Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    সেপিয়েন্স: এ ব্রিফ হিস্টোরি অফ হিউম্যানকাইন্ড – ইউভাল নোয়া হারারি

    ইউভাল নোয়া হারারি এক পাতা গল্প202 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    ০৩. ভুলগুলো

    ভুলগুলো যে আমরা ইচ্ছে করে করি—তা না। বহু বছরের অভ্যাসের ফসল এই ভুলগুলো।

    যেমন কলম্বাসকে আমরা আমেরিকার আবিষ্কর্তা ধরি। কিংবা জেমস কুককে অস্ট্রেলিয়ার। অথচ এই মানুষেরা আমেরিকা-অস্ট্রেলিয়া আবিষ্কারের বহু আগে থেকেই সেখানে মানুষ বসবাস করতো।

    ৪৫ হাজার বছর আগেই যেমন মানুষ অস্ট্রেলিয়ার বুকে প্রথম পা রাখে। যে মানুষটি প্রথম আফ্রো-এশিয়ার গণ্ডী ছেড়ে অস্ট্রেলিয়ার বুকে তার পদচিহ্ন এঁকে দিয়েছিল, তার নাম-ঠিকানা আমরা জানি না। অস্ট্রেলিয়ার সত্যিকার আবিষ্কারক যদি কেউ হয়, তবে সেই নাম না জানা মানুষ কিংবা মানুষী, জেমস কুক নন।

    বহু বছরের চর্চায় আমাদের মধ্যে একটা ধারণা বদ্ধমূল ঢুকে গেছে যে, আবিষ্কর্তা মানে শাদা মানুষ হতে হবে। শাদা মানুষের ইতিহাস যে বড়জোর লাস্ট এক হাজার বছরের, একথা আমরা প্রায়ই ভুলে যাই। আজকের এই সভ্যতা হয়তো শাদা মানুষের দান, কিন্তু ভূখণ্ডগুলোর আবিষ্কারের ক্‌তিত্ব অন্তত নয়। কলম্বাস বা কুককে বড়জোর ভূখণ্ডগুলোর পুনরাবিষ্কারক বলা চলে।

    যাই হোক, চাঁদে যাওয়া যেমন মানুষের ইতিহাসে একটা বড় মাইলস্টোন ছিল, অস্ট্রেলিয়া যাত্রাও তেমন। বলতে কি, অস্ট্রেলিয়াই মানুষের তৈরি প্রথম উপনিবেশ।

    The Martian মুভিতে একটা দারুণ কথা আছেঃ যখন তুমি কোথাও ফসল ফলানো শুরু করবে, তখন তুমি সেই জায়গাটাকে কলোনাইজ করে ফেললে। অস্ট্রেলিয়া সেই অর্থে মানুষের প্রথম কলোনী। এই ব্যাপারটা মাথায় রেখেই হয়তো কুক সাহেব অস্ট্রেলিয়া আসার সময় সাথে করে আপেল, আঙুর আর পীচফল নিয়ে এসেছিলেন। সাহেব জানতেন না যে তারও বহু হাজার বছর আগেই মানুষ এখানে এসে ছোটখাটো কলোনী তৈরি করে বসেছে।

    ভেবে অবাক হতে পারেন, ৪৫ হাজার বছর আগে মানুষের হাতে কি এই টেকনোলজি ছিল কিনা যার দৌলতে সে সমুদ্র পাড়ি দিয়ে অস্ট্রেলিয়া এসে পৌঁছাবে? মানচিত্রের দিকে ভালো করে লক্ষ করলে ব্যাপারটা আরেকটু পরিষ্কার হবে। লোকে বলে, সম্ভবত এই মানুষেরা ইন্দোনেশিয়ার কোন উপদ্বীপ থেকে এসেছিলো। জাহাজ না হোক, নৌকা বা ভেলা নিশ্চয়ই তাদের ছিল। এই সিম্পল প্রযুক্তি যে আমাদের কতোটা এগিয়ে দিয়েছে, চোখে আঙুল দিয়ে না দেখালে তা অনেক সময় বোঝা যায় না।

    আর সব সামুদ্রিক প্রাণীর কথা ভাবুন। সমুদ্রে নিজেদের দাদাগিরি প্রতিষ্ঠার জন্য তাদের হাজার বছরের বিবর্তনের মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে। পাখনা আর ফুলকার মত অংগ-প্রত্যঙ্গ ডেভেলপ করতে হয়েছে। মানুষকে এইসব শারীরিক প্যারা নিতে হয়নি। সামান্য বুদ্ধি খাটিয়ে নৌকা বানিয়েই সে কাজ হাসিল করে নিয়েছে। মানুষের এই বুদ্ধিব্‌ত্তিক বিপ্লব অবশ্য আর সবার জন্য খুব সুখবর বয়ে আনেনি।

    মানুষের আগমনের আগ পর্যন্ত মহাদেশগুলোর জীববৈচিত্র্য আপন গতিতে বিবর্তিত হচ্ছিল। মানুষ এসে সেই বিবর্তনের ধারায় একটা প্রলয় ঘটিয়ে দেয়। এতোদিন পর্যন্ত মানুষ প্রক্‌তির সাথে নিজেকে খাপ খাইয়ে নিচ্ছিল। যেদিন থেকে মানুষ সমুদ্র পাড়ি দিল, সে বুঝলো—সে আসলে অসীম ক্ষমতার অধিকারী। তার আর প্রক্‌তির সাথে খাপ খাইয়ে নেবার প্রয়োজন নেই। দরকারে সেই প্রক্‌তিকে তার মত করে বদলে নিতে পারবে। আর হতেও লাগলো তাই।

    এতোদিন মানুষ বাঘ-সিংহের মোকাবেলা করেই অভ্যস্ত ছিল। অস্ট্রেলিয়ায় এসে তারা মুখোমুখি হল ক্যাঙ্গারু, কোয়ালা আর মারসুপিয়ান সিংহের মত নতুন প্রজাতির। আর মজার ব্যাপার হল, এদের প্রায় সবাই-ই কয়েক হাজার বছরের মধ্যে নিশ্চিহ্ন হয়ে গেলো। মানুষ যখন অস্ট্রেলিয়ায় পা রাখে, তখন গোটা মহাদেশে অন্তত চব্বিশটা প্রজাতি ছিল যাদের ওজন পঞ্চাশ কেজির বেশি। সংগানুযায়ী, এদের অতিকায় প্রানীর দলে ফেলা যায়। এদের মধ্যে তেইশ জনই প্‌থিবীর মায়া ত্যাগ করে বৌ-বাচ্চা সহ বিলুপ্ত হয়ে গেলো।

    আচ্ছা, আফ্রিকায় তো বাঘ-সিংহ মানুষের সাথে যুদ্ধ করে টিকে রইলো। কোয়ালা আর মারসুপিয়ায়নরা তবে মারা পড়লো কেনো?

    খুব সিম্পল। মানুষ যখন থেকে হাতিয়ার বানানো শুরু করেছে, বাঘ-সিংহ ও সেই সাথে মানুষকে এড়িয়ে চলা শিখে গেছে। অন্তত দলবদ্ধ মানুষকে তো বটেই। এরা সাতচল্লিশের দাঙ্গা দেখেনি। না দেখেই তারা বুঝে গেছিলো যে, দলবদ্ধ মানুষের চেয়ে হিংস্র আর কিছুই হতে পারে না। এদের গায়ের চামড়া তাই কিছুটা হলেও রক্ষা পেয়েছে।

    অস্ট্রেলিয়ার প্রাণীকুল এই বোঝাপড়ার সময়টুকুও পায়নি। দোপেয়ে দৈত্য দেখলে যে এদের এড়িয়ে চলতে হবে—এই নলেজটুকু এরা জিনের মধ্য দিয়ে পরের প্রজন্মের কাছে পৌঁছাতে পারেনি। মানুষ দেখে এরা আগের মতই খুব কুলভাবে ঘুরে বেড়িয়েছে। ফলাফল, তেলাপোকা টিকিয়া রহিয়াছে, কিন্তু এরা খুব কুলভাবে নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে।

    কথা হচ্ছে, যথাযথ তথ্যপ্রমাণ ছাড়াই আমরা এই গণহত্যার দায় মানুষের ঘাড়ে চাপাতে পারি কিনা। জবাব হচ্ছে, পারি। যারা মানুষকে এই দায় থেকে ইনডেমনিটি দিতে চান, তাদের যুক্তি হচ্ছে—ভয়ানক কোন প্রাক্‌তিক দুর্যোগ হয়তো এই প্রাণীকুলের বিলুপ্তির কারণ। বরফ যুগে যেমনটা ঘটে। প্‌থিবীর ইতিহাস বলে, এক লাখ বছর পর পর একে বরফ যুগের মুখোমুখি হতে হয়েছে। আর এই প্রতিকূল আবহাওয়ায় প্রাণীকুলের একটা উল্লেখযোগ্য অংশ প্রতিবার বিলুপ্ত হয়ে যায়।

    গন্ডগোলটা এইখানেই। শেষ বরফ যুগ আমরা দেখেছি পঁচাত্তর হাজার বছর আগ থেকে পনের হাজার বছর আগ পর্যন্ত। এর প্রকোপ সবচেয়ে ভয়াবহ ছিল এক সত্তর হাজার বছর আগে আর এক বিশ হাজার বছর আগে। মানে ঐ বরফ যুগের একবারে শুরুতে আর শেষ দিকে। যাবার আগে একেবারে কাঁপিয়ে দিয়ে গিয়েছিল আমাদের। ডাইপ্রোটোডন বেচারা এই বরফযুগ আর তার আগের দশটার মত বরফযুগ লাইক এ্যা বস পার করে এসেছে। ৪৫ হাজার বছর আগে তাহলে কী এমন হল যে সে নিজের অস্তিত্ব আর টিকিয়ে রাখতে পারলো না? মানুষের আগমন ছাড়া তো আশেপাশে বলার মত আর কোন ঘটনা চোখে পড়ে না। বেচারা ডাইপ্রোটোডনই যে কেবল মারা খেয়েছে, তা নয়। আরো অনেকেই এই ম্যাসাকারের শিকার। পুরো ব্যাপারটাকে তো আর কাকতাল বলা যায় না।

    ও, আরেকটা ব্যাপার। প্রাক্‌তিক দুর্যোগ যখন কোথাও আঘাত হানে, স্থলবাসী প্রাণীদের সাথে সামুদ্রিক প্রাণীদের উপরও সে সমান তেজে আঘান হানে। বাদ যাবে না কোন শিশু টাইপ অবস্থা। অস্ট্রেলিয়ায় ঘটে যাওয়া এই গণহত্যায় কিন্তু কোন সামুদ্রিক প্রাণীড় গায়ে আঁচড়টাও পড়েনি। সম্ভবত মানুষের হাতে তখনো সেই টেকনোলজি আসে নি যে, সামুদ্রিক প্রাণীর গায়েও হাত তুলবে। থাকলে হয়তো এদেরও খবর ছিল।

    এই যে আমরা যত দোষ মনুষ্য ঘোষের উপর চাপাচ্ছি, তার পেছনে আসলে মানুষের আরো কিছু ক্‌তকর্ম দায়ী। সবগুলো ডাটা ইন্টারপোলেট করলে আপনিও হয়তো মানুষকেই দায়ী করবেন। কোন দৈব দুর্যোগ বা ভিনগ্রহী দেবতাকে নয়।

    মানুষের স্বভাবই এই যে, সে মোটামুটি যেখানেই গেছে, তার হাত রক্তে রাঙিয়ে এসেছে। নিউজিল্যান্ডের কথাই বলি না কেন। এটা কিন্তু খুব পুরনো দেশ নয়। মানুষ প্রথম এইখানে বসতি গড়ে মাত্র ৮০০ বছর আগে। ইউরোপীয়রা আসে আরো ৩-৪ শ’ বছর পর। মাওরিস নামক এক জনগোষ্ঠী এইখানে বসতি গড়ার কয়েকশ’ বছরের মধ্যেই এখানকার অতিকায় প্রায় সব প্রাণী বিলুপ্ত হয়ে যায়। ইউরোপীয়দেরও হয়তো এক্ষেত্রে অসামান্য অবদান আছে, কিন্তু মাওরিসদের অবদানও আমরা অস্বীকার করতে পারি না। অবলা পাখিরাও এই হত্যাযজ্ঞ থেকে রেহাই পায়নি। তাদের সমাজের ৬০ শতাংশও এই সময়টায় বিলুপ্ত হয়ে যায়।

    একই ঘটনা ঘটে আর্কটিক মহাসাগরের ম্যামথদের সাথে। উত্তর মেরুর এই বাসিন্দারা মানুষের ভয়ে এশিয়া, ইউরোপ হয়ে পিছাতে পিছাতে উত্তর মেরুতে আশ্রয় নেয়। মানুষের যখন বুদ্ধিব্‌ত্তিক বিকাশ হচ্ছিল, তখনো এরা র‍্যাঙ্গেল দ্বীপে এদের ছোট্ট নীড়ে সুখে শান্তিতেই ঘর সংসার করছিল। এদের এই সুখ বেশিদিন টিকলো না। চার হাজার বছর আগে মানুষ প্রথম র‍্যাঙ্গেল দ্বীপে পা রাখে। আর ঐ সময়েই এদের শেষ সদস্যটি বেঁচে ছিল বলে প্রত্নতাত্ত্বিক প্রমাণ পাওয়া যায়।

    কাকতাল? সিনেমার স্ক্রিপ্ট ছাড়া এতোগুলো কাকতাল নিশ্চয়ই সম্ভব নয়।

    মানুষ যে প্‌থিবীর ইতিহাসের সবচেয়ে বড় সিরিয়াল কিলার, এখন বিশ্বাস হল তো?

    মানুষের গল্প বলতে গেলে মধ্যপ্রাচ্যের কথা বারবার আসবেই। অনুকূল আবহাওয়ার কারণেই হোক আর ইন্টেলেকচুয়াল সুপেরিওরিটির কারণেই হোক, এখানকার মানুষই বারবার সভ্যতার পত্তন করেছে। আপনি চান বা না চান, আমাদের শেকড়ের সন্ধান করতে হলে এদের কাছে বারবার ফিরে আসতেই হবে।

    সত্তর হাজার বছর আগে মানুষ প্রথম মধ্যপ্রাচ্যে আসে। পরবর্তীতে বেশ একটা লম্বা সময় জুড়ে সে চাষবাস ছাড়াই থাকে। প্রক্‌তিতেই এতো সম্পদ ছড়ানো ছিল যে মানুষের খেয়েপরে বেঁচে থাকা নিয়ে কোন টেনশন ছিল না। মানুষের প্রথম ও সবচেয়ে প্রবল ইনস্টিংক্ট হচ্ছে শিকার। এই করেই তার দিব্যি চলে যেত।

    তাই বলে যে প্রক্‌তিতে সম্পদ যে সবসময় একই পরিমাণে ছিল তা নয়। মানুষ মানুক না মানুক, প্রক্‌তি কিন্তু সাইনুসয়ডাল কার্ভ ঠিকই মেনে চলে। কখনো সে সম্পদে উপচে পড়ে, এর পরেই হতো একটা বিশাল সময় যায় অভাব ও দারিদ্র্যে।

    প্রক্‌তির এই মেকানিজমের সাথে মানুষের একটা অঘোষিত বোঝাপড়া ছিল। প্রাচুর্যের সময় লোকে বেশি বাচ্চাকাচ্চা নিত। আর অভাবের সময় কম।

    প্রক্‌তি নারীদের জন্যও ফিডব্যাকের ব্যবস্থা রেখেছে। প্রাচুর্যের সময় নারীরা তাড়াতাড়ি বয়োসন্ধিতে পৌঁছাতো। ফলে গর্ভবতীও হতো তাড়াতাড়ি। আর অভাবের সময় উলটো।

    ১৮ হাজার বছর আগে এই অবস্থার পরিবর্তন ঘটে। বরফ যুগ সরে গিয়ে জায়গা করে দেয় গ্লোবাল ওয়ার্মিং কে। ফলে তাপমাত্রা বাড়তে থাকে, সেই সাথে ব্‌ষ্টিপাতও। যাকে বলে ক্‌ষিকাজের জন্য আদর্শ পরিবেশ। গম জাতীয় খাদ্যশস্যের জন্য পারফেক্ট আবহাওয়া। ‘সারভাইভাল অফ দ্যা ফিটেস্ট’ বলে একটা কথা আছে। এটা সবার জন্যই সমান সত্য। এই গরম আবহাওয়ায় গম জাতীয় শস্য প্‌থিবীতে নিজের দখল বুঝে নিতে থাকে আস্তে আস্তে।

    মধ্যপ্রাচ্যের মানুষ যে আগে গম খেতো না—তা না। আর দশটা ফলমূলের মতই তার পাকস্থলী এই ইনসিগনিফিক্যান্ট দানাকে মাঝেমধ্যেই আপন করে নিত। কিন্তু এটা তখনো মানুষের প্রধান খাদ্য হয়ে ওঠেনি। ধান-গম তবে কী করে প্‌থিবীতে তাদের সাম্রাজ্য গড়ে তুললো?

    মানুষ কি তবে কোন এক সকালে ঘুম থেকে উঠে প্ল্যান-প্রোগ্রাম করে ক্‌ষিকাজ শুরু করেছিলো?

    উহুঁ। অধিকাংশ আবিষ্কারের মতই এটাও বেশ আকস্মিক। গম তো আর কাঁচা খাওয়া যায় না। এটা ঝেড়ে গুঁড়া করতে হত, তারপর রান্না করে খেতে হত। কাজেই যেখানে গমের দানা পাওয়া যেত, সেখানেই এটা খাওয়া হত না। একে অনেক আদর যত্ন করে বাসায় নিয়ে আসা হত। আসার পথে কিছু দানা অবশ্যই মাটিতে পড়ে যেত। সেই দানা থেকে নতুন গমের জন্ম হত।

    এদিকে খাবারের অভাব হলে মানুষ এক জায়গা ছেড়ে আরেক জায়গায় মুভ করতো। যাবার পথে অতি অবশ্যই বন জঙ্গল পড়তো। রাস্তা ক্লিয়ার করার জন্য সেই বনজঙ্গল পুড়িয়ে তারা সামনে এগোত। ফলে বিচিত্র রকমের লতাগুল্ম মরে যেত ঠিকই। কিন্তু সেই জায়গা দখল করে নিত গমের মত কই মাছের প্রাণেরা।

    আর আগে সূর্যালোক আর পানির মত রিসোর্সের জন্য ধান-গমকে আরো অনেকের সাথে প্রতিযোগিতায় নামতে হত। লতাগুল্মের সংখ্যা আর ভ্যারিয়েশন কমে যাওয়ায় তারা বলা যায় একচেটিয়া ভোগ শুরু করে। পুঁজিবাদের নিয়মই হচ্ছে, যে পায়, সে আরো পায়। আর যে পায় না, সে ধীরে ধীরে হারিয়ে যেতে থাকে। পুঁজিবাদী ধান-গম তাই মানচিত্রে একের পর এক তাদের বিজয় নিশান ওড়াতে থাকে।

    যাই হোক, একটা সময় মানুষ খেয়াল করলো, বছরে একটা নির্দিষ্ট সময় গমের ফলন হচ্ছে। ঐ সময়টায় তারা ঐ ফলনের কাছাকাছি বউবাচ্চা নিয়ে থাকতে শুরু করলো। ধরা যাক, সেই সময়টা চার সপ্তাহ। পরের বার গমের ফলন আরো বেড়ে গেল। সমস্ত গম তুলে প্রসেস করতে তাই সময়ও একটু বেশি লাগলো। ধরা যাক, সেটা পাঁচ সপ্তাহ। এর পরের বার ছয় সপ্তাহ। এই করে করে এই ডিউরেশনটা বাড়তেই থাকলো। কালে কালে সেটা হয়ে উঠলো একটা স্থায়ী নিবাস।

    আমরা আজকাল যাকে গ্রাম বলি, সেই গ্রামগুলোর জন্ম ঠিক এইভাবেই।

    ইতিহাসের পাতায় পাতায় ‘লাক্সারি ট্র্যাপ’ এর ছড়াছড়ি।

    ১০ হাজার বছর আগে মানুষ যখন শিকার ছেড়ে পুরোপুরি চাষবাসে মন দেয়, তখন সে ভেবেছিলো, চাষবাস করলে তার জীবন বুঝি অনেক সুখের হবে। খাবারের সন্ধানে আর পথে পথে ঘুরতে হবে না। ঘর হতে শুধু দুই পা ফেলিয়াই খাদ্যের সন্ধান মিলিবে। বউ-বাচ্চা লইয়া বাড়িতে বসেই রক করা যাইবে।

    কিন্তু মানুষ ভাবে এক আর হয় আরেক।

    বাড়তি ফসল মানেই বাড়তি সুখ না। এই বাড়তি ফসল ফলাতে গিয়ে মানুষকে দিনরাত খেটে মরতে হল। মানুষের শরীর এই কষ্টের জন্য প্রস্তুত ছিল না। মানুষের শরীর হচ্ছে চিল করার জন্য। সে খাবে-দাবে, ঘুরবে-ফিরবে। পথের মধ্যে যা কুড়িয়ে পাবে, তাই দিয়ে পেটের ক্ষুধা মেটাবে। কিন্তু ফসল ফলাতে গিয়ে তাকে নিজের সাথে অনেক কম্প্রোমাইজ করতে হল।

    ভালো ফসল ফলাতে হলে একদম মস্‌ণ, চকচকা শস্যক্ষেত্র চাই যেখানে নুড়ি, পাথর কিচ্ছু থাকতে পারবে না। মানুষ সকাল সন্ধ্যা খেটে সেগুলো পরিষ্কার করলো। এদিকে ধানগম হচ্ছে ব্রাহ্মণ গোত্রীয় ফসল। এরা এদের ত্রিসীমানায় কোন ছোটলোক আগাছা সহ্য কতে পারে না। এই আগাছা নিড়াতে মানুষকে একটা সিগনিফিক্যান্ট সময় দিতে হল। এদের ক্ষুধা-ত্‌ষ্ণাও অনেক বেশি। খালি ব্‌ষ্টির পানি দিয়ে এদের পিপাসা মিটতো না। এদের পিপাসা মেটানোর জন্য মানুষকে দূর-দূরান্ত থেকে কাঁধে করে পানি বয়ে নিরে আসতে হল। গবাদি পশুর বিষ্ঠা দিয়ে মেটাতে হলো এদের সর্বগ্রাসী ক্ষুধা।

    আমরা মনে করি, আমরা জঙ্গুলে ধান-গমকে নিজেদের বুদ্ধিবলে পোষ মানিয়েছি। সত্যিটা হচ্ছে এই যে, আমরা ধান-গমকে পোষ মানাইনি, উলটো ধান-গম আমাদের পোষ মানিয়েছে। ওদের সুখ-সুবিধার জন্য আমরা নিজেদের সর্বস্ব উজাড় করে দিয়েছি। শিকারী জীবন ছেড়ে ওদের বসতির পাশে নিজেদের বসতি গড়েছি। বার রকমের ফলমূল খাওয়া ছেড়ে ওরা যেন ভালো থাকে, ওদের ভবিষ্যৎ প্রজন্ম যেন ভালো থাকে—তার দিকে নজর দিয়েছি। এই করে করে সামান্য একটা ঘাস, যেটা হয়তো কারো চোখেই পড়তো না—আজ প্‌থিবীর পঁচিশ লাখ বর্গকিলোমিটারেরও বেশি জায়গা জুড়ে নিজেদের সাম্রাজ্য স্থাপন করে বসে আছে।

    এই যে এতো ভালবাসা, এতো ত্যাগ-তিতিক্ষা—এর বিনিময়ে কী পেলাম? ফুড সিকিউরিটি? উহুঁ। আগে যেখানে আমরা প্রক্‌তির কাছ থেকে দু’হাত ভরে নিতাম,, সেখানে আমরা দু-তিনটা ফসলের উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়লাম। বৈচিত্সরের অভাবে আমাদের শরীরের ইম্যিউন সিস্টেম দুর্বল হয়ে পড়লো। তার উপর সময়মত ব্‌ষ্টি না হলে আমরা শেষ। বউ-বাচ্চা নিয়ে না খেয়ে মরতে হল।

    শুরু শুরুতে অবশ্য বাড়তি ফসল দেখে আমাদের চোখ টাটিয়ে গেলো। আমরা স্থায়ী বসতি গড়ে বছর বছর বাচ্চা নেয়া শুরু করলাম। ভাবলাম, খাবার টেনশন তো নাই। বাচ্চা নেয়াই যায়। ভেবেও দেখলাম না, এতো গুলো মুখের জন্য যথেষ্ট পরিমাণে বাড়তি ফসল আছে কিনা। সেই সামান্য উদ্ব্‌ত্ত নিয়ে পরিবারের সদস্যদের মধ্যে কাড়াকাড়ি পড়ে গেলো। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই, ছাগলের তিন নম্বর বাচ্চাটা ঠিকমত না খেতে পেয়ে মারা পড়লো। ক্‌ষি সমাজের নিয়মই হয়ে গিয়েছিল এমন, যে প্রতি তিনটা বাচ্চার মধ্যে একটা অপুষ্টি নয়তো অসুখ-বিসুখে মারা যাবেই। আর বসতিগুলোও ছিল ঘিঞ্জি আর রোগজীবানূর আড়ৎ। যে কয়টা মরতো, জন্ম নিত তার চেয়ে বহুগুণ বেশি। সেই বাড়তি মুখের অন্ন যোগানোর জন্য মানুষকে আরো বেশি বেশি ফসল ফলাতে হল। আরো বেশি ফসল্‌ আরো বেশি খাটনি।

    সমস্যার এইখানেই শেষ না। প্‌থিবীতে সবসময়ই এমন কিছু মানুষ ছিল যারা নিজেরা কোন কাজ করতো না। অন্যের পরিশ্রমে ভাগ বসিয়ে নিজেদের রুটিরুজি করতো। ছোট পরিসরে এদের আমরা সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ বলি। আর বড় পরিসরে আদর করে বলি সরকার, পুলিশ কিংবা আর্মি। আর এটা তো জানা কথাই যে, সবচেয়ে বড় সন্ত্রাসীই দিনশেষে সম্রাট হন।

    সে যাই হোক, ক্‌ষকের এই ফসলে বাইরের মানুষ এসে আক্রমণ চালাতো। বলতো, আমাদের ভাগ দাও। অবশ্যই মুখের ভাষায় না, অস্ত্রের ভাষায়। এদের প্রতিহত করার জন্য ক্‌ষকদের একটা ইউনিটকে, কখনো বা গোটা ইউনিটকেই যুদ্ধবিদ্যার প্র্যাকটসিটা চালিয়ে যেতে হত। দিনে চাষবাস করো, আর রাতের বেলা ফসল পাহাড়া দাও। এই এক্সট্রা খাটনির জন্য তারা কোন ওভারটাইমও পেত না। তাদের জীবনটা একেবারে গেবন হয়ে গেলো।

    ক্‌ষি মানুষকে যে লাক্সারির স্বপ্ন দেখিয়েছিল, সময়ে সেটা নির্মম ফাঁদে পরিণত হল। ক্‌ষি ছিল মানব ইতিহাসের প্রথম ফাঁদ। সেই যে মানুষ ফাঁদে পা দিল, এরপর থেকে একটার পর একটা ফাঁদে পড়তেই লাগল। ক্‌ষি তাও যতোটা না বিপ্লব, তার চেয়ে বেশি ধোঁকা হয়ে দেখা দিল মানুষের জীবনে। আশীর্বাদ নয়, দেখা দিল অভিশাপরূপে। কথা হল, এতো কিছুর পরেও মানুষ ক্‌ষি ছেড়ে আবার শিকারী জীবনে ফিরে গেলো না কেন?

    কারণ, এই বদলগুলো ঘটেছে খূব ধীরে। ধীরে মানে এখনকার মত দশ-বিশ বছরে না। এক হাজার বছরে হয়তো খুব সামান্য একটা পরিবর্তন ঘটেছে। পরের প্রজন্মগুলো এই ধারাকে একটু একটু করে এগিয়ে নিয়ে গেছে। দশ হাজার বছর আগে মানুষ যখন পুরোপুরি ক্‌ষিতে থিতু হয়, এর সমস্ত ভাল আর মন্দ নিয়ে—ততোদিনে মানুষ ভুলেই গেছে যে তারাও এক সময় শিকারী ছিল। চাইলেও আর পিছু ফেরার সুযোগ তখন নেই।

    ইতিহাসের নিয়মই হচ্ছে এই যে, মানুষ একবার একটা লাক্সারিতে অভ্যস্ত হয়ে গেলে এক সময় সেটাকে মৌলিক চাহিদা বলে মনে করে। আমাদের দাদা-নানা রা টেলিভিশন ছাড়াই চলেছেন। আমাদের বাবা-মা’র কাছে সেটা ছিল নেসেসিটি। আবার আমাদের বাবা-মা রা মোবাইল ফোন ছাড়াই দিব্যি প্রেম করেছেন। বন্ধু বান্ধব, আত্নীয় স্বজনের সাথে যোগাযোগ রেখেছেন। আর আমরা মোবাইল ছাড়া নিজেদের অস্তিত্বই কল্পনা করতে পারি না। একদিন ভার্সিটিতে মোবাইল না নিয়ে এলে মনে হয়, আমার অস্তিত্ব বুঝি নাই হয়ে গেছে প্‌থিবীর ময়দান থেকে।

    ইতিহাসের প্রতিটা ধাপই মানুষের সাথে এই ছলনা করেছে। শুরুতে সে একটা সুখী, সুন্দর, আরামদায়ক জীবনের লোভ দেখিয়েছে। পরে ঠিকই তাকে আগের মতই কিংবা আগের চেয়েও কষ্টসাধ্য একটা জীবনের মধ্যে ফেলে দিয়েছে।

    কম্পিউটার আবিষ্ক্‌ত হয়েছিল বড় বড় ক্যালকুলেশন নিমেষে করে ফেলার জন্য। সোজা কথায়, মানুষের জীবনকে সহজ করার জন্য। আসলেই কি তাই হয়েছে? মানুষ আগে দৈনিক আট ঘণ্টা কাজ করতো। বাসায় এসে বউ-বাচ্চা নিয়ে হুমায়ূন আহমদেরে নাটক দেখতো। আজ তার ক্যালকুলেশন সহজ হয়েছে, কিন্তু জীবন হয়ে গেছে কঠিন। আজ সে সে এগার-বারো ঘণ্টা কাজ করেও কুলাতে পারে না। না পারে বসকে খুশি করতে, না পারে বউকে খুশি করতে।

    ই মেইল বা টেক্সটের কথাই ধরি না কেন! ইমেইলের আগের যুগে মানুষ মানুষকে চিঠি লিখে খোঁজখবর করতো। প্রতিটা বাক্য, প্রতিটা শব্দ খুব চিন্তা করে লেখা হত। ভালবাসা দিয়ে লেখা হত। এখন সেই কাজই অফিশিয়ালি করা হয় মেইল দিয়ে আর আনঅফিশিয়ালী টেক্সট, ফেসবুক আর হোয়াটসএ্যাপের মাধ্যমে। প্রশ্ন হল, ই-মেইল আমাদের জীবনে সুখ নিয়ে আসছে কিনা। উত্তর আবারো না। আমাদের দিনের একটা বড় অংশ কেটে যায় আজাইরা ইমেইল সাফ করতে। আর গ্রামীনফোনের মেসেজ তো আছেই!

    সেকালেও হয়তো দু’একজন লোক ছিল, যারা টেকনোলজিকে অস্বীকার করেছিল। ক্‌ষিকাজে না লেগে শিকারী যুগেই পড়ে রইলো। এ যুগেও হয়তো আছে তেমন। ফেসবুক বা মোবাইল ইউজ করে না। হয়তো লাখে একজন। কিন্তু আছে। সমস্যা হল, টেকনোলজির নিয়মই হচ্ছে এই যে তার সমস্ত অসুবিধা নিয়েই অপ্রতিরোধ্য গতিতে এগিয়ে যাবে। সাময়িক লাক্সারির টোপ দেখিয়ে মানুষকে ফেলে দিবে বিরাট ট্র্যাপে। মানুষের জীবনকে করে তুলবে কঠিন থেকে কঠিনতর।

    গুরুজনেরা তো আর শুধু শুধু বলেননি,, যায় দিন ভালো,আসে দিন খারাপ।

    শিকারী মানুষের মধ্যেও কিছু ইন্টার্নাল হিসাব-নিকাশ ছিল।

    তারা যখন শিকারে বেরোতো, চোখের সামনে যা পেত, তাই শিকার করতো না। হয়তো তারা ভেড়া শিকারে বেরোলো। খুঁজে খুঁজে তারা বয়স্ক আর বুড়ো-ধাড়িগুলোকেই শিকার করতো। অল্প বয়স্কগুলোকে আপাতত ছেড়ে দিত। এইটুকু কমন সেন্স তাদের ছিল, যুবতী ভেড়াগুলোকে মেরে ফেললে পরবর্তীতে নতুন ভেড়া তারা পাবে কই?

    এই সিলেক্টিভ শিকারে তাদের লাভই হচ্ছিল। কিন্তু বাঘ-সিংহের যন্ত্রণায় এই লাভ দীর্ঘস্থায়ী হচ্ছিল না। বাঘ-সিংহ এসে ভেড়া খেয়ে ফেললে মানুষ খাবে কী? মানুষ তখন নিজে থেকে এদের প্রটেকশন দিতে আরম্ভ করলো। একটা ঘের দেয়া এলাকায় তাদের আটকে তাদের সিকিউরিটি নিশ্চিত করলো।

    কিন্তু সিকিউরিটি-ই তো জীবনের সব কিছু নয়। স্বাধীনতা বলেও একটা জিনিস আছে। কাজেই সব ভেড়াই মানুষের বশ্যতা স্বীকার করলো না। কিছু পুরুষ ভেড়া ছিল, যেগুলো খুবই এ্যাগ্রেসিভ। মানুষের কথা শুনতেই চাইতো না। মানুষ সেগুলোকে অল্প বয়সেই মেরে ফেললো। দলের বাকিদের শিক্ষা দিয়ে দিল যে বেশি তেড়িবেড়ি কলে তাদেরও এই অবস্থা হবে।

    স্ত্রী ভেড়াদের দশা হল আরো করুণ। যেগুলো একটু শুকনা-পাতলা ছিল, সেগুলোকে চোখ বন্ধ করে মেরে ফেলা হল। ফলে, খালি মোটা আর থলথলে ভেড়াগুলোর জিনই এক প্রজন্ম থেকে আরেক প্রজন্মে বাহিত হবার সুযোগ পেল। ফলাফল, ভেড়া দিনকে দিন ফুলতে থাকলো আর মানুষের বশ হতে লাগলো।

    এর আগে মানুষ যেখানেই গেছে, সেখানকার ডেমোগ্রাফিতে ব্যাপক পরিবর্তন এনেছে। অবশ্যই নেগেটিভ পরিবর্তন। এই প্রথম মানুষ খোদ বিবর্তনের গতি পালটে দিতে শুরু করলো। বিবর্তনকে ব্যবহার করতে লাগলো নিজের দরকার মত।

    দশ হাজার বছর আগেই মানুষ গরু, ছাগল, শুয়োর, ভেড়া আর মুরগিকে নিজেদের বশ করে ফেলে। গোটা প্‌থিবীতে তখন তাদের সংখ্যা ছিল কয়েক মিলিয়নের মত। আজ এক মুরগিই আছে পঁচিশ বিলিয়নের বেশি। তার মানে প্রতিটা মানুষের জন্য প্রায় চারটা করে মুরগি। আর গরু-ছাগল, শুয়োর-ভেড়া তো আছেই বিলিয়নখানেকের বেশি।

    বিবর্তনের দ্‌ষ্টিকোণ থেকে দেখলে, মুরগি কিন্তু মানুষের চেয়ে অনেক বেশি সফল। বিবর্তনের সানগ্লাস দিয়ে দেখলে, যে জিন নিজেকে যতো বেশি ছড়িয়ে দিতে পেরেছে,সে ততো সফল। সেই হিসেবে মুরগি ইতিহাসের সফলতম প্রাণীদের একটি।

    ওয়েইট!

    ইভোল্যুশনারী সাকসেস আর ইনডিভিজ্যুয়াল সাকসেস এক জিনিস না।

    এই ইভোল্যুশনারী সাকসেস অর্জনের জন্য এদের বিরাট মূল্য দিতে হয়েছে। যে কারণে এদের ব্যক্তিগত জীবন বলতে কিছুই নাই এখন।

    বনমুরগির গড় আয়ু ছিল সাত থেকে বার বছর। গবাদি পশুর ক্ষেত্রে সেটা বিশ থেকে পঁচিশ বছর। এতোটা হয়তো এরা বাঁচতো না। কিন্তু তবু এদের জীবনেও একটা আশা ছিল, সম্ভাবনা ছিল এতোগুলো দিন, মাস, বছর প্‌থিবীর রঙ, রূপ, রস উপভোগ করার। আজ সেই সম্ভাবনাকে আমরা গলা টিপে মেরে ফেলেছি। আজ একটা মুরগির গড় আয়ু কয়েক সপ্তাহ, বড়জোর কয়েক মাস।

    যে মুরগি ডিম পাড়ে, আর যে গাভী দুধ দেয়—এদের হয়তো কিছু বেশিদিন বেঁচে থাকতে দেয়া হয়। কিন্তু কিসের বিনিময়ে? চরম অপমান আর অসম্মানের বন্দী জীবনের বিনিময়ে।

    একটা তরুণী গাভীর পারস্পেক্টিভে একবার চিন্তা করুন। তারও তো ইচ্ছা হতে পারে ভালো দেখে একটা গরুর সাথে প্রেম করতে। দু’জনে মিলে বাচ্চা জন্ম দিতে। তারপর সেই বাচ্চাকে আদর-যত্ন করে বড় করতে, দুধ খাওয়াতে।

    অথচ আমরা তার প্রতিটা অধিকারই কেড়ে নিচ্ছি নিজেদের স্বার্থ হাসিলে। সবচেয়ে বেশি মূল্য দিতে হয়েছে পুরুষগুলোকে। এরা যখন আমাদের আর কাজে লাগে না, তখন এদের খোঁজা করে ফেলা হয়। সবচেয়ে মারমুখী পুরুষটাও তখন মানুষের দাসানুদাস হয়ে যায়। আর দশটা প্রাণীর মত এদের যে একটা সামাজিক জীবন ছিল, সেই জীবন আমরা পুরোপুরি কেড়ে নিয়েছি নিজেদের সুখ-সুবিধা আদায়ে।

    নিজেদের সুখ-সুবিধার জন্য মানুষ কতোদূর নামতে পারে, তা কিছু উদাহরণ দিলে বোঝা যাবে। নিউ গিনির সমাজের কথা বলি। এদের সমাজে একটা মানুষ কতোটুকু সম্পদশালী—তা যাচাই করা হত তার শুয়োর সংখ্যা দিয়ে। তো শুয়োরগুলো যেন পালাতে না পারে, সেজন্যে তারা শুয়োরের নাক কেটে দিত। একে তো শুয়োরগুলো নাকের ব্যথায় প্রচণ্ড কষ্ট পেত, তার উপর ঘ্রাণ শুঁকতে না পারায় নিজে নিজে খাবারও খুঁজতে পারতো না। ফলাফল, মানুষের উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়া।

    আরেকদল তো ছিল একটেল এক ধাপ এগিয়ে। এরা শুয়োরের চোখ জাস্ট কানা করে দিত। স্বাধীনতার তো প্রশ্নই আসে না।

    সবচেয়ে নিষ্ঠুর আচরণ করা হয় গরু-ছাগলের সাথে। গরু-ছাগল তো আর এমনি এমনি দুধ দেয় না। কেবল বাচ্চা হলেই দুধ দেয়। তো প্রাচীনকাল থেকেই মানুষ বাচ্চা জন্ম নেবার প্রায় সঙ্গে সঙ্গেই বাচ্চাগুলোকে মেরে ফেলতো। যতোটুকু দুধ দোয়ানোর—দুইয়ে নিত। তারপর মা বেচারীকে আবার প্রেগন্যান্ট করে ছাড়তো। একটা গরু হয়তো পাঁচ বছর বাঁচে। দেখা যায়, বাচ্চা জন্মের দুই কি চার মাসের মধ্যে তাকে আবার প্রেগন্যান্ট করে ফেলা হয়। ভদ্রমহিলা তার জীবনের অধিকাংশ সময়ই এভাবে প্রেগন্যান্ট অবস্থায় কাটিয়ে দেন। কেবল দুধের সর্বোচ্চ সাপ্লাই নিশ্চিত করার হন্য।

    নিষ্ঠুরতার এখানেই শেষ নয়। সবচেয়ে বড় নিষ্ঠুরতা আমরা সবাই কমবেশি গ্রামে গিয়ে স্বচক্ষে দেখেছি। বাছুরটাকে মা গরুর কাছে নিয়ে আসা হয়। সে দুধ খাওয়া শুরু করলে ই তাকে মায়ের বুক থেকে সরিয়ে নেয়া হয়। মা-শিশু—দু’জনেই এতে প্রবল বাধা দেয়। কিন্তু মানুষের হিংস্রতার সামনে সেই বাধা কিছুই নয়। ভীব দেখুন তো, এই একই কাজ মানুষের সাথে কেউ করলে আমাদের কেমন লাগতো?

    এতো গেল পরিচিত দ্‌শ্যের কথা। অপরিচিত দ্‌শ্যের কথা বলি।

    একটা গোষ্ঠী আছে যারা ভেড়ার বাচ্চা মেরে তার মাংস খেয়ে চামড়াটা রেখে দিত। সেই চামড়া দিয়ে ভেড়ার একটা অবয়ব তৈরি করতো। ভেড়ার সেই অবয়ব মা ভেড়ার কাছে আনলে তার শরীরে দুধ আসতো। আরেকটা টেকনিক হচ্ছে বাছুরের মুখে শিং এর মত ধারালো কিছু দিয়ে ঢেকে রাখা। বাছুর তখন দুধ খেতে চাইলে মা নিজেই তাকে ব্যথায় সরিয়ে দিবে। সাহারা মরুভূমির লোকজন উটের বাচ্চার নাক আর উপরের ঠোঁট কেটে রাখতো। যেন বেশি দুধ খেতে না পারে। অল্পতেই হাঁপিয়ে যায়।

    প্‌থিবীর ইতিহাস আসলে ভালবাসার ইতিহাস নয়। অন্যায়ের ইতিহাস। সবচেয়ে বড় অন্যায়টা বোধ হয় আমরা করেছি আর করেই চলেছি এই গ্‌হপালিত পশুপাখিদের সাথে। প্‌থিবীটা তাদের কাছে একটা জেলখানা বৈ তো কিছু নয়। সবচেয়ে বড় ব্যাপার, এই অন্যায়ের জন্য আমাদের ভেতরে কোন অনুশোচনাও নেই। সম্ভবত, ধান-গম আমাদের যেভাবে বুনো মানুষ থেকে ঘরবন্দী মানুষে পরিণত করেছে, আমরা তারই প্রতিশোধ নিয়েছি গরু-ছাগল আর মুরগির উপর। তাদের ঘরবন্দী করে। স্বাধীন জীবন কেড়ে নিয়ে।

    পরের দিন যখন কেএফসিতে মুরগির রান চিবাবেন কিংবা মোস্তাকিমে গরুর শিকে মুখ ডুবাবেন, তখন বেচারারা আমাদের সামান্য সুখের জন্য যে প্যাথেটিক জীবনটা যাপন করে চলেছে, তার জন্য একটা দীর্ঘশ্বাস ফেললেও ফেলতে পারেন।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleমানুষের ইতিহাস : ইউভাল নোয়া হারারি
    Next Article স্পাই মেয়ে – মার্থা ম্যাককেনা

    Related Articles

    ইউভাল নোয়া হারারি

    মানুষের ইতিহাস : ইউভাল নোয়া হারারি

    July 10, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Our Picks

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }