Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    সেপিয়েন্স: এ ব্রিফ হিস্টোরি অফ হিউম্যানকাইন্ড – ইউভাল নোয়া হারারি

    ইউভাল নোয়া হারারি এক পাতা গল্প202 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    ০৫. হিপোক্র্যাট-হিপোক্র্যাসি

    মানুষ দুই রকমের। এক, যারা হিপোক্র্যাট। আর দুই, যারা হিপোক্র্যাট।

    ইতিহাসের বড় সময়টা জুড়েই আমরা হিপোক্র্যাসি করে এসেছি। আর প্রায়ই সেটা এতো উঁচু লেভেলের হিপোক্র্যাসি হয় যে, আমরা যে হিপোক্র্যাট—ঐ সেন্সটুকুও আমাদের মাথায় আসে না।

    ১৭৭৬ সালের সংবিধানে আমেরিকানরা যখন ঘোষণা করে, সকল মানুষ সমান, তখন তারা মানুষ বলতে কেবল শাদা চামড়াদেরই বোঝাচ্ছিল। আরো স্পেসিফিক্যালী বলতে গেলে, শ্বেতাঙ্গ পুরুষদের। নারীদেরও সেই সমাজে কোন বিশেষ স্থান ছিল না। ভোটাধিকারই ছিল না; রাজনীতি, অর্থনীতি, সমাজনীতি—এইসব বিষয়ে কোন ‘say’ থাকা তো দূরের কথা।

    বলা বাহুল্য, নিগ্রো দাসেরাও ছিল সিলেবাসের বাইরের মানুষ। যারা আমেরিকার জাতির জনক ছিলেন, এই সংবিধানে যারা সাক্ষর করেছিলেন, তাদের নিজেদেরও প্রচুর দাস ছিল। দাসদেরও তো যে স্বাধীনভাবে বেঁচে থাকার অধিকার আছে—এই চিন্তাটাই তাদের মাথায় আসেনি। কিংবা এলেও নিজেদের স্বার্থের খাতিরেই একে ঝেঁটিয়ে বিদায় করেছেন। নিজের স্বার্থ তো পাগলেও বোঝে।

    মজার ব্যাপার হচ্ছে, অনেকে আবার এটাকে খোদার ইচ্ছা বা প্রক্‌তি মায়ের ইচ্ছা বলে জাস্টিফাই করার চেষ্টা করে। । দাসপ্রথা যে ইতিহাসের পথ ধরে মানুষেরই উর্বর মস্তিষ্কের আবিষ্কার—এটা তারা মানতেই চায় না। হামুরাবি যেমন তার দেয়া বিধিবিধানকে আল্লাহর নামে চালিয়ে দিতে দ্বিধা করেননি। উনি জানতেন, আল্লাহর নামে কিছু একটা চালিয়ে দিলে কেউ তা অমান্য করার সাহস পাবে না।

    এরিস্টটটল ছিলেন এক ধাপ এগিয়ে। উনি মনে করতেন, অভিজাত মানুষেরা এক রকম অভিজাত মানসিকতা নিয়েই জন্মায়। আর দাসেরা জন্মই নেয় দাস মেন্টালিটি নিয়ে। কাজেই, যে দাসের ঘরে জন্মেছে, তার মেন্টালিটি অমন বলেই সে এই ঘরে জন্মেছে। মেন্টালিটি ভালো হলে কোন উঁচু বংশেই জন্মাতো।

    শ্বেতাঙ্গরা তো মনেই করে, তাদের রক্তে এমন কিছু আছে যা তাদের অন্যদের চেয়ে উন্নততর মানুষে পরিণত করে। তাদের এই ভাবনাকে জ্বালানি দেয় বিশ শতকের শুরু দিকে আমেরিকায় ‘ইউজেনিক্স’ নামে একটি আন্দোলন। বিজ্ঞানের মোড়কে এর মূল বক্তব্য হচ্ছে, রক্তের বিশুদ্ধতা রক্ষা করে বেটার ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্ম দেয়া। হরলিক্সের ভাষায়—টলার, স্ট্রংগার, শার্পার প্রজন্মের জন্ম দেয়া। বিশুদ্ধ রক্ত মানে অবশ্যই শ্বেতাঙ্গ রক্ত। আর্য রক্ত। ককেশিয়ান রক্ত।

    উদ্দেশ্য খুব পরিষ্কার। আমেরিকায় সেই সময় ইমিগ্র্যান্টদের একটা প্রবল স্রোত ঢুকছিল। গোঁড়া আমেরিকানদের ভয় ছিল, ইমিগ্র্যান্টদের রক্তের সাথে ইউরোপীয় আমেরিকানদের রক্ত মিশে একটা দূষিত প্রজন্ম তৈরি হবে। কাজেই, এই দূষিত প্রজন্মের হাত থেকে আমেরিকাকে বাঁচাতে হবে।

    কার্নেগী ফাউন্ডেশন, রকাফেলার ফাউন্ডেশনের মত বড় বড় পুঁজিপতিরা একে প্রোমোট করতে থাকে। রকাফেলার ফাউন্ডেশন তো খোদ হিটলারের জার্মানিতে একে ফান্ড করে আসে। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে এ নিয়ে কোর্স চালু হয়। রিসার্চ চলতে থাকে পুরোদমে। মানুষ যে বৈষন্য রীতিমত পছন্দ করে, অন্তত যেখানে নিজের স্ট্যাটাস কো ধরে রাখলে সুবিধা পাবে—এটা তার প্রমাণ।

    পশ্চিম ছেড়ে এবার পূর্বে যাত্রা করি। হিন্দুরা মনে করে, ভগবান পুরুশা নামক এক প্রাচীন সত্তার শরীর থেকে মানবজাতিকে তৈরি করেছেন। পুরুশার মুখ থেকে তৈরি করেছেন ব্রাহ্মণদের (তাই তারা মন্ত্রপাঠ করে), বাহু থেকে তৈরি করেছেন ক্ষত্রিয়দের (তাই তারা যুদ্ধ করবে), বৈশ্যদের ঊরু থেকে আর শূদ্রদের পা থেকে। যে মুহুর্তে আমরা এই মিথে বিশ্বাস স্থাপন করছি, ঐ মুহূর্তে আমরা ব্রাহ্মণ আর শূদ্রদের মধ্যকার সমস্ত বৈষম্যের সোশ্যাল জাস্টিফিকেশন দিয়ে দিচ্ছি। এই ধরনের বিশ্বাস যে কেবল সনাতন ধর্মমতেই সীমাবদ্ধ ছিল— তা না। চাইনিজদের মধ্যেও এই ব্যাধি ছিল প্রবল। চাইনিজরা বিশ্বাস করতো, ঈশ্বর যখন মাটি দিয়ে মানুষ বানালেন, তখন তিনি অভিজাতদের বানালেন মিহি হলুদ মাটি দিয়ে আর আমজনতাকে বানালেন কাদামাটি দিয়ে।

    হায়ারার্কি কি কেবল গায়ের রঙে হয়? কিংবা মিথের জোরে হয়? হায়ারার্কি অর্থের জোরে হয়, বিত্তের জোরে হয়, ক্ষমতার জোরে হয়। একটা সময় ছিল যখন শাদাদের স্কুলে কালোরা পড়তে পারতো না। শাদাদের জন্য আলাদা বাস, বীচ—সবই ছিল। বাসের গেটে লেখা থাকতো—Dogs and blacks are not allowed. এখন সেই অবস্থার উত্তরণ হয়েছে। আজ একটা শাদা পাড়ায় কালো লোক বাড়ি ভাড়া নিতে গেলে কেউ অবাক হয় না। কিন্তু দেখা যাচ্ছে, গোটা স্ট্রাকচারটাই এমন হয়ে আছে, যে শাদাদের পাড়ায় বাড়ি ভাড়া নেবার সামর্থ্যও একটা কালো লোকের থাকে না। ফলে আইনগতভাবে না থাকলেও বাস্তবে সেই বৈষম্যগুলো রয়েই গেছে।

    বিত্তবানরা খুব স্থূলভাবেই নিজেদের সমস্ত প্রতিষ্ঠানকে আলাদা করে রেখেছে। নিজেদের ছেলেমেয়েদের জন্য পশ স্কুলের ব্যবস্থা করে রেখেছে। এমন একটা অর্থনৈতিক ব্যারিয়ার তৈরি করে রেখেছে সেখানে, একটা ক্‌ষকের ছেলে যতো মেধাবীই হোক না কেন, সেইসব স্কুলে পা মাড়াতে পারবে না। তাকে হয় সরকারি প্রাইমারি স্কুলে যেতে হবে নয়তো মাদ্রাসায়। আপনি একজন কালো দিনমজুরকে দেখবেন না সাউথ ইস্ট ব্যাঙ্কে টাকা তুলতে বা এ্যাপোলো হসপিটালের করিডোরে হাঁটাহাঁতি করতে। তাদের বড়জোর ইসলামী ব্যাঙ্কে টাকা গুণতে দেখা যেতে পারে বা ঢাকা মেডিক্যাল কলেজের বারান্দায়।

    কে লুঙ্গি পরে এলো আর কে জিন্স পরে এলো—এটা তাই না চাইতেও আমাদের অনেক আচরণ ঠিক করে দেয়। নিজের অজান্তেই আমরা তখন আমেরিকার ঐ জাতির পিতাদের মত হিপোক্র্যাটের দলে নাম লেখাই।

    দাসপ্রথার ইতিহাস খুব নতুন নয়। রোমান সাম্রাজ্যের সময় থেকেই এটা প্রচলিত ছিল। এক রাজ্য আরেক রাজ্যকে যুদ্ধে হারিয়ে দিলে পরাজিত রাজ্যের নারী-পুরুষকে দাস হিসেবে খাটানোর প্রথা ছিল। গায়ের রঙের সাথে এর কোনরকম সংযোগ ছিল না তখন।

    দাসপ্রথার সাথে বর্ণবাদের সংযোগ ঘটে মধ্যযুগে। ইউরোপ তখন আফ্রিকা দখল করে নিচ্ছে। এশিয়ায় অভিযান চালাচ্ছে। আমেরিকা নামে একটা নতুন মহাদেশও আবিষ্কার করেছে। ইউরোপের লোভ আর দুরন্ত শক্তিমত্তার কাছে গোটা দুনিয়া তখন অসহায়।

    উপনিবেশ থেকে পাওয়া স্বর্ণ আর সম্পদে ইউরোপীয়দের অর্থনীতি ফুলে ফেঁপে উঠছে। এই অর্থনীতির জোয়াল কাঁধে নেবার জন্য তাদের প্রয়োজন ছিল শ্রমিকের। সস্তা শ্রমিকের।

    আমেরিকার রেড ইন্ডিয়ানরা এই শ্রমের যোগান দিতে পারছিল না। রেড ইন্ডিয়ানরা ছিল অতিমাত্রায় স্বাধীনচেতা। কোন রকম ভয়ভীতি দেখিয়ে বা ধর্মীয় গ্রন্থের দোহাই দিয়ে তাদের বশে আনা যায়নি। ফলশ্রুতিতে কখনো ছলেবলেকৌশলে, কখনো বা কোনরকম ভণিতা ছাড়াই অসম যুদ্ধে তাদের লিটার‍্যালী মেরে ফেলতে হয়েছে। গণহারে তাদের দাস হিসেবে খাটানো সম্ভব হয়নি যেটা করা গেছে আফ্রিকার দাসদের সাথে।

    জাহাজ বোঝাই করে দলে দলে দাস আমদানি করা হয়েছে ইউরোপ আর আমেরিকায়। কালোদের ন্যূনতম মানবিক অধিকারকে অস্বীকার করে তাদের খাটানো হয়েছে অমানুষিক পরিশ্রমের সব কাজে। ব্যাঙ্ক অফ ইংল্যাণ্ডের মত প্রভাবশালী সব ব্যাঙ্কের জন্মই এই দাস ব্যবসাকে কেন্দ্র করে।

    অথচ ইউরোপে তখন কিন্তু রেনেসাঁস শুরু হয়ে গেছে। মানুষে মানুষে সাম্য, মৈত্রী আর স্বাধীনতার বার্তা প্রবাহিত হচ্ছে দিকে দিকে। এমন একটা সময়েও ওরা কীভাবে পারলো কালোদের এরকম মানবেতর জীবনযাপনে বাধ্য করতে?

    একটা ব্যাখ্যা তো মাত্রই দিলাম। অর্থবীতির চাহিদা আর যোগানের খেল।
    কস্ট মিনিমাইজ করাও ছিল একটা ফ্যাক্টর। আফ্রিকা ছিল আমেরিকার কাছের বাজার। সেনেগাল থেকে একটা দাস কিনে আনতে তার যে পরিমাণ ট্রান্সপোর্টেশন কস্ট হত, ভিয়েতনাম থেকে আনতে গেলে তার চেয়ে বেশিই হবে। শুধু শুধু কেন সে ভিয়েতনাম যাবে দাস আনতে?

    তার উপর আগে থেকেই আফ্রিকা থেকে দাসের একটা সাপ্লাই চেইন গড়ে উঠেছিল মধ্যপ্রাচ্যের চাহিদা মেটানোর জন্য। আরব্য রজনীর পাতায় পাতায় দেখবেন আফ্রিকানদের দাস হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে, খোঁজা করে হেরেমে রাখা হচ্ছে। অর্থনীতির নিয়মই হল, নতুন বাজার খোঁজার চেয়ে এগজিস্টিং বাজার থেকে কেনাকাটা করাই ভালো। আমেরিকাও সেই পথেই গেলো।

    সবচেয়ে বড় কথা—আমেরিকার যে ফার্মগুলা ছিল, ভার্জিনিয়া, হাইতি আর ব্রাজিলে, সেগুলো ছিল প্লেগের আখড়া। ইউরোপীয়রা যেখানে প্লেগকে যমের মত ভয় পাইতো (আলবেয়ার কামু তো কয়েকশো পাতার উপন্যাসই ফেঁদে বসেছেন এই প্লেগকে নিয়ে), আফ্রিকানদের শরীরে সেখানে এইসব রোগবালাইয়ের বিরুদ্ধে একটা ইম্যুনিটি তৈরি হয়ে গেসিলো। ইম্যুনিটি তৈরি হওয়া শরীরের জন্য ভালো। কিন্তু সোশ্যাল পিরামিডে আপনার অবস্থানের জন্য ভালো কিনা—তা বলে দেবে ঐ সময় আর ঐ সময়ের পাওয়ার মেকানিজম। অভিজাত ইউরোপীয়রা (ব্রিটিশ, ফ্রেঞ্চ, আইরিশ) তাই গরীব ইউরোপীয়দের (ইউক্রেন, গ্রীস কিংবা বেলারুশের অধিবাসীদের) দাস না খাটিয়ে দাস খাটালো শক্ত সামর্থ রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা সম্পন্ন আফ্রিকানদের।

    ওহ! আসল ঘটনাই তো বলা হয়নি।

    ইউরোপীয়রা যখন প্রথম আফ্রিকার কালো মানুষের সাক্ষাৎ পায়, তখন এই মানুষগুলো সত্যিই মানুষ তথা হোমো সেপিয়েন্স প্রজাতির অন্তর্ভুক্ত কিনা—এই নিয়েই তারা সংশয়ে পড়ে গেসিলো। এই সংশয় কিন্তু তাদের ভারতীয় বা চাইনিজদের নিয়ে ছিল না। কাজেই, মানুষ যে ন্যূনতম অধিকার নিয়ে বেঁচে থাকতে চায়—কালোদের ক্ষেত্রে তা পূরণ করার বাধ্যবাধকতা নিয়ে তাদের মনে কোন নৈতিক দায়বদ্ধতা ছিল না।

    বাইবেল ঘেঁটে ধর্মগুরুরা এই নৈতিক দায়বোধ থেকে তাদের মুক্তি দেন।

    বাইবেলের গল্পটা বলি।

    নূহের তিন ছেলে। হ্যাম ,শ্যাম আর জাপতেথ।

    অতিরিক্ত মদ্যপানের ফলে নূহ একদিন বেসামাল হয়ে যান। জামাকাপড় খুলে নিজ তাঁবুতে ঘুমিয়ে পড়েন।

    ছেলে হ্যাম এসে বাপকে নগ্ন অবস্থায় দেখে ফেলে। সঙ্গে সঙ্গে অন্য দুই ভাইকে ডেকে আনে সে।

    দুই ভাই মিলে বাপকে কাপড় দিয়ে ঢেকে দেয়। ঢেকে দেবার সময় তাদের মুখ ছিল উলটো দিকে ঘোরানো। যেন বাপের নগ্ন অবস্থা তাদের দেখা না লাগে।

    ঘুম থেকে উঠে নূহ পুরো ঘটনার ব্‌ত্তান্ত শুনলেন। তিনি হ্যামকে অভিশাপ দিলেন, হ্যামের বংশধররা যুগ যুগ ধরে অন্য দুই ভাই’র বংশধরদের দাসব্‌ত্তি করবে।

    হ্যামের সন্তান ক্যানান। ক্যানানের বংশধরদের বলা হয় ক্যানানাইট। এই ক্যানানাইটদের পরবর্তীতে ইসরায়েলীরা দাসব্‌ত্তিতে বাধ্য করেছিল। আর এই ব্যাপারটাকে জাস্টিফাই করেছিল বাইবেলের এই ঘটনা দিয়ে।

    পরবর্তীতে এই ব্যাখ্যা ইসরায়েলী ইহুদীদের যতোটা না পারপাস সার্ভ করেছে, তার চেয়ে অনেক বেশি পারপাস সার্ভ করেছে ইউরোপীয় শেতাঙ্গদের। তারা যখন জাহাজ বোঝাই করে কালোদের এনে দাস হিসেবে কাজে লাগাতো, তখন চার্চ ফাদারদের মুখ দিয়ে বলাতো যে—এই দুর্মূখ কালোরাই হচ্ছে সেই হ্যামের প্রক্‌ত বংশধর। আর আমরা হচ্ছি নূহের দুই ভালো ছেলের বংশধর। আর বাইবেলে বলাই আছে, এদের দাস হিসেবে খাটাতে। কাজেই, দাস ব্যবসা নৈতিক ও ধর্মীয় বৈধতা পেয়ে যায় এখান থেকে।

    শেক্সপীয়ারের নাটকেও আমরা এই বর্ণবাদের দেখা পাই। শাদা প্রসপেরো সেখানে কালো ক্যালিবানকে বলছেঃ It wouldn’t be such a ghetto if you took the trouble to clean.বোঝাতে চাচ্ছে, কালো মানেই অলস আর নোংরা। এতোটাই নোংরা, যে নিজের শোবার ঘরটা পরিষ্কার করার সময়ও তার হয়ে ওঠে না।

    কালোদের সম্পর্কে এটা সমাজের গড়ে ওঠা এক স্টেরিওটাইপ ধারণা। সমাজ এটা মনে রাখে না, তারা যে সুসজ্জিত ইমারতে বসবাস করছে, তার পেছনে আছে নোংরা বসত-বাড়িতে বসবাসরত এই কালোদের শ্রম। পুঁজিবাদ কখনোই চায় না, তার শ্রমিকদের জীবনের কোনরকম মান উন্নয়ন হোক। কালোদের জন্য তাই সে বরাদ্দই করেছে ঐ নোংরা ঘেটো। যেখানে কালোরা দিনরাত পরিশ্রম করে এসে কেবল মরার মত ঘুমোবে। নিজের আবাসকে সুন্দর করার জন্য, স্নিগ্ধ করার জন্য এক মুঠো সময়ও সে পাবে না।

    অলস, শ্রমবিমুখ যদি কাউকে বলতেই হয়—তবে ঐ শাদারা। মানুষের স্বভাবই হচ্ছে, যে সে নিজের ত্রুটি কখনো নিজে দেখতে পায় না। দিনরাত শাদাদের বাড়িঘর আর ক্ষেতখামারে কাজ করা কালোদেরই তাই নোংরা থাকার দায় নিয়ে বেঁচে থাকতে হয়।

    এমনকি প্রসপেরো সন্দেহ করেন যে, কালো ক্যালিবান তার মেয়েক ধর্ষণ চেষ্টায় লিপ্ত আছে। এটাও শ্বেতাঙ্গদের স্টেরিওটাইপ ধারণারই প্রকাশ। শ্বেতাঙ্গ পুরুষ মাত্রেরই ধারণা, কালোরা তাদের সতী-সাধ্বী নারীদের নষ্ট করে দিচ্ছে। ইতিহাস কিন্তু বলে উলটোটাই ঘটেছে বেশি। যতোজন না কালো পুরুষ শ্বেতাঙ্গ নারীর সাথে সম্পর্ক তৈরি করেছেন, তার চেয়ে বহুগুণ বেশি শ্বেতাঙ্গ পুরুষ কালো নারীদের ইচ্ছেমত ভোগ করেছেন। এর মধ্যে অনেকেই সমাজে যথেষ্ট ধার্মিক ও অনুসরণীয় হিসেবে পরিচিত ছিলেন।

    শেক্সপীয়ারের টার্গেট কনজিউমার ছিলেন শ্বেতাঙ্গ নারী-পুরুষ। তাই হয়তো তিনি তাদের মনোরঞ্জনের জন্যই ক্যালিবানকে চিত্রায়িত করেছেন। নোংরা ক্যালিবান। অলস ক্যালিবান। লম্পট ক্যালিবান।

    সমাজের রন্ধ্রে রন্ধ্রে বর্ণবাদের যে প্রবাহ বইছিল, মহান সাহিত্যিকও তা থেকে ঠিক মুক্ত নন।

    বর্ণবাদের শক্তিটা এইখানেই। কখন যে এটা আমাদের রক্তের মধ্যে মিশে যায়, আমরা টেরও পাই না। আপাত নির্দোষ ভাবনাতেও তখন সে শক্ত ঠাঁই গেড়ে বসে। শত বছরের চেষ্টাতেও সেই শেকড় পুরোপুরি ওপড়ানো যায় না।

    আরবরাই যে বর্বরতার সোল এজেন্ট ছিল—তা নয়। হাঁ, আরবরা কন্যাশিশুর জন্ম হলে তাকে জীবিত পুঁতে ফেলতো। ঠিক একই কাজ কিন্তু চীনারাও করতো। কম্যুনিস্ট চীনে যখন এক সন্তান নীতি ঘোষণা করা হয়, তখন অনেকেই বংশে বাত্তি জ্বালাবার আশায় সেই কন্যাশিশুটিকে মেরে ফেলতো বা পরিত্যাক্ত করতো।

    চীনাদের এই সিদ্ধান্তের পেছনে যে ‘এক সন্তান’ নীতিই দায়ী—এমনটা নয়। চীনাদের ইতিহাস সভ্যতাও খুব সুবিধার নয়। প্রাচীন চাইনিজ দলিল ঘাঁটলে চীনাদের তখনকার সাইকোলজিটা বোঝা যায়।

    এক রাণীর সন্তান হবে। জ্যোতিষী মহাশয় অনেক গোণাগুনতি করে ঘোষণা দিলেন, অমুক বারে জন্ম নিলে হবে ভাগ্যবান। আর তমুক বারে জন্ম নিলে হিবে মহা ভাগ্যবান।

    রাণী অমুক বা তমুক কোন বারেই সন্তান জন্ম দিলেন না। দিলেন আরেক বারে। জ্যোতিষী সন্তানের মুখ দেখে লিখে দিলেনঃ “Not lucky. It was a girl”

    এটা যীশুর জন্মের ১২০০ বছর আগের ঘটনা। তারও আগে থেকেই মেয়েদের অশুভ হিসেবে দেখার একটা প্রবণতা চলে আসছে অধিকাংশ সমাজ জুড়েই। বাইবেলে তো মেয়েদের বরাবরই ‘সম্পত্তি’ হিসেবে দেখানো হয়েছে।

    বাইবেলের দর্শনটাই ছিল এরকম যে, কোন মেয়েকে ধর্ষণ করলে সেটা ভিকটিমের প্রতি কোন অন্যায় নয়। মেয়েটা যার সম্পত্তি, হোক সেটা তার বাপ, ভাই বা অন্য কোন আত্নীয়, তার প্রতি অন্যায়। বাইবেল তাই বলছে, কোন দুষ্টলোক যদি কোন কুমারীকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে, তবে সেই লোকের কাছ থেকে কিছু গয়নাগাটি নিয়ে মেয়েটিকে সেই লোকের কাছে বিয়ে দিয়ে দাও।

    যে বাইবেল চোখের বদলা চোখ, দাঁতের বদলা দাঁত আর জানের বদলা জান ঘোষণা করে, সেই কিনা ধর্ষণের বদলা রেখেছে বিয়ে। মজার ব্যাপার হল, বাইবেলের সেই লিগ্যাসী প্‌থিবীর অনেক সমাজ এমনকি আমরাও জ্ঞাতে-অজ্ঞাতে এখনো বহন করে চলেছি। আর যে মেয়েটা কারো সম্পত্তি নয়, তাকে ধর্ষণ করা তো রীতিমত জায়েজ। অনেকটা রাস্তায় একটা কয়েন কুড়ায়া পাইলাম। পকেটে করে নিয়ে গেলাম। এরকম একটা ব্যাপার।

    আর স্বামী যদি স্ত্রীকে ধর্ষণ করতো, সেটা তো কোন অপরাধের পর্যায়েই পড়তো না। আইডিয়াটা ছিল এরকম, স্ত্রীর প্রতি তো স্বামীর সম্পূর্ণ অধিকার আছেই। বাই ডিফল্ট, স্ত্রীর সেক্সুয়ালিটি-ও স্বামীর অধিকারেই পড়ে। স্বামী স্ত্রীকে ধর্ষণ করা যা, নিজের মানিব্যাগ থেকে নিজে টাকা চুরি করা তাই।

    আগেই বলেছি, এই রকম চিন্তাধারা যে কেবল মধ্যপ্রাচ্যে সীমাবদ্ধ ছিল–তা না। ২০০৬ সালে প্‌থিবী জোড়া ৫৩টি দেশে এই ‘অপরাধ’ এর কোন শাস্তি ছিল না। আধুনিক, মুক্তমনা দেশ যে জার্মানি, তারা তাদের আইনে এই ক্যাটাগরীকে নিয়ে এসেছে সিতো সেদিন। ৯৭ সালে।

    যে এথেন্সকে আমরা প্রাচীন সভ্যতার চূড়া ধরি, সেই এথেন্সের নগর রাষ্ট্রেও নাগরিক হিসেবে নারীদের কোন অংশরহণ ছিল না। সক্রেটিস সব কিছু নিয়ে প্রশ্ন করে গেছেন, কিন্তু নারীরা কেন নাগরিক নয়, তারা কেন বিচারসভায় জুরির আসনে বসতে পারে না——এই প্রশ্নগুলো করতে বেমালুম ভুলে গেছেন।

    প্রশ্ন হচ্ছে, নারীর প্রতি এই যে বৈষম্য, দেশ-কাল নির্বিশেষে তাদের ঊন-মানুষ হিসেবে দেখার এই যে প্রবণতা—এটা কি প্রক্‌তিরই কোন নিয়ম? নাকি আর দশটা বৈষম্যের মত এটাও মানুষের ইমাজিনড হায়ারার্কির ফসল?

    এটা বুঝতে হলে আমাদের কোনটা প্রাক্‌তিক আর কোনোটা প্রক্‌তিবিরুদ্ধ—সেটা বুঝতে হবে।

    এইখানেও ভেজাল আছে।

    আপনি যদি ছেলে হয়ে এক ছেলেকে কিংবা মেয়ে হয়ে আরেক মেয়েকে বিয়ে করে ঘরে তোলেন, আপনার আম্মু হয়তো শকে বা শোকে অজ্ঞান হয়ে যাবেন। ন্যাচার আম্মু কিন্তু অজ্ঞান হবে না। সে অনেক কুল। তার কাছে সবই স্বাভাবিক।

    আপনি যে মুখ দিয়ে চুমু খান, সে মুখ কিন্তু বেসিক্যালী তৈরি হয়েছিল খাবার খাওয়ার জন্য। খাবার খাওয়াটাই স্বাভাবিক, চুমু খাওয়াটাই অস্বাভাবিক। কিন্তু হাজার বছরের বিবর্তনে মুখ দিয়ে চুমু খাওয়াটাকে আমাদের কাছে এখন আর অস্বাভাবিক বা প্রক্‌তিবিরুদ্ধ মনে হয় না।

    মশা-মাছির যেমন এককালে পাখা ছিল না। আকস্মিক মিউটেশনের কারণে পতঙ্গের শরীরে একটা এক্সটেনশন তৈরি হয়। এতে করে তাদের শরীরের ক্ষেত্রফল বেড়ে যাওয়ায় তারা বেশি বেশি করে সূর্যালোক তথা এনার্জি সংগ্রহ করতে পারে। বেশি ক্ষেত্রফলওয়ালা এই পতঙ্গরা খুব স্বাভাবিকভাবেই অন্যদের চেয়ে এ্যাডভাণ্টেজ পেয়ে যায়। তারপর হঠাৎই একদিন এই এক্সটেনশন দিয়ে তারা গ্র্যাভিটিকে পরাভূত করতে সক্ষম হয়। অবশ্যই তারা এক লাফে আকাশে ওড়া শিখে যায় না। প্রথমে হয়তো মাটি ছেড়ে এক ধাপ উপরে উঠা শিখে। তার বাচ্চা আরেক ধাপ, তার বাচ্চা আরেক ধাপ। এই করে করে মশা-মাছি আজ আমাদের কানের কাছে এসে গুণগুণ করার ক্ষমতা অর্জন করে ফেলেছে।

    এখন আপনি যদি সেই মশাকে ডেকে বলেন, এই ব্যাটা। তোর পূর্বপুরুষ তো উড়তে পারতো না। তুই প্রক্‌তির নিয়ম ভেঙে আমার কানের কাছে ওড়াওড়ি করছিস কেন? মশা সুন্দর করে আপনার কানের নিচে ঠাটিয়ে দুটো চুমু দিয়ে বিদায় নিবে।

    কাজেই, ন্যাচারাল বা আনন্যাচারাল বলে আসলে কিছু নেই। সবই আমাদের ডিফাইন করে দেয়া কতগুলো ফ্রেম বা কাঠামো। প্রক্‌তিই নারীদের এমন করে তৈরি করেছে—এই ধারণারও তাই কোন ভিত্তি নেই। প্রক্‌তি আমাদের চয়েস দেয় কেবল। সেখান থেকে যে যার মত অপশন বেছে নেয়।

    ইতিহাস জুড়ে নারীদের তবে এই দুর্দশা কেন? এই নিয়ে আরেক দিন আলাপ হবে। আজ এইটুকুই।

    শারীরিক দুর্বলতার কারণেই মেয়েরা ছেলেদের চেয়ে পিছিয়ে আছে—এটা আসলে ছোটবেলার পরীক্ষার খাতার ১ নং প্রশ্নের মুখস্থ উত্তর হয়ে যায়। সেটাই যদি হত, তবে ষাট বছরের বুড়োরা তিরিশ বছরর ছুড়োদের উপর ছড়ি ঘোরাতো না। কিংবা তুলনামূলক দুর্বল শাদারাও শক্তিশালী কালোদের শত শত বছর ধরে পায়ে শিকল পরিয়ে রাবার বাগানে কাজ করতে বাধ্য করতে পারতো না।

    হাঁ, অন এভারেজ, ছেলেরা মেয়েদের চেয়ে শক্ত—এটা ঠিক। কিন্তু ইন্ডিভিজুয়ালি, প্রতিটা পুরুষই যে প্রতিটা নারীর ছেয়ে শক্তিশালী–তা কিন্তু নয়। তার চেয়েও বড় কথা, ক্ষুধা-ত্‌ষ্ণায়, অসুখ-বিসুখে মেয়েরা ছেলেদের চেয়ে অনেক বেশি রেজিস্টান্ট। একটা ছোট্ট সার্ভে করেন। মনে করে দেখেন তো, আপনার বাবা সারা জীবনে কয়বার অসুখে পড়েছেন আর আপনার মা ক’বার পড়েছেন? তাহলেই বুঝবেন মেয়েদের প্রতিরোধ ক্ষমতা কতো বেশি।

    এজন্যই হয়তো যুগে যুগে আরামের যতো কাজ আছে, যেখানে শারীরিক পরিশ্রমের বালাই নাই, সেইগুলা সব ছেলেরাই করসে। যতো রকমের গুটিবাজি আছে, রাজনীতি, আইন প্রণয়ন কিংবা রাজ-রাজড়ার স্তুতি গেয়ে সাহিত্য রচনা—সবগুলাতেই মেয়েদের এ্যাক্সেস এক রকম বন্ধ করে রাখা হইসে। মেয়েদের উপর চাপিয়ে দেয়া হইসে ফসলের কাজ, ঘরদোরের কাজ আর বাচ্চা মানুষ করার কাজ। সবগুলাতেই যেখানে প্রচণ্ড শারীরিক শ্রমের প্রয়োজন হয়। কাজেই, মেয়েরা শারীরিকভাবে দুর্বল—এই দাবি আসলে কোন ধোপেই টেকে না।

    ইতিহাস বরং আমাদের এই সূত্রই দেয় যে, শারীরিক ক্ষমতা আর সামাজিক ক্ষমতা পরস্পর ব্যস্তানুপাতিক। মাফিয়া গ্রুপগুলোতে প্রায়ই দেখবেন, ছোটোখাট এক লোক হয়তো ডন হিসেবে আবির্ভূত হয়ে বসে আছে। যাকে হয়তো কানের নিচে একটা দিয়েই শোয়ায়ে দেয়া যায়। কিন্তু যার মাথায় ঘুণাক্ষরেও এই চিন্তা আসবে, সে হয়তো এই মহৎ কাজ করার জন্য প্‌থিবীর বুকে বেশিদিন বেঁচেও থাকবে না। জিয়াউর রহমান কিংবা মইন ইউ আহমেদ যেমন তাদের সময়ে আর্মির সবচেয়ে লম্বাচওড়া লোক ছিলেন না।

    শারীরিক সামর্থ্যই যদি সব কিছু হত,তাহলে এতোদিনে বাঘ-সিংহ বা ট-রেক্স আমাদের খেয়ে হয় নির্বংশ করে ছাড়তো নয় গুহার তলায় আশ্রয় নিতে বাধ্য করতো। সেটা যেহেতু হয়নি, তারে মানে বুঝতে হবে, শারীরিক সামর্থ নয়, অন্য কিছু এখানে কী রোল প্লে করছে।

    সেই অন্য কিছুটা কী?

    অনেকে বলেন, সেই অন্য কিছুটা হচ্ছে পুরুষের এ্যাগ্রেসিভ মনোভাব। হাজার-লক্ষ বছরের বিবর্তন পুরুষকে হিংস্র করে গড়ে তুলেছে। তার মানে এই না যে, লোভ, পাপ, হিংসা—এইসব ব্যাপারে মেয়েরা ছেলেদের চেয়ে কোন অংশে পিছিয়ে আছে। কিন্তু যখনই শারীরিক ভায়োলেন্সের প্রয়োজন হয়েছে, ছেলেরা তাদের আগেপিছে চিন্তা না করে এগিয়ে গেছে। আর এটাই তাদের লং রানে এগিয়ে দিয়েছে।

    যখনই কোথাও যুদ্ধ হয়েছে, আর্মড ফোর্সের দায়িত্বে ছিলে পুরুষ। যুদ্ধ শেষে শান্তিকালীন সময়ের ভারও তাই স্বাভাবিকভাবেই তাদের কাঁধে চলে এসেছে। নিজেদের অথরিটি প্রতিষ্ঠায় এরা আবার যুদ্ধের দামামা বাজিয়েছে। যতো যুদ্ধ হয়েছে, পুরুষের স্কিল ততো বেড়েছে। সেই সাথে সমাজের উপর তাদের নিয়ন্ত্রণ।

    তার মানে কি এই যে, যে বেশি এ্যাগ্রেসিভ, তার হাতেই সমাজের চাবি উঠে আসবে? তাহলে রোমান সাম্রাজ্যের চাবি অভিজাতদের হাতে থাকতো না। থাকতো ম্যাক্সিমাসদের মত সৈনিকদের হাতে। ব্রিটিশ সৈন্যদলের নেতা কোন ডিউক অফ ওয়েলিংটন হতেন না। হত আইরিশ ক্যাথলিক ঘরে জন্ম নেয়া কোন সাধারণ সৈন্য। আফ্রিকান সাম্রাজ্যের অধিপতি ঠাণ্ডা মাথার কোন ফ্রেঞ্চ অভিজাত হত না। হত অনেক বেশি এ্যাগ্রেসিভ, হয়তো মাঠের লড়াইয়েও অনেক বেশি স্কিলড কোন আলজেরীয় বা সেনেগালিজ।

    লোকে বলে, মেয়েদের শরীরে টেস্টোস্টেরণ কম। তাই তারা ভালো আর্মি, জেনারেল বা পলিটিশিয়ান হতে পারে না। কিন্তু যুগে যুগে আমরা দেখেছি, যুদ্ধ জয়ে টেস্টোস্টেরণ লাগে না। যুদ্ধ কোন টেস্টোস্টেরণের খেলা না। যুদ্ধ অনেক কমপ্লেক্স একটা প্রজেক্ট যেখানে আপনাকে ভয়াবহ রকমের অর্গানাইজড হতে হবে,, স্ট্রাকচারড হতে হবে। নিজেদের মধ্যে একটা বোঝাপড়া থাকতে হবে, পারলে নতুন নতুন বন্ধু জোটাতে হবে। শত্রুপক্ষের মনের ভেতর কী খেলা চলছে, সেটাও আপনাকে বুঝতে হবে।

    এ্যাগ্রেসিভ কারো চেয়ে ম্যানিপুলেটিভ কারোরই এই খেলায় জেতার সম্ভাবনা বেশি। আলেকজান্ডার দ্যা গ্রেট আর জুলিয়াস সীজার তাই যা করে দেখাতে পারেননি, তাই করে দেখিয়েছেন সম্রাট অগাস্টাস। তিনি এদের মত ভালো জেনারেল ছিলেন না, কিন্তু ছিলেন মাস্টার অফ ম্যানিপুলেশন। তার সাম্রাজ্যের স্থায়িত্ব তাই ছিল এদের চেয়ে অনেক বেশি।

    মেয়েরা কিন্তু গড়ের উপর ছেলেদের চেয়ে অনেক বেশি ম্যানিপুলেটিভ। শত্রুপক্ষের মনের খবরাখবর এরা ভালো রাখে। এই সূত্র অনুযায়ী সাম্রাজ্য তো তবে মেয়েদের হাতেই তৈরি হোওয়া উচিত ছিল। মেয়েরা আদেশ দেবে আর পুরুষ সৈন্যরা সেই আদেশ পালন করবে। অনেকটা মৌমাছি সমাজের মত। বাস্তবে সেটা হয়নি যদিও। কেন—সেটা একটা রহস্য।

    আরেকটা থিওরি বলে, নারীজাতির সারভাইভাল স্ট্রাটেজিই এদের পুরুষের চেয়ে দুর্বল করে বিকশিত করেছে।

    একটা মেয়ের জন্য তার সাথে সেক্স করতে ইচ্ছুক—এমন গোটা দশেক ছেলে পাওয়া কোন সমস্যাই না। কিন্তু একটা ছেলের জন্য এটা মহা সমস্যা। একে তো তার মেয়েটাকে কনভিন্স করতে হয়েছে, তার উপর পছন্দের মেয়েটাকে অন্য কোন ছেলে যেন জোর করে নিয়ে না যায়, সেজন্য তাকে স্বজাতির বিরুদ্ধে বহুৎ লড়তে হয়েছে। লোহায় যতো ঘষা দিবেন, তার ধার ততো বাড়বে। ফলে, বাঁটে পড়ে হলেও, পুরুষের ধার ও ভার—দুটোই বেড়েছে। তার জিনগুলোও দিন দিন আরো এ্যাগ্রেসিভ হয়েছে, হয়েছে আরো কম্পিটিটিভ। আর মেয়েটা যেহেতু না চাইতেই অনেক কিছু পেয়ে যাচ্ছে, তার জিনেও তার প্রভাব পড়ছে। তার জিন হয়ে উঠছে আরো প্যাসিভ, আরো সাবমিসিভ।

    গর্ভাবস্থা একটা বিরাট ফ্যাক্টর এইখানে। একটা মেয়ের পেটে যখন বাচ্চা থাকে, সেই নয় মাস সে ফলমূল খাদ্য সংগ্রহের জন্য কোথাও যেতে পারতো না। এই কঠিন সময়টা সে একজন পুরুষের উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ে। সেই পুরুষের সাথে ভাল সম্পর্ক রাখাটাও, যাকে আমরা ভালবাসার সম্পর্ক বলি—এই স্ট্রাটেজিরই ফলাফল। শুধু ঐ নয় মাস নয়, বাচ্চা হবার পর প্রথম দু-তিন বছরও সে ঐ বাচ্চার দেখভালের পেছনে কাটিয়ে দেয়। এই সময়টা তার ও তার বাচ্চার ফুড সিকিউরিটি নিশ্চিত করার দায়িত্ব পড়ে তার পছন্দের পুরুষটির উপর। ফলাফল, সেই নারীর উপর পুরুষটির আধিপত্য।

    এই থিওরিও ফুলপ্রুফ কিছু না। হাতি আর বোনোবো সমাজেও তো মেয়েদের প্রেগন্যান্ট অবস্থায় অন্যের সাহায্য নিয়ে চলতে হয়। কিন্তু সেক্ষেত্রে তারা অন্য পুরুষের সাহায্য না নিয়ে তাদের বান্ধবীদের সাহায্য নেয়। ফলে সমাজে ডমিন্যান্সের জন্য যে সোশ্যাল কানেকশানের প্রয়োজন হয়, সেটা মেয়েদের মধ্যে ডেভেলপ করেছে বেশি। হাতি আর বোনোবো সমাজ তাই মাত্‌তান্ত্রিক। পুরুষেরা এখানে নিজেরা নিজেরা মারামারি করে জীবন পার করে দেয়। পুরুষ বনোবো তো স্ত্রী বনোবোদের এলাকায় ট্রেসপাস করতে গেলে গণধোলাই খাওয়ার রেকর্ডও আছে।

    মানুষের ক্ষেত্রে কি ঠিক সেইম ঘটনাটা ঘটতে পারতো না? কিছু ট্রাইবাল গোষ্ঠীতে যে এমনটা হয় না—তা না। কিন্তু ব্যতিক্রমকে তো আর উদাহরণ বলা যাবে না।

    বোঝা গেল, পুরুষের তুলনায় মেয়েদের পিছিয়ে থাকার কোন কারণই নেই। পুরুষতান্ত্রিক সমাজ কি তবে পুরুষের তৈরি মিথ ছাড়া আর কিছুই নয়? তাই যদি হয়, তবে জাতি-ধর্ম নির্বিশেষে দিকে দিকে পুরুষতান্ত্রিক সমাজের এই জয়জয়কার কেন?

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleমানুষের ইতিহাস : ইউভাল নোয়া হারারি
    Next Article স্পাই মেয়ে – মার্থা ম্যাককেনা

    Related Articles

    ইউভাল নোয়া হারারি

    মানুষের ইতিহাস : ইউভাল নোয়া হারারি

    July 10, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Our Picks

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }