Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    সূর্যমন্দিরের শেষ প্রহরী – হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত

    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত এক পাতা গল্প262 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    সূর্যমন্দিরের শেষ প্রহরী – ৫

    ৫

    সুজয়রা ধীরে ধীরে দেখে বেড়াতে লাগল। শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে পাহাড়ের গায়ে ঝড়-ঝঞ্ঝা, মানুষের লোভকে উপেক্ষা করে আজও দাঁড়িয়ে আছে ইনকাদের স্থাপত্যকীর্তিগুলো। সার সার পাথরের তৈরি বাড়ি-ঘর-স্তম্ভ-প্রাচীর। ইনকারা লিপির ব্যবহার জানতেন না। প্রাচীন স্থাপত্যগুলো দেখে বেড়াতে বেড়াতে সুজয়ের মনে হল, ‘এই স্থাপত্যগুলোই যেন ইনকাদের লিপি। এ লিপি যারা পাঠ করতে জানে, তারা জানে, কত অজানা কাহিনি লুকিয়ে আছে গ্র্যানাইট পাথরের তৈরি প্রাচীন স্মারকগুলোর গায়ে! সোনাঝরা ইনকাদের কত স্মৃতি আজও বহন করে চলেছে মূক-বধির স্থাপত্যগুলো!’ পাথরে লেখা ইনকা কাহিনি সুজয় পাঠ করতে না পারলেও তার অভাব পূরণ করে দিতে লাগলেন মার্কেজ। দেখতে দেখতে-ঘুরতে ঘুরতে সে-কাহিনি তন্ময় হয়ে শুনতে লাগল সুজয়। তাঁর কথা শুনতে শুনতে একসময় যেন তার চোখের সামনে জীবন্ত হয়ে উঠতে লাগল এই সূর্যনগরী। সত্যিই অপূর্ব বলেন মার্কেজ! সম্ভবত সুসানেরও যাতে বুঝতে অসুবিধা না-হয় তার জন্য যথাসম্ভব সহজভাবেই সব কিছু বুঝিয়ে যেতে লাগলেন তিনি। আর বিল পেশাদারি ঢঙে মার্কেজের নির্দেশে ছবি তুলতে লাগল।

    মার্কেজ জানালেন, হুরিন অংশ মূলত ছিল আবাসিক স্থল। আর হানান অংশ ছিল ইনতির উপাসনা স্থল ও জ্যোতির্গননা কেন্দ্র। সম্ভবত হুরিনের সবার অনুমতি ছিল না হানান অংশে ওঠার। হানান অংশে শুধু যেতেন প্রাজ্ঞ জ্যোতির্গণনাকারী ও জাদুকর পুরোহিতরা। হানানের কাজকর্মের গোপনীয়তা সযত্নে রক্ষা করা হত। পুরোহিতরা সেখানের কাজকর্ম সম্বন্ধে যতটুকু জানাতেন ঠিক ততটুকুই জানতেন সাধারণ প্রজারা। ইনকা সম্রাটরা মাঝে মাঝে আসতেন হানান পরিদর্শনে। তখন তাঁর রক্ষী বাহিনীরও সকলকে হানানে উঠতে দিতেন না সম্রাট।

    হুরিন অংশ দেখতে ঘণ্টাখানেক সময় লাগল সুজয়দের। তারপর ধীরে ধীরে তারা পাহাড়ের ঢালে বেশ কয়েকটা চত্বর অতিক্রম করে, সিঁড়ি ভেঙে উঠে এল হানানে। এ জায়গাটা পাহাড়ের মাথায়। অনেক দূর পর্যন্ত চোখে পড়ে এ জায়গা থেকে। তিনদিকে পাহাড়ের সারি। আকাশ আর পাহাড়ের রং নীলে নীল। খাদের নীচ থেকে ভেসে উঠছে ঘন কুয়াশা। নীচের দিকে তাকাল চোখে পড়ছে উরুবাম্বা নদীর বাঁক, আর পূর্বের পাহাড়ের ঢালে অন্তহীন গভীর জঙ্গল। সে জঙ্গলের শেষ কোথায় এত ওপর থেকেও তা বোঝা যাচ্ছে না। কুয়াশার একটা আস্তরণ দিগন্ত বিস্তীর্ণ হয়ে ছড়িয়ে আছে জঙ্গলের মাথায়। আর এসব কিছুর মাথার ওপর আপন গাম্ভীর্য নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে ইনকাদের শ্রেষ্ঠ স্থাপত্য চিহ্ন হানানের পাথর নির্মিত স্মারকগুলো। আকাশ নির্মেঘ। সূর্যের আলো এসে পড়েছে সৌধগুলোর গায়ে। কয়েকটা বিবর্ণ হয়ে যাওয়া রঙিন পতাকা ঠাণ্ডা বাতাসে উড়ছে। হানানেরও বেশ কয়েকটা ধাপ আছে। দুটো ধাপের মধ্যের ফাঁকা অংশগুলো সবুজ ঘাসের গালিচা মোড়া। লামার দল চলছে সেখানে। স্মারকগুলোর আশেপাশে ইতিউতি ঘুরে বেড়াচ্ছে টুরিস্টরা। কেউ কেউ আবার বসে জিরিয়ে নিচ্ছে পাথর বা সবুজ ঘাসের ওপর। সুজয়রাও হানানে উঠে বেশ কিছুক্ষণ বিশ্রাম নিল। সঙ্গে আনা কিছু শুকনো খাবারও সেখানে বসেই খেয়ে নিল তারা। তারপর উঠে দাঁড়াল সৌধগুলো ঘুরে দেখার জন্য। একটু উঁচুতে আঙুল তুলে দেখিয়ে মার্কেজ বললেন, ‘আমরা প্রথমে সিঁড়ি বেয়ে ওখানে যাব, তিন-জানলা ঘর’ দেখতে। তারপর দেখব সূর্যমন্দির আর ‘ইনতিহুয়ানাতা।’

    শেষ শব্দটার মানে কি?’ প্রশ্ন করল সুজয়।

    সূর্যকে বেঁধে রাখার স্তম্ভ, সংক্ষিপ্ত উত্তর দিলেন প্রফেসর।

    পাথরের ধাপ বেয়ে সুজয়রা পৌঁছে গেল তিন-জানলা চত্বরে। খাদের ধারে সার সার দাঁড়িয়ে আছে ঘর। পাথরের তৈরি ঘরগুলোর তিনটে করে দেওয়াল। তিনটে জানলা। ঘরে ঢোকার মুখটা ট্রাপিজিয়াম আকৃতির। তবে ঘরগুলো ছাদহীন। মসৃণ দেওয়ালগুলোতে বিভিন্ন হুয়াকা আঁকা আছে, কোথাও ছটাসহ সুর্যের ছবি, কোথাও পুমা, কোথাও লামা, সাপ বা কনডোর পাখির ছবি। পাথরের তৈরি বাটালি দিয়ে ফুটিয়ে তোলা ছবিগুলো আজও সাক্ষ্য বহন করছে ইনকা শিল্পরীতির। ঘরগুলো ঘুরে বেড়াতে বেড়াতে মার্কেজ বললেন, ‘একটা জিনিস খেয়াল করেছেন নিশ্চই যে, ঘরগুলো ছাদহীন। আসলে ইনকারা পাকা ছাদ দিত না। হালকা কাঠ, মাদুর অথবা শন জাতীয় জিনিস দিয়ে ছাদ ছাওয়া থাকত। এইসব ছাদহীন ঘর, জামিতিক আকৃতির স্থাপত্য কিন্তু ইনকা স্থপতিরা নিছক মনের খেয়ালে তৈরি করেননি। আসলে আন্দিজ পর্বতমালার বেশির ভাগ অঞ্চলই ভূমিকম্প-প্রবণ। ভূমিকম্পর হাত থেকে রক্ষা পাবার জন্যই স্থাপত্যগুলো এভাবে নির্মাণ করা হয়েছিল। এখনও এ সব অঞ্চলে ভূমিকম্প হয়। নির্মাণ শৈলীর বিশিষ্টতার জন্যই এখানকার এই ঘরবাড়িগুলো আজও টিকে আছে।’

    অত বছর আগেও যে ইনকাদের স্থাপত্য ভাবনা এত উন্নত ছিল তা শুনে আশ্চর্য হয়ে গেল সুজয়।

    সুসান হঠাৎ তার দাদুকে জিজ্ঞাসা করল, ‘আচ্ছা, এই ঘরগুলোতেই কি প্রেতাত্মারা থাকে?’

    মার্কেজ তার কথা শুনে হেসে বললেন, ‘এখানকার মানুষেরাতো তাই বলে।’

    ‘তাদের দেখতে কেমন?’ সুসান আবার প্রশ্ন করল।

    মার্কেজ বললেন, ‘যদিও, আমি তাদের দেখিনি, তবু অনুমানে বলতে পারি। তাদের দীর্ঘ চেহারা, গায়ের রং লালচে তামাটে, চওড়া কপাল, মাথার চুল বিনুনি বাঁধা। পরনে রঙচঙে পোশাক। পায়ে কাঠের জুতো, হাতে বর্শা।’

    ‘তাদের না-দেখলে, তারা কেমন দেখতে জানলে কীভাবে?’ দাদুর কথা শুনে জানতে চাইল সুসান।

    প্রফেসর হেসে জবাব দিলেন। ‘আমি তাদের ছবি বইতে দেখেছি।’

    পরপর ঘরগুলোতে ঘুরে বেড়াতে লাগল সবাই। একটার পর একটা ঘরে কত রকমের যে হুয়াকা রয়েছে তা দেখলে আশ্চর্য হয়ে যেতে হয়। মার্কেজ বললেন, ‘হুয়াকা আঁকা তিন-জানলা ঘরগুলোকে বলে ‘মিসমা।’ এই মিসমা স্থাপত্য ইনকা সভ্যতা ছাড়া আর কোথাও দেখা যায় না।’ বিভিন্ন রকম হুয়াকার বেশ কিছু ছবি তুলল বিল। সার বন্দি শেষ ঘরটা দেখার পর তার বাইরে বেরিয়ে বিল বলল’, ফিলম শেষ হয়ে গেল, একটু দাঁড়ান আমাকে একটা নতুন রোল ক্যামেরায় লোড করতে হবে।’ এই বলে একটা পাথরের ওপর ক্যামেরাটা কোলে নিয়ে সে বসল।

    সুজয়রা যেখানে দাঁড়িয়ে আছে তার থেকে একটু দূরে একদম খাদের কিনারে একলা দাঁড়িয়ে আছে বেশ বড় একটা ট্রাপিজিয়ম আকৃতির ঘর। এমনভাবে ঘরটা দাঁড়িয়ে আছে যে দেখে মনে হচ্ছে, বাতাসের ধাক্কায় এখনই মনে হয় সে নীচে পড়ে যাবে। ঘরের দরজা দেখা যাচ্ছে না। সম্ভবত তার মুখ খাদের দিকে। মার্কেজ বিলের কথা শুনে বললেন, ‘ঠিক আছে তুমি কাজ সারো, আমরা খাদের ধারে ওই ঘরটা দেখে আসি।’ এই বলে সুজয় আর সুসানকে নিয়ে ঘরটার দিকে এগোতে যাচ্ছিলেন তিনি। সুসান বলল, ‘তোমরা যাও, বিল আঙ্কল কীভাবে ফিলম লোড করে দেখব।’ বিল ক্যামেরাটা ততক্ষণে খুলতে শুরু করেছে। সে বলল, ‘ঠিক আছে, ও আমার কাছে থাক। আমার এখনই হয়ে যাবে।’ সুসান বসে পড়ল বিলের পাশে। মার্কেজ আর সুজয় ঘাসের গালিচা বিছানো ঢাল বেয়ে এগিয়ে গেল সেই ঘরটার দিকে।

    ঘরটার কাছাকাছি পৌঁছে মার্কেজ বললেন, ‘এ ঘরটার মাথায় দেখছি ছাদ দেওয়া। চট করে এ ঘর এখানে চোখে পড়ে না। কাছে গিয়ে তারা বুঝতে পারল, আর তিন দিকের দেওয়াল থেকে ছাদে ওঠার জন্য সিঁড়ি উঠে গেছে। মার্কেজ বললেন, ‘ও বুঝেছি, জ্যোতির্বিজ্ঞানের প্রয়োজনে এ ঘর নির্মাণ করা হয়েছিল। সম্ভবত এটা একটা ক্ষুদ্র মানমন্দির’। ঘরের বাইরের দিকের হুয়াকাগুলো লক্ষ করুন,—ফুল-পাখি-জীবজন্তুর পরিবর্তে সব জ্যামিতিক নকশা আঁকা আছে!’ এরপর মার্কেজ প্রায় নিজের মনেই বললেন, ‘ভাগ্যিস ঘরটা দেখতে এলাম। আগের বার এ ঘরটা চোখে পড়েনি।’

    ঘরে ঢোকার দরজাটা খাদের দিকেই। একটা সুঁড়ি পথ দিয়ে দেওয়ালকে বেড় দিয়ে মার্কেজ আর সুজয় উপস্থিত হল সে জায়গায়। দরজার সামনে কয়েক হাত জায়গা মাত্র। তারপরই অতলান্ত খাদ। তার নীচে রুপোলি ফিতার মতো বয়ে চলা উরুবাম্বা। ওপর থেকে কোনোভাবে নীচে পড়লে মৃত্যু একদম নিশ্চিত। ট্রাপিজিয়ম আকৃতির দরজার ভিতরটা প্রায় অন্ধকার। ঘরে কোনো জানলা নেই। আর দরজাটা উত্তরমুখী বলে সূর্যের আলো ভিতরে প্রবেশ করতে পারছে না। দরজার ঠিক মাথার ওপর চিত্রিত আছে সূর্যমূর্তি। আর দু-পাশে আঁকা আছে নানা ধরনের জ্যামিতিক নকশা। সুজয় লক্ষ করল, শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে ঠাণ্ডা বাতাসের ঝাপটা সহ্য করতে হয় বলেই মনে হয় ঘরটার সামনের দিকের পাথুরে দেওয়াল কেমন ক্ষয়ে ক্ষয়ে গেছে। অলংকরণগুলোও স্থানে স্থানে নষ্ট হয়ে গেছে। মানমন্দির বা ঘর, যাই হোক-না-কেন, এ স্থাপত্য যে অনেক প্রাচীন তাতে কোনো সন্দেহ নেই।

    কয়েক মুহূর্ত ঘরের বাইরে দাঁড়িয়ে থাকার পর মার্কেজ বললেন, ‘চলুন এবার ঘরের ভিতরটা একবার দেখা যাক। তার কথা শেষ হবার প্রায় সঙ্গে সঙ্গেই ঘরের ভিতর থেকে একটা অস্পষ্ট শব্দ ভেসে এল। ভিতরে ঢুকতে গিয়েও থমকে দাঁড়িয়ে পড়ল সুজয়রা। আর তার পরক্ষণেই সেই ঘর থেকে বাইরে বেরিয়ে এসে দাঁড়াল দুজন লোক। তাদের দেখে অবাক হয়ে গেল প্রফেসর মার্কেজ আর সুজয়। লোক দুজনের একজন মি. পিনচিও, আর একজন যেন ছবির বইয়ের পাতা থেকে উঠে আসা কোন ইনকা পুরুষ। সে দীর্ঘদেহী। উচ্চতায় সুজয় বা বিলের থেকেও লম্বা, অন্তত সাড়ে ছ-ফুট হবে। তার পরনে রঙিন ‘টিউনিক’ বা ‘উনকু’ আর কম্বলের মতো আচ্ছাদন ‘ইয়াকোলা’। কোমরে চওড়া কোমর বন্ধ। একরাশ কালো চুল ঘাড় ছাপিয়ে নীচের দিকে নেমেছে, মাথার ফেট্টিতে বেশ বড়ো দুটো কালো পালক গোজা। মনে হয় বাজ বা ওই জাতীয় কোনো প্রাণীর হবে। লোকটার গলায় বেশ কয়েকটা রঙিন পাথরের মালা। সারা মুখে আর পেশিবহুল বাহুতে আঁকা আছে উলকি।

    সুজয়রা যেমন তাদের দেখে একটু অবাক হল, পিনচিও যেন বাইরে বেরিয়ে তাদের দেখে মুহূর্তের জন্য একটু থতোমতো খেয়ে গেলেন, তারপর মার্কেজের উদ্দেশ্যে হেসে বললেন, ‘হাই প্রফেসর। এখানে কখন এসে পৌঁছোলেন?’

    মার্কেজ বললেন, ‘এই তো ঘণ্টা তিনেক আগে। হোটেলে মালপত্র রেখে দেখতে বেরিয়ে পড়েছি।’

    পিনচিও বললেন, ‘ও। আমি এখানে পৌঁছেছি বেলা ‘ন-টা নাগাদ। তারপর দেখতে বেরিয়েছি। তবে হোটেল নিইনি। এখানে থাকার জন্য তাঁবু পাওয়া যায়। ওতেই থাকব রাতে। চাঁদের আলোতে পাহাড়ের মাথায় এই প্রাচীন নগরীতে রাত কাটানো নাকি বেশ একটা থ্রিলিং ব্যাপার। সুযোগটা হাত ছাড়া করতে চাই না। তা ছাড়া ইনিও এখানে থাকবেন…’ এই বলে পিনচিও তাকালেন তাঁর দীর্ঘকায় সঙ্গীর দিকে।

    মার্কেজ পিনচিওর সঙ্গীর দিকে তাকিয়ে বললেন, ‘উনি…?’

    পিনচিও বললেন, ‘ওহো! পরিচয়টা করিয়ে দেওয়া উচিত ছিল। উনি হলেন করিকানচা মন্দিরের পুরোহিত। যাঁর কথা আপনাকে কাল বললাম।’ সুজয় বুঝতে পারল একেই তাহলে কাল তারা দেখেছিল পিনচিওর সঙ্গে।

    ইনকা পুরোহিত নিশ্চয়ই ইংরেজি বোঝেন, কারণ এরপর তাঁর দিকে তাকিয়ে ইংরেজিতেই মার্কেজ আর সুজয়ের পরিচয় দিলেন পিনচিও। মার্কেজ করমর্দনের জন্য হাত বাড়ালেন ইনকা পুরোহিতের দিকে। তিনি কিন্তু মার্কেজের দিকে হাত বাড়ালেন না। ডান হাতটা বুকের কাছে আড়াআড়ি ভাবে এনে, সামান্য মাথা ঝোঁকালেন মাত্র। সুজয়ের তাই দেখে মনে হল, সম্ভবত এটা ইনকাদের সম্ভাষণের রীতি হতে পারে। প্রফেসর হাতটা গুটিয়ে নিয়ে তাঁর উদ্দেশ্যে বললেন, ‘আপনার কথা মি. পিনচিও আমাদের বলেছেন। আপনার কাছে আমি কিছু জানতে চাই—।’

    ‘কী জানতে চান?’—একটু যেন সন্দিগ্ধ দৃষ্টিতে মার্কেজকে জরিপ করে, ভাঙা ইংরেজিতে গম্ভীর স্বরে বললেন ইনকা পুরোহিত ইল্লাপা। মার্কেজ বললেন, ‘শুনেছি, এখানে আরও বেশ কিছু প্রাচীন নগরী আছে, যার খবর কেবল মাত্র স্থানীয় মানুষরা কেউ কেউ জানেন, বাইরের পৃথিবীর কাছে তা অজানা। ও সব জায়গার খোঁজ নিশ্চই আপনার জানা আছে। মি. পিনচিও বলছিলেন, সে-রকম কোনো একটা জায়গাতে কী একটা উৎসবে আপনি যাচ্ছেন। দয়া করে যদি ওরকম কোনো একটা জায়গার সন্ধান আমাকে দেন তাহলে আমার উপকার হয়।’

    মার্কেজের কথা শুনে ইল্লাপা প্রথমে একবার তাকালেন পিনচিত্তর দিকে। যেন তাঁর প্রাচীন নগরীতে উৎসবে যাবার কথাটা সুজয়দের কাছে ব্যক্ত করায় পিনচিত্তর প্রতি অসন্তুষ্ট হয়েছেন তিনি। তাঁর তাকানোর ভঙ্গী দেখে সুজয়ের তাই মনে হল।

    এরপর ইল্লাপা একটু কঠিন স্বরে মার্কেজের উদ্দেশ্যে বললেন, ‘ও সব শহরের খোঁজ জেনে আপনি কী করবেন? সোনা খুঁজতে যাবেন?’ মার্কেজ জবাব দিলেন, ‘না, না, সোনা খোঁজার ইচ্ছা আমার নেই। আসলে আমি একটা বই লিখছি। তার প্রয়োজনেই ও রকম কোনো জায়গায় যেতে চাই আমি।’

    ইল্লাপার এবার তার কন্ঠের কঠিনতা ও গাম্ভীর্য বজায় রেখে বললেন, ‘ওসব গোপন নগরীর হদিশ আমরা বাইরের লোককে দিই না। ওসব জায়গা লোকচক্ষুর অন্তরালে লুকিয়ে রেখেছি আমরা। ওখানে বাইরের পৃথিবীর মানুষের পা পড়ুক তা চাই না আমরা।’

    ‘কেন?’ প্রফেসর, ইনকা পুরোহিতের কথা শুনে কিছু বলার আগেই হঠাৎই নিজের অজান্তে প্রশ্নটা বেরিয়ে এল সুজয়ের মুখ থেকে। ইল্লাপা এবার স্থিরদৃষ্টিতে একবার তাকালেন সুজয়ের দিকে। তারপর বললেন, ‘ওসব নগরী সূর্যদেব ইনতির পবিত্র বাসভূমি। সূর্যপুত্ররা ইনতির সাধনা করেন সেখানে। তোমরা বিদেশিরা একবার তার সন্ধান পেলে ঝাঁকে ঝাঁকে মানুষ ছুটতে শুরু করবে ওসব জায়গাতে। হারিয়ে যাবে আমাদের উপাসনাস্থল। ঠিক যেমন হল এই মাচুপিচুতে। পৃথিবীর মন থেকে এ পবিত্র স্থান মুছে গেলেও এ নগরীর সন্ধান আমরা ইনকা পুরোহিতরা বংশপরম্পরায় জানতাম। এখানে ইনতির উপাসনা আর জাদুবিদ্যাচর্চা করতে আসতেন ইনকা পুরোহিতের দল। তারপর একদিন এক সাদা চামড়া খুঁজে বার করল এ শহর। লোকজন এক এক করে আসতে শুরু করল এখানে। সব কিছু নষ্ট হয়ে গেল।’ এরপর ইনতি পুজারি দুর্বোধ্য ভাষায় কী সব যেন বললেন স্বগতোক্তির সুরে। যার বিন্দুবিসর্গ বুঝতে পারল না সুজয়। মার্কেজের ওসব কথা বোধগম্য হল কিনা তাও সে ধারণা করতে পারল না।

    ইনকা পুরোহিতের কথা শেষ হলে, একটু চুপ করে থেকে মার্কেজ তাঁর উদ্দেশ্যে বললেন, ‘আচ্ছা, ধন্যবাদ। আপনার সঙ্গে পরিচিত হয়ে ভালো লাগল। আপনাকে প্রশ্ন করে বিরক্ত করলাম বলে দুঃখিত।’

    ইল্লাপা কোনো জবাব দিলেন না তার কথায়। আকাশের দিকে তাকিয়ে কী যেন দেখতে লাগলেন। তার দৃষ্টি অনুসরণ করে আকাশের দিকে তাকাতেই সুজয় আর মার্কেজের চোখে পড়ল তাদের মাথার ওপরেই আকাশের বুকে ডানা মেলে ভাসছে বেশ বড়ো আকারের কী একটা পাখি! একমাত্র চিল বা বাজ জাতীয় পাখিরাই ওভাবে স্থির হয়ে বাতাসে ভাসতে পারে। ইনকা পুরোহিত এরপর হঠাৎ তার দীর্ঘ ডান বাহু প্রসারিত করে তুলে ধরলেন আকাশের দিকে। আর তারপর মুহূর্তেই পাখিটা তির বেগে নীচে নেমে এসে ডানা ঝটপট করে বসল ইল্লাপার বাহুতে। ইল্লাপা পাখিটার মাথায় একবার হাত বোলাবার পর সে হাত বেয়ে তার কাঁধে গিয়ে বসল। সুজয় ভালো করে দেখতে লাগল পাখিটাকে। সত্যিই বেশ বড়ো পাখি। ছাই রঙা পাখিটার পিঠ ইল্লাপার মাথার সমান প্রায় উঁচু। তার সবল পায়ে ধারালো নখ, বাঁকানো সবল ঠোঁট। সে যে শিকারি গোত্রের তা দেখেই বোঝা যাচ্ছে। ইল্লাপার ডান কাঁধের ওপর পাখি বসার জন্যই সম্ভবত পোশাকের গায়ে একটা চামড়ার পটি লাগানো আছে। কাঁধে বসার পর পাখিটা বার দুই সেই চামড়ার পটিতে ঠোঁট ঘসে মাথা তুলে তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে তাকাল সুজয়ের দিকে। তার লাল চোখ দুটো হিংস্রতা মাখা। সেদিকে তাকিয়ে সুজয়ের গা-টা কেমন যেন শিরশির করে উঠল। পাখিটার ধারালো নখ আর ঠোঁট যেকোনো প্রাণীকে মুহূর্তে চিরে ফালা ফালা করে দিতে পারে! সে ইল্লাপার কাঁধে বসার পর মি. পিনচিও মনে হয় তার ভয়ে তাঁর পাশ থেকে সরে দাঁড়ালেন।

    মার্কেজ পাখিটাকে ভালো করে দেখার পর অবাক হয়ে ইল্লাপাকে জিজ্ঞেস করলেন, ‘এটা কি পাখি?’

    ইল্লাপা জবাব দিলেন, ‘কনডোরের বাচ্চা’।

    ইনকা পুরোহিতের থেকে প্রাচীন নগরীর সন্ধান পাওয়া যাবে না বুঝতে পেরে প্রসঙ্গ পালটে মার্কেজ পিনচিওকে জিজ্ঞেস করলেন, ‘তা এখানে এসে এখন পর্যন্ত কী কী দেখা হল আপনার? সূর্য মন্দির, ইনতিহুয়ানাতা এসব দেখা হয়ে গেছে আপনার?’

    পিনচিও বললেন, ‘না ওসব কিছু এখনও আমার দেখা হয়নি। এখানে এসে সরাসরি এ জায়গাতে চলে এসেছি। ইনকা পুরোহিত এ ঘরেই রাত কাটাবেন। আমার গাইড ওঁরই একটা কাজে গেছে। সে ফিরলে তাকে নিয়ে দেখতে বেরোব।’

    এরপর পিনচিও সুজয়দের আরও কী বলতে যাচ্ছিলেন, কিন্তু তার আগেই পিছনে একটা খসখস শব্দ শুনে ফিরে তাকিয়ে মার্কেজ আর সুজয় দেখতে পেল তাদের পিছনে এসে দাঁড়িয়েছে পিনচিওর সেই একচক্ষু গাইড। তার সঙ্গে রয়েছে একটা ধবধবে সাদা লামার বাচ্চা। তার লাগামটা ধরা আছে লোকটার হাতে। সে লামাটা আনার পর ইল্লাপা যেন মনোযোগ দিয়ে নিরীক্ষণ করলেন প্রাণীটাকে। তারপর দুর্বোধ্য ভাষায় গাইডটাকে কী বললেন, তার কথা শুনে লোকটা সুজয়দের পাশ কাটিয়ে প্রাণীটাকে নিয়ে পাথুরে ঘরটার ভিতরে গিয়ে ঢুকল।

    মার্কেজ পিনচিওর দিকে তাকিয়ে জানতে চাইলেন, ‘এ প্রাণীটা দিয়ে কি হবে?’

    পিনচিও বললেন, ‘ইনকা পুরোহিত যেখানে যাচ্ছেন, সেখানে সঙ্গে নিয়ে যাবেন লামাটাকে। ওকে সেখানে বলি দেওয়া হবে।’

    মার্কেজ তাঁর কথা শোনার পর সুজয়ের দিকে তাকিয়ে তাকে জানানোর উদ্দেশ্যে বললেন, ‘প্রাচীন কালেও কিন্তু ইনকারা ধর্মীয় উৎসবে লামা বলি দিতেন। যুগ যুগ ধরে সে প্রথা আজও চালু আছে। তবে সে-সময় নরবলি দানও করা হত। বিশেষত যুদ্ধ যাত্রার প্রাক্কালে জয়লাভের আশায় বা প্রাকৃতিক দুর্যোগের হাত থেকে রক্ষা পেতে নর রক্ত তারা ইনতিকে উৎসর্গ করত। সুলক্ষণা সূর্যকন্যা বা বালকদেরই নির্বাচন করা হত বলির জন্য। একবার একসঙ্গে দুশোজনকে বলি দিয়ে ছিল তারা…।’

    প্রফেসর কথাগুলো সুজয়কে বললেও পিনচিও তা শুনে বিস্মিত হয়ে বললেন, ‘এক সাথে দুশোজনকে! এটাতো জানা ছিল না! কেন?’

    মার্কেজ তাঁর কথার উত্তর দেবার আগেই শোনা গেল সুসানের গলা, ‘ওঃ কী বাতাসের ঝাপটা এখানে!’।

    সুসান বিলের সঙ্গে এসে উপস্থিত হল সুজয়দের পিছনে। তারপর সুজয়দের সঙ্গে পিনচিও আর পাখি কাঁধে অদ্ভুত পোশাক পরা একজন লোককে দেখতে পেয়ে একটু থতোমতো খেয়ে মার্কেজের কোল ঘেষে দাঁড়াল। বিলও ইনকা পূজারিকে অবাক হয়ে দেখতে লাগল। ইল্লাপা এবার শুধু নবাগতদের তাচ্ছিল্যের ভঙ্গিতে দৃষ্টিপাত করে আকাশের দিকে তাকালেন।

    পিনচিও ইল্লাপার উদ্দেশ্যে এবার সুসান আর বিলের পরিচয় দিলেন। আকাশের দিকে চোখ রেখেই ইনকা পুরোহিত নিতান্ত অনিচ্ছাকৃতভাবেই যেন তাঁর ডান হাত নিজের বুকের কাছে এনে সম্ভাষণ জানালেন বিলকে।

    ঠিক এই সময় লামাটাকে ঘরের ভিতর রেখে বাইরে বেরিয়ে ইল্লাপার পাশে এসে দাঁড়াল পিনচিওর গাইড হুইকো। একচোখে সে একবার নিরীক্ষণ করল সকলকে। সুজয়ের মনে হল, সকলকে দেখার পর তার দৃষ্টি যেন কয়েক মুহূর্তের জন্য স্থির হয়ে গেল সুসানের দিকে। আর তার -পরই সে ইল্লাপার কানের কাছে মুখ এনে ফিসফিস করে কি বলল! তার কথা শোনার সঙ্গে সঙ্গে ইনকা পুরোহিত আকাশের থেকে মুখ ফিরিয়ে সোজা তাকালেন সুসানের দিকে। কয়েক মুহূর্ত ভালো করে তাকে দেখার পর ইনকা পুরোহিত দুর্বোধ্য ভাষায় কী একটা বললেন তার পাশে দাঁড়ানো হুইকোর উদ্দেশ্যে।

    সুসান মনে হয় পিনচিওর গাইডকে দেখে আবার ভয় পেয়ে গেল, সে তার দাদুর কোটের হাতা ধরে টান দিয়ে অন্য দিকে মুখ ফিরিয়ে বলল, ‘এবার চলো, আমার এখানে থাকতে ভালো লাগছে না।’

    ঘরের ভিতরটা দেখার ইচ্ছা থাকলেও সেখানে ঢোকা আর সমীচীন মনে হল না মার্কেজের। ইনকা পুরোহিতের ব্যক্তিগত জিনিসপত্র হয়তো রাখা আছে ঘরের মধ্যে। ভিতরে ঢুকলে তাঁর ব্যক্তিগত গোপনীয়তা ভঙ্গ হতে পারে। তা ছাড়া ইল্লাপা লোকটা যেন একটু রুক্ষ ধরনের। কাজেই সে ইচ্ছা পরিত্যাগ করে তিনি পিনচিওর উদ্দেশ্যে বললেন, ‘আমরা তাহলে এবার যাচ্ছি। আরও দেখা বাকি আছে আমাদের। এত বড়ো জায়গা দেখতে বেশ সময় লাগে। আপনার সঙ্গে দেখা হয়ে ভালো লাগল।

    পিনচিও প্রত্যুত্তরে বললেন, ‘হ্যাঁ, আমারও ভালো লাগল। আপনারা বেড়ান। আমিও হুইকোর সাথে একটু পরে দেখতে বেরব। আবার নিশ্চই আপনাদের সাথে আমার দেখা হবে।’

    মার্কেজ বললেন, ‘একই জায়গায় যখন বেড়াচ্ছি তখন নিশ্চয়ই দেখা হবে। ভালো করে বেড়ান, অনেক কিছু দেখার আছে এখানে।’ একথা বলে তিনি তাকে বিদায় জানিয়ে সুজয়দের সঙ্গে নিয়ে সে জায়গা ছেড়ে বাইরে বেরিয়ে এলেন। তারপর হাঁটতে শুরু করলেন অন্য গন্তব্যের উদ্দেশ্যে। যেতে যেতে বিল মন্তব্য করল, ‘মাথায় পালক লাগানো লোকটার হাবভাব দেখে মনে হল, ও যেন আমাদের ঠিক পছন্দ করল না।’ মার্কেজ বললেন, ‘ওই লোকটা করিকানচার পুরোহিত। খাঁটি ইনকা রক্ত গায়ে আছে ওর। এখানকার স্থানীয় মানুষরা কেউই এসব জায়গা অর্থাৎ তাদের প্রাচীন ধর্মস্থানে বাইরের লোকের আনাগোনা পছন্দ করে না। নেহাত দেশটা গরিব। টুরিস্টদের আসা-যাওয়ার ওপর ভিত্তি করেই গড়ে উঠেছে এখানকার বর্তমান অর্থনীতি। তাই ওরা মুখে কিছু বলে না। কিন্তু ভিতরে ভিতরে অপছন্দ করে আমাদের। তাই ইনকা পুরোহিতের এ ব্যবহার আশ্চর্যের কিছু নয়।’

    সুজয় বলল, ‘তাহলে তো তাঁর পিনচিওকেও অপছন্দ করা উচিত?’

    প্রফেসর বললেন, ‘তাইতো করা উচিত।’

    বিল প্রশ্ন করল, ‘আমরা এবার কোন দিকে যাচ্ছি?’

    তিনি জবাব দিলেন, ‘সূর্যমন্দিরের দিকে।’

    আশেপাশের স্থাপত্যগুলো দেখতে দেখতে, পাহাড়ের ধাপ ভেঙে উঠে নেমে সুজয়রা এক সময় পৌঁছে গেল মাচুপিচুর করিকানচা বা সূর্যমন্দির চত্বরে। মন্দিরটা বর্তমানে প্রায় ধ্বংসপ্রাপ্ত হলেও এক সময় যে কলেবরে যে বেশ বড়ো ছিল তা বোঝা যায়। তার কাছেই দাঁড়িয়ে আছে আকাল্লাকুনা বা সূর্যকন্যাদের আবাস। পর্যটকদের বেশ ভিড় আছে এ জায়গাতে। বেশ কয়েকজন স্থানীয় মানুষ নানা রকম জিনিসও ফেরি করছে সেখানে। তাদেরই একজনের হাতে ধরা লাঠি থেকে ঝুলছিল ফুট তিনকে করে লম্বা নানা রঙের রেশমের দড়ি। সুজয়রা চত্বরে গিয়ে উপস্থিত হতেই লোকটা তাদের সামনে উপস্থিত হয়ে দড়িগুলো দেখিয়ে বলল, ‘খিপু স্যার?’ ‘খিপু? ভেরি চিপ…’ দড়িগুলো কী কাজে লাগে তা বুঝতে না-পেরে সুজয় তাকাল মার্কেজের দিকে। তিনি দাঁড়িয়ে পড়লেন। তারপর সুজয়ের উদ্দেশ্যে বললেন, ‘এই দড়িগুলোর নাম খিপু’। ইংরেজি বানান, ‘QUIPU’। ইনকারা সংখ্যাতত্ত্বের ব্যাপারে অবগত থাকলেও সংখ্যা লিখন তাঁদের জানা ছিল না। খিপু নামের এই দড়িগুলোর সাহায্যেই তারা হিসাব রাখত। একটা দড়ি হাতে নিয়ে তিনি বললেন, ‘ভালো করে দেখুন, দড়িটার স্থানে স্থানে গিঁট দেওয়া আছে। গিঁটের সংখ্যা, ধরন, তাদের মধ্যে দূরত্ব, দড়ির বুনোন, উপকরণ আর রং দিয়ে সংখ্যা ও কীসের গণনা করা হচ্ছে তা চিহ্নিত করা হত। যেমন আমার হাতের দড়ির রংটা সাদা। পাঁচটা গিঁট আছে এতে। প্রত্যেকটা গিঁট সমদূরত্বে। সাদা রং নির্দেশ করত লামার সংখ্যা। পাঁচটা গিঁটের অর্থ ‘পাঁচ’। আর সমদূরত্ত্বের অর্থ, প্রত্যেকের পিছনে একটা ‘শূন্য’ বর্তমান। অর্থাৎ এ দড়ির সাহায্যে পঞ্চাশটা লামা বোঝান হচ্ছে। ঠিক এমনভাবে গৃহপালিত পশু বোঝানোর জন্য সবুজ রঙের দড়ি, সৈন্য সংখ্যা বোঝানোর জন্য লাল রঙের দড়ি ইত্যাদি নির্দিষ্টভাবে চিহ্নিত ছিল। এখনও পর্যন্ত প্রায় দুশো রকমের খিপু আবিষ্কার হয়েছে। শস্যের হিসাব থেকে শুরু করে জনগণনা, সবকিছুরই হিসাব তারা খিপুর মাধ্যমেই রাখত। সেদিনের স্মৃতি ধরে রাখতে এগুলো বিক্রি করা হয়। টুরিস্টরা সুভিনির হিসেবে কেনে।’

    মার্কেজের কথা শোনার পর সুজয় গোটা দু-এক খিপু কিনল দেশে ফিরে বন্ধুবান্ধবদের দেবে বলে। মার্কেজ বললেন, তার প্রত্যেক ক-টার অর্থ পরে তিনি সুজয়কে বুঝিয়ে দেবেন।

    এরপর তারা সকলে প্রবেশ করলেন মন্দিরে। কুজকোর মন্দিরের সঙ্গে এ মন্দিরের পার্থক্য হল, এখানকার দেওয়ালের গায়ে খোদিত হুয়াকাগুলো অন্য ধরনের। ফুল-পশুপাখির নকশার পরিবর্তে এখানে দেওয়ালের গায়ে আঁকা আছে বিভিন্ন ধরনের জ্যামিতিক নকশা, মার্কেজ জানালেন, এই আঁকজোকগুলো সম্ভবত বিভিন্ন ঋতুতে সূর্যের গতিপথের অঙ্কন। এ ছাড়া বিভিন্ন আকারের স্তম্ভ ও অদ্ভুত জ্যামিতিক স্থাপত্যও রয়েছে এখানে। মন্দিরের ভিতরে কোনো বিগ্রহ নেই। কোনো কোনো পন্ডিতের নাকি অভিমত, এ জায়গা আসলে ছিল মানমন্দির। ইনকা জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা সূর্যের গতিপথ ও রাতের আকাশে নক্ষত্রমন্ডলের অবস্থান নির্ণয় করতেন এখান থেকে। তাঁরা আবহাওয়ার ভবিষ্যদবাণী করতেন। যার ওপর নির্ভর করে ইনকারা তাদের কৃষিকাজ সম্পূর্ণ করতেন।

    বেশ অনেকটা সময় নিয়ে এই মানমন্দির ঘুরে ঘুরে দেখল সুজয়রা। প্রফেসর মার্কেজ বুঝিয়ে দিলেন প্রয়োজনীয় বিষয়গুলো। তারপর একসময় সে জায়গা ছেড়ে তারা রওনা হল অন্যদিকে। এ রকমই একটা চত্বরে বেশ কয়েকটা তাঁবু চোখে পড়ল সুজয়দের। তাঁবুগুলোর সামনে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রিল্যাক্সড মেজাজে বসে রয়েছে সাদা চামড়ার বেশ কয়েকজন টুরিস্ট। নিজেদের মধ্যে গল্পগুজব করছে তারা। মার্কেজ তা দেখে বললেন, ‘সম্ভবত এই তাঁবুগুলোতেই রাত কাটাবে এরা। দেখি, হোটেলে ফিরে কথা বলি। আমারও আজ রাতটা এই প্রাচীন নগরীতেই থাকতে ইচ্ছা করছে।’ তাঁর কথা শুনে সুজয় মনে মনে বলল, ‘তাহলে তো বেশ ভালোই হয়। একটা দুর্লভ অভিজ্ঞতার সাক্ষী হওয়া যাবে।’

    গোটা দশেক চত্বর অতিক্রম করার পর অবশেষে সুজয়রা উঠে এল পাহাড়ের মাথার ওপর। সেখানে বৃত্তাকারে ছড়িয়ে রয়েছে অতিপ্রাচীন বেশ কিছু ছাদহীন পাথরের ঘর। আর তার একপাশে বেশ উঁচু একটা বেদীর ঠিক মাঝখানে দাঁড়িয়ে আছে পাথরের তৈরি স্তম্ভ। তার চারদিক থেকে সিঁড়ি উঠে গেছে স্তম্ভর পাদদেশে পৌঁছোবার জন্য। সুজয়রা গিয়ে দাঁড়াল স্তম্ভ বেদীর নীচে। মার্কেজ সুজয়দের উদ্দেশ্যে বললেন, ‘এই হল মাচুপিচুর বিখ্যাত ‘ইনতিহুয়ানাতা’ বা সূর্যকে বেঁধে রাখার স্তম্ভ। এর ছায়া দেখেই সূর্যর ক্রান্তি পথ ও সময় গণনা করা হত। তা ছাড়া উৎসবের দিনে এই স্তম্ভর ওপর আগুন জ্বালানো হোত।’

    ‘কীভাবে?’ জানতে চাইল সুজয়।

    তিনি বললেন, ‘আগুন জ্বালাবার জন্য ইনকারা বিশেষ পদ্ধতি গ্রহণ করত। তাঁরা কাচের ব্যবহার জানতেন না। বিরাট বিরাট অবতল আকৃতির সোনার চাকতি দিয়ে সূর্যরশ্মিকে কেন্দ্রীভূত করে তারা দাহ্যবস্তুর ওপর ফেলে প্রচন্ড উত্তাপ সৃষ্টি করে আগুন জ্বালত তারা। ওই অবতল চাকতিগুলো যেখানে আগুন জ্বালানো হত তার চারপাশে অনুচ্চ স্তম্ভের গায়ে এমনভাবে লাগানো থাকত যে উলম্বভাবে নাড়াচাড়া করা যায়।’ এরপর একটু থেমে তিনি বললেন, ‘এই পদ্ধতিতে স্তম্ভর গায়ে বেঁধে অপরাধী বা সাদা চামড়ার বিদেশিদের সূর্যরশ্মি দিয়ে পুড়িয়ে মারা হত।’

    বিল তার কথা শুনে বলল, ‘হ্যাঁ, এরকম ব্যাপার কোনো একটা বইতে পড়েছিলাম!’

    সুসান বলল, ‘হ্যাঁ, আমিও পড়েছি, টিনটিনের গল্পে!’

    বিল ক্যামেরা বার করে বেশ কয়েকটা ছবি তুলল ইনতিহুয়ানাতার। সুজয়ও তুলল। তারপর বিল সিঁড়ি বেয়ে বেদীর ওপর উঠে চারপাশে তাকিয়ে নীচে দাঁড়ানো সুজয়ের উদ্দেশ্যে বলল, ‘এখানে উঠে এসে তোমার ক্যামেরায় ছবি নাও। মাচুপিচুর পুরো ভিউ পাওয়া যাচ্ছে এখান থেকে! মার্ভেলাস!’ তার কথা শুনে সুজয়ও সিঁড়ি বেয়ে ওপরে উঠে এল। মার্কেজ আর সুসান দাঁড়িয়ে রইল নীচে। সত্যিই বেদীর ওপর দাঁড়িয়ে নীচের দিকে তাকালে, প্রাচীন নগরীর প্রায় সম্পূর্ণটাই চোখে পড়ছে। পাহাড়ের ধাপে ধাপে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে পবিত্র ইনকা নগরীর চিহ্ন। সূর্য পশ্চিমে হাঁটতে শুরু করেছে। নগরীর এক অংশে পড়েছে পাহাড়ের ছায়া। তবে পূর্বদিকের জঙ্গলের মাথায় কুয়াশার আস্তরণ এখন আর নেই। সেদিকে অনেক অনেক দূরে নীল আকাশের বুকে চোখে পড়ছে নাম না-জানা পর্বতশৃঙ্গ। সুজয় ওপর থেকে পাহাড়ের ঢালে দাঁড়িয়ে থাকা নগরীর বেশ কয়েকটা ছবি তুলল। বিল প্রফেশনাল ফটোগ্রাফার, সে ক্যামেরা এক হাতে চোখের সামনে তুলে ধরে অন্য হাতে ক্যামেরার জুমটা ঘুরিয়ে কীভাবে তুললে ছবিটা ভালো হবে তা বোঝার চেষ্টা চালাচ্ছিল। ক্যামেরা ঘোরাতে ঘোরাতে হঠাৎ থমকে গিয়ে লেন্সে চোখ রেখে সে বলল, ‘আরে ওই লোকটা ওখানে কী করছে!’ পাশে দাঁড়ান সুজয় বিলের দিকে তাকিয়ে প্রশ্ন করল, ‘কে?’ বিল কোনো কথা না-বলে বেশ অনেকটা দূরে দাঁড়িয়ে থাকা একসারি পাথুরে ঘরের দিকে আঙুল তুলে দেখিয়ে তার ক্যামেরাটা সুজয়ের হাতে তুলে দিল। ক্যামেরায় চোখ রাখল সুজয়। জুম লেন্সটা দূরের ঘরগুলোকে কাছে নিয়ে এসেছে। সুজয় দেখল পাথরের ঘরগুলোর একটার সামনে দাঁড়িয়ে আছে মি. পিনচিওর গাইড হুইকো! সুজয়ের মনে হল সে যেন দূর থেকে তাকিয়ে আছে তাদের দিকেই। কিন্তু ঘরগুলোর আশেপাশে পিনচিওকে কোথাও দেখতে পেল না সে। কয়েক মুহূর্ত পর ধীরে ধীরে লোকটা একটা ছাদহীন ঘরের দেওয়ালের আড়ালে অদৃশ্য হয়ে গেল। ক্যামেরাটা বিলের হাতে তুলে দিয়ে সুজয় বলল, ‘মনে হল লোকটা যেন আমাদেরই দেখছিল।’ বিল জবাব দিল আমারও তাই মনে হল, তাই তোমাকে দেখালাম।’ এরপর সেখানে দাঁড়িয়ে বিল কয়েকটা ছবি তোলার পর তারা দুজন নীচে নেমে এল।

    বিল মার্কেজের উদ্দেশ্যে বলল, ‘এবার কোন দিকে যাওয়া হবে?’

    মার্কেজ তার রিস্টওয়াচের দিকে তাকিয়ে বললেন, ‘তিনটে বেজে গেছে। নীচে নেমে আমরা এখন সোজা হোটেলে ফিরব। যদি হোটেলে গিয়ে রাতে এখানে থাকার বন্দোবস্ত হয়ে যায় তাহলে তো আবার আমাদের সন্ধ্যার আগেই এ জায়গাতে ফিরতে হবে। কাজেই বলা যেতে পারে এখনকার মতো আমাদের কাজ শেষ।’

    তাঁর কথা শুনে ঘাড় নেড়ে বিল তার ক্যামেরা চামড়ার কেসের মধ্যে পুরে ফেলল। তারপর সকলে ইনতিহুয়াতানা চত্বর ছেড়ে নীচে নামতে শুরু করল। নামতে নামতে মার্কেজ বললেন, ‘আবার ফিরতে হলে এবার ঘোড়াতেই ফিরব। দু-বার পাহাড় ভাঙার ধকল এ বয়সে সহ্য হবে না।’

    দেখতে দেখতে ওপরে উঠতে যত সময় লেগেছিল, নীচে নামতে তত সময় লাগল না তাদের। ঘোড়া চলাচলের একটা পথ ধরে মিনিট চল্লিশের মধ্যেই পাহাড়ের ঢাল বেয়ে নীচে নেমে আসা গেল। তারপর তারা পা বাড়াল হোটেলের দিকে।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleঅ্যাডভেঞ্চার ভয়ংকর – হিমাদ্রিকিশোর দাসগুপ্ত
    Next Article আঁধার রাতের বন্ধু – হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত

    Related Articles

    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত

    বিষ্ণুলোকে সন্ধ্যা নামে – হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত

    March 20, 2026
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত

    সাদা বিড়াল – হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত

    January 31, 2026
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত

    নেকড়ে খামার – হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত

    December 10, 2025
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত

    অ্যাডভেঞ্চার সমগ্র ১ – হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত

    December 10, 2025
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত

    অ্যাডভেঞ্চার সমগ্র ২ – হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত

    December 9, 2025
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত

    জাদুকর সত্যচরণের জাদু কাহিনি – হিমাদ্রি কিশোর দাশগুপ্ত

    December 9, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Our Picks

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }