Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    সিডনি সেলডন রচনাসমগ্র ২ – ভাষান্তর : পৃথ্বীরাজ সেন

    পৃথ্বীরাজ সেন এক পাতা গল্প2083 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    ৩. কেলি হোটেলে ফিরে এসেছেন

    ২১.

    কেলি হোটেলে ফিরে এসেছেন। ঘটনাগুলো তাকে এখনও ভাবিয়ে তুলেছে হ্যাঁ, হত্যার উন্মাদনা। এখন আমি কী করব? এখান থেকে পালাতে হবে।

    কেলি কৌচে বসলেন, চোখ বন্ধ করলেন। ধ্যান করার চেষ্টা করলেন। একটা মন্ত্র উচ্চারণ করলেন। কিন্তু কোনো লাভ হল না। সমস্ত শরীরটা থরথর করে কাঁপছে। মার্ক, তোমার কথা ভীষণ মনে পড়ছে।

    করিডরে কার পায়ের শব্দ? কেলি অবাক হলেন। না, সারাদিন কিছু খাওয়া হয়নি। কিন্তু খিদে পায়নি।

    উনি রুম সার্ভিসকে ফোন করলেন- স্যালাড পাঠাতে পারবে? গরম চা?

    ধন্যবাদ, পঁচিশ-তিরিশ মিনিটের মধ্যে সব কিছু পাঠিয়ে দিচ্ছি, মিসেস হ্যারিস।

    –ঠিক আছে।

    কেলি রিসিভারটা নামিয়ে রাখলেন। চুপ করে বসে থাকলেন। ট্যানার কিংসলের সঙ্গে কথাবার্তাগুলি মনে পড়ে গেল।

    মার্ক কেন ওলগার কথা বলেনি? এটা নাকি ব্যবসায়িক সম্পর্ক? ভালোবাসার সম্পর্ক? মার্ক, ডার্লিং, আমি জানি না, সত্যি তুমি কাউকে ভালোবাসতে কিনা? আমি কিন্তু সব সময় তোমাকেই ভালোবাসব। তুমি শিখিয়েছিলে, কীভাবে ভালোবাসতে হয়। আমি শীতল, তুমিই আমাকে উষ্ণ করে তুলেছিলে। তুমি আমাকে আমার গৌরব ফিরিয়ে দিয়েছ।

    ডায়ানার কথা মনে পড়ল, আহা, ওই মহিলার খবরটা। মোটেই ভালো নয়। আমি কাল প্যারিসে ফিরে যাব। আমার অ্যাঞ্জেলকে পাব।

    দরজায় কার হাতের শব্দ। কেলি ভীষণ ভয় পেয়েছেন।

    উনি রিসিভার তুলে জানতে চাইলেন- আমার খাবার কি তৈরি হয়েছে?

    মিসেস হ্যারিস, আরও পনেরো-কুড়ি মিনিট সময় লাগবে।

    কেলি রিসিভারটা নামিয়ে রাখলেন। অপারেটরকে ফোন করলেন।

    একজন আমার ঘরে জোর করে ঢোকার চেষ্টা করছে।

    –আমি সিকিউরিটি অফিসারকে এখনই পাঠাচ্ছি মিসেস হ্যারিস।

    দু-মিনিট কেটে গেছে। আবার হাতের শব্দ।

    কেলি চিন্তিত মনে দরজার দিকে এগিয়ে গেলেন কে? সিকিউরিটি?

    কেলি ঘড়ির দিকে তাকালেন এত তাড়াতাড়ি?

    তিনি টেলিফোনের দিকে গেলেন, অপারেটরের কাছে জানতে চাইলেন- সিকিউরিটি কি এসে গেছে?

    –সে এখনই পৌঁছে যাবে, মিসেস হ্যারিস। এক-দু মিনিটের মধ্যে।

    –ওর নাম কী?

    ভয়ে কণ্ঠস্বর বুজে গেছে।

    থমাস।

    কেলি আবার শব্দটা শুনতে পেলেন। হলে কারা যেন ফিসফিসিয়ে কথা বলছে। দরজাতে কান লাগিয়ে দিলেন। শব্দগুলো কোথায় হারিয়ে গেল। মনে একটা অন্ধ আতঙ্কের জন্ম হয়েছে।

    এক মিনিট, দরজায় আবার কার হাতের শব্দ– কে? সিকিউরিটি? বিল?

    না, মিসেস হ্যারিস, থমাস।

    দরজাটা কেলি খুলে দিলেন, সিকিউরিটি ভেতরে ঢুকে জিজ্ঞাসা করল- কী হয়েছে।

    কারা ভেতরে ঢোকার চেষ্টা করছিল।

    -আপনি ওদের দেখেছেন? ওদের কণ্ঠস্বর শুনতে পেয়েছি। আপনি কি একটা ট্যাক্সি ডেকে আনবেন?

    –অবশ্যই আনছি।

    কেলি শান্ত থাকার চেষ্টা করলেন। অনেক ঘটনা অত্যন্ত দ্রুত ঘটে চলেছে।

    থমাস কেলির পাশে দাঁড়ালেন। এলিভেটরটা অত্যন্ত দ্রুত নীচের দিকে নামছে।

    তারা লবিতে পৌঁছে গেলেন। কেলি চারপাশে তাকালেন। সন্দেহজনক কিছুই দেখা গেল না। কেলি এবং নিরাপত্তা কর্মী পাশাপাশি হাঁটতে থাকলেন। তারা ট্যাক্সি স্ট্যান্ডে পৌঁছে গেলেন।

    কেলি বললেন– ধন্যবাদ।

    যখন আপনি ফিরে আসবেন, সব কিছু ঠিকঠাক থাকবে বলেই মনে হচ্ছে। যারা আপনার ঘরে ঢোকার চেষ্টা করেছিল, তারা বোধহয় ভয়ে পালিয়ে গেছে।

    কেলি ট্যাক্সিতে উঠলেন। রিয়ার উইন্ডোর দিকে তাকালেন। দেখলেন একটা লিজিনে দুজন নোক ঢোকার চেষ্টা করছে।

    ড্রাইভার জিজ্ঞাসা করল- কোথায় যাব?

    লিমুজিনটা গাড়িটাকে অনুসরণ করার চেষ্টা করছে। সামনে একজন পুলিশ দাঁড়িয়ে আছে।

    কেলি বললেন সামনের দিকে চলুন।

    সবুজ আলো জ্বলে উঠেছে। কেলি বললেন- গাড়ির গতি আস্তে করুন। যতক্ষণ পর্যন্ত না আলো হলদে হচ্ছে, ততক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকবেন। তারপর বাঁদিকে চলে যাবেন।

    ড্রাইভার অবাক হয়ে তাকিয়ে বলল- কী?

    সবুজ আলো থাকলে কোথাও যাবেন না।

    ড্রাইভারের মুখে একটা অদ্ভুত অভিব্যাক্তি।

    কেলি হাসল, আমি একটা বাজি লড়ছি।

    আলো পরিবর্তিত হল।

    কেলি বললেন এখন যেতে হবে।

    ট্যাক্সিটা বাঁদিকে চলে গেল। আলোটা আবার লাল হয়েছে। ট্রাফিকে অনেক গাড়ি ভিড়। যে লোকগুলো লিমুজিনে বসেছিল, তারা হতাশ।

    ট্যাক্সিটা কিছুদূর এগিয়ে গেল।

    কেলি বললেন- আঃ, আমি ভুলে গেছি। আমাকে নেমে যেতে হবে।

    উনি গাড়ি থেকে নেমে গেলেন, হাতে কিছু টাকা দিলেন।

    ট্যাক্সি ড্রাইভার দেখল, কেলি একটা হাসপাতালে ঢুকে পড়ছেন। আহা, এই মেয়েটার মাথায় গোলমাল আছে বলে মনে হচ্ছে।

    লিমুজিনটা আবার চলতে শুরু করেছে। তারা ট্যাক্সির কাছে পৌঁছে গেল। পাঁচ মিনিট কেটে গেছে। কেলি আর একটা ট্যাক্সিতে ওঠার চেষ্টা করছেন।

    .

    ডায়ানা স্টিভেন্সের অ্যাপার্টমেন্ট। ডিটেকটিভ গ্রিনবার্ড বসে আছেন। উনি বললেন মিসেস স্টিভেন্স, যে লোকটা আপনাকে গুলি করার চেষ্টা করেছিল, তার মুখ আপনি দেখতে পেয়েছিলেন?

    ডায়ানা মাথা নেড়ে বললেন– না, খুব তাড়াতাড়ি ঘটনাটা ঘটে গেল।

    -ব্যাপারটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। দেওয়ালে বুলেটের দাগ আছে। পঁয়তাল্লিশ ক্যালিবারের বন্দুক থেকে গুলি ছোঁড়া হয়েছিল। এই গুলিগুলো সাংঘাতিক। আপনার সৌভাগ্য যে আপনি বেঁচে গেছেন। মনে হচ্ছে টনি আলটিয়েরি ওকে পাঠিয়েছে।

    ডায়ানা ঢোক গিললেন আপনারা একটু দেখবেন কি?

    –যে ব্রিফকেসটা হারিয়ে গেছে, তার মধ্যে কী ছিল?

    –আমি ঠিক জানি না, রিচার্ড যখন ল্যাবরেটরিতে যেত, সবসময় ব্রিফকেসটা সঙ্গে নিয়ে যেত। রাতের বেলায় ব্রিফকেসটা সঙ্গে আনত, মনে হচ্ছে এর মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ কাগজ ছিল।

    গ্রিনবার্ড বিয়ের আংটিটা হাতে নিলেন। বললেন- আপনার স্বামী কখনও বিয়ের রিংটা আঙুল থেকে খোলেননি?

    -হ্যাঁ, আপনি ঠিকই বলেছেন।

    তার মানে মৃত্যুর আগের দিন আপনার স্বামী কি অন্যরকম আচরণ করেছিলেন? মনে হচ্ছিল, ওনার ওপর কোনো চাপ দেওয়া হয়েছে? ভেবে দেখুন তো। উনি এমন কোনো কথা বলেছিলেন, যা, আপনার মনকে চিন্তায় ফেলেছিল।

    সকালবেলা আমরা নগ্ন হয়ে বিছানাতে শুয়েছিলাম। রিচার্ড আমার উরুতে হাতের টোকা দিচ্ছিল। বলেছিল, আজ অনেক রাত অব্দি কাজ করব। কিন্তু আমার জন্য দু-এক ঘন্টা সময় রেখো, সোনামনি।

    ্না- মিসেস স্টিভেন্স!

    ডায়ানা কল্পনা থেকে বাস্তবে ফিরে এলেন না, কোনো কিছুই অন্যরকম দেখিনি।

    -মনে হচ্ছে, আপনাকে আরও নিরাপত্তা দিতে হবে।

    ডোরবেলে শব্দ।

    –কেউ কি আসবে?

    না, গ্রিনবার্ড উঠে দাঁড়ালেন, আমি দেখছি।

    উনি এগিয়ে গেলেন, দরজা খুললেন। কেলি হ্যারিস দাঁড়িয়ে আছেন। অত্যন্ত দ্রুত উনি ঘরে ঢুকে পড়লেন।

    কেলি ডায়ানার দিকে এগিয়ে বললেন- আমরা কথা বলব।

    ডায়ানা অবাক আপনার তো এখন প্যারিস যাবার কথা।

    -না, আমি হয়তো যাব না।

    গ্রিনবার্ড এই আলোচনায় যোগ দিলেন- আমি ডিটেকটিভ আর্ল গ্রিনবার্ড, কেলি হ্যারিস।

    কেলি গ্রিনবার্ডের দিকে তাকিয়ে বললেন- ডিটেকটিভ, কেউ এইমাত্র আমার ঘরে ঢোকার চেষ্টা করেছে।

    –আপনি হোটেল সিকিউরিটিকে জানিয়েছেন?

    -হ্যাঁ, লোকগুলো চলে গেছে। একজন গার্ড আমাকে ট্যাক্সি স্ট্যান্ড পর্যন্ত পৌঁছে দিয়েছে।

    –ওরা কারা হতে পারে বলে আপনার অনুমান?

    –আমি কিছুই ভাবতে পারছি না।

    –কেউ আপনার ঘরের দরজা ভেঙে ঢোকার চেষ্টা করেছে?

    না, তারা দরজার পাশে দাঁড়িয়ে ছিল। তারা বলছিল যে, রুম সার্ভিস থেকে এসেছে।

    তার মানে, ডায়ানা বললেন, আমাদের দুজনেরই একই রকম সমস্যা।

    কেলি বলতে থাকেন আমি ভেবেছিলাম, প্যারিসে চলে যাব। মনে হচ্ছে, মাফিয়া বন্ধুরা বোধহয় আমাদের একলা থাকতে দেবে না।

    কেলি এবার যাবার চেষ্টা করলেন।

    গ্রিনবার্ড বললেন- ইনি কে বলুন তো?

    –ওনার স্বামীর মৃত্যু হয়েছে। অথবা স্বামীকে হত্যা করা হয়েছে। উনি একই কোম্পানিতে কাজ করতেন। রিচার্ডের মতো, কিংসলে ইন্টারন্যাশনাল গ্রুপে।

    .

    কেলি হোটেলের লবিতে ফিরে এলেন। ডেস্কের দিকে এগিয়ে গেলেন। আমি চলে যাব। তারপর বললেন, আপনি কি প্যারিসের প্লেনে একটা রিজারভেশন করে দেবেন?

    -হ্যাঁ, মিসেস হ্যারিস, কোনো বিশেষ এয়ার লাইন্স?

    না, আমাকে যে করেই হোক এখান থেকে চলে যেতে হবে।

    কেলি হোটেল লবি পার হয়ে এলিভেটরের সামনে পৌঁছে গেলেন। বোতামে হাত দিলেন। তাকে এখন পঞ্চম তলায় যেতে হবে। এলিভেটরের দরজাটা বন্ধ হল, দুজন লোক ঢুকে পড়ল। কেলি তাদের দিকে তাকালেন। তারপর বাইরে বেরিয়ে এলেন। না, কোনো বিপদের সামনে গিয়ে কী লাভ? তিনি সিঁড়িতে পা ফেলে দিলেন।

    নির্দিষ্ট জায়গাতে পৌঁছে গেছেন। মস্ত বড়ো চেহারার একটা লোক এসে তার পথ আটকে দাঁড়িয়ে আছে।

    কেলি বললেন আমি একটু যাব, জায়গা দেবেন কি?

    লোকটার হাতে সাইলেনসার লাগানো বন্দুক।

    কেলির মুখ বিবর্ণ। আপনি কে?

    -চুপ করুন, আমি জানি, আপনাকে কী করে চুপ করাতে হয়। আপনাকে নিয়ে আমি নীচে নেমে যাব।

    লোকটার মুখে হাসি। কিন্তু কেলির মনে হল, তার ওপরের ঠোঁটে বুঝি একটা চকচকে ছুরি ঢোকানো আছে। তার চোখ ঠাণ্ডা।

    চলুন, হাঁটতে হবে।

    আমি এর হাতে কিছুতেই মারব না। কেলি শেষ পর্যন্ত বললেন- একটু অপেক্ষা করুন, মনে হচ্ছে আপনার কোথাও ভুল হয়েছে।

    কেলির মনে হল, হাতের কবজিটা বুঝি ভেঙে গেছে। তিনি চিৎকার করতে চেয়েছিলেন।

    বলেছি না, কথা বলবেন না, আমার সঙ্গে চলুন।

    কেলির হাত ধরেছে ওই দৈত্য আকারের লোকটা। তার পেছনে বন্দুক ঠেকানো হয়েছে।

    কেলি এখন কোনো কথা বলতে পারছেন না। অনেক কষ্টে শান্তভাবে বললেন– আমি বোধহয় সেই লোক নয়।

    আবার পিঠের ওপর বন্দুকের আঘাত। হাতটা মোচড়ানো হচ্ছে। কেলি বেশ বুঝতে পারলেন, রক্ত বেরিয়ে আসছে।

    শেষ পর্যন্ত কেলিকে নীচে নামতে হয়েছিল। কেলি লবিতে এলেন। সেখানে অনেক লোক। কেলি ভাবছিলেন, সাহায্যের জন্য চিৎকার করবেন কিনা।

    লোকটা বলল- এসব কথা মনেও আনবেন না।

    কেলি বাইরে বেরিয়ে এলেন। সেখানে একটা গাড়ি দাঁড়িয়ে ছিল। পাশাপাশি আর একটা গাড়ি। একজন পুলিশের লোক পার্কিং টিকিট দিচ্ছিলেন। কেলিকে যে লোকটা ধরেছিল সে পেছন দিকে চলে গেল। তারপর একটা গাড়ির মধ্যে কেলিকে ঠেলে দিল।

    কেলি কিছু বলার চেষ্টা করছিলেন। সামনেই একজন পুলিশের লোক। কিন্তু কোনো কথা বলতে পারলেন না। সেই লোকটা বলছে- আমি তো সব কিছু বলেছি। একশো ডলার বেশি দিয়েছি। এইভাবে কেন বিরক্ত করা হচ্ছে।

    পুলিশের লোকটা ঘড়ির দিকে তাকালেন।

    পুলিশ কেলির দিকে তাকিয়ে বলল- এখানে কী হচ্ছে?

    টাকা পেয়ে গেছেন, এখন আর কথা বলছেন কেন?

    কেলি অসহায় দৃষ্টিতে পুলিশের দিকে তাকালেন। লোকটা কেলির দিকে তাকিয়ে আছে। তার ঠোঁটে হাসি। তার চোখে বীভৎস জিঘাংসা।

    কেলি শেষ পর্যন্ত পুলিশকে বলতে পেরেছিলেন এই লোকটা আমাকে উত্যক্ত করছে।

    পুলিশটা এগিয়ে আসছে, কেলি পালিয়ে যাবার চেষ্টা করলেন। সামনে একটা ট্যাক্সি দাঁড়িয়ে ছিল।

    দৈত্যটা ঝাঁপিয়ে পড়ার চেষ্টা করছে।

    পুলিশ বলল- এক মিনিট মিস্টার, এই দেশে বেশ্যা সংক্রান্ত আইনটা খুবই খারাপ।

    আমি ওকে সেভাবে বিরক্ত করিনি।

    –ঠিক আছে, আপনার পরিচয়পত্র দেখান তো? আপনার নাম কী?

    –হ্যারি ফ্লিন্ট।

    ফ্লিন্ট দেখল, কেলির ট্যাক্সিটা চোখের সামনে দিয়ে অদৃশ্য হয়ে গেল বেশ্যা, কুত্তি, একদিন তোকে আমি মেরে ফেলব।

    .

    ২২.

    কেলি ট্যাক্সিটা ছেড়ে দিলেন ডায়ানার অ্যাপার্টমেন্ট বিল্ডিং-এর সামনে। কলিংবেলে হাত রাখলেন।

    ডিটেকটিভ গ্রিনবার্ড দরজাটা খুলে দিলেন।

    –আপনাকে কী সাহায্য করব?

    কেলি দেখলেন, ডায়ানা লিভিংরুমে বসে আছেন।

    কী হয়েছে? ডায়ানার প্রশ্ন, আপনি বলেছিলেন…

    -হ্যাঁ, বলেছিলাম, কিন্তু আপনার মাফিয়া বন্ধুরা আমাকে একা থাকতে দেবে না। তারা আমাকে আবার হত্যা করার চেষ্টা করছিল। কেন এই ঘটনা ঘটছে বলুন তো?

    –আমি কিছুই জানি না। হয়তো তারা আমাদের দুজনকে একসঙ্গে দেখেছিল। ভেবেছে, আমরা বন্ধু। তাই হয়তো…

    আমরা বন্ধু নই, মিসেস স্টিভেন্স। অনুগ্রহ করে আমাকে এখান থেকে যেতে দিন।

    –আপনি কী বলছেন? এ ব্যাপারে আমি কী সাহায্য করব?

    –আমাদের হঠাৎ দেখা হয়েছিল। আপনি আমাকে চিনতেন না। তা হলে এই ঘটনার সাথে আমায় কেন জড়ানো হচ্ছে? আমি চাই না, কেউ আমাকে মেরে ফেলুক।

    ডায়ানা আবার অসহায়ের মতো বলতে থাকেন আমি কী করব বলুন তো?

    -হ্যাঁ, একটা কাজ আপনি করতে পারেন, আপনি আলটিয়েরির সঙ্গে কথা বলুন। এখনই আপনি এই কাজটা না করলে আমি কিন্তু এখান থেকে যাব না।

    ডায়ানা বললেন আপনি কী বলছেন? আমি দুঃখিত। হ্যাঁ, আপনাকে আমি এর মধ্যে এনে ফেলেছি।

    কিছুক্ষণ চিন্তা করে ডায়ানা গ্রিনবার্ডের দিকে তাকিয়ে বললেন- আপনি কি মনে করেন যে, আমি আলটিয়েরির সঙ্গে কথা বললে আমাদের দুজনকে ছেড়ে দেবেন?

    গ্রিনবার্ড বললেন- ব্যাপারটা খুব গুরুত্বপূর্ণ। যদি উনি মনে করেন, এটা ওনার পক্ষে কোনো ক্ষতিকারক হবে না। আপনি কি ওনার সাথে একা কথা বলতে চান?

    ডায়ানা বলল না।

    কেলি বাধা দিয়ে বলল- হা, ওনাকে কথা বলতেই হবে।

    .

    অ্যানথনি আলটিয়েরির বাড়ি সুন্দর পাথর দিয়ে তৈরি। কলোনীয় যুগের ছাপ আছে। নিউ জার্সিতে। বিরাট বাড়িটা পনেরো একর জমির ওপর অবস্থিত। চারপাশে উঁচু লোহার ঘেরাটোপ। অনেকগুলো গাছ আছে। একাধিক পুকুর। সুন্দর সাজানো বাগান।

    সামনের গেটের কাছে একজন প্রহরী বসেছিল। গাড়িটা ঢুকল। গ্রিনবার্ড, কেলি এবং ডায়ানা।

    গার্ড এগিয়ে এল। সে গ্রিনবার্ডকে চিনতে পেরেছে– শুভ সন্ধ্যা লেফটেন্যান্ট।

    –হ্যালো সিজার, আমরা মিঃ আলটিয়েরির সঙ্গে দেখা করতে এসেছি।

    –আপনাদের হাতে কি ওয়ারেন্ট আছে?

    –না, সেরকম দেখা করা নয়। এটা একটা সামাজিক দেখা।

    গার্ড দুজন মহিলার দিকে তাকাল- ঠিক আছে, এখানে দাঁড়ালেন। সে ভেতরে চলে গেল। বুথের কাছে। কিছুক্ষণ বাদে সে বলল, আপনারা আসতে পারেন।

    ধন্যবাদ। গ্রিনবার্ড গাড়িটা চালিয়ে ভেতরে নিয়ে গেলেন।

    তারা গাড়ি থেকে নেমে আসছেন, আর একজন গার্ডকে দেখা গেল।

    –আমাকে অনুসরণ করুন।

    বিরাট লিভিং রুম। অ্যান্টিক ফার্নিচারে পরিপূর্ণ। আধুনিক ফার্নিচারও দেখা যাচ্ছে। দিনটা চমৎকার। যদিও শীত খুব একটা নেই। কিন্তু মস্ত বড়ড়া পাথরের ফায়ার প্লেসে আগুন জ্বলছে। তিনজনে গার্ডকে অনুসরণ করে লিভিংরুম পার হয়ে একটা মস্ত বড়ড়া অন্ধকার বেডরুমে গিয়ে পৌঁছোলেন।

    অ্যানথনি আলটিয়েরি বিছানাতে শুয়ে ছিলেন। তার বুকে একটা রেসপিরেটর যন্ত্র বসানো আছে। মুখটা বিবর্ণ, মনে হচ্ছে, বয়সটা হঠাৎ একলাফে অনেকটা বেড়ে গেছে, একদিকে একজন যাজক বসে আছেন। অন্যদিকে একজন নার্স।

    আলটিয়েরি ডায়ানার দিকে তাকালেন, কেলি এবং গ্রিনবার্ডের মুখের দিকে তাকালেন। তারপর আবার ডায়ানার দিকে তাকালেন।

    কঠিন কণ্ঠস্বরে তিনি বললেন আপনারা আমার কাছ থেকে কী চাইছেন?

    ডায়ানা বললেন– মিঃ আলটিয়েরি, আপনি মিসেস হ্যারিস এবং আমাকে ছেড়ে দিন। আপনার লোকজনদের তুলে নিন। আপনি তো আমার স্বামীকে হত্যা করেছেন

    আলটিয়েরি বাধা দিয়ে বললেন- আপনার স্বামীর নাম পর্যন্ত শুনিনি। আমি শুনেছি, ওনার পকেটে নাকি কী একটা চিরকুট পাওয়া গেছে। এতে আমার কোনো হাত নেই, বিশ্বাস করুন। আমি কীভাবে আপনাদের মুক্তি দেব? কোনো ইতালিয় কি সেটা লিখেছে? কেউ কি বলেছে, আমি আপনাদের অনুসরণ করছি?

    আলটিয়েরির সমস্ত চোখে মুখে যন্ত্রণা আমি এখন ভগবানের সাথে শান্তিতে থাকতে চাইছি।

    গলা বুজে গেল।

    ধর্মযাজক ভদ্রলোক ডায়ানার দিকে ফিরে বললেন- এখন আপনারা চলে গেলেই ভালো হয়।

    ডিটেকটিভ গ্রিনবার্ড প্রশ্ন করলেন– কী হয়েছে?

    উনি বললেন– ক্যানসার।

    ডায়ানা বিছানায় শুয়ে থাকা লোকটির দিকে তাকালেন কী আশ্চর্য, কোথায় যেন সব গোলমাল হয়ে যাচ্ছে। উনি কি সত্যি কথা বললেন?

    হঠাৎ ডায়ানার মনে একটা আচমকা আতঙ্কের সৃষ্টি হল।

    .

    তারা আলটিয়েরির বাড়ি থেকে ফিরে এলেন। ডিটেকটিভ গ্রিনবার্ডকে খুবই অসহায় দেখাচ্ছে।

    আমার মনে হচ্ছে, আলটিয়েরি ঠিক কথাই বলেছেন।

    কেলি মাথা নাড়লেন, আমারও তাই মনে হয়। লোকটা এখন মৃত্যুশয্যায়।

    -তাহলে? আর কেউ কি আপনাদের হত্যা করতে পারে?

    না, ডায়ানা বললেন, যদি আলটিয়েরি না হয়ে থাকে, আমি তো কিছুই বুঝতে পারছি না।

    কেলি বললেন- আমারও মাথায় কিছু ঢুকছে না।

    .

    ডিটেকটিভ গ্রিনবার্ড ডায়ানা এবং কেলিকে ডায়ানার অ্যাপার্টমেন্টে পৌঁছে দিলেন। তারপর তিনি বললেন- এখানে থাকুন, আশা করি কোনো অসুবিধা হবে না। পনেরো মিনিট বাদে আপনাদের অ্যাপার্টমেন্টের বাইরে পুলিশ পোস্টিং হবে। চব্বিশ ঘন্টা পুলিশ থাকবে। দেখা যাক, কী করে এই সমস্যার সমাধান হতে পারে। দরকার হলে ফোন করতে ইতস্ততঃ করবেন না, কেমন?

    উনি চলে গেলেন।

    .

    ডায়ানা এবং কেলি পরস্পরের দিকে তাকিয়ে আছেন। বিরাজ করছে এক অভূতপূর্ব নীরবতা।

    ডায়ানা প্রশ্ন করলেন চা খাবেন?

    কফি।

    ডায়ানা তাকালেন। উত্তেজিত এবং বিষণ্ণ- ঠিক আছে, করে দিচ্ছি।

    ডায়ানা কিচেনে চলে গেলেন কফি করার জন্য। কেলি লিভিংরুমের এখানে সেখানে ঘুরে বেড়াতে লাগলেন। দেওয়ালে অসাধারণ ছবি টাঙানো আছে।

    ডায়ানা কিচেন থেকে বেরিয়ে এলেন। কেলি ডায়ানার ছবির দিকে তাকালেন মিসেস স্টিভেন্স, আপনি এটা এঁকেছেন?

    ডায়ানা ঘাড় নেড়ে বললেন- হ্যাঁ।

    কেলি বললেন– অসাধারণ।

    ডায়ানার জিজ্ঞাসা- আপনি কি শিল্প সম্পর্কে ওয়াকিবহাল?

    -না, মিসেস স্টিভেন্স, বিশেষ কিছু জানি না।

    কার ছবি আপনার ভালো লাগে? ড্যায়না মসের?

    –হ্যাঁ, তার ছবি ভালো লাগে।

    —আদিম যুগের ছবিগুলো আপনার হৃদয় স্পর্শ করে?

    কেলি ডায়ানার মুখের দিকে তাকিয়ে বললেন- সত্যি কথা বলব? আমি একটু অন্য ধরনের আঙ্গিক ভালোবাসি। অবশ্য কোনো কোনো ক্ষেত্রে তফাত হয়ে যায়। টিটিয়ানেরা ভেনাস অফ রোবিন ছবিটা দেখেছেন? এক অসাধারণ উপস্থাপনা।

    ডায়ানা বললেন- কফি তৈরি হয়ে গেছে।

    .

    ওঁরা ডাইনিং রুমে বসে আছেন। কফিটা ধীরে ধীরে ঠাণ্ডা হচ্ছে। ডায়ানা নীরবতা ভেঙে বললেন- আপনার কি মনে হচ্ছে আর কেউ এই ঘটনার অন্তরালে থাকতে পারে?

    না, কেলি বললেন, আমাদের মধ্যে একটিমাত্র সাদৃশ্য আছে, আমাদের দুজনের স্বামী কিংসলে গ্রুপে চাকরি করতেন। তারা হয়তো কোনো একটা গোপন প্রকল্পের সঙ্গে জড়িত হয়েছিলেন। যে ভাবেই তাদের মৃত্যু হয়ে থাকুক না কেন, আততায়ী ভাবছে ওনারা আমাদের কাছে সেই কথা বলেছেন।

    ডায়ানা বললেন- হ্যাঁ, আপনি ঠিকই বলেছেন।

    তখন দুজনের চোখে এক অসহায়তার আকুতি ফুটে উঠেছে।

    .

    অফিসে বসে ট্যানার ডায়ানার অ্যাপার্টমেন্টের ছবি দেখছিলেন। একদিকের বিরাট টেলিভিশন সেটে, প্রধান সিকিউরিটি গার্ড পাশেই দাঁড়িয়ে আছেন।

    –আমাদের মধ্যে একটি মাত্র সংকল্প, আমাদের দুজনের স্বামীই কে আই জি-তে চাকরি করতেন। কথাগুলো মন দিয়ে শুনলেন ট্যানার। ভাবলেন, এবার কী করবেন?

    .

    স্টিভেন্সের অ্যাপার্টমেন্টটিকে যুক্ত করা হয়েছে টেলিভিশন চ্যানেলের সঙ্গে। ট্যানার এ ব্যাপারে খুবই ওয়াকিবহাল। আধুনিক বিজ্ঞানকে ব্যবহার করা হয়েছে। ক্যামেরা চলে গেছে দূরে। ছোট্ট ক্যামেরা, বইয়ের মধ্যে ঢুকিয়ে দেওয়া যায়।

    ফাইবার অপটিকের যন্ত্রপাতি। ভিডিও সার্ভার। ল্যাবটপ কম্পিউটারের মতো আকারের। এর সাহায্যে সব ঘটনা চোখের সামনে স্পষ্ট দেখতে পাওয়া যায়।

    .

    ট্যানার ঝুঁকে পড়লেন, কী ঘটনা ঘটছে তাকে দেখতে হবে। কথাগুলো শুনতে হবে। ডায়ানা বলছেন– ভাবতে হবে, আরও ভালো করে ভাবতে হবে। আমাদের স্বামীরা কোন্ কাজে যুক্ত হয়েছিলেন।

    –কিন্তু কারও সাহায্য দরকার, কে আমাদের সাহায্য করবেন? এবং কেনই বা করবেন?

    –আমরা ট্যানার কিংসলের সঙ্গে দেখা করব। মনে হয় উনি ইচ্ছে করলে আমাদের সাহায্য করতে পারেন। উনি এ ব্যাপারে খুবই চিন্তিত।

    দেখা যাক্।

    .

    ডায়ানা বললেন– আপনি সারারাত এখানে থাকতে পারেন। এখানেই আমরা নিরাপদে থাকব। বাইরে পুলিশের গাড়ি দাঁড়িয়ে আছে। উনি জানালার দিকে এগিয়ে এলেন এবং দেখলেন, কোনো গাড়ি নেই।

    ডায়ানা অনেকক্ষণ তাকালেন। তার মেরুদণ্ডে ঠাণ্ডা শিহরণ। ব্যাপারটা আশ্চর্য। এখানে তো একটা পেট্রল গাড়ি আসার কথা ছিল। একটা ফোন করতে হবে। ডায়ানা ডিটেকটিভ গ্রিনবার্ডের কার্ডটা পার্স থেকে বের করলেন। টেলিফোনের কাছে চলে গেলেন। একটা ফোন করলেন।

    –ডিটেকটিভ গ্রিনবার্ডকে একবার দেবেন তো?

    –আপনি কি ঠিক বলছেন?

    –আমি ডিটেকটিভ রবার্টের সঙ্গে কথা বলতে পারি? আচ্ছা ধন্যবাদ।

    ডায়ানা রিসিভারটা নামিয়ে দিলেন। কেলি ডায়ানার দিকে তাকালেন– কী হয়েছে?

    ডায়ানা বললেন দুজনকেই অন্য জায়গাতে বদলি করা হয়েছে।

    কেলি চিৎকার করে বললেন- এটাও একটা পূর্ব পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র। তাই না?

    ডায়ানা বললেন– হা, তাই মনে হচ্ছে।

    কী?

    –ডিটেকটিভ গ্রিনবার্ড আমাকে বলেছিলেন, রিচার্ডের চরিত্র বা আচরণে কোনো পরিবর্তন এসেছিল কিনা? একটা ব্যাপার আমি বলতে ভুলে গিয়েছিলাম, রিচার্ড ওয়াশিংটনে গিয়েছিল কারও সঙ্গে দেখা করবে বলে। কোনো কোনো সময় আমি রিচার্ডের সঙ্গে বেরোতাম, কিন্তু এই সময় সে নিজেই যেতে চেয়েছিল।

    কেলির মুখেও একটা অদ্ভুত অভিব্যক্তি। কেলি বললেন– ব্যাপারটা অদ্ভুত। মার্ক বলেছিল, তাকে ওয়াশিংটন যেতে হবে। সে একাই যাবে।

    -কেন, সেই রহস্যটা আমাদের জানতে হবে।

    কেলি জানালার দিকে হেঁটে গেলেন। তারপর পর্দা সরিয়ে দিলেন।

    -হ্যাঁ, এখনও কোনো গাড়ি আসেনি। উনি ডায়ানার দিকে ফিরে বললেন, চলুন আমরা এখান থেকে বেরিয়ে যাই।

    ডায়ানা বললেন– ঠিকই বলেছেন, আমি একটা হোটেলের নাম জানি, তার নাম মান্ডারিন। সেখানে হয়তো কেউ আমাদের খোঁজ করতে যাবে না। আমরা সেখান থেকে মিঃ কিংসলের সঙ্গে যোগাযোগ করব।

    ট্যানার তার চিফ সিকিউরিটি অফিসারের দিকে তাকালেন। তারপর বললেন, মুখে আধটুকরো হাসি- এখনই যাও, মেয়ে দুটোকে জবাই করে এসো।

    .

    ২৩.

    হ্যারি ক্লিন্ট, মেয়েদের ব্যাপারে খুবই ওয়াকিবহাল। কেলি তাকে শিক্ষা দিয়েছে। ক্লিন্ট কোনো কাজে কখনও বিফল হয় না।

    ফ্লিন্ট কীভাবে ট্যানারের জীবনে এসেছে? কয়েক বছর আগে ভাই অ্যানড্রু একটা নতুন প্রকল্প শুরু করেছিলেন। যে সমস্ত বন্দীরা কয়েদখানা থেকে সম্প্রতি ছাড়া পেয়েছিল, তাদের জন্য একটা বাসস্থান। তাদের আবার সাধারণ জীবনযাত্রায় ফিরিয়ে আনতে হবে। তাদের জন্য চাকরির ব্যবস্থা করতে হবে।

    ট্যানার এই প্রকল্পের কথা শুনে অবাক হয়ে গিয়েছিলেন। কারণ তিনি জানতেন যে, এইসব বন্দীরা সাংঘাতিক। বিভিন্ন ব্যক্তিগত উৎসের মাধ্যমে তিনি সম্প্রতি ছাড়া পাওয়া বন্দীদের প্রাক্তন জীবন সম্পর্কে অনেক কথা জানতে পেরেছিলেন। ট্যানারের মনে হয়েছিল, কোনো কোনো খতরনক লোক হয়তো তাকে সাহায্য করতে পারে। মাঝে মধ্যেই তিনি তাই ওই বাড়িটার সামনে যোরাঘুরি করতেন।

    ভিনসে কারবালো নামে এক আততায়ীর সঙ্গে তার দেখা হয়েছিল। তাকে কে আই জি-তে নিয়ে এসেছিলেন। লোকটার চেহারা বিরাট। মুখে দাড়ি আছে। নীল চোখ, আগুনের মতো জ্বলছে। দীর্ঘ দিন ধরে জেল খেটেছে। তাকে হত্যার অপরাধে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছিল। সাক্ষীরা তার বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিয়েছিল। কিন্তু জুরিদের একজন কোনরকমভাবে তাকে মুক্তি দেন। এর অন্তরালে একটা ঘটনা ছিল। ওই জুরিসাহেবের ছোট্ট মেয়েকে অপহরণ করা হয়। তারপর একটা অচেনা নম্বর থেকে ফোন আসে। বলা হয়, জুরিসাহেব, অন্য রকম আচরণ করলে এই মেয়েটিকে আর খুঁজে পাবেন না।

    কারবালোকে ট্যানার কিংসলে সত্যি শ্রদ্ধা করেন।

    .

    ট্যানার আর একজন অপরাধীর কথা জানতে পেরেছিলেন। তার নাম হ্যারি ক্লিন্ট। ফ্লিন্টের প্রাক্তন জীবন সম্পর্কে ট্যানার গুরুত্বপূর্ণ খবর সংগ্রহ করলেন। ট্যানার যে ধরনের নির্মম মানুষের সন্ধান করছেন, ফ্লিন্ট সেখানে খাপ খেতে পারে।

    হ্যারি ফ্লিন্টের জন্ম হয়েছিল ডেট্রায়েটে। একটা মধ্যবিত্ত পরিবারে। তার বাবা ছিলেন সেলসম্যান। তিনি বেশির ভাগ সময় বাড়িতে বসে বসে গজগজ করতেন। তাকে আমরা এক বিমর্ষবাদী মানুষ বলতে পারি। ছেলেকেও মারতেন, রুলার কিংবা বেল্টের সাহায্যে। অথবা হাতের কাছে যা পাওয়া যেত। এইভাবেই তিনি তার নিজের সাম্রাজ্য স্থাপনের চেষ্টা করেছিলেন।

    ছেলেটির মা একটা সেলুনে চাকরি করতেন। হ্যারির বাবা যখন অত্যন্ত রেগে যেতেন, মা এসে বোঝাবার চেষ্টা করতেন। এই দৃশ্য দেখতে দেখতে হ্যারি বড়ো হয়ে ওঠে। দুটি ঘটনার ভেতর সংযোগ স্থাপনের চেষ্টা করে।

    ডাক্তাররা হ্যারির মাকে বলেছিল, তিনি খুব বৃদ্ধ হয়ে গেছেন। সন্তানের জন্ম দিতে পারবেন না। তাই হ্যারির মার কাছে এই সন্তান ঈশ্বরের আশীবাদ। হ্যারির জন্মের পর তিনি হ্যারিকে আগলে রাখার চেষ্টা করেছিলেন। সবসময় তাকে আদর করতেন, ভালোবাসতেন, চুমু দিতেন। হ্যারি মাকে অত্যন্ত ভালোবেসে ফেলেছিল।

    বয়স বাড়ল, হ্যারি অন্য রকম হয়ে গেল।

    .

    হ্যারির বয়স তখন চোদ্দো বছর, সে পৃথিবীটাকে নতুন চোখে দেখতে শিখেছে। সব ব্যাপারটা অতি সহজে বুঝতে পারত। তার মধ্যে একটা নির্মমতা জেগেছে। সে সর্বশক্তিমান হতে চেয়েছিল। কখনোই কারও পায়ে পড়বে না। চারপাশের মানুষদের ওপর তার প্রতিপত্তি স্থাপন করবে। ভগবানের দেওয়া শক্তি আর সাহসকে পাথেয় করে সামনের দিকে এগিয়ে গেল।

    অদ্ভুত সব ঘটনা ঘটতে থাকল। প্রতিবেশীদের পোষা জন্তুদের মৃত্যু হল। ফাঁদ পাতা হল। পুলিশ একটা স্কটিশ টেরিয়ারকে লনের সামনে ছেড়ে দিল। দূর থেকে তাকিয়ে থাকল তার দিকে। একরাতে পুলিশ দেখল, হ্যারি ওই জন্তুটার দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। সে কুকুরটার মুখ খুলে তার ভেতর আতসবাজি পুরে দিল। পুলিশ এগিয়ে এল, হ্যারি ক্লিন্ট যখন আতসবাজিতে আগুন জ্বালাতে যাবে, তখনই পুলিশ এসে গিয়েছিল। তার পকেট থেকে পাঁচ ইঞ্চি ছুরি আবিষ্কৃত হয়েছিল।

    তাকে চ্যালেঞ্জার মেমোরিয়াল ইয়ুথ সেন্টারে পাঠানো হল। এটা এক ধরনের সংশোধনাগার, সেখানে হ্যারি বারোমাস থাকতে বাধ্য হয়েছিল।

    এক সপ্তাহে ফ্লিন্ট এল, সে অন্য ছেলেদের জোটাল। একটা দল গড়ে তুলল। বোঝ গেল, তার মধ্যে এক ধরনের মানসিক বিকোলন আছে।

    ডাক্তার বলেছিলেন, এ মনের রোগী। এর সম্পর্কে আরও সতর্ক থাকতে হবে।

    হ্যারি ফ্লিন্টের বয়স বেড়ে চলল। তার বয়স এখন পনেরো। তাকে ছেড়ে দেওয়া হল। সে স্কুলে ফিরে এল। ক্লাসের বন্ধুরা তার দিকে তাকাচ্ছে, ইতিমধ্যেই ফ্লিন্ট তাদের চোখে একজন হিরো। তারা ছোটোখাটো চুরিচামারি করতে শুরু করল। চট করে টাকার ব্যাগ তুলে নেওয়া, ওয়ালেট তুলে ফেলা, দোকান থেকে মাল সরানো। কিছু দিনের মধ্যেই ফ্লিন্ট তাদের নেতা হয়ে দাঁড়াল।

    একরাতে ফ্লিন্টের মুখে কে যেন ছুরি মেরে দিল। তার মুখে সব সময় আধা হাসি লেগে থাকে তখন থেকেই।

    ছেলেগুলো বুড়িয়ে গেল। তখন তারা গাড়ি চুরি করছে, সিঁধ কাটছে, ডাকাতিতে জড়িয়ে পড়ছে। একটা ডাকাতি সকলকে চমকৃত করে দেয়। দোকানদারকে মেরে ফেলা হয়। হ্যারির বিরুদ্ধে অভিযোগ করা হল। সে নাকি সশস্ত্র, ডাকাতিতে অংশ নিয়েছে। খুন করেছে, তাকে দশ বছরের জন্য জেলে পাঠানো হল। ওয়াড্রেন তার মতো খতরনক বন্দী এর আগে কখনও দেখেননি।

    এইবার হ্যারির চোখে জ্বলে উঠল প্রতিহিংসা। অন্য বন্দীরাও তার সাথে মিশতে সাহস পেত না। সে সকলের ওপর অত্যাচার করত। কেউ কর্তৃপক্ষের কাছে রিপোর্ট করতে সাহস পেত না।

    একদিন একজন গার্ড হ্যারি ফ্লিন্টের সেলের পাশ দিয়ে হেঁটে যাচ্ছিল। সে অবিশ্বাস্য চোখে দেখল, ফ্লিন্টের সেলমেট মাটিতে পড়ে আছে, রক্তের সাগরে ভাসছে। তাকে মেরে ফেলা হয়েছে।

    গার্ড ফ্লিন্টের দিকে তাকাল। ফ্লিন্টের মুখে আনন্দের হাসি- ঠিক আছে, কুকুরের বাচ্চা, তুমি এক্ষুনি এখান থেকে চলে যাও।

    ফ্লিন্ট লোকটার দিকে তাকাল, তার বাঁ হাতটা তুলল, কী আশ্চর্য, গোরু কাটা একটা ছুরি তার বাঁ হাতে আছে।

    ফ্লিন্ট বলল- এটা আমি রেখেছি, নিজেকে রক্ষা করার জন্য।

    এরপর কী হয়? ফ্লিন্ট নাকি তার সেলমেটকে জবাই করেছে। তারপর, হাতটা কেটে কুচি কুচি করে দিয়েছে।

    .

    ট্যানার ফ্লিন্টের এই ব্যাপারটাই ভালোবাসেন। খুন করার মধ্যে একটা আলাদা আনন্দ আছে। ফ্লিন্ট সেটা বুঝতে পেরেছে।

    তাই ফ্লিন্টকেই ট্যানার নির্বাচন করলেন তার ব্যক্তিগত অঙ্গরক্ষক হিসেবে। মাঝে মধ্যে ফ্লিন্টকে অন্য কাজেও লাগানো যেতে পারে।

    .

    চ্যালেঞ্জারকে ঠিক করতে হবে, আমরা জাপান যাব। আমরা দুজন।

    খবরটা এসেছে খারাপ সময়ে। কিন্তু সমাধান করতেই হবে। ট্যানার আকিরা ইসোর জন্য একটা অধিবেশনের ব্যবস্থা করেছেন। টোকিওতে, ওপুরা হোটেলে।

    প্লেনটা তখন প্রশান্ত মহাসাগরের ওপর দিয়ে উড়ে চলেছে। ট্যানার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা চিন্তা করছেন। প্লেনটা ল্যান্ড করল। তিনি বাইরে বেরিয়ে এলেন।

    নারিটা এয়ারপোর্ট থেকে নির্দিষ্ট জায়গায় পৌঁছোতে একঘণ্টা সময় লেগেছে। ট্যানার অবাক হয়ে গেছেন। টোকিওকে দেখলে ভারী ভালো লাগে। আনন্দের সময়, হতাশার সময়, এই শহর বোধহয় উত্তেজনার আগুনে উদ্দীপ্ত হয়ে ওঠে।

    .

    আকিরা ইসো চেয়ারে বসেছিলেন, একটা রেস্টুরেন্টে। বছর পঞ্চাশ বয়স। চেহারাটা ভালো। ধূসর চুল। উজ্জ্বল বাদামী চোখ। তিনি উঠে দাঁড়িয়ে ট্যানারকে অভিবাদন জানালেন আপনার সঙ্গে দেখা হতে পেরে আমার খুব ভালো লাগছে মিঃ কিংসলে। সত্যি কথা বলতে কি, আপনার প্রস্তাবটা পেয়ে আমি খুবই অবাক হয়ে গিয়েছি। আমি ভাবতেই পারছি না যে আপনি কেন এত দূরে এসে আমার সঙ্গে কথা বলতে চাইছেন?

    ট্যানারের মুখে হাসি আমি ভালো খবর নিজেই বহন করতে ভালোবাসি। টেলিফোনে কী এত গুরুত্বপূর্ণ কথা বলা যায়। আমার মনে হচ্ছে, আপনি আমাকে খুশি করতে পারবেন। আপনি কিছুদিনের মধ্যেই অন্যতম ধনী ব্যক্তিতে পরিণত হবেন।

    আকিরা ইসো ট্যানারের দিকে তাকিয়ে বললেন- আপনি ঠিক বলছেন?

    সাদা জ্যাকেট পরা ওয়েটার চলে এসেছে।

    কথা বলার আগে আমরা কিছু অর্ডার দিই?

    –আপনি যা চাইছেন মিঃ কিংসলে, আপনি কি জাপানি ডিশ খাবেন, নাকি আমি সেটা বলে দেব?

    ধন্যবাদ, আমি অর্ডার দিচ্ছি, আপনি কি সুসি খেতে ভালোবাসেন?

    –হ্যাঁ।

    ট্যানার ওয়েটারের দিকে তাকালেন জাপানি খাবারের জন্য বললেন।

    আকিরা হাসলেন– বাঃ, আপনি দেখছি আমাদের সম্পর্কে অনেক খবর রাখেন।

    খেতে খেতে কথা হচ্ছে। ট্যানার জিজ্ঞাসা করলেন আপনি একটা খুব ভালো কোম্পানিতে কাজ করছেন, টোকিও ফাস্ট ইনডাসট্রিয়াল, তাই তো?

    হ্যাঁ।

    –এখানে কতদিন আছেন?

    দশ বছর।

    –অনেক দিন, তিনি আকিরা ইসোর দিকে তাকালেন। তারপর বললেন, এবার একটা পরিবর্তনের কথা ভাবলে কেমন হয়?

    মিঃ কিংসলে, আমি কখনও তা ভেবে দেখিনি।

    আমি আপনাকে এমন একটা প্রস্তাব দেব, যা আপনি প্রত্যাখান করতে পারবেন না। আমি জানি না, আপনি কত টাকা আয় করেন, কিন্তু আমি আপনাকে এত টাকা দেব, যা আপনি স্বপ্নেও উপার্জন করতে পারবেন না।

    মিঃ কিংসলে, আমি কিন্তু আপনার কোম্পানির হয়ে কাজ করতে পারব না।

    –কেন? আমি একটা শর্ত চুক্তিতে সই করাব আপনাকে।

    আকিরা ইসো তাঁর চপস্টিক নামিয়ে রাখলেন- মিঃ কিংসলে, জাপানে কেউ যদি কোনো কোম্পানিতে কাজ করে, সেটা একটা পরিবারের মতো হয়ে যায়। এটা একটা বিশ্বাসের ব্যাপার, আমি তা ভাঙতে পারব না।

    –কিন্তু আমি আপনাকে অনেক টাকা দেব।

    না।

    –কেন?

    আমরা আমাদের কর্তব্য এবং আনুগত্যকে সবার আগে রাখি। তারপর আকিরা বললেন, আপনি আমাকেই নির্বাচন করলেন কেন?

    –আমি আপনার সম্পর্কে অনেক কথা শুনেছি।

    আমার খারাপ লাগছে মিঃ কিংসলে, শুধু-শুধু এতটা পথ উড়ে এলেন আপনি। আমি কখনোই টোকিও-ফার্স্ট ইনডাসট্রিয়ালের চাকরি ছাড়ব না।

    -আমি কি আরও একবার চেষ্টা করব নাকি?

    –না, এ ব্যাপারে আমার সিদ্ধান্ত সঠিক।

    ট্যানার ঝুঁকে পড়লেন এবং হাসলেন- ঠিক আছে, আমার কর্মচারীরা যদি আপনার মতো আনুগত্য দেখাত। অন্য কোনো কথা তার মনে পড়ে গেল। তিনি বললেন, আমি আপনার এবং আপনার পরিবারের জন্য একটা ছোট্ট উপহার এনেছি। আমার এক সহকারী এটা আপনার কাছে নিয়ে আসবে। সে হোটেলে এক ঘন্টার মধ্যে আসছে। তার নাম হ্যারি ফ্লিন্ট!

    সেই রাতে পরিচারিকা দেখল, আকিরা ইসোর শরীরটা ওয়াড্রোবের বুকে ঝুলছে। বলা হল, তিনি নাকি আত্মহত্যা করেছেন।

    .

    ২৪.

    মান্ডারিন হোটেলটা দোতলা বাড়িতে অবস্থিত। ম্যানহাট্টানের চায়না টাউনের মধ্যে। মড স্ট্রিট থেকে তিনটি ব্লক দূরে।

    কেলি এবং ডায়ানা ট্যাক্সি থেকে বেরিয়ে এলেন। ডায়ানা দেখলেন, মস্ত বড়ো একটা সাইনবোর্ড। সেখানে কেলির ছবি আছে। কেলি সুন্দর সান্ধ্য পোশাকে সজ্জিতা। তার হাতে একটা পারফিউমের বোতল।

    ডায়ানা অবাক হয়ে বললেন- এই তো আপনার ছবি।

    কেলি বললেন না, এটা আমার পেশা মিসেস স্টিভেন্স। আমি কে, সেটা কিন্তু এই ছবিতে ফুটে ওঠেনি।

    তিনি লবির দিকে হেঁটে গেলেন। অবাক ডায়ানা তাকে অনুসরণ করতে থাকলেন।

    এক চাইনিজ ভদ্রলোক ডেস্কে বসেছিলেন। ছোট্ট হোটেল লবি। তিনি মন দিয়ে চায়নাপোস্ট পত্রিকাটা পড়ছেন।

    ডায়ানা বললেন আজ রাতে একটা ঘর পাওয়া যাবে কি?

    ভদ্রলোক তাকালেন। সুন্দর পোশাক পরা দুজন। তিনি অবাক হলেন, উঠে দাঁড়ালেন। বললেন- অবশ্যই পাওয়া যাবে। কিন্তু একশো ডলার খরচ পড়বে।

    কেলি অবাক একশো ডলার?

    ডায়ানা বললেন ঠিক আছে। দিয়ে দিচ্ছি।

    ডায়ানা পার্স খুলে একশো ডলার লোকটির হাতে তুলে দিলেন।

    লোকটি ডায়ানার হাতে চাবি তুলে দিয়ে বললেন– দশ নম্বর ঘর। হল দিয়ে সোজা হেঁটে যান, বাঁদিকে পাবেন, লাগেজ কোথায়?

    লাগেজ আসবে। ডায়ানা বললেন।

    –কোনো কিছুর দরকার হলে লিঙ্ককে ডাকবেন।

    কেলি জানতে চাইলেন- লিঙ্ক কে?

    –ও হল আপনাদের কাজের মেয়ে।

    কেলি সন্দেহের চোখে তাকিয়ে বললেন- ঠিক আছে।

    দুজনে হেঁটে চলেছেন স্বল্প আলোকিত হলঘরের মধ্যে দিয়ে।

    কেলি বললেন– অনেক খরচ হয়ে গেল, তাই তো?

    শেষ পর্যন্ত আমরা মাথার ওপর একটা ছাদ পেয়েছি।

    কেলি আবার জানতে চাইলেন- এখানে থাকাটা কী নিরাপদ নয়।

    এর থেকে ভালো আর কী পাওয়া যাবে। ডায়ানার কণ্ঠে আশ্বাসবাণী, হায়, কবে মিঃ কিংসলে আমাদের দায়িত্ব নেবেন।

    তাঁরা দশ নম্বর ঘরে পৌঁছে গেলেন। ডায়ানা তালা খুললেন। তারা ভেতরে ঢুকলেন। ছোট্ট ঘর। মনে হচ্ছে, এই ঘরে অনেক দিন কোনো খদ্দের আসেনি। দুটো পাতলা শয্যা পাশাপাশি রাখা আছে। নোংরা বেডকভার। ভাঙা দুটো চেয়ার।

    কেলি তাকালেন ছোটো কিন্তু খুবই নোংরা। বোধহয় অনেক দিন ধরে এটা পরিষ্কার করা হয় না। কেলি একটা কুশনে হাত দিলেন। ধুলো বেরিয়ে এল।

    লিঙ্ক বোধহয় চলে গেছে।

    ডায়ানা আবার বললেন– আমি বলছি তো, শুধু আজকের রাতটুকু, কিংসলেকে এখনই ফোন করব।

    কেলি দেখলেন, ডায়ানা টেলিফোনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছেন। ট্যানার কিংসলের নাম্বার দেওয়া ছিল। ডায়ানা ফোন করলেন।

    সঙ্গে সঙ্গে কিংসলের গলা শোনা গেল।

    ডায়ানার আচরণে আবার হারানো আশা ফিরে এসেছে– মিঃ কিংসলে, আমি ডায়ানা স্টিভেন্স বলছি। আপনাকে বিরক্ত করার জন্য খারাপ লাগছে। আমি এবং কেলি হ্যারিস আপনার সাহায্য চাইছি। কেউ একজন আমাদের হত্যা করতে চাইছে। আমরা কী করব বুঝতে পারছি না। পালিয়ে যেতে হচ্ছে।

    আপনার ফোন পেয়ে খুবই ভালো লাগছে। মিসেস স্টিভেন্স আপনি আরাম করুন। দেখি এর অন্তরালে কে আছে? আর কোনো সমস্যা হবে না। এখন থেকে আপনার এবং মিসেস হ্যারিসের দায়িত্ব আমার ওপর।

    ডায়ানা চোখ বন্ধ করলেন, হায় ঈশ্বর।

    -কে এটা করছে বলুন তো?

    -আমি এখনও জানি না। যেখানে আছেন ওখানেই থাকুন। তিরিশ মিনিটের মধ্যে একজন গিয়ে আপনাদের নিয়ে আসবে।

    -ঠিক আছে। কানেকশনটা কেটে গেল। ডায়ানা রিসিভারটা নামিয়ে রাখলেন। কেলির দিকে তাকালেন, ভালো খবর। আমাদের সমস্যা সমাধান হতে চলেছে।

    উনি কী বললেন?

    –উনি জানেন, এর অন্তরালে কে আছে। উনি বলেছেন, এখন থেকে আমাদের আর কোনো সমস্যা হবে না।

    কেলি দীর্ঘশ্বাস ফেললেন– আমি কি এখন প্যারিস ফিরে যাব? জীবন শুরু করব আবার নতুন করে?

    -উনি একজনকে পাঠাচ্ছেন, আধ ঘন্টার মধ্যে। কেলি আবার চারদিকে তাকালেন- হ্যাঁ, এখানে থাকা সম্ভব নয়। ডায়ানা বললেন- ঘটনাটা খুব অবাক লাগছে।

    -কোন ঘটনা?

    রিচার্ড ছাড়া আমি আবার জীবনে ফিরে যাচ্ছি। আগে এটা বুঝতেই পারিনি।

    –এভাবেই জীবন এগিয়ে চলে, কেলি বললেন।

    ডায়ানা কেলির মুখের দিকে তাকালেন, সেখানে কোনো অভিব্যক্তি নেই। কী আশ্চর্য, এই ভদ্রমহিলা বোধহয় এমন এক পেশার সঙ্গে যুক্ত যেখানে সৌন্দর্য আছে অথচ জীবনের উন্মাদনা নেই।

    কেলি বিছানাতে বসলেন, ডায়ানার দিকে পিঠ। তিনি চোখ বন্ধ করলেন, হ্যাঁ, একটা অদ্ভুত যন্ত্রণা তার সমস্ত শরীরে ছেয়ে যাচ্ছে।

    .

    তিনি হাঁটছেন মার্কের পাশে, লেফটম্যান। নানা বিষয় নিয়ে গল্প হচ্ছে। কেলির মনে হচ্ছে, এর আগে কখনও এত সুন্দর সন্ধ্যা তার জীবনে আসেনি।

    উনি মার্ককে বললেন- কাল সন্ধ্যেবেলা একটা গ্যালারির শুভ উদ্ধোধন অনুষ্ঠান। তুমি কি আসবে?

    কেলি আমি দুঃখিত। কালকে আমি ব্যস্ত থাকব।

    কেলির হঠাৎ মনে হল, হিংসার আবরণ জন্মেছে তার মনের মধ্যে। তিনি প্রশ্ন করলেন অন্য কারও সঙ্গে?

    –না-না, আমি একাই যাব। একটা ব্যাঙ্কোয়েটে যেতে হবে।

    মার্ক কেলির মুখের দিকে তাকালেন।

    -হা, বিজ্ঞানীদের জন্য একটা ডিনার। তোমার খারাপ লাগবে।

    –আমি কি যাব না?

    –আমার ভয় লাগছে, এমন কিছু কথা হবে, তা তুমি কখনও শোনোনি।

    আমি তা শুনতে চাইছি। তুমি আমাকে একবার নিয়ে চলো না।

    –না, আমার মনে হচ্ছে ব্যাপারটা ঠিক হবে না।

    –আমি যেতে পারব না?

    মার্কের দীর্ঘশ্বাস– না, এসব শব্দ শুনে তুমি কী করবে?

    –ঠিক আছে, এই শব্দগুলোর মানে আমি হয়তো বুঝতে পারব না।

    –তোমার ভালো লাগবে না।

    এখন সব কথাই নতুন করে মনে পড়ে গেল কেলির।

    .

    ব্যাঙ্কোয়েটটা হয়েছিল হোটেল প্রিন্স ডগলে। এটা ছিল একটা খুব বড়ো খবর। তিনশো জন মানুষ বলরুমে এসেছিলেন। তাদের মধ্যে ফরাসি দেশের অনেক বিখ্যাত ব্যক্তিরা ছিলেন। কেলি এবং মার্ক পাশাপাশি বসেছিলেন। একজন ভদ্রলোকের সঙ্গে পরিচয় হল। সুপুরুষ এবং আভিজাত্যে ভরা আচরণ।

    তিনি কেলিকে বললেন- আমি স্যাম মিরোজ। আপনার সম্পর্কে অনেক কথা শুনেছি।

    -আমিও শুনেছি, মার্ক বলেছে আপনি নাকি মার্কের গুরু এবং সেরা বন্ধু। মিরোজ হাসলেন হ্যাঁ, মার্কের বন্ধুত্ব অর্জন করাটা সহজ নয়। মার্ককে আমি একজন বিশেষ মানুষ বলেই মনে করি। আমরা দীর্ঘদিন পাশাপাশি বসে কাজ করেছি।

    মার্ক শুনছেন, একটু বিব্রত হয়েছেন– তুমি কি একটু ওয়াইন নেবে?

    সঙ্গে সঙ্গে ওখানে আর এক বিখ্যাত ভদ্রলোক এসে গেছেন। তিনি হলেন এই অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি। মার্ক তার দিকে তাকিয়ে আছেন, কেলির কি ব্যাপারগুলো ভালো লাগছে? নানা ধরনের পুরস্কার বিতরণ করা হবে। বক্তারা বিভিন্ন বিষয়ে কথা বলছেন। অন্য ভাষাতে। কেলি বুঝতে পারছেন, কথাগুলো মার্কের মনে একটা আশার সৃষ্টি করছে।

    ডিনারের প্লেট সাজিয়ে দেওয়া হল। ফরাসি অ্যাকাডেমি অফ সায়েন্স-এর প্রেসিডেন্ট স্টেজে এসে গেছেন। তিনি বৈজ্ঞানিক আবিষ্কারের কথা ঘোষণা করলেন। অনেক বছর ধরে ফরাসি দেশ এই ব্যাপারে সবার আগে এগিয়ে গেছে। তার ভাষণ শেষ হতেই চাইছে না। তাঁর হাতে একটা সোনার স্মারক। তিনি মার্ক হ্যারিসের নাম ধরে ডাকলেন। কেলি বুঝতে পারলেন যে, মার্ক হলেন আজকের আসরের মধ্যমণি। হয়তো এই কথাটা মার্ক তাকে বলতে লজ্জা পেয়েছিলেন। এভাবেই মার্ক কেলিকে সবসময় চমকে দিতে চান। কেলি দেখলেন, মার্ক ধীরে ধীরে উঠে গেছেন এবং সমস্ত দর্শক তাঁকে হাততালি দিয়ে স্বাগত সম্ভাষণ জানাচ্ছেন।

    কেলি স্যাম মিরোজকে বললেন– কী আশ্চর্য, ও তো এ কথাটা আমাকে বলেনি। মিরোজের মুখে হাসি– এই হল মার্কের চরিত্র। আপনি কী জানেন, মার্ক আপনাকে কতখানি ভালোবাসে? ও আপনাকে বিয়ে করতে চায়। আমার মনে হয়, এই ব্যাপারে আপনার সন্মতি থাকবে।

    কেলি শুনছিলেন, হঠাৎ তার মনের মধ্যে একটা অপরাধবোধের জন্ম হল। আমি মার্ককে কী করে বিয়ে করব। সে আমার ভালো বন্ধু। কিন্তু আমি তাকে ভালোবাসি না। আমি কী মিথ্যে ভালোবাসার অভিনয় করব। তাকে আমি মনে দুঃখ দেব না। একজন মেয়ের কাছ থেকে পুরুষ যা চায়, আমি তা মার্ককে দিতে পারব না। আমি কী করে বলব…

    –আপনি কি আমার কোনো কথাই শুনছেন না?

    ডায়ানার রাগী কণ্ঠস্বর শোনা গেল। কেলি আবার বাস্তবে ফিরে এলেন। সে সুন্দর বলরুমটা চোখের সামনে থেকে অদৃশ্য হয়ে গেল। হ্যাঁ, এখন উনি বসে আছেন সাতসেঁতে একটা নোংরা হোটেল ঘরে এমন এক মহিলার সামনে, যার সঙ্গে দেখা হওয়ার কথা তিনি চিন্তা করতেই পারেননি।

    উনি বললেন–কী হয়েছে? কিংসলে বলেছেন, কেউ একজন আমাদের নিতে আসবেন।

    -হ্যাঁ, তাতে কী?

    উনি কিন্তু জানতে চাননি আমরা কোথায় আছি?

    –উনি নিশ্চয়ই তোমার অ্যাপার্টমেন্টের কথা ভাবছেন।

    –না, আমরা বাইরে আছি, একথা বলেছি।

    এক মুহূর্তের নীরবতা, কেলির দুটো ঠোঁট শুকিয়ে গেছে। তার মানে? তারা ঘড়ির দিকে তাকালেন। ঘড়িটা বেডসাইড টেবিলের ওপর ছিল।

    .

    চিনা ভদ্রলোক ফ্লিন্টের দিকে তাকিয়ে আছে।–মান্ডারিন হোটেল, কী হয়েছে?

    ফ্লিন্টের মুখে হাসি আমার স্ত্রী আর তার বান্ধবী এই মাত্র এখানে এসেছে। আমার স্ত্রীর চুলের রং সোনালি, তার বান্ধবীর চুলের রং কালো। কোন ঘরে তারা আছে?

    দশ নম্বর ঘর। কিন্তু আপনাকে তত ফোন করতে হবে।

    ভদ্রলোক ফোনটা তুলে নিল। ফ্লিন্ট একটা পয়েন্ট-৪৫ ক্যালিবারের অটোমেটিক পিস্তল পকেট থেকে বের করেছে। সাইলেনসার লাগানো। ফ্লিন্ট সেটা নিয়ে সামনের দিকে এগিয়ে গেল। তারপর, লোকটা আর কোনো কথা বলতে পারল না। সে পিছিয়ে গেল। ঘরটা ফাঁকা, বাথরুমের দরজা বন্ধ। ফ্লিন্ট শুনতে পাচ্ছে, শাওয়ারের শব্দ। সে বাথরুমের দরজা ভেঙে ঢুকে পড়ল। শাওয়ারটাকে খুলে রাখা হয়েছে। তারপর? পর্দা হাওয়াতে দুলছে। ফ্লিন্ট পর্দার ওপর চার-চারবার গুলিবর্ষণ করল। একটু অপেক্ষা করল। সেটা টেনে খুলে দিল। না, ভেতরে কেউ নেই!

    .

    কিছু দূরে ডায়ানা এবং কেলি অন্ধকারে দাঁড়িয়ে আছেন। দেখা গেল ফ্লিন্টের গাড়িটা হোটেলের দিকে এগিয়ে গেছে।

    কেলি চিৎকার করলেন- হায় ঈশ্বর, এই নোকটাই আমাকে অপহরণ করার চেষ্টা করেছিল।

    তারা অনেকক্ষণ অপেক্ষা করলেন। কিছুক্ষণ বাদে ফ্লিন্ট বেরিয়ে এল। তার মুখে হাসি। কিন্তু থমথমে একটা নীরবতা।

    কেলি ডায়ানার দিকে তাকালেন- এই হল গরজিলা, এবার আমরা কোথায় যাব?

    –এখান থেকে বেরোতে হবে।

    কী করে? তারা নিশ্চয়ই এয়ারপোর্টের ওপর নজর রাখবে। ট্রেন স্টেশন এবং বাসের ডিপো।

    ডায়ানা চিন্তা করে বললেন আমি এমন একটা জায়গা জানি, যেখানে কেউ নজর দিতে পারবে না।

    –চিন্তা করতে হবে। বোধহয় আপনি কোনো মহাকাশ যানের কথা ভাবছেন।

    .

    ২৫.

    পরের দিক সকালে সব খবরের কাগজে একই গল্প। জার্মান দেশে এমন একটা খরা হয়েছে যার ফলে অনেক মানুষের মৃত্যু ঘটেছে। অনেক ডলারের শস্যহানি হয়েছে।

    ট্যানার ক্যাথিকে ডেকে পাঠালেন এই প্রবন্ধটা সেনেটার ভ্যান রুবেনের কাছে পাঠিয়ে দাও। তার তলায় একটা নোট লিখে দাও- পরিবেশ দূষণের মারাত্মক ফলশ্রুতি।

    .

    উইলটান হোটেল ফর ওমেন, মাণ্ডারিন থেকে বেশি দূরে নয়। হয়তো হেঁটে গেলে পঁয়ত্রিশ মিনিট সময় লাগবে, এখানকার বাতাবরণ একেবারে আলাদা। ভারী সুন্দর আধুনিক সজ্জায় সাজানো পাঁচতলা বাড়ি।

    লবিতে কেলি এবং ডায়ানা অন্য নামে ঘর বুক করলেন। ডেস্কের আড়ালে যে ভদ্রমহিলা বসেছিলেন, তিনি কেলির হাতে একটা চাবি দিলেন, বললেন ৪২৪, লাগেজ আছে কি?

    না।

    –হ্যারিয়ে গেছে, ডায়ানা বললেন আমরা সকাল পর্যন্ত এখানে থাকব। একটু বাদে আমাদের স্বামীরা আসবেন। আপনি কি তাদের পাঠিয়ে দেবেন?

    ভদ্রমহিলার মুখে একটা অদ্ভুতভাব-না, আমি দুঃখিত, পুরুষদের এখানে ঢুকতে দেওয়া হয় না।

    ডায়ানা কেলির দিকে তাকিয়ে হাসলেন, ইঙ্গিতপূর্ণ হাসি।

    -যদি দেখা করতে হয়, তাহলে আপনাদের এই লবিতে আসতে হবে।

    –ঠিক আছে, আমি বারণ করে দিচ্ছি।

    .

    ৪২৪ নম্বর স্যুট, সুন্দর করে সাজানো। একটা ভারী চমৎকার লিভিং রুম আছে। কৌচ, চেয়ার, টেবিল, আলমারি সবকিছু। বেডরুমে ভারী সুন্দর ডবল বেড দেখা গেল।

    ডায়ানা তাকালেন এখানকার পরিবেশ সুন্দর। তাই নয় কি?

    কেলি চিন্তিত স্বরে বলে উঠলেন- আমাদের নাম বোধহয় গিনেস বইতে নথিভূক্ত হবে। প্রতি আধ ঘণ্টায় আমরা হোটেল পালটাচ্ছি।

    –আপনার কি অন্য কোনো পরিকল্পনা?

    -না, আমি কিছুই ভাবতে পারছি না। একটা চোর-পুলিশের খেলা। আমরা বোধহয় চোরের ভূমিকাতে অভিনয় করব। অথবা বেড়াল ইঁদুরের সেই চিরন্তন গল্পকথা।

    –ঠিকই বলেছেন, পৃথিবীর সবথেকে শক্তিশালী সংস্থা আমাদের হত্যা করতে চাইছে।

    –কিন্তু কেন?

    –এর অন্তরালে অনেক কথা আছে, আমার মনে হয় কে আই জি এই ব্যাপারটা ভালো। মতো জানে।

    –আমরা কী করে ওদের হারিয়ে দেব।

    কেলি জানতে চাইলেন, আমাদের কোনো অস্ত্র চাই। আপনি কি জানেন, কী করে বন্দুক চালাতে হয়?

    -না।

    –আমিও জানি না।

    –এতে কিছুই হবে না। অন্য কিছু ভাবতে হবে।

    ক্যারাটে?

    –না, আমি একসময় কলেজে ডিবেট করতাম। আমি কথা বলে ওদের মেরে ফেলব।

    –ঠিক বলছেন?

    ডায়ানা জানালার দিকে হেঁটে গেলেন। ৩৪নং স্ট্রিট দিয়ে ট্রাফিক চলেছে। হঠাৎ তাঁর চোখ বড়ো হয়ে উঠল- ওহ?

    কেলি পাশে গিয়ে দাঁড়িয়েছেন– কী হয়েছে? আপনি কী দেখেছেন?

    ডায়ানার কণ্ঠস্বর শুকনো–একজন লোক হেঁটে আসছে। তাকে দেখতে রিচার্ডের মতো। ঠিক আছে, আমি আসছি।

    ডায়ানা ভেতর দিকে চলে এলেন।

    কেলি বললেন– আপনি কী ভাবছেন, এখনও ভৌতিক আত্মা ঘুরে বেড়ায়?

    ডায়ানা তাকিয়ে আছেন। কিন্তু কথা বলতে পারছেন না। মনে হচ্ছে পৃথিবীটা বুঝি অন্ধকার হয়ে গেছে।

    .

    ফ্লিন্ট তার সেলফোনে ট্যানারকে বলল- দুঃখিত মিঃ কিংসলে, মান্ডারিন থেকে তারা চলে গেছে। তারা নিশ্চয়ই জানতে পেরেছিল আমি আসব।

    ট্যানার অবাক- এই কুকুরীর বাচ্চাগুলো কোথায় যাবে? তুমি কাজটা শেষ করে তবে এখানে আসবে।

    সশব্দে তিনি রিসিভার নামিয়ে রাখলেন।

    .

    অ্যানড্রু তার অফিসের কৌচে শুয়ে আছেন। তার মন স্টকহলমে চলে গেছে। দর্শকরা সকলেই হাততালি দিচ্ছেন। চিৎকার করছেন অ্যান্ডুর নামে।

    তিনি এগিয়ে গেলেন, রাজা কার্ল সোলোর কাছ থেকে পুরস্কার নিতে হবে। এটাই হল কাঙ্খিত নোবেল পুরস্কার। কেউ কেউ অবশ্য তাকে অভিশাপ দিচ্ছেন। কিন্তু কেন?

    কেউ বলছেন, অ্যানড্রু, তুমি কুকুরীর বাচ্চা। তুমি এখনই এখান থেকে চলে যাও।

    স্বপ্ন দৃশ্যটা চোখের সামনে থেকে হারিয়ে গেল। অ্যানড্রু আবার কঠিন কঠোর বাস্তবে ফিরে এলেন। দেখলেন, ট্যানার তাকে ডাকছেন।

    হা, আমাকে খুব প্রয়োজন, অ্যানড্রু ভাবলেন। তিনি উঠে গেলেন।

    অ্যানড্রু বললেন- এই তো আমি এখানে।

    ট্যানার বললেন- বসো।

    অ্যানড্রু চেয়ারে বসলেন।

    -ভাই, তোমাকে কয়েকটা ব্যাপার শেখাব। কীভাবে বিভাজনের দ্বারা জয় করতে হয়।

    ট্যানারের কণ্ঠস্বরে অদ্ভুত আনন্দ।

    -ডায়ানা স্টিভেন্স ভাবছেন যে, মাফিয়ারা তার স্বামীকে হত্যা করেছে। কেলি হ্যারিস আবার ওলগা নামের এক মেয়েকে নিয়ে চিন্তিত। বুঝতে পারলে?

    অ্যানড্রু অবাক হয়ে জানতে চাইলেন– তুমি কী বলছ ট্যানার?

    ট্যানার ভাইয়ের পিঠে হাত দিয়ে বললেন- অ্যানড্রু, তুমি বোকার মতো আচরণ করছ কেন? আমি তোমার সাথে এমন একটা বিষয়ে নিয়ে আলোচনা করতে চলেছি, এর আগে যে কথা কাউকে বলিনি। তোমাকে আমি সব কথা বলতে পারি কারণ তুমি কিছুই বুঝতে পারবে না।

    উনি অ্যানড্রুর শুন্য চোখের দিকে তাকালেন। দেখো, কোনো খারাপ কাজ করবে না। খারাপ জিনিস শুনবে না। খারাপ কথা বলবে না।

    ট্যানার এবার ব্যবসাতে ফিরে এসেছেন– একটা সমস্যার সমাধান করতে হবে। দুজন মহিলা হারিয়ে গেছে। তারা জানে, কে তাদের খুঁজে বেড়াচ্ছে হত্যা করার জন্য। তারা কোথায় যেতে পারে বলো তো অ্যানড্রু?

    অ্যানড্রু তার ভাইয়ের দিকে একমুহূর্ত তাকালেন। তারপর বললেন– না, আমি কিছুই জানি না।

    –দুটো ব্যাপার আছে, খুঁজে বের করার দুটো পদ্ধতি। প্রথমত পুরোনো পদ্ধতিটা ব্যবহার করতে হবে। দেখা যাক।

    অ্যানড্রু তাকিয়ে জিজ্ঞাসা করলেন তুমি কী বললে?

    ট্যানার বললেন তারা নিশ্চয়ই স্টিভেন্সের অ্যাপার্টমেন্টে ফিরে আসবে না। জায়গাটা খুবই বিপজ্জনক। আমরা সব সময় নজর রেখেছি। আমরা জানি, কেলি হ্যারিসের এখানে কোনো বন্ধু নেই। কারণ সে প্যারিসের বাসিন্দা। সে কাউকে নির্ভর করবে না।

    ভাইয়ের দিকে তাকিয়ে উনি বললেন- তুমি কি আমার কথা বুঝতে পারছ?

    অ্যানড্রু বললেন- হ্যাঁ, ট্যানার, বুঝতে পারছি।

    -ডায়ানা স্টিভেন্সের কোনো বন্ধু আছে কি? আমার তা মনে হয় না। আর একটা বিকল্প ব্যবস্থা মনে পড়ল, এই মহিলা দুটো হয়তো পুলিশের কাছে চলে গিয়ে পুরো গল্পটা বলেছে। পুলিশ হাসছে। তাহলে? তারা কী করবে? তারা এয়ারপোর্ট অথবা ট্রেন স্টেশনে যাবে না। তারা বাস স্টেশনেও যাবে না। তারা জানে, সব জায়গায় শত্রুর চোখ আছে। তাহলে? তাহলে তারা কোথায় যাবে?

    -হ্যাঁ, তুমি কী বলছ ট্যানার?

    তারা নিশ্চয়ই কোনো হোটেলে থাকবে, অ্যানড্রু। এমন একটা হোটেল যেখানে অনায়াসে লুকিয়ে থাকা যায়। কী ধরনের হোটেল? এইসব মেয়েরা কোথায় যায়? এখন আর হোটেল বাছা-বাছির প্রশ্ন নেই, নিরাপত্তার প্রশ্ন। তুমি কি সোনঝা ভারব্রুগের নাম শুনেছ? ঘটনাটা মনে আছে? আমরা তার কম্পিউটারে একটা মেসেজ ফেলে দিয়েছিলাম। সে তাড়াতাড়ি হোটেলে ছুটে গিয়েছিল। কারণ এই হোটেলটা শুধুমাত্র মেয়েদের জন্য। ভেবেছিল, এটা বোধহয় এক নিরাপদ জায়গা। মনে আছে? মনে হচ্ছে, স্টিভেন্স এবং হ্যারিস একই কথা চিন্তা করেছে। কাজেই তাদের খুঁজে বের করাটা কোনো অসুবিধা নয়।

    ভাইয়ের দিকে আবার তাকালেন ট্যানার। অ্যানড্রুর চোখ দুটো বন্ধ হয়ে গেছে। উনি ঘুমিয়ে পড়েছেন। রেগে গিয়ে ট্যানার ঘর থেকে বেরিয়ে এলেন। তারপর ফিরে এসে ভাইয়ের মুখে চড় মারলেন।

    অ্যানড্রুর ঘুম ভেঙে গেছে- কী হয়েছে?

    –আমি যা বলছি, সেদিকে মন দেবার চেষ্টা করো।

    –আমি দুঃখিত ট্যানার, ঘুম পেয়ে গিয়েছিল।

    ট্যানার কম্পিউটারের দিকে তাকালেন। দেখা যাক, ম্যানহাট্রানে মেয়েদের জন্য সংরক্ষিত হোটেল কটা আছে।

    ট্যানার তাড়াতাড়ি ইন্টারনেটে খুঁজলেন। রেজাল্টটা পাওয়া গেল সঙ্গে সঙ্গে। নামগুলো চিৎকার করে পড়তে থাকলেন। ওয়েস্ট ফোরটিন স্ট্রিটে আছে এলকার মেলো রেসিডেন্স, ওয়েস্ট ফিফটিফোর স্ট্রিটে আছে মারিয়া রেসিডেন্স, পার্কসাইড ইভান জেলাইন আছে। গেমারি সাউথে, উইলটান হোটেল আছে। হাসলেন, এবার আমরা কাজ শুরু করব।

    ট্যানার একটা ল্যান্ডস্কেপের ছবির দিকে এগিয়ে গেলেন। তারপর একটা বোম টিপলেন। দেওয়ালটা দু ফাঁক হয়ে গেল। টেলিভিশন স্ক্রিনে ম্যানহাট্রনের কম্পিউটার আচ্ছাদিত ম্যাপটা ফুটে উঠল।

    অ্যানড্রু, তোমার কী মনে আছে এটা কী? এটা এক অসাধারণ যন্ত্র। এর মধ্যে যেসব যন্ত্র আছে তা সারা পৃথিবীকে শাসন করতে পারে। এর সাহায্যে আমরা পৃথিবীর যে কোন বস্তুকে সহজেই খুঁজে বের করতে পারি। মনে আছে?

    যখন ওই মহিলারা আমার অফিস ছেড়ে চলে যায়, ওদের হাতে আমি বিজনেস কার্ড তুলে দিয়েছিলাম। এই কার্ডের মধ্যে মাইক্রো ডট কম্পিউটার চিপ লাগানো আছে। সরষে দানার মতো সিগন্যালটা উপগ্রহে চলে যাবে। যখন গ্লোবাল পলিসনিক সিস্টেম কাজ করতে শুরু করবে, ওরা কোথায় আছে তা আমরা বুঝতে পারব।

    ভাইয়ের দিকে তাকিয়ে ট্যানার বললেন, তুমি কি বুঝতে পারছ?

    অ্যানড্রু বলতে থাকেন না। তারপর নিজেকে সামলে নিয়ে বললেন, হ্যাঁ, সব বুঝতে পারছি।

    ট্যানার স্ক্রিনের দিকে তাকালেন। তিনি দ্বিতীয় বোতামটা টিপলেন। আলো জ্বলে উঠেছে। ছোটো ছোটো আলো। ম্যাপের ভেতর আলোর বিন্দু ছুটে চলেছে। একটা ছোট্ট অঞ্চল, তারপর আলোটা ফুলকি হয়ে ফুটে উঠল। বেশ কয়েকটা লাল বিন্দু ম্যাপের ওপর ফুটে উঠেছে।

    ট্যানার দেখতে থাকলেন– এটা হল ওয়েস্ট ফোরটিন স্ট্রিট, লাল আলো এগিয়ে চলেছে। টেকিলা রেস্টুরেন্ট, একটা ফার্মেসি, সেন্ট ভিনসেন্ট হসপিটাল, বানানারি পাবলিক, চার্চ, আলোটা বন্ধ হয়ে গেল।

    বোঝা গেল উইলটান হোটেল ফর ওমেন, হ্যাঁ, শেষ অব্দি আমি সঠিক জায়গাটা খুঁজে পেয়েছি।

    অ্যানড্রু অবাক হয়ে গেছেন- হ্যাঁ, তুমি ঠিকই বলেছ।

    ট্যানার অ্যানড্রুর দিকে তাকালেন– তুমি এখন যেতে পারো।

    তিনি সেল ফোনটা তুলে নিলেন মিঃ ফ্লিন্ট, উইলটান হোটেলে এখনই চলে যাও।

    ফোনটা কেটে দিলেন। অ্যানড্রু তাকিয়ে আছেন– কী?

    –আমি যাব? সুইডেনে, আমার নোবেল পুরস্কারটা আনতে হবে। এই মাত্র ওটা আমি পেয়েছি।

    না, অ্যানড্রু, এটা সাত বছর আগের ঘটনা।

    ওফ অ্যানড্রু ধীরে ধীরে অফিসের দিকে হেঁটে গেলেন। ট্যানার টেবিলে বসে আছেন। গত সাত বছরে কত ঘটনাই ঘটে গেল, হা, সুইজারল্যান্ড, তিনবছর আগে, একটা টেলিফোন কল, জীবনটা পাল্টে দিয়েছে।

    .

    সেক্রেটারির কণ্ঠস্বর– মিঃ কিংসলে, জুরিখ থেকে কেউ আপনাকে ফোন করছেন?

    –আমি এখন খুব ব্যস্ত। আমি পরে কথা বলব।

    উনি ফোনটা তুলে নিলেন, ট্যানার শুনছেন, তার মুখ আরও কঠিন হচ্ছে। তিনি অশান্ত ভাবে বললেন- ঠিক আছে, আমি দেখছি। আমি এটা সামলাতে পারব।

    তিনি বোতাম টিপলেন, মিস অরটোনেজ, পাইলটকে বলল, চ্যালেঞ্জারকে তৈরি রাখতে। আমরা জুরিখ যাব। দুজন প্যাসেঞ্জার থাকবে।

    .

    ম্যাডেলাইন স্মিথ একটা বুথে বসে আছেন। জুরিখের অন্যতম সেরা রেস্টুরেন্ট। বছর। তিরিশ বয়স, সুন্দর গোল মুখ, ছাঁটা চুল, গায়ের রং খুবই ভালো। বেশ বুঝতে পারা যাচ্ছে, উনি এখন গর্ভবতী।

    ট্যানার টেবিলের কাছে এগিয়ে গেলেন। ম্যাডেলাইন স্মিথ উঠে দাঁড়ালেন। ট্যানার তার হাতে হাত রেখে বললেন– বসো।

    –তোমাকে দেখে কী ভালোই যে লাগছে, সুইস উচ্চারণে উনি বললেন- আমি যখন তোমার ফোনটা পেয়েছিলাম, অবাক হয়ে গেছি।

    -কেন?

    –তুমি এত গুরুত্বপূর্ণ মানুষ, তুমি কী শুধু আমাকে দেখার জন্য জুরিখে এসেছ? আমি ভাবতেও পারছি না। আমার স্বপ্নের অতীত।

    ট্যানারের মুখে হাসি– আমি বলেছি তোমাকে, কেন আমি এখানে এসেছি। তোমার কাছ থেকে শুনলাম, তুমি একজন বিখ্যাত বিজ্ঞানী। আমি তোমার ডাক উপেক্ষা করব?

    -ওঃ, মিঃ কিংসলে।

    –আমার কোম্পানিতে আমরা মানুষের বুদ্ধিকে সবথেকে বড় মর্যাদা দিয়ে থাকি। তুমি হলে সেই মানুষ যাকে আমি খুঁজে বেড়াচ্ছি, ম্যাডেলাইন। তুমি টোকিও ফাস্ট ইনডাসট্রিয়ালের সাথে কতদিন আছো?

    -সাত বছর।

    -বাঃ, সাত হচ্ছে তোমার সৌভাগ্যজনক সংখ্যা। আমি যদি তোমাকে কে আই জি-তে একটা চাকরি দিই, তুমি কি তা গ্রহণ করবে? ওখানে যা পাও, তার দ্বিগুন টাকা দেব।

    -ওঃ, কিংসলে, ভদ্রমহিলা আনন্দে বুঝি নাচতে শুরু করেছেন।

    –ম্যাডেলাইন, তুমি কি আগ্রহী?

    –হ্যাঁ, আমি খুবই আগ্রহী, কিন্তু এখনই চাকরি ছাড়তে পারব না।

    ট্যানারের মুখের অভিব্যাক্তি পাল্টে গেছে কেন?

    –আমার পেটে সন্তান আছে, কিছু দিনের মধ্যে আমার বিয়ে হবে।

    ট্যানারের মুখে হাসি আমি সব সমস্যার সমাধান করব।

    ম্যাডেলাইন স্মিথ বললেন– আর একটা ব্যাপার আছে সেটা আমি এক্ষুনি বলতে পারছি না। আমাদের ল্যাবোরেটরিতে একটা গুরুত্বপূর্ণ প্রোজেক্টের কাজ হচ্ছে। আমরা কাজটা প্রায় শেষ পর্যায়ে নিয়ে এসেছি।

    ম্যাডেলাইন, আমি জানি না প্রোজেক্টটা কী, এ ব্যাপারে জানার কোনো আগ্রহ নেই। কিন্তু আমি একটা কথা বলতে চাইছি, আমার এই প্রত্যাশা তোমাকে এখনই গ্রহণ করতে হবে। এই জন্যই তোমার কাছে এসেছি। আমি তোমাকে এবং তোমার প্রেমিককে উড়িয়ে নিয়ে যাব, তার মুখে হাসি। অথবা আমি বলব,

    –প্রোজেক্টটা শেষ হয়ে গেলেই আমি যোগ দেব, মাত্র ছমাস অথবা এক বছর?

    ট্যানার এক মুহূর্তের নীরবতা পালন করে বললেন তার মানে তোমরা এখন আসতে পারছ না?

    -না, আমাকে এই প্রকল্পের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এখনই বিশ্বাসঘাতকতা করা উচিত হবে না। পরের বছর?

    ট্যানারের মুখে হাসি– ঠিক আছে।

    –তুমি এত দূর থেকে এসেছ, আমার খুবই খারাপ লাগছে।

    ট্যানার শান্তভাবে বললেন না, ম্যাডেলাইন, তোমার সঙ্গে দেখা তো হল।

    ম্যাডেলাইনের মুখে লাল লজ্জার চিহ্ন। ঠিক আছে, আবার দেখা হবে।

    -তোমার জন্য একটা ছোট্ট উপহার আছে। আমার একজন সহযোগী সেটা নিয়ে আসবে তোমার অ্যাপার্টমেন্টে আজ সন্ধ্যা ছটার সময়। তার নাম হ্যারি ক্লিন্ট।

    .

    পরের দিন সকালবেলা ম্যাডেলাইন স্মিথের মৃতদেহটা পাওয়া গেল কিচেন ফ্লোরে। স্টোভটা পাশে পড়ে আছে। অ্যাপার্টমেন্টে বিষাক্ত গ্যাস।

    .

    ট্যানারের ভাগ্য ভালো। এখন তিনি আবার বর্তমানে ফিরে এসেছেন। ফ্লিন্ট কখনও তাকে বিরক্ত করেনি। কিছুক্ষণ বাদে ডায়ানা স্টিভেন্স এবং কেলি হ্যারিসের মৃতদেহ আবিষ্কৃত হবে। আহা, এবার আমি নিশ্চিন্ত মনে আমার প্রকল্প নিয়ে সামনের দিকে এগিয়ে যাব।

    .

    ২৬.

    হ্যারি ফ্লিন্ট উইলটান হোটেলের রিসেপশন ডেস্কে পৌঁছে গিয়ে বলল- হ্যালো?

    ক্লার্ক বলল- হ্যালো, বলুন। কীভাবে সাহায্য করব!

    আমার বউ এবং তার বন্ধু এক আফ্রিকান আমেরিকান কিছুক্ষণ আগে এখানে এসেছেন। আমি ওপরে চলে গিয়ে ওদের অবাক করে দেব। ওদের রুম নাম্বারটা বলবেন কি?

    ক্লার্ক বলল– আমি দুঃখিত, এই হোটেলটা শুধুমাত্র মেয়েদের জন্য। পুরুষদের ভেতরে ঢোকার অনুমতি দেওয়া হয় না। আপনি মনে করলে ফোন করতে পারেন।

    ফ্লিন্ট চারপাশে তাকালেন– হ্যাঁ, অনেক মানুষের ভিড়। ফ্লিন্ট বললেন, ঠিক আছে, আমি তাদের ডেকে পাঠাব কি?

    ফ্লিন্ট বাইরে গেলেন। সেলফোন থেকে ফোন করলেন– মিঃ কিংসলে, ওরা ওপরের ঘরে আছে, আমাকে ওপরে যেতে দেওয়া হচ্ছে না।

    ট্যানার কী যেন ভাবলেন, তারপর বললেন– ফ্লিন্ট, বুদ্ধি আমাকে বলছে, তারা ওখানেই থাকবে এখন। আমি এক মহিলাকে পাঠাচ্ছি, সে তোমাকে সাহায্য করবে।

    .

    স্যুইটে বসে কেলি একটা রেডিওতে পপ স্টেশন শুনছিলেন। হঠাৎ ঘরের ভেতর র‍্যাপ মিউজিকের শব্দ।

    ডায়ানা জানতে চাইল বিরক্ত হয়ে কী করে এসব গান শুনছেন এখন?

    আপনি রক মিউজিক ভালোবাসেন না?

    –এটা গান, নাকি শুধু হৈ হট্টগোল?

    –সে কী? এত ভালো ভালো আর্টিস্ট আছেন?

    এছাড়া আপনি আর কী শোনেন?

    না, আমি অনেক কিছুই শুনি। ক্লাসিক্যাল আমার খুব ভালো লাগে।

    কেলি দেখলেন, ডায়ানা উঠে এসে রেডিওটা বন্ধ করে দিয়েছেন।

    কেলি জিজ্ঞাসা করলেন মিসেস স্টিভেন্স, আমরা হোটেলে কতদিন কাটাব? আপনি কী কাউকে জানেন যে, আমাকে সাহায্য করতে পারে?

    ডায়ানা মাথা নাড়লেন রিচার্ডের বেশির ভাগ বন্ধুরাই আই জির হয়ে কাজ করে। আমাদের অন্য বন্ধুরা, না, তারা এ ব্যাপারে কেন মাথা গলাবে?

    উনি কেলির দিকে তাকিয়ে প্রশ্ন করলেন আর আপনার ব্যাপারটা?

    কেলি কাঁধ ঝাঁকানি দিয়ে বললেন, মার্ক আর আমি প্যারিসে তিন বছর ধরে বসবাস করছি। ওখানে আমি অনেকের সঙ্গে যুক্ত। কিন্তু মডেল জগতের বাইরে কাউকে আমি বিশেষ চিনি না। তারা এখানে সাহায্য করতে আসবে কেন?

    –মার্ক কি আপনাকে বলেছিলেন ওয়াশিংটনে আসছেন?

    রিচার্ডও বলেনি, মনে হচ্ছে, এর মধ্যেই রহস্যটা লুকিয়ে আছে।

    হ্যাঁ, আমরা চাবিটা পেয়ে গেছি। দরজাটা খুঁজে পাচ্ছি না।

    দরজাটা আমি বের করব, ডায়ানা ভাবলেন, এক মুহূর্ত অপেক্ষা করতে হবে। আমি একজনকে জানি, যে আমাদের সাহায্য করবে।

    উনি ফোনের দিকে এগিয়ে গেলেন।

    কার কথা বলছেন? রিচার্ডের সেক্রেটারি, সে সব ব্যাপারটা জানে।

    ফোনে একটা শব্দ ভেসে এল কে আই জি?

    আমি বেটি বাটলারের সঙ্গে কথা বলতে চাইছি।

    .

    অফিসে বসে ট্যানার লক্ষ্য করলেন নীল আলো জ্বলে উঠেছে। তিনি সুইচটা টিপলেন, অপারেটর বলছি, মিস বাটলার এখন তার ডেস্কে নেই।

    কীভাবে তার সঙ্গে যোগাযোগ করা যায়?

    –আমি দুঃখিত, যদি নাম আর ফোন নাম্বার দেন, আমি কথা বলতে পারি।

    ডায়ানা রিসিভার নামিয়ে রাখলেন।

    নীল আলোটা নিভে গেল।

    .

    ডায়ানা কেলির দিকে তাকিয়ে বললেন- বেটি বাটলার হয়তো দরজাটার সন্ধান দিতে পারবেন।

    ব্যাপারটা অদ্ভুত লাগছে।

    –কী?

    –একজন ভবিষ্যৎ বক্তা আমাকে বলেছিল, আমি নাকি মৃত্যুর উপত্যকার মধ্যে হেঁটে চলেছি।

    কেলির চোখে মুখে বিস্ময় তাহলে আপনি কেন এফ বি আই বা সি আই-এর সাহায্য চাননি?

    ডায়ানা বললেন– না, আমি তখন বুঝতে পারিনি।

    কেলি বললেন- আসুন, ডিনারে বসা যাক।

    কেলি আবার বললেন আমাকে একটা ফোন করতে হবে। উনি টেলিফোনটা নিয়ে হোটেল অপারেটরকে বললেন- প্যারিসে ফোন করব।

    অপারেটর একটা নাম্বার দিলেন। কিছুক্ষণ বাদে কেলির মুখ উজ্জ্বল হয়ে উঠল-হ্যালো ফিলিপ্পে, তুমি কেমন আছো? এখানে সব কিছু ঠিক আছে।

    তিনি ডায়ানার দিকে তাকালেন- হ্যাঁ, আমি দু-একদিনের মধ্যে বাড়ি ফিরে যাব। অ্যাঞ্জেল কেমন আছে? সে কি আমাকে মনে করছে?

    কণ্ঠস্বর পাল্টে গেছে। মনে হচ্ছে বড়োরা বোধহয় শিশুটিকে কিছু বলছে

    –অ্যাঞ্জেল, তুমি কেমন আছো? ফিলিপ্পে বলছে, তুমি নাকি আমাকে বারবার খুঁজছ? আমি খুব তাড়াতাড়ি বাড়ি ফিরে যাব। তোমার জন্য অনেক কিছু নিয়ে যাব।

    ডায়ানা অবাক হয়ে শুনছেন।

    –গুডবাই বেবি, ফিলিপ্পে ঠিক আছে।

    কেলি দেখলেন, ডায়ানার চোখে মুখে একটা অদ্ভুত অভিব্যক্তি– আমি আমার-কুকুরের সঙ্গে কথা বলছিলাম।

    –সে কী? এত ভালোবাসেন আপনি?

    –হ্যাঁ, আমার জীবনের সবকিছু।

    ডিনারের সময় হয়েছে। কিন্তু এই দুই মহিলা ঘরের নিরাপত্তা ছেড়ে বাইরে আসতে চাইছেন না। তারা রুম সার্ভিসকে ফোন করলেন।

    ডায়ানা কেলির সাথে কথা বলার চেষ্টা করছিলেন। কিন্তু কথাটা আর সামনের দিকে এগোচ্ছে না। ডায়ানা শেষ পর্যন্ত বুঝতে পারলেন, এখন নীরবতার মধ্যে থাকাটাই ভালো।

    .

    ডিনার শেষ হয়ে গেল। কেলি বললেন, আমি স্নান করতে যাব।

    ডায়ানা কোনো কথা বললেন না।

    বাথরুমে ঢুকে কেলি জামাকাপড় খুলতে শুরু করলেন। শাওয়ারের তলায় দাঁড়িয়ে থাকলেন। শাওয়ারটা খুলে দিনে। গরম জল তার নগ্ন শরীরের ওপর প্রবাহিত হচ্ছে। চোখ বন্ধ করলেন। মন কোথায় হারিয়ে গেল– স্যাম মিরোজের কণ্ঠস্বর, মার্ক, আপনাকে। ভীষণ-ভীষণ ভালোবাসে। সে আপনাকে বিয়ে করতে চাইছে। কেলি জানতেন স্যাম মিরোজের অনুমানই সঠিক। কেলি মার্কের সাহচর্য প্রার্থনা করছেন। মার্কের মধ্যে কৌতুক আছে, আনন্দ আছে, আতিশয্য আছে। মার্ক একজন বন্ধু হতে পারে।

    মার্ক পরের দিন সকালে ব্যাঙ্কোয়েটে এসে বলেছিলেন– হ্যালো কেলি, আজ রাতে তুমি কী করছ?

    মার্কের কণ্ঠস্বরের মধ্যে আগ্রহ এবং আকুতি– ডিনার এবং তারপর থিয়েটার? কোনো কোনো দোকান রাতেও খোলা থাকে।

    –মার্ক, আজ রাতে আমি খুব ব্যস্ত থাকব।

    কিছুক্ষণের নীরবতা।

    –আমি ভেবেছিলাম, স্বপ্নটা অন্যরকম হবে।

    –ঠিক আছে, কাল আবার দেখা হবে?

    .

    পরের দিন মার্কের ফোন, কেলি, তুমি এমন ব্যবহার করছ কেন?

    কেলি বলেছিলেন– আমি দুঃখিত মার্ক, আমি কারও সাথে ভালোবাসার খেলা খেলতে চাইছি।

    অনেকক্ষণের নীরবতা।

    –ও, মার্কের কণ্ঠস্বর ভেঙে গেছে, আমি বুঝতে পারিনি, আমাকে ক্ষমা করো। হ্যাঁ, হ্যাঁ, অনেক-অনেক সাফল্য, ধন্যবাদ, মনে হয় তোমার জীবনটা আনন্দে কেটে যাবে। কেলি, অ্যাঞ্জেলের সাথে হয়তো আর দেখা হবে না।

    মার্ক ফোনটা নামিয়ে রাখলেন। কেলি অনেকক্ষণ দাঁড়িয়ে ছিলেন। বুঝতে পারলেন, সত্যি ঘটনা কী ঘটেছে। সে আমাকে ভুলে যাবে? কেলি ভাবলেন। হয়তো অন্য কেউ একজন তাকে তার কাঙ্খিত স্বাধীনতা এবং আনন্দ দেবে।

    কেলি প্রত্যেক দিন কাজ করেন, মানুষের দিকে তাকিয়ে থাকেন। ভেতরে ভেতরে জ্বলতে থাকেন। জীবন একই রকমভাবে বয়ে চলেছে। কোথাও কোনো বন্ধু নেই।

    কয়েক সপ্তাহ কেটে গেছে। কেলি মার্কের কাছ থেকে কোনো কথা শুনতে পাননি। মার্ক কী আমার জীবন থেকে চিরদিনের মতো হারিয়ে গেল? সে বোধহয় অন্য কারও সন্ধান পেয়েছে।

    .

    একটা শনিবারের বিকেলবেলা। কেলি ফ্যাশান শো-এর জন্য ব্যস্ত ছিলেন। বিশাল একটা ঘর, অনেক মানুষের ভিড়। শহরের গণ্যমান্য ব্যক্তিরা এসেছেন। তিনি রানওয়ের দিকে হেঁটে গেলেন। তিনি আসার সঙ্গে সঙ্গে হাততালির ঝড়। কেলি একটা সুন্দর সান্ধ্য পোশাক পরেছেন। হাতে গ্লোজ, একটা গ্লোজ তাঁর হাত থেকে ছিটকে গেল, রানওয়েতে পড়ে গেল। কেলি দেখলেন, কিন্তু যাবার সময় নেই, তিনি দাঁড়িয়ে থাকলেন চারপাশে কেমন যেন অবস্থা। কেলিরে চোখে জল।

    কেলি ড্রেসিংরুমে পৌঁছে গেলেন। ওয়াড্রো বা মিস্ট্রেস বললেন- ড্রেসিং গাউন তৈরি আছে ম্যাডাম।

    কেলি তখনও কাঁদছেন।

    না, আমি আর ওদের সামনে যাব না। ওরা আমাকে দেখে হাসবে।

    –ঠিক আছে।

    কেলি তাকাবার চেষ্টা করলেন– এ কী? মার্ক সেখানে দাঁড়িয়ে আছে।

    -মার্ক, তুমি এখানে কী করে এলে?

    –হ্যাঁ, আমি একটা কথা বলতে এসেছি।

    কী বলে?

    ভারী সুন্দর।

    কেলি অবাক কী হয়েছে?

    মার্ক পকেট থেকে রুমাল বের করে কেলির চোখের জল মুছিয়ে দেবার চেষ্টা করলেন। বললেন– কেলি, তুমি এখান থেকে যাবার আগে একটা স্বপ্নের জগতের বাসিন্দা ছিলে। সাধারণ দর্শকের কাছে তোমার অন্য একটা পটভূমি ছিল। তুমি সুন্দরী, তোমাকে স্পর্শ করা যায় না। তুমি একটা স্বপ্ন, তুমি একটা কল্পনা।

    তখন তোমার পতন ঘটে গেল। তাদের চোখে তুমি সাধারণ রমণী হয়ে গেছে। তুমি আবার সেখানে যাও, ওদের খুশি করো।

    কেলি মার্কের চোখের দিকে তাকালেন। হ্যাঁ, সেখানে সহানুভূতি ঝরছে। কেলি বুঝতে পারলেন, মার্ককে তিনি ভালোবেসে ফেলেছেন।

    ইভনিং গাউন পরে কেলি সামনের দিকে এগিয়ে গেলেন।

    পাঁচ মিনিট কেটে গেছে। রানওয়ের দিকে তিনি হেঁটে চলেছেন। আবার হাততালির ঝড়। দর্শকদের কাছ থেকে।

    মার্ক যদি আমার জীবনে আবার ফিরে আসে, তাহলে?

    শুরুতে তিনি খুবই চিন্তিত ছিলেন।

    .

    কেলি তখনও চিন্তিত। মার্কের জন্য অপেক্ষা করছেন। যে কোনো মুহূর্তে মার্ক আসতে পারে।

    এক সন্ধ্যেবেলা কেলি বলেছিলেন।

    –মার্ক, সিমফনি অর্কেস্ট্রার ওপেনিং আছে আজকে। তুমি যাবে?

    –হ্যাঁ, আমার খুবই ভালো লাগে।

    –আমরা একসঙ্গে যাব।

    .

    কনসার্ট ছিল দারুণ, দর্শকেরা আনন্দে ভাসল।

    কেলির অ্যাপার্টমেন্টে ফিরে আসার সময় মার্ক বলেছিলেন কেলি, আমি তোমাকে মিথ্যে কথা বলেছিলাম।

    কী হয়েছে? আমি তো কিছুই বুঝতে পারছি না।

    –হাঁ, ক্লাসিক্যাল মিউজিক আমি মোটেই ভালোবাসি না।

    কেলির মুখে উৎফুল্ল হাসির জোয়ার।

    .

    পরের দিন, কেলি বললেন– অ্যাঞ্জেলের জন্য তোমাকে অনেক ধন্যবাদ। অ্যাঞ্জেল আমার অবসরের সময়টা ভরিয়ে রাখে।

    তুমিও তাই রাখো, কেলি ভাবলেন। মার্কের চোখে নীল আলো, এই আলো কেলি কখনও দেখেননি। এবং ঠোঁটের কোণে আমন্ত্রণী হাসি। কেলি ভাবলেন, এই মানুষটাকে আমি কখনওই আমার জীবন থেকে বাদ দেব না।

    .

    জলটা ঠাণ্ডা হচ্ছে। কেলি শাওয়ার বন্ধ করলেন। তোয়ালে দিয়ে সমস্ত শরীরটা মুছলেন। হোটেলের দেওয়া ভোয়ালে। বেডরুমে পৌঁছে গেলেন।

    ডায়ানা বাথরুমের দিকে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। জল চারপাশে ছড়িয়ে পড়ে আছে।

    ডায়ানা খুব রেগে গেছেন। উনি বেডরুমে ফিরে এসে বললেন- বাথরুমের কী অবস্থা করেছেন?

    কেলির ঠোঁটে হাসি হা মিসেস স্টিভেন্স, আমি কখনও নিজের হাতে কোনো কিছু করিনি। কাজের মেয়েরাই সব দায়িত্ব নিত।

    –আমি কিন্তু আপনার কাজের মেয়ে নই।

    ডায়ানা দীর্ঘশ্বাস ফেললেন ঠিক আছে, আমরা যদি আলাদা হই তাহলে ভালো হবে।

    –হ্যাঁ, তা কী সম্ভব হবে মিসেস স্টিভেন্স?

    অনেকক্ষণ তারা একে অন্যকে দেখলেন। কেউ কোনো কথা বললেন না। ডায়ানা বাথরুমে চলে গেলেন।

    পনেরো মিনিট কেটে গেছে। তিনি বেরিয়ে এলেন। কেলি তখন বিছানাতে শুয়ে আছেন। ডায়ানা আলোটা নেভাবার চেষ্টা করলেন।

    -না-না, আলো নেবেন না।

    আর্তনাদ।

    ডায়ানা কেলির দিকে তাকিয়ে আছেন কী হয়েছে?

    সমস্ত রাত্রি আলো জুলবে।

    –আপনি কি অন্ধকারকে ভয় পান?

    –হ্যাঁ, আমি অন্ধকারকে ভয় পাই।

    ডায়ানা বললেন- ঠিক আছে, আপনার মা-বাবা কি এই ভয়টা ঢুকিয়ে দিয়েছে?

    –আমি বলতে পারব না।

    ডায়ানা বিছানাতে চলে গেলেন। এক মিনিট সেখানে শুলেন। তারপর চোখ বন্ধ করলেন।

    রিচার্ড, আমি কী হেরে যাব? আমি কী মরে যাব? তোমার কথাই কেবল মনে পড়ছে। শুভরাত, শুভরাত, তোমরা আমাকে ছেড়ে যেও না।

    কেলি ডায়ানার কান্নার শব্দ শুনতে পেলেন। কেলির ঠোঁট দুটো বন্ধ হয়ে গেছে। না, চোখ দিয়ে জল গড়িয়ে চিবুক ভিজিয়ে দিয়েছে।

    .

    ২৭.

    সকালে ডায়ানার ঘুম ভাঙল। সে দেখল কেলি চেয়ারে বসে আছেন। দেওয়ালের দিকে তাকিয়ে আছেন।

    ডায়ানা প্রশ্ন করলেন– শুভ সুপ্রভাত, রাতে ঘুম হয়েছে?

    কোনো উত্তর নেই।

    এখন আমরা কী করব? এখানে তো বরাবর থাকতে পারব না।

    কোনো উত্তর নেই।

    ডায়ানা চিৎকার করে বললেন– কেলি, আপনি কি আমার কথা শুনতে পাচ্ছেন?

    কেলি বললেন– হ্যাঁ, আমি একটা মন্ত্র জপ করছিলাম।

    –ও, আমি বুঝতে পারি নি।

    কেলি টেলিভিশনের দিকে গিয়ে সেটা খুলে দিলেন।

    দেখা যাক, পৃথিবীর কোথায় ক ঘটছে?

    চ্যানেল সার্ভ করতে করতে হঠাৎ তিনি থেমে গেলেন। বাতাসে একটা খবর ছড়িয়ে পড়েছে। বেন রবার্টস? কেলি চিৎকার করলেন।

    ডায়ানা জানতে চাইলেন উদাসীনভাবে কী হয়েছে?

    –কেন রবার্টস, তিনি ইন্টারভিউর আসর পরিচালনা করেন। তার সাথে ইন্টারভিউ দিতে বসলে আমার খুব ভালো লাগে। তিনি এবং মার্ক ছিলেন দারুণ বন্ধু।

    বেন রবার্টস বলছেন– এইমাত্র একটা বুলেটিন পাওয়া গেছে, অ্যানথনি আলটিয়েরি, মাফিয়া সর্দার, কিছুদিন আগে একটা খুনের মামলা থেকে মুক্তি পেয়েছেন, আজ সকালে মারা গেছেন, ক্যানসারে।

    কেলি ডায়ানার দিকে তাকালেন–খবরটা শুনতে পাচ্ছেন? আলটিয়েরি মারা গেছে।

    ডায়ানা কিছু বললেন না। মনে হচ্ছে খবরটা বোধহয় অন্য কোনো জগত থেকে এসেছে।

    ডায়ানা কেলির দিকে তাকিয়ে বললেন- আমাদের এবার আলাদা হতে হবে। দুজনে থাকলে সহজেই অনুসন্ধান করা যাবে।

    কেলি শুকনো মুখে বলেছিলেন- আমাদের চেহারার মধ্যে কোনো সাদৃশ্য আছে কি?

    –আপনি কী বলতে চাইছেন?

    –আমি আপনার কথার অর্ন্তনিহিত অর্থটা বুঝতে পেরেছি। আমি মুখের রংটা পাল্টাব। কি?

    ডায়ানা এবার আরও অবাক হয়ে গেছেন।

    আপনি কী বলছেন?

    কেলি বললেন– আমি ঠাট্টা করছিলাম। আলাদা হওয়াটা একটা ভালো প্রস্তাব। দেখা যাক কী করা যায়।

    ডায়ানা সঙ্গে সঙ্গে বললেন- যে করেই হোক এই হোটেল থেকে বেরোতে হবে।

    .

    লবিতে অনেক মহিলার ভিড়। একটা কনভেনশন চলছে। অনেক অতিথি বসে আছেন। কেলি এবং ডায়ানা লাইনে গিয়ে দাঁড়ালেন।

    তারা রাস্তায় বেরিয়ে এলেন। হ্যারি ফ্লিন্ট তাদের দেখতে পেল। সে চোখের বাইরে চলে গেল। সে তার সেলুলার ফোন নিয়ে বলল– ওরা এখনই লবি থেকে বেরিয়ে আসছে।

    কারবালো সেখানে গেছে মিঃ ফ্লিন্ট।

    –হ্যাঁ।

    –আমি যা বলেছি তাই করবে। হোটেলের প্রবেশ পথের সামনে দাঁড়াবে। তাদের অনুসন্ধান করতে হবে। তারা যেন কোনো চিহ্ন না রেখে হাওয়া হয়ে যেতে পারে।

    কেলি এবং ডায়ানা শেষ পর্যন্ত ক্যাশিয়ারের কাছে পৌঁছে গেলেন, ক্যাশিয়ারের মুখে হাসি।

    –মনে হয় রাত্তিরটা ভালোই কেটেছে।

    –হ্যাঁ। ডায়ানা মনে মনে ভাবলেন, আমি যে এখনও বেঁচে আছি, তাই যথেষ্ট।

    কেলি জিজ্ঞাসা করলেন মিসেস স্টিভেন্স, আপনি এখন কোথায় যাবেন বলে ঠিক করেছেন?

    –আমি যে কোনো ভাবে ম্যানহাট্টান থেকে বেরোতে চাইছি। আপনি কী করবেন?

    আমি আপনার কাছ থেকে দূরে থাকতে চাইছি, মনে মনে কেলি বললেন, মুখে বললেন- আমি প্যারিসে চলে যাব।

    তারা বাইরে বেরিয়ে এলেন। চারপাশে তাকালেন। সাধারণ পথচারীর ভিড় চলেছে।

    –গুডবাই মিসেস স্টিভেন্স, কেলি বললেন, কণ্ঠস্বরে আশ্বাস।

    –হ্যাঁ, গুডবাই কেলি।

    কেলি ডানদিকে তাকালেন, বাঁদিকে ফোনের দিকে এগিয়ে গেলেন। ডায়ানা তার দিকে একমুহূর্ত তাকালেন। তারপর ডানদিকে তাকালেন। অন্যদিকে এগিয়ে গেলেন।

    কয়েক পা ফেলার পরই হ্যারি ক্লিন্ট এবং ভিনসে কারবালোকে দেখা গেল। তারা দুদিক থেকে ব্লকের সামনে এসে গেছে। কারবালোর ঠোঁটে কুটিল হাসি। ফ্লিন্টের ঠোঁট দুটো লালসায় উজ্জ্বল।

    তারা সামনে এসে গেছে। এই দুই মহিলাকে কিছুতেই যেতে দেবে না। ডায়ানা এবং কেলি একে অন্যের দিকে তাকালেন। ভয় চকিত দৃষ্টি। হ্যাঁ, আমরা ধরা পড়েছি। তারা হোটেলের কাছে আসার চেষ্টা করলেন। দরজাতে অসংখ্য মানুষের ভিড়। কী করে ভেতরে ঢুকবেন? না, দুজন পুরুষ আরও কাছে এগিয়ে আসছে।

    কেলি শেষ পর্যন্ত ডায়ানার দিকে তাকাতে বাধ্য হলেন। ডায়ানা হাসছেন, ফ্লিন্ট এবং কারবালোর দিকে তাকিয়ে হাত নাড়ছেন।

    কেলি প্রশ্ন করলেন- আপনি এমন করছেন কেন?

    ডায়ানা তখনও হাসছেন। তার সেলফোনটা বের করলেন। কারও সঙ্গে কথা বললেন।

    ডায়ানা বললেন–আমরা হোটেলের সামনে পৌঁছে গেছি। আপনি কোথায় আছেন?

    মুখে বিজয়িনীর হাসি। কেলির দিকে তাকিয়ে বললেন- তারা এক্ষুনি এসে যাবেন।

    ডায়ানা ফ্লিন্ট এবং কারবালোর দিকে তাকালেন। আবার বললেন মাত্র দুজন, ডায়ানা হেসে বললেন- ঠিক আছে, এক্ষুনি আসবেন কিন্তু।

    কেলি এবং ওরা দুজন অবাক হয়ে তাকিয়ে আছে। ডায়ানা রাস্তায় এসে দাঁড়িয়েছেন। যে সমস্ত গাড়িগুলো আসছে, সেদিকে তাকিয়ে আছেন। হ্যাঁ, দূর থেকে একটা গাড়ি এল। ফ্লিন্ট এবং কারবালো চুপটি করে দাঁড়িয়ে আছে। সামনে কী ঘটতে চলেছে, ভাবছে।

    ডায়ানা বললেন- এখানে-এখানে।

    ফ্লিন্ট এবং কারবালো পরস্পরের দিকে তাকিয়ে আছে। তারা দ্রুত একটা সিদ্ধান্ত নিল। তারা চোখের সামনে থেকে অদৃশ্য হয়ে গেল।

    কেলি অবাক হয়ে ডায়ানার দিকে তাকিয়ে আছেন। বললেন–ওরা চলে গেছে। তারপর জিজ্ঞাসা করলেন কার সঙ্গে কথা বলছিলেন?

    ডায়ানা দীর্ঘশ্বাস ফেলে জবাব দিলেন কারও সঙ্গে না, আমার ব্যাটারিটা অনেকক্ষণ ধরে অকেজো হয়ে গেছে।

    .

    ২৮.

    কেলি অবাক হয়ে ডায়ানার দিকে তাকিয়ে আছেন।

    –আপনার অভিনয় আমাকে অবাক করেছে। আমি যদি এই বিদ্যেটা রপ্ত করতে পারতাম।

    সময় হলে মানুষকে কত কী যে করতে হয়?

    –আপনি এখন কী করবেন?

    যে করেই হোক ম্যানহট্টান থেকে পালাতে হবে।

    কী করে? কেলির প্রশ্ন। তারা সমস্ত ট্রেন স্টেশনে লোক রাখবে, এয়ারপোর্ট, বাস স্টেশন। গাড়ি ভাড়ার কোম্পানি সবকিছু।

    ডায়ানা কী যেন চিন্তা করে বললেন কিন্তু আমরা ব্রুকলিনে যাব, ব্রুকলিনে আরা যাবে না।

    –তাহলে যাওয়া যাক।

    –কী?

    –আমি আপনার সঙ্গে যাব না।

    ডায়ানা আবার তাকালেন। তারপর বললেন- আপনি কি সঠিক সিদ্ধান্ত নিয়েছেন?

    –হ্যাঁ, মিসেস স্টিভেন্স।

    ডায়ানা বললেন- ঠিক আছে, গুডবাই।

    –গুডবাই। কেলি দেখলেন, ডায়ানা একটা ট্যাক্সিতে উঠে বসেছেন।

    কেলি খানিকক্ষণ সেখানে দাঁড়ালেন, চিন্তা করলেন। এখনই তাকে একটা সিদ্ধান্ত নিতে হবে। অচেনা অজানা জায়গা। তিনি একলা চলতে পারেন কি? বন্ধু-বান্ধব বলতে কেউ নেই। ট্যাক্সির দরজাটা বন্ধ হয়ে গেল। গাড়িটা এবার চলতে শুরু করেছে।

    একটু দাঁড়ান। কেলি চিৎকার করলেন।

    ট্যাক্সি দাঁড়িয়ে গেল। কেলি ভেতরে ঢুকে বসলেন।

    -কেন মন পরিবর্তন করলেন?

    –আমি কখনও ব্রুকলিন দেখিনি, তাই।

    ড্রাইভার জনতে চাইল কোথায় যাব?

    –আমাদের ব্রুকলিনে নিয়ে চলুন।

    ট্যাক্সি ড্রাইভার আরও জানতে চাইল আর কিছু?

    না, সোজা ব্রুকলিন।

    কেলি ডায়ানার দিকে তাকিয়ে বললেন- কোথায় যাবেন, জানা আছে কি?

    –হ্যাঁ, আমি সব কিছু জানি।

    গাড়িটা এগিয়ে চলেছে। দুজনে কোনো কথা বলছেন না। কুড়ি মিনিট কেটে গেছে। তারা ব্রুকলিন ব্রিজের কাছে এসে পড়লেন।

    –আমরা একটা হোটেলে যাব। ডায়ানা ড্রাইভারকে বললেন, আমি ঠিক জানি না।

    –একটা ভালো হোটেল? এখানে একটা আছে ম্যাডাম, ভালো লাগবে।

    অ্যাডামস হোটেলটা পাঁচতলা বাড়ির ওপর অবস্থিত। দেখতে মোটামুটি ভালোই।

    ট্যাক্সিটা ঢুকে গেল ভেতর দিকে। ড্রাইভার বলল- ঠিক আছে?

    ডায়ানা বললেন– হা, ঠিক আছে।

    কেলি কোনো কথা বললেন না।

    তারা ট্যাক্সি থেকে নেমে এলেন।

    দারোয়ান এগিয়ে এসে বলল- শুভ দিন মহিলারা। আপনারা কি ঢুকবেন?

    ডায়ানা বললেন- হ্যাঁ।

    লাগেজ কোথায়?

    ডায়ানা বললেন- এয়ার লাইন আমাদের জিনিস হারিয়ে ফেলেছে। এখানে কোনো জায়গা থেকে আমরা কিছু জিনিসপত্র কিনতে পারব কি? জামাকাপড়।

    -হ্যাঁ, কাছেই আছে। সুন্দর দোকান আছে। মেয়েদের জামাকাপড় পাওয়া যায়। আগে এখানে বসুন, তারপর না হয় সোজাসুজি কিনতে যাবেন।

    -ঠিক আছে, আগে একটা ঘর দিন তো।

    কোনো সমস্যা হবে না।

    .

    হোটেল ডেস্কের পাশে যে ক্লার্ক বসেছিলেন, তিনি একটা রেজিস্ট্রেশন ফর্ম দিলেন। কেলি সই করলেন, চিৎকার করে বললেন- এমিলি ব্রনটে।

    ডায়ানা ওই ক্লার্কের দিকে তাকালেন- হা, তিনি কিছুই বুঝতে পারছেন না।

    ডায়ানা লিখলেন ম্যারি ক্যাসাট।

    ক্লার্ক রেজিস্ট্রেশন ফর্মটা হাতে নিয়ে বললেন- ক্রেডিট কার্ড দেবেন কি?

    –হ্যাঁ।

    না, ডায়ানা সঙ্গে সঙ্গে বললেন।

    কেলি তাকালেন।

    লাগেজ?

    আসছে।

    –৫১৫ নম্বর ঘর।

    ক্লার্ক দেখলেন, দুটো অসাধারণ সুন্দরী, কিন্তু একাকিনী, সৌন্দর্যের কী অপচয়!

    .

    মাদাম শপটা চমৎকার। মেয়েদের জামাকাপড় পাওয়া যায়। কত রকমের। হ্যান্ডব্যাগ এবং স্যুটকেসও আছে।

    কেলি সে দিকে তাকিয়ে বললেন- পছন্দসই জামাকাপড় কিনতে হবে।

    সেলসলেডি জিজ্ঞাসা করল– আমি কি সাহায্য করব?

    ডায়ানা বললেন না। আমরা উইন্ডো শপিং করতে বেরিয়েছি।

    কেলি বললেন- এই দেখুন এই মোজাগুলো দারুণ সুন্দর দেখতে।

    -প্যান্টিগুলো?

    ব্রা?

    –স্লিভ?

    অনেক-অনেক জিনিস কেনা হল। বাইরের পোশাক এবং অর্ন্তবাস

    সেলসলেডি তখনও বলছেন- আমি কি সাহায্য করব?

    সে বোঝাগুলো হাতে তুলে নিল। ডায়ানা এবং কেলি নীচের দিকে নামার চেষ্টা করছেন।

    অনেকগুলো স্ট্রাগ একটা র‍্যাকে আছে। ডায়ানার চারটে পছন্দ হল।

    এতক্ষণ বাদে বাজার করা শেষ হল।

    .

    সেলসওম্যান অবাক হয়ে গেছে। কেলি এবং ডায়ানা সব জায়গাতেই ঘুরে বেড়াচ্ছেন। সব কিছু কেনা শেষ হয়ে গেল। চারটে সুটকেস ভর্তি জামাকাপড়।

    কেলি বললেন– অনেক দিন আর জামাকাপড় কিনতে হবে না।

    ক্যাশিয়ার প্রশ্ন করল– ক্যাশ, নাকি ক্রেডিট কার্ড?

    -ক্রেডিট, কেলি বলছিলেন, ডায়ানা বললেন, ক্যাশ।

    পার্স খোলা হল, বিল ভাগ করা হল। দুজনেই বুঝতে পারলেন, ক্যাশ ক্রমশ কমে আসছে।

    কেলি ক্যাশিয়ারকে বললেন- আমরা অ্যাডামসে আছি।

    –ওখানে জিনিস পৌঁছে দেব? আপনার নাম কী?

    –শার্লক ব্রনটে।

    –এমিলি ব্রনটে।

    ক্যাশিয়ার তাঁদের দিকে তাকিয়ে থাকলেন। অদ্ভুত একটা অভিব্যক্তি।

    আপনাদের নাম কী?

    ডায়ানার মন পাল্টে গেছে। কী নাম সই করেছিলেন- জর্জিয়া ওবিপি? ফ্রিডা কাহোলো? জুয়ান মিডসেল?

    কেলি বললেন– ও হচ্ছে ম্যারি ক্যাসাট?

    .

    মাদামের দোকানের পাশে একটা প্রসাধন সামগ্রীর দোকান। সেখানে দুজনে ঢুকলেন।

    মাসকারা?

    ব্লাস?

    ট্রুথব্রাশ?

    টুথপেস্ট?

    –প্যান্টি লাইনার?

    লিপস্টিক?

    –হেয়ার ক্লিপ?

    –পাউডার।

    .

    ডায়ানা এবং কেলি হোটেলে পৌঁছে গেছেন। চারটে স্যুটকে ইতিমধ্যে ঘরে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে।

    কেটি বললেন- কোনটা আপনার আর কোনটা আমার, বুঝতে পারছি না।

    ডায়ানা বললেন কিছু আসে যায় না। এখানে আমরা হয়তো এক সপ্তাহ, কী দু সপ্তাহ থাক। তার মধ্যে সব কিছুই পরে দেখব।

    জিনিসগুলো সাজিয়ে রাখা হচ্ছে। ঠিক জায়গায় জিনিসগুলো রাখা হল।

    স্যুটকেসগুলো খালি হয়ে গেল, সব কিছু সঠিক জায়গায় পৌঁছে গেছে। ডায়ানা জুতো পরলেন, সুন্দরভাবে সাজলেন।

    বাঃ, চমৎকার দেখাচ্ছে। আপনি কী পোশাক পরবেন, আমি বুঝতে পারছি না। আমি কিন্তু এখানেই ডিনার খাব। তারপর চান করব। আজ আর এখান থেকে নড়ছি না।

    সুন্দর মুখের এক কাজের মেয়ে এসেছে। সে ভোয়ালে নিয়ে এসেছে।

    দু-মিনিট কেটে গেছে। বাথরুম থেকে বেরিয়ে এসে মেয়েটি বলল– কোনো কিছু দরকার হলে নিশ্চয়ই ফোন করবেন। সন্ধ্যেটা ভালো কাটুক।

    ডায়ানা একটা হাউস ম্যাগাজিনের ওপর চোখ বোলাচ্ছিলেন। বেডসাইডের পাশে সেটা পড়ে আছে।

    –আপনি কি জানেন এই হোটেলটা কোন্ বছরে তৈরি হয়েছিল।

    কেলি বললেন- পোশাক পরা উচিত। আমরা বেরোব।

    -এটা তৈরি হয়েছিল…

    পোশাক পরে নিন, এখান থেকে বেরোতে হবে।

    ডায়ানা বললেন– এটা কি একটা মজার ব্যাপার?

    না, আমার মনে হচ্ছে, ভয়ংকর কিছু একটা ঘটবে।

    চোখে মুখে আতঙ্কের ছাপ। ডায়ানা অবাক কী ঘটতে চলেছে?

    এক্ষুনি আমাদের বেরোতে হবে। না হলে মৃত্যু অনিবার্য।

    –কেলি? আপনি শান্ত হবার চেষ্টা করুন।

    না, ডায়ানা, অনুগ্রহ করে বেরিয়ে আসুন।

    ডায়ানা বুঝতে পারছেন না, কেলি কেন এমন আচরণ করছেন?

    -ঠিক আছে, আমরা জিনিসপত্র গুছিয়ে নিচ্ছি।

    না, সব কিছু রেখে যান।

    ডায়ানা অবাক– এইমাত্র জিনিসগুলো কেনা হল।

    তাড়াতাড়ি।

    –ঠিক আছে, ডায়ানা পোশাক পরছিলেন। তিনি ভাবলেন, এখন কোথায় যাব?

    আবার আর্তনাদের শব্দ– তাড়াতাড়ি।

    ডায়ানা পোশাক পরা শেষ করলেন। –আরও তাড়াতাড়ি।

    তারা পার্স হাতে নিলেন। দরজা দিয়ে বেরিয়ে এলেন।

    তখন তারা লবিতে পৌঁছে গেছেন, ডায়ানাকে ছুটতে হল।-কেলিকে ধরার জন্য। কেলিকে প্রশ্ন করলেন- আমরা এখন কোথায় যাব?

    –এখানে একটা পার্ক আছে, সেখানে বসব।

    তারা বেঞ্চে বসলেন।

    –আমরা এখন কী করব?

    ডায়ানার প্রশ্ন।

    এক মুহূর্ত। হোটেলের মধ্যে বিস্ফোরণের শব্দ। ডায়ানা এবং কেলি অবাক হয়ে দেখলেন, জানালা দরজা সব কিছুতে আগুন লেগে গেল। যে ঘরে একটু আগে তারা ছিলেন, সেটা একটা ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে।

    ডায়ানার চোখে অবিশ্বাস। এইভাবে যে প্রাণ বাঁচতে পারে, তিনি ভাবতেই পারেন নি।

    তার চোখে মুখে আতঙ্ক। একটা বোমা? আমাদের ঘরে রাখা হয়েছে? কিন্তু আপনি কী করে বুঝলেন?

    –ওই কাজের মেয়েটি।

    –হ্যাঁ, তাই কি?

    –হোটেলে যে মেয়েরা কাজ করে, তারা কী চারশো ডলারের জুতো পরতে পারে?

    –সে কী করে আমাদের চিনতে পারল?

    আমি জানি না, কেলি বললেন। কিন্তু ব্যাপারটা তো ঘটল চোখের সামনে।

    তাঁরা ওখানে বসে আছেন, সমস্ত শরীরে আতঙ্ক।

    ট্যানার কিংসলে বোধহয় হয় এই ব্যাপারটা করেছেন।

    কেলি মাথা নেড়ে বলল-না, এবার ভাবতে হবে, উনি কি আপনাকে কিছু দিয়েছিলেন?

    -না।

    কার্ড! তারা পার্স খুললেন। বিজনেস কার্ডটা নিলেন।

    ডায়ানা সেটাকে ছেঁড়ার চেষ্টা করছিলেন, বাঁকাতে পারলেন না। তিনি বললেন- এটার মধ্যে একটা চিপ ভরা আছে।

    কেলি বললেন- আমারটাতেও একই অবস্থা।

    তাহলে? এবার কী করা যায়?

    ডায়ানা রাস্তার ধারে কার্ডটা ফেলে দিলেন। কিছুক্ষণের মধ্যেই গাড়ি আর ট্রাক কার্ডটাকে চাপা দিল।

    কেলি একই কাজ করলেন। সাইরেনের শব্দ শোনা গেল।

    কেলি বললেন- আমরা এখান থেকে চলে যাব ডায়ানা, এখানে থাকাটা ঠিক হবে না। আমি প্যারিসে চলে যাব। আপনি কী করবেন?

    এটা কেন ঘটল?

    –আরও সাবধানে থাকবেন।

    –আপনিও থাকবেন, কেলি, আপনি আমার জীবন বাঁচিয়েছেন।

    কেলি বললেন, আমি আপনাকে মিথ্যে বুঝেছিলাম।

    -কোন্ বিষয়ে?

    আপনার শিল্পকলা সম্পর্কে আমি ভালোবেসেছিলাম। ভারী সুন্দর।

    ডায়ানার মুখে হাসি ধন্যবাদ। আপনার সাথে ব্যবহারটা খারাপ হয়ে গিয়েছিল।

    ডায়ানা?

    কী?

    –আমি এমন আচরণ করেছি বলে দুঃখিত।

    ডায়ানা হাসলেন, দুজনে হাতে হাত দিলেন।

    ডায়ানা বললেন দেখা হওয়ার জন্য ভালো লাগছে।

    –আমারও ভালো লাগছে।

    তারপর? তারা কেউ বিদায় সম্ভাষণ জানাতে পারলেন না।

    ডায়ানা বললেন- এই হল আমার সেল নাম্বার, যদি কখনও প্রয়োজন হয়, তাহলে অবশ্যই ফোন করবেন।

    কেলি বললেন– এটা আমার নাম্বার।

    আবার গুডবাই।

    ডায়ানা বললেন- শেষবারের মতো গুডবাই।

    ডায়ানা দেখলেন কেলি চলে যাচ্ছেন। কেলি চোখের বাইরে চলে গেলেন। ডায়ানা অন্ধকারের দিকে তাকিয়ে থাকলেন। কী আশ্চর্য, মৃত্যুর কিনারা থেকে জীবনের উদ্যান সব কিছুই সম্ভব হয়েছে কেলির জন্য।

    .

    ২৯.

    ক্যাথি অরডোনেট ট্যানার কিংসলের অফিসের মধ্যে ঢুকে পড়েছেন, সকালের কাগজ হাতে। এটা আবার ঘটছে, উনি বলছেন।

    বড়ো বড়ো জার্মান শহরে কুয়াশার আক্রমণ। সুইস এয়ারপোর্টে কুয়াশার আক্রমণ। রোমে কুয়াশার ফলে মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে গেছে।

    ক্যাথি বললেন- এগুলো কি সেনেটর ভ্যান রুবেনের কাছে পাঠাতে হবে নাকি?

    ট্যানার বললেন- এক্ষুনি।

    ক্যাথি কাজ করতে শুরু করলেন।

    ট্যানার তার হাতঘড়ির দিকে তাকালেন। মুখে হাসি বোমটা নিশ্চয়ই ফেটে গেছে। কুকুরির বাচ্চারা এখন আর বেঁচে নেই।

    সেক্রেটারির কণ্ঠস্বর ইন্টারকমে– মিঃ কিংসলে, সেনেটর ভ্যান রুবেন আপনার সঙ্গে কথা বলতে চাইছেন?

    -হা, আমি কথা বলব।

    ফোনটা হাতে নিয়ে ট্যানার বললেন আমি ট্যানার কিংসলে বলছি।

    হালো মিঃ কিংসলে, আমি সেনেটর ভ্যান রুবেন।

    –শুভ সন্ধ্যা সেনেটর।

    –আমার সহকারীরা অনেক কথা বলেছে। আমি আপনার কাছে এসে গেছি, হেড কোয়ার্টারের কাছে। আপনি কি একটু সময় দেবেন?

    –অবশ্যই, ট্যানার উৎসাহব্যঞ্জক স্বরে বললেন, সেনেটর আপনার অপেক্ষাতে বসে আছি।

    –আমি এক্ষুনি পৌঁছে যাচ্ছি

    ট্যানার ইন্টারকমের বোতাম টিপে বললেন আমার কয়েকজন মাননীয় ব্যক্তি আসছেন। এখন আর কোনো ফোন আমাকে দেবেন না।

    খবরের কাগজের পাতায় একটা শোক সংবাদ পড়েছিলেন ট্যানার, সেনেটর ভ্যান রুবেনের স্বামীর মৃত্যু হয়েছে। হার্ট অ্যাটাকে। আমি প্রথমেই আমার শোক জ্ঞাপন করব।

    .

    পনেরো মিনিট কেটে গেছে, সেনেটর ভ্যান রুবেন এবং তার দুজন আকর্ষণীয়া তরুণী সহকারিনী প্রবেশ করলেন।

    ট্যানার উঠে দাঁড়িয়ে স্বাগত সম্ভাষণ জানিয়ে বললেন আপনারা যে আসতে মনস্থ করেছেন, এজন্য আমি আমার আন্তরিক অভিনন্দন জ্ঞাপন করছি।

    সেনেটর ভ্যান রুবেন মাথা নেড়ে বললেন- আপনার নিশ্চয়ই কোরিনে মারফি আর ক্যারোলি ক্ৰশকে মনে আছে।

    ট্যানার হাসলেন হ্যাঁ, আপনারা আবার এসেছেন, আমার যে কী ভালো লাগছে।

    তিনি সেনেটরের দিকে তাকিয়ে বললেন- আপনার স্বামীর মৃত্যু সংবাদ শুনেছি। খুবই খারাপ লেগেছে।

    সেনেটর ভ্যান রুবেন মাথা নেড়ে বললেন- ধন্যবাদ, অনেক দিন ধরে উনি অসুস্থ ছিলেন, শেষ পর্যন্ত কয়েক সপ্তাহ আগে… তিনি হাসার চেষ্টা করনেল, গ্লোবাল ওয়ার্মিং সম্পর্কে আপনি যে সমস্ত খবর পাঠিয়েছেন, সেগুলো খুবই চমৎকার।

    ধন্যবাদ।

    –আপনি কি আপনার পরীক্ষাটা একবার দেখাবেন?

    –অবশ্যই। আপনি কতক্ষণ সময় দেবেন? পাঁচ ঘণ্টা সময় দিলে হতে পারে। যদি সময় কম থাকে, তাহলে দেড় ঘণ্টা সময় লাগবে।

    কোরিনে মারফি বললেন- পাঁচ ঘণ্টা হলেই তো ভালো হয়।

    সেনেটর ভ্যান রুবেন বাধা দিয়ে বললেন– আমরা দেড় ঘন্টার জন্য থাকতে পারি।

    -ঠিক আছে।

    –আপনার সংস্থার সাথে কতজন মানুষ যুক্ত আছেন?

    প্রায় দু-হাজার মানুষ। আমরা অনেকগুলো দেশে আমাদের শাখা খুলেছি। সারা পৃথিবীতে আমাদের সংগঠন ছড়িয়ে পড়েছে।

    কোরিনে মারফি এবং ক্যারোলিন ক্রশকে মনে হল, তাঁরা এই কথা শুনে খুবই প্রভাবিত হয়েছেন।

    .

    এখানে পাঁচশো জন কর্মচারী কাজ করেন। স্টাফ মেম্বার এবং রিসার্চ ফেলোদের জন্য আলাদা থাকার ব্যবস্থা আছে। প্রত্যেক বিজ্ঞানীর হাতে আরও কিছু সহকারী আছেন।

    কোরিনে মারফি অবাক হয়ে গেছেন। সত্যি ব্যবস্থাপনা অসাধারণ।

    সেনেটর ভ্যান রুবেন তাকিয়ে আছেন।

    ট্যানার বললেন আপনারা আমাকে অনুসরণ করুন।

    .

    সেনেটর এবং মারফি ক্রশ ট্যানারকে অনুসরণ করে পাশের দরজা দিয়ে সামনের দিকে চলে গেলেন। আর একটা বাড়ি। ট্যানার একটির পর একটি যন্ত্র দেখাচ্ছেন।

    সেনেটর ভ্যান রুবেন সবকিছু ভালোভাবে দেখছেন। কোন্ যন্ত্র কী কাজ করে, জানার চেষ্টা করছেন।

    একটা যন্ত্রের মাধ্যমে শব্দকে গতিতে পরিণত করা হয়। বিভিন্ন শব্দের উৎস এবং বিশ্লেষণ তার দ্বারা সম্ভব হয়।

    বিজ্ঞানের জটিল বিষয়। শেষ পর্যন্ত সবকিছু দেখা শেষ হল।

    .

    দরজা বন্ধ হয়ে গেল। ক্যাথি অরডোনেটের কণ্ঠস্বর ভেসে এল ইন্টারকমে– মিঃ কিংসলে, সাইদা হারনেনডেজ আপনাকে ফোন করার চেষ্টা করেছে। ব্যাপারটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু আপনি ফোন করতে বারণ করেছিলেন।

    ট্যানার বললেন- এক্ষুনি দিন।

    সাইদা হারনেসডেজ হল সেই মেয়েটি, যাকে অ্যাডমস হোটেলে পাঠানো হয়েছিল ঘরে বোম রাখার জন্য।

    -লাইন ওয়ান।

    ট্যানার ফোন টেনে নিলেন, ভালো খবর আছে বোধহয়।

    -সাইদা, খবর কী?

    আমি দুঃখিত মিঃ কিংসলে, ওঁরা চলে গেছেন।

    ট্যানারের পা থেকে মাথা অব্দি রাগে জ্বলছে- কী বলছ তুমি?

    -হ্যাঁ, স্যার। বোমটা ফাটার একটু আগেই ওঁরা বেরিয়ে গেছেন। একজন বেলম্যান ওঁদের হোটেল লবিতে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখেছে।

    ট্যানার অবাক হয়ে গেলেন। তিনি ফোনটা নামিয়ে দিলেন। সেক্রেটারিকে বললেন, ফ্লিন্ট আর কারবালোকে এক্ষুনি ডেকে পাঠাও।

    এক মিনিট কেটে গেছে। হ্যারি ক্লিন্ট এবং ভিনসে কারবালো ট্যানারের অফিসে প্রবেশ করেছে। ট্যানার ওই দুই মানুষের দিকে তাকালেন। সমস্ত শরীর রাগে থরথর করে কাঁপছে। কী হল? ওরা আরো একবার বাঁচল কী করে? এটাই শেষ সুযোগ। আমি কিন্তু আর ক্ষমা করব না। তোমরা বুঝতে পেরেছ? ওরা কোথায় আছে, আমি এখনই বলছি। এক্ষুনি শেষ করতে হবে হিসাব-নিকাশ। কোনো প্রশ্ন?

    ফ্লিন্ট এবং কারবালো পরস্পরের মুখ চাওয়া-চাওয়ি করে বলল– না, স্যার।

    ট্যানার একটা বোতাম টিপলেন। ইলেকট্রনিক্স সিটি ম্যাপটা চোখের সামনে ফুটে উঠল।

    -ওদের হাতে আমার কার্ড আছে। আমি এখনই খুঁজে বের করছি।

    সকলে মিলে ইলেকট্রনিক লাইটের দিকে তাকালেন। টেলিভিশন স্ক্রিন ম্যাপের ওপর আলো জ্বলে উঠেছে, ট্যানার আর একটা বোল টিপলেন। কী আশ্চর্য! লাইটগুলো কোথাও নড়াচড়া করছে না কেন?

    ট্যানার দাঁতে দাঁত চেপে বসে আছেন।

    তার মানে? ওরা কার্ডগুলো ফেলে দিয়েছে। আমি চাইছি, আজই ওদের হত্যা করতে।

    ফ্লিন্ট এবার ট্যানারের দিকে তাকিয়ে অসহায় আর্তনাদ করে বলে উঠল- স্যার, যদি জানতে পারি, তাহলে কী করে মারব?

    ট্যানার বললেন– এ কী কথা বলছ? সামান্য দুই অসহায়া ভদ্রমহিলাকে মারতে পারবে? তাদের হাতে সেলফোন আছে। তারা কী করে অন্য জায়গায় যাবে? ধরা তাদের পড়তেই হবে।

    ফোন নাম্বার আছে? ফ্লিন্ট জিজ্ঞাসা করলেন।

    ট্যানার উত্তর দেওয়ার চেষ্টা করলেন না। তিনি আবার মানচিত্রের দিকে তাকালেন।

    -মনে হচ্ছে, ওরা বোধহয় আলাদা হয়ে গেছে। আগে আমরা ডায়ানা স্টিভেন্সকে লক্ষ্য করার চেষ্টা করব।

    ট্যানার একটা ফোন নম্বরে ডায়াল করলেন।

    আলো জ্বলে উঠল। ধীরে ধীরে ম্যানহাট্টন সিটির দিকে আলো এগিয়ে চলেছে। একটার পর একটা দোকান, ব্যাঙ্ক, শেষ পর্যন্ত আলোটা একটা বাড়ির সামনে এসে থেমে গেল। লেখা আছে নেলসন গ্যালারি।

    ডায়ানা স্টিভেন্স এখন একটা গ্যালারিতে আছে। ট্যানার আর একটা বোতাম টিপলেন। দেখা যাক কেলি হ্যারিস কোথায় আছে?

    আলোটা আবার ঘুরতে শুরু করেছে। সেটা শহরের অন্য প্রান্তে পৌঁছে গেল।

    দুজন অবাক হয়ে এই কাণ্ড-কারখানা দেখছিল। তারা বুঝতে পারল এটা শহরের একটা প্রাচীন অঞ্চল। এখানে একটা জামাকাপড়ের দোকান আছে, একটা রেস্টুরেন্ট, একটা ওষুধের দোকান, বাসস্টেশন। আলো চারপাশে ঘুরছে। একটা ফাঁকা মাঠে এসে থেমে গেল। তারপর বাড়ির সামনে।

    -কেলি এখন বাসস্টেশনে আছে, ট্যানারের কণ্ঠস্বর শান্ত। ওদের দুজনকে তাড়াতাড়ি ধরতে হবে। সময় কিন্তু ক্রমশ কমে আসছে।

    কারবালো প্রশ্ন করল তারা শহরের দুপ্রান্তে। আমরা কী করে শহরের দুজায়গায় ছুটব?

    ট্যানার বললেন আমার সঙ্গে এসো৷ ফ্লিন্ট এবং কারবালা তাকে অনুসরণ করল। ঘরটাতে অনেকগুলো মনিটর আছে, কম্পিউটার আছে, ইলেকট্রনিক কী-বোর্ড। একটা শেলফের ওপরে মেশিন রয়েছে। অনেকগুলো কমপ্যাক্ট ডিস্ক। ডিভিডি। ট্যানার সবগুলো দেখলেন- ডায়ানা স্টিভেনসের নাম লেখা একটা ডিভিডি। মেশিনে চালিয়ে দিলেন।

    তিনি বোঝাবার চেষ্টা করলেন– এটা হল ভয়েস সিনথ্রেসাইজার। ডায়ানা স্টিভেন্স এবং কেলি হ্যারিসের কণ্ঠস্বরকে আলাদা সাংকেতিক চিহ্নে চিহ্নিত করা হয়েছে। তারা কীভাবে কথা বলে, সব রেকর্ড করা আছে। একটা বোম টিপলে বুঝতে পারা যাবে।

    ট্যানার একটা সেলফোনকে টিপলেন।

    একটা কথা ভেসে উঠল– হ্যালো?

    এটা কেলি হ্যারিসের কণ্ঠস্বর।

    -কেলি, তোমাকে পেয়েছি, আমার ভালো লাগছে। ট্যানারের কণ্ঠস্বর। কিন্তু ডায়ানা স্টিভেন্সের কণ্ঠস্বর শোনা গেল।

    -ডায়ানা, তুমি এখনই এসো না, আমি এখান থেকে চলে যাবার চেষ্টা করছি।

    ফ্লিন্ট এবং কারবালো দাঁড়িয়ে আছে।

    –তুমি কোথায় কেলি?

    –শিকাগো। আমি সেখান থেকে প্লেন ধরে বাড়ি চলে যাব।

    –কেলি, তুমি এখন যেতে পারো না।

    এক মুহূর্তের নীরবতা- কেন?

    ঘটনাটা কী? আমি জানতে পেরেছি। আমি জানতে পেরেছি, তারা আমাদের স্বামীকে হত্যা করেছে এবং কেন?

    –হ্যায় ঈশ্বর, তুমি কি ঠিক বলছ?

    –আমার কাছে সমস্ত সাক্ষ্য প্রমাণ আছে।

    ডায়ানা, ব্যাপারটা সত্যি।

    -সব প্রমাণ আমি রেখে দিয়েছি। আমি ডেলমন্ড হোটেলে আছি, পেন্ট হাউসে। এখান থেকে আমি এফ বি আই-র কাছে পৌঁছে যাব। তুমি আমার সঙ্গে চলল। তুমি যদি বাড়ি চলে যাও, তাহলে অবস্থা হাতের বাইরে চলে যাবে।

    না-না, আমি তোমাকে সাহায্য করতে চাই। মার্কের হত্যাকারীকে বার করতে হবে।

    ফ্লিন্ট এবং কারবালো প্রতিটা শব্দ শুনতে পেল। তারা এখনই শিকাগোতে চলে যাবে।

    –আমি তোমার সঙ্গে যাব। ডায়ানা। ডেলমন্ড হোটেল, তাই তো?

    হা, ৮৬ নম্বর স্ট্রিট, পেন্ট হাউস এ।

    –আমি বেরিয়ে পড়েছি। কিছুক্ষণের মধ্যে পৌঁছে যাব।

    কথাবার্তা বন্ধ হয়ে গেল।

    ট্যানার ফ্লিন্ট এবং কারবালোর দিকে তাকিয়ে বললেন- আজকের সমস্যার সমাধান হয়ে গেল। বাকিটা তোমাদের হাতে ছেড়ে দিতে বাধ্য হচ্ছি।

    ফ্লিন্ট এবং কারবালো ট্যানারের দিকে তাকালেন। ট্যানার আর একটা কমপ্যাক্ট ডিস্ক ঢুকিয়ে দিয়েছেন। লেখা আছে কেলি হ্যারিস। ট্যানার একটা সুইচের আলো জ্বেলে দিলেন।

    কেলির কণ্ঠস্বর শোনা গেল সঙ্গে সঙ্গে হ্যালো।

    ট্যানার অনেক কথা বলছেন। কিন্তু কেলির গলা শোনা যাচ্ছে।

    –ডায়ানা?

    –কেলি, তুমি ঠিক আছে।

    –আমি ঠিকই আছি। একটা ভালো খবর আছে। আমি জানতে পেরেছি যে, আমার স্বামীকে হত্য কে করেছে এবং কেন?

    -কী বললে?

    -হ্যাঁ, এত কথা ফোনে বলতে পারছি না ডায়ানা, আমি ডেলমন্ড হোটেলে আছি। ৮৬ নম্বর স্ট্রিট, পেন্ট হাউস এ। তুমি টী আমার সঙ্গে দেখা করতে পারো।

    –অবশ্যই। আমি এখুনি আসছি।

    দারুণ ভালো লাগছে ডায়ানা। আমি অপেক্ষা করব।

    ট্যানার বোতামটাই টিপে দিলেন, ফ্লিন্টের দিকে তাকিয়ে বললেন- এবার যেতে কোন অসুবিধা হবে না। এটা হল পেন্ট হাউস এ-র চাবি। এটা আমাদের কোম্পানির নিজস্ব সুইট। এখনই সেখানে চলে যাও। ওরা দুজন অপেক্ষা করবে। সেখানে একসঙ্গে দুজনকে মারতে হবে, ওরা যে দরজা দিয়ে ঢুকবে। সঙ্গে সঙ্গে। মৃতদেহের সৎকার করো সাবধানে।

    কারবালো এবং ট্যানার ফ্লিন্টের দিকে তাকিয়ে থাকল।

    কারবালো বলল– মিঃ কিংসলে, আমি এখন কী করব?

    -তোমার ওপর একটা দায়িত্বপূর্ণ কাজ দেওয়া আছে। তুমি যাও, সাইদা হারনেডেজের দায়িত্ব নাও।

    .

    পেন্ট হাউস-এ, ফ্লিন্ট অপেক্ষা করছে। এবার তাকে জিততেই হবে। বারবার পরাজয়ের গ্লানি সে আর বহন করতে পারবে না। হাতে উদ্যত বন্দুক। ব্যারেল পরীক্ষা করা হয়েছে। সাইলেনসার লাগানো আছে। এখন শুধু অপেক্ষা।

    ট্যাক্সি, ছটা ব্লক পরে অবস্থিত। কেলি হ্যারিসের মন পাল্টে গেছে। উত্তেজনায় টগবগ করে ফুটছেন তিনি। ডায়ানার কথা তাকে অবাক করে দিয়েছে আমাদের স্বামীদের কে হত্যা করেছে জানতে পেরেছি। হাতে সাক্ষ্য প্রমাণ আছে।

    ডায়ানা অধৈর্য, দুঃস্বপ্নটা কী শেষ হল। কেলি এই গুরুত্বপূর্ণ আবিষ্কারটা করেছেন। আমি এখনই দেখা করব।

    ডায়ানার স্বপ্ন ভেঙে গেল। ট্যাক্সি ড্রাইভার বলল, ম্যাডাম, আমরা ডেলমন্ড হোটেলে পৌঁছে গেছি।

    .

    ৩০.

    ডায়ানা ডেলমন্ড হোটেল লবিতে পৌঁছে গেছেন। এলিভেটরের দিকে হেঁটে চলেছেন। হৃৎপিণ্ড স্পন্দন দ্রুততর হয়েছে। তিনি আর অপেক্ষা করতে পারছেন না। কেলির কথা শুনতেই হবে।

    এলিভেটরের দরজা খুলে গেল। যাত্রীরা বাইরে বেরিয়ে আসতে শুরু করেছেন।

    -এটা কি ওপরে যাচ্ছে?

    –হ্যাঁ।

    ডায়ানা ভেতরে ঢুকে গেলেন। পেন্টহাউস যাবেন তিনি। মনটা পক্ষিরাজের মতো ছুটে চলেছে।

    আরও মানুষের ভিড়। এলিভেটরের দরজাটা বন্ধ হয়ে গেল। এটা ওপরে উঠছে। ডায়ানা। কেলিকে কিছুক্ষণ আগে দেখেছিলেন। আবার কেলির সঙ্গে দেখা হবে স্বপ্নেও ভাবতে পারেন নি।

    বেশ কয়েকটা জায়গায় এলিভেটরটা থামল। অপারেটর দরজা খুলে বললেন– পেন্টহাউস ফ্লোর।

    .

    পেন্ট হাউসের লিভিংরুমের ভেতরে ফ্লিন্ট বসে আছে। দরজা বন্ধ করে। হলওয়ের শব্দ শোনার চেষ্টা করছে। দরজাটা খুবই মোটা। বাইরের শব্দ যাতে ভেতরে না আসতে পারে, তার জন্যই এ ব্যবস্থা করা হয়েছে।

    ব্যাপারটা খুবই উদ্বেগজনক। ফ্লি

    ন্ট ভাবল।

    মাঝে মধ্যে এখানে বোর্ডরুমের মিটিং হয়, ফ্লিন্ট আর থাকতে চাইছে না। সময় চলে যাচ্ছে, ট্যানারও কে আই জি-র ম্যানেজারদের এখানে ডেকে পাঠান। বিভিন্ন দেশ থেকে তারা আসেন।

    হ্যারি ক্লিন্ট শেষ পর্যন্ত অধৈর্য হয়ে উঠেছে। আগে ফ্লিন্ট কোনো রমণীকে ধর্ষণ করে হত্যা করেনি। এবার ব্যাপারটা বোধহয় অন্যরকম হতে চলেছে। যদি মেয়েটা আগে মরে যায়, তাহলে উপভোগ করবে কেমন করে।

    .

    ডায়ানা এলিভেটরের বাইরে এলেন। জিজ্ঞাসা করলেন পেন্ট হাউস কোথায়?

    বাঁদিকে, করিডরের শেষ প্রান্তে। ওখানে কিন্তু কেউ নেই।

    ডায়ানা অবাক সে কী?

    –পেন্ট হাউসটা মাঝে মধ্যে বোর্ড মিটিং-এর জন্য নেওয়া হয়। সেপ্টেম্বরের আগে কোনো মিটিং নেই।

    ডায়ানা হাসলেন। আমি তো বোর্ড মিটিং-এ যাব না। আমার এক বান্ধবী সেখানে আসবে।

    এলিভেটর অপারেটর অবাক হয়ে ডায়ানার দিকে তাকিয়ে আছেন। ডায়ানা বাঁদিকে দেখলেন। পেন্টহাউস এ-র দিকে এগিয়ে গেলেন। উনি কাঁধ ঝাঁকিয়ে এলিভেটরের দরজা বন্ধ করলেন। এটা এখন নীচের দিকে নেমে যাবে।

    ডায়ানা একপা- একপা করে পেন্টহাউস দরজার দিকে এগিয়ে চলেছেন। এবার তাকে আরও তাড়াতাড়ি যেতে হবে।

    .

    পেন্টহাউস-এর মধ্যে ফ্লিন্ট অপেক্ষা করছে। দরজায় শব্দ হলেই সে ঝাঁপিয়ে পড়বে। কে আগে আসবে? সোনালি চুল, নাকি কালো মুখ? তাতে কিছু এসে যায় না।

    ফ্লিন্ট ভাবল, এবার বোধহয় শব্দ শোনা যাবে। হাতের মুঠোটা সে আরও শক্ত করল।

    .

    কেলি তার ধৈর্যকে আর ধরে রাখতে পারছেন না। ডেলমন্ড হোটেলে পৌঁছে গেছেন। ট্রাফিকের ঝামেলা। লাল আলোর নিষেধ, রাস্তা সাড়ানো হচ্ছে। হ্যাঁ, একটু দেরি হয়েছে। লবিতে এসে উনি বললেন, পেন্ট হাউস প্লিজ।

    .

    পঞ্চদশতলা, ডায়ানা পেন্ট হাউস-এর দিকে এগিয়ে গেছেন। পাশের সুইটের দরজাটা খুলে গেল। একজন বেলম্যান বেরিয়ে এসেছে। সে করিডরে এসে দাঁড়াল। তার হাতে একটা মস্ত বড় বাক্স। ডায়ানা যেতে পারছেন না।

    আমি এখনই সরে যাচ্ছি। ছেলেটি বলল।

    সে সুইটের মধ্যে ঢুকে গেল। আরও দুটো স্যুটকেস নিয়ে বেরিয়ে এসেছে। ডায়ানা যাবার চেষ্টা করলেন। না, যাবার কোনো উপায় নেই।

    বেলম্যান বলল- ভীষণ দুঃখিত। সে লাগেজ নিয়ে সামনে এগিয়ে চলেছে।

    ডায়ানা পেন্ট হাউসের দিকে এগিয়ে গেলেন। হাত বাড়িয়ে দিলেন। এখনই তিনি দরজাতে হাত দেবেন।

    সঙ্গে সঙ্গে চিৎকার- ডায়ানা?

    ডায়ানা তাকালেন। কেলি সিঁড়ি দিয়ে উঠে আসছেন।

    -কেলি!

    ডায়না ছুটে এলেন। হলের দিকে। কেলিকে জড়িয়ে ধরবেন বলে।

    পেন্টহাউসের মধ্যে হ্যারি ক্লিন্ট বাইরের শব্দ শুনতে পাচ্ছে না। সে দরজাটা এখন খুলতেও পারবে না। তাহলে সব পরিকল্পনা নষ্ট হয়ে যাবে। বলা আছে ওদের তাড়াতাড়ি হত্যা করতে হবে।

    করিডরে কেলি এবং ডায়ানা দাঁড়িয়ে আছেন। একে অন্যকে দেখে আনন্দিত।

    কেলি বললেন আমার দেরি হয়ে গেল ডায়ানা। ট্রাফিক জ্যামে আটকে গিয়েছিলাম। আমি বাসে চড়ে শিকাগোর দিকে যাচ্ছিলাম। তুমি ভাগ্যিস ডেকে পাঠালে।

    ডায়ানা অবাক– সে কী? আমি তোমাকে ডেকে পাঠিয়েছি?

    -হ্যাঁ, তোমার ফোন কল পেলাম।

    –সে কী? আমি তো ডাকিনি। তুমিই তো আমাকে ডাকলে? তুমি বললে যে, তোমার হাতে এমন তথ্য আছে, যার দ্বারা…

    কেলির মুখে দুশ্চিন্তার ছাপ।

    –আমরা কিছুই বুঝতে পারছি না।

    তারা দুজন পেন্টহাউসের দিকে তাকালেন।

    তারা সিঁড়ি দিয়ে নীচে নেমে গেলেন। এলিভেটরে পৌঁছে গেলেন। হোটেল থেকে বাইরে চলে এলেন।

    ভেতরে হ্যারি ক্লিন্ট তখনও অপেক্ষা করে আছে। কী আশ্চর্য, ওই মেয়ে দুটোর হল কী?

    .

    ডায়ানা এবং কেলি একটা সাবওয়ে কারের ভেতর বসে আছেন।

    ডায়ানা বললেন– এটা তোমার গলা আমি স্পষ্ট বুঝতে পারছি।

    –এটাও তোমার গলা। মনে হচ্ছে ওরা বোধহয় আমাদের হত্যা করবেই। ওরা অক্টোপাসের মতো হাজারটা রক্তাক্ত বাহু বাড়িয়ে দিয়েছে।

    -হ্যাঁ, ওরা আমাদের ধরবেই।

    –আমরা কী করে বাইরে যাব? কিংসলের বিজনেস কার্ডটা ফেলে দিয়েছি। কিন্তু হাতে তো কিছুই নেই।

    মনে পড়ল, সেলফোন।

    কেলি বললেন- হ্যাঁ, ফোন নাম্বার গেল কী করে?

    নিউইয়র্কে সবই সম্ভব। সাবওয়েতেই থাকতে হবে। ডায়ানা পাশে তাকালেন। বললেন– ফোনগুলো এখানেই ফেলে দিতে হবে।

    ডায়ানা এবং কেলি দুজনে দুজনকে পর্যবেক্ষণ করছেন। একটা অ্যাডভারটিজমেন্ট দেখা গেল- হাসি মুখে কেলি দাঁড়িয়ে আছেন। হাতে মেয়েদের ঘড়ি।

    হায় ঈশ্বর, দরজা দিয়ে তারা দ্রুত বাইরে এলেন। পরবর্তী স্টপেজের জন্য অপেক্ষা করলেন।

    কেলি এক পুলিশের দিকে তাকিয়ে হাসলেন। তারপর ডায়ানার দিকে তাকিয়ে বললেন- এই ফোনগুলো আর রাখা উচিত হবে না।

    .

    পেন্ট হাউস-এ টেলিফোনের শব্দ। ক্লিন্ট ফোনটা ধরেছে।

    ট্যানার বললেন- এক ঘণ্টা হয়ে গেল। ওখানে কী হচ্ছে?

    –ওরা এখনও আসেনি।

    –সে কী?

    –আমি অপেক্ষা করছি।

    –অফিসে ফিরে এসো।

    ট্যানার বুঝতে পারছেন না, ব্যাপারটা কী করে হল। সব কিছু ঘটনাই ঠিক মতো এগিয়ে চলেছে। ট্যানার তার সেলফোনটা তুলে নিলেন। ডায়ানার সেল নাম্বারে ফোন করলেন।

    এ কী? একজন পুলিশের কণ্ঠস্বর? পুলিশের হাতে সেলফোনটা তুলে দেওয়া হয়েছে। বলা হয়েছে, কে? আজ রাতে এখানে দেখা করতে আসবে কী?

    মনে হল, কেউ বোধহয় ট্যানারের গালে একটা থাপ্পড় মেরেছে।

    .

    সাধারণ চেহারার একটা বোর্ডিং হাউস। ছোটো স্ট্রিট, ওয়ে সাইডে। ডায়ানা দেখতে পেলেন, লেখা আছে, ঘর খালি আছে। ডায়ানা বললেন, আমরা এখানেই খাব ড্রাইভার।

    বাড়িউলি ঘর খুলে দিল। অল্পবয়সি এক ভদ্রমহিলা। তিনি বললেন আমি একটা চমৎকার ঘর দেব, একরাতে ২৪ ডলার লাগবে। সঙ্গে ব্রেকফাস্টও পাবেন।

    কেলি চোখ বন্ধ করলেন। এই বোর্ডিং হাউসে থাকতে হবে। তিনি কখনও ভাবতেই পারেননি। কিন্তু কী আর করা যাবে?

    .

    পরের দিন সকালবেলা, ট্যানার ফ্লিন্ট এবং কারবালোর সঙ্গে বসে জরুরি বৈঠক করছেন। বলা হয়েছে, ওরা আমার বিজনেস কার্ড ফেলে দিয়েছে। টেলিফোনও ফেলে দিয়েছে।

    তার মানে? কী করে ধরব?

    ফ্লিন্টের আকুল জিজ্ঞাসা।

    ট্যানার বললেন– মিঃ ফ্লিন্ট যতদিন আমি বেঁচে আছি, ওদের ধরা দিতেই হবে।

    তারপর ট্যানার বললেন– ডায়ানা স্টিভেন্স এবং কেলি হ্যারিসকে এখানে আসতেই হবে, সোমবার সকালবেলা, এগারোটা বেজে পনেরো মিনিটে।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40 41
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleজেমস হেডলি চেজ রচনা সমগ্র ১ (অনুবাদ : পৃথ্বীরাজ সেন)
    Next Article সিডনি সেলডন রচনাসমগ্র ১ – ভাষান্তর : পৃথ্বীরাজ সেন

    Related Articles

    পৃথ্বীরাজ সেন

    আগাথা ক্রিস্টি রচনা সমগ্র ২ (অনুবাদ : নচিকেতা ঘোষ)

    September 16, 2025
    পৃথ্বীরাজ সেন

    আগাথা ক্রিস্টি রচনা সমগ্র ৩ (অনুবাদ : পৃথ্বীরাজ সেন)

    September 16, 2025
    পৃথ্বীরাজ সেন

    আগাথা ক্রিস্টি রচনা সমগ্র ৪ (অনুবাদ : পৃথ্বীরাজ সেন)

    September 16, 2025
    পৃথ্বীরাজ সেন

    অষ্টাদশ পুরাণ সমগ্র – পৃথ্বীরাজ সেন সম্পাদিত

    September 16, 2025
    পৃথ্বীরাজ সেন

    জেমস বন্ড সমগ্র – ইয়ান ফ্লেমিং

    September 16, 2025
    পৃথ্বীরাজ সেন

    বাংলার মাতৃসাধনা – পৃথ্বীরাজ সেন

    September 16, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Our Picks

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }