Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    সাহেব বিবি গোলাম – বিমল মিত্র

    বিমল মিত্র এক পাতা গল্প740 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    ১৭. তখন বিংশ শতাব্দীর শুরু

    তখন বিংশ শতাব্দীর শুরু। লর্ড কার্জনেব রাজত্ব। আজও সাইকেল-এ যেতে যেতে স্পষ্ট মনে পড়ে সব। সেদিনকার আঘাতে সে যে মরেনি এই-ই তো আশ্চর্য! গোলদীঘির ধারেই বুঝি কোন্ একটা বাড়িতে কারা তুলে নিয়ে গিয়েছিল তাকে।

    প্রথম যখন চোখ মেললে, দেখলে—একটা পাকা ঘর। পুরোনো ময়লা দেয়াল। চারিদিকে লাল কালিতে লেখা-“বন্দেমাতরম্। কয়েকজনের গলা শোনা যাচ্ছে। জানালা খোলা ছিল। দেখা যায়—সামনে কুস্তির আখড়া। বাইরে বিকেল হয়ে এসেছে। সমস্ত শরীরে ব্যথা! একটু ওঠবার চেষ্টা করতেই কে একজন এসে ধরলে। কামিজ পরা, অল্প অল্প দাড়ি গোঁফ উঠেছে। চেহারাটা যেন চেনা চেনা মনে হলো।

    মাথাটা ধরে বললে—এখন উঠতে চেষ্টা কোরো না ভাই। তারপর কাকে যেন ডেকে বললে—শিবনাথ আর একটু দুধ আনো তো।

    শিবনাথ দুধ এনে দিতে লোকটি বললে—এটুকু খেয়ে নাও দিকি।

    দুধ খেয়ে আবার যেন একটু তন্দ্রা এসেছিল খানিকক্ষণ। আবার যখন তন্দ্রা ভাঙলে কানে এল কাদের কথাবার্তা। বেশ অন্ধকার হয়েছে চারিদিকে। একটা হারিকেন জ্বলছে টিম টিম করে। ভূতনাথ মনে মনে ভাবছিল এ কোথায় এল সে। যারা একটু আগে এসে তাকে দুধ খাইয়ে গিয়েছে, তারা বোধ হয় বাইরেই রয়েছে।

    কে একজন বলছে—কদমদা’, এবার ওদের একটা শিক্ষা দিতেই হবে। কালকে গড়ের মাঠেও একজন গোরা বুটের লাথি মেরে

    একজনকে একেবারে অজ্ঞান করে দিয়েছে।

    —গোরাতে একে মেরেছে জানলি কী করে?

    –গোরাতে না মারলে কি ভূতে মারতে এল?

    -গুণ্ডাও তো হতে পারে? নিজের চোখে তো দেখিসনি তুই? কলকাতার রাস্তায় গুণ্ডাও তো কম নেই আর তা ছাড়া একটা গোরাকে মেরেও তো লাভ হবে না কিছুক’টা গোরাকে সামলাবি? শেষকালে কেল্লা থেকে যখন হাজার হাজার গোরা বেরিয়ে মারতে শুরু করবে তখন বাঙালীরা পালাবে কোথায়? সাহস তো খুব বোঝা গিয়েছে। একটা কুস্তির আখড়াতেই মেম্বর যোগাড় করা যায় না।

    —কিন্তু কদমদা’ ভারতবর্ষ জয় করতে ক’টা ইংরেজ এসেছিল?

    খানিকক্ষণ কোনো কথা শোনা গেল না। তারপর কে যেন বলতে লাগলো—তোরা ভুল করছিস শিবনাথ, আমাদের যুবক সঙ্ঘের’ উদ্দেশ্যই যে তা নয়—স্বামিজী বলেছেন—“The world is in need of those whose life is one burning love-selfless. That love will make every word tell like a thunder-bolt. Awake, awake great souls! The world is burning in misery, can you sleep?” রাজনীতি দিয়েও দেশের উপকার হবে না, ধর্মের জয়ঢাক পিটিয়েও কিছু হবে না, অর্থনীতি দিয়েও অভাব মিটবে না আমাদের, আমরা যুবক সজের সভ্যরা একটা জিনিষ চাই, সে এই যে, দেশের ওপর মাতৃভূমির ওপর প্রেম—জ্বলন্ত প্রেম। সে প্রেম তোর আত্মা, তোর বিত্ত, তোর সন্তানের চেয়েও বড়। যে সেই জ্বলন্ত প্রেম নিয়ে গরীব বড়লোক, হিন্দু মুসলমান, জৈন খৃস্টান সকলকে সমান চোখে দেখতে পারবে, সেই শুধু পারবে। তবেই সমস্ত ভারতবর্ষ এক হবে। তোরা ভুল বুঝিসনে আমাকে, সিস্টার নিবেদিতাও সেদিন সেই কথাই বললেন—বড়দা’রও সেই মত।

    হঠাৎ অনেকগুলো গলার আওয়াজ এক সঙ্গে উঠলো—ওই যে বড়দা এসে গিয়েছেন।

    বড়দা এসেই জিজ্ঞেস করলে—কীসের কথা হচ্ছে?

    শিবনাথ বললে-সেদিন আর একজনকে এক গোরা মেরে অজ্ঞান করে দিয়েছে।

    –কই? কোথায়?

    –ওই যে ঘরের ভেতর রয়েছে।

    ঘরে আসতেই চেহারা দেখে চমকে উঠলো ভূতনাথ।

    ব্ৰজরাখালও কম বিস্মিত হয়নি। বললে—এ কী, বড়কুটুম?

    ভূতনাথের চোখ ফেটে জল বেরিয়ে এল। কিন্তু মুখে কিছু বলবার ক্ষমতা নেই।

    ব্ৰজরাখাল মাথায় হাত বুলোতে বুলোত বললে কাঁদছো কেন বড়কুটুম, কোনো ভয় নেই তোমার, আমাদেরই ‘যুবক সঙ্ঘে’ রয়েছে, এখানে কোনো অসুবিধে হবে না তোমার, কদম রয়েছে শিবনাথ রয়েছে, বরং বড়বাড়িতে থাকলে দেখাশোনা করতে কে? তারপর শিবনাথের দিকে চেয়ে বললে—আরে এ যে আমার বড়কুটুম হয়—কোথায় পেলি একে!

    যাবার সময় ব্ৰজরাখাল বলে গেল—আসবো আবার আমি, এখন কিছুদিন বড় ব্যস্ত আছি।

     

    সে কতকাল আগের কথা! গোলদীঘির ধারের সেই যুবক সঙ্ঘের’ ঘরটাতে ভূতনাথ তারপরেও কতদিন গিয়েছে। জীবনের এক সন্ধিক্ষণে নিতান্ত অসহায়ের মতন যে কয়েকদিন সে শুয়ে পড়েছিল ওখানে, ভারতবর্ষের স্বাধীনতার ইতিহাসের সঙ্গে তার স্মৃতি যেন জড়িয়ে আছে। শুয়ে শুয়েই সব দেখতে সব শুনতে সে। ছেলেরা কুস্তি করতে, মুগুর ভাজতে লাঠি খেলতে আর গান করতে। কয়েকটা গান এখনও মনে আছে—

    “মা গো যায় যেন জীবন চলে
    বন্দে মাতরম বলে–
    বেত মেরে কি মা ভোলাবে
    আমি কি মা’র সেই ছেলে!
    দেখে রক্তারক্তি বাড়বে শক্তি
    কে পালাবে মা ফেলে–”

    আর একটা গান–

    “শক্তিমন্ত্রে দীক্ষিত মোরা
    অভয়া চরণে নম্র শির।
    ডরি না রক্ত ঝরিতে ঝরাতে
    দৃপ্ত আমরা ভক্তবীর–”

    নিবারণের কথাও মনে পড়লো। ছেলেটা মাথার কাছে বসে ছিল। সন্ধ্যে হয়ে এসেছে। সামনের আখড় ফাকা। কারো গলার শব্দ আসছে না। হঠাৎ মাথার কাছে একটা শব্দ হতেই ভূতনাথ চোখ তুলে দেখলে কে যেন বসে আছে তার দিকে চেয়ে।

    নিবারণ বলেছিল নিচু হয়ে কিছু কষ্ট হচ্ছে আপনার?

    ভূতনাথ শুধু ফ্যাল ফ্যাল করে চেয়ে দেখেছিল নিবারণের মুখের দিকে। কিছু কথা বলেনি।

    নিবারণ শেষে নিজেই বলেছিল—একটু জল খাবেন?

    জল খেয়েও ভূতনাথ তেমনি তাকিয়ে আছে দেখে নিবারণ বলেছিল—কিছু বলবেন আমাকে?

    ভূতনাথ বলেছিল—তুমি কে?

    নিবারণ বলেছিল—আমি নিবারণ, আমায় চিনতে পারবেন না—আমি ‘আত্মোন্নতি সমিতি’ থেকে নতুন এসেছি—আপনার কাছে রাত্রে থাকবে।

    ভূতনাথ বললে–’আত্মোন্নতি সমিতি’ কোথায়?

    –আগে খেলা ইনস্টিটিউশনে বসতে—এখন যুবক সঙ্ঘের সঙ্গে মিশে গিয়েছে, যেদিন ওয়েলিংটন স্কোয়ারের ফিরিঙ্গীদের সঙ্গে মারামারি হয়, সেদিন থেকেই ঠিক হয়েছে দুটো সমিতি এক হয়ে যাবে। ফিরিঙ্গীগুলো বড় অত্যাচার আরম্ভ করেছে কিনা, যাকে তাকে রাস্তায় মারধোর করছে। আমরাও ঠিক করেছি ফিরিঙ্গী ছোকরা দেখলেই মারব, কিন্তু কদমদা’ বলে, ওতে কাজ হবে না, তাই নিয়েই তো আজকে মিটিং ছিল আমাদের।

    –মিটিং-এ কী ঠিক হলো।

    —ঠিক হলো না কিছুই, বড়দা’ হাজির ছিলেন না।

    —বড়দা’ কে?

    –ব্ৰজরাখালবাবু, উনিই আমাদের প্রেসিডেন্ট কিনা।

    ব্ৰজরাখাল! নামটা শুনেই ভূতনাথ যেন আশ্চর্য হয়ে গেল। একথা তো ব্রজরাখাল কখনও বলেনি।

    নিবারণ কিন্তু তখন নিজের মনেই বলে চলেছে—কিন্তু কদমদা’ যাই বলুন, আমরা ঠিক করেছি আমরাও আমাদের নিজেদের পথে চলবে। বৃটিশ রাজত্ব যতদিন থাকবে, ততদিন মনুষ্যত্ব বজায় রেখে বেঁচে থাকা কঠিন।

    আজো মনে পড়ে সেদিনকার নিবারণের সেই কথাগুলো। কী জ্বলন্ত আগুনের ফুল্কির মতো সব ছেলে। কথাগুলো যেন আজো কানে বাজছে। সেই ২২শে জুন তারিখের ঘটনা যেন তার কণ্ঠস্থ। মহারাণী ভিক্টোরিয়ার ডায়মণ্ড জুবিলী উৎসবের পর পুণার গণেশখণ্ডের লাটসাহেবের বাড়ি থেকে বেরিয়ে আসছিল প্লেগ কমিশনার র্যা সাহেব। দুর্দান্ত বদমাইশ সাহেব। সামনে গিয়ে মুখখামুখি দাঁড়িয়ে খুন করলে দুই ভাই দামোদর চাপেকার আর বালকৃষ্ণ চাপেকার। শিবাজী মহারাজার বংশধর। বাঙলার বিপ্লব আন্দোলনের সেই তো আরম্ভ। আর সেই চাপেকার সঙ্ঘের সদস্যরাই তো ভারতবর্ষের স্বাধীনতা আন্দোলনের গুরু। সে বুঝি ১৮৯৯ সাল। একদিন শেষ রাত্রে দুই ভাই-এর ফাসি হয়ে গেল নিঃশব্দে। কিন্তু যে-বিশ্বাসঘাতকরা চাপেকার ভাইদের ধরিয়ে দিলে, তারাও তো প্রাণ নিয়ে পালাতে পারলো না। শেষ পর্যন্ত।

    নিবারণ হঠাৎ থেমে বললে—কিন্তু বাঙালীরাই বা পেছিয়ে থাকবে কেন। তাই চাপেকার সঙ্ঘ থেকে লোক কলকাতাতেও আসছে—আমি চিঠি দেখেছি। একটা ব্যাণ্ডকে খুন করলে তোল কিছু কাজ হবে না, হাজার হাজার লক্ষ লক্ষ র্যাণ্ড ছড়িয়ে রয়েছে যে ভারতবর্ষে, নীলকর সাহেবরা গিয়েছে কিন্তু চা-বাগানের সাহেবরা?

    ভূতনাথ জিজ্ঞেস করলে—কারা আসছে কলকাতায় বললে?

    —তিনজন বাঙালী, যতীন বাঁড়ুজ্জে, বারীন ঘোষ আর তার দাদা অরবিন্দ ঘোষ। আর এখানে আমাদের ব্যারিস্টার সাহেব পি. মিত্তির রয়েছেন। একটা সমিতি করার কথা হয়েছে, নাম হবে ‘অনুশীলন সমিতি’। মানিকতলা স্ত্রীটের মানিক দত্তের বাড়িতে ওদের আড্ডা বসছে। তারপর একটু থেমে নিবারণ আবার বললে

    -আপনি ওখানে যাবেন একদিন?

    —আমাকে যেতে দেবে কেন?

    -খুব যেতে দেবে। নিবারণ বললে–আপনি ব্ৰজরাখালবাবুর শালা, কেউ আটকাবে না, আর সবাই মিলে না লাগলে কিছু হবেও না, এই সেদিন বুয়র যুদ্ধ হয়ে গেল, আবার রাশিয়ার সঙ্গে জাপানের যুদ্ধ বাধছে। দেখবেন শাদা চামড়ারা এবার হারবেই হারবে। আপনি ম্যাটসিনি গ্যারিবল্ডির লাইফ পড়েছেন? আপনাকে আমি বই দিতে পারি। এইরকম করেই তারাও তো স্বাধীন হয়েছিল। সেদিন সিস্টার নিবেদিতা এসেছিলেন এখানে, তিনিও আশীর্বাদ করে গিয়েছেন আমাদের, বলেছেন—তোমরা স্বামিজীর মতন হও।

    নিবারণের কথা শুনতে শুনতে ভূতনাথের চোখ দুটো বুজে এল। মনে হলো—এ এক আশ্চর্য জগতে এসে পৌচেছে সে। কলকাতার কেন্দ্রে বসে ভারতবর্ষের এক নতুন ইতিহাস তৈরি হচ্ছে। জব চার্নক আর লর্ড ক্লাইভের কলকাতার এ যেন এক বিস্ময়কর রূপান্তর। যে-কলকাতায় ননীলাল থাকে, থাকে ছুটুকবাবু, ছোটবাবু, ছোটবৌঠান আর থাকে সুবিনয়বাবু আর জবা—এ যেন সে-কলকাতা নয়। কলকাতায় এসে ভূতনাথও তো নিজের চোখে কত কি দেখেছে।

    সেদিনের সেই ঘটনাটা মনে পড়লো। বৌবাজার থেকে বনমালী সরকার লেন-এ ঢুকতে সেই যে বটগাছটার তলায় সান বাঁধানো বেদীটার ওপর নরহরি মহাপাত্রের বিগ্রহগুলোলক্ষ্মী, সরস্বতী, গণেশ, দুর্গা, মনসা, শিব, কালী, ছোট পুতুলের মাপের অসংখ্য ঠাকুর সব! প্রথম যেদিন কলকাতায় এসে পৌঁছোয় ভূতনাথ, নরহরি তাকে ওইখানে প্রণাম করিয়ে পয়সা নিয়েছিল। মন্তর পড়িয়েছিল। তারপর ‘মোহিনী-সিঁদুর আপিসে যাতায়াতের পথে কতবার কত পয়সা আদায় করেছে। মিথ্যে হোক, বুজরুকি হোক, তবু ঠাকুর দেবতা তো! যে অদৃশ্য শক্তি এই বিশ্ব চরাচরের নিয়ামক, তাকে অগ্রাহ্য করবার শক্তি তো ভূতনাথের নেই। ভূতনাথের নিজেরই জন্ম তত পঞ্চাননতলায় মানতের ফলে। হোক ওটা নরহরি মহাপাত্রের ব্যবসা বা দোকান, তবু ঈশ্বরের নাম করে যখন চাইছে, তাতে কী-ই বা এমন ক্ষতি। তাই আসা-যাওয়ার পথে প্রণাম করতে কখনও ভোলেনি ভূতনাথ।

    কিন্তু সেদিন দুপুরে কী অভাবনীয় কাণ্ড!

    গোটা কতক গোরা সৈন্যই বুঝি! বনমালী সরকার লেন দিয়ে হেঁটে যাচ্ছিলো শিষ দিতে দিতে। সামনে যথারীতি নরহরি মহাপাত্র সবে গঙ্গাস্নান সেরে মাথার শিখাতে একটা গাঁদাফুল ঝুলিয়ে পথচারীদের দিকে হাঁ করে চেয়ে আছে! এমন রোজই থাকে সে। নতুন কিছু নয়। কিন্তু ওই দৃশ্য দেখে গোরা সৈন্য দুটোর কী মতলব হলো মনে কে জানে? একজন হাতের ছড়িটা দিয়ে মারলে নরহরির মাথার গাঁদা ফুলটাকে। উদ্দেশ্য হয় তো রসিকতাই, কিন্তু ভয় পেয়ে নরহরি চিৎকার করে উঠলো। সে-চিৎকারে ফল ফললে উল্টো। পাশ থেকে একজন গোরা সৈন্য বট দিয়ে মারলে নরহরির মুখে। কিন্তু মুখ তা বলে বন্ধ হলো না নরহরির। রাস্তার ধারে এক নিমেষে ছিটকে পড়লো নরহরি আর কাটফাটা চিৎকার করতে লাগলো। শব্দ শুনে এদিক-ওদিক থেকে জনতা কতক বেরিয়েও এল ব্যাপার দেখতে।

    ভূতনাথও শব্দ শুনে বড়বাড়ি থেকে বেরিয়ে দেখতে এসেছে।

    কিন্তু সে কি লোমহর্ষণ ব্যাপার! বুক দুর দুর করে কাঁপছে সকলের। কারো কিছু বলবার সাহস নেই।

    ভারি ভারি বুট দিয়ে দুটো গোরা তখন লাথি মারতে শুরু করছে। এক একটা লাথি মারে আর লক্ষ্মী গণেশ ঠাকুরগুলো দূরে গিয়ে ছিটকে পড়ে। শিব, দুর্গা মনসা, সব মার্বেল গুলির মতো যেদিকে খুশি ছিটকে ফেলছে। শান বাঁধানো বেদীটাও বুঝি ভেঙে-চুরে গেল বুটের ঠোকর লেগে। আর একপাশে পড়ে নরহরি মহাপাত্র চিৎকার করে পাড়া মাত করছে।

    শেষকালে যেন ক্ষেপে উঠলো গোরা দুটো। যাকে সামনে পায়, তাকেই মারতে যায়। বড়বাড়ির গেটে ব্রিজ সিং দাঁড়িয়েছিল। বুকে গুলীর বেল্ট। হাতে সঙ্গীন লাগানো বন্দুক। লোহার গেট বন্ধ করে দিলে। যে-যেখানে পারলে লুকোলে গিয়ে। সব বাড়ির দরজা জানালা খড়খড়ি খটাখট বন্ধ হয়ে গেল।

    এমন সময় বড়বাড়ির মেজকা হিরণ্যমণি চৌধুরী বেরুচ্ছিলেন।

    কোচোয়ানের বসবার জায়গায় আমিরী ভঙ্গিতে ইব্রাহিম লাগাম ধরে জুড়ি চালাচ্ছে। শঙ্কর মাছের চাবুকটা খাপের ওপর খাড়া দাঁড়িয়ে আছে। মোম লাগানো মস্ত গোঁফ জোড়া দু’পাশে কাকড়া বিছের মতো চিতোনো। মাথায় বাবরি চুল কাঁধের ওপর গিয়ে ঠেকেছে। মাথার পেছনে কাঠের চিরুনি আঁটা। জরির কাজ করা শাদা প্লেটের ওপর সোনার তক্তি ঝুলছে গলায়। আর ইয়াসিন সহিস পেছনে পাদানির ওপর দাঁড়িয়ে সাবধান করছে সবাইকে। হুঁশিয়ার হো-হুঁশিয়ার হো–-

    ব্রিজ সিং লোহার গেট খুলে দিয়ে ম্যাটেনসনের ভঙ্গীতে দাঁড়ালো। তারপর গাড়ি বেরুবার আগে চিৎকার করে উঠলো— হুঁশিয়ার—হুঁশিয়ার হো—

    সে-চিৎকারে হঠাৎ যেন কিছুক্ষণের জন্যে সবাই চমকে উঠেছে। গোরা দুটো লড়াই থামিয়ে যেন একটু ইতস্তত করতে লাগলো।

    ততক্ষণে গাড়ি সামনে এসে গিয়েছে। ভেতরে ভৈরববাবু বসেছিলেন। চেঁচিয়ে বললে—ইব্রাহিম গাড়ি থামাও-মেজবাবু গাড়ি থামাতে বলছেন—থামাও গাড়ি।

    আগে মেজকর্তা নামলেন। পেছনে ভৈরববাবু। মেজবাবু হাঁকলেন—ইব্রাহিম চাবুকটা দে তো।

    কিন্তু গোরা দুটো তখন রঙ্গমঞ্চ ছেড়ে পোঁ পোঁ ছুটতে শুরু করেছে।

    মেজবাবু নরহরির কাছে গিয়ে এক ধমক দিলেন—উল্লুক, শুয়ার-কা-বাচ্চা, কাঁদছিস কেন? মারতে পারলি না দু’ঘা—আবার পড়ে পড়ে কাঁদছিস। বেল্লিক কাঁহিকা—বলে সপাং সপাং করে চাবুকটা দিয়ে বেদম মারতে লাগলেন নরহরি মহাপাত্রের পিঠে। মড়ার ওপর খাড়ার ঘা! নরহরি কাটা পাঁঠার মতো ছটফট করতে লাগলো রাস্তার ওপর। যারা এতক্ষণ দরজা-জানালা বন্ধ করে মজা দেখছিল, তারা এবার দরজা খুলে নির্ভয়ে সামনে এগিয়ে এসেছে। হঠাৎ নরহরিকে মারা বন্ধ করে তাদের দিকে চাবুকটা নিয়ে এগিয়ে গেলেন মেজকর্তা। বললেন—কি দেখছিস সব

    বেরো এখান থেকে বেরো

    আবার ঝটাপট সব দরজা বন্ধ হয়ে গেল। শান্ত সৌম্য মেজকর্তা হিরণ্যমণি চৌধুরীকে কেউ রাগতে দেখেনি। সেই তিনিও রেগে লাল হয়ে উঠলেন। তারপর ভৈরববাবু আর মেজকর্তা গাড়িতে উঠে বসতেই জুড়ি আবার বনমালী সরকার লেন পার হয়ে গেল।

    পরদিন খাজাঞ্চী বিধু সরকারের ডাক পড়লো। বেলা তিনটে তখন। বিধু সরকার আসতেই বললেন—নরহরি মহাপাত্রকে এক শ’ টাকা দিয়ে বিদায় করে দাও তো বিধু—আর সুখচরের গোমস্তাকে চিঠি লিখে দাও, রাজীবপুরের বিলের ধারের দশ বিদ্বে জমি ওর নামে প্রজাবিলি করে দেয় যেন।

    যে হুকুম সেই কাজ। তারপরে নাথু সিংকে ডেকে বললেন

    নরহরি যেন এ গলির মধ্যে কখনও না ঢোকে আর তাকে যদি কখনও দেখতে পাই তো গুলী করবো, ওকে বলে দিস।

    তারপর থেকে নরহরিকে আর কখনও ভূতনাথ দেখেনি কলকাতায়।

     

    গল্প করতে করতে নিবারণ যেন একবার থামলো। বোধ হয় ঘুম আসছিল ওর। ঘরের আলোটা একটু একটু কাঁপছে। ভূতনাথেরও চোখে যেন কেমন তার ভাব। আর শুধু কি নিবারণ আর ভূতনাথ? সমস্ত ভারতবর্ষই বুঝি ছিল তন্দ্রাচ্ছন্ন। বাদশাহী আফিঙের নেশা। জাগতে চেষ্টা করলেও ভালো করে চোখ মেলা যায় না। এক শ’ বছরে রাজ্য ভাঙা-গড়ার ইতিহাস নেই, রাজবংশের উত্থান-পতনের গুরুগর্জন নেই। বেশ নিশ্চিন্তে নির্ভাবনায় সবাই ঘুমিয়েছে। সেই সর্বনাশা ঘুমের অন্তরালে কখন ধানকল এসেছে চুপিচুপি, এসেছে পাটকল আর গম-পেষা কল, কাপড়ের কল, আরে এসেছে স্টীম ইঞ্জিন, স্টীমার, ছাপাখানা আর টাকাছাপানো কল—কেউ টের পায়নি। তৈমুর লঙ-এর আরবী ঘোড় আর নাদির শা’র তলোয়ার যা পারেনি তাই করেছে এক শ’ বছরের ইংরেজ রাজত্ব। ওপর-নিচে সমস্ত ভেঙে চুরমার করে দিয়েছে। ভেতরে ভেতরে সমাজের ভিত গিয়েছে সে। বুদ্ধ-যিশু-মহম্মদ আর চৈতন্য যা পারেননি তাই পেরেছে বাষ্প আর বাষ্পীয় যান।

    ঘুম ভেঙে গিয়েছে নিবারণের।

    ঘুম ভেঙে গিয়েছে ভূতনাথেরও।

    বাইরে কে যেন জোরে কড়া নাড়ছে। ডাকছে—নিবারণ–নিবারণ-ও নিবারণ–

    নিবারণ ধড়ফড় করে উঠে দরজা খুলে দিলে। বললে-কে, কদমদা’ নাকি?

    -হ্যাঁ, শিগগির চলবেলুড়ে যেতে হবে।

    –কেন? এত রাত্রে?

    —হ্যাঁ, স্বামিজী মারা গিয়েছেন।

    —স্বামিজী? —হ্যাঁ, স্বামী বিবেকানন্দ!

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40 41 42 43 44 45 46 47 48 49 50
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleবেগম মেরী বিশ্বাস – বিমল মিত্র
    Next Article রচনা সংগ্রহ – অক্ষয়কুমার মৈত্রেয় (নন-ফিকশন)

    Related Articles

    বিমল মিত্র

    বেগম মেরী বিশ্বাস – বিমল মিত্র

    May 29, 2025
    বিমল মিত্র

    আসামী হাজির – বিমল মিত্র

    May 29, 2025
    বিমল মিত্র

    কড়ি দিয়ে কিনলাম ১ – বিমল মিত্র

    May 28, 2025
    বিমল মিত্র

    কড়ি দিয়ে কিনলাম ২ – বিমল মিত্র

    May 28, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Our Picks

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }