Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    সেদিন চৈত্রমাস – হুমায়ূন আহমেদ

    হুমায়ূন আহমেদ এক পাতা গল্প135 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    ০৫. মঞ্জু মামা চেয়ারে পা তুলে

    মঞ্জু মামা চেয়ারে পা তুলে আয়েশ করে বসে আছেন। তিনি সহজে যাবেন মীরার এ রকম মনে হচ্ছে না। সে শংকিত বোধ করছে। রাত আটটা বাজে, যে কোন সময় শফিক এসে উপস্থিত হবে। মঞ্জু মামাকে দেখে সে আহ্লাদিত বোধ করবে এ রকম মনে করার কোনো কারণ নেই। অথচ একটা সময় ছিল যখন শফিক তাকে পাঠাত মঞ্জু মামার কাছে। টাকা ধার করে আনতে। তখন কি শফিক জানতো না প্রৌঢ় চিরকুমারদের সাধারণ যেসব ত্রুটি থাকে এই মানুষটির সেসব ত্রুটি আছে। ভালমতোই আছে। টাকা দেবার সময় পিঠে হাত বুলিয়ে আদর করা কিংবা হঠাৎ গালে হাত দিয়ে বলা তোর গালে এটা কি? ব্রণ না-কি?

    কি সেন্ট মেখেছিসরে? সুন্দর গন্ধ তো বলে নাক বুকের কাছাকাছি নিয়ে আসা। মানুষটার সাহস কম বলে মীরা অল্পতে পার পেয়েছে। শফিক এইসব কিছুই জানে না। তারপরেও কিছু নিশ্চয়ই অনুমান করে।

    মঞ্জু পান চিবুচ্ছেন। পানের রস ঠোঁট বেয়ে নিচে নামছে। তিনি ঝোল টানার মতো পানের রস টানছেন। এই কাজটা করতে গিয়ে আনন্দ পাচ্ছেন বলেও মনে হচ্ছে। এক্ষুণি মানুষটাকে চলে যেতে বলা উচিত। ভদ্রভাবে এই কাজটা সে কিভাবে করবে ভেবে পাচ্ছে না। মীরা বলল, মামা তুমি আমাদের কাছে কত টাকা পাও বল তো?

    মঞ্জু হাঁটু দুলাতে দুলাতে বললেন, কেন টাকাটা দিয়ে দিবি?

    দেব। নিশোর বাবা ঋণ শোধ করা শুরু করেছে।

    তোর কি ধারণা তোর কাছে টাকা ফেরত নিতে এসেছি?

    সে রকম ধারণা না। জানার জন্যে বললাম। একসঙ্গে সব টাকা দিতে পারব না। ভাগ ভাগ করে দিতে হবে।

    তোদর মনে হয় অনেক টাকা হয়েছে।

    মামা ও বেতন ভাল পাচ্ছে।

    ভাল মানে কী? কত টাকা বেতন?

    মীরা বলল, মাসে বিশ হাজার করে পাচ্ছে।

    মীরা একটু বাড়িয়ে বলল। বেতন আসলে পনেরো হাজার। বিশ হাজার বলে তার ভাল লাগছে। এতই ভাল লাগছে যে চোখ ভিজে আমার মতো হয়ে যাচ্ছে। মঞ্জুর চোখে একটু যেন সন্দেহের ছায়া, বিশ হাজার টাকা বেতন? বলিস কি?

    অফিস থেকে তাকে একটা গাড়িও দিয়েছে। ফুলটাইম গাড়ি। আমাদের তো গ্যারেজ নেই। গাড়ি রাস্তায় থাকে। ড্রাইভার গাড়িতে ঘুমায়।

    সত্যি বলছিস?

    তোমার সঙ্গে মিথ্যা বলব কেন মামা?

    এখনো এক রুমের বাসায় পড়ে আছিস কেন? নতুন বাসা নে।

    বাসা খুঁজে বেড়াচ্ছি, পছন্দমতো পাচ্ছি না। আমাদের দরকার তিন রুমের ফ্ল্যাট। একটাতে আমরা থাকব। একটাতে শ্বশুর-শাশুড়ি থাকবেন। আরেকটা গেস্ট রুম।

    গেস্ট রুমটা সুন্দর করে সাজাবি। আমি এসে মাঝে মধ্যে থাকব।

    অবশ্যই থাকবে।

    তুই বললে আমি বাসা খুঁজে দিতে পারি।

    তোমাকে কষ্ট করতে হবে না। ও কোম্পানি থেকে ফ্ল্যাট পাবে এ রকম সম্ভাবনাও আছে। ঐ সব ফ্ল্যাট খুবই ভাল। ফার্নিশও। কোনো ফার্নিচার কিনতে হবে না। টিভি, মাইক্রোওয়েভ সব আছে।

    তোরা তো মনে হয় আলাদীনের চেরাগ পেয়ে গেছিস।

    একটু দোয়া কর মামা। বিয়ের পর থেকে বেচারা অনেক কষ্ট করেছে।

    প্রথম জীবনে কষ্ট করলে শেষ জীবনে আরাম হয়। এই আমাকে দেখ। কষ্টও তেমন করিনি আরামও তেমন পাইনি। সারাটা জীবন সমান সমান পার করে দিলাম। শফিক আসবে কখন? তাকে কনগ্রাচুলেশান্স দিয়ে যেতাম।

    মামা ওর আসতে অনেক দেরি হবে।

    অসুবিধা নেই আমি বসি। আমার কাজকর্ম তো কিছু নেই। এখানে বসে থাকাও যা নিজের বাড়িতে বসে থাকাও তা। চা বানা, এক কাপ চা খাই। রং চা। পত্রিকায় পড়েছি রং চা হার্টের জন্যে ভাল।

    মীরা লজ্জিত ভঙ্গিতে বলল, চা আরেক দিন খেও মামা। আমি এখন শাশুড়িকে দেখতে যাব। শুনেছি ওনার শরীর খারাপ করেছে।

    এত রাতে যাবি কিভাবে?

    মামা আমি ব্যবস্থা করব তোমাকে চিন্তা করতে হবে না।

    আমি পৌঁছে দিয়ে যাই।

    মামী কোন দরকার নেই।

    মঞ্জু নিতান্তই অনিচ্ছার সঙ্গে উঠলেন। মীরার মনে হলো তার মাথা থেকে বিরাট বোঝা নেমে গেছে। বেশ কিছুদিন থেকেই শফিকের মেজাজ খারাপ যাচ্ছে। তুচ্ছ বিষয় নিয়ে ঝগড়া করছে। নতুন ঝগড়া শুরু করার মতো সুযোগ তৈরি করা ঠিক হবে না। মঞ্জু মামা এসেছিল এই ব্যাপারটা তাকে না জানালেই হবে। ছোট্ট সমস্যা একটা আছে। নিশো। সে কথায় কথায় বলে দিতে পারে। সে কি নিশোকে মঞ্জু মামার বিষয়ে কিছু বলতে নিষেধ করবে? তাকে নিষেধ করা মানে মনে করিয়ে দেয়া। এমনিতে হয়তো কিছু বলবে না, নিষেধ করা হলেই বলবে।

    মীরা নিশোর জামা বদলাতে গেল। নিশো বলল, আমরা কি কোনখানে যাচ্ছি?

    মীরা বলল, হ্যাঁ যাচ্ছি।

    কোথায় যাচ্ছি মা? দাদিমাকে দেখতে?

    প্রথমে দাদিমাকে দেখতে যাব সেখান থেকে যাব চাইনিজ রেস্টুরেন্টে। তোমার বাবা আজ আমাদের বাইরে খাওয়াবে।

    কেন?

    আমরা অনেক দিন বাইরে খাই না তো এই জন্যে।

    মা আমরা কী অনেক বড়লোক হয়ে গেছি?

    হ্যাঁ হয়েছি।

    তাহলে আমাদের বাসায় ফ্রিজ নেই কেন?

    ফ্রিজের ব্যবস্থা হবে। সামনের মাসেই হবে। মা একটা কথা মন দিয়ে শোন— আজ যে মঞ্জু মামা আমাদের বাসায় এসেছিলেন এটা বাবাকে বলবে না।

    বলব না কেন?

    আমি নিষেধ করেছি এই জন্যে বলবে না। ছোট মেয়েদের মার কথা শুনতে হয়।

    আচ্ছা বলব না।

    প্রমিজ?

    প্রমিজ। বাবা কখন আসবে মা?

    এক্ষুণি চলে আসবে।

    এক্ষুণি মানে কখন?

    উফ মা। তুমি এত কথা বল কেন?

     

    গাড়ি চড়ে নিশো খুবই উত্তেজিত। সে চোখ বড় বড় করে বলল, বাবা এটা কি আমাদের নিজের গাড়ি?

    মীরা বলল, এটা তোমার বাবার অফিসের গাড়ি।

    নিশো বলল, এখন থেকে এই গাড়ি কি আমাদের সঙ্গে থাকবে?

    মীরা বলল, আমাদের সঙ্গেই তো থাকে।

    স্কুলে যাবার সময় থাকে না কেন? স্কুলে আমি রিকশা করে যাই কেন?

    তোমার স্কুলে যাবার সময় তো গাড়ির দরকার নেই। যখন প্রয়োজন হবে তখন গাড়ি পাবে।

    কখন প্রয়োজন হবে?

    এই যেমন আজ প্রয়োজন হয়েছে। আমরা তোমার দাদুমণির বাসায় বেড়াতে যাচ্ছি। সেখান থেকে একটা চাইনিজ রেস্টুরেন্টে যাব।

    আমি কিন্তু স্যুপ খাব না।

    বেশ তো খাবে না। যেটা তোমার খেতে ইচ্ছা করবে খাবে।

    নিশো তার বাবার দিকে ঝুঁকে এসে বলল, আমরা কি অনেক বড়লোক হয়ে গেছি বাবা?

    শফিক জবাব দেবার আগেই মীরা বলল, এত কথা বলবে না তো মা। গাড়িতে এত কথা বলতে নেই।

    গাড়িতে এত কথা বললে কী হয়?

    মীরা বলল, এসি গাড়ি। দরজা-জানালা বন্ধ। কথা বললে কথা কানে বেশি বাজে। মাথা ধরে।

    আমার তো মাথা ধরেনি।

    আমাদের ধরেছে। আমার ধরেছে। তোমার বাবার ধরেছে।

    আচ্ছা তাহলে আর কথা বলব না।

    নিশো চুপ করে গেল। শফিক বলল, তোমার মেয়ে তো কথাকুমারী হয়ে গেছে। সুন্দর গুছিয়ে কথা বলা শিখেছে।

    মীরা বলল, গুছিয়ে কথা বলার জন্য ও যে সিনেমার অফার পেয়েছে সেটা তো তোমাকে বলা হয়নি।

    শফিক বলল, সিনেমায় অফার পেয়েছে মানে কী?

    আমরা গার্জিয়ানরা তো সবাই স্কুলের বাইরে অপেক্ষা করি। একজন গার্জিয়ান গত সোমবার আমাকে বললেন, আপনার মেয়ে দেখতে খুবই সুন্দর। কুট কুট করে কথা বলে, ওকে সিনেমায় দেবেন? ঐ ভদ্রমহিলার ভাই ফিল্ম মেকার। তিনি একটা ছবি বানাচ্ছেন। ছবির নাম ঝরা বকুল। তিনি একজন শিশু শিল্পী খুঁজছেন। যে ঝরা বকুলের নায়িকার বোন। নায়িকার সঙ্গে তার একটা গান আছে।

    তুমি কী বলেছ?

    বলাবলির কী আছে? আমার মেয়ে সিনেমা করবে নাকি?

    শফিক হালকা গলায় বলল, শুনে তো আমার কাছে ইন্টারেস্টিং লাগছে।

    তুমি কি চাও মেয়ে সিনেমা করুক? তুমি চাইলে আমি ওনার সঙ্গে আলাপ করতে পারি।

    শফিক জবাব দিল না। নিশো মার পাশে জানালার দিকে বসেছিল সেখান থেকে উঠে এসে বাবার কোলে বসল।

    মীরা বলল, আজ আমার খাটনি অনেক বাঁচল।

    শফিক বলল, খাটনি বাঁচল মানে কি?

    সেজেগুজে বের হয়ছি। তোমার জন্যে নিশি রাতে সাজতে বসতে হবে না।

    শফিক বলল, সাজতে ভাল লাগে না? আমার তো ধারণা সব মেয়ে সাজতে পছন্দ করে।

    মীরা বলল, আমিও সাজতে পছন্দ করি; কিন্তু একটা বিশেষ কারণে সাজছি ভাবতে ভাল লাগে না।

    আচ্ছা আর সাজতে বলব না।

    মীরা বলল, আমার অভ্যাস হয়ে গেছে, তুমি না বললেও আমি সাজব।

    নিশো বলল, মা তুমি আমাকে কথা বলতে নিষেধ করেছ আমি কথা বলা বন্ধ করেছি। তুমি কিন্তু কথা বলেই যাচ্ছি। এটা কি ঠিক হচ্ছে?

    মীরা বলল, এটা ঠিক হচ্ছে না। আমরা আর কথা বলব না।

    চাইনিজ রেস্টুরেন্টে তো কথা বলতে কোন সমস্যা নেই। তাই না মা?

    না সেখানে কোন সমস্যা নেই।

    আমি কিন্তু স্যুপ খাব না মা।

    একবার তো বলেছ সুপ খাবে না বারবার বলার দরকার নেই। আমার মনে আছে।

    শফিক বলল, প্রচণ্ড ক্ষিদে লেগেছে। আজ আর মাকে দেখতে যাবার দরকার নেই। চলো সরাসরি রেস্টুরেন্টে যাই।

    মীরা বলল, তুমি যা বলবে তাই হবে। তবে মাকে দেখতে গেলে মা খুশি হতেন।

    শফিক ছয় মাস পর এই প্রথম সবাইকে নিয়ে রেস্টুরেন্টে খেতে এসেছে। প্রতিজ্ঞা করেই এসেছে সে হাসিখুশি থাকবে। উঁচু গলায় কথা বলবে না। মেজাজ থাকবে পুরো কনট্রোলে। এই প্রতিজ্ঞার পেছনের কারণ হলো যতবারই সে রেস্টুরেন্টে খেতে এসেছে মীরার সঙ্গে কোন একটা ঝামেলা হয়েছে। মীরা মাঝ পথে খাওয়া বন্ধ করে দিয়েছে। আজ তার জন্মদিন উপলক্ষে খাওয়া। এতে কোনো ঝামেলা হওয়া উচিত না। শফিককে অনেক সাবধান থাকতে হবে।

    আজো মনে হয় ঝামেলা হবে। আজকের সমস্যা শুরু করেছে নিশো। সে বলেছিল স্যুপ খাবে না। এখন সে এক বাটি স্যুপ নিয়েছে। স্যুপ নিয়ে নাড়াচাড়া করছে। মুখে দিচ্ছে না। শফিক এবং মীরার সুপের বাটি শেষ হয়েছে। শফিক যথেষ্ট পরিমাণে ক্ষুধার্ত। খাবার ঠাণ্ডা হচ্ছে; কিন্তু সে কিছু মুখে দিতে পারছে না। কারণ নিশো ঘোষণা করেছে তাকে বাদ দিয়ে কেউ অন্য কিছু খেতে পারবে না। সে যখন স্যুপ শেষ করে রাইস নেবে তখন অন্যরা নেবে। তার আগে না।

    শফিকের মেজাজ যথেষ্ট খারাপ হয়েছে। সে কিছু বলছে না। একটা সিগারেট ধরালে কিছু সময় পার করা যেত। সিগারেট ধরানো যাচ্ছে না তারা বসেছে নো স্মোকিং জোনে। শফিক যখন ঠিক করল বারান্দায় দাঁড়িয়ে সিগারেট টেনে আসবে তখনি তার পকেটের মোবাইল বাজল। মবিনুর রহমান টেলিফোন করেছেন।

    শফিক বলল, স্যার। স্নামালিকুম স্যার।

    আজ সারাদিন তোমার দেখা পাইনি, কী ব্যাপার বলো তো?

    স্যার আমি নারায়ণগঞ্জ গিয়েছিলাম।

    কেন?

    লায়লা ম্যাডাম আমাকে যেতে বলেছিলেন। ওনার কাছে আমার মোবাইল নাম্বার দিয়ে এসেছিলাম। উনি টেলিফোন করেছিলেন।

    বাবুল কয়টা বাজে বলো তো?

    স্যার নয়টা চল্লিশ বাজে।

    রাত তাহলে বেশি হয়নি। আমি ভেবেছিলাম দশটা সাড়ে দশটা বাজে।

    স্যরি নয়টা চল্লিশ বাজে।

    তাহলে একটা কাজ কর। চলে আস।

    জি আচ্ছা স্যার।

    কতক্ষণে আসতে পারবে?

    স্যার আমি খেতে বসেছি। খাওয়া শেষ করেই চলে আসব।

    শফিক টেলিফোন পকেটে রাখতে চাপা গলায় বলল— কার্টুন বুড়া।

    নিশো কৌতূহলী হয়ে বাবার দিকে তাকাল। কিছু বলল না। মীরা বলল, তোমার স্যার টেলিফোন করেছেন?

    শফিক থমথমে গলায় বলল, হুঁ।

    যেতে বলেছেন?

    হুঁ?

    কেন?

    তোমার জানার দরকার কী? এত কৌতূহল কেন?

    ওনাকে গালাগালি করছিলে কেন? বাচ্চাদের সামনে গালাগালি করা ঠিক না। বাচ্চারা এই সব দেখে শিখবে।

    কার্টুনটাকে কার্টুন বলব না তো কী বলব? দুলাভাই বলে কোলে বসিয়ে রাখব?

    এইসব কী? এই ধরনের কথা কী তোমার মুখে মানায়? ছিঃ।

    ছিঃ ছিঃ করবে না। একটা স্পাইলনেস জেলি ফিশ। সারাক্ষণ মাথা দুলাচ্ছে, থাপ্পড় দিয়ে দাঁত ফেলে দিতে পারলে…

    মীরা সহজ গলায় বলল, তুমি ওনাকে একেবারেই পছন্দ করো না। কেন করো না সেটা তুমি জানো। গধু নব ওনার প্রচুর আছে তোমার কিছুই নেই এই হীনম্মন্যতা থেকে অপছন্দটা এসেছে। আমার কাছে কিন্তু মানুষটাকে যথেষ্ট ইন্টারেস্টিং মনে হচ্ছে।

    শফিক বলল, ইন্টারেস্টিং মনে হচ্ছে কেন? তুমি তাকে দেখেছ? নাকি তার সঙ্গে কথা বলেছ?

    আমি তাকে দেখিনি, কথাও বলিনি। যা শোনার তোমার কাছে শুনেছি।

    আমার কাছে শুনেই তোমার ধারণা হয়ে গেল উনি খুবই ইন্টারেস্টিং ক্যারেকটার। কী এমন আমি বলেছি?

    মীরা বলল, রেগে যাচ্ছ কেন? এসো ঠাণ্ডা মাথায় কথা বলি। রেগে যাবার মতো কিছু হয়নি।

    শফিক বলল, ঠিক আছে রাগছি না। ঠাণ্ডা মাথায় কথা বলছি। আমাকে এক্সপ্লেইন করে কি করে তোমার ধারণা হল ঐ বুড়ো ইদুর মারাত্মক ইন্টারেস্টিং ক্যারেকটার! তোমাকে প্রমাণ করতে হবে।

    মীরা নরম গলায় বলল, যারা প্রচুর অর্থ উপার্জন করে তারা কখনো অর্থ উপার্জন বন্ধ করতে পারে না। কখনো অবসর নিতে পারে না। অথচ এই মানুষটা একটা পর্যায়ে এসে অর্থ উপার্জন বন্ধ করেছেন। অবসর জীবনযাপন করছেন। তার মাত্র কয়েক ঘণ্টার জন্যে বিয়ে হয়েছিল সেই স্ত্রীকে তিনি ভুলে যাননি। মাঝে মাঝে ঝুড়ি ভর্তি আম পাঠান। আমি কি ভুল বলছি?

    ভুল বলছ না। সবই শুদ্ধ বলছ। সমস্যা হচ্ছে বেশি শুদ্ধ বলছ।

    তুমি মানুষটাকে গোড়া থেকেই অপছন্দ করে বলে উনি যাই করেন তোমার খারাপ লাগে। তোমার জায়গায় আমি হলে কি করতাম জানো? আমি মানুষটাকে বোঝার চেষ্টা করতাম।

    শফিক কঠিন গলায় বলল, এক কাজ করি, আমি চাকরি ছেড়ে দেই। তুমি চাকরিটা নাও। বুড়োকে বোঝার চেষ্টা করো। বুড়ো আমার মতো হবে না। তোমাকে রাতে সাজতে বলবে না। বিনা সাজেই বিছানায় নিয়ে যাবে। পাশাপাশি ঘুমুলে তাকে বুঝতে অনেক সুবিধা হবে। দ্রুত বুঝে ফেলতে পারবে। তারপর একটা বইও লিখে ফেলতে পারবে– মবিনুর রহমানের সঙ্গে সাত রাত। মীরা চুপ করে গেল। তার চোখে পানি এসে যাচ্ছে। এখন তার প্রধান চেষ্টা চোখের পানি আটকানো।

    নিশো বলল, বাবা তোমাদের ঝগড়া কি শেষ হয়েছে? ঝগড়া শেষ হলে এসো আমরা খাওয়া শুরু করি। আমি এই স্যুপ আর খাব না।

    শফিক ঠিক মতোই খেল। মীরা খেতে পারল না। চামচ দিয়ে সে শুধু খাবার নাড়াচাড়া করল।

    শফিক বলল, খেতে না চাইলে খাবে না। চামচ নিয়ে টুং টাং জলতরঙ্গ বাজানোর কিছু নেই।

    মীরা প্লেটে চামচ রেখে চোখ মুছল। সে মোটামুটি নিশ্চিত ছিল আজ কোন ঝগড়া হবে না। সময়টা আনন্দে কাটবে। সুন্দর উৎসবের কি অদ্ভুত সমাপ্তি।

     

    মবিনুর রহমান চাদর গায়ে বসে আছেন। তার ধারণা জ্বর এসেছে। থার্মোমিটার দিয়ে জ্বর মাপা হয়েছে। জ্বর পাওয়া যায়নি। বরং দেখা গেছে গায়ের তাপ স্বাভাবিকের চেয়ে একটু নিচে। হয়তো এটাও খারাপ। তার সামান্য শ্বাসকষ্টও হচ্ছে। এই সমস্যা আগেও ছিল। শরীর খারাপ করলে কিংবা কোনো কারণে অস্থির বোধ করলেই শ্বাসকষ্ট হয়। ডাক্তারদের ধারণা ব্যাপারটা মানসিক ও শ্বাসকষ্ট নাকি সাইকেসিমেটিক ডিজিজ। কোনো কারণে মনে চাপ পড়লে শ্বাসকষ্ট হয়।

    তাঁর ধারণা ডাক্তারদের কথা ঠিক না। শ্বাসকষ্টের সমস্যাটা হচ্ছে দুর্বল ফুসফুসের কারণে। ছোটবেলায় অনেকবার তার ফুসফুসে পানি ঢুকেছে। ফুসফুস তখনই নষ্ট হয়েছে।

    মবিনুর রহমানের হাতে পানির গ্লাস। তিনি কিছুক্ষণ পরপর বরফ শীতল পানিতে চুমুক দিচ্ছেন, শ্বাসকষ্ট তখন কিছু কম হচ্ছে। এই বিষয়টা ডাক্তারকে বলতে হবে।

    শফিক তাঁর সামনে বসে আছে। তাকে দেখে মনে হচ্ছে সে চিন্তিতবোধ করছে। কি নিয়ে চিন্তা করছে জানতে পারলে ভাল হতো। ভবিষ্যতে মানুষ এমন কোনো যন্ত্র কি বের করতে পারবে যা দিয়ে মনের কথা বুঝা যায়? যত টাকাই লাগুক এ রকম একটা যন্ত্র তিনি কিনতেন। যন্ত্র কানে লাগিয়ে বসে থাকতেন। তার সামনে লোকজন আসত-যেত। তিনি কারো সঙ্গেই কোনো কথা বলতেন না।

    শফিক।

    জি স্যার।

    এখন বলো লায়লা তোমাকে কি জন্যে ডেকেছিলো।

    তিনি আমার বাবার জন্যে কিছু খাবার দিয়ে দিলেন।

    কী খাবার?

    শিং মাছের ডিম। ঐদিন বাবা কথায় কথায় বলেছিলেন তাঁর সবচে পছন্দের খাবার শিং মাছের ডিম। অনেক দিন তিনি এটা খান না। মাঝে মধ্যে খুব খেতে ইচ্ছা করে।

    লায়লা কি বলেছিল যে সে শিং মাছের ডিম রান্না করে খাওয়াবে?

    জি না স্যার বলেননি।

    সে শিং মাছের ডিম রান্না করে পাঠিয়ে দিল কেন? সে কেন বলল না তুমি তোমার বাবাকে নিয়ে এসে পছন্দের খাবার খেয়ে যাও।

    জানি না স্যার।

    কারণটা তো খুব সহজ তুমি জানো না কেন?

    স্যার কারণটা সহজ হলেও আমি ধরতে পারছি না। আমার বুদ্ধি কম।

    কারণটা তোমাকে বলি– তোমার বাবাকে সে যদি দাওয়াত করে শিং মাছের ডিম খাওয়াতে তাহলে ব্যাপারটা হতে অনেক আইটেমে একটা পছন্দের আইটেম। আর এখন কি হল—– শিং মাছের ডিমটা অনেক বেশি গুরুত্ব পেল। জিনিসটা রান্না হলো নারায়ণগঞ্জ। একজন ঢাকা থেকে নারায়ণগঞ্জ গিয়ে জিনিসটা সগ্রহ করে আবার ঢাকায় ফিরে গেল।

    স্যার ম্যাডাম হয়তো এত চিন্তা করে কিছু করেননি।

    বাবুল শোনো মানুষ আলাদাভাবে গালে হাত দিয়ে চিন্তাভাবনা করে কিছু বের করে না। চিন্তার ব্যাপারটা সব সময় হতে থাকে। বেশির ভাগ সময় মানুষ এটা বুঝতে পারে না। এখন বলো তোমার পছন্দের খাবার কী?

    আমার আলাদাভাবে তেমন পছন্দের কোনো খাবার নেই।

    কয়টা বাজে?

    স্যার এগারোটা বাজে।

    আচ্ছা তুমি যাও।

    শফিক ঘর থেকে বের হতে গিয়ে দরজায় ধাক্কা খেল। ধড়াম করে শব্দ হলো। স্বাভাবিক রিফ্লেক্স একশানে মানুষ শব্দের দিকে ফিরে তাকাবে। মবিনুর রহমান ফিরে তাকালেন না। মূর্তির মতো বসে রইলেন।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleসানাউল্লাহর মহাবিপদ – হুমায়ূন আহমেদ
    Next Article সৌরভ – হুমায়ূন আহমেদ

    Related Articles

    হুমায়ূন আহমেদ

    বোতল ভূত – হুমায়ূন আহমেদ

    January 3, 2026
    হুমায়ূন আহমেদ

    নিউইয়র্কের নীলাকাশে ঝকঝকে রোদ – হুমায়ূন আহমেদ

    January 3, 2026
    হুমায়ূন আহমেদ

    রং পেন্সিল – হুমায়ূন আহমেদ

    January 3, 2026
    হুমায়ূন আহমেদ

    বিবিধ / অগ্রন্থিত লেখা – হুমায়ূন আহমেদ

    January 3, 2026
    হুমায়ূন আহমেদ

    আজ হিমুর বিয়ে – হুমায়ূন আহমেদ

    January 3, 2026
    হুমায়ূন আহমেদ

    কৃষ্ণপক্ষ – হুমায়ূন আহমেদ

    January 3, 2026
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Our Picks

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }