Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    সাহেব বিবি গোলাম – বিমল মিত্র

    বিমল মিত্র এক পাতা গল্প740 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    ৪৩. সকালবেলা দুমদুম করে কে দরজা ঠেলছে

    সকালবেলা দুমদুম করে কে দরজা ঠেলছে। দরজা খুলে ভূতনাথ দেখলে-বংশী।

    —কাল আপনি কত রাত্তিরে এলেন শালাবাবু, দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে আমার পায়ে ব্যথা ধরে গেল।…একি আপনার চোখ যে লাল হয়ে রয়েছে, ঘুম হয়নি বুঝি?

    ঘরের কোণে এটো বাসনগুলো এক হাতে তুলে নিয়ে জায়গাটা পরিষ্কার করে দিলে বংশী। বললে—কাল বড় ভাবনায় পড়েছিলাম আজ্ঞে, আদালতের শমন এসেছিল, ছোটবাবুর কাছে নিয়ে গেলাম, ছোটবাবু পড়ে বললে-মেজবাবুর কাছে নিয়ে যা-তা এক হাতে সব কাজ তো করতে হয়, সব কাজ সেরে মরতে-মরতে গেলাম সেই গরাণহাটায় গিয়ে দেখালাম মেজবাবুকে—মেজবাবুর কী মেজাজ কী বলবো, বলে—আমার দেখার কি দরকার, বাড়ি আমি ছেড়ে দিয়েছি, ওরা যা ইচ্ছে করুক-বাড়ি আমার চাইনে।

    আমি বললাম—ছোটবাবু যে আপনার কাছে আনতে বললে হুজুর?

    মেজবাবু বললে—তা আমার কাছে এনে কী হবে? আমি কি বাড়িতে বাস করি?

    মেজবাবুর পায়ে হাত দিয়ে বললাম—তা ছোটবাবুর তো এই অবস্থা, এখন কেমন করে বাড়ি ছাড়ে?…বিবেচনাটা দেখুন একবার মেজবাবুর।

    ভূতনাথ জ্ঞিজ্ঞেস করলে—তারপর?

    –তারপর গেলাম সেই পাথুরেঘাটায়। ছুটুকবাবু তো ননীলালবাবুর বন্ধু ছিল, ননীবাবুকে এক কালে কত আসতে দেখেছি। এ-বাড়িতে। ছুটুকবাবুর কথায় যদি ননীবাবু কিছু করে, তা গিয়ে দেখা হলো না-ছুটুকবাবু কাজে বেরিয়ে গিয়েছে।

    —কী কাজ? ছুটুকবাবু আবার কি কাজ করছে আজকাল?

    বংশী বললে—আমি তার কি খবর রাখি কিছু? ওদের সরকারই বলেছে ছুটুকবাবু নাকি উকিল হয়েছে, আদালতে যায় রোজ।

    —ছুটুকবাবু উকিল হয়েছে? শেষকালে কি উকিল হলো নাকি?

    বংশী বললে—তাই আপনাকে খুঁজছিলাম আজ্ঞে, আপনি যদি ছুটুকবাবুকে গিয়ে ধরেন, তো ননীবাবুকে বলে মামলা তুলে নেয়। মামলা হলে বড়বাড়ির বাবুদের মামে, তা বাবুরা তো সবাই বাড়ি ছেড়ে দিয়েছে, শুধু ছোটবাবু আর ছটম আছে, কী করে বাড়ি ছাড়ে হুজুর, শরীরের যা অবস্থা তাতে কোথায়ই বা যাবে, এখনও ধরে বসিয়ে মুখে তুলে খাওয়াতে হয় যে!

    ভূতনাথ চুপ করে রইল। খানিক পরে বললে—আমি যে কাল দেশে যাচ্ছি রে!

    —দেশে? দেশ-এর কথা শুনে বংশীও অবাক হয়ে গিয়েছে। শালাবাবুও দেশ-এ যাবে।—দেশ-এ যে কেউ নেই বলেছিলেন?

    —তবু যাবো একবার দেশে, পুরোনো বাড়িটা তো আছে, এতদিনে হয় তো জঙ্গলে ঢেকে গিয়েছে, হয় তত বাঘ এসে উঠেছে ভিটেয়।

    বংশী ভয়ে চোখ বড়-বড় করে রইল। বললে—এ-সময়ে আপনি গেলে চলবে কী করে শালাবাবু, দু’দিন পরে গেলে চলে না?

    —না। মামলা কবে?

    বংশী বললে-কাল।

    ভূতনাথ চুপ করে রইল।

    বংশী আবার বললে–কাল না হয় না-ই গেলেন শালাবাবু।

    ভূতনাথ এবারও চুপ করে রইল। কী-ই বা সে করতে পারে!

    বংশী আবার বললে—আমি কিন্তু আপনার কথা বলেছি ছোটবাবুকে।

    —ছোটবাবুকে? কেন?

    —আজ্ঞে, ছোটবাবু বড় মুষড়ে পড়েছে, আমি কাল ছুটুকবাবুর বাড়ি থেকে ফিরে এসে বললাম—কিছু ভাববেন না ছোটবাবু, শালাবাবু লেখাপড়ি জানা লোক, সব তিনি করবেন। তা আপনি একবার যাবেন আজ দেখা করতে ছোটবাবুর সঙ্গে?

    –ছোটবাবুর সঙ্গে?

    —আজ্ঞে হ্যাঁ, দোষ কী, যে-বিপদে পড়েছেন, আমরা না দেখলে কে দেখবে বলুন তো!

    ভূতনাথের তেমন ইচ্ছে ছিল না। তবু বললে—তা চল।

    বংশী বললে—আপনি একটু সবুর করুন, আমি সকড়ি বাসন ক’টা রেখে আসি।

    আজো মনে আছে দুপুরবেলার বড়বাড়ির সেই বিগত-শ্রী চেহারা দেখে চোখে জল এসেছিল সেদিন। ছাদের ওপর অসংখ্য পায়রা এসে বাসা করেছে। কে তাদের খেতে দেয়, কে তাদের দেখাশুনো করে কে জানে। একদিন এই পায়রা নিয়েই কত মামলা হয়ে গিয়েছে ঠনঠনের ছেনি দত্তর সঙ্গে। কত পয়সা খরচ হয়েছে এদের খাওয়াতে, পুষতে। ভৈরববাবু ভালো শিস দিতে পারতো! সেই শিস শুনে কলকাতার আকাশে মেজবাবুর পায়রা একদিন বুক ফুলিয়ে উড়েছে।

    সমস্ত বাড়িটা যেন খাঁ-খাঁ করছে। বাড়িটা তিন ভাগে ভাগ হচ্ছিলো। ভালো করে ভাগ হওয়ার আগেই সবাই আলাদাআলাদা হয়ে গেল। পাঁচিলগুলো পর্যন্ত সম্পূর্ণ হয়নি। বালির কাজ হয়নি শেষ পর্যন্ত। ইটের ফাঁকে-ফাঁকে শ্যাওলা গজিয়েছে। কতরকম বুনো গাছ মাথা চাড়া দিয়ে উঠেছে ফাটলে-ফাটলে। কতরকম ফুল ফুটেছে গাছগুলোতে। বিচিত্র বুনো ফুল। হলদে, লাল, নীল। রান্নাবাড়ির এটো কাটা এসে জমে পাঁচিলের কোণে। বংশী একা সব ঝাঁট দিতে পারে না।

    একটা চিল হয় তো নির্মেঘ আকাশে গোল হয়ে ওড়ে। মাঝেমাঝে কর্কশ ডাক ছাড়ে। সে-শব্দ এখান থেকে শোনা যায়। তারপর কখন বেলা পড়ে আসে, ছায়াটা আস্তে-আস্তে বড় হয়, আর তারপর এক সময় রোদের শেষ আভাটুকু পর্যন্ত মুছে যায় পৃথিবী থেকে। তখন শশী ডাক্তারের গাড়িটা এসে হয় তো লাগে গাড়িবারান্দার নিচে। শশী ডাক্তার লাঠিতে ভর দিয়ে সিঁড়ি দিয়ে উঠে যায় ওপরে। বংশী পেছন-পেছন ওষুধের বাক্সটা বয়ে নিয়ে যায় সঙ্গে-সঙ্গে।

    আজো মনে আছে ছোটবাবুর ঘরের সামনে গিয়ে ভূতনাথ সেদিন খুব চমকে উঠেছিল। প্রথমে ইচ্ছেই ছিল না ভূতনাথের। কখনও মুখোমুখি দাঁড়িয়ে কথা তো বলেনি ছোটবাবুর সঙ্গে। কিন্তু বংশীর পীড়াপীড়িতে আর না বলতে পারেনি।

    বংশী বলেছিল—আপনি বলবেন শালাবাবু যে, আপনি সব ব্যবস্থা করবেন—কোর্টে-কাছারিতে ঘোরাঘুরি আপনিই করবেন, ছোটবাবু যেন কিছু না ভাবেন।

    ভূতনাথ বললে—কিন্তু আমি যে দেশে যাচ্ছি কাল?

    —সে কথা আর বলবেন না হুজুরকে, মনে বড় কষ্ট পাবেন।

    ভূতনাথ বললে-আমাকে কি চেনেন ছোটবাবু?

    —চেনেন না, কিন্তু আমি বলেছি আপনার কথা, বলেছি যে মাস্টারবাবুর শালা, এ-বাড়িতে অনেকদিন আছেন। শুনে চুপ করে রইলেন, বেশি তো কথা বলেন না আজ্ঞে, বেশি কথা কোনোদিনই বলতেন না, এদানি তা-ও ছেড়ে দিয়েছেন। চুপ-চাপ বসে চোখ বুজে কেবল ভাবেন, কী যে মাথা-মুণ্ডু ভাবেন কে জানে?

    ঘরের সামনে গিয়ে প্রথমে বংশীই এগিয়ে গেল। ভেতরে উঁকি মেরে দেখে নিয়ে হাতছানি দিয়ে একবার ডাকলে ভূতনাথকে।

    ভূতনাথ সামনে গিয়ে দাঁড়ালো। হাতির দাঁতের কাজ করা একটা পালঙ। মোটা পুরু গদীর ওপর বিছানা পাতা। সামনে শ্বেতপাথরের ছোট টেবিলের ওপর ওষুধের শিশি-বোতল। পাথরের খল-নুড়ি। ঘরময় একটা বিষণ্ণতা। অনেকদিন ওষুধ আর অসুখের গন্ধ জয়ে-জমে ঘরের হাওয়া যেন বিষিয়ে উঠেছে। ঘরে ঢোকবার মুখে একটা তীব্র কটু গন্ধ নাকে লাগে। দেয়ালের পঙ্খের কাজ-করা ফুল লতাপাতাগুলো পর্যন্ত ধোঁয়া লেগে কালো হয়ে গিয়েছে।

    ছোটকর্তার গায়ে মলমলের পাঞ্জাবী একটা। কিন্তু ভাঁজেভঁজে আগেকার সে-বাহার নেই আর। ময়লা হয়ে গিয়েছে পরে-পরে। অনেকদিন দাড়ি কামানো হয়নি। দেয়ালের গায়ে বালিশের ওপর হেলান দিয়ে বসেছিলেন ছোটকর্তা। জানালা দিয়ে বাইরে চেয়ে কী যেন ভাবছিলেন।

    ভূতনাথ যেতেই বংশী বললে—এই যে শালাবাবু এসেছেন— যার কথা বলছিলাম ছোটবাবু।

    ছোটকর্তা ঘাড় ফেরালেন।

    ভূতনাথ দুটো হাত জোড় করে নমস্কার করলে।

    ভূতনাথের মনে হলো—সেই ছোটবাবু, যার সামনে বেরোতে ভয় করত। কী বিরাট চেহারা ছিল। রাশভারী মানুষ। বংশীকে মারতে-মারতে একদিন প্রায় মেরেই ফেলেছিলেন। কেমন যেন মায়া হলো ভূতনাথের। অনেকদিন আগেকার একটা বটগাছের কথা মনে পড়লো ভূতনাথের। মঙ্গলচণ্ডীতলার পাশে একটা বিরাট বটগাছ ছিল ফতেপুরে। চার-পাঁচ পুরুষের গাছ। ডালপালা বেড়ে-বেড়ে সমস্ত বারোয়ারিতলাটা একেবারে ছেয়ে ফেলেছিল। একদিন ঝড়ের রাত্রে সেই গাছটা হুড়মুড় করে পড়ে গেল। গাঁ শুদ্ধ লোক ভোরবেলা ভিড় করে দেখতে গেল। বিরাট গাছ প্রায় এক কাঠা জমি উপড়ে নিয়ে পড়েছে। কাছে গিয়ে কিন্তু সবাই অবাক হয়ে গিয়েছে। গাছ নয় তো বিরাট বনস্পতি বললেই চলে।

    তারক স্যাকরা একটা কুড়ল নিয়ে কোপ মারতে যাচ্ছিলো।

    নন্দজ্যাঠা থামিয়ে দিলে। বললে—খবরদার–

    ভূষণকাকাও বললে—কেউ কাটতে পারবে না—মা মঙ্গলচণ্ডীর গাছ।

    মল্লিকদের তারাপদ বললেও গাছ নদীতে ফেলে আসাই ভালো কাকা।

    নন্দজ্যাঠা প্রবীণ লোক। বললে—না, যেমন আছে তেমনি থাক। মায়ের গাছ, মা যা ইচ্ছে করবেন তাই হবে।

    মঙ্গলচণ্ডীর কী ইচ্ছে হলো কে জানে! সেই গাছ সেখানেই পড়ে রইল। লোকে মায়ের পূজো দিতে এসে ভাঙা গুড়িটাতেও সিঁদুর লাগিয়ে দিয়ে যায়। ষষ্ঠীপূজোর দিন দলে-দলে মেয়েরা আসে। পূজো দেয় মাকে। আর জল ঢালে গুড়িটার ওপর। কতকাল এমনি করে কেটে যায়। ফাটলের গর্ততে ক্রমে মাটি জমে তার ওপর আগাছা জন্মালো। সেই আগাছাই বড়-বড় হয়ে একদিন ঢেকে দিলে সমস্ত গুড়িটাকে। চড়কের মেলার সময় সেখানটা ঘিরে জলসত্র হতো। আবার মেলার শেষে অন্ধকার রাত্রিতে কেউ মঙ্গলচণ্ডীর পূজো দিতে এসে গুড়িটাকেও প্রণাম করে যেতে। কিন্তু ভূতনাথের বড় ভয় করতোগুড়িটাকে দেখলে। মনে হতো ওখানে যত রাজ্যের সাপ-খোপ যেন বাসা বেঁধে আছে!

    কিন্তু মনে আছে বহুদিন পরে যেবার বাঘের উপদ্রবের ভয়ে জঙ্গল কাটার হিড়িক পড়লো ফতেপুরে, দেখা গেল, সে-বটগাছের চিহ্নও নেই। কবে মাটি হয়ে সব শেষ হয়ে গিয়েছে, শুধু বড়-বড় গাছ সেই জায়গায় জন্মে এতদিন আড়াল করে রেখেছিল সেটাকে।

    ছোটবাবুর দিকে চেয়ে দেখতে-দেখতে সেই কথাই ভূতনাথের মনে পড়লো প্রথমে।

    বংশী বললে—শালাবাবু রয়েছেন, আদালতে যাওয়া, তদ্বিরতদারক করা, সবই করবেন উনি। আপনি ভেবে-ভেবে শরীর খারাপ করবেন না আজ্ঞে।

    ছোটবাবু শুনে কিছু বললেন না। শুধু মুখ দিয়ে শব্দ করলেন–হুম।

    কী গম্ভীর সে শব্দ। মনে হলো যেন সঙ্গে-সঙ্গে একটা দীর্ঘনিঃশ্বাসও পড়লো তার।

    বেরিয়ে এসে বংশী বললে—দেখলেন তো শালাবাবু, কী মানুষ কী হয়েছে!

    ভূতনাথ কিন্তু কিছুই শোনেনি। শুধু দেখেছে ছোটকর্তাকে। আর মনে পড়েছে ফতেপুরের সেই বটগাছটার কথা। একদিন কত পাখী আশ্রয় নিয়েছিল তার ডালে-ডালে। বর্ষাকালে কত রকম পাখী আসতে ফল খেতে। তারপর যখন টলে পড়লে তখনও যেন সজীব। গাছে আগাছায় ভরে যখন জায়গাটা আবার ঢেকে গেল, তখনও যেন ভূতনাথ বটগাছটার কথা ভুলতে পারেনি।

    বংশী বলেছিল—ছোটমা আপনার ওপর খুব রাগ করেছেন আজ্ঞে।

    -কেন রে?

    বংশী বললে—আপনি বলেছিলেন, বরানগরে নাকি একদিন নিয়ে যাবেন সঙ্গে করে।

    ভূতনাথ থমকে দাঁড়ালো একবার। বললে—আজ আর যাবো না রে, দেশ থেকে ফিরে একদিন নিয়ে যাবে, বলিস ছোটমাকে। বংশী বললে-কিন্তু ছুটুকবাবুর কাছে একবার যাবেন না?

     

    দুপুরবেলা ছুটুকবাবু কোর্টে যায়। কোর্ট থেকে ফিরতে রাত হয় নিশ্চয়ই। ছুটুকবাবুর একটা চিঠি নিয়ে গেলে হয় তো কাজ হতে পারে। ম্যানেজারের কাছে শোনা ছিল সেদিন। এলগিন রোড-এর বাড়িতে কেউ থাকে না আজকাল। ননীলালের শাশুড়ী থাকেন পটলডাঙায়। তাকে যদি কোনো রকমে ধরা যায় তবে কাজ হতে পারে।

    ভালোই হয়েছে। ভূতনাথের একবার মনে হয়-হয় তো ভালোই হয়েছে। এরও হয় তো প্রয়োজন ছিল। যখন দক্ষিণ দিক থেকে ঝাপটা এসে জানালা-দরজায় লাগে, একটা অদ্ভুত শব্দ হয় বাতাসের। থর-থর করে কেঁপে ওঠে সমস্ত। মনে হয়, বদরিকাবাবু যেন আড়ালে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে হাসছে। ভূতনাথ দুই হাত দিয়ে কান দুটো বন্ধ করে। বড় কষ্ট হয় শুনতে। বদরিকাবাবুর হাসিতে যেন পৈশাচিক একরকম উল্লাস আছে। মনে হয়, ও শুনতে না পেলেই যেন ভালো। এক-একদিন আর সহ্য হয় না। রাস্তায় বেরিয়ে পড়ে ভূতনাথ। দোকানপাট আলো লোকজন দেখে সব আবার ভুলে যেতে চেষ্টা করে।

    তবু পটলডাঙায় ননীলালের বাড়ির সামনে গিয়ে কেমন সঙ্কোচ হতে লাগলো। কাল দেশে চলে যাবে ভূতনাথ। আজকে একবার শেষ চেষ্টা করা দরকার।

    এ-বাড়িতে ননীলালের সঙ্গে আগে অনেকবার এসেছে। কিন্তু ননীলাল ছাড়া আর কারো সঙ্গে তো পরিচয় নেই তার। কাকে ডাকবে, কার কাছে আবেদন-নিবেদন জানাবে তার।

    ছুটুকবাবুর কাছেও গিয়েছিল ভূতনাথ। এমন চেহারা দেখবে ছুটুকবাবুর ভাবতে পারা যায় নি। কালো কোট গায়ে। পুরোপুরি উকিলের পোক। ঘোড়ার গাড়ি থেকে নামলো।

    —এই যে ভূতনাথবাবু, রেওয়াজ কেমন চলেছে আজকাল? ছুটুকবাবুর গালে যেন আরো মাংস লেগেছে। পা-ও ভারী হয়ে গিয়েছে। হাঁটতে কষ্ট হয় বেশ।

    এসে ধপাস করে বসে পড়লে চৌকির ওপর। সব শুনে বললে–সে হলে তো খুব ভালোই হতো—কিন্তু হচ্ছে কী করে?

    ভূতনাথ বললে—ননীলালকে যদি একটা চিঠি লিখে দেন আপনি, তা হলে সে আর ‘না’ করতে পারবে না।

    –ননীলাল!

    ভূতনাথ বললে—ননীলালই তো মালিক—সে বললে সব হবে।

    ছুটুকবাবু বলে—কিন্তু ননীলাল তত আর কলকাতায় নেই এখন, সে তত বাইরে।

    —তা সেখানেই একটা চিঠি লিখে দিন।

    ছুটুকবাবু কী যেন ভাবলে একবার। তারপর বললে-মামলা তো কাল। ওদিকে চিঠি যেতে এক মাস, আর আসতেও এক মাস—সে কি এখেনে? দু’ মাসের আগে তো আর তার উত্তর আসছে না।

    ভূতনাথ বললে—কিন্তু ননীলাল আসছে না কেন?

    ছুটুকবাবু বললে—সে তত আর ফিরে আসবে না, জানেন না বুঝি?

    —ফিরে আসবে না, সে কী?

    –না, সে সেখানে মেম বিয়ে করে সুখে-স্বচ্ছন্দে আছে, ছেলেমেয়ে হয়েছে, সে আর আসবে না-এখানে খবরও দিয়েছে। সেখানেও ব্যবস-ট্যাবসা শুরু করে দিয়েছে নাকি শুনেছি। তুখোড় ছেলে, প্রিন্স দ্বারকানাথ ঠাকুর ছিল ওর আদর্শ-বর্ণে-বর্ণে সব তাকেই ফলো করছে।

    ভূতনাথ কেমন যেন স্তম্ভিত হয়ে রইল খানিকক্ষণ। কোথায় সেই কেষ্টগঞ্জের ডাক্তারের ছেলে ননীলাল! তার সেই চিঠিখানা বোধহয় এখনও আছে ভূতনাথের টিনের বাক্সে। শেষ পর্যন্ত যে ননীলালের এমন পরিণতি হবে, কে জানতো! অবাক লাগে ভাবতে! এখানেই তো সুখে-স্বচ্ছন্দে থাকতে পারতো। অত বড় বাড়ি করেছিল এলগিন রোড-এ। অনু জুট মিল। অত কয়লার খনি। অত লোক-জন, অত আয়, অত খাতির। এতেও বুঝি তৃপ্তি হলো না তার। ননীলালদের বুঝি কিছুতেই তৃপ্তি নেই।

    ভূতনাথ জিজ্ঞেস করলে—ওর এখানকার কারবার কে দেখছে। তাহলে?

    —ওর শালারা, চালু করে দিয়েছিল ননীলাল, এখন চলবে না কেন? না-চলবার কী আছে?

    কোথাকার জল কোথায় গড়িয়ে যায় কে বলতে পারে। ননীলালের খবর শুনে ঠিক অবিমিশ্র আনন্দ যেন হয় না। কোথায় যেন একটু বেদনা লুকিয়ে থাকে। ঠিক প্রকাশ করে বলা যায় না কেন অমন হয়। অথচ ননীলালের এ-গৌরবে ভূতনাথের তত আনন্দ হবারই কথা!

    ছুটুকবাবুর কাছ থেকে কোনো সাহায্যের আভাষ না পেয়ে ভূতনাথ নিজেই এসে পটলডাঙার বাড়িটার সামনে দাঁড়িয়েছে। বাড়িটার আপাদমস্তক লক্ষ্য করে দেখলে। কোথাও কারো সাড়াশব্দ পাওয়া যায় না। দারোয়ানকে ডেকে বললে—বাড়িতে বাবুরা আছে?

    –কোন্ বাবু? ছোটবাবু না বড়বাবু?

    —যে-কোনো বাবু।

    দারোয়ান বললে—এই কাগজটাতে নাম-ঠিকানা লিখে দিন, ভেতরে নিয়ে গিয়ে দেখাবো বাবুদের।

    কাগজে ভূতনাথ নিজের নাম আর বড়বাড়ির ঠিকানা লিখে দিলে।

    দারোয়ান কাগজ নিয়ে ভেতরে চলে গেল। অনেকক্ষণ সেখানে দাঁড়িয়ে থাকতে হলে ভূতনাথকে। মনে হলো—বৌঠানের জন্যেই এই চেষ্টা। নইলে বড়বাড়ির জন্যে ভূতনাথের কীসের মাথাব্যথা। আজ যদি মামলার ফলে বাড়ি ছেড়ে দিতে হয়, কোথায় যাবে বৌঠান! অথচ আশ্চর্য, বৌঠান বোধহয় সে-কথা একবার ভাবেও না। বংশীর কাছে শুনেছে আজো নাকি তেমনি তেতলার ঘরখানার মধ্যে পালঙে বসে বৌঠান যশোদাদুলালের পূজো দেয়, আলতা পরে, ঘুমোয়, চিন্তার সঙ্গে গল্প করে আর একটা-একটা করে গয়না তুলে দেয় বংশীর হাতে।

    বংশী বললে—সমস্ত সিন্দুক প্রায় খালি হয়ে গিয়েছে শালাবাবু!

    ভূতনাথ বলেছিল—তুই কেন এনে দিস বংশী?

    বংশী বলে-ভুবন স্যাকরা তো সন্দেহ করে আমাকে, জানেন, ভাবে বুঝি চোরাই মাল। সেদিন আমাকে পুলিশে ধরিয়ে দিচ্ছিলো হুজুর। আমি বললাম—চোরাইমাল যদি হবে তো রোজ-রোজ এত চুরি করবে কোখেকে?

    ভূতনাথ জিজ্ঞেস করলে—এখন কতখানি করে খায় রোজ?

    বংশী বলে—বাড়ছে হুজুর, দিন-দিনই নেশা বাড়ছে যে, এখন সকালে একবোতল আনি, দেখি বিকেলের মধ্যে সেটা শেষ হয়ে গিয়েছে—আবার আজকাল দামী-দামী মদ আনতে বলেন—আমি প্রথম-প্রথম আনতুম না আজ্ঞে, কিন্তু বুঝতে পারি, বড় কষ্ট হয় ছোটমা’র, না-খেলে শরীর খারাপ হয়, কিছু খেতে পারে না, ঝিমোয় সারাদিন-ঝিম মেরে থাকেন। আমার নিজেরই তখন কষ্ট হয়, ভারী নেশা করে ফেলেছেন—ছোটমার’ই বা কী দোষ।

    বংশী আবার বলে—সেজখুড়ি গজগজ করে সারাদিন, বলেখাবে না যদি কেউ তো রান্না কিসের জন্যে—এত ভাত নষ্ট হলে গেরস্থের অকল্যণ হয় যে। তা নেই-নেই যে এত—তার মধ্যেও কত কী যে রান্না হয় কী বলবোছোটবাবুর মুখের কাছে সব দিতে হবে, তেতো, ভাজা, ডালনা, ডাল, ঝোল, অম্বল, সেই আগেকার মতন—দেখছেন তো, কিন্তু মুখে পুরেই বলে—থুঃ থুঃ।

    অথচ দেখুন, মুদির দোকানে দেনা হয়েছে। সেদিন তাগাদা করছিল। দু’মাস হয়ে গিয়েছে, এখনও শোধ হলো না, ওরা বলবেই তো–ছোটমাকে বললেই—সিন্দুক খুলে একটা কিছু-না–কিছু গয়না বার করে দিয়ে বলেদিগে যা শোধ করে।

    ননীলালের বাড়ির সামনে তা প্রায় অনেকক্ষণ দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করতে হলো।

    দারোয়ান এক সময়ে ফিরে এসে বললে—দেখা হবে না। বাবুদের সময় হবে না এখন।

    ভূতনাথ কী বলবে যেন ভেবে পেলে না। তারপর জিজ্ঞেস করলে-বাবুরা বাড়িতে আছেন?

    দারোয়ান বললে—আছে, লেকিন মোলকাত হবে না।

    হবে না তো হবে না। বড়লোকদের বাড়িতে নিয়মই আলাদা। হয় তত বসে গল্প করছে নয় তো শুয়ে আছে। দেখা করলে কী এমন অসুবিধে হতো! দুটো মাত্র কথা। কতটুকু সময়ই বা লাগতো। কিন্তু দরকার নেই। যাদের সময়ের অত দাম, একদিন তারাই আবার সময় কাটাবার পথ খুঁজে পাবে না। একদিন চৌধুরীবাবুদেরই কী হাঁক-ডাক কম ছিল! সবাই তটস্থ। কোথায় গেল সব। দেখতে-দেখতে, কপুরের মতো উবে গেল তো! সুবিনয়বাবু বলতেন-ভোগই মৃত্যু, ত্যাগই হচ্ছে জীবন-তেন ত্যক্তেন ভুঞ্জিথাঃ, ত্যাগ করে ভোগ করতে শেখা এ ভারতবর্ষের নিজস্ব উপলব্ধি—এ আর কোনো দেশে খুঁজে পাবে না ভূতনাথবাবু। কিন্তু ননীলাল কি চৌধুরীবাবুরা কেউ তো সেকথা মানে নি। আর ব্ৰজরাখালের কথাই তো আলাদা।

    রাস্তায় বেরিয়ে সেদিন হঠাৎ বহুদিন বাদে প্রকাশ ময়রার সঙ্গে দেখা হয়ে গেল। কাঁধে নতুন গামছা। দাড়ি গোঁফ পরিষ্কার করে কামানো। চেহারাটাও যেন ভালো হয়েছে।

    ভূতনাথকে দেখেই বললে-পেন্নাম হই ঠাকুরমশাই।

    ভূতনাথ বললে-তুমি এত রাত্রে কোথায় প্রকাশ?

    —আর ঠাকুরমশাই, ব্যবসাই বলুন, চাকরিই বলুন, কিছুই পোষালো না, শেষকালে সেই ঘটকালি নিয়েই আছি এখন। কাল আপনাদের দেশে যাচ্ছি, একটা বিয়ে আছে, যাবেন নাকি?

    ভূতনাথের কেমন যেন একটা প্রশ্ন উঠলো মনের ভেতর।

    -আচ্ছা, প্রকাশ তুমি তো এ-পর্যন্ত অনেক বিয়ে দিয়েছে, কী বলে?

    —তা দিয়েছি ঠাকুরমশাই, এই খাতাখানা খুললে পাকা হিসেব বলতে পারি আপনাকে।

    হিসেব দেখতে সেদিন চায়নি ভূতনাথ। হির্সেবের দরকারও ছিল না তার। শুধু বলেছিল–ছোট-ঘোট ছেলেমেয়ের বিয়ে কখনও দিয়েছো তুমি?

    -আজ্ঞে হ্যাঁ, এই তো সেদিন, শ্রাবণ মাসে বেগমপুরের বিধু গাঙ্গুলীর ছোট মেয়ের বিয়ে দিয়ে দিলাম—মাত্র দু বছর বয়েস।

    —দু’ বছর?

    প্রকাশ দাস গল্প পেলে আর থামতে চায় না। বলে-দু’ বছর তো ভালো আপনার, দু’মাস বয়েসে বিয়ে দিয়েছি।

    –দু’ মাস বয়েস কনের?

    —আজ্ঞে হ্যাঁ, দু মাস মাত্তোর—বাড়জে মশাই বলছিলেন, আমার দু’বছরের ছেলের জন্যে একটা পাত্রী দেখে দিতে পারে। প্রেকাশ? আমি বললাম—প্রেকাশের হাতে সব রকম পাত্তোর পাবেন বাড়জ্জে মশাই। তা তাই খুঁজে দিলাম, বাড়জ্জে মশাই খুব খুশি। খুব আয়োজন করেছিল আজ্ঞে, তিন রকমের মিষ্টি, চার রকমের মাছ, দু রকমের ডাল, পাকা ফলার, কাঁচা ফলার —সব রকম ব্যবস্থা ছিল। বাড়জ্জে মশায়কে চেনেন না আপনি–আপনাদেরই জেলার লোক তো?

    প্রকাশ ময়রা সেই বিয়েরই গল্প করতে লাগলো। বলে–তবে শুনুন ব্যাপারটা—ভারী এক মজার কাণ্ডবলরামপুরের কালী মুখুজ্জের দুই মেয়ে ছিল, জানেন?

    –বলরামপুর? বলরামপুর চেনো নাকি? ভূতনাথ সত্যিই অবাক হয়ে গিয়েছে।

    -খুব চিনি। বলরামপুরের কালী মুখুজ্জের ছোট মেয়ের বিয়ে দিলাম আমি—তারই কাণ্ড তো বলছি।

    ভূতনাথ জিজ্ঞেস করলে—বলরামপুরের রামহরি ভট্টাচার্যের নাম শুনেছো?

    –রামহরি ভট্টাচার্যি? দাঁড়ান, খাতা খুলতে হবে বলে সত্যি-সত্যিই খাতা খুলতে গেল প্রকাশ।

    ভূতনাথ বললে—না, না, খাতা খুলতে হবে না এখন, তার বংশের কেউ আছে এখন জানো?

    প্রকাশ বলে—খাতা না দেখে সে কি বলতে পারি ঠাকুরমশাই, আর এ-খাতায় যদি না থাকে তো অন্য খাতা দেখতে হবে, বংশতালিকা না রাখলে চলবে কেন আমাদের, যে-ব্যবসার যা নিয়ম, এ-খাতাতে আপনারও পূর্বপুরুষের নাম-ধাম মিলে যেতে পারে, তেমন করে খাতা রাখতে পারলে কত উপকার দেয়, এই দেখুন না, কালী মুখুজ্জের মেয়ের মাত্তর দু’মাস বয়েস সবে, বললেন—পাত্তোর খুঁজে দিতে হবে—কুলীন পাত্তোর—পারবে?

    আমি বললাম—এ আর বেশি কথা কি—তা তিনি একটা টাকা দিলেন রাহা-খরচা।

    –দু’ মাসের কনে?

    —আজ্ঞে হ্যাঁ, প্ৰেথম মেয়ের বিয়ে নিয়ে এক কাণ্ড হয়ে গিয়েছিল কিনা—মেয়ের যখন পাঁচ বছর বয়েস সেই সময় চুরি হয়ে গিয়েছিল মেয়ে—এক ভঙ্গ কুলীন চুরি করে নিয়ে গিয়ে তার ছেলের সঙ্গে বিয়ে দিয়ে দিয়েছিল কিনা—সেই ভয়েই এই মেয়েরও বয়েস বাড়বার আগেই বিয়ে দিচ্ছেন।

    একাশ বেশ জমিয়ে গল্প বলতে পারে। কিন্তু রাত হয়ে গিয়েছে। বড়বাড়িতে ফিরতে হবে। এতক্ষণ হয় তো বংশী অপেক্ষা করে-করে শুয়ে পড়েছে। ভাত ঢাকা আছে চোরকুইরিতে। গেট-এর চাবি খুলে অন্ধকারে ঢুকতে হবে। আজকাল ও-বাড়িকে বাইরে থেকে যেন অন্ধকার ভূতের বাড়ি মনে হয়। কিন্তু একবার চোরকুরির ভেতর ঢুকতে পারলে আর কিছু মনে থাকবে না। আজকাল সমস্ত মনটা জুড়ে বসে আছে জবা। জবাকে নিজের ঘরের মধ্যে কল্পনা করে নিয়ে অনেক সম্ভব-অসম্ভব ঘটনা ঘটানো যায়। মনে করে নেওয়া যায়—সেই জবা তার এই চোরকুইরিতে এসেছে। এসে হয় তো তারই বিছানায় বসেছে। এক সময়ের মনিব, আজ তার স্ত্রী—ভাবতেও যেন শিউরে ওঠে সমস্ত শরীর। কতদিন কতভাবে কত অপ্রিয় কথা বলেছে। পাড়াগেঁয়ে বলে কত ঠাট্টা করেছে তাকে। জবার ছোঁয়া হাতের রান্না পর্যন্ত কখনও খায়নি ভূতনাথ। অথচ…

    অন্ধকার রাত্রে মনে হয় যেন জবার শাড়ির খসখস শব্দ শুনতে পাওয়া গেল। যেন জবার চুলের গন্ধ ঘরের বাতাসে ভাসছে।

    তারপর সত্যি-সত্যিই ভূতনাথ চোরকুঠুরির শক্ত তক্তপোশটার ওপর চোখ বুজে ঘুমোবার চেষ্টা করে। সমস্ত রাত্রিটা একরকম অসহ্য যন্ত্রণার মধ্যে দিয়ে কাটে। মাথার মধ্যে সমস্ত যেন গোলমাল হয়ে যায়। মনে হয় সমস্ত ঘটনাটা যেন স্বপ্ন। স্বপ্নের মতো অবিশ্বাস্য, অসম্ভব, অলৌকিক।

    পরদিন বংশীও অবাক হয়ে গিয়েছে। বংশী বলে—এ কি, আপনি যে বললেন আজ দেশে যাবেন?

    ভূতনাথ বললে-যাওয়া আর হলো কই? মামলার দিন পড়লো কাল। ছুটুকবাবুর কাছে গিয়েছিলাম—সমস্ত দিন তাইতেই নষ্ট হলো।

    -কী হলো মামলার?

    ভূতনাথ বলে—আমি কেঁদে গিয়ে পড়লাম ছুটুকবাবুর কাছে, বললাম আপনি ‘দিন’ নিয়ে নিন, নইলে বড়বাড়িরই বদনাম, যদি ওরা পুলিশ-পেয়াদা দিয়ে বাড়ি দখল করে সে কি তখন ভালো হবে?

    –দিন পড়লে কবে?

    ভূতনাথ বললে—সে আবার একমাস পরে শুনানি হবে, তখন যা হয় ভাবা যাবে। এখন তো চিঠি লিখে দেওয়া হয়েছে ননীলালের কাছে, ছুটুকবাবু পুরানো বন্ধু, এ-কথাটা কি আর রাখবে না তার। কত টাকাকড়ি নিয়েছে এককালে ছুটুকবাবুর কাছে, মনে আছে তার নিশ্চয়ই।

    বংশী বললে—যাই, খবরটা একবার দিয়ে আসি ছোটবাবুকে ঝপ করে, বড় ভাবছিলেন ক’দিন আজ্ঞে।

    —কিছু বলেন নাকি?

    -না, বলেন না কিছু, কেবল আকাশের দিকে চেয়ে চুপ করে ভাবেন সারাদিন, আমি তো বুঝতে পারি সব—শুনলে খুশি হবেন খুব।

    —আর ছোটমা, ছোটমা ভাবছেন না?

    বংশী বলে—ছোটমা’র ওসব ভাবনা নেই শালাবাবু, ছোটমা’র কেবল ঠাকুরপুজো আর ওই…

    -মদ?

    —আজ্ঞে হ্যাঁ, এখন আর কামাই দেন না আজ্ঞে, যতদিন যাচ্ছে তত বাড়ছে যেন, কেন যে এমন দশা হলো, ভগমান জানে।

    ভূতনাথও আর যেন ভেবে ঠিক করতে পারে না। কেন এমন হয়। তবু সুবিনয়বাবুর কথাগুলো বারবার মনে পড়ে—তিনি বলতেননিজেকে ছোট বলে ভাবছি বলেই, ছোট চিন্তায়, ছোট বাসনায়, মৃত্যুর বেষ্টনীর মধ্যে আবদ্ধ হয়ে থাকছি বলেই হয় তত জীবনের অমৃতরূপ প্রত্যক্ষ হচ্ছে না। তাই বুঝি শরীরে দীপ্তি নেই, মনে নিষ্ঠা নেই, কাজে ব্যবস্থা নেই, চরিত্রে শক্তি নেই। জগৎজোড়া নিয়মের সঙ্গে, শৃঙ্খলার সঙ্গে সৌন্দর্যের সঙ্গে মিল হচ্ছে না কারো। মনে হয়—তাই বুঝি মৃত্যুকেই চরম ভয় বলে মনে করি, ক্ষতিকেই চরম বিপদ বলে ধারণা করি। শ্রম বাঁচিয়ে চলি, নিন্দা বাঁচিয়ে চলি কিন্তু সত্যকে বাঁচিয়ে চলি না, ধর্মকে বাঁচিয়ে চলি না, আত্মার সম্মান বাঁচিয়ে চলি না। অথচ চোখের সামনে ব্ৰজরাখালকে দেখেছে, সুবিনয়বাবুকে দেখেছে—তবু তাদের মতন প্রাণমন খুলে কেন বলতে পারে না—আমি ধ্বংসকে স্বীকার করবে না, এই মৃত্যুকে মানবব না—আমি অমৃতকে চাই—নমস্তেহস্তু!

    সেদিন রূপচাঁদবাবু জিজ্ঞেস করছিলেন—ওদিকে আর গিয়েছিলেন নাকি, সুবিনয়বাবুর বাড়ি? জবা-মা কেমন আছে?

    ভূতনাথ বললে—দু’তিন দিন যাইনি—তবে ভালোই আছেন।

    রূপচাঁদবাবু বললেন—আমি যাবো-যাবে করেও যেতে পারছি, কাজ নিয়ে এত ব্যস্ত হয়ে পড়েছি, কোনো অসুবিধে হলে আমায় বলবেন, লজ্জা করবেন না যেন জবা-মা’র হয় তো বলতে লজ্জা হতে পারে।

    সেদিন সরকারবাবু বললে—আসুন, আসুন ভূতনাথবাবু, কী কপালই করে এসেছিলেন—একেবারে দশাসই কপাল মশাই।

    —কেন, কী হলো?

    –আর কী হবে, নিন, এখানে সই করুন।

    —এ কী?

    —আজ্ঞে হ্যাঁ, এবার থেকে ওভারসিয়ারদের খাতায় আপনার নাম উঠেছে। বলেছিলাম না আপনাকে, আপনি কি আর বেশি দিন বিলবাবু থাকবেন? তা এমন কপাল দেখলেও আনন্দ হয়, মশাই! বাবুর নিজের হুকুম—দেখছেন কি, সই করুন।

    বারো টাকা থেকে একেবারে কুড়ি টাকা। সমস্ত শরীরে কেমন রোমাঞ্চ হয় ভূতনাথের। সরকারবাবু বললে–কালীঘাটে গিয়ে মায়ের পূজো দিয়ে আসবেন আগে, ওই বিপিনবাবু, বিজয়বাবু আজ তিন বচ্ছর বিলবাবুই রয়ে গেলেন, একটি পয়সা মাইনে বাড়লো না আর আপনার তো পোয়াবারো।

    সরকারবাবুর কথাগুলো ঠিক নিছক উল্লাস প্রকাশ নয়। তবু সব সহ্য করাই ভালো।

    ভূতনাথ বললে—আমার সেই ছুটির দরখাস্তখানার কী হলো?

    —ছুটি তো আপনার হয়ে গিয়েছে, সাত দিনের তো—কবে থেকে যাচ্ছেন? আপনার হলে গিয়ে সবই স্পেশ্যাল ব্যাপার আপনার ছুটি আটকায় কে, বলুন?

    ইদ্রিসও খুব খুশি হয়েছে। বলে—তা হোক ওভারসিয়ারবাবু, এবার যেন আর আপনার দস্তুরি ছাড়বেন না তা বলে-ইঞ্জিনিয়ার বাবুরা পর্যন্ত নেয়, আর আপনার নিলেই দোষ। বলে—মাসে যদি পাঁচ টাকাও হয় তো বছরে কত হলো ইয়ে হিসেব করুন।

    ভূতনাথ বলে—চাকরিটা থাকলেই বাঁচি ইদ্রিস, কত কষ্টের চাকরি তা তুমি জানবে কী করে!

    অথচ এই কলকাতায় আসবার জন্যে একদিন ছোটবেলায় মিত্তিরদের টিপ-চালতে গাছের ডগায় উঠেছিল ভূতনাথ। কিন্তু সেই স্বপ্নের কলকাতার সঙ্গে তার চোখে-দেখা কলকাতা কি মিলেছে। হয় তো মিলেছে কিম্বা হয় তো মেলেনি। কিন্তু মনে হয় এখানে না এলে সে বুঝি মানুষের মহাযাত্রার মিছিল এমন স্পষ্ট করে দেখতে পেত না। সেই ব্রাহ্মসমাজ, সেই ভারত-সভা, সেই উনবিংশ শতাব্দীর প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে দিয়ে আজ বঙ্গভঙ্গ আন্দোলনকে কেন্দ্র করে যে মহাযাত্রা শুরু হয়েছে তার পরিচয় পেতো না। জানতে পেতো না কেমন করে ধীরে-ধীরে মানসলোকের সঙ্গে মর্তলোকের সমন্বয় সাধন হয়। কেমন করে সনাতন শাশ্বত ব্যবস্থা ভেঙে চুরমার হয়ে যায়। আজ ভূতনাথ জানতে পেরেছে মানুষেমানুষে কোনো বিচ্ছেদ নেই। সমস্ত মানুষ এক জাত। তাই একের পাপের শাস্তি অন্যকে গ্রহণ করতে হয়, প্রবলের উৎপীড়ন দুর্বলকে সহ্য করতে হয়। একজনের পাপের ফল সকলকে ভাগ করে নিতে হয়। অতীতে ভবিষ্যতে, দূরে দূরান্তে, হৃদয়ে-হৃদয়ে মানুষ পরস্পরের সঙ্গে অভিন্ন। এ-ও কি কম শিক্ষা। তাই সুবিনয়বাবু বলতেন—’বিশ্বানি দুরিতানি পরাসুব’। বিশ্বপাপ মার্জনা করো। আজও ভূতনাথ তাই তার মেসের ঘরটার মধ্যে ভাঙা তক্তপোশের ওপর শুয়ে প্রার্থনা জানায়—যে-দেবতা সকল মানুষের দুঃখ গ্রহণ করেছেন, যার বেদনার অন্ত নেই, যার ভালোবাসারও অন্ত নেই, তার ভালোবাসার বেদনা যেন সমস্ত মানব সন্তান মিলে গ্রহণ করি। তাই তো মনে হয় যেখানে প্রেম সব চেয়ে গভীর, আঘাত বুঝি সেইখানেই সব চেয়ে নিষ্ঠুর হয়ে বাজে। যার হৃদয় কোমল, তাকেই সমস্ত বেদনা বইতে হবে। যাদের গায়ে পুলিশের লাঠি লাগে তাদের বেদনা তত কঠিন নয়, কিন্তু ঘরের কোণের পটেশ্বরী বৌঠানের আঘাতই যেন সব চেয়ে করুণ, সব চেয়ে কঠিন। শহরে না এলে কি এমন করে এই পরম সত্যকে কখনো জানতে পারতো ভূতনাথ।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40 41 42 43 44 45 46 47 48 49 50
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleবেগম মেরী বিশ্বাস – বিমল মিত্র
    Next Article রচনা সংগ্রহ – অক্ষয়কুমার মৈত্রেয় (নন-ফিকশন)

    Related Articles

    বিমল মিত্র

    বেগম মেরী বিশ্বাস – বিমল মিত্র

    May 29, 2025
    বিমল মিত্র

    আসামী হাজির – বিমল মিত্র

    May 29, 2025
    বিমল মিত্র

    কড়ি দিয়ে কিনলাম ১ – বিমল মিত্র

    May 28, 2025
    বিমল মিত্র

    কড়ি দিয়ে কিনলাম ২ – বিমল মিত্র

    May 28, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Our Picks

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }