Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026

    ভুতুড়ে ট্রেন – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026

    ব্রাহ্মণ ভূত – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    সায়েন্স ফিকশান সমগ্র ২ – মুহম্মদ জাফর ইকবাল

    মুহম্মদ জাফর ইকবাল এক পাতা গল্প892 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    ০৬. দুঃস্বপ্ন

    দুঃস্বপ্ন

    সুহানের ঘুম ভাঙল বিচিত্র শব্দ শুনে, শব্দটি সে ধরতে পারল না। আধো ঘুমের মাঝে শব্দটি কী হতে পারে ভাবতে ভাবতে সে আবার ঘুমিয়ে পড়ছিল, তখন সে দ্বিতীয়বার শব্দটি শুনতে পেল। সুহান এবার চোখ খুলে তাকায়, তার দুপাশে দু জোড়া সবুজাভ চোখ। সে লাফিয়ে উঠে বসতে যাচ্ছিল, ঠিক তখন সে একটি ধাতব কণ্ঠস্বর শুনতে পেল, আমার মনে হয় এখন নড়াচড়া করা অত্যন্ত অবিবেচকের মতো কাজ হবে।

    সুহান কষ্ট করে নিজেকে শান্ত করে শুরু স্বরে জিজ্ঞেস করল, তোমরা কে?

    ঘরের একটা আলো জ্বলে ওঠে তখন। আলোটা কোথা থেকে আসছে সে ধরতে পারে না। তার পাশে দুটি রবোট। ট্রিনির মতো নয়, দেখতে অন্যরকম। দেহ আকারে আরেকটু ছোট, বুকের মনিটরটি আরো অনেক জটিল। দুটি রবোটের হাতেই একটি করে বিচিত্র অস্ত্র। অস্ত্র থেকে ছোট একটি আলো জ্বলছে এবং নিভছে, নিঃসন্দেহে তাকে দৃষ্টিবদ্ধ করা আছে, একটু ভুল হলেই শেষ করে দেবে। সুহান বিছানায় বসে আবার জিজ্ঞেস করল, তোমরা কে?

    মহামান্য কিরি আমাদের এখানে পাঠিয়েছেন আপনাকে নিয়ে যাবার জন্যে।

    আমি যদি যেতে না চাই?

    আপনাকে শক্তি প্রয়োগ করে নেয়া হবে।

    রবোটদের নীতিমালায় লেখা আছে তাদের মানুষের কোনো ক্ষতি করার ক্ষমতা নেই কিন্তু সে কথাটি তাদের বলা নিশ্চয়ই অর্থহীন। কিরি নিঃসন্দেহে তাদের অন্যভাবে প্রোগ্রাম করে রেখেছে। সুহানের হৃৎস্পন্দন দ্রুত হয়ে ওঠে। তার জীবনে সে ভয়ঙ্কর আতঙ্কগ্রস্ত হয়েছে খুব কম, ব্যাপারটির সাথে তার ভালো পরিচয় নেই।

    একটা রবোট হঠাৎ তার উপর ঝুঁকে পড়ল। সুহান তার শুকনো ঠোঁট দুটি জিভ দিয়ে ভিজিয়ে বলল, তুমি কী করছ?

    আপনার শরীরে কন্ট্রালিনের একটি ইনজেকশান দিচ্ছি।

    সেটি কী?

    সেটি এক ধরনের ওষুধ। আপনাকে ঘুম পাড়িয়ে দেবে।

    আমি ঘুমাতে চাই না।

    কিন্তু আমাদের ওপর সেরকম নির্দেশ।

    সুহান দেখতে পায়, রবোর্টটি হাতে ছোট সিরিঞ্জের মতো কী একটা নিয়ে তার উপর ঝুঁকে পড়েছে। বাধা দেয়া অর্থহীন কিন্তু তার সহজাত প্রবৃত্তির বশে সে রবোটটির হাত ধরে বাধা দেয়ার চেষ্টা করল। পারল না। তার কজিতে সুচ ফোটানোর তীক্ষ্ণ একটু যন্ত্রণা অনুভব করল। সুহান বুঝতে পারে তার সমস্ত শরীর অবশ হয়ে আসছে, ভয়ঙ্কর হতাশায় সে ডুবে যাচ্ছিল, ফিসফিস করে বলল, ট্রিনি, তুমি কোথায়?

    ট্ৰিনি পাশের ঘরে স্তব্ধ হয়ে দাঁড়িয়ে ছিল। চতুর্থ প্রজাতির কিউ-২২ রবোটের উপস্থিতিতে সে একটি জড় পদার্থ। বাধা দেয়া দূরে থাকুক, তার একটি আঙুল তোলারও ক্ষমতা নেই। সুহানের কাতর কণ্ঠস্বর শুনে তার কপোট্রনে বিদ্যুৎস্ফুলিঙ্গ খেলা করতে থাকে, ডান হাতটি নিয়ন্ত্রণের বাইরে ঝটকা দিয়ে কেঁপে উঠতে থাকে, সেটিকে সে থামানোর কোনো চেষ্টা করে না। সে স্থির হয়ে দাঁড়িয়ে দেখে, সুহানের দেহকে দুপাশ থেকে ধরে দুটি রবোট তাদের বাই ভার্বালে উঠে যাচ্ছে। শক্তিশালী ইঞ্জিনকে গুঞ্জন করে উঠতে শুনল সে। তারপর সেটিকে মিলিয়ে যেতে দেখল দূরে।

    ট্ৰিনি শূন্য ঘরটিতে কিছুক্ষণ ইতস্তত ঘুরে বেড়াল। ঘরে সুহানের ছড়ানো ছিটানো যন্ত্রপাতিগুলো গুছিয়ে তুলে রাখল। তার শরীর থেকে বের করা পালসারের বাক্সটি দেখে মনে পড়ল, পালসারটি সুহানের কাছে রয়ে গেছে। কোথায় রাখা যায় ভেবে না পেয়ে গত রাতে সুহানের নখে টেপ দিয়ে লাগিয়ে রাখা হয়েছিল। সুহানের নিও পলিমারের কাপড় পরিষ্কার করতে নিয়ে যাওয়ার সময় ট্রিনি হঠাৎ করে বুঝতে পারল, এই কাজটি অর্থহীন। সুহান আর কখনো এই ঘরে ফিরে আসবে না। ট্রিনি আবিষ্কার করে, তার আর কিছু করার নেই।

    সে ঘরের ঠিক মাঝখানে স্থির হয়ে দাঁড়িয়ে রইল।

     

    ০২.

    ঘুম ভাঙার পর সুহানের অনেকক্ষণ লাগল বুঝতে সে কোথায়। চোখের সামনে সবকিছু ধোয়াটে, যেন হালকা কুয়াশার আস্তরণ। কোথায় যেন কর্কশ একটা শব্দ হচ্ছে। তার শরীর শীতার্ত, মাথার মাঝে এক ধরনের ভোঁতা যন্ত্রণা। কপালের কাছে একটা শিরা দপদপ করছে। সুহানের প্রথমে মনে হল সে মারা গেছে, কিন্তু মৃত মানুষের কি মাথায় যন্ত্রণা হতে পারে?

    সুহান আবার ভালো করে চোখ খুলে তাকাল। না, সে মারা যায় নি। মাথার কাছে মনিটরে আলো জ্বলছে। তার শরীরে নানা ধরনের সেন্সর লাগানো। সেগুলো থেকে নানারকম সঙ্কেত বিচিত্র যন্ত্রপাতিতে যাচ্ছে। মনিটরে তার তাপমাত্রা, রক্তচাপ, হৃৎস্পন্দন, মেটাবলিজম থেকে শুরু করে মস্তিষ্কের কম্পন পর্যন্ত লক্ষ রাখা হচ্ছে। মৃত মানুষের শরীরে কোনোকিছু লক্ষ রাখার প্রয়োজন হয় না।

    সুহান উঠে বসে। বেশ বড় একটা ঘর। ঘরের দেয়াল ধবধবে সাদা। সারা ঘরে এক ধরনের নরম আলো, অনেকটা দ্বিতীয় সূর্যের আলোর মতো। আলোটা কোথা থেকে আসছে বোঝা যাচ্ছে না। সুহান নিজের শরীরের দিকে তাকিয়ে হ্যাচকা টান দিয়ে সবগুলো সেন্সর খুলে ফেলল। সাথে সাথে দূরে কোথাও তীক্ষ একটা শব্দ হতে থাকে এবং কিছুক্ষণের মাঝেই প্রথমে একটি রবোট এবং তার পিছু পিছু একজন দীর্ঘকায় মানুষ প্রবেশ করে। সুহান মানুষটিকে চিনতে পারল, মহাকাশযানের দলপতি কিরি এবং সাথে সাথে তার মনে পড়ল, মানুষের মতো দেখালেও কিরি একটি রবোর্ট।

    কিরি সুহানের কাছে এসে বলল, শুভ সন্ধ্যা সুহান।

    সুহান কিরির দিকে তাকিয়ে থাকে। তার শরীর এখনো দুর্বল। মস্তিক হালকা, মনে হতে থাকে পৃথিবীর কোনোকিছুতেই কিছু আসে যায় না। কিরির দিকে তাকিয়ে সে নিজের ভিতরে এক ধরনের বিজাতীয় ঘৃণা অনুভব করতে থাকে। কিরি আরেকটু এগিয়ে এসে আবার বলল, শুভ সন্ধ্যা সুহান।

    সন্ধ্যাটি কি সত্যিই আমার জন্যে শুভ?

    কিরি শব্দ করে হেসে বলল, শুভ-অশুভ খুব আপেক্ষিক ব্যাপার। একজনের কাছে যেটি শুভ, অন্যজনের কাছে সেই একই ব্যাপার

    সুহান কিরির আপাতদার্শনিক উত্তরে বাধা দিয়ে বলল, তুমি সত্যিই আমাকে মেরে ফেলবে?

    কিরি তার প্রশ্নের উত্তর দিল না। সুহান একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলল, রবোটেরা মানুষের কোনো ক্ষতি করতে পারে না। তুমি তাহলে কেমন করে একজন মানুষের ক্ষতি করতে পার?

    কিরি অন্যমনস্কের মতো বলল, ব্যাপারটা খুব জটিল। মানুষ কথাটির একটি সুনির্দিষ্ট অর্থ রয়েছে। শুধু জৈবিকভাবে মানুষ হলেই হয় না। মানুষ হতে হলে পৃথিবীর তথ্যকেন্দ্রে তার জন্ম-পরিচয় থাকতে হয়। তোমার সেই পরিচয় নেই, তাই তোমার সাথে একটা বন্যপশুর কোনো পার্থক্য নেই।

    যদি তথ্যকেন্দ্রে জন্ম-পরিচয় থাকত?

    তাহলে ব্যাপারটা অন্য রকম হতে পারত।

    সুহান খানিকক্ষণ চুপ করে থেকে বলল, আমাকে তুমি তোমার মহাকাশযানের মানুষদের সাথে দেখা করতে দেবে?

    না।

    কেন নয়?

    সেটি পুরো ব্যাপারটাকে আরো জটিল করে দেবে।

    সুহান আর কোনো কথা বলল না। কিরি ঘরে ইতস্তত হেঁটে এসে বলল, আমাকে স্বীকার করতেই হবে, তোমাকে আমি যত সহজে ধরে আনব ভেবেছিলাম তত সহজে ধরে আনতে পারি নি। তুমি সত্যি সত্যি আমাকে ধোকা দিতে পেরেছিলে। পুরো ব্যাপারটা যখন দ্বিতীয়বার চিন্তা করেছি তখন বুঝতে অসুবিধে হয় নি যে, পালসারটা তোমার শরীরেই আছে, তুমি দ্বিতীয় একটি পালসার গ্রহের সবচেয়ে দুর্গম অঞ্চলে পাঠিয়েছ—

    আমাকে কি তুমি একা থাকতে দেবে?

    কিরি একটু হকচকিয়ে গিয়ে বলল, তুমি আমাকে চলে যেতে বলছ?

    হ্যাঁ। সুহান ঘরের কোনায় দাঁড়িয়ে থাকা আরেকটি নিম্ন শ্রেণীর রবোটকে দেখিয়ে বলল, তুমি যাবার সময় কি ওই রবোর্টটাকেও নিয়ে যাবে? তোমাদের রবোটদের আমার ভালো লাগে না।

    কিরির মুখে অপমানের ছায়া পড়ল, তাকে এর আগে অন্য কেউ একটি দ্বিতীয় প্রজাতির রবোটের সাথে এক করে দেখে নি। সে শক্তমুখে বলল, এই রবোর্টটি তোমাকে চোখে চোখে রাখবে। সে তোমার সাথে এই ঘরে থাকবে। আমি যাচ্ছি, তোমাকে একা থাকতে দিচ্ছি।

    কিরি লম্বা পা ফেলে ঘরের দরজার দিকে এগিয়ে যায়। দরজার কাছে গিয়ে হঠাৎ থেমে সুহানের দিকে ঘুরে তাকিয়ে বলল, সুহান, তোমার সাথে সম্ভবত আমার আর দেখা হবে না। তোমাকে একটা জিনিস বলা প্রয়োজন। তুমি মনে করছ তোমার মৃত্যু–

    সুহান চিৎকার করে বলল, আমি তোমার কোনো কথা শুনতে চাই না।

    কিন্তু–

    বের হয়ে যাও। তুমি বের হয়ে যাও

    কিরি বের হয়ে গেল। সাথে সাথে সুহান ছেলেমানুষের মতো কেঁদে উঠল। দুই হাতে মুখ ঢেকে সে বিছানায় মাথা গুজে আহত পশুর মতো ছটফট করতে থাকে। তার বুকে গভীর হতাশা, গভীর যন্ত্রণা—যে অনুভূতির সাথে তার পরিচয় নেই। সে ফিসফিস করে বলল, ট্রিনি! ট্রিনি তুমি কোথায়?

     

    লাইনার ঘরে চতুষ্কোণ স্ক্রিনে হঠাৎ কিরির ছবি ফুটে ওঠে। লাইনাকে ডেকে বলল, লাইনা।

    বল।

    আমি তোমাকে একটি জিনিস দেখাতে চাই।

    লাইনার বুক কেঁপে উঠল হঠাৎ। ভয় পাওয়া গলায় বলল, না, আমি দেখতে চাই না।

    তোমাকে দেখতে হবে লাইনা।

    না। লাইনা চিৎকার করে বলল, না—

    কিরি লাইনার কথা শুনল না। স্ক্রিনে সুহানের ছবি ভেসে উঠল। বিছানায় মাথা গুজে ফুলে ফুলে কাদছে। অসহায় একটি কিশোর। অসহায়, ভীত একটি কিশোর। যে মানুষের আশ্রয়ে ছুটে এসেছিল, যে মানুষ তাকে রক্ষা করতে পারে নি।

    লাইনা হিংস্র দৃষ্টিতে স্ক্রিনটির দিকে তাকিয়ে থাকে। সে আর দেখতে পারছে না, টেবিল থেকে চতুষ্কোণ কমিউনিকেশান মডিউলটি তুলে সে স্ক্রিনটির দিকে ছুড়ে দেয়। ঝনঝন শব্দ করে ভেঙে পড়ে স্ক্রিনের স্বচ্ছ কাচ। কয়েকবার কেঁপে কেঁপে ছবিটা অদৃশ্য হয়ে যায় স্ক্রিন থেকে।

     

    ০৩.

    সুহান কতক্ষণ বিছানায় মাথা গুঁজে ছিল সে জানে না। হঠাৎ একটি কণ্ঠস্বর শুনে সে ঘুরে তাকায়, রবোর্টটি কিছু খাবার নিয়ে এসেছে।

    আমাকে তাহলে এই মুহূর্তে মারবে না, সুহান নিজেকে বোঝাল, তাহলে এখন খাবার এনে হাজির করত না। কিংবা কে জানে হয়তো পরিপাকযন্ত্র কীভাবে কাজ করে জানতে চাইছে, তাই খাবারটা মুখে দেয়ামাত্রই মেরে ফেলবে।

    আপনার খাবার, মহামান্য সহান। রবোটটি দ্বিতীয়বার কথা বলল, যান্ত্রিক একঘেয়ে গলার স্বর। সুহান খাবারগুলোর দিকে তাকাল। সে তার মহাকাশযানের রসদ থেকে যে ধরনের খাবার খেয়ে অভ্যস্ত তার থেকে একটু ভিন্ন ধরনের। অন্য সময় হলে সে খাবারগুলো কৌতূহল নিয়ে দেখত, এখন কোনো কৌতূহল নেই। খাবারগুলো দেখে হঠাৎ সুহান বুঝতে পারে সে ক্ষুধার্ত। কিন্তু এই মুহূর্তে তার কিছু খেতে ইচ্ছে করছে না। সে রবোটটিকে বলল, তুমি খাবারটি রেখে চলে যাও।

    আমার চলে যাওয়ার নির্দেশ নেই।

    তোমার কিসের নির্দেশ রয়েছে?

    আপাতত আপনার জন্যে খাবার নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকা।

    তাহলে দাঁড়িয়ে থাক।

    আপনার খাবার, মহামান্য সুহান।

    সুহান বুঝতে পারে এটি অত্যন্ত নিম্ন শ্রেণীর রবোট। হঠাৎ করে তার মাথায় একটা চিন্তা খেলে গেল। এই নির্বোধ রবোটটিকে কি কোনোভাবে ধোকা দেয়া সম্ভব?

    সুহান আবার রবোটটির দিকে ঘুরে তাকাল, চতুষ্কোণ দেহ, বর্তুলাকার মাথা, উপরের অংশটুকু সম্ভবত চোখ, পায়ের নিচে চাকা, সম্ভবত সহজে সমতল জায়গার বাইরে যেতে পারে না। সুহান ট্রে থেকে এক টুকরা তুলে নিয়ে বলল, তুমি কোন শ্রেণীর রবোট?

    উত্তর দেয়ার অনুমতি নেই, মহামান্য সুহান।

    তুমি কি আমাকে চোখে চোখে রাখছ?

    হ্যাঁ, মহামান্য সুহান।

    সুহান হেঁটে রবোটটির পিছনে গিয়ে দাঁড়াল, রবোটটি কিন্তু সাথে সাথে তার দিকে ঘুরে তাকাল না। সুহান বলল, তুমি আমার দিকে তাকিয়ে নেই, আমি ইচ্ছে করলেই দরজা খুলে বের হয়ে যেতে পারি।

    রবোটটি তখন সুহানের দিকে ঘুরে তাকাল, তারপর বলল, মহামান্য সুহান, দরজার সাথে এলার্ম লাগানো হয়েছে। আপনি খুলে বের হতে পারবেন না। তাছাড়া দরজায় শক্তিবলয় লাগানো হয়েছে, আপনি বের হওয়ার চেষ্টা করলে আপনার শরীরে আনুমানিক তিন শ চৌত্রিশটি ফুটো হয়ে যাবে।

    তিন শ চৌত্রিশটি?

    জি, মহামান্য সুহান।

    সুহান দরজাটির দিকে তাকাল। দরজার সাথে একটি এলার্ম লাগানো হয়েছে দেখা যাচ্ছে। সেটি বিকল করা কোনো সমস্যা হওয়ার কথা নয়। দরজা খোলার পর সম্ভবত অন্য পাশে রবোটটির শক্তিবলয় ব্যাপারটি দেখা যাবে। শক্তিবলয় কথাটি ব্যাপক অর্থে ব্যবহার হতে পারে। উচ্চচাপের বিদ্যুৎ বা অদৃশ্য লেজার সম্ভবত এখানে ব্যবহার করা হয়েছে। যেহেতু রববাটটি জানে, বের হওয়ার চেষ্টা করলে তার শরীরে তিন শ চৌত্রিশটি ফুটো হয়ে যাবে, এটি সম্ভবত লেজার রশ্মি, দরজার দুই পাশে প্রতিফলিত হয়ে যাচ্ছে। কোথা থেকে বের হচ্ছে জানতে পারলে একটি চকচকে জিনিস দিয়ে কিছুক্ষণের জন্যে আটকে রাখা যায়।

    কিন্তু দরজা দিয়ে বের হওয়ার আগে রবোটটিকে ধোকা দিতে হবে। সেটি কেমন করে করা হবে?

    সুহান আবার রবোটটির পিছনে হেঁটে গেল, রবোটটি সাথে সাথে তার দিকে ঘুরে গেল। সুহান জিজ্ঞেস করল, তুমি কি এখনো আমার দিকে লক্ষ রাখছ?

    রাখছি, মহামান্য সুহান।

    কেমন করে? তুমি আমার দিকে তাকিয়ে নেই।

    আপনার দিকে না তাকিয়েও আমি আপনার দিকে লক্ষ রাখতে পারি মহামান্য সুহান।

    সুহান ঘরে পায়চারি করতে থাকে। এটি অত্যন্ত নিম্ন শ্রেণীর রবোট, তাকে লক্ষ রাখার জন্যে অত্যন্ত নিম্ন শ্রেণীর একটি পদ্ধতি ব্যবহার করছে। পদ্ধতিটি কী হতে পারে?

    হঠাৎ সে বিদ্যুৎস্পৃষ্টের মতো চমকে ওঠে, পালসার! তার শরীর থেকে পালসারটি বের করে সেটি কোথায় রাখা যায় চিন্তা করে না পেয়ে আপাতত তার বুড়ো আঙুলের নখে একটা টেপ দিয়ে লাগিয়ে রাখা হয়েছিল। পালসারটির কথা ভুলেই গিয়েছিল সে। একটু আগে কিরি যখন এর কথা উল্লেখ করেছিল সে বুঝতে পারে নি। কিউ-২২ রবোটগুলো তাই এত সহজে তাকে তার ইঞ্জিনঘরে খুঁজে পেয়েছিল। এখন এই রবোটটি নিশ্চয়ই সব সময় তার পালসারের সঙ্কেতটুকু লক্ষ করছে। ব্যাপারটি সত্যি কি না খুব সহজে পরীক্ষা করা যায়। রবোটটির পিছনে গিয়ে তার নখে লাগানো পালসারটি একটা ধাতব কিছু দিয়ে ঢেকে ফেলবে। রবোর্টটি তখন নিঃসন্দেহে তার দিকে ছুটে আসবে।

    সুহান তার খাবারের টেবিল থেকে একটা চামচ তুলে নেয়, তারপর রবোটের পিছনে দাঁড়িয়ে চামচটা দিয়ে তার হাতের বুড়ো আঙুলের নখটা ঢেকে ফেলে। সাথে সাথে রবোটটি বিদ্যুৎগতিতে ঘুরে যায় এবং পাগলের মতো তার দিকে ছুটে আসে। সে তার সামনে দাঁড়িয়ে থাকা সত্ত্বেও তাকে রবোটটি দেখতে পেল বলে মনে হল না, তার পাশ দিয়ে ছুটে যেতে শুরু করল।

    সুহান তার নখের উপর থেকে চামচটা সরিয়ে বলল, কী হয়েছে তোমার?

    আপনাকে খুঁজছিলাম, মহামান্য সুহান। মুহূর্তের জন্যে আপনি হারিয়ে গিয়েছিলেন।

    না, আমি হারাই নি। আমি এখানেই আছি।

    উত্তেজনায় সুহানের বুক কাঁপতে থাকে। এই ঘর থেকে পালিয়ে যাবার চমৎকার একটা সুযোগ পাওয়া গেছে। তার বিছানার উপর পালসারটি রেখে সে দরজার কাছে যাবে। চামচটিকে একটা হাতের যন্ত্র হিসেবে ব্যবহার করে এলার্মটি বন্ধ করে দেবে। তারপর দরজা খুলে লেজাররশ্মিটি কোন বিন্দু থেকে বের হচ্ছে বের করে সেটি চামচ দিয়ে ঢেকে দেবে। চামচটি চকচকে, লেজাররশ্মি সহজেই প্রতিফলিত হয়ে যাবে। তারপর সে লাফিয়ে এই ঘর থেকে বের হয়ে যাবে। এই মহাকাশযানটি ঠিক তার মহাকাশযানের মতো। একবার বের হতে পারলে কোনদিকে যেতে হবে সে জানে।

    তাকে এই মুহূর্তে কেউ লক্ষ করছে কি না সে জানে না। সম্ভবত উপরে কোনো ক্যামেরা রয়েছে। কিন্তু সেটা নিয়ে সে এখন চিন্তা করবে না। সুহান তার কাজ শুরু করে দিল।

    তিন মিনিট পর মহাকাশযানের করিডোর ধরে সুহানকে ব্যস্ত হয়ে ছুটে যেতে দেখা গেল।

     

    ০৪.

    মহাকাশযানের তিনটি জেনারেটর নিচে। ঘরটি নির্জন, কোনো মানুষজন নেই। পারমাণবিক শক্তি দিয়ে জেনারেটরগুলো চালানো হয়। প্রথম জেনারেটরটি সর্বক্ষণ চলতে থাকে। কোনো কারণে সেটি অকেজো হয়ে গেলে দ্বিতীয় জেনারেটরটি চলতে শুল্ক করে। সম্ভাবনা খুব কম কিন্তু যদি কোনো কারণে একই সাথে প্রথম এবং দ্বিতীয়, দুটি জেনারেটরই অকেজো হয়ে যায়, তখন তৃতীয় জেনারেটরটি চলতে শুরু করে। যদি কোনোভাবে তৃতীয় জেনারেটরটিও অকেজো হয়ে যায় তখন মহাকাশযানের সংরক্ষিত এই ব্যাটারিগুলো কাজ করতে ক্ষ করে। এই ব্যাটারিগুলো দীর্ঘস্থায়ী কিন্তু তার মাঝে সঞ্চিত শক্তির পরিমাণ খুব কম। তখন মহাকাশযানের অপ্রয়োজনীয় কাজকর্ম বন্ধ করে দেয়া হয়। মহাকাশযানের বেশিরভাগ আলো নিভে যায়, কম্পিউটারে শুধুমাত্র কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণটুকু চাল রাখা হয়, কায়োজেনিক ঘরে অপ্রয়োজনীয় শীতলতা দূর করে দেয়া হয়। ভ্রূণ এবং অন্যান্য জীবন্ত প্রাণ রক্ষা করার জন্যে প্রয়োজনীয় কাজকর্ম ছাড়া অন্যান্য সব ধরনের কাজকর্ম বন্ধ করে দেয়া হয়। মহাকাশ অভিযানের ইতিহাসে তিনটি জেনারেটরই একসাথে অকেজো হওয়ার মতো ঘটনা ঘটে নি। সুহান জেনারেটর তিনটির সামনে দাঁড়িয়ে এই ইতিহাস তৈরি করার প্রস্তুতি নিতে থাকে।

    প্রথম জেনারেটরটি চলছে বলে সেটি অকেজো করা সহজ নয় কিন্তু অন্য দুটি খুব সহজে অকেজো করে দেয়া যায়। বিদ্যুতের যে লাইন রয়েছে সেগুলো ঠিক গোড়াতে কেটে দিতে হবে। সেগুলো কাটার যন্ত্রপাতি ঘরটিতে পাওয়া গেল। সেগুলো রবোটেরা ব্যবহার করে বলে অনেক বড় এবং ভারি। টেনেহিঁচড়ে সে যন্ত্রগুলো এনে বৈদ্যুতিক তারগুলো কেটে দিতে শুরু করে। দূরে নিশ্চয়ই কোথাও কর্কশ স্বরে এলার্ম বাজতে রু করেছে। কিন্তু সমস্যাটি আবিষ্কার করে রবোটদের এখানে পৌছাতে পৌছাতে সে অনেকগুলো মূল্যবান সেকেন্ড পেয়ে যাবে।

    সুহান প্রথম জেনারেটরটির সামনে এসে দাঁড়াল। জেনারেটরটি প্রচণ্ড বেগে ঘুরছে, ভেতরের গরম বাতাস বের হওয়ার জন্যে উপরের খানিকটা অংশ খোলা। নিরাপত্তার জন্যে সেটার কাছে যাওয়ার উপায় নেই। সুহান নিরাপত্তার অংশটুকু অকেজো করে দিয়ে এগিয়ে যায়। তার যখন দশ বছর বয়স সে তখন প্রথম জেনারেটরটি কৌতূহলী হয়ে অকেজো করেছিল। ব্যাপারটি সে খুব ভালো করে জানে।

    সুহান জেনারেটরের খোলা অংশের ঢাকনাটি ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে খুলতে শুরু করে। ঠিক তখন সে উপরে রবোটের পদক্ষেপ শুনতে পায়। আর বেশি দেরি করা ঠিক নয়। ভারি একটা ট্রান্সফর্মার দুই হাতে তুলে নিয়ে সে জেনারেটরের ভেতরে প্রচণ্ড বেগে ঘূর্ণায়মান শ্যাফটের মাঝে ফেলে দিল।

    সাথে সাথে যে ব্যাপারটি ঘটল তার কোনো তুলনা নেই। ভয়ঙ্কর একটি বিস্ফোরণে বিশাল জেনারেটরটি কেঁপে ওঠে। বিদ্যুতের প্রচণ্ড ঝলকানি, তীব্র আলো আর কানফাটা শব্দে সমস্ত ঘরটি থরথর করে কেঁপে ওঠে। ধাতুর টুকরো চারদিকে উড়তে থাকে, ছোট একটি আগুন জ্বলতে শুরু করে এবং হঠাৎকরে মহাকাশযানের সমস্ত আলো নিভে গভীর অন্ধকারে চারদিক ঢেকে যায়। মহাকাশযানের অসংখ্য যন্ত্রপাতি থেমে গিয়ে হঠাৎ করে বিচিত্র এক ধরনের নৈঃশব্দ্য নেমে আসে।

    সুহান কয়েক মুহুর্ত অপেক্ষা করে, ছোট আগুনটি তার নেভানোর প্রয়োজন নেই, রবোটদের সেটি আরো কিছুক্ষণ ব্যস্ত রাখতে পারবে। সে ঘোট একটি ঢাকনা খুলে একটি ছোট টানেলে ঢুকে যায়। এই ধরনের মহাকাশযানের খুঁটিনাটি তার থেকে ভালো করে আর কেউ জানে না।

     

    ৫.

    লাইনা তার ঘরে জানালার কাছে চুপ করে দাঁড়িয়ে আছে। সমস্ত মহাকাশযান গভীর অন্ধকারে ঢেকে আছে, যন্ত্রপাতির কোনো শব্দ নেই। এই নৈঃশব্দ্য এক ধরনের আতঙ্ক জাগিয়ে দেয়। কিন্তু লাইনার বুকে কোনো আতঙ্ক নেই। সে নিশ্চিত নয় কিন্তু তার ধারণা, এটি দুর্ঘটনা নয়। এটি খুব ঠাণ্ডা মাথায় কেউ করেছে। এই ধরনের কাজ খুব ঠাণ্ডা মাথায় শুধুমাত্র একটি মানুষ করতে পারে, সে হচ্ছে সুহান। যে মানুষ কোন যন্ত্র কেমন করে কাজ করে জানে শুধু সেই মানুষই সেই যন্ত্র এত সহজে ধ্বংস করতে পারে। লাইনা তাই তার ঘরে চুপ করে দাঁড়িয়ে আছে, সে জানে না কেন, কিন্তু তার মনে হচ্ছে সুহান এখানে অসিবে।

    লাইনা জানালা দিয়ে বাইরে তাকায়, বহুদূরে একটা আগ্নেয়গিরি থেকে অগ্ন্যুৎপাত হচ্ছে তার লাল আভায় চারদিকে এক ধরনের বিচিত্র লাল আভা। কী বিচিত্র এই গ্রহটি!

    লাইনা হঠাৎ ঘরে একটি পদশব্দ শুনতে পায়। কেউ একজন নিঃশব্দে হাঁটছে তার ঘরে। এই ঘরে নিঃশব্দে হাঁটতে পারে শুধু একজন, সে হচ্ছে কিরি। লাইনার বুক কেঁপে উঠল ভয়ে, চাপা গলায় বলল, কে? কে ওখানে?

    আমি। আমি সুহান।

    সুহান! লাইনা ছুটে গেল। সাথে সাথে অনুভব করল, একজোড়া শক্ত হাত তাকে নিজের কাছে টেনে নিচ্ছে। তার চুলে মুখ গুঁজে ফিসফিস করে বলছে, লাইনা, আমার মনে হয় আমি তোমার প্রেমে পড়েছি।

    লাইনা মুখ তুলে অবাক হয়ে এই কিশোরটির দিকে তাকাল। আবছা অন্ধকারে তাকে স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে না। জানালা দিয়ে ক্ষীণ লাল আলো আসছে, সেই আলোতে মনে হচ্ছে সত্যি সত্যি সে বুঝি এক ভিন্ন গ্রহের মানুষ।

    সুহান মাথা নিচু করে লাইনার ঠোঁটে ঠোঁট স্পর্শ করে বলল, আমি তোমাকে নিতে এসেছি লাইনা, তুমি যাবে আমার সাথে?

    সুহানের চোখে গ্রহটির লাল আলো প্রতিফলিত হচ্ছে। কী বিচিত্র দেখাচ্ছে তাকে। লাইনা অবাক হয়ে সুহানের দিকে তাকিয়ে রইল, হঠাৎ করে পুরো জীবনটি তার মনে পড়ে যায়। সবকিছু অর্থহীন মনে হতে থাকে, মনে হতে থাকে, সে বুঝি এই আহ্বানটির জন্যেই সারা জীবন অপেক্ষা করে ছিল। লাইনা সুহানের মাথা নিজের কাছে টেনে এনে ফিসফিস করে বলল, হ্যাঁ সুহান, আমি যাব তোমার সাথে।

    সত্যি যাবে?

    সত্যি যাব।

    চল তাহলে।

    কেমন করে?

    সুহান মৃদু স্বরে হেসে বলল, সেটা নিয়ে তুমি ভেবো না। এই মহাকাশযানের দূষিত বাতাস বের হওয়ার একটা টানেল আছে। সেই টানেল দিয়ে বের হয়ে যাব। দুটি বড় বড় ফ্যানের পিছনে একটা টারবাইন। ফ্যানগুলো যখন ঘুরতে থাকে কেউ বের হতে পারবে না, কিন্তু এখন সব থেমে আছে।

    কতক্ষণ থেমে থাকবে?

    অনেকক্ষণ। সুহান নিচু গলায় হেসে বলল, আমি সব ধ্বংস করে দিয়েছি।

    কেমন করে ধ্বংস করলে?

    বলব তোমাকে। এখন চল। টারবাইনটি হাত দিয়ে ঠেলে ঘুরাতে হবে। অনেক শক্ত হবে কিন্তু দুজনে মিলে যদি ঠেলি নিশ্চয়ই খুলে যাবে।

    তুমি কেমন করে জান?

    আমি জানি। আমি ঠিক এ রকম একটা মহাকাশযানে থাকি। আমারটা অবশ্যি ধসে আছে।

    বাইরে কিছু মানুষের, কিছু রবোটের পদশব্দ শোনা যায়। একটা ছোট এলার্ম বাজতে থাকে, আলো দুলাতে দুলাতে কে যেন ছুটে যায়। সুহান বলল, আর দেরি করা ঠিক নয়, চল যাই।

    চল। কিন্তু কী নিতে হবে?

    তোমার কি অক্সিজেন মাস্ক আছে?

    আছে।

    সেটা নিয়ে নাও। এই গ্রহের বাতাসে আমি নিশ্বাস নিতে পারি কিন্তু তুমি পারবে কি না জানি না।

    সুহানের পিছু পিছু গুড়ি মেরে লাইনা একটা অন্ধকার টানেলের ভিতর দিয়ে যেতে থাকে। সুহান না হয়ে পৃথিবীর অন্য কোনো মানুষ হলে সে তার সমস্ত ভবিষ্যৎ তার হাতে এভাবে তুলে দিত কি না সে জানে না। কিরির সাথে পাল্লা দিয়ে সে যেভাবে দুই দুইবার নিজেকে রক্ষা করেছে তার কোনো তুলনা নেই। মানুষের সনাতন পদ্ধতিতে জ্ঞান লাভের চেষ্টা করলে সে কখনোই পারত না। লাইনার হঠাৎ কেমন জানি বিশ্বাস হতে থাকে, এই আশ্চর্য কিশোরটি হয়তো সত্যিই কিরির চোখকে ফাঁকি দিয়ে পালিয়ে যেতে পারবে।

    সম্পূর্ণ অন্ধকার একটি টানেলের ভিতর গড়িয়ে গড়িয়ে দুজন এক সময় একটি খোলা জায়গায় পৌছাল। সামনে শক্ত দেয়ালের মতো, লাইনা হাত দিয়ে দেখে তৈলাক্ত কিছু জিনিসে ভেজা। সুহান চাপা গলায় বলল, টারবাইন। ধাক্কা দিয়ে খুলতে হবে।

    শক্ত পাথরের মতো অনড়, ধাক্কা দিয়ে খোলার কোনো উপায় আছে বলে মনে হয় না। কিন্তু সুহানের দেখাদেখি লাইনাও হাত লাগায়। দীর্ঘ সময় চেষ্টা করে যখন প্রায় হাল ছেড়ে দিচ্ছিল, তখন সত্যিই সেই বিশাল টারবাইন নড়ে উঠে একটু একটু করে খুলতে থাকে। সাবধানে একজন মানুষ বের হওয়ার মতো জায়গা করে তারা নিচে তাকাল, বাইরে মুক্ত গ্রহ।

    সুহান বুক ভরে নিশ্বাস নিয়ে লাইনাকে বলল, তুমি অক্সিজেন মাস্কাট পরে নাও লাইনা।

    মহাকাশযান থেকে সুহান অনায়াসে লাফিয়ে নেমে আসে। লাইনা ইতস্তত করছিল। সুহান হাত বাড়িয়ে বলল, ভয় নেই, আমি আছি।

    লাইনা সুহানের হাত ধরে নেমে আসে। দুজনে গুড়ি মেরে সরে যেতে থাকে। মহাকাশযানের সেন্সরগুলো কোথায় আছে সুহান জানে। জেনারেটরগুলো ধ্বংস করে দিয়েছে বলে সেগুলো এখন ঘুরে ঘুরে চারদিকে লক্ষ করছে না, কিন্তু সুহান কোনো ঝুঁকি নিতে চায় না। এই মহাকাশযান থেকে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব যত দূরে চলে যাওয়া যায়। পাথরের উপর লাফিয়ে সুহান অভ্যস্ত পায়ে ছুটতে থাকে, লাইনা বার বার পিছিয়ে পড়ছিল। পিছনে গ্রহের লালচে আলোতে মহাকাশযানটিকে কেমন জানি ভূতুড়ে মনে হয়।

    সামনে একটা বড় পাথর, যত তাড়াতাড়ি সম্ভব সুহান তার আড়ালে লুকিয়ে পড়তে চাইছিল, তখন হঠাৎ লাইনা পিছন থেকে তার পিঠ খামচে ধরল। আর্ত চিৎকার করে বলল, সুহান, কী হয়েছে?

    ওই দেখ।

    সুহান মাথা তুলে তাকায়। সামনে একটি ছায়ামূর্তি দাঁড়িয়ে আছে। হাতে উদ্যত অস্ত্র তাদের দিকে তাক করা। ছায়ামূর্তিটি এক পা এগিয়ে এসে ধাতব কণ্ঠে বলল, সুহান! আমি তোমার মৃতদেহ নিতে এসেছিলাম। মানুষের মৃতদেহ সমাহিত করতে হয়।

    সুহান আনন্দে চিৎকার করে বলল, ট্রিনি!

    হ্যাঁ। তোমার সাথে কে?

    লাইনা।

    আপনার সাথে পরিচয় হয়ে ধন্য অনুভব করছি মহামান্যা লাইন।

    লাইনা তখনো ভয়ে একটু একটু কাঁপছে। নিজেকে সামলে নিয়ে বলল, হঠাৎ দেখে খুব ভয় পেয়ে গেছি।

    আপনার ভয় পাওয়ার অনেক কারণ আছে মহামান্যা লাইনা।

    কেন, এ রকম বলছ কেন?

    সুহান দাবি করছে সে আপনার প্রেমে পড়েছে। এবং সে অনেক বিপজ্জনক কাজ করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছে।

    লাইনা শব্দ করে হেসে বলল, সবচেয়ে বিপজ্জনক কাজটি সে ইতিমধ্যে করে এসেছে। ট্রিনি!

    সুহান চাপা গলায় বলল, কথা বলার সময় নেই, তাড়াতাড়ি পালাতে হবে।

    আমি বাই ভার্বালে শক্তিশালী ব্যাটারি ভরে এনেছি। সুহান, তুমি মহামান্যা লাইনাকে নিয়ে আস।

    কিছুক্ষণের মধ্যেই বাই ভার্বালটি মাটি থেকে প্রায় এক-মানুষ উচ্চতা দিয়ে প্রচণ্ড বেগে ছুটে যেতে থাকল।

    সুহান চাপা গলায় বলল, আস্তে ট্রিনি, খারাপ দুর্ঘটনা হতে পারে।

    ট্ৰিনি তার কথার কোনো উত্তর দিল না।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40 41 42 43 44 45 46 47 48 49 50 51 52 53 54 55 56 57 58 59 60 61 62 63 64 65 66 67 68 69 70 71 72 73 74 75 76 77 78 79 80 81 82 83 84 85
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleআবারো টুনটুনি ও আবারো ছোটাচ্চু – মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    Next Article আমি তপু – মুহম্মদ জাফর ইকবাল

    Related Articles

    মুহম্মদ জাফর ইকবাল

    ছোটগল্প – মুহম্মদ জাফর ইকবাল

    November 19, 2025
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল

    সাদাসিধে কথা – মুহম্মদ জাফর ইকবাল

    November 19, 2025
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল

    মেকু কাহিনী – মুহম্মদ জাফর ইকবাল

    November 19, 2025
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল

    আমার বন্ধু রাশেদ – মুহম্মদ জাফর ইকবাল

    November 19, 2025
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল

    সায়েন্স ফিকশান সমগ্র ১ – মুহম্মদ জাফর ইকবাল

    November 19, 2025
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল

    টুনটুনি ও ছোটাচ্চু – মুহম্মদ জাফর ইকবাল

    November 19, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026
    Our Picks

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026

    ভুতুড়ে ট্রেন – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026

    ব্রাহ্মণ ভূত – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }