Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    সেই অজানার খোঁজে – আশুতোষ মুখোপাধ্যায়

    লেখক এক পাতা গল্প422 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    সেই অজানার খোঁজে ২.১

    কলম হাতে নিয়ে অনুভব করছিলাম পাঠকের কাছে লেখক কতটা দায়বদ্ধ। হাওড়া থেকে হরিদ্বারের দীর্ঘ পথ-যাত্রায় যে মানুষটিকে আবিষ্কারের আনন্দে তাঁকে পাঠকের সামনে হাজির করেছিলাম সেই গৃহী তান্ত্রিকসাধক কালীকিংকর অবধূত শত সহস্রজনের হৃদয়ের অন্তঃপুরে এ-ভাবে পৌঁছুবেন আমি ভাবি নি। এই মানুষকে নিয়ে তাঁদের এখন অনেক প্রশ্ন অনেক কৌতূহল অনেক দাবি। তাঁর সকাশে উপস্থিত হবার আশ্চর্য তাগিদ। এই তাগিদের স্রোত ব্যাহত করার অধিকার আমার নেই জেনেও চুপ করে ছিলাম। আর অসহায় বোধ করছিলাম। তাঁদের শত শত চিঠির উত্তর না দিয়ে চুপ করে থাকাটা তৃষ্ণার জলের হদিস দিয়েও উৎসটিকে গোপন করে রাখার মতো।

    …কলকাতার বে-সরকারি কলেজের এক অতি সাধারণ মাস্টারের ছেলের এমন বিচিত্র জীবনে পা ফেলার ইতিবৃত্ত অনুসরণ করে প্রৌঢ় প্রহরে দেবভূমি তারকেশ্বরে তাঁর জীবনের যে অত্যাশ্চর্য নাটকটি আমার সামনেই পরি ণতির মোহনায় এসে সম্পূর্ণ হয়েছিল—তারপর কোন্নগরের বাড়িতে এসে যে-কথাগুলো আমার কথার জবাবে তিনি বলেছিলেন, আমার বুকের তলায় তা সোনার অক্ষরে খোদাই হয়ে গেছল।

    …আমি বলেছিলাম, আমাকে একটু পথ দেখান।

    তার একটু আগে অবধূতের প্রায় অক্ষয়-যৌবনা গৃহিণী কল্যাণী দেবীর মুখে সংশয়-শূন্য ঈশ্বর-বিশ্বাসের এক অনির্বচনীয় রূপ দেখেছিলাম। সহজ দ্বিধাশূন্য গলায় সেদিন তিনি বলেছিলেন, যা ঘটে, কেউ কেউ ভাবতে পারেন তার পিছনে তাঁর বাহাদুরি আছে ( কটাক্ষ স্বামীর প্রতি ), কিন্তু যিনি ঘটালেন আর ঘটনার শেষ করলেন, তিনি হাসেন।

    কল্যাণী দেবী ঘর ছেড়ে চলে যাবার পরে আমার ওই আরজি। মনে আছে, পেটো কার্তিক তার বাবার পা টিপছিল আর হাঁ করে তাঁর শ্রীমুখ দেখছিল। আয়েস করে মাংসের বড়া তল করে ড্রিঙ্ক-এর গেলাসে একটা বড় চুমুক দিয়ে অবধূত ফিরে প্রশ্ন করেছিলেন, তার মানে? কি পথ?

    আমি বলেছিলাম, বিশ্বাসের পথ, শান্তির পথ।

    অবধূত চুপচাপ চেয়েছিলেন একটু। বলেছিলেন, শাস্তি জিনিসটা যার যার মনের কাঠামোর ওপর নির্ভর করে…কিন্তু আপনি কোন্ বিশ্বাসের কথা বলছেন?

    বলেছিলাম, আপনাদের যা বিশ্বাস। ঈশ্বরে বিশ্বাস।

    শুনে আবার খানিক চেয়েছিলেন। তারপর হেসেছিলেন। বলেছিলেন, শুনুন, আমার স্ত্রীকে দেখে আমার বিচার করবেন না। আমার মতো টানাপোড়েনের মধ্যে ছনিয়ায় কতজন আছে জানি না।… অনেকে চোখ বুজে বিশ্বাস করে ঈশ্বর আছে। অনেকে চোখ বুজে অবিশ্বাস করে ঈশ্বর নেই, কিন্তু ঈশ্বর আছে কি নেই এই সন্ধান কতজনে করে?

    এই কথাগুলোর সঙ্গে সঙ্গে সেই রাতে আমার মনে হয়েছিল অবধূতের দু‘চোখ কোথায় কোন্ দূরে উধাও। গলার স্বর আরো গভীর। নিজেই সে-কথার জবাব দিয়েছিলেন। বলেছিলেন, আমি করি। করছি। … ঘটনার সাজ দেখে দেখে প্রশ্ন করি, কে ঘটায়? কেন ঘটে? কে সাজায়? কে করে? জবাব পাই না।…আমি খোঁজ করছি। খুঁজে যাচ্ছি। ঈশ্বর আছে কি নেই আমি জানি না।

    …একজনের জীবন-মহিমার বিচিত্র পথে বিচরণের ইতিবৃত্ত নয়, দ্বারভাঙার কাঁকুরঘাটির মেয়ে পার্বতী প্রসাদের সদ্য-জাত হারানো সন্তানকে পাঁচ বছর বাদে ফিরে পাওয়ার রোমহর্ষক প্রহসনও নয়—এই-সব রোমাঞ্চকর ঘটনার নিয়ামক হিসেবে অগণিত ভক্তজন যাকে ঈশ্বরের এক জাগ্রত অংশ বলে জানে, বিশ্বাস করে—স্বয়ং সেই মানুষই এমন জিজ্ঞাসার মুখোমুখি দাঁড়িয়ে,এমন খবর কি মানুষের ঘরে ঘরে পৌঁছে দেবার মতোই হৃদয়ের সম্পদ নয়? শুধু এটুকু মনে রেখেই বিগত প্ৰসাদ পূজা-বার্ষিকীতে সেই অজানার খোঁজে রূপায়ণের ভিতর দিয়ে অবধূতকে এই জিজ্ঞাসার জীবন-দর্শনে এনে কাহিনীর যবনিকা টেনে দিয়েছিলাম।

    পাঠকের কাছে দায়বদ্ধ লেখকের সেই যবনিকা আর একদফা তুলতে হবে ভাবি নি।

    কিন্তু ভাবা উচিত ছিল। কলকাতায় ফেরার আগে ঠাট্টার ছলে অবধূত যা বলেছিলেন তাতে হোঁচট একটু খেয়েছিলাম বইকি। আলতো করে জিজ্ঞেস করেছিলেন, এতদিনে লেখার মতো জমজমাট কিছু রসদ পেলেন ভাবছেন বোধহয়?

    আমার উদ্দেশ্য তিনি অনেক দিনই বুঝেছেন। হরিদ্বার থেকে ফেরার পরেও দেড় বছর ধরে সঙ্গ করছি, তাঁর মতো চতুর মানুষের আমার লক্ষ্য কি তা না বোঝার কথা নয়। তারকেশ্বরে বসে এ-নিয়ে তিনি ঠাট্টাও করেছিলেন, নিঃস্বার্থ উপকার করা প্রসঙ্গে বলেছিলেন, আপনার লেখা যখন ছাপার অক্ষরে বই হয়ে বেরুবে আমাকে কি তার রয়েলটির ভাগ দেবেন?

    অর্থাৎ, এক বছরের ওপর ধরে আমার মগজে যে রূপ আকার নিচ্ছে তা তিনি ভালোই জানতেন।

    প্রশ্নটা শুনে একটু খটকা লেগেছিল, জিগ্যেস করেছিলাম, কেন বলুন তো, আপনার আপত্তি আছে?

    তাঁর সকৌতুক জবাব, না, আমার আর আপত্তি কি। তবে, রহু ধৈর্যং… আমার পরামর্শ যদি শোনেন কিছুকাল অপেক্ষা করুন, নইলে মুশকিলে পড়ে যেতে পারেন।

    বিদায় নেবার আগে কল্যাণীও সামনে ছিলেন। মুশকিল কি হতে পারে ভেবে না পেয়ে তাঁর দিকে তাকিয়ে বলেছিলাম। কিছু বুঝতে পারছেন? হেসে জবাব দিয়েছেন, ওঁর কথা সব সময় বুঝিও না, তা নিয়ে ভাবি ও না। তবে ওঁর অনেক বাজে কথা অনেক সময় ফলে যেতে দেখেছি, বলছেন যখন কিছুদিন অপেক্ষাই করুন।

    অবধূতের দিকে ফিরে জিজ্ঞেস করেছিলাম, কিছুদিন অপেক্ষা করব বলতে কতদিন?

    তিনি স্মিত মুখেই জবাব দিয়েছিলেন, আমি তো কিছুদিন বলি নি, কিছুকাল বলেছি…

    শুনে একটু হতাশ আমি।—এখনই তো মুশকিলে ফেললেন দেখছি, তবু কতকাল?

    —এই ধরুন যখন আমি আর কল্যাণী থাকব না।

    মুখের ওই হাসি দেখে আমার ভিতরটা অসহিষ্ণু হয়ে উঠছিল। কাল-নির্দেশ আরো অহিষ্ণুতার কারণ। সঙ্গে সঙ্গে আমার তির্যক প্রশ্ন, কাল রাতে বললেন আপনি সন্ধানী, খোঁজ করছেন—কিন্তু এখন তো দেখি বেশ সর্বজ্ঞ ভবিষ্যতদ্রষ্টার মতো কথা বলছেন— আপনি আমার থেকে তিন বছরের বড় আর কল্যাণী আমার থেকে ছ’বছরের ছোট—আপনারা দুজনে না থাকার পরেও আমি থাকব এমন গ্যারান্টি দিচ্ছেন কি করে?

    —যাঃ কলা! জোরেই হেসে উঠেছিলেন।—একটা সহজ কথারও কিভাবে অন্য অর্থ হয়ে যায় দেখুন, যখন থাকব না মানে কি মরে যাওয়া! ধরুন, আপনি লেখা থেকে রিটায়ার করলেন, তার মানে কি আপনি মরে গেলেন? তখন নেই মানে আপনি আর কর্মের মধ্যে নেই—

    তাতেও আমি বিরত হই নি।আপনার বা কল্যাণীর শিগগীরই সেইরকম না থাকার অবস্থা আসছে ভাবছেন?

    জবাবে হাসি মুখে অবধূত স্ত্রীর দিকেই ঘুরে তাকিয়েছিলেন।—কি গো, আমি তোমার কোন্ হুকুমের দাস আর কি জন্যে এখনো আমাদের বেশ কিছুদিন এখানে পড়ে থাকা—ভদ্রলোককে বলে দেব নাকি?

    —থাক, আর বলতে হবে না, সব-সময়ে আমাকে কর্ত্রী বানিয়ে বাহাদুরি! আগেও দেখেছি এ-রকম মুখ ঝামটা অবধূত ভারী প্রসন্ন মনে গ্রহণ করেন। আমারও ভিতরটা যে প্রসন্ন হয়ে ওঠে অস্বীকার করি কি করে। কল্যাণীর বয়েস এখন বাহান্ন। কিন্তু দেহশ্রী আর সুঠাম স্বাস্থ্য এখনো বত্রিশের জাদু-কাঠামোয় বন্দী। আমার বিবেচনায় এ-ও রমণীর এক দুর্লভ যোগ-বিভূতির মহিমা। তাঁকে ছেড়ে দুচোখ আবার অবধূতের মুখের ওপরেই সন্ধানী হয়ে উঠেছিল। জিগেস করেছিলাম, এই সৎপরামর্শ কেন, কি-রকম মুশকিলে পড়ার কথা বলছেন?

    আবারও হেসে উঠেছিলেন। —আপনি অল্পেতে ঘাবড়েও যান দেখছি, সে-রকম কিছু না। আচ্ছা আমার একটা কথার জবাব দিন, ভাবলে তার মধ্যেই আপনার প্রশ্নের উত্তর পেয়ে যাবেন। আপনি তো কত চরিত্র দেখেছেন, কত রকমের মানুষ নিয়ে ঘাঁটাঘাঁটি করেন, আজ পর্যন্ত এমন একটি মানুষ দেখেছেন যে প্রাণের আনন্দ থেকে বলে, পরম শান্তিতে আছি, কোনো খেদ নেই, কোনো ক্ষোভ নেই, দুঃখ জমা দেবার মতো শোক জমা দেবার মতো কোনো আশ্রয়ের দরকার নেই—দেখেছেন এমন একজনও?

    জানি দেখি নি। তবু নিরীহ মুখ করে জিজ্ঞেস করেছিলাম, আপনাদের দু‘জনকে ছাড়া?

    সঙ্গে সঙ্গে অট্টহাসি। এমন হাসি, যে কল্যাণী দেবীও হাসি মুখে ভুরু কুঁচকে বলে উঠেছিলেন, বাবারে বাবা, হাসি শুনলে কাক-চিলেও ভয়ে পালায়!

    হাসি থামিয়ে শেষে উনি বলে উঠেছিলেন, এতদিন ধরে এত দেখাশোনা বোঝার পর আপনার মুখে এই কথা! আরে মশাই আমাদের দুজনের একজন তো সেই ষোল বছর বয়েস থেকেই তার খেদ ক্ষোভ শোক দুঃখ তার শিবঠাকুর কংকালমালী ভৈরবের ব্যাঙ্কে জমা দিয়ে বসে আছেন, উপপতি ছেড়ে এখন তার পতির ঘরে যাবার জন্য হাঁসফাঁস দশাখানা এই মুখ দেখে আপনি বুঝবেন কি করে? নেহাত ওই পতিটিরই আর এক চক্রান্তের কলে আটকে গেছে তাই…।

    কল্যাণীর আবির গোলা মুখ, সঙ্গে উষ্ণ মন্তব্য, জিভের যদি একটুও লাগাম থাকত—সেদিকে ভ্রূক্ষেপ না করে হাসিমুখে আমার দিকে ফিরে অবধূত বলেছিলেন, আর ভক্তজনের দেওয়া আধা-ঈশ্বরের খোলস পরে এই হতভাগা কি টানাপোড়েনের মধ্যে পড়ে আছে সে-তো কাল রাতেই বললাম আপনাকে! এই বিগত প্রসঙ্গ আটাত্তর সালের শেষের দিকের। এর পরেও দীর্ঘ চার বছরের ওপর অর্থাৎ তিরাশি সালের গোড়ার দিকে পর্যন্ত এই দম্পতির সঙ্গে আমার ঘনিষ্ঠ যোগ ছিল। ঘনিষ্ঠ যোগ বলতে খুব ঘন ঘন দেখা সাক্ষাৎ হতো এমন নয়। চোখের যোগ থেকে মনের যোগ বেশি ছিল। পরস্পরের খবরাখবর রাখতাম। পেটো কাতিকের যাতায়াতের ফলে সেটা আরো সহজ হতো। পেটো কার্তিক আবার অনেকসময় তার বাবা অথবা মাতাজীর ওপর রাগ করেও আমার এখানে চলে আসত। লক্ষ্য করে দেখেছি মাতাজীর থেকেও তার বাবার ওপর অভিমান একটু বেশি। বলে মাতাজীর হলো গিয়ে অধ্যাত্ম তেজের ঘর, অনেক কঠিন ব্যাপার, ভয়ে নাক গলাইনে। আর বাবা হলেন গিয়ে একখানা সূর্যের মতো, ছোট-বড় সক্কলকে কিরণ দিচ্ছেন। আমাদের সুখ-দুঃখের শরিক-সকলে সেইজন্য বাবার থেকে সুবিধেও বেশি নেয়।

    একবার হঠাৎ এক সন্ধ্যায় চলে আসতে মুখ দেখেই মনে হয়েছিল রাগের ব্যাপার ঘটেছে কিছু। খবর জিজ্ঞেস করতে মুখের ওপর জবাব, আমার কি কারো ভালো মন্দের খবর রাখার অধিকার আছে?

    পরে শুনলাম একশ দুই জ্বর নিয়েও বাবা গত মঙ্গলবার শ্মশানে গেছেন। এমনিতে যেতেন না, কার কি ক্রিয়া-কাজ করার কথা ছিল। সেটা এমন কিছু ব্যাপার নয়, পরের শনি বা মঙ্গলবারে করলেও হতো। কিন্তু সেই লোক ঠিক সন্ধ্যায় এসে হাজির। দোষের মধ্যে বাবার খুব জ্বর বলে পেটো কার্তিক তাকে হটিয়ে দিয়েছিল। সে-ব্যাটা এমনি ত্যাদড় যে বাড়ি ফিরেই বাবাকে ফোন। বাবা ফের তাকে আসতে বলে শ্মশানে যাবার জন্যে তৈরি হলেন, আর জ্বরের জন্যে হোক বা যে-জন্যে হোক খুব রেগে গিয়ে মাতাজীকে হুকুম করলেন, পেটোকে কান ধরে এখানে নিয়ে এসো। বাবা হঠাৎ-হঠাৎ বেশ রেগে যান বটে, কিন্তু ঠাট্টা করা ছাড়া কানটান ধরার কথা কখনো বলেন না। ডাকতে এসে মাতাজীই ইশারায় তাকে বুঝিয়ে দিলেন বাবা দারুণ রেগে আছে। পেটো আর ধারে কাছে থাকে, সোজা সটকান। বাবা রাগেন কমই আর রাগ জল হতে সময়ও লাগে না। শ্মশানের ক্রিয়াকাজ সেরে রাত চারটেয় বাড়ি ফিরেছেন। পেটো স্বপ্নেও ভাবে নি পরদিন পর্যন্ত বাবার মাথায় রাগ চড়ে থাকতে পারে। সকালে প্রণাম করে উঠে দাড়াতেই প্রথম কথা, ফের এ-রকম হলে তোকে নিয়ে আর আমার পোষাবে না, তোকে নিজের রাস্তা দেখতে হবে।

    বলতে বলতে দুঃখে অভিমানে পেটো কার্তিক কেঁদে ফেলেছিল।—বলুন তো, এতদিন বাদে আমাকে কিনা এই কথা! কুকুরেরও তো তার মনিবের ভালো-মন্দ দেখার অধিকার আছে—আমি কি কুকুরের অধম। যাক, দু‘চারটে দিন আপনার এখানেই পড়ে থাকব, দয়া করে চাট্টি করে খেতে দেবেন, তার মধ্যে নিজের ব্যবস্থা কিছু করতে পারি ভালো, না পারলে যে-দিকে দু‘চোখ যায় চলে যাব আমি কেবল শুধিয়েছিলাম, এখানে যে এসেছ বাড়িতে বলে এসেছ?

    —আমার কে আছে যে বলে আসব, টাকা পয়সা যা আমার কাছে ছিল পুঁটলি করে মাতাজীর ঘরের তাকের ওপর রেখে এসেছি।

    রাতে আর কিছু বোঝাতে চেষ্টা করি নি, তাতে কেবল গোঁ আর অভিমান বাড়বে।

    অবধূতের কোন্নগরের বাড়িতে ফোন এসেছে, কিন্তু এতদিনের মধ্যে বার পাঁচেকও সে-ফোন ধরতে পেরেছি কিনা সন্দেহ। ধৈর্যও থাকে না। একটা লেখা নিয়ে ব্যস্ত ছিলাম, শেষ হতে রাত বারোটা। ভাবলাম এ-সময় একবার চেষ্টা করে দেখা যাক যদি পেয়ে যাই। ভদ্রলোকের জ্বর শুনেছি, তার ওপর পেটো যা বলছে একটু ভাবনার কথাই। ও-বাড়ির রাত বারোটা কিছুই না। কল্যাণী দেবী শুনেছি এখন তাঁর মায়ের মতোই রাতে দু-আড়াই ঘণ্টার বেশি ঘুমোন না, আর অবধূতের তো ঘুমের ব্যাঘাত বলে কোনো কথাই নেই।

    অত রাত বলেই হয়তো চট করে পেয়ে গেলাম। উনিই ধরলেন। জিজ্ঞেস করেছি, খুব জ্বর নিয়ে শ্মশানে গেছিলেন শুনলাম, এখন কেমন? জবাবে হা হা হাসি। ভালো আছি, এত রাতে আমার শরীরের জন্য চিন্তা না কার্তিকের জন্য?

    ভণিতা বাদ দিয়ে আমাকে কার্তিকের মতলব বলতেই হয়েছে। — ও দু‘চারদিন আমার এখানে থেকে নিজের ব্যবস্থা দেখবে, আর ব্যবস্থা কিছু না হলে যেদিকে দু‘চোখ যায় চলে যাবে বলছে।

    আবারও হাসি।—আপনি নিশ্চিন্ত মনে ঘুমোন, দু‘চারদিন ছেড়ে কাল সকালেই দেখুন কি করে!

    দেখেছি। সকালে চা জলখাবারের সময়েই তার উসখুস ভাব। আমার প্রস্তাব, চলো তোমাকে নিয়ে একটু বাজারে ঘুরে আসি, আছ যখন বাজারে ভালো-মন্দ কি পাওয়া যায় দেখি—

    আমতা-আমতা মুখ।—আমি ভাবছি সার রোদ চড়ার আগে চলেই যাই…

    অবাক ভাব দেখাতেই হয়।—কোথায়?

    রাগত জবাব।—কোথায় আর, কোন্নগর ছাড়া আমার যাবার আর কোন্ চুলো আছে? মাথাটা একেবারে চিবিয়ে খেয়ে দিয়েছেন সার—বুঝলেন? যাকে বলে ব্রেন ওয়াশিং, এত আরামে শুয়েও কাল সমস্তটা রাত ভালো ঘুম হলো না—সেই আগেরদিন হলে এই ব্রেন কেবল জ্বলত, আর এখন কিনা কেবল মনে হচ্ছে এ-ভাবে চলে এসে ডবল অন্যায় করলাম। যাই হোক, আপনি ফাঁক-মতো বাবাকে একটু সমঝে দেবেন সার, আমার সঙ্গে এমন ব্যাভার করলে কোনদিন নিজের গলায় ব্লেড দিয়ে বসব! আমার নিরীহ গোছের পরামর্শ, তুমি নিজেও তো বলতে পারো…

    —পারি বই কি, মওকা পেলে আমি কিছু বলতে ছাড়ি! নিজেই তো দেখেছেন, বাবার তখন সমস্ত মুখ যেন হাসিতে গলে গলে যায়। ও চলে যাবার পর গত রাতে অবধূতের গলার প্রত্যয়ের সুরটুকু আবার মনে পড়েছে। বলেছিলেন, আপনি নিশ্চিন্ত মনে ঘুমোন, দু‘চার দিন ছেড়ে কাল সকালেই দেখুন ও কি করে।

    আর পেটো কার্তিক সম্পর্কে সেই পুরনো কথাই আবার মনে হয়েছে। আজকের এই কার্তিক নয়, পাঁচ বছর আগে যা ছিল অমন হাজার হাজার বেকার বোমাবাজ পেটো কার্তিক শহর শহরতলী আর মফঃস্বল শহরে ছড়িয়ে আছে। ধরে ধরে এদের সক্কলকে যদি অবধূতের কাছে পাঠানো যেত!…সেবারে তারকেশ্বরে যাবার সময়েও ট্রেনে দেখেছি অভাবী খেটে খাওয়া মানুষের জন্য ওর বুকের তলায় কত দরদ। বিনা প্রয়োজনে ট্রেনের হকারদের কাছ থেকে এটা কিনছে ওটা কিনছে, তারপর ট্রেন থেকে নেমেই সব বিলিয়ে দিচ্ছে। যারা বেচল তারা খুশি, যারা পেল তারাও খুশি। প্রসঙ্গ থেকে দূরে এসেছি। আগেই বলেছিলাম, প্রাসঙ্গিক ঘটনার ভিতর দিয়ে কালীকিংকর অবধূতের জীবন-দর্শন আর জীবন-জিজ্ঞাসা আমার অনুভবগোচর হয়েছিল সেই আটাত্তর সালে। তারপর যতবার লিখব বলে মন স্থির করে বসতে চেষ্টা করেছি ততবার অবধূতের হাসি-ছোঁয়া সতর্কবাণী একটা বাধার মতো উঠেছে। উনি বলেছিলেন, রহু ধৈর্যং, আমার পরামর্শ যদি শোনেন কিছু-কাল অপেক্ষা করুন, নইলে মুশকিলে পড়ে যেতে পারেন।

    কি মুশকিল আমি ভেবে পাই নি। কিন্তু ওই পলকা নিষেধেও হয়তো কান দিতাম না যদি না কল্যাণী বলতেন, ওঁর অনেক বাজে কথা অনেক সময় ফলে যেতে দেখেছি, বলছেন যখন কিছুদিন অপেক্ষাই করুন। …কালীকিংকর অবধূতকে নিয়ে ‘সেই অজানার খোঁজে’ কাহিনী বিস্তারে নেমেছি আরো দীর্ঘ দিন পরে-পঁচাশি সালের প্রসাদ পূজা বার্ষিকীতে। আমার বিবেচনায় আর অপেক্ষা করার মতো কোনো সঙ্গত কারণ ছিল না। অবধূতের সেই হাসি-ছোঁয়া সতর্ক বাণী আর কোনোরকম বাধা হয়ে ওঠে নি। ততদিনে অর্থাৎ তিরাশি সালের শুরু পর্যন্ত ওই একটি পুরুষ আর একটি রমণীর জীবনের অনেক অতীত অধ্যায় আমার কাছে অনাবৃত হয়েছে। নতুন ঘটনার সংযোজনও কম দেখি নি। রমণীটি অর্থাৎ কল্যাণীর ভিতরের সঠিক রূপটি আজও বোধহয় আমি নিজের বিচার-বিশ্লেষণের আওতায় নিয়ে আসতে পারি নি। অনেক সময় মনে হয়েছে পেটো কার্তিকের কথাই ঠিক।…বলেছিল, মাতাজীর হলো গিয়ে আধ্যাত্ম তেজের ঘর, অনেক কঠিন ব্যাপার। আর বাবা হলেন গিয়ে একখানা সূর্যের মতো, ছোট-বড় সক্কলকে কিরণ দিচ্ছেন—আমাদের সুখ-দুঃখের শরিক।…হ্যাঁ, পরের অধ্যায়ে মাতাজী কল্যাণীর অধ্যাত্ম তেজের কিছু হদিশ আমিও পেয়েছি বইকি। কিন্তু ‘সেই অজানার খোঁজে’ লিখতে বসে আমি কেবল আমাদের সুখ দুঃখের শরিক কালীকিংকরের দর্শন আর জিজ্ঞাসার চিত্রটাতেই মনোনিবেশ করেছিলাম। অর্থাৎ সেই আটাত্তর সালের পরের কোনো ঘটনা বা অভিজ্ঞতা সেই অধ্যায়ে টেনে আনি নি। কারণ আগেও বলেছি।…রোমাঞ্চকর সব ঘটনার নিয়ামক হিসেবে অগণিত ভক্তজন যাঁকে ঈশ্বরের এক জাগ্রত অংশ বলে জানে, বিশ্বাস করে—স্বয়ং যেই মানুষই এমন সন্ধান-অভিসারী, যিনি বলেন, ঈশ্বর আছে কি নেই আমি জানি না, আমি খোঁজ করছি, খুঁজে যাচ্ছি। শুধু এটুকু মনে রেখেই ‘সেই অজানা‘র খোঁজের কাহিনী বিস্তার করেছিলাম। শুধু এই খবরটুকু মানুষের ঘরে ঘরে পৌঁছে দেবার মতো সম্পদ ভেবেছিলাম।

    কিন্তু পৌঁছে দেবার পর কি হলো?

    প্রশ্ন প্রশ্ন প্রশ্ন প্রশ্ন।

    ফোন-গাইড থেকে আমার ঠিকানা বার করে, পাবলিশার আর প্রসাদ পত্রিকা থেকে ঠিকানার হদিস নিয়ে, অথবা লোকমুখে জেনে নিয়ে কেবল প্রশ্ন আর প্রশ্ন, প্রশ্ন আর প্রশ্ন। কালীকিংকর অবধূত কোথায়? কল্যাণী মাতাজী কোথায়? আমরা বড় বিপন্ন, অবধূতজীকে আমাদের বড় দরকার। কল্যাণী মাতাজীকে যে আমাদের বড় দরকার। কোন্নগর চষেও তাঁদের হদিস পাচ্ছি না কেন? বাড়ির হদিস পেলেও সেটা শূন্য ভাঙা-চোরা অবস্থায় পড়ে আছে কেন? অথচ তাঁরা যে নেই এমন কথাও তো কেউ বলছেন না! বরং বলছেন, আছেন কোথাও—ওই লেখকের কাছেই খোঁজ করুন, মনে হয় একমাত্র তিনিই বলতে পারবেন।

    প্রশ্নবাণে আমি জর্জরিত। আকৃতি দেখে আমি দিশেহারা। চিঠির জবাব না পেয়ে তাঁদের অনেকে বাড়িতে এসে হানা দিয়েছেন। ত্রিবেণী শ্রীরামপুর নদীয়া মুর্শিদাবাদ বহরমপুর এমন কি বারাণসী লক্ষ্ণৌ হরিদ্বার থেকে পর্যন্ত এক-একটি দম্পতি ছুটে এসেছেন। সকলের মুখেই এক কথা এক আকৃতি, অবধূতজী কোথায়? কেমন করে তাঁর সন্ধান পাব। তাঁকে যে বড় দরকার।

    আমার বুকের তলায় কত যে মোচড় পড়েছে তার হিসেব দিতে পারব না। তখনই অবধূতের সেই হাসি-ছোঁয়া নিষেধের সার বুঝেছি। কি মুশকিলে পড়ার কথা তিনি বলেছিলেন মর্মে মর্মে অনুভব করেছি। তাঁর হালকা কথার সূত্র ধরে তখনো যদি একটু গভীরে ডুব দিতে পারতাম, ওই নিষেধের তাৎপর্য বোঝা তো জল-ভাত ব্যাপার ছিল! আর প্রকারান্তরে তিনি সেটা বলেও দিয়েছিলেন। … আমি জিজ্ঞেস করেছিলাম এই সৎ পরামর্শ কেন, কি-রকম মুশকিলে পড়ার কথা বলছেন? জবাবে তিনি হাসি মুখে ফিরে প্রশ্ন করেছিলেন, আজ পর্যন্ত এমন একটি মানুষ দেখেছেন যে প্রাণের আনন্দ থেকে বলে পরম শান্তিতে আছি, কোনো খেদ নেই কোনো ক্ষোভ নেই, দুঃখ জমা দেবার মতো, শোক জমা দেবার মতো কোনো আশ্রয়ের দরকার নেই—

    —দেখেছেন এমন একজনও?

    …হ্যাঁ রসিকতার ছলে এই মুশকিলে পড়ার কথাই অবধূত বলেছিলেন, আর মনে হয় কল্যাণীও সেটা বুঝেছিলেন। পরম শান্তিতে কেউ নেই।

    দুঃখ জমা দেবার মতো শোক জমা দেবার মতো কোনো আশ্রয়ের দরকার নেই এমন কেউ নেই। অন্যের কথা কেন, দুরারোগ্য ব্যাধি নিরাময়ের যাদুশক্তি ধরে, একমাত্র ছেলের জন্য সমস্ত ভারত ঘুরে এমন মানুষ তো একদিন আমি আর আমার স্ত্রীও খুঁজে বেড়িয়েছি! আমার সেই লেখা থেকে পাঠক সে-রকম শক্তিধর কোনো একজনের হদিস পেয়েছেন ভেবেছেন—সকলে না হোক, যারা বিপন্ন, যাঁরা শোক দুঃখ বা সংকট জমা দেবার মতো আশ্রয় খুঁ জে বেড়াচ্ছেন তাঁরা ভেবেছেন। কালীকিংকর অবধূতকে তাঁরা খুঁজছেন। এমন লোকের সংখ্যা যে কত আমার ধারণা ছিল না, কিন্তু অবধূতের ছিল।

    এ-ভাবে বিপর্যস্ত হবার ফলে একটা চিন্তা আমার মাথায় এসেছিল। এত বছর ধরে আমাকে ওই লেখা থেকে বিরত রেখে অবধূত আমার মুশকিলে পড়া ঠেকিয়েছেন না নিজের গা বাঁচিয়েছেন? কিন্তু পরে আরো ভেবে মনে হয়েছে ওটা নিজেরই বিমূঢ় চিন্তা। ওই মানুষ কোনোদিন ছলনার আশ্রয় নেন নি, যদি নিয়েও থাকেন সেটা তাঁর লোকের মঙ্গল করার কৌশল। পাঠকের মনে থাকতে পারে ট্রেনে হরিদ্বারের পথে তার অন্তর্দৃ ষ্টি দেখে আমরা যখন অনেকটাই অভিভূত, আর চৌদ্দ বছর দুরারোগ্য ব্যাধিতে ভুগে আমাদের একমাত্র ছেলে চলে গেছে শুনে তাঁর মুখখানাও যখন বিষণ্ণ গম্ভীর, আমার স্ত্রী জিজ্ঞেস করেছিলেন, আপনার হাতে এলে আপনি কিছু করতে পারতেন? সঙ্গে সঙ্গে তিনি মাথা নেড়েছিলেন, বলেছিলেন, কিচ্ছু পারতাম না মা, কেউ পারত না।

    …কল্যাণীর মা, তারাপীঠের ভৈরবী মা মহামায়ার শিক্ষাই অবধূতের পরবর্তী জীবনের সব থেকে বড় পুঁজি। ওই মায়ের কাছ থেকেই তাঁর দৃষ্টির সাধনা অধিগত। এই দৃষ্টি চালনার ভিতর দিয়ে মানুষের অন্তঃগুলের অনেকটাই তাঁর চোখে ধরা পড়ে। রোগ ব্যাধি শুধু নয়, শোকতাপ পরিতাপের ছায়াও তিনি দেখতে পান। কপাল আর লক্ষণ দেখেও অনেক কিছু নির্ভুল আঁচ করতে পারেন। হাত দেখা বা জ্যোতিষী বিদ্যাও ওই মায়ের কাছ থেকে পাওয়া। আর সব থেকে বড় পাওয়া মায়ের আয়ুর্বেদ-নিষ্ঠ চিকিৎসাবিদ্যা। এই থেকে অবধূত নিজেও দ্রব্যগুণে বিশ্বাসী। লোকের মন আর মানসিকতা বুঝে তাঁকে তাবিচ-কবচও দিতে দেখেছি। এইসবের সঙ্গে অসাধারণ বুদ্ধি প্রত্যুৎপন্নমতিত্ব, নিষ্ঠা আর আত্মপ্রত্যয়ের যোগ ঘটলে যা হয়—কালীকিংকর অবধূত কেবল তাই। নিজে তিনি কোনোদিন অলৌকিকের পিছনে ছোটেন নি। কত সময় হেসে বলেছেন এ-সবের কোনো কিছুর মধ্যে অলৌকিকের ছিটে ফোটাও নেই—আমি যা পারি আর করি তার সবটাই শিক্ষা আর নিষ্ঠার সাধনার ফল, এই শিক্ষা আর নিষ্ঠা থাকলে ইচ্ছে করলে আপনিও পারেন—সকলেই পারে।

    …কিন্তু মানুষ তাঁর কাছে যতটুকু পেয়েছে, বিশ্বাসে আর ভক্তিতে তাতেই তাঁকে অলৌকিক শক্তির অধিকারী ধরে নিয়েছে। তারাই তাঁকে গড-ম্যানের আসনে বসিয়েছে। সেই গড-ম্যান নিজের গড খুঁজে বেড়াচ্ছেন, ঘটনার সাজ দেখে দেখে তাঁর প্রশ্ন, কেন ঘটে কে ঘটায়, কে সাজায় কে করে—এই বৈচিত্র্যটুকুর দাগ রেখে যাবার তাগিদেই কালীকিংকর অবধূতকে আমি পাঠকের সামনে নিয়ে এসেছিলাম। সঙ্গে আমার না-বোঝা পেটো কার্তিকের ভাষায় তাঁর আধ্যাত্ম তেজের ঘরের স্থির-যৌবনা স্ত্রী কল্যাণীকেও। কারণ আমার বিবেচনায় একজনকে বাদ দিলে অন্যজন অসম্পূর্ণ।

    …কিন্তু পাঠকও তাঁদের ভক্তজনের পথেই চলেছেন। শোক দুঃখ ভয় তাপ জমা দেবার জন্য তাঁদের খুঁজছেন। তাঁরাও তাঁদের গড-ম্যান গড-মাদারের আসনে বসিয়েছেন। দুজনের মধ্যে অলৌকিক শক্তির রূপ দেখেছেন। তাঁরা একেবারে মিথ্যে ভাবছেন এমন বলার ধৃষ্টতাও আমার নেই। কারণ, অলৌকিক না হোক যুক্তির বাইরে শক্তির রূপ পরে এঁদের মধ্যে আরো দেখেছি। যা-ই হোক, পাঠকের অন্বেষণ বা অনুসন্ধিৎসার আড়ালে রাখার মতো কালীকিংকর অবধূত মানুষটি আমার নিজস্ব সম্পদ নন। যে-পর্যন্ত আমি জানি সেই পর্যন্ত তাঁকে চেনা বা জানার সমান অধিকার তাঁদেরও। পাঠকের কাছে লেখক দায়বদ্ধ। সেটা স্বীকার করেই অবধূতের জীবনের আর একটি বিস্তৃত অধ্যায় ( শেষ অধ্যায় কিনা জানি না ) পাঠকের সামনে তুলে ধরছি।

    সেইসঙ্গে দিব্যাঙ্গনা স্থির-যৌবনা আধ্যাত্ম তেজের ঘরের মেয়ে কল্যাণীকেও। কারণ, একজনকে ছেড়ে আর একজন যে কত অসম্পুর্ণ সেটা ততদিনে আমি ঢের বেশি অনুভব করতে পেরেছি।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleকাল তুমি আলেয়া – আশুতোষ মুখোপাধ্যায়
    Next Article সোনার হরিণ নেই – আশুতোষ মুখোপাধ্যায়

    Related Articles

    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়

    বিপিনের সংসার – বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়

    January 8, 2026
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    ভয় সমগ্র – হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    December 9, 2025
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    কিশোর অ্যাডভেঞ্চার সমগ্র – হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    December 9, 2025
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    প্রকাশ্য দিবালোকে – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    November 18, 2025
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    তারপর কী হল – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    November 17, 2025
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত

    শর্ম্মিষ্ঠা নাটক – মাইকেল মধুসূদন দত্ত

    November 11, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Our Picks

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }