Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    সেরা আশ্চর্য! সেরা ফ্যানট্যাসটিক (প্রথম পর্ব) – সম্পাদনা : অদ্রীশ বর্ধন

    লেখক এক পাতা গল্প464 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    জয়পুরের সেই অদ্ভুত ট্যুরিস্ট • দেবাশিস বন্দ্যোপাধ্যায়

    ট্যুরিস্ট ব্যুরোর চাকরি নিয়ে প্রথম আমার কর্মক্ষেত্র হল জয়পুর। জয়পুরে মাত্র মাস তিনেক ছিলাম—তারপরেই আমাকে বদল হয়ে কোলকাতায় চলে আসতে হয়েছিলো। কোলকাতায় আজ বছর পাঁচেক হতে চললল, কিন্তু স্বল্পদিনের মেয়াদ হলেও জয়পুরের কথা আমি এখনো ভুলতে পারিনি। আমার চাকরি জীবনের প্রথম কর্মক্ষেত্র বলে তো বটেই—তা ছাড়া এমন একটি অভিজ্ঞতা জয়পুরে আমি একদিন সঞ্চয় করেছিলাম যে ভাবতে বসলে গায়ে কাঁটা দিয়ে ওঠে আজো—ভয় পাই—এবং সত্যি কথা—আমার অভিজ্ঞতার যে-ঘটনা ঘটতে দেখেছিলাম তার কোন ব্যাখ্যা ও সম্ভাব্যতা আজো আমি খুঁজে পাইনি। বলতে গেলে এরকম অভিজ্ঞতা মানুষের জীবনে একবারই মাত্র আসতে পারে—আজ এখন এখানে যে ঘটনার কথা আপনাদের জানাচ্ছি, আপনারা যদি তার কোন ব্যাখ্যা ও কার্যকারণ-সূত্র আবিষ্কার করতে পারেন, অনুগ্রহ করে আমাকে জানাবেন। ‘আশ্চর্য!’ পত্রিকার ঠিকানায় বা সম্পাদকের দপ্তরে চিঠি দিলে, আপনাদের চিঠি পেতে আমার দেরী হবে না।

    তখন গ্রীষ্মকাল। বলতে গেলে রাজস্থানের বিস্তীর্ণ ধূ ধূ মরুভূমি অঞ্চলের জন্যে এই দিকে গরম ও উষ্ণ তাপ প্রবাহের মাত্রা খুব বেশি। সেবার গরমটাও খুব অস্বাভাবিক রকম বেশি পড়েছিল। টুরিস্ট ব্যুরোতে দু’টো ফ্যান খুলে বসে থাকলেও স্বস্তি নেই। জানালায় জল-ছিটানো খসখসের পর্দা। তবুও দমকা হাওয়া থেকে থেকে তপ্ত আগুনের ভাপ ঘরে ঢুকছিল। বাইরে দারুণ লু বইছে। এইরকম গরমের দিনে জয়পুরের ট্যুরিস্ট ব্যুরোতে টুরিস্টদের আগমন একেবারেই হয় না বললে চলে। টুরিস্টরা এখানে এসে কি দেখবে? হাওয়া মহল, নোংরা সরু সরু রাস্তাঘাট, গলিঘুঁজি, টাঙা, রাজস্থানী মেয়েদের উজ্জ্বল ঘাগরার শোভাযাত্রা, রুপোর গহনা, ভারী ভারী পায়ের মল, নাকের নথ, গলার হাঁসুলি—এইসব। আর এ ছাড়া থাকলই বা কী! উঁচু নীচু পাহাড়ী মরুভূমি, বালির ঝড়, উট, রাজপুত রাজাদের কয়েক শতাব্দীর পুরানো পরিত্যক্ত দুর্গঘর, প্রকাণ্ড প্রকাণ্ড প্রাকার, আর কোনো কোনো ক্ষয়িষ্ণু খানদানী বংশে বিচ্ছিন্ন কিছু কাংড়া কলমের ছবির দীন সংগ্রহ। এসব দেখার ইচ্ছে হলে যে কোনোদিন হেমন্তে বা শীতে আসা যায়। তখন জার্নি ও ভ্রমণ দুটোই ইন্টারেস্টিং হবে। তাছাড়া বিদেশীরা রাজস্থানের গরম খুব একটা সহ্য করতে পারেন বলে শুনিনি। তার ওপরে আছে গরমের সময় প্রচণ্ড জলকষ্ট। অগভীর ইদারায় নোংরা জল আন্‌ফিল্টারড্‌ অবস্থায় দেখেই তো বিদেশীদের মূর্ছা যাবার উপক্রম। সুতরাং এসব জেনেই ট্যুরিস্ট ব্যুরোর আপাতশীতল কক্ষে দিবানিদ্রার আয়োজন করছিলাম। ভাত ঘুম নয়, রুটি ঘুমটা যে খুব রমণীয় হবে না জানা ছিল—কিন্তু একেবারেই যে হবে না; উপরন্তু প্রচণ্ড রৌদ্রের মধ্যে শরীর ও চেহারা নষ্ট করে বাইরে বেরুতে হবে তা’ কী জানা ছিল! সবে দুটো চোখের পাতা এক করেছি ভারী বুটজুতোর শব্দে ঘুম ভেঙে গেলো। যিনি ঘরে এলেন তাঁকে প্রথম দর্শনেই বুঝতে দেরী হল না যে, এক অদ্ভুত সাধারণ-দশবিশটা মানুষের থেকে স্বতন্ত্র একজন মানুষ। ছন্নছাড়া ভবঘুরে কিংবা মামুলী ধরনের পাগল হওয়াও বিচিত্র নয়। রোদে-পোড়া মুখ, ঘামে স্যাঁতস্যাঁত করছে, রুমাল দিয়ে ঘাম মুছে নেওয়ার এতটুকুও ইচ্ছে হল না, এখন মনে হয় আত্মভোলা মানুষটি রুমালের ব্যবহার জানতেন কিনা সন্দেহ। ক্লোজক্রপড্‌ চুল, ঘামে জবজব করছে সমস্ত শরীর—সিল্কেন চেক বুশ শার্ট, বহু ব্যবহারে জীর্ণ টেরিকর্ডের ইয়াংকি লংপ্যান্ট—আর পায়ে ততোধিক জীর্ণ মিলিটারী বুট জুতো। বয়স পঁয়ত্রিশ থেকে চল্লিশের মধ্যে। ভদ্রলোকের নাম এখনো মনে আছে, টমাস ব্রিউ। অনেক মানুষের ভিড়ে ঐ মানুষটির চেহারা এখনো আমার মনের মধ্যে থেকে হারিয়ে যায়নি। আগেই বলেছি কোথায় যেন ওঁর একটা স্বাতন্ত্র ছিল—তাই ভুলতে পারি না।

    বিদেশী ভদ্রলোক ইংরাজীতে ভাঙা ভাঙা কথা বলা শুরু করেছিলেন। ওঁর দাদা বৃটিশ মরিশাস দ্বীপ থেকে কাঁচালঙ্কা ও অধুনালুপ্ত গোডোপাখির চালান নিয়ে প্রায়ই ভারতবর্যে আসতেন। বছরে তিনবার কখনো বা চারবারও তাঁকে ইণ্ডিয়ায় আসতে হতো। এমনই একবার মাল-জাহাজে চালান তিনি ভারতবর্যে এনেছিলেন। প্রথমে মাদ্রাজ, সেখান থেকে ওয়ালটেয়ার, কোয়েম্বাটুর, পরে উত্তরপ্রদেশের নৈনিতালে কিছু কিছু চালান খালাস করে তিনি এসেছিলেন জয়পুরে। জয়পুরে তিনি তাঁর আমদানী দ্রব্যের অবশিষ্টাংশ বিক্রী করতে পেরেছিলেন বলে শোনা যায়। কিন্তু জয়পুর থেকে তাঁকে আর কেউ দেখতে পায়নি। উনি কোথায় গেলেন, দেশে ফিরলেন, নাকি জয়পুর থেকে কাছাকাছি কোনো গ্রামের দিকে চলে গেলেন, সেখানেই এখনো বসবাস করছেন কিনা তা কেউ বলতে পারে না। আজ তিন বছর তাঁর খবর পাওয়া যাচ্ছে না। ভদ্রলোক সম্পূর্ণ অজ্ঞাত কারণেই নিরুদ্দিষ্ট নিখোঁজ। মরিসাস দ্বীপে তার নিজের বলতে এই ভাই, ছোটো খামার বাড়ী আর কিছু চষা জমি। ভাই আজ তিন তিনটি বছর ভাইয়ের জন্যে অপেক্ষা করছে। শেষে আর থাকতে না পেরে জমিজমা খামারবাড়ী সব বিক্রী করে ইণ্ডিয়ার পাড়ি জমানোর টাকা জোগাড় করেছে—এবং সোজা এসে উঠেছে জয়পুরে। কারণ সে শুনেছিলো এখানেই তার দাদাকে শেষ দেখা গিয়েছিলো। বাজারের পাইকারী ব্যবসাদারেরা যারা ওঁর দাদা ভিলানের কাছে মালপত্র কিনতো ওঁকে বলেছে যে উনিশে মে-র পর হঠাৎ ভিলানকে কেউ আর খুঁজে পায়নি—এমনকি ভদ্রলোক তাঁর পাওনা টাকা পয়সা তুলতেও বাজারে আসেননি। ক্যালেণ্ডারের দিকে তাকিয়ে আমি চমকে উঠলাম—আজ আর এক উনিশে মে। এমনি একটি দিনে আমার সামনে দণ্ডায়মান বিদেশী ঐ ভদ্রলোকের দাদা রহস্যজনক ভাবে নিরুদ্দিষ্ট হয়ে গেছেন—আর আজ ছোটো ভাই এতদূরে ছুটে এসেছে। চঞ্চল হয়ে-হারিয়ে যাওয়া দাদাকে যদি আবার ফিরে পাওয়া যায়, যদি জানা যায় দাদা কি বেঁচে আছেন—বেঁচে থাকলে কোথায় আছেন, কেমন আছেন, আর তিনি কি একদিনের জন্যেও তাঁর প্রিয় সবুজ সোনালী সেই দ্বীপদেশে ফিরে যেতে চান না!!

    আমি একটু মুস্কিলে পড়লাম। ট্যুরিস্ট ব্যুরোতে যারা আসেন তাঁরা সচরাচর গাইড সংগ্রহের জন্যেই আসেন। এই দেশের দর্শনীয় জায়গাগুলো দেখাতে এবং এক একটি জায়গার ঐতিহাসিক পৌরাণিক কিংবা লৌকিক উপাখ্যান ও কিংবদন্তীগুলো বিদেশীদের সহজ কথায় বুঝিয়ে দিতে গাইডরা সচরাচর তাদের সাহায্য করে থাকেন। এই ভদ্রলোক গাইড সংগ্রহের জন্যেই এসেছেন—কিন্তু কোনো দর্শনীয় জায়গা ঘুরে দেখার ইচ্ছে বা সময় ওঁর নেই। ওঁর ধ্যান-ধারণা শুধু দাদাকে বের করা। তাই এই গ্রীষ্মের প্রচণ্ড সূর্য উত্তাপ অগ্রাহ্য করেও তিনি জয়পুরের টুরিস্ট ব্যুরোতে ছুটে এসেছেন। একজন বিলায়েবল গাইড নিয়ে তিনি জয়পুরের পথ থেকে পথে—এবং তাঁর বাইরের ঈষৎ বিস্তীর্ণ মরুভূমি অঞ্চলে ঘুরে বেড়াতে চান—যদি দীর্ঘ তিনটি বছর পর আজ কোনো গতিকে দাদার সঙ্গে দেখা হয়ে যায়, যদি দেখা হয়, তাকে জিজ্ঞেস করবেন তুমি এখানে কি পেয়েছে, তোমার এখানে থাকার দরকার কি? আমি বললাম, এই ব্যাপারে আপনি তো পুলিশের সাহায্য নিতে পারেন। মিসিং পার্সনসদের ব্যাপারে পুলিশ আপনাকে যথেষ্ট খোঁজ খবর দিতে পারে, এবং সেটাই খুব নির্ভরযোগ্য। পুলিশের সাহায্য নিতে টমাস রাজী নন। ওঁর ইচ্ছা, নিজেই দাদাকে খুঁজে বের করা—কিন্তু এই দেশটার কোন কিছুই তো জানা নেই—সবকিছুই তো ওঁর অচেনা—আর তাই একজন উৎসাহী ইয়ং গাইড ওঁর দরকার। আমার প্রোগ্রাম রেকর্ড করিয়ে ট্যুরিস্ট ব্যুরোর বাইরে যখন এলাম তখন ঘড়িতে চারটে। বিকেলবেলা। কিন্তু গরমের কি কমতি আছে? আর তখনো কী রোদ! গায়ের চামড়া পুড়ে যাওয়ার মতো অবস্থা। আমরা একটা টাঙা নিলাম।

    ‘আমার দাদা ব্যবসায়ী মানুষ হলেও খুব খেয়ালী মানুষ ছিলেন। কেমন যেন

    অন্যমনস্ক হয়ে যেতেন। একা একা কী সব ভাবতেন। আর তেমনই নিঃসঙ্গ জ্যোৎস্নায় সমুদ্রতীরে বেড়াতে ভালবাসতেন। বালির ওপর দাদার ছায়া পড়তো। দীর্ঘ সুন্দর। সে সময় দাদাকে খুব রহস্যময় মনে হতো। প্রাচীন কালের মহান্ মুনিঋষিদের সঙ্গে তুলনা করতে ইচ্ছে হতো।’

    এই টমাস নামক ভদ্রলোকটিকে স্মৃতিচারণায় পেয়েছে। আমাদের টাঙাও যথারীতি এগিয়ে চলেছে। শহরের প্রধান প্রধান রাস্তার দু’একটি পরিক্রমা শেষ হয়ে গেছে ইতিমধ্যে। ওঁর চোখ কিন্তু রাস্তার দিকে। দুপাশের চলমান অনেক মানুষের ক্লান্তিকর ভিড়ের মধ্যে পরিচিত প্রিয় একজন মানুষকে খুঁজে পেতে চাইছে।

    ‘স্প্যানিশ জিপস আর অ্যারাবিয়ান টিউন ছিল দাদার প্রিয়। লোকসঙ্গীত প্রাণ দিয়ে শুনতেন। কখনো কখনো বলতেন, শুনতাম, লোকসঙ্গীত থেকে এখনো অনেক বৈচিত্র্যময় সঙ্গীতের জন্ম হতে পারে। স্কুল কলেজের শিক্ষা দাদার বিশেষ ছিলো না। কিন্তু কত দেশের সাহিত্যই যে পড়তেন। আমার মনে পড়ে টমাস মান দাদার ভালো লাগতো। কবিদের মধ্যে প্রিয় ছিলেন গটফ্রীড বেন। কোন্‌ কবিতাটা দাদা খুব পড়তো জানেন? ‘একটি শব্দ’। দাদাকে কতোবার ঐ কবিতাটা নিজের মনেই আবৃত্তি করতে দেখেছি। নিজে কবিতা আবৃত্তি করে যেন নিজেকেই শোনাচ্ছেন।’

    ‘একটি শব্দ’ আমিও পড়েছিলাম। বাংলা অনুবাদটাও এত ভালো লাগে। গোটা কবিতাটাই আমার মনে আছেঃ

    একটি শব্দ, বাক্‌রীতি এক, শূন্য থেকে

    বিজয়ী জীবন উত্থিত, উদ্দীপ্ত বোধি,

    সূর্য স্তব্ধ, মূক দিগন্ত, সবই একে

    ঘিরে ঘিরে দেয় শক্তি, এবং সুসংহতি,

    শব্দ, রশ্মি, আকাশবিহার, ফুলকি আলোর

    অগ্ন্যুচ্ছ্বাস, নক্ষত্রের আভাস, জ্বলে,

    তারপরে ফের গভীর গভীর দিনান্ত ঘোর,

    আর আমি এই সঙ্গবিহীন ভূমণ্ডলে॥

    জয়পুরের এই রাস্তায় প্রায় পড়ন্ত ম্লান এক বিকেলে একজন অচেনা মানুষ, যাকে আমি কোনদিন দেখিনি তার সম্বন্ধে আমার ধারণা হল সত্যি সত্যিই মানুষটি খুব একা ছিলেন, নিঃসঙ্গ—অনন্ত সৃষ্টিলোক এবং নিরন্তর শিল্পমণ্ডলকে তিনি নিরুচ্চার বেদনায় ভালোবাসতেন, খুব নিজের মনে করতেন, আর তাই গটফ্রীড বেনের ঐ কবিতায় তিনি পেয়েছিলেন নিজের বিষন্নতার প্রতিচ্ছবি—অখ্যাত মরিসাস দ্বীপের ততোধিক অখ্যাত ব্যথাতুর মলিন এক মানুষের যন্ত্রণার মানচিত্র ঐ কবিতা যা আমাকে ঐ মুহূর্তে মানুষটি সম্বন্ধে অসীম শ্রদ্ধা জাগাচ্ছে।

    ‘আর একটা কথা আপনাকে বলা হয়নি’—টমাস ব্রিউ বললেন, ‘দাদা খুব ভালো ছবি আঁকতেন। অবাক হয়ে যাবেন শুনলে রঙ তুলি ক্যানভাস কিংবা কোনো কাগজ-কলম তিনি ব্যবহার করেননি। বলতে গেলে ছবি আঁকার কোন সরঞ্জামই দাদার ছিলো না। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনক যে, তাঁর সেই সুন্দর সুন্দর ছবিগুলোকে রক্ষা করা আমাদের পক্ষে কোনক্রমেই সম্ভব ছিলো না।’

    আমি ব্রিউয়ের দিকে তাকালাম। ব্রিউ স্মৃতিচারণার মধ্য দিয়ে হারানো স্নেহের মানুষটিকে কিছুক্ষণের জন্যে ফিরে পেতে চাইছেন। ওঁর আত্মমগ্ন উচ্চারণ আমাকেও স্পর্শ করেছে।

    ‘দাদা ছবি আঁকতেন, কী আশ্চর্য জানেন—সমুদ্রতীরের বালির জমিতে। ছড়ানো বেলাভূমিতে বিকেলবেলায় তিনি ছবি আঁকা আরম্ভ করতেন, আর কখন অন্ধকার এসে আকাশ এবং সমুদ্রকে একটা অলৌকিক কালো চাদরে মুড়ে দিয়ে যেতো তিনি বুঝতেও পারতেন না। ততক্ষণে ওঁর ছবি আঁকা শেষ হয়ে যেতো। কোন ছবিই অসম্পূর্ণ থাকতো না।

    ‘অনেক বিখ্যাত ছবির প্রতিলিপিও তিনি তৈরি করতেন। আর ওই বিষয়ে ওর দক্ষতা ছিলো অসাধারণ। সাগালের ‘এ্যাট ডাস্ক’, গগাঁর ‘মেটারনিটি’, পিকাসোর ‘নুয়েণিকা’ ‘গার্লস’, ডালির ‘ল্যাণ্ডস্কেপ’—এসব তিনি কতবার আঁকতেন আর মুছে ফেলতেন। ছবিগুলো সমুদ্র সৈকতে একটা আলাদা ডাইমেনসন পেয়ে যেতো। আর, দাদা নিজের ইমাজিনেশনে যেসব ছবি আঁকতেন তারও তুলনা মেলা ভার। অনেক সময় ব্লেক, স্যাণ্ডবার্গ, হোল্ডারলিন, হিমেনেৎ, উনগারেডি, ভালেরি, ক্লোদেল উইলিয়ামস এঁদের কবিতা থেকে ছবির বিষয়বস্তু সংগ্রহ করতেন। আমার স্থির বিশ্বাস, ছবিগুলো যদি ক্যানভাসে আঁকা হতো—এক একটি অমূল্য সম্পদ বলে গণ্য হতো। কিন্তু ক্যানভাসের চার কোণের সীমাবদ্ধ জায়গায় ছবি আঁকায় ছিলো দাদার অনিচ্ছা বলতে গেলে ক্যানভাসকে তিনি ঘৃণা করতেন।’

    টমাস ব্রিউয়ের মুখে শেষ বিকেলের এক ফালি নিস্তেজ আলো এসে পড়েছে। এক ধরনের অস্থির উজ্জ্বলতা, যা বেশীক্ষণ স্থায়ী হয় না—ওঁর চোখের ওপর, কপালে, গালের অংশে। বিকেলের এই তির্যক আলোয় যে মানুষটি আমার পাশে চিন্তিত, নিয়তিগ্রস্ত মানুষের মতো বসে আছে—তার অতীত বর্তমান সম্বন্ধে আমি কতটুকু জানি!

    ‘বিকেলের আঁকা ছবি রাতের ঢেউ নিমর্মভাবে মুছে দিয়ে যেতো। এ ছিলো রোজকার নিয়ম, নিত্যনৈমিত্তিক ঘটনা। এই ঘটনা দেখে দেখে আমরা অভ্যস্ত হয়ে গিয়েছিলাম। উদ্বেল দুরন্ত ঢেউ দাদার সব ছবিকে নিয়ে গেছে—দাদা আবার পরের দিন ছবি এঁকেছেন। যেন জানতেন নির্লিপ্ত ঢেউ হচ্ছে ছবিগুলোর নিয়তি, যেন জানতেন ঢেউ এসে সব মুছে দিয়ে যাবে। তার ছবি আঁকার সমস্ত পরিশ্রম যে রাতের ঢেউয়ের অত্যাচারে বৃথাই অপব্যয়িত হয়—তার জন্যে দাদার কোন দুঃখ বা হা-হুতাশ ছিলো না—হয়ত তিনি ভাবতেন পৃথিবীর কিছুই থাকে না, কিছুই স্থায়ী হয় না।’

    ‘মিঃ ব্রিউ, ঘণ্টাখানেক শহরের সমস্ত রাজপথই আমরা ঘুরে দেখলাম। আপনার দাদাকে আমি খুঁজে পাইনি। তিন বছর আগে যিনি হারিয়ে গেছেন, তাঁকে হয়ত এভাবে খুঁজে পাওয়া যাবে না। আমাদের আন্তরিক চেষ্টাও ব্যর্থ হতে বাধ্য। আপনি বরং সংবাদপত্রে বিজ্ঞাপন দিন, পুলিশের সাহায্য ও পরামর্শ গ্রহণ করুন। পুলিশের হেল্পিং হ্যাণ্ড আপনি সব সময় আশা করতে পারেন। হয়ত ভারতবর্ষে আপনাকে কিছুদিন থেকে যেতে হবে। আজকে এখানে সামান্য একজন গাইডের কয়েক ঘণ্টার সহায়তা ও গুড উইল কিভাবে আপনাকে আপনার দাদার সংবাদ এনে দিতে পারে?’ আমি মনে মনে এবার একটু অসন্তুষ্ট হলাম। টমাস ব্রিউ ওঁর দাদাকে খুঁজে বের করার জন্যে যে উপায় অবলম্বন করেছেন, তা যে আদৌ কার্যকরী হবে না, সে বিষয়ে সন্দেহের কোন অবকাশ নেই।

    আমি ব্রিউয়ের দিকে তাকালাম। বেচারা হতাশায় প্রায় ভেঙে পড়েছে দেখে আমার কষ্ট হল। ব্রিউয়ের জন্যে আমার সমবেদনা উৎসারিত হল।

    ‘আমি ইণ্ডিয়ার সমস্ত সী বিচ ও রিসর্টগুলো ঘুরে দেখতে চাই—তার আগে আশেপাশের মরুভূমি অঞ্চলগুলোতেও আমাকে যেতে হবে।’

    ‘শহরের বাইরে মাইল খানেকের মধ্যেই ছোট একটা মরুভূমি আছে। চলুন, বেলা বেশী নেই, আপাতত ওখানেই যাওয়া যাক্‌। আমরা সন্ধ্যের মধ্যেই ফিরতে পারবো, পরে আপনি জয়পুর থেকে দূরে মরু অঞ্চলে যাওয়ার সুযোগ পাবেন।’ আমার কাজ নয় এইভাবে নিরুদ্দিষ্টের সন্ধানে ঘুরে বেড়ানো। কিন্তু ব্রিউয়ের কথা ভেবে ওকে এই বিদেশে-বিভূঁইয়ে একা ছেড়ে দিতে ইচ্ছে হল না।

    আমরা একটা চটির কাছে গিয়ে টাঙা থেকে নামালাম। ওই টাঙাতেই আবার জয়পুরে ফিরে যাবো। টাঙা আমাদের জন্যে অপেক্ষা করবে। পশ্চিমে সূর্য ঢলে পড়েছে। পোড়া মানুষের দগ্ধ ঝলসানো কর্কশ চামড়ার মতো আকাশের রং। খুব অল্প অল্প হাওয়া দিচ্ছে। হাওয়াতে এখনো উষ্ণতার আমেজ। একটা ছোট ফণিমনসা কাকটাসের ঝোপ পাশে রেখে আমরা সোজাসুজি পশ্চিমের বালির পাহাড়ের দিকে এগিয়ে যেতে লাগলাম।

    পাশেই একটা পুরানো পরিত্যক্ত কেল্লা। বুরুজ ও কেল্লাপ্রাচীর। বেশ খানিকটা

    বালির জায়গা জুড়ে কেল্লাবুরুজ ও প্রাচীবের অদ্ভুত লম্বা এক ছায়া পড়েছে। প্রাগৈতিহাসিক অতিকায় জন্তুর কঙ্কালের মতো ছায়াটা পড়ে আছে। ইতস্তত দু’ একটা কাঁটা গাছ থেকে শেষ আলোটুক সরে গেছে কখন। এই মুহূর্তে আমাদের নিজেদের খুব বিষণ্ণ নীরব নির্জন বলে মনে হল। বিশাল, বিস্তৃত প্রকৃতির মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আমাদের অস্তিত্ব যে কত ছোট আমরা উপলব্ধি করলাম। আমরা অভিভূত হয়ে পড়েছিলাম। বিষণ্ণতা আমাদের মধ্যে একটা সিল্যুয়েট মূর্তি পাচ্ছিল।

    কিন্তু একি? আমার পাশে টমাস নেই! ও কেন সামনের দিকে ছুটে যাচ্ছে? আর সামনে সূর্যের আড়াআড়ি মরুদিগন্তের বিস্তীর্ণ এলাকার দিকে চোখ পড়তেই আমার সারা শরীরে কাঁটা দিয়ে উঠলো! এবড়ো-খেবড়ো বালির জমিতে প্রহর শেষের স্নান সূর্যের আলোয় একটি বৃদ্ধকল্প মানুষ পরম নিষ্ঠায় বড়ো বড়ো ছবি এঁকে যাচ্ছেন। কে উনি? উনিই কি টমাসের দাদা? সমুদ্রের বেলাভূমিতে নয়, মরুভূমির উষর ধু-ধু জমিতে আঁকা তাঁর জীবন শিল্পের সঙ্গে পারমার্থিক এক খেলা শুরু করেছে, জীব-ধরিত্রীতে অজস্র জন্মচক্র পরিক্রমা করেও যে খেলার শেষ নেই, যে খেলার প্রকৃতি তাঁকে তাবসর নেবার সুযোগ দিচ্ছে না।…কিন্তু আমি এখন কোথায় দাঁড়িয়ে আছি? পায়ের নিচের জমির দিকে চোখ পড়তেই আমি কেঁপে উঠলাম। …ঠাণ্ডা একটা স্রোত রক্তের শিরা উপশিরায় বয়ে গেলো। আমি দাঁড়িয়ে আছি সাগালের ‘অ্যাট ডাস্ক’ ছবিটির প্রতিলিপির ওপর। আমি যত তাড়াতাড়ি সম্ভব ছবির বাইরের অংশে খোলা বালির ওপর দাঁড়াবার চেষ্টা করলাম। আমার জুতোর বাবার সোলের দাগ ছবির গায়ে কয়েকটা ধারালো ছুরির নিষ্ঠুর দাগের মতো দপ্‌দপে হয়ে জেগে রইলো। কিন্তু একি? যেখানে দাঁড়ালাম সেখানেও আর একটা ছবি! আমরা কখন ছবির সাম্রাজ্যে এসে উপস্থিত হয়েছি বুঝতে পারিনি। জুতোর সোল দিয়ে এইসব শ্রেষ্ঠ ছবির নিদর্শনগুলোকে অপমান কিংবা পদদলিত করার অধিকার আমার নেই। আমি পাপবোধ ও বিবেক দংশন অনুভব করলাম। আমি পালিয়ে আসার চেষ্টায় দৌড়ানো শুরু করলাম। ভূত দেখে ভীষণ ভয় পেয়ে পালিয়ে আসার মতো অবস্থা হল আমার। আর বিস্ময়ে আতঙ্কে আমি লক্ষ্য করলাম এতক্ষণ আবার দাঁড়িয়েছিলাম সাগালের পাশের ছবি রুবেক্সের ‘দা ডেড্‌ ক্রাইষ্ট’ ছবিটির ওপর। গ্রামের চটি লক্ষ্য করে একটানা অনেক দৌড়ানোর ফলে হাঁপানি এলো। প্রায় হোঁচট লেগে পড়ে যাচ্ছিলাম। আমার ট্রাউজার্সের অনেকটা ছিঁড়ে গেলো। দারুণভাবে ঘেমে যাচ্ছি, হাত-পা থরথর করে কাঁপছে—আমি দাঁড়িয়ে পড়লাম। পিছনের দিকে তাকাতে সাহস হচ্ছিল না। ব্রিউয়ের কথা সম্পূর্ণ ভুলে গেছি তখন। আমি তখন নিজেকে সামলাতে ব্যস্ত। মোট কথা, কতক্ষণ পরে জানি না, মরুভূমির দিকে যখন ফিরে তাকালাম, দেখলাম—বিকেলের অন্তিম আবছা আলোয় টমাস হাজার হাজার ছবির ওপর দিয়ে সেই রহস্যময় অলৌকিক শিল্পীকে দু’টি সবল হাতে জড়িয়ে ধরবার জন্যে এগিয়ে যাচ্ছেন আর সেই ক্ষমতাবান শিল্পী বয়সের ভার অগ্রাহ্য করে কত সহজেই ওর কাছ থেকে নিরাপদ দূরত্বে নিজেকে সরিয়ে নিচ্ছেন। টমাস তাঁর ধরাছোঁয়াও পাচ্ছেন না। আর চঞ্চল উদ্ৰান্ত টমাসের গোড়ালির আঘাতে প্রতিটি ছবির শরীর ক্ষতবিক্ষত হয়ে যাচ্ছে। সেই দৃশ্য কী করুণ, কী ভয়ঙ্কর! কোন বর্ণনায় সম্ভব নয়। ঘটনার যথাযথ ছবিটি তুলে ধরা। আমি চীৎকার করে উঠলাম—‘টমাস, ডিয়ার টমাস, ছবিগুলো নষ্ট করবেন না; আমার কথা শুনুন, প্লিজ কাম ব্যাক, প্লিজ… টমাস…।’ কিন্তু কে কার কথা শোনে। টমাস তখন উন্মাদ; কিংবা আমার চীৎকার ও হয়ত শুনতে পায়নি। শোনার মতো কান তখন ওর ছিল না। আমার বুঝতে দেরী হল না যে, টমাস মরিসাস দ্বীপ থেকে হাজার হাজার মাইল দূরে, এখানে এই মরুপ্রান্তরে ওঁর দাদাকে খুঁজে পেয়েছেন। ছবিগুলো ওঁর কাছে ধর্তব্য নয়, ছবি যিনি আঁকেন সেই মানুষটিকে ওঁর প্রয়োজন। অনেকদিন পরে যখন মুখোমুখি দাঁড়াবার সুযোগ এলো, তখন টমাস ওঁর সহোদরকে ফাঁকা জনমানবশূন্য প্রান্তরে ফেলে যাবেন কোন দুঃখে?

    নির্বোধ হতবাক আমি পাথরের মূর্তির মতো নিশ্চল দাঁড়িয়ে থাকলাম। আজ ভাবি, কেন ওঁদের পশ্চাদ্ধাবন করিনি, আর কেনই বা আমি ভয় পেয়ে দৌড়ে পালিয়ে এলাম। এখন মনে হয় সেই গোধূলিবেলা, সেই নির্লিপ্ত শিল্পী, তাঁর যন্ত্রণাবিদ্ধ ছবি আর ছবির প্রতিলিপি—এসবের মধ্যে সেদিন সঞ্চারিত হয়েছিল কোন এক অলৌকিক শক্তি, কোন মহাপ্রাণ, রিয়ালিটির জগতে থেকে যার মোকাবিলা করা আমার পক্ষে সম্ভব হয়নি। কিন্তু এর পরের ঘটনা সর্বাধিক করুণ, বিয়োগান্তক। টমাস আর ওঁর দাদা দুজনেই একে অপরের পিছনে উঁচু বালিদিগন্তের ওপারে মিলিয়ে গেলেন। আমি স্তম্ভিত, অভিভূত, কিংকর্তব্যবিমূঢ়। দাঁড়িয়ে থাকলাম… দাঁড়িয়ে থাকলাম…। আমার বিচারবিবেচনা শক্তি লোপ পেয়েছিল। এখন মনে হয় ওঁদের জন্যে আমার হয়ত কিছুই করণীয় ছিল না, কিংবা হয়ত আমি টমাসকে অনুসরণ করে ওর পিছু পিছু যেতে পারতাম, তাহলে স্বচক্ষে টমাসের শেষ পরিণতি কি হল জানা যেতো। কিংবা আমি ওঁকে বাঁচাতে পারতাম। দুই ভাইয়ের পুনর্মিলন হয়ত সম্ভব হতে। টমাসের কাণ্ডজ্ঞান ছিল না, একটা স্বপ্ন ও আচ্ছন্নতার মধ্যে টমাস নিজেকে নিয়ে গিয়েছিলেন, অন্তত আমার দিক থেকে সক্রিয় চেষ্টা হলে ওঁকে হয়ত ফিরিয়ে আনা যেতো। কিন্তু আমার দুটো পা কেউ যেন স্ক্রু দিয়ে মাটির সঙ্গেই এঁটে দিয়েছিল। আমি হঠাৎ টমাসের নাম ধরে চীৎকার করে ডাকলাম। ‘আমি অপেক্ষা করছি, টমাস, আমি অপেক্ষা করছি’ —নক্ষত্রতিমির ও উদ্দাম মরুবাতাসের এলাকায় প্রতিধ্বনি আমাকে ব্যঙ্গ করে নির্মম উত্তর দিয়ে গেল।

    সেই বর্ণহীন সুষমাহীন অন্ধকারে বিশাল বিরাট শূন্যতার সামনে দাঁড়িয়ে থাকতে থাকতে আমার চেতনা চেনা-জানা স্পর্শের জগতের বাইরে অন্য কোথাও, অন্য কোন জগতে নিজেকে হারিয়ে ফেলেছিল। আমার শারীরিক আস্তত্ব ছিল কোন সন্দেহ নেই, কিন্তু আমার আত্মা, প্রাণ, বোধ ইত্যাদি এবং ইন্দ্রিয়ের শাসন স্থগিত ছিল। স্পষ্টতই সেই সময়টুকুতে আমার মধ্যে অনুপস্থিত ছিল বিংশ শতাব্দীর বিবেকবান, সচেতন, বিচারশীল সুসভ্য নাগরিকতার প্রতিনিধি। শুধু এখন মনে পড়ে, টমাসের জন্যে আমি অপেক্ষা করছিলাম। পথ চিনে ফিরে আসা কি ওঁর পক্ষে সম্ভব হবে! শিল্পী একাকীত্বের উপাসক। ভিলান তাই সমাজ সংস্কারের বন্ধন থেকে দূরে নিজেকে সমর্পণ করেছেন নিজের সাধনায়। আমার ভয় হল যখন ভাবলাম আসলে ভিলানকে আমরা দেখিনি, দেখেছি আমাদের মনেরই এক কল্পনাকে। মায়ামরীচিকার পিছনে তবে কি টমাস ওঁর জীবন দান করলেন? মনের ভুল ওঁকে নিয়ে গেল মৃতুর পথে? নিশ্চল অন্ধকারে আমি প্রাণহীন আমারই মাপের কাঠের পুতুলের মতো দাঁড়িয়ে থাকলাম। আমার কোন ভালমন্দ জ্ঞান ছিল না—আমি আর কোন কিছু ভাবতে পারছিলাম না। প্রাণ ও শরীর তখন জড় পদার্থের এক অংশ! আমাকে যে জয়পুরে ফিরে যেতে হবে ভুলে গিয়েছিলাম। কয়েক লক্ষ বছর ধরে আমি যেন এইভাবে আকাশতলে মরুপ্রান্তরে দাঁড়িয়ে আছি। আমি যেন মানব-সংসারে, আত্মীয়তার অবিচ্ছেদ্য বন্ধন—সবকিছুর থেকে বিচ্ছিন্ন। আমি যেন অভিশপ্ত প্রস্তরীভূত এক প্রহরী, ঘরবাড়ী, ব্যক্তিগত জীবন কিছুই আমার কোনকালে ছিল না, নেই। …অন্ধকারের মহামৌনতায় বিস্ময়ে ভয়ে নির্বাক আতঙ্কে কতক্ষণ দাঁড়িয়েছিলাম জানি না। সম্বিৎ ফিরে এলো টাঙাওয়ালার ডাকে।

    খানিকটা হেঁটে টাঙায় উঠতে হবে। এক দারুণ দুঃস্বপ্নের জগত থেকে ক্লান্ত শ্রান্ত পায়ে ফিরে আসছি আস্তে আস্তে। কৃষ্ণপক্ষের ছোট চাঁদ উঠেছে আকাশে নিষ্প্রভ অল্প দূরে মরুভূমির বালির চর চিকচিক করছে। অপ্রতিরোধ্য এক আকর্ষণ রয়েছে এখানে। কেমন এক অবাস্তব আলো-অন্ধকারময় জগত বলে মনে হল। ওখানেই আঁকা আছে অত্যাশ্চর্য অনেক অনেক ছবি। ছবির বুকে জুতোর দাগ।

    আমাদের টাঙা ছাড়ল। টমাস টাঙার যে আসনটিতে বলেছিলেন সেটি ফাঁকা। সেদিকে তাকিয়ে আমি বিষন্ন হলাম। চলমান টাঙায় মরুভূমির উষর পটভূমিতে আমি বিষণ্ণ হলাম আমাদের নিয়তির কথা ভেবে, ছায়া সংগ্রামের কথা ভেবে।

    হঠাৎ প্রচণ্ড, হু-হু চাপা ক্রন্দনের মতো এক আওয়াজ মরুভূমির দিক থেকে

    ভেসে এলো। অন্তরাত্মা কেঁপে ওঠার মতো সেই আওয়াজ!

    ‘আঁধি হো রহা হ্যায়।’—টাঙাওয়ালার আর্ত গুঞ্জরণ।

    মরুভূমিতে বালির ঝড় উঠল।

    .

    প্রথম প্রকাশ: আশ্চর্য!, ফেব্রুয়ারি, ১৯৬৫

    ব্রাডবেরির একটি গল্পের বীজ অবলম্বনে। গল্পটি বিজ্ঞান-গল্প। গটফ্রীড বেনের কবিতাটি অধ্যাপক অলোকরঞ্জন দাশগুপ্ত অনূদিত।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleপ্রেত-প্রেয়সী – অদ্রীশ বর্ধন
    Next Article আদিম আতঙ্ক – অদ্রীশ বর্ধন

    Related Articles

    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়

    বিপিনের সংসার – বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়

    January 8, 2026
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    ভয় সমগ্র – হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    December 9, 2025
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    কিশোর অ্যাডভেঞ্চার সমগ্র – হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    December 9, 2025
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    প্রকাশ্য দিবালোকে – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    November 18, 2025
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    তারপর কী হল – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    November 17, 2025
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত

    শর্ম্মিষ্ঠা নাটক – মাইকেল মধুসূদন দত্ত

    November 11, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Our Picks

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }