Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    সাহেব বিবি গোলাম – বিমল মিত্র

    বিমল মিত্র এক পাতা গল্প740 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    ১২. মোহিনী-সিঁদুর আপিসে

    ‘মোহিনী-সিঁদুর’ আপিসে সেদিন সকাল থেকেই বড় কাজের তাড়া। একটা নিঃশ্বাস নেবার পর্যন্ত ফুরসুৎ পাওয়া যায় না। পাঠকজী তারই মধ্যে দুপুরবেলা ছাতু ভিজিয়ে খেয়ে নিলে। ভূতনাথেরও খুব খিদে পেয়েছে। তবে কি আজকে কেউ আর ডাকতে আসবে না!

    একটা মনি-অর্ডারের কাগজ নিয়ে সোজা ওপরে চলে গেল। ভূতনাথ। সুবিনয়বাবু তেমনি ভাবে বসেছিলেন। পাশে জবা। আর একটা চেয়ারে জবার মা। বসে বসে বই পড়ছেন।

    কাছে যেতেই ভূতনাথ লক্ষ্য করলে সুবিনয়বাবু মেয়ের সঙ্গে কী যেন আলোচনা করছেন। ভূতনাথ কাছে যেতেই জবা উঠছিল।

    সুবিনয়বাবু বললেন–না, উঠে যেও না মা, বোসোলজ্জা কি মা?

    জবা বললে—ভূতনাথবাবুর খাওয়ার এখনও যোগাড় হয়নি বাবা—আমি যাই।

    —কেন? সুবিনয়বাবু অবাক হয়ে গেলেন। ভূতনাথবাবুর খাবার দিতে এত দেরি করা বড় অন্যায় মা।

    —কিন্তু উনি কি আমাদের হাতে খাবেন? ওঁকেই জিজ্ঞেস করুন না বাবা।

    -কেন, ও-কথা কেন বলছে মা? বৃদ্ধ যেন কিছু বুঝতে পারলেন না।

    ভূতনাথ কী জবাব দেবে বুঝতে পারলে না। চুপ করে দাঁড়িয়ে রইল শুধু।

    জবার মা আপন মনেই বই পড়ছেন। তাঁর যেন এ-সব কথা কানে যাচ্ছে না।

    জবা পরিষ্কার করে বললে—আমরা তত ব্রাহ্মণ নই বাবা।

    -ও, তাও তো সত্যি। তা হলে তোমার খাওয়ার বন্দোবস্ত কী হবে ভূতনাথবাবু? এ-কথাটা আগে ভাবিনি তো মা-একটা ঠাকুরের ব্যবস্থা করতে হয়। পাঠককে একবার খবর দিতে হবে। ওরে রতন–

    —সে যখন হবে, তখন হবে, কিন্তু এখনি তো আর ঠাকুর আসছে না—আজকে কি উনি উপোস করবেন?

    —সে কি একটা কথা হলো? বলে সুবিনয়বাবু হতবুদ্ধির মতো ভূতনাথের দিকে চেয়ে রইলেন।

    ভূতনাথেরও এই পরিস্থিতিতে কেমন যেন অস্বস্তি লাগছিল।

    জবা এবার সোজাসুজি ভূতনাথকে প্রশ্ন করলে—আমি হাঁড়িটা চড়িয়ে দিলে, আপনি নামিয়ে নিতে পারবেন না—তাতেও আপনার কিছু আপত্তি আছে?

    ভূতনাথ বললে—পারবো।

    —এ তো বেশ কথা, খুব উত্তম কথা, যতদিন ঠাকুর না পাই, ততদিন এই রকম একটু কষ্ট করো ভূতনাথবাবু, জবা ঠিক বলেছে।

    তা হলে আমি ব্যবস্থা করি গিয়ে। সুবিনয়বাবু বললেন—তা হলে, একটা কথা শুনে যাও মা, ভূতনাথবাবুকে আমি তা হলে রবিবার দিন আসতে বলি? কী বলো?

    জবা মুখ নিচু করে বললে—সে তোমার অভিরুচি বাবা।

    -না না, সে কি, তোমার বিয়ে, উৎসবটা তোমাকে কেন্দ্র করে, যাদের যাদের তুমি নিমন্ত্রণ করবে, তাদেরই আমি ডাকবো-আর ভূতনাথবাবু তো আমাদের ঘরের লোক—ব্রজরাখালবাবুর নিজের বিশেষ আত্মীয়।

    -আমি ভূতনাথবাবুর রান্নার ব্যবস্থা করি গে বাবা—বলে দ্রুতপায়ে জবা সিঁড়ি দিয়ে নিচে নেমে গেল এক নিমেষে।

    ভূতনাথ এবার হাতের কাগজপত্র সুবিনয়বাবুর সামনে এগিয়ে ধরলে। যেখানে সই করবার, সেখানে সই করলেন তিনি। তারপর বললেন-বোসো, কথা আছে তোমার সঙ্গে ভূতনাথবাবু।

    ভূতনাথ বসলো।

    সুবিনয়বাবু বললেন—জবার বিয়ের কথা বলছিলাম, তা আসছে রবিবার দিন একটা ছোটোখাটো উৎসবের দিন স্থির করেছি। পরস্পর কথাবার্তা হবে। পাকাপাকি কথা সেই দিনই হয়ে যাবে। ভেবে দেখলাম আমার আর ক’দিন—আর উনিও–

    পাশে-বসা জবার মা’কে নির্দেশ করে বলতে লাগলেন–আর উনিও না-থাকারই মতো। ওদিকে জবারও বিবাহের উপযোগী বয়েস, ভালো পাত্রও পেয়েছি, ছেলেটি মেধাবী, এম-এ পাশ করেছে। এবার আইন পড়ছে—বাপ বেঁচে নেই—তা হোক, এ সব সম্পত্তির ভার তো একদিন জবাকেই নিতে হবে। আমাদের পৈত্রিক কারবার

    -বাবা ছিলেন গোঁড়া কালীভক্ত হিন্দু। আমি ধর্ম বদলেছি বটে, কিন্তু বংশের ধারা কোথায় যাবে—নিজের ছেলে নেই, তা না থাক, জামাইকেই ছেলের মতন করে নিতে হবে। তারপর খাওয়াপরার জন্যে চিন্তা করতে হবে না–আমি যা রেখে গেলাম…কী বলো, অন্যায় কিছু বলছি।

    খানিকক্ষণ চুপচাপ। ভূতনাথ বললে—আমি আসি এবার।

    —না রোসস একটু, তোমাকে সেই গল্পটা বলা হয়নি। প্রথম যেদিন দীক্ষা নিলুম—সে কী কাণ্ড ভূতনাথবাবু—শুনুন তবে

    ভূতনাথ বললে—সে-গল্প আপনি আমাকে বলেছেন।

    -বলেছি নাকি? তা বলেছি বটে, কিন্তু কেবল মনে হয় বুঝি বলা হলো না কাউকে। কেউ কি মনে রাখবে সে-কথা ভূতনাথবাবু? আমার সময় তো ঘনিয়ে এল-শ্রীমদ্ভাগবতে পড়েছি রন্তিদেবের গল্প, সমস্ত দিন ধরে সব দান করে যখন নিজের খাবার জলটুকুও এক ভিক্ষার্থী চণ্ডালকে দিয়ে দিলেন, তখন নিজের মনে যা বললেন— ভাগবতকার বলছেন তা অমৃত—ইদমাহামৃতং বচঃ—কী বললেন? না, বললেন—আমি ভগবানের কাছে পরম গতি চাই না, অষ্ট সিদ্ধিও চাই না-পুনর্জন্মও চাই না—আমি চাই আমি যেন সমস্ত জীবের মধ্যে প্রবেশ করে তাদের দুঃখকে পাই, যাতে তাদের দুঃখ না থাকে—আর এক জায়গায় ভাগবতকার বলছেন–

    “ন ত্বহং কাময়ে রাজ্যং ন স্বর্গং ন চ পুনর্ভবম
    কাময়ে দুঃখপ্তানাং প্রাণিনামার্তিনাশনং”—

    —আহা, বাবাকে দেখেছি বাড়ির বিগ্রহের সামনে বসে ঘণ্টার পর ঘণ্টা ধ্যান করছেন “ত্বমেকং জগকারণং বিশ্বরূপং”। বাবা ছিলেন আমার বড়ই গরীব–যজন-যাজন নিয়েই থাকতেন। মনে আছে আমি ছোটবেলায় হুঁকো কল্কে নিয়ে খেলা করতে ভালোবাসতুম, দিনের মধ্যে অন্তত দশ-বারোটা কল্কে ভাঙতুম। মনে আছে বাবা সেই উঠোনের ধারে বসে বসে.. তোমার শুনতে ভালো লাগছে তো ভূতনাথবাবু? খারাপ লাগলে বলবে।

    বহুবার শোনা গল্প। অনেকবার বলেছেন। তবু ভূতনাথ বললে—না খুব ভালো লাগছে, আপনি বলুন।

    সুবিনয়বাবু দাড়িতে হাত বুলাতে বুলোতে আবার আরম্ভ করলেন—তখন এক পয়সায় আটটা কল্কে—সে পয়সাও খরচ করবার মতো সামর্থ্য ছিল না তার—কোথায় গেল সে-সব লোক। সেই অবস্থার মধ্যেই একদিন ঈশ্বরের কৃপা পেলেন বাবা, ধ্যানে পেলেন ‘মোহিনী-সিঁদুরের মন্ত্র–তাই থেকে চালা ভেঙে পাকা দালান উঠলো, দোতলা কোঠা হলো, মা’র গায়ে গয়না উঠলো। আর আমি এলাম কলকাতায় পড়তে, সেই পড়াই আমার কাল হলো ভূতনাথবাবু, আমি চিরদিনের মতো বাবাকে হারালুম। গল্প। বলতে বলতে চোখ ছল ছল করে ওঠে সুবিনয়বাবুর।

    -জানো ভূতনাথবাবু যেবার সেই ডায়মণ্ডহারবারে ঝড় হয়, সেই সময় আমার জন্ম, সে এক ভীষণ ঝড়, বোধহয় ১৮৩৩ সাল সেটা, কলকাতায় সেই প্রথম ওলাউঠো হলো, জন্মেছি ঝড়ের লগ্নে, সারাজীবনটা কেবল ঝড়ের মতনই বয়ে গেল, বাবাকে যা কষ্ট দিয়েছি, বাবা প্রতিজ্ঞা করলেন আমার মুখদর্শন করবেন না—সত্যিই আর করলেনও না। আমি একমাত্র সন্তান, আমার অসুখের সময় বাবা কবিরাজ ডেকে আনলেন, কিন্তু ঘরে ঢুকলেন না, পাছে আমার মুখদর্শন করতে হয়। সেই বাবা আমার প্রেতলোকে এক গণ্ডুষ জলও পেলেন না তাঁর একমাত্র বংশধরের হাতে। তাই সেই পাপেই বোধহয় আমি আজ নির্বংশ—বলে খানিকক্ষণ একদৃষ্টে তাকিয়ে রইলেন ভূতনাথের দিকে।

    –কিন্তু কী করবো বলো ভূতনাথবাবু মন বলে অন্য কথা। হৃদয়ের কথা মন শোনে না। বলে–ভুল, ভুল-সব তোমার ভুল ধারণা। তথাগত প্রচার করলেন–জন্মেই বন্ধন, জন্মরহিত হতে পারলেই মুক্তি। তাই তো ভাবি—দ্বৈতের জগতে স্বর্গরাজ্য আসতে পারে না, নিত্য বৃন্দাবনের পরমানন্দ ব্রহ্মের রসোল্লাস যেখানে একত্বের মধ্যে সকল বহুত্বের চির-অবসান তা-ই কাম্য হওয়া উচিত—আমার জীবনের শেষ-দিনটা পর্যন্ত এর মীমাংসা বুঝি আর করতে পারবো না—মন বলে–ঠিক করেছে, হৃদয় বলে-না। অথচ দেখো ভূতনাথবাবু ‘মোহিনী-সিঁদুরের ব্যবসাও ত্যাগ করতে পারলাম না-ও ভড়ংটাও রাখতে বাধ্য হয়েছি।

    সে কি! ভূতনাথ যেন নিজের কানকে বিশ্বাস করতে পারলে। সব তবে ভড়ং। কিছু তবে সত্যি নেই এর পেছনে। খানিকটা দৈবশক্তি বা মন্ত্রশক্তি! ভূতনাথের মনে হলো কিছুটা দৈবশক্তি আছে জানতে পারলে যেন সে তৃপ্তি পায়। অন্তত একবারের জন্যেও সে বৌঠানের কাছে গিয়ে তা হলে এর গুণের কথা বলতে পারে।

    সকাল থেকে যে-প্রশ্নটা বারবার মনের মধ্যে উঁকি দিচ্ছিলো, এই সুযোগে ভূতনাথ সেই প্রশ্নটাই করলে। বললে—আচ্ছা, আপনাকে একটা কথা জিজ্ঞেস করি, ‘মোহিনী-সিঁদুরে’ কিছু কাজ হয়?

    কিন্তু প্রশ্নটা করবার আগেই বাধা পড়লো। হঠাৎ পাশ থেকে বই পড়তে পড়তে জবার মা হাউ হাউ করে কেঁদে উঠলেন।

    সুবিনয়বাবু সচকিত হয়ে উঠেছেন। কি হলো রাণু—কী হলো রাণু?

    সুবিনয়বাবু যেন ভুলে গিয়েছেন ভূতনাথ এখানে বসে আছে। সুবিনয়বাবু হঠাৎ চেয়ার থেকে উঠে গিয়ে স্ত্রীর মাথাটা দুই হাতে ধরলেন। জবার মা’র হাত থেকে বইটা পড়ে গেল। আঁচলটা খসে গেল বুক থেকে। ছোট মেয়ের মতো হাউ হাউ করে কাঁদতে লাগলেন তিনি।

    —কী হলো রাণু, কী হলো? বৃদ্ধ অথর্ব শরীর নিয়ে বিব্রত হয়ে পড়লেন। উঠে স্ত্রীর মাথাটি ধরে রুমাল দিয়ে চোখ মুছিয়ে দিতে লাগলেন।

    —কী হলো রাণু, বলল আমাকে? বলো—

    কাঁদতে কাঁদতে জবার মা বললেন—আমার খিদে পেয়েছে।

    —খিদে পেয়েছে, বেশ তো, কান্না কেন, খাও, খাবার আনছি আমি।

    —কিন্তু এই মাত্র খেলাম যে—আরো প্রবল বেগে কাঁদতে লাগলেন জবার মা।

    —তাতে কী হয়েছে রাণু, আবার খাও।

    ভূতনাথ এই পরিস্থিতিতে কেমন বিব্রত বোধ করতে লাগলো। বললে—আমি এখন আসি তাহলে।

    সুবিনয়বাবু মুখ ফেরালেন। তুমি যাবে?…তা হঠাৎ এই রকম হয় জবার মা’র, এই-ই অসুখ কি না, কিছুতেই সারলো না আর, আমার খোকার মৃত্যুর পর থেকেই এই রকম হচ্ছে। তোমারও খেতে দেরি হয়ে গেল ভূতনাথবাবু-তুমি যেন রাগ করো না জবার ওপর।

    আর বাক্য ব্যয় না করে সোজা নিজের চেয়ারে এসে বসলো ভূতনাথ।

     

    খানিক পরেই রতন খেতে ডাকতে এল।

    খাবার সময় প্রথমে বিশেষ কথা হলো না। সারাক্ষণ জবা পাশে দাঁড়িয়ে ছিল।

    একবার জবা বললে—ভাত নষ্ট করবেন না। ওগুলো সব খেতে হবে কিন্তু আপনাকে।

    ভূতনাথ মুখ তুলে চাইলো। বললেপাড়াগাঁয়ের ছেলেরা ভাত একটু বেশিই খায়—কিন্তু তা বলে এত বেশি? চাল একটু কম নিতে বললেই পারতে।

    —শেষে পেট না ভরলে, তখন?

    জবার মুখ যেন গম্ভীর-গম্ভীর। বেশি কথার আবহাওয়া নেই তার। আবার অনেকক্ষণ চুপ চাপ। এ যেন কেমন বি ব্যাপার। এখানেই রোজ খেতে হবে—অথচ নিজের হাতে সব রান্নার ব্যবস্থা। যতদিন ঠাকুর না আসে, ততদিন! এ-ছাড়া গতিও নেই।

    খানিক পরে ভূতনাথ আবার কথা কইলো। বললে–তোমার বাবা রবিবার দিন আমাকে আসতে বললেন, কিন্তু সন্ধ্যেয় না সকালে—কিছু বললেন না তো?

    -সেটা বাবাকেই জিজ্ঞেস করবেন।

    —কিন্তু তোমারই যখন বিয়ে, তখন তুমিও তো কিছু জানোনা আর হাতের কাছে তুমি থাকতে আবার…

    -বিয়েটা আমার বলেই তো, আমার মুখে ও-কথা শোভা পায় না।

    —বিয়ে জিনিষটা কি লজ্জার? সময় হলে একদিন সবারই বিয়ে হবে।

    –হবে নাকি? আমার কিন্তু সন্দেহ আছে।

    ভূতনাথ বললে—পাড়াগাঁয়ের ছেলে, ভাত বেশি খাই বলে কথাও বেশি বলতে পারবে এমন কথা নেই, কিন্তু এটা জানি যে সব মেয়েই আর তোমার মতো নয় জবা।

    -ক’টা মেয়ের সঙ্গে পরিচয় আছে আপনার?

    ভূতনাথের মনে হলো—সকলের নাম করে দেয় সে। হরিদাসী, রাধা, আন্না, তাদের ব্যবহারও তো সে দেখেছে। আর কাল রাত্রের বৌঠান। বৌঠানের কথা মনে হতেই যেন সমস্ত মন প্রশান্ত হয়ে এল তার। এক মুহূর্তে যেন এই আপিস-বাড়ি ছেড়ে সে সোজা বড়বাড়ির তেতলায় শেষ ঘরখানায় গিয়ে পৌঁছেছে। হঠাৎ প্রসঙ্গ বদলে ভূতনাথ এক নিমেষে এক অদ্ভুত প্রশ্ন করে। বসলো—আচ্ছা, একটা কথা জিজ্ঞেস করি তোমাকে, তোমাদের ‘মোহিনী-সিঁদুরে’ কাজ হয়?

    জবা যেন প্রথমটায় থতমত খেয়ে গেল। তারপর নিজেকে সামলে নিয়ে বললে—এটাও কি বাবাকে জিজ্ঞেস করলে ভালো হয় না?

    মানছি ভালো হয়, কিন্তু তোমাকেই না হয় জিজ্ঞেস করলাম, তুমি কিছু জানো?

    —পাঁজির বিজ্ঞাপনে তো সব লেখা আছে।

    -সে তো সবাই জানে, তুমিও জানো আমিও জানি—আরো হাজার হাজার লোক জানে।

    —আমিও তার বেশি কিছু জানি না, আমার নিজের কখনও ও সিঁদুর ব্যবহার করবার দরকার হয়নি-জবা হাসলো এবার। তারপর হাসি থামিয়ে প্রশ্ন করলো—আপনার বুঝি দরকার হয়েছে?

    ভূতনাথ খাওয়া থামিয়ে বললে–হ্যাঁ।

    জবা শাড়ির আঁচলটা নিজের শরীরে বিন্যস্ত করে বললেপ্রয়োগটা কি আমার ওপরে করবেন নাকি? তা হলে কিন্তু ঠকবেন বলে রাখছি!

    ভূতনাথ বললে-ঠাট্টা নয়, আমার বিশেষ দরকার, আজকেই জানা দরকার—তা হলে আজই কিনে নিয়ে যাই এক কৌটো। আমায় পাঁচটা টাকা দিয়েছেন কিনতে।

    -কে?

    —সে আমার এক বৌঠান।

    –কী হলো আবার তার?

    —সে কি তুমি বুঝবে? বৌঠান বলে–বিয়ে হবার আগে ওসব মেয়েরা বুঝবে না, তা ছাড়া বলতেও বারণ আছে। মেয়েমানুষের অতবড় লজ্জা, অতবড় অপমান নাকি আর নেই।

    —বৌঠানটি আপনার কে শুনি?

    –বলেছি তো বলতে বারণ আছে।

    জবা বললে—ডাক্তারের কাছে লজ্জা করা বিপজ্জনক, রোগ সারাতে গেলে সমস্ত প্রকাশ করে বলতে হবে।

    ভূতনাথ কী যেন একবার ভাবলে। তারপর বললে–কিন্তু বৌঠানকে যে আমি কথা দিয়েছি—কথা দিয়েছি, ব্ৰজরাখালকে বলবো না, বৌঠানের চাকর বংশীকেও বলবো না, কাউকেই না, এমনকি, তোমাকেও না।

    –আমাকে তিনি চেনেন নাকি?

    –আমি বলেছি তোমার কথা। জবা এবার হেসে বসে পড়লো সামনে। বললে—আমার সম্বন্ধে কী বলেছেন শুনি? খুব নিন্দে করেছেন নিশ্চয়।

    —নিন্দে তোমার শত্রুতেও করবে না জবা—আর আমি তো তোমার শত্রুও নই—আর তাছাড়া তুমি আমার কে বলে না যে, খামকা তোমার আমি নিন্দে করতে যাবো।

    —আপনার সঙ্গে তো আমার মনিব-ভৃত্যের সম্পর্ক, কী বলেন —আর কিছু নয়।

    —আমিও তাই-ই বলেছি। কথাটা বলে ভূতনাথ আবার নিচু মুখে খাওয়ায় মনোযোগ দিলে। জবাও খানিক চুপ করে রইল। তারপর বললে—আপনি দেখছি শুধু অকৃতজ্ঞই নন, আপনি মিথ্যেবাদী।

    ভূতনাথ খেতে খেতেই জবাব দিলে—আমি তাও বলেছি।

    –তার মানে?

    ভূতনাথ এ কথার কোনো জবাব দিলে না! যেমন খাচ্ছিলো তেমনি খেতে লাগলো।

    —চুপ করে রইলেন যে-জবাব দিন!

    ভূতনাথ এবার মুখ তুললে। দেখলে জবার মুখ লাল হয়ে উঠেছে। বললে—আমরা পাড়াগাঁয়ের ছেলে একটু বেশি ভাত খাই, গুছিয়ে বলতে পারিনে বটে কিন্তু মান-অপমান জ্ঞান আমাদেরও আছে।

    জবা বললে—শুধু আছে নয়, বেশি মাত্রায়ই আছে, নইলে মেয়েমানুষ বলে অপমান করতে সেদিন আপনার মুখে বাধতো।

    ভূতনাথ এক মুহূর্তে বুঝে নিলে আবহাওয়াটা। তারপর বললে—সেদিন আমি অন্যায় করেছিলাম স্বীকার করি—কিন্তু ক্ষমা চাইতে ফিরে আসার পর তুমিই বা কোন্ আমার মর্যাদা রেখে কথা বলেছিলে? তারপর একটু থেমে আবার বললে-তোমাকেও তো দেখছি, আর বৌঠানকেও দেখলাম, অথচ

    —অথচ কী বলুন?

    ভূতনাথ হাসলো। বললে—না থাক, তুমি রাগ করবে।

    -রাগ যদি করিই তো ভাত আপনাকে কম খেতে দেবো না তা বলে।

    ভূতনাথ বললে—না, সে কথা হচ্ছে না, তোমাকে রাগালে আমার লোকশানই তো মোল আনা, তা জানি আমি, তোমার বাবা বলছিলেন, এ-সংসারের মালিক তো একদিন তুমিই হবে, তখন? তখন আমার সাত টাকার চাকরিতে টান পড়তে পারে কিম্বা সাত টাকা থেকে সতেরো টাকা হবার আশাতেও জলাঞ্জলি পড়বে হয় তো।

    —দেখছি নামে আর চেহারাতেই শুধু ভূতনাথ—কিন্তু কথাগুলোর বেলায় কলকাতার ছোঁয়া লেগেছে এরি মধ্যে।

    খাওয়ার পর হাত ধুতে ধুতে ভূতনাথ হাসতে হাসতে বললে—তুমি নিজের মুখে আসতে না বললে রোববার কিন্তু আমি আসবো না জবা।

    জবাও হাসলো। বললে—আপনার আশা তো বড় কম নয় ভূতনাথবাবু!

    ভূতনাথ জবার মুখের দিকে চেয়ে মনের কথাটা একবার ধরবার চেষ্টা করলো, কিন্তু জবা ততক্ষণে নিজের কাজে স্থানত্যাগ করে চলে গিয়েছে।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40 41 42 43 44 45 46 47 48 49 50
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleবেগম মেরী বিশ্বাস – বিমল মিত্র
    Next Article রচনা সংগ্রহ – অক্ষয়কুমার মৈত্রেয় (নন-ফিকশন)

    Related Articles

    বিমল মিত্র

    বেগম মেরী বিশ্বাস – বিমল মিত্র

    May 29, 2025
    বিমল মিত্র

    আসামী হাজির – বিমল মিত্র

    May 29, 2025
    বিমল মিত্র

    কড়ি দিয়ে কিনলাম ১ – বিমল মিত্র

    May 28, 2025
    বিমল মিত্র

    কড়ি দিয়ে কিনলাম ২ – বিমল মিত্র

    May 28, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Our Picks

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }