Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    সুবর্ণলতা – আশাপূর্ণা দেবী

    আশাপূর্ণা দেবী এক পাতা গল্প627 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    ১.২৪ সিঁড়িতে উঠতে উঠতে থমকে দাঁড়ালো প্ৰভাস

    সিঁড়িতে উঠতে উঠতে থমকে দাঁড়ালো প্ৰভাস।

    ওটা কি হচ্ছে?

    একটা মেয়েলী গলায় স্পষ্ট উচ্চারণে কী শোনা যাচ্ছে ওসব মেজদার ঘরের ওদিক থেকে?

    পদ্য।

    পদ্য আওড়ানো হচ্ছে!

    কিন্তু এ তো ছোট ছেলেমেয়ের পড়া মুখস্থ নয়! এ যে নাটক!

    বল বল বল সবে,
    শত বীণা বেণু রবে,
    ভারত আবার জগৎসভায়
    শ্ৰেষ্ঠ আসন লবে।

    সিঁড়ি থেকে নয়, পায়ে পায়ে এগিয়ে গিয়ে মেজদার দরজার কাছেই এসে পৌঁছায় প্রভাস, আর দুটোই স্পষ্ট হয়ে ওঠে তার কাছে। শোনা এবং দেখা।

    মেজাগিনী ইস্কুলই খুলেছেন।

    তিনি একখানা বই খুলে ধরে খানিকটা আওড়াচ্ছেন, আর তার পর কটা ছোট ছেলেমেয়ে তার দোয়ার দিচ্ছে। সুবর্ণর ছেলেমেয়ে আছে, উমাশশীর আছে।

    ইস্কুলই বা কেন, কের্তনের দল বললেও তো হয়।

    তাই পরবর্তী ঝঙ্কারে যখন ছোটরা ভুল-ভাল উচ্চারণে বলে ওঠে–

    ধর্মে মহান হবে, কর্মে মহান হবে।

    নব দিনমণি উদিবে আবার–
    পুরাতন এ পূরবে—

    তখন চৌকাঠে পা রেখে চেঁচিয়ে ওঠে। প্ৰভাস, বাঃ বাঃ! কেয়াবাৎ! এ যে একেবারে পুরোপুরি কোত্তনের দল! মূল গায়েন সুর দিচ্ছেন, চেলাচামুণ্ডারা দোয়ার দিচ্ছেন, শুধু তবলার বোলটাই বাকি! তবে তোদের মাকে বলে দে চন্নন, পাশের ঘরে তোদের সেজখুড়ির ভাই এসেছে। শুনে শুনে তাজ্জব হচ্ছে বোধ হয়। ভদ্রলোকের ছেলেটা!

    বলা বাহুল্য চুপ হয়ে গিয়েছিল সকলেই।

    প্রভাসও এতেই যথেষ্ট হয়েছে ভেবে নিশ্চিন্ত হয়ে চলে যাচ্ছিল, সহসা শুনতে পেল বড়দার একটা নিতান্ত ছোট ছেলে বলে উঠলো, সেজকাকা, মেজখুড়িমা আমাদের আবার গাইতে বলছেন। বলছেন, এটা কোত্তন নয়।

    প্রভাস শেষ কথাটা শোনে না, প্রথমটাই শোনে।

    অসহ্য বিস্ময়ে বলে, আবার গাইতে বললেন!

    হ্যাঁ গো। বলছেন এ গান সবাইয়ের শেখা দরকার। এর পরে বন্দেমাতরং শেখাবেন।

    খবরদার! প্রভাস হঠাৎ গর্জন করে ওঠে, ভেবেছেন কি তোদের মেজখুড়ি? হাতে দড়ি পরাতে চান আমাদের? বলে দে, চলবে না ওসব। এ ভিটেয় বসে এত বাড়াবাড়ি চলবে না।

    ছেলেটা সঙ্গে সঙ্গে ঘরের ভিতর থেকে জবাব দেয়, মেজখুড়িমা বলছেন, বাড়িসুদ্ধ সকলের ওপর আপনার শাসনই চলবে? আর কারুর কোনো ইচ্ছে চলবে না?

    ছেলেটা কথা শিখেছে তোতাপাখীর মত। কথার গুরুত্ব কি, ওজন কি, তা শেখে নি, তাই বলতে পারে এত কথা। আর সব কটা আড়ষ্ট হয়ে বসে থাকে। সেজকাকার মুখের ওপর কথা! এ কি ভয়ঙ্কর অঘটন!

    তা সেজকাকা নিজেও সেই বিস্ময়েই প্রথমটা স্তব্ধ হয়ে যান। তার মুখের ওপর কথা! অবশ্য স্তব্ধতাটা মুহূর্তের। পরীক্ষণেই মাটিতে পা ঠুকে চীৎকার করে ওঠেন। তিনি, বটে! বাড়িতে তা হলে এখন এইসব কুশিক্ষার চাষ চলছে? তা নিজের ছেলেদের মাথা খাচ্ছেন খান, পরের ছেলের মাথাটি চর্বণ করা হচ্ছে কেন?… খোকা, উঠে আয় বলছি! চলে আর ও ঘর থেকে. আর বলে আয় তোর মেজখুড়িকে, না, চলবে না। যার না পোষাবে, সে যেন পথ দেখে।

    এরপরই বজ্রপতন হয়।

    এবার আর খোকা নয় স্বয়ং মেজবৌ-ই দরজার কাছে এসে দাঁড়ায়। খোকাকে মাধ্যম মাত্র করে বলে, খোকা, জিজ্ঞেস কর তোর সেজকাকাকে, উনিই কি এ বাড়ির কর্তা? ইচ্ছেমত কাউকে রাখতে পারেন, কাউকে তাড়াতে পারেন? তা যদি হয়, বলুন পষ্ট করে, কালই পথ দেখবো। কিছু না জোটে, গাছতলা তো কেউ কেড়ে নিতে পারবে না!

    তা অঘটনও ঘটে পৃথিবীতে।

    নইলে এই দুঃসহ স্পর্ধা প্রকাশের পরও সুবৰ্ণ সোজা সতেজে দাঁড়িয়ে থাকতে পায়? আকাশের বাজ তো পড়েই না তার মাথায়, স্বয়ং সেজকর্তাও তেড়ে গিয়ে মেরে বসেন না। বরং হঠাৎ যেন লোকটা ভাষা হারিয়ে মূক হয়ে যায়।

    তারপর কথা যখন কয়, যেন শিথিল সরল ভঙ্গীতে। চলে যেতে যেতে বলে, আমারই ঘাট হয়েছে, তাই শাসন করতে এসেছিলাম। পাশের ঘরে একটা কুটুমের ছেলে বসে, লজ্জা হল, তাই আস্পর্দা প্রকাশ করতে এসেছিলাম। যাক, তোদের খুড়ি চৈতন্য করিয়ে দিয়েছে। রাতদিন বই কাগজ নিয়ে পড়ে থাকা বিদূষী মেয়েমানুষ, হবেই তো এসব! তবে বলে দে খোকা তোর খুড়ীকে, এ বাড়িতে তার ভাগ রয়েছে বলেই যে যা খুশি করতে পারেন তা হয়, তা হলে তো বোমাও করতে পারেন। তিনি।

    চলে যায় প্রভাস, তীব্র বিদ্বেষে মুখ কালি করে।

    বলা বাহুল্য, পদ্য মুখস্থর পাঠশালা আর বসানো যায় না, সুর কেটে যায়।

    কিন্তু শুধুই কি সেদিন?

    নাকি শুধু পদ্যর ক্লাসের সুর?

     

    কান্না! কান্না!

    কটু কুৎসিত কদৰ্য কান্না!

    শুনলে করুণা আসে না, মায়া আসে না, আসে বিতৃষ্ণা।

    গিরিবালা পোস্ত বাটতে বাটতে বলে, মেজদির এই শেষ নম্বরেরটি যা হয়েছে—উঃ! গলা বটে একখানি। মানুষের ছা কাঁদছে। কিন্তু জন্তু জানোয়ার চেঁচাচ্ছে—বোঝবার জো নেই।

    জন্মাবধি রুগ্ন যে–, বলে উমাশশী।

    তুমি আর জগৎসুদ্ধ সবাইয়ের দোষ ঢেকে বেড়িও না দিদি, গিরিবালা ঠেস দিয়ে বলে, কে যে তোমায় কি দিয়ে রাজা করে দিচ্ছে, তুমিই জানো!

    দোষ ঢাকা আবার কি! উমা অপ্ৰতিভ হয়, রুগ্ন তাই বলছি।

    গিরিবালা কাজ সেরে শিল তুলে রাখতে রাখতে বলে, আমার এই হয়ে গেল বাবা, চললাম এবার। উনুন দুটো তো জ্বলে-পুড়ে খাকি হয়ে গেল, যার পালা তার হঁশ নেই!

    উমার ধারণা ছিল এবেলার পালাটা আজ ছোটবৌয়ের, তাই বলে, কোথায় ছোটবৌ?

    ছোটবৌ? কেন ছোটবোঁ কি করবে? পালা তো মেজদির!

    ওমা সে কি! আজি বুধবার না?

    বুধবারই! কিন্তু গেল হস্তায় ছোটবৌয়ের বাপের বাড়ি যাবার গোলমালে পালা বদলে গেল না?

    উমাশশী বড়ো, উমাশশী নির্বোধ, উমাশশী গরীবের মেয়ে। আবার উমাশশী কিছুটা প্ৰশংসার কাঙালীও। তাই উমাশশী একাই সংসারের অর্ধেক কাজ করে।

    প্রতিদিন সকালে এই রাবণের গোষ্ঠীর রান্না সে একাই চালায়। আর তিনজনে পালা করে বিকেলে।

    সুবৰ্ণ অনেকবার প্রস্তাব করেছে একটা রাধুনী রাখবার। মাইনে সে একলাই দেবে। একটা ভদ্র বামুনের ঘরের আধাবয়সী বিধবা খুঁজে না মেলে তা নয়। কি উমাশশী শাশুড়ীর সুয়ো হতে সে প্রস্তাব নাকচ করেছে। বলেছে, ওমা, আমরা হাত পা নিয়ে বসে থাকবো, আর বামনীতে রাধবে, ছিঃ!

    সুবৰ্ণ বলেছে, তবে মরো রোধে রোধে! আমার দ্বারা তো একদিনও সকালে সম্ভব নয়। ওদের লেখাপড়া তাহলে শিকেয় উঠবে।

    উন্নবিপুলত গ্রেহে বলেছে, ওমা, আমি থাকতে সকালবেলা আবার তোরা কেন? সকালবেলা তো আমিই–

    জানি, তুমিই চালাচ্ছে! হাড়-মাস পিষছো! কিন্তু সেটা বারো মাস দেখতেও ভাল লাগে না। তোমার মেজদ্যাওর তো করছে বেশি বেশি রোজগার, দেবে অখন মাইনেটা—

    উমাশশীই না না করেছে।

    অতএব সুবর্ণর আর বিবেকের দংশন নেই। কিন্তু কে বলবে কেন উমাশশীর এমন বোকামী! কেন সে অবিরত সংসারে সকলের মন রাখার চেষ্টা করে মরে? মন কি সত্যিই কারো রাখতে পেরেছে?

    মন রেখে রেখে কি কখনো কারো মন রাখা যায়?

    যায় না।

    শুধু সেই মনের দাবি আর প্রত্যাশা বাড়িয়ে দেওয়া হয় মাত্র। আর সেই ব্যর্থ চেষ্টা অবিরতই তাকে অবজ্ঞেয় করে তোলে।

    উমাশশী বৃথা চেষ্টার বোঝা চাপিয়ে চাপিয়ে জীবনটাকে শুধু ভারাক্রান্তই করে তুলেছে, মন কারো রাখতে পারে নি। মুক্তকেশী সর্বদাই তার উপর ব্যাজার! মুক্তকেশী তোয়াজ করেন উকিল ছেলের বৌকে!

    কেন করেন সেটাই আশ্চর্য!

    এও এক মনস্তত্ব।

    নচেৎ টাকার সচ্ছলতা যদি কেউ তাকে দেয়, সে তো মেজছেলে। তবু সেজবৌকে ভয় করেন, তোয়াজ করেন।

    ছোঁয়াচ লাগার মত উমাশশীও করে। তাই ভয়ে ভয়ে বলে, মেজবৌয়ের মেয়ে আজ যা কাণ্ড করছে, ও আর পেরেছে!

    না পারেন, যে পারে করুক! আমি বাবা উনুনের ছায়াও মাড়াচ্ছি না। আমার পালার দিনে কি কেউ হাঁড়ি ধরতে আসবে? বলে দুম দুম করে চলে যায় গিরিবালা।

    সুবৰ্ণ নামে না।

    খবরটা দোতলায় ছড়িয়ে পড়ে। অসন্তোষ আর সমালোচনার কলগুঞ্জন প্ৰবল হয়ে ওঠে। এবং সব ছাপিয়ে প্রবলতর হয়ে ওঠে কান্না।

    কান্না, কান্না, কুৎসিত কান্না!

    ওই আর্তনাদ যেন এই অন্ধকূপ থেকে আকাশে উঠতে চায়।

     

    বাড়িতে কি হচ্ছে কি? তীব্ৰ চীৎকার শোনা যায় প্রভাসচন্দ্রের। তাসের আড্ডা থেকে উঠে এসেছে লজায় আর বিরক্তিতে। মেজাজ। তাই সপ্তমে।

    বুলি, কাঁদছে কোনটা মেজবৌয়ের শেষ নম্বরেরটা না? মেজবৌ বাড়ি নেই নাকি?

    বাড়ি!

    থাকবেন না। আবার কেন?

    বাড়ি ছেড়ে আবার যাবেন কোথায়?

    মেয়ে কোলে নিয়েই বসে আছেন।

    কোলে নিয়ে বসে আছেন? প্রভাস বিরক্তির সব বিষটা উপুড় করে দিয়ে চলে যায়, তবু গলা বন্ধ করতে পারছে না? মেয়ের গলায় এমন শাখের বান্দ্যি? মুখে একমুঠো নুন দিতে বল, বন্ধ হয়ে যাবে!

    চলে যায়।

    ঈশ্বরের দয়া, সুবৰ্ণলতার কানে পৌঁছয় না। এই হিত পরামর্শটুকু। সুবৰ্ণলতার কানের পর্দা কান্নার শব্দে ফেটে যাচ্ছে তখন।

     

    ওদিকে রান্নাঘরে ঝড় উঠেছে।

    উমাশশীই হাঁড়ি চড়াবার ভার নিচ্ছিল, প্রবল প্রতিবাদ উঠেছে। সেজবৌ আর ছোটবৌয়ের পক্ষ থেকে। সুবৰ্ণকেই বা এত আস্কারা দেবে কেন উমাশশী? যার পাঁচ-সাতটা ছেলেমেয়ে তার ঘরে তো নিত্যি রোগ লেগে থাকবেই, তাই বলে ওই ছুতোয় সে দিব্যি পার পেয়ে যাবে?

    কই বলুক দিকি কেউ, সেজবৌ ছোটবৌ কোনোদিন পালা ফাঁকি দিয়েছে! তাদের নিজেদের ঘর হেজে যাক মজে যাক, তবু সংসারের কাজ বাজিয়ে দিয়ে চলে গেছে। মেজগিনীই বা কী এমন সাপের পাঁচ পা দেখেছে যে ইচ্ছামত চলবে?

    উমাশশী যদি এইভাবে একচোখোমি করে, তারাও ছেলের সর্দিটি হলেই কাজে কামাই দেবে, এই হচ্ছে শেষ কথা!

    উমা ভয়ে ভয়ে হাঁড়িখানাকে তাক থেকে নামিয়ে, চালের গামলা হাতে নিয়ে কিংকৰ্তব্যবিমূঢ় অবস্থায় দাঁড়িয়ে আছে। জোর করে কর্তব্য করবার সাহসও তার নেই।

    একথা বলবার সাহস নেই, তোমাদের তো কর্তে হচ্ছে না বাপু, তবে অত গায়ের জ্বালা কেন?

    কিন্তু কেন যে গায়ের জ্বালা, সে কথার উত্তর কি নিজেরাই জানে ওর?

    যেখানে ছোট কথা ছাড়া আর কোনো কথার চাষ হয় না, সেখানে বড় কথা, মহৎ কথা। তারা পাবে কোথায়? ছোট কথাই জ্বালার জনক।

    মেয়ে নিয়ে ঘরে বসে সোহাগ হচ্ছে? তোমার না। আজ রান্নার পালা?

    ঘরের মধ্যে যেন হাতুড়ির ঘায়ের মত একটা হুমকি এসে পড়ে।

    নিরবচ্ছিন্ন ক্ৰন্দনে শক্ত হয়ে যাওয়া মেয়েটাকে চুপ করাবার বৃথা চেষ্টায় নিজেই কেঁদো-কাঁদো। হচ্ছিল সুবর্ণ, এই শব্দে চমকে পিছন ফিরে তাকায়। তার পরই অগ্রাহ্যাভরে মুখটা ফিরিয়ে নিয়ে বলে, পালা বজায় রাখতে যাবার মত অবস্থা দেখছো যে!

    এইমাত্র নীচে বহুবিধ বিরুদ্ধ সমালোচনা শুনে এসে প্ৰবোধচন্দ্রের মেজাজ খাপ্পা, তাই ক্রুদ্ধস্বরে বলে, তোমার অবস্থা অপারে শুনবে কেন শুনি? ফেলে রেখে দিয়ে চলে যাও। মেয়ে নিয়ে এত আদিখ্যেতা!

    সুবৰ্ণলতা তেমনি আগ্রহের গলায় বলে, কার কাছে ফেলে যাবো শুনি? তুমি সামলাবে?

    আমি? আমি সামলাতে বসবো তোমার ওই গুণধারী মেয়েকে? আমায় তো ভূতে পায় নি?

    আমার মেয়ে! একা আমার মেয়ে! সামলাতে ভূতে পায় তোমায়? বলতে লজ্জা করল না? উগ্ৰমূর্তি সুবৰ্ণলতা উঠে বসে, আর যদি এ ধরনের কথা বল, মান-মর্যাদা রাখবো না বলে দিচ্ছি!

    প্ৰবোধ এ মূর্তিকে ভয় পায়।

    তত্ৰাচ ভয় পাওয়াটা প্ৰকাশ করে না। বলে, ওঃ, মান-মৰ্যাদা রেখে তো উল্টে যোচ্ছ! এখন যাও নিজের মান রাখো তো, পালাটা সেরে দিয়ে এসো!

    আমার মান এমন ঠনকো নয় যে তাও বজায় রাখতে পিশাচী হতে হবে!

    মেয়ে নিয়ে শুয়ে পড়ে সুবৰ্ণ।

    ভঙ্গীতে অবহেলা অবজ্ঞা।

    প্ৰবোধচন্দ্রের গায়ের রক্ত ফুটে ওঠে, তীব্ৰস্বরে বলে, শুলে যে? ইয়ার্কি পেয়েছ নাকি? রোজ রোজ তোমার ভাগের কাজই বা অন্যে করে দেবে কেন শুনি? যাও উঠে যাও। একটু কাঁদলে মেয়ে মরে যাবে না।

    সুবৰ্ণলতা তথাপি ওঠে না।

    শুয়ে শুয়েই বলে, একটা রাতে না খেলেও কেউ মরে যাবে না।

    না থেয়ে!

    এ কি সাংঘাতিক শব্দ!

    তার মানে উঠবে না! শক্ত পাথর মেয়েমানুষ!

    অতএব অন্য সুর ধরতে হয় প্রবোধকে। নরম সুর।

    পাঁচজনে পাঁচ কথা বলবে, গায়ে পেতে নেবেই বা কেন? এতে তোমার লজ্জা হয় না?

    সুবৰ্ণ আবার উঠে বসে।

    উঠে দৃঢ়কণ্ঠে বলে, না হয় না! আমার লজ্জা-সরমের জ্ঞানটা তোমাদের সঙ্গে মেলে না। আমার কাছে তার চাইতে অনেক বেশি লজ্জার, নিন্দুকের মুখের দুটো কথা শোনার ভয়ে রুগ্ন সন্তানের দুর্দশা করা! যারা আমন করে তা মা নয়, শয়তান, মা নয়, পিশাচী।

    তারা শয়তান? তারা পিশাচী!

    নিশ্চয়! শয়তান, স্বার্থপর, মহাপাতকী!

    তোমার সবই সৃষ্টিছাড়া!

    হ্যাঁ, আমার সবই সৃষ্টিছাড়া। কী করবে? ফাঁসি দেবে?

    আমি বলছি তুমি যাও, মেয়ে আমি দেখছি—

    ন!

    না, সুবৰ্ণ সেদিন রাঁধতে নামে নি।

    উমাশশীই বেধেছিল শেষ পর্যন্ত।

    আর আশ্চৰ্য, বাড়িসুদ্ধ সবাইকে তাক লাগিয়ে দিয়ে নেমে এসে অম্লান বদনে সেই ভাত খেয়ে গিয়েছিল সুবর্ণ! ডাকতে পর্যন্ত হয় নি, হঠাৎ এক সময় রান্নাঘরে এসে জল-কাদার উপর মাটিতেই ধপাস করে বসে পড়ে বলেছে, এইবেলা আমায় চারটি দিয়ে দাও তো দিদি। অনেক কষ্টে ঘুম পাডিয়েছি।

    এত বড় বেহায়া মেয়েমানুষ, তবু মুক্তকেশী। আশা করেছিলেন, আজ হয়তো সকালবেলার রান্নার ভারটা মেজগিনী নেবে। কিন্তু সে আশা ফলবতী হল না।

    সকালবেলায় দেখা গেল মেয়েটার গায়ে হাম বেরিয়েছে।

    কান্নার হদিস পাওয়া গেল।

    এবং রান্নার ভরসাও গেল।

    একদিন আধাদিন নয়। এখন অনেক দিন।.

    বলবার কিছু নেই। এ রোগ। কারো হাতধারা নয়!

    কিছু নেই।

    তবু বলাবলি হয়। সকলের মধ্যেই হয়।

    কিন্তু সেই বলার মুখে এক প্রকাণ্ড পাথর পড়লো। বেলা বারোটা নাগাদ জণ্ড এসে হাজির হলো, একটা আধাবয়সী বিধবা বামনী সঙ্গে নিয়ে।

    কই গো পিসি, এই নাও তোমার রাধুনী। কি করতে-টারতে হবে দেখিয়ে শুনিয়ে দাও। মা বলেছে কাজকর্ম ভাল হবে।

    মুক্তকেশী অবাক গলায় বলেন, রাধুনী আনতে হুকুম করলো কে তোকে?

    জগু মেয়েলী ভঙ্গীতে বলে ওঠে, শোন কথা! তোমার নিজের ব্যাটাই তো বলে এলো গো! মেজ পুত্তুর! বললো, মেজবৌমার খুকীর হাম বেরিয়েছে, ওদিকে বড়বৌমার খেটে খেটে জানি নিকলোচ্ছে, সংসারের অচল অবস্থা, রান্নাবান্নার জন্যে একটি বামুনের মেয়ে চাই। তোমার দেখি সাত কাণ্ড রামায়ণ শুনে সীতা কার পিতা!

    মুক্তকেশী একবার জ্বলন্ত দৃষ্টিতে মেজবৌয়ের ঘরের দিকে দৃষ্টিপাত করে বলেন, বুঝেছি! কামরূপ কামিখ্যের ভেড়াটা ছাড়া এ কাজ আর কার হবে! তবে এখনো মারি নি জগা, আমার জীবদ্দশায় রাধুনী ঢুকতে দেব না বাড়িতে!

    জগা বীরদৰ্পে বলে, দেবে না? বললেই হল? তুমি ওদের আঁশ-হাঁড়ি নাড়বে?

    আমি? আমার মরণ নেই?

    তবে?

    যারা করবার তারাই করবে! লোকের দরকার নেই জগা! মিথ্যে বামুনের মেয়েকে আশা দিয়ে নিয়ে এসে নিরাশা করা!

    জগু যে জগু, সেও এ পরিস্থিতিতে থাতমত খায়।

    অনুরোধ মাত্র লোক জুটিয়ে আনার মহিমায় উৎফুল্ল হচ্ছিল, কিন্তু এ কী?

    বোকার মত বলে, তাহলে বলছো দরকার নেই?

    মুক্তকেশী সেই কথাই বলতে যাচ্ছিলেন, কিন্তু বলা হয় না। সহসা সেই ভরদুপুরে শুকনো আকাশ থেকে বজ্রাপাত হয়।

    সেই বজ্রে ধ্বংস হয়ে যায় সভ্যতা, ভব্যতা, সামাজিক নিয়মনীতি।

    আর ধ্বংস হয়ে যায় মুক্তকেশীর পদমর্যাদার মহিমা।

    হঠাৎ দরজার ওদিক থেকে সুবর্ণর পরিষ্কার গলার দ্বিধাহীন ভাষা উচ্চারিত হয়, আছে দরকার! মা, ভাসুর ঠাকুরকে বলে দিন যে রেখে যান ওঁকে!

    মুক্তকেশী স্তম্ভিত বিস্ময়ে বলেন, আছে দরকার! রেখে যাবে! আমি মানা করছি, তার ওপর তুমি এলে হুকুম চালাতে!

    স্তম্ভিত বিস্ময়ে বলেন, আছে দরকার! রেখে যাবে! আমি মানা করছি, তার ওপর তুমি এলে হুকুম চালাতে!

    হুকুম চালাচালির কথা নয় মা! অবুঝের মতন রাগ করলে তো চলবে না। দিদি একা আর কত দিক দেখবেন? বামুনের মেয়ের কথা আমিই বলে পাঠিয়েছি।… বামুনদি, তুমি এসো তো এদিকে-

    জীত রহো। চেঁচিয়ে ওঠে মুখ্যু জগু, এই তো চাই! আমার পিসিটির এই রকম শিক্ষারই দরকার ছিল।

     

    মুক্তকেশীর সংসারে যুগ-প্ৰলয় ঘটে।

    মুক্তকেশীর কলমের উপর নতুন কলম চলে।… মুক্তকেশীর সংসারে মাইনে করা রাঁধুনী ঢোকে! এ যেন অনিবাৰ্য অমোঘের একটা চিহ্ন!

    তা বোধ করি এই প্রথম বিন্দু আর আর গিরিবালা সুবৰ্ণলতার তেজ আসপর্দার সমালোচনা না করে তার উপর প্রসন্ন হয়।

    বাঁচা গেল বাবা!

    শুধু উমাশশীরই মনে হয় সে যেন সর্বহারা হয়ে গেছে!

    দুগ্ধ থেকে ছাত হলে কিসের দামে বিকাবে উমাশশী। মূলহাৱা এই দিনগুলোকে নিয়ে করবে কি?

    যখন তখন চোখে জল আসে তার।

    আর বামুনব্দির পায়ে পায়ে ঘোরে তার সাহায্যার্থে।

    তবু তো বোঝা যাবে, কিছুটা প্রয়োজন আছে উমাশশীর!

    সুবৰ্ণলতার মত সে নিজের উপস্থিতির জোরেই নিজেকে মূল্যবান ভাবতে পারে না।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40 41 42 43 44 45 46 47 48 49 50 51 52 53 54 55 56 57
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Article১০টি কিশোর উপন্যাস – আশাপূর্ণা দেবী
    Next Article বকুলকথা – আশাপূর্ণা দেবী

    Related Articles

    আশাপূর্ণা দেবী

    বিবাগী পাখি – আশাপূর্ণা দেবী

    April 7, 2025
    আশাপূর্ণা দেবী

    কুমিরের হাঁ – আশাপূর্ণা দেবী

    April 7, 2025
    আশাপূর্ণা দেবী

    ঠিকানা – আশাপূর্ণা দেবী

    April 7, 2025
    আশাপূর্ণা দেবী

    ততোধিক – আশাপূর্ণা দেবী

    April 7, 2025
    আশাপূর্ণা দেবী

    ১. খবরটা এনেছিল মাধব

    April 7, 2025
    আশাপূর্ণা দেবী

    নতুন প্রহসন – আশাপূর্ণা দেবী

    April 7, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Our Picks

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }