Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    সুবৰ্ণ সমাধি – ডিউক জন

    ডিউক জন এক পাতা গল্প142 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    সুবৰ্ণ সমাধি – ১০

    দশ

    আগস্ট, ১৭৯৮।

    বেতের চেয়ারে বসে আছে ক্যাপ্টেন জেরার্ড মিলফোর্ড। ঘরের বাইরে চোখ।

    দিগন্তসীমানায় হেলে পড়েছে সূর্য। মরে গেছে রোদ।

    একটু আগেও আকাশের রং ছিল ঘন নীল। এখন ফ্যাকাসে। পশ্চিম দিকটা ঘুঁটে দেয়া ডিমের কুসুমের মত কমলা-হলুদে মেশানো।

    চোখ বুজলে রণাঙ্গণের টুকরো-টুকরো দৃশ্য বায়োস্কোপের মত মনের পর্দায় আসে আর যায়। যন্ত্রণাকাতর আহত যোদ্ধার আর্তনাদ কানে এসে লাগে। গুলিগালাচের সাথে পাল্লা দিয়ে ঢাক বাজায় হৃৎপিণ্ড। বড় করে শ্বাস টানলে বারুদের তীব্র ঘ্রাণ জ্বলুনি ধরায় যেন নাসারন্ধ্রে। রক্ত আর মৃত্যুর অলীক গন্ধটা পীড়া দেয়।

    শুয়ে-বসে কাটছে দিন আর রাতের বেশির ভাগ সময়। শুশ্রূষার অত্যাচারে জীবন অতিষ্ঠ! আজকে ব্যাণ্ডেজ খুলে দেয়া হয়েছে। তবে এখনই ছুটি মিলছে না এখান থেকে। আরও কিছুদিন গৃহবন্দি হয়ে থাকতে হবে।

    তর সয় না!

    অস্থির লাগে। সহযোদ্ধারা জীবন বাজি রেখে লড়ছে, আর সে কি না আরাম করছে নার্সিং হোমের নিরাপদ বলয়ের মধ্যে!

    পদমর্যাদার কারণে কেবিন পেয়েছে। চায়নি। বরঞ্চ আপত্তি করেছে। দেশের এই অবস্থায় বাড়তি সুবিধা নেবার সে ঘোর বিরোধী। কিন্তু হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তাতে কান দেয়নি।

    চেয়ারের হাতলে এক হাতের ভর রেখে উঠে দাঁড়াল ক্যাপ্টেন। খোঁড়াতে খোঁড়াতে জানালার কাছে গেল। ডান পা-টা ঠিকমত ফেলতে পারে না এখনও। টান লাগে।

    সামনে ছড়িয়ে রয়েছে বেলাভূমি। তার ওপারে পারাবার। ভাটায় টান পড়েছে। লক্ষ্মী ছেলের মত শান্ত হয়ে আছে অকূল পাথার। ঢেউয়ের গায়ে ময়ূরপাখা-রঙের খেলা।

    দূরে একটা নোঙর ফেলা জাহাজ।

    থিরথির করে কাঁপছে নারকেল গাছের ডগা।

    বড় অদ্ভুত এই সময়টা! মন কেমন করে দেয়া বাতাস। সাথে আশ্চর্য এক নীরবতা।

    নির্লিপ্ত দৃষ্টিতে ঢেউ গুনতে লাগল ক্যাপ্টেন মিলফোর্ড।

    অনেক কথা ভাবছে সে। অনেক পুরানো কথা। মারাত্মক একাকী লাগছে তার নিজেকে। শূন্য, ফাঁকা লাগছে সব কিছু। একসময় সে থাকবে না পৃথিবীতে। কিন্তু বাড়িটা থাকবে। এই ঘরে বসে অন্য কেউ অনুভব করবে অপরাহ্ণের অলৌকিক নিস্তব্ধতা।

    পায়ের শব্দ পেয়ে ঘাড় ঘোরাল ক্যাপ্টেন।

    সিস্টার মারিয়া। হাতে একগাছা হলুদ টিউলিপ। চোখাচোখি হতে হাসল।

    অল্পবয়সী একটা মেয়ে। গায়ের রং কালো। মুখে বসন্তের দাগ। তার পরেও চেহারার কোথায় যেন এক ধরনের স্নিগ্ধতা লুকিয়ে আছে।

    ফুলগুলো ফ্লাওয়ারভাসে গুছিয়ে রেখে বলল, ‘স্যর, একজন অফিসার আপনার সাথে দেখা করতে চায়।’

    ‘নাম বলেছে?’

    ‘না, স্যর।’

    নিয়ে একটু অবাক হলো ক্যাপ্টেন জেরার্ড। হাসপাতালে ভর্তি হবার

    পর থেকে নানান ধরনের লোকজন আসছে তার সাথে সাক্ষাৎ করবার জন্যে। অনুমতি দিচ্ছে না ডাক্তাররা। আজকে নিশ্চয় জরুরি কিছু!

    ‘ঠিক আছে, আসতে বলো।’ ভেতরে ভেতরে উদ্‌গ্রীব হয়ে উঠলেও বাইরে তা প্রকাশ করল না ক্যাপ্টেন।

    ফিরে গেল নার্স।

    যুদ্ধাহত সৈনিক দরজার দিকে তাকিয়ে অপেক্ষা করতে লাগল।

    … বুটজুতোর শব্দ উঠল কাঠের মেঝেতে।

    দূরাগত পদধ্বনি ক্রমে জোরাল হলো। আইরিশ নৌবাহিনীর কমাণ্ডার রবিন কালাহান দেখা দিল দরজায়।

    দীর্ঘদেহী। পেশিবহুল। পরনে ইউনিফর্ম। তাতে লাগানো ইনসিগনিয়া তার র‍্যাঙ্ক নির্দেশ করছে।

    ভেতরে ঢুকল। সামরিক কায়দায় স্যালুট করল ঊর্ধ্বতন অফিসারকে।

    স্যালুটের জবাব দিল ক্যাপ্টেন মিলফোর্ড। ঝকমক করছে তার চেহারা। সহকর্মীকে দেখে আনন্দিত।

    কমাণ্ডার কালাহানের হাতে বড় একটা বাদামি এনভেলাপ। চোখ দুটো নিষ্প্রভ। চেহারাটা ম্রিয়মাণ।

    যুদ্ধের ক্লান্তি, ভাবল ক্যাপ্টেন। নিজেকে অপরাধী মনে হলো তার!

    ফর্মালিটির ধার দিয়ে গেল না জেরার্ড। আন্তরিক স্বরে জিজ্ঞেস করল, ‘কেমন আছ, কমাণ্ডার?’

    ‘ভাল, স্যর।’ ম্লান হাসল কালাহান। ‘আপনি কেমন আছেন, স্যর?’

    ‘দিব্যি হেঁটে বেড়াচ্ছি!’ দাঁত বেরিয়ে পড়ল ক্যাপ্টেনের। ‘চাইলে এখনই রিলিজ করে দিতে পারে। কিন্তু এরা তা করবে না!’ মৃদু অনুযোগ ফুটল তার গলায়।

    ‘স্যর, সার্ভিসের সবাই আপনার প্রশংসায় পঞ্চমুখ। আপনার তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্ত আর সাহসিকতার কারণে সেদিন অতগুলো প্রাণ রক্ষা পেয়েছে।’

    ‘রাখো তো, কমাণ্ডার!’ অধস্তন অফিসারকে ধমক লাগাল ক্যাপ্টেন। কিন্তু চেহারাতে খেলা করছে আত্মতৃপ্তি। ‘আমার কর্তব্য আমি করেছি। আমার জায়গায় তুমি হলেও তা-ই করতে। করতে না?’

    ‘লজ্জা দিচ্ছেন, স্যর।’ বিনয়ের অবতার সাজল কমাণ্ডার। ‘আপনার মতন যদি হতে পারতাম….

    ‘দোহাই, কমাণ্ডার!’ নির্ভেজাল মিনতি ঝরল ক্যাপ্টেনের কণ্ঠ থেকে। ‘আর ফুলিয়ো না। খাওয়া আর ঘুমের উপরে থাকতে থাকতে এমনিতেই ফুলে যাচ্ছি!’

    নীরব হাসি হাসল কালাহান। পলকের জন্যে সজীব হয়ে উঠল মুখটা।

    ‘আসল কথা বলো, কমাণ্ডার,’ ক্যাপ্টেন বলল। ‘এতদূর থেকে নিশ্চয় আমার গুণকীর্তন করতে আসোনি!’

    ‘ক্যাপ্টেন, স্যর, আপনাকে সবাই শুভেচ্ছা জানিয়েছে।’

    ‘আমারও শুভেচ্ছা রইল, কমাণ্ডার।’

    প্যান্টের পকেটে হাত ঢোকাল কালাহান। লাল রিবনে মোড়া ছোট্ট একটা বাক্স বের করল। অফিসারের হাতে তুলে দিল সেটা।

    ‘কী এটা?’ বিস্মিত চেহারায় জানতে চাইল ক্যাপ্টেন।

    ‘খুলুন, স্যর।’ রহস্য করল কমাণ্ডার রবিন। ‘খুলে দেখুন, ভিতরে কী আছে।’

    ফিতের প্রান্ত ধরে টান দিল ক্যাপ্টেন মোহাবিষ্টের মত। খুলে এল গেরো।

    বাক্সের মধ্যে, নীল মখমলের ওপরে শুয়ে আছে একটা রূপালী ব্যাজ।

    ধাতুর তৈরি চাপরাশের শরীর কুঁদে একটা শব্দ লেখা। ভ্যালর।

    ছোট একটা কার্ডও রয়েছে ব্যাজের সাথে।

    কার্ডটা তুলে চোখের কাছে আনল ক্যাপ্টেন। ওতে লেখা:

    যুদ্ধক্ষেত্রে অসামান্য বীরত্ব প্রদর্শনের জন্যে ক্যাপ্টেন জেরার্ড মিলফোর্ডকে প্রেসিডেন্টের তরফ থেকে।

    চোখ মিটমিট করে কমাণ্ডারের দিকে তাকাল ক্যাপ্টেন মিলফোর্ড। ঠোঁটে সন্তুষ্টির হাসি। দায়িত্ব বেড়ে গেল এখন থেকে।

    ‘আর এটা, স্যর।’ হাতের খামটা বাড়িয়ে ধরল কালাহান।

    নিতে নিতে জিজ্ঞেস করল ক্যাপ্টেন, ‘এটা আবার কী? প্রমোশন লেটার?’

    জবাব দিতে পারল না কমাণ্ডার।

    এনভেলাপটা উল্টেপাল্টে দেখল জেরার্ড। গলিত মোম ফেলে বন্ধ করা হয়েছে মুখ। শুকিয়ে যাওয়া লাল মোমের ওপরে ফুটে রয়েছে সরকারি সীলমোহর। প্রাপকের জায়গায় তার নাম লেখা।

    চিকচিক করছে কালাহানের চোখ। একটু ইতস্তত করে বলল, ‘হিজ একসেলেন্সি নিজে আপনার পুরো মেডিকেল রিপোর্ট পড়ে দেখেছেন।’

    কথাটার মর্মার্থ অনুধাবন করবার চেষ্টা করছে মিলফোর্ড।

    ‘ওখানে লেখা আছে, স্যর!’ কমাণ্ডারের গলাটা কেঁপে গেল। ঠিকা খামটা খুলল ক্যাপ্টেন। ভেতরের কাগজটা বের করে চোখের সামনে মেলে ধরল।

    ছোট্ট একটা চিঠি।

    ডিয়ার ক্যাপ্টেন জেরার্ড মিলফোর্ড,

    আপনার শারীরিক অবস্থা বিবেচনা করে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেয়া হলো। দেশ আপনার প্রতি কৃতজ্ঞ।

    নীচে রাষ্ট্রপতির স্বাক্ষর।

    বোবা দৃষ্টিতে অধস্তনের দিকে তাকাল ক্যাপ্টেন। স্পষ্ট হস্তাক্ষরে লেখা কথাগুলোর অর্থ খুঁজে বের করতে অস্বীকৃতি জানাচ্ছে মস্তিষ্ক।

    চোখে চোখ রাখবার সাহস পেল না কালাহান। পালিয়ে যেতে ইচ্ছে করছে তার। মেঝের দিকে তাকিয়ে বলল কোনওমতে, ‘আ-আমি দুঃখিত, স্যর। চিকিৎসকরা জানিয়েছে, আপনি আর কোনও দিন স্বাভাবিক ভাবে হাঁটতে পারবেন না।’

    যেন ঘুম থেকে জেগে উঠল ‘ক্যাপ্টেন মিলফোর্ড। তা হলে এই তার অর্জন? প্রয়োজন ফুরাতেই ছুঁড়ে ফেলা হলো তাকে পরিত্যক্ত কাপড়ের মত!

    কমাণ্ডার রবিন কালাহান এই মুহূর্তে দুনিয়ার সবচেয়ে অসহায় মানুষ। ওপরের আদেশ। তার কিছু করবার নেই। তার বদলে আর কেউ যদি এই পরোয়ানা বহন করত, তা হলে খুশি হত কমাণ্ডার। কিন্তু এখানেও সে নিরুপায়। এটাও অথরিটির হুকুম। ‘না’ করবার ক্ষমতা নেই তার। মন না চাইলেও তাই অপ্রিয় কাজটা করতে হলো।

    সান্ত্বনা-সমবেদনা এখন অর্থহীন। কিছুই স্পর্শ করবে না ক্যাপ্টেনকে। চলে যাওয়াই ভাল।

    শেষবারের মত প্রাক্তন বসকে অভিবাদন জানাল কমাণ্ডার। চলে যাবার জন্যে ঘুরল। দরজার কাছে পৌঁছে গেছে, থেমে ঘাড় ফিরিয়ে তাকাল। ‘উই উইল মিস ইউ, স্যর!’

    কিছুই কানে ঢুকল না ক্যাপ্টেনের। কিছুই দেখল না। অনড় দাঁড়িয়ে রইল। অনেক স্মৃতির ঝড়ে মেঘ জমল মনে। ঝাপসা হলো দৃষ্টি।

    অনেকক্ষণ পরে নিজের মাঝে ফিরে এল সে। বাক্স খুলে নির্বিকার চেহারায় ব্যাজটা দেখল এক পলক। তুলে নিল মুঠোয়। সমস্ত রাগ, ক্ষোভ, হতাশা দিয়ে চেপে ধরল। আহত সিংহের চাপা গোঙানি বেরিয়ে এল বুক চিরে।

    সমস্ত শক্তি দিয়ে ব্যাজটা জানালার ওপারের অন্ধকারে নিক্ষেপ করল ক্যাপ্টেন জেরার্ড মিলফোর্ড।

    *

    হিজ হাইনেস নিষ্ঠুর নন। ক্যাপ্টেন জেরার্ড মিলফোর্ডের সততা, কর্তব্যপরায়ণতা আর দুঃসাহসিকতার প্রতিদান তিনি দিয়েছিলেন। তাঁর বদৌলতেই উত্তরাধিকার সূত্রে জলমানবীর স্বত্ব পেয়েছে জোহান মিলফোর্ড।

    চল্লিশ ফুটী যানটা জোহানের বাবাকে দেয়া প্রেসিডেন্টের পুরস্কার। খুশি হয়েই গ্রহণ করেছিল ক্যাপ্টেন মিলফোর্ড। বাস্তবতার কাছে হার মেনেছে ইমোশন।

    জোহানের বয়স যখন ষোলো, সেই সময় প্রথম সাগরে বেরোয় সে বাবার সাথে। তারপর অনেকবার। কখনও বাপ-বেটা মিলে, কখনও একাই। সেসব গন্তব্য ছিল কাছেপিঠেই। এই প্রথম সে এতদূরে সফর করেছে।

    ‘তোমার মায়ের কথা বলো, সেনিয়োর,’ এলেনা বলল। ‘কেমন মানুষ সে?’

    ‘কেমন? উম…’ কী বলা যায়, ভাবছে জোহান। কম কথায় কীভাবে বিশ্লেষণ করা যায়। ‘কোমলে-কঠোরে মেশানো।

    ‘আমাকে বোধ হয় পছন্দ করবে না!’ সসঙ্কোচে বলল মেয়েটা।

    ‘এরকম মনে হচ্ছে কেন?’

    ‘ঝামেলায় ফেললাম যে তোমাকে!’

    ‘আমার তা মনে হয় না, ম্যা’ম।’ একটু গম্ভীর হলো জোহান। ‘মাকে আমি চিনি। তা ছাড়া… তোমার মতন বয়সে মাকেও প্রতিকূল অবস্থার মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে।’

    ‘কী রকম?’ এলেনার চোখে আগ্রহের ছায়া দেখা গেল। মেকসিকান চাদরের তলে শরীরটা জুত করে নিল।

    শুরু হলো গল্প।

    এগারো

    প্যাট্রিক বেডফোর্ড। পদবি কর্নেল। আইরিশ এই সেনা কর্মকর্তা অত্যন্ত গর্হিত কাজ করেছিল অভ্যুত্থানের সময়। দেশদ্রোহিতা। মোটা টাকার বিনিময়ে রাষ্ট্রের গোপন তথ্য পাচার করছিল ব্রিটিশ সরকারের কাছে।

    একটা সময় সিক্সথ সেন্স তাকে সাবধান করে দিল। প্যাট্রিক বেডফোর্ড টের পেল, ধরা পড়তে যাচ্ছে সে। সরকারি গোয়েন্দারা জেনে গেছে তার বেইমানির কথা। হাতেনাতে ধরবার জন্যে খেলাচ্ছে ওরা তাকে।

    ধরা পড়লে কী ঘটবে, সেই বিষয়ে পূর্ণ ওয়াকেফহাল ছিল কর্নেল। শাস্তিমূলক ব্যবস্থা হিসেবে কোর্ট-মার্শাল তো হবেই, বিচারে এমনকী মৃত্যুদণ্ডও দিয়ে দিতে পারে ওপরঅলারা। ফায়ারিং স্কোয়াডে পাঠাতে পারে।

    কালবিলম্ব করল না কর্নেল। ছদ্মবেশ নিয়ে দেশ ছেড়ে পালাল। পাড়ি জমাল স্পেন অভিমুখে। হিতাকাঙ্ক্ষী এক লোক সাহায্য করল তাকে এই ব্যাপারে। সে-ও প্যাট্রিকের সাথ ধরল।

    ভিনদেশে গিয়ে অসুখে পড়ল কর্নেল বেডফোর্ড। টিবি। কাশির দমকে রক্ত বেরোতে লাগল নাক-মুখ দিয়ে। মাত্রাতিরিক্ত মদ্যপান করত আগে থেকেই, আত্মপীড়ন করতে আরও বাড়িয়ে দিল পেগের পরিমাণ। ফলাফল: চরম বিদ্রোহ করে বসল শরীর।

    এমন একগুঁয়ে মানুষ প্যাট্রিক, ডাক্তারও দেখাবে না! আর দেখালেই বা কী! যক্ষ্মা হলে রক্ষা আছে?

    বাঁচবে না, বুঝতে পেরে অনুতপ্ত হলো কর্নেল। যুক্তিবাদী লোকটার ওপরে জীবনের শেষ বেলায় জেঁকে বসল কুসংস্কার। মাতৃভূমির সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করবার সাজা হিসেবে প্রাণদণ্ড দিয়েছে তাকে ঈশ্বর, এরকম একটা ধারণা জন্মাল মনে। আয়ারল্যাণ্ডে ফেলে আসা মা-হারা একমাত্র মেয়েটার প্রতি বড় বেশি অবিচার করা হয়েছে, চিন্তা করে মুষড়ে পড়ল আরও।

    বিছানা নিল। পাগলামির লক্ষণ দেখা দিল আচরণে। ওই অবস্থাতেই চিঠি লিখল সে মেয়েকে।

    দীর্ঘ সেই চিঠিতে পিতা হিসেবে নিজের ব্যর্থতা আর অযোগ্যতার কথা স্বীকার করল কর্নেল অকপটে। ক্ষমা চাইল মেয়ের কাছে। রাষ্ট্রদ্রোহিতার কথাও লুকাল না।

    শুভাকাঙ্ক্ষী লোকটার হাতে দিয়ে পাঠানো হলো চিঠি।

    কাটাকাটি আর অজস্র বানানভুলে ভরা সেই চিঠি পড়ে কেঁদে আকুল হলো রোজমেরি বেডফোর্ড। মৃত্যুপথযাত্রী বাপকে দেখতে স্পেন রওনা হলো সে।

    পৃথিবীটা এক বিশ্রী জায়গা। কেবলই আশাভঙ্গ হয় এখানে। যখনই কারও মন আশায় উদ্বেল হয়ে ওঠে, তখনই নেমে আসে হতাশা।

    রোজমেরি যেদিন স্পেনে পৌঁছাল, তার আগের দিনই ইহধাম ত্যাগ করল প্যাট্রিক বেডফোর্ড।

    এমনই দুর্ভাগ্য মেয়ের, মৃত বাপের মুখটা পর্যন্ত দেখবার সুযোগ হলো না তার। কারও আসবার কথা ছিল না; অতএব, প্রতিবেশীরা চাঁদা তুলে কবর দিয়ে দিয়েছে বুড়োকে।

    একদম একা হয়ে পড়ল মেরি। তিনকূলে আর কেউ রইল না তার।

    দেশে আর ফিরল না সে। তার বাপ সেখানে খলনায়ক। নিজেকে ভাসিয়ে দিল মেরি অজানার স্রোতে। এ-ঘাট থেকে সে-ঘাটে কাটতে লাগল তার শেওলা-জীবন। করডোভা, প্যারিস, মারসাই হয়ে ভেসে চলল সে মেকসিকোর দিকে।

    বারো

    ‘মেকসিকো যাবার পথে বাবার সাথে মায়ের পরিচয় হয়।’ জোহান থামল।

    তার চোখে-মুখে তৃপ্তির চিহ্ন। শ্রোতা হিসেবে এলেনা মনটেরো প্রথম শ্রেণীর। দশে দশ পাবার যোগ্য। কথা বলে আরাম আছে।

    ‘একদম গল্পের মতন,’ মন্তব্যের ঢঙে বলল এলেনা, তবে গল্পের চাইতেও নাটকীয়।’

    জোহান ভাবছে, এলেনার সাথে ওর যেভাবে পরিচয় হলো, সেটা কি কম নাটকীয়?

    ‘মায়ের মুখে শুনেছি এসব কথা,’ বলল সে।

    এলেনা ভাবছে, সেনিয়োর মিলফোর্ড দেখি পুরুষ সম্পর্কে আমার সমস্ত ধারণাই পাল্টে দেবে!

    এক ধরনের ধ্যানমগ্ন ভাব রয়েছে লোকটার চেহারাতে। কথা বলবার সময় অলস একটা শান্ত ভঙ্গিতে বলে। শুনবার সময় মনে হয়, উচ্চারিত প্রতিটা বাক্যের অন্তর্নিহিত অর্থ আত্মস্থ করবার চেষ্টা করছে।

    চিন্তা-ভাবনার নিজস্ব একটা ধরন রয়েছে তার। সম্ভবত জগৎ সম্পর্কে আলাদা দৃষ্টিভঙ্গিও।

    এক সপ্তা হলো, এই জাহাজে রয়েছে ও। লোকটা একবারও বুঝতে দেয়নি, সে তার আশ্রিতা। অন্য দু’জনও নয়। ওর অসহায়ত্বের সুযোগ নিতে পারে, এরকম আশঙ্কা ছিল মনে। কিন্তু গায়ে হাত দেয়া দূরে থাক, একটি বারও কেউ বাজে দৃষ্টিতে তাকায়নি ওর দিকে। অশোভন উক্তি কিংবা অশ্লীল ইঙ্গিত করেনি।

    ঘুমাবার সময় ছাড়া চারজনে একসাথেই থাকছে। একসাথে খাচ্ছে খাবার সময়। যেন ওরা অভিন্ন পরিবারের সদস্য।

    সেনিয়োর মিলফোর্ড মাঝে মাঝে হুইল ধরতে দেয়। হার্ডি বা হিপো অবশ্য দেয় না। প্রায় সব ব্যাপারে দু’জনের মতপার্থক্য থাকলেও একটা বিষয়ে তারা ঐকমত্য প্রকাশ করেছে- ব্যাটাছেলেদের কাজ ওর লাবণ্য নষ্ট করে দেবে। তবে সাগর সম্পর্কে জ্ঞান দিতে কারও কোনও কার্পণ্য নেই। পানিতে রঙের হেরফের দেখে বাতাস আর স্রোতের মতিগতি কী করে বুঝে নিতে হয়, উদার শিক্ষকের মত শিখিয়েছে ওরা তাকে।

    আশ্চর্য সরল এই মানুষ দু’জন! ভাল না বেসে পারা যায় না।

    সেনিয়োর মিলফোর্ডের প্রতি ভাল লাগাটাও কি প্রগাঢ় হচ্ছে না?

    এটা কি প্রেমে পড়বার লক্ষণ?

    তেরো

    দ্বিতীয় সপ্তাহ।

    নিস্তরঙ্গ সাগরে সাঁতরে চলেছে জলমানবী। নির্ভাবনায়। তবে বোটের যাত্রীরা ভাবনাহীন নয়। বরং দুর্ভাবনায় রয়েছে। কার

    এক পশলা বৃষ্টি হয়ে গেছে একটু আগে। তার ফলে বিকেল যেন নবজীবন পেয়েছে। কিছুতেই ফুরাতে চাইছে না। হলুদাভ রোদে ঝিলমিল করছে সাগর। অন্যদিন হলে সাঁঝের আঁধার ঘনাত এতক্ষণে।

    প্রশান্ত বাতাসের আদর উপভোগ করছে জোহান। বিমনা। সাগরের কুলুকুলু শুনতে শুনতে দুয়েকটা ঢিল ছুঁড়ছে স্মৃতির পুকুরে। আলোড়ন উঠছে পানিতে। ঢেউয়ের বড় হতে হতে মিলিয়ে যাওয়া দেখতে দেখতে অজান্তে বেরিয়ে আসছে দীর্ঘশ্বাস।

    শীতকালে যখন লেকের পানি জমে বরফ হয়ে যেত, ওদের দুই ভাইকে নিয়ে মাছ ধরতে বের হত বাবা। জমাট বাঁধা লেকের ওপর দিয়ে হেঁটে জুতসই জায়গা খুঁজে বেড়াত ছিপ ফেলবার জন্যে। সব জায়গায় সমান পুরু হত না বরফ। সেজন্যে কোথাও সাদা, কোথাও ঘোলাটে কাচের মত ধারণ করত রং। সাদা অংশগুলো পাথরের মত শক্ত। আর সাদার মাঝে মাঝে যেখানে কালচে হয়ে আছে, সেখানকার বরফ পাতলা। ওপরে কয়েক ইঞ্চি জমেছে কেবল। তলার পানি পানিই রয়ে গেছে।

    এরকম কোনও পাতলা স্তরের মাঝে গর্ত খুঁড়ে বড়শি ফেলা হত। খুবই হুঁশিয়ার থাকতে হত। একটু এদিক-ওদিক হলেই বরফের জমিন ফেটে যাবে চড়চড় করে। হিমঠাণ্ডা পানিতে পড়লে আর দেখতে হবে না! সাধ মিটে যাবে মাছ ধরবার। শরীরের ভারে যাতে ভেঙে না যায়, সেদিকেও সতর্ক থাকতে হত।

    একবার তো সত্যিই বিপদ হয়েছিল…

    একটা দ্বীপ অতিক্রম করল জলমানবী।

    দ্বীপটার কী নাম, জোহানের জানা নেই। নটিকাল চার্টে থাকবার কথা। জাহাজ চলাচলের পথে যেহেতু পড়ে। ওর মত দুই পয়সার নাবিক ওসব মানচিত্র কোথায় পাবে?

    নাম না জানা এরকম হাজারও আইল্যাণ্ড তারা পার হয়ে এসেছে।

    সাগরের তলা থেকে যেন অকস্মাৎ বুদ্বুদের মত ভেসে ওঠে ডাঙা। আয়তন বেশি নয়।

    রসদ জোগাড়ের জন্যে নামতে হয়েছে কোথাও।

    নারকেল, কলা আর ব্রেডফ্রুটের ভাণ্ডার দ্বীপগুলো। খাঁড়ির পানিতে রয়েছে দেদার মাছ, গলদা চিংড়ি, কাঁকড়া, কচ্ছপ।

    জঙ্গলে শুয়োর।

    বেশির ভাগ দ্বীপেই জনমনিষ্যি নেই। যেগুলোতে আছে, তারাও সংখ্যায় বেশি নয়।

    যেমন এটা।

    সাগরবেলায় দাঁড়িয়ে আছে কয়েকটা কালো মূর্তি। দৃষ্টি অপসৃয়মান বোটটার দিকে।

    মেইনল্যাণ্ড থেকে এতদূরে কীভাবে এল মানুষগুলো, সেটা একটা রহস্য। এই রহস্যের চাবি ইতিহাসের কাছে।

    সভ্যতা থেকে দূরে থাকবার ঝোঁক আছে এই মানুষগুলোর মধ্যে। উৎপাত অপছন্দ করে। এক অর্থে তাই বিপজ্জনক এসব লোক।’ সেজন্যে যখনই কোথাও থেমেছে, খুব সতর্ক ছিল জোহানরা।

    চকের দাগের মত তটরেখা যতক্ষণ দৃষ্টিগোচর হলো, চেয়ে রইল জোহান।

    কেমন যেন নিঝঝুম হয়ে আছে ধরিত্রী।

    পাখিরা চলে গেছে তাদের আস্তানায়। কালো হয়ে এসেছে বিকেলের প্রসন্ন মুখ। এদিক-ওদিক চাইতে চাইতে মন্থর পায়ে এগিয়ে আসছে তমস।

    হিপো এসে দাঁড়াল জোহানের পাশে।

    অস্থির প্রকৃতির এই যুবক এসেই উসখুস শুরু করল। নার্ভাস ভঙ্গিতে হাত কচলাচ্ছে। কিছু বলতে চায়। দ্বিধাদ্বন্দ্ব ঝেড়ে ফেলে শেষমেশ বলেই ফেলল, ‘তোমাকে একটা কথা বলতাম, বস! যদি কিছু মনে না করো…’

    কোনও অপরাধ করে ফেলেছে?

    ‘বলো, কী বলবে।’

    জোহানের কথায় লাই পেল হিপো। নাক চুলকাল। ‘আঁ… ইয়ে মানে… বলতে চাইছিলাম কি, বস… আমরা…’

    ধৈর্য ধরে অপেক্ষা করছে জোহান।

    কী হতে পারে কথাটা?

    ওকে না জানিয়ে কোনও কাজ করেছে?

    নাকি কোনও কিছুর জন্যে পারমিশন চায়?

    কানের আগা চুলকাল হিপো। খুঁত-খুঁত করে গলা পরিষ্কার করল। ‘কয়টা টাকা আলাদা করে রেখেছি তোমার জন্য। … আঁ… তোমার লাগবে, বস! ‘

    চট করে আরেক দিকে মুখ ঘোরাল জোহান। চোখে পানি এসে গেছে। আবেগে রুদ্ধ হয়ে আসতে চাইছে গলা।

    ওর আর্থিক অবস্থা হার্ডি আর হিপোর অজানা নেই। তার ওপর মায়ের চিঠিতে আরেক দুঃসংবাদ।

    এথেন্স পোর্টের ঠিকানা দিয়ে এসেছিল সে বাড়িতে। সেই ঠিকানাতে গেছে পত্র। গ্রিস ছাড়িয়ে আরও অনেক দূর ভ্রমণ করেছে জলমানবী। ফিরতি পথে বন্দরের পোস্ট অফিসে খোঁজ নিয়েছে জোহান। চিঠি পেয়েছে।

    বসের খেত আগুন লেগে ছারখার হয়ে গেছে শুনে খুবই দুঃখ পেয়েছে দুই মাল্লা। গোপনে শলা-পরামর্শ করেছে, কী করে ক্যাপ্টেনকে সাহায্য করা যায়।

    নিজেকে সামলে নিয়ে হিপোর দিকে ফিরল জোহান। তবে চোখ জোড়া সিক্তই রইল তার।

    সন্ধ্যার আবছায়াতে জোহানের ভেজা চোখ দেখতে পেল না পলিনেশিয়ান।

    ‘না, হিপো।’ কর্মীদের উপার্জনে হাত দিতে চায় না জোহান। ‘লাগবে না। আমি একটা কিছু ব্যবস্থা করে নেব।’

    জোরে জোরে মাথা দোলাল হিপো ডাইনে-বাঁয়ে। ‘তোমাকে তো চিনি, বস।’ জড়তা উধাও তার গলা থেকে। ‘জানি, ঠিক- ঠিক সামলে নেবে। তার পরেও টাকাগুলো থাকল। দরকার পড়লে নিয়ো।’

    যেন মহামান্য আদালত রায় জানিয়েছে। এরপরে আর কোনও কথা থাকতে পারে না।

    উষ্ণ দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইল দু’জনে পরস্পরের দিকে।

    শ্রেণিবৈষম্য কখনওই প্রতিবন্ধক হয়ে দাঁড়ায়নি ওদের অটুট বন্ধুত্বে। বরঞ্চ একজনের জন্যে আরেকজন নির্দ্বিধায় জীবন দিয়ে দিতে প্রস্তুত।

    কথা বলল না জোহান। বন্ধুর আশ্বাস অনুভব করল হৃদয় দিয়ে।

    হার্ডি এসে দাঁড়াল তার আরেক পাশে। ‘মারিয়াচির ব্যাপারে কিছু ভাবলে?’

    ‘কী ভাবব?’

    ঘসঘস করে গিজগিজে দাড়ি চুলকাল হার্ডি। ‘সেটাও অবশ্য কথা!’

    ভেতরে ভেতরে যথেষ্ট উদ্বিগ্ন জোহান। কিন্তু কী করবে সে? মারিয়াচির মোকাবেলা করবে? কোন্ অধিকারে? মানবতার খাতিরে? হালে তেমন পানি পায় না এই যুক্তি। যথার্থ দাবি রয়েছে মারিয়াচির মিস মনটেরোর ওপরে। আংটি-বদল যেহেতু হয়ে গেছে।

    লোকটা পিছু নিয়েছে, নিশ্চিত। কার বোট, সেটাও নিশ্চয় তার অজানা নয়। হারবারে খোঁজখবর করলেই জানা যায়। ‘নিখোঁজ’ জলমানবী সম্পর্কে যা-যা জানে- সব উগরে দিয়েছে নিশ্চয় মাঝিমাল্লার দল।

    মারিয়াচি কি রানশ পর্যন্ত ধাওয়া করবে?

    কে সারা সারা- যা হবার, তা হবে। আগে থেকে ভয় পেয়ে লাভ কী?

    ‘তবে যা-ই করো, বস, মারিয়াচিকে হালকা ভাবে নিয়ো না।’ আদরের ভঙ্গিতে চিবুকে আঙুল ঘষছে হার্ডি। ‘লোকটার সম্বন্ধে যা শুনেছি!’ শঙ্কা প্রকাশিত হলো তার গলায়।

    ‘কী করতে বলো আমাকে?’

    শক্ত প্রশ্ন। জবাব দিতে গিয়ে থমকে গেল হার্ডি।

    উত্তরের আশায় কয়েক মুহূর্ত চিন্তা করল সে। জবাব খুঁজে না পেয়ে সস্তা টোব্যাকো বের করল পকেট থেকে। বিশাল এক চাকা তামাক মুখে পুরল। হার্ডি খেয়াল করেছে, এই জিনিস চাবালে বুদ্ধি খেলে।

    গালের একটা পাশ ফুলে ঢোল হয়ে গেছে হার্ডির। তামাকের চাপে ফেটে যাবে বলে মনে হচ্ছে। কয়েক চিবুনি দিয়ে অন্য গালে চালান করে দিল সে তামাকের ঢেলা। কিন্তু ‘আউম-আউম’ করাই সার হলো, বুদ্ধি আর বেরোল না।

    থোক করে এক দলা খয়েরি থুতু সাগরে ফেলল হার্ডি। নিজের ওপরে বিরক্ত। প্রায় বিশ্বাস করে ফেলেছে, গতরখানা তার ভীমদর্শন হলে কী হবে; হিপো যে খেপায়: ওর বুদ্ধি আসলে হাঁটুতে- কথাটা ভুল বলে না।

    ‘হিপো!’ বরাবরের মত হাওয়াইয়ান মেটের সরু বুদ্ধির শরণাপন্ন হলো হার্ডি।

    কিন্তু হিপোর অবস্থাও তথৈবচ।

    ‘কঠিন সমস্যা!’ বলে মাথা চুলকাল সে। সমাধান না পেয়ে শেষে ‘দূর, ছাই!’ বলে হাল ছেড়ে দিল।

    বুদ্ধির কমতি থাকতে পারে, কিন্তু সাহসের কোনও অভাব নেই দু’জনের কারও। তারই প্রতিফলন ঘটল হার্ডির কথায়। ‘যা- ই হোক, ভয় নেই তোমার। আমরা আছি।’

    হিপো আর হার্ডির মত দুটো স্বর্ণহৃদয় বন্ধু পেয়েছে বলে ভাগ্যকে ধন্যবাদ দিল জোহান। ওদেরকে দিল না। বন্ধুর কাছ থেকে ‘থ্যাঙ্কস’ নেয়াটা তারা ব্যক্তিগত অপমান হিসেবে দেখে।

    ‘বস, মিস মনটেরোর কাছে যাও,’ হার্ডি বলল, ‘ওর জ্বর এসেছে।

    চোদ্দ

    মেয়েটার নাম রোজ। একুশ বছরের তরুণী। জাহাজের ফোরডেকে দাঁড়িয়ে। রেলিং-এ পিঠ দিয়ে।

    বিধ্বস্ত সে। বিপর্যস্ত। জীবনের ওপরে বীতশ্রদ্ধ।

    কিছুক্ষণ আগে পোর্ট ছেড়েছে জাহাজ। চলেছে আরেক গন্তব্যে। জানে না সে, কোথায়। কাউকে জিজ্ঞেস করেনি। ইচ্ছে করছে না জানতে। ইদানীং সব কিছুতে বিতৃষ্ণা এসে গেছে তার।

    ঝরঝর করে কাঁদছে রোজ। বুকের মধ্যেখানে তুমুল ঝড়।

    বাবা নেই। কেউ নেই। থাকলেও কে তার খবর রাখে!

    কার কাছে যাবে সে? এই বিশাল পৃথিবীতে কে আছে তার?

    কোথায় মিলবে একটুকু মমতার আশ্রয়? বুকে তুলে নেবে কেউ?

    আজ এখানে, কাল ওখানে- এভাবে আর কয়দিন?

    এত মানুষ এই জাহাজে, অথচ কেউ তার আপন নয়!

    কী ভয়ঙ্কর নিঃসঙ্গ জীবন!

    কী তীব্র এই একাকিত্ব!

    টাকা ফুরিয়ে এসেছে। ধেড়ে ইঁদুর আর আরশোলার মত ক্লেদাক্ত দিনগুলোও ফুরাল বলে। এরপরে হয়তো সবচেয়ে সহজ পথটাই বেছে নিতে হবে বেঁচে থাকবার জন্যে। দুর্ভাগা মেয়েদের শেষ ঠিকানা হয় যেখানে।

    কিন্তু এর চাইতেও সহজ রাস্তা রয়েছে মুক্তির।

    এক সেকেণ্ডে মনস্থির করে ফেলল সে।

    আর না!

    ঢের হয়েছে এই দুঃসহ জীবনের ভার টানা। আর পারছে না! আজকেই চুকিয়ে ফেলবে সব হিসেব।

    সিদ্ধান্তটা নেয়া হয়ে যেতে অবর্ণনীয় একটা প্রশান্তি অনুভব করল রোজ। জীবনের ওপরে প্রতিশোধ নিতে পারবার আনন্দে বিচিত্র হাসি খেলে গেল তার ঠোঁটে।

    বড় করে দম টানল সে। পা রাখল রেলিং-এর নীচের ধাপে। এক হাতে ধরল ওপরের একটা রড। নিজেকে টেনে তুলে অন্য হাতেও ধরল সেটা। রোজের দুই পা-ই এখন প্রথম ধাপে।

    সাদা রং করা রেলিং-এ মোট পাঁচটা ধাপ। তিন নম্বর ধাপ পর্যন্ত উঠে এল সে। তারপর বাম পা-টা তুলে দিল শেষ ধাপের ওপর দিয়ে। দুই হাতে আঁকড়ে ধরে আছে রডটা। নাগালের মধ্যে অবলম্বন খুঁজে নিল পা। একই ধাপে ডান পা নামিয়ে এনে জোরে শ্বাস নিল রোজ।

    এবার সে নামতে আরম্ভ করল। অতি সাবধানে নেমে এল প্রথম ধাপে। ফের কিছুক্ষণ দম নিয়ে ঘুরতে শুরু করল।

    হাত কাঁপছে। রক্ত সরে গিয়ে সাদা দেখাচ্ছে আঙুল আর নখগুলো। হাঁটু দুটোয়- মনে হচ্ছে, কোনও জোর নেই। গতি আর মাধ্যাকর্ষণ শক্তি ফেলে দেবার চেষ্টা করছে ষাট ফুট নীচের কালো জলে। হৃৎপিণ্ডটা এত জোরে ধুকপুক করছে, নিজের কানেই পৌছে যাচ্ছে যেন সেই শব্দ।

    নীচে তাকাল রোজ।

    বহু নীচে শোনা যাচ্ছে সমুদ্রের জলকল্লোল। ছলাত-ছলাত। হিস্‌স্-হিস্‌স্। পানির বুক চিরে বেরিয়ে আসা ফেনা চোখে ধরা পড়ল কি পড়ল না।

    উন্মুখ হয়ে চাইল সে অনন্ত আঁধারের দিকে।

    উথাল-পাথাল সমীরণে চুল উড়ছে তার। কাঁধখোলা পাতলা কাপড়ের জামায় শীত মানছে না। শিরশির করছে গালে আর গলার কাছে, যেখানে শুকিয়ে এসেছে অশ্রুর দাগ।

    আর মাত্র কয়েকটা মুহূর্ত! তার পরেই সমস্ত জ্বালা আর যাতনার অবসান ঘটবে।

    ডেকে কেউ নেই। সূর্যাস্ত দেখা যাত্রীর দল অনেক আগেই যার-যার কামরায় চলে গেছে। সাঁঝবাতি জ্বলে উঠবার পরেও যারা ডেক ছেড়ে নড়তে চায় না, তারাও নেই আজকে। জাহাজের স্টাফদেরকেও ধারে-কাছে চোখে পড়েনি। ঠাণ্ডাটা আজকে একটু বেশিই পড়েছে।

    ভালই হলো। কেউ দেখবে না। কেউ জানবে না।

    সাঁতার জানে না সে। টুপ করে গিলে নেবে তাকে পানি।

    মুক্তি!

    ভাগ্য নির্ধারিত হয়ে গেছে তার। দুনিয়ার কেউ তাকে ফেরাতে পারবে না।

    রোজ ফুঁপিয়ে উঠল।

    এমন তো কথা ছিল না! সে তো বাঁচতে চেয়েছিল। কত স্বপ্ন বুনেছিল জ্ঞান হবার পর থেকে! কত পরিকল্পনা ছিল জীবন নিয়ে! সব ছেড়ে অকালে চলে যেতে হচ্ছে কেন তাকে? কেন ভাগ্যদেবী সদয় হলো না তার প্রতি?

    অদম্য অভিমানে রোজের গলাটা বুজে এল।

    সামনের দিকে ঝুঁকে এল সে। টানটান হয়ে গেল রেলিং ধরা হাত দুটো।

    জলের খলখল হাসি। বাতাসের বিলাপ। আঁধারের করাল রূপ। সবটা মিলিয়ে ওর মনে হলো, সম্মোহিত হয়ে পড়েছে। চলন্ত ট্রেন থেকে প্যাসেঞ্জাররা যেমন শুকনো পাতা উড়ে যেতে দেখে তুষারঝড়ে, এক ধরনের আচ্ছন্নতায় বুঁদ হয়ে সে-ও তেমনি দেখতে পাচ্ছে তার অতীত। হারানো দিনগুলো চোখে ধুলো দিয়ে উড়ে পালাচ্ছে যেন।

    আলগা করে দিতে যাচ্ছিল হাত, এমন সময়—

    ‘কী করছ তুমি?’

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleআলালের ঘরের দুলাল – টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    Next Article আর্সেন লুপাঁ ভার্সেস হার্লক শোমস

    Related Articles

    ডিউক জন

    ভ্যাঙ্কুভারের ভ্যাম্পায়ার – ডিউক জন

    August 19, 2025
    ডিউক জন

    অদেখা ভুবন – ডিউক জন

    August 19, 2025
    ডিউক জন

    আর্সেন লুপাঁ ভার্সেস হার্লক শোমস

    August 19, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Our Picks

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }