Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    সাহেব বিবি গোলাম – বিমল মিত্র

    বিমল মিত্র এক পাতা গল্প740 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    ২১. আজ এতদিন পরে ভাবতে যেন কেমন লাগে

    আজ এতদিন পরে ভাবতে যেন কেমন লাগে। সে-মানুষগুলো, সে-দিনগুলো কোথায় গেল। সেই লঘুপক্ষ দিন আর রাত গুলো। উঠে বসে ধীরে সুস্থে চলা, ভাবা আর বাঁচা! দিন যেন আর ফুরোয় না, রাত যেন আর কাটে না। সূর্য উঠতে যেন বড় আস্তে আস্তে! ড়ুবতে যেন বড় দেরি করে। গড়িয়ে গড়িয়ে চলতে সময়ের চাকা! হচ্ছে, হবে। অত তাড়া কিসের। তামাক খাও। আর একটু জিরোও। সমস্ত দিন তো পড়ে রয়েছে। কত কাজ করবে করো না!

    সে অনেকদিন আগের ঘটনা। সেবার হুজুগ উঠলে চৈত্রমাসের অমাবস্যার দিন মহাপ্রলয় হবে! প্রলয় মানে এক ভীষণ কাণ্ড! কলিযুগ শেষ হয়ে যাবে। পাঁজিতে লিখেছে—অমাবস্যা তিথিতে দ্বাদশ ঘটিকা সপ্তম পল ত্রয়োদশ দণ্ড গতে ঘাতচন্দ্র দোষ।

    ভৈরববাবু এসে বললেন—লোচন, দে বাবা, ভালো করে তামাক খাইয়ে দে—আর তো কটা দিন।

    লোচনও কথাটা শুনেছিল। বললে-বলেন কি ভৈরববাবু কলি উল্টে যাবে?

    —উল্টে যাবেই তো, কলির চারপো পূর্ণ হয়েছে যে— উল্টোবে না!

    লোচন বললে—উল্টে গেলে কী হবে?

    ভৈরববাবু বললেন—সত্য যুগ শুরু হবে।

    লোচন বললে—আমরা দেখতে পাবো তো?

    —বেঁচে যদি যাস তো দেখতে পাবি বৈকি—কিন্তু বেঁচে থাকলে, তত—কী হয় আগে দেখ?।

    লোচন সত্যিই চিন্তিত হয়ে পড়লো। বললে—বাঁচবো না ভৈরববাবু—বলেন কি!

    ভৈরববাবু ইকো টানতে টানতে বললেন-বাবুর বাঁচবে কিনা তাই আগে দেখ! বাবুরা বাঁচলে তবে তো চাকর-বাকরেরা। মনে কর, সাততলা বাড়ির মতো উচু জল দাঁড়িয়ে গেল এখানে, কলকেতা শহর হয় তত সমুদ্র হয়ে গেল—তখন কোথায় থাকবি তুই, আর কোথায় থাকবো আমি—মেজবাবু পর্যন্ত ভয় পেয়ে গিয়েছে।

    সমস্ত কলকাতার লোকগুলো ভয় পেয়ে গেল। যেখানে যায়, সেখানেই ওই আলোচনা। রাস্তার ধারে নোয়াকগুলোতে আড়া বসে। জোর আলোচনা চলে।

    নিশা ছুটি নিয়ে দেশে চলে গেল। বলে—যদি বেঁচে থাকি তো আবার ফিরে আসবো শালাবাবু, মরবার আগে জমি-জিরেতের পাওনাগণ্ডা সব বুঝে নেই তোমরে গেলে কে আর দেবে।

    লোচন বলে—পেট ভরে ভাত খেয়ে নে বংশী—এ জন্মে আর খেতে পাবি কি না-পাবি।

    বংশীও বড় ভয় পেয়ে গিয়েছে। বলে—কী হবে শালাবাবু? বোনটার জন্যেই ভাবি, বিয়ে দিয়েছিলুম, আট কুড়ি টাকাও খরচ হয়ে গেল, সোয়ামীও বাঁচলো না ওর। এখানে যাহোক ছোটমা’র পায়ের তলায় বসে দু’মুঠো খেতে পাচ্ছিলুম—কিন্তু এখন এ কী কাণ্ড বলুন তো!

    এক-এক করে দিন যায়। চৈত্র মাসের অমাবস্যা এগিয়ে আসে। একদিন ‘মোহিনী-সিঁদুর’ আপিসে গিয়ে সুবিনয়বাবুর কাছে কথাটা পাড়লে ভূতনাথ। আপনি কিছু শুনেছেন স্যার?

    সব শুনে সুবিনয়বাবু বললেন—শেষ দিনটার জন্য অত ভয় পাও কেন ভূতনাথবাবু, গানেরও তো সম্ আছে, ছন্দেরও তে যতি আছে, কিন্তু নদী যেখানে থামে, নদী যেখানে শেষ হয়, সেখানে একটা সমুদ্র আছে বলেই তো শেষ হয়—তাই শেষ হয়েও তার তো কোনো ক্ষতি নেই—

    I have come from thee-why I know not;
    But thou art, God! What thou art;
    And the round of eternal being is the pulse of
    thy beating heart.

    জানো ভূতনাথবাবু-ফল যখন পাকে, তখন ডাল থেকে ছিঁড়ে পড়াই তার গৌরব, কিন্তু শাখা ত্যাগ করাকে যদি সে দীনতা বলে মনে করে তবে তার মতো কৃপার পাত্র আর কে আছে—কথা বলতে গেলে সুবিনয়বাবুর আর মাত্রাবোধ থাকে না।

    শেষে সেই অমাবস্যা তিথি এল। সমস্ত বাড়িতেই যেন একটা উত্তেজনা। ইব্রাহিম সহিসও আজ অসুখের ভান করে কাজে আসেনি। তোষাখানা, ভিস্তিখানা, খাজাঞ্চিখানা আজ যেন থম থম করছে। রান্নাবাড়ির কাজ সকাল সকাল শেষ হয়ে গিয়েছে। ব্ৰজরাখাল তখন ছিল এখানে। কিন্তু তারও দেখা নেই।

    বিকেল বেলা ভূতনাথ ব্ৰজরাখালকে বলেছিল—আজ সন্ধ্যেবেলা একটু সকাল-সকাল ফিরো ব্ৰজরাখাল।

    ব্ৰজরাখাল বলেছিল—কেন?

    -কী সব শুনছি হবে—পাঁজিতে লিখেছে?

    -তুমিও যেমন বড়কুটুম, পাঁজির কথা বিশ্বাস করো, অত ‘দৈবের ওপর বিশ্বাস করলে কাজ চলে না, ওটা মৃত্যুর চিহ্ন কাপুরুষতা!’

    —কিন্তু পাঁজি কি মিথ্যে লিখেছে? কত জ্ঞানী পণ্ডিত লোকদের লেখা সব।

    ব্রজরাখাল বলেছিল—রেখে দাও পাজিওয়ালাদের জ্ঞান; জ্ঞানের পরেও আছে বিজ্ঞান, ঠাকুর বলতেন—“যে দুধের কথা একেবল কানে শুনেছে, সে অজ্ঞান, যে দুধ দেখেছে সে জ্ঞানী, আর যে দুধ খেয়ে হৃষ্টপুষ্ট হয়েছে, সে হলো বিজ্ঞানী’। যাই বলো বড়কুটুম আমার ও-পাঁজিতে বিশ্বেস নেই-জ্ঞান-বিজ্ঞানের বাইরে ওরা বলে হাসতে হাসতে চলে গিয়েছিল নিজের কাজে।

    ব্ৰজরাখাল বিশ্বাস করেনি, সুবিনয়বাবুও গুরুত্ব দেননি, কিন্তু মেজবাবু সেদিন বাড়ি থেকে বেরোলেন না। সকাল সকাল খানা সেরে নিলেন। নাচঘরেই সেদিন আড্ডা বসলো। ভৈরববাবু এলেন গোঁফে তা দিয়ে। বগলেশ-আঁটা জুতোজোড়া সন্তর্পণে দরজার পাশে রেখে-ফরাসের ওপর গিয়ে বসলেন। মতিবুও এলেন। ছাতাটা একপাশে রেখে কোঁচানো ওড়না আর কোঁচা সামলে বসলেন এগিয়ে। সকলেরই বাকা সিঁথি, বাবরি চুল। আর এলেন বড়মাঠাকরুণ। ভারিক্কি চেহারা। হাতে পানের ডিবে। বারো গাছা করে মোটা বেঁকি চুড়ি দু’হাতে। টাঙ্গাইলের কড়কড়ে দাঁতওয়ালা চওড়া পাড়ের শাড়ি। এসেছে তিনকড়ি। তিনকডির বয়েস কালে চেহারা ভালো ছিলো বোঝ যায়। নাকে হীরের নাকছাবি। গালভর্তি পানদোক্তা। মোটাসোটা মেয়েটি। এককালে হাসিনী আসার আগে ওই ছিল সুয়োরাণী। তারপর আসে হাসিনী। হাসিনী বয়সে কচি। গায়ের গয়না তারই বেশি। বেশি কথা বলে। ছটফটে। চুলবুল।

    মেজবাবু গড়গড়ায় মুখ দিয়েই হুঙ্কার দিলেন—বেণী-বেণী

    বেণী এলে মেজবাবু বললেন—রূপলাল ঠাকুরকে ডেকে নিয়ে আয় তো।

    ভৈরববাবু বললেন—আজ্ঞে পাজি আমি নিজে দেখেছি—রাত বারোটা বেজে সাত পল ত্রয়োদশ দণ্ডে ঘাতচন্দ্রদোষ।

    মেজবাবু বললেন—না, না, রূপলাল আসুক না, যদি মহাপ্রলয় হয়ই তো ঠাকুর মশাই বা কেন বাদ যাবেন—সকলের একযাত্রা হওয়াই তো ভালো।

    মতিবাবু বললেন—আজ্ঞে আমি তো গিন্নীকে বলে এসেছি, আজ সব যেন একঘরে এসে শোয়—কিন্তু ঘুম কি আর কারো আসবে। সবাই জেগে বসে আছে।

    ভৈরববাবু বললেন—কলিযুগ শেষ হয়ে গেল, একরকম বাঁচা গেল স্যার। ছোটলোকদের আস্পর্ধা দিন দিন যেমন বাড়ছিল, সত্যযুগ এলে আবার জিনিষপত্তরের দাম কমবে, জামাকাপড় সস্তা হবে, আট আনা মণ চাল কিনবে-চাই কি দামই লাগবে না।

    মতিবাবু বললেন—সে গুড়ে বালি, এ রামরাজত্ব তো নয়, এবার ইংরেজের রাজত্ব। এখানে অবিচার চলবে না আর।

    মেজবাবু বললেন—সেদিন বেহ্মজ্ঞানী শিবনাথ শাস্ত্রী মশাই-এর সঙ্গে দেখা হয়েছিল জানেন!

    সবাই উন্মুখ হয়ে উঠলো।

    মেজবাবু বললেন—জিজ্ঞেস করলাম—কী বুঝছেন? তিনি বললেন—মানুষের ডাকে যেমন দেবতার আসন টলে, তেমনি মানুষের পাপেও তাঁর আসন টলে।

    —তা মিথ্যে তিনি বলেন নি স্যার, টলবেই তো, এই যে কলিযুগে প্রজারা জমিদারকে মানতে চায় না, ব্রাহ্মণকে ভক্তি করে না, এ-ও পাপ বৈকি স্যার।

    মেজবাবু একটু পরে বললেন—ক’টা বাজলো দেখে তো?

    —এই তো সবে সন্ধ্যে সাতটা বেজে চল্লিশ মেজবাবু বললেন—তাহলে এখন তো অনেক দেরি, তা হলে বলে বড়মাঠাকরুণের দিকে তাকালেন।

    বড়মাঠাকরুণ পান সাজতে সাজতে বললেন—আজকে আর গাইতে বোলো না হাসিনীকে। কাবোর মেজাজ ভালো নেই।

    মেজবাবু বললেন—গান না হয় না হলে, তুমি তবে ওইগুলো বার করো, বরফও তত এসেছে।

    বড়মাঠাকরুণ তাতেও নারাজ। বললেন—তোমার মতিচ্ছন্ন হচ্ছে দিন দিন। আজকে কোথায় বসে বসে জপতপ করবার দিন।

    —তবে সিদ্ধিই হোক, সিদ্ধির সরবৎ, গরমটাও পড়েছে খুব, বেশ করে পেস্তা বাদাম বেটে, একটু ল্যাভেণ্ডার দিয়ে…কী বলে। ভৈরববাবু?

    ইতিমধ্যে রূপলাল ঠাকুর এসে পড়লেন। গায়ে গরদের চাদর। পায়ে খড়ম।

    পাশের ঘরের ফাঁক দিয়ে সবাই দেখেছিল। ভূতনাথ, লোচন, আরো সবাই। আজকে প্রায় সকলের ছুটি। সকাল সকাল রান্নাঘরের পাট শেষ।

    বংশী তাড়াতাড়ি এসে বললে—শালাবাবু, ওদিকে সব্বনাশ হয়েছে-শিগগির আসুন!

    ভূতনাথ জিজ্ঞেস করলে—কী হলো রে বংশী?

    একরকম জোর করেই টানতে টানতে ভূতনাথকে বাইরে নিয়ে এল বংশী।

    বংশী বললে—শিগগির চলুন একবার জানবাজারে—ওসব পরে দেখবেন আজ্ঞেও সমস্ত রাত ধরেই চলবে আজ।

    ভূতনাথ জিজ্ঞেস করলে—কেন?

    —আজ্ঞে, এখুনি খবর এসেছে জানবাজারের বাড়ি থেকে, ছোটবাবর অসুখ—-আমাকে ছোটমা ডেকে বলে দিলেন—তোর শালাবাবুকে নিয়ে যা।

    সেই রাত্রেই বেরোলো ভূতনাথ। সঙ্গে বংশী। রাস্তায় বেরিয়ে বংশী বললে—এমনি করেই প্রাণটা খোয়াবেন ছোটবাবু, ও ছাই-ভস্ম খেয়ে-খেয়ে পেটে একেবারে ঘা হয়ে গিয়েছে, আজ থেকে তো নয়, সেই বিয়ের আগে থেকে—মানুষের শরীর কত সয়, বলুন?

    জানবাজারের অন্ধকার গলিতে ছোটবাবুর ল্যাণ্ডেলেট দাঁড়িয়ে আছে। ঘোড়া দুটো চুপচাপ মাথা নিচু করে পা ঠকছে।

    বংশী একেবারে সোজা গিয়ে কড়া নাড়তে লাগলো—বিন্দাও বিন্দা

    বৃন্দাবন দরজা খুলে দিয়েছে।

    বংশী বললে—ছোটবাবু আমার কেমন আছে বৃন্দাবন?

    বৃন্দাবন বললে—এখনও জ্ঞান হয়নি। যা না ওপরে যা–বাবুর কাছে নতুন-মাও বসে আছে।

    বংশী সিঁড়ি দিয়ে উঠতে উঠতে বললে—চলে আসুন শালাবাবু, ছোটমা বলছে রাত বারোটার আগে যেমন করে হোক ছোটবাবুকে বড়বাড়িতে নিয়ে যেতেই হবে—বারোটার পর কি হয় কে জানে।

    ছোটবাবুর ঘরের কাছে পৌঁছতেই ভেতর থেকে কে যেন পায়ের শব্দ পেয়ে বেরিয়ে এল। ভূতনাথকে দেখে একটুখানি ঘোমটা টেনে দিলে। বললে-কে, বংশী এলি? ভালোই হয়েছে।

    বংশী বললে—আমার বাবু কেমন আছে এখন নতুন-মা?

    —এখনও জ্ঞান হয়নি বংশী, ডাক্তার ডেকেছিলুম, বড় ভয় করছে।

    —কই দেখি—বলে বংশী ঘরের ভেতর ঢুকে গেল। ভূতনাথও গেল পেছন-পেছন। চুনীবালার দিকে ভালো করে চেয়ে দেখলে ভূতনাথ। বেশ সুন্দরী দেখতে। কিন্তু যেন বড় ক্লান্ত দেখাচ্ছে। বোধ হয় অনেকক্ষণ ধরে সেবা করছে একটানা।

    বৃন্দাবন এসেছিল ঘরে। বললে–মা তুমি এবার খেয়ে নাও গে–বংশী তো রয়েছে।

    নিঃসাড় নিস্পন্দ হয়ে পড়ে আছে ছোটবাবু। ধপধপে ফরসা রং-এর মানুষটা। ওষুধ খেয়ে বোধ হয় বেহুশ হয়ে গিয়েছে। বংশী গিয়ে মাথায় হাত দিয়ে একবার স্পর্শ করলো। মনে হলো বংশী যেন ছোটবাবুকে জাগিয়ে তুলতে চায়। সেই দিকে চেয়ে থাকতে থাকতে বংশীর চোখ দুটো যেন একেবারে পাথরের মতো নিষ্প্রাণ কঠিন হয়ে এসেছে। ভূতনাথের মনে হলো—বংশীর এ রূপ যেন দেখেনি কখনও আগে। এই মুহূর্তে ছোটবাবু উঠে দাঁড়িয়ে তাকে চাবুক মারলে যেন বংশী খানিকটা স্বস্তি পেতো। যেন প্রাণ ফিরে আসতে বংশীর শরীরে।

    সেই রকম চেয়ে থাকতে থাকতেই হঠাৎ একেবারে ফেটে পড়লো বংশী। বললে—ও ছাই-ভস্মগুলো তুমি কেন খাও নতুন-মা? নিজে না হয় গেলো কিন্তু আমার ছোটবাবুকে কেন গেলাও বলতে পারে?

    বংশীর কথায় ভূতনাথও কেমন যেন চমকে উঠলো।

    চুনীবালা তীক্ষ্ণ দৃষ্টি দিয়ে বংশীর দিকে একবার চাইলে। মনে হলো–বংশীর এ ধরনের কথার জন্যে যেন চুনীবালা প্রস্তুত ছিল না। কিন্তু কিছু উত্তর ও দিলে না।

    বংশী আবার হঠাৎ বলে উঠলো—ছোটবাবু মরলে তোমরা বাঁচো, না নতুন-মা?

    এতক্ষণে যেন কথা খুঁজে পেল চুনীবালা। দৃঢ়কণ্ঠে বলতে গেল—বংশী…

    বংশী আবার চিৎকার করে বলে উঠলো—হাঁ, নিশ্চয় বলব, হাজার বার বলবো, তোমাকে আমি ভয় করি নাকি?

    চুনীবালা চাপা গলায় বললে—চেঁচাতে হয় বাইরে গিয়ে চেঁচা।

    —কেন, অত দরদ কিসের, বিষগুলো খাওয়াবার সময় মনে থাকে না। কার দৌলতে খেতে পরতে পাচ্ছো? কার দৌলতে রাজরাণী হয়েছে?

    চুনীবালা নিজেকে সামলে নিয়ে বললে-বংশী তোর তো বড় আস্পর্ধা দেখছি…

    বৃন্দাবন এসে বংশীর হাত ধরলে এবার। বললে–চুপ কর তুই বংশী, একে সারাদিন মার খাওয়া হয়নি, তুই আর জ্বালাসনে।

    বংশী কান্নার মতো হাউহাউ শব্দ করে উঠলো—খায়নি তো কার কি, বারণ করতে পারে না ছোটবাবুকে যে ও বিষগুলো খেও না?

    চুনীবালা যেন স্বগতোক্তির সুরে বলে উঠলো—বিয়ে করা বউ-এর কথা যে শোনে না, সে শুনরে আমার কথা—কথা শুনলি বৃন্দাবন।

    বংশী বললে—বিয়ে করা বউ-এর কথাই যদি ছোটবাবু শুনবেন তো ছোটমা’র আমার দুঃখ কিসের? এই আমার শালাবাবু সাক্ষী আছেন, ছোটমা’র কপাল যে পুড়িয়েছে তার কখখনো ভালো হবে না, কখনো ভালো হবে না—এই বলে রাখছি আমি—তারপর ভূতনাথের দিকে চেয়ে বললে—আসুন শালাবাবু, ধরুন তো একবার।

    সেই ছ’ ফুট লম্বা শরীর। কাঁচা সোনার মতো গায়ের রং। সারা শরীরে আতরের ভুর ভুর গন্ধ। ভারিই কি কম। বৃন্দাবনও এসে হাত লাগালে। তারপর তিন জনে মিলে ধরে নিয়ে সিঁড়ি দিয়ে নেমে গাড়িতে তোলা! গাড়ি ছাড়বার আগে বৃন্দাবন ভূতনাথকে বললে—আপনাকে একবার নতুন-মা ডাকছে।

    –কে ডাকছে?

    —আমার নতুন-মা।

    —কোথায়? বলে ভূতনাথ বৃন্দাবনের সঙ্গে বাড়ির ভেতরে যেতেই দেখলে দরজার একপাশে চুনীবালা দাঁড়িয়ে আছে। বললে—আমায় ডেকেছিলেন?

    চুনীবালা বললে—তুমি বড়বাড়িতে নতুন ঢুকেছে বুঝি, আগে দেখিনি। তা একটা কাজ তোমায় করতে হবে।

    ভূতনাথ বললে—বলুন?

    –ছোটকর্তাকে তত তাড়াহুড়ো করে তোমরা নিয়ে চললে, শরীরের অবস্থা ওঁর বড় খারাপ, ডাক্তার নড়া-চড়া করতে বারণ করেছিলেন, কাল একবার খবর দিয়ে যাবে কেমন থাকেন উনি?…পারবে আসতে?…নইলে শান্তি পাবে না মনে।

    ভূতনাথ কি বলবে ভেবে পেলে না।

    চুনীবালা আবার বললে—আর এই ওষুধটা নাও—ডাক্তার বলেছিলেন যন্ত্রণা হলে এটা খাওয়াতে। রাত্রে যদি ব্যথা বাড়ে তো…তাহলে তুমি আসবে তত ঠিক?

    পরের দিন যাবার কথাই দিয়েছিল ভূতনাথ। কিন্তু ঠিক পরের দিনই যাওয়া হয়নি।

    সেদিন রাত্রে ছোটমা’র ঘরেই নিয়ে গিয়ে একেবারে তুলেছিল ছোটবাবুকে।

    ছোটমা’র হাতে ওষুধের শিশিটা দিয়ে ভূতনাথ বলেছিল— ছোটবাবুর জন্যে এই ওষুধটা দিয়েছে নতুন-মা।

    শিশিটা না নিয়ে বৌঠান বলেছিল—ও ওষুধ তুমি রাস্তায় ফেলে দিও ভূতনাথ—ওতে বিষ থাকতে পারে।

    তারপর বৌঠানের ঘর থেকে বেরিয়ে এসে গাড়িবারান্দার তলায় ভূতনাথ অনেকক্ষণ বসেছিল। রাস্তায় সেদিন লোকের ভিড়। অত রাত্রেও গঙ্গাস্নান করতে চলেছে দলে দলে। মহাপ্রলয়ের আগে মানুষ পুণ্যসঞ্চয় করে মরবে। পরলোকের পাথেয়স্বরূপ। ওপরের নাচঘরে তখনও মেজবাবুর আড়া চলছে। শেষ পর্যন্ত হাসিনীর গান হয়েছে, নাচও হয়েছে। তারপর নাকি মদও চলেছে। মহাপ্রলয়ই যদি হয় তা হলে মনে কেন মিছিমিছি আপসোস থেকে যাবে।

    রাত তখন এগারোটা। বংশী এল। বললে–ছোটবাবুর এতক্ষণে জ্ঞান হয়েছে শালাবাবু-শশী ডাক্তার এসে ওষুধ দিয়ে। গেল। তারপর বললে—ছোটবাবুর জ্ঞান হতেই পালিয়ে এসেছি আজ্ঞে, যে-রাগী মানুষ, আমাকে এখন সামনে পেলে খুন করে ফেলবে হয়তো।

    ভূতনাথ বললে–কেন?

    —আজ্ঞে আমিই তো নতুন-মা’র বাড়ি থেকে ছোটমা’র ঘরে এনে তুলেছি। ছোটবাবু তো আমাকেই দুষবে।

    তারপর ঘড়িতে সাড়ে এগারোটা বাজলো। পৌনে বারোটা। বারোটা বাজলো। আজ আর সারা বাড়ি নিঝুম নয়। আজ ঘরে ঘরে আলো জ্বলছে। উদগ্র প্রতীক্ষায় উদগ্রীব হয়ে আছে মানুষ। এবার কী ঘটে। তারপর বাজলে সাড়ে বারোটা। একটা। দুটো। তিনটে। রাত পুইয়ে গেল নিশ্চিন্তে নির্বিবাদে।

    কিছুই ঘটলো না। প্রতিদিনকার মতো পুরোনো সূর্য ইব্রাহিমের ছাদের কোণ দিয়ে উঠলো আকাশে। তারপর সেই দাসু মেথরের উঠোন ঝাঁট দেওয়া। তোষাখানায় চাকরদের হৈ-হল্লা। ভিস্তিখানায় জল তোলার শব্দ। লোচনের হুঁকো পরিষ্কার করা। নাথু সিং-এর ডন-বৈঠক। খাজাঞ্চীখানায় বিধু সরকারের বক্তৃতা। ইয়াসিন সহিসের ঘোড়া ডলাই-মলাই। রান্নাবাড়ির পাশে সদুর তরকারির ঝুড়ি নিয়ে বসা। যদুর মা’র বাটনা বাটা। ঘরে ঘরে দিনগত পাপক্ষয়। বদরিকাবাবুর টাকঘড়ি নিয়ে ঘরে ঘরে ঘড়িতে দম দিয়ে বেড়ানো। কোথাও কোনো পরিবর্তন নেই। শুধু ছোটবাবুর ল্যাণ্ডোলেটটা আর ঘোড় জোড়া আজ প্রথম বুঝি এ-বাড়িতে রাত কাটালো। ছোটবাবুর আস্তাবল বাড়িটাকে আজ আর খালি পড়ে থাকবার অগৌরব বহন করতে হয়নি। এ-ঘটনা আজই বুঝি প্রথম! রাস্তায় বেরিয়ে ভূতনাথ এই কথাগুলোই ভাবছিল।

     

    রাত হয়ে এসেছে। এত রাতে মদ কোথায় কিনতে পাওয়া যাবে কে জানে। কোথায় দোকান তাও জানা নেই। একটি মাত্র জায়গা আছে। সেখানে গেলে এখন পাওয়া যেতে পারে। জবাদের বাড়ির ঠাকুর হয় তো এখন সেখানে রাস্তার ওপর ইট পেতে মাটির ভাঁড় নিয়ে বসেছে। আর সেই গান গাইছে ‘পোড়ারমুখী কলঙ্কিনী রাই লো’—কিন্তু এত রাত্রে অত দূরেই বা সে যায় কী করে। হঠাৎ বংশীর সঙ্গে মুখোমুখি।

    বংশী বললে—এত রাতে কোথায় চলেছেন শালাবাবু?

    কিন্তু বৌঠান তো বংশীকেও বলতে বারণ করে দিয়েছে। বংশীর কথার উত্তরে কী বলা যায় ভেবে পেলে না ভূতনাথ। বললে—তুই কোত্থেকে বংশী?

    —চিন্তার আবার জ্বর এসেছে শালাবাবু, মাস্টারবাবু নেই, গিয়েছিলাম শশী কবিরাজের কাছে—কিন্তু আপনি চললেন কোথায় আজ্ঞে?

    কেমন যেন বিব্রত বোধ করলে ভূতনাথ।

    বংশী বললে—কোথায় আপনি যাচ্ছেন তা আমি জানি শালাবাবু। সন্ধ্যেবেলা থেকেই আপনাকে ডাকছে ছোটমা, আমার তো সন্দেহ হলে, বলি, ছোটবাবুর শরীরটা এখনও ভালো করে সারেনি, রাতের বেলা আজকাল বাড়িতেই থাকছেন, তবু শালাবাবুকে কেন ডাকে ছোটমা।

    ভূতনাথ বললে—ছোটবাবু আজকাল বাড়ি থাকছে?

    শুনে কেমন যেন অবাক হয়ে গেল ভূতনাথ। এ-খবরটা তো জানা ছিল না।

    বংশী বললে—ওঠবার কি সাধ্যি আছে তেমন! কোনো রকমে একবার ছোটমা’র ঘরে যান, আর নিজের ঘরে এসে শুয়ে পড়েন। ডাক্তার মানা করেছে যে। বলেছে, যদ্দিন না সেরে ওঠেন একেবারে ওঠা-হাঁটা বন্ধ। কী-চেহারা কী হয়েছে শালাবাবু, দেখলে আপনার কান্না পাবে মাইরি।

    –মদ খাওয়া ছেড়েছেন নাকি?

    –ও বিষ কি আর কেউ ছাড়তে পারে আজ্ঞে! এই আমিই দেখুন না কেন—আজকাল যখন ছোটবাবু শয্যাশায়ী থাকেন, গেলাশে ঢেলে দিই, তা একটু-আধটু জল মিশিয়ে দিই শালাবাবু, মনে হয় মানুষটাকে তো আমিই মেরে ফেলেছি। ডাক্তার পই পই করে বলেছে, ও-খেলে আর বাঁচবে না। তবে কার কথা কে শোনেসেই আগৈকার মতনই খাচ্ছেন, আর আমিই সেই বিষ নিজের হাতে ঢেলে দিচ্ছি। সকালবেলায় এক-একদিন নিজের ঘরের জানালাটার কাছে গিয়ে দাঁড়ান, বাইরে চেয়ে দেখেন একবার দিনের বেলাটায় তত নেশা থাকে না বাবুর, কিন্তু সন্ধ্যে হলেই

    আন বরফ, আন বোতল—তবু ভালো যে নতুনমা’র বাড়ি যাবার ক্ষেমতা নেই, ক্ষেমতা থাকলে কি আর ছাড়তেন—ঠিক ছুটতেন। মাগী ওকে কী বশই যে করেছে–

    তারপর হঠাৎ থেমে বংশী বললে—হ্যাঁ, ভালো কথা, জানেন সেদিন নতুন-মা যে বড়বাড়িতে এসেছিল–শোনেন নি?

    —কবে? টের পাইনি তো কিছু?

    —আপনি টের পাবেন কি করে, তখন আপনি শুয়ে ঘুমিয়ে পড়েছেন, রাত তখন অঢেল, নাথু সিং এসে চুপি চুপি আমায় খবরটা দিলে। বললে-বংশী, রূপোদাসীর মেয়ে চুনীবালা এসেছে। ছোটবাবুর কাছে যেতে চায়, গেট খুলবো?

    আমি ভাবলাম—চুনীবালা এসেছে ছোটবাবুর কাছে, ক’দিন যেতে পারেননি বাবু, বাবু শুনলে যদি আবার অনখ বাধায়, বললাম–দাঁড়া—বলে সোজা ছোটমা’র কাছে দৌড়ে গেলাম। ছোটমা তখন পূজো সেরে সবে উঠেছে। কথাটা শুনেই রেগে একেবারে আগুন! ছোটমা’কে দেখেছেন তো ওই রকম ভালোমানুষ, কিন্তু রাগলে আবার ওই মানুষেরই চেহারা বদলে যায়। বললেন—ছোটবাবুর গাড়ির চাবুকটা নিয়ে দু’ ঘা মারতে পারবি রাক্ষুসীর পিঠে-পারবি বংশী—আর না পারিস তো ডাক নাথুসিংকেই ডাক—আমিই তাকে বলছি।

    আমার কেমন ভয় হলো দেখে। ছোটমা বললে—পারবি না?

    বললাম—জানতে পারলে ছোটবাবু আমার মাথাটা আর আস্ত রাখবে না ছোটমা।

    –আমিও এ-বাড়ির ছোটবউ, যা বলছি কর গিয়ে—চাবুক মেরে পিঠের চামড়া তুলে রক্ত বের করে দিগে যা।

    বললাম—মেয়েমানুষের গায়ে হাত তুলতে কেবল বাধে, নইলে…

    –ওকে তুই মেয়েমানুষ বলিস, ডাইনি ও, তুই না পারিস নাথু সিংকে ডাক। ও যদি বড়বাড়ির মাটি ছুঁয়েছে তো তোদের সকলের চাকরি যাবে বলে দিচ্ছি—আর যদি যা বললুম করতে পারিস তো তোদের দু’ ভাই-বোনের জীবনে কখনও খাওয়া-পরার ভাবনা থাকবে না—এই বলে দিচ্ছি।

    ছোটমা’র চিৎকারে তখন মেজমা, বড়মা ঘর থেকে বেরিয়ে এসেছে।

    মেজমা বললে—কী হলো রে ছোট?

    সব শুনে মেজমা হেসেই আকুল। বললে—তুই অবাক করলি আমাদের, পুরুষমানুষের চরিত্তির তো তসর কাপড়—ওর আবার শুদ্ধ-অশুদ্ধ কি? তোর সব তাতেই বাড়াবাড়ি—আমার রাঙামাকেও দেখেছি, আর মেজকর্তাকেও দেখেছি—ওসব মনে করতে গেলে কবে গলায় দড়ি দিতুম।

    বড়মা বললে—তোর সবই আদিখ্যেতা ছোটবউ।

    তা বললে বিশ্বাস করবেন না শালাবাবু, সেই রাতের বেলা গেলাম। নাথু সিং নিয়ে গেল গেটের সামনে। নতুন-মা তার নতুন কেনা মোটর গাড়িতে করে এসেছে। আমাকে দেখে ডাকলে— বংশী ছোটবাবু কেমন আছে?

    বললাম—একটু ভালো।

    —ওষুধ খাচ্ছেন তো?

    –খাচ্ছেন।

    —আমাকে ভেতরে নিয়ে চল একবার—নতুন-মা বললে।

    তা তখন কী আর বলবো! মিথ্যে কথাই বললুম আজ্ঞে। বললাম—বাবু যে মানা করে দিয়েছে তোমাকে আসতে দিতে মাইরি বলছি নতুন-মা, বলেছে—তোর নতুন-মা যদি আসে তো ঢুকতে দিবি নে বাড়িতে—ওর মুখ দেখতে চাইনে।

    –নতুন-মা কী যেন ভাবলে কতক্ষণ। বললে-বলেছে ওই কথা?

    –আজ্ঞে, আমি কি মিথ্যে মিথ্যে বলতে গিয়েছি—আমার লাভ কি বলো?

    –তবে আমার সামনে বলুক ও-কথা, নিজে আমাকে ছোটকর্তা বলুক চলে যেতে নিজের কানে না শুনে আমি যাচ্ছিনে। এপথে আমি নিজে আসিনি, ছোটকর্তাই নিয়ে এসেছে আমাকে।

    -কী বিপদেই যে পড়েছিলুম শালাবাবু সেদিন কী বলবো। ছিল রূপো দাসীর মেয়ে, হয়েছে রাজরাণী, সে কেন অত সহজে হাল ছাড়বে। জানবাজারের বাড়ি, চারটে দাসী, তিনটে চাকর, মোটর গাড়ি ও হাতে যেন চাঁদ পেয়ে গিয়েছে! আর কী চাই। নষ্ট মেয়েমানুষের তো কেবল ওই দিকেই নজর। ছোটবাবুর অসুখ বলে তো ওর রাতে ঘুম হচ্ছে না একেবারে!

    ভূতনাথ জিজ্ঞেস করলে—তা গেল শেষ পর্যন্ত চলে গেল চুনীবালা?

    —তা কি আর আমি দেখতে গিয়েছি শালাবাবু, যাবে না তো করবে কী? আমি নাথু সিংকে গেট বন্ধ করতে বলে চলে এসেছি। তারপর আর কি হয়েছে জানি না—আমার তখন অন্য ভাবনা।

    -কীসের ভাবনা?

    —ভাবনা নয়? বলেন কী? ছোটবাবু যদি শোনে সব তত অনখ বাধাবে না? তখন আমার চাকরিটা ঠেকাবে কে? চিন্তার হাত ধরে আবার তো সেই দেশে গিয়ে না খেয়ে মরবে। দেশে কি জমিদারি আছে আমার যে ভাঙাবো আর খাবো। সেই যে কথায় আছে না—’তোর ভাবনা কি লো ভাবি’… আমার তো আর তা নেই শালাবাবু।

    –তা বলে ছোটমা তোকে আর ছাড়বে না বংশী-এত করছিস তুই ছোটমা’র জন্যে।

    বংশী বললে—কিন্তু ছোটমা’র কথা কে শুনবে শালাবাবু, ছোটকর্তাই আমল দেয় না তো শুনবে বাড়ির লোকে! এই যে এত রাতে আপনি ছোটমা’র জন্যে মদ কিনতে যাচ্ছেন-–

    সাপ দেখে সরে আসার মতো ভূতনাথ এক পা পিছিয়ে এল!—তুই কী করে জানলি বংশী?

    বংশী নির্বিকারভাবে সঙ্গে চলতে চলতে বললে—বলবে আবার কে শালাবাবু, এতদিন বড়বাড়িতে চাকরি করছি, সব জানতে পারি, চাকর-বাকর যদি না জানে তো জানবে পাড়ার পাঁচজনে? আমি যা জানি তা ছোটমাও জানে না, মেজমাও জানে না, ছোটকর্তা মেজকর্তা কেউ জানে না, কোন ঘরে কার রাত কাটে, কবে চুপি চুপি বড়বাড়িতে ডাক্তার আসে, দাই আসে, ওষুধ-বিষুধ, রোগ-জারি, সব টের পাই আমরা। এই তো গেল-বছরে বড়বাড়ির সামনে রাস্তার ধারে সক্কালবেলা লোকের ভিড়, পুলিশ পেয়াদা, হৈ চৈ, কাক-চিল-শকুনির পাল–সবাই অবাক হয়ে দেখে কী?, একটা একদিনের মরা ছেলে—সবে জন্মেছে আজ্ঞে। সব জানি, কে ফেলেছে—কোন্ ঘর থেকে বেরিয়েছে-কিন্তু আমরা চাকর মনিষ্যি, আমাদের অত সাত-সতেরোতে থাকার কী দরকার। পুলিশ এল—জিজ্ঞাসাবাদ করলে—বললুম-কিচ্ছু জানি না বিত্তান্ত —চুকে গেল ল্যাটা।

    ভূতনাথ হঠাৎ জিজ্ঞেস করলে—আচ্ছা, ছোটমা হঠাৎ এই বিষ কিনতে দিলে কেন জানিস বংশী।

    বংশী খানিক চুপ করে রইল। তারপর বললে—মাইরি শালাবাবু, আপনি বামুন মানুষ, আপনার এই পা ছুঁয়ে বলতে পারি, ছোটমা’কে আমি ঠাকুর দেবতার মতো ভক্তি করি, ছোটমা’র দুঃখু ঘোচাতে আমি প্রাণ দিতে পারি আজ্ঞে। লোচন, মধুসূদনকাকা ওরা তো তাই হিংসে করে, বলে—আর জন্মে তুই ছোটমা’র পেটের ছেলে ছিলি। তা পেটের ছেলে তো ছোট কথা হলো হুজুর, পেটের ছেলেই কি দেখতে পারে সব মা’কে তেমন মায়ের মতন আবার মা তো হওয়া চাই। তা সেদিন সন্ধ্যেবেলা বাবু ঘরে এসেছে, আমিই ডেকে এনেছি তাকে। মা ডাকতে পাঠিয়েছিল। আমি বাইরে দাঁড়িয়ে সব শুনছি আজ্ঞে।

    ছোটমা বলছে—তুমি আবার যাবে নাকি ওখানে?

    ছোটবাবুর তখনও বিষ পেটে পড়েনি কিছু। জ্ঞান আছে বেশ। বললে-যাই যদি তো তোমার কী!

    –-ছোটকর্তার তো ওই রকমই কথার ঢং।

    ছোটমা বললে-নাই বা গেলেনা গেলে হয় না?

    –বউ-এর আঁচল ধরে থাকি তেমন বংশে জন্ম নয় আমার ছোটবউ।

    ছোটমা যেন কিছুক্ষণ ভাবলে। তারপর বললে—আঁচল ধরে থাকতে বলছি না, কিন্তু আঁচল না ধরেও তো ঘরে থাকা যায়।

    –ঘরে বসে তোমার মুখের দিকে হাঁ করে চেয়ে থাকবে নাকি?

    —চেয়ে থাকতে ভালো না লাগে চেও না, মুখ ফিরিয়ে থেকো—আমি তোমার সেবা করবো।

    ছোটবাবুর হাসির শব্দ শুনতে পেলুম আজ্ঞে। অপগেরাজ্যির হাসি। একটু পরে ছোটবাবু বললে সেবা করতে জানো তুমি ছোটবউ?

    ছোটমা বললে—একবার পরখ করেই দেখোনা সেবা করতে জানি কিনা।

    ছোটবাবু বললে—আমি তত তোমার যশোদাদুলাল নই, পাথরের কিংবা সোনা-রূপোর ঠাকুরদেবতাও নই—আমি মানুষ, রক্তমাংসের মানুষ—আমাকে সেবা করতে পারবে? ভেবে দেখো।

    ছোটমা’র গলা শুনতে পেলুম—এতে ভাববার কিছু নেই, হিন্দু মেয়েদের স্বামীসেবা শিখতে হয় না।

    ছোটবাবু আর একবার হেসে উঠলো আজ্ঞে, সেই অপগেরাজ্যির হাসি। বললে—আমি তো তেমন স্বামী নই ছোটবউ। বড়বাড়ির পুরুষমানুষের জন্মের আগে থেকে মদ খেতে শেখে, মানুষ হয় ঝি-চাকরের কোলে, আটদশ বছর বয়সে অন্দরমহলে ঢোকা বন্ধ তাদের, বয়সকালে রক্ষিতা রাখে, পাল্লা দিয়ে বাবুগিরি করে, মোসাহেব পোষে—এমন স্বামীকে সেবা করে খুশি করা তোমার কম্ম নয় ছোটবউ।

    —একবার পরখ করেই দেখো না তুমি।

    ছোটবাবু বললে-মিথ্যে পরখ করা ছোটবউ, মেহনতই সার হবে, ঘরের বউরা সে পারবে না, বড়বাড়ির কোনো বউই পারেনি আজ পর্যন্ত, শুধু বড়বাড়ি কেন, দত্তবাড়ি, মল্লিকবাড়ি, শীলবাড়ি, শেঠবাবুদের বাড়ির কোনো বউ চেষ্টাও করেনি পারেও নি। ওতে অনেক ল্যাঠা, সে পারে ওরা—ওই বাগানবাড়ির মেয়েমানুষেরা–ওরা কায়দা-কানুন জানে।

    ছোটমা’র গলার শব্দ কেমন কঁদো কাঁদো শোনালো আজ্ঞে। বললে—এই তোমার পায়ে ধরে বলছি ওগো—দেখো, কেউ পারেনি, কিন্তু আমি পারবো-ওরা সবাই বড়লোকের ঘরের মেয়ে, আমায় গরীবের ঘর থেকে এনেছে। আমি পারবে—তুমি যা বলবে তাই করবো, যেমন করে সাজতে বলবে তেমনি করে সাজবো, যেমন করে কথা বলতে বলবে তেননি করে বলবো,, তোমার মাথা টিপে দেবো, পা টিপে দেবো।

    —গান গাইতে পারবে?

    ছোটমা বললে—গান তো বাবার কাছে শিখেছিলাম, সেই সব গান যদি তোমার পছন্দ হয় গাইবো।

    —নাচ?

    ছোটমা বললে—নাচিনি কখনও, কিন্তু শিখিয়ে নিলে তাও পারবে—তোমার জন্যে আমি সব পারি জানো।

    ছোটবাবু এবার হঠাৎ বললে—আর মদ? মদ খেতে পারবে? যেমন করে চুনীবালা মদ খায়?

    খানিকক্ষণ চুপচাপ। কোনো কথা শুনতে পেলাম না আজ্ঞে। ছোটমা বুঝি ভাবতে পারেনি ছোটকর্তা এমন কথা বলতে পারে। আমিও কেমন যেন বোব হয়ে গেলাম। নিজের সোয়ামী কেমন করে একথা বিয়ে-করা ইস্তিরীকে বলতে পারে আজ্ঞে! ও মদ আর বিষ তো একই জিনিষ, সেই বিষ নিজের ইস্তিরীকে কেমন করে খাওয়াতে পারে মানুষ! তা ছোটবাবু তো আজ্ঞে মানুষ নেই আর। নতুন-মা’র কাছে থেকে থেকে মানুষটার মধ্যে আর কিছু নেই হুজুর। কিন্তু ধন্যি আমার ছোটমা, মা তো নয় সাক্ষাৎ সতীলক্ষ্মী। তা মা-ও সেই কথা বললে—আমার মা’র মতন উপযুক্ত কথাই বললে।

    ভূতনাথ জিজ্ঞেস করলে–কী বললে?

    —বললে–তা খাবো, মদই খাবো, তুমি হাতে করে তুলে দিলে আমি বিষও খেতে পারি হাসিমুখে।

    ছোটবাবু হেসে উঠলো। বললে—কিন্তু নিয়ম তো তা নয়, আমি তুলে দেবো না, তুমিই বরং আমার হাতে গেলাশ তুলে দেবে ছোটবউ।

    —তা-ই দেবো, আমি মদ খেলে তুমি যদি ঘরে থাকো তো তা-ই করবো।

    শুনতে শুনতে আমার শরীর হিম হয়ে এল শালাবাবু! শেষকালে ছোটমা বিষ গিলবে আর আমরা তাই দেখবো! মনে হলো-বড়বাড়িতে একটি মানুষ ছিল যার পায়ে হাত দিয়ে পেন্নাম করতে বুক ভরে যায়, তা সে মানুষটাও গেল। কী যে কষ্ট হলো মনটার ভেতর! মনে হলো গিয়ে মানা করি ছোটমা’কে বলি যে খেয়ো না তুমি, ও বিষ খেলে তুমি বাঁচবে না মা—কিন্তু চাকর হয়ে জন্মেছি, ছোট মুখে বড় কথা মানায় না।

    —চলে গেল ছোটবাবু। আমিও অন্ধকারে চলে আসছিলাম আজ্ঞে, কিন্তু ছোটমা ডাকলে। গেলাম।

    বললে-তোর শালাবাবুকে একবার ডেকে নিয়ে আয় তো।

    বললাম—এখুনি?

    ছোটমা বললে হ্যাঁ এক্ষুণি, বলবি খুব জরুরী দরকার। এখনি যেন একবার আসে আমার কাছে।

    তাই তো তখন আপনাকে ডেকে আনলাম—তা আমি সব জানি, আমার কাছে আপনি লুকোতে পারবেন না আজ্ঞে।

    ভূতনাথ জিজ্ঞেস করলে কিন্তু এ জিনিষ কোথায় কিনতে পাওয়া যায় তাও আমি জানি না—কত দাম তাও জানি না। শুধু এই দশটা টাকা আমায় দিয়েছে বৌঠান।

    বংশী বললে–ছোটবাবুর মদের আলমারির চাবি তো আমার কাছে, আমি জেনে ফেলবে বলেই আপনাকে কিনতে দিয়েছে ছোটমা, কিন্তু আমি হলে ও বিষ হাতে তুলে দিতে পারতাম না শালাবাবু।

    ভূতনাথ বললে—তুই কি বলিস আমি টাকা ফিরিয়ে দিয়ে আসবো?

    –তাই-ই দিন আজ্ঞে—সেই-ই ভালো হবে বরং।

    —তবে ফিরে চল। তাই ভালো—ফিরিয়েই দিয়ে আসি টাকা–বলিগে আমি পারবো না।

    বংশী বললে—কিন্তু আমার নাম করতে পারবেন না শালাবাবু, বলবেন না যেন আমি বলেছি সব কথা।

    আবার সেই পথেই ফিরলো ভূতনাথ। বললেন রে বংশী, তা কখনও বলি।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40 41 42 43 44 45 46 47 48 49 50
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleবেগম মেরী বিশ্বাস – বিমল মিত্র
    Next Article রচনা সংগ্রহ – অক্ষয়কুমার মৈত্রেয় (নন-ফিকশন)

    Related Articles

    বিমল মিত্র

    বেগম মেরী বিশ্বাস – বিমল মিত্র

    May 29, 2025
    বিমল মিত্র

    আসামী হাজির – বিমল মিত্র

    May 29, 2025
    বিমল মিত্র

    কড়ি দিয়ে কিনলাম ১ – বিমল মিত্র

    May 28, 2025
    বিমল মিত্র

    কড়ি দিয়ে কিনলাম ২ – বিমল মিত্র

    May 28, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Our Picks

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }