Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    সূর্যমন্দিরের শেষ প্রহরী – হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত

    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত এক পাতা গল্প262 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    সূর্যমন্দিরের শেষ প্রহরী – ১৫

    ১৫

    সুসানের যখন ঘুম ভাঙল। তখন রোদ ঘরের কোনো স্পর্শ করেছে। উঠে বসল সুসান। বাঘটা কি মরে গেছে? সুসান উঁকি দিল দরজার দিকে। কালো প্রাণীটা একইভাবে পড়ে আছে। দূরে দেখা যাচ্ছে সূর্যের আলোতে আলোকিত পাথুরে চত্বর। কিন্তু কোনো লোকজন নেই সেখানে। কোথাও কোনো শব্দও নেই। সূর্যোদয়ের সাথে সাথেই ঘুমিয়ে পড়েছে এ নগরী। সুসান উঠে গিয়ে দাঁড়াল জানলার সামনে। চারপাশে রুক্ষ পাহাড়। কোনো নয়নাভিরাম দৃশ্য নেই। নীচে অতলান্ত খাদ, নিষিদ্ধ নগরীতে ওঠার পাকদন্ডী। ওই বেয়েই এ নগরীতে প্রবেশ করেছে সুসানরা। বাইরে চড়া রোদ। সূর্য মাঝ আকাশের দিকে এগোচ্ছে। সুসান অনেকক্ষণ ঘুমিয়েছে। সুসান তাকালো আকাশের দিকে। মেঘহীন আকাশ। ঝাঁক বেঁধে আকাশে উড়ে বেড়াচ্ছে কনডোর পাখিরা। মাঝে মাঝে তাদের কর্কশ ডাক প্রতিধ্বনিত হচ্ছে পাহাড়ে। ‘তার দাদু এখন কোথায়?’ জানলার সামনে দাঁড়িয়ে সুসান ভাবতে লাগল।

    কিছুক্ষণ পর একটা শব্দে দরজার দিকে ফিরে তাকাল সুসান। কালো প্রাণীটা টলতে টলতে উঠে দাঁড়িয়েছে দরজার সামনে। সুসানের দিকে সে তাকিয়ে আছে। প্রাণীটার চোখে হিংস্রতার লেশ মাত্র নেই, বরং কেমন যেন একটা করুণ ভাব ফুটে উঠেছে তার চোখে। সুসানকে কিছুক্ষণ দেখার পর প্রাণীটা একটা ঘড়ঘড় শব্দ করতে শুরু করল। জন্তুটাকে দেখে সুসানের হঠাৎ অন্য একটা প্রাণীর কথা মনে পড়ে গেল। তাদের ভ্যালপারাইজোর বাড়িতে একটা কুকুর আছে। গ্রেট ডেন, বিরাট কুকুর, তার পিঠের উচ্চতা এই কালো বাঘের চেয়েও বেশি। সুসানকে সে খুব ভালোবাসে। সেও এমন ঘড়ঘড় শব্দ করে। সুসানের হঠাৎ মনে হল, ‘এ প্রাণীটা সত্যিই কি বাঘ? অন্য কোনো প্রজাতির কুকুর নয়তো? নইলে এ লোকগুলো বাঘকে কুকুরের মতো পোষ মানিয়েছে কীভাবে? বাঘ কি কখনো পোষ মানে? এ দেশেতো অনেক অদ্ভুত অদ্ভুত দেখতে প্রাণী আছে! লামা, টেপির, ভিসুনিয়া আরও কত কি! দাদুতো সুসানকে বলেছিল, লামা আসলে হল উটজাতীয় প্রাণী! অথচ তাদের চেহারার কত তফাত! এই বাঘের মতো দেখতে প্রাণীটা আসলে এদেশীয় কুকুর নয়তো?’

    ঘড়ঘড় শব্দ করতে করতে প্রাণীটা ঘরের ভিতর আনাচেকানাচে তাকাতে লাগল। যেন কী খুঁজছে ও। তারপর এক সময় ও জলের পাত্রটার দিকে তাকিয়ে স্থির হয়ে গেল। একটা সোনার প্যানের মতো পাত্রে জল রাখা আছে। প্রাণীটা সেটা দেখতে পেয়েছে। কয়েক মুহূর্ত পাত্রটার দিকে তাকিয়ে থাকার পর সে ঘরে ঢুকতে গেল পাত্রটার কাছে যাবার জন্য। গলার শিকলে টান পড়ল প্রাণীটার। চৌকাঠে আটকে গেল সে। প্রাণীটা এরপর করুণ দৃষ্টিতে একবার তাকাতে লাগল জলের পাত্রর দিকে, আর একবার সুসানের দিকে। সুসান বুঝতে পারল কালো জন্তুটার জল তেষ্টা পেয়েছে, কিন্তু পাত্রটা এগিয়ে দিতে প্রথমে তার সাহস কুলালো না। সেও দেখতে লাগল প্রাণীটাকে। সতৃষ্ণ নয়নে সে বারবার তাকাচ্ছে পাত্রর দিকে। কিছুক্ষণ পর সুসান সাহস সঞ্চয় করল। জলের পাত্রটা দরজার কাছে নিয়ে এসে, সে সেটা ঠেলে দিল বাঘটার দিকে। বাঘটার গলা তবুও পাত্রর কাছে পৌঁছল না। সুসান এবার বাঘটার আরও কাছে গিয়ে পাত্রটা আর একটু ঠেলে দিল। মনে হয় খুব তেষ্টা পেয়েছিল তার, সঙ্গে সঙ্গে সে অতবড়ো পাত্রের প্রায় অর্ধেক জল খেয়ে নিল, তারপর লম্বা জিভ দিয়ে ঠোঁট চাটতে চাটতে তাকিয়ে রইল সুসানের দিকে। সুসান খেয়াল করেনি যে সে বাঘটার এত কাছে চলে এসেছে যে ঘরের মধ্যে ঢুকতে না পারলেও থাবা বাড়ালেই সে সুসানকে পেয়ে যাবে। সূর্যমন্দিরের প্রহরী কিন্তু তার দিকে থাবা বাড়াল না, একটা শুধু মোলায়েম শব্দ করল। যেন সুসানকে জল দেবার জন্য কৃতজ্ঞতা জানাল। সুসানের এরপর মনে হল, হয়তো প্রাণীটার খিদেও পেয়েছে। থালায় তখনও অনেকটা ঝলসানো মাংস পড়ে রয়েছে। সুসান খেয়ে দেখেছে তার স্বাদটা কেমন যেন কাঁচা কাঁচা, আঁশটে গন্ধও আছে তাতে। খুব খিদে পেয়েছিল বলে তাই সে খেয়েছিল মাংসটা। হয়তো ওই মাংস বাঘটার খেতে ভালো লাগবে! এই ভেবে এরপর সুসান ঘরের মাঝখান থেকে মাংসের পাত্রটা এনে বাঘটার একদম মুখের কাছে নামিয়ে রাখল। সে সেটা একবার শোঁকার পর খেতে শুরু করল। সুসান একদম চৌকাঠে দাঁড়িয়ে। তাঁর ঠিক সামনের বিরাট বড়ো কালো মাথাটা নীচু করে খাচ্ছে প্রাণীটা। তার তেল চুকচুকে কালো শরীরের অনেক জায়গাতে কেটে বসে গেছে চাবুকের দাগ। দেহের জায়গায় জায়গায় রক্ত আর লোম জমাট বেঁধে দলা পাকিয়ে আছে। তাকে দেখে বেশ কষ্ট হল সুসানের। তার ইচ্ছা হল প্রাণীটার মাথায় একবার হাত দেয়। এরপর এক সময় হয়তো নিজের অবচেতনেই বাঘটার মাথায় হাত দিয়ে বসল। বাঘটা কিছু বলল না। সে চুপচাপ খেতে লাগল। সুসানের ছোটো ছোটো আঙুল চলে ফিরে বেড়াতে লাগল প্রাণীটার মাথায়, ঘাড়ে।

    এক সময় সম্বিৎ ফিরে এল সুসানের। সে কার গায়ে হাত দিচ্ছে! চমকে উঠে পাথরের মূর্তির মতো দাঁড়িয়ে রইল সুসান। কালো প্রাণীটা ততক্ষণে খাওয়া শেষ করে স্থির দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে সুসানের দিকে। একবার হাই তুলল প্রাণীটা। কি ভয়ঙ্কর তার দাঁতগুলো! ইচ্ছা হলে সে এখন মুহূর্তের মধ্যে ছিন্নভিন্ন করে দিতে তার ছোট্ট শরীরটাকে! কিন্তু বাঘটা এরপর সুসানের পায়ে মাথা ঘসতে ঘসতে একটা অন্যরকম ঘড় ঘড় শব্দ করতে লাগল। এ শব্দের ধরন সুসানের চেনা। তাদের গ্রেটডেনটা যখন আদর খেতে চায় তখন সে পায়ে মাথা ঘসে এমনই শব্দ করে!

    আবার সাহস ফিরে পেল সুসান। সে বাঘটার গায়ে হাত দিয়ে ধীরে ধীরে তাকে আদর শুরু করল। প্রাণীটাও মাথা নীচু করে শব্দ করে যেতে লাগল। কিছুক্ষণ পর সুসানের মনে হঠাৎ একটা প্রশ্ন জাগল,—ইনকা পুরোহিত কি ফিরে এসে আবার চাবুক মারবেন ওকে?’ চাবুক হাতে ইনকা পুরোহিতের পৈশাচিক চেহারার কথা ভেবে কেঁপে উঠল সুসান। কিন্তু ওকে যদি এখন শিকল থেকে মুক্ত করে দেওয়া যায় তাহলে তো আর তিনি তাকে চাবুক মারতে পারবেন না! কথাটা মাথায় আসতেই সুসান এরপর তার গলার শিকলটা খোলার চেষ্টা করতে লাগল। কিছুক্ষণের মধ্যেই ঝনঝন শব্দে খসে পড়ল ভারী শিকলটা। শব্দটা শুনে চমকে উঠল সুসান। কালো বাঘটাও এবার ঘাড়টা তুলল। সে যে এখন মুক্ত তা সম্ভবত প্রাণীটা বুঝতে পারল। সে একবার তাকাল সুসানের দিকে, আর একবার তাকাল চত্বরের দিকে। মুহূর্তখানেক সে দাঁড়িয়ে রইল সেখানে। তারপর বিরাট একটা লাফ দিয়ে তিরের বেগে কোনাকুনি ছুটল চত্বরের দিকে। মাত্র কিছুটা সময়, লম্বা লম্বা লাফে বিদ্যুৎ গতিতে সে পার হয়ে গেল জায়গাটা। গিয়ে দাঁড়াল চত্বর প্রান্তের পাহাড়ি দেওয়ালের সামনে। সে দেওয়ালে মাটি থেকে বেশ কিছুটা উঁচুতে একটা গুহামুখ। প্রাণীটা মুহূর্তের জন্য একবার থমকে দাঁড়াল সেই দেওয়ালটার সামনে। ঘাড় ঘুরিয়ে পিছনে তাকিয়ে কী যেন একবার দেখল। তারপর খাড়া দেওয়াল বেয়ে সেই গুহাটার মধ্যে অদৃশ্য হয়ে গেল!

    সুসান কিছুক্ষণ তাকিয়ে রইল চত্বরের ওপাশে সেই গুহাটার দিকে। তার পর দরজার বাইরে বেরিয়ে কয়েক পা এগিয়ে ভালো করে তাকাল চত্বরের চারপাশে। চত্বরের এক দিকে দাঁড়িয়ে আছে পাহাড়ের গায়ে খোদিত বিশালাকৃতির মন্দির। মাঝখানে অনেকটা ফাঁকা জায়গার মাঝখানে দাঁড়িয়ে আছে ইনতিহুয়ানাতাগুলো। ওখানেই আছে বিচামার মূর্তি। মন্দিরের এক পাশ থেকে টানা বারান্দাঅলা কালো পাথরের তৈরি ঘর অর্ধবৃত্তাকারে এগিয়ে এসেছে সুসান যে ঘরে আছে সে দিকে। আর অন্য পাশে পাহাড়ের দেওয়ালের গায়ে সার সার গুহামুখ। সব কিছু ভালো করে তাকিয়ে দেখতে লাগল সুসান। চড়া রোদে খাঁ খাঁ করছে চত্বরটা। কেউ কোথাও নেই। যেন এই নিষিদ্ধ মৃত্যু নগরীতে সুসানই একমাত্র জীবিত প্রাণী! কাল রাতের অত রক্ষী, লোকজন, সব দিনের আলোতে কোথায় যেন ভ্যানিশ হয়ে গেছে। দিনের আলোতেও মৃত্যু নগরীতে থমথমে নিস্তব্ধতা বিরাজ করছে।

    কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকার পর সুসান যখন আবার ঘরে ফিরতে যাচ্ছে তখন একটা অদ্ভুত জিনিস চোখে পড়ল সুসানের। মন্দিরের কিছু দূরে বারান্দাঅলা কালো পাথরের বাড়ির ভিতর থেকে বেরিয়ে এল একজন লোক। বারান্দার বাইরে বেরিয়ে সে সম্ভবত চারপাশে তাকাতে লাগল। বেশ অনেকটা দূরে হলেও তার পোশাক দেখে কয়েক মুহূর্তের মধ্যে তাকে চিনতে পারল সুসান। লোকটা, পিনচিও আঙ্কল! তিনি চারপাশ দেখে নিয়ে এর পরই হঠাৎ ছুটতে শুরু করলেন চত্বরের মধ্য দিয়ে। তিনি ছুটছেন কেন বুঝতে পারল না সুসান। তিনি ছুটছেন পাহাড়ের গায়ে গুহাগুলোর দিকে। চত্বরের মাঝখানে ইনতিহুয়ানাতা দৌড়ে পার হতেই আকাশ থেকে নেমে এল একঝাঁক কনডোর! তাঁরা আক্রমণ করল পিনচিওকে। কোনো রকমে তাদের হাত থেকে নিজেকে বাঁচাবার চেষ্টা করতে করতে দৌড়াতে লাগলেন পিনচিও। শকুনের মতো বিরাট পাখিগুলোর ধারালো ঠোঁট আর নখের আঘাতে ছিন্নভিন্ন হয়ে যেতে লাগল তাঁর পোশাক। আতঙ্কিত চোখে সেদিকে তাকিয়ে রইল সুসান। গুহার কাছাকাছি পৌঁছে পাখিগুলোর বিশাল ডানার ঝাপটায় মটিতে পড়ে গেলেন পিনচিও। হিংস্র পাখিগুলো যেন জয়ের উল্লাসে বিভৎস চিৎকার করে উঠল। আতঙ্কে সুসানের গলা থেকেও একটা চিৎকার বেরিয়ে এল। এর পরমুহূর্তেই ঝাঁকে ঝাঁকে তির ছুটে গেল, মাটিতে পড়ে থাকা পিনচিও আর কনডোর পাখিদের দঙ্গলের দিকে। বারান্দার আড়াল থেকে তাদের লক্ষ্য করে তির ছুড়ছে রক্ষীরা! দুটো পাখি তির খেয়ে পড়ে গেল, কিন্তু আরও পাখি ওপর থেকে নেমে আসছে নর মাংসের লোভে। বাঁচার একটা শেষ, চেষ্টা করলেন পিনচিও, আর কয়েক হাত দূরে একটা গুহামুখ। কনডোরের দঙ্গল থেকে এক ঝটকায় উঠে দাঁড়ালেন তিনি। ঠিক সেই মুহূর্তে একটা তির এসে বিঁধল তার কোমরের নীচে। আবার পড়ে গেলেন তিনি। তারপর সেই অবস্থাতেই হামাগুড়ি দিয়ে ঢুকে গেলেন গুহার ভিতর। তির চালানো এবার বন্ধ করল রক্ষীরা। কনডোর পাখিগুলো এরপর ঝাঁপিয়ে পড়ল মটিতে পড়ে থাকা তির বেঁধা তাদের সঙ্গীদের ওপর, তাদের নিজেদেরই মাংস ছিঁড়েখুঁড়ে খাবার জন্য! সুসান পাথরের মূর্তির মতো আতঙ্কিত চোখে তাকিয়ে ছিল সেদিকে। হঠাৎই তার কিছুদূরে পাথর বসানো সূর্যালোকিত মাটিতে সে দেখতে পেল একটা ছায়া। চমকে সে মাথা তুলে তাকাতেই দেখল, তার প্রায় কাছেই অনেক নীচে নেমে এসেছে একটা কনডোর! বিরাট কালো ডানা মেলে স্থির হয়ে বাতাসে ভেসে সে হিংস্র চোখে সুসানকে দেখছে। তার বিরাট বাঁকানো ঠোঁট আর তীক্ষ্ণ নখ এখনই নেমে আসবে সুসানের ওপর! তাকে দেখার সঙ্গে সঙ্গেই সুসান ঘরে ছুটল ভিতরে ঢোকার জন্য, আর পাখিটাও তির বেগে নেমে এল সুসানের মাথা লক্ষ্য করে। সুসান ঘরের মধ্যে পা রাখার মুহূর্তেই শুনতে পেল লক্ষ্যভ্রষ্ট হিংস্র পাখিটার ঠোঁট ঠক করে শব্দ তুলে সজোরে ধাক্কা খেল পাথরের দেওয়ালে।

    ঘরের ভেতর ঢুকে ঠক ঠক করে কাঁপতে লাগল সুসান। ঘরের দরজারতো কপাট নেই, যদি ওই রাক্ষুসে পাখিটা ঘরে ঢুকে পড়ে! পাখিটা ঘরে ঢুকল না। সে এর পর উড়ে গেল। তার সতীর্থদের মাংস দিয়ে চত্বরে যেখানে ভোজের অনুষ্ঠান চলছে তাতে যোগ দেবার জন্য। তখনও সে দিক থেকে ঘরের মধ্যে ভেসে আসছে হিংস্র পাখিগুলোর উল্লাস।

    আতঙ্কিত সুসান বসে রইল ঘরের মধ্যে। সময় এগিয়ে চলল। এক সময় বাইরে পাখিগুলোর চিৎকার চ্যাঁচামেচি মিলিয়ে গেল। ভোজ সভা শেষ করে নতুন শিকারের সন্ধানে আকাশে আবার টহল দিতে শুরু করল পাখিগুলো। এতক্ষণ যেন কোথাও কিছু হয়নি! আবার নিস্তব্ধতা গ্রাস করল মৃত্যু নগরীকে।

    রোদ তখন মাথার ওপর। একটু ধাতস্থ হয়ে ঘরের এক কোণায় শুয়ে পড়ল সুসান, তারপর ঘুমিয়ে পড়ল। মাঝে একবার ঘুম ভেঙেছিল সুসানের। ঘুমের ঘোরে বেশ কয়েকবার তার মনে হয়েছিল ঘরের মেঝেটা যেন দুলছে! একবার ওরকমই একটা দুলুনি মনে হওয়াতে উঠে বসেছিল সে। কিন্তু উঠে বসার পর আর কিছু বুঝতে না পেরে সুসান আবার শুয়ে পড়ল, সুর্যদেব এগিয়ে চললেন পশ্চিমের দিকে।

    সুসান এরপর যখন ঘুমে ভেঙে উঠে বসল তখন বাইরে সূর্য ডুবে গেছে। আধো অন্ধকার ঘরে বসে রইল সুসান। অন্ধকার হলে ইনকা পুরোহিতের তাকে নিতে আসার কথা। তিনি তাকে নিয়ে যাবেন সূর্য মন্দিরে। সেখানে সুসানকে কী একটা যেন কাজ করতে হবে। তারপর তিনি তাকে পৌঁছে দেবেন তার দাদুর কাছে। তিনটি দিন যেন একটা দুঃস্বপ্নের মধ্যে দিয়ে অতিবাহিত করে চলেছে সে। আর তার দাদুকে ছেড়ে থাকতে ভালো লাগছে না। দাদু কেন এখানে এসে তার জন্য অপেক্ষা না করে অন্য জায়গাতে চলে গেল! সুজয় আঙ্কল বা বিল আঙ্কল তারাওতো একজন এখানে থাকতে পারত! তাহলেও তো সুসানকে এই ভয়ঙ্কর জায়গাতে একলা থাকতে হত না। দাদু কি দেখেনি, এখানে লোকজন, পশু-পাখি, এ সবই কেমন ভয়ঙ্কর ধরনের! তা সত্ত্বেও তারা তাকে এখানে রেখে গেল কেন? একটা প্রচন্ড অভিমান দলা পাকিয়ে উঠতে লাগল সুসানের গলা দিয়ে। কান্না চেপে রেখে ঘরে বসে ইনকা পুরোহিতের আগমনের প্রতীক্ষা করতে লাগল সে।

    কিছুক্ষণের মধ্যেই বাইরের আবছা আলোও মুছে গেল। গাঢ় অন্ধকার গ্রাস করে নিল ঘরটা। এরপর ধীরে ধীরে দু-একটা করে মশালের আলো জ্বলে উঠতে শুরু করছে চত্বরে, শোনা যেতে লাগল, রক্ষীদের হাঁকডাক, নানারকম শব্দ। অন্ধকার নামার সাথে সাথেই আবার জেগে উঠছে মৃত নগরী। অন্ধকার ঘরে বসে খোলা দরজা দিয়ে সুসান দেখতে লাগল, মশালের আলোতে ক্রমশই আলোকিত হয়ে উঠছে চত্বর। রক্ষীর দল ভিড় করতে শুরু করেছে সেখানে। চত্বরে রক্ষীদের উপস্থিতি, ব্যস্ততা ক্রমশ বেড়েই চলল। তার পর মন্দিরের দিক থেকে গম্ভীর স্বরে ঢাক বাজতে লাগল। বিরামহীন সেই শব্দ। অন্ধকার ঘরে বসে সুসান শুনতে লাগল সেই আওয়াজ। সময় ক্রমশ এগিয়ে চলল। কিন্তু ইনকা পুরোহিতের দেখা নেই।

    ঘণ্টাখানেক পরে অধৈর্য হয়ে উঠে দাঁড়াল সুসান। সে একবার ভাবল, ঘর ছেড়ে সে চত্বরে নামে। তার পরক্ষণেই সুসানের মনে হল, একলা বাইরে বেরলে যদি তার কোনও বিপদ হয়! এই ভেবে সে বাইরে না গিয়ে জানলার কাছে এসে দাঁড়াল। বিরাট বড়ো রূপালি চাঁদ উঠেছে আকাশে। তার আলোতে বিধৌত নেড়া পাহাড়ের শৃঙ্গগুলো। অনেক দূর পর্যন্ত চাঁদের আলোতে স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে। সুসান মাথা ঝুঁকিয়ে তাকাল নীচের দিকে। একটা অদ্ভুত জিনিস এবার তার চোখে পড়ল। অনেক অনেক নীচে পাহাড়ের পাদদেশে জোনাকির মতো অসংখ্য বিন্দু বিন্দু আলো জ্বলছে। সুসান বেশ কয়েকমূহূর্ত সে দিকে তাকিয়ে থাকার পর বুঝতে পারল, ওগুলো আসলে মশালের আলো, এত ওপর থেকে দেখছে বলে তাদের জোনাকি মতো মনে হচ্ছে! আরও ভালো করে দেখার পর সুসানের মনে হল, যেন সেই জোনাকির আলো পাকদন্ডী বেয়ে ধীরে ধীরে নগরীর দিকে এগোচ্ছে! ওরা কারা তা বুঝতে পারল না সুসান। হয়তো তারা নগরীরই রক্ষী হবে। মনে মনে ভাবল সুসান। সে দেখতে লাগল সেই জোনাকির ঝাঁক।

    হঠাৎ দরজার বাইরে কাদের পায়ের শব্দ শুনে সুসান ঘুরে দাঁড়িয়ে দেখল, ইনকা পুরোহিত, আর সেই দুজন লোক এসে উপস্থিত হয়েছে, যারা বাঘটাকে বেঁধে রেখে গেছিল। বাঘটা না দেখতে পেয়ে তারা একটু আশ্চর্য হয়ে ইনকা পুরোহিতকে কী যেন বলল! তিনি একবার ঘাড় নাড়লেন, তারপর ইশারায় সুসানকে বাইরে আসতে বললেন। সুসান ঘরের বাইরে বেরিয়ে আসার পর তিনি সুসানকে নিয়ে চত্ত্বরের মাঝখান দিয়ে এগোলেন মন্দিরের দিকে।

    পুরো চত্বরটাই আজ মশালের আলোয় আলোকিত। অনেক অনেক মশাল আর রক্ষী রয়েছে চত্বর জুড়ে। রক্ষীরা আজ পুরোদস্তুর যুদ্ধ সাজে সেজেছে। কাঁধে ধনুক, চামড়ার ফিতে বাঁধা তূণীর, হাতে বর্শা। কোমর থেকে ঝুলছে লম্বা দা-এর মতো অস্ত্র। তাদের দীর্ঘ কালো বেণী বুকের দুপাশ বেয়ে কোমর পর্যন্ত নেমে এসেছে। প্রত্যেকের কপালে বাঁধা লাল রঙের ফেট্টি। ভাবলেশহীন ইস্পাত কঠিন মুখ। কারও কারও হাতে শিকলে বাঁধা কালো বাঘ। প্রাণীগুলো মাঝে মাঝে লাল জিভ বার করে ঠোঁট চাটছে। যেন তার প্রভুর নির্দেশ পেলেই ঝাঁপিয়ে পড়বে কারও ঘাড়ে! পাহাড়ের খাঁজে খাঁজেও আজ দাঁড়িয়ে আছে মশাল হাতে তিরন্দাজরা। ওপর থেকে সতর্ক চোখে তারা নজর রাখছে চত্বরের ওপর। রক্ষীদের নজর এড়িয়ে স্বয়ং মৃত্যুদেবতা বিচামাও এই মৃত্যু নগরীতে প্রবেশ করতে পারবেন না।

    ইনকা পুরোহিত ইল্লাপাও আজ নতুন পোশাকে সেজেছেন। তার পরনে ধবধবে সাদা রঙের পশমের পোশাক। তার গলায়, হাতে রঙিন সুতোর কাজ। চওড়া সোনার কোমরবন্ধ থেকে ঝুলছে সোনালি খাপে ঢাকা দীর্ঘ টুমি। মাথায় বিশাল ঝালরের মতো লাল পালকের বিরাট সাজ। কানে স্বর্ণকুন্ডল। ইনকা পুরোহিত আগে আগে, তার পিছনে কয়েক হাত তফাতে চলল সুসান। আর তার পিছনে সেই দুজন রক্ষী। সুসানরা তখন চত্বরের মাঝখানে ইনতিহুয়ানাতাগুলোর কাছে পৌঁছে গেছে। অনেক রক্ষী দাঁড়িয়ে আছে সেখানে। চলতে চলতে হঠাৎ একটা সাদা ছোট্ট গোলাকার বস্তু তার সামনেই মাটিতে পড়ে আছে দেখল সুসান। জিনিসটা কুড়িয়ে দেখার পরই সুসান ভয় পেয়ে সেটা সঙ্গে সঙ্গে ফেলে দিল। মাটিতে কিছুটা গড়িয়ে গিয়ে আকাশের দিকে তাকিয়ে রইল হুইকোর পাথরের চোখটা। আর এর পরই সে তাকাল ইনতিহুয়ানাতাগুলোর দিকে। পরপর চারটে স্তম্ভে বাঁধা আছে চারজন লোক। তাদের মাথাগুলো বুকের দিকে ঝুঁকে পড়েছে। সারা বুক লাল। নিঃস্পন্দভাবে ইনতিহুয়ানাতা স্তম্ভের সাথে শিকল বাঁধা অবস্থায় দাঁড়িয়ে আছে তারা। তাদের মধ্যে তিন জন অর্ধউলঙ্গ, চতুর্থ জনের পরনে পোশাক আর মাথায় একটা টুপিও আছে। রক্ষীদের ভিড়ের ফাঁক দিয়ে মুহূর্তের জন্য সেই টুপিটা যেন চেনা মনে হল সুসানের। ও টুপিটা হুইকো বলে লোকটার!

    ইনতিহুয়ানাতাগুলো পার হয়ে ইনকা পুরোহিত সুসানকে নিয়ে উপস্থিত হলেন বিচামা মুর্তির সামনে। তার চারপাশে অনেক লোকজন। এক কোণে ঢাক বাজছে। বিচামা পুরোহিতও দাঁড়িয়ে সেখানে। মশালের আলোতে ভয়ঙ্কর দেখাচ্ছে কালো পাথরের তৈরি মূর্তিটাকে। অস্ত্রধারী, অদ্ভুত মুখমন্ডলের মূর্তির জেড পাথরের চোখ দুটো যেন জ্বলছে! সত্যিই এ মূর্তি যেন মৃত্যুর প্রতিরূপ! তাঁকে দেখে ভয় লাগল সুসানের। মূর্তির পাথরের বেদিমূলে কৃষ্ণবর্ণের কিছু বুনো ফুল ছড়ানো। আর রয়েছে একটা পাথরের থালা ও তারপাশে শোয়ানো একটা বেশ লম্বা খাপ খোলা টুমি। থালাটা লাল রঙের তরলে পরিপূর্ণ, টুমিতেও লেগে আছে সেই রং। একটা আঁশটে গন্ধ বাতাসে ভাসছে।

    সুসান সেখানে গিয়ে দাঁড়াতেই বিচামা মূর্তি আর তাকে ঘিরে গোল হয়ে দাঁড়িয়ে পড়ল সবাই। জোরে জোরে বাজতে শুরু করল ঢাক। বিচামা পুরোহিত সুসান আর মুর্তির মাঝখানে দাঁড়িয়ে সুসানের দিকে তাকিয়ে কী যেন বলতে শুরু করলেন। প্রথমে ধীর গতিতে, তারপর ক্রমশ বাড়তে লাগল তার গলার শব্দ। আর তার সাথে পাল্লা দিয়ে বেড়ে চলল কান ফাটানো ঢাকের বাজনা। দাঁড়িয়ে থাকা রক্ষীদল পাথরের মূর্তির মতো তাকিয়ে আছে সুসানের দিকে। বিচামা পুরোহিতের কন্ঠস্বর আর ঢাকের শব্দ মিলেমিশে একাকার হয়ে যেতে লাগল। কিছুক্ষণ পর হঠাৎই এক সাথে থেমে গেল বিচামা পুরোহিতের গলা আর ঢাকের বাদ্যি। বিচামা পুরোহিত নতজানু হয়ে কয়েক মুহূর্ত মাথা ঝুকিয়ে বসলেন সুসানের সামনে, তারপর উঠে গিয়ে লাল রঙের তরলপূর্ণ পাথরের থালাটা নিয়ে এসে দাঁড়ালেন তার কাছে। থালাটা কাছে আনতেই লাল তরলের তীব্র আঁশটে গন্ধে গাটা গুলিয়ে উঠল সুসানের। ইনকা পুরোহিত এবার ওই তরলে আঙুল চুবিয়ে সুসানের ললাটে পরিয়ে দিলেন রক্ত টিকা। বিচামা পুরোহিত থালাটা নামিয়ে মূর্তির কাছে গিয়ে তার মুখগহ্বরের ভিতর হাত ঢুকিয়ে বার করে আনলেন দুটো পাখির পালক। লাল, কালো, সাদা ডোরা আঁকা তাতে। পালক দুটো এনে তিনি গুঁজে দিলেন সুসানের মাথার লান্টুতে। সঙ্গে সঙ্গে সমবেত জনতা চিৎকার করে উঠল, ‘পাঁচাকুটি ইনকা ইপানকুই! পাঁচাকুটি ইনকা ইপানকুই!! পাঁচাকুটি ইনকা ইপানকুই!!!’ আবার জোরে জোরে বেজে উঠল ঢাক। মুহূর্তের জন্য সুসানের মনে হল তার পায়ের নীচের মাটিটা যেন হঠাৎ কেঁপে উঠল!

    রক্ষীদল এরপর বিচামা মুর্তির কাছ থেকে মন্দিরের সিঁড়ি পর্যন্ত মশাল হাতে দু-পাশে সার বেঁধে দাঁড়িয়ে পড়ল। তাদের মাঝখান দিয়ে ইল্লাপা সুসানকে নিয়ে এগিয়ে চললেন মন্দিরের সিঁড়ির দিকে। বিচামা পুরোহিত আর তিনজন রক্ষীও তাদের পিছনে চলল। দুজন ভয়ঙ্কর দর্শন রক্ষী চামড়ার ফিতেয় বাঁধা বাঘ হাতে দাঁড়িয়েছিল সিঁড়ির মুখটাতে। তাদের ভ্রূক্ষেপ না করে ইনকা পুরোহিত দৃপ্ত ভঙ্গিতে সিঁড়ি ভেঙে ওপরে উঠে গিয়ে দাঁড়ালেন মন্দিরের বন্ধ দরজার সামনে। বিচামা পুরোহিত আর রক্ষী তিনজনও উঠল সেখানে। নীচে থেকে নিষ্পলক চোখে সুসানদের দিকে তাকিয়ে আছে সমবেত জনতা। বাঘ দুটোও ঘাড় ফিরিয়ে তাকিয়ে দেখছে বেদির ওপর দরজার সামনে দাঁড়িয়ে থাকা সুসানদের। সম্ভবত তারাও বিস্মিত। কোনো জ্যান্ত মানুষকে ওই দরজার সামনে পৌছঁতে দেখেনি তারা!

    বিশাল দরজাতে কোনো খিল নেই। কিন্তু শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে বন্ধ দরজার কপাট। ইনকা পুরোহিতের নির্দেশে রক্ষী তিনজন ধাক্কা দিয়ে কপাট খোলার চেষ্টা করতে শুরু করল। বেশ কিছুক্ষণ চেষ্টার পর দুই পুরোহিতকেও তাদের কাজে সঙ্গী হতে হল। সমবেত চেষ্টাতে এক সময় দরজার কপাট কিছুটা ফাঁক হল। সুসান দেখল দরজার ওপাশে বিরাজ করছে জমাট বাঁধা অন্ধকার! ইনকা পুরোহিত একটা মশাল হাতে সুসানকে নিয়ে দরজার ফাঁক গলে প্রবেশ করলেন মৃত্যু মন্দিরের গহ্বরে। বিচামা পুরোহিত আর অন্যরা বাইরে থেকে টেনে বন্ধ করলেন দরজার ফাঁকটুকু।

    মন্দিরের ভিতরটা আসলে একটা গুহা। শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে এ গুহামুখ বন্ধ। পুরু ধুলোর আস্তরণ জমেছে মাটিতে। বাতাস ভারী। ভিতরে ঢুকে সুসানের যেন দমবন্ধ হয়ে আসতে লাগল। মশালের আলোতে সুসান দেখল একটা রাস্তা চলে গেছে সামনের দিকে। মাকড়সা জাল বুনেছে সেই প্রবেশ মুখে। ইল্লাপা পুরু ধুলোর আস্তরণ মাড়িয়ে সুসানকে নিয়ে প্রবেশ করলেন সেই রাস্তাতে। রাস্তা মানে সুড়ঙ্গ। দু-পাশে পাথরের দেওয়াল। নীচু ছাদ। এঁকে বেঁকে পথ এগিয়েছে সামনের দিকে। নির্বাক ইল্লাপার সাথে সুসান চলল সুড়ঙ্গ ধরে। মাঝ মাঝে ছোটোছোটো ঘরের মতো জায়গা, সেখান থেকে নানা গুহামুখ বেরিয়েছে। সে সব ঘর অতিক্রম করে এগিয়ে চলল তারা। মশালের আলোতে মাঝে মাঝে সুসানের চোখে পড়ছে পাথর খোদিত বিভৎস সব মূর্তি, নানা রকম সব হুয়াকা! চলতে চলতে একসময় একটা সুড়ঙ্গে কীসে যেন ঠোক্কর খেলেন ইল্লাপা। মৃদু ধাতব শব্দ হল। মশালটা নীচু করে তিনি দেখলেন নানা রকম ছোটো বড়ো ধুলোমাখা পাত্র মেঝেতে ছড়িয়ে আছে। একটা ছোটো পাত্র তিনি হাতে তুলে মশালের কাছে ধরলেন। মন্দিরের পূজা সামগ্রী হবে হয়তো। মশালের আলোতে ঝিলিক দিয়ে উঠল পাত্রর কানাটা। সোনার তৈরি!! পাত্রটাকে তাচ্ছিল্যের ভঙ্গিতে মেঝেতে ছুড়ে ফেলে দিয়ে আবার এগোলেন তিনি। এরপর আরও কয়েকটা জায়গাতে এ রকম পাত্র মেঝের ধুলোতে পড়ে থাকতে দেখল সুসান। ইনকা পুরোহিত এ সবে আর ভ্রূক্ষেপ না করে সুসানকে নিয়ে এগিয়ে চললেন।

    এ সুড়ঙ্গ ও সুড়ঙ্গ বেয়ে বেশ অনেকটা পথ চলার পর সুসানরা অবশেষে এসে উপস্থিত হল বিরাট হলঘরের মতো গুহাতে। জায়গাটার চারপাশ দিয়ে বেরিয়ে গেছে অনেকটা অন্ধকার গুহামুখ। মাথার ওপর ছাদ অনেক উঁচুতে। দেওয়ালের চতুর্দিকে দেওয়ালের গায়ে ছোটো ছোটো সিঁড়ির মতো থাক বৃত্তাকারে দেওয়ালকে বেষ্টন করে উঠে গেছে ছাদের দিকে অনেক উঁচুতে। ঘরে ঢুকে মশালটা চারপাশে একবার ঘুরালেন ইনকা পুরোহিত। সুসান দেখতে পেল ঘরের ঠিক মাঝখানে রয়েছে একটা নীচু বেদি। তার চারকোণে বসে আছে চারজন বর্শাধারী ইনকা সৈনিক আর বেদির ঠিক মাঝখানে একটা পাথরের স্তম্ভের ওপর বসানো আছে বেশ বড়ো গোলাকার একটা চাকতি আকৃতির জিনিস। এ সব কিছুই ধুলোর আবরণে ঢাকা।

    সুসানরা গিয়ে দাঁড়াল বেদির সামনে। ইনকা রক্ষীরা কিন্তু তাদের দেখে উঠে দাঁড়াল না। মুর্তিগুলো পাথরের নয় ঠিকই। কিন্তু মাকড়শা জাল বুনেছে তাদের গায়ে, স্তম্ভ-চাকতিতে। যুগযুগ ধরে এই চারজন প্রহরী পাহারা দিচ্ছে বেদিটাকে। সূর্য মন্দিরের যক্ষ এঁরা! সুসান দেখল একটা টিকটিকি জাতীয় প্রাণী ধুলোমাখা একজন ইনকা রক্ষীর চোখের একটা কোটর থেকে বেরিয়ে তার মুখের ওপর ঘোরাঘুরি করে চোখের অন্য কোটরে ঢুকে পড়ল। মুর্তিগুলোর দিকে তাকিয়ে ভয় করতে লাগল সুসানের। মাকড়শার জাল মেখে ইনকা পুরোহিত সুসানকে নিয়ে বেদিতে উঠলেন। তারপর স্তম্ভের সামনে গিয়ে তার খাঁজে বসানো চাকতিটার সামনে মশাল তুলে ধরলেন। বেশ কয়েক মুহূর্ত তিনি ধুলোর আস্তরণ ঢাকা চাকতিটার দিকে তাকিয়ে থাকার পর আঙুল দিয়ে একটা ঢেরা কাটলেন চাকতির গায়ে। ধুলো সরে গিয়ে একটা লম্বা রেখা ঝিলিক দিয়ে উঠল চাকতিতে। হাসি ফুটে উঠল ইনকা পুরোহিতের কঠিন মুখে। যত তিনি আঁক কাটতে লাগলেন ততই যেন আলোক ছটা ফুটে বার হতে লাগল সেখান থেকে।

    এরপর সুসানের দিকে ফিরে দাঁড়ালেন ইনকা পুরোহিত। মশালটা ছাদের দিকে তুলে ধরে দুর্বোধ্য ভাষাতে দেওয়ালের মাথার দিকে একটা কোণা দেখিয়ে কী যেন বললেন তিনি। সুসান প্রথমে তার কথা বুঝতে পারল না। তারপর এক সময় তার মনে হল ইনকা পুরোহিত যেন তাকে দেওয়ালের থাক বেয়ে ওই জায়গাতে উঠতে বলছেন! সে দিকে তাকিয়ে ভয় লাগলেও ইনকা পুরোহিতের চোখের দিকে তাকিয়ে আরও ভয় লাগল তার। বেদি থেকে নেমে সে গিয়ে দাঁড়াল দেওয়ালের সামনে। এই থাকগুলো বেয়ে শুধু বাচ্চা ছেলেদেরই ওপরে ওঠা সম্ভব। বড়ো মানুষ ওপরে উঠতে পারবে না। ভয় লাগলেও ধীরে ধীরে থাক বেয়ে ওপরে উঠতে শুরু করল সে। ইনকা পুরোহিত নীচে দাঁড়িয়ে তার দিকে মশাল তুলে ধরে তাকিয়ে রইলেন। এক সময় অনেক ওপরে উঠে ইনকা পুরোহিতের দেখিয়ে দেওয়া জায়গাতে পৌঁছে গেল সুসান। সে জায়গাটা একটা বারান্দা মতো। মশালের আলো সেখানে পৌঁছচ্ছে না। গুহার দেওয়ালগুলো নীচ থেকে উঠে এসে সুসানের মাথার ওপর কিছু দূরে মিশেছে। অন্য দেওয়ালের থাকগুলোও এখানে কাছাকাছি। সুসান জায়গাটাতে উঠে নীচের দিকে তাকাতেই ইনকা পুরোহিত ইশারাতে কি যেন খুঁজতে বললেন তাকে। ইনকা পুরোহিতের ইঙ্গিত অনুমান করে অন্ধকারের মধ্যেই ধুলো হাতড়ে সুসান পেয়ে গেল জিনিসটা। একটা ছোটো বাক্স! সুসান ওপর থেকে বাক্সটা তুলে দেখাতেই ইনকা পুরোহিত সেটা নিয়ে তাকে নীচে নেমে আসতে বললেন। ঠিক সেই মুহূর্তেই সুসানের নজর পড়ল, তার কাছেই উলটো দিকের দেওয়ালের একটা থাকে। সে দেখতে পেল থাকের অন্ধকারের ভিতর থেকে দুটো জ্বলন্ত চোখ তাকিয়ে আছে তার দিকে!! এ নিশ্চয় বিচামা মন্দিরের ভূত!! আতঙ্কে হিম হয়ে গেল সুসানের শরীর। আর একটু হলে নীচে পড়ে যাচ্ছিল সে। সুসান বাক্সটা কোনো মতে আঁকড়ে ধরে নীচের দিকে নামতে লাগল। ইনকা পুরোহিত তার দিকে লক্ষ রেখে চাকতি থেকে ধুলো সরাতে লাগলেন। সুসান যত নীচে নামতে লাগল ততই মশালের আলো চাকতিতে প্রতিফলিত হয়ে আলোকিত হয়ে উঠল গুহা।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleঅ্যাডভেঞ্চার ভয়ংকর – হিমাদ্রিকিশোর দাসগুপ্ত
    Next Article আঁধার রাতের বন্ধু – হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত

    Related Articles

    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত

    বিষ্ণুলোকে সন্ধ্যা নামে – হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত

    March 20, 2026
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত

    সাদা বিড়াল – হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত

    January 31, 2026
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত

    নেকড়ে খামার – হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত

    December 10, 2025
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত

    অ্যাডভেঞ্চার সমগ্র ১ – হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত

    December 10, 2025
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত

    অ্যাডভেঞ্চার সমগ্র ২ – হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত

    December 9, 2025
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত

    জাদুকর সত্যচরণের জাদু কাহিনি – হিমাদ্রি কিশোর দাশগুপ্ত

    December 9, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Our Picks

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }