Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    সাহেব বিবি গোলাম – বিমল মিত্র

    বিমল মিত্র এক পাতা গল্প740 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    ০৪. সেদিন আপিস থেকে ব্রজরাখাল ফিরলো

    সেদিন আপিস থেকে ব্রজরাখাল ফিরলো একটা মস্ত বড় বাণ্ডিল নিয়ে। বললে—তোমার ও জামা-কাপড়ে চলবে না বড় কুটুম—ভদ্রলোকের কাছে চাকরি করতে গেলে একটু ভদ্র হয়ে যেতে তো হবে–

    একেবারে তৈরি কামিজ নিয়ে এসেছে। ধুতিও একজোড়া। লাট্ট মার্কা রেলির ধুতি। যেমন মিহি তেমনি খাপি।

    -আর এই নাও জুতো—এ তো ফতেপুরের রাস্তা নয়। এখানে খোয়ার রাস্তা, খালি পায়ে চললে পা ছিঁড়ে যাবে একেবারে।

    ভূতনাথ জুতো জোড়া পায়ে দিলে। ব্ৰজরাখাল নিজের হাতে ফিতে বেঁধে দিলে। বললে—পছন্দ হয়েছে তো। টেরিটি বাজারের খাস চিনে-বাড়ির জুতো।

    সেই বিকেল বেলা ভূতনাথকে জুতা জামা কাপড় পরিয়ে ঘুরিয়ে ফিরিয়ে চারদিক থেকে দেখলে ব্রজরাখাল। তারপর বললে–এইবার সব ছেড়ে রাখখা, পরশু আমার ছুটি আছে আপিসের, ওইদিন আবার পরতে হবে।

    -কেন?

    ব্ৰজরাখাল উত্তর দিলে না। কিন্তু খেতে বসে কথাটা বললে ব্ৰজরাখাল। বললে—চাকরি তো কখনও কয়রানি বড়কুটুম চাকরির শতেক জ্বালা—এক-একবার ভাবি ছেড়ে দেবো-আমার কিসের দায়। না-আছে বাপ-মা, না-আছে বউ-ছেলে,—কিন্তু ঠাকুর বলতেন—

    ভূতনাথ মুখে ভাত পুরে বললে—কোন্ ঠাকুর?

    —আমার ঠাকুর রামকৃষ্ণ পরমহংসদেব-গেঁয়ো ভূত, নাম শোনননি তুমি—দেখবে, বলে রাখছি তোমাকে—ওই ঠাকুরের ছবিই একদিন দেশের ঘরে ঘরে থাকবে—আমার চোখ খুলিয়ে দিয়েছেন ঠাকুর। তোমার বোন যখন মারা গেল বড়কুটুম, সে বড় কষ্টের মধ্যে কাটাতে লাগলাম—সে যে কী কষ্ট কী বলবো। বড় ভালোবাসতাম রাধাকে—বলে ভাত খেতে খেতে হো হো করে হেসে উঠলো ব্রজরাখাল।

    ব্ৰজরাখাল হাসলো না কেঁদে উঠলো দেখবার জন্যে ভূতনাথ ব্ৰজরাখালের মুখের দিকে তাকালে। কিন্তু ব্রজরাখাল কোনো দিকেই যেন চেয়ে নেই।

    আবার বলতে লাগলো বজ্ররাখাল—তোমার বোন আমায় একদিন কী বলেছিল জানো–

    ভূতনাথ বললে—কী।

    -এই অসুখ হবার কিছুদিন আগে, আমি শনিবার দিন বাড়ি গিয়েছি। রাধা বললে—তোমার সঙ্গে একটা কথা ছিল— বললাম—কী কথা বলো। রাধা বললে-আমার ভূতোদাদার বড় ইচ্ছে কলকাতা দেখবার। আমায় কতবার বলেছে-তুমি চাকরি করে কলকাতায়, ওকে একবার কলকাতা দেখাতে পারো না? বললাম—পারি। পারি তো বললাম, কিন্তু তার কিছুদিন পরেই ও মারা গেল। আমার মনের অবস্থা তখন তত বুঝতে পারছো—ফতেপুর থেকে ফিরে এসে লম্বা ছুটি নিয়ে দিনরাত কেবল দক্ষিণেশ্বরে ঠাকুরের কাছে পড়ে থাকতাম। বেশ ভালো লাগতো। মনে হলো দক্ষিণেশ্বর ছেড়ে আর সংসারে ফিরে যাবো না কিন্তু ফিরে এলাম ভাই,ঠাকুরই আমায় ফিরিয়ে দিলেন—কেমন করে দিলেন সেই কথা বলি–

    সেদিন সব ভক্তরা বসে আছি। নরেন আছে, লাটু আছেগিরিশও ছিলো বোধহয়। আমি বললাম—ঠাকুর আমি আর সংসারে ফিরে যাবো না।

    ঠাকুর জানতেন সব। রাধার মারা যাওয়ার খবর শুনে খুব কেঁদেছিলেন। জানতেন আমার কেউ নেই সংসারে—সংসারে কারো ওপর কোনও দায়িত্ব নেই। কার জন্যেই বা চাকরি করছি, কার জন্যেই বা টাকাকড়ি—একটা পেট, সে-জন্যে ভাবিনে। ঠাকুর শুনলেন খানিকক্ষণ। তারপর বললেন, একটা গল্প শোন। বললেন-দেখ নারদ মুনির ভারি অহঙ্কার ছিল যে, ত্রিভুবনে তাঁর মতন ভক্ত আর কেউ নেই। বিষ্ণু শুনে বললেন—তোমার চেয়েও আর একজন বড় ভক্ত আমার আছে হে—সে এক চাষী, যাও তাকে গিয়ে দেখে এসো নারদ। নারদ গেলেন দেখতে। গরীব চাষা। সারাদিন ক্ষেতে খামারে কাজ করে—ফুরসুৎ নেই মরবার। কেবল সকালে ঘুম থেকে উঠে আর রাত্রে শুতে যাবার আগে দু’বার মাত্র হরির নাম করে। নারদ কিছু বুঝতে পারলেন না। এলেন বিষ্ণুর কাছে। বললেন-দেখে এলাম তোমার ভক্তকে—কী এমন তার ভক্তি যে এতো বড়াই করছে। বিষ্ণু তাকে একটা বাটিতে টইটুম্বুর তেল দিয়ে বললেন—যাও নারদ, এই বাটিটা নিয়ে একবার সারা শহরটা ঘুরে এসো—কিন্তু সাবধান, তেল যেন একফোঁটাও না পড়ে। নারদ চললেন। অনেকক্ষণ পরে ফিরে এলেন আবার বাটিভর্তি তেল নিয়ে। তেল এক ফোটাও পড়েনি। বিষ্ণু জিজ্ঞেস করলেন—নারদ, আমার কথা ক’বার স্মরণ করেছো তুমি? নারদ বললেন,—প্রভু, আপনার নাম স্মরণ করবার সময় পেলাম কই। আমি তো সারাক্ষণ তেল নিয়েই ব্যস্ত। তখন বিষ্ণু নারদকে বুঝিয়ে দিলেন–সেই সামান্য চাষার ভক্তি কেন নারদের চেয়েও বড়। সেই চাষা হাজার কাজের মধ্যেও দু’বার তো অন্ততঃ হরিকে স্মরণ করে—

    ঠাকুর এমনি কথায় কথায় কেবল গল্প বলতেন। গল্প শুনে চুপ করে রইলাম। তখনও যেন বিশ্বাস হলো না। ঠাকুর বুঝলেন। বুঝে হাসলেন এবার। বললেন–ওই গিরীশকে জিজ্ঞেস করে দেখ—ওকে বলেছিলাম যখন প্রথম ও এসেছিল—শুধু দিনের মধ্যে দু’বার নাম-জপ করতে, একবার খাবার আগে, আর একবার শোবার আগে। ও শেষ পর্যন্ত পেরেছে। তুই-ই বা পারবি না কেন। তার বেশি তোকে কিছু করতে হবে না। মা তোর কাছে আর কিছু চায় না রে বোকা ছেলে। তারপর হাসি থামিয়ে নৱেনের দিকে চেয়ে বললেন–ওরে দেখ, ব্ৰজরাখালের বিশ্বাস হচ্ছে না। ওরে এ-সংসারে যত মত তত পথ যে,—কোনও মতটাই নিখুত নয়। তা ভেবে তোর কী দরকার। তুই যা করছিস করে যা-সংসারের সমস্ত জীবের মধ্যেই শিবকে পাবি। আর যদি না-ই পাস তাতেই বা কী। মা তো তোর মনের কথা জানে রে। এই দেখ না, সবাই ভাবে তার হাতঘড়িটাই ঠিক সময় দেয় কিন্তু কোনও ঘড়ির সঙ্গে কোনও ঘড়ির তো মিল নেই—অথচ আসলে সঠিক সময়টা যে কী তা কেউ জানে না—তা নাই বা জানলো, তাতে কারো কোনও কাজের ক্ষতি হচ্ছে?

    গল্প করতে করতে কখন যে খাওয়া শেষ হয়ে গিয়েছে কারোর খেয়াল ছিল না। ভূতনাথ একমনে ব্রজরাখালের কথা শুনছিল। হঠাৎ চমক ভেঙে ব্ৰজরাখাল বললে—যা হোক—রাধার কাছে সেই কথা দিয়েছিলুম তার ভূতোদাদাকে কলকাতা দেখাবে। তা

    এন্তোদিন মনে ছিল না, তোমার চিঠি পেয়ে মনে পড়লো।

    রাত্রে ভূতনাথ বললো-ও বাঁয়া তবলা কার ব্রজরাখাল।

    ব্ৰজরাখাল বিছানা পাততে পাততে বললেও আমারই, এককালে আমিই বাজাতাম—-তারপর এখন বাজাই খোল, দক্ষিণেশ্বরে ঠাকুরের সামনে খোল বাজিয়ে আর তবলা ভালো লাগে না।

    শোবার আগে ব্রজরাখাল বললে–ঠাকুরকেই দেখলে না বড়কুটুম, কলকাতার আর কী দেখলে তবে…তা হলে পরশুদিন যাওয়া মনে রেখো, আবার ভুলে যেও না যেন—আমার ছুটি আছে সেদিন।

    —কোথায়? ভূতনাথ অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করলে।

    —এরই মধ্যে ভুলে বসে আছো, তোমার চাকরি হে—মাইনে এখন পাবে সাত টাকা করে, আর এক বেলা ওখানেই খাবে। বেশ নিষ্ঠাবান ধার্মিক লোক সুবিনয়বাবু। নববিধান সভার ব্রাহ্ম ওঁরা—

    —সে কী ব্ৰজরাখাল।

    —সে তুমি বুঝবে না এখন—ব্রজরাখাল পাশের ঘরের দরজা বন্ধ করে দিলে।

    পাশের ঘরে শুয়ে অনেকক্ষণ ভূতনাথের ঘুম এল না। সেই কালকের মতো ঘোড়ার পা ঠোকার শব্দ, অনেক চাকরের গোলমাল। তারপর রাত্রি বাড়বার সঙ্গে সঙ্গে সেই তন্দ্রার মধ্যে কালোয়াতি গানের সঙ্গে তবলার ঠেকা। অনেক রাত্রে লোহার গেট খোলার ঘড় ঘড় শব্দ। আর তারপর…তারপরের কথা আর ভূতনাথের মনে থাকবার কথা নয়।

     

    শেষ পর্যন্ত চাকরি হলো ভূতনাথের। সাত টাকা মাইনে আর এক বেলা খাওয়া। তা সাত টাকাই কি কম।

    ব্ৰজরাখাল বললে—সাত টাকাই কি কম। আমি তো এল.এ. পাশ করে দশ টাকায় ঢুকেছিলাম। তুমি লেখাপড়া-জান ছেলে, বিদ্যে রয়েছে পেটে—দেখবে, ও সাত টাকাই শেষে সতেরো টাকায় গিয়ে দাঁড়াতে দেরি হবে না। তুমি কিছু দ্বিধা করে না তা বলে।

    দ্বিধা নাকি ভূতনাথের আছে! দ্বিধা কিসের। ব্রজরাখালের বিনাভাড়ার ঘরে থাকা আর একবেলা খাওয়া আবার সাত টাকা নগদ মাস গেলে। জলখাবার, জামাকাপড় নিয়ে মাসে তিন টাকাই খরচ হোক—তারপর চার টাকা করে জমা! কত বাবুয়ানি করবে করো না!

    ব্ৰজরাখালের কেনা নতুন জামা-কাপড় জুতো পরে রওনা দিলে ভূতনাথ ব্ৰজরাখালের সঙ্গে। রাস্তায় বেরিয়ে ব্রজরাখাল বললেখুব মন দিয়ে কাজ করবে বড়কুটুম—দেখো আমার বদনাম না হয়। ওরা আবার ব্রাহ্ম কিনা।

    –ব্রাহ্ম মানে? ভূতনাথ জিজ্ঞেস করলে।

    —এই তোমরা যেমন হিন্দু, উনি তেমনি ব্রাহ্ম—অর্থাৎ এই দুর্গা কালী গণেশ ও-সব পূজো টুজো করেন না-বলেন পুতুল পূজো, তা সে-সব নিয়ে তোমার কী দরকার—তুমি চাকরি করবে মন দিয়ে-ফাঁকি দেবে না, ব্যস চুকে গেল ল্যাঠা।

    ভূতনাথ বললে—আমাকে আমার হিন্দুধর্ম ছাড়তে যদি বলেন–

    –তা তো বলবেনই—ব্রজরাখাল বললে।

    —তা হলে?

    —তুমি ছাড়বে না।

    —তাতে যদি চাকরি যায়?

    –যাবে, যাবে। তা বলে তো আর রাতারাতি ধর্ম বদলাতে পারে না। ধর্ম হলে তোমার মনের বিশ্বাসের ব্যাপার–আর যদি মনে করো সাত টাকাই তোমার কাছে বড় তা হলে হবে ব্রাহ্ম, ব্রাহ্মসমাজে গিয়ে নেবে দীক্ষা।

    ভূতনাথ উত্তর দিলে না। চুপ করে ভাবতে ভাবতে চললো। খানিক পরে বললে—এ-চাকরিতে তোমার মত আছে তো ব্রজরাখাল—তোমার মত না থাকলে দরকার নেই চাকরির। শেষে হয় তো গরু-শোর খেতে বলবে।

    ব্ৰজরাখাল বললে—না না ওসব ভয় তোমার নেই। সুবিনয়বাবু লোক খুব ভালো, আমার চেয়েও ভালো, তবে একটু গোঁড়া। তাতেই বা তোমার কী! ওর ধারণা কেশববাবু যা বলেন তাই-ই ঠিক তাই-ই ধ্রুব আর কারোর কথা কিছু নয়। না হয় তাই-ই বললেন, তাতে তোমারই বা কী আর আমারই বা কী।

    ভূতনাথ ব্ৰজরাখালের কথা কিছু বুঝতে পারলে না।

    ব্ৰজরাখাল বলেই চললো—অথচ দেখো বড়কুটুম, আমার ঠাকুর বলতেন—ও হিন্দুধর্মই বলো আর খৃস্টধর্ম কিম্বা ইসলামধর্মই বলো, সব চর্চা করে দেখেছি—দেখলাম আসলে সেই ভগবানকেই সবাই ডাকে—শুধু বিভিন্ন নামে। একটা পুকুরের যেমন অনেকগুলো ঘাট থাকে তার এক ঘাটে হিন্দুরা ঘড়ায় করে ‘জল’ তোলে। আরেক ঘাটে মুসলমানেরা মশকে করে পানি তোলে, আর একটা ঘাটে খৃস্টানরা তোলে ‘ওয়াটার’—আসলে সেই জলই তো সবাই-এর লক্ষ্য—শুধু নামটা নিয়ে মারামারি।

    বউবাজার স্ত্রীট দিয়ে হাঁটতে হাঁটতে মাধববাবুর বাজার পেরিয়ে সোজা উত্তরে চলতে লাগলো দুজনে।

    এক ঘণ্টা সময় লাগলো পৌঁছতে।

    বাড়ির সামনে বড় সাইনবোর্ডের ওপর লেখা-মোহিনী-সিন্দুর কার্যালয়।

    দরজা খোলাই ছিল। ভেতরে ছোটখাটো আপিসের মতন। চেয়ার-টেবিল সাজানো। কাগজ-পত্র গোছানো রয়েছে। পরিপাটি পরিচ্ছন্ন।

    কে একজন এগিয়ে এল সামনে। এসে বললে—বাবু আপনাদের বসতে বলেছেন, আপনারা কি বনমালী সরকার লেন থেকে আসছেন—

    খানিক পরে আবার ফিরে এল লোকটা। এসে ব্রজরাখালকে বললে—আপনাকে ওপরে ডাকছেন।

    ভূতনাথকে বসতে বলে ব্রজরাখাল ওপরে চলে গেল। ঘরটার চারধারে চেয়ে দেখলো ভূতনাথ। আপিস ঘর। দেয়ালের গায়ে অনেকগুলো ফটো টানানো। ভূতনাথ কাউকে চেনে না। অনেকগুলো সাহেব মেমদের ছবি। সোনালি ফ্রেমে বাঁধা। সদর দরজার মাথার ওপর দেয়ালের গায়ে বড় বড় অক্ষরে লেখা রয়েছে— “ব্ৰহ্মকৃপাহি কেবলম।

    সমস্ত বাড়িটা নিস্তব্ধ। ভূতনাথ চুপচাপ অনেকক্ষণ বসে রইলো। খানিক পরে কোথা থেকে যেন গানের শব্দ কানে এল।

    ধন্য ধন্য তুমি বরেণ্য নমি হে জগত বন্দন
    প্রণতজনে কৃপাবিধানে ঘুচাও কলুষ বন্ধন।
    সত্যসার নির্বিকার সৃজন পালন কারণ
    জীবনে মরণে শ্মশানে ভবনে জীবনের অবলম্বন
    পূর্ণ পরম অনাদি চরম, অনন্ত জ্ঞান নয়ন
    ওতপ্রোত তোমাতে চিত জগত-চিত্তরঞ্জন।
    অযাচিত দয়ার সিন্ধু, দুঃখ দারিদ্র ভঞ্জন,
    পবিত্র পাপনাশন পতিতজন পাবন।।

    গান গাইছে একজন মহিলা। ভূতনাথ অভিভূতের মতন সমস্ত গানটা শুনলে। তারপর আবার সব নিস্তব্ধ। একা একা বসে থাকতে ভূতনাথের কেমন অসহ্য লাগছিল।

    খানিক পরে আবার সেই লোকটা ঘরে এসে বললেআপনাকে ওপরে ডাকছেন বাবু।

    ভূতনাথ লোকটার পেছন পেছন গিয়ে হাজির হলে ভেতরের বারান্দায়। সেখানে সিঁড়ি দিয়ে ওপরে ওঠবার রাস্তা। ওপরে উঠে লোকটা পাশের একটা ঘরের দরজা খুলে বললে—ভেতরে যান।

    দরজা খুলতেই ভূতনাথ দেখলে। প্রকাণ্ড এক ঘর। মাঝখানে এক গোল টেবিলের চারপাশে নিচু নিচু চেয়ারে বসে আছেন সবাই। আর সব মুখ অচেনা। কেবল ব্রজরাখালের দেখা পেলে। একপাশে।

    ভূতনাথকে নিজের পাশের চেয়ারে বসিয়ে ব্রজরাখাল বললে— এই হলো আমার বড়কুটুম, এখন আপনার হাতেই এর ভার দিলাম। নেহাৎ গ্রাম্য সরল ছেলে—এখনও শহরের হাওয়া গায়ে লাগেনি।

    সামনের ভদ্রলোক একমুখ দাড়ি গোঁফ নিয়ে হাসতে লাগলেন। হা হা করে হাসি। তারপর হাসি থামিয়ে বললেন—বেশ নামটি। ভূতনাথ-ভূতনাথ। কয়েকবার নামটা উচ্চারণ করলেন মুখে। তারপর বললেন—শিবের আর-এক নাম ভূতনাথ। উপনিষদে পড়েছি ‘ন বিত্তেন তর্পণীয়ো মনুষ্যঃ–ওই শিবেরও বিত্ত নেই— বিভব নেই—ভোলানাথ।

    ভূতনাথ বললেবামুনগাছির পঞ্চানন্দের দোর ধরে হয়েছি কি না, তাই পিসীমা আমার নাম রেখেছিল ভূতনাথ….

    খুক খুক করে পাশ থেকে হাসির শব্দ এল।

    ভদ্রলোক বললেন—ছি মা, হাসতে নেই, এ-হাসি তোমার চাপল্যের লক্ষণ মা–ভূতনাথবাবু ঠিকই বলেছেন—সেই ব্রহ্মেরই কত নাম—পঞ্চানন্দও এক নাম তার—আপনি কী বলেন ব্ৰজরাখালবাবু

    ভূতনাথ ব্ৰজরাখালের উত্তরের দিকে কান না দিয়ে দেখলে যে হাসছে সে একটি মেয়ে। অনেকটা রাধার বয়সী। কিম্বা হয় তত রাধার চেয়েও কিছু বড়। কিন্তু বড় সুন্দর দেখতে। তখনও হাসিটা মুখে লেগে রয়েছে তার। ভূতনাথের চোখে চোখ পড়তেই মেয়েটি আবার হাসিতে ফেটে পড়তে যাচ্ছিলো—কিন্তু কেন জানি না বোধহয় বাবার মুখ চেয়েই চেপে গেল। মেয়েটির পাশে আরেকজন মহিলা বসে আছেন। বোধ হয় মেয়েটির মা। দুই হাতে কী একটা বুনছেন। সেই দিকেই নজর তার। মাঝে মাঝে এক-একবার সুবিনয়বাবুর দিকে তাকাচ্ছেন।

    -আমার বাবা ছিলেন গোঁড়া হিন্দু বুঝলেন ব্রজরাখালবাবু–

    সুবিনয়বাবু দাড়িতে হাত বুলোত বুলোতে গল্প করতে লাগলেন।—ভারি গোঁড়া হিন্দু—কালীভক্ত—প্রতি শনিবার মধ্যরাত্রি পর্যন্ত কালীপূজো করে রোববার দিন জল গ্রহণ করতেন—আমার এই খুকু যখন হলে উনি নাম রাখলেন জবাময়ী কালীর যেমন জবা—শিবের তেমনি ধুতুরা—তুমি হাসছিলে মা, কিন্তু ভূতনাথবাবুর নামটা আমার ভারি পছন্দ হয়েছে-সেই গানটা গাও তো মা–

    এতক্ষণে মহিলাটি হাতের বোনা বন্ধ করে চোখ তুললেন একটু।

    –আর তুমি গাইতে বলল না ওকে–এখনি যদি গলা ভাঙিয়ে বসে থাকে, আসছে শনিবার দিন গাইতেই পারবে না যে একেবারে।

    ব্রজরাখাল জিজ্ঞেস করলে—আসছে শনিবার গান-বাজনা আছে নাকি?

    সুবিনয়বাবু বললেন—আসছে শনিবার আমার জবার জন্মদিন কিনা—তা হলোই বা জন্মদিন—জবার গলায় এ-গানটা আমার ভারি মিষ্টি লাগে ব্ৰজরাখালবাবু-খাটি জয়জয়ন্তীর ধ্রুপদগাও—গাও না মা-বলে সুবিনয়বাবু নিজেই হাতে তাল দিতে দিতে ধরলেন—

    –নাথ, তুমি ব্ৰহ্ম, তুমি বিষ্ণু, তুমি ঈশ, তুমি মহেশ, গান থামিয়ে ব্রজরাখালবাবুর দিকে চেয়ে বললেন—চৌতালে তাল দিয়ে যান তো-বলে আবার আরম্ভ করলেন

    —নাথ, তুমি ব্ৰহ্ম, তুমি বিষ্ণু, তুমি ঈশ, তুমি মহেশ,
    তুমি আদি, তুমি অন্ত, তুমি অনাদি, তুমি অশেষ—

    হঠাৎ এক সময় ভূতনাথের মনে হলো পৃথিবীর সমস্ত কোকিল যেন এক সঙ্গে গান গেয়ে উঠলো। আকাশ বাতাস অন্তরীক্ষের সমস্ত অশ্রুত সুর এক সঙ্গে ধ্বনিত হয়ে উঠলো। মধুকামারের পাল-যাত্রায় শ্রীকণ্ঠ হাজরাও বুঝি খেদের গান এমন করে গাইতে পারে না। অবাক হয়ে ভূতনাথ দেখলে, বাবার সঙ্গে জবাও গলা মিলিয়ে গাইছে—মুখে তার সে বিদ্রূপের হাসি আর নেই, চোখ অর্ধমুদ্রিত—স্থির মূর্তিতে এক অলোকসামান্য জ্যোতি বেরুচ্ছে। সেই মুহূর্তে জবাকে যেন আরো সুন্দর দেখাতে লাগলো।

    –জল স্থল মরুত ব্যোম, পশু মনুষ্য দেবনোক
    তুমি সবার সৃজনকার, হৃদাধর ত্রিভুবনেশ।
    তুমি এক, তুমি পুরাণ, তুমি অনন্ত সুখ সোপান,
    তুমি জ্ঞান, তুমি প্রাণ, তুমি মোক্ষধাম…

    পাশের ব্রজরাখালের দিকে চেয়ে দেখলে ভূতনাথ। হাতে তাল দিচ্ছে আর লম্বা লম্বা চুল ভর্তি মাথাটা মাতালের মতো দুলছে–আর চোখ দিয়ে অঝোরধারে জল গড়িয়ে পড়ছে। সুবিনয়বাবুরও সেই অবস্থা। কিন্তু আশ্চর্যজবার মা আপন মনে মাথা নিচু করে একমনে বুনে চলেছেন, সঙ্গীত তার কানে যাচ্ছে। কিনা কে জানে।

    এক সময়ে গান থামলো। কারো মুখে কোনো কথা নেই।

    সুবিনয়বাবু নিস্তব্ধতা ভাঙলেন। বললেন—তাল কেটেছি নাকি ব্ৰজরাখালবাবু——? আপনি ভালো খোল বাজিয়ে—আর চৌতালটা আপনার ঠিক ধরতেও পারি না আমি-সুরের দিকে নজর দিতে গেলে আমার তালটা ওদিকে আবার গোলমাল হয়ে যায়। তারপর জবার দিকে চেয়ে বললেন—দেখলে তো মা, তুমি ভূতনাথ নাম শুনে হাসছিলে—যে ভূতনাথ সে-ই মহেশ, সে-ই ব্ৰহ্ম, সে-ই বিষ্ণু—সবই সেই এক ধ্রুব নিবিকার অনন্ত জ্ঞান-স্বরূপ পরমাত্মা—উপনিষদ বলেছে ‘একং রূপং বহুধা যঃ কবোতি’—যিনি এক রূপকে বহুপ্রকার করেন—

    এবার মহিলাটি আবার মুখ তুললেন, বললেন—কেন তুমি বার বার জবাকে বকছো বলো তো-ও তো হাসেনি।

    জবা বললে—না বাবা, আমি হেসেছিলাম।

    সুবিনয়বাবু দাড়িতে হাত বুলিয়ে বললেন—কেন হেসেছিলে মা, ভূতনাথবাবুকে দেখে, ঠিক বললো তো।

    এবার ভূতনাথ কথা কইলে। বললে হাসলেনই বা উনি, আমি তো সে-জন্যে কিছু মনে করিনি–রাধাও হাসতো।

    —রাধা কে? প্রশ্ন করলেন সুবিনয়বাবু।

    –নন্দজ্যাঠার মেয়ে—ভূতনাথ জবাব দিলে।

    ব্ৰজরাখাল বুঝিয়ে দিলে—আমার পরলোকগতা স্ত্রীর কথা বলছে বড়কুটুম।

    —রাধা হাসতো, রাধার সই হরিদাসী হাসত, হরিদাসীর বর হাসতো, আন্না হাসতে, রাধার বিয়েতে বাসর ঘরে সবাই আমাকে নিয়ে হাসাহাসি করেছিল—তোমার মনে আছে ব্ৰজরাখাল? তা হাসুক গে—আমি কিছু মনে করি না—বলে ভূতনাথ নিজেই হাসলো।

    কথা শুনে সবাই হেসে উঠলো। জবা হাসলো, সুবিনয়বাবু হা হা করে হাসলেন, ব্ৰজরাখালও হেসে উঠলো। জবার মা হাসলেন কিনা দেখা গেল না। তিনি নিজের মনেই বুনতে লাগলেন, মুখ নিচু করে।

    সুবিনয়বাবু হাসতে হাসতে বললেন-জরাখালবাবু, আপনার বড়কুটুমটি বেশ লোক—ভূতনাথবাবুকে আমার বেশ পছন্দ হয়েছে।

    অতদিনের কথা। এখন সব মনে নেই। কিন্তু সুবিনয়বাবুর বাড়ি থেকে বেরিয়ে বাড়ি ফেরবার পথে ভূতনাথ জিজ্ঞেস করেছিল—তুমি বলছিলে ওঁরা ব্রাহ্ম, কিন্তু বেশ লোক ওঁরানা ব্ৰজরাখাল?

    আমি তো ওঁকে খারাপ লোক বলিনি বড়কুটুম—লোক খুব ভালল, বেশ আমুদে মানুষ, ওঁদের সমাজের একনিষ্ঠ সভ্যও বটেন টাকাও আছে অনেক, কিন্তু মনে ওঁর শান্তি নেই।

     

    —কেন?

    –মাঝে মাঝে ওঁর ওই স্ত্রীর মাথা খারাপ হয়ে যায়, তখন ওঁকে ঘরে বন্ধ করে রাখতে হয়—যখন ভালো থাকেন তখন কেবল আপন মনে একটা কিছু নিয়ে বুনে যান—তা ওসব নিয়ে তোমার মাথা ঘামাবার দরকার নেই তুমি তোমার চাকরিটা মন দিয়ে করে যাবে।

    রাস্তায় আসতে আসতে ভূতনাথ কেবল সেই কথাটাই ভাবছিল—অমন প্রাণখুলে হা হা করে হাসতে পারেন কী করে সুবিনয়বাবু!

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40 41 42 43 44 45 46 47 48 49 50
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleবেগম মেরী বিশ্বাস – বিমল মিত্র
    Next Article রচনা সংগ্রহ – অক্ষয়কুমার মৈত্রেয় (নন-ফিকশন)

    Related Articles

    বিমল মিত্র

    বেগম মেরী বিশ্বাস – বিমল মিত্র

    May 29, 2025
    বিমল মিত্র

    আসামী হাজির – বিমল মিত্র

    May 29, 2025
    বিমল মিত্র

    কড়ি দিয়ে কিনলাম ১ – বিমল মিত্র

    May 28, 2025
    বিমল মিত্র

    কড়ি দিয়ে কিনলাম ২ – বিমল মিত্র

    May 28, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Our Picks

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }