Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    সুবৰ্ণ সমাধি – ডিউক জন

    ডিউক জন এক পাতা গল্প142 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    সুবৰ্ণ সমাধি – ৩০

    তিরিশ

    কাঁধে হাত পড়তে জেগে গেল এলেনা। বিড়ালের মত চোখ মেলে চাইল। ঠোঁট না নাড়িয়ে জিজ্ঞেস করল, ‘কে?’

    বলেই বুঝল, বেকুবের মত হয়ে গেছে প্রশ্নটা। তারা দু’জন ছাড়া তৃতীয় কোনও মানুষ তো এখানে থাকবার কথা নয়।

    কতক্ষণ ঘুমিয়েছে?

    অনেক রাত পর্যন্ত জেগে ছিল। সোনা পেলে কী করবে, এ নিয়ে অনেক জল্পনা-কল্পনা করেছে সেনিয়োর মিলফোর্ড।

    থালার মত চাঁদ মাথার ওপরে। মাতাল জোছনা ধুয়ে দিচ্ছে পাহাড়ের ফসিল।

    ক্যাম্পফায়ারের ছাইয়ের মধ্যে রক্তিম আভা ছড়াচ্ছে কয়লা।

    ‘ওরা চলে এসেছে!’ বলল জোহান ফিসফিস করে।

    ‘কে? সেনিয়োর আলভারো?’

    ‘না। ওরা।’

    রাতজাগা একটা পেঁচা ডেকে উঠল।

    ধড়মড় করে উঠে বসল এলেনা। পাগলাঘণ্টা বেজে উঠেছে তার অবচেতন মনে। দুরুদুরু অনুভূতি। ভয় পাচ্ছে। তারও বেশি উত্তেজিত।

    ‘লুকাতে হবে,’ চাপা গলায় বলল জোহান, ‘আমরা সবাই যে এখানে নেই, এটা ওদের বুঝতে দেয়া চলবে না। আমি চাই না, ওরা আমাদের কবজা করে ফেলুক।’

    ‘কতজন ওরা?’

    ‘পাঁচ-ছয়জন। বেশিও হতে পারে। অন্ধকারে বোঝা যায় না। একটা দুরবিন যদি থাকত—’

    ‘কদ্দূর?’ কথার মাঝখানে বাগড়া দিল এলেনা।

    ‘বেশি দূরে নয়। তাড়াতাড়ি করো!’

    এলেনার হাত ধরে টেনে তুলে দাঁড় করাল জোহান। স্যাডল আর কম্বলটা তুলে নিল।

    যতটা সম্ভব, শব্দ না করে ঘোড়ার কাছে পৌছে গেল ওরা। সোনালী অ্যাসপেন ঝোপের গোড়ায় বাঁধা রয়েছে ও-দুটো।

    আলো থাকতে আশপাশটা ভাল করে দেখে নিয়েছে। হাইড- আউটের জন্যে পারফেক্ট জায়গা জঙ্গল। অন্ধকার সেখানে নিবিড়।

    ঘোড়াসহ এলেনাকে লুকাতে সাহায্য করে ফিরে এল জোহান। পজিশন নেবার জন্যে যে জায়গাটা সে নির্বাচন করেছে, সেটাকেও খারাপ বলা যাবে না। বড়সড় এক গাছের গুঁড়ির পাশে বুক-সমান উঁচু একটা পাথর কাভার দিচ্ছে তাকে।

    ওর বাম দিকে বিশ গজ দূরে রয়েছে এলেনা।

    আশপাশে চল্লিশ গজের মধ্যে অনুসরণকারীদের জন্যে কোনও আড়াল নেই।

    অপেক্ষা করবার চাইতে বোরিং আর কিছু হতে পারে না। তবে এই ব্যাপারটা অন্যরকম। শঙ্কা আর উত্তেজনায় ভরা।

    উইনচেস্টারের লিভার টেনে আলগোছে ফেলে রেখেছে সে কোলের ওপরে। প্রয়োজনে বিনা নোটিশে ব্যবহার করতে পারবে। ডান বগলের খাঁজে রেখেছে আরেকটা রাইফেল।

    এসে গেল ওরা।

    ঘোড়াগুলোর পদশব্দ আর নিজের হৃৎস্পন্দন একই লয়ে হচ্ছে বলে মনে হলো জোহানের।

    ‘চিড়িয়া ভাগ গিয়া!’ বলল একজন।

    ‘ধুর!’ বিরক্তি উদগিরণ করল আরেকজনের স্বরযন্ত্র।

    জোহান ভাবল, পিলে চমকে দেয়া যাক ওদের।

    ‘ভাই সব’ সম্বোধন দিয়ে শুরু করল সে। আমুদে গলায়।

    অচেনা কণ্ঠের আওয়াজে চমকে গেল ঘোড়াগুলো। হেষাধ্বনিতে সেটা চাপা থাকল না। ইতস্তত পা ফেলতে লাগল। অস্বস্তি ভরে নাক ঝাড়ছে।

    ‘কে! কে কথা বলে!’ বক্তার গলায় নগ্ন ভয়। অচিন দেশ। তামসী রাত। সুনসান পার্বত্য এলাকা। অনেকক্ষণ থেকে মানসিক ভাবে কাবু হয়ে আছে আলবার্তো। এবারে সেটা প্রকাশ হয়ে পড়ল।

    নিজের পরিচয় দেবার গরজ অনুভব করল না জোহান। আলাপের সুরে বলল, ‘তোমরা এখান থেকে কেটে পড়লে ভাল হয়।’

    এই অর্বাচীনসুলভ কথার প্রতি-উত্তরে হা-হা হাসির শব্দ ভেসে এল। ‘কেটে পড়ব?’ তারও কণ্ঠে আমোদ।

    ‘আমার কথা শুনেছ তোমরা।’ হুমকি নয়। হালকা চালে বলল জোহান।

    ‘কয় কী ব্যাটা!’ তীক্ষ্ণ ব্যঙ্গাত্মক কণ্ঠে বলে উঠল চিন মুয়েলার।

    ‘কথা বলে কে? মিলফোর্ড নাকি?’ প্রশ্ন ছুঁড়ে দিল জিল ট্যাটাম।

    ‘ধরেছ ঠিকই।’

    ‘তো, মিলফোর্ড, আমরা তো যাবার জন্য আসিনি, ভাই!’ অমায়িক স্বরে বলল ট্যাটাম কথাটা। জোহানের গলা নকল করে। তবে তাতে প্রচ্ছন্ন বিদ্রূপ।

    ‘সেনিয়োরিটা মনটেরো কোথায়?’ মারিয়াচির গলাটা বেসুরো শোনাল।

    ‘নেই এখানে,’ মিথ্যে বলল জোহান। ‘তুমি নিশ্চয় মারিয়াচি? শোনো, বাড়ি, মিস মনটেরো তোমাকে বিয়ে করতে চায় না।’

    অবহেলাসূচক হাসিতে নিজের মনোভাব বুঝিয়ে দিল স্প্যানিয়ার্ড। বিদ্বেষপূর্ণ স্বরে বলল, ‘তার চাওয়া-না-চাওয়ায় কিছু যায়-আসে না।’

    থেমে গিয়েছিল, ঘোড়ার খুরের আওয়াজ উঠল আবার। ছড়িয়ে পড়বার ফন্দি করছে লোকগুলো।

    ট্রিগার গার্ডের ওপরে আঙুল চেপে বসল জোহানের। দুই হাতে শক্ত করে ধরল রাইফেলটা। মুহূর্তের মধ্যে গুলি ছুঁড়বার জন্যে সম্পূর্ণ তৈরি।

    ‘খবরদার!’ সাবধানবাণী শোনাল জোহান। ‘তোমাদের প্রত্যেককে ফেলে দেয়া আমাদের জন্য নেহাত ওয়ান-টু-এর মামলা।’

    ‘ঘোঁত’ করে বিদঘুটে একটা আওয়াজ ছাড়ল আলবার্তো নাক দিয়ে। নিচু স্বরে গাল বকল।

    চিন মুয়েলার ভড়কায়নি। বাজখাঁই গলায় বলল, ‘ব্লাফ দিচ্ছে শালা!’

    ‘দেখতে চাও?’ চ্যালেঞ্জ করল জোহান।

    কোনও জবাব এল না কারও কাছ থেকে।

    ‘হ্যাঁ, মিস্টার মারিয়াচি… যা বলছিলাম… মেয়েদের ইচ্ছা- অনিচ্ছার দাম দিতে শেখো। এতে তোমার সম্মান বাড়বে বৈ কমবে না।’

    স্প্যানিশ যুবক নিরুত্তর।

    বোঝাবার সুরে বলল জোহান, ‘যে-মেয়ে তোমাকে পছন্দ করে না, কেন তার জন্য অযথা হয়রান হচ্ছ? মুফতে একটা সুপরামর্শ দিচ্ছি তোমাকে। বাড়ি ফিরে যাও। খুঁজলে এমন অনেক মেয়ে পাবে, যারা প্রকৃতই তোমাকে ভালবাসে।’

    মন্তব্য নেই।

    জোহান বলে যাচ্ছে, ‘আমাদের মধ্যে কোনও শত্রুতা নেই, মিস্টার মারিয়াচি। তোমার ব্যাপারটা আমি বুঝি। কিন্তু আমাকে তুমি এটা বোঝাও তো, তোমার সাথে মিস্টার জিল ট্যাটাম কেন?’

    ‘সে আমার বন্ধু,’ আগ বাড়িয়ে বলল ট্যাটাম।

    ‘সত্যি নাকি, মিস্টার মারিয়াচি?’

    ‘হ্যাঁ, সুহৃদ,’ একটু দোনোমনো করেই যেন জবাব দিল লাতিন তরুণ।

    ‘তা-ই মনে হয় তোমার?’ প্রশ্ন তুলল জোহান। ‘জেনে রাখো, মিস্টার মারিয়াচি, স্বার্থ ছাড়া এক পা-ও বাড়ায় না মিস্টার ট্যাটাম। জিজ্ঞেস করো তো, এখানে তার স্বার্থটা কোথায়!’

    ‘ছোকরা!’ ক্ষুব্ধ হলো ট্যাটাম। ‘তোমার আস্পর্ধা তো কম নয়! সবার সামনে আমাকে অপমান করছ! একটা বাটপারের কথায় আমাকে জবাবদিহি করতে হবে!’

    ‘বাটপার! কে বাটপার?’ সমান তেজে বলল জোহান।

    ‘সেনিয়োর ট্যাটামের টাকা ফেরত না দেবার মতলবে পালাচ্ছ না তোমরা?’ মারিয়াচি বোঝাল, জিল ট্যাটামের উদ্দেশ্য সম্পর্কে সে অবগত।

    ‘না, মিস্টার মারিয়াচি। কথাটা একদমই ঠিক নয়। পালাচ্ছি- ঠিক, তবে মিস্টার ট্যাটামের টাকা ফেরত দেবার জন্য।’

    ‘বুঝলাম না।’

    ‘তুমি তা হলে জানো না! আশ্চর্য কথা! মিস্টার ট্যাটামকে জিজ্ঞেস করো। সে জানে।’

    ‘ননসেন্স!’ উন্মত্ত ষাঁড়ের মত গোঁ-গোঁ করে উঠল ট্যাটাম। ‘কী জানি আমি! পাওনা টাকা আদায় করতে এসে ভ্যালা মুসিবতে পড়লাম তো! একটা তস্করের কাছে বড়-বড় বোলচাল শুনতে হচ্ছে!’

    তাকে গ্রাহ্যই করল না জোহান। ওর বদ্ধমূল ধারণা, সোনাল গন্ধ শুঁকতে শুঁকতেই এখানে এসেছে জিল ট্যাটামের বদমাশ- বাহিনী।

    ‘মিলফোর্ড, শোনো,’ মারিয়াচির গলাটা দুর্বল শোনাল। ‘সেনিয়োর ট্যাটামের লাভ-লোকসান নিয়ে মাথাব্যথা নেই আমার। সেনিয়োরিটা মনটেরোর জন্য এদ্দূর এসেছি আমি। ওকে আমার হাতে তুলে দাও, নিয়ে চলে যাব।’

    ‘শালা বোধ হয় একা আছে!’ দীর্ঘ বাতচিতে যুগপৎ অধৈর্য ও বিরক্ত চিন মুয়েলার। মারিয়াচিকে উসকানি দিল, ‘ওকে ফেলে দিয়ে মেয়েটাকে নিয়ে গেলেই হয়!’

    সঙ্গে সঙ্গে বোল্ট টানবার আওয়াজ এল জঙ্গলের ভেতর থেকে। আলভারোর ভয়ালদর্শন বাফেলো গান এখন এলেনার হাতে। রাতের নীরবতায় শব্দটা অত্যন্ত জোরাল শোনাল।

    দ্বিধাজড়িত, অনিচ্ছুক ভঙ্গিতে আগুপিছু করল ঘোড়াগুলো।

    ‘এক মিনিট সময় দিলাম,’ আলটিমেটাম দিল জোহান। ‘ডিসিশন তোমাদের। মাশুলও দিতে হবে তোমাদের। তবে রক্তারক্তি এড়ানো গেলেই আমি খুশি হতাম।’

    কারোরই পছন্দ হলো না এই শাসানি। খোলা জায়গায় রয়েছে। সহজ টার্গেট। কোনখান থেকে অতর্কিতে আক্রান্ত হবে, কে বলতে পারে!

    রণে ভঙ্গ দিল জিল ট্যাটাম। চলে যাবার জন্যে স্পার দাবাল।

    সবার আগে তাকে অনুগমন করল আলবার্তো।

    ‘মিলফোর্ড!’ নিষ্ফল আক্রোশে দাঁত কিড়মিড় করল মারিয়াচি। ‘এর জন্য দুর্ভোগ পোহাতে হবে তোমাকে।’

    ‘মোক্ষম সময়ে রাইফেল কক করেছ তুমি!’ জোহানের সপ্রশংস স্বীকৃতি, ‘পারফেক্ট টাইমিং!’

    ‘কিন্তু ওরা কোথায় গেল, সেনিয়োর!’ টেনশন কাটছে না এলেনার।

    ‘ত্রিসীমানায় নেই, ম্যা’ম।’

    একটু যেন আশ্বস্ত হলো এলেনা। ‘এখন কী করব আমরা?’

    ‘তুমি ইচ্ছা করলে শুয়ে পড়তে পারো।’

    ‘আর তুমি?’

    ‘আজ রাতে আমার আর ঘুম হবে না, ম্যা’ম।’

    ‘সকাল হতে তো বোধ হয় বেশি বাকি নেই।’

    ‘না, নেই। …এই ঘণ্টা দুয়েক।’

    ‘আমারও ঘুম আসবে না, সেনিয়োর। গল্প করে কাটিয়ে দেয়া যায় না রাতটা?’

    একত্রিশ

    দিনের প্রথম আলো বসুধায় পৌছাবার আগেই ফিরে এল ওরা। আলভারোরা।

    ঘুমিয়ে সময় নষ্ট করেনি রাতে। নাকে-মুখে কিছু গুঁজেই রওনা দিয়েছে।

    খাঁড়ির কাছে এসে বেচায়েন হয়ে পড়ল মিসেস মিলফোর্ড। গেল কোথায় সব! তল্পিতল্পা গুটিয়ে বেমালুম গায়েব!

    না চাইতে অলক্ষুণে চিন্তাটা এসে ঠাঁই গাড়ল কল্পনায়।

    আলভারো বিচলিত হয়নি। দুই মিনিটেই খুঁজে বের করে ফেলল ওদের। সেই ছাউনিটার নীচে। ঈগল আঁকা পাথর রয়েছে যেখানটায়।

    মারিয়াচিরা ফিরে আসতে পারে, এই আশঙ্কায় জায়গা বদল করেছে ওরা।

    আলভারোদের দেখে লাফ দিয়ে উঠে দাঁড়াল জোহান।

    খুশি উপচে পড়ছে মিসেস মিলফোর্ডের চোখ থেকে। কিছু জিজ্ঞেস না করেই প্রাপ্তিসংবাদ পেয়ে গেল জোহান।

    কিন্তু রাতের ঘটনা শুনে রোজমেরির চেহারা থেকে বিচ্ছুরিত আনন্দের ছটা ম্লান হয়ে এল।

    ‘লেজ গুটিয়ে ভাগতে হবে,’ আলভারোর ত্বরিত ডিসিশন।

    ‘ওদের নাকের ডগা দিয়ে পালাব কী করে?’ জোহানের জিজ্ঞাসা।

    ‘ওইদিক দিয়ে যাব না। অন্য একটা রাস্তা চিনি।’

    ‘একটাই না রাস্তা!’ বিস্মিত হলো মিসেস মিলফোর্ড।

    ‘এটা ঘুরপথ। ঘুরে-ফিরে আমার কেবিনের পাশ দিয়েই যেতে হবে।’

    .

    মাথার ওপরে পাতার সামিয়ানা। আকাশছোঁয়া সাইপ্রেস গাছের মগডালে আলোর লুকোচুরি। বাতাসের বিলি কাটা।

    চোরাপথ দিয়ে এসে তির্যক ভাবে মাটি স্পর্শ করেছে সকালের প্রথম সূর্যরশ্মি। ছায়ার শরীরে অবিরত ইকড়িমিকড়ি আল্পনা কাটছে রোদের ছুরি।

    বাতাসে বার বার নুয়ে পড়ে অভিবাদন জানাচ্ছে যেন গাছগুলো। ছায়া-ছায়া আদর মাখিয়ে দিচ্ছে ওদের গায়ে।

    দ্রুতও নয়, আস্তেও নয়- এমন একটা গতিতে এগিয়ে চলেছে অবলা প্রাণীগুলো। ব্যাপক পেরেশানি যাচ্ছে তাদের ওপর দিয়ে 1

    ঝরাপাতার ভেতর দিয়ে সরসর করে চলে যাচ্ছে কী যেন। এ-গাছ থেকে ও-গাছের কাণ্ডে বিশাল-বিশাল জাল বুনে রেখেছে ঊর্ণনাভ। মাথায়, মুখে জড়িয়ে যাচ্ছে।

    বনের ভেতর থেকে বেরিয়ে টিলা দিয়ে ঘের দেয়া একটা জায়গায় এসে পড়ল দলটা। কিছুদূর এঁকেবেঁকে চলবার পর চুলের কাঁটার মত মোচড় খেল পথ।

    মোড়টা ঘুরে অবশ হয়ে গেল রোজমেরি মিলফোর্ডের দেহ। ভাল লাগবার অনুভূতি গোটা অস্তিত্বে। ‘জেস, তুই!’

    বত্রিশ

    ইতিউতি খোঁজাখুঁজি করে আবার এক জায়গায় জমায়েত হলো ঘোড়সওয়ারেরা।

    ‘পাখি উড়ে গেছে,’ নির্জীব স্বরে বলল টাকার।

    ‘গাধা কোথাকার!’ ঠিক বোঝা গেল না, কাকে গালি দিল জিল ট্যাটাম।

    ‘খুব ভাল হয়েছে!’ দেশলাইয়ের কাঠির মত জ্বলে উঠল রগচটা মুয়েলার। কাল রাত থেকেই মেজাজটা খিঁচড়ে রয়েছে তার। ‘তখনই বলেছিলাম, আবার ভুল করতে যাচ্ছি আমরা।’ শ্লেষ ঝাড়ল, ‘একটা ফোঁটা সাহস নেই কারও! এখন বসে বসে আঙুল চোষো!’

    বন্দুকবাজের দিকে চেয়ে কাষ্ঠ হাসল ট্যাটাম। বিব্রতকর অবস্থা। রাতের বেলা চুপিসারে হামলা করবার প্রস্তাব তুললে সে- ই মুয়েলারকে বাতিল করে দিয়েছিল। অজুহাত হিসেবে বলেছে সবার নিরাপত্তার কথা। আসল কথা, নিজের নিরাপত্তা নিয়ে আশঙ্কিত ছিল সে।

    ‘মিস্টার আরবো থাকতে চিন্তা কী!’ সাফাই গাইবার সুরে বলল ট্যাটাম। ‘ঠিক পাকড়াও করে ফেলব ওদের। কী, মিস্টার আরবো?’

    কিন্তু ম্যানুয়েল আরবোকে এখন আত্মবিশ্বাসী মনে হচ্ছে না। চিন্তান্বিত চোখে জঙ্গলের দিকে তাকিয়ে আছে। কাঁধের কাপড়ে জুলফি আর কান ঘষে নিয়ে বলল, ‘কাজটা সহজ হবে না।’

    ‘ওদের ট্র্যাক বের করতে পারবে না তুমি?’ সোনা ফসকে যাবার চিন্তায় ককিয়ে উঠল ট্যাটাম।

    টোকা দিয়ে নাকের চূড়া থেকে ছোট্ট একটা পোকা ফেলল ট্র্যাকার। ‘পারাটা অসম্ভব, তা বলছি না। কিন্তু… আসলে, বনে- বাদাড়ে কাজ করবার অভিজ্ঞতা নেই, ম্যান।’

    ‘জিল,’ ট্যাটামের দৃষ্টি আকর্ষণ করল চিন মুয়েলার। ‘আমার ধারণা, ও আর আমাদের সাহায্য করতে চায় না। কারণটা বলি? ও একটা ভীতুর ডিম,’ ম্যানুয়েল আরবোর প্রতি অনাস্থা পোষণ করল গানম্যান।

    গায়ে পড়ে ঝগড়া বাধাবার তালে আছে লোকটা, বুঝতে পারছে আরবো। হিমশীতল চোখে মাপল সে বর্ণসঙ্করকে। অন্ধ রোষ মাথাচাড়া দিচ্ছে। সরীসৃপের মত ঠাণ্ডা রক্তের অধিকারী বলে জ্বলে উঠল না।

    ‘থামো!’ ধমকে উঠল ট্যাটাম। তারপর ম্যানুয়েলের দিকে ফিরে পাম দিল, ‘তোমার মতন ঝানু ট্র্যাকারই বলছে এ কথা!’

    কড়ে আঙুল দিয়ে নাকের ডগা চুলকাল ম্যানুয়েল। চাটুকারিতাকে প্রশ্রয় দিল না। মারিয়াচির দিকে ফিরে বলল, ‘বন্ধু, আমি কিন্তু ফিরে যাবার কথা ভাবছি।’

    দাড়িতে আলতো আঙুল বোলাচ্ছে মারিয়াচি। মন্তব্য করল না।

    ম্যানুয়েলের কথা শেষ হয়নি। ‘লাভ কী বেহুদা ঘুরে? আজ হোক, কাল হোক, ওরা তো ফিরবেই একসময়, তা-ই না? রেঞ্জেই হোক না শো-ডাউনটা। তাড়াহুড়া কীসের?’

    আলবার্তো মুখিয়ে ছিল। তৎক্ষণাৎ সায় দিল, ‘যথার্থ বলেছ!’ ভেজা মুখটা শার্টের আস্তিনে মুছে স্বস্তির নিঃশ্বাস ছাড়ল। ফিরবার ব্যাপারে সে তো এক পায়ে খাড়া। সারাক্ষণ তটস্থ হয়ে থাকতে ভাল্লাগছে না তার। এই অশান্তি থেকে পরিত্রাণ চায়।

    ‘তুমি তো বলবেই এ কথা!’ ফোড়ন কাটল মুয়েলার। প্যান্ট ভেজানো, না কী জানি বলল বিড়বিড়িয়ে।

    শুনেও না শুনবার ভান করল ভীতু রাইডার। অন্যদিকে মুখ ফেরাল।

    পিন ফোটানো বেলুনের মত চুপসে গেছে ট্যাটাম। এত কাঠখড় পোড়াবার পর ভরাডুবি হতে চললে কেমন লাগে!

    হঠাৎ মনে হলো, এই অবস্থায় টাকার কি কোনও সাহায্য করতে পারবে?

    কথাটা পাড়ল সে, ‘পার্টনার, তুমি তো স্মাগলিং করো। এই জায়গায় এসেছ আগে?’

    বিদেশিদের সামনে জিল ট্যাটাম তার প্রেসটিজ পাংচার করে দেবে, এটা দুঃস্বপ্নেও ভাবেনি টাকার।

    বিচিত্র দৃষ্টিতে তার দিকে তাকিয়ে আছে স্প্যানিশ লোকগুলো।

    মনটা বিষিয়ে উঠল তার ট্যাটামের ওপরে। সরোষে জবাব দিল, ‘কস্মিনকালেও নয়!’

    জিল ট্যাটাম বুঝল, সময় উপস্থিত। আর চেপে রাখলে আখেরে আমও যাবে, ছালাও যাবে। স্প্যানিয়ার্ডদের প্ররোচিত করবার চেষ্টায় বলল, ‘একটা কথা জানলে ফিরে যেতে চাইবে না কেউ!’

    লাতিনদের মনোযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হলো সে কথাটা বলে।

    হিস্পানিগুলোকে উৎসাহী করে তুলতে পেরেছে- নিজের সাফল্যে মনে মনে হাসল ট্যাটাম। ‘মিলফোর্ডরা আসলে স্বর্ণশিকারে বেরিয়েছে,’ কারণটা বলল।

    ‘ও,’ টেনে বলল মারিয়াচি। ‘তা হলে এটার প্রতিই ইঙ্গিত করেছিল মিলফোর্ড! এটাই লুকাচ্ছিলে তুমি…’

    ‘আমি চিন্তা করেছিলাম, সোনা পাইয়ে দিয়ে তোমাদের চমকে দেব,’ আত্মপক্ষ সমর্থন করল ট্যাটাম।

    একটুও আকৃষ্ট হলো না হিস্পানিক যুবক। প্ররোচনায় ভুলল না।

    ‘তা হলে কী দাঁড়াল?’ জিল ট্যাটাম ধরে নিয়েছে, সবাই এখন ওর কথায় নাচবে। ‘ওই সোনা আমাদেরও দরকার। রাইট?’

    ‘রং,’ ট্যাটামের অনুকরণে বলল মারিয়াচি। ‘সোনার নিকুচি করি আমি।’ সোজাসাপ্টা জানিয়ে দিল, ‘আমি শুধু সেনিয়োরিটা মনটেরোকে চাই। সে আমার কাছে সোনার চেয়েও দামি।’

    ফ্রস্টবাইটের মত আড়ষ্টতা অনুভব করল ট্যাটাম। দর্প চূর্ণ হয়ে গেছে তার। মারিয়াচিকে ধন্য করে দিচ্ছে, ধারণাটা ধূলিসাৎ হয়ে যেতে অপমানিত বোধ করল।

    আর সইতে পারল না মুয়েলার। আজ পর্যন্ত তার প্রস্তাবনাকে বুড়ো আঙুল দেখাবার ধৃষ্টতা দেখায়নি কেউ। এই লোকগুলো না থাকলে জিল ট্যাটাম তার কথার বাইরে এক পা-ও নড়ত না। বিক্ষোভের তুবড়ি ছুটল তার গলা দিয়ে, ‘কিচ্ছু না, জিল! শুধু যদি আমার কথাটা শুনতে! বহুত তো বড়-বড় কথা বলেছিলে তখন! এখন কী করবে?’ প্রলাপ বকা আরম্ভ করেছে যেন। ‘তোমার বোকামির জন্য, জিল! শুধু তোমার গাধামি আর গোঁয়ার্তুমির জন্য…’

    মুয়েলারের এই আস্ফালনে তড়পে উঠল আলবার্তো। ‘নিজেকে খুব চালাক ঠাউরেছ, না? খালি বাগাড়ম্বর! হিরো হবার আদিখ্যেতা! পাছায় একটা গুলি ঢুকলে ফরফর করা বেরিয়ে যেত!’

    ‘তুমি চুপ করো!’ খেঁকিয়ে উঠল মুয়েলার। মুঠি পাকিয়ে ফেলেছে। ‘ডরপোক কোন্খানের! মুরগির কলজে নিয়ে পয়দা হয়েছে, আবার গলাবাজি করতে আসে! শালা বেজন্মা!’

    জন্মপরিচয় তুলে খিস্তি। কী জানি হয়ে গেল আলবার্তোর। যে কাজটা সে করল, সেটা তার মত লোকের পক্ষে অসম সাহস কিংবা ভীষণ নির্বুদ্ধিতার উদাহরণ বলা যায়। চাবুক খুলে নিল সে কাঁকাল থেকে। কবজির এক বিদ্যুৎ-ঝাঁকিতে গোল করে পেঁচিয়ে রাখা কশার প্রান্ত লম্বা হয়ে ছুটে গেল।

    সপাং!

    কশাঘাত খেয়ে রুদ্র হুঙ্কার ছাড়ল মুয়েলার। এরকম কিছু যে ঘটতে পারে, স্বপ্নেও চিন্তা করেনি সে। পড়েই যাচ্ছিল ব্যালান্স হারিয়ে, কোনও রকমে ঘোড়ার পিঠের ওপরে সিধে রাখল নিজেকে। ফোঁসফোঁস করে নিঃশ্বাস ফেলছে। চোখে জিঘাংসা। তার ইচ্ছেশক্তি থাকলে ভস্ম হয়ে যেত আলবার্তো।

    মুয়েলার আশা করেছিল, জিল ট্যাটাম তার পক্ষ নিয়ে কিছু বলবে। একদল বিদেশির সামনে তাদেরই একজনের হাতে অপদস্থ হচ্ছে তার দোস্ত, এতে সে নির্বাক থাকতে পারে না। কিন্তু বিবমিষার সাথে লক্ষ করল, কোনও রকম রি-অ্যাকশনই দেখাল না ট্যাটাম। দেখতে পায়নি, এমন ভাব করে আরেক দিকে তাকিয়ে আছে।

    রুষ্ট হলো মুয়েলার। সোনার লোভ তার এত বছরের চেনা মানুষটার আচরণ বদলে দিয়েছে।

    মাজায় ঝোলানো পিস্তলের বাঁটে হাত দিল সে। গোক্ষুরের বিষ দুই চোখে। কাছাকাছি হয়ে এসেছে চোখের পাতা।

    ও কী করতে যাচ্ছে, হৃদয়ঙ্গম করতে পেরে সতর্কবাণী উচ্চারণ করল ট্যাটাম, ‘বাড়াবাড়ি হয়ে যাচ্ছে কিন্তু, পার্টনার! নিজেদের মধ্যে গোলমাল চাই না আমি।’

    বহু কষ্টে বেসামাল মগজটাকে সামলাল মুয়েলার। আরেকটু হলেই বেচাল চালতে যাচ্ছিল সে। এ যাত্রা বেঁচে গেল মোটকুটা। কৃতজ্ঞ বোধ করা উচিত, কিন্তু কেন যেন মুয়েলারের সব অসন্তোষ গিয়ে পড়ল ট্যাটামের ওপরে।

    সান্ত্বনাসূচক চুকচুক শব্দ বের হলো শর্টির মুখ দিয়ে। মুয়েলার চাইতে সহানুভূতির হাসি হাসল সে ঠোঁট টিপে।

    মুয়েলার বুঝল উল্টো। ভাবল, তার কাটা ঘায়ে নুনের ছিটা দিচ্ছে বাঁটুলটা।

    ফের রক্ত উঠে গেল মাথায়। শর্টির বুকে তাগ করে ঘোড়া টিপে দিল রিভলভারের।

    বুম!

    হার্ট ছিদ্র করে ফেলল বুলেট।

    অবাক বিস্ময়ে সহযাত্রীর দিকে তাকাল বেঁটে। তারপর তাকাল নিজের ফুটো হয়ে যাওয়া বুকের দিকে। টপটপ করে খুন ঝরছে ছেঁদা থেকে।

    ব্যথায় কুঁচকে গিয়ে বীভৎস দেখাচ্ছে শর্টির মুখ। কিন্তু গলা দিয়ে আর্তচিৎকার বের হলো না তার। সামনের দিকে বাঁকা হয়ে গেল। তারপর ডেড শট খাওয়া ঘুঘুর মত ধড়াম করে মুখ থুবড়ে পড়ল মাটিতে। পটল তুলেছে।

    আগ্নেয়াস্ত্রের শব্দটা মিলিয়ে যেতে স্তম্ভিত হয়ে পড়ল মুয়েলার। রাগের মাথায় দুর্ঘটনা ঘটিয়ে ফেলেছে। এখন হায়-হায় করা ব্যতীত গত্যন্তর নেই। নিরপরাধ ভঙ্গিতে দুটো হাত মাথার ওপরে উঠে গেল তার।

    হতবাক হয়ে লাশের দিকে তাকিয়ে আছে ট্যাটাম। ঠিক যেমন যক্ষ্মা রোগী তাকায় তার রক্তাক্ত তোয়ালের দিকে।

    পতনের ধাক্কায় শূন্যে ওড়া ধুলো থিতিয়ে আসছে। হ্যাটটা খুলে এসেছিল, পড়েছে আবার শর্টির মুখের ওপরে; মুখের আধখানা ঢেকে দিয়েছে।

    ওর সোরেলটা কয়েক গজ তফাতে দাঁড়িয়ে। প্রভুর বেহাল দশায় থ।

    আলবার্তো আর ম্যানুয়েলও ঘটনার আকস্মিকতায় হতবুদ্ধি হয়ে পড়েছে। ভীত চকিত দৃষ্টি।

    হোলস্টারের কাছে হাত চলে যাচ্ছে ট্যাটামের। ওখানে বন্দি হয়ে আছে তার একান্ত প্রিয় পিস্তলটা।

    মারিয়াচির কোনও ভাবান্তর নেই। সে শুধুই দর্শক। নিস্পৃহ দৃষ্টিতে দেখে যাচ্ছে বিয়োগান্তক নাটক।

    তেত্রিশ

    ‘তোমরা যাবার ঘণ্টা খানিক পরে ইনডিয়ান টেরিটোরিতে চলে যাই আমি,’ বলে চলেছে জ্যাসন, ‘ওর সাথে দেখা করি।’

    ‘তারপর তোরা বেরিয়ে পড়লি?’

    ‘হ্যাঁ, দাদা।’

    ‘রানশ?’

    ‘রানশ নিয়ে চিন্তা কোরো না,’ দুরন্ত ঈগল আশ্বস্ত করল, ‘আমার লোকেরা রানশের দেখভাল করছে।’

    ‘ধন্যবাদ, ঈগল। তোমাদের মতন বন্ধু পাওয়া ভাগ্যের ব্যাপার।’

    মাঝবয়সী ইনডিয়ান ও তার দুই সঙ্গী নড করল।। তিনজনেরই লম্বা চুল মেয়েদের মত একবেণি করা। প্রতিটা বুননের মাঝে পাখির পালক গোঁজা। গায়ে নেকড়ের ছাল। পিঠে তীর-ধনুক।

    ‘কিন্তু এই পথে কেন?’ আবার জিজ্ঞেস করে জোহান। জবাবটা শুনবার আগেই বুঝে গেল।

    বুঝল মেরিও। ট্র্যাক ধরে আসোনি… এর একটাই মানে…’ মিসেস মিলফোর্ডের গলার স্বর পাল্টে গেল, ‘দুরন্ত, তুমি কিন্তু কখনও বলোনি, সোনার খোঁজ জানো তুমি!’

    ‘কিছু কথা গোপন রাখতে হয়, মা-জননী,’ অম্লান বদনে ঝেড়ে দিল দুরন্ত ঈগল।

    বলে সারতে পারল না, ভোঁতা একটা আওয়াজ মনোযোগ কেড়ে নিল সবার।

    শব্দটা বহুদূর থেকে এসেছে। বাতাস আর প্রতিধ্বনির ডানায় ভর করে।

    কারও বুঝতে অসুবিধা হয়নি, আওয়াজটা কীসের।

    কে গুলি করল?

    কাকে?

    হয়তো শিকার করছে কেউ।

    নাকি ফাঁকা আওয়াজ?

    মিস-ফায়ার নয়তো?

    পলকে অনেক রকমের ভাবনা খেলে গেল প্রত্যেকের মগজে। কিন্তু কোনওটাতেই থিতু হলো না।

    ওদেরকে আরও বিভ্রান্ত করে দিল আরও তিনটা গুলির শব্দ।

    একে অপরের মুখ চাওয়া-চাওয়ি করল সবাই।

    দুরন্ত ঈগলের মাঝে প্রাণচাঞ্চল্য দেখা গেল। ‘তোমরা যাও। পরে আসছি আমরা।’

    ‘আমরা’ মানে, তিন ইনডিয়ান।

    বাকিদের নিঃশব্দ সওয়াল: ‘কেন?’

    ‘ফলস ট্র্যাক তৈরি করব।’

    বিষয়টা নিয়ে নাড়াচাড়া করল জোহান। তার মনঃপূত হলো আইডিয়াটা।

    শশব্যস্ত হলো দুরন্ত ঈগলের দল। ভুয়া ট্র্যাক বানানো, ঘুরপথে আবার আসল রাস্তায় ফিরে আসা তো আছেই, আসবার সময় নিজেদের চিহ্নগুলো মুছে আসতে হবে।

    সুগভীর নিষ্ঠার সাথে কাজ করে চলল ওরা। চোখে সঙ্কল্প। কিছু পাওনা বুঝিয়ে দেবার আছে ট্যাটাম ও তার চেলা- চামুণ্ডাদের।

    অসংখ্য বার সে তার গরু-মহিষগুলোকে ঘাস খাওয়াবার জন্যে তাদের এলাকায় ঠেলে দিয়েছে। অন্যায় ভাবে চোরাকাঁটার বেড়া দিয়ে সীমানা বাড়িয়েছে রানশের। শান্তিপ্রিয়, নিরীহ মানুষদের ভিটেমাটি থেকে উচ্ছেদ করে ক্লেইম করেছে সেই জমি। প্রতিবাদ করতে গেলে ভয়ভীতি তো দেখিয়েছেই, গুণ্ডাপাণ্ডা দিয়ে লাঞ্ছিতও করেছে। পাইকারি হারে কচুকাটা করার ভয় দেখিয়েছে। শ্বেতাঙ্গদের তৈরি করা আইন পাশে দাঁড়ায়নি তাদের। উল্টো সমঝোতা করে চলবার উপদেশ দিয়েছে।

    আজকে মওকামত পেয়েছে। উড়ে এসে জুড়ে বসা পাজি সাদা মানুষদের হাড়ে হাড়ে টের পাইয়ে ছাড়বে, কাদের বাপদাদারা এখানে বাস করছে প্রজন্মের পর প্রজন্ম।

    .

    ওদের জানবার কথা নয়, পরপারের ট্রেইল ধরেছে ট্যাটাম। সাথে করে নিয়ে গেছে চিন মুয়েলার নামে আরেক কুখ্যাত বন্ধুকে।

    ট্যাটামের ডান ভুরুর নীচে গর্ত। ওখানে চোখ ছিল। এখন নেই। বাম চোখটা নিষ্পলক। বাদামি আইরিস বিস্ফারিত। হাঁ করা মুখের পাশ দিয়ে নেমেছে শোণিতধারা।

    তার পিস্তলের উত্তপ্ত সিসে পাঁজরে নিতে চায়নি মুয়েলার। বুকের বাঁ দিকে হলকা অনুভব করামাত্রই বিদ্যুদ্বেগে পাল্টা গুলি পাঠিয়ে ভবলীলা সাঙ্গ করে দিয়েছে ট্যাটামের। মেয়ারের ওপর থেকে ছিটকে গেছে সে। রেকাবে আটকে গেছে পা। হাঁক ছেড়ে ছেঁচড়ে নিয়ে গেছে তাকে ঘোড়াটা।

    ওদিকে টাকারের করা গুলিটা পিঠ পেতে নিতে হয়েছে মুয়েলারকে।

    মাটিতে পড়ে ছটফট করল সে ডাঙায় তোলা মাছের মত। ধুলো খামচাল। সেই অবস্থাতেই প্রাণবায়ু বেরিয়ে গেল তার।

    মারিয়াচিকে দেখাচ্ছে ক্লাসরুমের শেষ বেঞ্চে বসা বিষণ্ণ বালকের মত।

    তিনটা মৃতদেহ। এই জীবন ছিল, এই নেই। আশা, ইচ্ছে, রঙিন স্বপ্ন… কিছুই পূরণ হলো না তাদের।

    সোনা সম্পর্কে অনেক গুজব রয়েছে। অনেক উপাখ্যান। অনেকের ভাগ্যে নাকি সোনা সয় না। কারও জন্যে এটা অভিশাপ হয়ে আসে। গানপাউডারের উৎকট গন্ধে সেই আলামত।

    ‘আমি বাড়ি যাব,’ ঘোর লাগা গলায় বলে উঠল টাকার। ফিটফাট কাপড়ের নীচে ধসে গেছে যেন তার দেহটা।

    ‘ডেডবডিগুলো নিয়ে যাও,’ অনুরোধ করল মারিয়াচি। তার কথা টাকারের কানে গেছে বলে মনে হলো না। গোড়ালির গুঁতো দিল জেব্রা ডানের পেটে।

    এক নজরে কিছুক্ষণ তার দিকে তাকিয়ে থাকল স্প্যানিয়ার্ড। তারপর কোমরের খাপ থেকে বের করে আনল তীক্ষ্ণধার ম্যাশেটি। কবর খুঁড়বে।

    চৌত্রিশ

    রোদের তাপ সীমা ছাড়িয়ে যাচ্ছে। ছায়ায় থম মেরে বসে দিবস নিরসনের অপেক্ষা করছে ক্যাঙ্গারু ইঁদুর। আঁধার নামলেই খাবার খুঁজতে বেরোবে।

    প্রাচীন নগরের ধ্বংসাবশেষ কিংবা ভাস্কর্য প্রদর্শনী- কোনও উপমাই আজব এই অঞ্চলের দৃশ্য বয়ান করবার জন্যে পর্যাপ্ত নয়। অগণনীয় পাথরের থামের মাথায় চাকতির মত চ্যাপ্টা পাথর। সৃষ্টি হয়েছে বিশালাকৃতির ব্যাঙের ছাতার মত উদ্ভট সব স্ট্রাকচার। যেন পাথর পরেছে টুপি।

    প্রমাণ ব্যালকনি, অবারিত গ্যালারি- সব কিছুই রয়েছে এখানে। মূলত ধূসর হলেও কোথাও-কোথাও কলামগুলো মেরুন, ম্যাজেন্টা, কমলা রঙের ডোরা কাটা দাগে সাজানো। কোথাও আবার ক্রিম বা সবজে-পীতাভ ছোপ

    গোড়া ক্ষয়ে গেছে পিলারগুলোর। আপাতদৃষ্টিতে মনে হয়, ছোঁয়া লাগলেই হুড়মুড় করে ধসে পড়বে।

    এখানে কোনও গাছপালা নেই। খাবার-পানিও অনুপস্থিত। শুধু পাথর আর সিমেন্টের মত শক্ত কাদা।

    কোনও-কোনও জায়গায় রক্তাভ শিলাস্তর খণ্ডবিখণ্ড হয়ে নুড়ির আকার ধারণ করেছে। যেন হেলায়-ফেলায় পড়ে আছে অগণ্য রুবি।

    এই গম্বুজগুলোর ভেতর দিয়ে একদা উদ্দাম জলপ্রবাহ বয়ে যেত। বর্ষা মৌসুমের অঝোর বৃষ্টিপাতের ফলে কর্দমাক্ত ও খরস্রোতা নদে পরিণত হত ব্যাডল্যাণ্ডস। আক্ষরিক অর্থেই অশুভ মৃত্যুফাঁদ।

    ‘ডিয়োস!’ ঈশ্বরের নাম জপল আলবার্তো। কাঁদো-কাঁদো চেহারা।

    হাড়গোড় ছড়িয়ে রয়েছে এখানে-ওখানে। কবে এখানে মরতে এসেছে জানোয়ারগুলো, সেটা কারও পক্ষে বলা সম্ভব নয়।

    অবনত মস্তকে দাঁড়িয়ে রয়েছে ম্যানুয়েল আরবো। হ্যাটটা ঘোরাচ্ছে দুই হাত দিয়ে। রোদ থেকে বাঁচাতে সরু করে রেখেছে চোখ।

    মারিয়াচিকে অসুস্থ লাগছে দেখতে।

    ওপরে খিলান আকৃতির আকাশ। ইস্পাত-নীল। দূরে, বহুদূরে খাঁজকাটা পাহাড়ের অস্পষ্ট অবয়ব। মধ্যেখানে তরঙ্গায়িত জমিনের পরতে পরতে লুকিয়ে থাকা অনিশ্চয়তার কারণে মনে হচ্ছে, পথটুকু অসীম এবং দুরতিক্রম্য।

    দিনটা মনে হয় অভিশপ্ত।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleআলালের ঘরের দুলাল – টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    Next Article আর্সেন লুপাঁ ভার্সেস হার্লক শোমস

    Related Articles

    ডিউক জন

    ভ্যাঙ্কুভারের ভ্যাম্পায়ার – ডিউক জন

    August 19, 2025
    ডিউক জন

    অদেখা ভুবন – ডিউক জন

    August 19, 2025
    ডিউক জন

    আর্সেন লুপাঁ ভার্সেস হার্লক শোমস

    August 19, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Our Picks

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }