Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    সোনার কৌটো – আশাপূর্ণা দেবী

    লেখক এক পাতা গল্প143 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    সোনার কৌটো – ২

    ২

    অনাথ এদেশের ছেলে নয়, তবে আছে অনেক বছর, মাস্টারী করে মাথার চুল পাকিয়ে ফেলল। তাহলেও পিসিমাই বলে। নচেৎ অনাথ মাষ্টারের বয়সী অনেকেই ঠাকুমাও বলে, বাপ কাকা ‘পিসি’ বলে ডাকে।

    শশীঠাকুরুণ নাড়ু বোসের উঠোনের ধারে দাঁড়ান, বৌ উঠেছিস নাকি?

    বোসের বৌ ব্যস্তসমস্ত হয়ে বেরিয়ে আসে!

    আলগোছে একটা প্রণাম করে বলে, ঠাকরুণ!

    আহা থাক থাক, রোজ পেন্নাম কিসের লা?

    নাড়ু বোসের বৌ বড় ভক্তিমতী, সে বলে, আপনাকে চারবেলা পেন্নাম করতে পেলেও মানুষ ধন্যি ঠাকরুণ!

    দূর বাবা, যতো আলাত পালাত কথা! নাড়ু উঠেছে?

    বৌ সভয়ে একবার শোবার ঘরের দিকে দৃষ্টিপাত করে মাথা নাড়ে।

    জানি। ওই আয়েসেই ওর মাথাটা খেয়েছে। নচেৎ একবার চাকরী গেলে আর চাকরী হয় না মানুষের? সেই কোন জন্মে চাকরী খুইয়ে সংসারের হাড়ির হাল করে বসে আছে। ছেলেটা ইস্কুলে যায় নিয়ম করে?

    নাড়ুর বৌ বলে, হ্যাঁ।

    অনাথ মাষ্টারকে বলে শশীঠাকরুণ নাড়ুর ছেলেটাকে ফ্রী করে দিয়েছেন, আর ভাইপোদের বলে নিজের বাড়ির দু তিনটে ছোট ছোট ছেলেমেয়ের জন্যে নাড়ুকে প্রাইভেট টিউটার রাখিয়ে দিয়েছেন।

    অবশ্য ভাইপোদের ওই আলসে কুড়ে নাড়ুটার ওপর তেমন ছেদ্দা ভক্তি ছিল না, কিন্তু পিসির কথার ওপর তো কথা চলে না?

    শশী ঠাকরুণ বলেছিলেন, তোমরা যদি তোমাদের আপিস কাচারীতে ছোঁড়ার একটা কাজ কম্ম করে দিতে পারতে, তাহলে এ প্রস্তাব আমি করতাম না। পড়াবে যে কতো তা জানতে বাকি নেই আমার, খানিক আটকে রাখবে এই মাত্তর। তবে ও বুদ্ধিহীন বলে ওর বৌটা ছেলেটা ভেসে যাবে, এটা তো ন্যায্য নীতি নয় বাবা? মানুষের সমাজে যখন বাস করছো, তখন মানুষের পরিচয়টা তো রাখতে হবে। তোমরা যদি মাসে মাসে ওকে সাহায্য না করো, তাহলে ওকে ভিকিরিতে পরিণত করা হবে। ওকে একটা কাজ দিয়ে উভয় পক্ষের মান রাখো।

    তা নাড়ু বোস ওর ওই শিক্ষকতা রূপ চাকরীটির মাইনে যাই হোক, জিনিসটাকে খুব দামী ভাবে। সসম্ভ্রমে এবং নিষ্ঠার সঙ্গেই কাজটা করে।

    নাড়ুর বৌও কিছু কিছু রোজগার করে।

    যেমন কেউ এক গামলা ডাল ভিজিয়ে খবর দিয়ে গেল, ও চরণের মা, চারটি বড়ি দিয়ে দেবে?

    নাড়ুর বৌ ঘাড় নেড়ে সায় দেয়। তারপরে সেই ডালের কাঁড়ি বেটে বড়ি নিয়ে আসে। তারা ‘তোমার চরণকে মিষ্টি কিনে দিও’ বলে টাকাটা আধুলিটা দেয়। তা এমন অফার প্রায়ই পায় নাড়ুর বৌ। এছাড়া আবার আমসত্বও করে দেয় মাঝে মাঝে।

    শশীঠাকরুণ বলেন, ছোট লোকের মেয়েরাই প্রকৃত সুখী। তাদের কোনো কাজে মান অপমান নেই। লোকের বাসন মাজুক, ক্ষার কাচুক, গোয়ালে গোবর দিক, নিন্দে নেই। ভদ্দর লোকের মেয়েদেরই হাত পা বাঁধা, স্বামীর পয়সা থাকলো তো সুখ করো, না থাকলো তো হাড়ে দুব্বো গজাও। এই তোর হয়েছে সেই জ্বালা।

    তা’ কার হাড়ে যে দুব্বো গজাচ্ছে, সেটা শশীঠাকরুণ কেমন এক দিব্য দৃষ্টিতে দেখতে পান। কারুর নজরে পড়ে না—ওঁর নজরে পড়ে যায়।

    নাড়ুর বৌকে নির্দেশ দিয়ে যান শশীঠাকরুণ, দুপুরবেলা একটা বাটি হাতে যাস দিকিন, চরণের জন্য একটু দুধ আমসত্ত্ব মাখা ভাত দেব। ছেলেটা বড় ভালবাসে।

    এটাও অবশ্য সাহায্যেরই আর এক রকম ফের। কোনোদিন চরণের নাম করে দুধ আমসত্ব, কোনোদিন চরণের মার নাম করে ওদের আমিষ ঘর থেকে একটু মাছের ল্যাজা, আর সেই ছুতোয় এক কাঁসি ভাত, কোনো দিন বা চরণের বাপের নাম করে মোচার ঘণ্ট, শাকের ঘণ্ট, যাতে ওদের কিছু খানিকটা সাশ্রয় হয়।

    গ্রামে ওরকম অনুগত পরিবার শশীঠাকরুণের বেশ কিছু আছে।

    ওদের ওখান থেকে শশীঠাকরুণ বিপিন কোবরেজের বাড়ির দরজায় আসেন। বিপিন কোবরেজ হয়তো তখন বাইরের দাওয়ায় বসে দাঁতন করছে।

    শশীঠাকরুণ বলেন, আয়ুর্বেদও একটা বেদ বুঝলি রে বিপিন! শাস্ত্রজ্ঞ হয়ে সদরে দাঁতন করছিস? মা লক্ষ্মী ঢুকবেন কোন দরজা দিয়ে?

    বিপিন নিমের কাঠি দাঁতে চেপেই বলে, মা লক্ষ্মী আর এবাড়ির চৌকাঠ মাড়াতে আসছেন না পিসি, ভয় নেই।

    আসবেন আর কোথা থেকে, যতো সব লক্ষ্মীছাড়ার আচরণ। তা মা কেমন আছে?

    ওই একরকম! কেমন আর থাকা থাকি!

    বলি ও আবার কেমন কথা বিপিন?

    শশীঠাকরুণ রেগে ওঠেন, গর্ভধারিণী মাকে হেলাফেলা করলে কোনো মাই দোর মাড়াবেন না বিপিন! বদ্যির বেটা হয়ে মায়ের ওই সামান্য আমাশাটা ভালো করতে পারছিস না?

    রোগটা সামান্য নয় পিসি!

    তোকে বলেছে। একটি টোটকায় এক্ষুনি তোর মাকে বিছানা থেকে ওঠাতে পারা যায় বিপিন! তবে তুই কোবরেজ ব্যাটা থাকতে তোর মা টোটকায় সারবে এটা দিষ্টান্ত খারাপ, তাই দিই না।

    বিপিন বলে, তা দেবেন তো দিন না পিসি! তাতে আমার কোনো আপত্তি নেই।

    ও, আপত্তি নেই! খুব যে বড়ো বড়ো কথা! বলি তোর আপত্তির ধার কে ধারছে রে? আপত্তি আমারই। তাতে তোর যেটুকু বাপসার আছে, ঘুচবে। ভাল দেখে ওষুধ দে।

    বিপিন কোবরেজ তথাপি অনমনীয় গলায় বলে, এ বয়সে আর ভাল ওষুধ!

    শশীঠাকরুণ জ্বলে যান, বলেন বয়েস তোরও একদিন হবে বিপিন! বয়েস দেখিয়ে অবহেলা করিসনে। তোর মা আমার থেকে বয়সে কম করে সাত আট মাসের ছোটো।

    তা’ আপনার মতন তো আর স্বাস্থ্যটি বজায় রাখতে পারেননি?

    শশীঠাকরুণ কিন্তু নিজের এই পারগতার উল্লেখে হৃষ্ট হন না। বরং রুষ্ট হয়ে বলেন, আমার কথা বাদ দে বিপিন! বড়ো মানুষের মেয়ে হয়ে জন্মেছি, চিরটাকাল ঘী দুধে আছি। তোর মার তাই? না না, মাকে অবহেলা করবি না, নরকেও ঠাঁই হবে না।

    এইভাবেই প্রাতঃভ্রমণটা চালিয়ে যান শশীঠাকরুণ।

    পুরুত ভট্টাচার্য থেকে দিনু গোয়ালা পর্যন্ত সব বাড়ির তত্ত্ব নেওয়া চাই।

    তবে ওই চাষীভূষোদের প্রতিই যেন বেশী কৃপাময়ী শশীঠাকরুণ। পথে চলতে চলতে বলেন, মাখন তোলা ঘীটা দিয়ে এলি দিনু, দাম নিতে যাবার ফুরসৎ নেই? কী এমন নবাব সিরাজউদ্দৌলা হয়েছিল রে? যাবি, আজই যাবি।

    আবার বলেন, হারাণ, এবার বিষ্টির গতিক কেমন মনে হচ্ছে? ধান ভাল উঠবে? …তোর চাক আজ ক’দিন বন্ধ কেন রে, পঞ্চু? কুমোরের চাক, কামারের হাপর, তাঁতির তাঁত, এসব বন্ধ দিতে নেই বুঝলি? আমার ঠাকুরর্দা বলতেন, ওতে ওদের উপোস লাগে! আর উপোস লাগলেই নিশ্বাস পড়ে। একবার করে ছুঁতেও হয়। আর কাজই লক্ষ্মী—বুঝলি পঞ্চু। তুই যতো খাটবি, মা লক্ষ্মী ততো সদয় হবেন। কাল বিস্যুদবার আছে। আমার দুখানা লক্ষ্মীর সরা দিয়ে আসিস দিকিন। এও সাহায্য। তবু যদি পঞ্চু ওতে একটু চাঙ্গা হয়। কাজকর্ম নেই বলেই না—

    এতো কাণ্ড করেও কিন্তু শশীঠাকরুণ ভাইপো আর নাতিদের টাইমের ভাতের সময় এসে হাজির হন।

    সকলের আপ্রাণ প্রার্থনাতেও রদ হয় না এটি।

    প্রার্থনা এই জন্যে, পুরুষ ছেলেদের ফাঁকি দেওয়ার তাল জেনে ফেলা শশীতারা তাদের এক ছটাক মাপের পাকস্থলীর মধ্যে একসের মাল চালান দেবার জন্যে যে পদ্ধতি অবলম্বন করেন তা রীতিমত কষ্টদায়ক।

    কারণ প্রথমেই এসে বলে বসেন, রাত্তিরে যে আনাজ তরকারিগুলো কুটে মলাম বড় বৌমা, সে কি ভূত ভোজন করাতে? কই—এঁচড়ের ডালনা কই? মোচার ঘণ্ট কই? মাছই বা মোটে একখানা কেন? সকাল থেকে ওই সামান্য রান্নাও হয়ে ওঠেনি? তা না যদি হয়ে থাকে, দুখানা পুরের ভাজা করে দিতে পারতে। আসল মানুষদের খাওয়াতেই অবহেলা।

    আসল মানুষরা এতে মরমে মরে গিয়ে হাঁ হা করে বলে, না—না, ওসব রান্না টান্না বোধহয় হয়ে গেছে। আমরাই বারণ করেছি।

    কেন, বারণ করেছো কেন? বাহাদুরী দেখানো, না বৌদের কুলোবে না এই ভয়ে? সংসারে অভাব?

    এ অপবাদে ছেলেরা ঘাড় হেঁট করে, বিবাহিত নাতিরা বলে, আচ্ছা ঠাকুমা, তুমি উকিল হলে না কেন? অপর পক্ষকে কোনঠাসা করতে তোমার তো দেখি জুড়ি নেই। এই সক্কাল বেলা এতো খাওয়া যায়?

    বলি এতো দিনেও অভ্যেস হলো না? চিরকাল যখন এই কর্মই করতে হবে তো খাবি কবে তবে?

    কেউ খায় না বাবা এতো।

    খায় না, তেমনি তাদের চল্লিশের আগেই চালসে ধরে, পঞ্চাশে শিরদাঁড়ায় ঘুণ ধরে। খাওয়ার জোরেই বল শক্তি। খাবি না তো সারাটা দিন যুঝবি কিসের জোরে? বড় বৌমা, রাতের তৈরী ক্ষীর নেই? তাই দাওতো একটু। মাছ খানা শুধু কাঁটা বাছা করে ফেলে দিল। ওরা খেতে চায়না বলে তোমরাও ওদের গোড়ে গোড় দেবে? মাছ না খেলে চোখের জ্যোতি থাকে?

    মেজ নাতিটা দুষ্টু হেসে বলে, তোমায় দেখে তো সেকথা বিশ্বাস করা যায় না ঠাকুমা! তোমার যা চোখের জ্যোতি, এখনো একশো বছর আমাদের পাহারা দিয়ে বেড়াতে পারবে।

    শশীঠাকরুণ রাগ করেন না, বলেন, তা সেটা মন্দ কি? চোখ কান খুইয়ে হাত পা পড়ে দলা পাকিয়ে বসে থাকাই বুঝি ভাল?

    কথা কথা!

    অজস্র কথা।

    শশী ঠাকরুণের কথার ভাঁড়ারে যেন অনবরত খই ভাজার খোলা চড়ানই আছে। সবাই ভাবে এতো জীবনী শক্তি কোথা থেকে সংগ্রহ করলেন শশীঠাকরুণ?

    শশীঠাকরুণের কথায় কেউ রেগে ওঠে না, এই এক আশ্চর্য।

    বৌদের কি কম হ্যানস্থা করে কথা বলেন? বুড়ো বুড়ো ছেলেদের কম শাসন করেন? কেউ চোপা করার কথা ভাবতেই পারে না।

    শশীঠাকরুণ শ্বশুরবাড়ি যাচ্ছেন। এ খবর তাই অনেকের কাছেই দুর্ভাবনার। ফুলপুরের পেরাণ পুতুলটি নে যাচ্ছো পিসি ঠাকরুণ! ফিরতে দেরী কোরোনি। যুগীবৌ বলে।

    শশীতারা বলেন, কেন রে আমায় কি মরতে হবে না? ফুলপুরের পেরাণ বললে চলবে কেন?

    না চললে কি করবো বলেন? যা হক কথা তাই বলছি। তুমি সেবার ছিক্ষেত্তর গেলে মাত্তর সাতটি দিনের জন্যে, তাতেই গেরাম সুদ্ধু লোক হেঁপিয়ে মরছিল। ফিরে এলে বাঁচা গেল।

    শশীঠাকরুণ হাসেন। অতো ভক্তি তুচ্ছ একটা মানুষকে না করে ভগবানকে কর যুগী বৌ!

    ওসব জানিনে বাবা! তুমিই আমাদের ভগবান। কবে আসবে বলে যাও।

    এই রে বাবা, যাই আগে।

    আরো অনেকেই কথাটা যাচাই করে নিতে চাইছে।

    কবে আসবেন? কবে আসবেন? আপনি না থাকলে ফুলপুর অন্ধকার।

    হয়তো যতটা ভাবে, বলে তার থেকে বেশী, সেটাই সৌজন্য। আর ভাবে না, তাও নর। সবাই বলে শশীঠাকরুণ আছেন না পর্বতের আড়ালে আছি। বলে, দেশসুদ্ধু লোকের উনি গার্জেন। উনি গত হলেই দেখবে সব বেচাল হয়ে উঠবে। ঝি বৌ ওনার ভয়ে ঢীট।

    শশীঠাকরুণ বলেন, নাঃ আমাকে দেখছি মরে আবার পেত্নী হয়েই এই ফুলপুরেই এসে বাঁশ বনে টনে আশ্রয় নিতে হবে।

    এই শশীঠাকরুণ শ্বশুরবাড়ি চললেন।

    সাইকেল রিকশয়—স্টেশনে যেতে হবে।

    মদন রিকশাওলা এসে বলে যায়, ঠিক সময় আসবো ঠাকরুণ। সেজবাবু বলে রেখেছে।

    সেজ ভাইপো সঙ্গে যাবে।

    সাইকেল রিকশ নিয়ে চলে যেতে যেতে ঘুরে দাঁড়িয়ে মদন প্রশ্ন করে, কবে ফিরছেন ঠাকরুণ?

    শশীঠাকরুণ জানেন দিন সাতেকের বেশী থাকা তাঁর পক্ষে সম্ভব হবে না। তবে এই সাতটা দিন মরে পিটে থাকতেই হবে। যে উদ্দেশ্যে যাচ্ছেন, তাতে ওর কমে হবে না। তবে পষ্ট করে তারিখটা কাউকে বলেন না। যদি গিয়ে না টিকতে পারেন? যদি পরদিনই পালিয়ে আসতে হয়? তাই বলেন, মন হলেই চলে আসবো।

    কিন্তু কেন যাচ্ছেন?

    তার উত্তর দিয়েছেন, কেন, শ্বশুরবাড়িতে একবার যেতে নেই? ধরে নে তীর্থ দর্শনে যাচ্ছি।

    যদিচ সারাজীবনে কেউ কোনদিন শশীতারার এই তীর্থ ভক্তির পরিচয় পায়নি।

    তবে যাওয়ার আসল কারণটি জানে শশীতারার সেজ ভাইপো অজিত চাটুয্যে। সে উকিল বলেই জানে অথবা ঠিক বলতে গেলে সেই শশীতারাকে জানিয়েছে।

    শশীতারার শ্বশুরবাড়ি বীরনগরে তাদের গুষ্ঠির আর কে কোথায় আছে জানা না থাকলেও—শশীতারার সৎ শাশুড়ী বুড়ি যে আকন্দরডাল মুড়ি দিয়ে এ যাবৎ ইহ সংসারে টিঁকে ছিল, ওটা অজিতই শশীতারাকে জানিয়েছিল এবং এও জানিয়েছিল জমি জমা যা আছে তা নেহাৎ কম নয়। এখন বীরনগর প্রায় টাউন হয়ে দাঁড়িয়েছে, এখন ওখানের জমি বিঘের দামে কাঠা। বুড়ি তো এযাবৎ সব ভোগ করেছে, সে থাকতে উকি মারতে যাওয়াও অসম্ভব তা জানা ছিল। সম্প্রতি সেই বুড়ি গত হয়েছে, এখন অজিত চুপি চুপি প্ররোচনা পরামর্শ দিচ্ছে, এসময় গিয়ে পড়া দরকার। সৎ শাশুড়ীর ছেলে পিলে যাই থাকুক, শশীতারার তো অর্ধেক হিস্যা?

    অতএব?

    অতএব ভিটে বাড়ির ভাগ না হোক—বিশ বাইশ বিঘে জমিও অন্ততঃ শশীতারা আইনসঙ্গত ভাবেই পাবেন। যার অর্থ হচ্ছে, বেচলে এখনই বিশ বাইশ হাজার টাকা আর ফেলে রাখলে তো আরো বাড়বার আশা।

    ভাইপোর মুখে খবরটা জেনে শশীঠাকরুণ মনে মনে পুলকিত হয়ে উঠলেও, মুখে গাম্ভীর্য রেখে সৎ শাশুড়ীর মরণ স্মরণ করে সবস্ত্রে ডুব দিয়ে এলেন।

    পরদিন নোখ কেটে চান করে ভুজ্যিদান করলেন। আর কিছু করার নেই। মরেছেন তিনি মাস দুই আগে।

    রেল গাড়িতে যেতে যেতে অজিত হিতকথা শেখাতে থাকে, জ্ঞাতি গুষ্ঠিই তো খাচ্ছে। তারা হঠাৎ তোমায় দেখে পাত্তা দিতে চাইবে বলে মনে হয় না। তুমি কিন্তু শক্ত থেকো পিসি!

    শশীতারা বলেন, তুই থাম অজা, তোকে আর আমায় বুদ্ধি দিতে হবে না। নেহাৎ শ্বশুরবাড়ি বলে কথা, তাই তোকে সঙ্গে নিচ্ছি। তা’ছাড়া বিষয় সম্পত্তি নিয়ে ফেরেববাজি করতে হবে, নচেৎ শশীতারা বামনী তোর তক্কা রাখতো নাকি?

    তবু অজিত ভুলে ভুলে আর একবার বললো, কেউ যদি খোসামোদ করে মন ভেজাতে আসে, তাহলে ভিজো না।

    শশীতারা বললেন, তুই বলবি, তবে আমি ভিজবোনা? নচেৎ ভিজবো?

    উকিলের প্যাঁচ নিয়ে অজিত বললো, কেউ তো তোমার যাওয়াটা সুচক্ষা দেখবে না? জ্ঞাতি ট্যাঁতিরা কিছু খেতে দিতে এলে খেও না। কি জানি কোন মতলবে—

    শশীতারা বললেন, তুই কি এই মাত্র মায়ের পেট থেকে পড়লি নাকি অজা? কবে কোন জন্মে আমি কারুর কাছে খেয়েছি? বলে—কখনো কোনো বাড়িতে মা দুগগার ভোগের পেসাদই গ্রহণ করি না, মাথায় ঠেকাই, মুখে ঢোকাই না। আমায় এলো সাবধান করতে—খেও না! লোকের বাড়ি খেও না! হুঃ।

    তদবধি ভাইপো মুখে তালা চাবি এঁটেছে।

    শশীতারা যখন বীরনগরে পৌঁছলেন, তখন বেলা দুটো। বুঝে সুজে একাদশীর দিন বেরিয়েছেন, যাতে সেদিনটায় নিশ্চিন্দি।

    সঙ্গে আছে নিজের মতো সামান্য কিছু বিছানা বাসন অবশ্য প্রয়োজনীয় কিছু জিনিস পত্র এবং কাপড় চাদর, আর অতি আবশ্যকীয় বস্তুটি বেশ মোটা অঙ্কে। অভয় চাটুয্যে মেয়ের নামে একটা বড় জমি লিখে গিয়েছিলেন, তার আদায় উসুল থেকে শশীতারার হাত খরচাটা হয়, তীর্থ ধর্ম হয়।

    এও তো তীর্থেই এসেছেন।

    অজিত ভাত খেয়ে এসেছে, সন্ধ্যের গাড়িতে ফিরে যাবে। স্টেশনে চা জল খাবার খেয়ে নেবে।

    অজিত আগে এসে লুকিয়ে খোঁজ খবর নিয়ে গিয়েছিল, তাই সাইকেল রিকশকে বাড়ি চেনাতে অসুবিধে হলো না।

    শশীতারা নেমে পড়লেন, অজিত বললো, আমি আসছি। সেটেলমেণ্ট অফিসটা একবার ঘুরে আসি। তুমি কিছু ঘাবড়াবে না, নিজের ডাঁটে ঢুকবে।

    শশীতারা বললেন, তোর বাকবিন্যেস দেখে মনে হচ্ছে অজা, তুই যেন একটা খুকীকে শ্বশুরবাড়ি পৌঁছতে এসেছিস।

    অজিত হেসে চলে গেল।

    পিসির ওপর তার যথেষ্টই আস্থা, তবু বলা স্বভাব তা’ই বলছে।

    শশীতারা তাকিয়ে দেখলেন, বাইরের অংশটা প্রায় পড়েই গেছে। ইট পাটকেল ঠেলে ঢুকতে হয়। ভিতরের উঠানের দরজাটা বন্ধ।

    কিন্তু বেশীক্ষণ বন্ধ থাকলো না, সাইকেল রিকশর শব্দ শুনেই দুটো ছোট ছেলে মেয়ে দরজা খুলে বেরিয়ে এসে দেখেই ছুটে ভিতরে চলে গেল।

    একটু পরেই গায়ে মাথায় কাপড় টেনে এক প্রৌঢ়া এসে দাঁড়ালেন।

    চোখে অসীম কৌতূহল, অনন্ত জিজ্ঞাসা।

    শশীতারা তাকিয়ে দেখে অনুমানে নির্ভর করে বলে উঠলেন, যিনি মারা গেলেন সম্প্রতি, তাঁর বেটার বৌ বোধ হয়?

    প্রৌঢ়া মাথাটা উঁচু নীচু করে বললেন, আপনি? আপনাকে তো—

    না কখনো দেখনি। দেখবে কোথা থেকে? সম্পর্ক রাখলে তো? আমি ওনার সতীন—পো বৌ।

    মহিলাটির মুখখানি যদি এতে পাংশুবর্ণ হয়ে যায়, দোষ দেওয়া যায় না তাঁকে।

    তাঁরও প্রায় ষাটের কাছে বয়েস, তবু এযাবৎকাল দজ্জাল শাশুড়ীর বৌ হয়েই কাটিয়ে আসতে হয়েছে। এতোদিনে যদি বা ভগবান মুখ তুলে চাইলেন, হঠাৎ একী দুর্গ্রহের আবির্ভাব?

    ওনার সতীন—পো বৌ!

    তার মানে একজন ভাগের ভাগীদার।

    শাশুড়ী মরার খবর পেয়েই কামড়া কামড়ি করতে ছুটে এসেছেন। বলা নেই কওয়া নেই, একেবারে জিনিসপত্র নিয়ে বসবাস করতে এলেন। অথচ জন্মেও দেখা সাক্ষাৎ নেই।

    বিনা বাক্যে পাথর মূর্তিতে দাঁড়িয়ে থাকেন তিনি, একটা যে প্রণাম করা উচিত, তাও ভুলে গিয়ে।

    শশীতারা অবশ্য অবস্থাটা বোঝেন।

    মনে মনে বেশ একটি দিব্য কৌতুক অনুভব করে বলেন, সম্পর্কে গুরুজন হই গো, পেন্নাম একটা করলে জাত যেতো না। যাক তা যেচে মান কেঁদে সোহাগ দরকার নেই আমার। এখন কর্তব্য কর্ম্মটুকু করো দিকি। রিকশওলাকে নিয়ে গিয়ে একটু পরিষ্কার দেখে জায়গা দেখিয়ে দাও, জিনিসটা নামিয়ে আসুক। ও তো আর দাঁড়িয়ে থাকতে আসেনি!

    এও একটি বাক্যবাণ।

    মহিলাটি দাঁড়িয়েই আছেন।

    এতোক্ষণে তিনি একটি প্রণামের ভঙ্গী করে অস্ফুটে বলেন, আপনি ভেতরে যাবেন না?

    শোনো কথা। যাবো না তো কি ধূলো পায়ে বিদেয় হবো? দেখতেই তো পাচ্ছো ধূলো পায়ে বিদেয় হতে আসিনি। বাক্স বিছানা নিয়ে এসেছি। ও আগে মালগুলো পার করে আসুক, ভাড়া মিটিয়ে বিদেয় করে তবে ঢুকছি। শাশুড়ী মলেন, তা’ একটা খবর পর্যন্ত দেওয়া নেই! বলি হলেও সৎ শাশুড়ী, খোদ শ্বশুরের পরিবার তো? মরলে হবিষ্যি করতে হয় না? ওমা, সম্পর্কটা স্বীকার পর্যন্ত করা নেই। পাছে দেশের লোক জেনে ফেলে, বুড়ির আরও একটা বৌ আছে। ভাগের ভাগীদার আছে।

    মহিলাটি অসন্তুষ্ট স্বরে বলেন, তা আমার বলছেন কেন? আমি তো আপনাকে চোখেই দেখিনি। জানিও না—

    দেখনি ঠিকই—শশীতারা তেমনি মনে মনে দিব্য কৌতুকের হাসি হেসে বলেন, তবে জানো না একথা হতেই পারে না। নাও যাও, লোকটা যে সঙের মতন দাঁড়িয়ে আছে। বাড়ি তো দেখছি পেল্লায়, ঘরদোর ঢের, বাড়ি ভর্তি লোক আছে এমন তো মনে হচ্ছে না। জায়গায় অকুলোন হবে না।

    শশীতারা আঁচল ঘুরিয়ে বাতাস খেতে খেতে বললেন, আর হলেও নাচার। এসেছি যখন যুগ যুগান্তর পরে, পত্রপাঠ বিদের হবো এ মনে কোরো না।

    বাঃ তা কেন মনে করতে যাবো।

    কেন যাবে? শোনো কথা! এই মাত্তর পৃথিবীতে পড়লে নাকি? ভাগের ভাগীদারকে দেখলে আর কার মনে হয়, ওকে আমার বুকের মধ্যে ভরি। আসলে আমি তোমার শত্রুই, বুঝলে গো?

    মহিলাটি এবার পরিষ্কার গলায় বলেন, কেন শত্রুই বা হতে যাবেন কেন?

    তা যা বলো না, হলে উত্তম। এখন বলো বাড়িতে আর আছে কে? যে রকম ভোঁ ভাঁ দেখছি, বেশী কেউ আছে বলে তো মনে হচ্ছে না। তা’ আমার দ্যাওর কোথায়? দেখি সেই বেআক্কলে মানুষটিকে।

    প্রৌঢ়ার ভুরুটা কুঁচকে উঠলো, কোনো উত্তর না দিয়ে রিকশওয়ালার সঙ্গে সঙ্গে ভিতরে ঢুকে গেলেন।

    শশীতারা অধস্তনকে হুকুম করার ভঙ্গীতে ডেকে বলেন, মেজেটা একটু মুছে তবে নামিও।

    প্রৌঢ়া চলে গেলে শশীতারা বাইরে থেকেই মুখ উঁচু করে দেখেন। দোতলার ছাতের কার্নিশটা যেন ঝুলে রয়েছে। সর্বনাশ! যে কোনো সময় তো হুড়মুড়িয়ে পড়ে যেতে পারে। সেকালের বাড়ি, কার্নিশেই কতো ইট। ওই ভেঙে পড় পড় অবস্থার কারণও সামনেই দেদীপ্যমান। একটা পুষ্ট অশ্বত্থগাছ সতেজ বাহু মেলে দাঁড়িয়ে আছে সেই ফাটলের খাঁজে।

    বাড়িতে কী কুচোকাঁচা কিছু নেই?

    তাই বুড়ো বুড়ির ভয় নেই প্রাণে?

    কিন্তু কচিকাঁচা নেই তা বলা যায় কী করে? প্রথমে তো দুটো ছোট ছেলে মেয়ে এসে দাঁড়িয়েছিল। …ওই বুড়ির ছেলে মেয়ে বলে মনে হয় না। বোধহয় ওই গিন্নীর দ্যাওরপো হবে। ওর তো বয়স হয়েছে। এতোটুকু ছেলে মেয়ে হবার কথা নয়। তা—এই একটি গিন্নীকেই তো দেখছি। আর কেউ আছে না নেই?

    রিকশাওলা ফিরে আসে।

    তাকে পাওনার অতিরিক্ত বখশীস দিয়ে বিদেয় করেন শশীতারা।

    প্রৌঢ়াও ফিরে এসেছিলেন আবার। শশীতারা বলেন, নাও এখন পথ দেখিয়ে নিয়ে যাও। একেই বলে অদৃষ্টের পরিহাস। কে কাকে পথ দেখায়। এ বাড়িতে আগে ঢুকেছিল কে?

    মহিলাটি বলেন, হাত মুখ ধোবেন তো?

    হবে! হবে! মুখ হাত ধুয়ে তো আর আজ জলখাবারের থালা নিয়ে বসবো না।

    মহিলাটির মনে পড়লো, ও আজ একাদশী। সত্যি বলতে তিনি যেন একটু স্বস্তিই পেলেন। এক্ষুনি আদর আপ্যায়নের ব্যবস্থা নিয়ে বসতে হবে না!

    শশীতারার তীক্ষ্ন সন্ধানী দৃষ্টির কাছে ব্যাপারটা ধরা না পড়ে পারে না। শশীতারা ভারী একটা মজা অনুভব করেন। মনে করেন, তা বাপু হঠাৎ এমন জুড়ে বসবার তাল করে উড়ে আসছি আমি। ভাল লাগবে কেন? মুখে বলেন, আমার খাবার জন্যে ভাববার কিছু নেই। সব আমার আছে।

    মহিলাটি একটু বোধহয় চমকান। বলেন, কি আছে?

    সবই আছে। এখানে কে আছে কেমন ধারা লোক তার কিছুই যখন জানি না, তখন নিজের ব্যবস্থা তো করে আসতে হবে। তা ছাড়া—শশীতারা ভিতরে কৌতুকের হাসি চেপে বলেন, তাছাড়া আমার ভাইপো বলে দিয়েছে, যেখানে সেখানে কেউ কিছু বললেই যেন খেয়ো টেয়ো না পিসি। সম্পর্ক তো ভালো নয়। কার মনে কি আছে!

    মহিলাটির শুধু ভুরুই নয়, মুখ চোখ সবই কুঁচকে ওঠে।

    তাঁর বোধকরি বুঝতে বাকী থাকে না, কেমন সাংঘাতিক একখানি চীজ এসে ঢুকলেন।

    তবু তিনি বেজায় গলায় বলেন, আপনার ভাইপো খুব বুদ্ধিমান দেখছি।

    তা বুদ্ধিমান বৈকি। উকিল তো! বলে মহিলাকে একেবারে দমিয়ে দিয়ে ভিতরে যান ওর পিছনে পিছনে। আর ঢুকে এসে যেন অবাকই হয়ে যান।

    আশ্চর্য তো! মনে হচ্ছে বাড়িটা যেন কতো চেনা, কতোবার দেখেছেন। অথচ সেই তো কোন পূর্বজন্মে বিয়ে নামক ঠাট্টার নাটকটায় অষ্টমঙ্গলার আটদিন মাত্র। তা সে তো ঘোমটার মধ্যেই কেটেছে! তবু যেন কতো পরিচিত!

    কী অদ্ভুত!

    কী অদ্ভুত!

    নিজেকে প্রায় জাতিস্মর মনে হচ্ছে শশীতারার।

    তা পূর্বজন্ম ছাড়া আর কী? দেখবামাত্র মনে হচ্ছে আমি এখানের চিরকালের।

    এতোকালের মধ্যে এরা বাড়ির কোনো পরিবর্তন সাধন করেনি। এও এক আশ্চর্য! ফুলপুরের চাটুয্যে বাড়ির ইমারতখানা এই শশীতারা কতো রং বদল করালো, কতো রূপ বদল করালো।

    কতো জানলা ভেঙ্গে দরজা, কতো দরজা বুজিয়ে জানলা করা হয়েছে সেখানে। উঠানে ঘর উঠেছে দেয়াল ফেলে। রান্নাঘরের কতো ছিরি ফেরানো হয়েছে। আর বীরনগরের এই বাড়িখানা যেন যাদুঘরের তাকে বসে আছে অবিকল প্রাচীন চেহারা নিয়ে।

    যেমন উঠোনের চারধার ঘিরে ঘর ছিল, তার একপাশের ঘরগুলো রান্নাঘর—ভাঁড়ার ঘর, খাবার ঘর ইত্যাদি, বাকি তিন পাশেরগুলো শোবার। সব আছে। কতো লোক ছিল তখন?

    শশীতারার মনে হলো তিনি যেন দেখতে পেলেন, সমস্ত বাড়িটা মানুষে ঠাসা। তখন সে বাড়িটা বিয়ে বাড়ি ছিল, আর সেই জন্যেই অতো লোক ছিল, সেটা মনে পড়লো না শশীতারার।

    শশীতারা যেন সেই মানুষগুলোর জন্যে হাহাকার অনুভব করলেন। কিন্তু এই সব যে শশীতারার মনে ছিল, সেটাই তো শশীতারা নিজে জানতেন না।

    অথচ এখন দেখছেন, কী অবাক কাণ্ড, যা দেখেছিলাম অবিকল তাই রয়েছে। সেই—উঠোনের ওই পাশের একটু সরু প্যাসেজ দিয়ে বেরিয়ে গেলেই খিড়কি দরজা, সেই দালানের ওপরকার দরজাটার দু’পাশে আধা থামের মতো বাহার। দরজার পাল্লা দুখানা পিতলের গুলো মারা।

    সব ঠিক আছে, শুধু সেই সাবেক কালের ঝকঝকে আঁটসাঁট চেহারাটা ঝুলে পড়েছে, দেওয়ালের বালি ঝরে পড়ে ইঁট বেরিয়ে গেছে। আর দেয়াল বেয়ে শ্যাওলার দরানি গড়াচ্ছে।

    কিন্তু তবু সেই দরজা, সেই জানলা সেই সিঁড়ি, সেই ঘর দালান।

    শশীতারার কোন স্মৃতির সিন্ধুকে জমা ছিল এরা? শশীতারা তো সম্পূর্ণ এক অজানা অচেনা জায়গায় আসছেন এমন মনোভাব নিয়েই এসেছিলেন। সত্যি বলতে, বাড়িটা সম্পর্কে কোনো ধারণাও ছিল না। মনের জগতে ছিল অনেকখানি জমি। যা নাকি এখন বিঘের দামে কাঠা। আর সেই অনেকখানির অর্ধেকটার মালিক হচ্ছেন শশীতারা দেবী।

    এখানে এসে জমিটা কেমন ধূসর হয়ে গেল। বাড়িটাই প্রবল বেগে মনের মধ্যে ঢুকে পড়তে চাইছে।

    এটা হলো বোধহয় স্টেশন থেকে গ্রামে ঢোকার পথটার অনেক বদল দেখে। ঢোকার সময় অজিতকে সেকথা বলেছেন, জানিস অজিত, মনে অবিশ্যি বেশী কিছু নেই, তবু মনে পড়ছে, সেই যে থাড়ক্লাশ ঘোড়ার গাড়িতে চড়ে ঘোমটায় মুখ ঢেকে গ্রামে ঢুকেছিলাম, তখন যেন চারিদিকে ঝোপ জঙ্গল, বুনো বুনো গন্ধ। কিন্তু এ তো দেখছি দিব্যি শহর বাজার! আবার ইষ্টিশনের ধারে বাইসকোপ।

    অজিত বলেছিল, হাল চাল বদলে গেছে পিসি। এখন এখানকার ছেলেরাও চোঙা প্যাণ্ট পরে, দেয়ালে ধূয়ো লেখে। তোমার শ্বশুর বাড়ির দেশটা অনেক প্রগতিশীল হয়ে গেছে।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleতিন ভুবনের কাহিনী – আশাপূর্ণা দেবী
    Next Article শিকলি কাটা পাখি – আশাপূর্ণা দেবী

    Related Articles

    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়

    বিপিনের সংসার – বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়

    January 8, 2026
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    ভয় সমগ্র – হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    December 9, 2025
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    কিশোর অ্যাডভেঞ্চার সমগ্র – হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    December 9, 2025
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    প্রকাশ্য দিবালোকে – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    November 18, 2025
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    তারপর কী হল – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    November 17, 2025
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত

    শর্ম্মিষ্ঠা নাটক – মাইকেল মধুসূদন দত্ত

    November 11, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Our Picks

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }