Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    সাহেব বিবি গোলাম – বিমল মিত্র

    বিমল মিত্র এক পাতা গল্প740 Mins Read0
    ⤷

    ০১. কাহিনী

    কাহিনী

    ফতেপুর গ্রাম থেকে তিন ক্রোশ পথ হেঁটে তবে মাজদিয়া ইস্টিশান। সেই ইস্টিশানে ট্রেন ধরে একদিন এসেছিল ভূতনাথ এই কলকাতায়।

    শেয়ালদা ইস্টিশানের চেহারা, লোকজন, চিৎকার আর বাইরের দৃশ্য দেখে হা হয়ে গেল ভূতনাথ। কোথায় এসে পড়েছে সে। কুলিদের টানাটানি বাঁচিয়ে কোনওরকমে বাইরে এসে দাঁড়ালো। দুটো টাকা ছিল পকেটে–সে দুটো পুরে নিলো ট্যাঁকে। ব্ৰজরাখাল বলেছিল—খুব সাবধান, পকেটে টাকাকড়ি থাকলে সে আর দেখতে হবে না-কলকাতা শহর তোমার ফতেপুর নয় যে…

    কলকাতা শহর যে ফতেপুর নয় তা ভূতনাথ জানতো। মল্লিকদের তারাপদ সেবার বারোয়ারি পার্টির যাত্রার নাটকের বই কিনতে এসেছিল কলকাতায়। ‘হরিশ্চন্দ্র’ পালার বই। তার কাছেই শোনা। বললে—ওই যে দেখছে মিত্তিরদের ঢিপ-চালতে গাছ—ওই টিপ-চালতে গাছের হাজার-ডবল উঁচু সব বাড়ি, বুঝলে কাকা—সেই উঁচু বাড়ির মাথায় দেখি না মেয়েমানুষরা দিব্যি আরামে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে রাস্তা দেখছে—

    ভূষণ কাকার বয়স হয়েছে। প্রচুর টাকার মালিক। তবু কলকাতায় যায়নি কখনও। যাবার প্রয়োজনও হয়নি। কাকা বললে—মাথায় ঘোমটা-টোমটা কিছু নেই।

    তারাপদ বললে–ঘোমটা দেবে কেন শুনি—কোন্ দুঃখে ভালো করে কি ছাই দেখতে পাচ্ছে কেউ তাদের—আমি রাস্তা থেকে দেখছি ঠিক যেন এই একটা য়্যাট্টুক কড়ে আঙুলের মতো–

    ভূষণ কাকা বললো রে শুনেছি নাকি কলকাতায় আজকাল বিয়ে-অলা মেয়েরা সিঁদুর পরে না—ঘোমটা খুলে সোয়ামীর সঙ্গে ঘোড়ার গাড়িতে হাওয়া খেতে যায়, শ্বশুর-ভাসুরের সামনে সোয়ামীর সঙ্গে কথা বলে—

    মিথ্যে কথা, একেবারে ডাহা মিথ্যে কথা কাকা-তারাপদ মাথা নাড়তে লাগলো।—তা হতে পারে না—আমি যে নিজের চোখে সমস্ত দেখে এলাম কাকা—ধরে না কেন সকালবেলা নামলাম তো ট্রেন থেকে—আর সন্ধ্যেবেলা আবার ট্রেন ধরলামকলকাতার কিছু দেখতে তো আর বাকি রাখিনি কাকা-রানাঘাট থেকে পাউরুটি কিনে নিয়ে গিয়েছিলাম—আর মাজদের রসগোল্লা-পেটটি পুরে তাই খেয়ে নিয়ে সব খুটে খুটে দেখলাম ঘোড়ার ট্রাম গাড়ি দেখলাম—কী জোরে যায় যে কাকা–সামনে আসতে দেখলে বুকটা দুর দুর করে ওঠে।

    —কেন, বুক দুর দুর করে কেন?—জিজ্ঞেস করেছিল ভূতনাথ। জবাব দিয়েছিল ভূষণ কাকা। বলেছিল—তুই থাম তত ভূতে—বোকার মতো কথা বলিস নে–লোকে হাসবে।

    ভূতনাথ সত্যি সত্যি আর কথা বলেনি। চুপ-চাপ শুনে গিয়েছিল।

    তারাপদ বলেছিল-আমার একবার ইচ্ছে করে কাকা ভূতোকে দিই ছেড়ে গিয়ে কলকাতার রাস্তায়ও ঠিক হাউ-মাউ করে কেঁদে ফেলবে—দেখো–

    ভূষণ কাকাও যেন বিজ্ঞের মতো জবাব দিয়েছিল—তা তো বটেই—এ কি আর ছিন্নাথপুরের গাজনের মেলা যে, রাত হয়ে গেলে ভাবনা নেই—কেষ্ট ময়রার দোকানের মাচায় দুটো চিড়ে মুড়কি চিবিয়ে শুয়ে পড়লাম।

    মল্লিকদের বাড়ির তারাপদর কথায় সেই ছোটবেলা থেকেই কলকাতার নাম শুনলে যেন রোমাঞ্চ হতো ভূতনাথের। একদিন মিত্তিরদের ঢিপ-চালতে গাছটার মগডালে গিয়েও উঠেছিল ভূতনাথ। এর হাজার-ডবল উঁচু। সে যে কতখানি—তা অনুমান করা শক্ত। তবু অনেক অনেক দূরে চেয়ে চেয়ে দেখেছে সে। সোজা পশ্চিমদিকে চাইলে শুধু দেখা যায় কেবল গাছ আর গাছ। গাছের ফাঁকে ফাঁকে মাঠ। তারপর আকাশ। শুধু আকাশ আর আকাশ। আকাশময় চারিদিক। সন্ধ্যেবেলা বাদুড়গুলো ওদিক থেকে ফল-পাকড় খেতে একটার পর একটা উড়ে আসে। ওই শইরের দিক থেকে। মাজদে’ স্টেশনের চেয়েও অনেক দূরে—কত শহর—ফতেপুরের মতো কত গ্রাম পেরিয়ে তবে কলকাতা। সেখানে ঘোড়ার ট্রামগাড়ি চলে খুব জোরে-সামনে আসতে দেখলে বুক দুর দুর করে। (কেন করে তা বলা যায় না) মিত্তিরদের টিপু-চালতে গাছের হাজার-ডবল উচু সব বাড়ি। তার মাথায় লোক গুলো দেখায় এতটুকু কড়ে আঙুলের মতো।

    এমতি ভাবতে ভাবতে গাছ থেকে একসময় নেমে পড়ে ভূতনাথ।

    এর পর আর একদিনের ঘটনা। তখন অনেক বড় হয়েছে ভূতনাথ। ইস্কুলে এসে ভর্তি হলো গঞ্জের হাসপাতালের বড় ডাক্তারের ছেলে ননী। ভারি ফুটফুটে ছেলেটা। যেমন ফরসা, তেমনি কালো কালো চোখ, বড় বড় চুল। পরে অনেকবার ভূতনাথ ভেবেছে ননী যেন ছেলে নয়। অনেক ভাব হবার পরেও ননীর হাতে আচমকা হাত ঠেকে গেলে কেমন যেন শিউরে উঠতে ভূতনাথ। ইস্কুল থেকে মাইলের পর মাইল হেঁটে হেঁটে বাড়ি আসার পথে ননীর কথাই সারা রাস্তাটা ভাবতো। এক-এক সময় মনে হতো, ননী তার বোন হলে বেশ হতো। তাহলে দুজনে এক বাড়িতে থাকতো, শুতে এক বিছানায়। অনেক ছুটির দিন ভূতনাথ হেঁটে হেঁটে একা চলে গিয়েছে ইস্কুলের কাছে। তারপর লুকিয়ে লুকিয়ে হাসপাতালের আশে পাশে ঘুরে বেড়িয়েছে। ননীকে যদি একবার এক ফাঁকে দেখতে পাওয়া যায়। আবার লজ্জাও হতে। যদি ননী তাকে সত্যি সত্যিই দেখে ফেলে। যদি ননী জিজ্ঞেস করে-কী রে ভূতনাথ, তুই এখানে কেন—তখন কী জবাব দেবে সে।

    ননীকে তো বলা যায় না যে তাকে দেখতেই তার আসা। ভুল করে নিজের একটা বই কতদিন নীর বই-এর মধ্যে মিশিয়ে দিয়েছে। তবু যদি সেই অছিলায় স্কুলের পরেও তারে সঙ্গে আবার কথা বলার সুযোগ হয়। সেই ননী কতোদিনই বা ছিল তাদের স্কুলে। তবু কত গল্প হতো। কত জায়গায় তার বাবা বদলি হয়েছে। কত স্কুলের গল্প—কত ছেলের গল্প।

    সেই ননী একদিন চলে গেল। চলে গেল চিরকালের স্বপ্নের দেশ–কলকাতায়। যাবার আগের দিন কেমন যেন মনখারাপ হয়ে গিয়েছিল ভূতনাথর। ননীর বাবা বদলি হয়ে কলকাতায় যাবে–
    ননীর তাই আনন্দ হয়েছিল। কিন্তু ভূতনাথ অনেক সাহস সঞ্চয় করে জিজ্ঞেস করেছিল-তোর খুব কষ্ট হচ্ছে, না ননী।

    —কেন? কষ্ট হবে কেন?

    কলকাতায় যাওয়াতে কষ্ট হওয়ার যে কী আছে তা ননীর মাথায় আসেনি। কিন্তু ভূতনাথের মনে হয়েছিল তার নিজের যেমন কষ্ট হচ্ছে—ননীর তেমন হলেই যেন ভালো হতো। কেন যে ননীর মনে কষ্ট হওয়া উচিত—তা ভূতনাথ লজ্জায় ব্যাখ্যা করে আর বলতে পারেনি। ভূতনাথের সে-দুঃখ সেদিন বুঝতে পারেনি ননী। না পারবারই কথা। কত দেশ সে দেখেছে। কত বড় লোক তারা। কতো ভূতনাথ তার জীবনে আসবে যাবে। মনে আছে ননীরা কলকাতায় চলে যাবার দিন খাটরোর বিলের ধারে শাড়া গাছটার তলায় বসে হাউহাউ করে কী কান্নাটাই না কেঁদেছিল সে।

    কিন্তু একদিন ননীর চিঠি এল। খাস কলকাতা থেকে। জীবনে সেই তার প্রথম চিঠি পাওয়া। সেদিন সে-চিঠি পড়ে যে-আনন্দ ভূতনাথ পেয়েছিল—তা আর কোনদিন কোনও চিঠি পড়ে পায়নি। চিঠিখানা সে কতবার পড়েছে। বালিশের তলায় রেখে ঘুমিয়েছে দিনের পর দিন। চিঠিখানা জামার তলায় বুকের ওপর রেখেছে। যেন ননীর হাতটার স্পর্শ আছে ওই একটুকরো কাগজে। অথচ কী-ই বা লিখেছে ননী। বলতে গেলে কিছুই নয়। ননী লিখেছিল—

    ‘প্রিয় ভূতনাথ,

    আমরা গত শনিবার দিন এখানে আসিয়া পৌঁছিয়াছি। কলিকাতা বেশ বড় দেশ—কী যে চমৎকার দেশ বলিতে পারিব না। এখানে আসিয়া অবধি বাবার সঙ্গে চারিদিকে ঘুরিয়া বেড়াইতেছি। বড় বড় বাড়ি আর বড় বড় রাস্তা। খুব আনন্দ করিতেছি, তোমাদের কথা মনে পড়ে। তুমি কেমন আছো জানাইও। উপরের ঠিকানায় চিঠি দিও–

    সেই চিঠির উত্তর দিতেই ভূতনাথের দশখানা খাতার কাগজ নষ্ট হয়ে গেল। তবু সেদিন ননীর চিঠির উত্তর আর কিছুতেই পছন্দ হয়নি তার। কত কথা ভূতনাথ লেখে—আবার কেটে দেয়। বড় লজ্জা করে। কলকাতা থেকে ননীর চিঠি আসাটাই সেদিন মনে হয়েছিল জীবনের চরম স্মরণীয় ঘটনা। সেই ননীর চিঠির উত্তর পাঠাতে হবে কলকাতায়! এ যেমন বিস্ময়কর তেমনই অবিশ্বাস্য যে। শেষ পর্যন্ত চিঠি ভূতনাথ কোনওরকমে পাঠিয়েছিল। কিন্তু তার উত্তর আসেনি আর এ-জীবনে। সেদিনকার মতো ননী হারিয়েই গিয়েছিল ভূতনাথের জীবন থেকে একেবারে। কিন্তু কলকাতার স্বপ্ন ভূতনাথের মন থেকে কোনোদিন মুছতে পারেনি কেউ!

    এর পর আর এক ঘটনা ঘটলো। ভূতনাথের বয়েস তখন বারো কি তেরো আর রাধার এগারো। রাধার বিয়ে হবে। রাধাকে দেখতে এল কলকাতা থেকে। সে যে কী রোমাঞ্চ! রাধার রোমাঞ্চ হলো কিনা ভূতনাথ জানতে পারেনি সেদিন। কিন্তু যদি হয়েই থাকে তত তার হাজারগুণ হয়েছিল ভূতনাথের। রাধা! সেই রাধা! তার শ্বশুরবাড়ি হবে কলাকতায়। কী যে হিংসে হয়েছিল ভূতনাথের মনে। রাগও হয়েছিল খুব। রাগে রাধার সঙ্গে ভূতনাথ ক’দিন দেখাও করেনি, কথাও বলেনি।

    কোঁচানো চাদর আর বার্নিশ করা পম্পসু পায়ে কয়েকজন ভদ্রলোক একদিন এল ফতেপুরে। একটা রাত থাকলোও। খেলও খুব। নন্দ জ্যাঠা গাছের ডাব, পুকুরের মাছ, গাওয়া ঘি, ছিন্নাথপুরের কেষ্ট ময়রার কাঁচাগোল্লা আর কাটারিভোগ চালের ভাত খাওয়ালেন।

    রাধাকে পছন্দও করে গেল তারা। মাজদিয়া ইস্টিশন থেকে পাল্কি চড়ে একদিন ব্ৰজরাখাল এল বর হয়ে। ব্ৰজরাখাল কলকাতা থেকে বিয়ে করতে এসেছে। বর দেখে রাধার পছন্দ হলো কিনা কে জানে কিন্তু ভূতনাথের হলো না। বরের গোঁফ নেই এ কী রকম বর! ফতেপুরে যত বর এসেছেসব বরের গোঁফ ছিল। রাধার সই হরিদাসীর বরেরও গোঁফ ছিল আর ভূষণ কাকার মেয়ে জ্ঞানদার বর এখনও আসে— তারও গোঁফ। কিন্তু সেদিন সেই অল্প বয়সে ভূতনাথের মনে হয়েছিল রাধার বরের গোঁফ থাকলেই যেন মানাতো। এখন অবশ্য ভাবলেই হাসি পায়। যা হোক, সেদিন ব্ৰজরাখালের গোঁফ না থাকায় যে ক্ষোভ হয়েছিল ভূতনাথের, অপুষিয়ে গিয়েছিল রাধার কলকাতার শ্বশুরবাড়ি হওয়ার সৌভাগ্যে।

    বাসরে অনেক রাত পর্যন্ত ভূতনাথ বসেছিল বরের পাশে। কত লোক কতরকম প্রশ্ন করছে—একে একে সব উত্তর দিচ্ছে ব্ৰজরাখাল। রাঙাকাকী ভূতনাথকে দেখিয়ে পরিচয় করিয়ে দিয়েছিল

    —একে দেখছো তো—এ তোমার বড় সম্বন্ধী–সম্পর্কে গুরুজন

    মল্লিকদের আন্না বলেছিল—ত গুরুজন যদি, এখেনে আমাদের সঙ্গে বসে কেন বাপু-বাইরে যাও না তুমি ভূতেদাদা।

    সবাই হেসে উঠেছিল।

    লজ্জায় ভূতনাথও আর বেশিক্ষণ বসতে পারেনি সেখানে। আস্তে আস্তে এক ফাঁকে উঠে চলে আসতে হয়েছিল। ইচ্ছে ছিল— ব্ৰজরাখালের সঙ্গে আলাপ করে, কলকাতার কথা জিজ্ঞেস করে কলকাতার বড় হাসপাতালের ডাক্তারবাবুর ছেলে ননীকে চেনে কিনা জেনে নেয় ইত্যাদি ইত্যাদি কত কথা মনের ভেতরে গুঞ্জন করছিল, কিন্তু কিছুই হলো না। পরের দিন যতক্ষণ ব্ৰজরাখাল ছিল বাড়িতে, তার সামনে যেতেও লজ্জা হলো তার।

    সকালবেলা, মনে আছে, কুয়োতলার পাশে আতাগাছটার আড়ালে দাঁড়িয়ে ভূতনাথ শুনতে পেলে রাধা জ্যাঠাইমাকে বলছে

    —মা, ভূতেদাদা বলছিল ও আমার সঙ্গে যাবে।

    –কোথায়?—অবাক হয়ে গিয়েছে জ্যাঠাইমা।

    -আমার সঙ্গে।

    —তোর শ্বশুরবাড়িতে? কেন?

    —তা জানিনে-ভূতোদাদা বলছিল।

    —পাগল—বলে হেসে উঠেছিল জ্যাঠাইমা। ছি ছি—কী ভাবলো জ্যাঠাইমা। রাধা যে সে-কথা জ্যাঠাইমাকে বলবে কে জানতো। কী বোকা মেয়ে।

    কিন্তু পরে শুনতে পেলে ভূতনাথ। রাধার শ্বশুরবাড়ি কলকাতায় নয়। কলকাতা থেকে অনেক দূরে গ্রামের মধ্যে। কামারপুকুরে। কোথায় কামারপুকুর কে জানে। রাধা সেইখানে থাকে। আর ব্রজরাখাল কলকাতার আপিসে চাকরি করে। শনিবার-শনিবার শুধু বাড়ি যায়।

    রাধা যখন প্রথম বাপের বাড়ি এল—সে-রাধাকে আর যেন চেনাই যায় না।

    রাধা হেসে উঠলো হো হো করে-ওমা, ভূতোদাদা আমার দিকে কেমন হাঁ করে চাইছে দেখো–

    ভূতনাথ কিন্তু অন্য জিনিস দেখছিল। রাধা এই ক’দিনে এতো মোটা-সোটা হলে কী করে! আরো ফরসা হয়েছে যেন। ভালো ভালো জামা-কাপড় পরেছে। আরো গয়না হয়েছে।

    রাধা মুখ বেঁকিয়ে বলেছিল-না বাপু, তুমি আমার পানে অমন করে চেয়ে না ভূতোদাদা-ভয় করে আমার

    ভূতনাথ অবাক হয়ে গিয়েছিল—কেন, ভয় কিসের–

    —বারে নজর লাগে না বুঝি, আমার নতুন বিয়ে হয়েছে— নজর লাগা বুঝি ভালো

    -আহা। তাই নাকি আবার লাগে।

    —আর আমি যদি নজর দেই—তোমার কেমন লাগে শুনি

    —দে না, যতো পারিস নজর দে—কিসে নজর দিবি দে—বলে ভূতনাথ রাধার দিকে আরো ঘনিষ্ঠ হয়ে এগিয়ে গিয়ে বুক চিতিয়ে দাঁড়িয়েছিল।

    রাধা কিছুক্ষণ চুপ করে কী যেন ভাবলে। ভূতনাথের নজর দেবার মতো কিছু আছে কিনা হয় তো তাই দেখলে। তারপর বললে—এখন তো দেবে না, তোমার বউ আসুক তখন দেবো

    সে অবকাশ রাধা পায়নি। পরের বার রাধা এল।

    ভূতনাথ চেহারা দেখে অবাক—এ তোর কী চেহারা হয়েছে। রে রাধা

    রাধা বললে—তোমারও তো চেহারা খারাপ দেখছি ভূতোদাদা

    —আমার হোক—কিন্তু তোর কেন হবে—

    রাধা এবার যেন একটু গম্ভীর-গম্ভীর। কিছু কথা বললে না। মাথা নিচু করে রইলো।

    ভূতনাথ বললে—সেবার আমি নজর দিয়েছিলাম বলে, নারে–

    —দূর, তা কেন—বলে রাধা চুপ করলো। আর কিছু বললে। শেষে মল্লিকদের আন্নার কাছে শুনতে পেলে ভূতনাথ। আন্না বললে-জানো ভূতেদা—রাধাদি’র ছেলে হবে–

    সেদিন খবরটা শুনে ভূতনাথ যে কেন অমন চমকে উঠেছিল কে জানে। কিন্তু চমকানো শেষ হলো ভূতনাথের, যেদিন পেটে ছেলে নিয়ে রাধা মারা গেল। কেমন করে যে কী হলো সব আজ মনে নেই। তবু মনে আছে, খবর পেয়ে ব্রজরাখাল এসেছিল শেষ দেখা দেখতে। গম্ভীর মানুষ ব্ৰজরাখাল। বেশি কঁদেনি। রাধার গায়ের গয়না-টয়নাও কিছু নিলে না। নন্দজ্যাঠার একমাত্র মেয়ে। তার শোকটাও সমান গভীর। তবু বারবার পীড়াপীড়ি করলে।

    ব্ৰজরাখাল বললে—মানুষটাই যখন চলে গেল—তখন আর মিছিমিছি ওসব…।

    নন্দজ্যাঠা কিন্তু এদিকে শক্ত মানুষ। বললে—তুমি আবার বিয়ে করো বাবা—আমি বলছি

    সেইবারই ব্রজরাখালের সঙ্গে প্রথম যা হোক দু একটা কথা বললে ভূতনাথ।

    ব্ৰজরাখাল বললে-কলকাতা? তা আমি তো কলকাতাতেই থাকি আমার বাসায়—দেখাবো তোমায় কলকাতা। সে আর বেশি কথা কি—কলকাতা দেখতে তোমার এতো সাধ?

    ঠিকানাটা নিয়ে রাখলে ভূতনাথ। ঠিক হলো—ভূতনাথ চিঠি লিখলেই সব ব্যবস্থা করবে ব্রজরাখাল। তারপর যতোদিন ইচ্ছে তার বাসায় থাকো আর দেখে বেড়াও কলকাতা শহর!

    ব্ৰজরাখাল পরদিনই চলে গিয়েছিল কলকাতায়। আর আসেনি।

    তারপরেই এল ভূতনাথের পরীক্ষা। মহকুমা থেকে একদিন এন্টান্স পরীক্ষাও দিয়ে এল। কোথা দিয়ে দিন আর রাত কাটতে লাগলো কে জানে। আর তারপরেই বিধবা পিসী পড়লে অসুখে। পিসী ছিল মা’র মতন। ভারি কঠিন অসুখ। কয়েক মাস চললো পিসীকে নিয়ে।

    পিসী প্রায়ই বলতো—ভূতত মানুষ হবার পর যেন মরি—এই কামনা করে মা তোমরা

    লোকে বলত—তুমি নিজের পরকাল তিথি-ধম্মো নিয়ে থাকো কেন—ছেলে হয়ে জন্মেছে, যেমন করে হোক ওর উপায় ও করে নেবেই—

    পিসী বলতো—পেটেই ধরিনি-নইলে বাপ-মা কী জিনিস ও জানে না তো—আমি চোখ বুজলে ওকে দেখবার কেউ নেই যে

    পাড়ার বউদের সঙ্গে গল্প করতে পিসী আর ভূতনাথ শুনতে পাশে বসে-বউ-এর ছেলে হয় আর মরে যায়—শেষে বামুনগাছির পঞ্চানন্দের থানে মানত করলাম আমি—সেই পঞ্চানন্দের দোর ধরেই তো হলো এই ছেলে। ওর বাপ সতীশ বললে—নাম রাখো ‘অতুল’-আমি বললাম-শিবের দোর ধরে যখন বেঁচেছেনাম থাক ভূতনাথ। তা ভূতনাথ তো ভূতনাথই আমার-আমার ভোলানাথ-বই পড়ছে তো পড়ছেই—ঘুমুচ্ছে তত ঘুমুচ্ছেই— খেতে ভুলে যায় এমন ছেলে কখনো দেখেছো মা তোমরা-ওকে নিয়ে আমি কী করি বলো তো মা।

    সেই পিসীমাও একদিন মারা গেল।

    পিসীমা’র শ্বশুরবাড়ি থেকে বিধবার নামে পাঁচ টাকা করে মাসোহারা আসতো—তা গেল বন্ধ হয়ে। তখন আর করবার কিছু নেই। ভূতনাথ বারোয়ারিতলায় গিয়ে আড্ডা জমালো। আডও বলতে পারে, আবার যাত্রার মহড়াও বলতে পারো।

    ‘নল-দময়ন্তী’ পালায় একবার ভূতনাথ প্রতিহারীর পার্ট করলে যাত্রার আসরে দাঁড়িয়ে, কিন্তু বড় ভয় করতে লাগলো তার। কাঁপতে লাগলো পা দুটো। কেমন গলাটা শুকিয়ে আসতে লাগলো। গ্লাশ-গ্লাশ জল খেলে খুব।

    ভূষণ কাকা বললেও তারাপদ, ভূতোকে কেন পার্ট দিলে শুধু-শুধু—কোনও কম্মের নয়—লেখাপড়া শিখলে কী হবে–মাথায় যে গোবর পোরা।

    কিন্তু ভূতোর তবলা শুনে সবাই অবাক। রসিক মাস্টার বললে—ড়ুগিতবলায় খাসা হাত তত ছোকরার—

    দিনকতক তবলা নিয়েই পড়লো ভূতনাথ। বহুদূর থেকে শোনা যায় ভূতনাথের তবলার চাটি। অন্ধকার রাত্রে ঘরে বসে বসে সাধনা করে ভূতনাথ। বোল মুখস্ত করে—তা গে না ধিন, না গে ধিন-আবার কখনো–

    তা ধিন
    তা তা ধিন
    ধিন ত্রে কেটে ত্রে কেটে তাক্‌—
    ধিন…

    কিন্তু তবলাও ঠিক শান্তি দিতে পারলে না ভূতনাথকে। পিসীমা’র মৃত্যুর সঙ্গে সঙ্গে যেন হঠাৎ তার জীবনের একটা পরিচ্ছেদের একেবারে শেষ হয়ে গিয়েছে। মনে হলো একান্ত নিরাশ্রয় সে। আজ এর বাড়ি, কাল ওর বাড়ি—এমনি করে পরের অন্নদাস হওয়ার অগৌরব যেন তার ঘাড়ে ভূত হয়ে চেপে বসলো সেদিন প্রথম আর প্রখর হয়ে। ভূতনাথ একদিন বাঁয়া তবলা নিয়ে ফিরিয়ে দিয়ে এল বারোয়ারিতলায়। আর ও-মুখো হলো না।

    খুব ছোটবেলায় ভূতনাথ একটা বেজি পুষেছিল। বুনো বেজি। বেশ পোষ মেনেছিল। কিন্তু সংসারে যারা পোষ মানে তারাই বুঝি কষ্ট পায় বেশি। ভূতনাথেরই অত্যাচারে মারা গেল একদিন বেজিটা। সেই বেজির মৃত্যু প্রথম আর শেষ পিসীমা। দুই প্রান্তের দুই চরম শোকের মধ্যে ডাক্তারবাবুর ছেলে ননীর বিচ্ছেদ আর রাধার মৃত্যু—সমস্ত মিলিয়ে ভালোমানুষ ভূতনাথ কেমন যেন মনে মনে স্তিমিত হয়ে এল।

    এমন সময় এল ব্রজরাখালের চিঠি। রাধার স্বামী ব্রজরাখাল। ব্ৰজরাখাল ভূতনাথের চিঠি পেয়েছে অনেক পরে। এজরাখাল যে-ঠিকানা দিয়েছিল ভূতনাথকে, সে-ঠিকানা বদলে গিয়েছে। তাই চিঠি পেতে অত দেরি।

    পরীক্ষায় পাশ করেছে জেনে ব্রজরাখাল খুশি হয়েছে। লিখেছে —চাকরি চেষ্টা করলে হতে পারে। কিন্তু এখনি কিছু বলা যায় না। তবে কলকাতায় কিছুদিন থাকতে হবে—ঘোরাঘুরি করতে হবে। শেষে লিখেছে—চলিয়া আইস—যেমন যেমন নির্দেশ দিলাম ওইভাবে আসিবে। বাসস্থান ও আহারের বন্দোবস্ত আমি করিব। এ কলিকাতা শহর—ট্রেনে ও রাস্তায় খুব সাবধানে আসিবে। জুয়াচোরেরা নতুন মানুষ জানিলে…ইত্যাদি ইত্যাদি।

    পিসীমা’র পেতলের ঘটিটা আর রূপোর গোট ছড়াটা হর গয়লানীর কাছে বন্ধক রেখে বাড়ির দরজায় তালা চাবি লাগিয়ে ভূতনাথ রাত থাকতে বেরিয়ে পড়েছে পায়ে হেঁটে। তারপর সকালবেলা এই কলকাতা। রেলের টিকিট কিনে, বাকি দুটো টাকা রয়েছে। টাকা দুটো সাবধানে টাকে পুরে নিয়ে ভূতনাথ শেয়ালদা’ স্টেশনের বাইরে এসে দাঁড়ালো।

    ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40 41 42 43 44 45 46 47 48 49 50
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleবেগম মেরী বিশ্বাস – বিমল মিত্র
    Next Article রচনা সংগ্রহ – অক্ষয়কুমার মৈত্রেয় (নন-ফিকশন)

    Related Articles

    বিমল মিত্র

    বেগম মেরী বিশ্বাস – বিমল মিত্র

    May 29, 2025
    বিমল মিত্র

    আসামী হাজির – বিমল মিত্র

    May 29, 2025
    বিমল মিত্র

    কড়ি দিয়ে কিনলাম ১ – বিমল মিত্র

    May 28, 2025
    বিমল মিত্র

    কড়ি দিয়ে কিনলাম ২ – বিমল মিত্র

    May 28, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Our Picks

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }