Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    সুবর্ণলতা – আশাপূর্ণা দেবী

    আশাপূর্ণা দেবী এক পাতা গল্প627 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    ১.২০ চাঁপার ধারণা ভুল ছিল না

    চাঁপার ধারণা ভুল ছিল না।

    বড় মেয়ে মল্লিকাকে স্রেফ ঘুষ দিয়েই নিজের দিকে টেনে এনেছিল–উমাশশী। পুরো আস্ত একটা টাকাই ঘুষ দিয়ে বসেছিল। ঝাঁটি-বাঁধা মহারাণী মার্কা এই টাকাটি কবে থেকে যেন তোলা ছবি লুকানো একটি কোটায়, সেটি দেখিয়েছিল মেয়েকে।

    ভীরু ভীরু গোপন অনুরোধ।

    চল না। আমার সঙ্গে, দিয়ে দেব এটা।

    মল্লিকার লুব্ধ দৃষ্টি জ্বলে উঠেছিল বটে, তবু সে বোজার মুখে বলেছিল, আহা, তোমার সঙ্গে যাই আর তোমার ছেলে বইতে বইতে প্ৰাণ যাক আমার!

    বলেছিল।

    বলে দিব্যি পার পেয়েও ছিল।

    সাধে কি আর চাঁপা আড়ালে বলে, আমি যদি জেঠিমার মেয়ে হতাম, হাজারগুণ ভালো হত আমার।

     

    চাঁপার জেঠিমা এ-হেন অপমানেও জ্বলে ওঠে না, বরং আরো মিনতির গলায় বলে, ওখানে গিয়ে ছেলে বইতে হবে কেন রে? ওখানে কি আমাকে হেঁসেল সামলাতে হবে? শরৎ দির বাড়িতে কত ঠাকুর চাকর লোকজন!

    ঠাকুর চাকর লোকজন সমৃদ্ধ সেই বড়লোক মাসতুতো মাসীর বাড়ির লোভনীয় আকর্ষণে আর একবার মনটা টলে মল্লিকার, তবু অটল ভাব দেখায়, লোকজন তো লোকজন, তুমি তোমার সঙ্গে নিয়ে যেতে চাইলে ঠাকুমা তোমার গলা টিপে দেবে না?

    নিয়ে যেতে চাইলে!

    উমাশশী শিউরে বলে, আমি চাইবো কি বল? তুই বলবি যে মন-কেমন করছে!

    আহা রে! লোকে যেন বিশ্বাস করবে!

    এবার উমাশশীর চোখের কোণে জলের আভাস দেখা দেয়, লোকে বিশ্বাস করবে না? মাভাই-বোনদের জন্যে মন কেমন করাটা অবিশ্বাসের?

    মল্লিকা ঈষৎ অপ্রতিভ হয়।

    বলে, আর চাঁপি? চাঁপিকে যে তাহলে একলা যেতে হবে! চাঁপি আমার গায়ে ধুলো দেবে না?

    উমাশশী অতঃপর চাপির সম্পর্কে ঠাকুমার একদেশদর্শিতার উল্লেখ করতে বাধ্য হয়। বলে, চাঁপাকে তো মা বুকে করে রাখবেন। যত টান তো ওর ওপরেই, দেখিস না? তোর অভাব ও টেরই পাবে না।

    চাঁপা সম্পর্কে যে মুক্তকেশীর কিঞ্চিৎ দুর্বলতা আছে, সে কথা এরা সকলেই জানে, কিন্তু এমন স্পষ্টাম্পষ্টি আলোচনা হয় না কোনো দিন। উমাশশী নিরুপায় হয়েই আজ সে আলোচনা করে। একএকটা দিনের উদাহরণ দেখায়, যে উদাহরণে চাঁপা-মল্লিকার ঝগড়া মেটাতে মুক্তকেশী মল্লিকাকে ধমক এবং চাঁপাকে পয়সা দিয়েছেন, এমন বৰ্ণনা আছে।

    ঝগড়া?

    তা হয় বৈকি দুজনের।

    ভাবও যত, ঝগড়াও তত।

    তা সে যাই হোক, শেষ পর্যন্ত মেয়েকে রাজী করাতে সক্ষম হয়েছিল উমাশশী এবং একপাল ছেলেমেয়ে নিয়ে রওনা দিয়েছিল।

    ব্যাণ্ডেলে মাসতুতো দিদি শরৎশশীর বাড়িতে। যে সে দিদি নয়, দারোগাগিন্নী।

    কিন্তু দশটা ছেলেমেয়েকে নিয়ে প্রায় অপরিচিত মাসতুতো ভগ্নীপতির সংসারে এল কি বলে উমাশশী? সুবোধই বা পাঠালো কোন লজ্জায়?

    তা জীবনমরণের কাছে আবার লজা!

    তাছাড়া—আপাতত উমাশশীর মা সুখদা বোনঝির বাড়িতেই বাস করছিলেন। অতএব মা যেখানে ছা সেখানে।

    শরৎশশী। অবশ্য হৃষ্টচিত্তেই গ্ৰহণ করেছে মাসীর মেয়েকে এবং তার বাহিনীকে। কারণ নিজের তার ষষ্ঠীর কৃপা নেই। অথচ ঘরে মা-লক্ষ্মী উথলে পড়ছেন। এই উথলে ওঠা চেহারা আত্মজনকে দেখাতে পারাও তো একটা পরম সুখ।

    অবশ্য উমাশশীর ওপর একটু অভিমান তার ছিল, কারণ উমাশশীর যখন এ বছর আর বছর হচ্ছে, আর নিজে সে বন্ধ্যাই এ সত্য স্থিরীকৃত হয়ে গেছে, তখন ও মাসীর মারফৎ প্রস্তাব করেছিল, উমির একটা ছেলেকে দত্তক দিতে।

    উমাশশী রাজী হয় নি।

    উমাশশী বলেছিল, এ প্রস্তাব শুনলে আমার শাশুড়ী আমায় বঁটি দিয়ে দুখানা করবেন।

    সুখদা বার বার বলেছেন, তা ভাবছিস কেন? লক্ষ্মীর ঘরে ছেলেটা সুখে থাকবে, রাজার হালে কাটাবে–

    তুমি বল তধ্যে শাশুড়ীকে।

    আমি কেন বলে দোষের ভাগী হতে যাব বাবা! তোর শাউড়ী বলবে, দুঃখী মাগী হয়তো বোনঝির কাছে ঘুষ খেয়ে বলছে!

    অতএব প্ৰস্তাবটা হয় নি।

    শরৎশশী তখন চিঠি লিখেছিল।

    বলেছিল, পাকাঁপাকি দত্তক না দিস, মানুষ করতে দে আমায় একটিকে। তোর পাঁচটি আছে, আমার ঘর শূন্য।

    উমাশশী শিউরে উঠে ষাট ষাট করেছিল এবং মার কাছে কেঁদে ফেলে বলেছিল, শাশুড়ী হয়তো রাজী হবেন, আমিই পারবো না মা। যার কথা ভাবছি, তার জন্যেই বুক ফেটে যাচ্ছে।

    সুখদা বিরক্ত হয়েছিলেন।

    বলেছিলেন, বুক তো ফাটছে, কিন্তু কি সুখেই বা রাখতে পেরেছ ছেলেপেলেকে? নেহাৎ মোটা চালের মধ্যেই আছে। অথচ শরতের পুষ্যি হলে—

    তা হোক, পারবো না মা। গোরস্ত ছেলে, গোরস্ত হয়েই থাক।

    ভগ্নদূতের বার্তা সুখদাকেই বহন করতে হয়েছিল এবং মেয়ের দুর্মতিতে পঞ্চমুখ হয়েছিলেন তিনি বোনঝির কাছে। তদবধি শরৎশশী উমাশশীর প্রতি ক্ষুন্ন। অথচ মা ছেলে ছাড়ল না এটাকে ঠিক অপরাধ বলেও ভাবতে পারে নি। তবে যোগাযোগও রাখে নি। এবারে যখন মান খুইয়ে নিজেই এল উমাশশী, খুশিই হল শরৎশশী।

    বললো, তবু ভালো যে দিদি বলে মনে পড়লো।

    তারপর খাওয়ামাখা আদরযত্বের স্রোত বহালো। … সুখদা আড়ালে মেয়েকে বলেন, দেখছিস তো সংসার! তখন বুঝলি না, আখের খোয়ালি। এখন ওর মন বদলে গেছে। বলে, ভগবান না দিলে কার সাধ্যি পায়!। তবে— ফিসফিস করেন সুখদা, নজরে ধরাতে পারলে, মেয়ের বিয়োতেও কিছু সুরাহা হতে পারে।

    এসব প্রসঙ্গ অস্বস্তিকর।

    কিন্তু তদপেক্ষা অস্বস্তিকর জামাইবাবু করালীকান্তর পেশাটা।

    পুরুষমানুষ সকালবেলা তাড়াহুড়ো করে মানাহার সেরে আপিস কাছারী যায়, সন্ধ্যের মধ্যে বাড়ি ফেরে এই উমাশশীর জানা, মেজ দ্যাওর ব্যবসা না কি করে বটে, তবু তারও আসা-যাওয়া সুনিয়ন্ত্রিত। কিন্তু এ কী?

    না আছে আসা-যাওয়ার ঠিক, না আছে নাওয়া-খাওয়ার ঠিক। অর্ধেক দিন তো বাড়াভাত পড়েই থাকতে দেখা যায়, খাওয়াই হয় না। এসে বলে, অসময়ে আর ভাত খাব না, দুখানা লুচি দাও বরং।

    তখন আবার তাড়াহুড়ো পড়ে যায় লুচি রে আলুর দম রে করতে।

    আর শুধুই কি দিনের বেলা?

    হঠাৎ হঠাৎ রাতদুপুরে ঘুম ভেঙে দেখে আলো জ্বলছে, চাকর-বাকর ছুটোছুটি করছে, শরৎদি হতে হাতে জিনিস নিয়ে ঘুরছে, আর জামাইবাবু পুলিসী ধড়াচুড়ো আঁটছেন।

    চুপিচুপি দেখে, জামাইবাবু বেরিয়ে যাচ্ছেন, একটা লালমুখো ঘোড়ার গাড়িতে গিয়ে উঠছেন, হারিয়ে যাচ্ছেন বিমঝিম করা নিকষ অন্ধকারের মধ্যে।

    দেখেশুনে উমাশশীর হাত-পা ঝিমঝিম করে আসে। খামোকা উঠে নিজের ঘুমন্ত ছেলেমেয়েগুলোর গায়ে হাত দিয়ে দেখে, হয়তো বা গোনে। যেন হঠাৎ দেখবে একটা কম।

    বুকটা ছমছম করতে থাকে কি এক আশঙ্কায়।

    কেন যে এমন হয়!

    এমনিতে তো জামাইবাবু দিব্যি রসিক পুরুষ। শালী শালী করে ঠাট্টােতামাশাও করেন। মন ভাল থাকলে ডাক-হাঁক করেন, ওহে বিরহিণী, গেলে কোথায়? একলা বসে শ্ৰীমুখচন্দ্ৰ ধ্যান করছে। বুঝি?

    কথা শুনে লজায় মরতে হয়।

    ছেলেমেয়ে বড় হয়েছে।

    কিন্তু মন যখন ভাল থাকে না জামাইবাবুর?

    তখন কী রুক্ষী! মুখে কী কটু কুৎসিত ভাষা! চাকরদের গালাগাল দেওয়া শুনলে তো কানে আঙুল দিতে ইচ্ছে করে। শরৎশশীও বাদ যায় না, তাকেও কাঁদিয়ে ছাড়েন। তাছাড়া এক এক সময়, বিশেষ করে রাতের দিকে সহসাই যেন বাড়ির হাওয়া বদলে যায়, বাইরে বৈঠকখানায় নানারকম সব লোক আসে, দরজা বন্ধ করে কথাবার্তা হয়, কী যেন গোপন ষড়যন্ত্র চলতে থাকে, জামাইবাবু বাড়ির মধ্যে আসেন যান, স্ত্রীর সঙ্গে চাপা গলায় কী যেন কথা বলেন, হয়তো সেই লোকগুলোর সঙ্গেই বেরিয়ে যান, কোন রাত্তিরে যে ফেরেন, টেরই পায় না। উমাশশী।

    দিদি না খেয়ে বসে থাকলো, না খেলো কে জানে!

    এমন গোলমেলে সংসার ভাল লাগে না উমাশশীর। মনেই যদি স্বস্তি না থাকলো তো কী লাভ রাশি রাশি টাকায়, ভাল ভাল খাওয়া-পরায়!

    সেই কথাই একদিন বলে বসে উমা।

    আর বলে মল্লিকার মুখে একটা কথা শুনে। মল্লিকা নাকি দেখেছে মেসোমশাই বাগানের ওধারে একটা লোককে মুখ বেঁধে চাবুক মেরে মেরে অজ্ঞান করে দিয়েছেন। আর সে নাকি চোর-ডাকাতের মতন মোটেই নয়, ভদ্রলোকের ছেলের মতন দেখতে।

    উমাশশী বলে বসে, যাই বল দিদি, ও তোমার গোরস্তাবলী চাকরিবাকরিই ভাল। টাকা গয়না কম থাকলেই বা কি, মনে শান্তি থাকে। জামাইবাবুর কাজটা বাপু ভাল নয়।

    সুখদা চমকে যান।

    আড়চোখে বোনঝির মুখের দিকে তাকান, দেখেন সেখানে দৰ্প করে আগুন উঠেছে জ্বলে।

    হয়তো কথাটা বড় আতৌ-ঘা-লাগা বলেই।

    হয়তো নিজেও শরৎশশী অহরহ ওই কথাই ভাবে। ধু-ধু মরুভূমির মত জীবনের স্তব্ধ বালুভূমিতে যখন টাকার স্তূপ এসে পড়ে, তখন সে টাকাকে যে বিষের মতই লাগে তার।

    বাড়িতে গোয়ালভর্তি গরু, রাশি রাশি দুধের ক্ষীর ছানা মিষ্টি খাবার তৈরি করে শরৎশশী, যদি তার দুটো খায় তো দশটা বিলোয়। কোথা থেকে কে জানে বড় বড় মাছ এসে পড়ে উঠোনে, কাটলে যজ্ঞি হয়, সেই মাছ চাকর-বাকরে খায় তিন ভাগ। কারণ পাড়ার লোককেও সর্বদা দিতে অস্বস্তি বোধ হয়।

    বাগানের ফল আসে বুড়ি ঝুড়ি, আম কাঁঠাল কলা পেঁপে, এটা সেটা। এখন উমাশশী রয়েছে তাই আদর হচ্ছে সেই ফলোদের, নচেৎ তো ফেলাফেলিশ

    শরৎশশীর গায়ে এবং বাক্সে গহনার পাহাড়। কিন্তু সুখ কোথায় তার? বরের মাইনে জানতে না পারলেও, উমাশশীর বরের মাইনের চেয়ে কম বৈ বেশি নয়, এ জ্ঞান শরতের আছে। তবে? কিসের টাকায় এত লিপচপানি করালীকান্তর?

    উপরি আয়েই তো!

    আর দারোগার উপরি আয় কোন ধর্মপথ ধরে আসে?

    ভিতরে জ্বালা আছে শরৎশশীর।

    তদুপরি জ্বালা আছে স্বামীর চরিত্র নিয়ে। কিন্তু সেসব তো প্রকাশের বস্তু নয়। উমাকে আর তার ছেলেমেয়েকে খাইয়ে-মাখিয়ে দিয়েথুয়ে চোখ ধাঁধিয়ে রেখে নিশ্চিত ছিল, হঠাৎ দেখতে পেল নির্বোধ উমারও চোখ ফুটেছে। কিসে শান্তি, কিসে সুখ, সেটা ধরে ফেলেছে।

    অতএব শরৎশশীর চোখে দৰ্প করে আগুন জ্বলে উঠবে, এটাই স্বাভাবিক।

    শরৎশশী সে আগুন চাপা দিতেও চেষ্টা করে না। বলে ওঠে, জামাইবাবুর কাজটা ভাল নয়? ও! তবে ভালটা কার? চোর ডাকাত খুনে গুণ্ডাদের? ওলো, এই খারাপ কাজ করা লোকগুলো আছে বলেই এখনো রাজ্য চলছে, বুঝলি? নচেৎ অরাজক হয়ে উঠতো।

    ভীতু উমাশশী ভয়ে কাটা হয়ে যায়, শিউরে উঠে বলে, তা বলি নি দিদি। বলছি জামাইবাবুর পক্ষে ভাল নয়। সময়ে নাওয়া-খাওয়া নেই, দিনে রাতে জিরেন নেই, সদাই ভয়-ভয়—

    হঠাৎ নিজেকে সংবরণ করে নেয়। উমা, অলক্ষ্যে মার কাছে চিমটি খেয়ে।

    চিমটির সাহায্যে সতর্ক করে দিয়ে সুখদা নিজেই হাল ধরেন।

    না ধরে করবেন কি?

    বলতে গেলে শরৎশশীর সাহায্যেই মোটামুটি দাঁড়িয়ে আছেন তিনি, বছরে দু-চার মাস তো থাকেনই তার কাছে, তাছাড়া বাকী সময়টা যেখানেই থাকুন, হাতখরচটা এখান থেকেই যায়!

    নেহাৎ নাকি বদলির চাকরি করালীকান্তর, তাই এক নাগাড়ে থাকা হয় না। ব্যাণ্ডেলে বদলি হয়ে এসে পর্যন্ত আছেন। এখানে যত বড় কোয়াটার, তত বড় বাগান, তত লোকজনের সুবিধে, এলাহি কাণ্ড! এর অধিকারিণীকে চটাবেন? হাল অতএব ধরতেই হয়।

    ধরেন, বলে ওঠেন, আগে কি এমন ভয়তরাস ছিল? না এত খাটুনীই ছিল? সোজাসুজি চুরিডাকাতি খুনখারাপি হতো, সোজাসুজি ব্যবস্থা ছিল। পোড়ার মুখো স্বদেশী ছোঁড়াগুলো যে উৎপাত করে মারছে। গুলি বারুদ তৈরি করে ব্রিটিশ রাজত্ব উড়িয়ে দেবে! ভাদ্দরঘরের ছেলে হয়ে ডাকাতি করবে! এইসব জ্বালাতেই বাছার নাওয়া-খাওয়া নেই। লক্ষ্মীছাড়া ছোঁড়াদের না হয় মা-বাপ নেই, পুলিস বেচারাদের তো ঘরে বৌ ছেলে আছে!

    স্বদেশী স্বদেশী, এই শব্দটা অনবরতই কানে আসে বটে। উমাশশীর, কিন্তু স্বদেশী ছোঁড়াদের গুণাগুণ কি, তাদের কার্যকলাপ কি, তা নিয়ে মাথা ঘামাতে যায় নি কোনদিন, তাই আজ একটু থতমত খায়।

    ভয়ে ভয়ে বলে, রাগ কোর না। শরৎদি, এত কথা তো জানি না। তাই বলছিলাম—

    না, রাগের কি আছে? শরৎশশী উদাস গলায় বলে, আগেকার আমলে চোরের পরিবার ভয়ে কাটা হয়ে থাকতো বর কখন ধরা পড়ে, আর এখন পুলিসের পরিবারকে সশঙ্কিত হয়ে থাকতে হয়, বর। কখন মারা পড়ে, এই আর কি! কাজটা ভাল নয়, একপক্ষে বলেছিসই ঠিক। নিঃশ্বাস ফেলে শরৎশশী। হয়তো উমার কুণ্ঠা লজ্জা ভয় দেখে মায়া হয়, তাই আগুনটা সামলে নেয়, বলে, প্ৰাণ হাতে করে থাকা! এই যে রাত-বিরেতে বেরিয়ে যাচ্ছে মানুষ, যাচ্ছে তো সাপের গর্তে হাত দিতে, বাঘের গুহা খোঁচাতে! ফিরবে তার নিশ্চয়তা আছে? তবু বুক বেঁধে থাকতেই হবে, কতৰ্য্য করতেই হবে। ইংরেজের রাজত্বটা তো লোপাট হতে দেওয়া চলে না!

    সুখদা ফোঁড়ন কেটে ওঠেন, কার অন্ন খাচ্ছিস? কার হাতে ধনপ্ৰাণ? তা ছোঁড়ারা ভাবছে না গো। কই, পারছিস গোরাদের সঙ্গে? শয়ে শয়ে তো জেলে যাচ্ছিাস, পুলিসের লাঠিতে মুখে রক্ত উঠে মরছিস, তবু হায়া নেই!

    রক্ত ওঠায় কথায় শিউরে ওঠে উমা। আস্তে বলে, জামাইবাবুর হাতে ধরা পড়েছে। কেউ?

    পড়ে নি? শরৎশশী দৃপ্ত গলায় বলে, গাদা-গাদা! তোর জামাইবাবু বলে, আমি গন্ধ পাই। সুমুদুরের তলায় লুকিয়ে থাকলেও টেনে বার করতে পারি।

    উমা একটা নিঃশ্বাস ফেলে।

    জামাইবাবুর কর্মদক্ষতায় খুব বেশি উৎসাহ বোধ করে না। হলেই বা স্বদেশী ছোঁড়া, মা-বাপের ছেলে তো বটে। আর এই সূত্রে তার মেজ জায়ের কথা মনে পড়ে যায়।

    স্বদেশী শব্দটার ওপর যার প্রাণভরা ভক্তি।

    অথচ আসলে ওই শব্দটা যে ঠিক কি তাই ভাল করে জানে না। উমা।

    মানুষ?

    না জিনিস?

    নাকি কোনো কাজ?

    কে জানে! ঠিক ধরা যায় না!

    মেজ বৌকে জিজ্ঞেস করতেও ভয় করেছে। ওসব কথায় এমন চড়ে ওঠে, এমন বিচলিত হয়, দেখলে ভয় করে। উমা ভাবে, থাক গে, জেনেই বা কি হবে? আদার ব্যাপারী জাহাজের খবরে দরকার কি?

    কিন্তু এখানে এসে জামাইবাবুর কার্যকলাপ দেখে মনে হচ্ছে, একটু বুঝি জানা-বোঝা ভালো। তাহলে এমন অন্ধকারে থাকতে হয় না। বুঝতে পারা যায়, কোনটা পাপ কোনটা পুণ্যি!

    সুখদা সগৌরবে বলেন, শুনিলি তো?

    সুখদার কথায় শরৎশশী সচেতন হয়। বলে, থাক মাসী ওসব কথা। দেশের সর্বনাশ যে আসন্ন তা বোঝাই যাচ্ছে। গোরারা একবার ক্ষেপলে কি আর রক্ষে থাকবে! তবে যারা কর্তব্যনিষ্ঠ, যারা বৃটিশের নেমক খাচ্ছে, তারা মরবে। তবু নেমকহারামী করবে না, এই হচ্ছে সার কথা। তাতে প্ৰাণ চলে যায় যাক।

    কিন্তু এইটাই কি শরৎশশীর প্রাণের কথা? নাকি সে শাক দিয়ে মাছ ঢাকে? কথা দিয়ে মুখ বন্ধ রাখে! ওই নির্বোধ উমাটা একেই দশমাতা হয়ে অহঙ্কারে মরছে, তার পর যদি টের পায়, পুরষ্কাশীর যা কিছু চাকচিকা সবই ভুয়ো, যা কিছু আলো জােনাকির আলো, তা হলে আর রইলো কি?

    তা যতই শরৎশশী তার ভাগ্যকে আড়াল করুক, ছোট ছেলেমেয়েগুলোর চোখ এড়ায় না। তারা মহোৎসাহে খবর সন্ধান করতে থাকে।

    তারা টের পেয়ে যায় মেসোমশাই যাদের সঙ্গে চুপি চুপি কথা কন, তারা হচ্ছে গোয়েন্দা, যেখানে ওই স্বদেশী গুণ্ডারা লুকিয়ে আছে সেখানের সন্ধান এনে দেয় ওরা। মেসোমশাই তখন ছোটেন সেখানে। সেই ছেলেদের চাবুক মারতে মারতে পিঠের ছাল তোলেন, লাথি মারতে মারতে পেট ফাটান, ধরে ধরে নিয়ে গিয়ে জেলে পোরেন।

    ভীষণ একটা উত্তেজনা অনুভব করে ওরা। নেহাৎ ছোট পাঁচটাকে বাদ দিলেও, বাকি কজন আলোচনায় অংশগ্রহণ করতে পারে। আর সেই সূত্রে পাকা মেয়ে টেঁপি একটা প্রখর সত্য দাদা-? দিদিদের সামনে ধরে দেয়।

    মেজখুড়ি যদি টের পায় আমরা পুলিসের বাড়িতে আছি, মেজখুড়ি আর ছোঁবে না। আমাদের। কথাই কইবে না।

    চমকে যায়। তার দাদা-দিদিরা।

    বলে, তাই তো রে, টেঁপি তো ঠিক বলেছে!

    বাঃ, আমরা বুঝি ইচ্ছে করে পুলিসের বাড়িতে আছি? বললো একজন।

    আর একজন চিন্তিতভাবে বলে, তা বললে কি হবে, মেজখুড়ির রাগ জানিস তো। তার ওপর আবার শুধু পুলিস নয়, স্বদেশী মারা পুলিস!

    মেজখুড়ি রাগ করলো তো বয়ে গেল, এ কথা ওরা ভাবতেই পারে না। মেজখুড়ির অপ্ৰসন্নতা, সে বড় ভয়ঙ্কর দুঃখবহ।

    অবশেষে ওরা ঠিক করে, বলা চলবে না। দরকার কি রাগিয়ে মেজখুড়ীকে!

    মল্লিকা নিঃশ্বাস ফেলে বলে, মার জন্যেই এইটি হল আমার। চাপির সঙ্গে ঠাকুমার সঙ্গে চলে যেতাম চুকে যেত। তখন বললো, ছেলে সামলাতে হবে না রে— মাির ভঙ্গীর অনুকরণ করে মল্লিকা, আমাকে তো আর হোসেল সামলাতে হবে না। ওখানে—, এখন দেখছিস তো? রাতদিন কথা বদলা, ন্যাতা কেচে আনি, দুধ খাইয়ে দে! কেনই যে এতগুলো ছেলে-মেয়ে হয় মানুষের? ছোট খুড়ির বেশ! শুধু বুদো—ব্যস!

    হঠাৎ মল্লিকার ভাই গৌর হেসে বলে ওঠে, তাহলে তো তোকে আর জন্মাতেই হোত না। শুধু আমি ব্যস! তুই নিতাই, রামু, টেঁপি, টগর, ফুটি, পুঁচকে খোকা, খুকী, সব্বাই পড়ে থাকতো ভগবানের ঘরে।

    এটা অবশ্য খুব একটা মনঃপূত হল না মল্লিকার। মল্লিকা জন্মায় নি, সেটা আবার কেমন পৃথিবী!

    অনেক আলোচনান্তে অবশেষে কিন্তু স্থির হয় মেজখুড়ির কাছে কিছুই গোপন করা চলবে না, কারণ মেজখুড়ি পেটের ভেতরকার কথা টের পায়। স্পষ্টই তো বলে, আমার একটা দিব্যচক্ষু আছে, বুঝলি! তোরা কে কি লুকোচ্ছিস সব বুঝতে পারি। মিথ্যে কথায় বড় ঘেন্না মেজখুড়ির, অতএব বলা হবে। তবে এটাও জোর করে বোঝাতে হবে, তাদের কী দোষ? তারা তো ইচ্ছে করে মাসীর বাড়ি বেড়াতে আসে নি?

    হঠাৎ একসময় শরৎশশীর নজরে পড়ে, সব কটায় মিলে কি যেন গোপন ষড়যন্ত্রে লিপ্ত। এসে ভুরু কুঁচকে বলে, কি করছিস রে তোরা?

    ওরা অবশ্য চুপ।

    শরৎশশী বিস্মিত হয়, বার বার প্রশ্ন করে এবং সহসাই বিশ্বাসঘাতক টেঁপি বলে ওঠে, মেসোমশাই পুলিস তো, সেই কথাই হচ্ছে—

    দাদা-দিদিদের সব ইশারা ব্যর্থ হয়।

    চিমটি কাটা বিফলে যায়।

    শরৎশশী। যখন কঠিন গলায় বলে, পুলিস তো কি হয়েছে! তখন টেঁপি বলে ওঠে, স্বদেশীমারা পুলিস খুব বিচ্ছিরি তো। মেজখুড়ি যদি শোনে আমরা এ বাড়িতে আছি, তাহলে আর ঘেন্নায় ছোঁবে না। আমাদের, তাই মেজখুড়িকে বলা হবে না—

    মেজখুড়ি!

    শরৎশশী। শুধু এইটুকুই বলতে পারে।

    টেঁপি মহোৎসাহে বলে, হ্যাঁ, মেজখুড়ি যে স্বদেশীভক্ত! জানো না? পুলিসকে ঘেন্না করে, সাহেবকে ঘেন্না করে।

    শরৎশশী মুহূর্তকাল স্তব্ধ হয়ে থাকে। তারপর সহসাই কঠোর গলায় বলে ওঠে, বেশ, তবে থাকতে হবে না পুলিসের বাড়ি, চলে যা নিজেদের ভাল বাড়িতে। আজই যা!

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40 41 42 43 44 45 46 47 48 49 50 51 52 53 54 55 56 57
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Article১০টি কিশোর উপন্যাস – আশাপূর্ণা দেবী
    Next Article বকুলকথা – আশাপূর্ণা দেবী

    Related Articles

    আশাপূর্ণা দেবী

    বিবাগী পাখি – আশাপূর্ণা দেবী

    April 7, 2025
    আশাপূর্ণা দেবী

    কুমিরের হাঁ – আশাপূর্ণা দেবী

    April 7, 2025
    আশাপূর্ণা দেবী

    ঠিকানা – আশাপূর্ণা দেবী

    April 7, 2025
    আশাপূর্ণা দেবী

    ততোধিক – আশাপূর্ণা দেবী

    April 7, 2025
    আশাপূর্ণা দেবী

    ১. খবরটা এনেছিল মাধব

    April 7, 2025
    আশাপূর্ণা দেবী

    নতুন প্রহসন – আশাপূর্ণা দেবী

    April 7, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Our Picks

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }