Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    সূর্যমন্দিরের শেষ প্রহরী – হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত

    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত এক পাতা গল্প262 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    সূর্যমন্দিরের শেষ প্রহরী – ১১

    ১১

    বিলের ধাক্কায় ঘুম ভাঙল সুজয়ের। ভোরের নরম আলো খোলা দরজা দিয়ে প্রবেশ করেছে ঘরের ভিতর। চোখ কচলে উঠে বসতেই সুজয় দেখল তার সামনে পাংশু মুখে দাঁড়িয়ে আছেন মার্কেজ। তিনি যেন কী বলতে গেলেন সুজয়কে। কিন্তু গলা বুজে এল। থরথর করে কাঁপতে লাগলেন তিনি। সুজয় কিছু বুঝতে না-পেরে ফিরে তাকাল বিলের দিকে। তার মুখ গম্ভীর। সুজয় তাকে জিজ্ঞেস করল, ‘কী হয়েছে?’

    সে জবাব দিল, ‘সুসানকে খুঁজে পাচ্ছি না!’

    সুজয় অবাক হয়ে বলল, ‘তার মানে?’

    সে বলল, ‘মিনিট চল্লিশেক আগে ঘুম ভাঙে প্রফেসরের। তখনও ভোরের আলো ভালো করে ফোটেনি। তিনি উঠে দেখেন সুসান পাশে নেই। প্রথমে ওঁর মনে হয় সুসান হয়তো বাথরুম করতে গেছে। কিন্তু মিনিট পাঁচেক পরও সুসান ঘরে না-আসায় উনি ঘরের বাইরে যান ওকে খুঁজতে। বাইরে তাকে খুঁজে না-পাওয়ায় উনি ফিরে এসে আমাকে ডেকে তোলেন। তারপর আধ ঘণ্টা ধরে আমরা বাড়িটার চারপাশে যতটা সম্ভব পারা যায় খুঁজেছি ওকে, কিন্তু কোথাও সে নেই!’

    সুজয় কিছুক্ষণ ঘটনার আকস্মিকতায় নির্বাক হয়ে বসে রইল। কম্পিত হাতে মাথা চেপে দাঁড়িয়ে আছেন মার্কেজ। বিলের মুখেও আর কোনো কথা নেই।

    একটু ধাতস্ত হয়ে সুজয় বলল, ‘এমনও তো হতে পারে যে সুসান ভোরবেলায় হাঁটতে হাঁটতে এই প্রাচীন নগরীর গোলক ধাঁধায় হারিয়ে গেছে। তারপর আর পথ চিনে ফিরতে পারছে না। আপনারা তো শুধু এই বাড়িটার আশেপাশে খুঁজেছেন, ও রাস্তা ধরে অন্য কোথাও চলে গিয়ে থাকলে? অনেক সময় বাচ্চাদের মনে নানারকম খেয়াল চাপে!’

    মার্কেজ এবার কাঁপা কাঁপা স্বরে বললেন, ‘কিন্তু ওর জুতো জোড়া তো ঘরের মধ্যেই আছে! খালি পায়ে ও কতদূর যাবে?’

    সুজয় দেখল দরজার পাশে সুসানের জুতোটা রয়েছে। একটু ভেবে নিয়ে সে বলল, ও তো আর উবে যাবে না! নিশ্চই এ নগরীর মধ্যেই পথ হারিয়ে কোথাও ঘুরে বেড়াচ্ছে! ওর ভাষা এখানকার কেউ বুঝতে না-পারার কারণে ও ফিরতে পারছে না। আমাদের উচিত ব্যাপারটা এখনই গিয়ে মিস্টার পিনচিও আর হুইকোকে জানানো। তারপর সবাই মিলে তাকে খুঁজে বার করা।

     

     

    বিল বলল, ‘আমিও এ কথাটাই ভাবছিলাম, মিস্টার পিনচিওর ওখানে এখনই আমাদের যাওয়া দরকার। তিনি তো কুইলোর প্রাসাদের কাছাকাছি আছেন। আর যাবার পথে যদি সুসানকে দেখতে পাই, তাহলে তো সব সমস্যা মিটে গেল।’

    সুজয় উঠে দাঁড়িয়ে মার্কেজের দিকে তাকিয়ে বলল, ‘চলুন তাহলে, দেরি করা ঠিক হবে না।’

    ঘর ছেড়ে তিন জন বেরিয়ে পড়ল। সূর্যদেব আলো ছড়াতে শুরু করেছেন প্রাচীন নগরীর বুকে। রাতের অন্ধকার কেটে গিয়ে চারপাশে জেগে উঠেছে প্রাচীন ঘরবাড়ি, জীর্ণ স্তম্ভ, সৌধের ধ্বংসস্তূপ। তবে কুয়াশার একটা পাতলা আস্তরণ এখনো যেন রয়েছে তাদের গায়ে। হাঁটতে হাঁটতে সুজয় একবার রিস্টওয়াচের দিকে তাকালো। সাড়ে পাঁচটা বাজে। চারদিকে দেখতে দেখতে আন্দাজ মতো কুইলোর প্রাসাদের দিকে এগোল তারা, এবং একসময় প্রাসাদের কাছে পৌঁছেও গেল।

    সেখানে আশেপাশে কুইলোর প্রাসাদ ছাড়া বেশ কয়েকটা বাড়ি রয়েছে। কয়েক জন লোক আর রক্ষী রয়েছে চত্বরে। চারদিকে তাকিয়ে বিল বলল, ‘কিন্তু মিস্টার পিনচিও কোন বাড়িটায় আছেন বুঝব কী করে?’

    পরমুহূর্তেই তার মাথায় একটা বুদ্ধি এল। চত্বরের ঠিক মাঝখানে দাঁড়িয়ে সে জোর গলায় হাঁক দিল, ‘মিস্টার পিনচিও আপনি কোথায়?’ তার চিৎকার শুনে চত্বরে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে দাঁড়িয়ে থাকা লোকজন রক্ষীরা তাকাল বিলের দিকে। বিল আবার ডাকল, ‘পিনচিও আপনি কোথায়…?’ দ্বিতীয় বারের চিৎকারে বাড়িগুলোর ভিতর থেকে দু-একজন লোক বাইরে বেরিয়ে এল বটে, কিন্তু পিনচিওর সাড়া মিলল না। কয়েকজন রক্ষী এবার ধীরে ধীরে সুজয়দের কাছে এসে দাঁড়াল। তাদের চোখমুখ দেখে মনে হল, তারাও কিছুটা আশ্চর্য হয়েছে, এই সাতসকালে বিদেশিদের চত্বরে দাঁড়িয়ে চিৎকার করতে দেখে! বিল আরও কয়েকবার নিষ্ফলভাবে হাঁকডাক করার পর মার্কেজ একজন রক্ষীর কাছে এগিয়ে গিয়ে কুয়েচুয়া ভাষায় বলল, ‘আমাদের সঙ্গে যে আর একজন বিদেশি এসেছে, সে কোথায় আছে বলতে পারো?’

    লোকটা কোনো জবাব দিল না।

    মার্কেজ এরপর তাকে প্রশ্ন করলেন, ‘তোমরা এখানে কোনো বাচ্চা ছেলেকে দেখেছ?’

    সেই রক্ষী এবারও কোনো কথার জবাব না-দিয়ে তাকাল তার পাশের রক্ষীর দিকে।

     

     

    সুজয়ের মনে হল সম্ভবত তারা বুঝতে পারছে না মার্কেজের কথা। বিল আর মার্কেজ এরপর হাত নেড়ে, কুয়েচুয়াতে তাদের বেশ কিছুক্ষণ ধরে নিজেদের বক্তব্য বোঝানোর চেষ্টা করল, কিন্তু কিছুই বুঝতে পারল না তারা। মার্কেজের উদ্দেশ্যে উদ্ভট ভাষায় একজন রক্ষী কী যেন বলল, তারপর রক্ষীরা ফিরে গিয়ে দাঁড়াল নিজেদের জায়গাতে।

    বিল বলল, ‘এভাবে কিছু হবে না। চলুন আমরা কুইলোর প্রাসাদে যাই। হয়তো ওই লোকটা আমাদের কথা অনুমান করতে পারবে!’

    সুজয়রা গিয়ে দাঁড়াল শাসনকর্তার প্রাসাদের সামনে। দরজার দু-পাশে দাঁড়িয়ে আছে দুজন আমাজনীয় রক্ষী। তাদের ভাবলেশহীন মুখ, হাতে ধরা আছে সুতীক্ষ্ণ বর্শা, কাঁধে তির-ধনুক। মার্কেজ তাদের একজনকে বলল, ‘আমরা শাসনকর্তার সঙ্গে দেখা করতে চাই।’

    মার্কেজের কথা শুনে সে একবার শুধু ভুরু কুঁচকালো। তারপর নিস্পন্দ পাথরের মূর্তির মতো দাঁড়িয়ে রইল।

    বিল বলল, ‘সম্ভবত এরাও আমাদের কথা বুঝবে না। চলুন আমরা ভিতরে যাই।’ এই বলে সে দরজার দিকে পা বাড়াতে যেতেই আমাজনীয় দ্বাররক্ষী দুজন বর্শার লাঠি দুটো দিয়ে বিলের পথ আটকে দিল।

    মার্কেজ কুয়েচুয়াতে তাদের উদ্দেশ্যে বললেন, ‘আমাদের ভিতরে ঢুকতে দাও। আমরা শাসনকর্তার অতিথি।’ কিন্তু লোক দুটো পথ ছাড়ল না। বিল ছিল প্রথমে। সে এবার লাঠি দুটো সরিয়ে এগোতে যেতেই বিজাতীয় ভাষায় হিংস্রভাবে চিৎকার করে উঠল তারা। তারপর একজন আমাজনীয় প্রচন্ড জোরে ধাক্কা মারল বিলকে। তার পিছনেই দাঁড়িয়ে ছিল সুজয় আর মার্কেজ। তিনজনেই ছিটকে পড়ল পাথুরে মাটিতে!

    আমাজনীয়দের চিৎকার কানে যেতেই চত্বরে দাঁড়িয়ে থাকা ইনকা রক্ষীরাও ছুটে এল সেখানে। সুজয়রা উঠে দাঁড়াবার আগেই ইনকা রক্ষী আর আমাজনীয় দুজনের তীক্ষ্ণ বর্শা ফলকের ঘেরাটোপে বন্দি হয়ে গেল তারা। বিল মনে হয় কোমরে হাত দিতে যাচ্ছিল রিভলবারটা বার করার জন্য। কিন্তু তাই দেখে একজন ইনকা রক্ষী এমনভাবে তাঁর বর্শা উঁচিয়ে ধরল যে, সে আর হাত নাড়তে সাহস পেল না।

    মাটিতে পড়ে আছে সুজয়রা। তাদের কী করা উচিত তারা বুঝতে পারছে না। ইনকাদের বর্শার ফলাগুলো চারপাশ থেকে উঁচিয়ে ধরা তিনজনের দিকে। সূর্যের আলোতে ঝলমল করছে সেগুলো। এক-একটা মুহূর্ত যেন এক-একটা ঘণ্টা! হিংস্র চোখে তাদের দিকে তাকিয়ে আছে লোকগুলো। সুজয়ের প্রতি মুহূর্তেই মনে হতে লাগল, এই বুঝি বর্শার ফলাগুলো ছুটে আসবে তাদের দিকে। ঠিক এমন সময় সম্ভবত চিৎকার চেঁচামেচির শব্দ শুনেই প্রাসাদের ভিতর থেকে বাইরে বেরিয়ে এসে দাঁড়ালেন কুইলো। তাঁর পিছনে মুখে উলকি আঁকা অস্ত্রধারী আরও দুজন আমাজনীয় দেহরক্ষী।

     

     

    কুইলো বাইরে আসতেই সুজয়দের ঘিরে ধরা রক্ষীরা তাকাল তাঁর দিকে। শুধু যেন কুইলোর সামান্য ইশারার অপেক্ষা, আর তা পেলেই তারা মুহূর্তের মধ্যে ছিন্নভিন্ন করে দেবে এই বিদেশিদের।

    কুইলো প্রথমে সব কিছু ভালো করে দেখে দুর্বোধ্য ভাষায় রক্ষীদের সরে যাবার নির্দেশ দিলেন। কয়েক পা পিছু হটে সার বেঁধে দাড়াল তারা। সুজয়রা এরপর ধীরে ধীরে উঠে দাঁড়াল। কুইলো কুতকুতে চোখে তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছেন সুজয়দের দিকে। তাঁকে দেখে সুজয়ের মনে হল সম্ভবত সদ্য ঘুম ভেঙেছে তাঁর। মাথায় পালকের সেই বিশাল সাজ এখন তাঁর নেই। কুইলোর উন্মুক্ত ঊর্ধ্বাঙ্গে মাথা শুদ্ধ একটা পুমার চামড়া শালের মতো জড়ানো। প্রাণীটার মাথাটা এমন ভাবে কুইলোর ডান কাঁধে রাখা যে দেখলে মনে হবে একটা মানুষের দুটো মাথা!

    সুজয়রা তিনজন উঠে ধুলো ঝেড়ে কুইলোর সামনে দাঁড়াবার পর মার্কেজ তাঁকে কুয়েচুয়াতে বললেন, ‘মিস্টার পিনচিও, তাঁর সঙ্গী হুইকো কোথায় আছে বলতে পারেন? আমাদের দারুণ বিপদ হয়েছে! আমার সঙ্গের বাচ্চা ছেলেটাকে খুঁজে পাচ্ছি না! দয়া করে যদি তাকে খোঁজার ব্যবস্থা করে দেন তাহলে উপকার হয় আমাদের।’

    কুইলো মার্কেজের কথা শুনে নিরুত্তর ভাবে তাকিয়ে রইলেন তাঁর দিকে!

    মার্কেজ আবার একই কথা বললেন তাঁর উদ্দেশ্যে। কুইলোর হাবভাবের কোনো পরিবর্তন হল না। সুজয়রা বুঝতে পারল শাসনকর্তা কুইলোও অন্য ইনকা রক্ষীদের মতোই নিজেদের কথ্য ভাষা ছাড়া অন্য কোনো ভাষা বোঝেন না!

    অন্যদের মতো এরপর তাঁকেও আকার-ইঙ্গিতে নানাভাবে নিজেদের কথা বোঝাবার চেষ্টা করতে লাগল সুজয়রা। কিন্তু তাদের কথা মিনিট পাঁচেক ধরে শোনার পরও তা বোধগম্য না-হওয়াতে সম্ভবত ধৈর্যচ্যুতি ঘটল কুইলোর। স্বজাতীয় ভাষায় তিনি রক্ষীদের কী একটা নির্দেশ দিয়ে সুজয়দের দিকে পিছন ফিরে পা বাড়ালেন আবার বাড়ির ভিতরে যাবার জন্য।

    প্রফেসর মার্কেজ এবার একটা শেষ চেষ্টা করে তার উদ্দেশ্যে বলে উঠলেন, ‘করিকাঞ্চার পুরোহিত ইল্লাপা কি এখনও আপনার প্রাসাদে আছেন?’

    ইল্লাপা নামটা কানে যেতেই থমকে দাঁড়িয়ে পড়ে মার্কেজের দিকে ফিরে তাকালেন কুইলো। কয়েক মুহূর্ত তিনি তার দিকে তাকিয়ে থেকে দূরে আঙুল তুলে দেখিয়ে শুধু বললেন, ‘ইনতিহুয়ানাতা।’ এরপর আর তিনি দাঁড়ালেন না। ঢুকে পড়লেন প্রাসাদের ভিতর। আমাজনীয় রক্ষী দুজন এসে দরজা আগলে দাঁড়াল। অর্থাৎ, ভিতরে প্রবেশ নিষেধ!

     

     

    কিংকর্তব্য বিমূঢ় হয়ে দাঁড়িয়ে রইলেন মার্কেজ। সুজয় বলল, ‘কুইলোর কথা শুনে মনে হচ্ছে ইনকা পুরোহিত ইনতিহুয়ানাতার দিকে গিয়েছেন। তার তো ওখান থেকেই যাত্রা শুরু করার কথা। তাড়াতাড়ি ওখানে চলুন। ওকে ধরতে পারলেও কাজ হবে!’

    বিলও প্রফেসরকে বলল, ‘ও ঠিকই বলেছে। এখনই ইল্লাপার খোঁজে ওখানে যাওয়া প্রয়োজন। হয়তো মিস্টার পিনচিও আর হুইকোও ওখানেই আছে! তা ছাড়া অন্য একটা ব্যাপারও হতে পারে! সেটা হল…’—বিল তার কথা শেষ না-করেই কার্যত ছুটতে শুরু করল ইনতিহুয়ানাতার দিকে। তার পিছনে সুজয় আর প্রফেসর মার্কেজও এগোল। দূর থেকেই দেখা যাচ্ছিল সূর্যস্তম্ভের শীর্ষদেশ। কাজেই সেটা লক্ষ করে এগোতে তাদের অসুবিধা হল না। কিছুক্ষণের মধ্যেই তারা এসে উপস্থিত হল ইনতিহুয়ানাতা চত্বরে।

    চত্বরটা একটা টিলার ওপর অবস্থিত। চারপাশে অনেক দূর পর্যন্ত ছড়িয়ে আছে প্রাচীন নগরীর ধ্বংসাবশেষ। আর তারপর দিগন্ত ব্যাপী মহারণ্য। ভোরের সূর্যালোক এসে ছড়িয়ে পড়েছে সূর্যস্তম্ভের মাথায়, তার চারপাশে ঘিরে থাকা পাথুরে চত্বরে। কিন্তু সেখানে কেউ নেই, চড়াই জাতীয় ছোটো কয়েকটা পাখি শুধু খেলে বেড়াচ্ছে সেখানে। ধাপ বেয়ে সুজয়রা এসে দাঁড়াল ইনতিহুয়ানাতার বেদিমূলে। চারপাশে অনেকটা জায়গা দেখা যাচ্ছে সেখান থেকে। না, কোথাও চোখে পড়ছে না ইনকা পুরোহিত বা অন্য কাউকে। বিল বলল, ‘ইনকা পুরোহিত সম্ভবত চলে গেছেন। চলুন এবার আমরা সুসানকে নগরের ভিতর খুঁজতে শুরু করি। মিস্টার পিনচিও তো নিশ্চই এই নগরের ভিতরেই কোথাও আছেন।’ প্রফেসর আশাহত হয়ে বললেন, ‘তাই চলো।’

    কথাটা বলার পরই মার্কেজ হঠাৎ দু-পা এগিয়ে মাটি থেকে কী একটা ছোট্ট জিনিস কুড়িয়ে নিলেন। মুহূর্তখানেক সেটা ভালো করে দেখে ফ্যাকাশে মুখে হাতের তেলোটা বাড়িয়ে দিলেন সুজয়দের দিকে। একটা ছোট্ট সোনালি রঙের বোতাম!

    মার্কেজ অস্পষ্ট স্বরে বললেন, ‘সুসানের জামার বোতাম! কাল রাতে ও এ জামাটাই পরেছিল’!

    মার্কেজ সম্ভবত এরপর কী একটা বলতে যাচ্ছিলেন, কিন্তু বিল হঠাৎ একটু দূরে মাটির দিকে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে বলে উঠল, ‘ওটা কী!?’ তার দৃষ্টি অনুসরণ করে সেখানে তাকাতেই চমকে উঠল সুজয়। একটা লাল রঙের ধারা বেদির ওপাশ থেকে বেদিমূলের ধাপ বেয়ে এদিকে এগিয়ে এসেছে। রক্ত! জমাট বাঁধা রক্তধারা! নির্বাক হয়ে সকলে তাকিয়ে রইল সেদিকে। একটা অশুভ চিন্তা মুহূর্তের মধ্যে গ্রাস করল সুজয়কে! বিলই প্রথম সাহসে ভর করে রক্তধারা অনুসরণ করে বেদির ওপাশে এগিয়ে গেল। কয়েক মুহূর্তের নিস্তব্ধতা। ওপাশে বিলের কোনো সাড়াশব্দ নেই! সুজয়ের বুকের ভিতর কেউ যেন হাতুড়ি পিটছে। মার্কেজের মুখ রক্ত শূন্য!

     

     

    একসময় ওপাশ থেকে বিলের গলার স্বর শোনা গেল, ‘প্রফেসর ভয় পাবেন না, এদিকে আসুন!’

    সুজয় আর মার্কেজ তার গলার স্বর শুনে একটু আশ্বস্ত হয়ে বেদির ওপাশে এগিয়ে গেল। তারপর তাদের চোখে পড়ল ব্যাপারটা! ইনকা পুরোহিতের সঙ্গে আনা সেই সাদা রঙের বাচ্চা লামাটা পড়ে আছে মাটিতে। তার কন্ঠনালি ছিন্নভিন্ন! তার দেহ আর চারপাশ লাল হয়ে আছে রক্তে। তার কাছেই এক জায়গাতে ছড়িয়েছিটিয়ে পড়ে আছে আছে কিছু ফুল-পাতা।

    কয়েক মুহূর্ত সেদিকে তাকিয়ে থাকার পর মার্কেজ বললেন, ‘সম্ভবত ইনতির উদ্দেশ্যে লামাটাকে উৎসর্গ করা হয়েছে। এই ভাবে টুমি দিয়ে কন্ঠনালি ছিন্ন করে লামা বলি দেয় ইনকারা! তার মানে ইল্লাপা চলে গেছেন, আর তিনিই সম্ভবত সঙ্গে নিয়ে গেছেন সুসানকে! নইলে তার জামার বোতাম এখানে পড়ে থাকবে কেন?’ মার্কেজের কন্ঠস্বর রুদ্ধ হয়ে এল, বৃদ্ধ কপাল চেপে ধরে পাথরের ধাপে বসে পড়লেন। সুজয় আর বিল নির্বাক হয়ে রইল।

    ভেঙে পড়েছেন প্রফেসর। কিছুক্ষণ পর বিল সুজয়কে বলল, ‘এখন কী করা উচিত বলোতো? ইল্লাপা কোন দিকে গেছেন কিছুই আমাদের জানা নেই। মিস্টার পিনচিও আর হুইকোও তাদের সঙ্গে গেছেন কিনা তাও বুঝতে পারছি না! সুসান যদি সত্যিই ইল্লাপার সঙ্গে গিয়ে থাকে তবে তাকে আমরা কীভাবে খুঁজব?’

    সুজয় একটু চিন্তা করে বলল, ‘ইনকা পুরোহিত গতকাল রাতে বলেছিলেন, চারদিন বাদে তিনি আবার সুসানকে নিয়ে এখানে ফিরে আসবেন। এই চারদিন অপেক্ষা করা ছাড়াতো এই মুহূর্তে অন্য কোনো রাস্তা দেখছি না।’

    বিল মার্কেজের দিকে একবার তাকিয়ে নিয়ে চাপাস্বরে বলল, ‘কিন্তু তারা যদি আর না-ফেরে?’

    এ প্রশ্নের জবাব সুজয়ের কাছে নেই। কিছুক্ষণ চুপ করে থেকে সে বলল, ‘এখানে দাঁড়িয়ে থেকে তো কোনো লাভ নেই। তবুও চলো আমরা একবার নগরীর ভিতর সুসানকে খুঁজে দেখি।’

    বিল বলল, ‘হ্যাঁ, সেই ভালো।’

    সে মার্কেজের কাছে গিয়ে তাঁর কাঁধে হাত রেখে আশ্বাসের সুরে বলল, ‘চলুন প্রফেসর। আমরা দুজনতো আপনার সঙ্গে আছিই। দেখা যাক কী করা যায়। আপনি ভেঙে পড়লে চলবে না। ঠাণ্ডা মাথায় ভাবতে হবে।’

    তার কথা শোনার পর মার্কেজ পকেট থেকে রুমাল বার করে চশমার কাচ মুছলেন, তারপর বিলের কাঁধে ভর দিয়ে উঠে দাঁড়ালেন।

     

     

    বিল সুজয়কে বলল, ‘আমরা প্রথমে এখান থেকে আমাদের থাকার জায়গাতে একবার গিয়ে দেখব, তারপর নগরীর ভিতর খুঁজতে বেরব।’—এই বলে সে প্রফেসরকে নিয়ে পা বাড়াতে যেতেই হঠাৎ তাদের কানে একটু দূর থেকে একটা কন্ঠস্বর ভেসে এল, সেনর! সেনর!—’

    তারা শব্দ লক্ষ করে তাকিয়ে দেখতে পেল কিছু দূরে একটা ভগ্ন প্রাচীরের আড়াল থেকে উঁকি দিচ্ছে একটা লোক। তারা তার দিকে তাকাতেই সে হাতছানি নিয়ে ডাকল তাদের। কয়েক মুহূর্ত তার দিকে তাকিয়ে থাকার পর সুজয়রা চিনতে পারল লোকটাকে, সুজয়দের সঙ্গে আসা সেই বুড়ো লামাঅলা! যাকে কাল খুঁজে পাচ্ছিল না হুইকো!

    সুজয়রা তার দিকে এগিয়ে যেতেই লোকটা ইশারায় তাদের প্রাচীরের আড়ালে আসতে বলল। সুজয়রা প্রাচীরের ওপাশে গিয়ে তার সামনে দাঁড়াতেই সে সম্ভবত কুয়েচুয়া ভাষায় মার্কেজকে কী একটা বলল!

    তার কথা শুনে মার্কেজ সুজয়দের বললেন, ‘ও বলছে, ও নাকি সুসানকে দেখেছে!’

    এরপর মার্কেজ লোকটাকে প্রশ্ন করতে যাচ্ছিলেন, কিন্তু লোকটা হঠাৎ দূরে আঙুল তুলে দেখাল। দূর থেকে দুজন ইনকা রক্ষী ইনতিহুয়ানাতা চত্বরের দিকে আসছে। সম্ভবত সকালবেলা রোদে বেরিয়েছে তারা, কিংবা হয়তো সুজয়দের ওপর নজরদারি করার জন্যই তারা এদিকে আসছে! তাদেরকে দেখাবার পর লামাঅলা আর সেখানে দাঁড়াল না। সুজয়দের তার সঙ্গে আসতে বলে সে প্রাচীরের আড়াল ঘেঁসে এগোল কিছু দূরের একটা দেউলের ধ্বংসস্তূপের দিকে। তাকে অনুসরণ করে সুজয়রা ঢুকে পড়ল তার ভিতর। তারপর তাদের নিয়ে ছাদহীন, চারপাশে দেওয়াল ঘেরা একটা ঘরের মধ্যে এসে দাঁড়াল লোকটা। বাইরে থেকে সে জায়গাটা দেখার কোনো সম্ভাবনা নেই।

    সুজয়রা লোকটাকে ঘিরে দাড়াবার পর প্রফেসর মার্কেজ তাকে জিজ্ঞেস করলেন, ‘সুসানকে তুমি কোথায় দেখেছ?’ সে জবাব দিল, ‘ইনতিহুয়ানাতাতেই। করিকাঞ্চার পুরোহিতের সাথে। একটা লামার পিঠে বাঁধা ছিল সে। তখনও সূর্য ভালো করে ওঠেনি। তারা চলে গেল!’

    ‘তারা কোথায় গেছে তুমি জানো! আর কে ছিল তাদের সঙ্গে?’ উত্তেজিত ভাবে জানতে চাইলেন মার্কেজ।

    লোকটা বলল, ‘তারা গেছে নিষিদ্ধ নগরীতে। সেনর পিনচিও, হুইকো আর সঙ্গে আছে।’

    মার্কেজ বললেন, ‘ওরা যে দিকে গেছে তুমি সে দিকে আমাদের এখন নিয়ে যেতে পারবে? সে পথ তুমি চেনো?’

    সে বলল, ‘নগর ছেড়ে তারা এতক্ষণে অনেক দূর চলে গেছে। নিষিদ্ধ নগরীতে যাবার রাস্তা আমার জানা নেই। তা ছাড়া আমাকে দেখতে পেলেই রক্ষীরা ধরে নিয়ে গিয়ে ইনতিহুয়ানাতায় বেঁধে পুড়িয়ে মারবে। করিকাঞ্চা পুরোহিত কুইলোকে এ কাজ করতে বলেছেন। কাল রাতে দুজন রক্ষী এই আলোচনা করছিল ইনতিহুয়ানাতার বেদিতে বসে। আমি আড়াল থেকে শুনেছি!’

    প্রফেসর এবার লোকটা কুয়েচুয়াতে কী বলছে তা জানালেন সুজয় আর বিলকে। সুজয় শুনে মার্কেজের মাধ্যমে তাকে প্রশ্ন করল, ‘এ ঘটনা যে ঘটবে তা কি তুমি জানতে? তুমিতো ওদেরই সঙ্গে এসেছিলে, তুমি ওখানে গেলে না কেন? ব্যাপারটা একটু খুলে বলতো?

    লোকটা দ্বিতীয় প্রশ্নের উত্তর আগে দিল। সে বলল, ‘নিষিদ্ধ শহরে গেলে কেউ আর প্রাণ নিয়ে ফিরে আসে না। সে হল মৃত্যু নগরী। তা ছাড়া, ওদের কথাবার্তা যা শুনেছি, তাতে আর ওরা এপথে ফিরবে না। আমাজনের দিকে চলে যাবে।’

    তার কথা শুনে মার্কেজ মৃদু আর্তনাদ করে বললেন, ‘তার মানে সুসানকে নিয়ে তারা আর এখানে ফিরবে না!?’

    লোকটা জবাব দিল, ‘ওরা তাই বলেছিল।’

    এরপর লোকটা সুজয়ের দিকে তাকিয়ে বলতে শুরু করল, ‘আমি প্রথমে এসব ব্যাপার জানতাম না। হুইকো আমাকে বলেছিল, একদল সাহেবকে সে জঙ্গল দেখাতে নিয়ে যাচ্ছে, সঙ্গে গেলে দিন পিছু একশো ডলার পাওয়া যাবে। কোচা নদী পর্যন্ত যাবে তারা। এত টাকা কেউ দেয় না। আমি রাজি হয়ে গেলাম। তখনও আমি জানতাম না যে করিকাঞ্চার পুরোহিত আমাদের সঙ্গে যাচ্ছেন। পরদিন যাত্রা শুরুর সময় তাকে দেখে অবাক হয়ে গেছিলাম আমি। তবে তখনও ব্যাপারটা সেভাবে আন্দাজ করতে পারিনি। সেটা বুঝতে পারলাম সে দিন রাতে জঙ্গলের মধ্যে আপনারা সবাই তাঁবুতে শুতে চলে যাবার পর। অগ্নিকুন্ডের ধারে আমাদের সবাইকে ডাকলেন করিকাঞ্চা পুরোহিত। তখনই আমি জানতে পারলাম আমরা আসলে তাঁর সঙ্গে যাচ্ছি নিষিদ্ধ নগরীতে। তবে সবাই নয়, বিদেশিদের মধ্যে শুধু সেনর পিনচিও আর আপনাদের বাচ্চা ছেলেটা সেখানে যাবে। আমাদের এও নির্দেশ দেওয়া হল যে, আপনাদের ওপর যেন সবসময় নজর রাখা হয়, আর কোনো কারণে আপনারা করিকাঞ্চা পুরোহিত আর সেনর পিনচিওর সঙ্গে না-এগোতে চাইলে তাঁদের নির্দেশ মতো আমরা যেন আপনাদের খতম করে দেই। আর এও শুনলাম এই সূর্যনগরী পর্যন্ত আপনাদের নিয়ে আসা হবে, তারপর আপনাদের এখানে ছেড়ে দিয়ে বাচ্চাটাকে নিয়ে যাওয়া হবে নিষিদ্ধ নগরীতে!’

    কথাগুলো বলে একটু থামল লোকটা, তারপর আবার বলতে শুরু করল, ‘নিষিদ্ধ নগরীতে যাবার কথা আর খুনোখুনির ব্যাপার শুনে আমি হুইকোকে বললাম, ‘আমি ফিরে যাব।’ সেনর পিনচিও আমাকে অনেক টাকার লোভ দেখালেন। আমি তবুও সঙ্গে আসতে রাজি ছিলাম না। করিকাঞ্চা পুরোহিত তখন আমাকে ভয় দেখিয়ে বললেন যে ফেরার চেষ্টা করলে আমাকেও গুলি করে মারা হবে! আমি তখনই মনে মনে ঠিক করে নিয়েছিলাম, আমাকে ফিরতে না-দিলে সুযোগ মতো পালাতে হবে, আর আপনাদেরও সাবধান করে দিতে হবে। কিন্তু তা আর হল না। রাতে আমি তাঁবুতে ঢুকলাম, সেনর আমার কথা বুঝতে পারলেন না। সারাটা পথ ওরা আমাকে চোখে চোখে রাখল, পালাতে পারলাম না। কাল সন্ধ্যায় ইনতিহুয়ানাতা লোকজনের ভিড়ে সুযোগ এসে গেল, আমি গা ঢাকা দিলাম…।’ কথা শেষ করল লোকটা।

    সুজয়রা পুরো ব্যাপারটা শুনে স্তম্ভিত হয়ে গেল। বিল বলল, ‘তার মানে, মিস্টার পিনচিও প্রথম থেকেই এই চক্রান্তের শরিক। আমাদের প্রাচীন নগরী দেখাতে আনার মূল উদ্দেশ্য ছিল সুসানকে ঠিকমতো এ পর্যন্ত নিয়ে আসা!’

    বিল লোকটাকে মার্কেজের মাধ্যমে প্রশ্ন করল, ‘তুমি জানো, ছেলেটাকে ওরা ওখানে কেন নিয়ে যাচ্ছে?’

    সে জবাব দিল, ‘তা ঠিক জানি না। তবে, করিকাঞ্চা পুরোহিতকে একবার সেনর পিনচিওর উদ্দেশ্যে বলতে শুনেছিলাম, ‘বাচ্চাটা না-থাকলে আমিও ওখানে ঢুকতে পারব না।’

    প্রফেসর মার্কেজ সুজয়ের দিকে তাকিয়ে বিষণ্ণ কন্ঠে বললেন, ‘সবই তো শুনলেন, এখন কী করা যায় বলুন? যে ভাবেই হোক সুসানকে ফিরে পেতেই হবে।’

    সুজয় বলল, ‘এই লোকটাই এখন আমাদের ভরসা। ও নিজে নিষিদ্ধ নগরীর রাস্তা না-চিনলেও, ও যদি এমন কোনো সূত্র দিতে পারে যার মাধ্যমে আমরা সেখানে পৌঁছোতে পারি, তাহলে একটা উপায় হয়তো হবে। ওর কর্মপন্থাও আমাদের জানা প্রয়োজন?’

    প্রফেসর এরপর লোকটাকে জিজ্ঞেস করল, ‘তুমি এখান থেকে কোন দিকে যাবে? তোমার এমন কেউ জানা আছে যে ওই নিষিদ্ধ নগরীর রাস্তার সন্ধান দিতে পারে?’

    লোকটা বলল, ‘আমি আগে এ নগরীতে না-এলেও অনেক বছর আগে এক সাহেবের সঙ্গে এ নগরীর কাছাকাছি এসেছিলাম। এই নগরীর পুব দিকে পঁচিশ মাইল দূরে চিমু জাতীর একটা ছোটো গ্রাম আছে। এই নগরীর পাশ দিয়ে রাস্তা ধরে জঙ্গলের মধ্যে দিয়ে সেখানে গেছিলাম আমরা। সাহেব গেছিলেন ছবি তুলতে। আজ রাতে আমি ওই গ্রামের দিকে পালাব। ওখানে পৌঁছোতে পারলে তারপর ওদের সাহায্য নিয়ে নদীপথে আমি কোচা নদী পর্যন্ত পৌছোতে পারব। সেখান থেকে আমি একলাই ফিরতে পারব মাচুপিচুতে।

    সুজয় তাকে প্রশ্ন করল, ‘তারা তোমাকে সাহায্য করবে কেন?’

    সে উত্তর দিল, ‘আমার নাম, টিহুয়াচান।’ চিমু উপজাতির লোক। চিমুরা এমনিতে দুর্ধর্ষ হলেও স্বজাতীয়দের প্রতি তাদের দারুণ টান, তা তারা যেখানেই থাকুক না কেন! প্রয়োজন হলে তারা নিজেদের লোকের জন্য জানও দিতে পারে!

    মার্কেজ এবার তাকে বলল, ‘তুমি নিষিদ্ধ নগরীর রাস্তা না চিনলেও সে জায়গা সম্বন্ধে একটা আন্দাজ দিতে পারো?’

    টিহুয়া চান জবাব দিল, ‘শুনেছি জায়গাটা রুক্ষা নেড়া পাহাড়ি অঞ্চল। সেখানে নাকি বিচামার মন্দির আছে। কাকা কুজকোদের এলাকা সেটা। ওখানে গেলে কেউ ফেরে না। তাদের ধরে নিয়ে গিয়ে বিচামার সামনে বলি দেওয়া হয়!’

    এরপর একটু যেন ভেবে নিয়ে সে বলল, ‘আমি যেখানে যাচ্ছি সেখানে যে গাঁও বুড়ো আছে তার অনেক বয়স। সে অনেক কিছু জানে। হয়তো সে আপনাদের নিষিদ্ধ নগরীর রাস্তা বাতলাতে পারে। আপনারা চাইলে আমার সাথে সে গ্রামে যেতে পারেন। তারপর নিষিদ্ধ নগরীর সন্ধান না পেলে নয় আমার সাথেই ফেরার পথ ধরবেন।’

    টিহুয়াচানের প্রস্তাব শুনে মার্কেজ তাকালেন সুজয়দের দিকে। সুজয় বলল, ‘আমার মনে হচ্ছে ওর প্রস্তাবটা খারাপ নয়। ওই গাঁও বুড়ো হয়তো আমাদের কোনো আশার আলো দেখাতে পারে। তাছাড়া যত দ্রুত সম্ভব এ নগরী ত্যাগ করা প্রয়োজন। ইল্লাপা আমাদের সম্বন্ধে কুইলোকে কী নির্দেশ দিয়ে গেছেন কে জানে! হয়তো কুইলো যে কোনো মুহূর্তে আমাদের গ্রেপ্তার করবেন! এ সব ঘটার আগেই অন্তত এ জায়গা ছেড়ে যাওয়া ভালো।’

    বিল বলল, ‘আমারও তাই মনে হয়। আর সে ক্ষেত্রে এই লোকটাই আমাদের একমাত্র সাহায্য করতে পারে।’

    প্রফেসর মার্কেজ, সুজয় আর বিল এরপর বেশ কিছুক্ষণ আলোচনা করল নিজেদের মধ্যে। তারপর মার্কেজ টিহুয়াচানকে বললেন, ‘আমরা যেতে চাই তোমার সাথে। কিন্তু কীভাবে পালাব আমরা?’

    টিহুয়াচান বলল, ‘আজ সূর্য ডোবার পর ইনতিহুয়ানাতার মাথার ওপর যখন চাঁদ উঠবে তখন ইনতিহুয়ানাতার পশ্চিমে যে ‘আকল্লা কুনা’ আছে তার পিছনে আসবেন। আমি অপেক্ষা করব। ও জায়গাটা ফাঁকাই থাকে। দু-একজন মহিলা রক্ষী ছাড়া সেখানে পুরুষ রক্ষীরা যায় না। ওদের চোখ এড়ানো সহজ হবে। যাবার সময় জায়গাটা দেখে যান। আকল্লা কুনার দেওয়ালে নাক ভাঙা একটা বড় সূর্যমূর্তি খোদাই করা আছে। তার পায়ের নীচে একজন নারী। দেখলে চিনতে পারবেন।’

    টিহুয়াচান এরপর দেওয়ালের বাইরে একবার উঁকি মেরে বলল, ‘আপনারা এখন যান, আমিও যাই। রক্ষীরা খুঁজতে খুঁজতে এখানে চলে আসতে পারে। অনেকক্ষণ আমরা এখানে আছি। আপনারা চিন্তা করবেন না। আমি আকল্লাকুনাতে থাকব।’

    সবাই এরপর সেই চার দেওয়ালের বাইরে বেরিয়ে এল। বাইরে আসার পর মুহূর্তের মধ্যে চারপাশের ধ্বংসস্তূপের মধ্যে কোথায় যেন হারিয়ে গেল টিহুয়াচান। তাকে আর দেখতে পেল না কেউ। সুজয়রা এগোলো আকল্লাকুনা খুঁজে বার করার জন্য। মাথার ওপর রোদ অনেকটা উঠে গেছে। প্রফেসরের বয়স যেন ঘণ্টাখানেকের মধ্যেই আরও দশ বছর বেড়ে গেছে। চারদিকে ছড়িয়ে আছে কত প্রাচীন স্থাপত্য। যা দেখতে এসেছিল সুজয়রা। সে সব দিকে এখন আর তাদের নজর নেই। গভীর চিন্তায় ডুবে হাঁটতে লাগল তারা। কীভাবে পৌঁছানো যাবে সুসানের কাছে?

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleঅ্যাডভেঞ্চার ভয়ংকর – হিমাদ্রিকিশোর দাসগুপ্ত
    Next Article আঁধার রাতের বন্ধু – হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত

    Related Articles

    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত

    বিষ্ণুলোকে সন্ধ্যা নামে – হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত

    March 20, 2026
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত

    সাদা বিড়াল – হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত

    January 31, 2026
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত

    নেকড়ে খামার – হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত

    December 10, 2025
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত

    অ্যাডভেঞ্চার সমগ্র ১ – হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত

    December 10, 2025
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত

    অ্যাডভেঞ্চার সমগ্র ২ – হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত

    December 9, 2025
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত

    জাদুকর সত্যচরণের জাদু কাহিনি – হিমাদ্রি কিশোর দাশগুপ্ত

    December 9, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Our Picks

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }