Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    সাহেব বিবি গোলাম – বিমল মিত্র

    বিমল মিত্র এক পাতা গল্প740 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    ৩৩. এক সঙ্গে এক গাড়ির মধ্যে

    এক সঙ্গে এক গাড়ির মধ্যে মুখোমুখি বসে যাওয়া। ভূতনাথ চেয়ে দেখলে–পটেশ্বরী বৌঠান ততক্ষণে ঘোমটা খুলে ফেলেছে। বনমালী সরকার লেন দিয়েই গাড়ি চলেছে এখন, কিন্তু বোঝবার উপায় নেই। ভেতরটা অন্ধকার। শুধু সামনের দিকের নীল কাচ দিয়ে একটু আলো আসছে। গাড়ির ছাদের তলায় রেশমী জাল টাঙানো। চারপাশেও রেশমের ঝালর। দেয়ালের গায়ে কাঠের ওপর ভেলভেটের ঢাকনা। কী মোলায়েম স্পর্শ। কোথাও শব্দ নেই। গাড়ি চলছে পাল্কির মতন দুলে-দুলে। ঘোড়ার গাড়িতে আগে অনেকবার চড়েছে ভূতনাথ। কিন্তু তাতে যেন বড় বেশি ঝাকুনি। বড় কর্কশ শব্দ। সমস্ত গাড়িটা যেন ঝর-ঝর করে কাঁপে। কিন্তু এ অন্যরকম। এ-গাড়িতে চড়ে অনেক দূরে যাওয়া যায়। গায়ে ব্যথা হবে না। মাঝে মাঝে ঢং-ঢং করে ঘণ্টা বেজে উঠছে। পাশ দিয়ে সশব্দে ট্রাম চলে গেল। হয় তো গরুর গাড়ি চলছে নানারকম বিচিত্র শব্দ করতে করতে। প্রচুর মালপত্তর নিয়ে গরুর গাড়ি চললে যেমন শব্দ হয়।

    এখন গাড়ি ট্রাম রাস্তা ধরে চলেছে মনে হয়।

    ভূতনাথ যেন কেমন আড়ষ্ট হয়ে বসে রইল। পটেশ্বরী বৌঠান এত কাছাকাছি। বৌঠানের এত ঘনিষ্ঠ হয়ে বসে এক গাড়িতে যাওয়া তার এই প্রথম। বৌঠানের দিকে একবার চেয়ে দেখলে ভূতনাথ। যেন আপন মনে কী ভাবছে। যেন কোনো দিকে নজর নেই। বৌঠানের শাড়িটা খোঁপাটা দুলছে অল্প-অল্প। মাঝে মাঝে কাঁধ থেকে রেশমের শাড়ি খসে পড়ে যাবার মতন হয়। ডান হাত দিয়ে বোন আবার সেটা যথাস্থানে তুলে দেয়। সমস্ত গাড়ির ভেতরটা আতরের গন্ধে একেবারে ভুর ভুর করছে। কানের ফুলটা এই অন্ধকারেও চিক চিক করে ওঠে। বৌঠানের কপালে মস্ত বড় একটা টিপ। সিঁদুরের টিপ। বোধহয় ‘মোহিনী-সিঁদুরের। কিন্তু এখনও কেন বৌঠান ‘মোহিনী-সিঁদুর’ পরে। ও তো কোনো কাজেই লাগলো না।

    ট্রাম রাস্তা পার হবার সময় গাড়িটা একটু ঢিমে হয়ে এল। তারপর আবার সেই দুলতে দুলতে চলা!!

    কেমন যেন অস্বস্তি লাগছিল ভূতনাথের। কোনো কথাবার্তা নেই। চুপচাপ এতদূর যেতে হবে বৌঠানের সামনে বসে বসে। নিজের জামা-কাপড়ের দিকে চেয়ে দেখলে ভূতনাথ। অনেকদিন সাবান দেওয়া হয়নি এগুলোতে। বড় ময়লা দেখাচ্ছে। বিশেষ করে বৌঠানের ওই সাজপোষাকের পাশে। ঠিক ভেতরে উঠে না। বসলেও হতো! গাড়ির উপরেই উঠতে যাচ্ছিলো তো সে। কিন্তু বৌঠানই তো তাকে ভেতরে বসতে বললে। কিন্তু যদি কোনো কথাই না বলবে তো ভেতরে কেন বসা। হঠাৎ ভূতনাথের নিজেকে যেন আজ বড় গরীব বলে মনে হলো। বড় গরীব সে। কেন সে বোঠানের সঙ্গে এত ঘনিষ্ঠতা করতে গেল। জবার সঙ্গেই বা তার অত মেলামেশার দরকার কী! কেন সে বার-বার ওরা ডাকলেই যায়। ওকে তো তারা নিচু চোখেই দেখে! সেদিন জবা কি তাকে গাড়িতে তুলে নিতে পারতো না। সবাই গেল গাড়িতে চড়ে, অথচ সে-ই শুধু হেঁটে হেঁটে গিয়েছে বাগবাজার থেকে বার-শিমলে। গাড়ির ছাদে তার জন্যে একটু বসবায় জায়গা হতোই। আর আজই বা সে চলেছে কোন উদ্দেশ্য নিয়ে। সে কি বৌঠানের অনুরোধেই কেবল। এতটুকু যাবার ইচ্ছে কি ছিল না তার! কিম্বা যদি ইচ্ছেই ছিল তবে সে কী জন্যে! বৌঠানের একটু সান্নিধ্য! বৌঠানের সান্নিধ্যে কি তার এতই লোভ! এ লোভ তো তার হওয়া উচিত নয়। কিন্তু হঠাৎ মনে পড়লো এজামা-কাপড় তো বৌঠানই দিয়েছে। এ না দিলে ভূতনাথ পরতে কী! কিন্তু জামা-কাপড় তো ওরা সকলকেই দিয়ে থাকে। পুতুলের বিয়েতে যারা হাজার বারো শ’ টাকা খরচ করে এ-টুকু তাদের কাছে কী! এত সামান্যতেই ভূতনাথ কেন কৃতার্থ মনে করছে নিজেকে। ব্ৰজরাখাল তো আগেই বলেছিলো—ওরা হলো সাহেব-বিবির জাত, আমরা হলাম গোলাম। সত্যিই তো গোলাম হিসেবেই দেখে তাকে পটেশ্বরী বৌঠান। হঠাৎ কেমন যেন ঘৃণা হতে লাগলো নিজের ওপর।

    মনে হলো বৌঠানকে একবার জিজ্ঞেস করে-এ কোথায় চলেছো তুমি? কিন্তু বৌঠানের মুখের দিকে চেয়ে কেমন যেন মুখ দিয়ে বেরুলো না কথাটা।

    বৌঠান যেন তার মনের কথাটা ধরতে পেরেছে। বললে— কী, ভাবছিস কী রে ভূতনাথ?

    ভূতনাথের চোখ দিয়ে কান্না ফেটে বেরিয়ে আসতে লাগলো। নিজেকে অনেকটা সামলে নিয়ে বললে—এমন জানলে আমি কিছুতেই আসতাম না।

    বৌঠান হাসলো এবার। বললে—কেন, হলে কী তোর?

    —তুমি একটাও কথা বলবে না, আমার বুঝি তা ভালো লাগে?

    বৌঠান বললে—তা কথা বল না তুই, আমি কি বারণ করেছি?

    —আর তুমি বুঝি চুপচাপ শুনবে কেবল?

    —আমার কথা আর আসছে না ভাই, সব কথা ফুরিয়ে গিয়েছে। তুই কথা বল আমি শুনবো ঠিক।

    -তার চেয়ে আমি নেমে যাই না এখানে।

    বৌঠান বললে—তোর বড্ড অভিমান, পুরুষমানুষের এত অভিমান ভালো নয় রে, দেখিসনি ছোটকর্তা কারো মানঅভিমানের দাম দেয় না।

    ভূতনাথ বললে তুমি কি আমাকে ছোটকর্তার মতো হতে বলে?

    হাসতে হাসতে বৌঠান বললে—সেই জন্যেই তো তোকে অত ভালো লাগে আমার, ছোটকর্তা যদি তোর মতন হতো…মানুষটা জানবাজারে গিয়ে কী করে জানি না, কত চেষ্টা করলাম আমি, মেয়েমানুষের যা সাধ্যিতে কুলোয় না, তা-ও করে দেখলুম, তবু কিছুতে কিছু হলো না, একবার ইচ্ছে হয় জানবাজারে সেই রাক্ষুসীর কাছে গিয়ে দেখে আসি লুকিয়ে লুকিয়ে সে কী মন্ত্র জানে, কীসে সে ছোটকর্তাকে ভুলিয়ে রেখেছে অমন। রাত্রে ঘুমোতে ঘুমোত হঠাৎ তার নাম করে ওঠে, আমাকে এক-একবার ভুলে ‘চুনী’ বলে ডেকে ওঠে। নেশার ঘোরে মানুষটা বেহুশ হয়ে আছে তখন, আমিও ভুল ভাঙাই না—কিন্তু বুকটা আমার ভেঙে যায় ভাই।

    ভূতনাথ বললে—কিন্তু তুমিই বা কী রকম মেয়ে বৌঠান— তোমার কাছে সে লাগে না, তোমার পায়ের যুগ্যি নয় সে, আমি তত দেখেছি।

    বৌঠান বললে—আমিও তাই ভেবেছি, নিশ্চয়ই সে কিছু খাইয়েছে—তোকে যেমন খাইয়েছিল। কামিখ্যেয় শুনেছি সেখানকার মেয়েরা পুরুষদের ভেড়া করে রাখে—হয় তো কিছু খাইয়ে দেয়।

    ভূতনাথ বললে–তুমি যদি বলে বৌঠান তো আমি আর একবার জানবাজারে যেতে পারি। এবার কিছু খাবো না, শুধু দেখে আসবো সব, বৃন্দাবনের সঙ্গে ভাব করে সব দেখে শুনে। আসবে।

    —না, তোকে আর সেখানে যেতে দেবো না, শেষে তোকেও হয় তো কিছু তুক করবে! কিন্তু এবার একবার শেষ চেষ্টা করে দেখবো ভূতনাথ। এতেও যদি না হয় তো আর কিছুতেই হবে না।

    —কীসের চেষ্টা?

    —সেই জন্যেই তো বরানগরে যাচ্ছি আজ।

    ভূতনাথ জিজ্ঞেস করলে–কীসের চেষ্টায় যাচ্ছো?

    –বরানগরে এক সাধুর কাছে। আমাদের নাপিত-বউ বলছিল, বছর-বছর তো ওর ছেলে হয় আর মরে যায়, ওই সাধুর কাছ থেকে ওষুধ নিয়ে এসেই এবার বাঁচলো তো ছেলেটা! দেখিই না কী বলে। সব রকম ওষুধ নাকি দেয় সাধু। ওর কাছ থেকেই তো ঠিকানাটা নিয়ে এসেছি।

    -কী ঠিকানা?

    —তুই বরানগর চিনিস?

    —একবার গিয়েছিলাম শুধু ব্রজরাখালের সঙ্গে ওর গুরুভাইরা যখন বরানগরে ছিল, তখন দেখতে গিয়েছিলাম-ঠিকানাটা কী?

    –তা তো জানি না, ও বলেছিল বরানগরে সবাই জানে তাঁকে, ওখানে গিয়ে খবর নিলে সবাই বলে দেবে।

    —কিন্তু তার জন্যে তোমার নিজে আসার কী দরকার ছিল? আমি একাই তো গিয়ে নিয়ে আসতে পারতাম।

    –কিন্তু ও বললে আমাকে নিজেই যেতে হবে, আমার হাতে তাগা বেঁধে দেবে কিনা—আর নিজে গিয়ে সাধুকে যে সেবা দিতে হয়।

    –কীসের সেবা?

    বৌঠান যেন হঠাৎ চারদিকে কী একটা খুজতে লাগলো। বললে—ওই যাঃ, সর্বনাশ হয়েছে।

    —কী হলো?

    বৌঠান বললে—আসল জিনিষই যে আনতে ভুলে গিয়েছি রে!

    —কীসের আসল জিনিষ?

    –পাঁচ পণ সুপুরি আর পাঁচ গোছ পান। সব যে বেঁধে রেখেছিলাম আমি! কী হবে এখন?

    বৌঠান উতলা হয়ে উঠলো। বললে—আমি অত করে চিন্তাকে দিয়ে কিনিয়ে আনলাম—আর সেইটেই কিনা গোলমালে ফেলে এলাম? বোঁঠান আরো বার কয়েক গাড়ির এদিক ওদিক দেখতে লাগলোনা, আসল জিনিষটাই ফেলে এসেছি। কী ভুলো মন হয়েছে বল তো?

    –ওটা না হলে চলবে না?

    –ওইটে সেবা দিলে তবে যে ওষুধ দেবে, নাপিত-বৌ বার-বার করে বলে দিয়েছিল যে! বলেছিল–নির্ঘাৎ ওষুধ, কত লোকের কত কী উপকার হচ্ছে, আমি তো বলিনি যে আমি যাবো, তা হলে তো নাপিত-বৌকেই সঙ্গে করে আনতাম, নিজের কথা কি ওকে বলা যায়? সেই কথা আবার তা হলে বড়দি মেজদি’র কানে উক—হাসবে তো ওরা, এতেই হাসছে, ওদের কী, ওদের দুঃখ কীসের বল তো ভূতনাথ, বড়দি ছেলের বউ নিয়ে মেতে আছে, আর মেজদি’র ছেলেরা তো আদ্দেক দিন মামার বাড়িতেই থাকে, এ-বাড়িতে তাদের দেখতেই পাওয়া যায় না, আর দিনরাত কেবল গয়না গড়াচ্ছে আর বাঘবন্দি খেলছে। আমার দুঃখ ওদের বললে ওরা কী বুঝবে বল?

    ভূতনাথ বললে—তা হলে আমি দৌড়ে গিয়ে নিয়ে আসবো বৌঠান?

    —তুই পারবি?

    –খুব পারবো। বংশীকে বলবো খুঁজে বার করতে—কিন্তু কোথায় কতদূর এলাম দেখি।

    খড়খড়ির ফাঁক দিয়ে ভূতনাথ বাইরে দেখবার চেষ্টা করলে ভালো করে। বেশ সন্ধ্যে হয়ে এসেছে চারিদিকে। একটা চৌরাস্তার মোড়ের কাছাকাছি। মনে হলো যেন শ্যামবাজারের কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছে। দোকানে দোকানে আলো জ্বেলে দিয়েছে। রাস্তায় গ্যাসের আলোগুলোও জ্বলছে।

    তা হোক এতদূর থেকে যেতে আসতে কতক্ষণ আর লাগবে! দৌড়ে যাবে আর দৌড়ে আসবে সে! ভূতনাথের মনে হলো পটেশ্বরী বৌঠানের জন্যে এটুকু করা যেন কিছু নয়। এ তো সামান্য! এর চেয়ে আরো ভীষণ কিছু করা যায় যেন। ভূতনাথ বললে—তা হলে আমি যাই বৌঠান।

    বৌঠান বললে—আর আমি বুঝি একলা থাকবে এখানে?

    সে-কথাও সত্যি। এতক্ষণ উত্তেজনার মধ্যে ভূতনাথ কেবল নিজের কথাটাই ভেবেছে। পটেশ্বরী বৌঠানের কথাটা তত ভাবা হয়নি। এই সন্ধ্যেবেলা কলকাতা শহরে বৌঠানকে একলা রেখে কি যাওয়া উচিত। দিনের বেলাতেই কত রাহাজানি হয়ে যায় তো সন্ধ্যের অন্ধকারে কিছুই অসম্ভব নয়। আর বোঠান আজ যেসাজগোজ করেছে। সারা গায়ে দামী দামী গয়না। হীরে মুক্তো সোনার ছড়াছড়ি। এই তো সেদিন ঘোড়ার গাড়ি থামিয়ে মেয়েদের গয়নাগাটি লুঠপাট করে নিয়ে গেল দিন-দুপুরে। পুলিশপাহারার টু-শব্দও পাওয়া গেল না। ভূতনাথ বললে—তা হলে ফিরেই যাবে?

    =-তাই ফিরে চল।

    গাড়ি আবার ফিরলো। ভূতনাথ খড়খড়ি খুলে গলা বাড়িয়ে বললে–মিয়াজান, বাড়ি ফিরিয়ে নিয়ে চল গাড়ি।

    ঘোড়ার মুখ ঘুরলো। তারপর আবার সেই ট্রাম রাস্তার ধার ধার দিয়ে যাওয়া। এখান থেকে বৌবাজারে বড়বাড়িতে গিয়ে আবার সেই বরানগর। বরানগরেই বা কতক্ষণ দেরি হবে কে জানে।

    ভূতনাথ বললে—যদি বরানগরেই যাবে তত একটু সকালসকাল বেরুলে না কেন?

    বৌঠান বললে–ছোটকর্তা যে দেরি করে বেরুলো।

    ভূতনাথ বললে—আচ্ছা, ছোটকর্তা যদি জানতে পারে তুমি বেরিয়েছে?

    —ছোটকর্তা জানতে পারবে কেন? ভূতনাথ হঠাৎ বললে—আচ্ছা, বৌঠান শুনেছো বড়বাড়ির দক্ষিণের পুকুরের জমিটা নাকি বিক্রি হয়ে যাচ্ছে।

    বৌঠান বললে কে জানে, ওসব দপ্তরখানার লোক জানে, মেয়েমহলে ও-সব খবর কেউ দেয় না।

    —আরো শুনেছি, জমিদারি বেচে নাকি কোলিয়ারি কেন? হয়েছে।

    বৌঠান বললে—কে জানে ভাই, জমিদারিও কখন দেখিনি এদের কোলিয়ারি হলেও দেখতে পাবো না। আমাদের কেউ জিজ্ঞেস করতেও আসে না কোটা ভালো কোষ্টা মন্দ। আমরা ও-সবের কী বুঝি, কর্তারা যা ভালো বোঝে করবে। আমাদের সঙ্গে সম্পর্ক তো শুধু নামে…অসুখ হলে ডাক্তার বদ্যি আসে, আঁতুড় হলে দাই আসে আর খিদে পেলে খেতে দিতে আসে সেজখুড়ী।

    –কিন্তু কর্তাদের বেলায়?

    –আমার যশোদাদুলালকে তত তাই বলি পরের জন্মে যেন পুরুষমানুষ হয়ে জন্মাই, কারো কাছে জবাবদিহি করতে হবে না, সে বেশ কিন্তু ভাই, যখন ইচ্ছে বাড়িতে এলুম, কিম্বা সারা রাত এলুমই না, ইচ্ছে হলো বৌ-এর ওপর জুলুম করলুমবকুনি দিলুম..পায়ে হাত দিয়ে মান ভাঙাতে হবে না।

    ভূতনাথ বললে—কিন্তু গরীব মানুষের পক্ষে পুরুষ হওয়াও যা মেয়ে হওয়াই তাই।

    —কিন্তু তোর ওপরেও আমার হিংসে হয় ভূতনাথ।

    ভূতনাথের হাসি পেলো। তার ওপরেও হিংসে। এতদিন পর্যন্ত একটা নিজের বলতে আশ্রয়স্থল হলো না। সংসার করা দূরের কথা। বড়বাড়ির গলগ্রহ সে! বিধু সরকারের দৃষ্টির সামনে পড়লেই এড়িয়ে চলতে হয়। ভাত খেতে গিয়েও যেন গলা দিয়ে নামে না। বড়বাড়িতে ঢুকতে বেরুতে পর্যন্ত লজ্জা করে। ব্ৰজরাখাল কবে চলে গিয়েছে। তার কাজটাও যদি তাকে দিতে। আজকাল মেজকর্তার ছেলেদেরও আর দেখা যায় না। তারা। বুঝি মামার বাড়িতে থেকেই লেখা-পড়া করছে।

    বৌঠান বললে–বড় আস্তে আস্তে যাচ্ছে যেন গাড়িটা।

    ভূতনাথ গলা বাড়িয়ে বললে–মিয়াজান, জোরসে চালাওবড়বাড়ি ফিরে গিয়ে আবার বরানগরে যেতে হবে।

    —জী হুজুর-বলে মিয়াজান ঘোড়ার গায়ে সপাং করে চাবুক মারলো, আর হাওয়ার বেগে ছুটতে লাগলো গাড়ি। এবার

    বৌঠানের সমস্ত শরীর দুলছে। ভূতনাথও দুলছে।

    ভূতনাথ বললে—বৌঠান, গাড়িটা উল্টে না যায়।

    বৌঠান বললে উল্টে যাবে না, কিন্তু তা গেলেই বা দোষ কী।

    ভূতনাথ বললে—তখন তুমি তো বেঁচে যাবে কিন্তু আমাকেই ধরবে সবাই। বলবে, ঘরের বউ নিয়ে পালাচ্ছিলো।

    -আমাকেও কি রেহাই দেবে নাকি? লোক জানাজানি হবার আগেই তো আমাকে পুতে ফেলবে মাটিতে, একেবারে বড়বাড়ির তলায়-নইলে যে বংশে কালি লাগবে। কোনো রকমে বেঁচে যাই তো ডাক্তার বদ্যি ডাকবে, ওষুধ খাওয়াবে, কিন্তু মরে গেলে পুতবে ঠিক মাটিতে, দেখে নিস।

    -কেন, পুঁতবে কেন?

    বৌঠান বললে—বড়বাড়ি খুড়লে কত মানুষের হাড় পাওয়া। যায় জানিস না, আমার শাশুড়ীর কাছে শুনেছি, একবার সুখচর থেকে এক প্রজা এসেছিল কর্তাদের কাছে নালিশ করতে, অন্য প্রজাদের হয়ে কথা বলতে, কর্তারা খাজনা কমাবে না, সে-ও ফিরে যাবে না, না খেয়ে পড়ে রইল ওই দেউড়িতে, দিনের পর দিন খায় না দায় না কিছু না। কর্তাদের বাইরে বেরুতে অসুবিধে, শেষে চাবুক মারা হলো, গা দিয়ে তার রক্ত পড়তে লাগলো, অজ্ঞান হয়ে গেল, টেনে ফেলে দিয়ে এল বাইরে—তখনও নড়ে না। শেষে আর দেখা পাওয়া গেল না তার। গাঁ থেকে তার ছেলেমেয়ে বউ এল খবর নিতে, দেশেও ফিরে যায় নি, শাশুড়ীর কাছে শুনলুম—তাকে নাকি পুতে ফেলেছে।

    -কোথায়?

    –বড়বাড়ির খিড়কির দিকে যে-সিঁড়ি আছে, তার তলায় যেখানে ফেলে দিলে কেউ জানতেও পারবে না—সেখানেই নাকি ফেলে দিয়েছে তাকে।

    -কত বছর আগে?

    –সে কি আজকের কথা রে, তখন ছোটকা হয়নি, আমিও হইনি, তুইও হোসনি—আর এ কি একবার?

    –এখনও খুড়লে পাওয়া যায় তাদের হাড়?

    –কে আর সেখানে দেখতে যাচ্ছে বল, ওপর থেকে তো বোঝবার উপায় নেই, কেউ তো আর তার সন্ধান জানে না, জামে শুধু খাজাঞ্চীবাবু, আর বড়কর্তারা। প্রজারা বিদ্রোহ করলে যা করবার তা তো করতেই সুখচরে, আর যারা কলকাতা পর্যন্ত দৌড়ে আসতে তাদের জন্যেই ব্যবস্থা ওই বৈকুণ্ঠ। এসব আমার শাশুড়ীর কাছ থেকে শোনা, শাশুড়ী আবার তার শাশুড়ীর কাছে গল্প শুনেছে—তাই তো যখন বেশি রাত্তিরে একল-একলা জেগে থাকি, কিছুতে ঘুম আসতে চায় না, অনেক সময় কী সব শব্দ হয় না মনে হয় যেন কারা অনেক দূর থেকে সুর করে করে কাঁদছে— শকুনের গলার আওয়াজের মতো—এক-এক সময় বড় ভয় করে।

    কথাটা শুনে ভূতনাপেরও মনে পড়লো—সে-ও যেন সে-কান্না শুনেছে অনেকদিন। এই কলকাতা শহরের সব শব্দ যখন থেমে যায়, বড়বাড়ির সমস্ত কোলাহল যখন এক সময়ে ঝিমিয়ে আসে, তখন মনে হয় কোথায় যেন কে নিঃশব্দে পায়চারি করে বেড়াচ্ছে বড়বাড়ির চারিদিকে, সে-শব্দ শুনে যেন হঠাৎ অন্যমনস্ক হয়ে যায় ভূতনাথ! ফতেপুরে গাঙে যাবার পথে শাড়া গাছতলায় দাঁড়িয়ে যেমন অনেকবার তার হয়েছে। হঠাৎ বাতাস ভারী হয়ে ওঠে, থেমে যায় গাছের মর্মর শব্দ, পাতার কঁপুনি। যেন কে এসে কাছে দাঁড়ালো। বোঝা যায় না দেখা যায় না তাকে। তবু মনে হয় কেউ যেন এল। এসে দাঁড়ালো একেবারে গা ঘেঁষে। তোমার দিকে চেয়ে আছে সে অপলক দৃষ্টিতে। তুমিও চেয়ে আছে। এখানেও আস্তাবল বাড়িতে ঘোড়ারা তখন আর পা ঠোকে না। তোষাখানায় শেষ চাকরটা পর্যন্ত আলো নিবিয়ে শুয়ে পড়েছে। দক্ষিণের বাগানের ধারে করবী গাছটায় একটা পাখ ভাকতে ডাকতে হঠাৎ আচমকা থেমে গেল। রাস্তার কুকুরগুলো। পর্যন্ত নির্জীব হয়ে পড়েছে কিছুক্ষণের জন্যে। হয় তো ইব্রাহিমের ঘরের সামনের রেড়ির তেলের আলোটা তখন সারা রাত জ্বলে জ্বলে নিবে গিয়েছে। প্রথম রাত্রের দিকে দাশু জমাদারের ছেলের বাঁশীতে সেই ‘ওঠা নামা প্রেমের তুফানের সুর তখন থেমে গিয়েছে। ঠিক সেই সময়ে অনেকদিন ভূতনাথের মনে হয়েছে কে যেন বড়বাড়ির ইতিহাসের কালো পা সরিয়ে বেরিয়ে এল লোকালয়ে, এসে প্রদক্ষিণ শুরু করলো সারা বাড়িটা। দেউড়ি থেকে শুরু করে খিড়কি। নারকোল গাছটার পাশ দিয়ে দক্ষিণের পুকুরটা ঘুরে দাসু জমাদার আর ধোপাদের ঘরগুলো পেরিয়ে ইব্রাহিমের ঘরের সামনে দিয়ে এসে থমকে দাঁড়ালো একেবারে ঠিক উঠোনটান মাঝখানে। তারপরে আবার কোথায় বাতাসে মিলিয়ে গেল। কিছুক্ষণ পরেই মনে হয় যেন ছাদের ওপর তার নিঃশব্দ পদসঞ্চার শুরু হলো। সারা বড়বাড়ির ছাদের ওপর যেন সে ঘুরে বেড়াচ্ছে। মনে হয়, ও যেন কিছু নয়। প্রেতাত্মা নয়, স্বপ্নও নয়, বুঝি বড়বাড়ির অভিশপ্ত আত্মা তার অশান্ত অতৃপ্ত কামনা নিয়ে অকারণ পদচারণা করে। বদরিকাবাবুর প্রলাপের মতন আপন চরিতার্থতা খোঁজে এই সব বিনিদ্র রাত্রে। আর তার পরেই শুরু হয় সেই সুর। বাতাসের শিষের মতন মৃদু। কান্নার মতন করুণ। আশ্চর্য, এতদিন ভূতনাথের মনে হতো ও বুঝি তার নিজেরই কল্পনা, নিছক ভয়-বিলাস, কিন্তু বৌঠানও শুনেছে নাকি! বৌঠানও শুনেছে সেই ইতিহাসের অমোঘ ইঙ্গিত।

    বৌঠান বললে—একদিন কিন্তু দেখতে পেয়েছিলুম।

    -কাকে?

    বৌঠান বললে—তখন সবে বিয়ে হয়েছে আমার, সারা রাত ঘুম হয়নি, প্রথম রাত্রের দিকে বৃষ্টি হয়ে গিয়েছে, দরজা খুলে বাইরে বারান্দায় এসেছি, মনে হলে মেজদি যেন বারান্দা দিয়ে বাইরে যাচ্ছে সিঁড়ির দিকে। এখন বাইরে যায় কেন? সন্দেহ হলো। বললুম-কে? ডাকলুম আবার–কে?

    —সাড়া নেই।

    —আবার ডাকলুম—মেজদি। আমার ডাক শুনেই মেজদি যেন তাড়াতাড়ি সরে যেতে চাইলো। আমি আবার ডাকলুম–কে?

    এবার আমার ডাক শুনেই পেছন ফিরে চাইলো মূর্তিটা। তার মুখখানা দেখেই চমকে উঠেছি। আর সঙ্গে সঙ্গে অজ্ঞান হয়ে দাতে দাত লেগে গিয়েছে। আমার শাশুড়ী তখন বেঁচে। জ্ঞান হতে দেখি, শাশুড়ী মাথার কাছে বসে। বললেন—একলা রাত্রে বাইরে এসো না বৌমা—যখনি উঠবে চিন্তাকে সঙ্গে নিও।

    ভূতনাথ বললে—আমিও একদিন দেখেছি বোঠান।

    —তুই আর আমিই শুধু দেখেছি—এ-বাড়ির আর কেষ্ট দেখলে না।

    সত্যি সত্যি, আর কেউ দেখলে তো এ-বাড়ির ইতিহাস অন্যরকম হতো। এই তো সেদিন হঠাৎ বড়বাড়ি আবার উৎসবের কোলাহলে মুখর হয়ে উঠেছিল। এবার অনেক সাহেব, অনেক মাৰোয়াড়ী এসেছে। সকাল থেকেই হৈ-চৈ হট্টগোল। দেউড়িতে ব্রিজ সিং নতুন উর্দি পরে সেজে-গুজে হাজির। সারা বাড়ি ধোয়া মাজা। সাহেবী হোটেল থেকে বিলিতি খানাও এল।

    ভূতনাথও প্রথমে বুঝতে পারেনি। বংশীকে ডেকে জিজ্ঞেস করলে—ব্যাপার কী বংশী?

    বংশী বললে কে জানে শালাবাবু, কিছুই তো শুনিনি।

    লোচনের আজ বেশি কাজ নেই। এ বিলিতি ব্যাপার। এতে তামাক খাবার আয়োজন নেই। সায়েব সুবো যারা আসবে সবাই খাবে সিগারেট। তবু নেহাৎ রাখতে হয়। কেউ যদি চেয়ে বসে। সে-ও তাই ধোয়া-মোছা করে তৈরি হয়ে থাকছে। বলে—বলা নেই কওয়া নেই—এ কী হুজুং বলুন তো—আজকে আমার দোকানের বায়না হবার দিন।

    -কীসের দোকান লোচন?

    –আমার সেই পানের দোকান আজ্ঞে, আমি তো বাড়ি ছেড়ে যেতে পারিনে—হঠাৎ যদি ডাক পড়ে তখন? আমাকে কাল সকালে খবর দিলে সরকার মশাই।

    —কী হবে এখানে!

    –এই যেমন হয় মাঝে-মাঝে তেমনি আর কি, বাবুরা খাবেদাবে, গল্প-গুজব করবে—তবে এদানি তত বাবুদের এ-সব বহুদিন ছিল না, আগে ঘন-ঘন হতো, আবার হয় তো খেয়াল হয়েছে—কে জানে!

    —তা তামাক খাবে না কেউ? সব সিগারেট খাবে।

    —আজ্ঞে, সরকার মশাই তো তাই বললে। আমি বললামতামাক আনিয়ে দিতে হবে, শুনে সরকার মশাই বললে-ওই যাতামাক তোমার আছে ওতেই চালিয়ে নাও, আজ আর সাহেবরা কেউ তোমার তামাক খেতে আসবে না, সিগারেট চুরেটের খদ্দের সব, বুঝলে।

    জিজ্ঞেস করলাম—এসব কোন্ সাহেব?

    সরকার মশাই বললে—এসব বড় বড় সাহেব, ম্যাকফারলেন সাহেব আসবে কার্টার কোম্পানীর, ফাগুসন সাহেব আসবে, নতুন এসেছে বিলেত থেকে, মেজবাবুর সব নতুন বন্ধু, আরো সব অনেকে আসবে, বড়বাজারের গদি থেকে মারোয়াড়ী মহাজনরাও আসবে, সকলে ফর্সা জামা কাপড় পরবি, নোংরা হয়ে যেন কেউ না থাকে—এই তো শুনলুম শালাবাবু।

    সন্ধ্যেবেলা মোটরগাড়ি আর ঘোড়ার গাড়িতে ছেয়ে গেল বনমালী সরকার লেন। এ-মোড় থেকে ও-মোড় পর্যন্ত। বিলিতি হোটেলের খানসামা বাবুর্চি গাড়ি করে খাবার-দাবার বইয়ে নিয়ে এল। নাচ ঘরের ভোল গেল বদলে। ফরাস সরিয়ে চেয়ার টেবিল সার-সার সাজানো হলো। টেবিলের ওপর সাদা ধবধবে চাদর। তার ওপর ফুলদানীতে ফুলের তোড়া। গোলাপজল, আতর, ছাইদানী। সিগারেট, চুরোট, পান। আর মদ। বিলিতি হোটেলের খানসামার বোতল খোলে আর ঢালে গেলাশে। নাচঘরের দরজা ভেতর থেকে বন্ধ। ভেতরের ব্যাপার বাইরে থেকে টের পাওয়া যায় না কিন্তু। মায়োয়াড়ী মহাজন সাহেব সুবো ছাড়া এবার এসেছে হাবুল দত্ত, ননীলাল। ছুটুকুবাবুও এবার আসরে গিয়ে বসেছে। মেজবাবু একাই এক শ’। ছোটকর্তা চুপচাপ।

    দেখা হতেই ননীলাল মাথা নাড়লে। ভূতনাথ ভিড় ঠেলে পাশে গিয়ে দাঁড়িয়েছে। সঙ্গে অনেক সাহেব-মেম। বললে তোর সঙ্গে পরে কথা হবে ভূতেদেখা করিস।

    তবু কৌতূহল চেপে রাখা শক্ত। ভূতনাথ জিজ্ঞেস করলে ব্যাপার কী?

    ননীলাল বললে-ঝুলিয়ে দিলাম আর কি।

    তবু ভূতনাথ বুঝতে পারলে না। বললে—তার মানে?

    —শেষ পর্যন্ত কোলিয়ারিতে নামলে ছুটুক—কিন্তু সহজে কি নামতে চায়, বনেদী চালের বংশ তো, হঠাৎ কিছু করবে না, ভয় পায় কেবল, ভাবে সবাই বুঝি ঠেকিয়ে নেবে টাকাগুলো।

    –মেজকর্তা রাজি হয়েছে?

    –কর্তারাই তো রাজি হতে দেরি করলো-নইলে এতদিন কবে কেনা হয়ে যেতো। আমি বোঝালাম, হাবুল দত্ত বোঝালে, মেজকর্তা কিছুতেই রাজি হতে চায় না। ঝুমুটমল মারোয়াড়ীকে দিয়ে বোঝালাম, ম্যাকফারলেন সাহেব নিজের কোলিয়ারির ব্যালেন্স শীট দেখিয়ে বুঝিয়ে দিলে, টুয়েন্টিফাইভ পার্সেন্ট লাভ দেখেও বুঝতে চায় না। জমিদারীতে তো সেন্ট পার্সেন্ট লাভ পেয়ে আসছে কিনা।

    -ম্যাকফারলেন সাহেব বোঝালো কিন্তু জমিদারীতে চিরকাল এমন থাকবে কিনা গ্যারান্টি কোথায়?

    মেজকর্তা বললে—জমিদারী আমাদের হলো লক্ষ্মী—এইতেই আমদের পূর্বপুরুষ খেয়ে পরে বাবুয়ানি করে মানুষ হয়ে গিয়েছে— বড়দা’ বলে গিয়েছিলেন…

    চুড়ো বললে—না কাকা, তোমরা যদি না কিনতে চাও তো আমার শেয়ার আমায় দিয়ে দাও–আমি কিনব।

    শেষে ক’দিন কাকা ভাইপোতে মনকষাকষি চললো। কথাবার্তা বন্ধ। হাবুল দত্ত ছুটে এসেছে আমার কাছে। শেষে কি অত বড় সংসার ভেঙে যাবে। তা ভেঙে যাবারই মতন অবস্থা। হাবুল দত্তর নতুন জামাই। ওরই ভাবনা বেশি। ছোটকর্তা রেগে আগুন। মেজকর্তা আর ছোটকর্তা একদিকে আর অন্যদিকে চুড়ো একলা আর তার শ্বশুর। শুনলাম—বালকবাবু, মানে ওদের উকিলকে ডেকে পরামর্শ হয়েছে আলাদা হবে কিনা। চূড়োর লেখা-পড়া হয় না। সারাদিন কেবল শ্বশুরের সঙ্গে ফিস ফিস। ক’দিন কী ঝঞ্ঝাটই যে গিয়েছে।

    ভূতনাথ বললে–তাই নাকি! আমি তো এ-সবের কিছুই জানতে পারিনি।

    এখন সব মনে পড়তে লাগলো। তাই বাড়িময় কর্তাদের মুখে একটা থমথমে ভাব। ক’দিন বড়মাঠাকরুণ হাসিনী ওরা কেউ আসেনি। একলা লোচন তামাক দিয়ে এসেছে। আর মেজকর্তা নিজের মনে চুপচাপ নাচঘরে বসে কাটিয়েছেন। পায়রা উড়ছে দেখেনি ভূতনাথ। মোটর গাড়িটা চলে যাবার পর থেকেই এমনি ভাব। সমস্ত বাড়িটা যেন নিঝুম নিস্তব্ধ। ছুটুকবাবুর গানের আসর তো অনেকদিন থেকেই বন্ধ ছিল। মাঝে-মাঝে যদিও বা একটু-আধটু বসতো—তা-ও বন্ধ একেবারে। সেদিন পুকুরের দিকে লোকজন এসে কী সব মাপ-জোক করে গেল। চেন ফিতে সব নিয়ে এসেছিল ওরা। ভৈরববাবু ক’দিন এসে ফিরে গিয়েছে। চুপি-চুপি এসেছে লোচনের ঘরে। তামাক খেতে-খেতে জিজ্ঞেস করেছে-মেজবাবু কী করছে লোচন?

    লোচন নল পরিষ্কার করতে করতে বলে—একলা বসে-বসে গড়গড়া টানছেন তো দেখে এলাম।

    হুঁকোটা রেখে ঠোট মুছতে মুছতে ভৈরববাবু বলে—তবে যাই, দেখা করে আসি, কী বলে?

    —আজ্ঞে, আমি কী বলব, আপনার খুশি হয় আপনি যান।

    –তবে তুমি কী বলছে, যাবো না?

    —আজ্ঞে, আমি চাকর মনিষি, আমার কথায় আপনি যাবেন কেন?

    —তোমাকে মেজবাবু জিজ্ঞেস-টিজ্ঞেস করেনি আমার কথা?

    –কই, মনে তো পড়ে না আজ্ঞে।

    –কী রকম মেজাজ এখন দেখলে?

    এখন সব মনে পড়ছে, কেন সেদিন পঞ্চায়েৎ বসেছিল নাচঘরে। কেন মোটরটা কেনা হবার পর আবার চলে গেল। কেন বালক উকিল ঘন-ঘন আসে এ-বাড়িতে। সমস্ত ঘটনার যেন একটা পারম্পর্য খুঁজে পাওয়া গেল।

    ননীলাল বললে—সেই কোলিয়ারিই কিনলে, কিন্তু কেনবার আগে আমাকে একবার বললে না—এমন jealous—জানিস!

    –তোকেও বলেনি? ভূতনাথও অবাক হয়ে গেল।

    –অথচ ওদের মাথায় বুদ্ধিটা তো আমিই দিই—আমার কাছেই প্রথম আইডিয়াটা পায় চূড়ো, আর শেষকালে আমাকেই জানালে না। ভাবলে পাছে আমি কিছু কমিশন মারি—অনেক টাকার তত কারবার।

    –শেষকালে কার কাছে কিনলে?

    -লাভ যা-কিছু পেলে ঝুমুটমল। আমি তো সেই কথাই বলেছিলুম চূড়োকে, চূড়ো বললে—আমার তো একার সম্পত্তি নয়, কাকারা আছে এর মধ্যে। মেজকর্তার বন্ধুবান্ধব আছে, তারাই পরামর্শ দিয়েছে।

    —ছুটুকবাবুর শ্বশুর কিছু জানতে পারেনি?

    -হাবুল দত্ত? হাবুল দত্তকে পর্যন্ত জানায় নি কিছু। যা করবার সব করেছে মেজকর্তা, মেজকর্তা বাড়ির বড়, কে তার ওপরে কথা বলবে? কিন্তু চূড়ো মনে মনে রেগে আছে।

    -আর ছোটকর্তা।

    —ছোটকর্তা কোনোকালে কোনো দিকেই নেই, টাকা এলেই হলো তার! টাকা যতক্ষণ হাতে পাওয়া যাচ্ছে ততক্ষণ কিছু বলবে না। এই যে এত উকিল মোক্তার ব্যারিস্টার হলো, কোট-ঘর হলো, ছোটকর্তা তো কিছুতে নেই। দলিলে সই দিয়েই খালাস, ও-সব ঝঞ্চাটের মধ্যে থাকতে চায় না ছোটকর্তা। আজকেও যে এত লোজন আসছে, খানা-পিনা ডিনার ডিঙ্ক চলছে, ছোটকর্তা খানিক থেকেই সরে পড়েছে—বেশি কথা বলে না কখনও, কিন্তু মনে মনে সব বোঝে।

    তারপর সে-উৎসব শেষ হলো অনেক রাত্রে। কখন সভা ভেঙেছে, কখন লোজন চলে গিয়েছে, ননীলাল চলে গিয়েছে, ফুতি হয়েছে, নাচ-গান হয়েছে, ভূতনাথ টের পায়নি। যে-বাড়িতে পুতুলের বিয়েতে হাজার বারো শ’ টাকা খরচ হয়ে যায়, সেখানে নতুন ব্যবসায়ে নামার আগে এমন উদ্বোধন উৎসব হবে বিচিত্র কী! কোথায় আসানসোলে না বেহারে কয়লার খনি, মাটির গর্ভে রত্ন সুকোনো আছে, কতখানি তার পরিধি, কেমন তার চেহারা, কাগজে-পত্রে তার চুড়ান্ত চুলচেরা হিসেব লেখা আছে। বড়বাড়ির সিন্দুকে সে-দলিল চাবি-বন্ধ হয়ে গেল। আর ওদিকে সুখচরের বিলের জলে আর হয় তো শালুক ফোটে না, সেখানে মাছ ধরে না জেলেরা, শুকিয়ে ডাঙা হয়ে গেল বিল, বাদায় বাঘ এলে তাড়াবার ভার নেবে না কেউ, তবু অজন্ম হলে খাজনার টাকা কেউ মকুব করবে না তা বলে। সুখচরের কাছারি বাড়িতে নতুন নায়েব, নতুন গোমস্তা, নতুন পাইক বরকন্দাজ। সকালবেলা অবাক হয়ে দেখবে প্ৰজা-পাঠকরা আর এক চেহারা, আর এক মনিব। সুখচর হয় তো তেমনিই থাকবে, শুধু রাতারাতি যে হাত বদল হয়ে গেল প্রজারা তা টেরও পেলে না। ভূমিপতি চৌধুরীর পূর্বপুরুষ একদিন মোগল বাদশা’র কাছে সনদ পেয়েছিল, পেয়েছিল কোতল কচ্ছলের অধিকার, সাতটা হাতি রাখবার স্বাধীনতা। তারপর কালের চক্রান্তে সে-মোগল বাদশার চলে গিয়েছে, এসেছে ইংরেজ। ইংরেজ আমলে ভূমিপতি চৌধুরী পেয়েছেন মুনের আর সোরার বেনিয়ানি। সুখচর আর কলকাতা, মাঝখানে একটা অদৃশ্য সেতু রচনা হয়েছিল বহুদিন থেকে। গ্রাম থেকে তোক আসতে বিয়ে শ্রাদ্ধে কাজকর্মে সেলামী দিতে, নজরানা দিতে, বেগার খাটতে। এবার থেকে তা-ও ছিন্ন হয়ে গেল। চৌদ্দ পুরুষের সম্পর্ক শেষ হয়ে গেল একদিনে। এবার বড়বাড়ির চৌধুরীরাও বাণিজ্যে লক্ষ্মীলাভ করবেন। এবার কল-কারখানা খুলবেন সাহেবদের মত। মেশিন চলবে, কুলী-মজুর খাটবে, টাকা বাচ্চা পাড়বে, লেন-দেন হবে। এ-উৎসব সেই আগামী বৃহত্তর সম্ভাবনার, অনাগত প্রচুরতর ঐশ্বর্যের ইঙ্গিত। তখন এমন বড়বাড়ির মতো আরো দশটা বাড়ি উঠবে কলকাতা শহরে। আস্তাবল মোটরে ভরে যাবে। আরো চাকর, আরো ঝি, আরও মদ, আরে মেয়েমানুষ। আরো বিলাস, আরো বিশ্রাম, আরো অবসর আর আরো অপচয়। রাজাবাহাদুর হয়েছেন বৈদূর্যমণি, এবার ‘নাইট’ হবেন হিরণ্যমণি। টাকা উপায়ের জন্যে ছুটুকবাবুকে এটর্নিশিপ পরীক্ষা দিতে হবে না। সকলের ওপর টেক্কা দিতে পারবে এরা। খনি যদি তেমন চালু হয় তো ট্যাক্স বাদ দিয়েও ঘরে যা উঠবে তাতেই লাল। প্রজাদের বিদ্রোহ করবার ভয় নেই, অজন্ম হওয়ার আশঙ্কা নেই, দুর্ভিক্ষ প্লাবন মহামারী কিছুরই পরোয়া করবার দরকার নেই। সমস্ত দুনিয়া কয়লা চায়। নতুন কাপড়ের কল হবে, কয়লা চাই তাদের। রেল চলবে, কয়লা চাই তাদের। কাগজ কল, পাট কল, জলের কলসকলেরই চাই কয়লা।

    এত কথা প্রথমে বুঝিয়েছিল ছুটুকবাবুকে ননীলাল।

    তারপর বুঝিয়েছে ঝুমুটমল মারোয়াড়ী। শেষ পর্যন্ত ঝুমুটমল-এরই জয় হয়েছে।

    —সেলাম হুজুর—

    ভূতনাথ চমকে উঠেছে। ইলিয়াস দরজা খুলে সরে দাঁড়িয়েছে পাশের দিকে।

    বৌঠান বললে—নামতে হবে ভূতনাথ, বংশীকে বল গিয়ে পুটলিটা আমার পালঙ-এর ওপর রাখা আছে।

    ভূতনাথ যেন এতক্ষণে সম্বিত ফিরে পেলে। গাড়ি থেকে নেমে বললে-মিয়াজান, গাড়ি যেন তুলে ফেলো না, আবার যেতে হবে বরানগরে।

    ব্রিজ সিং খবর পেয়েই খিড়কির চাবি খুলে দিতে এসেছিল। ব্রিজ সিংকে দেখে বৌঠান মাথায় ঘোমটা তুলে দিলে। গাড়ি খিড়কির দরজায় গিয়ে ঠেকলো। সেই নারকোল গাছটার নিচে এসে দাঁড়ালো ভূতনাথ। এরই কাছে সেই সিঁড়ির তলায় কোথায় সেই ঘরখানা। বাইরে থেকে কিছু বোঝবার উপায় নেই। সেই সুরটা বুঝি এখান থেকেই ওঠে। বৌঠান বললে—কী দেখছিস ভূতনাথ-বংশীকে ডাক।

    কিন্তু ততক্ষণে চিন্তা গাড়ির শব্দ পেয়েই নেমে এসেছে। চোখে মুখে তার ব্যস্ততা। ফিস ফিস করে গাড়ির কাছে মুখ নিয়ে এসে বললে—ছোটম, ছোটবাবু এসেছে।

    -ছোটবাবু?

    ছোটকর্তা! এই তো বিকেলবেলা ল্যাণ্ডোলেট নিয়ে চলে গেল। বংশীর কাছ থেকে চাবুক চেয়ে নিয়ে। আজ তো জানবাজারে চুনীদাসীর কাছে তার রাত কাটাবার কথা। এখনি ফিরে এলেন যে!

    বৌঠান বললে-বংশী কোথায়?

    —সে অনেক কাণ্ড হয়ে গিয়েছে, তুমি একটিবার নামো ছোটমা।

    -কেন, কী হয়েছে বল তো খোলসা করে।

    –তোমাকে নামতে হবে ছোটমা, সব বলছি—ছোটবাবু। শরীর ভালো নেই।

    —সে কি! বৌঠান এবার নামলো গাড়ি থেকে। তারপর লম্বা ঘোমটার আড়াল দিয়ে ভেতরে ঢুকে গেল চিন্তার আগে আগে। ভূতনাথ একবার দাঁড়িয়ে রইল কিছুক্ষণ সেইখানেই। বেশ রাত হয়ে গিয়েছে। কতক্ষণ দেরি হবে বৌঠানের কে জানে। ছোটকর্তার আবার কী অসুখ হলো।

    মিয়াজান বললে—গাড়ি এখানে থাকবে শালাবাবু?

    –রাখো গাড়ি, আমি গিয়ে দেখে আসছি।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40 41 42 43 44 45 46 47 48 49 50
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleবেগম মেরী বিশ্বাস – বিমল মিত্র
    Next Article রচনা সংগ্রহ – অক্ষয়কুমার মৈত্রেয় (নন-ফিকশন)

    Related Articles

    বিমল মিত্র

    বেগম মেরী বিশ্বাস – বিমল মিত্র

    May 29, 2025
    বিমল মিত্র

    আসামী হাজির – বিমল মিত্র

    May 29, 2025
    বিমল মিত্র

    কড়ি দিয়ে কিনলাম ১ – বিমল মিত্র

    May 28, 2025
    বিমল মিত্র

    কড়ি দিয়ে কিনলাম ২ – বিমল মিত্র

    May 28, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Our Picks

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }