Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    সাহেব বিবি গোলাম – বিমল মিত্র

    বিমল মিত্র এক পাতা গল্প740 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    Previous Lesson
    Next Lesson

    ৩৬. ব্ৰজরাখাল সেদিন ‘কল্যাণ হোক’ বলে আশীর্বাদ

    ব্ৰজরাখাল সেদিন ‘কল্যাণ হোক’ বলে আশীর্বাদ করেছিল বটে। কিন্তু সত্যি কি ভূতনাথের কল্যাণ হয়েছিল। এক-একবার সন্দেহ হয় ভূতনাথের। আবার মনে হয়, কল্যাণই তো হয়েছে। ব্রজরাখালের আশীর্বাদ তত তার জীবনে সফলই হয়েছে। সমস্ত পাপ, সমস্ত প্রলোভন, সমস্ত কামনাকে যে সে ত্যাগ করতে পেরেছে, সে-ও কল্যাণ বৈকি! জবা তার জীবনে যে-ঝড় বইয়ে দিয়েছিল, কেমন করে সে-ঝড়কে সে সেদিন প্রশমিত করতে পেরেছে? আর ছোটবৌঠানের অত নিবিড় সান্নিধ্যও তত তাকে… কিন্তু সে-কথা এখন থাক!

    সাইকেলে চড়ে পটলডাঙায় তাগাদায় যেতে-যেতে সেদিন ননীলালের কথা মনে হলো হঠাৎ। অনেকদিন ননীলালের সঙ্গে দেখা নেই। তা ছাড়া ননীলাল সেদিন তাকে না বলে জবাদের বাড়ি কেনই বা গিয়েছিল তাও জানা হয়নি!

    পুরোনো বাড়িটার সামনে আসতেই দারোয়ানকে জিজ্ঞেস করলে–সাহেব হ্যায়?

    দারোয়ান বললে–সাহেব ভবানীপুরের নয়াকুঠিতে আছে।

    -নয়া কুঠি? ভূতনাথ বুঝতে পারলে না। আবার বললে–ননীলাল সাহেব আপিস থেকে ফিরেছে আজ?

    এবার দারোয়ান ভালো করে বুঝিয়ে দিলে। সাহেব নতুন বাড়ি তৈরি করেছে ভবানীপুরে, সেখানেই থাকে আজকাল। এ-বাড়িতে শুধু ননীলালের শ্যালকরা থাকে। নাবালকদের নিয়ে ননীলাল সেখানে গিয়ে উঠেছে। তাও বেশি দিন নয়, মাত্র মাস খানেক হয়েছে। এখানে আসে বটে মাঝে মাঝে। এ-বাড়িটা তো শ্বশুরবাড়ি। এখানে তার থাকাও উচিত নয়। তাছাড়া এপাড়াটাও নাকি সাহেবের পছন্দ হচ্ছিলো না। বড় মোটরগাড়ি রাস্তায় ঢোকে না। সাহেব-মেমদের আসতে-যেতে অসুবিধে। তাই ভবানীপুরে নতুন রাস্তা হয়েছে এখন এলগিন রোড-সেখানে নতুন বাড়িতে উঠে গিয়েছে। ননীলালের বিধবা শাশুড়ী থাকেন এ-বাড়িতে বড়ছেলের সঙ্গে, আর ননীলাল এলগিন রোড-এর বাড়িতে উঠে গিয়েছে মেমসাহেবকে নিয়ে।

    -কত নম্বর?

    পকেট থেকে নোট বইটা বার করে বাড়ির নম্বরটা টুকে রাখলে ভূতনাথ। বিলের টাকা, ইট, চুন, সুরকির ভাউচার, রাজমিস্ত্রীদের হাজরে-খাতা সব সরকারকে বুঝিয়ে দিতে হয় রোজ। সরকার সেটা বড় খাতায় তুলবে তবে ছুটি। কিন্তু এক-একদিন এই ছুটি হতেই রাত সাতটা-আটটা বেজে যায়। রূপচাঁদবাবুর সঙ্গে এক-একদিন দেখা হয়ে যায়। একটা ছোট নমস্কার করে ভূতনাথ। যেদিন ব্যস্ত থাকেন রূপচাঁদবাবু, সেদিন দেখতেই পান

    ভূতনাথকে। সামনের উঠোনে সার-বন্দি হয়ে বসে থাকে কুলী, মিস্ত্রী, কারিগরের দল। হপ্তায়-হপ্তায় তাদের পেমেন্ট। রূপচাঁদবাবুর সামনে বিড়ি খায় না তারা আর বাবু এলেই সব গোলমাল থেমে যায়। তার আগে পর্যন্ত যত ঝগড়া, বকাবকি!

    মিস্ত্রীরা বলে—বাবু তো ভালো লোক হুজুর—ওই সরকারটাই পাজি।

    কতখানি কাজ হলো, তার মাপজোক নেয় ইঞ্জিনীয়ার-ওভারসিয়ারবাবুরা। তাদের মাপজোকের হিসেবও বড়খাতায় উঠে যায়। দামী দামী মাল কিনতে যায় ওভারসিয়ারবাবুরা।

    ইঞ্জিনীয়ারদের সঙ্গে ওভারসিয়ারবাবুদের সড় থাকে। মোটা মাল কেনবার সময় কমিশন রেখে দেয় ওদের জন্যে। সে-কমিশন আবার ভাগ হয় ওদের মধ্যে আড়ালে।

    বুড়ো মিস্ত্রী ইদ্রিস বলে—এ-মাসে কত পেলেন বিলবাবু?

    –বারো টাকা—যা বরাবর পাই।

    –তা বলছিনে, দস্তুরি কত পেলেন?

    অবাক হয়ে যায় ভূতনাথ।—কীসের দস্তুরি?

    —আপনাকে দেয় না বুঝি?

    ইদ্রিসের কাছেই প্রথম জানতে পারে ভূতনাথ।

    —আপনি এবার চাইবেন হুজুর, না চাইলে দেবে কেন?

    -থাক গে, আমার ওতে দরকার নেই—ভূতনাথ কেমন যেন ভয় পায়।

    –তা বলে আপনার ন্যায্য পাওনা-গণ্ডা বুঝে নেবেন না? অন্য বিলবাবুরা যে পায়।

    –থাক ইদ্রিস, বাবুর কানে গেলে আবার এত কষ্টের চাকরিটা শেষকালে হয় তো চলে যাবে।

    ইদ্রিস বলে—চাকরি যাবে কেন, বাবুর তো তাতে লোকসান নেই, দস্তুরি তো দেয় দোকানদারেরা।

    তা হোক, তবু ওসব পথে না যাওয়াই ভালো। কী এমন তার ক্ষতি হচ্ছে। আগে পেতে সাত টাকা ‘মোহিনী-সিঁদুর’ আপিসে, এখন বারে টাকা। তাছাড়া ট্রাম ভাড়ার খরচা নেই।

    সরকার বলে—আপনার কথা আলাদা মশাই, আপনার সঙ্গে কার তুলনা।

    —কেন?

    —আপনি হলেন বাবুর পেয়ারের লোক, এই দেখুন না, সব বিলবাবুরা পায় সাত টাকা করে, আপনি ভর্তিই হলেন বারো টাকায়, আপনাকে কে ঠেকায়?

    -কেন, ওকথা বলছেন সরকার মশাই, আপনাদের আশীর্বাদে চাকরি যদি থাকে তো অনেক ভাগ্যি বলতে হবে। কত জায়গায় পুজো দিচ্ছি, কালীঘাটে কতদিন গিয়ে কত মানত করে এসেছি।

    সরকার মশাই-এর হাতের কাজ বোধ হয় সেদিন কম ছিল। পান মুখে পুরে দিয়ে হাসতে হাসতে বললে—আপনাকে ঠেকায় কে মশাই? দেখবেন তবে, আমাদের চাকরিটা যেন থাকে।

    -সে কি বলছেন?

    —ঠিকই বলছি, এই বলে রাখলুম, মনে রাখবেন, আপনি কি আর বেশিদিন বিলবাবু থাকবেন, ওভারসিয়ার হলেন বলে!

    কথাটা জানাজানি হয়েছে তা হলে। সুবিনয়বাবুর বিশেষ সুপারিশেই তার চাকরি। সব কর্মচারিই যেন তাকে বেশ সন্ত্রম করে কথা বলে।

    ইদ্রিস বলে—যদি দস্তুরি না দেয় তো বাবুকে বলে দিন।

    সাইকেল চালিয়ে বড়বাড়ির দিকে আসতে-আসতে ভূতনাথ সেই কথাই ভাবছিল-সব চাকরিতেই ওই রেষারেষি। ‘মোহিনী-সিঁদুর’ আপিসেও সেই ঠাকুর নিয়ে কী কাণ্ডটাই না হয়ে গেল।

    ওদিকে রাস্তায় সেই দলটা আবার বেরিয়েছে—“৩০শে আশ্বিন দোকানপাট সব বন্ধ থাকবে। দোকানী দোকান বন্ধ করবেন, কেরানীরা আপিসে যাবেন না, সেদিন অরন্ধন, আমাদের জাতীয় ঐক্যকে স্মরণ করবার জন্যে আমরা পরস্পরের হাতে রাখী বেঁধে দেবো-ভাই ভাই এক ঠাঁই” আর তারপর সেদিন বেলা তিনটের সময় পার্শিবাগানে এক বিরাট সভার অনুষ্ঠান হবে, বাঙলা দেশের রাজধানীতে দেশবাসীরা গড়ে তুলবেন ‘ফেডারেশন হল, সেই মিলন-মন্দিরের ভিত্তি স্থাপন করবেন জাতির অগ্রজ শ্রীআনন্দমোহন বসু-বন্দে মাতরম্’ তারপর সমবেত সঙ্গীত করতে-করতে চললো সবাই—

    বাঙালীর পণ বাঙালীর আশা
    বাঙালীর কাজ বাঙালীর ভাষা
    সত্য হউক সত্য হউক
    সত্য হউক হে ভগবান—

    গুটি চার-পাঁচ ছেলে। রাস্তার ভিড়ের মধ্যে ওদের উপস্থিতি নজরেই পড়ে না বিশেষ। তবু কী উৎসাহ নিয়েই না বলে চলেছে। কী অদম্য উৎসাহ। রোজই এমনি করে। অথচ লোকে যে খুব উৎসাহ দেখায় তা নয়!

    সাইকেল ঘুরিয়ে ভূতনাথ বনমালী সরকার লেন-এ ঢুকলো এবার।

    বড়বাড়িতে আজকাল আর তেমন যেন জাঁকজমক নেই। তবু দিনের শেষে এখানে আসবার জন্যে ভূতনাথের ছটফটানির আর অন্ত থাকে না। ব্রিজ সিং এখন একাই ডিউটি করে।

    একদিন ভূতনাথ জিজ্ঞেস করেছিল—তোমার দোস্তভাই —নাথু সিং কোথায় গেল?

    –ছুটি নিয়ে দেশে গিয়েছে এক মাসভি হলো, আর আসছে

    শালাবাবু।

    –তা বলো না কেন সরকারবাবুকে, আর একজন রাখতে একা দিনরাত পাহারা দিতে পারবে কেন?

    তা পাহারাও আজকাল সেই রকমই দেয় ব্রিজ সিং। বন্দুকটা পাশে রেখে দাঁড়িয়ে-দাঁড়িয়ে খৈনি ঘষে। উর্দির আর সে-বাহার নেই। শুধু গাড়ি-টাড়ি এলে-গেলে চিৎকার করে ওঠে—হুঁশিয়ার

    –হুঁশিয়ার হো–

    এদানি ইব্রাহিমের ঘরের সামনে রেড়ির তেলের বাক্স-বাতিটা আর জ্বলে না। একদিন ঝড়ে পড়ে গিয়েছে উঠোনের ওপর। তারপর থেকেই অন্ধকার। সন্ধ্যেবেলা থেকেই উঠোনটা অন্ধকার। আস্তাবল বাড়িটাতে তেমন গাড়ি-ঘোড়ার আসা-যাওয়া নেই। ছোটবাবুর ল্যাণ্ডোলেটখানা সেই যে সেদিন জানবাজার থেকে এসে ঢুকেছে ওখানে আর বোধহয় বেরোয় নি। ভালো করে ধোয়ামোছও হয় না আজকাল।

    –কেমন আছো আজকাল বংশী?

    আস্তে-আস্তে হাটে বংশী। এখনও দুর্বল। তেমন করে ছোটাছুটি করতে পারে না। বলে—এখন একটু ভালো আছি শালাবাবু।

    —ছোটমা তোমার কেমন আছে?

    –কেউ ভালো নেই শালাবাবু, কেউ ভালো নেই, সেই যে ছোটবাবু পড়েছে, আজো উঠতে পারলো না, আমি তো উঠে হেঁটে দিব্যি বেড়াচ্ছি। আজো শশী ডাক্তার এসেছিল, বললে—এখনও সময় লাগবে। শশী ডাক্তার মদ খেতে একেবারে মানা করে দিয়েছে আজ্ঞে।

    ভূতনাথ বলে—তা বলে ছোটবাবু কি আর সত্যি-সত্যি মদ ছাড়তে পারবে?

    বংশী বলে—না শালাবাবু, তাই তো আশ্চর্য হয়েছি, ছোটবাবু মদ আর ছোঁয় না, বলে—আমার সামনে ও-বিষ আর আনবি না, আমি খেতে চাইলেও দিবিনে আমাকে।

    -সত্যি?

    —আজ্ঞে, মা কালীর দিব্যি বলছি, একদিনও খায় না, আমার হাতেই তো মদের আলমারির চাবি ছিল, সব ঝেড়ে-মুছে পরিষ্কার করে দিয়েছি—চাইলেও আর পাবে না কেউ।

    -সে কি? ভূতনাথও কম অবাক হয়নি। এ-ও কি সম্ভব?

    –চেহারা যদি দেখেন ছোটবাবুর তত আপনি আরো অবাক হয়ে যাবেন। এই এমনি হয়ে গিয়েছে-বলে হাতের কড়ে আঙলটা উচু করে দেখায়।

    -হ্যাঁ শালাবাবু, এই এমনি রোগা হয়ে গিয়েছে। উঠতে হাঁটতে তো পারে না, কেবল শুয়ে পড়ে আছে—খুব যখন খেতে ইচ্ছে করে, তখন সোডা খায় কেবল, আস্তে-আস্তে ধরে তুলে পিঠে বালিশ দিয়ে বসিয়ে দিই দিনের বেলা, আবার শুইয়ে দিই খানিক পরেই, বলে-পিঠে ঘা হয়ে গিয়েছে এক নাগাড়ে শুয়ে-শুয়ে–আমি না হলে ছোটবাবুর একদণ্ড চলে না আজকাল। একলা মানুষ কোন্ দিকে দেখি বলুন তো হুজুর।

    —আর সব কোথায় গেল?

    —এখন বাজার করতেও আমি, তামাক সাজতেও আমি, জুতো সেলাই থেকে চণ্ডীপাঠ সবই একা।

    —কেন, লোচন কোথায় গেল?

    –কেন, আপনি জানেন না কিছু?

    -আমি তো বেরোই সেই সকালবেলা, তারপর দুপুরবেলা ভাত খেতে আসি আধঘণ্টার জন্যে, তারপর সেই আসতে যার নাম রাত্তির হয়ে যায়।

    —তা তো জানিই। লোচন তত সেই পান-বিড়ির দোকান করেছে বড়বাজারে না কোথায়, কিন্তু মধুসূদন সেই যে দেশে গেল আর আসবার নামটি নেই হুজুর, কী নেমোখহারাম দেখুন, এই বড়বাড়ির নুন খেয়ে আমরা সাতপুরুষ মানুষ হয়েছি, তোর এই সময়ে যাওয়া ভালো হলো—হ্যাঁ, না হয় বুঝলুম মাইনে পায়নি ক’মাস, আরে মাইনেটাই বড় হলো, এই যে আমরা ভাইবোনে সাত মাস মাইনে পাইনি–কিছু বলেছি?

    মেজবাবু রোজ আর গাড়ি নিয়ে বেরোয় না আজকাল। যেদিন বেরোয় দেরি করে, সেদিন দেখা হয়ে যায়। সেই বড়মাঠাকরুণ, মেজমাঠাকরুণ থাকে সঙ্গে। আর থাকে হাসিনী। পানের ডিবে নিয়ে গাড়িতে গিয়ে ওঠে। ভৈরববাবু আজকাল নিয়ম করে রোজ আসতে পারে না। বয়েস তত বাড়ছে। আর তেমন ফুর্তিও নাকি হয় না আজকাল। রাত বারোটা না-বাজতেই আবার মেজবাবু ফিরে আসে। ঘুমের মধ্যে গেট-এর ঘড়ঘড় শব্দ কানে আসে। আস্তাবল বাড়িতে ঘোড় এসে ঢোকে। অন্ধকার উঠোন। তারই মধ্যে পা ঠুকে-কে ইব্রাহিম গিয়ে ওঠে নিজের ঘরে।

    বিধু সরকারের ঘরের সামনেও আজকাল বেশি ভিড়।

    শুধু বরফওয়ালা নয়, মুদিখানার লোক আসে, কাপড়ওয়ালা আসে, গয়লা আসে, মিস্ত্রী-মজুর আসে। বিধু সরকারের মেজাজ আরো উগ্র হয়েছে। বলে—খ্যাচ খ্যাচ করিস কিসের জন্যে শুনি? পাওনা কি কখনও পাসনি? তবে এত হেনস্তা কেন? পাবি, পাবি, পাবি, ব্যস এই বলে রাখলাম। বাবুদের ধর্মের পয়সা, অধর্ম বাবুরা করবে না-তোদের দুটো পয়সা মেরে বাবুরা বড়লোক হবে নাকি!

    কিন্তু রাত্রে যেন সেই সুরটা আজকাল বড় ঘন-ঘন শোনা যায়। খিড়কির দিকের সেই নারকোল গাছটার গোড়ায় একতলার সিঁড়ির নিচ থেকে প্রথমে মৃদু একটা সুর ওঠে। তারপর তার ব্যাপ্তি বাড়ে। প্রদক্ষিণ করে সমস্ত বাড়িটা। দক্ষিণের বাগানটা ঘুরে এসে যেন দাঁড়ায় একেবারে বড়বাড়ির অন্ধকার উঠোনে। চায় এদিক-ওদিক একবার। তারপর ওঠে ছাদের ওপর। তখন সেসুরটা তীব্র থেকে তীব্রতর হয়ে ওঠে। আকাশে-বাতাসে সেই তীব্র সুর সমস্ত অন্তরীক্ষ ছাপিয়ে এক আর্তনাদের মত আওয়াজ করে। সে-আর্তনাদে বড়বাড়ির ভিত্ পর্যন্ত যেন কেঁপে ওঠে। তারপর ভোরের দিকে যখন দক্ষিণের বাগানের আমলকি গাছটার ডাল থেকে সেই অদ্ভুত পাখীটা ডাকতে ডাকতে কোথায় হঠাৎ উড়ে যায়, তখন ধীরে-ধীরে থেমে আসে সে-সুর। তখন বুঝি আবার গিয়ে ঢুকে পড়ে সেই অন্ধকূপ কোঠরে। দিনের আলোয় লোকালয়ে বুঝি ওর বেরোনো নিষেধ।

    সকাল বেলা ঘুম থেকে উঠতে গিয়েও যেন আলস্য ধরে ভূতনাথের। সারা শরীর যেন ব্যথা করে। আর মন? মন কি ব্যথা করে না? কে জানে মনের খবর। নিজের মন নিয়ে কখনও মাথা ঘামাবার তো সময় হয়নি। একবার এক জায়গায় হয় তো একটু সময় হয়েছিল কিন্তু সে কথা তো ভুলে যাওয়াই ভালো। এক-একবার মনে হয়, পটেশ্বরী বৌঠানের কথা। ভাবলেই কেমন যেন ভয় করে। অত যার রূপ, অতখানি যে স্নেহ করে, ভালোবাসে, তাকে এতখানি ভয় করা যেন অন্যায়। তবু মুখ দেখাতেই কেমন যেন ভয় করে। কেমন করে মুখ দেখাবে সে। বৌঠানের মুখখানা যদি কালো দেখে, যদি দেখে সে-মুখেও হাসি নেই—তাহলে? তাহলে সহ্য করবে কী করে ভূতনাথ? যদি দেখে, বৌঠানও শীর্ণ হয়ে গিয়েছে। অত্যাচারে, রাত জাগায়, হতাশায় আর দীর্ঘশ্বাসে? তার চেয়ে না দেখা করাই ভালো। বার-বার। চোরকুইরির বারান্দার দরজাটার সামনে গিয়েও কতদিন দাঁড়িয়েছে। খিলটা খুলতে গিয়ে আবার থেমেছে। কী দেখবে সে! কী শুনবে সে!

    কিন্তু রাত্রে স্বপ্নের ঘোরে এক-একবার সে যায় পটেশ্বরী বৌঠানের ঘরে। বৌঠানের চেহারা দেখে ভূতনাথ চমকে যায়। এ কি চেহারা হয়েছে? কোথায় গেল সেই রূপ! কোথায় গেল সেই লাবণ্য! সেই স্তিমিত-ভাস্বর চোখ। আর সেই চোখের চাউনি?

    বৌঠান বলে-ভূতনাথ তুই বেইমান।

    ভূতনাথ অপরাধীর মতো চুপ করে থাকে।

    বৌঠান বলে—তোকে খাওয়ালুম পরালুম, আর আমার কাছে তুই একবারও আসিস নে, আমি তোর কী সর্বনাশ করেছি?

    ভূতনাথ অনেকক্ষণ পরে বলে—তোমার কেন এমন হলো বৌঠান, তোমাকে তো আমি এমন করে দেখতে চাই নি।

    বৌঠান বলে—কেন, আমার তো কিছুই হয়নি, আমি তো এখন সুখী ভূতনাথ, ছোটকর্তা তো এখন বাড়িতে থাকে রে আজকাল। আমার তত আর কোনো দুঃখ নেই—কেন তুই ভাবছিস।

    ভূতনাথ বলে-তোমার চেহারা তবে কেন এমন হলো?

    -কই, কী হয়েছে চেহারার?

    —তা আমি বলতে পারবে না, কিন্তু তোমাকে ভালো দেখাচ্ছে যে—তুমি হাসো না যে আগেকার মতো।

    –এই তো হাসছি—এই দ্যাখ-কত হাসছি–বলে হো-হো করে হাসতে লাগলো বৌঠান। হাসতে-হাসতে হঠাৎ সে-হাসি যেন কান্নায় পরিণত হয়। গলা চিরে যায় বৌঠানের। সেই কান্নার শব্দে হঠাৎ সম্বিৎ ফিরে পায় ভূতনাথ। চারিদিকে চেয়ে দেখে কেউ কোথাও নেই। শুধু অন্ধকার চোরকুঠুরি। ভূমিপতি চৌধুরীর অভিসার-কক্ষ। সমস্ত কলকাতা নিঃশব্দ, নিঝুম, নিশুতি। নিচে আস্তাবলে ঘোড়াদের পা ঠোকার শব্দ পর্যন্ত নেই, সেই রাতজাগা পাখীটা পর্যন্ত আর ডাকে না বাগানের আমলকি গাছটা থেকে। মনে হয় এ-যেন বড়বাড়ি নয়—এ প্রেতপুরী।

    কিন্তু ভবানীপুরে গিয়ে দাঁড়ালে, রাত্রের স্বপ্ন আবার কোথায় মিলিয়ে যায়। সার-সার বাড়ি তৈরি হচ্ছে রূপচাঁদবাবুর। ইট, কাঠ, লোহা, চুন, সুরকি, ছাদ পেটানোর সুর। কলকাতা এখানে আবার যেন যৌবন ফিরে পেয়েছে। ছাদের পর ছাদ উঠছে। একএকটা বাড়ি শেষ হয়, আর নতুন লোকজন আসে গাড়ি করে। খাট, টেবিল, চেয়ার, আসবাবপত্র এসে নামে। ভরে যায় লোক শহরে। দু’দিনেই চেহারা ফিরে যায় রাস্তার।

    ইদ্রিস বলে-দস্তুরির কথা বলেছিলেন বাবুকে?

    —না, বলিনি ইদ্রিস।

    —তা যদি বলেন তো আমিই বলতে পারি আপনার হয়ে।

    –না, তোমাকে আর বলতে হবে না ইদ্রিস।

    —আমি ওভারসিয়ার বাবুদের বলবো। আপনার ন্যায্য পাওনা কেন দেবে না হুজুর?

    ইদ্রিসের ন্যায়-অন্যায় নিয়ে ইদ্রিসই থাক, ভূতনাথের তাতে দরকার নেই। ব্রজরাখাল তাকে আশীর্বাদ করে গিয়েছে, তার কল্যাণ হবে। ব্রজরাখালের কথা কি মিথ্যে হবে! কিন্তু জীবনে এর বেশি কিছু তো চায়নি ভূতনাথ! ফতেপুরে মঙ্গলচণ্ডীতলায় প্রণাম করে ভূতনাথ ছোটবেলায় একদিন যা কামনা করেছে, বনমালী সরকার লেন-এর নরহরি মহাপাত্রের দেবতামণ্ডলীর সামনে প্রণাম করে সেই একই প্রার্থনা সে করেছে। যেন কল্যাণ হয়। কল্যাণ শুধু নিজের নয়। সকলের কল্যাণ। ব্রজরাখালের কল্যাণ, ছোটবৌঠানের কল্যাণ, জবার কল্যাণ, বংশীর কল্যাণ—সকলের, সকলের। কাউকে বাদ দিয়ে তার নিজের কল্যাণ দরকার নেই।

    সেদিন হঠাৎ ভবানীগুর দিয়ে চলতে-চলতে এলগিন রোড-এর সামনে এসেই থমকে দাঁড়ালো ভূতনাথ! ননীলালের সঙ্গে একবার দেখা হয় না।

    পকেট থেকে ঠিকানা লেখা নোট বইটা বের করে একবার দেখলে বাড়িগুলোর সামনে! আশ্চর্য। সামনের বাড়িটাই ননীলালের। কী বিরাট বাড়ি! প্রাসাদ বললে চলে। সাইকেল থেকে নেমে পড়লো ভূতনাথ।

    —ননীবাবু আছে? নীলালবাবু? সামনের দারোয়ানকে জিজ্ঞেস করতে হলো।

    দারোয়ান ভুল শুধরে দিলে—বাবু নেই—সাহেব আছে।

    নিজেকে সামলে নিয়ে ভূতনাথ আবার বললে—সাহেব বাড়িতে আছে?

    দারোয়ান বললে—সাহেব বেরিয়ে গিয়েছে।

    –কখন ফিরবে?

    —কিছু ঠিক নেই। দারোয়ানের উত্তরগুলো শুনতে ভালো লাগলো না অবশ্য। হয় তো তার চেহারা দেখে ঠিক অনুমান করতে পারছে না, সাহেবের সঙ্গে তার আত্মীয়তা কতখানি। তবু দারোয়ানের কথায় মন খারাপ করা বোকামি! আবার জিজ্ঞেস করলে—কালকে সন্ধ্যেবেলা এলে দেখা হবে?

    -না।

    —পরশু সকালবেলা?

    –না।

    —তারপর দিন?

    —না বাবু, না। সাহেব বিলাইত চলে যাবে কাল।

    –বিলেত? ননীলাল বিলেত যাবে? আবার জিজ্ঞেস করলে কালই যাবে?

    –হ্যাঁ বাবুজী।

    ভূতনাথ অগত্যা সাইকেল-এ উঠলো। কালকেই ননীলাল বিলেত যাচ্ছে। একবার তার আগে দেখা করা যায় না। একসঙ্গে পড়েছে দুজনে, এক স্কুলে, একই ক্লাশে। কী ভালোই যে লাগতো তখন ননীলালকে। তার হাতের লেখা চিঠিটা বোধ হয় আজো টিনের স্যুটকেসের মধ্যে খুঁজলে পাওয়া যাবে। কোথা থেকে মানুষের কী হয়ে যায়। বাড়িখানার দিকে আবার পেছন ফিরে দেখলে ভূতনাথ। কত বড় বাড়ি। বড়বাড়ির চেয়েও বড়। উত্তরমুখো বাড়ি। কিন্তু সমস্ত রাস্তা জুড়ে আছে সামনের দিকটা। দক্ষিণ দিকেও কতদূর পর্যন্ত প্রসার কে জানে। সবটা এখান থেকে দেখা যায় না। জানালায়-জানলায় পর্দা। তামার প্লেট-এর ওপর ননীলালের পুরো নামটা লেখা। কেমন করে এ হলো? ও-দিকে বড়বাড়ির চৌধুরী বাবুরা কেন পড়ে যাচ্ছে, আর এদিকে এরা ওঠে কী করে? ওদের তো অনেক টাকা। ননীলালেরই তত টাকা দিন টাকা ধার করে নিয়ে গিয়েছে ছুটুকবাবুর কাছ থেকে। আজ পর্যন্ত সে-টাকা তল শোধই দিলে না। তবে কেন এমন হয়। ননীলাল অবশ্য বলেছিল একদিন—ওরা যে বসে-বসে খায়।

    কিন্তু ননীলালও তত বসে খায়। কী এমন পরিশ্রম করে সে। গাড়িতে করে শুধু তো ঘুরে বেড়ায়। টাকা ওড়ায় দু’হাতে। মদ তো ননীলালও খায়। মেয়েমানুষ তো ননীলালও রাখে। কত কাণ্ডই করেছে ননী জীবনে! ছুটুকবাবুকে ওই ননীলালই তে নিয়ে গিয়েছিল মতিয়া বাঈজীর বাড়িতে! তবে?

    আর ওই তো রূপচাঁদবাবু! কী নিষ্ঠা নিয়ে ব্যবসা করছেন। মাসে-মাসে মাইনে দিয়ে যাচ্ছেন ঠিক। এতগুলো ইঞ্জিনীয়ার, ওভারসিয়ার, বিলবাবু, রাজমিস্ত্রী, ছুতোর মিস্ত্রী খাটছে। নতুন শহর গড়ে তুলছেন ভবানীপুরে! লোহা, কাঠ, ইট দিয়ে স্বপ্ন গড়ছেন মানুষের, ভবিষ্যৎ পাকা করে তুলছেন নিজের, পরের, সকলের।

    রূপচাঁদবাবু বলেন—ভাঙা গড়াই নিয়ম-নদীর যখন এপার ভাঙে, তখন ওপার গড়ে ওঠে।

    ভবানীপুরের নতুন পাড়ার ছেলেরা খেলা করে পার্কে। ফুটবল খেলে, গান গায়, ওরা গড়ে উঠছে বুঝি। কিন্তু একদিক গড়ে তুলতে গেলে আর একদিক কি ভাঙতেই হবে?

    সেদিন ইদ্রিস কাজে আসেনি। কাজকর্ম বন্ধ হবার যোগাড়।

    পরদিন আসতেই প্রশ্ন। ইঞ্জিনীয়ার সাহেব, ওভারসিয়ারবাবুও রেগে আগুন। ওভারসিয়ারবাবু বলে-ফুরনের কাজ আমাদের তুমি কী বলে কামাই করলে? একটা আক্কেল নেই তোমার?

    ইদ্রিস বলে—আমারই না-হয় রোজটা নষ্ট হলো—আপনাদের কী ক্ষতিটা হলো শুনি?

    —আমাদের আবার ক্ষতি কী? কিন্তু বাবুকে তো খেসারৎ দিতে হবে?

    –কীসের খেসারৎ? আর যদি খেসারৎ দিতেই হয় তো দিন , কত দিক থেকে লাভ তো হচ্ছে বাবুদের—একটু না-হয় ক্ষতিই হলো!

    –ওই কথা বাবুকে গিয়ে বলবে আমি?

    –বলুন গে আপনি, আমরা কাজের ভয় করি না, যেখানে যাবো, সেইখানেই কাজ মিলবে আমাদের, কাজের কি অভাব আছে ওভারসিয়ারবাবু, কাজের অভাব নেই আজকাল। তামাম ভবানীপুর পড়ে আছে, সব বাড়ি হবে—আমাদের ডাকতেই হবে।

    -নাও, নাও, কাজ করে, কেবল কথা-ওভারসিয়ারবাবু গজগজ করতে-করতে চলে যায়।

    তারপর ভূতনাথের দিকে চেয়ে ইদ্রিস বলে—দেখুন তত বিলবাবু, খামকা ঝগড়া করে—ভারি ভদ্রলোক হয়েছে আমার। আমাদের চটালে আমরাও ফাঁকি দিতে জানি, এমন বাড়ি বানাবো, দু’দিনে দেয়াল ফেটে চৌচির হয়ে যাবে—উঠে যাবে কোম্পানী।

    ভূতনাথ সান্ত্বনা দিয়ে বলে চুপ করে ইদ্রিস, কেন ঝামেলা বাড়াও, তা সত্যি কালকে আসোনি কেন?

    ইদ্রিস বলে—আসবো কী করে বিলবাবুযে-বস্তিতে ছিলাম, সেখান থেকে কাল ঘরদোর সব তুলে নিয়ে যেতে হলো যে!

    -কেন?

    —আমাদের বস্তীতেও বাড়ি হবে যে, পাঁচ শ’ লোকের বাস, রাতারাতি উঠতে পারা যায়? বউ ছেলে মেয়ে নিয়ে আবার এক জায়গায় আস্তানা পেলে তবে তো!

    তোমাদের বস্তীতেও বাড়ি হচ্ছে বুঝি?

    -হ্যাঁ বিলবাবু, বাড়ি হলেই তো ভালো আমাদের, কাজ পাবে, তা বুঝি—কিন্তু নিজেদের তত আর থাকা হবে না!

    ভূতনাথ ভাবলে—এ তো বেশ মজার।

    ইদ্রিস বলে—তাই তো ভাবি-বাড়ি করবো আমরা, থাকবে অন্য লোক! এই দেখুন না, ভবানীপুরের বস্তিতে ছিলাম, এখন উঠে গেলাম বালীগঞ্জের ধোপাপাড়ায়, তারপর যখন আবার বালীগঞ্জে শহর তুলবে, তখন যাবো চেতলায়।

    পরদিন ননীলাল সেই কথাই বলেছিল।

    ভোরবেলাই সেদিন বেরিয়ে পড়েছিল ভূতনাথ। অল্প-অল্প কুয়াশা চারদিকে। রাত থাকতে উঠতে হয়েছে। চাকর-বাকর কমে গিয়েছে আজকাল বড়বাড়িতে। সব সময় জল থাকে না ভিস্তিখানায়। অত সকালে কলেও জল আসে না। কেউ দেখবার আগেই সাইকেল নিয়ে বেরিয়েছে। রাস্তা তখন নির্জন। যখন এলগিন রোড-এ এসে পড়লো তখন বেশ ফর্সা হয়েছে। ননীলাল বরাবরই ভোরবেলা ঘুম থেকে ওঠে। দেখা করবার এইটেই সময়। তবু এরই মধ্যে ননীলালের সঙ্গে দেখা করবার জন্যে আরও অনেক লোক জড়ো হয়েছে।

    দারোয়ান যে-ঘরে বসিয়ে দিয়ে গেল, সে-ঘরটার ভেতর চারপাঁচটা বেঞ্চি। আরো ক’জন বসে আছে। কিন্তু বসে-বসে ক্লান্তি, ধরে গেল ভূতনাথের।

    পাশের লোকটি হঠাৎ বললে—আপনি কোত্থেকে আসছেন স্যার?

    ভূতনাথ চেয়ে দেখলে লোকটার দিকে। গরীব লোক। বেঞ্চির ওপর একটা পা তুলে বসে আছে। ভূতনাথ বললে— বৌবাজার থেকে।’

    —চাকরির জন্যে বুঝি?

    –না

    —তবে কি দালালি?

    –না।

    অন্য লোকগুলো তাদের কথা শুনছিল। কেউ-কেউ ভদ্র চেহারার, একজন শুধু কোট-প্যান্ট পরা সাহেব। সবাই প্রতীক্ষমান। নতুন বাড়ি। নতুন দেয়াল। দেয়ালের গায়ে লেখা রয়েছে–গোলমাল করিবেন না।

    আগের লোকটি এবার বললে—আমি আসছি মশাই বরানগরু থেকে।

    —সে তো অনেক দূর।

    —তা অনেক দূর বললে তো চলবে না, পেটের দায়ে লোকে কঁহা কঁহা যায়, এ তো সামান্য। সেই রাত থাকতে বেরিয়েছি, শুনলুম কিনা সাহেব চলে যাবে আজ।

    ভূতনাথ বললে—আমিও শুনেছি।

    —তবে তো ঠিকই বলেছে হরিহরদা’–হরিহরদা’ কাজ করে কি না সাহেবের আপিসে, আমাকে বলেছে—সাহেবের পা গিয়ে জড়িয়ে ধর—একটা হিল্লে হয়ে যাবেই। কী বলেন স্যার, হবে না?

    কোট-প্যান্ট পরা লোকটি তখন একটা সিগারেট ধরিয়ে ফেলেছে। সিগারেট খেতে-খেতে একবার হাতের ঘড়িটার দিকে তাকাচ্ছে। কে জানে কী কাজ ওর। হয় তো চাকরির জন্যেই এসেছে।

    এমন সময় হঠাৎ সকলের যেন একটু সন্ত্রস্ত ভাব দেখা গেল। পাশের ঘরে যেন শব্দ হলো একটু। কোট-প্যান্ট পরা লোকটি হাতের সিগারেট ফেলে দিলে।

    দারোয়ান এসে পড়লো। বললে—আপনাদের নাম-ঠিকানা সব এই কাগজে লিখে দিন।

    কোট-প্যান্ট পরা লোকটি আগে লিখে দিলে—এস, আর, মিটার।

    পাশের লোকটা বললে—আমি তো লিখতে জানিনে স্যার, আপনি একটু লিখে দেবেন?

    ভূতনাথ সকলের শেষে লিখলে—ভূতনাথ চক্রবর্তী, বড়বাড়ি, বৌবাজার।

    দারোয়ান কাগজ নিয়ে চলে গেল। সব ক’জন লোকই যেন একটু তটস্থ হয়ে বসেছে। এখনি এক-এক করে ডাক আসবে। ভূতনাথও কেমন অস্বস্তি বোধ করতে লাগলো। এত লোকের মধ্যে তার নামটাই অমন নাম পিসিমা কেন যে রেখেছিল। বাবার দেওয়া নাম ‘অতুল’ই তো ছিল ভালো। পিসিমা বলতো–বউ-এর ছেলে হয় আর মরে যায়, শেষে পঞ্চানন্দের দোর ধরে এই ছেলে হলো–সতীশ বললে এর নাম থাক ‘অতুল’-আমি বললাম —পঞ্চানন্দের দোর ধরে হয়েছে, এর নাম থাক ভূতনাথ, তা ভূতনাথ তো ভূতনাথ–ভোলানাথ আমার, খেতে ভুলে যায়, ঘুমোতে ভুলে যায়, এমন ছেলে কোথাও দেখেছো মা তোমরা। ভূতনাথের মনে হয়—কেন, অতুল নাম থাকলেই তো ভালো হতো। অতুলচন্দ্র চক্রবর্তী। বাবা যতদিন বেঁচে ছিল ততদিন অতুল বলেই কিন্তু ডাকতো তাকে।

    দারোয়ান হঠাৎ এল আবার। ডাকলে—ভূতনাথবাবু—

    এত লোক থাকতে তাকেই প্রথম ডাকা। ভূতনাথ তাড়াতাড়ি ভেতরে গিয়ে ঢুকলো।

    —কী খবর ভূতো, তুই?

    ভূতনাথ কী বলে প্রথম কথা বলবে ভাবতে পারলে না। এত তাড়াতাড়ি ঘটনাটা ঘটলো। সময় পাওয়া গেল না মোটে। আর ননীলালেরও চেহারাটা কেমন হয়ে গিয়েছে যেন। যেন আরো বয়েস বেড়ে গিয়েছে। ভয় হয় দেখলে। বিরাট একটা টেবিল। চারদিকে কাগজপত্র। একটা কাগজে কী যেন লিখছিল। হাতে তখনও কলমটা রয়েছে। মুখে সিগারেট। চোখে চশমা।

    —বোস, তোর চাকরিটা খালি পড়ে রয়েছে—আর দেখাই করলি না তুই—আছিস কোথায়? এক নিঃশ্বাসে অনেকগুলো কথা বলে গেল ননীলাল।

    ভূতনাথ বললে—সেই বড়বাড়িতে, আবার কোথায় থাকবে।

    —এখনও ওখানে আছিস…কিন্তু চাকরি?

    —চাকরি তো একটা করছি রূপচাঁদবাবুর কোম্পানীতে। বিল সরকারের কাজ পেয়েছি একটা।

    —ভালোই হয়েছে, আমিও চলে যাচ্ছি আজ।–কোথায়?

    —তোকে বলেছিলাম, একবার বেড়াতে যাবোআজই যাচ্ছি—শুধু দেরি হলে চূড়োর জন্যে।

    —ছুটুকবাবু? ছুটুকবাবুর জন্যে?

    ননীলাল আর একটা সিগারেট ধরালে। তারপর বললো, ওদের বড়বাড়িটা আমার কাছে বাঁধা রাখলে কিনা–আমার তেমন ইচ্ছে ছিল না।

    বাঁধা। বন্ধক। বড়বাড়ি! কেমন যেন গোলমাল হয়ে গেল সমস্ত। ননীলাল এ বলছে কী!

    ননীলাল বললে-আমার তেমন ইচ্ছে ছিল না ভাই, নিজেদের মধ্যে, এতদিনের জানাশোনা, তা ছাড়া ছোটবেলা থেকে ওদের বাড়িতে যাচ্ছি, কত খাওয়া-দাওয়া করেছি ও-বাড়িতে, চুভোর কাছে কতবার কত টাকা নিয়েছি, শোধ করিনি, তুই তো জানিস কতদিনের আলাপ ওদের সঙ্গে—অথচ তাই-ই করতে হলো—বড় সঙ্কোচ লাগছিল নিজের মনে।

    ভূতনাথের মন তখন কোথায় নিরুদ্দেশ হয়ে গিয়েছে। যা শুনছে সব সত্যি! সেই আস্তাবলবাড়ি, খাজাঞ্চীখানা, তোষাখানা, ভিস্তিখানা, পূজোবাড়ি, বৈদূর্যমণি, হিরণ্যমণি, কৌস্তুভমণি, ছুটুকবাবু, ভূতনাথের জীবনের অর্ধেকের সঙ্গে ও-বাড়ির সমস্তটা জড়িয়ে আছে যে। সেই ভৈরববাবু! ছুটুকবাবুর বিয়ে! আর সকলের চেয়ে সেই পটেশ্বরী বৌঠান। পটেশ্বরী বৌঠানের

    কী হবে!

    বৌঠান বলেছিল—এ-সব কর্তাদের ব্যাপার,আমরা ও নিয়ে মাথা ঘামাই না।

    —কিন্তু শেষ পর্যন্ত কেন এমন হলো?

    ননীলাল বলতে লাগলো—প্রথমে আমার ইচ্ছে ছিল না, অতবড় বংশ, বনেদী বাড়ি, আমার কাছে যখন চূড়ো প্রস্তাব করলে, তখন আমি বললুম—আমার দ্বারা হবে না ভাই, কলিস তো ও-টাকার জন্যে আমি অন্য লোক যোগাড় করে দিচ্ছি।

    চূড়ো বললে—আর কেউ হলে জানাজানি হতে পারে, ওটা তুই-ই দিয়ে দে। আমরা শোধ করে দেবে বছর দু’-একের মধ্যে। সুদ যা বলবি তাই-ই দেবো।

    শেষে রাজি হলাম—কিন্তু জানি ও আর শোধ হবে না, টাকাও ওদের যোগাড় হবে না, ও-বাড়িও ওদের ছাড়তে হবে।

    –বাড়ি ছাড়তে হবে? ভূতনাথ যেন নিজের কানে নিজের ফঁসির হুকুম শুনছে।

    –ছাড়তে হবে বৈকি! টাকা তো আমার একলার নয়, আমাদের ফ্যামিলির টাকা, আমার নাবালক শালারা রয়েছে, আমার শাশুড়ী রয়েছে, তারা সুদই বা ছাড়বে কেন? আর টাকা দিয়ে বন্ধকি বাড়িই বা হাতছাড়া করবে কেন! শেষ পর্যন্ত তেমন হলে বাড়িও খালি করতে হবে বৈকি!

    –তা হলে যাবে কোথায় ওরা? এতদিনের বংশ, এত লোকজন, চাকর-বাকর, পূজা-পার্বণ, বিগ্রহ সকলকে নিয়ে সব তুলে নিয়ে-সে কি সম্ভব?

    ননীলাল বললে—চূড়ো তত এটর্নিশিপ পাশ করতে পারলে না জানিস—তা বিয়ের পর কেউ এগজামিনে পাশ করতে পারে?

    —কী করবে তা হলে?

    —বলছিল আর একবার পরীক্ষা দেবে, কিন্তু ও আর পাশ করতে পারবে না, দেখে নিস। এখন ওর মাথায় কেবল ওই সব চিন্তা, স্বপ্ন দেখছে কেবল সম্পত্তি ফিরে পাবার, ব্যাঙ্কটাও ওদের ফেল মারলো। জমিদারী যেটুকু আছে, তাতে কিছুই চলে না, এদিকে কোলিয়ারি কিনলে তাতেও ওই…

    —তাতে কী? কোলিয়ারি চললো না কেন?

    ননীলাল আর একটা সিগারেট ধরালো এবার। বললেওদের কপালই খারাপ, যেমন প্রথমে আমাকে কিছু বললে না, জিজ্ঞেসও করলে না, ভাবলে এত টাকার কারবার, আমি বোধহয় দালালি মারবো। তাই বিশ্বাস করে ঝুমুটমলকেই ডাকলে—এখন বুঝতে পেরেছে। এতখানি নেমকহারামি আমি অন্তত করতে পারতুম না—অনেক খেয়েছি রে ওদের বাড়িতে, অনেকদিন চূড়োর পয়সায় বাবুয়ানি করেছি, ওর অনেক পয়সা ধার নিয়ে শোধ দিইনি আজ পর্যন্ত—একটু কৃতজ্ঞতা অন্তত পেতে আমার কাছে। এখন ছুটুককে তাই বললুম—মায়োয়াড়ীকেই তুই বেশি বিশ্বাস করলি!

    চুলো বললে-কাকারা যা করতো তাতে তো আগে আমি কিছু বলতে পারতুম না।

    ননীলাল আবার বলতে লাগলো—তা শেষকালে দেখা গেল শুধু ওপরটাই কয়লা, নিচে সমস্ত পাথর—ভালো করে এক্সপার্ট দিয়ে দেখালে না পর্যন্ত, অত সময়ই ওদের নেই—যা করে বিধু সরকার আর ঝুমুটমল। ননীলাল এবার হাতঘড়িটা দেখলে।

    ভূতনাথ বললে—আমি এবার উঠি ননীলাল—দেরি হয়ে যাচ্ছে হয় তো তোর।

    রাস্তায় বেরিয়ে কান্না পেতে লাগলো ভূতনাথের। মনে হলো এখনি সে দৌড়ে যাবে বড়বাড়িতে। পটেশ্বরী বৌঠানের কাছে না যেতে পারলে যেন তার স্বস্তি হচ্ছে না। বড়বাড়ির সমস্ত প্রাণীর জন্যে যেন মায়া হতে লাগলো তার। সেই ছুটুকবাবু, মেজবাবু, ছোটবাবু, বৌঠান, বংশী, চিন্তা, ইব্রাহিম, ইয়াসিন সবাই। এমন কি সেই রান্নাবাড়ির আরশোলাটা পর্যন্ত। কেন এমন হলো! কোথায় যাবে সব! এর হাত থেকে বাঁচবার কি কোনো পথ নেই? নিজের জন্যে তার চিন্তা নেই। কিন্তু বৌঠান! আর ছোটবাবু যে উঠতে পারে না—তাকে যে উঠে বসিয়ে ধরে খাওয়াতে হয়, স্নান করাতে হয়! ছোটবাবু কোথায় যাবে! বনেদী বংশ, কখনও নিজের হাতে এক গেলাশ জল গড়িয়ে পর্যন্ত খায়নি। কখনও নিজের কাপড়টার হিসেব পর্যন্ত রাখেনি! কোথায় যাবে ওরা! কোথায় ওরা যাবে!

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40 41 42 43 44 45 46 47 48 49 50
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleবেগম মেরী বিশ্বাস – বিমল মিত্র
    Next Article রচনা সংগ্রহ – অক্ষয়কুমার মৈত্রেয় (নন-ফিকশন)

    Related Articles

    বিমল মিত্র

    বেগম মেরী বিশ্বাস – বিমল মিত্র

    May 29, 2025
    বিমল মিত্র

    আসামী হাজির – বিমল মিত্র

    May 29, 2025
    বিমল মিত্র

    কড়ি দিয়ে কিনলাম ১ – বিমল মিত্র

    May 28, 2025
    বিমল মিত্র

    কড়ি দিয়ে কিনলাম ২ – বিমল মিত্র

    May 28, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Our Picks

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }