Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    সোনার কাঁটা – নারায়ণ সান্যাল

    নারায়ণ সান্যাল এক পাতা গল্প118 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    সোনার কাঁটা – ৬

    ৬

    বেলা প্রায় এগারোটা। নিজের ঘরে বসে কাবেরী তন্ময় হয়ে একখানা ছবি দেখছিল, ওরই ছবি। সিপিয়া রঙে ক্রেয়নে আঁকা। সদ্য সমাপ্ত। হঠাৎ দ্বারের কাছে প্রশ্ন হল, ভিতরে আসতে পারি?

    সচকিত হয়ে কাবেরী লক্ষ্য করে দ্বারপথে দাঁড়িয়ে আছেন চার-নম্বরের সুদর্শন ভদ্রলোক।

    —আসুন, আসুন। কী ব্যাপার?

    —কৌতূহলটা দমন করতে পারলাম না। ছবিটা দেখতে পারি?

    —দেখুন না! আপত্তি কিসের—ছবিখানা বাড়িয়ে ধরে কাবেরী।

    সুবীর জমিয়ে বসে একখানা চেয়ারে। সমঝদারের মতো ওর ছবিখানা দেখতে থাকে—কাছে ধরে, দূরে ধরে। দু-একবার কাবেরীর দিকেও তাকায়। তারপর বলে, ছবিটা সুন্দর, তবে অরিজিনালের মতো সুন্দর নয়।

    কাবেরী একটু রাঙিয়ে ওঠে। কথা ঘোরাবার জন্য বলে, আপনার পরিচয়টা কিন্তু আমি জানি না। আপনি তো আছেন ঐ চার নম্বরে?

    —হ্যাঁ। আমার নাম সুবীর রায়। আরে, আপনার সুটকেসটা তো চমৎকার!

    —ওপাশে রাখা সাদা রঙের সুটকেসটা লক্ষ্য করে সে। বলে, এগুলোকেই ভি.আই.পি. সুটকেস বলে, তাই নয়?

    কাবেরী বলে, শখ করে কিনেছি। যদিও আমি ভি.আই.পি. মোটে নই।

    —বেড়াতে এসেছেন বুঝি দার্জিলিঙে?—প্রশ্ন করে সুবীর সিগ্রেট ধরাতে ধরাতে।

    —হ্যাঁ। ছুটিতে—

    —অত সকালে কোথা থেকে এলেন?

    ভ্রু-কুঞ্চিত হল কাবেরীর। বললে, আপনি তো এলেন মধ্যরাত্রে—আমি কখন এসেছি তা জানলেন কেমন করে?

    সুবীর মামুলী গলায় বললে, সুজাতা দেবী বলছিলেন আপনি নাকি সেই কাক-ডাকা ভোরে এলেন।

    কাবেরীও মামুলি গলায় জবাব দিল, কাক-ডাকা ভোরই বটে। আমি পরশু রাত্রে কার্শিয়াঙে হল্ট করেছিলাম। রাত ভোর হতেই এখানে চলে এসেছি।

    —কার্শিয়াঙে কোথায় ছিলেন? হোটেলে?

    আবার সচকিত হয়ে ওঠে কাবেরী। বলে, কেন বলুন তো?

    —না, আমার ফেরার পথে কার্শিয়াঙে দু-দিন থাকব ভাবছি। তাই জানতে চাইছি কোন হোটেলে ছিলেন, তাদের ব্যবস্থা কেমন-

    কাবেরী কৃত্রিম হাসিতে ভেঙে পড়ে। বলে, যদি কোনো হোটেল ছেড়ে রাত থাকতে বোর্ডার পালিয়ে বাঁচে সেটায় থাকবার কথা ভাবছেন ফেরার পথে?

    সুবীর বললে, তাহলে ধরে নিন ভুল করে সেটাতে উঠে যাতে নাকাল না হতে হয় তাই নামটা জানতে চাইছি। কার্শিয়াঙে কোন হোটেলে ছিলেন?

    কাবেরী আবার প্রশ্নটা এড়িয়ে বলে, আপনি যে পুলিশের মতো জেরা করছেন!

    —তাই করছি, কারণ পুলিশ বিভাগেই কাজ করি আমি। ক্রিমিনাল ইন্টেলিজেন্সে। এসেছি একটা খুনের তদন্তে। সেই প্রসঙ্গেই আমি জানতে চাইছি—পয়লা অক্টোবর রাত্রে আপনি কোথায় ছিলেন? রাত দশটার পর থেকে বাকি রাত।

    পকেট থেকে একটি নোটবুক বার করে বলে, এবার বলুন–

    কাবেরীর মুখটা সাদা হয়ে যায়। ঠোঁট দুটো নড়ে ওঠে, কিন্তু কথা কিছু বলে না। ঠিক সেই মুহূর্তেই বিনা-নোটিসে ঘরে ঢুকে পড়লেন অজয় চাটুজ্জে। সরাসরি কাবেরীকে বললেন, ও ক্রেয়নে ঠিক এফেক্টটা আসেনি, বুঝলে! আমি অয়েলে আর একখানা আঁকতে চাই। তোমার সময় হবে এখন?

    কাবেরী তৎক্ষণাৎ সামলে নেয় নিজেকে। বলে, সময় হবে না? কী বলছেন? নিশ্চয় হবে। এখনই বসবেন? চলুন—

    এতক্ষণে অজয়বাবু সুবীরকে নজর করেন; বলেন, এঁকে তো ঠিক, মানে—

    কাবেরী প্রথম সুযোগেই সুবীরের ট্রাম্প-কার্ডখানা খুলে দেখায়। বলে, উনি ক্রিমিনাল ইন্টেলিজেন্স বিভাগের একজন অফিসার, মিস্টার সুবীর রায়। এসেছেন একটা খুনের তদন্তে।

    সুবীর ক্রুদ্ধ আক্রোশে কাবেরীর দিকে তাকায়

    চোখ থেকে চশমাটা খুলে কাচটা মুছতে মুছতে অজয়বাবু বলেন—অ!

    —বসুন অজয়বাবু। আপনাকে কয়েকটা প্রশ্ন করার আছে আমার।

    অজয় বসেন না। চশমাটা নাকে চড়িয়ে বলেন, কাঞ্চনজঙ্ঘা হোটেলের সেই দারোগার মৃত্যু সংক্রান্ত প্রশ্ন নিশ্চয়?

    —হ্যাঁ, তাই। আপনি তো ঐ হোটেলেই ছিলেন?

    —এস কাবেরী—অজয় প্রস্থানোদ্যত।

    —আপনি আমার প্রশ্নের জবাব দেবেন না?

    —দেব! যখন কোর্টের সমন পাব, সাক্ষীর কাঠগড়ায় উঠে দাঁড়াব, তখন দেব! উঃ হরিবল, এস কাবেরী।

    কাবেরীর হাতটা ধরে অসঙ্কোচে টানতে টানতে নিয়ে চলেন অজয় চাটুজ্জে। পিছন থেকে সুবীর বলে, কাজটা কিন্তু ভাল করলেন না। কোর্টের সমন ছাড়াও পুলিস অফিসারের প্রশ্নের জবাব দিতে হয়—

    —হয়, জানি। কিন্তু তার একটা স্থান-কাল-পাত্র আছে! পথে-ঘাটে প্রথম সাক্ষাতেই অমন মোড়লি করার কোনো অধিকার পুলিসের নেই! বুঝেছেন!—ঘর ছেড়ে বেরিয়ে গেলেন উনি।

    .

    বেলা সওয়া এগারোটা।

    সুবীর এসে উপস্থিত হল আলি-সাহেবের ঘরে। দরজায় নক করে বললে, আসতে পারি?

    আগাথা ক্রিস্টিকে বালিশের উপর উবুড় করে রেখে আলি বললে স্বচ্ছন্দে! ইন ফ্যাক্ট আপনার সঙ্গে আলাপ করতে যাব ভাবছিলাম। আমার নাম এন. আলি।

    সুবীর বললে, আমার নাম সুবীর রায়। ক্রিমিনাল ইন্টেলিজেন্সে আছি। এসেছি একটা খুনের তদন্তে। ভেবেছিল প্রতিপক্ষ হকচকিয়ে যাবে। তা কিন্তু গেল না আলি। হেসে বললে, তাস খেলেন?

    —কেন বলুন তো?—ভ্রুকুঞ্চিত সুবীরের প্রশ্ন।

    —প্রথম ডিলেই রঙের টেক্কা পেড়ে লিড দিচ্ছেন তো, তাই বলছি!

    —মানে?

    —আগাথা ক্রিস্টি পড়ছিলাম কিনা—গোয়েন্দা গল্পে দেখেছি ডিটেকটিভরা সহজে আত্মপরিচয় দেয় না ওভাবে।

    —সকলের পদ্ধতি এক নয়। আপনাকে কয়েকটা প্রশ্ন করতে পারি?

    —এ বিনয়ও ডিটেকটিভ-সুলভ নয়। নিশ্চয় করতে পারেন। করুন। আমি প্রস্তুত। -আপনি তো এখানে এসেছেন পয়লা তারিখ রাত সওয়া নয়টায়। কোথা থেকে এলেন?

    —দার্জিলিঙ থেকে।

    —দার্জিলিঙে কবে এসেছিলেন?

    —ঐ পয়লা তারিখ বেলা বারোটায়। একটা শেয়ারের ট্যাক্সিতে চেপে।

    —ঐ ট্যাক্সিতে একজন পুলিস অফিসার আর একজন ভদ্রমহিলাও এসেছিলেন?

    —না। কোনো পুলিস অফিসার বা মহিলা ছিলেন না আমার সঙ্গে।

    —কোন হোটেলে উঠেছিলেন আপনি?

    হোটেল কুণ্ডুজ। স্বনামেই উঠেছিলাম—হোটেল রেজিস্টার হাতড়ে দেখতে পারেন সত্য কি না।

    —কিন্তু এমনও হতে পারে—স্বনামে হোটেল কুণ্ডুজ-এ ঘর বুক করে আপনি বেনামে অন্য কোনও হোটেলে উঠেছিলেন?

    আলি হেসে ফেলে। বলে, যেমন ধরা যাক মহম্মদ ইব্রাহিম এই ছদ্মনামে হোটেল কাঞ্চনজঙ্ঘায়।

    —আপনি ভুলে যাচ্ছেন—মহম্মদ ইব্রাহিম হোটেলে ছিল মাত্র কয়েক মিনিট। চেক-ইন করেই সে বেরিয়ে যায়। ফিরে আসে রাত সাতটায় এবং এক ঘণ্টার মধ্যেই চেক-আউট করে বেরিয়ে যায়। রাত আটটায় দার্জিলিঙ থেকে রওনা হলে রাত ন’টার মধ্যে তার পক্ষে রিপোস-এ এসে পৌঁছনো সম্ভব!

    আলি পাইপ ধরাল। বললে, তাইতো হিসাবে দাঁড়াচ্ছে। এক্ষেত্রে আপনি একটিমাত্র কাজ করতে পারেন। কাঞ্চনজঙ্ঘা হোটেলের রুম-সার্ভিসের বেয়ারা বীর বাহাদুরকে এখানে নিয়ে আসুন। সে শনাক্ত করে যাক–ইব্রাহিম বা মিস ডিক্রুজা এখানে আছে কি না!

    সুবীর বলে, বীর বাহাদুর! ও নাম আপনি জানলেন কেমন করে?

    —এখানেই কারও কাছে শুনেছি বোধহয়! হোটেল রিপোসে তো দিবারাত্র এই গল্পই হচ্ছে। আসুন—

    একটি সিগ্রেট সে বাড়িয়ে ধরে সুবীরের দিকে। পাইপখোর তাহলে সৌজন্যের খাতিরেও সিগ্রেট রাখে!

    মোট কথা আলি-সাহেব বিন্দুমাত্র নার্ভাস হন না।

    সাড়ে এগারোটায় সুবীর এসে হানা দিল ডক্টর সেনের ঘরে। সেখানেও বিশেষ কিছু সুবিধা হল না। কিন্তু একটা খটকা লাগে সুবীরের। ডক্টর সেনকে অফার করা সিগ্রেটের প্যাকেট থেকে মিসেস সেন অম্লানবদনে একটি সিগ্রেট নিয়ে ধরালেন। দিব্যি হুসহুস করে টানলেন এবং একবারও কাশলেন না। ডক্টর আর মিসেস সেন সুবীরকে অনেক পীড়াপীড়ি করলেন তাসের আড্ডায় যোগ দিতে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত রাজি করাতে পারলেন না। মিসেস সেন এ হোটেলের ব্যবস্থাপনার ভূয়সী নিন্দা করলেন এবং কথা প্রসঙ্গে জানালেন ওঁর এক ভাই আছেন ‘ম্যারিকায়, এক ভাই পশ্চিম জার্মানিতে। উনি নাকি ডক্টর সেনকে পই-পই করে বলছেন চাটি-বাটি গুটিয়ে বিদেশে পাড়ি জমাতে—কিন্তু ঘরকুনো ডাক্তার সেন কিছুতেই রাজি হচ্ছেন না দেশ ছেড়ে যেতে।

    মোট কথা সুবীর হালে পানি পেল না।

    ঠিক বারোটার সময় সুবীর এসে হানা দিল বাসু-সাহেবের ঘরে।

    এস! আর কিছু ক্লু পাওয়া গেল?—প্রশ্ন করলেন বাসু।

    —কিছু না। আপনি কিছু আন্দাজ করতে পারছেন?

    —পারছি। আন্দাজ নয়। অকাট্য প্রমাণ!

    ঘনিয়ে আসে সুবীর, বলেন কী স্যার? কে?

    —কে নয় সুবীর? কারা? দুজনেই! ইব্রাহিম অ্যান্ড মিস ডিক্রুজা।

    সুবীর অবাক হয়ে যায়। দরজাটা বন্ধ করে ঘনিয়ে আসে। বলে, নৃপেনদা অবশ্য আপনার খুব প্রশংসা করছিলেন; কিন্তু আপনি যে দুজনকেই… কী ব্যাপার বলুন তো?

    বাসু-সাহেব নিবন্ত পাইপে অগ্নি সংযোগ করতে করতে বলেন, আয়াম সরি! এখনই কিছু বলতে পারছি না। আগে জাল গুটিয়ে আনি—সবটা একসঙ্গে ভাঙব।

    হতাশ হয় সুবীর। বলে, তাহলে, মানে—আমি এখন কী করব?

    তোমার অফিসিয়াল ইনভেস্টিগেশন চালিয়ে যাও।

    .

    আজও সারাদিনে বর্ষণ ক্ষান্ত হল না। ক্রমাগত বৃষ্টি হয়ে চলেছে। কার্ট রোড দিয়ে গাড়ি যাতায়াত বন্ধ। টেলিফোন তো অনেক আগেই গেছে—এবার গেল ইলেকট্রিক। ব্যাটারি-সেট রেডিও কারও কাছে নেই। রেডিও-র শেষ সংবাদ যা পাওয়া গেল তাতে জানা গেছে যে, সমগ্র উত্তরবঙ্গ একটা ঐতিহাসিক দুর্যোগের কবলে পড়েছে। মিলিটারিকে ডাকা হয়েছে উদ্ধারের কাজে। তিস্তা ব্রিজ নিশ্চিহ্ন। আরও অনেক ব্রিজ ভেঙে গেছে। মহানন্দা, তিস্তা ফুলে ফেঁপে ডুবিয়ে দিয়েছে গ্রামের পর গ্রাম, জেলার পর জেলা।

    সন্ধ্যার পর কালীপদ ঘরে ঘরে মোমবাতি রেখে গেল। মিটমিটে আলোয় বাড়িটাতে একটা ভূতুড়ে ভাব এসেছে। সুবীর রায়ের পরিচয় জানতে আর কারও বাকি নেই সকলেই যেন কিছুটা সতর্ক, সন্দিগ্ধ। একঘেয়ে বৃষ্টির মতো রিপোস-এর জীবনযাত্রা বৈচিত্র্যহীন হয়ে পড়েছে একেবারে।

    বৈচিত্র্য দেখা দিল রাত ঠিক আটটা তেত্রিশে।

    তার তিন মিনিট আগের কথা। কাঁটায় কাঁটায় সাড়ে আটটায়। ড্রয়িংরুমের ঘড়িটা ঠিক যখন ঢং করে সময়টা ঘোষণা করল।

    সুজাতা তখন ছিল রান্নাঘরে। একাই। রাতের রান্না করছিল সে একা। কালীপদ নিজের কাজে ব্যস্ত। কাঞ্চী বাড়ি চলে গেছে।

    আলি-সাহেব নিজের ঘর মোমবাতির আলোয় আগাথা ক্রিস্টির ‘মাউসট্র্যাপ’ গল্পের শেষ ক’টা পাতায় ডুবে আছেন।

    সুবীর ছিল তার নিজের ঘরের সংলগ্ন বাথরুম। গিজারের জল এখনও কিছুটা গরম আছে। সে হট বাথ নেবার একটা চেষ্টা করছে। গরমজল আর পাওয়া যাবে না।

    ডক্টর আর মিসেস সেন জোড়া মোমবাতি জ্বেলে ফিশ্ ফেলছেন। মিসেস সেন সারাদিনে প্রায় সওয়া শ’টাকা হেরে বসে আছেন!

    কৌশিক একটা ছাতি আর টর্চ নিয়ে উঠেছে ছাদে। মই বেয়ে জল-নিকাশী গাটারটা সাফা করতে। গাছের পাতায় জল-নিকাশী গাটারটা আটকে গেছে।

    বাসু-সাহেব তাঁর ঘরের সামনে উত্তরের বারান্দায় অন্ধকারে বসেছিলেন একটি ইজিচেয়ারে। শুনছিলেন—গাছের পাতা থেকে টুপটুপ করে জরে পড়া বৃষ্টির শব্দ।

    ঠিক তখনই ঢং করে ড্রয়িংরুমের ঘড়িতে সাড়ে আটটা বাজল।

    রানি দেবী ছিলেন নিজের ঘরে। হুইলচেয়ারটা তাঁর ঘরের উত্তরের জানলার কাছে টেনে নিয়ে আপন মনে তিনি গান ধরলেন। এমন অকালবর্ষণের সন্ধ্যায় তিনি কিন্তু কোনো বর্ষা-সঙ্গীত ধরলেন না। কী জানি কেন আপন খেয়ালে শুরু করলেন অতি পরিচিত একটা রবীন্দ্রসঙ্গীত :

    “যদি জানতেম আমার কিসের ব্যথা তোমায় জানাতেম—”

    ঘরে ঘরে বিচিত্র প্রতিক্রিয়া শুরু হল।

    সুজাতা তার প্রেশার-কুকারের মুখটা খুলে দিল। সোঁ-সোঁ শব্দটা বন্ধ হল।

    মিসেস সেন তাস ডিল করা বন্ধ করে প্রশ্ন করলেন, কে গাইছে বলো তো?

    বাসু-সাহেব দেশলাইটা জ্বালাবার উপক্রম করছিলেন থমকে গেলেন তিনি।

    সুবীর বোধহয় গানটা শুনতে পায়নি। তার কলের শব্দ বন্ধ হল না।

    অরূপ পায়চারি করছিল একতলার দক্ষিণের বারান্দায়। চট করে সে ঢুকে গেল, হল-কামরায়। ডাইনিং হল-এ একটা মোমবাতি জ্বলছে। মাঝের পর্দাটা টানা। তাই ড্রয়িংরুমটা আলো-আঁধারি। অরূপ কিন্তু ভ্রুক্ষেপ করল না। প্রায় হাতড়াতে হাতড়াতে সে সরে এল ড্রয়িংরুমের উত্তর দিকের দেওয়ালের কাছে। বসল গিয়ে পিয়ানোর টুলে।

    গান যখন অন্তরায় পৌঁছাল তখন পিয়ানোর মিঠে আওয়াজ যুক্ত হল কণ্ঠ-সঙ্গীতের সঙ্গে। সমের মাথায় একবার থামলেন রানি দেবী। কান পেতে কী শুনলেন। বুঝে নিলেন–পিয়ানো বাজছে। চুপ করে রইলেন পুরো একটি কলি। পিয়ানো বেজে গেল শুধু। তারপর যুক্ত হল যন্ত্র-সঙ্গীতের সঙ্গে কণ্ঠ-সঙ্গীত। রানি দেবী নিশ্চয় বুঝে উঠতে পারেননি কে এমন আচমকা সঙ্গত করতে বসেছে—কিন্তু এটুকু বুঝে নিয়েছিলেন যে সঙ্গতকার একজন দক্ষ যন্ত্রশিল্পী।

    “কোথায় যে হাত বাড়াই মিছে ফিরি আমি কাহার পিছে
    সব কিছু মোর হারিয়েছে পাইনি তাহার দাম।”

    কৌশিক সচকিত হয়ে ওঠে। সঙ্গীতের আকর্ষণে সে নেমে আসে মই বেয়ে। এসে নামে দোতলার বারান্দায়। সেখান থেকে সিঁড়ি দিয়ে নামবার সময় ওর নজরে পড়ল দক্ষিণের বারান্দার ও-প্রান্তে কে যেন দাঁড়িয়ে আছে। অন্ধকারে ঠিক বোঝা গেল না, মনে হল স্ত্রীলোক। কাবেরীই হবে নিশ্চয়। ঠিক তার ঘরের সামনেই। কৌশিক একটু ইতস্তত করে। তারপর অন্ধকার সিঁড়ি বেয়ে সে নেমে যায় একতলায়।

    সঙ্গীতের আকর্ষণে সস্ত্রীক সেনও উঠে এসে দাঁড়িয়েছেন উত্তরের বারান্দায়।

    গান শেষ হল। সঙ্গীতমগ্না দ্বিতীয়বার শুরু করলেন ‘স্থায়ী’টা :

    “যদি জানতেম আমার কিসের ব্যথা তোমায় জানাতেম”

    ড্রয়িংরুমে ঘড়িতে তখন ঠিক আটটা বেজে তেত্রিশ।

    হঠাৎ সমস্ত বাড়ি সচকিত করে একটা ফায়ারিং-এর শব্দ হল ড্রয়িংরুমে!

    তৎক্ষণাৎ কে যেন ফুঁ দিয়ে নিবিয়ে দিল ডাইনিং হল-এর মোমবাতিটা!

    একটা চেয়ার উল্টে পড়ার শব্দ। ঐ সঙ্গে ভেঙে পড়ল একটা ফুলদানি। বিশ থেকে ত্রিশ সেকেন্ড। বাড়িসুদ্ধ সবাই এসে উপস্থিত হল ড্রয়িংরুমে। প্রায় একসঙ্গেই।

    অরূপরতন পড়ে আছে উবুড় হয়ে। তার পাশেই একটা ভাঙা ফুলদানি আর কিছু ছড়ানো ছিটানো গ্ল্যাডিওলাই। ডক্টর সেন হুমড়ি খেয়ে পড়লেন। কৌশিক তার হাতের টর্চটা জ্বালল। ডক্টর সেন মুখ তুলে বললেন, থ্যাংক গড। গুলিটা কাঁধে লেগেছে। ফেটাল নয় বোধহয়!

    এতক্ষণে সুবীর এসে পৌঁছল তার বাথরুম থেকে। তার গায়ে একটা তোয়ালের তৈরি ড্রেসিং গাউন। তার চুল বেয়ে জল ঝরছে। বললে-পাশেই দু-নম্বর ঘর। ওখানেই ওঁকে নিয়ে যাওয়া যাক।

    ধরা-ধরি করে অচৈতন্য অরূপকে ওরা নিয়ে গেল বাসু-সাহেবের ঘরে।

    ডক্টর সেন একেবারে অন্য মানুষ। সমস্ত দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নিলেন। সুজাতাকে গরম জল আনতে বললেন। আর সবাইকে বললেন, প্লিজ ক্লিয়ার আউট। ঘর ফাঁকা করে দিন। স্ত্রীকে বলেন, আমার ডাক্তারী ব্যাগটা নিয়ে এস চট্‌ করে।

    মিসেস সেন ভ্রুকুঞ্চিত করে বলেন, কী দরকার বাপু ওসব খুন-জখমের মধ্যে নাক গলাবার? তুমি চলে এস!

    —শাট আপ!!—গর্জন করে উঠলেন ডক্টর সেন। তারপর কৌশিকের দিকে ফিরে বলেন, আমার ব্যাগটা প্লিজ—

    হ্যাঁ। ডাক্তার সেন মুহূর্তে বদলে গেছেন।

    বারান্দার ও-প্রান্তে ইজিচেয়ারে গিয়ে বসেছিলেন ফের বাসু-সাহেব। সুবীর গট গট করে এগিয়ে আসে তাঁর কাছে। কঠিন স্বরে বলেন, আপনিই এজন্য দায়ী!

    —আমি! কেন? কী করে?

    —কেন তখন সব কথা খুলে বললেন না? হযতো এ দুর্ঘটনা রোখা যেত! বাসু-সাহেব বেদনাহত দৃষ্টিতে শুধু তাকিয়ে রইলেন। জবাব দিলেন না। দুম দুম করে পা ফেলে সুবীর চলে গেল আবার।

    রানি দেবী হুইল-চেয়ারটা নিয়ে এগিয়ে এলেন। সহানুভূতির সুরে বললেন, এ দুর্ঘটনা এড়ানো যেত, তাই নয়!

    হঠাৎ উত্তেজিত হয়ে ওঠেন বাসু-সাহেব : ইয়েস, ইটস্ মাই মিস্টেক! আমি ভেবেছিলাম—আমিই বুঝি ওর টার্গেট! তাই প্রস্তুত হয়েই বসেছিলাম আমি। বুঝতে পারিনি ও অরূপকে —

    পকেট থেকে একটা ছোট্ট কালো যন্ত্র বার করে দেখালেন স্ত্রীকে।

    রানি দেবী স্তম্ভিত হয়ে যান।

    আধঘণ্টা পরে বাসু-সাহেব এসে দাঁড়ালেন রোগীর শিয়রে। অরূপের কাঁধের ওপর ব্যান্ডেজ বাঁধা। অরূপ তখনও অচৈতন্য। প্রশ্ন করলেন ডক্টর সেনকে—কী বুঝছেন?

    —বুলেটটা স্ক্যাপুলার খাঁজে আটকে আছে। বার করে দেওয়া দরকার—

    —হাসপাতালের অপারেশান থিয়েটার ছাড়া সম্ভব হবে?

    —অসম্ভব! থাক, আপাতত বুলেটটা থাক। শকটা কাটিয়ে উঠুন। বেঁচে যাবেন। অন্তত মেডিকেল-সায়েন্স এক্ষেত্রে যতটুকু করতে পারে তা আমি করব। নিশ্চিন্ত থাকুন।

    —থ্যাংক্স!

    অন্ধকারের মধ্যে এগিয়ে এল সুবীর। বললে, কিছু মনে করবেন না ডক্টর সেন। আমি কয়েকটা খোলা কথা বলব। অরূপবাবুকে কে গুলি করেছে তা আমরা জানি না। কিন্তু আমাদের মধ্যেই কেউ একজন তা করেছে—ইয়েস! এনি ওয়ান! আপনি-আমিও হতে পারি!

    —সো হোয়াট?—রুখে ওঠেন ডক্টর সেন।

    —আপনি ওঁকে কী ওষুধ দিচ্ছেন, কী ইনজেকশান দিচ্ছেন সব একটা স্টেটমেন্টের আকারে লিখে যাবেন এবং মিসেস বাসুকে দেখিয়ে ওষুধ খাওয়াবেন, ইনজেক্‌শান দেবেন–

    —মিসেস্ বাসুকে! কেন? উনি কী বোঝেন ডাক্তারির?

    সে জন্য নয়। একমাত্র মিসেস্ বাসুই সন্দেহের অতীত।

    ডাক্তার সেন কিছু বলতে যাচ্ছিলেন, তাঁকে থামিয়ে দিয়ে বাসু-সাহেব বলেন, ইয়েস ডক্টর সেন। টেক মাই লিগাল অ্যাডভাইস। সুবীর যা বলছে তাই করুন। মেডিক্যাল সায়েন্সে যতখানি সম্ভব আপনি করুন—ক্রিমিনাল জুরিসপ্রুডেন্সে যতখানি সম্ভব আমাকে করতে দিন—

    শ্রাগ করলেন ডাক্তার সেন : অ্যাজ য়ু প্লিস্!

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleমাছের কাঁটা – নারায়ণ সান্যাল
    Next Article বিশ্বাসঘাতক – নারায়ণ সান্যাল

    Related Articles

    নারায়ণ সান্যাল

    অলকনন্দা – নারায়ণ সান্যাল

    September 3, 2025
    নারায়ণ সান্যাল

    আবার যদি ইচ্ছা কর – নারায়ণ সান্যাল

    September 3, 2025
    নারায়ণ সান্যাল

    আম্রপালী – নারায়ণ সান্যাল

    September 3, 2025
    নারায়ণ সান্যাল

    বিশ্বাসঘাতক – নারায়ণ সান্যাল

    September 3, 2025
    নারায়ণ সান্যাল

    মাছের কাঁটা – নারায়ণ সান্যাল

    September 3, 2025
    নারায়ণ সান্যাল

    পথের কাঁটা – নারায়ণ সান্যাল

    September 3, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Our Picks

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }