে বসে থাক তা হলেই আমার অনেক বড় সাহায্য হবে। একা একা এই বিদঘুটে গ্রহাণুটাকে দেখতে ইচ্ছে করছে না।

    তোমার ভয় নেই রিশান, আমি তোমার সাথে আছি।

    পরবর্তী ছয় ঘণ্টা অত্যন্ত নিখুঁতভাবে গ্রহাণুর গতিপথটি ছকে ফেলে নীরা ত্রাতিনা আর রিশান আবিষ্কার করল টোরকা নামের বারো কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের একটা গ্রহাণু মূর্তিমান বিভীষিকার মতো পৃথিবীর দিকে ছুটে যাচ্ছে। গ্রহাণুটি লালচে, আকৃতি একটু লম্বা এবং পৃষ্ঠদেশ অসমতল। গ্রহাণুটি ঘুরছে এবং সে কারণে গতিপথ অত্যন্ত সুনির্দিষ্ট। পৃথিবীর ইতিহাসে একচল্লিশ দিনের মাথায় এই গ্রহাণুটির বায়ুমণ্ডলে ঢোকার কথা।

    এরপর যে ঘটনাটি ঘটবে সেটি কেউ চিন্তাও করতে সাহস পায় না।

    কিছুক্ষণের মাঝেই মহাকাশযানের সব ক্রু গ্রহাণু টোরকার কথা জেনে গেল, মহাকাশযানের ক্যাপ্টেন জরুরিভাবে সবাইকে তার কেবিনে ডেকে পাঠাল। গ্রহাণুটা পৃথিবীকে আঘাত করলে কী হতে পারে সেই বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। পদার্থবিজ্ঞানী রিশি একটা বড় নিশ্বাস ফেলে বলল, টোরকা গ্রহাণুটা পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে ঘণ্টায় এক শ বিশ হাজার কিলোমিটার বেগে আঘাত করবে।

    উপস্থিত বেশ কয়েকজন বিস্ময়ে শিস দেবার মতো একটা শব্দ করল। রিশি মাথা নেড়ে বলল, গ্রহাণুটার আকার বারো কিলোমিটার। এটা বায়ুমণ্ডল ভেদ করে যাবে এবং কিছু বোঝার আগে, প্রায় চোখের পলকে, পৃথিবীতে আঘাত করবে। শেষবার এরকম একটা উল্কা আঘাত করেছিল জনমানবহীন সাইবেরিয়াতে তাই কোনো প্রাণহানি হয় নি। কিন্তু এই গ্রহাণুটা আঘাত করবে এশিয়ার সবচেয়ে জনবহুল এলাকায়। গ্রহাণুটা যখন পৃথিবীতে আঘাত করবে সেটা পৃথিবীর উপরের স্তর কয়েক কিলোমিটার ভেঙে ভেতরে ঢুকে যাবে। সেই ভয়ংকর বিস্ফোরণটি হবে কয়েক হাজার নিউক্লিয়ার বোমার বিস্ফোরণের সমান। মুহূর্তে প্রায় অর্ধবিলিয়ন মানুষ মারা যাবে।

    যারা উপস্থিত ছিল তারা আবার শিস দেবার মতো একটা শব্দ করল। রিশি মাথা নেড়ে বলল, হ্যাঁ। সেটা হচ্ছে স্ক। এই বিস্ফোরণে পাথর ধুলাবালি বিদ্যুৎগতিতে উপরে উঠে যাবে। কেন জান?

    নীরা ত্রাতিনা জিজ্ঞেস করল, কেন?

    কারণ এই গ্রহাণুটা যখন পৃথিবীর দিকে ছুটে যাবে তখন তার পেছনের সব বাতাসকে সরিয়ে নেবে, পেছনে থাকবে একটা শূন্যতা, সেই শূন্য গহ্বর দিয়ে ধুলাবালি পাথর ধোঁয়া আবর্জনা সবকিছু উঠে আসবে। তারপর সেটা ছড়িয়ে পড়বে সারা পৃথিবীর আকাশে। আমাদের কেউ যদি তখন মহাকাশের এই স্টেশনে থাকি তা হলে আমরা দেখব কালো ধোঁয়ায় পৃথিবীটা ঢেকে যাচ্ছে। গ্রহটিকে আর নীল দেখাবে না, এটাকে দেখাবে ধূসর।

    রিশি একটা নিশ্বাস ফেলে বলল, পৃথিবীতে দিন-রাতের কোনো পার্থক্য থাকবে না, পুরোটাই হবে কালো রাত। কুচকুচে অন্ধকারে সবকিছু ঢাকা থাকবে। হিমশীতল ঠাণ্ডায় পৃথিবী স্থবির হয়ে যাবে। আকাশ থেকে কালো ধুলাবালি পৃথিবীতে পড়তে থাকবে, পুরো পৃথিবী ঢেকে। যাবে কালো ধুলার স্তরে। প্রথমে যারা মারা যায় নি তখন তারা মারা পড়তে শুরু করবে।

    রিশি একটা নিশ্বাস ফেলে চুপ করল। জীববিজ্ঞানী কিরি বলল, হ্যাঁ আমার ধারণা পৃথিবীর জীবিত প্রাণীর প্রায় নিরানব্বই শতাংশ মারা যাবে। সমুদ্রের পানি ধুলায় ঢেকে যাবে, জলজ প্রাণীরা নিশ্বাস নিতে পারবে না। গাছপালা কীটপতঙ্গ মারা যাবে প্রচণ্ড শীতে। পশুপাখি মারা যাবে না খেতে পেয়ে। তাদের খেয়ে বেঁচে থাকত যে প্রাণী তখন মারা যাবে সেই। প্রাণী! ফুড চেইন ধরে একটি একটি প্রজাতি ধ্বংস হতে শুরু করবে। পরবর্তী এক বছরে পুরো পৃথিবী প্রায় প্রাণহীন একটা গ্রহে পাল্টে যাবে।

    রিশি বলল, হ্যাঁ। এক দুইজন মানুষ নিশ্চয়ই কোথাও না কোথাও বেঁচে থাকবে। তারা আবার একেবারে গোড়া থেকে পৃথিবীর সভ্যতা শুরু করবে!

    রিশির কথা শেষ হবার পরও সবাই কেমন যেন হতচকিতের মতো বসে থাকে, পুরো বিষয়টি যেন এখনো ঠিক বুঝে উঠতে পারছে না। সিকিউরিটি অফিসার থুল কিছু একটা বলার চেষ্টা করে থেমে গেল। ঠিক তখন একটা হাসির শব্দ শোনা যায়-সবাই মাথা ঘুরিয়ে তাকিয়ে দেখে নীরা ত্রাতিনা খিলখিল করে হাসছে।

    থুল একটু ক্রুদ্ধ ভঙ্গিতে বলল, কী হল? তুমি হাসছ কেন?

    তোমাদের সবাইকে দেখে।

    আমাদের মাঝে হাসির ব্যাপারটা কী?

    তোমাদের চেহারা দেখেই হাসি পাচ্ছে। তাকিয়ে দেখ সবাইকে। মুখ দেখে মনে হচ্ছে টোরকা গ্রহাণুটা সত্যি সত্যি পৃথিবীকে আঘাত করে ফেলেছে। সত্যি সত্যি পৃথিবীর সব মানুষ মরে ভূত হয়ে গেছে। মনে রেখ এখনো ব্যাপারটা ঘটে নি এবং আমরা সেটা ঘটতেও দেব না।

    কেউ কোনো কথা না বলে নিঃশব্দে নীরা ত্রাতিনার দিকে তাকিয়ে রইল। নীরা ত্রাতিনা বলল, আমরা এখান থেকে একটা মিসাইল দিয়ে গ্রহাণুটাকে আঘাত করব। নিউক্লিয়ার বোমা দিয়ে টোরকাকে টুকরো টুকরো করে দেব।

    রিশান মাথা নাড়ল, বলল, হ্যাঁ। আমাদের কাছে পৃথিবী থেকে সেরকম একটা নির্দেশ এসেছে।

    কাজেই তোমরা সবাই এরকম প্যাচার মতো মুখ করে থেকো না। তোমাদের দোহাই লাগে-শুধু শুধু কেউ মুখ ভোঁতা করে বসে থাকলে দেখতে খুব খারাপ লাগে!

    নীরা ত্রাতিনার কথা শুনে এবারে বেশ কয়েকজন সহজ গলায় হেসে উঠল। রিশি বলল, নীরা ঠিকই বলেছে। এই বিদঘুটে গ্রহাণুটা তো সত্যি সত্যি পৃথিবীকে আঘাত করে নি! আমরা এটাকে তার আগেই ধ্বংস করব।

    থুল হাত উঁচু করে বলল, অবশ্যই ধ্বংস করব।

    একসাথে এবারে অনেকে হাত তুলে প্রায় স্লোগানের ভঙ্গিতে বলল, অবশ্যই ধ্বংস করব।

    .

    একটা স্কাউটশিপে করে ফ্লাইট ক্যাপ্টেন রিশান এবং মহাকাশচারী শুরার গ্রহাণু টোরকার কাছে যাবার কথা ছিল, কিন্তু নীরা ত্রাতিনা বলল সেও যেতে চায়। কাজটি বিপজ্জনক তাই কেউ যদি স্বেচ্ছায় যেতে চায় তাকে অগ্রাধিকার দেবার নিয়ম। নীরা ত্রাতিনার বয়স তুলনামূলকভাবে কম হলেও সে প্রথম শ্রেণীর মহাকাশচারী। তাই পৃথিবী থেকে তার অনুমতি পেতে সমস্যা হল না। স্কাউটশিপটি ছোট, সেখানে তিন জন যাওয়া সহজ নয় তাই শেষ পর্যন্ত। রিশান এবং মহাকাশচারী শুরার পরিবর্তে নীরা ত্রাতিনাকে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হল।

    গ্রহাণুটি এখনো অনেকখানি দূরে কিন্তু সেটা কাছে আসার জন্য কেউই অপেক্ষা করতে রাজি নয়। এটাকে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব ধ্বংস করা দরকার তাই রিশান এবং নীরা ত্রাতিনা খুব তাড়াতাড়ি রওনা দেওয়ার প্রস্তুতি নেয়। প্রতিরক্ষা দপ্তরের কর্মচারীরা স্কাউটশিপে দুটি হালকা নিউক্লিয়ার বোমা তুলে দেয়। স্কাউটশিপে জ্বালানি ভরতে অনেক সময় লেগে গেল। সেখানকার মূল কম্পিউটারে মহাকাশ স্টেশন এবং পৃথিবী থেকে প্রয়োজনীয় তথ্য প্রবেশ করিয়ে শেষ পর্যন্ত স্কাউটশিপটাকে রওনা দেবার জন্য প্রস্তুত করে নেওয়া হল।

    মহাকাশযানের ইঞ্জিনিয়াররা যখন স্কাউটশিপটার যান্ত্রিক ঘুঁটিনাটি শেষবারের মতো পরীক্ষা করছে তখন বায়ু নিরোধক গোলাকার হ্যাঁচ দিয়ে রিশান আর নীরা ত্রাতিনা তাদের স্কাউটশিপে গিয়ে ঢোকে। ধাতব দরজাটি বন্ধ করে দিয়ে দু জনে কন্ট্রোল প্যানেলের সামনে আরামদায়ক চেয়ারে বসে নিজেদের আষ্টেপৃষ্ঠে বেঁধে নেয়। কিছুক্ষণের মাঝেই কাউন্ট ডাউন রু হয়ে যায়। সামনে বড় মনিটরে নিয়ন্ত্রণ কক্ষের অফিসারদের দেখা যায়, তারা গম্ভীর গলায় কিছু রুটিন চেকআপ করে নেয়। নীরা ত্রাতিনা আর রিশান তাদের অভিজ্ঞ হাতে কন্ট্রোল প্যানেলের সুইচ স্পর্শ করে পুরো স্কাউটশিপটাকে সচল করতে থাকে।

    কিছুক্ষণের ভেতরেই একটা চাপা গুম গুম শব্দ করে স্কাউটশিপটা গভীর মহাকাশের দিকে ছুটতে থাকে।

    .

    পৃথিবীর মহাকর্ষ থেকে বের হবার জন্য প্রয়োজনীয় শক্তি দিয়ে স্কাউটশিপটা তার গতি সঞ্চয় করতে থাকে। মহাকাশযানের ককপিটে বসে রিশান এবং নীরা ত্রাতিনা তার তৃরণটুকু অনুভব করতে শুরু করে। তাদের মনে হতে থাকে অদৃশ্য কোনো একটা শক্তি তাদেরকে চেয়ারে চেপে ধরেছে। রিশান কন্ট্রোল প্যানেলে চোখ বুলিয়ে বলল, নীরা, সবকিছু ঠিক আছে তো?

    হ্যাঁ, কোনো সমস্যা নেই। সবকিছু ঠিক আছে।

    তুমি যদি সহ্য করতে পার তা হলে গতিবেগ আরো দ্রুত বাড়িয়ে ফেলি।

    আমি সহ্য করতে পারব।

    চমৎকার। রিশান থ্রটল বারটা নিজের কাছে টেনে আনতে আনতে বলল, তোমার মতো মহাকাশচারীকে নিয়ে উড়ে যাওয়ার একটা আনন্দ আছে। আমার সাথে আসার জন্য ধন্যবাদ নীরা।

    ধন্যবাদ দেবার কিছু নেই। এরকম গুরুত্বপূর্ণ একটা মিশনে যেতে পারা আমার জন্য অনেক বড় সৌভাগ্য।

    রিশানের খুব ইচ্ছে হল বলে যে, তোমার সাথে পাশাপাশি যেতে পারাও আমার জন্য অনেক বড় সৌভাগ্য! সে সেটি বলতে পারল না। ইঞ্জিনের গর্জনের সাথে সাথে গতিবেগ বাড়তে থাকে, প্রচণ্ড ত্বরণের কারণে তাদের নিশ্বাস নিতে কষ্ট হয়, মনে হয় বুকের উপর কেউ একটা বিশাল পাথর চাপা দিয়ে রেখেছে। তাদের চোখের সামনে একটা লাল পরদা কাঁপতে থাকে। মনে হতে থাকে আর একটু হলেই তারা অচেতন হয়ে যাবে। দুজন দাঁতে দাঁত চেপে নিঃশব্দে বসে থাকে, রিশান চোখের কোনা দিয়ে নীরা ত্রাতিনাকে দেখার চেষ্টা করে। তাকে বলার ইচ্ছে করে, তোমাকে আমি খুব পছন্দ করি নীরা। কিন্তু সে সেটাও বলতে পারে না। মহাকাশযানের দুটি ইঞ্জিন প্রচণ্ড গর্জন করছে, পুরো স্কাউটশিপটি থরথর করে কাঁপছে, শরীরে অক্সিজেন সরবরাহ ঠিক রাখার জন্য স্পন্দন দ্বিগুণ হয়ে গেছে। এরকম একটা সময়ে কেউ এ ধরনের একটি কথা বলে না। রিশান তাই সেটি বলার চেষ্টা করল না।

    ঘণ্টাখানেকের ভেতরেই স্কাউটশিপটা তাদের কাঙ্ক্ষিত গতিবেগে পৌঁছে যায়। তৃরণটি বন্ধ করার সাথে সাথে রিশান এবং নীরা ত্রাতিনার নিজেদেরকে ভরশূন্য মনে হতে থাকে। দুজনেই এক ধরনের ক্লান্তি অনুভব করে। মহাকাশের অন্ধকারে এখন তাদের শুধু ছুটে যাওয়া। যতই সময় পার হবে তাদের যাত্রা হবে আরো বিপজ্জনক। ছোটবড় অসংখ্য গ্রহাণুর ভেতর দিয়ে তাদের উড়ে যেতে হবে। টোরকা গ্রহাণুটা এখনো অনেক দূরে, সেখানে পৌঁছাতে এখনো তাদের অনেক দিন বাকি।

    পরের কয়েকদিন রিশান আর নীরা ত্রাতিনা ছোট স্কাউটশিপটার মাঝে টোরকা গ্রহাণুটাতে পৌঁছানোর পর তার ওপর নিউক্লিয়ার বিস্ফোরকগুলো বসানোর ঘুঁটিনাটি পরিকল্পনা করে কাটিয়ে দিল। পৃথিবীর মহাকাশ কেন্দ্রের সাথে যোগাযোগ আছে, মহাকাশ স্টেশনের সাথেও যোগাযোগ আছে। তাদের স্কাউট স্টেশনের গতিপথ আর টোরকা গ্রহাণুর গতিপথ হিসাব করে তাদের স্কাউটশিপের নিয়ন্ত্রণ মডিউলের সাথে যোগাযোগ করা হচ্ছে। রিশান আর নীরা ত্রাতিনা এর মাঝে বেশ কয়েকবার পুরো পরিকল্পনাটা পরীক্ষা করে দেখে নিয়েছে।

    দুজন মানুষ খুব কাছাকাছি একটি জটিল পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়ে থাকলে তাদের মাঝে এক ধরনের ঘনিষ্ঠতার জন্ম হয়। এখানেও তার ব্যতিক্রম হল না। দুজন যে শুধুমাত্র গতিপথ আর বিস্ফোরক নিয়ে কথা বলল তা নয়, ব্যক্তিগত পছন্দ-অপছন্দ, প্রিয়-অপ্রিয়, ভালো লাগা এবং না লাগার বিষয় নিয়েও কথা বলল। টোরকা গ্রহের কাছাকাছি যেদিন পৌঁছে গেছে সেদিন নিউক্লিয়ার বিস্ফোরকের ডেটনেটরগুলো শেষবারের মতো পরীক্ষা করতে করতে রিশান নীরা ত্রাতিনাকে জিজ্ঞেস করল, তুমি পৃথিবীতে ফিরে গিয়ে কী করবে, ঠিক করেছ?

    হ্যাঁ।

    কী করবে?

    হ্রদের তীরে একটা কটেজ ভাড়া করে সেখানে ওক কাঠের শক্ত একটা বিছানায় ঘুমাব। ভরশূন্য অবস্থায় বাতাসে ঝুলে ঝুলে ঘুমাতে ঘুমাতে মেজাজ খারাপ হয়ে যাচ্ছে।

    রিশান হেসে বলল, অনুমান করছি সপ্তাহখানেকের ভেতরেই তোমার যথেষ্ট ঘুম হয়ে যাবে। তখন কী করবে?

    বিশ্ববিদ্যালয়ে ফিরে যাবার ইচ্ছে আছে। মহাজাগতিক নিউক্লিয়াস নিয়ে একটা জিনিস অনেক দিন থেকে মাথায় কুটকুট করছে। বিষয়টা নিয়ে একটা বড় এক্সপেরিমেন্ট করব ভাবছি।

    হুম! রিশান মুখ গম্ভীর করে বলল, শুধু পড়াশোনা এবং গবেষণা! আমি শুনেছিলাম মেয়েরা নাকি ঘর-সংসার করতেও খুব পছন্দ করে।

    করি। আমিও করি। ঘর-সংসার বাচ্চাকাচ্চা আমার খুব পছন্দ। নীরা ত্রাতিনা মুচকি হেসে বলল, আমি ঠিক করেছি আমি যখন সংসার শুরু করব তখন আমার উনিশ জন বাচ্চা হবে।

    রিশান চোখ কপালে তুলে বলল, কতজন?

    উনিশ জন। তার থেকে একজনও কম নয়!

    রিশান শব্দ করে হেসে বলল, আমি তোমার সাফল্য কামনা করছি নীরা।

    নীরা ত্রাতিনা এবারে রিশানের দিকে তাকিয়ে বলল, পৃথিবীতে ফিরে তুমি কী করবে?

    আমি?

    হ্যাঁ।

    রিশান মাথা চুলকে বলল, এখনো ঠিক করি নি। তুমি কোন হ্রদের তীরে কটেজ ভাড়া করবে যদি বলো তা হলে সেই হ্রদে মাছ ধরতে যেতে পারি।

    নীরা ত্রাতিনা খিলখিল করে হেসে বলল, তুমি বুঝি মাছ খেতে খুব পছন্দ কর?

    উঁহু।

    তা হলে?

    আমি তোমাকে খুব পছন্দ করি!

    নীরা ত্রাতিনা আবার খিলখিল করে হাসতে গিয়ে থেমে গেল, রিশানের চোখের দিকে কয়েক মুহূর্ত তাকিয়ে থেকে বলল, একটা ছোট স্কাউটশিপে কাউকে নিয়ে দিনের পর দিন মহাকাশে ছুটে যেতে হলে পছন্দ না করে উপায় কী?

    রিশান বলল, আসলে বিষয়টা এত সহজ না।

    তা হলে বিষয়টা কী?

    টোরকা গ্রহাণুটা পৃথিবীর জন্য খুব ভয়ংকর একটা বিপদ। আমাদের যে করেই হোক এটা ধ্বংস করতে হবে। আমরা যদি এখন এটা ধ্বংস করতে না পারি পৃথিবীটা ধ্বংস হয়ে যেতে পারে। তুমি বুঝতে পারছ, কাজটা খুব কঠিন। আমরা যেটা করছি এর আগে সেটা কেউ করে নি। যতই কাছে যাচ্ছি ততই বুঝতে পারছি কাজটা কত বিপজ্জনক। গ্রহাণুটা অত্যন্ত বিচিত্রভাবে ঘুরছে, পুরোটা এবড়োখেবড়ো-বিশাল বিশাল পাথরের চাই উঁচু হয়ে আছে, ডক করার সময় আমাদের স্কাউটশিপ টুকরো টুকরো হয়ে যেতে পারে। নিউক্লিয়ার বিস্ফোরণটা ঘটার সময় আমাদের স্কাউটশিপটা ছিন্নভিন্ন হয়ে যেতে পারে। আমরা নিজেদের কাছে নিজেরা স্বীকার করছি না, কিন্তু দুজনেই খুব ভালো করে জানি এখান থেকে জীবন্ত ফিরে যাবার সম্ভাবনা কম!

    নীরা ত্রাতিনা একটা ছোট নিশ্বাস ফেলে বলল, কেন ভয় দেখানোর চেষ্টা করছ?

    আমি মোটেই তোমাকে ভয় দেখানোর চেষ্টা করছি না। রিশান একটু হেসে বলল, তোমাকে আমি অনেক দিন থেকে খুব কৌতূহল নিয়ে লক্ষ করছি–তোমার ভিতরে কোনো ভয়ডর নেই। শুধু যে নিজের ভিতরে নেই তা নয়, যারা তোমার আশপাশে থাকে তারাও তোমার সাহসটুকু পেয়ে যায়–তোমাকে ভয় দেখাব কেমন করে? আমি যেটা বলছি সত্যি বলছি। তোমার কিংবা আমার কিংবা আমাদের দুজনেরই কিছু একটা ঘটে যেতে পারে। তুমি জান?

    নীরা ত্রাতিনা একটা নিশ্বাস ফেলে বলল, জানি।

    তাই আমি ভাবছিলাম যখন দুজনই বেঁচে আছি তখন তোমাকে কথাটা জানিয়ে রাখি। তুমি খুব চমৎকার মেয়ে নীরা। তোমাকে আমি খুব পছন্দ করি। কথাটি এখনই বলছি কারণ এই কথাটি হয়তো আর কখনো বলার সুযোগ পাব না।

    নীরা ত্রাতিনা কিছুক্ষণ রিশানের দিকে তাকিয়ে বলল, আমি কোন হ্রদের তীরে কটেজ ভাড়া করব সেটা তোমাকে জানিয়ে রাখব রিশান। তুমি মাছ ধরার ফাঁকে ফাঁকে এই কথাগুলো বলার অনেক সুযোগ পাবে।

    সত্যি?

    হ্যাঁ। নীরা ত্রাতিনা একটু হেসে বলল, সত্যি।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40 41 42 43 44 45 46 47 48 49 50 51 52 53 54 55 56 57 58
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleতারপর কী হল – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    Next Article কাবিল কোহকাফী – মুহম্মদ জাফর ইকবাল

    Related Articles

    মুহম্মদ জাফর ইকবাল

    ছোটগল্প – মুহম্মদ জাফর ইকবাল

    November 19, 2025
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল

    সাদাসিধে কথা – মুহম্মদ জাফর ইকবাল

    November 19, 2025
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল

    মেকু কাহিনী – মুহম্মদ জাফর ইকবাল

    November 19, 2025
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল

    আমার বন্ধু রাশেদ – মুহম্মদ জাফর ইকবাল

    November 19, 2025
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল

    সায়েন্স ফিকশান সমগ্র ১ – মুহম্মদ জাফর ইকবাল

    November 19, 2025
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল

    টুনটুনি ও ছোটাচ্চু – মুহম্মদ জাফর ইকবাল

    November 19, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Our Picks

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }