Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    সাহেব বিবি গোলাম – বিমল মিত্র

    বিমল মিত্র এক পাতা গল্প740 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    ৪৬. সেদিন ভূতনাথের একটিমাত্র উদ্দেশ্য ছিল

    সেদিন ভূতনাথের একটিমাত্র উদ্দেশ্য ছিল—বৌঠানকে এই অবমাননা থেকে বাঁচাতে হবে। বড়বাড়ির অতীত গৌরবের অবমাননা নয়। বিংশ-শতাব্দীর নতুন সভ্যতার সঙ্গে যারা খাপ খাওয়াতে পারলো না নিজেদের, তাদের অবমাননা নয়। অপমানটা বৌঠানের ব্যক্তিগত। কেমন যেন ভূতনাথ নিজেকে জড়িয়ে ফেলেছিল বৌঠানের ভালো-মন্দর সঙ্গে। এ শুধু কৃতজ্ঞতা নয়। শুধু করুণার ঋণশোধের ব্যর্থ চেষ্টা নয়। শুকনো কর্তব্যও নয়। এ যেন পরমাত্মীয়কে রক্ষা। পরমাত্মীয়ের চেয়েও যদি বড় কেউ থাকে, তাকে।

    বৌঠান বলেছিল—আমি যদি মরে যাই, তুই একটু কাঁদিস ভূতনাথ। আমার জন্যে কেউ কাঁদবে, এটা ভাবতেও বড় ভালো লাগে রে!

    কিন্তু কাঁদবার অবশ্য প্রয়োজন হয়নি শেষ পর্যন্ত। তেমন দিন সত্যিই যখন এসেছিল—তখন ভূতনাথ নতুন এক উপলব্ধির সন্ধান পেয়েছে। নতুন আত্মানুভূতি। ভূতনাথ তখন নিজেকে জানতে পেরেছে। সুবিনয়বাবুর ভাষায়-আত্মানং বিদ্ধি। পৃথিবীতে কারোর জন্যে কাঁদবার প্রয়োজন তার ফুরিয়ে গিয়েছে। প্রথম-প্রথম জবার বাড়ির পাশ দিয়ে যাবার সময় ভেতরে যাবার লোভও হয়েছে। আবার মেয়ের গানের শব্দ শুনে অনেকবার দ্বন্দ্ব উদয় হয়েছে মনে। কিন্তু তারপর সে জয় করেছে নিজেকে। সকলকে হারিয়ে সে যে পৃথিবীকে পেয়েছে। নিজেকে জেনে সে যে বিশ্বকে জেনেছে।

    কিন্তু সে-কথা এখন থাক।

    সেদিন মনে হয়েছিল যেমন করে হোক সে পটলডাঙায় গিয়ে আদালতের পরোয়ানা বাতিল করে আনবেই। সে পা জড়িয়ে ধরবে বাবুদের। বলবে—আপনাদের যেমন করেই হোক এ হুকুম প্রত্যাহার করতেই হবে।

    দারোয়ান হয় তো ভেতরে ঢুকতে দেবে না। বাবুর হয় তো বাড়িতে থাকবে না। কিন্তু তবু ভূতনাথ সেই সদর দরজার সামনেই বসে পড়ে থাকবে। প্রত্যাহারের আদেশ না নিয়ে সে ফিরবে না। না প্রত্যাহার হলে সে-ও ফিরবে না এখানে। দিনের-পর-দিন সে ওইখানেই পড়ে থাকবে। দরজার সামনে অভুক্ত থাকবে সকাল থেকে সন্ধ্যে পর্যন্ত।

    সাইকেল-এ চড়ে যেতে-যেতে আবার মনে হলো—কেন সে যাচ্ছে! এও সেই আত্মবোধের তাড়নায়ই সে ছুটে চলেছে। এই আত্মবোধের তাগিদেই সে বৌঠানকে বাঁচাচ্ছে। বৌঠানকে বাঁচানো তার নিজেকে বাঁচানোরই নামান্তর।

    কিন্তু বনমালী সরকার লেন তখনও পার হয়নি। হঠাৎ মনে হলো যেন ম্যানেজার আসছে এই দিকে। ভূতনাথ থামলো। নামলো সাইকেল থেকে। ডাকলে—ম্যানেজারবাবু–

    ম্যানেজারও হনহন করে আসছিল। হনহন করে হাঁটাই তার অভ্যেস। আস্তে হাঁটতে যেন পারে না ম্যানেজার। ব্যস্ত না হলে যেন বাঁচতে পারে না লোকটা।

    আবার ডাকলে ভূতনাথ–ও ম্যানেজারবাবু–

    এবার ফিরে দাঁড়ালো। চাইলে ভূতনাথের দিকে একবার। কিন্তু চিনতে পারলে না। হাঁ করে ভূতনাথের মুখের দিকে চেয়ে বললে—আমায় ডাকলে যেন কে?

    —আমিই ডাকছিলাম।

    —কেন? কে তুমি?

    হাতে সেই পেটফোলা ব্যাগ। ছুঁচলো গোঁফ। চিনতে ভুল হবার কথা নয়। কিন্তু কিছুই সহজে চিনতে পারার লোক নয় বুঝি ম্যানেজার। সহজে কাউকে চিনতে পারা বোধ হয় দুর্বলতার লক্ষণ। ননীবাবুর ম্যানেজার হাজারটা কাজের লোক। হাজারটা লোক তার পায়ে ধর্না দিয়ে বেড়ায়। এত সহজে চিনতে পারলে চলবে কেন তার?

    ভূতনাথ বললে—আমি বড়বাড়ির লোক—আপনার কাছেই যাচ্ছিলাম যে।

    ম্যানেজার এতক্ষণে বললেও, তা ভালোই হলো—আমিও তো ছুটতে-ছুটতে যাচ্ছি বড়বাড়িতে—সেই সকাল বেলা বেরিয়েছি, আর এই দুপুর বেলা সবে এসেছি ফিরে, এমন সময় হুকুম হলো যাও বউবাজার-হুজ্জতের কাজ হয়েছে বটে।

    ভূতনাথ বললে—বাবুরা আছে নাকি কেউ বাড়িতে?

    -কেন? বাড়িতে যাবে কেন! সকাল থেকে হাজার জন লোক বাড়িতে দেখা করতে ছোটে। বাবুরা পইপই করে বারণ করে দিয়েছে, কাল সবাইকে খেদিয়ে দিয়েছি, সারাদিন কাজের পর একটু জিরোবে, গল্প করবে, তা না, রাত্তির পর্যন্ত লোকের আর কামাই নেই মশাই।

    ভূতনাথ বললে কিন্তু পুলিশ-পেয়াদা এনে বাড়ি চড়াও হয়ে এই যে হলো—এতদিনের বংশ, তা ছাড়া রুগী মানুষ—বাবুদের একটা দয়ামায়া নেই? আর ননীবাবুকে তো চিঠি লেখাই হয়েছে, জবাবটা কী আসে না দেখেই

    ম্যানেজার হঠাৎ বললে—সেই চিঠি লিখেই তো এত কাণ্ডরেগে একেবারে অগ্নিশর্মা হয়ে উঠলো ম্যানেজার। বলেছিলাম চিঠি দিও না সেখানে, চিঠি পেলে সাহেব চটে উঠবে, বলিনি তোমাদের, মনে করে দেখো দিকিনি-বলেছিলাম কিনা? শুধু-শুধু এতগুলো টাকা লোকশান…আমার কী, আমার হুকুম তামিল করা কাজ, বাবুদের লোকশান হয় বাবুরা বুঝবে—আমি কেন মাঝখানে কথা বলতে গেলাম।

    তারপর ব্যাগটা খুলে ভেতরে হাত ঢুকিয়ে দিয়ে কাগজপত্র ঘাঁটতে লাগলো ম্যানেজার। বললে—সেই সকাল থেকে রদ্দরে তেতেপুড়ে এখন আবার ছোটো বৌবাজার..বাবুদের আমি দেবো দু’কথা শুনিয়ে, তা হলে মিছিমিছি মামলা-মোকদ্দমা আদালতকাছারি করে এত কষ্ট দেওয়াই বা কেন আর এই বুড়ো লোকটার মিছিমিছি হয়রানি।

    অনেক কষ্টে বুঝি পাওয়া গেল কাগজটা। রাগের মাথায় কাগজটা নিয়ে বললে—চলো, এখন এই কাজগটির জন্যেই এই হয়রানি।

    ভূতনাথ জিজ্ঞেস করলে—কীসের কাগজ?

    ম্যানেজার তখন আবার হনহন করে চলতে শুরু করেছে। ভূতনাথও সঙ্গে-সঙ্গে চলতে লাগলো। ম্যানেজার বললে—এতক্ষণ বোধ হয় সব মালপত্তোর নামিয়ে ফেলেছে, কি বলে?

    ভূতনাথ বললে—তা নামিয়েছে বৈকি! মাল তো আর একটা নয়!

    —কিন্তু, যা নামিয়েছে নামিয়েছে, আর নামাবে না, কিন্তু ওঠাতে হবে তোমাদের লোক দিয়ে—তা বলে রাখছি। আমরা নামাবো আবার ওঠাবো, তা হবে না। লোকশানের ওপর লোকশান কেবল—কথা বলতে-বলতে বড়বাড়ির দিকেই চলতে লাগলো ম্যানেজার।

    ভূতনাথও চলতে লাগলো সঙ্গে-সঙ্গে। বললে—মালপতত্তার তা হলে কি আর নামাবে না ওরা?

    -আরে বাপু, না, না-নামাবে না তো বললুম—এক কথা এক শ’ বারহুজ্জতের কাজ হয়েছে দেখছি। বড়বাড়ির ভেতরে এসে ম্যানেজার ডাকলে—ওরে-এ-ই-ই, কী নাম যেন ওর—কৈলাশ—

    কৈলাশ যেন ওদিকে ছিল। মালপত্তোর নামানোতে তারই উৎসাহ বেশি। হাঁক-ডাক হৈ-চৈ করে সে-ই এতক্ষণ সব তদ্বির তদারক করেছে। সকাল থেকে এসে লোকজন পুলিশ-পেয়াদা সেপাই নিয়ে কাজে লেগে গিয়েছিল।

    ম্যানেজার বললে—হাতের কাজ সব বন্ধ করতে বল।

    —সে কি ম্যানেজারবাবু?

    —যা বলছি তাই কর, আমরা হুকুমের চাকর।

    —আর এ মালপত্তোর?

    –এ-সব থাকবে, যেমন আছে, যাদের মাল তারা ওঠাক— আমরা একবার ওঠাবো, একবার নামাবো, লোকশানের কপাল হয়েছে তাই—নইলে হাতীবাগানের সরকারবাড়িতে এক রাত্তিরে মাল নামিয়ে, সেইখানে বসে সেই মাল আবার নীলেমে বেচে তবে উঠেছিলুম—কিন্তু এমন করলে আর বন্ধকী কারবার চলবে না তাও বলে রাখছি।

    ভূতনাথ বললে—তা হলে কি ছোটবাবুরা এখন বড়বাড়িতে থাকতে পাবে ম্যানেজারবাবু?

    ম্যানেজার বললে—তা ছাড়া আর কি, সাহেব বিলেত থেকে টেলিগ্রাম করে জানিয়েছে। এর আর নড়চড় হবার উপায় নেই—সাহেবের কাছে চিঠি লিখেই যত গোল করলে তোমরা।

    —বরাবর থাকতে পাবে তত?

    —বরাবর কেন? এই তো হুকুম-নামা রয়েছে। দেখো না–বলে হাতের কাগজখানা দেখালে।

    —যদ্দিন কর্তারা বেঁচে থাকবে, তদ্দিন ভোগদখল করবে এই পর্যন্ত—তারপর…

    বংশীও পাশে এসে দাঁড়িয়ে শুনছিল। বললে—তাহলে শালাবাবু, ছোটবাবুকে থাকতে দেবে?

    উত্তর দেবার আগেই একটা গাড়ি ঢুকলে সদর দিয়ে। ওপরে কোচবাক্সে বসে ইব্রাহিম গাড়ি চালাচ্ছে। ঢং-ঢং ঘণ্টা বাজালে পা ঠুকে। মেজবাবু গাড়ি থেকে নামলো।

    বংশী গিয়ে নিচু হয়ে মাটিতে মাথা ঠেকিয়ে প্রণাম করলে।

    মেজবাবু জলদ-গম্ভীর গলায় বললে—কই, পটলডাঙার বাবুদের লোক কোথায় রে?

    মেজবাবু যেন আরো কালো হয়ে গিয়েছে এদানি। অনেকদিন পরে দেখা। শরীর ভেঙে গিয়েছে আরো। তবু কোঁচানো ধুতি মাটিতে লুটোচ্ছে। পামশু পায়ে। মাথায় বাবরি চুলের ফাঁকে যেন একটু-একটু টাক পড়েছে। গায়ে এসেন্সের গন্ধ। ভুরভুর করতে লাগলো জায়গাটা।

    —পটলডাঙার লোক কোথায় গেল রে?

    ম্যানেজার সামনে এগিয়ে গিয়ে নিচু হয়ে প্রণাম করলে।

    মেজবাবু বললে কে তুমি? নাম কি তোমার?

    মেজবাবুর সামনে ম্যানেজার যেন হঠাৎ ফণা গুটিয়ে নিয়েছে। ছুঁচলো গোঁফ দুটো যেন হঠাৎ বড় ঝুলে এল। মিনমিন করে নিজের নাম বললে ম্যানেজার।

    মেজবাবু বললে—বেশ, বেশ, তোমাদের কাছেও টেলিগ্রাম এসেছে, আমাকেও করেছে টেলিগ্রাম, ননীবাবু লোকটি ভালো, তা এবার তোমাদের আর কাজ কি-যেতে পারে। এখন।

    মেজবাবুর সঙ্গে বেণীও এসেছিল। বেণীর শরীরটাও খারাপ হয়ে গিয়েছে। ইব্রাহিমেরও গায়ে আর সে উর্দি নেই। মাথার বাবরি কিন্তু পরিপাটি। কাঠের চিরুণী দিয়ে আঁট করে বাঁধা। আর মোম লাগানো গোঁফ।

    মেজবাবু বললে—চল তোর ছোটকর্তাকে দেখে আসি, কেমন আছে ও আজকাল?

    তারপর ইব্রাহিম, বেণী, বংশী সবাই মিলে আবার সেই সব মালপতোর ওঠানো। ভারী-ভারী মাল সব। সেকালের সামগ্রী। ভারী না হলে যেন মানাতো না। এক-একটা কাঠের পিড়ি চারজনে ধরে তবে নড়াতে পারা যায়। এক-একটা শিল, বাসন, কাটারি, জলচৌকি, তোষক, গদি, সিন্দুক একলা নড়ায় কার সাধ্যি। কোম্পানীর আমলের জিনিষ সব। সস্তাগণ্ডার দিন ছিল তখন। কোম্পানী বাহাদুরের আমলে চল্লিশ মণ চালের দাম ছিল পঁচাত্তোর টাকা। পাঁচ মণ ঘি সাতাত্তোর টাকা, দু’মণ সরষের তেল একান্ন টাকা। এ-সব জিনিষ বড়বাড়িতে মণ-মণ আসতে। খেতেও এবেলা-ওবেলা অনেক লোক। ইংরেজ আমলেই প্রথম এল গোল-আলু। তা তাও সস্তা হলো ক্রমে। শুধু যা বাঁধাকপিটাই ছিল একটু আক্রা। ওটা খেতো সাহেব সুবোরা।

    মালপত্তোর উঠতে বিকেল হয়ে গেল। সারাদিন কারোর খাওয়া হয়নি। রান্নার পাট হয়নি সকাল থেকে। যে-কাণ্ড চলেছে বাড়িতে। মাথার ঠিক ছিল না কারো। উনুনে আগুন পড়লো তখন। সেজখুড়ি ভাত চড়ালো। বংশী বাজারে গেল মাছ তরকারি আনতে। যাবার সময় বললে-আপনি যেন বেরোবেন না আজ্ঞে—একেবারে খেয়ে-দেয়ে তবে বেরোবেন।

    ভূতনাথ বললে—আমার যে একবার বার-শিমলেয় কাজ আছে বংশী।

    -না, না, শালাবাবু, না খেয়ে যাবেন না, ছোটমা জানলে রাগ করবে হুজুর।

    —ছোটমা-ও কি না খেয়ে আছে বংশী?

    –ছোটমা’র খাওয়ার কথা আর বলবেন না শালাবাবু, আজ যে এত কাণ্ড হয়ে গেল, কোনোদিকে খেয়াল নেই তার। জানতেও পারলে না কিছু-সকাল বেলাই এক বোতল খেয়ে শেষ করে দিয়েছে। সকাল থেকে বায়না ধরেছিল চান করবেন না, তারপর চিন্তা বলে-কয়ে চান-টান করিয়ে সাজিয়ে-গুজিয়ে দিয়েছে—তা আমি যখন গিয়ে বললুম-ছোটমা, আজ ভাত হতে দেরি আছে—এই জলখাবারটুকু খেয়ে নাও ততক্ষণ।

    ছোটমা প্রথমে শুনতে পেলে না। চোখ বুজে শুয়ে পড়ে রইল। আবার যখন বললুম, তখন বললে—খাবো না আমি, নিয়ে যা আমার সামনে থেকে।

    বললাম—না খেলে কী করে বাঁচবে—শুধু মদ খেলে পেট ভরবে? ছোটমা বোধহয় রেগে গেল। চোখ খুলে আমার দিকে তাকালে খানিকক্ষণ। আমি ভাবলাম—তাহলে বোধহয় রাগ থেমেছে। পাথরের রেকাবিটা সামনে এগিয়ে দিলাম আজ্ঞে তা সঙ্গে-সঙ্গে ছোটমা পা দিয়ে পাথরখানাকে ছুঁড়ে ফেলে দিলে–মেঝের ওপর পড়ে সেখান ভেঙে টুকরো-টুকরো হয়ে গেল শালাবাবু।

    মুখ দিয়ে কিছু কথা বেরুলো না আমার। কোথায় আমার মাথায় ভাবনা, সেই ভোর এস্তোক ওরা এসে জ্বালাচ্ছে, মালপত্তোর নামাচ্ছে, ঘর খালি করতে বলছে, এত করে ঝাঁট দিলুম ঘর, সব ধুলো-কাদায় একসা করেছে—তার ওপর এই কাণ্ড, পাথর-বাটি ভাঙা কি ভালো শালাবাবু, গেরস্তের অকল্যেণ হয় যে—তা আমি আর থাকতে পারলুম না আজ্ঞে, মুখ বুজে থেকেথেকে আমার বুকের ভেতরটা একেবারে জ্বলে-পুড়ে খাক হয়ে গিয়েছে যে।

    —তা, কী বললে তুমি?

    বংশী বললে-মুখে যা না-আসে, তাই বলে ফেললাম আজ্ঞে, আমার মুখের রাশ আলগা করে দিলাম একেবারে। আমার তো আর জ্ঞান-গম্যি ছিল না তখন, রাগের ঝোঁকে কী বলছি, তা কি আর মনে আছে ছাই,আমার?…তা দেখি ছোটমা কাঁদছে হুজুর।

    ভূতনাথ জিজ্ঞেস করলে—কাঁদছিল বৌঠান?

    বংশীর চোখ দিয়েও হঠাৎ ঝর-ঝর করে জল পড়তে লাগলো। কাপড়ের খুট দিয়ে জলটা মুছে নিয়ে বংশী বললে—দেখে তো আমার জ্ঞান ফিরে এল—ভাবলাম করছি কী! ছোটমা’র না-হয় জ্ঞান নেই, নেশার ঘোরে যা তা করছে—কিন্তু আমি করছি কী। আমার অন্নদাতা মা’কে আমি নাহাতক গালাগালি দিলাম এমন করে। আমার যে নরকেও ঠাঁই হবে না—তা সেখানেই বসে পড়ে ঠাস-ঠাস করে আমার গালে চড়াতে লাগলাম আজ্ঞে—কিন্তু তাতেও যেন প্রাচিত্তির হলো না আমার, দেয়ালের গায়ে কপালটা ঠুকতেঠুকতে বললাম—আমার মিত্যু হোক—আমার মিত্যু হোক— আমার মিত্যু হোক—আমার মিত্যু হয় না কেন রে—সেইখানে দাঁড়িয়েই আবার ফুঁপিয়ে-ফুঁপিয়ে কাঁদতে লাগলো বংশী।

    বংশী চোখটা কাপড় দিয়ে মুছে নিলে। তারপর বললে–যাই আবার একবার বাজারের দিকে। এ-বেলায় বোতল নেই—শা মশাই-এর দোকান থেকে আবার আনতে হবে একটা—যদি আনতে ‘ভূলে যাই, তাহলেই চিত্তির।

    তারপর থেমে বললে-আমার হয়েছে এই জ্বালা শালাবাবু –কাকেই বা বলবে—কে-ই বা বুঝবে। ওদিকে চিন্তা ছোটমাকে দেখেই খালাস, সেজখুড়ির রান্না করেই কাজ শেষ—আর বাকি সব কাজ—ছোটবাবুর ময়লা-মুক্ত থেকে ভেতর-বাইরের সব কাজ, এই বংশীর করতে হবে—আমি তো মানুষ বটে।

    ভূতনাথ বললেএকবার ছোটমা’র সঙ্গে এখন দেখা করিয়ে দেবে বংশী? বার-শিমলেয় যাবার আগে একবার শুধু দেখা করতাম—দুটো কথা বলতাম।

    বংশী হঠাৎ গম্ভীর হয়ে গেল। বললে—আপনি আর ছোটমা’র সঙ্গে দেখা করবেন না হুজুর।

    -কেন?

    —আজ্ঞে, আপনার ভালোর জন্যেই বলছি—দেখা করবেন না কখনও।

    —কেন, ওকথা কেন বলছো? বংশী রেগে গেল।—ওই আপনার এক দোষ, বড় একগুয়ে, বলছি দেখা আর করবেন না, আপনার নিজের ভালোর জন্যেই না বলছি আমি।

    ভূতনাথেরও কেমন যেন রোখ চেপে গেল। বললে—দেখা আমি করবোই।

    -তবে করুন, আমাকে আবার জিজ্ঞেস করছেন কেন তাহলে? আমি বলছি দেখা করলে আপনার ভালো হবে না—ভালো হবে না—ভালো হবে না—এই বলে দিলাম তিনবার।

    ভূতনাথ বংশীর মুখের দিকে ভালো করে চেয়ে দেখলে। বংশী তার দৃষ্টি তখন অন্যদিকে ফিরিয়ে নিয়েছে। বললে—কিন্তু কেন দেখা করবে না, আমাকে তা বলবে তো? আমার ভালোটা না-হয় আমাকেই জানালে?

    বংশী বললে—সব কথায় আপনার কান দেওয়া চাইনা শুনলেই ভালো করতেন। যা হোক, এই এখন বেণী এসেছিল, সে-ই এখন আমাকে বলে গেল।

    -কী বলে গেল?

    —আপনি যেন আবার কাউকে বলবেন না, বেণী আমাকে চুপি চুপি বলে গেল—মেজবাবু সব খবর পেয়েছে এ-বাড়ির, আপনাকে মারবার জন্যে গুণ্ডা রেখেছে আজ্ঞে।

    ভূতনাথ অবাক হয়ে গেল। বললে—আমাকে মারবার জন্যে। গুণ্ডা রেখেছে?

    —আজ্ঞে হ্যাঁ, মেজবাবুকে তো আপনি চেনেন না, গুণ্ডা কি। আজ থেকে আছে? সেকাল থেকে দেখে আসছি মেজবাবু গুণ্ডা। পোষে, মেয়েমানুষ মদ যারা করে,তাদের গুণ্ডাও রাখতে হয় আজ্ঞে, ও বরাবর আছে। ছোটবাবুর গুণ্ডার দল ছিল জানবাজারে, ছেনি দত্তর ছিল, ও সকলেই রাখে, নইলে অত রাত্তির করে ঘোরাফেরা। করে, গুণ্ডা না রাখলে কলকাতা শহরে চলবে কেন।

    –-তা গুণ্ডা আমাকে মারবে কেন?

    –ওই যে আপনাকে দেখেছিল সেবার ছোটমা’র ঘরে, তারপর খপর তো’সব পায়, গরাণহাটায় চলে গিয়েছে বটে, কিন্তু খপর সব রাখে এ-বাড়ির। কী দিয়ে আমরা ভাত খাই, কী করি, সব খপর যায় গরাণহাটায়।

    -কী করে যায়?

    —শুধু কি গরাণহাটায়! পাথুরেঘাটায়, ছুটুকবাবুর শ্বশুরবাড়িতে পর্যন্ত এ-বাড়ির রোজকার খপর চলে যায়, আবার গরাণহাটা, পাথুরেঘাটার খপর আমরা জানি। ঝি-চাকর থাকলে এমন খপর–চালাচালি তো হবেই শালাবাবু।

    -কিন্তু আমাকে গুণ্ডা দিয়ে কেন মারবে বংশী?

    -আমি তো জানি না কিচ্ছু, বেণী এসে আমায় যা বললে তাই বললাম। বললে—শালাবাবু নাকি ছোটমা’র ঘরে যায় রাত্তির বেলা, মদ খায় দুজনে, বাইরে বেরোয় গাড়ি করে—এটা তো ভাল নয়। মেজবাবু বলে—আমাদের বংশে বউরা কখনও সূয্যির মুখ পর্যন্ত দেখেনি, তা কথাটা সত্যি শালাবাবু, আমার মনে আছে, সেকালে আমরা চাকররা পর্যন্ত অন্দরে ঢুকতে পেতুম না। ঝি-এর মারফৎ ফরমাশ আসতো আর হুকুম তামিল করতাম আমরা—তা একালে তো সব বেহ্ম হয়ে গিয়েছে। সাহেব-সুবো এসে খানা খাচ্ছে-রাস্তায়, ঘাটে মেয়েছেলেরা বেড়াচ্ছেতা তাই মেজবাবুর রাগ আপনার ওপর, বলে দিয়েছে রাস্তায় বেরোলে ফাঁক পেলেই একেবারে খুন করে ফেলতে।

    ভূতনাথ শুনে চুপ করে রইল।

    বংশী বললে—একা-একা রাত-বিরেতে রাস্তায় না-ই বেরোলেন, গুণ্ডার কাণ্ড তো, কখন কী করে বসে!

    ভূতনাথ খানিকক্ষণ কী যেন ভাবলে। তারপর বললে—নিজের জন্যে আমার কোনো ভয় নেই বংশী, আমি তো দেখেছি, আমার পেছন-পেছন লোক ঘোরাঘুরি করে—যখন যেখানে যাই, সেখানে যায়। একদিন ভাবলাম জিজ্ঞেস করবে—তা সরে গেল তাই।

    —ওই—ওই—ওই, ও ঠিক মেজবাবুর লোক।

    —কিন্তু সে তো ভাবছি না আমি, আমি ভাবছি বৌঠানের জন্যে। আমার জন্যে কি বৌঠানের বদনাম হবে-বিপদ হবে— তার চেয়ে আমি চলেই যাই না কেন এখান থেকে মিছিমিছি আমি অন্ন ধ্বংস করছি এ-বাড়ির।

    বংশী বললে—এমন কথা বলবেনু না হুজুর—আর কেউ না জানুক, আমি তো জানি—ছোটমা পর্যন্ত জানে না কিন্তু আপনার টাকাতেই তো এখনও…

    ভূতনাথ বললেও-কথা থাক, ওই গুণ্ডার কথা যা বললে, ওটা আর কেউ জানে?

    -না, কেউ জানে না হুজুর, কিন্তু বেণী সাবধান করার জন্যেই বললে আমাকে।

    ভূতনাথ বললে—কিন্তু একবার বৌঠানকে নিয়ে যে বরানগরে যেতেই হবে।

    -বরানগরে আপনারা কোথায় যান বলুন তো শালাবাবু?

    —সে—এক সাধুর কাছে, বৌঠান ছোটকর্তার অসুখের জন্যে পূজো দেবে, আমিও বৌঠানের ভালোর জন্যে পূজো দেবোবাজারেই তো যাচ্ছে, আমাদের দুজনের জন্যে পাঁচ গোছ পান আর পাঁচ পণ করে সুপুরি আনতে পারো?

    —তা পারবো না কেন শালাবাবু।

    —আনতে পারলে আজই যাই, এই পয়সাটা রাখো।

    বংশী বললে–পয়সা আর দেবেন না হুজুর, কত পয়সা আপনি পাবেন আমার কাছে, তারই হিসেব করুন আগে।

    ভূতনাথ বললে—আমাকে তবে একবার বৌঠানের ঘরে পৌঁছে দে বংশী।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40 41 42 43 44 45 46 47 48 49 50
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleবেগম মেরী বিশ্বাস – বিমল মিত্র
    Next Article রচনা সংগ্রহ – অক্ষয়কুমার মৈত্রেয় (নন-ফিকশন)

    Related Articles

    বিমল মিত্র

    বেগম মেরী বিশ্বাস – বিমল মিত্র

    May 29, 2025
    বিমল মিত্র

    আসামী হাজির – বিমল মিত্র

    May 29, 2025
    বিমল মিত্র

    কড়ি দিয়ে কিনলাম ১ – বিমল মিত্র

    May 28, 2025
    বিমল মিত্র

    কড়ি দিয়ে কিনলাম ২ – বিমল মিত্র

    May 28, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Our Picks

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }