Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    সিডনি সেলডন রচনাসমগ্র ২ – ভাষান্তর : পৃথ্বীরাজ সেন

    পৃথ্বীরাজ সেন এক পাতা গল্প2083 Mins Read0
    ⤶

    ৫. রবার্ট স্মিথ নামে কেউ একজন

    ২১.

    সোমবার সকালবেলা আমার অ্যাসিস্ট্যান্ট ফোন করল মিঃ রবার্ট স্মিথ নামে কেউ একজন আপনার সঙ্গে কথা বলতে চাইছেন।

    আমি তার নাম শুনিনি।

    তার বয়স বছর তিরিশ, ছোট্ট চেহারা, দেখেই মনে হয়, কোনো অজ্ঞাতৃ ভয়ে ভীত।

    তিনি আমার সামনে কিছু প্রস্তাব দিলেন। এই প্রস্তাবটা অবশ্য আমাকে আনন্দ দিয়েছিল। বলা হয়েছিল আমাকে বাস্টার কিয়াটনের সঙ্গে কাজ করতে হবে। ওই ভদ্রলোককে ফিল্ম জগতের রাজা বলা হয়। তাকে চ্যাপলিনের সঙ্গে তুলনা করা হয়।

    প্রতিটি ছবিতে অসাধারণ অভিনয় করেন। ভাগ্য কি আবার পরিবর্তিত হতে চলেছে?

    আমি হার্ডম্যানের সঙ্গে দেখা করলাম। কাজটা আমাকে পেতেই হবে। নতুন কাজ, কাজটা নিয়ে আমি খুবই খুশি হয়েছিলাম।

    বাস্টার কিয়াটনের সঙ্গে পরিচয় হল। নির্বাক যুগে তিনি কতগুলো বিস্ময়কর শট দিয়েছিলেন। এখন আবার সবাক ছবিতে জমিয়ে অভিনয় করছেন।

    শ্যুটিং শুরু হল, ছোটো ছোটো কাজগুলো দারুণ হয়েছে।

    এর অন্তরালে যে রহস্য লুকিয়ে আছে, সেগুলো আমি জানতাম।

    অবশেষে একটা সমস্যা এসে দেখা দিল। এই সমস্যার সমাধান কী করে হবে? বলা হল, এপ্রিলের ২৭ তারিখ থেকে এই ছবিটা প্রদর্শিত হবে। কিন্তু ভালো চেন পাওয়া যাচ্ছে না। শেষ অব্দি এই সমস্যাটার সমাধান হয়ে গেল।

    এপ্রিল মাস এসেছে। জর্জিয়া এবং ম্যারিকে নিয়ে ইওরোপে যাব।

    দি বাস্টার কিয়াটন স্টোরি সমালোচকদের সপ্রশংস দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। মনটা তখন খুশিতে উদ্বেল হয়ে উঠেছে।

    শুরু হল আমার যাত্রা। পরিবারের মধ্যে আনন্দের উতরোল। বুঝতে পারলাম, কাজ থাকলেও কিছুটা সময় আলাদা করে রাখা উচিত। তা না হলে জীবনটা বড়ো একঘেয়ে হয়ে যায়।

    .

    ২২.

    গাড়ির কোনো দরকার নেই। আমি বাতাসের বুকে ভর দিয়ে উড়তে পারি। জর্জিয়া দরজার দিকে আমার জন্য তাকিয়ে থাকে।

    সে বলল–কোনো ভালল খবর আছে?

    আমি বললাম দেশি আরনেজ অ্যাডভেঞ্চার অফ এ মডেল নামে বই তৈরি করতে চলেছেন। টেলিভিশনে দেখানো হবে। কয়েক বছর ধরে। দু-একদিনের মধ্যে জানাব, আমি এখানে কাজ পাচ্ছি কিনা।

    দুদিন বাদে দেশির কাছ থেকে একটা ফোন এল সিবিয়ে শেষ সময়ে শটটা দিয়েছে।

    –আজ রাতে এসো উৎসব করি –আমি জার্জিয়াকে বলেছিলাম।

    লাউরা সবকিছু শুনছে। সে বলল, আমি আমার চাঁদা দিলাম, সে আমার হাতে কুড়ি ডলার তুলে দিল।

    উৎসব শুরু হল। জর্জিয়া আমার গলা জড়িয়ে ধরে বলেছিল, তোমার জন্য আমি গর্ব অনুভব করি।

    দেশি পরের দিন সকালে আমাকে ডেকেছিলেন। দেশির সঙ্গে আলোচনা হল। কিন্তু তখন দেশির হাতে অনেকগুলো ছবির কাজ। তখুনি কোনো কিছু করা সম্ভব হবে না। একথা শুনে আমি খানিকটা দমে গিয়েছিলাম।

    এবার ডরোথি আর হার্বাটের পালা। তারা নতুন করে একটা ছবি রিমেক করতে চাইছে। অ্যানি গেট ইয়োর গান ছবিটি।

    অ্যালবার্ট হগের সঙ্গে দেখা হল। ভারী সুন্দর গান লিখতে পারেন। ব্রডওয়ে নাটকের জন্য বেশ কয়েকটা গান লিখেছেন। সংগীতে তাঁর সহজাত আকর্ষণ আছে।

    আমরা নতুন সৃষ্টি সম্পর্কে আলোচনায় বসে গেলাম।

    আবার একটা ছবির কাজ হাতে এসেছে। এখানে এমন একজন অভিনেত্রী চাই, যে হবে একাধারে সুন্দরী এবং রহস্যবতী। অভিনয়ের পাশাপাশি গানেও সুখ্যাতি থাকবে তার। এমন মিশ্রণ খুঁজে পাওয়া যায় কি?

    আমরা অভিনেত্রীদের তালিকায় চোখ বোলালাম। শেষ পর্যন্ত বিলিলিকে পছন্দ হল। দীর্ঘ দিন ধরে সে ইংরেজ নাট্যশালা কাঁপিয়ে বেরিয়েছে। ভারী সুন্দর তার গানের গলা। সে নাচতেও পারে।

    ফ্রায়ার বলেছিল–হ্যাঁ, একে পেলে আর কোনো সমস্যা হবে না।

    পাঁচদিন বাদে ফ্রায়ারের অফিসে এসে উপস্থিত হয়েছি।

    ফ্রায়ার বলল –বিলিলি অভিনয় করতে রাজী হয়েছে। এখন একজন কোরিওগ্রাফার চাই।

    বিলিলির কথানুসারে তার এক বয়ফ্রেন্ড এগিয়ে এল। সে এই শো-টা পরিচালনা করবে।

    আমরা এটা কী করে করতে দেব? আবার নামের তালিকা দেখা হল।

    ডরোথি বুয়েন ভারডনের নাম প্রস্তাব করল। ঘরের ভেতর বুঝি আলো জ্বলে উঠল। হ্যাঁ, তার মধ্যে সৌন্দর্য এবং বুদ্ধিমত্তার একটা অপূর্ব সংমিশ্রণ আছে। তার মাথার চুলের রং লাল। সে অভিনয় করলে খুবই ভালো হবে। কিন্তু সেও চাইছে, তার বয়ফ্রেন্ড যেন পরিচালনা করে। তার বয়ফ্রেন্ড বা ফসে, এক বিখ্যাত ক্যারিওগ্রাফার। তার কোরিওগ্রাফিতে দুটো ছবি হিট হয়েছে, দি প্লাজমা গেম এবং ড্যাম ইয়াং কিস। সে এখনও পর্যন্ত কোনো ছবি পরিচালনা করেনি।

    সকলেই তাকে একটা সুযোগ দিতে চাইছে। বছর তিরিশের ওই ভদ্রলোকের বয়স, এক সময় খুব ভালো নাচতে পারত। এখন সে হল পরিচালক। আমরা ব্রডওয়ে রিহার্সাল রুমে সকলের সাথে সভা করলাম। বব ফসেও সেখানে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা নিয়েছিল। রিহার্সালটা এগিয়ে চলেছে। সকলেই অসামান্য অভিনয় করেছে।

    নাতালি এবং মারতি নিউইয়র্কে এসেছিল। রিচার্ড তার বউ জুয়ানকে নিয়ে উড়ে আসে। জর্জিয়া এবং আমি দর্শক আসনে পাশাপাশি বসেছিলাম।

    ৪৬ নম্বর স্ট্রিট থিয়েটার, নিউইয়র্ক, ১৯৫৯ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি যাত্রা শুরু হল। সমালোচকরা আর বাক্যবাণে আমাকে বিদ্ধ করতে পারেনি। তখন তারা এই সিনেমার ভূয়সী প্রশংসা করেছে। তার মানে জীবনের এলিভেটরটা আবার সর্বোচ্চ চূড়ায় পৌঁছে গেছে। হলিউডই আমার আত্মার আত্মীয়, আমার শোকস্তব্ধ মুহূর্তের সান্ত্বনা, একথা আমি বুঝতে পারলাম।

    ব্রডওয়েতে যে কোনো ছবিকে জনপ্রিয় করা যায়। কিন্তু তাতে লাভ কী? আসল খেলা বোধ হয় হলিউডেই হয়ে থাকে।

    মস হার্ট নামে এক প্রথম শ্রেণীর পরিচালকের সঙ্গে আলাপ হল। ব্রডওয়েতে তার পরিচালনায় অনেকগুলো ছবি প্রদর্শিত হয়েছে।

    আমার এজেন্ট অড্রেউড। তিনি এক খর্বাকৃতি মহিলা। থিয়েটার সম্পর্কে যথেষ্ট জ্ঞান আছে। তিনিও নতুন নতুন ছবির স্বত্ব পাবার জন্য চেষ্টা করছেন।

    হলিউডের প্রথম সারির পরিচালক উইলিয়াম ওয়াইলারের সঙ্গে দেখা হল। তিনি বেশ কয়েকটা সফল বইয়ের পরিচালনা করেছেন। আমাকে কাজেলা গারেন বলে মনে হল। দিন কেটে গেল। কথায় কথায় বন্ধুদের সাথে আলোচনা করছি। কিন্তু শুভ দিনটি তখনও পর্যন্ত এসে পৌঁছোয়নি।

    একদিন উইলিয়াম ওয়াইলার আমাকে বললেন –সিডনি, একটা মস্ত বড়ো সমস্যা হয়েছে। অড্রে হেপবার্ন এবং শালি ম্যাকলাইন, দুজনেই চিত্রনাট্যটা পড়ে ফেলেছে। তারা দুজনেই নায়িকার চরিত্রে অভিনয় করতে চায়।

    আমি অবাক হয়ে প্রশ্ন করলাম–তাহলে কী হবে?

    ভালোভাবেই মহড়া এগিয়ে চলেছে, কোনো অসুবিধা হচ্ছে না। তারপর সমালোচনা প্রকাশিত হল। বেশির ভাগ সমালোচক আমার প্রশংসা করেছে। আমি আমার আকাশ ছোঁয়া উৎসাহ দমন করার চেষ্টা করলাম।

    ম্যানহাটনে ছবিটা প্রদর্শিত হল। সমালোচকরা এবার প্রশংসার বন্যা বইয়ে দিয়েছেন।

    .

    ২৩.

    একদিন আমাদের বাড়ির পাশে আগুন লাগল। হু-হু করে আগুন এগিয়ে চলেছে। ফায়ার ব্রিগেডের একজন এসে আমাদের বললেন- এক্ষুণি বাড়ি ছেড়ে চলে যান। যে কোনো মুহূর্তে এই বাড়িতে আগুন লাগতে পারে।

    জর্জিয়া কীসব চিন্তা করছে। কোন কোন জিনিস সঙ্গে নেবে তাই ভাবছে। আমি পাঁচ বছরের ম্যারিকে কোলে তুলে নিলাম। আর কী নেব বুঝতে পারছি না। বাড়িতে আমার কত স্মৃতি চিহ্ন আছে। আমার সমস্ত বইয়ের প্রথম সংস্করণের কপি, জীবনে যে সমস্ত স্মারক আর পদক পেয়েছি, তাদের সমারোহ, গবেষণার কাগজপত্র, জামাকাপড়, আমার গচ্ছিত পোশাক আরও কত কী?

    ভেতরে ছুটে গেলাম। কয়েকটা কলম আর হলুদ কাগজ তুলে নিলাম। আর কিছু নেবার নেই, বাড়ি থেকে দ্রুত বেরিয়ে এলাম। আমরা তখন আক্ষরিক অর্থে পথে নেমে এসেছি।

    আমাদের সৌভাগ্য, শেষ পর্যন্ত ফায়ার ব্রিগেডের লোকেরা আগুনটাকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে পেরেছিল। আমাদের বাড়িতে তার আঁচ লাগেনি।

    টেলিফোনে একটা পরিচিত কণ্ঠস্বর শুনতে পেলাম।

    সমালোচকরা উচ্ছ্বসিত প্রশংসা করছে। আমি রোমান ক্যানডেলের চিত্রনাট্যটা পড়েছি। অসাধারণ হয়েছে।

    ডন হাটম্যান

    ধন্যবাদ ডন। আপনার কথা শুনে ভালো লাগল।

    –আমার হাতে একটা পরিকল্পনা আছে, আপনি কি যোগ দেবেন? অল ইন এ নাইটস ওয়ার্ক নামে একটা সিনেমা তৈরি হবে। ডিয়ান মারটিন এবং শালি ম্যাকলাইন অভিনয় করতে রাজী হয়েছেন। হ্যাঁল ওয়ালস এই ছবিটার প্রযোজনা করবেন। একটা সুন্দর চিত্রনাট্য দরকার। আগেই চিত্রনাট্য লেখা আছে, কিন্তু এখন আবার নতুন করে লিখতে হবে।

    –ডিয়ানের সঙ্গে কাজ করতে আমার ভালোই লাগবে।

    –ঠিক আছে, কখন আপনি শুরু করতে পারবেন।

    –এখনই পারছি না। পনেরো মিনিট সময় দিতে হবে।

    উনি হেসে উঠলেন ঠিক আছে। আপনার এজেন্টকে ডেকে নিচ্ছি।

    আবার প্যারামাউন্টে ফিরে এসেছি। প্যারামাউন্টের সঙ্গে আমার অনেক সুন্দর স্মৃতি জড়িয়ে আছে। এখানকার সব মুখগুলো আমার খুবই পরিচিত, প্রযোজক থেকে শুরু করে পরিচালক, লেখক এবং সম্পাদকেরা। মনে হল, আমি বুঝি আবার বাড়ির টানে ফিরে এসেছি।

    হ্যাল ওয়ালেসের সাথে একটা অ্যাপয়েন্টমেন্ট করা হল। এর আগে তার সাথে বেশ কয়েকবার আমার দেখা হয়েছে। কিন্তু কখনও তার সাথে বাণিজ্যিকভাবে কাজ করিনি। তিনি বেশ কয়েকটা বিখ্যাত ছবির জন্ম দিয়েছেন তার মধ্যে, দ্য রেন মেকার ইত্যাদি। ভদ্রলোক খর্বাকৃতি, চেহারাটা খুব সুন্দর, মুখের ওপর গম্ভীরতার ভাব আছে। সত্তর বছর বয়স হয়ে গেছে। এখনও একই রকম অক্লান্তভাবে কাজ করে চলেছেন।

    আমি তার অফিসে পৌঁছে গেলাম।

    উনি উঠে দাঁড়িয়ে বললেন- সেলডন, এই ছবিটা আপনার হাতেই ভালো খুলবে।

    -আমিও এই চিত্রনাট্য লেখার জন্য উদগ্রীব হয়ে আছি।

    আমরা অনেকক্ষণ ধরে ছবিটার খুঁটিনাটি বিষয় নিয়ে আলাপ আলোচনা করলাম। এ বিষয়ে ওনার অগাধ জ্ঞান।

    শেষ পর্যন্ত উনি বললেন- রোমান ক্যানডেলটা পড়েছি, অসাধারণ লেখা।

    অনেক দেরী হয়ে গেছে হ্যাঁল, মনে মনে মন্তব্য করলাম।

    এবার কাজ করতে হবে।

    এডমন্ড বেলুইন, এবং মাউরিস। এই চিত্রনাট্যটি আগে লিখেছেন। লেখাটা চমৎকার হয়েছে কিন্তু ডিয়ান এবং শার্লির মুখে আরও ভালো শব্দ বসাতে হবে। তারা দুজনেই খুব বিখ্যাত অভিনেতা এবং অভিনেত্রী।

    আমার লেখার কাজ শুরু হল।

    .

    একদিন সন্ধেবেলা। আমি স্টুডিও থেকে বাড়ি ফিরে এসেছি। জর্জিয়া তার হাতে ফুলের তোড়া নিয়ে অপেক্ষা করছিল।

    আমাকে অবাক করে দিয়ে বলল- শুভ ফাদারস ডে।

    আমি তার দিকে অবাক হয়ে তাকালাম। আমতা আমতা করে বললাম আজ তো ফাদারস ডে নয়, তারপরেই আমি তার ধাঁধাটা বুঝতে পারলাম। আমি তাকে জড়িয়ে ধরলাম।

    কী চাইছ তুমি? ছেলে না মেয়ে? সে জানতে চাইল।

    দুটো হলেই ভালো হয়।

    কথাটা বলা খুব সহজ, তাই তো?

    আমি তাকে আরও শক্ত করে আলিঙ্গন করছি- এতে কিছুই হবে না, ডার্লিং। আগত শিশুটা যেন ম্যারির মতো সুন্দর হয়।

    ম্যারির তখন পাঁচ বছর বয়স। ভাই অথবা বোন পেলে তার কেমন লাগবে?

    আমি বললাম তুমি ম্যারিকে এই শুভ সংবাদটা দিয়েছ?

    -হ্যাঁ, আমি তাকে বলেছি।

    –সে কী বলেছে?

    –সে খুবই খুশী হয়েছে। কিছুক্ষণ আগে আমি দেখে এলাম সে আমাদের ঘর থেকে তার ঘরে যেতে গেলে কটা পা ফেলতে হয় সেটা মাপছে। আবার তার ঘর থেকে নার্সারিতে যেতে গেলে কটা পা ফেলতে হয়, তা মেপে দেখছে।

    আমি হেসে বলেছিলাম–ম্যারি এখন পাঁচ বছরের বড়ড়া দিদি, কথাটা যেন মনে থাকে।

    আমরা এই সন্তানকে কী নামে ডাকব, আমি জানতে চাইছিলাম।

    যদি মেয়ে হয়, তা হলে ওর নাম দেওয়া হবে আলেকজান্দ্রা।

    বাঃ, সুন্দর নাম। কিন্তু যদি ছেলে হয়, তাহলে ওর নাম হবে আলেকজান্ডার। তার মানে মানবজাতির পরিত্রাতা।

    জর্জিয়া হেসে বলল- তোমার নামটাও সুন্দর হয়েছে।

    সমস্ত রাত আমরা জেগে ছিলাম। অনাগত শিশুটি সম্পর্কে আলোচনা করেছিলাম। সে এবং ম্যারি পাশাপাশি কীভাবে বড়ো হয়ে উঠবে, তার পরিকল্পনা করছিলাম।

    .

    অল ইন এ নাইটস ওয়ার্ক-এর কাজ শুরু হয়েছে। হু-হু করে কাজটা এগিয়ে চলেছে। মাঝে মধ্যে আমি হ্যাঁল ওয়ালেসের সাথে আলোচনা করি। হ্যাঁল এ বিষয়ে যে মন্তব্য করে তা সাবধানে শোনার চেষ্টা করি। সেটের ব্যাপারেও আলাপ আলোচনা হয়েছে। জোসেফ অ্যান্থনি নামে এক পরিচালককে চুক্তিবদ্ধ করা হয়েছে।

    ক্লিফ রবার্টসন এবং চার্লি র‍্যাগ-এর মতো দুজন বিখ্যাত অভিনেতা এই বইতে অভিনয় করার জন্য চুক্তিবদ্ধ হয়েছেন। যদিও ডিয়েনের সাথে আগে আমি কাজ করেছি।  কিন্তু শার্লি ম্যাকলইনের সাথে কখনও মুখোমুখি দেখা হয়নি। তার সম্পর্কে অনেক খবর আমি জানতাম। তিনি খুবই প্রতিভাশালিনী অভিনেত্রী। ব্যক্তিগত জীবনে অনেক মুখরোচক সংবাদ আছে। আমি কারও অন্তরঙ্গ জীবন সম্পর্কে মোটেই আগ্রহী নই। আমি শুধু তাঁর অভিনয় ক্ষমতা দেখতে চাই।

    একদিন তার সঙ্গে আমার পরিচয় হল। উনি এগিয়ে এসে আমার হাতে হাত রাখলেন। সেই মুহূর্তেই ডিয়েন ঘরে ঢুকে বললেন– এ কী আমাকে কেউ দেখতেই পাচ্ছেন না।

    ডিয়েনের স্বভাবটা একেবারেই পাল্টায়নি। আগের মতো খোশমেজাজে জীবন কাটাতে ভালোবাসেন। মানুষের পেছনে লাগছেন আগের মতোই। এখন তিনি মস্ত বড়ো নক্ষত্র হয়েছেন, কিন্তু ছেলেমানুষী কৌতুক হারাননি।

    মারটিন এবং লুইস কোম্পানি ভেঙে গেছে। জেরি পঁচিশটার মতো ছবি তৈরি করেছে। সব সময় এই কাজে ব্যস্ত থাকে। এর পাশাপাশি জেরি সমাজসেবামূলক অনেকগুলো কাজ করে। এখন সে পথশিশুদের জন্য অর্থ সংগ্রহের খেলায় মেতে উঠেছে। ডিয়েন এক মনে ছবি করে চলেছেন। ছবি করার ব্যাপারে তার কোনো ক্লান্তি নেই। এর পাশাপাশি তিনি একটা নতুন টেলিভিশন শো তৈরি করেছেন। শো-টা অসম্ভব জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে।

    টেলিভিশনের সাথে ডিয়েনের জীবন কাহিনী বেশ মিলে যায়। ডিয়েন কোনো ব্যাপারে অনুশীলন করতে চাননা। তার পক্ষে টেলিভিশনে শো করাটাই ভালো। একটা শো শেষ হলে দর্শকদের গুডবাই জানিয়ে পরবর্তী শোয়ের জন্য ঝাঁপিয়ে পড়বেন।

    জর্জিয়া এবং আমি ডিনার পার্টির আয়োজন করলাম। মাঝে মধ্যেই বন্ধুবান্ধবদের সেই পার্টিতে ডেকে পাঠাই। সেই পার্টিতে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। বাবার বন্ধুরা একবার সেই পার্টিতে যোগ দিয়েছিলেন। তাদের মধ্যে, এডি লাসকর নামে এক বিখ্যাত মানুষ ছিলেন। তিনি হলেন বিজ্ঞাপন সংস্থা লর্ড এবং টমাসের একমাত্র উত্তরাধিকারী। তার স্ত্রী জ্যানে গ্রিয়ার। ভারী সুন্দরী এক ভদ্রমহিলা। সফল অভিনেত্রী। মাঝে মধ্যেই তারা আমাদের নিমন্ত্রণ করতেন। তাদের সাহচর্য আমাদের ভালোই লাগত।

    একরাতে এডি বললেন- আসুন, আমরা প্রতি সপ্তাহে পরস্পর মিলিত হই।

    না, আমি কী তা পারব? এত খরচা করতে?

    শেষ পর্যন্ত আমি বলেছিলাম– এডি, প্রতি সপ্তাহে দরকার নেই। সময় ও সুযোগ হলে আমরা দেখা করব, কেমন?

    আমি দেখলাম, তার মুখের রেখা পাল্টে যাচ্ছে।

    আর এক দম্পতির সাহচর্য, আমাদের খুবই ভালো লাগত। তাঁরা হলেন আর্থার হর্নব্লো এবং তার স্ত্রী ললনোর। আর্থার হর্নল্লো এক সফল প্রযোজক।

    আর্থার একদিন আমাকে বলেছিলেন আমার হাতে এমন একটা পরিকল্পনা আছে, যা আপনার ভালো লাগবে।

    উনি অত্যন্ত সফল। আমার একটা চাকরির দরকার আছে। কিন্তু আমি বন্ধুকে এভাবে বিকিয়ে দিতে চাই না।

    আমি বলেছিলাম- দেখা যাক, সময় হলে আমরা নিশ্চয়ই কাজ শুরু করব, আর্থার।

    এইভাবে আমি এক বন্ধুকে হারালাম।

    .

    অল ইন এ নাইটস ওয়ার্ক-এর কাজ শেষ হয়ে গেছে। জর্জিয়া তার দ্বিতীয় সন্তানের জন্ম দেবার জন্য তৈরি হয়েছে। এবার আমি আগে থেকেই প্রস্তুত ছিলাম। আগের মতো আর শেষ মুহূর্তে হুড়োহুড়ি করতে হবে না। আমি জানি, কোথায় ভালো হাসপাতাল পাওয়া যায়। আমরা বেশ কিছুক্ষণ আগে সেখানে পৌঁছে গেলাম। আমাদের জন্য একটা আলাদা ঘর দেওয়া হল। সেখানে আর কোনো কাজ নেই। বসে বসে শুধু ওই শিশুটির জন্য অপেক্ষা করা ছেলে অথবা মেয়ে, তাই নিয়ে চিন্তা ভাবনা করা।

    তাতে অবশ্য কিছুই ক্ষতি বৃদ্ধি হবে না।

    আমাদের চিকিৎসক ডঃ ব্লেক ওয়াটসন। তিনি ইতিমধ্যে হাসপাতালে এসে গেছেন।

    মধ্যরাত, একটা বেজেছে, আলেকজান্দ্রার জন্ম হল। আমি ডেলিভারি রুমের বাইরে বসেছিলাম।

    ডঃ ওয়াটসন এবং দুজন নার্সকে দেখতে পেলাম। তারা অত্যন্ত দ্রুত ঘর থেকে বাইরে বেরিয়ে এলেন।

    ডঃ ওয়াটসনের হাতে শিশুটি কম্বলে জড়ানো।

    ডাক্তার…..

    আমি কিছু বলার চেষ্টা করেছিলাম। উনি অতি দ্রুত আমাকে ছাড়িয়ে সামনের দিকে এগিয়ে গেলেন। মনের ভেতর ভয়ের বাতাবরণ। কিছুটা সময় কেটে গেছে। জর্জিয়াকে হুইল চেয়ারে বসে থাকতে দেখা গেল। ডেলিভারি রুম থেকে বাইরে চলে এসেছে। তাকে তার ঘরে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। তার শরীরটা বিবর্ণ, মুখে বিষণ্ণতার আভাস।

    জর্জিয়া জানতে চাইল– সবকিছু ঠিক আছে?

    কয়েক মিনিট পরে আমি তোমার সঙ্গে দেখা করতে যাচ্ছি।

    আমি দেখলাম জর্জিয়ার হুইল চেয়ারটা করিডর দিয়ে দূরে চলে গেল। আমি ডঃ ওয়াটসনকে খুঁজলাম। খুঁজতে খুঁজতে আমি নবজাতক শিশুদের ইনটেনসিভ কেয়ারে পৌঁছে গেলাম। জানলা দিয়ে তাকে দেখতে পেলাম। তিনি এবং আরও দুজন ডাক্তার কোনো বিষয় নিয়ে উত্তপ্ত আলোচনা করছেন। আমার মনে হল, হয়তো আলেকজান্দ্রাকে নিয়ে এই আলোচনা চলেছে। আমার হৃৎস্পন্দনের গতি তখন আরও দ্রুত হয়ে উঠেছে। আমি ঘরে ঢুকে পড়তে চেয়েছিলাম। কিন্তু নিজেকে আটকে রাখলাম।

    ডঃ ওয়াটসন আমাকে দেখতে পেলেন। তিনি অন্য দুজন ডাক্তারকে কিছু একটা বললেন। তারা সকলে আমার দিকে তাকালেন। আমার নিঃশ্বাস প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে।

    ডঃ ওয়াটসন করিডর দিয়ে এগিয়ে এলেন।

    কী হল? আমি প্রশ্ন করলাম। কিছু কি সমস্যা?

    আমি কথা বলতে পারছি না।

    আমার ভয় হচ্ছে, মিঃ সেলডন। আপনাকে একটা খারাপ খবর শুনতে হবে।

    মেয়েটি মারা গেছে?

    –না।

    -তবে?

    ভদ্রলোক শব্দ খুঁজে পাচ্ছেন না। শেষ পর্যন্ত বললেন, আপনার শিশুটি এক মারাত্মক ত্রুটি নিয়ে জন্মেছে।

    আমি জিজ্ঞাসা করলাম কী বলতে চাইছেন? সহজ সাধারণ ইংরাজি ভাষায় আমাকে বলবেন কি?

    –এটা হল জন্মগত ত্রুটি। গর্ভাবস্থার প্রথম সময়ে এই শিশুটির মেরুদণ্ড ঠিকমতো কাজ করেনি। যখন শিশুটির জন্ম হয়, তার মেরুদণ্ডের ওপর একটা পাতলা আস্তরণ পড়ে। স্পাইনাল কর্ডটা ঠিক মতো তৈরি না হওয়াতে সে কখনওই ভালোভাবে বাঁচতে পারবে না। এটা হল….

    ঈশ্বরের অনুগ্রহ, এটা ঠিক করে দিন। আমি চিৎকার করেছিলাম।

    এটা খুব সহজ ব্যাপার নয়। বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিতে হবে।

    –তা হলে বিশেষজ্ঞকে ডেকে আনুন। আপনি কি আমার কথা শুনতে পাচ্ছেন? এক্ষুণি যান, এখনই। আমার আবেদন ফেলবেন না।

    আক্ষরিক অর্থে তখন আমি চিৎকার করে কাঁদছি। নিজের রাগ অথবা আবেগকে আর প্রশমিত করতে পারছি না।

    উনি আমার দিকে এক মুহূর্ত তাকালেন। তারপর দ্রুত বাইরে চলে গেলেন।

    এই খবরটা কীভাবে আমি জর্জিয়াকে দৈব। এই সময় হল আমার জীবনের সবথেকে কঠিন সংকটময় সময়।

    আমি জর্জিয়ার ঘরে গেলাম। জর্জিয়া আমার দিকে তাকাল এবং বলল- কিছু সমস্যা?

    -না, সব ঠিক হয়ে যাবে। আমি জর্জিয়াকে আশ্বস্ত করে বলেছিলাম। আলেকজান্দ্রার জন্ম হয়েছে একটা শারীরিক ত্রুটিকে সঙ্গী করে। ডাক্তাররা বলছেন, তারা এই ত্রুটিটা সারিয়ে তুলতে পারবেন, ভবিষ্যতে কোনো সমস্যা থাকবে না।

    ভোর চারটে, দুজন ডাক্তার এসে গেছেন। ডঃ ওয়াটসন তাদের নিয়ে গেলেন নবজাতকদের ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিটে। আমি বাইরে বেশ কিছুক্ষণ দাঁড়িয়েছিলাম। ওঁদের মুখের দিকে তাকিয়েছিলাম। তাদের মুখে হাসি আছে কিনা বোঝার চেষ্টা করছিলাম। শেষ পর্যন্ত আমি আর দাঁড়িয়ে থাকতে পারলাম না। জর্জিয়ার কাছে ফিরে গেলাম, কোনো কথা না বলে, শুধু অপেক্ষার প্রহর।

    আধঘণ্টা বাদে ডঃ ওয়াটসন ঘরে এলেন। তিনি জর্জিয়ার দিকে তাকালেন। তারপর আমার দিকে তাকিয়ে শান্তভাবে বললেন- দুজন বিশেষজ্ঞ এসেছেন। তারা আপনার বেবিকে পরীক্ষা করেছেন। ওঁরা বলছেন, এই শিশুটি বোধহয় বাঁচবে না। যদিও বাঁচে, তাহলে সারাজীবন পঙ্গু হয়ে তাকে বেঁচে থাকতে হবে। তার মাথায় বুদ্ধির সঞ্চারণ ঘটবে না।

    ডাক্তারের প্রতিটি শব্দ আমাকে চাবুকের মতো আঘাত করছে।

    ডাক্তার আরও বললেন তার ব্লাডারেও নানা সমস্যা দেখা দিয়েছে। এটা এমন একটা ক্রটি যা সহজে শোধরানো সম্ভব নয়।

    আমি বললাম মেয়েটি কী বাঁচবে না?

    বাঁচবে। কিন্তু…।

    –তাহলে ওকে আমরা বাড়িতে নিয়ে যাব। চব্বিশ ঘন্টার জন্য নার্স রেখে দেব। সবরকমের ব্যবস্থা করব।

    মিঃ সেলডন, কখনও তাকে বাড়িতে নিয়ে যাবেন না। তাকে একটা কেয়ার সেন্টারে রাখতে হবে। তার মতো যে সমস্ত শিশুদের হয়েছে, তারা সকলেই ওই কেয়ার সেন্টারে থাকে। পোমনায় এমনই একটা কেন্দ্র আছে। সেখানে ওকে পাঠানো উচিত।

    জর্জিয়া এবং আমি মুখ চাওয়া-চাওয়ি করলাম।

    জর্জিয়া প্রশ্ন করল–আমরা ওর সঙ্গে দেখা করতে পারি?

    না, দেখা না করলেই ভালো হয়।

    জর্জিয়া বোধহয় ডুবতে বসেছে। শেষ পর্যন্ত ও বলল- আপনি কী বলছেন?

    –ওর মৃত্যু হবে। আমি দুঃখিত। ওর জন্য প্রার্থনা করুন।

    মা-বাবা কি তার শিশুর মৃত্যুর জন্য প্রার্থনা করতে পারে?

    আমি পাগলের মতো একটার পর একটা মেডিকেল জার্নাল হাতড়ে চলেছি। রোগটা সম্পর্কে কোথায় কোন্ প্রতিবেদন আছে, তার সবকিছু খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে পড়ছি।

    ম্যারি আলেকজান্দ্রার কথা জানতে চাইল।

    আমরা তাকে বললাম আলেকজান্দ্রা অসুস্থ, কদিন বাদেই বাড়িতে ফিরে আসবে।

    রাতে আমার ঘুম হচ্ছে না, আলেকজান্দ্রার মুখছবিটা মনে পড়ছে। মনে হচ্ছে সে যেন যন্ত্রণার মধ্যে প্রহর কাটাচ্ছে। একটা অন্ধকার ঘরে বন্দিনী অবস্থায় বসে আছে। তাকে ভালোবাসার কেউ নেই। মাঝরাতে আমার ঘুম ভেঙে গেল। আমি দেখলাম, জর্জিয়া নার্সারির সামনে বসে নীরবে কেঁদে চলেছে। হ্যাঁ, আশা আছে কি? আবার ম্যাগাজিন গুলো খুঁটিয়ে পড়তে শুরু করলাম। বিজ্ঞান এখন অনেক উন্নত হয়েছে। আলেকজান্দ্রাকে বিশেষ পরিষেবা দিতে হবে। এই পরিষেবা আমরা অবশ্যই দেব। আমরা কোনো ব্যাপারেই পিছিয়ে আসব না। ডঃ ওয়াটসন ঠিক কথা বলেননি। এখনও চিকিৎসাশাস্ত্রে অলৌকিক ঘটনা ঘটে যায়।

    আমি একটা প্রবন্ধ পড়লাম। এখানে জীবনদায়ী ওষুধ সম্পর্কে বলা হয়েছে। প্রবন্ধটা জর্জিয়াকে দেখালাম। জর্জিয়া দেখো, এই ওষুধগুলো গতকাল অব্দি বাজারে ছিল না। এখন এসে গেছে। আরও অনেক হতভাগ্য মানুষ জীবনের ঠিকানা খুঁজে পেয়েছে।

    জর্জিয়া উৎসাহের সঙ্গে প্রবন্ধগুলো পড়ল। তারপর বলল- হ্যাঁ, নতুন এই বৈজ্ঞানিক আবিষ্কার আমাদের কাছে বন্ধু হিসেবে দেখা দিয়েছে। আমার মনে হচ্ছে, ওই ছোট্ট শিশুটিকে বাঁচিয়ে রাখা সম্ভব।

    -হ্যাঁ, ওকে বেঁচে থাকতেই হবে। ওর মধ্যে আমাদের জিন আছে। ও হয়ে উঠবে এক পরিত্রাতা। কিছুদিন হয়তো ওকে কষ্ট স্বীকার করতে হবে। কিন্তু এই দুঃখের অবসান ঘটে যাবে। শেষ পর্যন্ত আমি বললাম মেয়েটিকে এখনই বাড়িতে নিয়ে আসতে হবে।

    জর্জিয়ার দুটি চোখে আনন্দের শিহরণ- আমারও তাই চিন্তা।

    সকাল হলেই আমি ডঃ ওয়াটসনকে ফোন করব।

    সকালবেলা আমি ওয়াটসনের অফিসে পৌঁছে গিয়ে বললাম- ডঃ ওয়াটসন,

    একদিগরপাশে সুদৃঢ়ছি। জর্জিয়া এবং এ জীবন তখন আলেকজান্দ্রার ব্যাপারে আপনার সঙ্গে কথা বলতে এসেছি। জর্জিয়া আর আমি…

    –হ্যাঁ, আপনাকে আগেই ডাকা উচিত ছিল মিঃ সেলডন, গতকাল মধ্যরাতে আলেকজান্দ্রার মৃত্যু হয়েছে।

    সমস্ত পৃথিবী বুঝি অন্ধকারে মুখ ঢেকেছে, মা বাবার কাছে এ এক শোকাচ্ছন্ন অনুভূতি। এমন একটা শোক যা জীবনে কোনোদিন প্রশমিত হবে না। আমরা আলেকজান্দ্রার সম্পর্কে চিন্তা করতে থাকলাম। ম্যারি আমাদের মধ্যে বড়ো হতে থাকল। আমাদের ভালোবাসা তাকে সুখী জীবনের অভিসারী করুক, এটাই একমাত্র প্রার্থনা।

    আলেকজান্দ্রা কোনোদিন সূর্যাস্ত দেখতে পাবে না। কোনোদিন পুষ্পিত উদ্যানে পা ফেলতে পারবে না। সে কোনোদিন পাখিদের উড়ে যাওয়া দেখবে না। কবোঞ্চ নিদাঘ বাতাস তাকে পরিতৃপ্ত করবে না। আইসক্রিম খেতে পারবে না। সিনেমায় যাবে না। খেলায় অংশ নেবে না। সুন্দর সুন্দর পোশাক পরবে না। গাড়িতে চড়ে বেড়াতে যাবে না। সে জানবে না, ভালোবাসায় কী আবেগ আসে। পরিবার কাকে বলে। না-না, কখনও-কখনও, তার এইসব অভিজ্ঞতা হবে না।

    সময় এগিয়ে গেল। অনেকে বলে থাকে, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে শোক প্রশমিত হয়। কিন্তু আমাদের শোক আরও বেড়ে উঠল। আমাদের জীবন তখন স্তব্ধ হয়ে গেছে। একটা মাত্র সানা আমাদের ম্যারি আছে। জর্জিয়া এবং আমি ম্যারিকে আরও বেশি ভালোবাসতে শুরু করলাম। চারপাশে সুদৃঢ় নিরাপত্তার কঠিন বলয়।

    একদিন আমি জর্জিয়াকে বললাম একটা বেবিকে দত্তক নিলে কেমন হয়?

    না-না, এখন সময় হয়নি।

    আরও কিছুদিন কেটে গেছে। ও এসে আমাকে বলল- হ্যাঁ, একটা ছেলে বা মেয়েকে দত্তক নিতে হবে। ম্যারির ভাই বা বোন থাকা দরকার।

    আমরা ডঃ ওয়াটসনের কাছে এ বিষয়ে পরামর্শ চাইলাম। উনি একজনের সঙ্গে কথা বললেন, এক ভদ্রমহিলা একটি শিশুর জন্ম দিতে চলেছে। কিন্তু তার বিয়েটা সুখের হয়নি। বয়ফ্রেন্ড অন্য কোথাও চলে গেছে। ভদ্রমহিলা চাইছেন, এই শিশুটিকে যেন কেউ দত্তক নেয়।

    এই শিশুটির মা খুবই বুদ্ধিবতী এবং রূপসী। খুব ভালো পরিবার থেকে এসেছেন। ডঃ ওয়াটসন বললেন, আমার মনে হয়, এই শিশুটিকে আপনারা দত্তক নিতে পারেন।

    জর্জিয়া এবং আমাদের ছ-বছরের মেয়েটি আর আমি একটা পারিবারিক বৈঠকে বসলাম।

    আমরা ম্যারিকে বললাম তুমি যা বলবে তাই হবে। তুমি কি একটা ছোট্ট ভাই বা বোনকে বাড়িতে আনতে চাইছ?

    কিছুক্ষণ পরে সে বলেছিল- ও মারা যাবে না তো?

    জর্জিয়া আর আমি পরস্পরের দিকে তাকিয়ে বললাম না, ও মারা যাবে না।

    ম্যারি বলল- তাহলে ঠিক আছে।

    শেষ পর্যন্ত ঠিক হল, এবার টাকাপয়সায় হিসাব নিকাশ করতে হবে।

    তিন সপ্তাহ কেটে গেছে। ডঃ ওয়াটসন ফোন করে বললেন- আপনাদের একটা সুন্দর ফুটফুটে কন্যা সন্তান হয়েছে।

    আমরা ওর নাম রেখেছিলাম এলিজাবেথ। নামটার সাথে শরীরটাও ছিল সামঞ্জস্যপূর্ণ। অসাধারণ রূপবতী, স্বাস্থ্যোজ্জ্বল, চোখের তারার রঙ বাদামী, হাসি দিয়ে অনেককে হত্যা করতে পারে। জর্জিয়া তাকে পেয়ে সত্যিই খুশি হয়েছিল। আমরা এলিজাবেথকে বাড়িতে নিয়ে গেলাম, জীবন আবার নতুন ছন্দে এগিয়ে চলল। জর্জিয়া এবং আমি তখন অনেক স্বপ্ন দেখছি। আলেকজান্দ্রার জন্য যেসব স্বপ্ন জমানো ছিল এলিজাবেথের মধ্যে। আমাদের রক্ত মাংস নেই, কিন্তু মনে হল সে বুঝি সত্যি সত্যি আমাদের নিজস্ব কন্যা। আমাদের জীবনের উত্তরাধিকারিনী। আমরা তাকে সবথেকে ভালো স্কুলে পাঠাব, সে তার নিজস্ব জীবনধারা নিজেই বেছে নেবে। আমরা দেখতাম ম্যারি কত খুশিয়াল হয়ে উঠেছে। আমরা এলিজাবেথকে পোশাক কিনে দিলাম, যেটা আলেকজান্দ্রার জন্য কিনবো বলে ভেবেছিলাম। তাকে ইজেল এবং রঙীন তুলি দেওয়া হল। হ্যাঁ, সে কি শিল্পী হবে? পরে তাকে পিয়ানো শেখানো হয়েছিল।

    সময় এগিয়ে চলেছে, এলিজাবেথ তার বড় দিদিকে খুবই ভালোবাসে। যখন ম্যারি তার কাছে আসে, এলিজাবেথ হি হি করে হেসে ওঠে। ব্যাপারটা দেখে আমরা খুশিয়াল হয়ে উঠি। জর্জিয়া এবং আমি ঠিক কাজই করেছি, তারা দুজন একসঙ্গে বড়ো হবে, একে অন্যকে ভালোবাসবে।

    ছমাস কেটে গেছে, এলিজাবেথের বয়স এখন ঠিক ছ-মাস, ডঃ ওয়াটসন ফোন   করলেন।

    আমি বললাম- ডাক্তার আপনাকে অশেষ ধন্যবাদ, এত সুন্দর বেবি আমি কখনও দেখিনি। আমাদের ঋণের কোনো শেষ নেই।

    কিছুক্ষণ নীরবতা।

    –মিঃ সেলডন, এইমাত্র আমি ওই মেয়েটির মায়ের কাছ থেকে ফোন পেয়েছি। তিনি মেয়েটিকে নিজের কাছে চাইছেন।

    আমার রক্ত জমে গেছে- আপনি কী বলছেন? আমরা তো আইনগতভাবেই এলিজাবেথকে দত্তক নিয়েছি।

    দুর্ভাগ্য এই বিষয়ে দেশের আইন খুবই কড়া। যে কেনো সময়ে এই জাতীয় মা তার মন পাল্টাতে পারেন। অবশ্য ছ মাসের মধ্যে। ওই শিশুটির মা এবং বাবা ঠিক করেছেন যে তারা বিয়ে করবেন। মেয়েটিকে আবার নিজের কাছে এনে রাখবেন।

    আমি কাঁপতে কাঁপতে খবরটা জর্জিয়াকে দিলাম। জর্জিয়ার মুখ বিবর্ণ হয়ে গেছে। ও বোধহয় অজ্ঞান হয়ে যাবে।

    সে কোনো রকমে বলল-না-না, ওরা কিছুতেই মেয়েটিকে আমার কাছ থেকে নিতে পারবে না।

    শেষ পর্যন্ত ওরা পেরেছিল, এলিজাবেথকে পরের দিন দিয়ে দেওয়া হল, জর্জিয়া এবং আমি কী হচ্ছে তা বুঝতেই পারিনি।

    ম্যারি কাঁদতে কাঁদতে বলল– কী সুন্দর আমার বোন সে কোথায় চলে গেল।

    কয়েক মাস কেটে গেল অব্যক্ত যন্ত্রণার মধ্যে। কোনো রকমে আমরা সেই যন্ত্রণালব্ধ প্রহরগুলোকে কাটিয়ে দিলাম। আমরা মাঝে মধ্যে চার্চে যেতাম, সেখানে গিয়ে শান্তি পাবার চেষ্টা করতাম। আমি জানি না এইভাবে জর্জিয়া এবং আমি শান্তি পেয়েছিলাম কিনা।

    একটা বছর কেটে গেল, আমরা শোক অনেকটা ভুলে গেছি। জীবনে একটা শূন্যতা আছে, বটে, কিন্তু জীবন তার স্বাভাবিক ছন্দে সামনের দিকে এগিয়ে চলেছে।

    .

    ২৪.

    সুরকার স্যামি কোহন একবার একটা সুন্দর মন্তব্য করেছিলেন। তাকে প্রশ্ন করা হয়েছিল সুর অথবা কথা কোনটা আগে আসে।

    — তিনি তাৎক্ষণিক জবাব দিয়েছিলেন। কোনোটাই না, প্রথমে আসে টেলিফোনের কল। এবার জো পাস্টারনকের কাছ থেকে টেলিফোন কল এল।

    সিডনি এম জি এম জাম্বো ছবিটা কিনেছে। আপনি কি চিত্রনাট্য লিখবেন?

    আমি রাজী হলাম।

    ১৯৩৫ সালে ব্রডওয়েতে জাম্বো ছবিটার প্রদর্শন শুরু হল। এটা প্রযোজনা করেছিলেন বিলি রোজ। তখন তিনি ছিলেন এক নামকরা প্রোডিউসার। তিনি বিরাট মাপে শ্যুটিংটা করেন। শো-টা শুরু হল, সমালোচনা অসাধারণ। তবে একটা ভুল থেকে গিয়েছিল, খরচ। এত বেশি হয়ে গেছে যে লাভের মুখ দেখাটা মুশকিল। পাঁচ মাস চলার পর ছবিটা বন্ধ হয়ে যায়।

    এম জি এমের সাথে দশ বছরের সম্পর্ক বজায় আছে আমার। মাঝে মধ্যে কেমন অবাক লাগে। এখনও অনেক কিছু শিখছি আমি।

    জো পাস্টারনকের চরিত্রটা একেবারে পরিবর্তিত হয়নি। এখনও আগের মতোই ছটফটে এবং উৎসাহী।

    আরেকটা ভালো খবর পাওয়া গেল, ইস্টার প্যারাডে আমি যে চাকের সঙ্গে কাজ করেছিলাম, সে আবার আমার জীবনে এসে প্রবেশ করেছে।

    জো-এর কাছ থেকে একটা প্রস্তাব এল, ডরিস ডে, মার্থারে আই এবং জিমি ডুরান্টকে রাজী করানো হয়েছে, আরেকটা নতুন ছবির শুটিং শুরু হবে। এই ছবিটা চাক পরিচালনা করবে।

    আমি জিজ্ঞাসা করেছিলাম– পুরুষের ভূমিকায় কে অভিনয় করবে?

    পাস্টারনক জবাব দিলেন রিচার্ড বার্টন, আমি তার সাথে কথাটা শেষ করতে চাই।

    এটা একটা নতুন আনন্দ, বিখ্যাত একজন অভিনেতার মুখে আমার সংলাপ থাকবে, ব্যাপারটা ভাবতে ভালো লাগছে।

    পাওলিনের সাথে দেখা হল, পাওলিন এখনও সেখানে কাজ করছে। আমরা একে অন্যকে অভিনন্দিত করলাম। ছবিটা নিয়ে অনেকক্ষণ কথা হল।

    কয়েকদিন ধরে আমি ছবিটা নিয়ে চিন্তা ভাবনা করছিলাম। তারপর চিত্রনাট্য লেখার কাজটা শেষ হল। ক্যামেলটে ছবি আত্মপ্রকাশ করছে, রিচার্ড বার্টন প্রধান চরিত্রে, মস হার্টও এসেছেন পরিচালনার জগতে।

    এই ছবিটাও অসাধারণ জনপ্রিয়তা পেয়েছিল।

    দিনগুলো দ্রুততার সঙ্গে কেটে চলেছে। একটার পর একটা নতুন ছবির জন্য আবেদন করা হচ্ছে। অনেক সময় আমি ছবির চিত্রনাট্য লিখতে পারছি না। ফিরিয়ে দিতে খারাপ লাগছে।

    এবার দি প্যাটি ডিউক শো-এর কথা। জন রস এই ছবির ম্যানেজার। অনেক কষ্ট করে ছবিটা তোলার চেষ্টা করছেন। এই ছবিতে আমার একটা সুন্দর ভূমিকা ছিল। ভাবতে ভালোই লাগে।

    এরই মধ্যে দুঃখজনক কিছু কিছু ঘটনা ঘটে যাচ্ছে। যারা একসময় সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছিল, কোনো এক অজ্ঞাত কারণে তাদের অনেকেই অন্তরালে থেকে গেছে। কেউ কেউ অতিরিক্ত অভিমানী হয়ে উঠেছে। কোথাও হয়তো বন্ধু বিচ্ছেদ ঘটে গেছে। ব্যাপারটা এখনও আমাকে ভাবায় বই কী!

    .

    ২৫.

    জন রস প্যাডির জন্য একটা নতুন ছবি তৈরি করবে। অবশ্য সেটা টেলিভিশন সিরিয়াল। আমাকে এখানে কাজ করতে হল।

    একদিন রস আমার অফিসে এসেছেন, তার চোখে টলটল করছে অশ্রুরেখা। আমি জানতে চাইলাম, কী হয়েছে?

    লাইফ ম্যাগাজিন রিহার্সাল দেখতে আসছে।

    –তাতে কী হয়েছে।

    -না, লাইফ ম্যাগাজিনের কাছে আমার দরিদ্র অবস্থার কথা প্রকাশিত হবে। ওরা এসে দেখবে যে আমার কোনো সেক্রেটারী নেই!

    .

    দ্য প্যাটি ডিউক শো-কে নিয়ে একটা সমস্যা দেখা দিল। এর প্রযোজক এবং পরিচালক ছিলেন বিল অ্যাসার, তিনি এমন একটা মানুষ যিনি নানা প্রকল্পে একসঙ্গে জড়িয়ে পড়েন। সবকিছু ঠিক মতো হয় না।

    .

    এই ব্যাপারটাও আমাকে হস্তক্ষেপ করতে হয়েছিল। শেষপর্যন্ত বিভিন্ন সুখী মানুষদের মধ্যে একটা সংযোগসূত্র রক্ষা করার চেষ্টা করলাম। ব্যাপারটা সাময়িক, আমি জানি, তবু কাজটা এগিয়ে চলল।

    প্রতি মুহূর্তে আমাকে সন্ত্রস্ত থাকতে হয়। আমার লেখা চিত্রনাট্য দর্শকেরা কেমনভাবে গ্রহণ করছে সেদিকে তাকিয়ে থাকি। দেখতে দেখতে ম্যারির বয়স হল আট বছর, ইতিমধ্যেই সে যথেষ্ট বুদ্ধিদীপ্ত হয়ে উঠেছে। আমাকে গল্প বলার ক্ষেত্রে সাহায্য করে। একটার পর একটা দৃশ্য উপস্থাপন করে। সিনেমার প্রতি তার এই আকর্ষণ দেখে আমি অবাক হয়ে যাই।

    একদিন সন্ধেবেলা, আমি নতুন পাতাগুলো নিয়ে বসে আছি, প্যাটি ডিউক শো সম্পর্কে সুন্দর সমালোচনা প্রকশিত হয়েছে। হলিউড থেকে একটা আমন্ত্রণ এল স্ক্রিন জেমস একটা টেলিভিশন সিরিজ করতে চলেছেন। আপনি আসবেন কি? এটা হল কলম্বিয়া পিকচার্সের এক সংগঠন।

    আমার মন তখন আনন্দে ভরপুর। আগে টেলিভিশন সম্পর্কে খুব একটা আগ্রহী ছিলাম না, কিন্তু কলম্বিয়ার এই আমন্ত্রণ আমি ফেরাব কেমন করে?

    স্ক্রিন জেমসের সঙ্গে কথাটা ভালোই হল, জেরি হাইমসের সঙ্গে দেখা হল, উনি হলেন উচ্চপদস্থ আধিকারিক, আরও অনেক বিশ্ববিখ্যাত মানুষদের সংস্পর্শে এলাম।

    আমার জীবনের একটা নতুন অধ্যায় শুরু হল।

    এভাবেই লেখার কাজ এগিয়ে চলেছে। লিখতে লিখতে মাঝে মধ্যে কবিতার শব্দগুলো মনে চলে আসে। কখনও আমি লিখি তারা কেউ কাউকে স্পর্শ করেনি কখনও, জেনি একা একা ঘুমিয়ে পড়েছে, টনিও তার পাশে নিদ্রামগ্ন। জেনি আর কোনোদিন টনির বেডরুমে যাবে না। টনি জেনিকে ভালোবাসা দেবে না। এভাবেই লেখা এগিয়ে চলেছে। কিছুটা কবিতা, কিছুটা উপন্যাসের ঢঙে। প্রশ্ন উত্তরের পালা। হ্যাঁ, এভাবেই আমি একটা নতুন কিছু করতে চাইছি।

    .

    সে হল বারবারা ইডেন, তার সৌন্দর্যের মধ্যে একটা বুনো মাদকতা আছে। আর আছে চাপা যৌনতার তীব্র আকর্ষণ। দর্শকরা সহজেই তাকে গ্রহণ করল।

    পরবর্তীকালে সে মাইকেল আনসারা নামে এক অভিনেতাকে বিয়ে করেছিল।

    এবার অ্যান্থনি নেলসনের কথা বলা যাক। অ্যান্থনিও এই ব্যাপারে এক গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র। দ্যা এজ অফ নাইট ছবিতে আমি অ্যান্থনিকে সাহায্য করেছিলাম।

    এল ১৯৬৫- টেলিভিশনের জগতে বিপ্লব ঘটে গেল। সাদা কালো পরিবর্তিত হল রঙিনে। আমার ভাবতে ভালো লাগছে, প্যাটি ডিউক এবার রঙিন সিরিয়াল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করবে।

    এভাবেই দিন এগিয়ে চলেছে। জানি না, আগামীকাল কী হবে।

    .

    ২৬.

    হেডেন বুরকির সঙ্গে কথা হল। হেডেন বুরকি এক মনোক্তত্ত্ববিদের চরিত্রে অবতীর্ণ হবেন। জেনারেল পিটারসনের চরিত্রটা করবেন বারট্রান্ড ম্যাকলেন। এভাবেই জেনির কাস্টিং শুরু হল।

    আমি ভেবেছিলাম, এখানে অ্যানিমেশনের কিছুটা ভূমিকা থাকা দরকার। জেনি যখন এক মহাকাশ যাত্রীকে চিহ্নিত করছে, পরবর্তীকালে সেই অংশটাও রাখা হয়েছিল।

    ডিক ওয়েস নামে এক সংগীত লেখকের সাথে পরিচয় হয়। অসাধারণ শব্দসম্ভারে সে গান সাজিয়েছে।

    এরই মধ্যে মাঝে মধ্যে কিছু কিছু দুর্ভাগ্যজনক ঘটনা ঘটে যায়। ব্যক্তিত্বের সংঘাত, ইগোর লড়াই আরও কত কী। তারই মধ্যে আবেগসঞ্জাত অশ্রু এসে গ্রাস করে। কিন্তু সবসময় এসব হতাশাকে দূরে রাখতে ভালোবাসি।

    শেষ পর্যন্ত জেনি দর্শকদের সামনে তুলে ধরা হল। সমালোচকরা দ্বিধাবিভক্ত। অনেকে বললেন, এর মধ্যে একটা গোপন সম্ভাবনা আছে। কেউ কেউ আবার সেই সম্ভাবনাটাকে অঙ্কুরে বিনষ্ট করতে চাইলেন।

    এখন এসব প্রশংসা অথবা নিন্দা আমাকে বিন্দুমাত্র আকর্ষণ করতে পারে না। আমি কেমন নিস্পৃহ নির্মোহ দৃষ্টিতে এদের দিকে তাকিয়ে থাকি। তবু, সংগোপনে বলে রাখি, একটু কষ্ট অথবা আনন্দ হয় বৈকি।

    এক বৃদ্ধা ভদ্রমহিলা এলেন অভিনয় করতে-কুইনি স্মিথ। এককালে তিনি ডাকসাইটে সুন্দরী ছিলেন। তার চেহারা দেখেই বুঝতে পারছি। তাকে আমি একটা ভালো চরিত্র দিয়েছিলাম। তিনি চিকাগো শহরে পোশাক বিক্রি করেন। তার সাথে অনেক ঝগড়া তর্ক করতে হয়েছিল। অন্য চরিত্র পাবার জন্য তিনি তৎপর হয়ে উঠেছিলেন। কিন্তু আমি দর্শকদের মন ভালোভাবে বুঝতে পারি, আমি জানি, দর্শকরা কোন চরিত্রে কাকে গ্রহণ করবে।

    ল্যারির সাথে প্রায়ই দেখা হচ্ছে, ডিনারের আসরে। ল্যারি এখন আমাদের পরিবারের একজন হয়ে উঠেছে।

    জেনি তাকে শনিবার রাতে দেখানো হল। এটাই তো শুরু হল। ধীরে ধীরে দর্শক সংখ্যা বাড়ছে, বুঝতে পারছি, ঠিক মতো প্রদর্শিত হলে এটাও দর্শক হৃদয়ে স্থায়ী আসন করে নিতে পারবে।

    .

    পুব আকাশে ঝড়ের ইশারা। নিউইয়র্ক চলে গেলাম, ঝড়কে প্রশমিত করব কী করে? একের সাথে অন্যের লড়াই বেঁধে গেছে। ক্যালিফোর্নিয়াতে ফিরে এলাম। জর্জিয়া এবং আমার জন্য থাউজেন্ড ওকস-এ একটা সুন্দর বাড়ি ভাড়া করা হয়েছে। পাটি রোজেসের অবদান আছে এই বাড়ি ভাড়ার অন্তরালে। আমি তাদের ওপর দায়িত্ব দিলাম। মাঝে মধ্যে হয়তো আমরা যাব।

    নাসা সহযোগিতা করেছিল। জেনি নাসার সহযোগিতায় তৈরি হল। আমরা এডওয়ার্ডস এয়ারপোর্ট বেস-এ গেলাম, কেনেডি স্পেস সেন্টারে গেলাম। ফ্লোরিডাতে অবস্থিত। আমরা। বেশ কয়েকজন মহাকাশচারীর সঙ্গে কথা বললাম। এত সহযোগিতা না পেলে ছবিটা এত বাস্তব হয়ে উঠতে পারত না।

    নতুন অভিজ্ঞতার মধ্যে দিয়ে দিন কেটে চলেছে। তারই মধ্যে মাঝে মধ্যে ছুটি নেবার চেষ্টা করছি। হা, পরিবারের জন্য কিছুটা সময় আমাকে দিতেই হবে।

    .

    ২৭.

    দ্বিতীয় পর্বের কাজ শুরু হয়েছে। জেনি এখন রঙে রঙে রঙিন হয়ে উঠেছে। সকলেই অনবদ্য অভিনয় করেছেন। স্ক্রিপ্টটাও ভালো, অন্তত সকলে তাই বলছে।

    তার মানে? আর একটা মাস্টার পিস হবে কি?

    ১৯৬৬ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে এপ্রিল মাস পর্যন্ত আমি ৩৮টি স্ক্রিপ্ট লিখেছিলাম আমার নিজের নামে। হলিউডে এটা একটা অবিশ্বাস্য ঘটনা। সবাইকে লড়াই করতে হয়, আমার লড়াই করার দিনগুলো হারিয়ে গেছে। প্রত্যেকটা ছবিতে আমার নাম থাকছে। এমন কী যখন জেনি আত্মপ্রকাশ করল। তখন বলা হল সিডনি সেলডনের একটা উপস্থাপনা। এর সৃজনশীলতার অন্তরালে আছেন সিডনি সেলডন, প্রযোজনা করেছেন সিডনি সেলডন, চিত্রনাট্য লিখেছিলেন সিডনি সেলডন, কপিরাইট আছে সিডনি সেলডনের হাতে।

    এভাবে বারবার আমার নাম প্রদর্শিত হচ্ছে। এছাড়া আমি কয়েকটা ছদ্মনাম নিতে বাধ্য হয়েছি। যাতে দর্শকদের মধ্যে একঘেয়ে না লাগে।

    প্রথম বছরটা ভালোয় ভালোয় কেটে গেল। দু-একটা অভাবিত ঘটনা অবশ্য ঘটেছিল। সেগুলোকে আমি সামলে নিয়েছি।

    খ্যাতির পাশাপাশি অর্থও আসছে যথেষ্ট। ইঙ্গিত পথে কি আমি পৌঁছোতে পেরেছি?

    .

    ১৯৬৭ সালের সেপ্টেম্বর, লস এঞ্জেলসের সিনাই হাসপাতাল থেকে একটা ফোন এল। আমার বাবার হার্ট অ্যাটাক হয়েছে। ডাক্তার বললেন যে, বাবা হয় তো বাঁচবে না। আমি সঙ্গে সঙ্গে চলে গেলাম সেখানে। বাবার সমস্ত শরীরটা বিবর্ণ। হ্যাঁ, সেই যৌবন-উন্মাদনা কোথায় হারিয়ে গেছে।

    বাবা আমাকে আরও কাছে ডাকল। আমি ঝুঁকে পড়লাম।

    বাবা বলল- রিচার্ডকে আমার গাড়িটা দিয়েছি। এটা হয়তো বিক্রি করতে পারতাম।

    এটাই হল আমার প্রতি বাবার শেষ কথা।

    .

    জেনির চতুর্থ পর্বের শুটিং শুরু হয়েছে। ইতিমধ্যেই জেনি অসামান্য হিট করেছে। দর্শকরা ভালো মনে এটাকে গ্রহণ করেছে।

    এখন আমি একটার পর একটা চিত্রনাট্য লিখেই চলেছি। আমি লিখলাম, দ্য বিগেস্ট স্টার ইন হলিউড, এই ছবিতে অনেক বিশিষ্ট অভিনেতা অভিনেত্রীরা সই করেছিলেন। এই ছবিটাও অসাধারণ হয়েছিল। তারপর লিখলাম ডিন অফ? এটা আমার সফলতাকে আর একটু এগিয়ে দিল।

    দেখতে দেখতে পাঁচ বছর কেটে গেছে। জেনি এক জনপ্রিয় টিভি সিরিয়াল। আর একটা পর্ব লেখা শেষ করতে হবে। ১৩৯টা এপিসোড হয়ে গেছে। ষষ্ঠ বছরেও জেনির জনপ্রিয়তা অব্যাহত।

    ১৯৭১- সকলে বারবার জেনির জন্য আবেদন করেছে।

    আজ জেনি প্রদর্শিত হবার পর চল্লিশ বছর কেটে গেছে। আজও পৃথিবীর বিভিন্ন টেলিভিশন চ্যানেলে বারেবারে এই সিরিয়ালটা দেখানো হয়। এখনও এটা হাজার-লক্ষ দর্শকদের মনে হাসির উদ্রেক করে। কলোম্বিয়া এটাকে রঙিন ছবিতে পরিণত করার চিন্তা করছে।

    .

    জেনির প্রযোজনাটা আমার। আমি ভাবলাম, আরও কয়েকটা ছবি প্রযোজনা করলে কেমন হয়। নতুন প্রেক্ষাপটে গল্প লিখতে হবে। যেসব বিষয় নিয়ে কেউ কখনও চিন্তা করেনি, সেসব বিষয়ে ভাবতে হবে।

    ভাবতে ভাবতে অনেক কথাই মনে পড়ে গেল। গল্পের কথা চিন্তা করেছি। বিখ্যাত লেখকদের লেখা অক্লান্তভাবে পড়ে চলেছি। টি এস এলিয়টের কবিতা পড়লাম, তার কবিতাতে এমন কিছু জিনিস আছে, যাকে উপন্যাসে পরিণত করা যেতে পারে।

    .

    ১৯৫৩- ফ্রাঙ্কের সাথে প্রথম দেখা হল। ফ্রাঙ্ক এক অসাধারণ ব্যাক্তিত্বের মানুষ। ফ্রাঙ্ক সিনাত্রা, নিজস্ব নিয়মনীতি মেনে চলতে ভালোবাসেন। আমার মনে হয় এক সঙ্গে তিনজন ফ্রাঙ্ক সিনাত্রা এই পৃথিবীর বুকে বেঁচে আছেন। কে আসল তা আপনি বুঝতে পারবেন না।

    সিনাত্রা জুলিয়েট প্রোজিকে বিয়ে করার জন্য প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। জুলিয়েট এক উদ্ভিন্নযৌবনা নর্তকী। অভিনয় জগতে যথেষ্ট নাম করেছেন। তারা জুনিয়ার রিপোর্টারদের কাছে এই খবরটা বললেন। সঙ্গে সঙ্গে সিনাত্রা তাকে ছেড়ে চলে গেলেন।

    এক অদ্ভুত চরিত্রের মানুষ। কিন্তু যখনই আমি তার কাছে গিয়েছি, আমার মনে হয়েছে, তার মধ্যে একটা অদ্ভুত প্রতিভার দ্যুতি আছে। তাঁর ছটায় চোখ ধাঁধিয়ে যায়।

    ফ্রাঙ্ক সিনাত্রা অনেকগুলি বইতে অসামান্য অভিনয় করেছেন। তিনি আভা গারডানারকে বিয়ে করেন এবং ডিভোর্স করেন। তখনও পর্যন্ত আভার প্রতি তার চোরাগোপ্তা ভালোবাসা বজায় ছিল।

    ফ্রাঙ্কের অ্যাপার্টমেন্টে গিয়ে অনেক অন্তরঙ্গ মুহূর্ত কাটিয়েছি। ফ্রাঙ্কের জন্মদিনের পার্টিতে গেছি। আভা তখন আফ্রিকাতে ছিলেন। মোকাম্বো ছবির শ্যুটিং ছিল।

    কথায় কথায় ফ্রাঙ্ক আভার কথা বলেছিলেন। আমি বুঝতে পেরেছিলাম, ফ্রাঙ্ক আবার, টেলিফোনের অপেক্ষায় তৃষিত চিত্তে বসে আছেন।

    .

    প্রত্যেক বৃহস্পতিবার সন্ধেবেলা একদল মানুষ আমার সঙ্গে দেখা করতে আসতেন। তারা ঈগল দলভুক্ত। আমরা হৈ-হৈ করতাম। এই দলের মধ্যে অনেকেই স্ত্রীদের নিয়ে আসতেন, এই দলভুক্ত অনেকেই পরবর্তীকালে বিশিষ্ট হয়ে উঠেছিলেন। বিশেষ করে বিনোদনের জগতে।

    এইভাবে আমরা পারস্পরিক আলোচনার মাধ্যমে নিত্য নতুন পথের সন্ধান করতাম।

    আমি চিন্তা করলাম হলিউডে আরও বেশি সময় দিতে হবে। ফিউচার অফ কমেডি নামে একটি প্যানেল তৈরি হল। ২০০০ সালের ১৭ই জুলাই তারিখে। রাইটারস বিল থিয়েটারে প্রথম অধিবেশন বসল।

    সকলে আমাদের দারুণভাবে সংবর্ধিত করেছিল। আমি অনেকের সাথে পরিচিত হলাম।

    ১৯৭০- আর একটা টেলিভিশন শো তৈরি করেছি– ন্যানসি নামে। এটা হল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের ফ্যাশান দুরস্ত তরুণী কন্যার কাহিনী। যে একটা ছুটিতে র‍্যানচে বেড়াতে গেছে। এক তরুণের প্রেমে পড়েছে। তারা বিয়ে করেছে। গল্পটা তরতর করে এগিয়ে চলেছে। দু-ধরনের জীবন শৈলীর মধ্যে যে তফাত তা বোঝানোর চেষ্টা করা হয়েছে।

    বেশ কয়েকজন নতুন অভিনেতা অভিনেত্রীর সন্ধান পেলাম। আমি বুঝতে পারলাম, ভবিষ্যতে তারা সিনেমা জগতের আলো হয়ে উঠবেন।

    এই ছবির মধ্যে এক রোমান্টিক আবেশ ছিল। চরিত্র চিত্রণ চমৎকার হয়েছে। সতেরোটি এপিসোড় পরপর দেখানো হল। তারপরেই কোনো এক অজ্ঞাত কারণে নেটওয়ার্ক পরবর্তী এপিসোড দেখাতে রাজী হয়নি। যখন এপিসোডটা বন্ধ হয়ে যায়, তখন রেটিং-এ ন্যানসির স্থান ছিল সতেরো। এটা ভাবতেও আমার ভালো লাগছে। হয়তো হোয়াইট হাউসের কোনো অজানা হস্তক্ষেপ আছে। আমি এখনও পর্যন্ত জানি না।

    .

    ২৮.

    কয়েক বছর কেটে গেছে। ঠিক করলাম, এবার অভিজাত শ্রেণীর গল্পকথা শোনাতে হবে। হাট টু হাট নামে একটা চিত্রনাট্য লিখলাম। ১৯৭৯ সালে সেটা বেতারে সম্প্রচারিত হল। দুজন এটার প্রযোজনা করেছিলেন। রজারস ওয়াগনারকে পাওয়া গেল। স্টেফনি পাওয়ারসও এলেন সই করতে।

    অন্যান্য প্রকল্পের কাজ এগিয়ে চলেছে। তারই মাঝে নিত্য নতুন চিন্তাধারা আমার মনকে আচ্ছন্ন করে দেয়।

    এবার উপন্যাসের কাজ শুরু হয়েছে। সকাল থেকে উপন্যাস বলতে থাকি। সম্পাদকরা সেগুলো লিখে নেন। বিকেলবেলা আমি চলে যাই প্রযোজকের দরবারে। অন্যান্য প্রকল্প নিয়ে আলোচনা করি।

    উপন্যাস এইভাবে শেষ হল, এটা নিয়ে কী করব কিছুই জানি না। আমার সাথে এই ধরনের কোনো এজেন্টের আলাপ হয়নি।

    –আমি আমার এক প্রিয় বন্ধুকে ডেকে পাঠালাম। সে হল বিখ্যাত ঔপন্যাসিক আলভিন ওয়ালেস।

    আমি একটা উপন্যাসের পাণ্ডুলিপি তৈরি করেছি। এটা কোথায় পাঠাব?

    সে বলল- আমি আগে এটা পড়ে দেখব।

    সে এটা নিয়ে চলে গেল। কবে ফোন করবে সে আশায় বসে আছি। ছদিন বাদে সে ফোনে বলল- সিডনি, কখনও এই উপন্যাসটা কারও কাছে পাঠিও না।

    সে আবার বলল– এটাকে আমার এজেন্টের কাছে পাঠিয়ে দাও। আমি তাকে সবকিছু বলে রাখব।

    এই উপন্যাসটি হল দ্য নেকেড ফেস। এটা অসামান্য জনপ্রিয়তা পেয়েছিল। পাঁচটা সংস্করণ প্রকাশিত হয়েছে। ষষ্ঠ সংস্করণটা প্রকাশের পথে। আমার এজেন্ট বলেছিল উইলিয়াম ময়রা আপনার উপন্যাসটা প্রকাশ করতে চাইছে। তারা আপনাকে একহাজার ডলার অ্যাডভান্স হিসেবে দেবে।

    আমার মন আনন্দে পরিপূর্ণ। শেষ পর্যন্ত একটা বই আমার নামে প্রকাশিত হবে।

    এর জন্য আমি হয়তো উইলিয়াম মরোকে হাজার ডলার দান করতাম।

    কয়েকটা সামান্য পরিবর্তন করা হয়েছিল। আমি সেই পরিবর্তনগুলো করে দিলাম।

    ১৯৭০ সালে– দ্য নেকেড ফেস বাজারে এল। সকাল থেকে নানা চিন্তায় মনটা আচ্ছন্ন। জানি না এটার অবস্থা কী হবে। একটা কপিও কি বিক্রি হবে না? আমি বেভারলি হিলসের একটা বইয়ের দোকানে গেলাম। একটা কপি কিনলাম। আজ পর্যন্ত আমি এই ধারাটা বজায় রেখেছি। যখনই আমার উপন্যাসের প্রথম সংস্করণ বাজারে আসে, প্রথম কপিটা অবশ্যই আমি কিনব।

    অনেকে বলে থাকেন, একজন লেখককে বিভিন্ন দেশে ঘুরতে হয়। সব জায়গায় খবর নিতে হয়। লেখকরা মাঝে মধ্যেই টেলিভিশনের পর্দায় অবতীর্ণ হবেন। বই নিয়ে যে আলোচনা সভা সেখানে যোগ দেবেন। লেখা সংক্রান্ত লাঞ্চের আসরে যাবেন। এই ব্যাপারটা আমার খুব একটা ভালো লাগে না। তবে এই ব্যাপারটা আমি আমার এক এজেন্টের ওপর ছেড়ে দিয়েছিলাম। তার পাশাপাশি চেষ্টা করেছিলাম জনসংযোগ বজায় রাখতে।

    আমার এজেন্ট হিলাল আমাকে বলেছিলেন- সিডনি, লেখকের আসল জোর লুকিয়ে থাকে তার কলমের মধ্যে। কলমের জোর না থাকলে এসব বাহ্যিক লড়াই করে কিছুই হয় না।

    –আপনি কী বলতে চাইছেন?

    হলিউডের বাইরে আপনার নাম কেউ জানে না। আপনি এখন এটা ভুলে যান। লেখার মাধ্যমেই আপনি সকলের সাথে পরিচিত হবেন।

    এবার অন্য দু-একটা বই লেখা শুরু করলাম। তারই পাশাপাশি অনেকগুলো চিত্রনাট্য একসঙ্গে লিখছি।

    পাশাছোনাতে গেলাম, ক্যালিফোর্নিয়াতে। হানটিং হোটেলে একটা সাহিত্যবাসর বসেছিল। বিভিন্ন লেখকেরা নিজের সম্পর্কে বলছিলেন। আমাকেও ডায়ার্সে দাঁড়িয়ে আমার কথা বলতে হল।

    লাঞ্চ সেসনে পারস্পরিক আলাপ আলোচনা হল। লাঞ্চ হয়ে গেছে। সকলেই বই নিয়ে কথা বলছেন। আমিও আমার বই নিয়ে কথা বললাম। কিন্তু কেউ কি আমার বইটা পড়েছেন? আমার মুখ লাল হয়ে গেছে। আমি ঘর থেকে বেরিয়ে গেলাম। মনে প্রশ্ন জেগেছে, তা হলে ঔপন্যাসিক সিডনি সেলডনকে কেউ গ্রহণ করতে পারছেন না?

    কিছুক্ষণ বাদে একটা শব্দ ভেসে এল।

    মিঃ সেলডন?

    আমি মুখ তুলে তাকালাম। আমার সামনে এক মধ্যবয়সিনী দাঁড়িয়ে আছেন।

    উনি বললেন- আপনার বাইটার কী নাম?

    ভয়ে ভয়ে আমি বললাম- দ্য নেকেড ফেস।

    উনি হাসলেন এবং বললেন- ঠিক আছে, আমি একটা কপি কিনব।

    এটা দয়া এবং করুণা। সেদিন আমি মাত্র একটা কপি বিক্রি করতে পেরেছিলাম।

    কয়েক সপ্তাহ কেটে গেছে। আমি নিউইয়র্কে ফিরে এসেছি। ল্যারি হিউজেসের সঙ্গে দেখা করলাম। তিনি হলেন উইলিয়াম মরোর প্রেসিডেন্ট।

    ল্যারি বললেন- নেকেড ফেসের সতেরো হাজার কপি বিক্রি হয়েছে। এখনই দ্বিতীয় সংস্করণ ছাপতে হবে।

    আমি অনেকক্ষণ তার মুখের দিকে অবাক চোখে তাকিয়ে ছিলাম।

    মিঃ হিউজেস, আমার একটা টেলিভিশন শো হবে। এই শো-টা অন্তত দু কোটি মানুষ প্রতি সপ্তাহে দেখে থাকেন। কাজেই আমার সতেরো হাজার বই বিক্রি হয়েছে বলে আমি মোটেই আনন্দিত বা শিহরিত হচ্ছি না।

    এই বইটার সমালোচনা প্রকাশিত হল। আমি অবাক হয়ে গেছি। বেশির ভাগ সমালোচক আমাকে সমর্থন করেছেন।

    নিউইয়র্ক টাইমসের সমালোচক পরিষ্কার লিখেছেন- দ্য নেকেড ফেস এই বছরের সর্বশ্রেষ্ঠ রহস্য উপন্যাস।

    সে বছর আমাকে এডগার অ্যালান পো পুরস্কারে অন্যতম মনোনয়ন দেওয়া হল।

    আমি হলিউডে ফিরে এসেছি। ন্যানসি নিয়ে কাজকর্ম এগিয়ে চলেছে। দ্য নেকেড ফেস আর্থিক দিক থেকে সফল হয়েছে। সত্যি কথা বলতে কী, এই ব্যাপারটা নিয়ে আমি খুব একটা চিন্তা করিনি। পরের খেয়াল খুশিতে উপন্যাস লিখেছিলাম। ভেবেছিলাম আমার সৃজনশীলতার মধ্যে একটু বৈশিষ্ট্য আনব। যখন আমি চিত্রনাট্য লিখি, অথবা থিয়েটারের জন্য সংলাপ তৈরি করি, তখন সকলের সমবেত প্রয়াস থাকে। যদি তুমি একা একা লেখো, তোমাকে চরিত্র অভিনেতা অভিনেত্রীদের কথা ভাবতে হয়, পরিচালক, প্রযোজক, সংগীত শিল্পী সকলের কথা চিন্তা করতে হয়।

    যখন কেউ উপন্যাস লেখেন, তখন তাকে একাকীত্বের যন্ত্রণা সহ্য করতে হয়। কেউ পাশে বসে না, কেউ বলে না, এই সংলাপটা একটু পাল্টালে ভালো হত।

    –এতটুকু সেট দেবার দরকার কী?

    …এখানে একটু গান দিলে ভালো হয়।

    ঔপন্যাসিক নিজেই তার চরিত্র সৃষ্টি করেন, ব্যথা আবেগ অনুভূতি বাসনা কামনা তিনিই হলেন এই সৃজনশীলতার শিল্পী, অভিনেতা-অভিনেত্রী, প্রযোজক এবং পরিচালক। তিনি সারা পৃথিবীকে তৈরি করতে পারেন। তিনি এগিয়ে যেতে পারেন, যে কোনো কল্পিত চরিত্র আনতে পারেন। তার কল্পনা শক্তির ওপর কেউ বাধা নিষেধ আরোপ করে না।

    আমি চিন্তা করলাম, আর একটা উপন্যাস লিখতে হবে। জানি না সেই উপন্যাসটা। কতখানি সফল হবে। একটা উত্তেজক অনুভূতি। ইতিমধ্যে আমার কাছে একটা দুঃসংবাদ এসেছে। আর. কে. ও অর্কিস ফর ভার্জিনিয়া চিত্রনাট্যটা কিনতে চাইছে না। আমি এই গল্পটাই বলব, সকলের কাছে। একটা সুন্দর উপন্যাসের জন্ম হবে কি? আমি নামটা পাল্টে দিলাম। নাম দিলাম দ্য আদার সাইড অফ মিডনাইট। এই বইটা প্রকাশিত হল। আমার জীবনটাই পাল্টে গেল। নিউইয়র্ক টাইমসে বেস্ট সেলার লিস্টের তালিকায় ৫২ সপ্তাহ ধরে এই নামটা ছিল। দ্য আদার সাইড অফ মিডনাইট একটা কিংবদন্তি সৃষ্টি করে। বিশ্বের সর্বত্র বেস্ট সেলারের সম্মান পায়।

    তাহলে? আমার আর একটা স্বপ্ন সফল হল বোধহয়।

    .

    কিছু কথা বাকি থেকে গেছে

    বিভিন্ন ভাবে জীবনটা কেটে গেছে, কখনও মোশন থিয়েটারে, কখনও টেলিভিশনে, কখন উপন্যাস লেখাতে। যদি আমাকে প্রশ্ন করা হয়, সৃজনশীলতার কোন্ মাধ্যম আমি সবথেকে বেশি ভালোবাসি। আপনারা শুনলে হয়তো অবাক হবেন। আমি ভালোবাসি উপন্যাস লিখতে। উপন্যাসের মধ্যে আমার আত্মার মুক্তি, আমার কল্পনার বিচ্ছুরণ। আমি একজন চিত্রনাট্যকার। একজন সংলাপ লেখক। আমি একজন ঔপন্যাসিক কীভাবে এই উত্তরণটা হল আমি বলতে পারব না।

    এর ফলে আমি অনেক সুযোগ সুবিধা পেয়েছি। একজন ঔপন্যাসিক পৃথিবীর সব দেশে ঘুরে বেড়াতে পারেন। বিভিন্ন কৌতূহলোদ্দীপক মানুষের ঘনিষ্ঠ সংস্পর্শে আসতে পারেন। ইতিহাস প্রসিদ্ধ স্থানে ভ্রমণ করতে পারেন। এই সব মানুষদের কথা তার লেখাকে বিশেষভাবে প্রভাবিত করে। আপনার মন আরও আবেগ আচ্ছন্ন হয়ে যায়।

    আমি এক মহিলার কাছ থেকে একটি চিঠি পেলাম। তার ভীষণ হার্ট অ্যাটাক হয়েছে, তিনি হাসপাতালে বসে আছেন। তিনি চাইছেন না, তার বাবা, মা বা বয়ফ্রেন্ড এসে তার সাথে দেখা করুক। তিনি মরতে চাইছেন। তার বয়স মাত্র একুশ বছর। তিনি তার টেবিলে দ্যা আদার সাইড অফ মিডনাইট-এর একটি কপি রেখেছেন। তিনি সেই কপির দিকে তাকিয়ে আছেন। তিনি বারবার সেই বইটা পড়ছেন। বইটা শেষ করার পর চরিত্রগুলো তার মনের পর্দায় ভেসে উঠেছে। তিনি নিজের সমস্যার কথা ভুলে গেছেন। জীবন যুদ্ধে আবার তখন ফিরে এসেছেন এক জয়ী নায়িকা হিসেবে।

    এই চিঠিটা আমাকে আপ্লুত করে দিয়েছিল।

    আর এক মহিলার চিঠি পেলাম, তিনি বলছেন, তার মুমূর্ষ মেয়ের শেষ অনুরোধে তিনি আমার সব কটি বই তার হাসপাতাল বেডে সাজিয়ে দিয়েছেন। মেয়েটি শান্তিতে মারা গেছে।

    রেজ অফ এঙ্গেলস-এ আমি একটা ছোট্ট ছেলের কথা লিখেছিলাম, সেই ছেলেটি মারা গিয়েছিল। আমাকে অনেকগুলো মেল করা হল। তার মধ্যে ঘৃণা ঝরে পড়ছে।

    পূর্বদেশ থেকে এক মহিলা ফোন করে বলেছিলেন- আমি ঘুমোতে পারছি না, কেন আপনি বাচ্চাটাকে মেরে ফেললেন।

    এমন অনেক চিঠি আবেগের অনুরাগে সম্পৃক্ত। ব্যক্তিগত জীবনবোধে উদ্দীপ্ত।

    জেনিফার পার্কার- রেজ অফ এঞ্জেলস-এর সেই নায়িকাকে দেখে অনেক মেয়ে অ্যাডভোকেট হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করেছে। খবরটা আমাকে উৎসাহ দিয়েছে।

    আমার উপন্যাস ১৮০টা দেশে বিক্রি হয়েছে। ৫১টা ভাষায় অনূদিত হয়েছে। ১৯৯১ সালে গিনিস বুক অফ ওয়ার্ল্ড রেকর্ডে আমাকে পৃথিবীর সব থেকে বেশি অনূদিত লেখকের সম্মান দেওয়া হয়েছে। আমার বই এখনও পর্যন্ত ৩০ কোটি বিক্রি হয়েছে। আমি জানি না, এই অসামান্য জনপ্রিয়তার অন্তরালে কী আছে। আমার কেবলই মনে হয়, আমার চরিত্রগুলি বুঝি রক্ত-মাংসের মানুষ। পাঠকদের কাছে একই অনুভূতি হয়। বিদেশি পাঠকরাও আমার বইয়ের সাথে একাত্ম হয়ে উঠতে পারে। কারণ তাদের ভালোবাসা, ঘৃণা, আবেগ, ঈর্ষা সবকিছুকে আমি তুলে ধরার চেষ্টা করি। আমি একটা আপ্ত বাক্যে বিশ্বাস করি। তা হল, পৃথিবীর সর্বত্র মানুষ একই রকম অনুভবে অনুরণিত হয়।

    যখন আমি ঔপন্যাসিক হয়েছিলাম, একটা বিষয় আমাকে বিশেষভাবে আলোড়িত করেছিল। আমি দেখেছিলাম যে, একজন ঔপন্যাসিক চিত্রনাট্যকারের থেকে অনেক বেশি সম্মান অর্জন করেন। চিত্রনাট্যকারদের দিকে অনেকে করুণার চোখে দেখে থাকেন, কিন্তু ঔপন্যাসিকের দিকে তেমন চোখে দেখেন না।

    একদিন আমি ইস্টার প্যারাড লিখছিলাম, আর্থার ফ্রেডের অফিসে বসে, তার ইনসিওরেন্স এজেন্ট ভেতরে এলেন। আমরা বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করছিলাম।

    ফ্রেড তার ইনসিওরেন্স এজেন্টের দিকে তাকিয়ে বললেন- এই সংবাদপত্রে কী লিখেছে, তা দেখা যাক।

    তারা দুজন ঘর থেকে বেরিয়ে গেলেন। আমাকে একলা ফেলে। ওই ঘটনা আমাকে খুবই আঘাত করেছিল। আমি বুঝতে পেরেছিলাম, আমার হয়তো অর্থ আছে, কিন্তু সম্মানটা একটু কমই আছে, সারা পৃথিবীতে আমি ঘুরেছি, উপন্যাসের জন্য রসদ সংগ্রহ করতে নানা ধরনের অভিজ্ঞতা হয়েছে। এথেন্সে গেছি, তখন আমি দি আদার সাইড অফ মিডনাইট নিয়ে কাজ করছি। জর্জিয়া আমার সঙ্গে ছিল। আমরা একটা পুলিশ স্টেশনে গেলাম। আমরা অনুমতি চেয়েছিলাম।

    আমরা ভেতরে প্রবেশ করলাম। ডেস্কের পাশে বসে থাকা একজন পুলিশ বললেন কীভাবে সাহায্য করব?

    -কেউ কী বলতে পারেন, কীভাবে একটা গাড়িকে উড়িয়ে দেওয়া যায়।

    তিরিশ সেকেন্ড কেটে গেছে, আমাদের একটা ঘরে বন্দী করে রাখা হয়েছে।

    জর্জিয়া ভয়ার্ত কণ্ঠস্বরে বলল- ওদের বলল, তুমি আসলে কে?

    –ভয় পেও না, এ কথা বলার অনেক সময় পাওয়া যাবে।

    দরজাটা খুলে গেল। চারজন পুলিশের হাতে উদ্যত বন্দুক।

    তারা বললেন আপনারা কেন একটা গাড়ি উড়িয়ে দিতে চাইছেন? কেন?

    –আমি সিডনি সেলডন। এই ব্যাপার নিয়ে গবেষণা করছি।

    আমার সৌভাগ্য, তারা আমার নামটা জানতেন। তারা ব্যাপারটা আমাকে বুঝিয়ে বলেছিলেন।

    দক্ষিণ আফ্রিকাতে গেছি, মাস্টার অফ দ্য গেম নামে একটা উপন্যাসের রসদ সংগ্রহ করতে। এই উপন্যাসটার মধ্যে হীরক ব্যবসার কথা বলা আছে। সেখানে ডি বিয়ারসের সঙ্গে আমার যোগাযোগ হল। তাদের একটা হিরের খনিতে যাবার জন্য আবেদন করেছিলাম। তারা আমার আবেদনে সাড়া দিয়েছিল।

    আমি হিরের খনিতে গিয়েছিলাম। সে অভিজ্ঞতার কথা কখনও ভুলতে পারব না।

    ডি বিয়ারসের একজন আধিকারিক আমাকে বলেছিলেন যে, তাদের একটা হিরের খনি পরিষ্কার দেখা যাবে, তার একদিকে সমুদ্র আছে, অন্যদিকে আছে সশস্ত্র প্রহরীদের পাহারা। আমি সেখানে যাবার জন্যই মন স্থির করেছিলাম। আমি চেয়েছিলাম, আমার একজন চরিত্র যেন ওই হিরের খনিতে গিয়ে হিরে চুরি করে বাইরে চলে আসে।

    এবার ইফ টুমরো কামস উপন্যাসটার কথা বলি। এই উপন্যাসটা লেখার সময় আমি মাদ্রিদের প্রাডো মিউজিয়ামের নিরাপত্তা ব্যবস্থা সম্পর্কে অনেক জ্ঞান অর্জন করেছিলাম। আমি জানতাম, কাজটা অসম্ভব, কিন্তু এই কাজটা আমাকে করতেই হবে। তা না হলে আমি কী করে দেখাব যে, আমার একটা চরিত্র ওই মিউজিয়াম থেকে দামি হিরে চুরি করছে?

    উইন্ডমিলস অফ দ্যা গডস লেখার জন্য আমি রোমানিয়াতে যাই। রোমানিয়ার কথা এই বইতে বারবার উল্লিখিত হয়েছে। তখন চেসকু জীবিত ছিলেন। তিনি আমাকে যথেষ্ট সাহায্য করেছিলেন। আমেরিকান এমবাসিতে গিয়েছিলাম। আমেরিকান অ্যামবাসাডরের সঙ্গে যোগাযোগ করি। তাকে কয়েকটা প্রশ্ন করছিলাম। তিনি বলেছিলেন, ভেতরে আসুন। তিনি আমাকে হলের ভেতরে নিয়ে যান। সেখানে সব সময় প্রহরীদের প্রহরা।

    তিনি বলেছিলেন- কী জানতে চাইছেন বলুন?

    –এই ঘরটার ওপর কেউ কি গুপ্তচরবৃত্তি করতে পারে?

    না, কখনও হওয়া সম্ভব নয়।

    তিনরাত। জর্জিয়া এবং আমি একটা নাইট ক্লাবে গেলাম। নাইট ক্লাবে পাশাপাশি বসে আছি। এয়ারকনডিশনটা ক্রমশ বড়ো হচ্ছে। আমি উঠে দাঁড়িয়েছি।

    নাইট ক্লাবের ম্যানেজার ছুটে এলেন। বললেন- কিছু কী হয়েছে?

    হ্যাঁ, এবার আমি আমার সূত্রটা পেয়ে গেছি।

    পরের দিন আমি অ্যামবাসাডরের বাড়িতে গেছি, আবার তাকে প্রশ্ন করেছি।

    তিনি বললেন- চলুন, আমরা বাগানে বেড়াই।

    রোমানিয়াতে অ্যামবাসাডরের বাড়ির ওপরেও তীক্ষ্ণ নজর রাখা হয়। এই সরল সত্যটা আমি বুঝতে পেরেছিলাম।

    এবার দ্য স্যান্ডস অফ টাইম-এর কথা বলি। এই বইটা লেখার জন্য আমি স্পেনে গিয়ে ছিলাম। সেখানে বাসকোরা কী ধরনের আন্দোলনে করছে তা জানতে হবে। আমি ড্রাইভারকে বলেছিলাম, সবকিছু আমাদের ঘুরিয়ে দিতে। এখানে কয়েকজন সিস্টারের কথা আছে, আমরা সান সিবাসটিয়ানে চলে যাই। আমাকে ড্রাইভার হোটেলের কাছে নিয়ে গিয়ে বলেছিল– আমি এখন চলে যাব।

    আমি বলেছিলাম না, আমাদের অনেকক্ষণ থাকতে হবে। একটা ব্যাপারে গবেষণা করব।

    ড্রাইভার বলেছিল– আপনি কেন বুঝতে পারছেন না, এটা হল বাসকোদের প্রধান কেন্দ্র। যখন তারা দেখবে গাড়িতে মাদ্রিদের লাইসেন্স প্লেট লাগানো আছে, তারা বিস্ফোরক দিয়ে গাড়িটা উড়িয়ে দেবে।

    আমি বাসকোদের একজনের সঙ্গে দেখা করেছিলাম। তাদের অভাব অভিযোগের কথা শুনতে চেয়েছিলাম, তাদের দ্বিতীয় শ্রেণির নাগরিক হিসেবে অবহেলা করা হচ্ছে, তারা তাদের অধিকৃত ভূমিখণ্ড আবার দখল করতে চাইছে, তাদের নিজস্ব ভাষা আছে, এবং নিজস্ব সভ্যতা।

    .

    এটা হল আমার কয়েকটা অভিজ্ঞতা। আমি সকলের কাছে আমার আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করছি। আমি লিখতে ভালোবাসি, লেখাই আমাকে বাঁচিয়ে রেখেছে। আমি বিশ্বাস করি, লেখার জন্য সকলের সমবেত প্রয়াস আছে। আমি বিশ্বাস করি, প্রতিভা ভগবানদত্ত একটা ক্ষমতা। কেউ কেউ লিখতে ভালোবাসে, কেউ গান গাইতে ভালোবাসে, কেউ আবার ছবি আঁকতে ভালোবাসে। যে কোনো ক্ষমতার জন্যই আমরা আরও বেশি পরিশ্রম করব।

    লেখার মধ্যেই আমার জীবনের একমাত্র আনন্দ লুকিয়ে আছে।

    একবার আমার বিজনেস ম্যানেজার ৫০০ ডলার মূল্যের টেনিসের সরঞ্জাম দিয়েছিলেন। জন্মদিনের উপহার হিসেবে। প্রতি সপ্তাহে একবার করে আমাকে টেনিস কোর্টে যেতে হবে, এমন একটা লিখিত শর্ত ছিল।

    একদিন আমার প্রশিক্ষক বললেন- টাকাটা ফুরিয়ে গেছে, আপনি কি আর টেনিস খেলতে চান?

    আমি বললাম– না, আমাকে যদি জিজ্ঞাসা করা হয়, তাহলে আমি বলব, লেখা ছাড়া আর অন্য কোনো খেলাতেই আমার ইচ্ছে নেই।

    তারপর থেকে আমি আর কখনও টেনিস কোর্টে যাইনি। এটা কুড়ি বছর আগের ঘটনা।

    ক্যারি গ্রান্টের শেষ ম্যুভি ওয়াক ডোন্ট রান প্রকাশিত হল। তারপর চার বছর কেটে গেছে। ক্যারি আমাকে বলল যে, অ্যাকাডেমি তাকে সাম্মানিক অস্কার দেবে। নিউইয়র্কে এই অনুষ্ঠানটা হবে। আমি যেন সেখানে যাই। হ্যাঁ, এই অনুষ্ঠানে আমি গিয়েছিলাম, ক্যারির এই প্রশংসাটা অবশ্যই প্রাপ্য।

    অনেক বছর ধরে ক্যারির সাথে দেখা হয়েছে। বব রাসেল এবং বেন রবার্টসের সফলতা আমাকে আনন্দ দিয়েছে।

    আমার ভাই রিচার্ড বিবাহ বিচ্ছেদ করেছে। ১৯৭২ সালে সে সবাইকে অবাক করে দিয়ে এক সুন্দরী রূপসী উদ্যোগী মহিলা বেটি রেহিনকে বিয়ে করেছে।

    .

    ১৯৮০ সালে জর্জিয়া হার্ট অ্যাটাকে মারা গেল। এটা এক অবিশ্বাস্য ঘটনা। আমার সমস্ত জীবন শূন্যতায় পরিপূর্ণ হয়ে গেল। এমন এক শূন্যতা যা কখনও পূরণ হবে না।

    কয়েক বছর বাদে আলেকজান্দ্রার সাথে আমার যোগাযোগ হয়। সে আমার জীবনটাকে একেবারে পাল্টে দেয়। সে হল, এমন একজন মহিলা, যার কথা আমার উপন্যাসের মধ্যে বারবার লিখতে চেয়েছি। এই পৃথিবীতে এমন মহিলার সংখ্যা খুবই কম, যারা একাধারে বুদ্ধিমতী, রূপসী এবং কৌতুকপ্রিয় হয়ে ওঠে। তাকে প্রথম দেখাতেই আমি তীব্রভাবে ভালোবেসে ছিলাম। লাস ভেগাসে আমরা সন্তর্পণে বিয়ের অনুষ্ঠানটা সেরে ফেলি। সেখানে শুধুমাত্র পরিবারের লোকজনরা উপস্থিত ছিল।

    অবাক করা কাণ্ড, আমার বন্ধু মারটি অ্যালেন এবং তার বউ ক্যারন সেখানে উপস্থিত হয়েছে। ক্যারন একটা অসাধারণ গান লিখেছিল। পিয়ানোতে সেটা বাজিয়ে শুনিয়েছিল। বিয়ের রাতের স্মৃতি আমি কখনও ভুলতে পারব না।

    বিবাহিত জীবনের ষোলোটা বসন্ত আনন্দে কেটে গেছে।

    আমার মেয়ে ম্যারি, এখন এক লেখিকা হয়েছে। সে এ পর্যন্ত দশটা উপন্যাস লিখেছে। আমার নাতনি লিজির কথা বলি, ষোলো বছর বয়সে তারও একটা উপন্যাস প্রকাশিত হয়েছে। মনে হচ্ছে, আমার দশ বছরের নাতনি রেবেকাও বোধ হয় লেখিকাই হতে চাইবে।

    এই হল আমার গল্পকথা, এখন আর সেই হতাশা এসে আমাকে অবিচ্ছন্ন করে না। এখন আমি সবকিছু অতিক্রম করার মন্ত্র শিখেছি। মাঝে মধ্যে নাটক লিখি। ব্রডওয়েতেও লেখালেখি করে থাকি। ছোটোদের জন্য লেখার ধারাটা বজায় রেখেছি।

    সম্প্রতি আমার অষ্ট-আশীতম জন্মদিন পালিত হল।

    ফেলে আসা জীবনের প্রতিটি মুহূর্তকে যথেষ্ট উত্তেজক বলে মনে হয়। জীবনের চলার পথে অনেকটা হেঁটে এসে কেবলই বাবার কথা মনে পড়ে।

    বাবাই বলেছিল– জীবনটা একটা উপন্যাসের মতো। আমরা কেউ জানি না, শেষতম পাতাতে কী লেখা আছে।

    জীবনের চালচিত্রে আছে অলৌকিক সফলতা আর পাহাড়প্রমাণ ব্যর্থতার ছবি। আমার জীবনের গল্প আমি আপনাদের কাছে উপহার দেব কারণ আপনারা, পাঠকরা না থাকলে কে আমাকে মনে রাখত?

    ⤶
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40 41
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleজেমস হেডলি চেজ রচনা সমগ্র ১ (অনুবাদ : পৃথ্বীরাজ সেন)
    Next Article সিডনি সেলডন রচনাসমগ্র ১ – ভাষান্তর : পৃথ্বীরাজ সেন

    Related Articles

    পৃথ্বীরাজ সেন

    আগাথা ক্রিস্টি রচনা সমগ্র ২ (অনুবাদ : নচিকেতা ঘোষ)

    September 16, 2025
    পৃথ্বীরাজ সেন

    আগাথা ক্রিস্টি রচনা সমগ্র ৩ (অনুবাদ : পৃথ্বীরাজ সেন)

    September 16, 2025
    পৃথ্বীরাজ সেন

    আগাথা ক্রিস্টি রচনা সমগ্র ৪ (অনুবাদ : পৃথ্বীরাজ সেন)

    September 16, 2025
    পৃথ্বীরাজ সেন

    অষ্টাদশ পুরাণ সমগ্র – পৃথ্বীরাজ সেন সম্পাদিত

    September 16, 2025
    পৃথ্বীরাজ সেন

    জেমস বন্ড সমগ্র – ইয়ান ফ্লেমিং

    September 16, 2025
    পৃথ্বীরাজ সেন

    বাংলার মাতৃসাধনা – পৃথ্বীরাজ সেন

    September 16, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Our Picks

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }