Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    সেরা আশ্চর্য! সেরা ফ্যানট্যাসটিক (প্রথম পর্ব) – সম্পাদনা : অদ্রীশ বর্ধন

    লেখক এক পাতা গল্প464 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    যুগান্তরের ঘূর্ণিপাকে • বিশু দাস

    একটা ঘূর্ণির সৃষ্টি করে মাছটা তলিয়ে গেলো জলের নীচে। টোপ লাগিয়ে সুতোটা ছুঁড়ে দিলাম ঘূর্ণিটার মাঝখানে। খানিকক্ষণ অপেক্ষা করার পর অধৈর্য হয়ে সুতোটা আবার দিলাম ঘূর্ণিটার মাঝখানে। এদিক ওদিক তাকাতে তাকাতে আনমনে টোপ লাগাচ্ছিলাম কাঁটায়, হঠাং দৃষ্টি থেমে গেলো দূরের বড় পাথরটার ওপর কুটিরটায় বাধা পেয়ে। ঝরণাটা পেরিয়ে যেতে হবে পাথরটার কাছে।

    আমার সঙ্গীকে জিজ্ঞেস করলাম, “ওই বাড়িতে কে থাকে?”

    বাড়িটার দিকে একবার চেয়ে সে জবাব দিলো, “অধ্যাপক সান্যাল। নতুন এসেছেন।”

    “অধ্যাপক সান্যাল মানে, সেই তিব্বত আর মিশরের প্রাচীন ইতিহাসের নামকরা অধ্যাপক সান্যাল নাকি? বেনারস ইউনিভার্সিটিতে আমি তাঁর ছাত্র ছিলাম। সেই অধ্যাপক সান্যালই যদি হন, তাহলে তো তাঁর সঙ্গে দেখা করতে যেতে হয়। আমাকে অত্যন্ত স্নেহ করতেন তিনি।”

    “কিন্তু তোমার পিঠের লাগানো কোন পাখা তো দেখতে পাচ্ছি না, আর একমাত্র উড়ে যাওয়া ছাড়া ওখানে পৌঁছোনোর আর দ্বিতীয় কোন উপায় নেই।”

    “কেন, ওই তো পথ দেখা যাচ্ছে, এই পথ দিয়ে যাওয়া যাবে না? রাস্তাটা তো মনে হচ্ছে কুটিরের কাছে গিয়েই শেষ হয়েছে।”

    “কিন্তু বন্ধু, একটু ভালো করে লক্ষ্য করলেই বুঝতে পারবে পথের মাঝখানে প্রায় দশ ফুট চওড়া একটি খাদ আছে। খাদের পাশ থেকে পথটা আবার শুরু হয়েছে। আগে ওই খাদের ওপর একটা কাঠের তৈরি সেতু ছিল। কিছুদিন আগে ধস নামায় সেটা অদৃশ্য হয়ে গিয়েছে। অধ্যাপককে বাড়ির বাইরে প্রায় দেখাই যায় না। কোন কিছুর দরকার হলে পাহাড়ী চাকরটাকে পাঠান। কুটিরের ওপাশের পাহাড় চূড়োটা পার হলেই দার্জিলিং-এ যাবার পথ।”

    “তোমার কথা শুনে তো হতাশ হয়ে পড়ছি, কিন্তু তবু চেষ্টা আমাকে একবার করতেই হবে। যাবার সময় আমার মাছ ধরার সরঞ্জামগুলো তাঁবুতে নিয়ে যেও। খাদের নীচে ওই যে স্রোতটা বয়ে যাচ্ছে ওটা পার হয়েই যাবো আমি। পাহাড় চড়ার শিক্ষা আমার কাছে, কারণ একসময় আমি মাউন্টেনিয়ারিং স্কুলের ছাত্র ছিলাম। আজ সেই জ্ঞান কাজে লাগাবার সময় এসেছে।” বন্ধুকে বিদায় জানিয়ে

    এগিয়ে চললাম আমি।

    স্রোত পার হতে খুব বেশী বেগ পেতে হল না, কিন্তু যেখানে এসে পৌঁছোলাম সেখান থেকে সংকীর্ণ পথটা খাড়া পাহাড়ের গা বেয়ে এঁকে-বেঁকে ওপরের দিকে উঠে গেছে। ওই পথ ধরে এগোনো ভীষণ শক্ত কাজ, একথা বুঝতে খুব বেশী দেরী হল না।

    প্রথম শ’খানেক ফুট পার হলাম, খুব কষ্ট না করেই, কিন্তু তারপরেই হঠাৎ আরম্ভ হল সোজা খাড়াই। বেড়ালের মত বুকে ভর দিয়ে উঠতে হচ্ছিলো পাহাড়ের গা বেয়ে। আধঘণ্টা এইভাবে ওঠবার পর শরীরের প্রতিটি লোমকূপ দিয়ে ঘাম বেরুতে লাগলো। সমতল একটা পাথর দেখে বিশ্রাম নেবার জন্যে বসতে বাধ্য হলাম তার ওপর। সমান্তরাল পথটা দেখা যাচ্ছে এখান থেকে। দূরে দেখা যাচ্ছে খাদটার উপর ছোট্ট একটা সেতু। অবশ্য সেতুর কাছে পোঁছোতে হলে কয়েক শ’ ফুট ওপরে উঠতে হবে এখনও। খানিকটা আশ্বস্ত হলাম। যাক, কোন রকমে পার হয়ে যাওয়া যাবে খাদটা। আসল সেতুটা ভেঙ্গে গিয়েছে, তারই ধ্বংসাবশেষ টিকে আছে এখনও। সেতুটার কাছে পৌঁছোবার আশায় বিশ্রাম নেবার কথা প্রায় ভুলেই গেলাম। আবার আরম্ভ হল পাহাড় বেয়ে ওপরে ওঠা। আরও আধঘণ্টাখানেক অক্লান্তভাবে পাহাড়ের সঙ্গে যুদ্ধ করে সেতুটার কাছে এসে পৌঁছোলাম। মোটা মোটা কাঠ দিয়ে তৈরি ছিলো সেতুটা, কিন্তু আজ আর সে সব কাঠের চিহ্নও নেই। দুটো মাঝারি আকারের বাঁশ একসঙ্গে বেঁধে ফেলে রাখা হয়েছে খাদটা পার হবার জন্যে। ধরবার সুবিধের জন্যে আর একটা ওই রকম বাঁশকে রেলিংয়ের মতো করে বেঁধে দেওয়া হয়েছে। কে এই সমস্ত ব্যবস্থা করেছে কে জানে! তবে সেই লোকটির ওপর শ্রদ্ধার মাথা নুয়ে এলো আপনা-আপনি। খাদের দিকে তাকাতেই ভয়ে শিউরে উঠলাম। প্রায় পাঁচশ ফুট ওপরে পথটা গিয়ে মিশেছে কুটিরে যাবার পথের সঙ্গে। মনে মনে স্থির করলাম বাঁশের সেতুটা পার হয়ে ওপাশে যেতেই হবে, তাতে যত বিপদই আসুক না কেন।

    ইঁট দিয়ে বাঁধানো জায়গাটার কাছে গিয়ে দাঁড়ালাম। বাঁশের সেতুর ওপর পা দিতেই দেখি সেটা ভীষণভাবে দুলতে শুরু করেছে। এর ওপর দিয়ে পার হওয়া মানে জীবনটা হাতে করে যাওয়া। কিন্তু এখন আর ফিরে যাবার উপায় নেই, এগোতেই হবে। বাঁশের রেলিংটা দুহাত দিয়ে চেপে ধরে যতদূর সম্ভব সাবধানে এগোতে লাগলাম, পাশ ফিরে। বাঁশের মসৃণ গা থেকে পা তুলতে ভয় করছে। পা দুটোকে যতদূর সম্ভব ঘষটে নিয়ে যেতে হচ্ছে।

    এইভাবে প্রায় পাঁচফুট পার হবার পর, হঠাৎ পিছলে গিয়ে মাত্র একটা বাঁশের ওপর ভর দিয়ে দাঁড়িয়ে রইলাম। পট পট শব্দে পুরানো দড়ির বাঁধন ছিঁড়তে লাগলো। ভয়ে ঘেমে নেয়ে উঠলাম। দেহের ভারসাম্য হারিয়ে একপাশে হেলে পড়লাম। প্রাণপণ শক্তিতে বাঁশের রেলিংয়ের একটা জায়গা দুহাতে চেপে ধরে ঝুলতে লাগলাম। নীচে—অনেক নীচে হু হু করে বয়ে যাচ্ছে খরস্রোতা একটা পাহাড়ী স্রোত। হাত পা অসাড় হয়ে আসতে লাগলো, কিন্তু সে যাত্রা বেঁচে গেলাম কোনরকমে! এটুকু সৌভাগ্যও হয়তো বিধাতার মনঃপুত হল না। বাঁশটা হঠাৎ মট মট করে ভেঙ্গে গেলো। বাঁচবার শেষ চেষ্টায় মরিয়া হয়ে হাত দুটো বাড়িয়ে দিলাম ডুবন্ত লোকের মত কিছু একটা চেপে ধরবার আশায়। এতক্ষণ যেটার ওপর দাঁড়িয়েছিলাম সেটাতে হাত ঠেকলো। সেই বাঁশটা ধরেই ঝুলে রইলাম। দোল খাওয়া না থামা পর্যন্ত ঝুলেই রইলাম, তারপর আস্তে আস্তে সার্কাসের খেলোয়াড়দের মতো ঝুলতে ঝুলতে এগুতে লাগলাম সামনের দিকে। সেতুর শেষ প্রান্তে পৌঁছে দেহের শেষ শক্তিটুকুও আর অবশিষ্ট রইলো না। ক্লান্তিতে ভয়ে মড়ার মতো হয়ে গেছি তখন। এমন সময়, কার বলিষ্ঠ দুটো হাত আমাকে টেনে তুললো ওপরে। বুকের ভেতর থেকে বেরিয়ে এলো স্বস্তির নিঃশ্বাস। সেই অজানা সাহায্যকারীকে দেখার কথাও মনে এলো না একবার, চুপচাপ পড়ে রইলাম, নির্জীবের মতো।

    “খুব অল্পের জন্যে বেঁচে গেছো,” ভারী গলায় কে যেন বললো। চোখ মেলে চাইতেই দেখি সামনে দাঁড়িয়ে আছেন অধ্যাপক সান্যাল, আর তার দুই পাহাড়ী চাকর।

    একটু প্রকৃতিস্থ হয়ে উঠে দাঁড়াবার পর অধ্যাপকের কাঁধে হাত দিয়ে কুটিরের দিকে এগিয়ে চললাম।

    ঘরে ঢুকতে গিয়ে দেখা হল এক মহিলার সঙ্গে। পরে জেনেছিলাম মহিলাটি অধ্যাপকের বাড়ীর পরিচারিকা। নাম মোতিয়া। আমার আধমরা অবস্থা দেখে সে বললো, “আহা বেচারার ভীষণ ধকল গেছে! এসো আমার সঙ্গে জামা কাপড় ছেড়ে হাত মুখ ধুয়ে নাও। আমি ততক্ষণে চা তৈরি করে নিয়ে আসছি।”

    অধ্যাপক সান্যাল কৌতূহলী চোখে আমার দিকে চেয়ে বললেন, “তোমাকে কোথায় যেন দেখেছি বলে মনে হচ্ছে?”

    “বেনারস ইউনিভার্সিটিতে আমি আপনার ছাত্র ছিলাম অনেকদিন আগে। আপনি আমাদের প্রাচীন ইতিহাসের অধ্যাপক ছিলেন। আমি ছিলাম আপনার সবচেয়ে প্রিয় ছাত্র।”

    স্নিগ্ধ হাসিতে ভরে গেলো অধ্যাপকের মুখ। “হ্যাঁ, এবার চিনতে পেরেছি। বেশ, বেশ! আমারই এক ছাত্র নিজের জীবন বিপন্ন করে আমার সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে এসেছে, ভাবতেও আনন্দ লাগছে।” নিজের মনেই কথাগুলো বলতে বলতে তিনি পাশের ঘরে চলে গেলেন। দরজার কাছে হঠাৎ থেমে বললেন, “একটু বিশ্রাম করে নাও। তারপর, আমার পড়ার ঘরে এসো। গল্প করা যাবে।”

    হাত মুখ ধুয়ে বিশ্রাম নেবার পর অনেকটা সুস্থ হলাম। বিশেষ করে মোতিয়ার সুন্দর চা যেন অনেকখানি শক্তি জোগালো। সময় নষ্ট না করে আমি অধ্যাপকের পড়ার ঘরের সামনে এসে ভেতরে যাবার অনুমতি চাইলাম। সাদরে তিনি আমাকে আহ্বান জানালেন ভেতরে যাবার জন্যে। দরজা ঠেলে ভেতরে ঢুকেই ভেতরের দৃশ্য দেখে অবাক হয়ে গেলাম। সত্যিই প্রশংসা করার মতো চকচকে পালিশ করা মেঝে, তার ওপর মোটা পার্সিয়ান গালিচা। ঘরের মাঝখানে বড় একটা মেহগনি কাঠের টেবিল। টেবিলের ওপাশে বসে আছেন সৌম্যদর্শন অধ্যাপক। দেওয়াল ভর্তি বড় বড় আলমারিতে সাজানো বই। ম্যাপ আর চার্ট-এ ভরা অন্যদিকের দেওয়াল। খোলা জানলাটার সামনে দাঁড় করানো পুরানো আমলের বড় একটা ক্যামেরার মতো জিনিস। স্টুডিওতে যেমন ফিল্ড ক্যামেরা ব্যবহার করা অনেকটা তেমনি দেখতে জিনিসটা। কালো কাপড় দিয়ে সমস্ত জিনিসটা ঢাকা দেওয়া রয়েছে। ঘরের অন্যসব জিনিসের সঙ্গে একান্তই বেমানান সেটা। ক্যামেরার মুখটা লম্বা হয়ে সামনের দিকে বেরিয়ে আছে, দূরবীনের নলের মতো। ঐ নলের মধ্যে আলো ফেলবার জন্যে কতকগুলো বিভিন্ন আকৃতির আয়না লাগানো আছে সামনে। চোখ তুলতেই দেখি অধ্যাপক আমার মুখের দিকে চেয়ে আছেন, এক দৃষ্টিতে। চোখে মুখে চাপা আনন্দের আভাষ।

    “খুব অবাক লাগছে, না? বসো, ঐ যন্ত্রটা সম্বন্ধে আলোচনা করবো একটু পারে।”

    অধ্যাপক নানা প্রশ্ন করতে লাগলেন। আমিও জবাব দিয়ে যেতে লাগলাম সেই সব প্রশ্নের, আমার পড়াশুনোর কথা সবিস্তারে বললাম, কিন্তু আমার এখানে আসার কারণটা জানতেই তাঁকে বেশী আগ্রহশীল বলে মনে হল।

    “মাছ ধরতে এসেছি এখানে। নীচের ঐ স্রোতে এমন কতকগুলো বিশেষ ধরনের মাছ আছে যা পৃথিবীর আর কোথাও পাওয়া যায় না। সেই জন্যেই এত জায়গা থাকতেও এই বিশেষ জায়গাটা বেছে নিয়েছি বাস করার জন্যে,” অধ্যাপক বলতে লাগলেন। “চতুর্দিকে উন্মুক্ত তুষারক্ষেত্র, দৃষ্টি কোথাও বাধা পায় না। তিয়েস্তা উপত্যকার মাছের কথা আমি আগেই শুনেছিলাম।”

    অধ্যাপক একজন পাকা মৎস্যশিকারী।

    যাইহোক আমাদের আলোচনা প্রসঙ্গে থেকে প্রসঙ্গান্তরে যেতে লাগলো এরপর। আমার দৃষ্টি কিন্তু বার বার সেই বিচিত্র দিকেই যন্ত্রটার চলে যেতে লাগলো। ওটার রহস্য না জানা পর্যন্ত কিছুতেই স্বস্তি পাচ্ছি না মনে। মাছ ধরার গল্প হঠাৎ মাঝপথে থামিয়ে অধ্যাপক বললেন, “আমার কথা তোমার কানে যাচ্ছে না, আমি বুঝতে পারছি। সুতরাং তোমার কৌতূহল আগে নিবৃত্ত করা দরকার। চেয়ারটা এখানে এগিয়ে নিয়ে এসো। আমার কয়েকটা থিওরী সম্বন্ধে সামান্য কিছু আগে বলে নিই, তাহলে যন্ত্রটার কাজকর্ম বুঝতে সুবিধে হবে তোমার।

    “তুমি হয়তো জানো না যে ছেলেবেলা থেকেই আমি জীববিজ্ঞানের একজন অত্যন্ত উৎসাহী ছাত্র। বংশানুক্রমিক গুণ অর্থাৎ ইংরাজীতে যাকে আমরা ‘হেরেডিটি’ বলি, অহমিকা, আর দাম্ভিকতা একপুরুষ থেকে পরবর্তী পুরুষদের মধ্যে কি ভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে সে সম্বন্ধে জানবার উৎসাহই ছিলো আমার সবচেয়ে বেশী। গবেষণার ক্ষেত্রে আরও প্রসারিত হল আমার, আমি ঐ বিষয়ের গভীরে তলিয়ে গেলাম। একদিন আবিষ্কার করলাম যে অতীতে যে সমস্ত ঘটনার স্মৃতি পূর্বপুরুষদের মনে স্থায়ী ছাপ রেখে গেছে, সেগুলো তাঁদের অবচেতন স্মৃতির সঙ্গে যুক্ত হয়ে দেহ কোষের ক্রোমোজোমের মধ্যে সঞ্চারিত হয়। ঠিক ঐ ভাবেই আমরা শ্বাস নিতে শিখি, হাত পা নাড়াচাড়া করতে শিখি, চিন্তা করতে, যুক্তি দিয়ে বোঝতে শিখি অর্থাৎ জীবনের যে সব প্রক্রিয়া মানুষকে অতীতের বর্বরতার যুগ পার হয়ে সভ্যতার বেদীতে পৌঁছোতে সাহায্য করেছে সে সবই আমরা শিখি পূর্বপুরুষদের অতীত স্মৃতি থেকে। এই ধরনের নানা স্মৃতি বংশপরম্পরায় সঞ্চারিত হচ্ছে এক পুরুষ থেকে পরবর্তী পুরুষে, সৃষ্টির প্রথম যুগ থেকে আজ পর্যন্ত অবিরত। কোন স্মৃতিই মন থেকে সম্পূর্ণ মুছে যায় না, এ সম্বন্ধে আমি নিঃসন্দেহ, এবং অবচেতন মনের অতল থেকে চেতনার স্তরে তারা ভেসে ওঠে যখন ভয়ঙ্কর বা বুদ্ধিবিভ্রমকারী কোন ভাব উদয় হয় মনে এবং উত্তেজনার সৃষ্টি করে। কতকগুলো বিশেষ ধরনের ওষুধ-এর সাহায্যে বা সম্মোহন শক্তির প্রয়োগে অবচেতন মনের অতল থেকে সুপ্ত ঘটনাগুলোকে চেতন মনে তুলে আনা সম্ভব। এই নীতি কাজে লাগিয়ে একটা যন্ত্র আমি তৈরি করেছি, যা দিয়ে মানুষের অবচেতন মনের গোপন কক্ষগুলোতেও হানা দিতে পারা যায় অনায়াসে। প্রথম চেষ্টা আমার অবশ্য বিফল হয়েছিলো, কিন্তু পরীক্ষা চালাতে চালাতে কতকগুলো গুরুত্বপূর্ণ অদল বদল করে এই বিচিত্র যন্ত্রটা বানিয়েছি। খুব সন্তোষজনক ফলাফল পাওয়া গেছে যন্ত্রটা থেকে। ওটার নাম দিয়েছি “কালের পরীক্ষক”, এবং সত্যি সত্যিই যন্ত্রটা যুগযুগান্তব্যাপী সময়ের মধ্যে অবিশ্বাস্য সমস্ত পরীক্ষা চালাতে পারে। এতক্ষণ যা বললাম তা হচ্ছে আমার পরীক্ষার সামান্য পরিচয় মাত্র, তোমার কৌতূহল নিবৃত্ত করার জন্যে এইটুকুই যথেষ্ট হবে বলে আমার মনে হয়। তুমি নিশ্চয় আমার ব্যাখ্যা শুনে সন্তুষ্ট হয়েছো? বেশ, এবার মাছ ধরার প্রসঙ্গে আসা যাক আবার।”

    বলাবাহুল্য, এই ব্যাখ্যা আমার মনে কৌতূহল কমানোর চেয়ে বাড়ালোই বেশী, কিন্তু সেই মুহূর্তে অধ্যাপকের কথায় সায় না দিয়ে পারলাম না। তারপর প্রায় আধঘণ্টা আবার সেই হিমশীতল জলের পাহাড় ঝরণায় মাছধরার গল্প। মোতিয়া আসায় সাময়িকভাবে বাধা পড়লো আলোচনায়। খেতে যাবার কথা বলে গেলো মোতিয়া। আমি মনে মনে ঠিক করলাম খাওয়া শেষ করে ফিরে এলেই অধ্যাপক সান্যালকে যন্ত্রটা হাতে কলমে পরীক্ষা করে দেখাতে বলবো।

    এবারও মোতিয়ার অযাচিত সাহায্য পেলাম। খাওয়া শেষ হবার পর কফির কাপ সামনে নিয়ে গল্প-গুজব চলছে, এমন সময় মোতিয়া বলে উঠল, “বেচারাকে আপনার নতুন আবিষ্কারটা একবার হাতে কলমে পরীক্ষা করে দেখিয়েই দিন না! পরীক্ষাটা ওর খুব ভালো লাগবে নিশ্চয়ই। তাছাড়া যতখানি কষ্ট স্বীকার করেও আপনার সঙ্গে দেখা করতে এসেছে তার একটা উপযুক্ত পুরস্কার অন্ততঃ পাবে।” আমি মৃদু প্রতিবাদের সুরে বললাম, “না, না তা নয়। আমি অধ্যাপক মশায়ের ওপর অগাধ শ্রদ্ধার বশেই দেখা করতে এসেছি, তবে উনি এতক্ষণ ধরে যন্ত্রটার যে সমস্ত ব্যাখ্যা শোনালেন তাতে খুব কৌতূহল হচ্ছে যন্ত্রটার কার্যকারিতা পরীক্ষা করে দেখবার।

    পড়ার ঘরে ফিরে গিয়েই অধ্যাপক আমাকে যন্ত্রটার সামনে নিয়ে গেলেন। তারপর কালো কাপড়ের ঢাকনিটা তুলে নিয়ে আমাকে বসতে বললেন যন্ত্রটার পেছনে। আমি পেছনের বড় গর্তটার সামনে বসবার পর তিনি কালো কাপড়টা দিয়ে আমার মাথা ঢেকে দিলেন, ফটো তোলার সময় ফটোগ্রাফাররা যেমন ভাবে মাথা ঢেকে দেয় তেমনি করে। অন্য কেউ দেখলে তখন ভাবতে আমি হয়তো ছবি তোলবার জন্যে ক্যামেরাটা ফোকাস করছি। যন্ত্রটার ভেতরটা কালো রং করা। পাশের আর একটা ছিদ্র দিয়ে দূরের পাহাড়গুলো দেখা যাচ্ছে আবছা আবছা। হঠাৎ দৃশ্যপট পালটে গেলো। সম্পূর্ণ অন্ধকার। একটু পরেই অনেক দূরে একটা আবছা আলো দেখা দিলো। আলোটা একটু একটু করে বাড়তে লাগলো। মিনিট দশেক কাটবার পর আলোর জোর বাড়তে লাগলো। উজ্জ্বল আলোর দিকে তাকিয়ে থাকতে থাকতে চোখ দুটোতে জ্বালা ধরে গেলো। আলোটা তখনও আগের মতোই বাড়ছে। শেযে, সহ্য করতে না পেরে মুখটা কাপড়ের তলা থেকে বার করে আনতে যাবো ঠিক সেই মুহূর্তে আলোটার রং গেল পালটে, আর উজ্জ্বলতাও আগের চেয়ে কমে আসতে লাগলো। আবার চোখ লাগিয়ে দেখতে লাগলাম। এতক্ষণ একাগ্র দৃষ্টিতে আলোটার দিকে চেয়ে থেকে কেমন যেন মোহাচ্ছন্ন হয়ে পড়েছিলাম, হঠাৎ রঙের পরিবর্তনটা বেশ ভালো লাগলো। আলোটা আকারে আগের সাদা আলোটার চেয়ে অনেকটা বড়। হঠাৎ মনে হল শুধু আলো নয়, কুয়াশাচ্ছন্ন একটা দৃশ্যপট যেন ভেসে উঠলো আস্তে আস্তে। কুয়াশার আবরণ সরে গেলো, চোখের সামনে ভেসে উঠলো বিরাট একটা হ্রদ। জল থৈ থৈ করছে। হ্রদের তীরে নানা জাতের নাম না জানা লতাপাতা। বড় বড় গ্রানাইট পাথরের টুকরো চতুর্দিকে ছড়ানো। চারিদিক নিঝুম, নিস্তব্ধ, কেবল মাঝে মাঝে শিকারী পাখীর শব্দ ভেসে আসছে।

    অবাক হয়ে সেই দৃশ্য দেখতে লাগলাম আমি। কৌতূহলের বশে মাথাটা আরও একটু এগিয়ে নিলাম সামনের দিকে, ভালো করে দেখবার জন্যে। হ্রদের ধারে বড় একটা পাথরের ওপর এক বৃদ্ধকে বসে থাকতে দেখে আশ্চর্য হলাম। কাঁধে জড়ানো একটা লোমশ চামড়া। বয়সের ভারে চামড়ায় ভাঁজ পড়ে গিয়েছে।

    এমন সময় হঠাৎ নজর চলে গেলো হ্রদের পাশে একটা জায়গায়। প্রকাণ্ড দুটো প্রাণী ভীষণ যুদ্ধে মেতেছে। পাশে পড়ে আছে ছিন্নবিচ্ছিন্ন একটা মৃতদেহ। মৃতদেহের মালিকানা নিয়েই যে যুদ্ধের সূত্রপাত তা বুঝতে কষ্ট হল না। ইতিমধ্যে বৃদ্ধ পাথরটার ওপর থেকে উঠে পড়েছে। ধীরে ধীরে গায়ের থেকে চামড়ার পোশাকটা খুলে ফেলতে লাগলো সে। ওপাশের যুদ্ধরত প্রাণী দুটো পরস্পরকে ছেড়ে দিতেই দেখলাম প্রত্যেকটার দেহে প্রায় ২০ ফুট লম্বা লম্বা ডানা লাগানো। মাথা নেড়া, করাতের মতো দাঁতওয়ালা ভয়ঙ্কর ঠোঁট। বাদুড়ের মতো ডানা বিস্তার করে দুটোই আকাশে উড়ে গেলো। এবার ভালো করে নজর পড়লো মানুষটার ওপর। মানুষ বলছি কেবল ভব্যতার খাতিরে, বরং বিরাট আকারের বাঁদর বললেই ঠিক বলা হতো। শক্তিশালী দেহ লালচে লোমে ঢাকা, কোমরে বাঁধা চামড়ার বেল্টের মতো একটা জিনিস। হাতে লম্বা বর্শার মতো একটা অস্ত্র। বর্শার মাথায় লাগানো ধারালো পাথরের ফলা। পাথরটা চামড়া দিয়ে লাঠির মাথায় বাঁধা। সভ্য মানুষের দৃষ্টিতে অত্যন্ত ভয়াবহ এবং পাশবিক লোকটার মুখ, কিন্তু চোখের দৃষ্টিতে বুদ্ধির আভাস।

    আমি তাকে লক্ষ্য করছি সে কথা সে বুঝতেই পারলো না। একটা পাথরের আড়ালে দাঁড়িয়ে একাগ্র দৃষ্টিতে জলের দিকে চেয়ে রইলো। অতর্কিতে হাতের বর্শাটা তুলে জলের ওপর এক ঘা বসিয়ে দিলো খুব জোরে, এবং পরমুহূর্তেই জলে ঝাঁপিয়ে পড়লো। জল থেকে উঠে এলো যখন তখন তার একহাতে বর্শাটা, আর একহাতে বিরাট একটা মাছ। ছাড়া পাবার জন্যে মাছটা প্রাণপণে ছটফট করছে। এমন নিমগ্ন হয়ে গেছিলাম দৃশ্যটা দেখতে দেখতে যে সে আবার এসে পাথরটার ওপর কখন বসেছে লক্ষ্যই করি নি। জলের ভেতরে মাছটাকে দেখেই এমন বিদ্যুৎ গতিতে লাফিয়ে পড়ে সেটাকে ধরে ফেললো যে না দেখলে বিশ্বাসই করা যেতো না। লোকটার অন্যমনস্কতার সুযোগে বিরাট একটা পাখী ছোঁ মেরে মাছটা নিয়ে আকাশে উঠে গেলো। হাতের মাছটা হারিয়ে কিন্তু তার এতটুকু দুঃখ হল বলে মনে হল না। বর্শাটা হাতে করে হ্রদের পাশে সন্ধানী দৃষ্টি মেলে সে ঘুরে বেড়াতে লাগলো। ঘুরতে ঘুরতে অনেক দূরে চলে গেছে এমন সময় দেখা গেলো একদল জানোয়ার জঙ্গল থেকে বেরিয়ে আসছে হ্রদে জল খাবার জন্যে। লোকটা সঙ্গে সঙ্গে লুকিয়ে পড়লো একটা ঝোপের পাশে। লম্বা দাঁতওয়ালা বুনো শুয়োরের পাল হ্রদের ধারে এনে হাজির হল। লোকটা তীর বেগে ছুটে খানিক দূরে গিয়ে শুয়োরের পালের পথ আটকে দাঁড়ালো। বিরাট একটা পাথর সে ছুঁড়ে মারলো জানোয়ারগুলোর দিকে। পাথরটা একটা শুয়োরের গায়ে লাগতেই সেটা তেড়ে এলো লোকটাকে। লোকটা চুপ করে দাঁড়িয়ে রইলো, বর্শার মাথাটা মাটিতে ঠেকিয়ে। শুয়োরটা কাছাকাছি আসতেই দুহাতে বর্শাটা মাথার ওপর তুলে গায়ের সমস্ত শক্তি দিয়ে এক ঘা বসিয়ে দিলো। প্রচণ্ড আঘাতটা সামলে নিয়ে জানোয়ারটা আবার উঠে দাঁড়ালো। বর্শার লাঠিটা ভেঙ্গে গেছিলো প্রথমের আঘাতেই। ভাঙ্গা লাঠির একটা অংশ দুহাতে বাগিয়ে ধরলো সে, তারপর শুয়োরটার সামনে থেকে একপাশে সরে গিয়ে গায়ের জোরে লাগালো আর এক ঘা। মাথার খুলিটা ভেঙ্গে চুরমার হয়ে গেলো সেই আঘাতে। মরা শুয়োরটাকে কাঁধে ফেলে বনের দিকে এগিয়ে চললো সে। অন্য শুয়োরগুলো ততক্ষণে পালিয়েছে সেখান থেকে।

    মানুষটাকে চলে যেতে দেখে মনে মনে দুঃখিত হলাম। লোকটা জঙ্গলের আড়ালে অদৃশ্য হবার সঙ্গে সঙ্গেই দেখি বিরাট একটা হলদে রংয়ের জানোয়ার তাকে নিঃশব্দে অনুসরণ করছে। জানোয়ারটার গায়ের কালো কালো ডোরাগুলো, আর লম্বা লম্বা দাঁতওয়ালা বিরাট চোয়াল দেখে বুঝতে পারলাম এটা প্রকাণ্ড একটা বাঘ! মানুষটার কথা ভেবে ভয়ে রক্ত হিম হয়ে আসতে লাগলো আমার। বেচারা ঘুণাক্ষরে জানতেও পারেনি যে মৃত্যুদূত নিঃশব্দে এসে দাঁড়িয়েছে পেছনে। একটু পরে বাঘটাও বনের মধ্যে অদৃশ্য হয়ে গেলো। শত্রুর উপস্থিতি কেমন করে মানুষটা টের পেলো জানি না, কিন্তু প্রায় সঙ্গে সঙ্গেই সে বন থেকে ছুটে বেরিয়ে এলো। তারপর, মরা শুয়োরটাকে পথের মাঝে নামিয়ে রেখে একটা ঝোপের আড়ালে লুকিয়ে পড়ল। পরমূহর্তেই বাঘটা হাজির হল সেখানে এসে। মরা শুয়োরটাকে বার কয়েক দেখে নিয়ে, এদিক ওদিক চাইতে লাগল। কিছুক্ষণ ধরে মানুষ আর বাঘে চলল লুকোচুরি খেলা। খেলাটা হয়তো আনন্দদায়ক হতো যদি না জানোয়ারটার আকৃতি ওরকম ভয়ঙ্কর না হতো। বিচিত্র কৌশলে দুজন দুজনকে ফাঁকি দিয়ে এক গাছ থেকে আর এক গাছের আড়ালে লুকোতে লাগল। একটু পরেই বাধ্য হল গাছের আড়াল থেকে বেরিয়ে আসতে। লুকানো জায়গা থেকে বেরিয়েই সে প্রাণপনে ছুটে চললো হ্রদের দিকে। বাঘটাও তাড়া করে চললো পেছন পেছন। দূরত্ব কমে আসতে লাগলো দুজনার মধ্যে। পরে বুঝতে পারলাম মানুষটা হ্রদের দিকে ছোটেনি, ছুটেছিলো, হ্রদের ধারের বড় বড় গাছগুলোর দিকে। প্রাণের ভয়ে যতদূর সম্ভব দ্রুত গতিতে ছুটতে ছুটতে এসে একটা বড় গাছের নীচু ডালটা ধরে ফেললো সে। তারপর শরীরটাকে সার্কাসের খেলোয়াড়ের মতো বাঁকিয়ে ওপরে ওঠবার চেষ্টা করতে লাগলো। বাঘটা ততক্ষণে গাছের নীচে এসে হাজির হয়েছে। হতভম্ব হয়ে সেও দেখছে লোকটার বিচিত্র কৌশল। হঠাৎ মট মট করে ভেঙ্গে পড়লো ডালটা। সাক্ষাত মৃত্যুর মতো নীচে অপেক্ষমান বাঘটার মুখের সামনে পড়তে লাগলো মানুষটা হাত বাড়িয়ে পাশের ডালটা ধরবার ব্যর্থ চেষ্টা করলো একবার সে। জানি না ডালটা সে ধরতে পারলো কি না, কিন্তু সেই মুহূর্তে আমার দিকে চাইলো সে। হলদে চোখ দুটো ভয়ে কোটর থেকে বেরিয়ে আসতে চাইছে, গলার ভেতর থেকে একটা চিৎকার ও বোধহয় বেরুলো তার, যদিও সে চীৎকার আমার কানে গেলো না। তারপর… তারপর কি ঘটেছে মনে নেই। কেবল এইটুকু মনে আছে যে জ্ঞান হারাবার আগে সেই মৃত্যুপথযাত্রী মানুষটার আর্ত চীৎকারের সঙ্গে সঙ্গে আমার গলা থেকেও বেরিয়েছিলো তীব্র হৃদয়বিদারী চীৎকার, কারণ পরিষ্কার দেখতে পেলাম সেই আদিম মানুষটার দেহে আমারই মুখটা বসানো!

    জ্ঞান ফেরবার পর দেখলাম অধ্যাপক সান্যালের পড়ার ঘরে বসে আছি। অধ্যাপক, আর মোতিয়া ঝুঁকে পড়েছে আমার দিকে। গলার মধ্যে ব্রাণ্ডির জ্বলন্ত স্পর্শ।

    মোতিয়া আস্তে আস্তে বললে, “বেচারা! ভীষণ ভয় পেয়ে গেছিলো।” অধ্যাপক ইসারায় ওকে চুপ করতে বললেন। কাঁপুনিটা অনেকটা কমেছে তখন। নিজের অবস্থা বুঝতে পারছি। অধ্যাপক আমার একটা হাত কাঁধে তুলে আমাকে খাবার ঘরে নিয়ে এলেন। গরম কফি সত্যিই যথেষ্ট শক্তি জোগালো দেহে এবং মনে। যা যা দেখেছিলাম সব কথা তাঁকে খুলে বললাম। আনন্দে আর উত্তেজনায় চোখ দুটো চক চক করে উঠলো অধ্যাপকের।

    “চমৎকার! চমৎকার! কি দৃশ্য তুমি দেখলে তুমি বুঝতে পারছো না? যে জলাভূমিটা দেখলে ওটা, আমার মনে হয়, জুরাসিক যুগের শেষের দিকের। প্রাগৈতিহাসিক জন্তু জানোয়ারে পূর্ণ জায়গাটা। প্রথমে যে বাদুড়ের মতো পাখী দুটো দেখলে ওগুলো ভয়ঙ্কর টেরোডাকটিল ছাড়া আর কিছুই নয়। বহু দিন আগে ওদের বংশ নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে পৃথিবী থেকে। বুনো বাঘটাকে তুমি ঠিকই চিনতে পেরেছিলে, আর ঐ মানুষটা যদি তোমার কোন সুদূর পূর্বপুরুষ হয়, তবে বুঝতে হবে যে মৃত্যুর হাত থেকে সেদিন কোন রকমে রক্ষে পেয়ে গেছিলো। না হলে তার সেদিনের সেই অভিজ্ঞতার স্মৃতি তোমার মনে এলো কেমন করে? আমার বক্তব্য হচ্ছে, যে সব ঘটনার সঙ্গে তোমার সেই সুদূর অতীতের স্মৃতি জড়িত সেই জাতীয় কতকগুলো বর্তমান কালের ঘটনা দিয়ে সেই স্মৃতিকে জীবন্ত করে তুলেছি আজ, আবার। তোমার মাছ ধরার ঘটনা, এখানে আসবার সময় ভাঙ্গা ব্রীজের ওপর থেকে পড়তে পড়তে অল্পের জন্য বেঁচে যাওয়া, এবং ঠিক তারপরেই আমার বক্তৃতা তোমার স্মৃতির কোন বিশেষ একটি তন্ত্রীতে ঝঙ্কার তুলে অবচেতন মনের অতল থেকে বহু যুগ আগের বংশপরম্পরায় সঞ্চিত স্মৃতিকে জাগিয়ে তুলেছে। তার ওপর, আমার ঐ যন্ত্রটা হিপনোটিক্‌, মানে সম্মোহনী শক্তির সাহায্যে সেই স্মৃতিকে তুলে এনেছে একেবারে চেতন মনের ওপরের তলে। আমার থিওরীটা এবার নিশ্চয় বুঝতে পারছো?”

    .

    প্রথম প্রকাশ: আশ্চর্য!, সেপ্টেম্বর, ১৯৬৮

    Augustus Somervile-এর The Time Probe অবলম্বনে।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleপ্রেত-প্রেয়সী – অদ্রীশ বর্ধন
    Next Article আদিম আতঙ্ক – অদ্রীশ বর্ধন

    Related Articles

    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়

    বিপিনের সংসার – বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়

    January 8, 2026
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    ভয় সমগ্র – হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    December 9, 2025
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    কিশোর অ্যাডভেঞ্চার সমগ্র – হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    December 9, 2025
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    প্রকাশ্য দিবালোকে – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    November 18, 2025
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    তারপর কী হল – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    November 17, 2025
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত

    শর্ম্মিষ্ঠা নাটক – মাইকেল মধুসূদন দত্ত

    November 11, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Our Picks

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }