Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    সূর্যমন্দিরের শেষ প্রহরী – হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত

    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত এক পাতা গল্প262 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    সূর্যমন্দিরের শেষ প্রহরী – ৭

    ৭

    ভোরবেলা যখন ঘুম ভেঙে সুজয় তাঁবুর বাইরে এসে দাঁড়াল তখন পাহাড়ের ফাঁক দিয়ে আসা সূর্যকিরণ ছড়িয়ে পড়েছে মাচুপিচুর বুকে। ঝলমল করছে নীল আকাশের পটভূমিতে দাঁড়িয়ে থাকা তুষারধবল শৃঙ্গরাজি। তবে পুবদিকের সেই অরণ্যের মাথা এখনও কুয়াশার ঘন চাদরে ঢাকা। ওই অরণ্যতেই আজ প্রবেশ করতে হবে সুজয়দের। ওই কুয়াশার চাদরের নীচে তাদের জন্য কত রহস্য লুকিয়ে আছে কে জানে!’ সেদিকে তাকিয়ে মনে মনে ভাবল সুজয়।

    সুজয়ের আগেই ঘুম ভেঙে উঠে পড়েছেন প্রফেসর মার্কেজ, বিল, এমনকি সুসানও। তাঁবুর কিছু দূরে দাঁড়িয়ে তারা কথা বলছিল। সবার শেষে ঘুম ভাঙায় মনে মনে একটু লজ্জা পেল সে। প্রফেসর তার উদ্দেশ্যে বললেন, ‘গুড মর্নিং। আশা করি ভালো ঘুম হয়েছে। আর কিছুক্ষণের মধ্যেই আমাদের তাঁবু ছেড়ে বেরিয়ে পড়তে হবে। ইনতিহুয়ানাতা পর্যন্ত আমাদের মালপত্র নিজেদেরই টেনে নিয়ে যেতে হবে, তাই একটু আগেই বেরোব আমরা।’ সুজয়ের রিস্টওয়াচে ঠিক ছ-টা বাজে। সময়টা দেখে নিয়ে সুজয় বলল, ‘আমার তৈরি হতে ঠিক দশ মিনিট সময় লাগবে’।

    মার্কেজ হেসে বললেন, ‘অত তাড়াতাড়ির দরকার নেই, সাড়ে ছ-টার মধ্যে তৈরি হয়ে নিলেই হবে।’ সুজয় বলল, ‘আচ্ছা’।

    ঠিক সাড়ে ছ-টার সময় তাঁবু ছেড়ে মালপত্র নিয়ে ইনতিহুয়ানাতা চত্বরের উদ্দেশ্যে হাঁটতে শুরু করল সকলে। জিনিসপত্র নিয়ে পাহাড়ের খাঁজ বেঁয়ে, সঙ্কীর্ণ পাথুরে ধাপে পা ফেলে ওপরে উঠতে বেশ কষ্টই হল সুজয়দের। তারা যখন ইনতিহুয়ানাতা চত্বরে পৌঁছোল তখন তাদের চোখে পড়ল ইনতিহুয়ানাতার ঠিক নীচে পিনচিও আর হুইকো দাঁড়িয়ে আছে ইনকা পুরোহিত ইল্লাপার সঙ্গে। তাদর একপাশে দাঁড়িয়ে আছে বেশ কয়েকজন লোক আর একদল লামা।

    সুজয়রা তাঁদের সামনে গিয়ে দাঁড়াতেই পিনচিও বললেন, ‘গুড মর্নিং প্রফেসর। আমরা আগেই চলে এসেছি। আপনাদের মালপত্রগুলো এবার চটপট তুলে ফেলতে হবে প্রাণীগুলোর পিঠে। আমাদেরগুলো বাঁধা হয়ে গেছে।’ তার পাশে দাঁড়িয়ে থাকা ইল্লাপা একটা কথাও বললেন না। তিনি নির্লিপ্তভাবে একবার সুজয়দের দিকে তাকিয়ে চোখ নামিয়ে তাকালেন সামনের পাথুরে মাটির দিকে। ইনতিহুয়ানাতার একটা আবছা ছায়া এসে পড়েছে সে জায়গাতে। পাথুরে মাটিতে সে জায়গাতে পর পর কতগুলো সরলরেখা আঁকা, আর একটা লাঠি শোয়ানো আছে সেখানে। সুজয়ের মনে হল সূর্যঘড়িতে সময় দেখছেন ইল্লাপা।

    মোট পাঁচটা ভারবাহী লামা, আর চারজন স্থানীয় পোশাক পরা লোক। আর সেই সাদা লামার বাচ্চাটাও আছে। লোকগুলোর মধ্যে একজন বেশ শক্তপোক্ত, আর একজন বেশ বৃদ্ধ। তিনটে লামার পিঠে ইতিমধ্যেই মালপত্র বাঁধা। পিনচিওর নির্দেশে কিছুক্ষণের মধ্যেই হুইকো, আর একজন লোক সুজয়দের মালপত্র দড়ি দিয়ে বেঁধে ফেলল অন্য দুটো লামার পিঠে।

    বাঁধাছাঁদা শেষ হবার পর মার্কেজ, পিনচিওকে বললেন, ‘সাতটাতো প্রায় বাজে, আমরা কি তাহলে এখনই রওনা হচ্ছি?’

    পিনচিও ইল্লাপার দিকে তাকিয়ে বললেন, ‘হ্যাঁ, সূর্যঘড়িতে সাতটা বাজলেই রওনা হব আমরা।’

    ইল্লাপা তখনও একদৃষ্টিতে তাকিয়ে আছেন ইনতিহুয়ানাতার ছায়ার দিকে। সে তাকানোর অর্থ এবার বুঝতে পারল সুজয়।

    বেশ কিছুক্ষণ সেদিকে তাকিয়ে থাকার পর ইনকা পুরোহিত হঠাৎ সূর্যের দিকে মুখ তুলে বিড় বিড় করে কী যেন বলতে শুরু করলেন। সবাই তাঁর দিকে তাকিয়ে রইল। মার্কেজ চাপা স্বরে সুজয়ের কানের কাছে বললেন, ‘যাত্রা শুরুর আগে সূর্যস্তুতি করছে ইনকা পুরোহিত। মিনিট পাঁচেক মন্ত্রোচ্চারণের পর মাটি থেকে লাঠিটা তুলে কাঁধে রাখলেন ইল্লাপা। সুজয়রা কেউই খেয়াল করেনি, ইল্লাপার পোষা সেই কনডোরের বাচ্চাটা এতক্ষণ বসেছিল ইনতিহুয়ানাতার মাথায়। তিনি লাঠিটা কাঁধে ফেলে মুখ দিয়ে একটা অদ্ভুত শব্দ করতেই পাখিটা ওপর থেকে উড়ে নীচে নেমে এসে বসল লাঠিটার মাথার কাছে এক জায়গাতে। আর তারপরই ইঙ্গিতে সবাইকে তাঁকে অনুসরণ করতে বলে লম্বা লম্বা পা ফেলে হাঁটতে শুরু করলেন ইনকা পুরোহিত। সুজয়ের ঘড়িতে তখন সাতটা বেজে চার। সবাই এবার ইল্লাপার পিছন পিছন হাঁটতে শুরু করল। প্রথমে ইনকা পুরোহিত, তারপর পিনচিওসহ সুজয়রা, আর সব শেষে লামার বাচ্চা আর ভারবাহী লামাগুলোকে নিয়ে অন্য লোকগুলো। যেতে যেতে সুজয় মার্কেজকে জিজ্ঞেস করল, ‘আমার ঘড়ির সাথে সূর্যঘড়ির মিনিট চারেক সময়ের পার্থক্য হল কেন?’

    মার্কেজ জবাব দিলেন, ‘ইনতিহুয়ানাতা তৈরি হয়েছিল সাড়ে পাঁচশো বছর আগে। এই সাড়ে পাঁচশো বছরে সূর্য ও পৃথিবীর গতিপথের যে পরিবর্তন হয়েছে তার জন্য সময়ের ওই পার্থক্য।’

    ইনতিহুয়ানাতা চত্বর ছেড়ে পূব দিকের পাহাড়ের ঢাল বেয়ে নামতে শুরু করল সুজয়রা। সুসান চলেছে সুজয়ের হাত ধরে। সে জানতে চাইল আমরা এখন কোথায় যাচ্ছি?

    সুজয় তাকে কুয়াশার চাদরে ঢাকা জঙ্গলের দিকে আঙুল তুলে দেখিয়ে বলল, ‘আমরা যাব ওই জঙ্গলে।’ সুসান আবার প্রশ্ন করল, ‘কী আছে ওই জঙ্গলে?’

    সে জবাব দিল, ‘এ রকম একটা পুরোনো শহর আছে ওই জঙ্গলের মধ্যে। আমরা সেটা দেখতে যাচ্ছি। তা ছাড়া জঙ্গলের মধ্যে নানা রকম পশুপাখি আছে। তাদেরও নিশ্চই দেখতে পাব আমরা।’

    পাহাড়ের ঢাল বেয়ে একসময় সুজয়রা নীচে নেমে এল। তারপর উপত্যকা রেখে হাঁটতে শুরু করল পূবের জঙ্গলের দিকে। ক্রমশই কাছে এগিয়ে আসতে লাগল পাহাড়ের ঢালে দাঁড়িয়ে থাকা সেই জঙ্গলের প্রবেশমুখ। তারা যখন সে জায়গাতে পৌঁছোল তখন প্রায় এক ঘণ্টা সময় অতিক্রান্ত হয়ে গেছে। আসলে মাচুপিচুর ওপর থেকে জঙ্গলটা যত কাছে মনে হচ্ছিল আসলে তা ততটা কাছে নয়। জঙ্গলের প্রবেশমুখে একটা ছোট্ট চেকপোস্ট। ফরেস্ট গার্ডরা তাদের পথ আটকাতেই পিনচিও পকেট থেকে আগের দিনের সেই কাগজটা বের করে তুলে দিলেন অফিসার গোছের লোকের হাতে। সেই অফিসার একবার কাগজটাতে চোখ বুলিয়ে নিয়ে ভ্রুকুঁচকে সুজয়দের দিকে তকিয়ে বললেন, ‘প্রফেসর মার্কেজ কোন জন?’ মার্কেজ জবাব দিলেন, ‘এই যে আমি।’

    অফিসার একবার তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে তাকাল তার দিকে। তারপর প্রশ্ন করল, ‘এসব লোকজন সবাই আপনার সঙ্গেই যাচ্ছে! গাইড কে?’

    মার্কেজ জবাব দেবার আগেই হুইকো বলে উঠল, ‘আমরা সবাই ওনার লোকজন, আর আমি হলাম গাইড।’ এই বলে সে পকেট থেকে তার পরিচয়পত্র গোছের কিছু একটা বার করে এগিয়ে গেল অফিসারের দিকে। অফিসার এরপর হুইকোকে একটু দূরে নিয়ে গিয়ে কী সব জিজ্ঞাসাবাদ করতে লাগলেন। মিনিট তিনেক তারা কথাবার্তা বলার পর হুইকো ফিরে এসে বলল, ‘কাগজ ঠিকই আছে। কিন্তু আমাদের মালপত্র খুলে পরীক্ষা করতে চাইছে ও। বিশেষত ওই লম্বা কাঠের বাক্সগুলো। ওর ধারণা ওর মধ্যে আপত্তিকর কিছু থাকতে পারে।’

    হুইকোর কথা শুনে কেমন যেন চুপসে গেলেন পিনচিও। একটা লামার পিঠে বেশ লম্বা ধরনের দুটো পালিশ করা কাঠের বাক্স ঝোলানো আছে। একজন বেশ শক্তপোক্ত পেরুভিয়ান সেই লামাটার লাগাম ধরে পথ চলছে। সুজয় লক্ষ করল, সে তার পাশের সঙ্গীকে চাপাস্বরে কী যেন বলল।

    ইল্লাপা দাঁড়িয়ে ছিলেন একটু দূরে একটা গাছের ছাওয়াতে। এবার তিনি এগিয়ে এসে দাঁড়ালেন সুজয়দের কাছে। এতক্ষণ তাঁকে মনে হয় খেয়াল করেননি সেই ফরেস্ট অফিসার। ইল্লাপাকে দেখে তিনি যেন কেমন চমকে উঠলেন! ইল্লাপা, কী হয়েছে তা জেনে নিলেন হুইকোর কাছে, তারপর সেই অফিসারের দিকে তাকিয়ে গম্ভীরভাবে দুর্বোধ্য ভাষায় কী বলল! তাঁর কথা শোনার সাথে সঙ্গেই কেমন যেন গুটিয়ে গেলেন সেই পেরুভিয়ান অফিসার। সুজয়ের মনে হল, জাঁদরেল চেহারার অফিসারটি যেন ভয় পেয়ে গেলেন। এরপর তিনি তার সঙ্গী ফরেস্ট গার্ডদের সুজয়দের পথ ছেড়ে দেবার নির্দেশ দিলেন, মালপত্র পরীক্ষা করার কোনো কথা আর মুখে আনলেন না তিনি। তাদের পাশ কাটিয়ে ইল্লাপা সকলকে নিয়ে প্রবেশ করলেন জঙ্গলের পথে, এগোতে এগোতে সুজয় মার্কেজকে জিজ্ঞেস করল, ‘ইনকা পুরোহিত এমনকি বলল, যে ফরেস্ট গার্ডরা ভয় পেয়ে গেল?’ মার্কেজ বললেন, ‘ইল্লাপা বললেন, ও সব তাঁর জিনিস। তাঁর সময় নষ্ট করলে করিকানচার পুরোহিত তাঁকে অভিশাপ দেবেন। অফিসার হলেও লোকটাতো পেরুভিয়ান, অভিশাপ-টভিশাপে ওরা বিশ্বাস রাখে, তাই ভয় পেয়ে পথ ছেড়ে দিল।’

    জঙ্গলের ভিতর দিয়ে হাঁটতে শুরু করল তারা। প্রথমে ঝোপঝাড়, একটু দূরে দূরে দাঁড়িয়ে থাকা বড়ো বড়ো গাছ, জমি কখনও উঁচু, কখনও নীচু। তারপর এক সময় চারপাশের বনজঙ্গল যেন ঘন হয়ে চেপে ধরতে শুরু করল তাঁদেরকে। নিজেদের মধ্যে কথা বলতে বলতে ধীর পায়ে চলতে লাগল তারা। গাছের মাথার ওপর থেকে পাখির ডাক ভেসে আসছে, কিন্তু তাদের চোখে দেখা যাচ্ছে না। ইল্লাপা সবার আগে হাঁটতে হাঁটতে মাঝে মাঝে আকাশের দিকে তাকিয়ে কী যেন দেখছেন।

    ঘণ্টাখানেক চলার পর একসময় সুজয়রা সত্যিই প্রবেশ করল গভীর জঙ্গলের মধ্যে। সেখানে যে দিকেই তাকানো যায় সেদিকেই বিরাট বিরাট গাছ। অনেক ওপরে তাদের ডালপালাগুলো চাঁদোয়ার মতো আকাশকে ঢাকার চেষ্টা করছে। বিলের বনজঙ্গল সম্বন্ধে অভিজ্ঞতা আছে। তাই মার্কেজ তাকে প্রশ্ন করলেন, ‘আমাজনের জঙ্গল কি এর চেয়ে বেশি ঘন?’

    বিল বলল, ‘এর চেয়ে অনেক অনেক বেশি ঘন। এখানেতো তাও পাতার ফাঁক দিয়ে সূর্যের আলো কিছু হলেও আসছে। সেখানে একদম নিশ্ছিদ্র অন্ধকার।’ তবে এ জঙ্গলের ভিতরটা কেমন, এখনই তা বলা সম্ভব নয়। আমার মনে হয় এখনও বাফার এলাকাতেই আছি কোর এলাকাতে ঢুকিনি।’

    মার্কেজও বিলের কথাবার্তা শুনে পিনচিও বললেন, ‘কোর এলাকা মানে?’

    বিল বলল, ‘সে-সব জায়গাতে রাস্তা এত ঘন থাকে যে অনেক সময় জঙ্গল কেটে রাস্তা বানিয়ে এগোতে হয়। ঠাস বুনোট গাছের ফাঁক দিয়ে মাছিও গলতে পারে না আর কোর এলাকার বাইরের অঞ্চল হল বাফার।’

    সুজয় বলল, ‘এই বাফার এলাকাতে জন্তুজানোয়ার থাকে না?’

    সে জবাব দিল, ‘হ্যাঁ, নিশ্চই আছে। আমাদের চোখে পড়ছে না। জন্তুজানোয়ারেরা তাদের স্বভাব অনুযায়ী জঙ্গলের বিভিন্ন জায়গাতে বাস করে।’ এসব নানা কথা আলোচনা করতে করতে এগোতে লাগলেন তারা। শুধু ইল্লাপাই নিশ্চুপভাবে সুজয়দের কয়েক হাত তফাতে নিজের মনে হেঁটে চললেন। মাঝে মাঝে মিনিট দশেকের বিশ্রাম, তারপর আবার হাঁটা। একসময় সুসান আর হাঁটতে পারছিল না। থামতে হল সুজয়দের। সমস্যার সমাধান করে দিল লামা নিয়ে যারা চলছিল তাদের মধ্যে বৃদ্ধ লোকটা। এমনিতে লামার পিঠে ঘোড়ার মতো বসা যায় না। সে লামার পিঠে ঝুলন্ত মালপত্রের খাঁজে বসিয়ে দিল সুসানকে। তারপর শুরু হল পথ চলা। দু-পাশের জঙ্গল ক্রমশই আরও ঘন হয়ে উঠছে। সুজয়ের মনে হল তারা যেন প্রবেশ করছে এক আদিম পৃথিবীতে। কী বিশাল মোটাসোটা গাছের গুঁড়ি, সেইসব আদিম মহাদ্রুম যেন ঊর্ধ্বে উঠে আকাশকে ছুঁতে চাইছে। আর গাছের গুঁড়িগুলোকে ঘিরে রয়েছে মানুষ সমান উঁচু ঝোপঝাড়। তার মধ্য দিয়েই চলছে সকলে।

    জঙ্গলে প্রবেশের পর যে প্রাণীটা প্রথম চোখে পড়ল সেটা একটা ‘শ্লথ’। সুজয়দের যাত্রাপথের পাশে একটা মোটা গাছের গুঁড়ি আঁকড়ে ঝুলছিল প্রাণীটা। তার ঝুলন্ত রোমশ লেজটা প্রথম চোখে পড়ল বিলেরই। প্রাণীটাকে ভালো করে দেখার জন্য দাঁড়িয়ে পড়ল সুজয়রা। খয়েরি-সাদা ফুট তিনেকের প্রাণীটাও ঘাড় ফিরিয়ে তার গোলগোল সবুজ চোখ দিয়ে কিছুক্ষণ তাকিয়ে রইল গাছের নীচে দাঁড়িয়ে থাকা দু-পেয়ে জীবগুলোর দিকে। তারপর শ্লথ গতিতে পাতার আড়ালে অদৃশ্য হয়ে গেল। ততক্ষণে অবশ্য পেশাদারি দক্ষতায় তার বেশ কয়েকটা ছবি তুলে নিয়েছে বিল। এরপর আবার হাঁটা।

    বেলা বারোটা নাগাদ দুপুরের খাবার জন্য থামল সুজয়রা। শুকনো খাবার আর জল দিয়ে মধ্যাহ্ন ভোজন সারা হল। সুজয়দের সঙ্গে সঙ্গে লামা নিয়ে চলা লোকগুলো খাওয়া সারলেও ইনকা পুরোহিত কিন্তু কিছুই ছুঁলেন না। একটা শোয়ানো গাছের গুঁড়ির ওপর বসে, তিনি লক্ষ করতে লাগলেন সুজয়দের। হুইকো হিসাব করে বলল, সকাল থেকে এখন পর্যন্ত খুব বেশি হলে মাইল পনেরো এগিয়েছে তারা। মার্কেজ তাকে জিজ্ঞেস করলেন, ‘আজ আরও কতটা পথ হাঁটব আমরা?’

    হুইকো জবাব দিল, ‘এখান থেকে দশ মাইল দূরে একটা নদী আছে, তার নাম ‘কোচা’ নদী। পুরোহিত বলেছেন ওই নদী পর্যন্ত আজ যাব আমরা।

    বিল প্রশ্ন করল, ‘আচ্ছা সেই মাচাকুয়ে নদীটা কোথায়?’

    হুইকো বলল, ‘সে এখনও অনেক দূরের পথ। কোচা নদীর ওপারে বিরাট বন। তারপর পড়বে একটা জলা। তারপর আবার জঙ্গল। সেই জঙ্গলের মধ্যে মাচাকুয়ে নদী। পরশু দুপুরের আগে সেখানে আমরা পৌঁছোতে পারব না। ইল্লাপা যাবেন মাচাকুয়ে নদী পার হয়ে ওপারের জঙ্গলে।’

    তার কথা শুনে মার্কেজ বললেন, ‘কুয়েচুয়া ভাষায় ‘মাচাকুয়ে’ শব্দের অর্থতো ‘সাপ’ তাই না? সে নদীতে কি অনেক সাপ আছে?’

    ‘বিষধর সাপ?’ মার্কেজের প্রশ্নের সাথে সাথেই হুইকোকে প্রশ্ন করলেন পিনচিও।

    হুইকো উত্তর দিল, ‘হ্যাঁ সাপ আছে, তবে তারা বিষধর নয়।’

    তার উত্তর শুনে পিনচিও হেসে বললেন, ‘বিষধর যখন নয়, তখন আর তেমন ভাবনার কিছু নেই আমাদের। কি বলুন?’—এই বলে তিনি তাকালেন বিলের দিকে।

    বিল কিন্তু হুইকোর কথা শুনে ভ্রূ কুঁচকে তাকে প্রশ্ন করল, ‘বিষধর’ নয়তো তারা কী সাপ?’

    তার প্রশ্ন শুনে হুইকোর এক চোখের দৃষ্টি যেন কয়েক মুহূর্তের জন্য স্থির হয়ে গেল। একটু ইতস্তত করে এরপর সে জবাব দিল,—‘অ্যানাকোণ্ডা।’ ‘অ্যানাকোণ্ডা!’—মানে পৃথিবীর বৃহত্তম সাপ! যে শিকারকে পিষে মারে?’—হুইকোর কথা শুনে বিস্ময়ে বলে উঠল সুজয়।

    হুইকো মুখে কোনো কথা না-বলে শুধু সম্মতিসূচক ঘাড় নেড়ে উঠে দাঁড়াল। কারণ, ইনকা পুরোহিত ইতিমধ্যে উঠে দাঁড়িয়ে যাত্রা শুরু করার ইঙ্গিত দিয়েছেন। সুজয়রা আবার দ্বিতীয় দফার যাত্রা শুরু করল।

    অরণ্যের মধ্যে দিয়ে শুধু চলা আর চলা। চারপাশে খালি গাছের গুঁড়ির প্রাচীর। একধরনের গাছ প্রায়ই জঙ্গলের মধ্যে চোখে পড়ছে। ঋজু গাছগুলোর গুঁড়ি শাখাহীন ভাবে ওপরে উঠে যাবার পর ডালপালার চাঁদোয়া বিস্তার করেছে। সুজয় হুইকোকে জিজ্ঞেস করল, ‘এগুলো কি গাছ?’ সে উত্তর দিল, ‘এ গাছের নাম ‘বালসা।’ এ গাছের গুঁড়ি খুব মজবুত আর হালকা হয়। জলে শোলার মতো ভাসে। নৌকা তৈরি হয় এ গাছের কাঠ দিয়ে।’ তার কথা শুনে মার্কেজ বললেন, ‘এ তো বিখ্যাত গাছ! বইতে এ গাছের কথা পড়েছিলাম, আজ তাহলে চোখে দেখলাম! ষোলোশো বছর আগে ইনকাদের পূর্বপুরুষরা কনটিকির নেতৃত্বে এই বালসা কাঠের সামান্য ভেলায় চেপে প্রশান্ত মহাসাগরের উত্তাল জলরাশি অতিক্রম করে পেরু থেকে সাড়ে চার হাজার মাইল দূরে পলিনেশিয়ায় পাড়ি জমিয়ে ছিলেন।’

    বিল জানতে চাইল, ‘কনটিকি কে?’

    মার্কেজ উত্তর দিলেন, ‘‘ইনকা কাহিনি অনুযায়ী ‘কনটিকি ছিলেন সূর্যদেব ইনতির পুত্র। তবে তিনি মানুষরূপে পেরুদেশে জন্মেছিলেন।’

    সুজয় জিজ্ঞেস করল, ‘এ ঘটনা কি সত্যি? সামান্য কাঠের ভেলায় চেপে সাড়ে চার হাজার মাইল সমুদ্র পেরিয়ে ছিল তারা?’

    চলতে চলতে মার্কেজ বললেন, ‘‘কনটিকি বলে সত্যি কেউ ছিলেন কিনা ইতিহাসে কোনো প্রমাণ না-মিললেও পেরুবাসীদের পূর্বপুরুষরা যে সমুদ্র অতিক্রম করে সুদূর পলিনেশিয়ায় পৌঁছে ছিলেন তার সমর্থনে ঐতিহাসিক যুক্তি আছে। পেরুতে কোনো কোনো জায়গাতে পাথরের তৈরি তিন-চার তলা উঁচু মানুষের মূর্তি দেখতে পাওয়া যায়। হুবহু একই রকমের মূর্তি দেখতে পাওয়া যায় পলিনেশিয়ার বিভিন্ন দ্বীপেও।’

    এরপর তিনি সুজয়ের উদ্দেশ্যে বললেন, ‘এ ঘটনার ওপর ভিত্তি করে বিখ্যাত লেখক ‘থর হেইয়েরডাল’-এর কালজয়ী একটা অ্যাডভেঞ্চার কাহিনি আছে, ‘কনটিকি এক্সপিডিশান’, সম্ভব হলে দেশে ফিরে পড়ে নেবেন।’

    লামার সঙ্গের লোকগুলো কেমন যেন নির্বাক প্রকৃতির। ইনকা পুরোহিতের মতো তাদের মুখেও কোনো কথা নেই। সুসান যে লামার পিঠে বসে আছে, সেই লামার লাগাম ধরে সেই বৃদ্ধ লোকটা চলছে সুজয়দের পাশেপাশেই। আর তার অন্য সঙ্গীরা চলছে সুজয়দের পিছনে। সুসানও লামার পিঠে বসে চারপাশের এই অজানা পৃথিবীকে দেখতে দেখতে চলেছে। সুজয় একসময় তাকে জিজ্ঞেস করল, ‘তোমার লামার পিঠে চড়তে কেমন লাগছে সুসান?’

    সে জবাব দিল, ‘ভালো।’ এরপর সে বলল, ‘সেই যে কখন একটা শ্লথ দেখলাম, তার পরতো কিছুই আর দেখতে পেলাম না!’

    সুসানের কথাটা মনে হয় কানে গেছিল বনদেবতার। কারণ, সুসানের একথা বলার কিছুক্ষণের মধ্যে সুজয়রা দেখতে পেল একটা ‘টেপির!’ বেশ বড়ো আকারের প্রাণীটা এটা ঝোপ থেকে বেরিয়ে সুজয়দের পথ আগলে দাঁড়াল কয়েক মুহূর্তের জন্য। সে যেন তাদের দেখে বিস্মিত ভাবে একবার বলল, ‘তোমরা বাপু কোথা থেকে উদয় হলে এ জঙ্গলে?’ আর তার পর মুহূর্তেই বিলকে তার ছবি তোলার সুযোগ না-দিয়ে উলটো দিকের ঝোপঝাড়ের মধ্যে উধাও হয়ে গেল।

    হুইকো বিলের দিকে তাকিয়ে বলল, ‘ঘাবড়াবেন না, এ বনে টেপির অনেক আছে। আবার তাদের দেখা মিলবে।’

    সুজয়দের এগিয়ে চলার সঙ্গে সঙ্গেই তাদের মাথার ওপর ডালপালার ফাঁক দিয়ে সূর্যদেবও পশ্চিমে হাঁটতে লাগলেন। অবশেষে বিকাল পাঁচটা নাগাদ জঙ্গলের মধ্যে একটু ফাঁকা মতো জায়গায় পৌঁছে ইনকা পুরোহিত ইঙ্গিত দিলেন যাত্রা এ দিনের মতো সাঙ্গ করার। সুজয়ের পা যেন আর চলছিল না। যাত্রা শেষ হবার সঙ্গে সঙ্গেই সে মাটিতে বসে পড়ল। সুসান লামার পিঠ থেকে নামার পর তাকে নিয়ে বসে পড়লেন মার্কেজ, পিনচিও আর বিলও। হুইকো বসল না। সে লেগে গেল লামাগুলোর পিঠ থেকে মালপত্র নামানোর তদারকির কাজে। আর ইল্লাপা তাঁর লাঠির মাথা থেকে কনডোরের বাচ্চাটাকে নামিয়ে তাকে একটা গাছের ডালে বসিয়ে দিয়ে নিজে বসলেন একটা শুয়ে থাকা গাছের ওপর।

    কিছুক্ষণের মধ্যে মালপত্র সব নামানো হয়ে গেল। তারপর খাটানো হল তিনটে তাঁবু। একটা বড়ো, অন্য দুটো ছোটো। পিনচিও জানালেন বড়ো তাঁবুটা বরাদ্দ সুজয়দের জন্য। আর অন্য দুটোর একটায় থাকবেন তিনি আর হুইকো, অপরটাতে থাকবেন ইনকা পুরোহিত। লামাঅলাদের জন্য কোনো তাঁবুর ব্যবস্থা নেই। তারা রাত কাটাবে খোলা আকাশের নীচে।

    মালপত্র প্রাণীগুলোর পিঠ থেকে নীচে নামাবার পর প্রাণীগুলোকে ছেড়ে দিয়ে তাদের মালিকরা শুকনো ডালপাতা সংগ্রহ করতে লেগে গেল রাতের আগুন জ্বালাবার জন্য। কিছুক্ষণ বসে থাকার পর বিল সুজয়দের উদ্দেশ্যে বলল, ‘এবার উঠে পড়ো। অনেক পথ হেঁটেছি তো, বেশিক্ষণ এখন বসে থাকলে পায়ের মাংসপেশিতে খিঁচ ধরে যাবে, কাল সকালে আর হাঁটতে পারবে না। বিলের কথা শোনার পর উঠে দাঁড়াল সবাই, তারপর গাছের গুঁড়ির প্রাচীর দিয়ে ঘেরা জায়গাটাতে ধীরে ধীরে ঘুরে বেড়াতে শুরু করল, দিন শেষ হতে চলেছে। দিনান্তের রং ধরেছে গাছের পাতায়। বনের ভিতর থেকে ভেসে আসছে পাখির ডাক, যদিও তাদের চোখে দেখা যাচ্ছে না। ঝিঁঝির ডাকও মাঝে মাঝে শোনা যাচ্ছে আশেপাশের ঝোপঝাড় থেকে। অন্ধকারের আবাহনী গীতের প্রস্তুতি নিচ্ছে তারা। সুসানও ঘুরে বেড়াচ্ছিল নিজের মতো করে। সুজয়দের কাছ থেকে কিছুটা দূরে চলে গেছিল সে, হঠাৎ সুজয়ের চোখে পড়ল, একটা গাছের তলায় দাঁড়িয়ে হাত নেড়ে ইশারায় সে তাদের ডাকছে, আর মাঝে মাঝে গাছের ওপর দিকে তাকাচ্ছে। নিশ্চই কিছু দেখতে পেয়েছে সে! সুজয়, বিল আর মার্কেজ তার কাছে এগিয়ে যেতেই সুসান গাছের মাথার দিকে আঙুল তুলে দেখিয়ে বলল, ‘দ্যাখো কী বিরাট পাখি!’ তার কথা শুনে ওপর দিকে তাকাতেই বিস্ময়ে হতবাক হয়ে গেল সুজয়রা। দিনের সেরা চমক যেন তাদের জন্য যেন এখানেই অপেক্ষা করেছিল। এত বড়ো পাখি সুজয় জীবনে এই প্রথম দেখল। গাছের ডালে বসে থাকা বর্ণময় পাখিটার দৈর্ঘ্য অন্তত পাঁচফুট হবে। তার মাথা, পিঠ, আর দীর্ঘ লেজ উজ্জ্বল লাল বর্ণের। ডানার হলুদ বর্ণের পালকের শেষে সমুদ্রের ঘন নীল, চোখের চারপাশে সাদা রিং। বিরাট ঠোঁটের গঠন টিয়া পখির মতো! শক্তপোক্ত পা দিয়ে গাছের ডালে বসে ঘাড় বেঁকিয়ে সুজয়দের দেখছে সে। কৌতূহলী দৃষ্টি, তার চোখে ভয়ের কোনো লক্ষণ নেই। শেষ বিকালের আলো পাতার ফাঁক দিয়ে তার শরীরে এসে পড়ে তাকে যেন আরও বর্ণময় করে তুলেছে। সবাই বিস্ময়ে হতবাক হয়ে বেশ কিছুক্ষণ তাকিয়ে রইল পাখিটার দিকে। তারপর বিল চাপা স্বরে বলল, ‘স্কার্লেট ম্যাকাও! প্যারাকিড বা তোতা পরিবারের সবচেয়ে বর্ণময় আর বিরাটাকৃতির পাখি। দক্ষিণ আমেরিকার গভীর জঙ্গল এদের বাসস্থান। আমাজনের জঙ্গলে এ পাখির ঝাঁক আমি দেখেছি। তবে এত কাছ থেকে নয়!’ সুজয় এবার বিলকে প্রশ্ন করল, ‘তুমি যে পাখি খুঁজতে যাচ্ছ সেই ‘কোরাকেঙ্কু’ কি এর থেকেও সুন্দর হবে?’

    ক্যামেরার লেন্সের ক্যাপ খুলতে খুলতে বিল পাখিটার দিকে চোখ রেখে বলল, ‘আমি ঠিক জানি না।’

    বিল বেশ কয়েকটা ছবি তুলল পাখিটার, সুজয়ও তুলল তার ছোটো ক্যামেরা দিয়ে। পাখিটার কোনো ভ্রূক্ষেপ নেই। সে একইভাবে দেখছে সুজয়দের, আর মাঝে মাঝে ঠোঁট ঘষছে গাছের ডালে।

    প্রফেসর বললেন, ‘দেখেছেন, ও কিন্তু আমাদের ভয় পাচ্ছে না!’

    বিল বলল, ‘সম্ভবত এ জায়গাতে মানুষের আসা-যাওয়া নেই। ও প্রথম মানুষ দেখছে, তাই ভয় পাচ্ছে না।’ এরপর একটু থেমে বিল বলল, ‘আমার মন বলছে, আমরা যে উদ্দেশ্যে এগোচ্ছি তা সফল হবে।’

    ‘কেন?’ জানতে চাইলেন মার্কেজ।

    বিল জবাব দিল, ‘আপনারা হয়তো মানতে চাইবেন না, কিন্তু আমরা যারা জঙ্গলে ঘুরে বেড়াই, শিকারি বা ফটোগ্রাফার যাই হই না কেন, কিছু সংস্কার মেনে চলি। এই স্কার্লেট ম্যাকাও-এর দর্শন সৌভাগ্য বয়ে আনে। মনোবাঞ্ছা পূর্ণ করে। যে কারণে একসময় পালতোলা জাহাজের জলদস্যুরা এই তোতা তাদের সঙ্গে রাখত।’

    সুজয়দের গাছের তলায় দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে কৌতূহলবশত এরপর পিনচিও, হুইকো, এমনকি ইল্লাপাও এসে দাঁড়ালেন সেখানে। সবাই মুগ্ধ হয়ে দেখতে লাগল পাখিটাকে। তারপর একসময় সন্ধ্যা নেমে আসছে বলেই বোধ হয় পাখিটা একটা ডাক ছেড়ে ডানা ঝাপটিয়ে সুজয়দের চোখের আড়ালে চলে গেল।

    গাছের নীচে জটলাটা সঙ্গে সঙ্গে ভেঙে গেল। সুজয়রা হাঁটতে লাগল তাঁবুর দিকে। সেদিকে ফেরার সময় ইল্লাপা হঠাৎ তার মৌনব্রত ভঙ্গ করে মার্কেজকে দুর্বোধ্য ভাষায় কী যেন বললেন, তার মধ্যে একটা শব্দ শুধু বুঝতে পারল সুজয়,—‘কোরাকেঙ্কু’। কথাগুলো বলার পর ইল্লাপা এগোলেন যেখানে তিনি বসেছিলেন সেদিকে। তিনি সেদিকে এগোবার পর সুজয় মার্কেজকে জিজ্ঞেস করল, ‘ইনকা পুরোহিত আপনাকে কী বললেন?’

    মার্কেজ বললেন, ‘ইল্লাপা কুয়েচুয়াতে বললেন, ‘এ পাখিটা সুন্দর, কিন্তু স্বর্গীয় পাখি কোরাকেঙ্কুর মতো সুন্দর নয়।’

    মার্কেজের কথা শুনে, বিল উৎসাহ প্রকাশ করে বলল, ‘তার মানে, কোরাকেঙ্কুর গল্প মিথ্যা নয়! ইনকা পুরোহিতও দেখেছেন সেই পাখি!’ ‘তাঁর কথা শুনে তাইতো মনে হচ্ছে’,—মন্তব্য করলেন মার্কেজ।

    সুজয়রা তাঁবুর কাছে ফিরে আসার কিছু সময়ের মধ্যেই ঝুপ করে সন্ধ্যা নামল অরণ্যের বুকে। সারাদিনের পরিশ্রমের পর একটু বিশ্রাম নেবার জন্য সুজয়রা গিয়ে ঢুকল তাদের জন্য নির্ধারিত তাঁবুতে। তাঁবুতে ঢুকেই পোশাক পালটে হাত-পা ছড়িয়ে শুয়ে পড়ল সবাই। কিছুক্ষণের মধ্যেই সুজয়ের চোখে ঘুম নেমে এল।

    বিলের ডাকে সুজয়ের যখন ঘুম ভাঙল তখন রাত সাড়ে আটটা বাজে। সুজয় উঠে দেখল অন্যরা সবাই বসে আছে। তাদের চোখ-মুখ দেখে বোঝা গেল তারাও সদ্য ঘুম থেকে উঠে বসেছে। তাঁবুর ভিতর একটা মোম জ্বলছে। খাবার দিয়ে গেছে পিনচিওর লোকেরা। মার্কেজ একটা হাই তুলে সুজয়ের দিকে তাকালেন। তাঁবুর মধ্যে গোল হয়ে খেতে বসল সবাই। রুটি আর ওল জাতীয় জিনিসের তরকারি দিয়ে রাতের খাবার সারা হল সুজয়দের। তারপর সকলে তাঁবুর বাইরে বেরিয়ে এল।

    তাঁবুর একটু দূরেই জ্বলছে বেশ বড়ো একটা অগ্নিকুন্ড। তার কাছে বসে আছেন ইনকা পুরোহিত, পিনচিও আর হুইকো। তারা নিজেদের মধ্যে মনে হয় কথাবার্তা বলছিল। সুজয়রা বাইরে আসতেই তারা কথা থামিয়ে তাকাল তাদের দিকে। চারপাশে অন্ধকার। একটা বিরাট গাছের ঘন ডালপালা আড়াল করে রেখেছে চাঁদটাকে। সেই অন্ধকারের মধ্যে পিনচিওর লোকজন আর লামাগুলো কোথায় রয়েছে তা ঠিক ঠাহর করতে পারল না সুজয়। তাঁবু থেকে বেরোবার পর সুজয়রাও গিয়ে বসল সেই অগ্নিকুন্ডের ধারে, পিনচিওদের মুখোমুখি। বেশ কিছুক্ষণ চুপচাপ বসে রইল সকলে। তারপর মার্কেজ পিনচিওর উদ্দেশ্যে বললেন, ‘কাল সকালে কখন যাত্রা শুরু করব আমরা?’

    পিনচিও একবার তার পাশে বসে থাকা ইল্লাপার দিকে তাকিয়ে বললেন, ‘উনি বলছেন, ‘কাল সূর্য ওঠার সঙ্গে সঙ্গেই রওনা হতে হবে আমাদের।’ তাঁর জবাবের পর ইল্লাপা গম্ভীর স্বরে মার্কেজের উদ্দেশ্যে বললেন, ‘কাল যে পথে আমরা এগোব সে পথ দুর্গম। যেকোনো সময় বিপদের সম্ভাবনা আছে। সবাইকে এক সঙ্গে সাবধানে পথ চলতে হবে। আমার নির্দেশ অমান্য করলে বিপদ হতে পারে। বাচ্চা ছেলেটা যেন কোনো সময় চোখের আড়াল না-হয়।’ একথা বলার পর হুইকোকে তিনি বললেন, ‘লামার বাচ্চাটাও সাবধানে রাখতে হবে। ওকে শেষপর্যন্ত নিয়ে যেতে হবে।’ তাঁর কথা শুনে মার্কেজ বললেন, ‘কালকের যাত্রাপথ কি তাহলে খুবই বিপজ্জনক?’

    অগ্নিকুন্ডের ওপাশে উঠে দাঁড়ালেন ইল্লাপা। কয়েক মুহূর্ত তিনি চুপ করে থাকার পর বললেন, ‘হ্যাঁ, খুবই বিপজ্জনক। জলে-জঙ্গলে হিংস্রপ্রাণীতো আছেই আর আছে তার চেয়েও হিংস্র কিছু উপজাতী গোষ্ঠী। তাদের কেউ কেউ ইনতিকেও মানে না।’ গম্ভীর স্বরে একথা বলার পর ইনকা পুরোহিত এগোলেন তার তাঁবুর দিকে।

    সুজয়রা এরপর কিছুক্ষণ অগ্নিকুন্ডের পাশে বসে সারা দিনের অভিজ্ঞতা নিয়ে নিজেদের মধ্যে কথা বলল। তারপর পিনচিওকে শুভরাত্রি জানিয়ে তাঁবুতে ফিরে কম্বল বিছিয়ে শুয়ে পড়ল।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleঅ্যাডভেঞ্চার ভয়ংকর – হিমাদ্রিকিশোর দাসগুপ্ত
    Next Article আঁধার রাতের বন্ধু – হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত

    Related Articles

    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত

    বিষ্ণুলোকে সন্ধ্যা নামে – হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত

    March 20, 2026
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত

    সাদা বিড়াল – হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত

    January 31, 2026
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত

    নেকড়ে খামার – হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত

    December 10, 2025
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত

    অ্যাডভেঞ্চার সমগ্র ১ – হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত

    December 10, 2025
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত

    অ্যাডভেঞ্চার সমগ্র ২ – হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত

    December 9, 2025
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত

    জাদুকর সত্যচরণের জাদু কাহিনি – হিমাদ্রি কিশোর দাশগুপ্ত

    December 9, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Our Picks

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }