Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    সাহেব বিবি গোলাম – বিমল মিত্র

    বিমল মিত্র এক পাতা গল্প740 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    ৩২. বড়বাজারে গলির ভেতর দাঁড়িয়ে

    বড়বাজারে গলির ভেতর দাঁড়িয়ে ভূতনাথ ভাবছিল—এবার কোথায় যাওয়া যায়। চাকরির জন্যে এমনি ঘোরাঘুরি করতে করতে একদিন না একদিন লেগে যাবেই। এবার বড়বাড়ির দিকে ফিরলে হয়। আজ সকাল সকাল বংশী ফিরতে বলেছে! ছোটবাবু আজ আবার জানবাজারে চুনীদাসীর কাছে যাবে! ছোটবাবু চুনীদাসীর কাছে চলে গেলেই ছোটবৌঠান তাকে নিয়ে বেরোবে। কোথায় বেরোবে কে জানে! কথাটা ভাবতেই যেন কেমন ভয় হলো ভূতনাথের। বড়বাড়ির আইনবিরুদ্ধ কাজ করবে বৌঠান। তার সঙ্গে ভূতনাথকে জড়ানো কেন। কিন্তু এবার ফিরতে হয়। ফিরতে গিয়েই হঠাৎ লোচনের সঙ্গে মুখোমুখি হয়ে গেল।

    —লোচন এদিকে?

    —আজ্ঞে, আপনি যে এখানে?

    —আমি তো চাকরির চেষ্টায় রোজই আসি—কিন্তু তুমি? বাবুর বাড়ি নেই আজ?

    —তা আছে, চাকরি করি বলে কি আর বেরোতে নেই শালাবাবু? না, ওই মাইনেতে চলে! আর মাইনে পত্তোরই নিয়ম মতে দেয় না বিধু সরকার মশাই, উপরি আয় তো উঠেই গেল শালাবাবু।

    -কেন?

    —কই তামাক খাবার লোকই কমে যাচ্ছে, এখন বাডসাই চায় সবাই, মালও কমিয়ে দিয়েছে, নতুন করে আর ধরাতে পাচ্ছিনে কাউকে, নিজের পথ নিজে না দেখলে আর চলবে কদ্দিন, আপনাকে বললুম, একটা করে আধলা:..

    ভূতনাথ বললে—আমারই তো চাকরি নেই দেখছে লোচন, গরীব মানুষ, নেশা করে শেষে–

    —ঠিক কথা শালাবাবু, তাই তো এদিকে রোজ একবার ঘোরাঘুরি করি, কিন্তু আর চাকরি করবো না শালাবাবু।

    —কেন?

    —আজ্ঞে, চাকরিতে সে সুখ নেই আর, যা করে গেলাম বড়বাড়িতে এমন আর কোথাও পাবে না, ওই তো আমাদের দেশের এক লোক ঢুকেছে ননীবাবুর বাড়িতে, পটলডাঙার ননীবাবুর বাড়িতে, কিন্তু ভারী জ্বালা তার!

    –কোন্ ননীবাবু?

    –আজ্ঞে, ওই যে ছুটুকবাবুর বন্ধু! এখন তো তিনি মস্ত লোক। আপিস খুলেছেন কত। তা সে কাজ করে বাড়িতে আর ফাইফরমাশ খাটে, পেয়ারের লোক, খরচার টাকাকড়িও হতে পায়, কিন্তু হিসেব বড় কড়া ননীবাবুর! শুনি কিনা, রোজ সকাল সাতটার সময় হিসেব দিয়ে আসতে হয় সাহেবের কাছে, হিসেবে গোলমাল করলেই চাকরিটি যাবে। এতে আর বড়বাড়ির ব্যাপার নয়, কে খাচ্ছে, কে চুরি করছে, কে অপচো নষ্ট করছে। কোনোদিন এখানে হিসেব বলে কিছু ছিল না আজ্ঞে। বেণী কাপড় কুঁচোচ্ছে, তার মধ্যে ক’খানা কাপড় বাইরে চলে গেল তা আর কেউ মনে রাখেনি, ফুরিয়ে গেল তো আবার নাও। এই তামাক-টিকের ব্যাপারটাই দেখুন না, কতখানি বাজার থেকে এল, কতটা খরচা হলো কেউ কোনো দিন দেখেছে?…আমিই সব—আমার জিম্মায় মাল ছেড়ে দিয়েই সরকার মশাই খালাস কিন্তু ননীবাবুর বাড়িতে একটা আধলার এদিক-ওদিক হোক দিকি সাহেব তো মদ খেয়ে পড়ে থাকে, কিন্তু পয়সার ব্যাপারে ভারী টনটনে। এদিকে যত রাত্তিরেই শুক, ননীবাবুর ওদিকে ভোরবেলা ওঠা চাই। আমাদের বড়বাড়ির মতো নয়—এমন চাকরি আর কোথায় পাবো শালাবাবু! তাই তো বলছিলাম আজ্ঞে, চাকরিতে যা সুখ করেছি—করেছি। এখন আর সে সুখ নেই, এখন নিজেই নিজের পথ দেখতে হবে, এখন তো দেশে ফিরে আর হালচাষ করতে পারবো না, মাঠের কাদামাটিও মাখতে পারবো না গায়ে।

    –তা চাকরি না করতে চাও তো ব্যবসা করবে নাকি?

    —আজ্ঞে, ব্যবসা কী করব তাই তো ভাবছি, ক’টা ঠেলাগাড়ি নিয়েছিলাম আজ্ঞে—কিন্তু তাও টিকলো না। ঠিকমতো জমা পাই না—তারপরে মেরামতের খরচা আছে, তা এবার ভাবছি একটা যুৎসই ঘর পেলে পানের দোকান দেবে।

    —পানের দোকান?

    —আজ্ঞে, পানটা আমাদের জাতব্যবসা, দু’একজন খুলেছে। তেমন তেমন জায়গায় একটা ঘর পেলে ও-চাকরি ছেড়ে দেবো। কতদিন মাইনে না পেয়ে চলে বলুন তো—আর আমি না ছাড়লেও আমায় ওরাই ছাড়িয়ে দেবে! এমনিতেই বাবুদের দেনা হয়ে গিয়েছে শুনছি।

    —কোথায় শুনেছো?

    —আজ্ঞে, মধুসূদন তো বলে। তা ধরুন এবারে ছুটুকবাবুর শ্বশুরই তো সব বুদ্ধি দিচ্ছে—বাবুরা নাকি কয়লার খনি কিনবে জমিদারী বেচে দিয়ে, তা বাবুদের ধরুন অনেক টাকা আছে, এদিক থেকে লাখ টাকা গেল তো ওদিক থেকে লাখ টাকা এল—হরেদরে বাবুরা পুষিয়ে নেবে—তা বলে এত চাকর-বাকর তো রাখবে না-আমার চাকরি তো আগে যাবে শালাবাবু।

    ভূতনাথ অবাক হয়ে গেল কথাটা শুনে। বললে—তুমি ভালো রকম শুনেছো?

    -কীসের কথা?

    —এই জমিদারী বেচে কয়লার খনি কেন?

    -আজ্ঞে, দেখেন নি বালকবাবু রোজ আসছেন, হাবুলবুতে আর ছুটুকবাবুতে দিনরাত পরামর্শ চলছে। মেজবাবু পর্যন্ত পায়রা ওড়ায়নি ক’দিন সকালবেলা, সেদিন বড়ো মেজো আর হাসিনী বউঠাকুরুণরা এল বড়বাড়িতে। ভৈরববাবু, মতিবাবু, তারকবাবুরাও যেমন আসে তেমনি এসেছিল, মেজবাবুও বেরুচ্ছিলো, হঠাৎ বালকবাবু এসে পড়লো আর যাওয়া হলো না, তারপর নাচঘরে সেই যে বসলো সবাই, রাত তিনটে এস্তোক কথাবার্তা চললো— তামাক দিতে-দিতে আমার হাত-পা ব্যথা হয়ে গিয়েছে একেবারে।

    -কী কী শুনলে?

    -আমি মুখ্য মানুষ, কথাবাত্রা কী বুঝতে পারি। সরকার মশাই ছিল সারা রাত, জিজ্ঞেস করবেন সরকার মশাইকে, উনিসব জানেন।

    –বিধু সরকার আমাকে বলতে যাবে কেন?

    -কিন্তু এতে আর সন্দেহ নেই শালাবাবু, সেদিন দেখলুম লোকজন এসে পুকুরটা মাপজোক করে গেল—শুনলুম পুকুরটা নাকি বোজামো হবে, বুজিয়ে ও জমিটা বেচা হবে—খদ্দের ঠিক হচ্ছে—ভেতরে ভেতরে কী যে সব হচ্ছে, কে আর জানতে পারবে বলুন আমরা তো চাকর মানুষ।

    –কিন্তু বংশী কিছু বলেনি তো আমাকে! সে জানে না?

    –বংশী আজ্ঞে ছোটমা’র মুখের দিকে হাঁ করে চেয়ে বসে আছে, এবার তো…বলতে বলতে যেন থেমে গেল লোচন।

    –থামলে কেন, বলো।

    —আজ্ঞে, অন্দরবাড়ির খবর, ও-সব কথা না বলাই ভালো, মেয়েছেলের কথা আমরা বারবাড়ির লোক কি তেমন জানতে পারবে—তবে যা শুনতে পাই।

    -কী শুনতে পাও লোচন, শুনি না?

    —আজ্ঞে, আপনি কাউকে বলবেন না বলুন-বললে আমার সব্বেনাশ হয়ে যাবে।

    –আমি বলবো না, কথা দিচ্ছি।

    গলা নামিয়ে লোচন বললে—বংশী ছোটমাকে মদ ধরিয়েছে আজ্ঞে, আমরা গরীবগুর্বো লোক, আমাদের মেয়েছেলেদেরও এমন কাণ্ড বাপের আমলে শুনিনি কখনও শালাবাবু, কিন্তু বংশী এ-পাপের ফল ভুগবেভুগবে-ভুগবে, এই বিষুবারের বারবেলায় বলে রাখলুমও ভেবেছে, মদ খাইয়ে বেহুশ করে ছোটমা’র গয়নাগাঁটি সব নেবে—কিন্তু ভগমান বলে একজন মানুষ মাথার ওপর আছেন শালাবাবু, তার চোখ এড়াতে পারবে না কেউ–হ্যাঁ।

    ভূতনাথ কিছুক্ষণ কোনো কথা বলতে পারলে না।

    লোচন বললে-বিশ্বাস হচ্ছে না বুঝি আপনার—যদি বিশ্বাস হয় তো মধুসূদন কাকাকে জিজ্ঞেস করবেন সত্যি কি না। তারপর থেমে আবার বলতে লাগলো—সেদিন পাল্কি-বেহারাদের জবাব হয়ে গেল শুনেছেন বোধ হয়—তা এদানি পাল্কি তো আর কেউ চড়ত না, বসে বসে খেত, কাজকম্ম কিছু ছিল না তাদের, কিন্তু যাবার সময় কী কান্না, হাউহাউ করে কান্না শালাবাবু। আজ তিন পুরুষ ধরে ওইখানে বাস করছে, আর তো কিছু কাজ জানে না, বিধু সরকার মশাই বকাঝকা শুরু করলে। বললে—মড়া-কান্না কাঁদিসনে দুপুরবেলা—যা, চলে যা।

    বসন্ত বেয়ারা মাগ-ছেলে নিয়ে গলায় গামছা দিয়ে বললে–সরকার মশাই যাবো কোথায়?

    সরকার মশাই বললে—কুলীগিরি করে খে গে যা—যেখানে ফা পারিস কর গে—বাবুদের কেন জ্বালাচ্ছিস। এমন মড়া-কান্না কাদলে বাবুদের ধম্মের সংসারে অমঙ্গল হবে যে।

    তা একটা কাপড় নয়, গামছা নয়, বখশিশ নয়—তিন পুরুষের ভিটে ছেড়ে সেই দুপুর রদ্দরে বেরিয়ে গেল তো! বাবুরা কেউ তো দেখতেও এল না। আমাদেরও ওই দশা হবে শালাবাবু। বাড়িটার দেখেন না, যেন সে ছিরি নেই। আগে আসছে-লোক, যাচ্ছে-লোককত বোলবোলা ছিল–আপনিও তো দেখেছেন হুজুর–সেবার সেই রাক্ষস এসেছিল মনে আছে আজ্ঞে? একটা আস্তু পাঠা খেয়ে ফেললে, হাড় মাংস ছাল কিছু ফেললে না, তারপর একবার রসগোল্লা খাওয়ার পদ্ম হলো-ভৈরববাবুতে আর একজন লোকে! মেজবাবু বললে—যে দশ সের রসগোল্লা খেতে পারবে তাকে দশটা টাকা দেবে আর একটা গরদের জোড়—তারপর দোলের সময় দেখেছি, আবীরের ছাড়াছড়ি—বনমালী সরকারের গলি লাল হয়ে যেতে আজ্ঞে—নাচ গান করতে আসতে বাঈজীরা, তিনদিন চারদিন ধরে নাচই হচ্ছে গানই হচ্ছে-হাজার হাজার ককে তামাক-টিকে পুড়তে—এই লোচন সব একহাতে করেছে–পূজোর সময় যেবার সেই এক পাগল এসে বললে–পূজো হয়নি—আপনি তো শুনেছেন সব আজ্ঞে? তাই বলছিলাম শালাবাবু, বড়বাড়ি মতো চাকরির সুখ আর কোথায় পাবো, আজকাল বাবুরাও সেয়ানা হয়েছে—সেই বড়বাড়িতেই এখন মাইনে বাকি পড়ে থাকে—খেটে যদি খেতেই হয়, কলকাতায় ব্যবসা করে খেটে খাওয়াই ভালো।

    -তাতে দু পয়সা হবে বলে মনে করো?

    —কেন হবে না শালাবাবু, দেখতে দেখতে কী কলকাতা কী হলো দেখছেন না, এই বড়বাজারের কী ছিল কী হলো চোখের সামনেই তো দেখলুম—চোখের সামনে ঘোড়ার টেরাম থেকে কলের টেরাম হলো, হাওয়া-গাড়ি হলো, আগে পিলসুজে রেড়ির তেলের আলো জ্বলতে—এখন হলো দীপকের আলো।

    ভূতনাথও দেখেছে পিলসুজের আলো। এখনও মনে আছে। বড়বাড়িতে যেবার প্রথম এল ভূতনাথ—তখন ছুটুকবাবুর ঘরে জ্বলতে গেলাশের আলো। শামাদানের ওপর একটা গেলাশ বসানো। তাতে তিন ভাগ জল আর এক ইঞ্চি পুরু রেড়ির তেল। কেবল ছেলেদের পড়ার ঘরের বাতিতে থাকতো নারকেল তেল। নারকেল তেলের আলোটা একটু বেশি পরিষ্কার। তারপর সেই একটা খড়কে কাঠির মুখে একটুখানি তুলে তেলে ভিজিয়ে চকমকি পাথরে আগুন জ্বেলে ধরিয়ে দেওয়া। কিন্তু মোমের বাতিই ছিল সব চেয়ে ভালো। নাচঘরে মেজবাবু যখন পড়তে বসতো-মাথার ওপরে জ্বলতে মোমবাতির ঝাড় আর সামনে দু’দিকে দুটো মোমবাতি। পাছে বাতাসে নিভে যায়, তাই শামাদানের ওপর থাকতত একটা কাচের ফানুস আর ওপরে টিনের পাতে ফুটো করা একটা ঢাকা! তারপর এল কেরাসিন। কেরাসিনের হ্যারিকেন লণ্ঠন। আর ‘ড়ুম’। ফানুসটা হয়ে গেল ড়ুম। কেরাসিনের রকমারি আলো বেরোতে না বেরোতে রাস্তায় গ্যাসের বাতি জ্বললো। বড়বাড়িতেও এল গ্যাসের বাতি। নাচঘরে, পূজোর দালানে গ্যাসের বাতি—কিন্তু ঘরে ঘরে হ্যারিকেন লণ্ঠন মোমবাতি আর রেড়ির তেলের পিলসুজ তখনও চলছে। তারপর এল এসিটিলিন। ছুটুকবাবুর বিয়েতে এসিটিলিন গ্যাসের, বাতির ঝাড় গিয়েছিল বরযাত্রীদের দু ধারে সার বেঁধে। শেষে এল ইলেকটি ক। তবু হঠাৎ যখন তার কেটে যায়, এক ঘণ্টা আধ ঘণ্টার জন্যে সব অন্ধকার। তখন আবার বেরোয় হ্যারিকেন লণ্ঠন, মোমবাতি।

    দেখতে দেখতে কত কী বদলে গেল ভূতনাথের চোখের সামনে। অথচ মনে হয় যেন এই সেদিন।

    লোচন বলে-জিনিষপত্তোরের দামই দেখুন না-আগে গয়ার মিঠেকড়া বালাখানা কিনেছি…সাত আনা সের মাংস দশ পয়সার দুধ, বারো আনার ঘি, ছ’ পয়সার ডাল, তিন আনার সরষের তেল আজ কোথায় এসে দাঁড়ালো। দিনকাল ক্রমেই খারাপ হতে চলেছে।

    ভূতনাথ বললে—এবার ফিরি লোচন—দেরি হয়ে গেল।

    লোচন বললে—আমিও ফিরবো আজ্ঞে।

    কিন্তু ফিরতে গিয়েও ফেরা গেল না। ওদিকে তখন ক’জন চিৎকার করে কী যেন বলছে। দোকানের সামনে গিয়ে সব দাঁড়িয়ে বক্তৃতা দিচ্ছে। এক-একটা লোক দোকানের সামনে দাঁড়ায় আর খানিকক্ষণ যেন কী সব বলে। তারপর খানিকটা বক্তৃতা দেবার পরই গান ধরলো সবাই মিলে–

    বাঙালীর প্রাণ বাঙালীর মন
    বাঙালীর ঘরে যত ভাই বোন
    এক হউক এক হউক
    এক হউক হে ভগবান—

    গান গাইতে গাইতে ছেলেরা সামনে এসে পড়েছে। ছাপানো কাগজ বিলোচ্ছে সবাইকে। ভূতনাথও চেয়ে নিলে একটা ইস্তাহার।

    লোচন জিজ্ঞেস করে-কীসের কথা লিখেছে শালাবাবু?

    ভূতনাথ পড়তে লাগলো—“আগামী ৩০শে আশ্বিন বাঙলা দেশ আইনের দ্বারা বিভক্ত হইবে। কিন্তু ঈশ্বর যে বাঙালীকে বিচ্ছিন্ন করেন নাই, তাহাই বিশেষরূপে স্মরণ ও প্রচার করিবার জন্য এই দিনকে আমরা বাঙালীর রাখীবন্ধনের দিন করিয়া পরস্পরের হাতে হরিদ্রা বর্ণের সুতা বাঁধিয়া দিব। রাখীবন্ধনের মন্ত্রটি এই : “ভাই ভাই এক ঠাঁই” স্বাক্ষর—শ্রীরবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।”

    লোচন আবার জিজ্ঞেস করলে—কীসের লেখা শালাবাবু, বেহ্মজ্ঞানীদের?

    ভূতনাথ কিছু বলতে যাচ্ছিলো। কিন্তু ছেলেরা চিৎকার করে উঠেছে-বন্দে মাতরম্‌–

    একজন বক্তৃতা দিতে লাগলো মনে রাখবেন ৩০শে আশ্বিন, ওই দিন লর্ড কার্জন বাঙলা দেশকে দু’ভাগে ভাগ করে দেবেন ঠিক করেছেন, আমরাও ঠিক করেছি তার প্রতিবাদ করবো। আমাদের জাতীয় কবি রবীন্দ্রনাথ সেইদিন জাতির নবজাগরণের পুরোহিতরূপে নগ্ন পদে দেশবাসীর পুরোভাগে রাজপথ দিয়ে পুণ্যসলিলা গঙ্গার তীরে যাবেন। আপনাদের অনুরোধ করছি, আপনারাও সেদিন এই ভারত-ভাগ্যবাহিনী ভাগীরথীকে সাক্ষী রেখে শপথ গ্রহণ করবেন—বিদেশী বর্জনের শপথ।

    সকলে চিৎকার করে উঠলো-বন্দে মাতরম্‌

    —আর তারপর স্নান শেষে প্রত্যেকে প্রত্যেকের হাতে হলুদরঙা রাখী বেঁধে দেবেন। আর একটা অনুরোধ! ৩০শে আশ্বিন অরন্ধন, উপবাসের মধ্যে দিয়ে আমাদের এই জাতীয় বেদনাকে চিহ্নিত করে রাখতে চাই। নিরস্ত্র জাতির শস্ত্রহীন প্রতিবাদ। দোকানি ভাইরা দোকান বন্ধ করবেন, গাড়োয়ান গাড়ি চালানো বন্ধ করবেন, কুলি মেথর মুটে মজুর সকলকেই আমরা আহ্বান জানাচ্ছি—দেশবাসী সকলের সহযোগিতা চাই।

    লোচন কিছু বুঝতে পারছিল না। বললে-দোকান কেন বন্ধ করতে বলছে শালাবাবু?

    ভূতনাথ বললে-বাঙলা দেশকে জোড়া লাগাবার জন্যে।

    তবু কিছু বুঝলো না লোচন। বললে–আমি যে পানের দোকান দেবো ঠিক করেছি শালাবাবু, করতে দেবে না নাকি?

    ভূতনাথ বললে–দাঁড়াও, আগে শুনি কী বলছে ওরা।

    তখনও বক্তৃতা চলছে—আর সেই ৩০শে আশ্বিন, বাঙলার। দেশ নায়করা ঠিক করেছেন বাঙলা দেশের রাজধানীতে গড়ে তুলবেন “ফেডারেশন হল, যেখানে ভারতবর্ষের সকল প্রদেশের লোকের এক মহামিলনকেন্দ্র হবে। সেদিন বেলা তিনটের সময় সেই মিলন-মন্দিরের ভিত্তি স্থাপন হবে। ভিত্তি-স্থাপন করবেন অগ্রজ জননায়ক আনন্দমোন বসু।

    আবার ‘বন্দে মাতরম্’ ধ্বনি উঠলো। বোধ হয় গুটি পাঁচ ছয় ছেলে। দোকানদাররা কেউ বোধ হয় বুঝতে পারলে না ব্যাপারটা। দু’ একজন ভূতনাথকে ডেকে জিজ্ঞেস করলে-বাবুলোক কা বোল হৈ বাবুজী?

    ভূতনাথ বাঙলায় বুঝিয়ে দেবার চেষ্টা করলে।

    দু’ একজন ভদ্রলোক দোকানদার বললে—তা বলে দোকান বন্ধ করে উপোস করতে হবে, এ কেমন আবদার মশাই!

    ছেলেরা তখন গান গাইতে গাইতে চলেছে–

    বাঙালীর পণ বাঙালীর আশা
    বাঙালীর কাজ বাঙালীর ভাষা
    সত্য হউক, সত্য হউক,
    সত্য হউক হে ভগবান—

    ভূতনাথ বললে—চল লোচন বাড়ি যাই।

    রাস্তায় একবার মনে হলো ভূতনাথের—এরা কারা! এদের মধ্যে চেনাশোনা কেউ তো নেই। সেই ‘যুবক-সঙ্ঘের কদমদা’র দলের লোকদের কেউ! নিবারণ নিশ্চয়ই চেনে এদের। কিন্তু বাড়ির কাছে আসতে এ-কথা আর মনে রইল না। একটু দেরি হয়ে গিয়েছে। বাড়িতে ঢুকতেই দেখলে ছোটবাবুর ল্যাণ্ডো জোতা রয়েছে গাড়ি-বারান্দার তলায়। খানিক পরে ছোটকর্তা নামলো সিঁড়ি দিয়ে। বংশী ছিল সঙ্গে। আব্বাস মিয়া ল্যাণ্ডোর সহিস। সামনের দরজটা খুলে সেলাম করে দাঁড়ালো। পায়ের তলায় ঢং ঢং ঘণ্টা বেজে উঠলো। ঘোড়া দুটোর যেন আর তর সয় না। মুখের ভেতর লাগামের শেকল চিবোচ্ছিলো। লাগামে টান পড়তেই দৌড়ে যাবে। হঠাৎ ছোটকর্তার যেন কী মনে পড়লো, ডাকলে—বংশী–

    বংশী হাজির ছিল। বললে—হুজুর।

    —আমার চাবুক।

    বিদ্যুতের মতো ছুটে গেল বংশী বাড়ির ভেতর। তারপর এক মুহূর্তে শঙ্কর মাছের ল্যাজের চাবুকটা এনে দিলে ছোটকর্তার হাতে। তারপর লাগামে হাত লাগাতে না লাগাতেই ঘোড়া দুটো জোরে একটা টান দিলে। আর সঙ্গে সঙ্গে গেট পেরিয়ে বনমালী সরকার লেন-এ গিয়ে পড়লে ছোটকর্তার ল্যাণ্ডোলেটখানা।

    নাথু সিং তখনও চিৎকার করছে—হুঁশিয়ার–হুঁশিয়ার হো—

    বংশী যেন হাঁফ ছেড়ে বাঁচলো এতক্ষণে।

    ভূতনাথকে দেখে বললে—আপনি এসে গিয়েছেন-ওদিকে ছোটমাও তৈরি।

    ভূতনাথ বললে—আমিও তো তৈরি।

    —তা হলে আপনি চোরকুঠুরির দরজা দিয়ে আসুন, আমি মিয়াজানকে খবর দিই গে।

    বংশী ঝড়ের মতন নিজের কাজে চলে গেল। ভূতনাথ আস্তে আস্তে গিয়ে চোরকুঠুরির বারান্দা দিয়ে ছোট দরজাটা খুললে। ওপাশে বড়মা’র গলা শোনা যাচ্ছে। সিন্ধুর সঙ্গে আজে-বাজে গল্প চলছে তার। মেজমা’র ঘরে গিরির গলাও শোনা যায়। বারান্দাটা জনশূন্য।

    ভূতনাথ গিয়ে দাঁড়ালো বৌঠানের ঘরের সামনে। ভেতরে ছোটমা’র গলার শব্দ। চুড়ির টুংটাং।

    ভূতনাথ ডাকলো-বৌঠান–

    –ওই ভূতনাথ এসেছে, ডাক চিন্তা, ভেতরে ডাক তো।

    ঘরে ঢুকতেই ভূতনাথ অবাক হয়ে গেল। বৌঠানকে সাজিয়ে দিচ্ছে চিন্তা। সাজানো এখনও শেষ হয়নি। কিন্তু এত রূপ বৌঠানের!

    খানিকক্ষণ হতবাক হয়ে দেখতে লাগলো ভূতনাথ। খোঁপাটাকে বেড়ার মতন করে মাথার পেছন দিকে অনেকখানি জায়গা জুড়ে বেঁধেছে। আর তাতে কত রকম গয়না। হীরের বেলকুঁড়ি, মুক্তো বসানো একটা চিরুণী খোঁপার মধ্যেখানে—তাতে লেখা ‘পতি পরম গুরু’। মাথার ওপর টায়রা ঝুলিয়ে দিয়েছে। আর একটা কী গয়না নাম জানে না ভূতনাথ। বোধ হয় ঝাপটা। কানে হীরের কানফুল। সমস্ত কানদুটো সোনায় হীরেয় মুক্তোয় মোড়া। গলায় পরেছে। চিক। খোঁপার নিচে ফরসা ঘাড়ের ওপর টুকরো টুকরো চুল উড়ছে।

    বৌঠান বললে—আর একটু দাঁড়া ভূতনাথ। তারপর চিন্তাকে বললে—আমার কঙ্কন দুটো দে, আর জড়োয়ার তাগা জোড়া-আর কয়েকটা আংটি বের কর।

    চিন্তা সিন্দুক খুলে এক-একটা গয়না বার করে পরিয়ে দিতে লাগলো বৌঠানকে।

    শেষে বেরুলো গোট। কোমরের তলা থেকে চারদিকে ঘিরে দু’ ইঞ্চি চওড়া গোটছড়া জড়িয়ে রইল ছোটবৌঠানকে।

    আয়নাতে নিজের মুখখানা শেষবারের মতো দেখে নিয়ে বৌঠান বললে—এবার চল ভূতনাথ।

    চিন্তাকে বললে—চিন্তা খবর নেতোছোটকর্তা বেরিয়ে গিয়েছে কিনা?

    চিন্তা চলে যাবার পর ভূতনাথ জিজ্ঞেস করলে কোথায় যাবে বৌঠান?

    —যেখানে খুশি।

    —আমাকেও যেতে হবে?

    –হ্যাঁ, তুই আমার সঙ্গে যাবি।

    —কিন্তু কাজটা কি ভালো দেখাবে? বড়বাড়ির ছোটবউ-এর সঙ্গে বাইরে যাবো, সেটা কি আমার পক্ষে ভালো কাজ?

    বৌঠান বললে–আমার গাড়ি, আমি যেখানে খুশি যাবে, কার বলবার কী আছে—আর তুই যাচ্ছিস আমার হুকুমে।

    —কিন্তু ছোটকর্তা টের পাবে তো, তখন?

    —ছোটকর্তাকে আমি ভয় করি নাকি। ছোটকর্তা জানবাজারে যেতে পারে, আমি পারি না? মেয়েমানুষ বলে আমি মানুষ নই?

    ভূতনাথ বললে—কিন্তু তুমি তো বউ মানুষ, পুরুষ মানুষের সঙ্গে কি তোমার তুলনা?

    ছোটবৌঠান রেগে গেল যেন। কিছুক্ষণ চুপ করে রইল। তারপর বললে—আমি কী করি না-করি, তার জন্যে তোর কাছেও জবাবদিহি করতে হবে নাকি?

    ভূতনাথ গলা নামিয়ে আনলো। বললে-রাগ করো না বৌঠান, কিন্তু নেশার ঝেকে একটা যা তা করে বসবে শেষকালে

    –তার মানে? ছোটবৌঠান যেন ফণা তুলে উঠলো। আমি নেশা করেছি বলতে চাস? আজকে ষষ্ঠীর উপোস গিয়েছে জানিস

    —সারা দিন জল পর্যন্ত খাইনি, আর নেশা যদি করেই থাকি, কার জন্যে করেছি শুনি? কার জন্যে নেশা করেছি, কে নেশা ধরিয়ে দিয়েছে, তা আর কেউ না জানুক আমার ঠাকুর তো জানে! আমার যশোদাদুলাল সাক্ষী আছে—কিন্তু তুই বলবার কে?

    ভূতনাথ বললেন, আমি তোমার ভালোর জন্যেই বলছি বৌঠান।

    —আমার ভালোর কথা কাউকে ভাবতে হবে না ভূতনাথ। তোর পায়ে পড়ি, তুই আর আমার ভালোর কথা ভাবিসনি, আমার ভালোর জন্যে সংসারে কাউকে ভাবতে হবে না, নিজের মানুষ যারা, তারাই কেউ ভাবলে না, আর তুই তো পর আমার।

    —কিন্তু তবু একবার ভালো করে ভেবে দেখো বৌঠান।

    —আমি খুব ভালো করে ভেবে দেখেছি রে, এর চেয়ে ভালো করে ভাবলে মাথা খারাপ হয়ে যাবে। বিয়ে হবার পর সেই যে ঢুকেছি এ-বাড়িতে, আর একটি দিনের জন্যে বেরোই নি কখনও। জানিস সংসারে যাবার জায়গা কোথাও নেই আমার, বাপের বাড়ি থাকে লোকের, আমার তা-ও নেই। এই ঘর আর এই বারান্দার বাইরে কোনোদিন চেয়ে দেখিনি চোখ মেলে। এর আষ্টেপৃষ্ঠে ঢাকা। কোথায় বরানগর, কোথায় জানবাজার তা-ও জানি না।

    তারপর একটু থেমে বললে—আচ্ছা ভূতনাথ, বরানগর কোথায় জানিস?

    ভূতনাথ বললে—জানি, ব্রজরাখালের বন্ধুবান্ধবরা তো আগে ওখানেই ছিল কিন্তু বরানগরে কোথায় যাবে? তোমাদের বাগানবাড়িতে?

    –-না, কিন্তু যদি যাই-ই তোর আপত্তি আছে?

    –আমি যাবো না।

    –কেন?

    ভূতনাথ বললে—এটা বোঝে না, তুমি বড়বাড়ির বউ, আর আমি?…আমি কেউ না। তোমারও কেউ না, এ-বাড়িরও কেউ না, তোমার সঙ্গে আমার যাওয়া ভালো দেখায় না, তাতে তোমারই ক্ষতি হবে বৌঠান।

    —আমার ক্ষতির কথা তুই ভাববার কে?

    –কিন্তু একজন তো কেউ ভাবা চাই, তোমার যে কেউ নেই বৌঠান?

    –আমার জন্যে তুই যদি এতই ভাবিস তো আমার সঙ্গে চল, আমার ভালোর জন্যেই চল।

    –বরানগরে গিয়ে তোমার কী ভালোটা হবে শুনি?

    –সব কথা তোকে বলবো কেন রে?

    —তবে আমিও যাবো না–ভূতনাথ বেঁকে বসলো।

    বৌঠান গম্ভীর গলায় এবার বললে–তুই যাবিনে তো?

    –তুমি আমাকে যেতে বলল না।

    বৌঠান বললে—কিন্তু তুই যদি না যাস, কে আমার সঙ্গে যাবে বল?

    -–কেন, বংশী কি চিন্তা।

    –ওদের গেলে চলবে না, আমার এ-ঘর কে দেখবে? আর ছোটকর্তার কাজগুলো করবে কে?

    কথাটা শুনে খানিকক্ষণ চুপ করে রইল ভূতনাথ। তারপর বললে—যেতে পারি, কিন্তু তুমি কথা দাও, আজ মদ খাবে না।

    –কথা দিলাম, খাবো না। তাছাড়া এবার থেকে আর বোধ হয় খাবার দরকারও হবে না, যার জন্যে খেতাম সেই ছোটকর্তাই তো আর রাত্তিরে বাড়ি থাকছে না।

    এমন সময় চিন্তা এল। বললে–ছোটবাবু বেরিয়ে গিয়েছে মা।

    বংশীও ঘরে ঢুকলো।

    বৌঠান জিজ্ঞেস করলো-হ্যাঁ রে, গাড়ি তৈরি?

    বংশী বললো, খিড়কিতে গাড়ি নিয়ে মিয়াজান দাঁড়িয়ে আছে।

    বৌঠান বললে—তা হলে চল ভূতনাথ, আমরা যাই।

    তারপর চিন্তাকে বললে—চিন্তা, তুই আমার ঘর-দোর দেখিস, সিন্দুকের চাবিটা তোর কাছেই রইল, এসে যেন দেখি সব ঠিক আছে, সন্ধ্যেবেলা ধূপ-ধুনো দিয়ে সন্ধ্যে দিবি। আর যশোদাদুলালকে ভোগ দিবি যেমন দিস রোজ—তারপর চলতে গিয়ে আবার থামলো। বললে—আর, যদি কেউ জিজ্ঞেস করে বলবি–আমি বরানগরে গিয়েছি।

    বংশী হঠাৎ বললে—কখন ফিরবে তুমি ছোটমা?

    —তা ফিরতে রাত্তির হবে আমার।

    চিন্তা বললে—আজ রাত্তিরে খাবার কী বন্দোবস্ত করব? তোমার পূজোর পেসাদ রয়েছে, রেখে দেবো?

    বৌঠান কী যেন ভাবলে খানিকক্ষণ, একবার মাথার একটা বেলকুঁড়ি ভালো করে খোঁপায় গেঁথে দিলে। তারপর বললে— ওই পেসাদই খাবো আজ, আর কিছু খাবো না—কিন্তু তোরা খেয়ে নিস, আমার জন্যে যেন বসে থাকিস নে–তারপর চলতে গিয়েও থেমে গেল বৌঠান। বললে—আর যদি না ফিরি তো…

    —সে কি, ফিরবে না নাকি ছোটমা?

    -বলা তো যায় না, রাস্তায় কত রকম বিপদ আপদ হতে পারে—যদি না ফিরি তো তোরা…

    –ও কথা বলো না ছোটমা, তুমি না ফিরলে আমাদের কী হবে?

    —সে ব্যবস্থা তোদের জন্য করিনি ভেবেছিস? আমার যা কিছু আছে সব রইল, তোরা সবাই নিবি, ভূতনাথ নেবেকার জন্যে আমি রেখে যাবো বল।

    বংশী আর চিন্তার চোখ ছল ছল করে উঠলো।

    ছোটবৌঠান বললে—আর দেরি করা নয় ভূতনাথ, চল, যেতে আসতে অনেক দূরের পথ।

    বৌঠান আগে আগে চললো। পেছনে ভূতনাথ। বংশী আর চিন্তাও এল সঙ্গে সঙ্গে। সিঁড়ি দিয়ে নামতে গিয়ে মনে হলো যেন মেজগিন্নী আর বড়বউ শব্দ পেয়ে বারান্দায় এসে দাঁড়িয়েছে।

    -ছোটবউ গেল না?

    —কোথায় যাচ্ছিস ছোট?

    ছোটবৌঠান বোধ হয় শুনতে পেলে না। ভূতনাথ পেছন ফিরে দেখলে গিরি আর সিন্ধু দাঁড়িয়ে দেখছে অবাক হয়ে। কেমন যেন ভয় করতে লাগলো তার। সকলের চোখের ওপর দিয়ে যাওয়া। যদি কোনো কথা ওঠে! যদি কাল ছোটকর্তার কানে যায়। যদি বড়বাড়ির কর্তামহলে আলোচনা হয় এ নিয়ে। ছুটুকবাবু যদি শোনে! আজকাল ছুটুকবাবু তো আর একলা নয়। ছুটুকবাবুর শ্বশুর হাবুল দত্তও এ-বাড়ির একজন কর্তাব্যক্তি। সমস্ত পরিস্থিতিটা ভাবতে গিয়েই কেমন অন্যমনস্ক হয়ে গিয়েছিল ভূতনাথ।

    মিয়াজান গাড়ি নিয়ে তৈরিই ছিল। ইলিয়াস ঘোড়ার লাগাম ধরে ছিল। দৌড়ে এসে দরজার পাল্লা খুলে দাঁড়ালো। বৌঠান তখন বেশ লম্বা করে ঘোমটা দিয়েছে। বৌঠান সামনে আসতেই ইলিয়াস সরে দাঁড়ালে দূরে। প্রথমে উঠলো বৌঠান, তারপর ভূতনাথ।

    গাড়িতে উঠতেই বংশী গাড়ির জানালা দরজা বন্ধ করে দিলে। বললে-এবার ছাড়ো মিয়াজান।

    ব্রিজ সিং গেট-এর চাবি খুলে দাঁড়িয়েছিল, গাড়িটা বেরিয়ে যেতেই আবার বন্ধ করে দিলে।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40 41 42 43 44 45 46 47 48 49 50
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleবেগম মেরী বিশ্বাস – বিমল মিত্র
    Next Article রচনা সংগ্রহ – অক্ষয়কুমার মৈত্রেয় (নন-ফিকশন)

    Related Articles

    বিমল মিত্র

    বেগম মেরী বিশ্বাস – বিমল মিত্র

    May 29, 2025
    বিমল মিত্র

    আসামী হাজির – বিমল মিত্র

    May 29, 2025
    বিমল মিত্র

    কড়ি দিয়ে কিনলাম ১ – বিমল মিত্র

    May 28, 2025
    বিমল মিত্র

    কড়ি দিয়ে কিনলাম ২ – বিমল মিত্র

    May 28, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Our Picks

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }