Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    সাহেব বিবি গোলাম – বিমল মিত্র

    বিমল মিত্র এক পাতা গল্প740 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    ২৯. বার-শিমলের পথে একলা হাঁটতে

    বার-শিমলের পথে একলা হাঁটতে হাঁটতে ক’দিন আগেকার একটা ঘটনা মনে পড়লে ভূতনাথের।

    হঠাৎ ভূতনাথের মনে হলো—তাই তো—এতক্ষণ মনে ছিল —বংশী যে বার-বার করে বলে দিয়েছিল সকাল সকাল বাড়ি আসতে। ছোটবৌঠান হয় তো সেজে-গুজে তৈরি হয়ে বসে থাকবে। মিয়াজান গাড়ি নিয়ে হাজির। হয় তত বংশী সারা বাড়ি খোঁজাখুজি চালিয়েছে। এখন আর বড়বাড়ির সে-জাঁক নেই। দুটুকবাবুর গানের আসরই বসে না। সারা উঠোনটা এখন যেন খাঁ খাঁ করে। শুধু যেন শূন্য পুরীর সামনে ব্রিজ সিং বন্দুক নিয়ে ঝিমোয়। আগে পায়চারি করতে, এখন ঝিমোয়। হাবুল দত্ত এখন এসে সেই যে ঢোকে মেয়ে-জামাই-এর ঘরে আর বেরোয় সেই রাত্রে! কী ফুস-মন্তর দেয় কে জানে। মেজবাবু একাই চালিয়েছে তার নৈশ উৎসব। আজো হাসিনী আসে, মেজ মাঠাকরুণ আসে, পানের ডিবে নিয়ে বড়মাঠাকরুণও আসে সেদিন হঠাৎ নান্নে বাঈ-এর নাচ-গানও হয়ে গেল। কিন্তু তেমন যেন জমলো না। বাঈজী এলে তিন দিন ধরে গানবাজনা চলতে আগে। একদিনে কখনও শেষ হয়নি আসর। নান্নে বাঈ গজল গেয়েছে, ঠুংরি গেয়েছে, কিন্তু তেমন বাহবা পায়ান যেন এবার। মেজবাবুর যেন তেমন মেজাজ ছিল না। নাচতে নাচতে মোহর তুলে নিয়েছে ঠোট দিয়ে। কিন্তু ওই একবারই। আর মোহরু পড়েনি রূপোর থালায়। এবার যাবার সময় বেনারসীর চমকদার ওড়নাও পেয়েছে। যেমন পায় অন্যবার। কিন্তু তেমন খুশি হয়নি যেন বাঈজী। মুন্নালাল তেমন করে সারেঙ্গী বাজাতে বাজাতে লুটিয়ে পড়েনি আসরের ওপর। নান্নে বাঈ-এর ঘোমটা ততটা ফাঁক হয়নি নাচতে নাচতে। তাল কেটে গিয়েছে বার বার। আসরের পর অনেক রাত্রে মেজবাবুর খাস কামরায় ডাকও পড়েনি তার! এ যেন নেহাৎ নিয়ম রক্ষা। আহা, এসেছে আশা করেফিরে যাবে! এমনি ভাব।

    আর ছোটবাবু! ছোটবাবু কেন আবার যাবে জানবাজারে? কিসের বিরোধ বাধলে বৌঠানের সঙ্গে! মদ কি খায়নি ভালো করে ছোটবৌঠান! কায়দা-কানুনে কিছু ত্রুটি ছিল কি? কিম্বা হয় তো ঠিক বিয়ে করা স্ত্রীকে নিয়ে তেমন ফুর্তি হয় না। যেমন করে চুনীদাসী আদর করে আপ্যায়ন করে ঠিক তেমনটি হয় তো হয় না পটেশ্বরী বৌঠানের। কিন্তু চুনীদাসীকেও তো সেদিন ভালো করে দেখেছে ভূতনাথ! চুনীদাসী তাকে সেদিন ‘ভালোমানুষবাবু’ বলে ডেকেছিল! সত্যিই বাহাদুরি আছে চুনীদাসীর! বার-শিমলেয় যেতে-যেতে সেদিনকার ঘটনাটা মনে পড়লে ভূতনাথের।

    সেদিন রাস্তা দিয়ে যাচ্ছিলো ভূতনাথ, দেখতে পেয়েছে বৃন্দাবন? বললে—আমি চুনীদাসীকে বলেছিলাম আপনি আসবেন—তা চলুন এখন, এই তো দু পা গেলেই আমাদের বাড়ি।

    -না, না, তা হতেই পারে না বৃন্দাবন, আমার অন্য কাজ আছে, বিশ্বাস করো।

    টানাটানি। কিছুতেই ছাড়ে না।

    ভূতনাথ বললে—আমার অনেক কাজ হাতে, জানো তো পরের বাড়িতে থাকি—সময়ে না খেলে…

    —সে আমি শুনছি না শালাবাবু।

    —আচ্ছা, যাবো একদিন কথা দিচ্ছি—কিন্তু আজ নয়।

    –না শালাববু, সে হবে না।

    শেষ পর্যন্ত যেতেই হলো। আগে একদিন মাত্র ভূতনাথ এসেছিল বংশীর সঙ্গে। সেই দরজা পেরিয়েই সরু একফালি বারান্দা। তারপরেই ওপরে ওঠবার সিঁড়ি।

    বৃন্দাবন আগে আগে চলতে লাগলো। বললে—চলে আসুন। শালাবাবু। ওপরে গিয়ে বৃন্দাবন যেন কাকে লক্ষ্য করে বললেদেখো গো কাকে নিয়ে এসেছি!

    –কে রে? মেয়ে গলায় কে যেন সাড়া দেয়। মনে হলো যেন চুনীদাসীর গলার আওয়াজের মতন।

    —এই দেখো, চিনতে পারো!

    ভূতনাথ একেবারে ঘরের দরজার সামনে গিয়ে দাঁড়িয়েছে। এক গা গয়না পরা চুনীদাসী বসে আছে তখন ফরাশের ওপর। সামনে পানের ডাবর। চুন, সুপুরি, লবঙ্গ, এলাচের কৌটো। মোটা হয়েছে যেন আরো। ফরসা টক টক করছে গায়ের রং। পাতাকাটা চুল। ভূতনাথকে দেখে বাঁ হাত দিয়ে একটু ঘোমটা উঠিয়ে দিলে মাথায়।

    –ওমা, তাই বলি, এসো, এসো।

    রীতিমতো আদর অভ্যর্থনা। বৃন্দাবন ফরাশের সামনেটা একটু ঝেড়ে-ঝুড়ে সাফ করে দিলে। বললে-বসুন এখানে শালাবাবু আয়েশ করে—তারপর তাকিয়াটাও একটু সরিয়ে দিলে ভূতনাথের দিকে।

    বৃন্দাবন বললে—ভারী ভালোমানুষ এই আমাদের শালাবাবু, ছোটমা’র জন্যে কী কষ্টটাই না করে, জানলে চুনী।

    সামনে দুটো পানের খিলি একটা রেকাবিতে করে এগিয়ে দিয়ে চুনীদাসী বললে—আহা, তা করবে না গা, যে ভালোমানুষ হয় তার সবই ভালো-খাও ভালোমানুষবাবু, পান খাও—ভাই।

    ভূতনাথ যেন অবাক হয়ে গিয়েছে। দেয়ালের গায়ের তাকে থরেথরে সাজানো বোতলের সারি। ওপাশে ঝালর দিয়ে ঢাকা একটা কী জিনিষ। বোধহয় হারমোনিয়ম। তার পাশেই উপুড় করা একজোড়া বাঁয়া তবলা। তারই পাশে একজোড়া ঘুঙুর। আর ঠিক মাথার ওপর দেয়ালের গায়ে ঝুলছে একখানা তেল রং-এর ছবি। ছোটকর্তার।

    বৃন্দাবন বললে বেশ আয়েশ করে তাকিয়া হেলান দিয়ে বসুন শালাবাবু-অমন আড়ষ্ট হয়ে আছেন কেন?

    ভূতনাথ হেলান দিয়ে বসে বললে—কই, আড়ষ্ট হয়ে নেই তো?

    -হ্যাঁ, দিব্যি গা এলিয়ে দিন, দিয়ে চুনীর সঙ্গে গল্প করুন। ক’দিন থেকে ভাবছি অত করে বলে এলুম শালাবাবুকে, একবার এলেন না। তা চুনী বলছিল আসবে নিশ্চয়ই, বলেছে যখন ভালোমানুষবাবু, তখন আসবে নিশ্চয়ই।

    চুনী পান চিবোতে চিবোতে বললে—সত্যি ভাই, ভালোমানুষবাবু, বলছিলুম ক’দিন ধরে, বলি সেই গেল, এত করে আসতে বলে দিলাম, একদিন এল না। একবার ভাবলাম নিজেই আবার যাই…তা গাড়িটা বেচে দিয়েছি শুনেছো বোধ হয়—তা এত রোগা হয়ে গিয়েছে কেন ভালোমানুষবাবু।

    তারপর কী যেন ভেবে নিয়ে ডাকলে—ওরে বিন্দাবন—

    ভূতনাথেরও হঠাৎ নজরে পড়লো বৃন্দাবন কোথাও নেই। অথচ এতক্ষণ এখানেই ছিল!

    —যাই গো, বলে পাশের কোথা থেকে বৃন্দাবনের সাড়া এল।

    —পাখীটাকে ছোলা দিয়েছিস? এই দেখোনা, এই এক জ্বালা হয়েছে, ক’দিন থেকে পাখীটা মুখে কিছু কাটছে না ভাই, সাত দিকে সাত ঝঞ্চাট হয়েছে আমার ছোটবেলা থেকে পুষেছি কি না, এখন মায়া পড়ে গিয়েছে।

    বৃন্দাবন এল। চুনীদাসী বললে—থাকোকে ডেকে দে তো।

    ভূতনাথ চারদিকে চেয়ে-চেয়ে দেখতে লাগলো। ছোটবৌঠানের ঘরের সঙ্গে এ-ঘরের অনেক তফাৎ। কয়েকটা ছবি দেয়ালের গায়ে ঝুলছে। বিলিতি ছবি বলে মনে হয়। শাড়ি খসে পড়েছে পরীদের গা থেকে। জলে স্নান করতে নেমেছে একজন পরী। পাহাড়ের ঝরণার ধারে একটি পরী নিজের শরীরটার ছায়া দেখছে আপন মনে। কোথাও তিনটে পরী অপরূপ ভঙ্গী করে দাঁড়িয়ে আছে। কাপড়-জামার বালাই নেই কারো।

    ঘরের মধ্যে, যেন একটা কিসের তীব্র গন্ধ। অথচ ছোটবৌঠানের ঘরে গেলেই সব সময় ধূপ-ধুনোর গন্ধ নাকে আসে। কিন্তু এখানে অন্যরকম। অচেনা একটা উত্তেজনা আসে আপনা থেকেই। বিছানাটা খুব পুরু। বসতেই আধ হাত গর্ত হয়ে যায়। মোটা-মোটা খান পাঁচ-ছয় তাকিয়া। বিছানার ওপরেই পানের রেকাবি, মশলার কৌটো। আর ঘরের এক কোণে একটা গড়গড়া। তলাটা রূপোর মতো ঝক ঝক করছে।

    চুনীদাসী বললে—অমন আড়ষ্ট হয়ে বসে কেন ভালোমানুষবাবু, ভালো করে হেলান দাও ভাই।

    ভূতনাথ দেখলে চুনীদাসীর নাকেও একটা হীরের নাকছাবি। অনেকটা যেন বৌঠানের নকল। কিন্তু চুনীদাসী পান খায় বৌঠানের চেয়ে বেশি। সেদিন এই বিছানার ওপরেই ছোটকর্তা শুয়ে ছিল। কিন্তু সেদিন চুনীদাসীকে এত সুন্দর মনে হয়নি। আজ যেন বড় ভালো লাগতে লাগলো চুনীদাসীকে।

    চুনীদাসী খানিক পরে বললে—তামাক দিতে বলবে? তারপর ভূতনাথের মুখের ভাব লক্ষ্য করে বললে-তোমার ভয় নেই ভালোমানুষবাবু, বামুনের হুঁকোও আছে।

    তামাক খায় না শুনে চুনীদাসী কিন্তু অবাক হলো না। বললে —আমারও তামাক খেতে ভালো লাগে না—আর তেমন তামাক আনতেও পারে না বিন্দাবন, ছোটবাবু রাগ করে বিন্দাবনের ওপর, আগে ছোটবাবু তামাক খেতো, ঘর একেবারে গন্ধে ভরপুর হয়ে যেতো—সব জিনিষে আজকাল আগুন লেগেছে ভাই।

    ভূতনাথ বললে-একটু জল বরং দাও—জল তেষ্টা পেয়েছে।

    -জল কেন, সরবৎ দিক না।

    –না, সরবৎ দরকার নেই, জলই যথেষ্ট।

    —সরবৎ তো হচ্ছে—তৈরি হচ্ছে, হলেই দিয়ে যাবে। রোজই সরবৎ হয় আমার এখানে, ছোটকর্তা খেতে কিনা-ছোটকা কেমন আছে আজকাল ভালোমানুষবাবু?

    ভূতনাথ বললে—সেই রকমই—একবার ওঠেন, আবার পড়েন।

    -কেউ দেখে না বুঝি? চুনীদাসী বলতে লাগলো—আমি কত সাবধানে রাখতাম তাকে—কোনোদিন যদি বেশি মদ খেয়ে ফেলতো, বারণ করতাম, বলতাম। অথচ কারো সহ্য হলো না—তা ছোটকর্তা কি ওষুধ খাওয়া ছেড়ে দিয়েছে?

    ভূতনাথ বললে—আমি ঠিক জানি না, বংশী,জানে।

    —ওই একটা বদমাইস, বংশী। আমাকে বলে কিনা বেবুশ্যে। শুনিছি সব, বড়বাড়ির কি আমিই প্রথম নাকি? মেজদি’র বাবার মেয়েমানুষ নেই? কলকাতার কোনো বাড়ির খবর জানতে তো আর বাকি নেই। এখানে সবাইকে আসতে হয়েছে, কালীপূজোর দিন ছোটবাবুকে কে বাঁচালে শুনি? নইলে আগুনে পুড়ে তে একাকার হয়ে যাচ্ছিলো! তা তো বংশী জানে না।

    ভূতনাথের চোখে বিস্ময় দেখে চুনীদাসী বললে—সে খবর জানো না?

    ভূতনাথ বললে—শুনিনি তো!

    -ওই যে পাশের বাড়িটা দেখছো, ওর দক্ষিণে যে বাড়িটা, ওইখানে থাকে কতকগুলো মাগী, বাজারের মেয়েমানুষ, তা সেবার কালীপুজোর সময় ও-বাড়ির বাবুরা তুবড়ি জ্বালাচ্ছে খুব, ছোটকর্তার সঙ্গে আমিও বাজি দেখতে উঠেছি ছাদের ওপর। একটা বাজি এসে পড়লো একেবারে আমার বাড়ির উঠোনে—আর সঙ্গে সঙ্গে চেঁচিয়ে উঠেছে সুখী।

    –সুখী কে?

    –আমার আগে একটা টিয়াপাখী ছিল, তার খাঁচার ওপর এসে পড়েছে একেবারে—আর চেঁচাচ্ছে খুব। মরতে মরতে নেমে এলুম নিচে, দেখি তখন সুখীর শেষ অবস্থা ভাই, কেঁদে তো আমি বাঁচিনে–তা ছোটকর্তাকে চেনো তো তুমি, রেগে গেলে ও-মানুষের জ্ঞান থাকে না, বললে—এখুনি তুবড়ি কিনে আনো-হাজার টাকার তুবড়ি।

    –হাজার টাকার তুবড়ি?

    –ছোটকর্তার তো হাজার ছাড়া কথা নেই—হাজার টাকা বলেই খালাস-তা বিন্দাবন গেল তুবড়ি কিনতে—কিন্তু হাজার টাকার তুবড়ি কি চাট্টিখানি কথা! তা যা পাওয়া গেল, কুড়িয়েবাড়িয়ে তখুনি নিয়ে এল কিনে।

    ছোটকর্তা বলেছোঁড়ো সবাই ওদের দিকে।

    তা সেদিন সবাই এসেছিল, মধুসূদন, লোচন, আমার দারোয়ান, চাকর, সবাই।

    —মধুসূদন কি এখানে আসে নাকি? ভূতনাথ জিজ্ঞেস করলে।

    -হ্যাঁ, রোজই তো আসে। ওরা তো আমার দেশের লোক। রোজ সরবৎ খেয়ে যায়—তা তুমি জানতে না ভালোমানুষবাবু? মধুসূদন আসে, লোচন আসে, মাঝে-মাঝে শ্যামসুন্দর, বেণী, আগে শশীও আসতো, বিন্দাবন যে সরবৎটা তৈরি করে ভালল, ওর যে নাম-ডাক আছে কলকাতায়।

    তারপর চেঁচিয়ে ডাকলে চুনীদাসী হ্যাঁ রে, সরবৎ হলো তোদের? তা তারপর কী হলো বলি—শোনো ভাই।

    চুনীদাসী আর একটা পান মুখে পুরে দিলে। তারপর বোঁটায় করে খানিকটা চুন। তারপর জর্দার কৌটো খুলে মুখে পুরে দিলে খানিকটা। একমুখ পান, রসে বোধ হয় সমস্ত মুখখানা ভরে উঠেছে। তারপর সরে গিয়ে ফরাশের বাইরে পিকদানিটায় খানিকটা পিক ফেলে মুখ মুছতে মুছতে বললে—পান মুখে দিয়ে গল্প করতে পারি নে ভাই আমি।

    ভূতনাথ বললে—তারপর কী হলো?

    আবার মুখে রস জমে উঠেছে। চুনীদাসী আবার সরে গিয়ে পিক ফেললে। বললে—দূর হোক গে ছাই, মুখটা ধুয়েই ফেলি। জদা খেয়ে তোমার সঙ্গে গল্প করতে জুত হচ্ছে না, ডাকলে— থাকো, এক ঘটি জল দে তো মেয়ে?

    চুনীদাসীর পান খাওয়া, দোক্তা খাওয়া, ওঠা-বসা সমস্ত দেখতে দেখতে ভূতনাথের কেমন যেন একটা অদ্ভুত কথা মনে হলো। এই মেয়েকে নাচলে কেমন দেখাবে, কে জানে। ছোটকর্তা তো অল্পে সন্তুষ্ট নয়! ছোটবাবুকে তৃপ্তি যে-সে দিতে পারে না। শুধু রূপ, আর রূপের বাহার থাকলেই চলবে না। সে-রূপের প্রকাশ চাই। অঙ্গভঙ্গি চাই। রূপকে বিকৃত করে, বিশ্লেষণ করে তবে ছোটকর্তার শান্তি। এই ঘর। এই ঘরের মধ্যেই এতদিন ছোট কর্তা তার পরিতৃপ্তি খুঁজেছে এবং পেয়েছে। কিন্তু চুনীদাসীকে বাইরে থেকে দেখে তো কিছু বোঝা যায় না। কোথায় এর বৈশিষ্ট্য। কোথায় এর বৈচিত্র্য। এই মেয়েই হাসিতে, গানে, কথায়, নাচে মন্ত্রমুগ্ধ করে রাখে ছোটকর্তাকে। এখন দেখলে কেমন অবাক লাগে! অথচ বড়বাড়িতে যারা পেশাদার নাচিয়ে গাইয়ে আসে, তাদের দেখেই বোঝা যায়। কজ্জনবাঈ, নাগ্নে বাঈ-তাদের চোখের চাউনি আলাদা। তাদের চোখও নাচে অনবরত। নান্নে বাঈ যখন গজল গাইছিল—নয়ন না মেরে—’, তখন তা বোঝা যায়। হাসিনীকেও ধরা সহজ নয়। বড়মাঠাকরুণ বয়েসকালে নাচতে পারতো। পা দেখলে ধরা যায় এখনও। একএকদিন গাড়িতে ওঠবার সময় পায়ের যেটুকু কাপড় সরে গিয়েছে তা দেখে বুঝেছে ভূতনাথ। বুড়ী হয়ে গেলেও আঁটোসাঁটো দেহ। কিন্তু এই চুনীদাসী যেন এক আশ্চর্য মেয়েমানুষ। ভূতনাথের এমন মেয়েমানুষের সঙ্গে এই প্রথম মুখোমুখি কথা বলা।

    চুনীদাসী গল্প করে যায়। বলে—তুবড়ি ফাটছে দমাদম শব্দে। ও-বাড়িতে ছাদের আলসের ওপর সার-সার চল্লিশটা তুবড়ি বসিয়ে চল্লিশটা মেয়ে একসঙ্গে আগুন ধরিয়ে দিচ্ছে। চল্লিশটা তুবড়ি অন্ধকার আকাশের দিকে মুখ করে শো শো শব্দে ফুলের তোড়ার মত উড়ে চলেছে। একসঙ্গে চল্লিশটা মেয়ের হুল্লোড়। আর তাদের এক শ’ বাবুর। পাড়াটা মাত হয়ে উঠেছে। ছাদের ওপরেই মাদুর পেতে হারমোনিয়ম নিয়ে নাচ-গান চলেছে। এক শ’ বাবু একসঙ্গে চিৎকার করে ওঠে—কেয়াবাৎ-কেয়াবাৎ

    হঠাৎ এদিক থেকে বিন্দাবনও ছুড়লো তুবড়ি। তুবড়ির ঝাঁক! ও-মা-গো-বলে ছিটকে পড়লো মেয়েদের দল! গানবাজনা মাথায় উঠলো তাদের। শাড়িতে, সেমিজে আগুনের ফুল্কি লেগেছে। উদ্দাম হয়ে উঠেছে আসর। তারপর আরো তুবড়ির ঝক গিয়ে পড়লো আবার।

    ছোটকর্তা বললেন—দে বৃন্দাবন, সব মাগীদের পুড়িয়ে মার, পাঁচ আনার তুবড়ি নিয়ে বাজি পোড়াতে আসে।

    নিচে ছিল মুসলমানদের হোটেল। সেখানে গিয়েও পড়লো কয়েকটা। রাস্তায় লোক জমে গেল। এক-একটা তুবড়ি শোঁ শোঁ করতে করতে যায় আর ছাদের ওপর পড়ে ছত্রখান হয়ে যায়, আগুনের ফোয়ারা ছোটে। কিলবিল করে ওঠে মাগীগুলো। মাগীরা বলে—এ কী কাণ্ড মা, পালিয়ে যাই নিচে।

    কিন্তু বাবুরা.ছাড়বে কেন? তারা পয়সা খরচ করে ফুর্তি করতে এসেছে, এত সহজে মাটি হবে সব! দু’একটা মাগী মরলো কি গেল, তাতে তাদের কী। সারা বছরে যাদের বাবু জোটে না, কালীপূজোর দিন তাদের ঘরেও লোক আসে। দুটো ভালো-মন্দ জিনিষ পেট ভরে খেতে পায়। মাংস হয়, ভালো ভালো মদ আসে—ভালো জামা-কাপড় পায়, সেদিনটা এমন করে নষ্ট হবে নাকি! গঙ্গায় গিয়ে দেখেছি, পানসির ভাড়া চৌডবল হয়ে গিয়েছে। কালীপূজো, কার্তিক পূজো—এগুলোই তো ওদের মরশুম। গল্প করতে করতে চুনীদাসী আবার ডাকলে-সরবৎ হলো তোর বিন্দাবন?

    ভূতনাথ বললে–তারপর?

    -তারপর একটা তুবড়ি এসে পড়লো একেবারে ছোটকর্তার গায়ের…

    হঠাৎ বৃন্দাবন সরবৎ নিয়ে ঘরে ঢুকলো। বললে—ধরুন শালাবাবু।

    বিছানার পাশে রাখলো দু’ গেলাশ সরবৎ। রূপোর গ্লাশ। বেশ ঝকঝক করছে। ওপরে বৃন্দাবনী কাজ করা। একটাতে লেখা চুনীদাসীর নাম। আর একটাতে কৌস্তুভমণি চৌধুরীর। ছোটকর্তার গেলাশটা ভূতনাথের সামনে রাখলো বৃন্দাবন। আবার বললে-চেঁ-চো করে মেরে দিন শালাবাবু, দেরি করবেন না।

    বৃন্দাবন চলে গেল। ভূতনাথ বললে–কিসের সরবৎ এ?

    —খেয়েই দেখোনা ভালমানুষবাবু, তেঁতুল দিয়ে বেশ করে গেলাশ মেজে দিয়েছে, বামুনমানুষকে কি আমরা যা-তা জিনিষে খেতে দিতে পারি—নাকি আমাদের আক্কেল বিবেচনা নেই?

    ভূতনাথ তবু দ্বিধা করতে লাগলো। সিদ্ধি নয় তো? সেবার ছুটুকবাবুর আসরে সিদ্ধি খেয়ে কী কাণ্ড—প্রাণ যায় আর কি—মনে হয় বুঝি সমস্ত বাড়িটা উল্টে যাচ্ছে।

    চুনীদাসী ততক্ষণে নিজের গেলাশটা নিয়ে চুমুক দিতে শুরু করেছে। সমস্তটা শেষ করে মুখ দিয়ে একটা শব্দ বার করলে-–আঃ, বেশ হয়েছে সরবৎটা।

    কিন্তু এদিকে আর এক কাণ্ড ঘটে গেল। সরবৎ মুখে তুলে চুমুক দিতেই মাথাটা যেন হঠাৎ ঘুরে উঠলো ভূতনাথের। আর সঙ্গে সঙ্গে হাত পিছলে গেলাশটা কাত হয়ে পড়েছে।

    —ঐ যাঃ, কী হলো—চুনীদাসী হঠাৎ সামনে এগিয়ে এসে ধরতে গেল। কিন্তু তার আগেই যা হবার তা হয়ে গিয়েছে। সরবং গড়িয়ে বিছানা ভিজিয়ে দিয়েছে। একাকার হয়ে গিয়েছে সমস্তটা জায়গা। চুনীদাসী বললে–পড়ে গেল? দেখি দেখি?

    তখন বেশ অপ্রস্তুত হয়ে পড়েছে ভূতনাথ। তার নিজের জামায় কাপড়েও পড়েছে। বিছানাটাও নষ্ট হয়ে গেল।

    চুনীদাসী এগিয়ে এসে নিজের শাড়ি দিয়ে ভূতনাথের হাত মুখ মুছিয়ে দিলে। ভূতনাথের দিকে চেয়ে যেন বুঝতে পারলে ব্যাপারটা। ভূতনাথও অপ্রস্তুত হয়ে বললে—মাথাটা ঘুরে উঠলো কি না—

    কিন্তু মনে হলো আর যেন বেশিক্ষণ বসে থাকতে পারবে ভূতনাথ।

    –এখনো ঘুরছে মাথাটা?

    ভূতনাথ বললে—সরবতে কী ছিল?

    —থাকবে আবার কী ভালোমানুষবাবু, সবাই খেয়েছে, এই তো আমিও খেলাম!

    –তা হলে এমন করছে কেন শরীরটা। ভূতনাথের মনে হলো সে বুঝি এখনি টলে পড়বে। মাথাটা ঝিম ঝিম করছে। সমস্ত শরীরে যেন একটা দোলানি। ছুটুকবাবুর আসরে সিদ্ধি খেয়ে যেমন হয়েছিল এ তেমন নয়। যেন বিষ খেয়েছে সে। বিষ কখনও খায়নি ভূতনাথ। বিষ খেলে কেমন হয় তাও জানবার কথা নয়। কিন্তু তবু যেন মনে হলো তাকে এরা বিষ খাইয়েছে সত্যি-সত্যি। সমস্ত ঘরখানাও যেন তার সঙ্গে দুলছে। দেয়াল, দেয়ালের ছবি, হারমোনিয়মের বাক্স। বয়া তবলা জোড়া

    -মাথাটা টিপে দেবো? চুনীদাসী ভূতনাথের মাথাটা নিয়ে নিজের কোলের ওপর রাখলো। বললে একটু ঘুমোবার চেষ্টা করো তো ভালোমানুষবাবু?

    চুনীদাসীর কোলের ওপর শুয়ে কেমন যেন আরাম হলো। কেমন যেন এক অন্য ধরনের স্বস্তি। মাথার তলায় চুনীদাসীর নতুন শাড়িটা কেমন যেন খস খস করছে। চুনীদাসী কি আতর মেখেছে! আতরের গন্ধ বুক ভরে টানতে লাগলো ভূতনাথ। মনে হলো চুনীদাসী তার মাথার চুলের মধ্যে যেন আঙুল দিয়ে আস্তে আস্তে টিপে দিচ্ছে। কপালের কাছে হাতটা আসতেই কেমন আরাম লাগে। চুনীদাসীর আঙুলগুলো কী নরম!

    চুনীদাসী বললে—একটু ঘুমোবার চেষ্টা করে দিকি ভালোমানুষবাবু।

    ভূতনাথ বললে-তোমার কাপড়টা খারাপ হয়ে যাচ্ছে।

    —তা যাক, এখন মাথা ধরাটা সারলো একটু? বলে নিজের কাপড় দিয়ে ভূতনাথের মুখের ঘাম মুছিয়ে দিলে চুনীদাসী।

    সত্যি যেন আরাম হচ্ছে বেশ। ভূতনাথ বললে—তোমাদের খুব কষ্ট দিলাম।

    -কষ্ট! কষ্ট কিসের ভালোমানুষবাবু, আজ এলে গল্প করতে, তোমাকে আমিই ডেকে পাঠিয়েছিলাম, আর কী কাণ্ড বলে দিকি?

    তা তোমার কিছু ভাবনা নেই।

    ভূতনাথ বললে-বংশী হয় তো খুঁজবে, আজ সকাল সকাল ফিরতে বলেছিল। কাজও ছিল একটা।

    -একটু ঘুমোও, ঘুমিয়ে নাও, শরীরটা ভালো হলে তোমায় গাড়ি ডেকে পাঠিয়ে দেবো-কিচ্ছু ভেবো না।

    আবার চোখ বুজতে চেষ্টা করলো ভূতনাথ। কিন্তু মাথার মধ্যে সব যেন গোলমাল হয়ে যায়। হঠাৎ একবার তন্দ্রা আসে আর মনে হয় ঘরে যেন অনেক লোকের ভিড় জমেছে। পুলিশ ঢুকেছে ঘরে। বলছে—একে খুন করেছে কে? আবার যেন মনে হলে বৃন্দাবন ঘরে ঢুকে দাত বার করে হি-হি করে হাসছে। চুনীজাসী বলছে—এইবার একে রাস্তায় ফেলে দিয়ে আয়, আর দরকার নেই। চুনীদাসীরও যেন অন্যরকম চেহারা। বোতল বার করে গেলাশে মদ ঢালছে। তারপর বললে—ডাক তো কাকে, তবলা বাজাবে। তার মধ্যে মনে হলো যেন চুনীদাসী শাড়ি খুলে ফেলেছে। চুলটা বেণী করে বেঁধে নিয়েছে। মাথায় দিয়েছে পাতলা জাফরানি ওড়না। আর মখমলের ঘাঘরা পরেছে। বুকে বেঁধেছে কঁচুলী। তারপর ওধারে কারা তবলা বাজাচ্ছে। গান গাইছে! আর ঘুরে ফিরে নাচছে চুনীদাসী। চুনীদাসীর যেন আর সে-চেহারা নেই। মাঝে মাঝে চোখ ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে অঙ্গভঙ্গী করছে। আসরে মদ উড়ছে, সিগারেটের ধোঁয়া জমেছে। আর ওধারে এক কোণে বসে আছে ছোটকর্তা! বসে বসে রূপোর গড়গড়া থেকে রঙিন রেশমী কাগজে মোড়া ফরসি মুখে দিয়ে ধীরে ধীরে তামাক টানছে। ঘুমের মধ্যেই মনে হলো–কখন সব এল এরা। তাকে কি কেউ দেখতে পাচ্ছে না। ভয়ে জড়সড় হয়ে চোখ মেলতেই সব দৃশ্য ছায়ার মতো যেন মিলিয়ে গেল।

    চুনীদাসী ঠিক তেমনি করেই কোলে মাথাটা নিয়ে বসে আছে।

    বৃন্দাবনও সামনে গম্ভীর মুখে দাঁড়িয়ে ছিল। বললে—ওই চোখ চেয়েছেন শালাবাবু।

    চুনীদাসীও নিচু হয়ে মুখের কাছে মুখ এনে বললে—এখন

    একটু আরাম হচ্ছে ভালোমানুষবাবু?

    ভূতনাথ বললে-ছোটকর্তা এসেছিল না?

    —কোথায়! না তো-স্বপ্ন দেখছো তুমি। তুমি ঘুমোও, ঘুমোবার চেষ্টা করো।

    বৃন্দাবন হঠাৎ বললে—আচ্ছা শালাবাবু, ছোটকর্তাকে একবার নিয়ে আসতে পারেন না এখানে, একদিন শুধু আসবে—একবার।

    ভূতনাথ অভিভূতের মতো হাঁ করে চেয়ে রইল বৃন্দাবনের দিকে।

    বৃন্দাবন আবার বললে-একবার যদি নিয়ে আসতে পারেন শালাবাবু তো আপনার জীবনে খাওয়া-পরার ভাবনা থাকবে না আর।

    চুনীদাসীও বললে—এই দেখছে তো ভালোমানুষবাবু, এই ঘরবাড়ি, আমার গয়নাগাঁটি—সব তোমার হবে।

    বৃন্দাবন বললে—ছোটমা আপনাকে আর কী দিয়েছে শুনি? এত যে করেন তার জন্যে, ভালো করে তো খেতেও দেয় না শুনেছি। কেন ওখানে পড়ে আছেন—ওই যে ছোটমা’র সক সম্পত্তি, ও-সব নেবে বংশী, মদ তত ধরিয়েছে, এখন মদের মুখে বেহুশ করে সিন্দুক খুলে সব নেবে আজ্ঞে।

    চুনীদাসী বললে—আর এক কাজ করতে পারে না, ছোটবৌঠানের সঙ্গে তো তোমার খুব ভাব—একদিন একটা কিছু খাইয়ে শেষ করে দেবে একেবারে জন্মের মতো সাধ মিটে যাবে।

    বৃন্দাবন বললে তার দরকার নেই, আপনি একবার ছোটকর্তাকে, আনবেন এখানে, আমি শুধু এক গেলাশ সরবৎ খাওয়াবে তাকে। এবার নতুন একরকম সরবৎ—সে খেলে আর বাড়ি ফিরতে মন চাইবে না।

    এত সব কথা। কথা আর প্রশ্ন। ভূতনাথের মাথাটা আবার ঘুরতে লাগলো। চোখ বুজতেই আবার সেই সব দৃশ্য। চুনীদাসী এবার গায়ের ওড়না, ঘাঘরা, কঁচুলী সব খুলে ফেলেছে। পায়ে শুধু ঘুঙুর। ঘুরে ঘুরে উদ্দাম হয়ে নাচছে। ঘোরবার সঙ্গে সঙ্গে মাথার বেণীটা উচু হয়ে হয়ে ঘুরতে শুরু করেছে। ছোটকর্তা গড়গড়া থেকে মুখ নামিয়ে আর একবার গেলাশে চুমুক দিলে। এমন সময় যেন হুড়মুড় করে পুলিশের দল ঘরে ঢুকে পড়লো। বললে—ভূতনাথবাবুকে খুন করেছে কে? তারপর আবার যেন মনে হলো ছোটকর্তার হাতে হাতকড়া বাঁধা, চুনীদাসীর হাতে হাতকড়া বাঁধ, বৃন্দাবনের হাতে হাতকড়া বাধা, সকলকে পুলিশে ধরেছে! হঠাৎ আবার চোখ খুললো ভূতনাথ। চুনীদাসী তখনও তার মাথাটা কোলে নিয়ে তেমনি বসে আছে।

    আর বৃন্দাবন দাঁড়িয়ে আছে মুখ গম্ভীর করে, আর তার পাশে রয়েছে মধুসূদন। বড়বাড়ির তোষাখানার সর্দার মধুসূদন। লোচন, শ্যামসুন্দর আর বেণী!

    ভূতনাথ কেমন অবাক হয়ে গেল। ওরা এখানে কেন?

    মধুসূদন বললে—যদি পারে কেউ তো শালাবাবুই পারে, শালাবাবুর সঙ্গে ছোটমা’র খুব মেলামেশা। এই তো ছুটুকবাবুর বিয়ের সময় ছোটমা’ই শালাবাবুকে কাপড়-জামা-জুতো দিয়েছে, অথচ দেখো না, আমরা এতদিন কাজ করছি, আমাদের বেলায় শুধু একখানা করে ধুতি আর গামছা।

    লোচন বললে—আমি বলার মধ্যে বলেছিলাম, দৈনিক একটা করে আধলা—আর মিনি পয়সায় তামাক খেয়ে যাবে—যেমন সবাই খায়—বড়লোকের পয়সা-কে হিসেব রাখে—তাই-ই রাজী হলেন না শালাবাবু, ছোটমা’র কাছে শুনেছি পচ শ’ টাকা জমা রেখেছে, বংশী নিজে বলেছে আমাকে।

    বৃন্দাবন বললে—আচ্ছা, মধুসূদন কাকা, ছোটমা’কে মদ ধরালে কে?

    মধুসূদন বললে—ওই বংশী, বংশী আর ওর বোন চিন্তা—সব্বনাশ তো ওরা দুজনেই করছে।

    লোচন বললে—সব্বনাশের আর বাকি আছে কি।

    বৃন্দাবন বললে—তা গাড়ি কেন বেচে দিলে মেজবাবু?

    বেণী বললে—ও-গাড়ি মেজবাবুর পছন্দ হলেনি যে, বিলেত থেকে নতুন গাড়ি আসছে যে বাবুর জন্যে।

    মধুসূদন ধমক দেয়–তুই থাম, জানিস তো সব, এবার সুখচরের প্রেজার বসিয়ে দিয়েছে একেবারে। ছুটুকবাবুর বিয়েতে কেউ নজর দিতে এল না, কত গিয়ে বললাম—ধন্না দিলাম দোরে দোরে, বললে-বিলের জল শুকিয়েছে আজ দশ সন, গেল বছরে বাঘ এসেছিল বাদায়, ধনে পেরাণে মরছি আমরা খেয়াল নেই তোমাদের, বলে গিয়ে নায়েববাবুকে পেয়াদার পো, আমরা বাঁচলি জমিদারের নাম। মেজবাবু সব শুনে বললে—এবার আমি নিজে যাবো, চাবুক নিয়ে যাবো।

    বৃন্দাবন বললে—যাবে নাকি মেজবাবু?

    —মেজবাবু আর যেয়েছে। সরকার মশাই বললেও মেজবাবু গেলেও যা হবে, না গেলেও তাই হবে।

    বৃন্দাবন জিজ্ঞেস করে–কী হবে?

    –কলা হবে-বলে বুড়ো আঙুল উঁচু করে দেখায়। বলে— আমার কি, আমি গিয়ে উঠবে নিজের ঘরে, সুখ-ভাত কপালে

    থাকে দুখ-ভাতই খাবো। কলকাতার আর সে-সুখ নেই বিন্দাবন, আমার জ্যাঠা আসতো এখানে, রথের সময় ফিরে গিয়েছে চার কুড়ি পাঁচ কুড়ি টাকা নিয়ে। যেবার সেপাইরা ক্ষেপে উঠলো কলকাতায় বারাকপুরে, সেবার কত সস্তায় জমি-জমা কিনলে, পুকুর কাটালে, তুলসীমঞ্চ করে দিলে আমাদের গাঁয়ে, সাত দিন যজ্ঞি হলো বাড়িতে।

    লোচন বললে—কেন, বড়বাড়িতেই কি কম সুখ ছিল নাকি–বড়বাবু তখন বেঁচে, সকালবেলা কুস্তিটুস্তি করে এসে সবে বসেছে নাচঘরে, আমি বেশ করে তামাক সেজে দিয়েছি গড়গড়ায়, মেজাজ ভালো ছিল—সন্ধ্যেবেলা বখশিশ হয়ে গেল এক টাকা—এখন শুধু শুখো মাইনে।

    বৃন্দাবন হতাশ হয়ে যায়। বলে—চুনীদাসীকে তুই বুঝিয়ে বল তো-ও যে অত ছোটবাবু ছোটবাবু করে—ছোটবাবু ছাড়া কি আর বাবু নেই কলকেতা শহরে। এই তো ঠনঠনের ছেনি দত্তর ছেলে নটে দত্ত রয়েছে—আসবে বলেছে আমাকে—কিন্তু ও কেবল বলে—ছোটবাবু।

    মধুসূদন বলে–ছোটবাবুতে আর শাস নেই রে, যেটুকু আছে বংশীই সব খেয়ে নেবে—দেখিস।

    ভূতনাথ আবার চোখ বুজলো। যেন সব গোলমাল হয়ে যায় আবার। মনে হয় যেন সে স্বপ্ন দেখছে। যেন সে শুয়ে আছে ছোটবৌঠানের ঘরে। ছোটবৌঠানের তখন বেসামাল অবস্থা। টানছে কেবল ভূতনাথকে। বলে—ছোটকর্তা যদি জানবাজারে যায়—আমিও থাকবে না বাড়িতে। কোথায় যাবি বল তো ভূতনাথ, বরানগরের বাগানবাড়িতে যাবি! খড়দ’র রামলীলার মেলায়? গঙ্গায় বেড়াবি পানসিতে চড়ে? তারপর হঠাৎ যেন খানিকটা আতর ঢেলে দিলে ভূতনাথের গায়ে। তারপর চিরুণী দিয়ে চুলটা আঁচড়ে দিলে। তারপর বোতল থেকে খানিকটা ঢেলে গেলাশটা বাড়িয়ে দিলে ভূতনাথের দিকে। বললে—খা, একটু চেখে দেখ।

    ভূতনাথ বললে—খাবো না আমি, বমি আসবে।

    -কিচ্ছু হবে না, ওরকম আমারও হতো, একটু একটু অভ্যেস কর, সব ঠিক হয়ে যাবে।

    –কিন্তু কার ওপরে রাগ করে নিজের এমন সব্বনাশ করছে। বৌঠান?

    —দূর, রাগ হতে যাবো কেন, দেখবি এ-খেলে আর রাগ দুঃখ কিছু থাকে না, মনে হবে তোর সব আছে, মনে হবে তোর ছেলে

    আছে, সংসার আছে, স্বামী আছে—

    হঠাৎ বাইরে যেন কার জুতোর মশ মশ আওয়াজ হলো। সবাই সন্ত্রস্ত হয়ে উঠেছে। বৃন্দাবন এক মুহূর্তে বাইরে গিয়েই আবার দৌড়ে ফিরে এসেছে ঘরে।

    চুনীদাসী জিজ্ঞেস করলে—কে? কে আসছে?

    -ছেনি দত্তর ছেলে নটে দত্ত, পালাও মধুসূদন খুড়ো, যা লোচন, তোর যা এ-ঘর থেকে—কালকে দত্তমশাইকে আসতে বলেছিলাম কি না?

    কথাটা শুনেই চুনীদাসী ভূতনাথের মাথাটা কোল থেকে নামিয়ে দিলে। তারপর দু’হাত দিয়ে খোঁপাটা ঠিক করে নিতে নিতে বললে—ভালোমানুষবাবুকে ঘর থেকে সরিয়ে নিয়ে যা তো বিন্দাবন!

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40 41 42 43 44 45 46 47 48 49 50
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleবেগম মেরী বিশ্বাস – বিমল মিত্র
    Next Article রচনা সংগ্রহ – অক্ষয়কুমার মৈত্রেয় (নন-ফিকশন)

    Related Articles

    বিমল মিত্র

    বেগম মেরী বিশ্বাস – বিমল মিত্র

    May 29, 2025
    বিমল মিত্র

    আসামী হাজির – বিমল মিত্র

    May 29, 2025
    বিমল মিত্র

    কড়ি দিয়ে কিনলাম ১ – বিমল মিত্র

    May 28, 2025
    বিমল মিত্র

    কড়ি দিয়ে কিনলাম ২ – বিমল মিত্র

    May 28, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Our Picks

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }