Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    সেরা আশ্চর্য! সেরা ফ্যানট্যাসটিক (প্রথম পর্ব) – সম্পাদনা : অদ্রীশ বর্ধন

    লেখক এক পাতা গল্প464 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    হিপেসকাস—সে এক জন্তু • সমরজিৎ কর

    মাফ করবেন। পৃথিবীর মনুষ্য-সভ্যতাতে একটি নিদারুণ দুঃসংবাদ যে একদিন আমাকেই জানাতে হবে স্বপ্নেও কোন দিন আমি ভাবতে পারিনি। দোহাই আপনাকে, আমি শুধু একটি নৈতিক দায়িত্বই পালন করতে চলেছি।

    ডঃ ওয়াল্ট মেলভিল ব্যাপারটা আপাততঃ চেপে রাখারই উপদেশ দিয়েছিলেন। তার যুক্তি, পৃথিবী যখন বর্তমানে নানা রকম সমস্যা নিয়ে জর্জরিত, তখন এই মরণ কামড় নাই বা দিলাম? কিন্তু সেই সঙ্গে মিঃ ব্রাউনের করুণ চাহনিও উপেক্ষা করা যায় না। সমস্ত মানুষের জন্যে মাত্র একজন মানুষ যে এত বেশী ভাবতে পারে, মিঃ ব্রাউনকে না দেখলে সত্যিই তা উপলব্ধি করা যায় না।

    মিঃ ব্রাউন এখন হাসপাতালে। পৃথিবীর কয়েকজন সেরা চিকিৎসক তাকে নিয়ে দিন রাত মাথা ঘামাচ্ছেন। হতাশা, দুর্ভাবনা এবং ভীতি তাকে যেমনভাবে আচ্ছন্ন করে ফেলেছে, জানি না তাদের থেকে পরিত্রাণ তিনি পাবেন কিনা। আমরা যারা তার নিকটতম বন্ধু—তাদের শুধু এটুকুই সান্ত্বনা যে, তাঁরা তাঁদের অকৃত্রিম বন্ধুর সেবা করার কিছুটা সুযোগ পেলেন।

    আসলে সত্যি কথা বলতে কি, মিঃ ব্রাউনের কথা আমরা একরকম ভুলেই গিয়েছিলাম। তাঁর সঙ্গে স্বাভাবিক অবস্থায় আমাদের অর্থাৎ আমি, ডঃ মেলভিল, ডঃ কার্পেন্টেরিয়া উপসাগরের ওয়েলেসলি দ্বীপপুঞ্জে। মিঃ গ্রিমেকভ্‌, জাতিতে চেক্‌। তবে মার্কিন নাগরিক। আমরা প্রত্যেকেই দ্বিতীয় মহাযুদ্ধের সময় একই মেডিকেল কোরে কাজ করছিলাম এবং ভেতরে ভেতরে জীববিজ্ঞানের ওপর কিছু গবেষণাও। আমাদের দলের হোতা ছিলেন প্রবীণ প্রাণীবিজ্ঞানী মিঃ ব্রাউন। সেনাবিভাগে নাম লেখালেও আসলে তিনি ছিলেন জাত-বিজ্ঞানী। কর্তৃপক্ষ ব্যাপারটা জানতেন এবং সেনাবিভাগের কাজে কোন ক্ষতি না করে তিনি যাতে গবেষণার কাজ চালিয়ে যেতে পারেন সে ব্যবস্থা করেছিলেন। আর এই গবেষণাকে কেন্দ্র করেই আমরা একত্রে মিলিত হই।

    ১৯৪৪-এর প্রথম দিকেই পূর্বভারতীয় দ্বীপপুঞ্জের দারুণ অবনতি ঘটল। জাপানী আক্রমণে মিত্রপক্ষের তখন হিমশিম অবস্থা। এই সময়েই আমাদের কোম্পানিকে লিবিয়া থেকে সরাসরি পাঠান হয় সুম্বা দ্বীপে। ঠিক হয় পেছন দিকে থেকে আক্রমণ করে আমরা শত্রুকে পর্যুদস্ত করব। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তা আর করতে হল না। কেন হল না সেটা রাজনৈতিক ব্যাপার। এ কাহিনীর সঙ্গে তার কোন যোগসূত্র নেই।

    দেখতে দেখতে প্রায় মাস চারেক কেটে গেল। সুম্বার প্রাকৃতিক পরিবেশে মিঃ ব্রাউন প্রাণীবিজ্ঞানের ওপর গবেষণার নানান খোরাক জোগাড় করলেন। সত্যি কথা বলতে কি যুদ্ধের থেকে এই সমস্ত কাজেই আমরা বেশী মনোযোগী হয়ে পড়লাম।

    আর ঠিক এই সময়েই, সম্ভবতঃ সেটা মে মাস, বেজায় গরম। আর প্যাচপ্যাচানি বৃষ্টি। রবারের ক্ষেতের মধ্যে একটা দারুণ গুমোট ভাব। গিরগিটি জাতীয় একটা অদ্ভুত প্রাণী নিয়ে আমি এবং মিঃ ব্রাউন আলোচনা করছিলাম। রাতের অন্ধকারে সমস্ত ব্যারাকে শুধুমাত্র আমাদের তাঁবু থেকেই টিমটিম আলো জ্বলছিল।

    ঠিক এমন সময় কতটা উন্মাদের মতো ছুটে এসে তাঁবুতে ঢুকলেন ডঃ মেলভিল। ভয়শঙ্কিত ভাবে তার এই প্রবেশে আমরা নিজেরাও কম ঘাবড়ে গেলাম না।

    —কি ব্যাপার, ডঃ মেলভিল? প্রশ্ন করলাম আমি।

    দেয়ার! দেয়ার ইট্‌ ওয়াজ! আর কোন কথা বলতে পারলেন না তিনি। অসহায়ের মতো চেয়ে রইলেন তাঁবুর দরজার দিকে। সমস্ত শরীর থর থর করে কাপছে। তাঁর কথা মতো আমরাও বাইরের পানে চাইলাম কিন্তু পিচে ঢাকা অন্ধকার ছাড়া আর কিছুই চোখে পড়ল না।

    ডঃ মেলভিলকে আমরা শান্ত করার চেষ্টা করলাম। উত্তেজনা কমানর জন্যে মিঃ ব্রাউন তাকে কিছুটা ব্র্যাণ্ডি দিলেন। এক চুমুকে তার সমস্তটা নিঃশেষ করে চোখ বন্ধ করে বসে রইলেন তিনি। ডঃ স্টোন তাঁর পাল্‌স্‌ দেখে বুঝলেন তিনি উত্তেজনায় খুবই দুর্বল হয়ে পড়েছেন। তাই সে রাত্রে কোন রকম ব্যস্ত না করে তাঁকে আমরা বিছানায় শুইয়ে দিলাম।

    কিন্তু আসল ব্যাপারটাই বা কি? রাত নটা নাগাদ তো তিনি বেরিয়ে গিয়েছিলেন কি এক ধরনের পাখী সংগ্রহ করতে। আজ সকালেই তিনি ব্যারাকের কিছু দূরে একটি গাছে সেই পাখী দেখে এসেছিলেন। সঙ্গে মরলি নামে একজন ছোকরাও গিয়েছিল। কথাটা ভাবতেই আমার মধ্যে যেন বিদ্যুতের চমক খেলে গেল। তাহলে মরলি? তাকে তো দেখছি না? ডঃ স্টোনকে এদিকটা লক্ষ্য করতে বলে আমি ও মিঃ ব্রাউন বেরিয়ে পড়লাম মরলির খোঁজে।

    আশেপাশের দু’একজনকে জিজ্ঞেস করায় তারা কিছুই বলতে পারল না। ব্যারাকের গেটে প্রহরারত পুলিশ সার্জেন্ট ডিক বলল, কেন? ডঃ মেলভিল এবং

    মরলি তো কিছুক্ষণ আগেই কোত্থেকে ছুটতে ছুটতে এলেন?

    কিন্তু মরলিকে তো পাওয়া যাচ্ছে না! উদ্বেগের সঙ্গে প্রশ্ন করলেন মিঃ ব্রাউন।

    আমি আপনাদের কথা বুঝতে পারছি না, স্যার। আমাদেরই সামনে দিয়ে এই কয়েক মিনিট আগে ওঁরা দুজনেই পাগলের মতো কোত্থেকে ছুটতে ছুটতে এলেন। তখন একটু বেশী বৃষ্টি পড়ছিল। নিজেদের কোড নম্বর বলেই ফুরুৎ করে তাঁরা উড়ে গেলেন।

    এবার বেশ খানিকটা গম্ভীর কণ্ঠেই বললাম, ব্যাপারটা ঠিক অত সহজ নয়, সার্জেন্ট ডিক। আমরা যেন কিছু একটা আশঙ্কা করছি।

    মুহূর্তে ডিকের মুখ ফ্যাকাশে হয়ে গেল—কি বলছেন, স্যার? এনি আণ্ডারগ্রাউণ্ড অপারেশন স্যা—?

    ঠিক তা নয়। কিন্তু তার আগে মরলিকে আমাদের চাই-ই।

    ডিক সঙ্গে সঙ্গে কোয়ার্টার্স মাস্টারের সঙ্গে টেলিফোনে যোগাযোগ করল। আর তার পরমুহূর্তেই শুরু হল তল্লাসির কাজ। মরলির তাঁবুতে মরলিকে পাওয়া গেল না। সেই অন্ধকারের মধ্যে সমস্ত ব্যারাক জুড়ে খোঁজ খোঁজ রব পড়ে গেল। এবং কিছুক্ষণের মধ্যে পাওয়া গেল তাকে। ব্যারাকের শেষ প্রান্তে একটি ঝোপের ধারে সে অজ্ঞান হয়ে পড়ে রয়েছে। আমাদের তাঁবুতে তাকে বয়ে নিয়ে আসার পর ডঃ স্টোন পরীক্ষা করে জানালেন মরলি মৃত। তার চোখেমুখে ভেসে ছিল গভীর ভীতি এবং উত্তেজনার ভাব। ডঃ স্টোন মন্তব্য করলেন, ইট ইজ এ ক্লিয়ার কেস অব হার্ট ফেলইওর ডিউ টু সাডেন মেনটাল এ্যাগোনি।

    যুদ্ধক্ষেত্রে এ ধরনের মৃত্যুকে প্রত্যক্ষ করার অভিজ্ঞতা ডঃ স্টোনের বহু ঘটেছে। অর্থাৎ শত্রুপক্ষের হঠাৎ রকমের আক্রমণ দেখে অনেক সৈনিকই রীতিমত ঘাবড়ে গিয়ে উন্মাদ হয়ে যায়। কখনও আত্মহত্যা করে। কিংবা আতঙ্কে হার্টফেল করে। কিন্তু মরলি কেন অত ভয় পেল, আমাদের কাছে সেটা যেন একটা সমস্যার মতো হয়ে দাঁড়াল।

    ডঃ স্টোন বললেন, ডঃ মেলভিলেরও এমনটি হত। তবে তিনি শক্ত লোক। তাই সামলে নিয়েছেন।

    ব্যাপারটা আমাদের কর্তৃপক্ষকেও রীতিমত ঘাবড়ে দিল। অথচ সেই রাত্রেই যত রকম ভাবে সম্ভব অনুসন্ধান চালিয়েও মূল রহস্যের কোন কিনারাই করা গেল না। মোট কথা ডঃ মেলভিল বা মরলির অমন অবস্থার জন্যে যে শত্রুপক্ষের কোন কারসাজিই দায়ী নয়, সে সম্পর্কে আমরা একরকম নিশ্চিন্তই রইলাম তবে একটা জিনিস লক্ষ্য করলাম, মিঃ ব্রাউন কিন্তু এত সব কাণ্ডের পরও কোন সাড়া দিলেন না এবং তাঁর এই নিশ্চুপ ভাব কেমন যেন অস্বাভাবিক ভাবে ধরা দিল আমাদের কাছে। সার্জেন্ট ডিক বলল, একেবারে ভৌতিক ব্যাপার, স্যার। মনে হল অনৈসর্গিক কোন কিছুর আশঙ্কায় সেও বেশ ঘাবড়ে গেছে।

    সেদিন রাত্রে কতকটা অস্বস্তি নিয়েই আমরা যে যার শয্যা গ্রহণ করলেও মিঃ ব্রাউন কিন্তু জেগেই রইলেন। নিজের ছোট্ট তাঁবুর মধ্যে টেবিল ল্যাম্প জ্বালিয়ে গ্রিমেকভ্‌কে নিয়ে কি সব গবেষণার কাজে ব্যস্ত রইলেন। মাঝে মাঝে একবার করে তাঁর কাজকর্ম দেখে আসতে লাগলাম। টেবিলের ওপর একটি খাঁচার মধ্যে সেই টিকটিকির মতো জীব। তার পাশে নানা রকমের যন্ত্রপাতি। কতকগুলি গাছের পাতা এবং রাসায়নিক দ্রব্য। একবার লক্ষ্য করলাম রবারের গ্লব্‌স পরে জীবটিকে খাঁচার বাইরে বের করে আনলেন তিনি। তারপর কি একটা ইনজেক্‌সন করলেন তার দেহে। মনে হল ইনজেক্‌সনের স্যাম্পেলের মধ্যে কার্বন-১৪ আইসোটোপ মিশিয়ে দিলেন। সম্ভবতঃ এর সাহায্যে তিনি বুঝতে চান ইনজেক্‌সনের ওষুধটি ওর দেহের কোন্‌ কোন্‌ স্থানে যাচ্ছে এবং কেমন প্রতিক্রিয়া হচ্ছে।

    ওষুধটি ঐ প্রাণীর দেহে প্রবেশ করানর সঙ্গে সঙ্গে সে নিস্তেজ হয়ে গেল। তারপর জটিল যন্ত্রের সাহায্যে মিঃ ব্রাউন তার সারা দেহ নিরীক্ষণ করতে লাগলেন। পরক্ষণেই একটি তীব্ররশ্মি ফেললেন তিনি ওর গায়ে। লক্ষ্য করলাম যে সামান্য জায়গাটায় আলো গিয়ে পড়ল মুহূর্তে সে জায়গাটা গাছের পাতার মতো সবুজ হয়ে গেল। এবং আলো নেভার কিছুক্ষণ পরেই তার দেহের কোন কোন স্থান থেকে ফিকে হলুদ রঙের আভা বের হতে লাগল।

    কোন সাড়া নেই, শব্দ নেই। নীরবে কাজ করে যাচ্ছেন মিঃ ব্রাউন। গ্রিমেকভ্‌ যা দেখছে নোট করে যাচ্ছে।

    ব্রাউন সম্পর্কে আমাদের প্রত্যেকেরই একটা উচ্চতর ধারণা ছিল। লোকটা আমাদের সকলের মধ্যে থেকেও যেন সম্পূর্ণ পৃথক প্রকৃতির। অত্যন্ত স্বল্পভাষী এবং যেটুকু কথা বলতেন তার বেশীর ভাগই বলতেন সহকারী গ্রিমেকভের সঙ্গে। আর বিশেষ করে সুম্বায় এসে তাঁর এই চরিত্র যেন প্রকটভাবে দেখা দিল। মাঝে মাঝে ডাক্তার স্টোনকে জীব দেহের ওপর বিভিন্ন ওষুধের বিক্রিয়ার কথা জিজ্ঞেস করতেন। কখনও বা মেলভিলের সঙ্গে পরিবেশের বিভিন্ন জীবদেহের প্রভাবের কথা আলোচনা করতেন। কিন্তু এ সমস্তের মধ্যে দিয়ে তাঁর আসল স্বরূপ বোঝা কোন দিনই আমাদের পক্ষে সম্ভব হয়নি। এবং ক্রমে ক্রমে এই বিশ্বাসই আমাদের জন্মেছিল, ব্রাউনের সমস্ত রহস্যের যদি কেউ কিছু জেনে থাকে তাহলে সে একমাত্র গ্রিমেকভ্‌।

    পরদিন ডঃ মেলভিল কিছুটা সুস্থ হয়ে উঠলে গত রাত্রের অভিজ্ঞতা সম্পর্কে

    কিছু জানা গেল। সংক্ষেপে তিনি যা বললেন তা হলঃ গত রাত্রে লেফটেনন্ট করনেল হ্যারিসের তাঁবুতে কতকগুলি জরুরী সরকারী কাজ সেরে যখন নিজের তাঁবুতে ফিরছিলেন, ঠিক সেই সময় মরলি এসে জানাল ব্যারাকের কাঁটাতারের বেড়ার বাইরে সে নাকি অদ্ভুত এক ধরনের জানোয়ারকে ঘোরাফেরা করতে দেখেছে। শুধু সে দিনই নয়, কয়েক দিন ধরেই সে দেখে আসছে। বিশেষ করে ঠিক রাত ন’টার পর তার ঘরের জানলা থেকে সে পরিষ্কার দেখতে পায়। তার ঘরটি ঠিক তারের বেড়ার পাশে থাকায় বোধহয় স্পষ্ট করেই দেখা সম্ভব হয়েছে। ব্যারাকের এদিকটায় নিবিড় বন। ঠিক তারই মধ্যে কালো রং-এর একটি প্রাণী গভীর রাত পর্যন্ত চলাফেরা করে। অন্ধকারে তার আসল রূপ দেখা সম্ভব হয়নি। তবে মাঝে মাঝে তার শরীর থেকে ফিকে হলুদ রঙের আলো বের হয়। স্থানীয় অসভ্য লোকদের ধারণা—প্রাণীটি তাদের বনদেবতা। কাউকে সে কিছুই বলে না। পাছে কেউ তাকে ক্ষেপায়, তাই কথাটি আর কাউকের বলেনি মরলি! গত রাত্রেও তাকে নাকি দেখা যায়। মরলির কথায় ডঃ মেলভিল লোভ সামলাতে পারলেন না। সার্জেন্ট ডিককে বলে মরলির সঙ্গে তিনি জঙ্গলে প্রবেশ করেন। কিন্তু প্রায় শ’খানেক গজ সবেমাত্র এগিয়েছেন—ঠিক এমন সময়—মাত্র হাত দশেকের মধ্যে দেখা গেল দপ্ করে একটা মৃদু হলদে আলো জ্বলে উঠল। আর ঠিক তার পরেই মনে হল—আসলে সেটা মানুষ না গিরগিটি—ডঃ মেলভিল কিছুই বুঝতে পারলেন না। দেহের তুলনায় অত্যন্ত ক্ষুদ্র মাথা। দু পায়ের ওপর ভর দিয়ে দাঁড়ালেও লম্বায় তাকে ফুট তিনেকের বেশী বলা চলে না। আর সব চাইতে বিস্ময়ের ব্যাপার, ওঁদের দেখেই সে থমকে দাঁড়াল এবং দেহ থেকে অতি দ্রুত কম্পনশীল এক ধরনের শব্দ শোনা যেতে লাগল। সে শব্দের অনুভূতি এতই প্রবল যে মুহূর্তের মধ্যে মনে হল—বুঝি-বা বিশ্বের সমস্ত আতঙ্ক যেন পুঞ্জীভূত হয়ে গ্রাস করে ফেলবে তাঁদের। তাঁরা দ্রুত ব্যারাকের দিকে দৌড়তে লাগলেন। শেষ পর্যন্ত কি হয়েছে সে কথা আর স্মরণ করতে পারলেন না ডঃ মেলভিল।

    মিঃ ব্রাউন বললেন, শব্দটা জন্তুটির দেহ থেকে নির্গত হয়েছিল এ সম্পর্কে কি আপনার কোন দ্বিমত নেই, ডঃ মেলভিল?

    আমার অত বেশী স্মৃতিভ্রংশ এখনও হয়নি, মিঃ ব্রাউন। কতকটা রাগত ভাবেই জবাব দিলেন ডঃ মেলভিল।

    প্রথমে আলো, তারপর শব্দ শুনেছিলেন, তাই না?

    ব্যাপারটা ঠিক তাই হয়েছিল। তবে শব্দ বললে ভুল হবে। আসলে বিকট আওয়াজ বলতে যা বোঝায় তা হয়নি। একটা মৃদু গুঞ্জন, তবে সাধারণ শব্দের থেকে তার তরঙ্গ মাত্রা অত্যন্ত বেশী ছিল।

    ডঃ মেলভিলের উত্তর শুনে অত্যন্ত গম্ভীর হয়ে গেলেন মিঃ ব্রাউন। তারপর—সত্যিকথা বলতে কি মিঃ ব্রাউনের অমন করুণ চাহনি জীবনে আর কখনও দেখিনি। মনে হল একটা বিরাট দুঃস্বপ্ন দেখছেন তিনি। আস্তে আস্তে উঠে গেলেন গত রাত্রে যে গিরগিটি জাতীয় জীবটি নিয়ে তিনি পরীক্ষা চালিয়েছেন, তার কাছে। অত্যন্ত মৃদু কণ্ঠে বললেন, দাঁড়ান।

    আমরা টেবিলের চারপাশে রুদ্ধশ্বাসে গিয়ে দাঁড়ালাম।

    মিঃ ব্রাউন তাঁবুর দরজা জানালা বন্ধ করে দিলেন। অন্ধকারে তাঁবুর মধ্যে কোন কিছুই দেখা গেল না। ছোট্ট টেবিল ল্যাম্পটি জ্বাললেন। একবার আমাদের দিকে চেয়ে বললেন, লক্ষ্য করুন। তারপর গতরাত্রের মত টর্চ থেকে অতি সূক্ষ্ম একফালি আলো ফেললেন গিরগিটিটির ঠিক পিঠের ওপর। সঙ্গে সঙ্গে অবাক হয়ে আমরা দেখলাম, যেখানটায় আলো গিয়ে পড়েছে সে স্থানটা হঠাৎ সবুজ হয়ে গেল। আর তার কিছুক্ষণ পরই সে জায়গাটা থেকে বের হতে লাগল ফিকে হলুদ রঙের একটি আলো। কিন্তু তার চাইতে বড় কথা অত্যন্ত ক্ষীণ একটা শব্দ যেন কানে ভেসে এল আমাদের।

    মুহূর্তে লাফিয়ে উঠলেন ডঃ মেলভিল। —এই তো সেই শব্দ! সেই প্রাণঘাতী শব্দ যা মরলি সহ্য করতে পারেনি। যা আমাকেও প্রায় সাবাড় করে এনেছিল আর কি!

    আলো নেভালেন মিঃ ব্রাউন। আর সেদিন রাত্রেই আমাদের সামান্য কয়েকজনকে যে তথ্য জানালেন তা শুনে প্রত্যকেই আমরা ভয়ে, বিস্ময়ে এবং প্রচণ্ড হতাশায় ভেঙে পড়ার সামিল হয়ে পড়লাম।

    —এ ও কি সম্ভব! এই যে পৃথিবী, তার আলো, তার সভ্যতা—মানুষের এত অহঙ্কার—ভাবা যায় না। সত্যিই ভাবা যায় না। ঐ ক্ষুদ্র গিরগিটি না বলে কি যে বলব—তার জন্যে শেষ পর্যন্ত—!

    কিন্তু সমস্ত কিছু জেনেও যুদ্ধকালীন নিদারুণ পরিস্থিতির কথা ভেবে তখনকার মতো কোন উচ্চবাচ্যই আমরা করতে পারলাম না। সুখের বিষয়, যুদ্ধের শেষ অবধি আমাদের কোম্পানি ওখানেই থেকে গেল। আর দীর্ঘ প্রায় এক বৎসর ধরে আমরা আমাদের নতুন জানা তথ্য সম্পর্কে নির্ভুল হবার জন্যে বার বার পরীক্ষা চালিয়ে দেখতে লাগলাম।

    ১৯৪৫-এর মাঝামাঝি দ্বিতীয় মহাযুদ্ধে মিত্রপক্ষ জয় লাভ করলে আমরা আর্মি থেকে মাস তিনেকের ছুটি নিলাম। ইতিমধ্যে ডঃ মেলভিলও যেন অনেকটা নীরব হয়ে গেছেন। গবেষণার মধ্যে তাঁর তেমন কোন আর উৎসাহ নেই। অনবরতই যেন ভেবে চলেছেন কি যেন। আমি, ডঃ মেলভিল, মিঃ ব্রাউন এবং মিঃ গ্রিমেকভ্‌ মিলে দল তৈরি করলাম। ডঃ মেলভিল হলেন দলপতি। আসলে তখন আরও তথ্য সংগ্রহ করবার জন্যে আমরা রীতিমত ক্ষেপে উঠেছি। ইতিমধ্যে আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্র থেকে অনেকগুলি যন্ত্রপাতি এবং বিভিন্ন সামগ্রী আনিয়ে নেওয়া হল। সেপ্টেম্বর নাগাদ সুম্বারই প্রায় মাইল পঞ্চাশেক দূরে সাভুল দ্বীপপুঞ্জ থেকে একটা আতঙ্কের সংবাদ আমাদের কাছে এসে পৌঁছল। অর্থাৎ সেখানেও নাকি ঐ ধরনের নতুন জীব দেখা গেছে। রাত্রের দিকে কখনও কখনও তারা লোকালয়ের কাছে আসে এবং তাদের দেখামাত্র কেউ উন্মাদ হয়ে আত্মহত্যা করছে, কেউবা হার্টফেল করে মারা যাচ্ছে। কর্তৃপক্ষরা চেষ্টা করেও তাদের ঠিক হদিশ পাচ্ছে না। কারণটা আমাদের কাছে অত্যন্ত সহজ বলেই মনে হল। অতএব এ সুযোগটি আমরা আর ছাড়তে চাইলাম না।

    এরপর যে ঘটনাগুলি অতি দ্রুত ঘটে গেল, আমি জানি আমার পাঠকবর্গের কাছে তা অত্যন্ত অবিশ্বাস্য বা অলীক বলেই মনে হবে। কিন্তু বিশ্বাস করুন, যে নিদারুণ অভিজ্ঞতা নিয়ে আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে প্রতিটি মুহূর্ত আমাদের কাটাতে হয়েছে, তার তুলনা নেই। ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা, মানুষের জীবনে সে অভিজ্ঞতা দ্বিতীয়বার যেন আর না আসে।

    পাহাড় আর জঙ্গলে ঘেরা সাভুল দ্বীপপুঞ্জ। তারপর পাশে সাগর আর সাগর। স্থানীয় অধিবাসীরা খুবই অজ্ঞ। সরকারী সহায়তায় আমরা আমাদের কাজ শুরু করলাম। ইতিমধ্যে মিঃ ব্রাউনের পরিকল্পনা মতো কতকগুলি মুখোশ তৈরি করা হয়েছিল। মুখোশে বিশেষ এক ধরনের লেন্স লাগান ছিল। আর ছিল অতি সূক্ষ্ম-তরঙ্গ প্রতিহতকারী যন্ত্র, দুই কানে চেপে থাকে সেই মতো তৈরি করা।

    আমাদের সঙ্গে ছিল উভচর যান। গত মহাযুদ্ধে এই যানগুলি জলে এবং স্থলে সমানে ঘুরে বেড়িয়েছে। যুদ্ধের শেষে এদের বয়ে নেবার মতো ধৈর্য এবং খুব বেশী একটা প্রয়োজনও সরকার বোধ করলেন না। কাজের সুবিধে হবে বলে আমরা চারটে উভচর যান সঙ্গে নিলাম। সেই সঙ্গে প্রচুর পেট্রোল। আর এদের সাহায্যে সাভুল দ্বীপপুঞ্জ তন্ন তন্ন করে খুঁজে বেড়াতে লাগলাম। সদা ত্রস্ত। বিশেষ করে মাথার মুখোশের ওপর সকলের নজর বেশী। কারণ মিঃ ব্রাউন বললেন, যে শব্দ ঐ জীবগুলির দেহ থেকে বেরিয়ে আসে তা অতি কম্পনজাত শব্দ অবশ্য সত্যিকারের শব্দ ভুল হবে, আসলে শব্দের অনুভূতি। ওদের গায়ের ঐ হলুদ আলোর তরঙ্গের দৈর্ঘ্য অত্যন্ত কম। ঐ আলোই কানের পর্দায় শব্দের অনুভূতি জাগায়। এমন কি মাথার খুলি ভেদ করে মস্তিষ্কের ওপর দারুণ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করতে পারে।

    সুম্বাতে গিরগিটির মতো ঐ প্রাণীর ওপর পরীক্ষা চালিয়েই এই সমস্ত তথ্যে

    তিনি পৌঁছেছিলেন। আসলে ডঃ মেলভিল যা দেখে আতঙ্কগ্রস্ত হয়েছিলেন ঐ প্রাণীটি তারই শাবক। শেষ পর্যন্ত এটিকে অবশ্য বাঁচিয়ে রাখা যায়নি।

    তাই বেশ সতর্কতার সঙ্গেই আমরা চলতে লাগলাম।

    প্রথম তিন চারদিন কোন কিছুই চোখে পড়ল না। ডঃ মেলভিল একটু দমে গেলেন। তা ছাড়া তাঁর বয়স হয়েছে। এত ঝক্কি এবং ছোটাছুটি করে উঠতে পারছিলেন না। মিঃ ব্রাউন তাই তাঁকে ঘোরাঘুরি কম করতে বললেন। কিন্তু নিজে দিনরাত এদিক সেদিক ছোটাছুটি করতে লাগলেন।

    পাঁচ দিনের দিন খবর এল কার্পেন্টেরিয়া উপসাগরের ওয়েলেসলির কোন এক স্থানে চারজন আদিবাসী পাগল হয়ে সমুদ্রে ঝাঁপ দিয়েছে। সঙ্গে সঙ্গে পাগলের মতো আমরাও ছুটলাম টিমোর সাগর, ওয়েলেস দ্বীপপুঞ্জ এবং ভয়ঙ্কর আরহেম অন্তরীপ হয়ে ওয়েলেসলিতে। এখানে এসে পথ কষ্টে হঠাৎ মিঃ মেলভিল দারুণ অসুস্থ হয়ে পড়লেন। ডঃ স্টোন তাই ব্যস্ত রইলেন তাঁকে নিয়ে। মিঃ ব্রাউন, গ্রিমেকভ্‌ এবং আমি অনুসন্ধানের কাজ চালাতে লাগলাম। আর সত্যি সত্যিই একদিন সাক্ষাৎ মিলল আমাদের সেই আকাঙ্ক্ষিত প্রাণীর।

    সে এক দারুণ অভিজ্ঞতা। গভীর পার্বত্য জঙ্গলে আমরা মুখোমুখি দাঁড়িয়ে। পরিষ্কার—একেবারে পরিষ্কার দেখা গেল একটি ঝর্ণার ধারে জল খাচ্ছিল। রীতিমত ঘাবড়ে গিয়ে আমি এবং গ্রিমেকভ যখন বিহ্বল হয়ে দাঁড়িয়ে গেছি, ঠিক তখনি মিঃ ব্রাউন কখন তাকে লক্ষ্য করে ছুটে গেলেন টেরই পাইনি। কিন্তু তখনও জানতাম না মিঃ ব্রাউনকে আমাদের হারাতে হবে।

    মিঃ ব্রাউনকে একা ওভাবে ছেড়ে দেওয়ার মতো নির্বুদ্ধিতার কথা ভেবে ভয়ে উৎকণ্ঠায় আমরা প্রায় পাগলের মতো ছোটাছুটি করতে লাগলাম। কিন্তু বৃথা! সমস্তই বৃথা হয়ে গেল! কয়েকদিন সমানে খোঁজাখুঁজি করার পর না পেলাম মিঃ ব্রাউনের দেখা, না পেলাম তার উভচর যানের কোন হদিশ।

    অবশেষে দিন পনের সেখানে অতিবাহিত করার পর আমরা যুক্তরাষ্ট্রে ফিরে গেলাম। মনের দুঃখ মনেই রইল। হতভাগ্য মিঃ ব্রাউনের অবশ্যম্ভাবী স্বরূপটির কথা চিন্তা করে হাল না ছেড়ে দিনের পর দিন আমরা নতুন পরিকল্পনা রচনার কথা নিয়ে ভাবতে লাগলাম। ডঃ মেলভিলের পরিচালনায় নতুন ভাবে উদ্যোগ পর্ব চলতে লাগল। তবে পৃথিবীর মানুষ যাতে আমাদের কার্যাবলীর কথা চিন্তা করে ভেঙে না পড়ে তাই সমস্ত কিছুই চলতে লাগল গোপনে।

    এরপর দীর্ঘ পনের বৎসর অতিক্রান্ত হয়েছে। নানা রকম বিপর্যয়ের মধ্যে আমাদের নতুন অভিযান ক্রমেই শ্লথ হয়ে আসছিল। এমন সময় একদিন রাত্রে—সম্ভবতঃ সেটা ৮ই মার্চ হবে—হঠাৎ টেলিফোন কল বেজে উঠল।

    ইয়েস, মিঃ কর স্পিকিং। কথা বললাম আমি।

    ওপার থেকে ভেসে এল ডঃ মেলভিলের উত্তেজিত কণ্ঠস্বরঃ মিঃ কর? মিঃ ব্রাউন বেঁচে আছেন। হি ইজ ইন অস্ট্রেলিয়া। আই মিন ইন মাউন্ট ককবারন!

    তার মানে? এবার আমিও কম উত্তেজিত হলাম না।

    হি ইজ আফটার হিপেসকাস।

    এ আপনি কি বলছেন, ডঃ মেলভিল। এ-খবর আপনি পেলেন কি করে?

    ইতিমধ্যে আমরা ঐ জন্তুটির নাম রেখেছি হিপেসকাস বা হাইপার সাউণ্ড কারেন্ট সিনক্রোনাইজার অর্থাৎ অতিরিক্ত শব্দ এবং বিদ্যুৎশক্তি মিলনক্ষম জন্তু। নামকরণের কারণটি শেষটুকু পড়লেই বুঝতে পারবেন।

    ব্রডওয়ে টেলিভিসন কোম্পানির টেলিভিসন চিত্রে। ব্যাপারটা সারা নিউইয়র্কে রীতিমত উত্তেজনার সৃষ্টি করেছে। লস এঞ্জেলসে বসে হয়ত তুমি পরিস্থিতিটা ঠিক বুঝতে পারছ না। একেবারে আমার নিজের চোখে দেখা। আজ সাতটার প্রোগ্রামে ওরা অস্ট্রেলিয়ার প্রাকৃতিক দৃশ্য দেখাচ্ছিল। কয়েকদিন ধরেই নাকি দেখছে। শুধু এটি দেখার জন্যে এর মধ্যে কয়েক লক্ষ টেলিভিসন সেট পর্যন্ত বিক্রী হয়ে গেছে। আজ সন্ধ্যে সাতটার প্রোগ্রাম আমিও দেখলাম। একটা জঙ্গলের মধ্যে দিয়ে ছুটে চলেছে হিপেসকাস। তার সারা দেহ থেকে যে আলো বেরুচ্ছে রঙিন চিত্রে পরিষ্কার তা বোঝা যায়। আর তার পেছনে পাগলের মতো ছুটে চলেছেন মিঃ ব্রাউন। হ্যাঁ হ্যাঁ! পরিষ্কার চিনতে পেরেছি তাঁকে। যদিও মুখে দাড়ি কিন্তু তাঁর ঐ খুঁড়িয়ে চলাটা আমার কাছে অত্যন্ত পরিচিত।

    আর যেন শুনতে পারছি না আমি। উত্তেজনায় আমার সমস্ত শরীর কাঁপতে লাগল। অস্ফুট স্বরে শুধু বললাম, প্লিজ ডঃ মেলাভিল, কালকের সকাল পর্যন্ত অপেক্ষা করুন। আমি এখন ঠিক কিছু বুঝতে পারছি না।

    সেদিন রাত্রেই প্লেনে চলে এলাম নিউইয়র্ক এবং সেই রাত্রেই ব্রডওয়ে টেলিভিসন কোম্পানির সঙ্গে দেখা করে সরকারী সহায়তায় টেলিভিসন চিত্রটি দেখে ফেললাম। কোম্পানীর ম্যানেজারকে বললাম, আমাদের জীবন মরণ সমস্যা, মশায়। এ ছবি দেখান বন্ধ করুন। ভদ্রলোক তো শুনতেই চান না। শেষে আসল কথাটা জানাতে হল। কি ভাবে এই ছবিটি সংগ্রহ করেছে জিজ্ঞেস করায় জানালেন, দিন পনের পূর্বে অস্ট্রেলিয়ার মাউন্ট ককবারন-এ যখন এই কোম্পানি এলোপাথারি ছবি তুলেছিল, তখন গভীর জঙ্গলের মধ্যে হঠাৎ এই ছবিটি ধরা পড়ে। মাত্র মিনিটখানেক তারা ঐ জন্তুটিকে দেখতে পায়। সঙ্গে মিঃ ব্রাউনকে ওরা ঠিক বুঝতে পারে নি। পরে বহু খোঁজাখুঁজি করেও ওদের সাক্ষাৎ পায় নি। নিউইয়র্কে ফিরে আসার পর জনৈক নৃতত্ত্ববিদ নাকি বলেছেন তারা নাকি পৃথিবীর এক নতুন অতি প্রাচীন প্রাণীর ছবি তুলে ফেলেছে যার হদিশ প্রাণীবিজ্ঞানীরা রাখেন না।

    মাথা আর মুণ্ডু! বেশ রাগতভাবেই মন্তব্য করলাম আমি। তবে মনে মনে একটু আশার আলোও দেখলাম। এই প্রথম প্রত্যক্ষ করলাম হিপেসকাসকে। বেঁটে। মাথাটা অস্বাভাবিক ছোট। গায়ের কোন জায়গা সবুজ। কোন জায়গা লাল। দেহে লোম নেই বললেই চলে। কতকটা মানুষ, কতকটা গিরগিটির মতো দেখতে। পায়ের তুলনায় হাত অত্যন্ত ছোট। চোখগুলিও ছোট।

    অবশেষে ছবি দেখান বন্ধ রইল। সরকারী সাহায্যে আমরা সেদিনই অস্ট্রেলিয়া যাত্রা করলাম। রীতিমত অস্ত্রশস্ত্র নিয়েই যেতে হল। সঙ্গে সাহায্য করার জন্যে আরও জন পনের লোক চলল।

    শেষ পর্যন্ত পৌঁছলামও মাউন্ট ককবারনে এবং কি নিদারুণ চেষ্টার পর কোন রকমে মিঃ ব্রাউনকে উদ্ধার করলাম, সে কথা অনিবার্য কারণবশতঃ আপাততঃ প্রকাশ করতে পারলাম না বলে দুঃখিত। শুধু এটুকু বলে রাখছি, যখন তাঁকে আমাদের নাগালের মধ্যে পেলাম তখন তিনি পাগল-উন্মাদ। পুরো পাঁচ দিন মাউন্ট ককবারনের বিজন অঞ্চলে নিজেদের রীতিমত মৃত্যুর মুখে ঠেলে দিয়ে আমরা আমাদের অনুসন্ধান কার্য চালিয়ে গেছি। পাগলের মতো আমরাও হিপেসকাসের পেছনে ধাওয়া করে গেছি। অত্যন্ত চতুর সে প্রাণী। মানুষের বুদ্ধি তার কাছে কোথায় লাগে। শুধু তাই নয়—আমাদের মনে হয়েছে ওরা টেলিপ্যাথির সাহায্যে নিজেদের মনের ভাব সহজেই আদান প্রদান করতে পারে। কোন রকম শব্দ না করে কোন এক অজ্ঞাত উপায়ে ওরা পরস্পর যে যোগাযোগ রাখতে পারে তার প্রমাণ আমরা পেয়েছি। অদ্ভুত ওদের কৌশল। বহু চেষ্টা করেও ওদের আমরা নাগালের মধ্যে পাইনি। মিঃ ব্রাউনকে আমরা পেলাম তাঁর পুরানো এবং ভাঙা উভচর যানের কাছে। স্মৃতিভ্রংশ হয়েছিল তাঁর। পাগলের মতো এই কয় বৎসর ঘুরে বেড়িয়েছেন ওদের পেছনে। লোকালয়ের একেবারে বাইরে।

    মিঃ ব্রাউন বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। যদি কোনদিন সেরে ওঠেন হয়ত সেদিনই জানতে পারব কি করে সেখানে তিনি গেলেন। কি অভিজ্ঞতাই বা পেয়েছেন।

    কিন্তু কি এই হিপেসকাস? সে কেমনধারা জন্তু? এ প্রশ্ন সকলের মনেই জাগা স্বাভাবিক। ইচ্ছে ছিল আপাততঃ একেবারে চেপে যাব কিন্তু টেলিভিসন কোম্পানির কথা প্রকাশ হওয়ার পর অন্ততঃ কিছু না বলে পারা যায় না। এই প্রসঙ্গে গত ৮ই জুন ‘দি ইন্টারন্যাশনাল বাইও-ফিউচার প্রোগ্রাম কাউনসিলের’ সভায় ডঃ মেলভিল যে বক্তৃতা করেন আপনাদের অবগতির জন্যে এখানে তার পূর্ণাঙ্গ অনুবাদ উদ্ধৃত করলাম। আশা করি আমার পাঠক পাঠিকারা এর মধ্যেই হিপেসকাস নামকরণ এবং তার সম্পর্কে কিছু তথ্য জানতে পারবেন:

    ‘সম্মানিত অতিথিবৃন্দ, অত্যন্ত দুঃখের সঙ্গে জানাচ্ছি, পৃথিবীতে নতুন এক ধরনের প্রাণীর আগমন ঘটেছে যার আমরা নামকরণ করেছি ‘হিপেসকাস’। টেলিভিশনে এর চেহারা অনেকেই আপনারা প্রত্যক্ষ করেছেন। এ প্রাণী উদ্ভিদের মতোই শুধু বাতাস থেকে গ্যাসীয় পদার্থ গ্রহণ করে বেঁচে থাকতে পারে। সূর্যের আলো বা যে কোন সাধারণ আলোক রশ্মি এদের গায়ের ওপর পড়লেই যেখানে আলো পড়ে সেখানটা গাছের পাতার মতো সবুজ হয়ে যায়। আর পাতার সবুজ কণিকার সাহায্যে উদ্ভিদ দেহে যেমন কার্বোহাইড্রেট তৈরি হয় এদের দেহেও তেমন হতে থাকে। এদের দেহকোষে মুহূর্তের মধ্যে আলোর অনুপস্থিতিতে আবার তা রূপান্তরিত হয়ে আর এক ধরনের কোষে পরিণত হয়—কতকটা পাসটিডেরই মতো যা বাতাসের নাইট্রোজেন এবং জলের সাহায্যে সরাসরি এ্যামাইন অথবা চর্বি জাতীয় খাদ্য তৈরি করতে সক্ষম হয়। অতএব সাধারণ খাদ্যদ্রব্যের ওপর এদের মোটেই নির্ভর করতে হবে না। আর সবচাইতে অদ্ভুত ব্যাপার, নিজের প্রয়োজনের অতিরিক্ত খাদ্য এরা গ্রহণ করে না। আত্মরক্ষার জন্যে এরা দেহ থেকে এক ধরনের আলোকরশ্মি নির্গত করে যার তরঙ্গ দৈর্ঘ্য সাধারণ আলোর তরঙ্গ থেকে অনেক কম। আর সেই কারণেই অতি সহজে এই আলো মানুষের খুলিকেও ভেদ করতে পারে এবং মস্তিষ্কের বিকৃতি ঘটাতে পারে। মিঃ ব্রাউন সুম্বা দ্বীপে থাকাকালীন এই ধরনের একটি প্রাণীর বাচ্চা নিয়ে পরীক্ষা করেন, সে সংবাদ খুব ভাসা ভাসা ভাবে আমাদের পরিচিত দু-তিনজন জেনেছিলেন। তবে তখন তার ওপর খুব একটা গুরুত্ব তাঁরা দেননি। মিঃ ব্রাউন বলেছিলেন, এরা উদ্ভিদের মতো খাদ্য গ্রহণ করতে পারে আবার প্রাণীর মতো এক স্থান থেকে আরও এক স্থানে ইচ্ছে মতো ঘুরেও বেড়াতে পারে। তাই ভবিষ্যৎ পৃথিবীতে যখন সাধারণ প্রাণী বিশেষ করে মানুষের বেঁচে থাকার মতো খাদ্যদ্রব্যের অভাব দেখা দেবে তখন এরা অবাধে বেঁচে থাকতে পারবে। অবশেষে মিঃ ব্রাউন একটি তথ্যপূর্ণ সিদ্ধান্তও করেছেন ও রসায়ন শাস্ত্রে যেমন প্রথম মৌলিক পদার্থ হাইড্রোজেন, আধুনিক পদার্থবিদদের মতে এই হাইড্রোজেনেরই রূপান্তর এবং বিন্যাসক্রমে ক্রমে জটিল পদার্থগুলির সৃষ্টি করেছিল, জীবজগতেও ঠিক তেমনই সাধারণ এককোষী প্রাণী বিবর্তনের মধ্যে দিয়ে মানুষের মতো জটিলতম জীবে পরিণতি পেয়েছে। অবশেষে মানুষ একদিন এ পৃথিবী থেকে বিলীন হবে—যে ভাবে তার তার বংশ বৃদ্ধি হচ্ছে খাদ্যাভাবেই সে মারা যাবে। পৃথিবীর ভূ-প্রকৃতিও ক্রমে তার প্রতিকূলে এগিয়ে চলেছে। কিন্তু হিপেসকাসের প্রতিকূলতার বিরুদ্ধে সংগ্রাম করার ক্ষমতা অনেক বেশী। তাই আজ সব চাইতে একটি বড় প্রশ্ন আমাদের মনে রীতিমত ভীতির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। মানুষ কি তা হলে বির্বতনের শেষ সীমায় উপস্থিত? বিবর্তনের তালিকার পরবর্তী প্রাণী কি তাহলে হবে হিপেসকাস? মানুষের মৃত্যু হবে ক্ষুধার তাড়নায়—একথা ভাবলে একমাত্র এ ছাড়া কোন উত্তরই আমরা আজ খুঁজে পাচ্ছি না।

    .

    প্রথম প্রকাশ: আশ্চর্য!, সেপ্টেম্বর-অক্টোবর, ১৯৬৫

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleপ্রেত-প্রেয়সী – অদ্রীশ বর্ধন
    Next Article আদিম আতঙ্ক – অদ্রীশ বর্ধন

    Related Articles

    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়

    বিপিনের সংসার – বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়

    January 8, 2026
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    ভয় সমগ্র – হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    December 9, 2025
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    কিশোর অ্যাডভেঞ্চার সমগ্র – হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    December 9, 2025
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    প্রকাশ্য দিবালোকে – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    November 18, 2025
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    তারপর কী হল – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    November 17, 2025
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত

    শর্ম্মিষ্ঠা নাটক – মাইকেল মধুসূদন দত্ত

    November 11, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Our Picks

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }