Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    রুদ্রসমগ্র – রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ

    January 8, 2026

    রান্না খাদ্য পুষ্টি – সিদ্দিকা কবীর

    January 8, 2026

    শহর খুলনার আদি পর্ব – আবুল কালাম সামসুদ্দিন

    January 8, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    সাহিত্যিক শরৎচন্দ্র – হেমেন্দ্রকুমার রায়

    হেমেন্দ্রকুমার রায় এক পাতা গল্প86 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    প্রকাশ্য সাহিত্যজীবন

    ‘একদিন অপ্রত্যাশিতভাবে হঠাৎ যখন সাহিত্যসেবার ডাক এল তখন যৌবনের দাবি শেষ করে প্রৌঢ়ত্বের এলাকায় পা দিয়েছি। দেহ শ্ৰান্ত, উদ্যম সীমাবদ্ধ—শেখবার বয়স পার হয়ে গেছে। থাকি প্রবাসে, সব থেকে বিচ্ছিন্ন, সকলের কাছে অপরিচিত, কিন্তু আহানে সাড়া দিলাম, ভয়ের কথা মনেই হল না।

    আঠারো বৎসর পরে হঠাৎ একদিন লিখতে আরম্ভ করলাম। কারণটা দৈব দুর্ঘটনারই মতো। আমার গুটিকয়েক পুরাতন বন্ধু একটি ছোটো মাসিক পত্র বের করতে উদ্যোগী হলেন। কিন্তু প্রতিষ্ঠাবান লেখকদের কেউই এই সামান্য পত্রিকায় লেখা দিতে রাজি হলেন না। নিরুপায় হয়ে তাঁদের কেউ কেউ আমাকে স্মরণ করলেন। বিস্তর চেষ্টায় তাঁরা আমার নিকট থেকে লেখা পাঠাবার কথা আদায় করে নিলেন। এটা ১৯১৩ সনের কথা। আমি নিমরাজি হয়েছিলাম। কোনও রকমে তাদের হাত থেকে রেহাই পাওয়ার জন্যেই আমি লেখা দিতেও স্বীকার হয়েছিলাম। উদ্দেশ্য—কোনও রকমে একবার রেঙ্গুনে পৌছোতে পারলেই হয়। কিন্তু চিঠির পর চিঠি আর টেলিগ্রামের তাড়া আমাকে অবশেষে সত্য-সতাই আবার কলম ধরতে প্ররোচিত করল। আমি তাদের নবপ্রকাশিত য‘মুনা’র জন্য একটি ছোটোগল্প পাঠালাম। এই গল্পটি প্রকাশ হতে না হতেই বাংলার পাঠক-সমাজে সমাদর লাভ করল। আমিও একদিনেই নাম করে বসলাম। তারপর আমি অদ্যাবধি নিয়মিতভাবে লিখে আসছি। বাংলাদেশে বোধ হয় আমিই একমাত্র সৌভাগ্যবান লেখক যাকে কোনওদিন বাধার দুর্ভোগ ভোগ করতে হয়নি।’

    উপরের কথাগুলি শরৎচন্দ্রের। ওই হল তার সাহিত্যক্ষেত্রে পুনরাগমনের সংক্ষিপ্ত ইতিহাস। কিন্তু ব্যাপারটা আমরা একটু খুলেই বলতে চাই। কারণ আমাদের চোখের সামনে ঘটেছে প্রায় সমস্ত ঘটনাই। এবং এখন থেকে শরৎচন্দ্রের জীবনী লেখবার জন্যে আমাদের আর জনশ্রুতির বা অন্য কোনও লেখকের উপরে নির্ভর করতে হবে না।

    ‘যমুনা’ একখানি ছোটো মাসিক কাগজ। লক্ষ্মীবিলাস তৈলে’র স্বত্বাধিকারীরা প্রথমে এই কাগজখানি বের করেন। তারপর এর ভার নেন শ্ৰীযুক্ত ফণীন্দ্রনাথ পাল। সে হচ্ছে ১৯১৩ খ্রিস্টাব্দের কথা। প্রথমে যমুনা’র গ্রাহক দুই শতও ছিল কি না সন্দেহ। কিন্তু তখনকার উদীয়মান এবং কয়েকজন নাম-করা লেখক লেখা দিয়ে, যমুনাকে সাহায্য করতেন। যেমন, স্বর্গীয় কবি দেবেন্দ্রনাথ সেন, স্বর্গীয় কবি রসময় লাহা, স্বর্গীয় কবি সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত স্বর্গীয় কৃষ্ণচন্দ্ৰ কুণ্ডু, স্বর্গীয় যতীন্দ্রনাথ পাল, স্বৰ্গীয় হেমেন্দ্রলাল রায়, স্বর্গীয় সতীশচন্দ্র ঘটক, স্বগীর্য় ইন্দিরা দেবী, ডক্টর শ্ৰীযুক্ত সতীশচন্দ্র বাগচী, শ্ৰীমতী নিরুপমা দেবী, শ্ৰীযুক্ত মোহিতলাল মজুমদার, শ্ৰীযুক্ত কুমুদরঞ্জন মল্লিক, শ্ৰীযুক্ত কালিদাস রায়, শ্ৰীমতী অনুরূপা দেবী, শ্ৰীযুক্ত উপেন্দ্রনাথ গঙ্গোপাধ্যায়, শ্ৰীযুক্ত সৌরীন্দ্রমোহন মুখোপাধ্যায়, শ্ৰীযুক্ত সুরেন্দ্রনাথ গঙ্গোপাধ্যায়, শ্ৰীযুক্ত করুণানিধান বন্দোপাধ্যায়, শ্ৰীযুক্ত বসন্তকুমার চট্টোপাধ্যায়, শ্ৰীযুক্ত কৃষ্ণবিহারী গুপ্ত, শ্ৰীযুক্ত শরচ্চন্দ্র ঘোষাল, শ্ৰীযুক্ত বিভূতিভূষণ ভট্ট ও শ্ৰীযুক্ত ব্রজেন্দ্রনাথ বন্দোপাধ্যায় প্রভৃতি আরও অনেকে। সুতরাং শরৎচন্দ্রের এই উক্তিটির মধ্যে অতিরঞ্জন আছে—প্রতিষ্ঠাবান লেখকদের কেহই এই সামান্য পত্রিকায় লেখা দিতে রাজি হলেন না। উপরে যাদের নাম করা হল তাদের অনেকেই তখন জনসাধারণের কাছে শরৎচন্দ্রের চেয়ে ঢের বেশি বিখ্যাত এবং তাদের সাহায্যে অনেক বড়ো মাসিকপত্র চলছে।

    তবু যে ‘যমুনা’র সম্পাদক শ্ৰীযুক্ত ফণীন্দ্রনাথ পাল বিশেষভাবে শরৎচন্দ্রকে নিজের কাগজের প্রধান লেখক করবার জন্যে ব্যগ্র হয়ে উঠলেন, তার একমাত্র কারণ এই যে, শরৎচন্দ্রের মধ্যে তিনি প্রথম থেকেই বৃহৎ প্রতিভার অস্তিত্ব অনুভব করেছিলেন। ফণীন্দ্রনাথের অমন অতিরিক্ত আগ্রহ না থাকলে শরৎচন্দ্রকে পুনর্বার সাহিত্যের নেশা অত সহজে পেয়ে বসত না বোধহয়। একখানি বিখ্যাত মাসিকপত্রে সম্প্রতি বলা হয়েছে, শরৎচন্দ্রকে আবিষ্কার করার জন্যে স্বর্গীয় প্রমথনাথ ভট্টাচার্যের দাবি সর্বগ্রগণ্য। একথা সম্পূর্ণ অমূলক। শরৎচন্দ্রের একখানি পত্রেও (২৮-৩-১৯১৬) দেখেছি, তিনি স্পষ্ট ভাষাতেই ফণীবাবুকে লিখেছেন আপনার claim যে আমার উপর first তাহাতে আর সন্দেহ কী? শরৎচন্দ্রকে পুনর্বার কলম ধরাবার জন্যে প্রমথবাবু প্রথমে কোনও চেষ্টাই করেছেন বলে জানি না। এ-সম্পর্কে প্রমথবাবুর কথা নিয়ে পরে আলোচনা করব। আপাতত কেবল এইটুকু বললেই যথেষ্ট হবে যে, শরৎচন্দ্রকে আবার সাহিত্যক্ষেত্রে স্থায়ীভাবে আনবার জন্যে যাঁরা বিশ্লেষ চেষ্টা করেছিলেন তাদের মধ্যে প্রধান হচ্ছেন শ্রীযুক্ত ফণীন্দ্রনাথ পাল, শ্ৰীযুক্ত সৌরীন্দ্রমোহন মুখোপাধ্যায় ও শ্ৰীযুক্ত সুরেন্দ্রনাথ গঙ্গোপাধ্যায়।

    এ-সম্বন্ধে সৌরীন্দ্রমোহনের বিবৃতি উদ্ধারযোগ্য

    ‘১৩১৯ সাল—পূজার সময় হঠাৎ শরৎচন্দ্ৰ আসিয়া উপস্থিত। আমায় বলিলেন— বড়দিদি গল্পটা আমায় পড়িতে দাও—

    ‘বেশ মনে আছে সেদিন কালীপূজা। বেলা প্রায় দুটার সময় আমার গৃহে বাহিরের ঘরে শরৎচন্দ্র, উপেন্দ্রনাথ ও আমি—বাঁধানো ভারতী খুলিয়া আমি বড়দিদি পড়িতে লাগিলাম! শরৎচন্দ্ৰ শুইয়া সে গল্প শুনিতে লাগিলেন। মাঝে মাঝে উঠিয়া বসেন। আমার হাত চাপিয়া ধরিয়া বলেন—চুপ। তার চোখ অশ্রুসজল, স্বর বাষ্পার্দ্র। শরৎচন্দ্র মুগ্ধ বিস্ময়-ভরা দৃষ্টিতে বলিলেন—এ আমার লেখা! এ গল্প আমি লিখিয়াছি!

    তাঁর যেন বিশ্বাস হয় না। আমরা তাহাকে তিরস্কার করিলাম—লেখা ছাড়িয়া কী অপরাধ করিতেছ, বলো তো! শরৎচন্দ্র উদাস মনে বসিয়া রহিলেন—বহুক্ষণ পরে নিঃশ্বাস ফেলিয়া বলিলেন—লিখব। লেখা ছাড়া উচিত হয় নাই। লেখা ভালো—আমার নিজের বুকই কঁপিয়া উঠিতেছিল! তিনি বলিলেন—চাকরিতে একশো টাকা মাহিনা পাই। অনেককে খরচ দিতে হয়। শরীর অসুস্থ—সে দেশে আর কিছুদিন থাকিলে যক্ষ্মারোগে পড়িবেন—এমন আশঙ্কাও জানাইলেন।

    আমি বলিলাম—তিন মাসের ছুটি লইয়া আপাতত কলিকাতায় চলিয়া এসো। মাসে একশো টাকা উপার্জন হয়—সে ব্যবস্থা আমরা করিয়া দিব।

    শরৎচন্দ্ৰ কহিলেন-দেখি।

    তার প্রায় তিন মাস পরে। শরৎচন্দ্র আবার কলিকাতায় আসিলেন।

    ‘যমুনা;- সম্পাদক ফণীন্দ্র পাল আমায় ধরিয়াছেন— ওই ‘যমুনা’কে তিনি জীবন-সর্বস্ব করিতে চান, আমার সহযোগিতা চাহেন।

    শরৎচন্দ্ৰ আসিলে তাঁকে ধরিলাম—এই যমুনার জন্য লিখিতে হইবে।

    শরৎচন্দ্র বলিলেন—একখানা উপন্যাস ‘চরিত্রহীন’ লিখিতেছি পড়িয়া দ্যাখো চলে কী না।

    প্রায় পাঁচ আনা অংশ লেখা চরিত্রহীনের কপি তিনি আমার হাতে দিলেন। পড়িলাম। শরৎচন্দ্ৰ কহিলেন—নায়িকা কিরণময়ী। তার এখনও দেখা পাও নাই। খুব বড়ো বই হইবে।

    চরিত্রহীন যমুনায় ছাপা হইবে স্থির হইয়া গেল।—তিনি অনিলা দেবী ছদ্মনামে ‘নারীর মূল্য’ আমায় দিয়া বলিলেন—আমার নাম প্রকাশ করিয়ো না। আপাতত যমুনায় ছাপাও।

    তাই ছাপানো হইল। তারপুর দিলেন গল্প—‘রামের সুমতি’। যমুনায় ছাপা হইল। বৈশাখের যমুনার জন্য আবার গল্প দিলেন—‘পথনির্দেশ’।

    শরৎচন্দ্র এই সময়ে যমুনা-সম্পাদককে রেঙ্গুন থেকে যেসব পত্র লিখেছিলেন, সেগুলি পড়লেই বেশ বুঝা যায় যে, পাথর-চাপা উৎসের মুখ থেকে কেউ পাথর সরিয়ে দিলে উৎস যেমন কিছুতেই আর নিজের উচ্ছসিত গতি সংবরণ করতে পারে না, শরৎচন্দ্রের অবস্থা হয়েছিল অনেকটা সেই রকম। অনেক দিন চেপে-রাখা সাহিত্যের উন্মাদনা আবার নূতন মুক্তির পথ পেয়ে শরৎচন্দ্রকেও এমনি মাতিয়ে তুলেছিল যে যমুনার ভালোমদের জন্যে যেন সম্পাদকের চেয়ে তারই দায়িত্ব ও মাথাব্যথা বেশি! একলাই প্রত্যেক সংখ্যার সমস্তটা লিখে ভরিয়ে দিতে চান এবং একাধিকবার তা দিয়েছেনও। এমনকী কেবল গল্প নয়, কবিতা ছাড়া বাকি প্রত্যেক বিষয় নিয়ে কলম চালাবার ইচ্ছাও তার হয়েছিল। মাঝে মাঝে ছদ্মনামে তিনি সমালোচনা পর্যন্ত লিখতে ছাড়েননি। তাদের মধ্যে বিশেষভাবে উল্লেখ্য হচ্ছে নারীর লেখা ও ‘কানকাটা’ নামে প্রবন্ধ দুটি; যুক্তিসঙ্গত মতামত, সতেজ ভাষা এবং হাস্য ও বিদুপরসের জন্যে সমালোচক শরৎচন্দ্রকে মনে রাখবার মতো; কিন্তু তার গ্রন্থাবলীতে ওদুটি রচনা এখনও পুনর্মুদ্রিত হয়নি।

    ‘যমুনা’য় প্রথমেই বেরুল শরৎচন্দ্রের নূতন গল্প ‘রামের সুমতি’। এ গল্পটির ভিতরে ছিল জনপ্রিয়তার অপূর্ব উপাদান এবং শরৎচন্দ্রের পরিপক্ক হাতের লিপিকুশলতা। তার উপরে ‘রামের সুমতি’র আর একটি মস্ত বিশেষত্ব হচ্ছে, সার্বজনীনতায় সে অতুলনীয়। কারণ ‘রামের সুমতি’ কেবল বয়স্ক পাঠকের উপযোগী নয়, তাকে অনায়াসেই শিশুসাহিত্যেরও সমুজ্জ্বল কোহিনুর বলে গ্রহণ করা যেতে পারে। প্রকাশ্য সাহিত্যক্ষেত্রে সর্বপ্রথম আবির্ভাবের জন্যে এমন আবালবৃদ্ধবনিতার উপযোগী বিষয়বস্তু নির্বাচন করে শরৎচন্দ্র নিজের আশ্চর্য তীক্ষ্ণবুদ্ধির পরিচয় দিয়েছেন। কারণ সেই একটিমাত্র গল্প সর্বশ্রেণীর পাঠককে বুঝিয়ে দিলে যে, বাংলা সাহিত্যক্ষেত্রে নূতন এক অসাধারণ প্রতিভার উদয় হয়েছে।

    সেদিনের কথা মনে আছে। তখন ‘ভারতী’, ‘প্রবাসী’, ‘মানসী’ ও ‘নবভারত’ প্রভৃতি প্রধান পত্রিকায় লিখে অল্পবিস্তর নাম কিনেছি—অর্থাৎ সম্পাদকরা লেখা পেলে বাতিল করবার আগে কিঞ্চিৎ ইতস্তত করেন। কিন্তু রামের সুমতি পড়ে নিজের ক্ষুদ্রত্ব সম্বন্ধে সচেতন না হয়ে পারলুম না। একেবারে এত শক্তি নিয়ে কী করে তিনি দেখা দিলেন? সাহিত্যিক বন্ধুদের কাছ থেকে খোঁজ নেবার চেষ্টা করলুম—কে এই শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়? কোথায় থাকেন, কী করেন? অনুসন্ধানে জানতে পারলুম, শরৎচন্দ্র অকস্মাৎ লেখক হননি, ১৩১৪ সালে তারই লেখনীজাতা বড়দিদি ‘ভারতী’র আসরে গিয়ে হাজিরা দিয়েছে। মনে একটা বদ্ধমূল সংস্কার ছিল, কলম ধরেই কেউ পুরোদস্তুর লেখক হতে পারে না; ‘রামের সুমতি’র শরৎচন্দ্র সেই সংস্কারের মূল আলগা করে দিয়েছিলেন। এখন আশ্বস্ত হয়ে বুঝলুম, শরৎচন্দ্র নূতন লেখক নন—‘রামের সুমতি’র পিছনে আছে আত্মসমাহিত সাধকের বহুদিনের গভীর সাধনা! আর্টের আসর আর ম্যাজিকের আসর এক নয়—এক মিনিটে এখানে ফলন্ত আমগাছ মাথা চাগাড় দিয়ে ওঠে না।

    ১৩২০ সালের বৈশাখ থেকেই শরৎচন্দ্র যমুনা তথা বঙ্গসাহিত্যের আসরে অবতীর্ণ হলেন পূর্ণ উদ্যমে। ওই প্রথম সংখ্যাতেই বেরুল তার পুরাতন ক্রমপ্রকাশ্য উপন্যাস ‘চন্দ্রনাথ’, নবলিখিত ক্রমপ্রকাশ প্রবন্ধ ‘নারীর মূল্য’ ও সদ্যরচিত বড়ো গল্প ‘পথনির্দেশ’। নারীর মূল্যের নূতন রকম নবযুগের উপযোগী জোরালো যুক্তি এবং পথনির্দেশের লিপিকুশলতা আবার সকলের বিস্মিত দৃষ্টি আকর্ষণ করলে। (যদিও জনপ্রিয়তার হিসাবে এ গল্পটি ‘রামের সুমতি’র মতন সাফল্য অর্জন করেনি)। শ্রাবণ সংখ্যায় আত্মপ্রকাশ করলে বিন্দুর ছেলে। এ গল্পটি সাহিত্যক্ষেত্রে যে-উত্তেজনা সৃষ্টি করেছিল তার আর তুলনা নেই এবং এর পরে কথাসাহিত্যের আসরে শরৎচন্দ্রের স্থান কোথায়, সে-সম্বন্ধে কারুর মনে আর কোনও সন্দেহ রইল না।

    ১৩২০ সালের ‘যমুনা’য় শরৎচন্দ্রের নিম্নলিখিত রচনাগুলি প্রকাশিত হয়েছিল ১। নারীর মূল্য’ সম্পৰ্কীয় পাঁচটি প্রবন্ধ, ২। কানকাটা (প্রতিবাদ বা সমালোচনা), ৩। গুরুশিষ্য-সংবাদ (প্রচ্ছন্ন হাস্যরসাত্মকনাট্য-চিত্র), ৪ পথনির্দেশ(বড়োগল্প), ৫ বিন্দুর ছেলে (বড়োগল্প), ৬। পরিণীতা (বড়োগল্প), ৭। চন্দ্রনাথ (উপন্যাস) ও ৮ চরিত্রহীন (উপন্যাস)।

    ইতিমধ্যে একটি ঘটনা ঘটেছে। ‘রামের সুমতি’ বেরুবার অনতিকাল পরেই শ্রীয়ুক্ত প্রভাতচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায় (বর্তমানে আনন্দবাজার পত্রিকা’র সম্পাদক-মণ্ডলীভুক্ত) একদিন বিখ্যাত কবি ও সাহিত্যিক শ্ৰীযুক্ত বিজয়চন্দ্র মজুমদারের কাছে গিয়ে ওই গল্পটি পড়ে শুনিয়ে এসেছেন। বিজয়বাবু প্রশংসায় একেবারে উচ্ছসিত হয়ে উঠলেন। এবং তার মুখে শুনে স্বর্গীয় দ্বিজেন্দ্রলাল রায়ও রামের সুমতি পাঠ করে অভিভূত হয়ে যান। তখন দ্বিজেন্দ্রলালের সম্পাদকতায় মহাসমারোহে ‘ভারতবর্ষ’ প্রকাশের উদ্যোগ-পর্ব চলছে। দ্বিজেন্দ্রলাল শরৎচন্দ্রকে ভারতবর্ষের লেখকরূপে পাবার জন্যে আগ্রহবান হন। দ্বিজেন্দ্রলালের পৃষ্ঠপোষকতায় তখন একটি শৌখিন নাট্য-সম্প্রদায় চলছিল এবং সেখানকার সভ্য স্বর্গীয় প্রমথনাথ ভট্টাচার্য ছিলেন শরৎচন্দ্রের পরিচিত ব্যক্তি। তিনি শরৎচন্দ্রকে দ্বিজেন্দ্রলালের আগ্রহের কথা জানালেন এবং তার ফলে লাভ করলেন শরৎচন্দ্রের চরিত্রহীন উপন্যাসের প্রথম অংশের পাণ্ডুলিপি। সকলেই জানেন, ‘চরিত্রহীন’ কোনওকালেই রুচিবাগীশদের মানসিক খাদ্যে পরিণত হতে পারবে না। রুচিবাগীশ বলতে যা বোঝায় দ্বিজেন্দ্রলাল তা ছিলেন না বটে, কিন্তু তার কিছু আগেই তিনি করেছিলেন কাব্যে দুর্নীতির বিরুদ্ধে বিষম যুদ্ধঘোষণা। কাজেই তার নূতন কাগজে তিনি চরিত্রহীন প্রকাশ করতে ভরসা পেলেন না। চরিত্রহীন বাতিল হয়ে ফিরে আসে এবং পরে যমুনায় বেরুতে আরম্ভ করে। এই প্রত্যাখ্যানের জন্যে শরৎচন্দ্ৰ মনে যে আঘাত পেয়েছিলেন, সেটা তখনকার অনেক সাহিত্যিক বন্ধুর কাছে প্রকাশ না করে পারেননি। কিন্তু সেজন্যে আত্মশক্তির উপরে তার নিজের বিশ্বাস ক্ষুণ্ণ হয়নি কিছুমাত্র। ‘যমুনা’তে যখন ‘চরিত্রহীন’ প্রকাশিত হতে থাকে তখনও একশ্রেণীর লোক তাঁর বিরুদ্ধে তুমুল আন্দোলন উপস্থিত করে। কিন্তু শরৎচন্দ্র ছিলেন—অটল।

    ১৩২০ সালে শরৎচন্দ্র রেঙ্গুন থেকে ছুটি নিয়ে কলকাতায় ফিরে আসেন। সে-সময়ে ‘যমুনা’র আফিস উঠে এসেছে ২২১, কর্নওয়ালিস স্ট্রিটে। শ্ৰীমানী মার্কেটের সামনে এখন যেখানে ডি. রতন কোম্পানির আলোক-চিত্রালয়, ওইখানে ছাদের উপরে সতরঞ্চ বিছিয়ে রোজ সন্ধ্যায় বসত ‘যমুনা’র সাহিত্য-আসর। শরৎচন্দ্রকেও সেখানে দেখা যেত প্রত্যহ। ওখানকার কিছু কিছু বিবরণ পরিশিষ্টে মৎলিখিত শরতের ছবির মধ্যে পাওয়া যাবে।

    এবারে শরৎচন্দ্র কলকাতায় এলেন বিজয়ীর বেশে! যমুনায় প্রকাশিত রচনাবলী তখন তাকে সাহিত্যিক ও পাঠকসমাজে সুপ্রসিদ্ধ করে তুলেছে এবং যমুনা-কার্যালয় থেকেই গ্রন্থাকারে তার প্রথম উপন্যাস ‘বড়দিদি’ মুদ্রিত হয়েছে। প্রতিদিনই নব নব অপরিচিত ভক্ত একান্ত সুপরিচিতের মতন আসেন তার সঙ্গে আলাপ করে ধন্য হতে এবং আরও আসেন মধুলুব্ধ ভ্রমরের মতন প্রকাশকের দল। চারিদিক থেকে নিমন্ত্রণ-আমন্ত্রণের অন্ত নেই। শরৎচন্দ্র এবারে এসে বাসা বেঁধেছিলেন মুক্তারামবাবু স্ট্রিটের এক মোড়ে। সেই বাসা তুলে দিয়ে আবার যখন তিনি রেঙ্গুনে ফিরে গেলেন, তখন তিনি নিশ্চয়ই বুঝতে পেরেছিলেন যে, আর তাকে কেরানিগিরি করে সুদূর প্রবাসে জীবনযাপন করতে হবে না! মানুষের পক্ষে এই সফল উচ্চাকাঙক্ষার অনুভূতি কী সুমধুর!

    হলও তাই। পর-বৎসরেই কেরানি শরৎচন্দ্র হলেন পুরোপুরি সাহিত্যিক শরৎচন্দ্র। এবং তখন তার জনপ্রিয় গ্রন্থাবলী প্রকাশের ভার পেলেন সর্বপ্রথমে ‘যমুনা’-আসরেরই অন্যতম সভ্য শ্ৰীযুক্ত সুধীরচন্দ্র সরকার,—এখন ‘রায় এম. সি. সরকার অ্যান্ড সন্স’ নামক সুবিখ্যাত পুস্তকালয়ের একমাত্র স্বত্বাধিকারী। প্রসঙ্গক্রমে বলে রাখি, শরৎচন্দ্রের শেষ পুস্তক ছেলেবেলার গল্প প্রকাশেরও অধিকার পেয়েছেন ওই সুধীরবাবুই।

    ওই সময়ে শরৎচন্দ্রের অদ্ভুত জনপ্রিয়তা কতখানি চরমে উঠেছিল, একটিমাত্র ঘটনাই তা প্রমাণিত করবে। এম.সি. সরকার থেকে যখন চরিত্রহীন পুস্তকাকারে প্রকাশিত হল, তখন সেই সাড়ে তিন টাকা দামের গ্রন্থ প্রথম দিনেই সাড়ে চার শত খণ্ড বিক্রি হয়ে যায়! আর কোনও বাঙালি লেখক বাংলাদেশের পাঠকসমাজের ভিতরে প্রথম দিনেই এত মোটা প্ৰণামী পেয়েছেন বলে শুনিনি। পরে তার পথের দাবি নাকি এর চেয়েও বেশি আদর পেয়েছিল!

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleদাঁড়াও সময় (কাব্যগ্রন্থ) – কোয়েল তালুকদার
    Next Article কিশোর সাহিত্য সম্ভার – হেমেন্দ্রকুমার রায়

    Related Articles

    হেমেন্দ্রকুমার রায়

    মানুষের গড়া দৈত্য – হেমেন্দ্রকুমার রায়

    January 8, 2026
    হেমেন্দ্রকুমার রায়

    হেমেন্দ্রকুমারের গল্প – হেমেন্দ্রকুমার রায়

    January 8, 2026
    হেমেন্দ্রকুমার রায়

    রহস্য-রোমাঞ্চ সমগ্র – হেমেন্দ্রকুমার রায়

    January 7, 2026
    হেমেন্দ্রকুমার রায়

    রবিন হুড – হেমেন্দ্রকুমার রায়

    January 7, 2026
    হেমেন্দ্রকুমার রায়

    জয়তু জয়ন্ত – হেমেন্দ্রকুমার রায়

    January 7, 2026
    হেমেন্দ্রকুমার রায়

    ঐতিহাসিক সমগ্র – হেমেন্দ্রকুমার রায়

    January 7, 2026
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অসম্পূর্ণ বই
    আয়মান সাদিক
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    রুদ্রসমগ্র – রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ

    January 8, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    রুদ্রসমগ্র – রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ

    January 8, 2026
    Our Picks

    রুদ্রসমগ্র – রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ

    January 8, 2026

    রান্না খাদ্য পুষ্টি – সিদ্দিকা কবীর

    January 8, 2026

    শহর খুলনার আদি পর্ব – আবুল কালাম সামসুদ্দিন

    January 8, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }