Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    সূর্যমন্দিরের শেষ প্রহরী – হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত

    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত এক পাতা গল্প262 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    সূর্যমন্দিরের শেষ প্রহরী – ৮

    ৮

    পরদিন সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গেই যাত্রা শুরু করল সুজয়রা। কিছুটা এগোবার পরই হালকা হয়ে এল বন। সুজয়রা উপস্থিত হল কোচা নদীর ধারে। নদী চওড়াতে বেশি বড়ো নয়। তার ওপাশে বিরাট বিরাট গাছের ঘনজঙ্গল। সকালের সূর্যের আলোও সেখানে প্রবেশ করছে না। কেমন যেন থমথমে ভাব বিরাজ করছে সেখানে। নদীর পাড়ে একটা কাঠের ভেলা চোখে পড়ল সুজয়দের। ভেলা মানে, গোটা দশেক বালসাগাছের গুঁড়ি পাশাপাশি সাজিয়ে দড়ি দিয়ে বাঁধা। ইল্লাপা আর পিনচিও বেশ কিছুক্ষণ ভেলাটা পরীক্ষা করার পর, ইল্লাপা লামাঅলাদের উদ্দেশ্যে কী যেন বললেন, তার কথা শুনে তাদের মধ্যে দুজনে ভেলাটা ঠেলে জলে নামাতে লাগল, আর অন্য দুজন লামাগুলোর পিঠ থেকে মালপত্রগুলো খুলতে শুরু করল।

    মার্কেজ হুইকোকে বললেন, ‘এই ভেলাতেই আমরা নদী পেরব নাকি! এটা কাদের ভেলা?’

    হুইকো সম্মতি সূচক মাথা নেড়ে বলল, ‘মাঝে মাঝে কিছু উপজাতি লোকজন নদী পারাপার করে। এ ভেলা তাদেরই তৈরি।’

    লোকগুলো কিছু সময়ের মধ্যেই প্রথমে লামার পিঠের মালপত্রগুলো ভেলাতে তুলে ফেলল। লামা, মালপত্র, আর এতজন লোকের সংকুলান একবারে ভেলাতে হবে না। প্রথমে তাই মালপত্রর সঙ্গে নেওয়া হল চারটে ভারবাহী লামা। হুইকো আর তিনজন লোক চড়ে বসল তাতে। তারপর লগি দিয়ে ঠেলতে ঠেলতে ভেলাটাকে তারা এগিয়ে নিয়ে যেতে লাগল ওপারের দিকে। ওপারে পৌঁছোতে তাদের মিনিট পাঁচেক সময় লাগল। সেদিকে মালপত্র, লামা, আর অন্যদের নামিয়ে দিয়ে কিছু সময়ের মধ্যেই একজন আবার ভেলা নিয়ে ফিরে এল এপাড়ে।

    অন্যরা সবাই এরপর লামার বাচ্চাটা আর অবশিষ্ট ভারবাহী লামাটাকে নিয়ে উঠে বসল ভেলাতে। ভেলাতে ওঠার পর ইল্লাপা সুজয়দের উদ্দেশ্যে বললেন, ‘সবাই বসে পড়ুন। জলে পড়ে গেলে বিপদ হবে।’ এই বলে তিনি লামার বাচ্চাটার দড়ি ধরে নিজে বসে পড়লেন। তার কথা শুনে সকলে বসে পড়ল। লগির ঠেলায় ভেলা এগোতে লাগল মাঝ নদীর দিকে। বিল ইল্লাপার উদ্দেশ্যে বলল, ‘জলতো বেশি গভীর নয়, নদীতে ‘কেম্যান’ আছে নাকি?’ ইনকা পুরোহিত জবাব দিলেন, ‘না, তবে নদীতে পড়ে গেলে মৃত্যু নিশ্চিত।’

    বিল আবার জানতে চাইল, ‘জলও গভীর নয় কেম্যানও নেই তাহলে মৃত্যু নিশ্চিত কেন? তাহলে কি অ্যানাকোণ্ডা আছে?’

    ওপারের জঙ্গলের দিকে তাকিয়ে ইনকা পুরোহিত শুধু ঘাড় নেড়ে বুঝিয়ে দিলেন, না। তার আসল প্রশ্নের জবাব পেল না বিল।

    সুসান ‘কেম্যান’ শব্দটা শুনে চাপা স্বরে বলল, ‘বিল আঙ্কেল’ কেম্যান কী?’

    বিল উত্তর দিল, ‘এক ধরনের আমেরিকান কুমির।’

    বিলের কথা শেষ হবার প্রায় সঙ্গে সঙ্গেই এমন একটা বিস্ময়কর ঘটনা ঘটল যে বিল যে কথাটা জানতে চেয়েছিল ইল্লাপার কাছে তার উত্তর মিলে গেল। সকালবেলা সুজয়দের যাত্রা শুরুর সময় থেকেই কনডোরের বাচ্চাটা চুপচাপ বসে ছিল ইল্লাপার কাঁধে ফেলা লাঠির মাথায়। ইল্লাপার কাছেই ভারবাহী লামাটার দড়ি ধরে বসেছিল তার বুড়ো মালিক। হঠাৎ কী খেয়াল হওয়াতে কনডোরটা লাঠির আগা ছেড়ে ডানা ঝটপট করে বসল গিয়ে লামাটার ঘাড়ে। তাতে ভয় পেয়ে লামাটা ঘাবড়ে গিয়ে লাফ দিল জলে। তাই দেখে চিৎকার করে উঠল সবাই। লামার দড়িটা তখনও বুড়োটার হাতে ধরা। সে আপ্রাণ চেষ্টা করতে লাগল তাকে ভেলায় টেনে তোলার। লামাটাও উঠে আসতে চেষ্টা করতে লাগল ভেলায়। ভেলাটা দুলতে লাগল। সুসান ভয় পেয়ে জড়িয়ে ধরল সুজয়কে। যে লগি ঠেলছিল সে আপ্রাণ চেষ্টা করতে লাগল ভেলাটা স্থির রাখার। কিন্তু এরপরই হঠাৎ বীভৎস একটা চিৎকার করে উঠে জলের মধ্যে দাপাদাপি শুরু করল প্রাণীটা। সুজয়রা দেখল লামার চারপাশের জলটা কেমন লাল হয়ে উঠেছে! দাঁড়িয়ে পড়ল ভেলা। কয়েক মুহূর্তের মধ্যে নিস্তেজ হয়ে লামাটা হারিয়ে গেল জলের নীচে। সেখানকার জল তখনও ঘোর রক্তবর্ণ ধারণ করেছে। লামার গলার দড়িটা তখনও ধরা আছে বুড়ো লোকটার হাতে। ফ্যালফ্যাল করে সে চেয়ে আছে লাল জলের দিকে। কোনো একটা ভয়ংকর কিছু যে ঘটে গেল তা বুঝতে পারল সবাই। তখন একটু আতঙ্কের ভাবও ফুটে উঠেছে সকলের চোখে-মুখে। কিন্তু ইনকা পুরোহিত নির্বিকার। লামাটা জলে পড়ে গেলে সে যে আর উঠবে না তা যেন তিনি জানতেন। আকাশে কনডোরটা একটা চক্কর মেরে ফিরে এসে তাঁর কাঁধে আবার বসল। ইল্লাপা এরপর ধমকের সুরে প্রথমে সম্ভবত তাঁর পাখিটার উদ্দেশ্যে কিছু বললেন, তারপর যে লগি ঠেলছিল তাকে ইঙ্গিত করলেন ভেলা এগিয়ে নিয়ে যাবার জন্য।

    মিনিট তিনেক পর ওপারে গিয়ে নামল সুজয়রা। বুড়ো লোকটা সব শেষে ডাঙায় নেমে তার হাতের দড়িটা ধরে টান দিল। দড়ির শেষ মাথায় উঠে এল লামার একটা কঙ্কাল! একটুও মাংস লেগে নেই হাড়ের গায়ে। দেখে মনে হচ্ছে কেউ যেন সুনিপুণ ভাবে ছুরি দিয়ে হাড়ের গা থেকে মাংস চেঁছে ফেলেছে! খুব বেশি হলে মিনিটচারেক জলের নীচে ছিল প্রাণীটার দেহ। মাত্র এইটুকু সময়ের মধ্যে এত বড়ো প্রাণীর দেহ থেকে সব মাংস সরিয়ে ফেলল কে? বিল প্রথমে, তারপর সুজয় হঠাৎ খেয়াল করল, কঙ্কালটার পাঁজরে আটকে আছে ছোটো আকৃতির চাঁদা মাছের মতো একটা মাছ। সূর্যের আলোতে সেটা চিকচিক করছে। কঙ্কালটার বুকের খাঁচায় আটকে মাছটা উঠে এসেছে। তার ছোট্ট লেজটা তখনও মৃদু মৃদু কাঁপছে। ইল্লাপাও ব্যাপারটা খেয়াল করলেন। তারপর তিনি কঙ্কালটার কাছে ঝুঁকে পড়ে মাছটাকে বার করে আনলেন সুজয়দের ভালোভাবে মাছটাকে দেখানোর জন্য। ইল্লাপার কঠিন আঙুলের চাপে মাছটার অবশিষ্ট প্রাণ বায়ু বার হবার পর তিনি সাবধানে মাছটার মুখ ফাঁক করলেন। সুজয়রা দেখল মাছটার চোয়ালে সাজানো আছে খুদে খুদে তীক্ষ্ণ দাঁতের সারি। দাঁতগুলো ব্লেডের মতো ধারালো! দাঁতগুলো দেখাবার পর ইল্লাপা মাছটাকে ছুড়ে ফেলে কঙ্কালটার দিকে তাকিয়ে বললেন, ‘‘পিরানহা!’ রাক্ষুসে মাছের ঝাঁক! এরপর তিনি বিলের দিকে তাকিয়ে বললেন, ‘তুমি জলে পড়লে, সময় লাগত মাত্র, ‘দেড় মিনিট।’ মাছটা দেখে আর ইল্লাপার কথা শুনে এই নদী-জঙ্গলে মৃত্যু কতটা ভয়ংকর হতে পারে এই প্রথম তা প্রত্যক্ষ করতে পারল সুজয়রা। লামাটা যখন জলে পড়ে দাপাদাপি করছিল তখন যদি ভেলা থেকে কেউ নদীতে পড়ে যেত, তাহলে তারও অবস্থা হত ওই কঙ্কালটার মতো!

    এপাড়ে আগে চলে আসা লোক ইতিমধ্যেই লামার পিঠে মালপত্র বাঁধাছাঁদা শুরু করেছে। যে লগি ঠেলছিল সেও গিয়ে হাত লাগাল তাদের সঙ্গে। শুধু সেই বুড়ো লোকটা একটু দূরে তাকিয়ে রইল নদীর পাড়ে পড়ে থাকা তার লামার কঙ্কালের দিকে। সুজয়ের পাশে দাঁড়িয়ে সুসান একবার শুধু বলল, ‘ওই লামাটারই পিঠে চড়ে ছিলাম আমি।’ সুজয় সস্নেহে তার কাঁধে হাত রাখল।

    কিছুক্ষণের মধ্যই মালপত্র তোলা হয়ে গেল লামাগুলোর পিঠের দু-ধারে। শুধু সেই লম্বা কাঠের বাক্স দুটো পড়ে রইল মাটিতে। হুইকো বাক্সদুটোর ডালা খুলে তার মধ্য থেকে যা বার করল তা দেখে চমকে উঠল মার্কেজ, সুজয় আর বিল। রাইফেল! দুটো, দুটো করে মোট চারটে। আর তার সাথে কার্তুজের বেল্ট! সেগুলো দেখে মার্কেজ পিনচিওকে বললেন, ‘রাইফেল সঙ্গে এনেছেন কেন? এগুলো কি ইনকা পুরোহিতের সম্পত্তি? এ সবের অনুমতিপত্র আছে তো?’

    পিনচিও বললেন, ‘না, রাইফেলগুলো ইল্লাপার সম্পত্তি নয়। তবে তারই পরামর্শে হুইকো জিনিসগুলো সংগ্রহ করেছে। ইনকা পুরোহিত বলেছেন, বন্যজন্তু বা অসভ্য উপজাতিরা যদি আমাদের আক্রমণ করে তাহলে তখন রাইফেলগুলো আমাদের কাজে আসবে।’

    এরপর একটু থেমে তিনি বললেন, ‘আর অনুমতিপত্র বলতে আপনি যা বোঝাতে চাচ্ছেন তা আমাদের কাছে নেই। হুইকো হাত ভাড়ায় জিনিসগুলো এনেছে। এ সবের লাইসেন্স হয় না। তবে আপনার ঘাবড়াবার কিছু নেই। এখানে নাকি এটাই দস্তুর। নদীর এপাড়ে কোনো বনরক্ষী রাইফেলের লাইসেন্স দেখতে আসবে না। ফেরার সময় হুইকো নিজ দায়িত্বে জিনিসগুলো জঙ্গলের বাইরে নিয়ে জায়গা মতন ফেরত দিয়ে আসবে। আমাদের কোনো ঝামেলায় পড়তে হবে না।’

    প্রফেসর তাঁর কথা শুনে গম্ভীর ভাবে বললেন, ‘তার মানে অস্ত্রগুলো বেআইনি। আপনি যাই বলুন, এ কাজটা কিন্তু ঠিক হয়নি। কোনো অজুহাতেই আইন ভাঙা ঠিক নয়। আমি কিন্তু এসবের কোনো দায়িত্ব নিতে রাজি নই।’

    পিনচিও কোনো উত্তর দিলেন না তার কথায়।

    কিছুক্ষণ সবাই চুপচাপ থাকার পর বিল হঠাৎ বলল, ‘কিন্তু রাইফেল চালাবে কারা?’

    পিনচিও এবার বললেন, ‘আমাদের সঙ্গে আসা লোকগুলো। ওরা শুধু লামাঅলাই নয়, ওরা রাইফেল চালাতেও জানে। বলতে পারেন ওরা আসলে আমাদের রক্ষী।’

    পিনচিওর কথা শুনে মার্কেজ গম্ভীর স্বরে বললেন, ‘ও ব্যাপারটা বুঝলাম।’

    রাইফেল আর কার্তুজগুলো বের করার পর হুইকো তিনজন লামাঅলার হাতে তিনটে রাইফেল কার্তুজ তুলে দিল। তারপর নিজেও একটা রাইফেল আর কার্তুজের বেল্ট গলায় ঝুলিয়ে উঠে দাঁড়াল। এরপর যাত্রা শুরুর আগে ইল্লাপার নির্দেশ মতো সুসানকে তুলে দেওয়া হল একটা লামার পিঠে ঝুলতে থাকা মালপত্রর খাঁজে। প্রথমে ইল্লাপা, আর তার সঙ্গে লামার বাচ্চাটা, তারপর একজন লামাঅলা বা রক্ষী সুসানের লামাটা নিয়ে, মাঝে সুজয়রা তিনজন আর তারপর অন্য ভারবাহী পশুগুলো নিয়ে অন্য তিনজন। এ ভাবেই তারা প্রবেশ করল সেই জঙ্গলের মধ্যে। কি গহীন অরণ্য। বিরাট বিরাট গাছ অনেক উঁচুতে উঠে গিয়ে যেন আকাশকে ছুঁতে চাইছে। পাশাপাশি কয়েকটা গাছ আবার অনেক জায়গাতে মাথার ওপর মিলেমিশে গিয়ে চাঁদোয়ার সৃষ্টি করেছে। সেসব জায়গাতে মাটিতে সূর্যালোক এসে পৌঁছোয় না। সেখানে গাছের মোটাসোটা গাছের গুঁড়িতে শতাব্দী প্রাচীন শ্যাওলার পুরু আস্তরণ, গাছের নীচে স্তূপীকৃত হয়ে আছে পচা পাতার রাশি। এ ছাড়া ছোটো-ছোটো ঝোপজঙ্গলতো আছেই। সেগুলো ভেঙেই চলতে থাকল সুজয়রা।

    ধীরে ধীরে যত তারা বনের ভিতর প্রবেশ করতে লাগল ততই ঘন হতে লাগল অরণ্য, এ যেন এক অন্য পৃথিবী! কত প্রাচীন গাছ! তাদের থেকে ঝুলছে কত বিচিত্র ধরনের লতা! কোনো কোনো লতা নৌকার কাছির মতো মোটা! বিচিত্র তাদের বর্ণ, সবুজ, হলুদ, কালো, লাল! সেসব দেখতে দেখতে এগোল সকলে। মাঝে মাঝে জঙ্গলের ভিতর থেকে ভেসে আসছে নানা ধরনের শব্দ। সেই শব্দ সন্দেহজনক মনে হলেই দাঁড়িয়ে পড়ছেন ইল্লাপা। তাঁর পিছন থেমে যাচ্ছে অন্যরাও। ইনকা পুরোহিত শব্দের প্রকৃ«তি সম্বন্ধে নিশ্চিন্ত হলেই তবে আবার চলা শুরু হচ্ছে। আস্তে আস্তে নানা ধরনের জীবজন্তুও চোখে পড়তে লাগল সুজয়দের। গাছের গুঁড়ি আঁকড়ে ঝুলতে থাকা শ্লথ, ঝোপজঙ্গল ভেঙে ইঞ্জিনের মতো ছুটে যাওয়া টেপির, লামা পরিবারেরই অন্যতম সদস্য বন্য ভিসুনিয়া, এ ছাড়া নানা ধরনের অচেনা ছোটো ছোটো প্রাণী। একবার, হরিণ আর ক্যাঙারুর সঙ্গে মিল আছে, এ জাতীয় একটা ছোটো প্রাণী দেখতে পেয়ে বিল সুজয়কে বলল, ‘এই প্রাণীটার নাম হল ‘অপোসাম,’ বইতে ওর ছবি আমি দেখেছি। অপোসাম দ্বিগর্ভ প্রাণী। দ্বিগর্ভ অর্থাৎ এই ক্যাঙারু গোত্রের প্রাণী অস্ট্রেলিয়া মহাদেশ ছাড়া অন্য কোথাও দেখা যায় না। লক্ষ লক্ষ বছর আগে দক্ষিণ আমেরিকা যে অস্ট্রেলিয়া মহাদেশের সঙ্গে যুক্ত ছিল, এখানে অপোসামের উপস্থিতি তারই প্রমাণ দেয়।’

    তার কথা শুনে সুজয় বলল, ‘জীবজন্তু আর জঙ্গলের কথা শুনলেই মানুষের প্রথমে মনে হয় আফ্রিকার কথা, এখানেও তো দেখছি তার চেয়ে কম কিছু নেই!’

    বিল বলল, ‘হ্যাঁ, ঠিক কথা। এসব অঞ্চলের জঙ্গল সম্বন্ধে আমার কিছু পড়াশোনা আছে। দক্ষিণ আমেরিকার জঙ্গলে এমন অনেক প্রাণী আছে যা পৃথিবীর অন্য কোথাও পাওয়া যায় না। লামা, টেপির, ভিসুনিয়াতো আছেই, আছে আন্দিজের পুমা, ব্রাজিলের কালো বাঘ, পিরানহার মতো রাক্ষুসে মাছ, অ্যানাকোণ্ডার মতো বৃহত্তম সর্প এমনকি রক্তচোষা বাদুড় অর্থাৎ ভ্যাম্পায়ারও আছে এখানে!’

    ভ্যাম্পায়ারের কথা শুনে সুজয় একটু অবিশ্বাসের সুরে বলল, ‘সে কী! ব্রাম স্ট্রোকারের ‘ড্রাকুলা’ গল্পেতো পড়েছি সে তো ট্রান্সেলভেনিয়ার বাসিন্দা?’ বিল হেসে বলল, ‘না, তোমার গল্পে পড়া বিষয়টা ঠিক নয়। ব্রামস্ট্রোকার তার কাহিনির প্রয়োজনে ভ্যাম্পায়ারকে রোমানিয়া-ট্রান্সেলভেনিয়ার পটভূমিতে নিয়ে গেছিলেন। আদতে দক্ষিণ আমেরিকার ক্রান্তীয় অঞ্চলে এদের বাস। ইকুয়েডর, পেরু ও ব্রাজিলের কিছু কিছু বনে এদের দেখা মেলে।’

    সুজয় শুনে বলল, ‘ধন্যবাদ বিল। আমার মনে অনেকদিন ধরে রাখা একটা ভ্রান্ত ধারণা তুমি ভেঙে দিলে।’

    চলতে থাকল সুজয়রা। জঙ্গল যেন ক্রমশই আষ্টেপৃষ্টে জড়িয়ে ধরছে তাদেরকে। কখনও মাথা সমান উঁচু ঝোপজঙ্গল সাফ করে। কখনও বা কোনো রকমে মোটা গাছের গুঁড়ির ফোকর গলে এগোতে থাকল তারা। সবচেয়ে অসুবিধা হচ্ছিল ভারবাহী প্রাণীগুলোকে নিয়ে। মাঝে মাঝেই গাছের ওপর থেকে নেমে আসা লতাগুল্মে আটকে যাচ্ছিল তারা। একজন বন্দুকধারী ছুরি দিয়ে লতা কেটে মুক্ত করছিল তাদের। সময়ও এগোতে থাকল।

    বেলা বারোটা নাগাদ খাবার আর বিশ্রামের জন্য থামতে হল সবাইকে। খাবার খেয়ে একটু বিশ্রাম নেবার পর যাত্রা শুরুর আগে ইল্লাপা জানালেন, এবার একটু দ্রুত চলতে হবে। এ জঙ্গলের শেষে একটা বিরাট জলা আছে। সন্ধ্যার আগে সেই জলা পার হয়ে ওপাশের জঙ্গলে পৌঁছোতে হবে। আবার শুরু হল চলা। সেই একই বিরাট গাছের জঙ্গল, মানুষ সমান উঁচু ঝোপঝাড়, আধো অন্ধকার পথ! অবশ্য পথ বলতে যা বোঝায় তা কিন্তু নেই। ইনকা পুরোহিত সবার আগে আগে যে ভাবে হাঁটতে থাকলেন অন্যদের কাছে সেটাই হল পথ! অতিকষ্টে আদিম মহিরুহদের নাগপাশ ভেদ করে এগোতে এগোতে একসময় সুজয়ের মনে হতে লাগল এই মহারণ্য মনে হয় কোনোদিন শেষ হবে না! কিন্তু এ অরণ্যও একসময় শেষ হল। ঘণ্টা তিনেক পর ফিকে হয়ে এল জঙ্গল। ডালপালার চাঁদোয়া ছেড়ে বেরিয়ে তারা উপস্থিত হল এক উন্মুক্ত স্থানে।

    সামনে একটা বিরাট জলা জমি। স্থানে স্থানে ডোবা। পচা জলে পুরু শ্যাওলার আস্তরণ, মাঝে মাঝে কিছু দূরে দূরে দাঁড়িয়ে কয়েকটা মাঝারি আকৃতির নেড়া গাছ। ঠিক যেন মূর্তিমান প্রেতের মতো জলা পাহারা দিচ্ছে তারা। জলার ওপাশে আকাশ যেখানে মাটির সঙ্গে মিশেছে সেখানে একটা কালো রঙের মোটা রেখা উত্তর-দক্ষিণে বিস্তৃত জঙ্গল! জলা পার হয়ে ওই জঙ্গলেই প্রবেশ করতে হবে সুজয়দের।

    সুজয়রা যে জঙ্গল থেকে বাইরে এল, সে জঙ্গল আর জলার মধ্যের ছোট্ট জমিটা পুরোটাই কাদা মাখা। নানা ধরনের জন্তুর পায়ের ছাপ আঁকা হয়ে আছে কাদামাটিতে। এখানে জল খেতে আসে ওরা।

    জঙ্গল ছেড়ে বেরিয়ে জলার সামনে এসে দাঁড়ালেন ইনকা পুরোহিত। তারপর সুজয়দের দিকে তাকিয়ে বললেন, ‘একজনের পর একজন, এ ভাবে সার বেঁধে এগোব আমরা। যাদের হাতে বন্দুক আছে তারা থাকবে দু-পাশে।’

    পিনচিও হুইকোকে জিজ্ঞেস করলেন। ‘ডোবাগুলো কত গভীর?’

    সে জবাব দিল, ‘কোথাও হাঁটু সমান, কোথাও আবার কোমর পর্যন্ত।’

    তার উত্তর শুনে পিনচিও বললেন, ‘তাহলে তো বিশেষ চিন্তার কিছু নেই। কি বলো?’

    হুইকো তার কথার কোনো উত্তর দিল না, কিন্তু ইনকা পুরোহিত কেমন যেন একটা অদ্ভুত হাসলেন পিনচিওর কথা কানে যেতে। এরপর তিনি মার্কেজের উদ্দেশ্যে বললেন, ‘বাচ্চাটাকে লামার পিঠে রাখা যাবে না। জলায় পড়ে গেলে বিপদ হবে। ওকে কাঁধে নিতে হবে!’

    ইল্লাপার কথা শুনে বিল প্রফেসরকে বলল, ‘ঠিক আছে, আমি সুসানকে কাঁধে নিয়ে নিচ্ছি।’ এই বলে সে সুসানের দিকে এগোতে যেতেই একটা অদ্ভুত কান্ড করলেন ইল্লাপা। তিনি নিজেই এগিয়ে এসে সুসানকে লামার পিঠ থেকে ছোঁ মেরে তুলে নিলেন নিজের কাঁধে!

    ইনকা পুরোহিত এরপর সুসানকে শক্ত হাতে কাঁধে ধরে পা বাড়ালেন জলার দিকে। সুসানের দিকে তাকিয়ে সুজয় বুঝতে পারল সে বেশ ভ্যাবাচাকা খেয়ে গেছে। ইল্লাপার কথা মতো তাঁর পিছন পিছন সার বেঁধে সুজয়রা নেমে পড়ল জলাতে। তাদের দু-পাশে রইল লামা-সহ বন্দুকধারীরা।

    হুইকো ঠিকই বলেছে। জল কোথাও হাঁটু সমান, কোথাও কোমর অব্দি। জলের নীচে পাঁক ভর্তি। পা বসে যাচ্ছে সুজয়দের। মাঝে মাঝে কোনো কোনো জায়গাতে ঢিপির মতো একটু উঁচু জমি। সেখানে দাঁড়িয়ে থাকা নিঃসঙ্গ পাতাহীন গাছ! এরকমই একটা গাছের পাশ দিয়ে যাবার সময় সুজয় দেখতে পেল পাতাহীন গাছের ডালে হলুদ রঙের ফিতের মতো বেশ কয়েকটা সাপ জড়িয়ে আছে। তা দেখে সে বিলের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলল, ‘ওই দেখো!’ বিল কয়েক মুহূর্ত সে দিকে তাকিয়ে বলল, ‘‘বোড়া’’ প্রজাতির সাপ। ভয়ংকর বিষধর! কামড়ালেই সাক্ষাৎ মৃত্যু। গাছের মধ্যে যখন আছে, তখন এই ডোবাগুলোর মধ্যেও নিশ্চই আছে! আমরা দেখতে পাচ্ছি না।’ তার কথা শুনে শিউরে উঠল সুজয়। জলায় হাঁটতে হাঁটতে খালি তার মনে হতে লাগল, জলের নীচে তার ডুবে থাকা পায়ে কী যেন জড়িয়ে যাচ্ছে! ভয়ে ভয়ে এগোতে লাগল সুজয়।

    তাদের কাউকে সাপে না-কামড়ালেও একটা দমবন্ধকর ঘটনা কিন্তু সেখানেই ঘটল। এক ঘণ্টা পর জলাটা তখন প্রায় পার হয়ে এসেছে। চোখে পড়ছে ওপাশের গহীন অরণ্য। সুজয়ও মনে মনে ভাবছে, ‘যাক, সাপের ফাঁড়াটা কেটে গেল!’ ঠিক এমন সময় লাঠির আগায় বসা কনডোরটা হঠাৎ কর্কশ স্বরে ডেকে উঠল জলার এক দিকে তাকিয়ে। সুজয়রা তখন কোমর সমান পাঁক জলে। পাখির চিৎকার শুনে হঠাৎই দাঁড়িয়ে পড়লেন ইনকা পুরোহিত। তার পিছনে দাঁড়িয়ে পড়ল অন্যরাও। চারপাশে তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে তাকাতে তাকাতে ইল্লাপার দৃষ্টি এসে থেমে গেল এক জায়গাতে। পাখিটাও তাকিয়ে আছে ও দিকেই। ইল্লাপার দৃষ্টি অনুসরণ করে সুজয়রাও তাকাল সে দিকে। সুজয় দেখতে পেল তারা যেখানে দাঁড়িয়ে আছে তার থেকে হাত পঞ্চাশেক দূরে একটু কোনাকুনি ডোবার জলে ভাসছে একটা শ্যাওলা মাখা গাছের গুঁড়ি। একটু ভালো করে লক্ষ করার পর সুজয়ের মনে হল গুড়িটা যেন ভাসতে ভাসতে তাদের দিকেই আসছে। হঠাৎ ইল্লাপা সেটা দেখিয়ে চাপা স্বরে কি যেন বললেন। সুজয়দের সামনে দাঁড়িয়ে থাকা একজন রাইফেলধারীকে। সে লোকটাও তাকিয়ে ছিল সে দিকেই। ইনকা পুরোহিতের কথা কানে যাওয়া মাত্রই লোকটা দ্রুত তার রাইফেলটা খুলে নিল তার কাঁধ থেকে, তারপর সেই গাছের গুঁড়িটাকে লক্ষ্য করে গুলি চালিয়ে দিল! গুলির শব্দে কেঁপে উঠল চারদিক! কনডোরটা ভয় পেয়ে কর্কশ একটা ডাক ছেড়ে উড়ে গেল। গুলিটা সম্ভবত গাছের গুড়ির গায়ে লাগল না। তার পাশের একটু জল ছিটকে উঠল। কিন্তু তার পরমুহূর্তেই সেই গাছের গুঁড়িটা একটু নড়ে উঠে মাথা তুলল। সুজয়রা যেখানে দাঁড়িয়ে আছে তার তুলনায় প্রাণীটা যেখানে রয়েছে সেখানকার জল মনে হয় কম। কারণ, তার সামনের দুটো পায়ে ভর দিয়েই সম্ভবত মাথা তুলে সুজয়দের দেখছে সে। একটা চ্যাপটা ধরনের মুখঅলা কুমির! বিল সুজয়দের কানের কাছে ফিসফিস করে বলল, ‘কেম্যান!’

    মুহূর্ত মাত্র সময়ের ব্যবধান। এর পরের গুলিটা চালাল হুইকো। অব্যর্থ লক্ষ্য, গুলিটা গিয়ে বিঁধল প্রাণীটার টাগরাতে! তার পরমুহূর্তেই সেখানকার জলে তোলপাড় শুরু হল। লাল হয়ে উঠল সেখানকার জল। সুজয়রা দেখতে পেল আরও বেশ কয়েকটা সবুজ গুঁড়ি প্রথমে ভেসে উঠল যে জায়গাতে জল ছিটকাচ্ছে তার আশেপাশে। তারপর তারা দ্রুত এগিয়ে গেল সেই হতভাগ্য কেম্যানটার দিকে! প্রচন্ড একটা হুড়োহুড়ি শুরু হল জলের মধ্যে। আকাশের দিকে ছিটকে উঠতে লাগল জল। ইল্লাপা আর সময় নষ্ট করলেন না। সুসানকে কাঁধে নিয়ে তিনি দ্রুত এগোতে লাগলেন ডাঙার দিকে। সতীর্থর মাংস দিয়ে ভোজ সারতে লাগল ক্যেমানগুলো। এর কিছু কিছুক্ষণের মধ্যেই ডাঙায় উঠে এল সবাই।

    সুজয়দের সারাদেহ জল-কাদায় মাখামাখি। জঙ্গলের চেয়ে জলা পার হতে যেন অনেক বেশি পরিশ্রম হল তাদের। ওপরে উঠেই ভেজা অবস্থায় মাটিতে বসে পড়লেন পিনচিও আর মার্কেজ। কনডোরটা আকাশে চক্কর কাটছিল। সে আবার এসে বসল লাঠির মাথায়। সুজয় ক্যেমানের ঘটনাটা ঘটার পর পাখিটার ব্যাপারে একটা জিনিস বুঝতে পেরেছে, কনডোরটা নিছকই ইল্লাপার শখের পোষ্য নয়, লাঠির মাথায় বসে পাখিটা নজরদারেরও কাজ করে। শকুনজাতীয় পাখিদের দৃষ্টিশক্তি প্রখর হয়, বহুদূরের জিনিস দেখতে পায় তারা।

    সুজয়ও ক্লান্তিতে মাটিতে বসে পড়তে যাচ্ছিল, কিন্তু ইনকা পুরোহিত আকাশের দিকে তাকিয়ে বললেন, ‘সূর্য ডুবতে দেরি আছে এখনও। থামলে চলবে না।’ অগত্যা বসা হল না সুজয়দের। ইল্লাপা সুসানকে নামিয়ে দিলেন লামার পিঠে। তারপর ঘাস-জমি ভেঙে এগোলেন জঙ্গলের দিকে। আর তার পিছনে অন্যরা।

    এ বনও আগের মতোই গহীন। চারপাশে মহাবৃক্ষরাজি, গাছের মাথার ওপর থেকে নেমে আসা বড়ো বড়ো লতা, ঝোপঝাড়। তবে একটা পার্থক্য আছে। নদী পার হবার আগে বনের ভিতর অবিশ্রান্তভাবে নানা পাখির ডাক শুনতে পাচ্ছিল তারা, কিন্তু এ অরণ্য যেন একদম নিঃঝুম, নিঃশব্দ। ঘণ্টাখানেক চলার পরও কোনো পশুপাখি চোখে পড়ল না। অবশেষে এক সময় সূর্য ঢলে পড়ল। জঙ্গলের মধ্যে একটা ফাঁকা মতন জায়গাতে তাঁবু ফেলার নির্দেশ দিলেন ইল্লাপা। তাঁবু খাটানোর সঙ্গে সঙ্গেই পরিশ্রান্ত দেহে সুজয়রা গিয়ে ঢুকল তাঁবুর মধ্যে। তারপরই তারা শুয়ে পড়ল।

    রাতে খাওয়া সেরে তাঁবুর বাইরে এল বিল আর সুজয়। একটু দূরে বিরাট অগ্নিকুন্ডের কাছে বসে কথা বলছেন পিনচিও আর হুইকো।

    সুজয়রা সেখানে গিয়ে দাঁড়াতেই পিনচিও জিজ্ঞেস করলেন, ‘প্রফেসর কই? শুয়ে পড়লেন?’

    অগ্নিকুন্ডের পাশে বসার পর সুজয় বলল, ‘হ্যাঁ, বৃদ্ধ মানুষ, ওঁরই বেশি পরিশ্রম হচ্ছে!’

    বিল সুজয়ের পাশে বসে হুইকোকে বলল, ‘এই জঙ্গলের শেষেইতো মাচাকুয়ে নদী, তাই না?’

    হুইকো বলল, ‘হ্যাঁ। তবে যাবার পথে আমরা কিন্তু থামব না, সোজা নদী পেরব। আমি যেখানে কোরাকেঙ্কু দেখেছিলাম, সে জায়গা নদীর পাড় ধরে বেশ কিছুটা উত্তরে। ইনকা নগরী দেখে ফেরার পথে আমি সেখানে নিয়ে যাব।’

    বিল বলল, ‘জায়গাটা তুমি চিনতে পারবে তো?’

    ‘হ্যাঁ, পারব।’ জবাব দিল হুইকো।

    চারপাশে তাকাল সুজয়। ইল্লাপা মনে হয় তাঁবুর ভিতরে। তাকে দেখা গেল না। কিছুদূরে অগ্নিকুন্ডের পাশে জটলা করছে তিনজন বন্দুকধারী। আর যার লামা পিরানহার পেটে গেছে সেই লোকটা একপাশে হাঁটুতে মুখগুঁজে বসে আছে। বুড়ো লামাঅলা মনে হয় তার লামার শোক কাটিয়ে উঠতে পারেনি! সারাটা পথ সে চুপচাপ সবার পিছনে হেঁটেছে।

    কিছুক্ষণ অগ্নিকুন্ডের ধারে বসে থাকার পর বিল সুজয়কে বলল, ‘শুনতে পাচ্ছ, মেঘ ডাকছে। রাতে মনে হয় বৃষ্টি নামবে।’ সুজয়ও এবার শুনতে পেল গুরু গুরু মেঘ গর্জনের শব্দ। অনেক দূর থেকে ভেসে আসছে। সে বলল, ‘হ্যাঁ, পাচ্ছি!’

    তাদের কথা শুনে হুইকো বলল, ‘আপনারা যাকে মেঘ গর্জনের শব্দ ভাবছেন, তা আসলে অসভ্য উপজাতিদের ঢাকের শব্দ। জঙ্গলে যে বাইরের মানুষ প্রবেশ করেছে তা টের পেয়েছে ওরা। তাই ঢাক বাজিয়ে তাদের অন্য সঙ্গীদের বার্তা পাঠাচ্ছে। এ ভাবেই জঙ্গলে খবর আদান-প্রদান চলে!’

    বিল প্রশ্ন করল, ‘ওরা কি আমাদের আক্রমণ করতে পারে?’

    হুইকো তার পাশে মাটিতে নামিয়ে রাখা রাইফেলটা তুলে নিয়ে বলল, ‘হ্যাঁ, পারে। যদি ওদের মনে হয় আমরা ওদের ক্ষতি করতে এসেছি, অথবা যদি ওদের আমাদের চামড়ার দরকার হয়।’ শেষের কথাটা বলে দাঁত বের করে হাসল সে।

    ‘আমাদের চামড়ার দরকার হয়’ ‘মানে?’ বিল জানতে চাইল।

    হুইকো জবাব দিল, ‘ওরা মানুষের চামড়া দিয়ে এক ধরনের ঢাক বানায়, তার নাম ‘রুনটিনি।’ ওরা এত সুন্দর মানুষের গায়ের চামড়া ছাড়ায় যে তা শুকিয়ে বোতাম লাগিয়ে জামার মতো গায়ে দিতে পারবেন।’

    বিল আর সুজয় চমকে উঠল তার কথা শুনে।

    মার্কেজ এবার তাদের উদ্দেশ্যে বললেন, ‘তবে আমাদের ভয়ের কিছু নেই। ইল্লাপা বলে দিয়েছেন আমাদের লোকেরা বন্দুক নিয়ে রাত জেগে তাঁবুর বাইরে পাহারা দেবে।’

    মার্কেজের থেকে বিদায় নিয়ে এরপর তাঁবুতে ফিরে গেল সুজয়রা। প্রফেসর আর সুসান আগেই শুয়ে পড়েছে। তারাও ফিরে শুয়ে পড়ল। বিল ঘুমিয়ে পড়ল কিন্তু সুজয়ের ঘুম এল না। তার মনে হতে লাগল বাইরের সেই ঢাকের শব্দ যেন ক্রমশই বেড়ে চলেছে! পূর্ব থেকে পশ্চিম, উত্তর-দক্ষিণ, সব দিক থেকেই যেন গুরু গুরু-দ্রিমিদ্রিমি শব্দ ভেসে আসছে! তারা অনেকে যদি একসঙ্গে আক্রমণ করে তাহলে চারটে রাইফেল কি তাদের ঠেকিয়ে রাখতে পারবে?—এসব কথা ভাবতে ভাবতে সুজয়ও একসময় ঘুমিয়ে পড়ল।

    মাঝ রাতে হঠাৎ ঘুম ভেঙে গেল সুজয়ের। মনে হল, কে যেন মৃদু ধাক্কা দিচ্ছে তাকে। তাহলে কি সেই অসভ্য জাতিরা তাঁবু আক্রমণ করতে এসেছে? কম্বল মুড়ি দিয়ে উঠে বসল সুজয়। তার সামনে দাঁড়িয়ে একটা মূর্তি। তাকে চিনতে পরল সুজয়, তাদের সঙ্গে আসা বুড়ো লামাঅলাটা! সুজয় তার দিকে তাকাতেই লোকটা তাঁবুর বাইরে একবার তাকিয়ে নিয়ে ঠোঁটে আঙুল দিয়ে চুপ করতে বলল তাকে। সুজয় শুয়েছিল তাঁবুর দরজার কাছাকাছি। তারপর অন্যরা সার বেঁধে শুয়ে আছে। বুড়ো লোকটা হাঁটু মুড়ে সুজয়ের পাশে বসল। তারপর সুজয়ের কানের কাছে মুখ এনে চাপা স্বরে কী যেন বলতে শুরু করল। সে ভাষার বিন্দুবিসর্গ বোধগম্য হল না তার। সুজয় প্রফেসরকে ডাকতে যাচ্ছিল, ঠিক সেই সময় তাঁবুর বাইরে কার যেন গলার শব্দ শোনা গেল। সেই শব্দ কানে যেতেই বুড়োটা কথা বন্ধ করে হঠাৎ উঠে দাঁড়াল। তারপর তাঁবুর বাইরেটা উঁকি মেরে একবার দেখে, সন্তর্পণে তাঁবুর বাইরে বেরিয়ে গেল। ঘুম চোখে কিছুক্ষণ বসে থাকার পর আবার শুয়ে পড়ল সে।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleঅ্যাডভেঞ্চার ভয়ংকর – হিমাদ্রিকিশোর দাসগুপ্ত
    Next Article আঁধার রাতের বন্ধু – হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত

    Related Articles

    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত

    বিষ্ণুলোকে সন্ধ্যা নামে – হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত

    March 20, 2026
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত

    সাদা বিড়াল – হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত

    January 31, 2026
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত

    নেকড়ে খামার – হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত

    December 10, 2025
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত

    অ্যাডভেঞ্চার সমগ্র ১ – হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত

    December 10, 2025
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত

    অ্যাডভেঞ্চার সমগ্র ২ – হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত

    December 9, 2025
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত

    জাদুকর সত্যচরণের জাদু কাহিনি – হিমাদ্রি কিশোর দাশগুপ্ত

    December 9, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Our Picks

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }