Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    সূর্যমন্দিরের শেষ প্রহরী – হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত

    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত এক পাতা গল্প262 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    সূর্যমন্দিরের শেষ প্রহরী – ১০

    ১০

    চারপাশের কৌতূহলী জনতা চুপচাপ তাকিয়ে দেখছে সুজয়দের। তারাও দেখছে তাদের। ইল্লাপা আরও কিছুক্ষণ কুইলোর সঙ্গে কথাবার্তা বলার পর ইশারায় হুইকোকে কাছে ডাকলেন। সে বেদীর ওপর উঠে ইনকা পুরোহিতের কথা শুনে তার পরমুহূর্তেই নীচে ফিরে এসে মার্কেজকে বলল, ‘আপনার সঙ্গের বাচ্চাটাকে ডাকছেন ইল্লাপা।’

    ‘কেন?’ একটু বিস্মিত হয়ে জানতে চাইলেন প্রফেসর।

    হুইকো বললেন, ‘এরা বিদেশিদের পছন্দ না-করলেও আমরা সবাই ইনকা পুরোহিতের সঙ্গী বলে আউকুইকননা আমাদের অতিথি বলে গ্রহণ করছেন। এখানকার নিয়ম অনুসারে ওর হাতে উপহার তুলে দিয়ে অতিথি বরণ করতে চাচ্ছেন তিনি।’

    তার কথা শুনে মার্কেজ তাকালেন সুসানের দিকে।

    সুসান বেশ উৎসাহিত হয়ে তার দাদুকে জিজ্ঞেস করল, ‘আমি যাব ওখানে?’

    মার্কেজ বললেন, ‘ডাকছে যখন যাও।’

    সুসান এরপর কোনো ভয় না-করে বেশ স্মার্টলি বেদীর ওপর উঠে ইল্লাপা আর কুইলোর সামনে গিয়ে দাঁড়াল। কুইলো বেশ কিছুক্ষণ ধরে তাকে নিরীক্ষণ করার পর নীচে দাঁড়িয়ে থাকা সমবেত জনতার উদ্দেশ্যে কী যেন বললেন। একটা মৃদু গুঞ্জন উঠল জনতার মধ্যে। কথা শেষ করে দু-বার হাততালি দিলেন কুইলো। ভীড়ের মধ্যে থেকে বেরিয়ে এল চারজন বাচ্চা মেয়ে। তাদের বেশ সুন্দর দেখতে। কাজল কালো চোখ, পাতা করে আঁচড়ানো ঘন কালো চুলের শেষে দীর্ঘ বিনুনি, পরনে ঝলমলে পোশাক। বয়স মনে হয় দশ-বারো বছর হবে। তাদের মধ্যে মাথায় যে সবচেয়ে বড়ো তার হাতে রেশমবস্ত্রে আবৃত একটা থালা। তারা বেদীর ওপর উঠে কুইলোর সামনে মাথা ঝুঁকিয়ে দাঁড়াল।

    বিল বলল, ‘এরা কি সূর্যকন্যা নাকি!?’

    মার্কেজ জবাব দিলেন ‘হতে পারে!’

    কুইলো আর ইল্লাপা উঠে দাঁড়ালেন এরপর। থালার আচ্ছাদন সরিয়ে কুইলো একটা সবুজ পাথরের মালা আর একগোছা সাদা সুতলি নিয়ে সেগুলো তুলে দিলেন সুসানের হাতে। তারপর ডান হাতের বুড়ো আঙুল দিয়ে সুসানের কপালটা একটু ঘসে দিলেন। হয়তো এটা তাদের অতিথি বরণের কোনো প্রথা। সুসান জিনিসগুলো হাতে নিয়ে দাঁড়িয়ে রইল। কুইলো জিনিস দুটো তার হাতে দেবার পর বেদীর নীচে সমবেত ইনকা জনতার উদ্দেশ্যে দুর্বোধ্য ভাষায় কী যেন বলতে শুরু করলেন!

    দীর্ঘ বক্তৃতা। তার মাথামুন্ডু কিছুই বুঝতে পারছে না সুজয়। সে প্রফেসরকে প্রশ্ন করল, ‘লোকটা কী বলছে?’

    মার্কেজ বললেন, ‘এ ভাষাটা বর্তমানে প্রচলিত কুয়েচুয়া ভাষা নয়। তার পূর্বসূরি স্থানীয় কোনো কথ্য ভাষা। দু-একটা শব্দ ছাড়া আমিও তাঁর কথা বুঝতে পারছি না।’

    মিনিট দশেক পর কুইলো বক্তৃতা শেষ করলেন। বেদীর নীচে জমায়েতটা ভেঙে গেল এরপর। সে জায়গাটা মোটামুটি ফাঁকা হয়ে যাবার পর মাথায় কনডোরের পালক গোঁজা একজন লোক ফুট তিনেক লম্বা রঙবেরঙের পাথর বসানো ধাতব দন্ড নিয়ে বেদীর ওপর উঠে সেটা তুলে দিল কুইলোর হাতে। সুজয়ের মনে হল সেটা শাসনকর্তার দন্ডগোছের কিছু হবে। কুইলো দন্ডটা হাতে তুলে নিয়ে কী যেন নির্দেশ দিলেন সেই লোকটাকে। লোকটা মাথা নেড়ে সুসানকে নিয়ে নীচে নেমে এল। এরপর ওপরে ডাক পড়ল হুইকোর। সে ওপরে উঠে ইল্লাপার সঙ্গে কথা বলে ফিরে এসে নীচে দাঁড়িয়ে থাকা কনডোরের পালক গোঁজা লোকটাকে দেখিয়ে মার্কেজকে বলল, ‘ও আপনাদের থাকার জায়গাতে নিয়ে যাবে এখন।’ তারপর সে পিনচিওর উদ্দেশ্যে বলল, ‘আপনাকে এখানেই দাঁড়াতে বলেছেন ইনকা পুরোহিত।’

    পিনচিও তার কথা শুনে সুজয়দের দিকে তাকিয়ে বললেন, ‘তাহলে আপনারা যান। আমিও যেতে পারলে ভালো হত। সারদিন যা ধকল গেছে, বিশ্রামের দরকার। কিন্তু ইল্লাপার কথা না-শুনলে তিনি আবার রাগ করবেন।’

    মার্কেজ বললেন, ‘ঠিক আছে আমরা তাহলে এগোচ্ছি।’

    হুইকো এরপর যে দুটো লামার পিঠে সুজয়দের মালপত্র আছে সে দুটো লামাকে টেনে এনে তাদের দড়ি ধরিয়ে দিল কনডোরের পালক গোঁজা লোকটার হাতে। সে দড়িটা হাতে নিয়ে ইশারায় সুজয়দের তাকে অনুসরণ করতে বলল। ইনতিহুয়ানাতাকে বেড় দিয়ে একটা রাস্তা ধরল সে। পথের দু-পাশে ছড়িয়ে আছে প্রাচীন নগরীর নানা চিহ্ন। কোথাও ছাদহীন জ্যামিতিক আকৃতির ঘর, কোথাও কারুকাজ করা তোরণ বা প্রাচীরের ধ্বংসাবশেষ, কোথাও বা পথের পাশে একলা দাঁড়িয়ে থাকা স্তম্ভ। দ্রুত সন্ধ্যা নেমে আসতে শুরু করেছে প্রাচীন নগরীর বুকে। দু-পাশের প্রাচীন সৌধগুলো ভৌতিক আকার নিচ্ছে। খন্ডহর নগরীর আনাচেকানাচে অন্ধকার জেগে উঠছে। মার্কেজ লামা নিয়ে চলা লোকটাকে কুয়েচুয়াতে জিজ্ঞেস করলেন, ‘এখানে এখনও কত লোক থাকে?’ লোকটা মনে হয় তাঁর কথা বুঝতে পারল না, সে চুপচাপ চলতে লাগল।

    কিছুক্ষণ পর লোকটা সুজয়দের নিয়ে উপস্থিত হল এটা পাথুরে চত্বরে। সে চত্বরের মাঝখানে দাঁড়িয়ে আছে বেশ কয়েকটা স্তম্ভ। আর তাকে বেষ্টন করে দাঁড়িয়ে আছে কাঠের ছাদঅলা সারসার পাথুরে ঘর। হাতে বর্শা নিয়ে বেশ কয়েকজন ইনকা পুরুষ উপস্থিত আছে সেখানে। দুটো লোক জ্বলন্ত মশাল গুঁজছে দেওয়ালের খাঁজে। কনডোরের পালক গোঁজা লোকটা সুজয়দের নিয়ে ঢুকল একটা ঘরে। ভিতরে মশাল জ্বলছে। লোকটা ইশারাতে বুঝিয়ে দিল এ ঘরটাই সুজয়দের থাকার জায়গা। এরপর লামা দুটোর পিঠ থেকে মালপত্র খুলে সেগুলো ঘরে ঢুকিয়ে বিদায় নিল সে।

    বেশ বড়ো ঘর। পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন। কাঠের সিলিং, মেঝেতে মাদুর পাতা। একটা গরাদহীন জানলা আছে ঘরে। চারপাশে তাকিয়ে বিল বলল, ‘এদের অতিথিশালাটা দেখছি মন্দ নয়! রাতে ভালো করে ঘুমানো যাবে।’

    ঘুমের কথা শোনার পরই সুসান তার হাতে ধরা মালা আর সুতলির গোছটা তার দাদুর হাতে দিয়ে বলল, ‘এগুলো রাখো, আমি এখন ঘুমোব।’ এরপর সে গিয়ে শুয়ে পড়ল মাদুরে।

    সুজয়রা এরপর ব্যাগ থেকে জামাকাপড় বার করে পোশাক পরিবর্তন করে নিল। জামাকাপড় পালটিয়ে মার্কেজ সুসানের দেওয়া জিনিস দুটো নিয়ে মশালের সামনে গিয়ে দাঁড়ালেন। সবুজ মালাটা মশালের আলোতে নেড়েচেড়ে দেখে বললেন, ‘মালার পাথরগুলো সম্ভবত ‘আনকাট এমারেল্ড!’ সুজয় শুনে আশ্চর্য হয়ে বলল, ‘তাহলে তো মালাটার অনেক দাম হবে।’

    মার্কেজ তাঁর সাদা দাড়িতে হাত বুলিয়ে বললেন, ‘হ্যাঁ, তা হয়তো হবে। আর এর যদি কোনো অ্যান্টিক ভ্যালু থাকে তবে আরও বেশি দাম হবে।’

    বিল হঠাৎ তাকে প্রশ্ন করল, ‘পিজরো তার সঙ্গীকে যে হাঁসের ডিমের মতো পান্না দিয়েছিলেন, তা যদি খুঁজে পাওয়া যায় তবে তার দাম কত হবে?’ প্রফেসর হেসে বললেন, ‘যদিও আমি রত্ন বিশেষজ্ঞ নই, তবে একটা বইতে পড়েছিলাম ওরকম আকারের পান্নার বিনিময়ে অনায়াসে একটা এরোপ্লেন বা ক্যারিবিয়ান দ্বীপপুঞ্জের ছোটোখাটো একটা দ্বীপ পাওয়া যেতে পারে। ওর রত্ন মূল্য আর অ্যান্টিক মূল্য দুটোই অসাধারণ।’

    বিল শুয়ে পড়ে বলল, ‘ওরকম একটা রত্ন যদি পেতাম, তাহলে বনেবাদাড়ে ক্যামেরা কাঁধে আমাকে আর ঘুরে বেড়াতে হত না।’ তার কথা বলার ভঙ্গি দেখে সুজয় আর মার্কেজ হেসে ফেলল।

    মালাটা দেখার পর মার্কেজ সুতলির গোছাটা খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে দেখতে লাগলেন। তাঁর মুখ দেখে সুজয়ের মনে হল তিনি যেন পান্নার মালাটার চেয়ে সুতলির গোছাটার প্রতি বেশি আকৃষ্ট হয়েছেন। বেশ কিছুক্ষণ ধরে সেটা দেখার পর মার্কেজ বললেন, ‘আশ্চর্য! সাদা রঙের সুতোর আড়ালে একটা সোনালি আর তিনটে বেগুনি সুতো কেন?’

    সুজয় মার্কেজের কাছে গিয়ে বলল, ‘তার মানে?’

    তিনি সুতোগুলো দেখিয়ে বললেন, ‘এটা হল একটা খিপু। সাদা সুতোর অর্থ হল শান্তি বা আতিথেয়তা। এটা বুঝতে কোনো অসুবিধা নেই। কিন্তু যতটুকু জানি, সোনালি সুতো দিয়ে ‘রাজা বা রাজবংশধর’ আর বেগুনি সুতো দিয়ে ‘রাজবন্দি’ বোঝানো হোত।’ এই দু-রঙের সুতো খিপুতে কেন। ঠিক বোধগম্য হচ্ছে না।’ এরপর তিনি সুতোর গোছা আর মালাটা পকেটে রেখে বললেন, ‘হয়তো ওই দুটো রঙের অন্য কোনো অর্থও থাকতে পারে। আমার তো সামান্য পুঁথিগত বিদ্যা। বইতে ভুলও জানা হতে পারে। তবে খিপু সম্বন্ধে যদি এদের কাছে ভালো করে জেনে নেওয়া যায়, তাহলে সেটাও বিরাট কাজ হবে ঐতিহাসিক মহলে। কারণ, এখনও সব খিপুর পাঠোদ্ধার সম্ভব হয়নি।’

    মার্কেজ এরপর আর কোনো কথা না-বলে মাদুরের ওপর শুয়ে পড়লেন। সুসান ইতিমধ্যে ঘুমিয়ে পড়েছে। সুজয়ও শুয়ে পড়ল তার পাশে।

    প্রায় এক ঘণ্টা পর সুজয়দের ঘরে ঢুকলেন পিনচিও। তাকে দেখে উঠে বসল সকলে। সুজয় তাঁকে জিজ্ঞেস করল, ‘এতক্ষণ কি ইনতিহুয়ানাতার ওখানেই ছিলেন?’

    পিনচিও পকেট থেকে রুমাল বার করে ঘাম মুছে বললেন, ‘ওখান থেকে ইনকা পুরোহিতের সঙ্গে আমি কুইলোর প্রাসাদের দিকে গেছিলাম। ওর কাছাকাছি একটা জায়গাতে আমার আর হুইকোর থাকার ব্যবস্থা হয়েছে। আর ইনকা পুরোহিত থাকবেন কুইলোর প্রাসাদে।’

    মার্কেজ প্রশ্ন করলেন, ‘ইনকা পুরোহিতের যেখানে যাবার কথা, তার উদ্দেশ্যে কি তিনি কালই রওনা হবেন?’

    পিনচিও বললেন, ‘হ্যাঁ, তাই তো শুনলাম। তবে আপনাদের কোনো অসুবিধা হবে না। সব ব্যবস্থা তিনি করে যাচ্ছেন।’ এই বলে হাসলেন তিনি। মার্কেজ এরপর জানতে চাইলেন, ‘আপনি তো অনেকক্ষণ সময় বাইরে ছিলেন, তা কী কী দেখলেন?’ কুইলো লোকটা কেমন?

    পিনচিও বললেন, ‘অন্ধকারে তেমন কিছু ভালোভাবে বুঝতে পারলাম না। ভাঙাচোরা ঘর-বাড়ি মন্দির সব ভূতের মতো দাঁড়িয়ে আছে। তবে শুনলাম অনেক কিছুই, অবশ্য তা সবই প্রায় হুইকো আর ইনকা পুরোহিতের মাধ্যমে। এখানে নাকি সূর্যকন্যাদের আবাস, অপরাধীকে পুড়িয়ে মারার স্তম্ভ, এসব কিছুই সত্যি সত্যি আছে। দেবতা ইনতি আর বিচামার উদ্দেশ্যে নরবলিও নাকি হয় এখানে। নগরীতে প্রায় পাঁচশো জন লোক বাস করে। ইনকাদের প্রাচীন নিয়ম মেনেই তাদের জীবনযাত্রা পরিচালিত হয়। আর কুইলো লোকটাকে ভদ্র-সভ্য বলেই মনে হল। তবে তাঁর ‘ন’-জন স্ত্রী, সাতাশ জন সন্তান! স্ত্রী-সন্তানদের নিয়ে তিনি সূর্যমন্দিরের পাশে তাঁর প্রাসাদে থাকেন।’

    মার্কেজ শুনে বললেন, ‘বাঃ, এর মধ্যেই তো আপনি অনেক খবর সংগ্রহ করে ফেলেছেন!’

    পিনচিও হাসলেন। তারপর বললেন, ‘এবার আসল খবরটা বলি, কুইলো আজ রাতে তার প্রাসাদে আমাদের সকলকে খাবার নিমন্ত্রণ জানিয়েছেন। বিল তার কথা শুনে উৎফুল্ল হয়ে বলল, ‘এতো দারুণ ব্যাপার! তাঁর ‘ন’ জন স্ত্রী যখন তাহলে নিশ্চই ন-টা পদ রান্না হবে! আমার তো এখনই খিদে পাচ্ছে। তা কখন যেতে হবে সেখানে?’

    তিনি জবাব দিলেন, ‘একটু পরেই। আমার সঙ্গে একজন রক্ষী এসেছে। বাইরে দাঁড়িয়ে আছে। সে নিয়ে যাবে।’

    এরপর আরও কী যেন বলতে যাচ্ছিলেন তিনি, কিন্তু ঘরের মধ্যে হঠাৎ এসে প্রবেশ করল হুইকো। সবার দিকে একবার তাকিয়ে নিয়ে সে মার্কেজের উদ্দেশ্যে প্রশ্ন করল, ‘আমাদের সঙ্গে যে বুড়ো লামাঅলাটা ছিল, সে কি এখানে এসেছিল?’

    মার্কেজ বললেন, ‘না তো।’

    পিনচিও জিজ্ঞেস করলেন, ‘কেন?’

    হুইকো একটু ইতস্তত করে বলল, ‘ইনতিহুয়ানাতা চত্বর থেকে কোন ফাঁকে যেন উধাও হয়ে গেছে বুড়োটা। তাকে কোথাও খুঁজে পাচ্ছি না। তাই দেখতে এলাম যদি এখানে এসে থাকে।’

    পিনচিও বললেন, ‘লোকটা পালিয়ে গেল না তো! ভারি পাজিতো লোকটা!’

    হুইকো তাঁর কথার জবাবে শুধু বলল, ‘আপনারা কুইলোর প্রাসাদে আসুন, আমি আসছি।’ এই বলে সে ঘর ছেড়ে বেরিয়ে গেল। পিনচিও স্বগতোক্তির স্বরে বললেন, ‘বুড়োটার মাথা খারাপ হয়ে গেছে। পালাতে গেলে জঙ্গলে বেঘোরে মারা পড়বে।’

    সুসান ঘুমিয়ে পড়েছে। তার দিকে তাকিয়ে মার্কেজ পিনচিওকে বললেন, ‘ও তো ঘুমোচ্ছে। সারা দিন অনেক ধকল গেছে, একটা কাজ করলে হয় না, বিল আর সুজয় আপনার সঙ্গে ভোজ খেতে যাক, আমি না-হয় এখানে সুসানকে নিয়ে এখানে থাকি!’

    তাঁর কথা শুনেই পিনচিও বলে উঠলেন, ‘না না, আপনাকে সেখানে যেতেই হবে। কুইলো না-হলে কুপিত হতে পারেন। তা ছাড়া ইনকা পুরোহিত আপনার সঙ্গে কী একটা জরুরি বিষয় নিয়ে আলোচনা করতে চান।’

    মার্কেজ বললেন, ‘ঠিক আছে, তাহলে তো যেতেই হবে।’ এরপর তিনি সুসানকে ঘুম থেকে ডেকে তুললেন।

    কিছুক্ষণের মধ্যেই সুজয়রা ঘর ছেড়ে বাইরে বার হল। সেখানে দাঁড়িয়ে ছিল বর্শা হাতে একজন ইনকা রক্ষী। সুজয়দের নিয়ে চলতে শুরু করল সে। মাথার ওপর চাঁদ উঠেছে। তার আলো ছড়িয়ে পড়েছে ভগ্নপ্রায় সৌধগুলোর মাথায়। তাদের জঠরে বিরাজ করছে জমাটবাঁধা অন্ধকার। মাঝে মাঝে ছোটোছোটো চত্বরে মশাল হাতে পাহারা দিচ্ছে ইনকা রক্ষীরা। বেশ কিছুটা এগোবার পর পথের পাশে বিরাট একটা মন্দির জাতীয় স্থাপত্য। তার চুড়ো ধসে পড়েছে, সামনে চত্বরে বেশ কয়েকটা স্তম্ভ চাঁদের আলোতে দাঁড়িয়ে আছে। পাশ দিয়ে যাবার সময় মিস্টার পিনচিও বললেন, ‘এটা হল প্রাচীন নগরীর সূর্যমন্দির। এই চত্বরেই নকি ওই স্তম্ভগুলোর সঙ্গে বেঁধে শত্রুদের পুড়িয়ে মারা হয়।’

    মার্কেজ বললেন, ‘কাল তাহলে এখান থেকেই দেখা শুরু করব আমরা। নিশ্চই এখানে অনেক প্রাচীন হুয়াকা আছে!’

    মন্দির থেকে একটু এগোতেই একটা আলোকিত চত্বরে এসে উপস্থিত হল সবাই। বর্শাধারী বেশ কয়েকজন রক্ষী সেখানে পদচারণা করছে। তার একপাশে বেশ বড়ো একটা পাথুরে বাড়ি। কাঠের ছাদ। বাইরের দেওয়ালে মশাল গোঁজা। কুইলোর প্রাসাদ।

    প্রাসাদের দরজার দু-পাশে দাঁড়িয়ে আছে দুজন ভীষণ দর্শন আমাজনীয় রক্ষী। নিশ্চল পাথরের মূর্তি। তাদের পাশ কাটিয়ে প্রাসাদের মধ্যে প্রবেশ করল সুজয়রা। তাদের সঙ্গের লোকটা কয়েকটা নীচু ছাদঅলা ঘর পার হয়ে তাদের নিয়ে উপস্থিত হল লম্বাটে ধরনের একটা হল ঘরের মধ্যে। ঘরটা মশালের আলোতে আলোকিত। মেঝেতে মাদুর পাতা। মাথার ওপরের সিলিংয়েও মাদুরের আচ্ছাদন। ঘরের শেষ মাথায় একটা নীচু বেদীর ওপর বসে আছেন ইল্লাপা আর কুইলো। সঙ্গের লোকটা সুজয়দের ঘরে ঢুকিয়ে দিয়ে বাইরে চলে গেল। তারা সেই বেদীর সামনে গিয়ে দাঁড়াতেই ইল্লাপা ইশারায় তাদের সেখানে বসতে বললেন। তাদের থেকে একটু দূরত্ব রেখে সুজয়রা বসল বেদীতে। কুইলো একবার সকলকে ভালোভাবে দেখলেন। তারপর ইল্লাপার কানে কানে কী একটা কথা বলে সুজয়দের উদ্দেশ্যে দুর্বোধ্য ভাষায় কথা বলতে শুরু করলেন। মিনিট তিনেক বলার পর থামলেন তিনি। তারপর মাথা দোলাতে লাগলেন।

    মার্কেজ ইনকা পুরোহিতকে বললেন, ‘উনি আমাদের উদ্দেশ্যে কী বললেন? ভাষাটা আমাদের বোধগম্য হল না।’

    ইল্লাপা, শাসনকর্তা কুইলোর বক্তব্যের যা তর্জ্জমা করে দিল তা মোটামুটি হল এই,—‘প্রাচীন ইনকা নগরীর শাসনকর্তা ও প্রধান পুরোহিত কুইলো এ নগরীতে বিদেশিদের স্বাগত জানাচ্ছে। বিদেশিরা নোংরা ও ঘৃণ্য জীব। ইনতি পুত্রদের ধর্ম নষ্ট করো তোমরা। ইনতির পবিত্র গ্রামের ওপর তোমাদের দারুণ লোভ। সেই লোভে তোমরা সূর্যপুত্র আতাহুয়ালাপাকে ফাঁসি দিয়েছিলে, টুপাক আমরুর মুন্ড কেটে নিয়েছিলে। তাঁদের আত্মারা যেন তোমাদের পুড়িয়ে মারেন। আমরা বিদেশিদের এ নগরীতে প্রবেশ করতে দিই না। দৈবাৎ কেউ এখানে পা রাখলে তাকে ইনতিহুয়ানাতে বেঁধে পুড়িয়ে মারা হয়। কিন্তু তোমরা কুজকো করিকাঞ্চার মহান পুরোহিতের সঙ্গী। তাই তোমরা আমার অতিথি। আমি তোমাদের রাজকীয় ভোজে আপ্যায়িত সম্মানিত করছি।’

    কুইলোর বক্তব্য শুনে বিল মার্কেজকে চাপা স্বরে বলল, ‘নিমন্ত্রণ কর্তা স্বাগত ভাষণটাতো চমৎকার! কিছুই বলতে আর বাকি রাখলেন না!’ মার্কেজ গম্ভীরভাবে বললেন, ‘ওঁর কথা শুনতে খারাপ লাগলেও সত্যি কথাই বলেছে ও। এই সুমহান প্রাচীন সভ্যতাকে বিদেশিরাই নির্মমভাবে ধ্বংস করেছিল স্বর্ণ আহরণ আর ধর্মপ্রচারের অভিলাষে।’

    মিনিটখানেক সবাই এরপর চুপচাপ বসে রইল, তারপর বিরাট একটা বারকোষ হাতে ঘরে ঢুকল একজন লোক। তার মধ্যে দুটো পাত্রে খাদ্যদ্রব্য রাখা। বারাকোষটা নিয়ে লোকটা কুইলোর সামনে এসে দাঁড়াল। কুইলো পাত্র দুটোতে ডান হাতের কড়ে আঙুল ছুইয়ে তা জিভে ঠেকাবার পর লোকটা বারকোষটা সরিয়ে নিয়ে গিয়ে ঘরের এককোণাতে মশালের কাছে মাটিতে নামিয়ে রাখল। ইনকা পুরোহিতকে এবার কী যেন বললেন কুইলো। তিনি কথাটা সুজয়দের অনুবাদ করে দিলেন,—‘শাসনকর্তা খাবারের আস্বাদ গ্রহণ করলেন, অতিথিরা যেন এবার খাওয়া শুরু করে।’

    সুজয়রা বেদী ছেড়ে গিয়ে বসল ঘরের কোনায় বায়কোষের কাছ। বিল যা ভেবেছিল, সেই কুইলোর নয় রানির রান্না করা নয়টি পদ সেখানে নেই। রাজকীয় ভোজ বলতে একটা পাত্রে রাখা আছে সেদ্ধ আলু জাতীয় কন্দ, আর একটাতে কীসের যেনও ঝলসানো মাংস! বেশ খিদে পেয়েছিল সকলের। তারা খেতে শুরু করল। খাবার মুখে তোলার পর সুসান হঠাৎ বলে উঠল, ‘আচ্ছা এই বাটিগুলোও কি সোনার?’ তার কথা শুনে পাত্র দুটোর দিকে ভালো করে তাকাতেই চমকে উঠল সবাই। এতক্ষণ কেউ খেয়াল করেনি, পাত্রদুটো সম্ভবত সত্যিই সোনা দিয়ে তৈরি! বিল একটা পাত্র মশালের দিকে উঁচু করে ধরতেই তার কানটা ঝিলিক দিয়ে উঠল! এরপর মুহূর্তেই কিছুদূরে বসে থাকা কুইলোর সাথে চোখাচোখি হল বিলের। প্রাচীন সভ্যতার রক্ষক কুইলোর চোখে যেন ফুটে উঠেছে একটা হাসি। সে হাসি যেন বিদ্রূপ করছে আধুনিক সভ্যতার প্রতিনিধিদের! পাত্রটা বিল নামিয়ে রাখল।

    মার্কেজ বললেন, ‘এ জাতীয় স্বর্ণপাত্র কোনো মিউজিয়ামে নেই! পিজরো বাহিনী শুধু স্বর্ণ লুন্ঠন আর ইনকা সম্রাটদের হত্যাই করেনি। লুন্ঠিত সব স্বর্ণ সামগ্রী গলিয়ে তারা সোনার বাটে পরিণত করেছিল। এটাও তাদের কম বড়ো অপরাধ নয়!

    তার কথা শোনার পর সুজয় প্রশ্ন করল, ‘আচ্ছা কুইলো তার বক্তব্যে যে টুপাক আমরুর কথা বললেন, তিনি কে ছিলেন?’

    প্রফেসর খেতে খেতে বললেন, ‘তিনি ছিলেন ইনকা সম্রাট, যিনি মাতৃভূমিতে ইনকাদের অধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠার করার জন্য স্পেনীয়দের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করেন। আত্মসমর্পণ করলে তার মর্যাদা ফিরিয়ে দেওয়া হবে এই আশ্বাসে পরাজিত সম্রাট ধরা দেন স্পেনীয়দের হাতে। কিন্তু প্রবঞ্চক স্পেনীয়রা কথা রাখেনি। টুপাক আমরুকে সোনার শিকলে বেঁধে কুজকোতে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তাঁর বিচারের নামে এক প্রহসন হয়। ‘দিয়েগো ওর্তি’ নামের এক ধর্মযাজক হত্যার মিথ্যা অপবাদে ১৫৭২ খ্রিস্টাব্দে তাঁর শিরচ্ছেদ করা হয়।’

    এরপর একটু থেমে তিনি সুজয়ের দিকে তাকিয়ে বললেন, ‘তাঁকে যখন বধ্যভূমিতে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল তখন হাজার জনতা পরিবৃত বধ্যভূমির জল্লাদের উদ্যত খড়্গর সামনে দাঁড়িয়ে তিনি শেষ, যে কথা বলেছিলেন তা হল, ‘ককোল্লান পাচাকামাক রিকুই আউক্কাকুনাক ইয়াহুয়ারনি হি চাস কান কুতা!’ অর্থাৎ, ‘হে আমার মাতৃভূমি, তুমি দেখো শত্রুরা তোমার সন্তানের কীভাবে রক্ত ঝরাচ্ছে!’

    মার্কেজ হয়তো এরপর আরও কিছু বলতে যাচ্ছিলেন, কিন্তু ঘরের ভিতর প্রবেশ করল হুইকো, সকলের দৃষ্টি চলে গেল তার দিকে। সে এসে মুহূর্তের জন্য দাঁড়াল সুজয়দের কাছে। পিনচিও তাকে জিজ্ঞেস করলেন, ‘কি লোকটাকে খুঁজে পেলে?’

    সে শুধু জবাব দিল, ‘না,’ তারপর সে সোজা ইল্লাপার দিকে এগিয়ে গিয়ে চাপাস্বরে কী বলতে শুরু করল!’

    খাওয়া শেষ হবার পর আবার বেদীর কাছে ফিরে এল তারা। ইল্লাপা বসতে বললেন সকলকে। তার পাশে দাঁড়িয়ে আছে হুইকো। বিশাল বপু কুইলো তাকিয়ে আছেন তাদের দিকে। বিশেষত সুসানকে যেন লক্ষ করছেন তিনি। এক জন ভৃত্য গোছের লোক সুজয়দের সামনে পানীয় ভর্তি বেশ কয়েকটা পাথরের গেলাস এনে রাখল।

    মার্কেজ গেলাসগুলো দেখে ইল্লাপার দিকে তাকাতেই তিনি বললেন, ‘চিচা’, পান করুন।’

    ‘চিচা কী?’ জানতে চাইল বিল।

    মার্কেজ বললেন, ‘ইনকাদের প্রিয় পানীয়। বিভিন্ন ফলের বীজ থেকে তৈরি হয়। সাধারণত মাদকহীন। প্রাচীনকালে সূর্যদেবের উৎসবের সময় ইনকা সম্রাট প্রজাদের সাথে একসাথে বসে চিচা পান করতেন।’ কথাগুলো বলে কৌতূহল ভরে একটা গেলাস তুলে নিয়ে তাতে চুমুক দিলেন তিনি। সুজয়ও একটা গেলাসে চুমুক দিল। পানীয়টা অনেকটা ঘোলের মতো। বেশ মিষ্টি মিষ্টি স্বাদ! বিলও পান করে বলল, স্বাদটা মন্দ নয়। শুধু পিনচিও গেলাসটাতে একটা চুমুক দিয়ে সেটা নামিয়ে রেখে বললেন, ‘আপনারা যাই বলুন, আমার কিন্তু স্বাদটা ভালো লাগল না। এক চুমুকেই গা গোলাচ্ছে। সম্রাটরা যে কীভাবে চিচা পান করতেন কে জানে!’

    চিচা পান শেষ হবার পর মার্কেজ ইল্লাপার উদ্দেশ্যে বললেন, ‘আপনিতো কালই চলে যাবেন তাই না?’

    ইনকা পুরোহিত জবাব দিলেন, ‘হ্যাঁ। কাল ভোরেই ইনতিহুয়ানাতা চত্বরে লামাবলি দিয়ে যাত্রা শুরু করব।’

    মার্কেজ এরপর তাকে প্রশ্ন করলেন, ‘আপনি যেখানে যাবেন সে জায়গাটা কত দূর?’

    ইল্লাপা জবাব দিলেন, ‘আরও দু-দিনের পথ।’ এরপর একটু চুপ করে থেকে ইনকা পুরেহিত মার্কেজের দিকে তাকিয়ে গম্ভীরভাবে বললেন, ‘এ ব্যাপারে আপনার সঙ্গে আমি একটা আলোচনা করতে চাই।’

    কী আলোচনা? ‘সেখানে আপনি আমাদের নিয়ে যাবেন?’ সাগ্রহে প্রশ্ন করলেন মার্কেজ।

    ইনকা পুরোহিত বললেন, ‘না, সেখানে আপনাদের নিয়ে যাওয়া সম্ভব নয়। তবে এক বিশেষ প্রয়োজনে আমি আপনার সঙ্গের বাচ্চা ছেলেটাকে আমার সঙ্গে নিয়ে যেতে চাই। আপনারা এই প্রাচীন নগরী ভালো করে দেখে বেড়ান, কুইলোর সব রকম সাহায্য পাবেন। চার দিন পর বাচ্চাটাকে নিরাপদে এখানে ফিরিয়ে আনব আমি। তারপর সকলে একসঙ্গে কুজকোতে ফিরব।’

    ইনকা পুরেহিতের প্রস্তাব শুনে মার্কেজসহ সুজয়রা হতভম্ব হয়ে গেল।

    ইল্লাপা আবার বললেন, ‘আপনার আশঙ্কার কোনো কারণ নেই। কুজকো করিকাঞ্চার পুরোহিত যার সঙ্গে থাকে মৃত্যুদেব বিচামাও তাকে স্পর্শ করে না। মহান ইনতি সর্বদা তাকে রক্ষা করেন।’

    প্রফেসর মার্কেজ এবার বিস্ময়ের ঘোর কটিয়ে উঠে বললেন, ‘আমি দুঃখিত ইনকা পুরোহিত। একটা অসম্ভব প্রস্তাব করে বসলেন আপনি। এইটুকু ছেলেকে আমি এখানে কোনোভাবেই কাছছাড়া করতে পারব না। এমনিতেই আমার পথে বার বার মনে হচ্ছিল, ওর মতো বাচ্চাকে এ পথে আনা উচিত হয়নি।’ এই বলে ব্যাপারটাকে একটু হালকা করার জন্য ঠোঁটের কোণায় হাসি ফুটিয়ে তুললেন প্রফেসর।

    ইনকা পুরোহিত কিন্তু হাসলেন না। গম্ভীরভাবে তিনি বললেন, ‘আপনারা যেখানে এসেছেন এ জায়গাতে আমি না-নিয়ে এলে আপনাদের আসা সম্ভব হত না। গত কয়েক শতাব্দীর মধ্যে কোনো বিদেশি এ মাটিতে পা রাখেনি। দু-এক জন যারা এ নগরীর কাছাকাছি পৌঁছেছিল তারা আর ফিরে যায়নি, আপনারা সৌভাগ্যবান, এ নগরী দেখে নিরাপদে আবার ফিরবেন আপনারা। কিন্তু তার পরিবর্তে আমাকে আপনারা সাহায্য করবেন না?’

    মার্কেজ বললেন, ‘আপনি না-নিয়ে এলে এখানে আমার আসা হত না, এ ব্যাপারের জন্য সত্যি সত্যি আমি আপনার কাছে কৃতজ্ঞ। আপনাকে আমার সাধ্যমতো অন্য যেকোনো ধরনের সাহায্য করতে আমি রাজি আছি। কিন্তু আপনার এ প্রস্তাব মানা, আমার পক্ষে সম্ভব নয়। আপনি আমাকে আর এ ব্যাপারে অনুরোধ করবেন না।’ শেষ কথাগুলো বেশ একটু দৃঢ় ভাবেই বললেন মার্কেজ।

    সুজয়ের মনে হল মার্কেজের কথা শুনে মুহূর্তের জন্য যেন দপ করে জ্বলে উঠল ইনকা পুরোহিতের চোখ। ক্রুদ্ধভাবে কী যেন বলতে গিয়েও শেষমুহূর্তে নিজেকে যেন সংযত করে নিলেন তিনি। বেশ কিছুক্ষণ সময় কারো মুখে কোনো কথা নেই। কুইলো চোখ বন্ধ করে দুলে চলেছেন। ইল্লাপা স্থির-দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছেন মার্কেজের দিকে। আর তার পাশে দাঁড়িয়ে হুইকো চোখের কোটোর থেকে পাথরের চোখটা বার করে গম্ভীর ভাবে সেটা হাতের তেলোতে ঘোরাচ্ছে। সুসান একটু ভয় পেয়ে তাকাল সুজয়ের দিকে। সুজয় তার পিঠে হাত রাখল।

    শেষপর্যন্ত নিস্তব্ধতা ভঙ্গ করে ইল্লাপা বললেন, ‘ঠিক আছে, আপনারা এখন বিশ্রাম গৃহে ফিরে যান। তবে আমার কথা শুনলে ভালো করতেন।’ একটা বাঁকা হাসি ফুটে উঠল ইনকা পুরোহিতের ঠোঁটের কোণে।

    মার্কেজ আর কথা বাড়ালেন না। সুসান বিল আর সুজয়কে নিয়ে বেদী ছেড়ে উঠে তিনি ঘরের বাইরে এগোলেন। দরজার বাইরে দাঁড়িয়ে ছিল সেই লোক, যে তাদের পিনচিওর সঙ্গে এখানে এনেছিল। তার সঙ্গে প্রাসাদ ছেড়ে বেরিয়ে সুজয়রা তার পিছন পিছন হাঁটতে শুরু করল।

    তাদের পথপ্রদর্শক আগে। একটু তফাতে সুজয়রা। চত্বরের মশালের আলোগুলো নিভে গেছে। চাঁদের আলোয় নীচে দাঁড়িয়ে আছে প্রাচীন নগরীর ভগ্নপ্রায় সৌধগুলো। মাঝে মাঝে পথের পাশে দু-একটা গাছ। তারা যেন এ নগরীর রক্ষক প্রাচীন প্রেতাত্মা! তার নীচে জমাট বাঁধা অন্ধকার। সবাই চুপচাপ চলছে। একসময় বিল মৌনতা ভঙ্গ করে বলল, ‘ইল্লাপার প্রস্তাবটা বড়ো অদ্ভুত ছিল তাই না! আচ্ছা সুসানকে ইনকা পুরোহিত তার সঙ্গে নিয়ে যেতে চাচ্ছিলেন কেন?’

    এ প্রশ্নটা সুজয়ের মাথাতেও ঘুরপাক খাচ্ছে। মার্কেজ জবাব দিলেন, ‘জানি না।’

    তারপর একটু চুপ করে থেকে তিনি বললেন, ‘ইল্লাপা কিন্তু অসন্তুষ্ট হলেন আমাদের প্রতি। কিন্তু তাঁর বোঝা উচিত তাঁর ওই প্রস্তাবে সায় দেওয়া আমার পক্ষে সম্ভব নয়।’

    বিল এবার বলল, ‘একটা অদ্ভুত ব্যাপার লক্ষ করলেন!, মিস্টার পিনচিও কিন্তু কোনো কথা না -বলে চুপচাপ বসে রইলেন! পিনচিও আর হুইকোর আচরণও একটু অদ্ভুত। আমাদের আড়ালে বেশ কয়েকবার ইল্লাপার সঙ্গে তাদের পরামর্শ করতে দেখেছি। তারা যেন কোনো কিছু গোপন করছেন আমাদের থেকে।’

    সুজয় বলল, ‘আমিও ব্যাপারটা লক্ষ করেছি!

    সুসান এবার হঠাৎ বলে উঠল, ‘আমি যখন মাথায় পালক গোঁজা পুরোহিতের কাঁধে চেপে যাচ্ছিলাম তখন পিনচিও আঙ্কল আমাকে জিজ্ঞেস করেছিল যে, বাবা-মা কে ছেড়ে আমার এখানে থাকতে মনে কষ্ট হচ্ছে কিনা?’

    আমি বললাম, কষ্ট হবে কেন? আমিতো বড়ো হয়ে গেছি! বেড়াতে আমার ভালো লাগছে। তা ছাড়া দাদুওতো সঙ্গে আছে।

    এরপর তিনি আমাকে বললেন, ‘ধরো, যদি কেউ তোমাকে এমন কোনো জায়গাতে বেড়াতে নিয়ে যায়, যেখানে দাদুও তোমার সঙ্গে নেই তাহলে থাকতে পারবে তুমি?’—এই কথা বলে সুসান চুপ করে গেল।

    তার কথা শুনে একটু অবাক হয়ে মার্কেজ বললেন, ‘কই, কথাটা তুমি আমাকে বলোনি তো! তা তুমি কী উত্তর দিলে? আর কী জিজ্ঞেস করেছিলেন তিনি?’

    সুসান জবাব দিল। ‘আমি বললাম, ‘আমিতো বড়ো হয়ে গেছি থাকতে পারব। তবে দাদুর জন্য একটু মন খারাপ হবে।’ এরপর আমাকে আর কিছু জিজ্ঞেস করেনি পিনচিও আঙ্কল।’

    তার কথা শুনে বলল, ‘ওর কথা শুনে আমার মনে হচ্ছে মিস্টার পিনচিও, ইনকা পুরোহিতের প্রস্তাবের ব্যাপারটা জানতেন! ব্যাপারটার মধ্যে কোথায় যেন একটা গোলমাল আছে!’

    প্রফেসর একটু চিন্তান্বিত ভাবে বললেন, ‘যাই হোক আমরা যতদিন না-ফিরে যাচ্ছি ততদিন আচার ব্যবহারে ওঁদেরকে খুশি রাখতে হবে। ওরা পথ না-দেখালে আমরা এখান থেকে ফিরতে পারব না।’

    এরপর কেউ আর কোনো কথা বলল না। ব্যাপারটা নিয়ে ভাবতে ভাবতে কিছুক্ষণের মধ্যে তারা পৌঁছে গেল তাদের থাকার জায়গাতে।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleঅ্যাডভেঞ্চার ভয়ংকর – হিমাদ্রিকিশোর দাসগুপ্ত
    Next Article আঁধার রাতের বন্ধু – হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত

    Related Articles

    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত

    বিষ্ণুলোকে সন্ধ্যা নামে – হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত

    March 20, 2026
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত

    সাদা বিড়াল – হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত

    January 31, 2026
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত

    নেকড়ে খামার – হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত

    December 10, 2025
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত

    অ্যাডভেঞ্চার সমগ্র ১ – হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত

    December 10, 2025
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত

    অ্যাডভেঞ্চার সমগ্র ২ – হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত

    December 9, 2025
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত

    জাদুকর সত্যচরণের জাদু কাহিনি – হিমাদ্রি কিশোর দাশগুপ্ত

    December 9, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Our Picks

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }