Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    সোনার কৌটো – আশাপূর্ণা দেবী

    লেখক এক পাতা গল্প143 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    সোনার কৌটো – ৮

    ৮

    আজ আর বাপও জেগে নেই, পিসিও জেগে থাকতে পারেনি। সুখেন দেখলো দেয়ালের ধারে লোহার ঢাকা চাপা দেওয়া খাবার রয়েছে তার। লোহার ঢাকাটা একবার তুললো, দেখলো একটা কলাইকরা থালার পাশে খানিকটা কিসের যেন তরকারি, আর এক গোছা রুটি। আর কিছু না। এক চিলতে আচার পর্যন্ত নয়।

    অপ্রবৃত্তি এলো, ঢাকাটা আবার যথাস্থানে রেখে দিলো!

    সামান্য একটু শব্দ।

    তবু পিসির সতর্ক কান। বলে ওঠে, ‘সুখেন এলি নাকি? এতো রাত পর্যন্ত কোথায় থাকিস?’

    সুখেনের গা জ্বলে যায়।

    সুখেন বলে, ‘যমের বাড়ি।’

    ওই কালো শুঁটকো দাঁতফোকলা আর কটুভাষিণী বুড়িটি না থাকলে যে সুখেনের কী দশা হতো, সে কথা ভাবে না সুখেন, বাড়ি ঢুকেই ওই মূর্তিটি আর তার কর্কশ কণ্ঠের সম্ভাষণ, সর্বাঙ্গে যেন বিষ ছড়ায়।

    রেলের কুলিগুলোরও ঘরে একটা বৌ আছে।

    দাঁতে দাঁত পিষে এই কথাটা উচ্চারণ করে সুখেন। সুখেনের ধারণা ওই বাপটি আর পিসিটি মিলে ষড়যন্ত্র করে তার কিছু হতে দিল না। কেন, সুখেনের মত চাকরীতে যারা আছে, তারা বিয়ে টিয়ে করে ঘর—সংসার করছে না?

    আচ্ছা! আমিও এবার দেখাচ্ছি, অস্ফুট ঘোষণায় বিদ্রোহী হয় সুখেন, ‘স্বভাব খারাপ করে ছাড়ছি।’ যেন ভয়ানক একটা বাহাদুরী করবে।

    এটা অবশ্য হাসিরই কথা যে, ওই তুচ্ছ কাজটা করবার জন্যে সুখেনকে এমন তাল ঠুকে ঘোষণা করতে হয়! হাসির কথা, এ যাবৎ পেরে ওঠেনি ওটা! এই রেলস্টেশনের ধারে—কাছে কুলি মজুর বাবু ভদ্রলোক মাস্টার বেকার যেটা অবলীলায় করে ফেলে।

    সুখেনের যেন কোথায় একটা অলক্ষ্য ভয়, একটা অদৃশ্য বন্ধন। স্বভাব—চরিত্র খারাপ করে বসলে কার কাছে যেন জবাবদিহি করতে হবে সুখেনকে। দোষণীয় কিছু করে বসলে সেখানে যেন মুখ দেখাতে পারবে না সুখেন।

    কেন কে জানে ছোট থেকে সুখেনের কেমন যেন একটা বিশ্বাস ছিল, তুলসী সুখেনের সম্পত্তি। তুলসী ননীর দোকানে বিনি পয়সায় খেটেই আসুক, আর রেল কলোনীর কোয়ার্টারে কোয়ার্টারে চাকরীই করে বেড়াক, অথবা জগু রাজেনের সঙ্গে হি হি করে আড্ডাই দিক, আসল দাবি সুখেনের। সময়কালে সুখেন তার সেই দাবির হাতটি প্রসারিত করে, নিয়ে নেবে ওকে। শুধু সুখেনের বড় হওয়ার ওয়াস্তা, শুধু একটা চাকরী পাওয়ার ওয়াস্তা।

    কিন্তু সুখেনের পোড়া কপালে সুখেন বড় হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তুলসীও বড় হয়ে গেল, আরো অনেক বড়। তুলসী যে কেমন করে ওই ট্রেনিংটায় ভর্তি হবার চিন্তা মাথায় আনলো, কেমন করেই বা অতো তাড়াতাড়ি ট্রেনিং সেরে চাকরী বাগিয়ে ফেলল! সুখেন দেখলো কোন ফাঁকে তুলসী তার হাতের বাইরে চলে গেছে।

    কিন্তু এ অনুভূতি কি একা সুখেনেরই?

    রাজেন আর জগাই?

    তাদের নয়?

    তারাও তো নিয়ত সঙ্গী ছিল সুখেনের। আর সকলেরই একটা আহ্লাদের জিনিস ছিল ওই তুলসী। গেরস্তবাড়ি কাজ করেও তুলসী দিব্যি সময় বার করে ফেলে খেলতে আসতো। একটা খেলা ছিল ওদের রেলগাড়ির খালি কামরায় গদিতে উঠে বসে পা দোলানো, আপার বার্থে চড়ে পড়া, মুখে আঙুল পুরে এঞ্জিনের সিটির অনুকরণে সিটি মেরে অচল গাড়িখানাকে সচলের ভূমিকায় রূপ দেওয়া।

    আর একটা খেলা, ফাঁকা গাড়ির এদিকের দরজা থেকে উঠে, ও দরজা দিয়ে নামা।

    তখন নেহাৎ বাচ্চা নয় কেউই, তবু ওদের তেমন নয়—তুলসীকেই বেমানান লাগতো এই সব খেলায়। চারটেতেই প্রায় সমবয়সী, বরং হয়তো তুলসীই বয়সে কিছু ছোট, কিন্তু মেয়ের বাড় আর ছেলের বাড়? মেয়ের বাড়কে গ্রামে ঘরে কলাগাছের বাড়ের সঙ্গে তুলনা করে।

    স্বাস্থ্যবতী তুলসীর সর্বাঙ্গে যেন সেই বাড়ন্ত কলাগাছের লাবণ্য। ওর ওই টান টান করে পরা খাটো ফ্রক’ আঁটা স্বাস্থ্যসমৃদ্ধ শরীরটার দিকে লুব্ধ দৃষ্টিতে তাকিয়ে দেখেছে সবাই! অবশ্য যারা ওই দৃষ্টিতেই তাকায়।

    যাদের বাড়িতে বাড়িতে কাজ করতো তারা, তাকাতো ঈর্ষার দৃষ্টিতে। কী খেয়ে মেয়েটার অমন স্বাস্থ্য, অমন গতর! আমাদের ঘরে তো এতো যত্নে—আদরেও ছেলেমেয়েগুলো পাঁকাটি।

    খেলার সময় তুলসী প্রায় প্রায়ই পক্ষ বদলাতো। কখনো সুখেনের কখনো জগুর কখনো রাজেনের পক্ষ হয়ে অনায়াসেই বলতো, ‘আয় ভাই আমরা আলাদা খেলি, ওদের সঙ্গে আড়ি।’

    অতএব প্রত্যেকের পক্ষেই সুখস্বপ্ন দেখার বাধা ছিল না, ছিল না অধিকার বোধের অনুভূতিতে ডুবে যাওয়ার বাধা।

    অবিশ্যি তুলসী হাসপাতালে চাকরী পেয়ে চলে যাবার পর প্রত্যেকেরই মনোভঙ্গ, তবু তুলসী যে তাদের ভোলেনি এটা ঠিক। এইটা দেখে খুশী। হঠাৎ হঠাৎ তুলসীর ওদের তাসের আড্ডায় চলে আসা দেখে বোঝা যায় টানটা যায়নি তুলসীর।

    আর এখনো পর্যন্ত তো বিয়ে না করেই ঘুরে বেড়াচ্ছে।

    তাই তুলসীকে দেখলেই যেন সেই মুড়িয়ে যাওয়া আশাতরুতে হঠাৎ একটা নতুন পাতার শিহরণ জাগে। হয়তো বিয়ে—টিয়ে করে সংসারী হয়ে পড়তে পারলে এ মোহ কেটে যেত। তখন সহসা রাস্তায় দেখা হলে শুধু একটু সৌজন্যের হাসি হেসে বলতো, ‘কী তুলসী, কী খবর?’

    হঠাৎ একটা সম্ভাবনায় যেন গায়ে আগুনের হাওয়া বহে গেল সুখেনের। জগু আর রাজেনটা পৌঁছে দিতে গিয়ে এখনো হয়তো ওর সেই দাওয়ায় বসে আড্ডা দিচ্ছে। লোক ভয় তো নেই তুলসীর।

    সুখেন হতভাগা মান দেখাতে গিয়ে—

    সুখেন নিজের গালে ঠাস করে একটা চড় মারলো।

    পিসি কোণ থেকে বললো, ‘মশা মারতে গালে চড় খাচ্ছিস সুখেন? কই মশা তো নেই তেমন? হ্যাঁ, মশা ছিল তোদের চাঁপতায়। ঘরের মানুষকে বাইরে টেনে নিয়ে যেত। তা দেশভুঁই আর দেখলি কবে? সেই যে রেলের চাকরী নিয়ে চলে এলো তোর বাবা আর তো ও—মুখো হল না। তোর মা—’

    অসহ্য! অসহ্য!

    সুখেন হঠাৎ ঘর থেকে ছিটকে বেরিয়ে গিয়ে রাস্তায় পড়ে হন হন করে হাঁটতে শুরু করে।

    রাজেন আর জগু ফেরার সময় বোধকরি ভয় কাটাতেই খোলা গলায় গল্প করতে করতে ফিরছিল।

    ভূতের ভয় নয়, চোর—টোরের ভয়।

    অথচ ভাল করে ভেবে দেখলে ও ভয় পাওয়ায় হেসেই উঠতে পারতো।

    কী নেবে তাদের কাছ থেকে চোর?

    একটা কানাকড়িও তো সঙ্গে নেই।

    পরনের প্যাণ্ট শার্টটা ছাড়া কিছু বলতে কিছু না।

    তবু ভয়।

    ভয় জিনিসটা সহজাত। ভয়ের জন্যেই ভয়।

    অথচ ওই তুলসী নামের মেয়েটার প্রাণে ভয় নেই। সেই কথাটাই বলতে বলতে আসে ওরা!

    ‘বুকের পাটাটা বটে। একা মেয়েছেলে, একটা আলাদা বাসা করে থাকে।’

    ‘আমি একবার বলেছিলাম হাসপাতালের আর কোন মেয়েছেলের সঙ্গে ভাব করে দুজনে একসঙ্গে থাকতে পারিস। তারও সুবিধে, তোরও সুবিধে—’ তা উত্তর দিয়েছিল—’তার সুবিধে হতে পারে, আমার সুবিধে ঘোড়ার ডিম, একত্রে থাকলেই একত্রে খাওয়া দাওয়া। আমি যা খাই—দাই তাতে তার পোষাবে না, তাই নিয়ে মনোমালিন্য হবে। তাছাড়া কার মনে কী আছে, কী কেলেঙ্কারি করে বসবে না বসবে, দরকার কী বাবা সুখে থাকতে ভূতের কিল খাবার?’

    কিন্তু তুলসীকে ওরা যত নির্ভয় ভাবে, সত্যই কি আর এখন নির্ভয় আছে তুলসী? যুদ্ধ করতে করতে ক্ষয় হয়ে যাচ্ছে না কি?

    রেল কলোনির এধারে নতুন কোয়ার্টারের সারি তৈরী হচ্ছে। সেই জুতোর দোকানের র‍্যাকে সাজানো জুতোর বাক্সর মত বোদা বোদা বাড়ির সারি। এত আছে তবু কুলোচ্ছে না, কুলোচ্ছে না।

    পৃথিবীর বুকে যেখানে যত কুমারী ভূমি অনাহত অক্ষত হয়ে পড়ে থেকেছে এ—যাবৎ—কাল, সর্বত্র ঘা পড়েছে কোদাল—কুড়ুলের। গভীর গহ্বর কেটে কেটে ভিত খোঁড়া হচ্ছে। প্রাসাদ উঠছে আকাশ ফুঁড়ে, ছাদে উঠে নিচে তাকালে মাথা ঘোরে এমন অট্টালিকার মধ্যেও ঢুকে পড়ছে মানুষ। আবার এই জুতোর বাক্স, দেশলাই বাক্স, তাসের ঘরেও এসে নিচ্ছে আশ্রয়।

    আশ্রয়টা চাই।

    আর সেটা যতই বাড়িয়ে চলা হোক কুলোচ্ছে না। মানুষ নামক কীটটা মুহূর্তে বিস্তার করে চলেছে বংশ, রক্তবীজ হার মানছে, অতএব ইঁটের পর ইঁট সাজানোর বিরাম নেই।

    সকালবেলা হাসপাতালে যাবার পথে কেন কে জানে এই দিকটা দিয়ে যাবার ইচ্ছে হল তুলসীর। যেখানে এই নতুন ব্লকগুলো তৈরী হচ্ছে।

    তুলসীর মনটা কেমন যেন উদাস উদাস লাগছে। আবার গুচ্ছির মানুষ এসে ঢুকবে দেশটায়, রাস্তাঘাট দোকান—পশার কিলবিলিয়ে ছেয়ে যাবে নতুন পুরোনোর ভীড়ে।

    তুলসী দেশটার কত পরিবর্তন দেখলো!

    কতো ফাঁকা ছিল চারিদিক, কতো গাছগাছালি।

    ওই নতুনগুলো যেখানে উঠছে, সেখানে বিরাট বিরাট ক’টা গাছ ছিল। তাতে ফলও ছিল না ফুলও ছিল না—শুধু ছায়া। তবু তার আকর্ষণেই চলে আসতো ওরা।

    সুখেনই আগে—ভাগে টেনে আনত ওকে। বলতো, এই তুলসী, গাছে উঠতে যাবি?

    হ্যাঁ, এইটাই তাদের স্পেশাল খেলা ছিল। গাছের ডালে উঠে পা দোলানো। তুলসীর অবশ্য ইস্কুলের বালাই ছিল না, কিন্তু ওদের তা ছিল। রেল কোম্পানীর বদান্যতার ফল বিনি মাইনের ইস্কুল। কিন্তু ক’দিন বা নিয়ম করে ইস্কুলে পড়তে যেতো ওই লক্ষ্মীছাড়া ছেলে তিনটে?

    কিন্তু তিনটের মধ্যে এতো মিলের কারণ কি?

    কারণটা হয়তো—প্রধান একটা জায়গায় একটা বিশেষ মিল ছিল বলে। তিনটেরই মা ছিল না। আর হয়তো ওই মিলের টানেই তুলসী নামের মেয়েটাও ওদের সঙ্গে জুটতে আসতো।

    তুলসী ওই ইঁটের স্তূপ আর ভারার বাঁশগুলোর দিকে তাকিয়ে একটা নিশ্বাস ফেললো। কোথাও আর ফাঁকা জায়গা বলে কিছু থাকবে না।

    আবার হঠাৎ মনে মনে হেসে উঠলো, থাকবে। শুধু মনের মধ্যেটায় থাকবে ফাঁকা। আর সেটা বেড়েই চলবে। বাইরে যত দম আটকে আসবে, ‘ফাঁকাটা’ আর কোথাও জায়গা না পেয়ে মানুষের মনের মধ্যে ঢুকে পড়বে।

    আচ্ছা, আজ আমি এদিক দিয়েই বা এলাম কেন? এটা তো ঘুর পথ, এটায় তো হাঁটতে হচ্ছে বেশী।

    অসমাপ্ত ব্লকের পাশ কাটিয়ে চির—পুরানো বাড়ি গুলোর ধারের রাস্তায় পড়তেই কোনো একটা খুপরির সামনের দরজা থেকে একজন ডেকে উঠলো, ‘কী তুলসী? আজ এতো বেলায় যে?’

    তুলসীকে অন্যমনস্কতা ত্যাগ করতে হলো। এগিয়ে গিয়ে হাস্যবদনে বলতে হলো, ‘এই একটু দেরি হয়ে গেছে বৌদি!’

    ‘এই শোনো, তোমার সঙ্গে একটা দরকারী কথা ছিল—’

    ‘বলুন।’

    তারপর হঠাৎ চোখে—মুখে কৌতুক ফুটিয়ে গলা নামিয়ে বলে তুলসী ‘কী? আমাদের ওখানে ভর্তি হতে যাবেন নাকি?’

    ‘মরণ তোমার!’ বৌদি ঝলসে হেসে ওঠেন, ‘আবার মরতে যাবো আমি?’

    ‘মরতে কেন গো! বাঁচতে যাবেন।’

    ‘থাম বাপু! এই শোনো, আমার ননদ এসেছে শ্বশুরবাড়ি থেকে, আজকালের মধ্যেই বোধহয় চালান দিতে হবে তাকে। তোমাকে যেন পাই সে সময়।’

    ‘এই সেরেছে! ডেটটা কী?’

    ‘সেই তো মুশকিল। একটু গোলমেলে আছে—’

    ‘তা হলে?’

    ‘ওসব জানি না বাবা! তোমাকে চাই। আমি ননদকে খুব আশ্বাস দিয়ে রেখেছি—বিশেষ করে রাত্তিরের জন্যে। সবাইয়ের নামেই তো বদনাম শুনি, ঘুমিয়ে পড়ে, পেসেণ্ট ডেকে সাড়া পায় না, নয় তো ঘুম ভাঙালে খিঁচোয়—’ গলা নামিয়ে বলে, ‘বাঙালীও তো তেমন নেই আর?’

    ‘আমার নামে বদনাম শোনেন না?’

    ‘তোমার নামে? ও বাবা! তোমার নামে তো জয় জয়কার।’

    ‘তাহলে তো তরেই গেলাম। আচ্ছা বৌদি যাই! দেখি আপনার ননদের দিনে—’

    চলে যায় হনহনিয়ে।

    প্রশংসায় মন প্রসন্ন হবারই কথা।

    অথচ তুলসীর মনটা যেন বেজার হয়ে গেল। এই একটি মাত্র পরিচয় তুলসীর এই করণপুরে। ভাল আয়া!

    প্রসূতিকে যত্ন করে, রাতে ঘুমিয়ে পড়ে না, মেজাজ ভাল, কথার গুণে চাঙ্গা করে তোলে পেসেণ্টকে।

    না, আর কোনো পরিচয় নেই তুলসীর।

    হাসপাতালে মুখোমুখি না হয়ে উপায় নেই। ঘাড়ে গর্দানে ডাক্তার ঘোষ। ঘাড়টা আরো গুঁজে ঘোঁৎ ঘোঁৎ করে প্যাসেজ পার হয়ে চলে যান। মাথার মাঝখানটা টাক, ঘাড়ে গুচ্ছির চুল। তাতে কাঁচার থেকে পাকার ভাগই বেশী।

    গম গম করে হাসপাতাল কাঁপিয়ে রোগী দেখে বেড়ান উনি, সবাই যমের মত ভয় করে। বলে ‘বাঘ ডাক্তার।’

    তুলসী ওঁর ওই তাড়াতাড়ি ঘোঁৎ ঘোঁৎ করে চলে যাওয়া দেখে মনে মনে হাসে। যমেরও যম আছে।

    আশ্চর্য! মানুষ কী আজব জীব!

    আর দিনের মানুষটার সঙ্গে রাতের মানুষটার কত তফাত!

    * * *

    রাজেন আর জগু গুম হয়ে বসেছিল।

    সামনে সুখেন।

    তলে তলে এই চালাচ্ছে তুলসী!

    এটা যেন ওদের আশঙ্কার জগতে ছিল না। তুলসী বাচাল, তুলসী বেহায়া, তুলসী আড্ডা দেবার সময় মেয়ে—পুরুষে ভেদ করে না, তুলসী সাজে, তুলসী বিড়ি—সিগারেট খায়, তবু কোনখানে যেন অপরিসীম একটি বিশ্বাস ছিল তুলসীর উপর এই ছেলে তিনটের। সেই বিশ্বাসটির উপরই ওদের ভালবাসা ন্যস্ত ছিল।

    কিন্তু সুখেন কাল রাত্রে যা দেখে এসেছে তার ওপর তো আর কথা চলে না। যাকে বলে প্রত্যক্ষদর্শীর বিবরণ, তাই শুনিয়েছে সুখেন ওদের।

    খোলাখুলিই স্বীকার করে যে ঈর্ষার জ্বালাতেই ছুটে বেরিয়ে গিয়েছিল সে। স্থিরনিশ্চয় করেছিল গিয়ে দেখবে রাজেন জগাই তখনো তুলসীর ওখানে আড্ডা মারছে, কিন্তু দূর থেকে দেখলো দাওয়া অন্ধকার।

    পাপমনের চিন্তাও ব্যক্ত করেছে সুখেন তার আশৈশবের বন্ধুদের কাছে। জ্বালায় ছটফটিয়ে ভেবেছিল, ঘরের মধ্যে গিয়ে ঢোকেনি তো ও দুটো?

    আচ্ছা দেখে নেবে সুখেন। বন্ধুদের এই বেইমানীর শোধ নেবে।

    কিন্তু আর একটু এগোতেই মাথা থেকে পা পর্যন্ত ঝিম মেরে গিয়েছিল সুখেনের।

    ঘোঁৎ ঘোঁৎ করে যে লোকটা তুলসীর বেড়ার দরজা খুলে বেরিয়ে পড়ে অন্ধকারে মিশে গেল, সে রাজেনও নয়, জগুও নয়।

    সুখেন তাকে চেনে।

    সুখেন দেখলো অন্ধকারে দাওয়ার ধারে দাঁড়িয়ে রয়েছে তুলসী।

    তার মানে দাঁড়িয়ে থেকে বিদায় দেওয়া হয়েছে।

    ওরা গর্জন করে বলে উঠেছিল, ‘তুই কিছু বললি না? হাতে হাতে ধরে ফেললি যখন?’

    যেন সুখেন তুলসীর গার্জেন। সুখেন কিন্তু সে কথা বলেনি।

    সুখেন তখন একটু থেমেছিল।

    সুখেন একটা গোপন কথা তার আশৈশবের বন্ধুদেরও বলতে পারেনি। বলতে পারেনি তুলসীকে ওই ভাবে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে কেন কে জানে সুখেনের দু’চোখে হুশ করে জল এসে গিয়েছিল। সুখেন হাতের পিঠ দিয়ে চোখ মুছতে মুছতে সটান উল্টোমুখ ধরে ফিরে এসেছিল।

    সুখেন ওই গোপন কথাটা চাপা দিয়ে বলেছিল, ‘পিরবিত্তি হল না। তদ্দণ্ডেই ওকে ডেকে কথা কইতে পিরবিত্তি হল না।’

    তারপর বসে আছে গুম হয়ে তিনজনে।

    যেন যে ব্যাঙ্কটায় ওদের তিনজনেরই টাকা জমা ছিল, সেই ব্যাঙ্কটা ফেল হয়ে যাবার খবর এসেছে ওদের কাছে।

    লেভেল ক্রশিংয়ের ওধারে যে একটা ইঁটের ঢিবি মতন আদি অন্তকাল পড়ে আছে, তার উপর বসে ছিল ওরা। যেন কথাবার্তা, সব ফুরিয়ে গেছে।

    তাই নিঃশব্দে শুধু একটার পর একটা বিড়ি টেনে চলেছিল।

    কিন্তু কে জানতো এমন অসময়ে এবং অনুপযুক্ত জায়গায় হঠাৎ স্বয়ং অভিযুক্ত আসামীই এসে হাজির হবে।

    পরস্পরে তাকাতাকি করলো।

    দিব্যি তো মটমট করে আসা হচ্ছে।

    লজ্জার বালাই মাত্র নেই।

    থাকবে কেন? বড় গাছে নৌকো বেঁধেছেন যে!

    এই নতুন বেঁধেছে, কি কতকাল বেঁধেছে, কে জানে। কিন্তু এদিকেই বা আসছে কেন?

    ‘কেউ কথা কসনে।’

    বলে ওরা ঊর্ধ্বমুখে ধোঁয়া ছাড়তে থাকে।

    ‘তোরা এখানে? আর আমি তোদের খুঁজে খুঁজে—’

    তুলসী ওদের ঠেলে দিয়ে একপাশে বসে পড়ে বলে, ‘রাজরাস্তা থেকে কোণে এসে বসে তিন শেয়ালে কী যুক্তি হচ্ছে?’

    ওরা কেউ কোনো কথা বললো না। যা করছিল তাই করতে লাগলো। ব্যাপারটা অভিনব।

    সুখেনের না হয় অভিমানের কারণ আছে, কাল রাত্রেই সেটা দেখিয়ে চলে গিয়েছিল গটগটিয়ে। আর দুটোর হঠাৎ কী হল? রাত দুপুর পর্যন্ত তো দেখা হয়েছে। গাল—গল্প করতে করতে পৌঁছে দিয়ে এসেছে। সুখেনের অপমানে ওদের অপমান, এমন চিহ্ন তো প্রকাশ পায়নি।

    তুলসী দু হাতের তালু উল্টে বলে, যা বাব্বা! একটার মুখে—ও কথা নেই যে! মুখ দেখে মনে হচ্ছে বৈরাগী হয়ে যাবি। তিন জনেই এক পথের পথিক হচ্ছিস তাহলে? কাপড়চোপড় গেরুয়ায় ছুপিয়ে—টুপিয়ে নিয়েছিস নাকি? হরে—কেষ্ট কাপড়ই বা কোথা? সবই তো পেণ্টুল। নাঃ। গোড়াতেই মৌনীবাবা! ছাড় দিকি, একটা বিড়ি ছাড়।’

    আর চুপ করে থাকতে পারে না রাজেন।

    বলে ওঠে, ‘কেন? ওসব ছোটলোকের জিনিসে তোর দরকার? তোর তো ওর গন্ধে মাথা ধরে।’

    ‘ধরতো! তা কী আর করা যাবে। ফুরিয়ে গেছে। নেই।’

    অগত্যাই দেশলাইটা আর প্রার্থিত বস্তুটা এগিয়ে দিয়ে রাজেন বাঁকা গলায় বলে, ‘রাজরাণীর আবার অন্নের অভাব? এখন তো বড় গাছে নৌকো বেঁধেছিস, অভাব কিসের? ফুরোবার আগেই যোগান হবে।’

    তুলসী ভুরু কুঁচকে ওদের বিদ্বেষ—বিষাক্ত মুখ তিনটে দেখে বলে, ‘কিসে নৌকো বেঁধেছি?’

    ‘কিসে বেঁধেছিস নিজেই ভাল জানিস। মনে করেছিলি ডুবে ডুবে জল খেলে শিবের বাবাও টের পায় না। তা হয় নারে! ধর্মের কল বাতাসে নড়ে।’

    তুলসী অনায়াসে ধোঁয়া উড়িয়ে বলে, ‘ধর্মের কল কোথায় নড়ে ধর্মই জানে, এখন আপাতত তোদের মাথায় কোনোখানে পোকা নড়েছে। কী যে আবোল—তাবোল বকছিস। এলাম তোদের কাছে একটা বিপদে পড়ে পরামর্শ করতে—’

    ‘বিপদ! ওঃ!’ সুখেন সন্দেহ—বিকৃত মুখে ভারী গলায় বলে, ‘তা বিপদটা কী শুনতে পাই না?’

    ‘শোনাবার জন্যেই তো এসেছি, তা তোরা দেখছি কেবল ব্যাঁকা কথাই কইছিস। ব্যাপারটা কী?’

    ‘ব্যাপার কিছু না। গরীব হতভাগাদের কথায় কান দেওয়ার দরকার নেই।’

    ‘এই সুখেনটা শুধু হতভাগাই নয়, ইল্লুতে ছোটলোক।’

    তুলসী তীব্র গলায় বলে, ‘কী একটু বলেছি, তাতেই নুনের নৌকো ডুবে গেছে। বলি জগৎ—সংসারে যে বাঘ ভাল্লুক জন্তু—জানোয়ারই বেশী এটা তো মিথ্যে নয়? কে কখন জানোয়ার হয়ে ওঠে বলাও শক্ত। কাল রাত্তিরে তোরা দু’জনে আমায় পৌঁছে দিয়ে যেমনি পিছু ফিরেছিস, তেমনি দেখি সামনে এক কুকুর!’

    ‘কুকুর!’

    জগাই বলে, ‘সে তো আমরা তাড়িয়ে দিয়ে এলাম।’

    ‘কাকে তাড়িয়ে দিয়ে এলি?’

    ‘কেন, সেই বীরভদ্দর কেলে কুকুরটাকে।’

    ‘ও, সেইটা? সেটা আর কী এমন? সে তো কুকুরের মতন দেখতে কুকুর—’

    তুলসী হাতের বিড়িটা শেষ না হতেই ছুঁড়ে ফেলে দিয়ে সাপিনীর মত হিস হিস করে বলে, ‘মানুষের চামড়া ঢাকা কুকুরটাকে তো তাড়িয়ে দিয়ে আসিসনি? আঃ, আর একটু যদি এগিয়ে আসতিস! বেড়ার দোর থেকে ছেড়ে না দিয়ে দাওয়ায় তুলে দিতিস। দেখতে পেতিস মানুষের চামড়া মোড়া কুকুর আরো কত ভয়ঙ্কর!’

    সুখেন ক্রুদ্ধ গলায় বলে, ‘লোকটা কে?’

    ‘বলে আর কী হবে—’

    তুলসীর গলায় ঔদাসীন্য, ‘সমাজের মাথা একজন কেষ্টবিষ্টু বেক্তি, এই আর কী?’

    ‘নাম বল তুলসী! সেই ‘মাথা’র মাথাটা দু’চির করে দিয়ে আসি।’

    ‘তাতে কেলেঙ্কারী বাড়বে বৈ কমবে না সুখেন!’

    তুলসী গভীর গলায় বলে, ‘একটা ছোটলোক আয়ার ইজ্জতের থেকে ওসব মাথার দাম হাজার গুণ বেশী।’

    ‘তার মানে লোকটাকে তুই বাঁচাতে চাস?’

    ‘তা মিথ্যে বলবো না সুখেন, ওর মতন বিচক্ষণ ডাক্তার তো আর এ তল্লাটে নেই—’

    ‘ডাক্তার!’

    ‘এইরে বলে মলাম! যাক ওই পর্যন্তই। শুধু এই কথাই বলছি, ওর মাথাটা দুফাঁক হয়ে গেলে, রুগীগুলোর কপাল বেবাক ফাঁকা হয়ে যাবে।’

    ‘এই সব পাজী লোক একটা বিদ্যে শিখেছে বলে তাদের ইহ—পৃথিবীতে বাঁচিয়ে রাখতেই হবে?’

    ‘তা এই তো এ জগতের নিয়ম রে জগাই! কত কেষ্ট—বিষ্টুর ফর্সা জামার নীচে কত কাদা। তবু তারা পৃথিবীর কাজে লাগছে বলে সমাজ—সংসারে মাথার মণি।’

    রাজেন এতক্ষণ চুপ করে ছিল। এখন ক্ষুব্ধ গলায় বলে ওঠে, ‘আর আমরা যারা পৃথিবীর কোন কাজে লাগি না, তারা সমাজ সংসারের জুতোর সুখতলা। এই তো?’

    ‘যা বলেছিস! কিন্তু তুই না বললেও সেই কুকুরটা যে কে আমি ধরতে পারছি, ওই বুড়ো বজ্জাতটা এর আগে অনেক কীর্তি করেছে। ওকে শেষ করলে একটা পুণ্যের কাজ হবে।’

    তুলসী হতাশ গলায় বলে, ‘তোদের মাথায় শুধু ওই শেষ করাই ঘুরছে। ওতে আমি ভরসা পাবো না। ছারপোকার বংশ যত মারো ততই বাড়ে। একটা কুকুর মেরে আর কতটুকু আসান হবে? আমি তোদের কাছে অন্য কথা বলতে এসেছিলাম!’

    বলতে এসেছিলাম!

    তাই তো। তারা তো সেটা তেমন ভাবেনি। ভেবেছে এমনি এসে বসেছে।

    ‘কি বলতে এসেছিলি?’

    তিনজনে একযোগে একই কথা বলে ওঠে।

    তুলসী কাঁধের আঁচলটা টেনে বেশ চোস্ত হয়ে বসে।

    কারুর মুখের দিকে না তাকিয়ে, সামনের রেলের ওই গুমটি ঘরের দিকে তাকিয়ে আস্তে বলে ‘বলছিলাম, বেড়ালের মুখ থেকে মাছ আগলাতে আগলাতে জীবন মহানিশা হয়ে গেল! অথচ বেড়াল—কুকুর নিধন করে এ সমিস্যের সমাধান হয় না বুঝলি? একমাত্তর সমাধান, মাছটাকে যেখানে সেখানে ফেলে না রেখে শিকেয় তুলে রাখা। তাই ঠিক করেছি নিজেকে আর এমন বেওয়ারিশ ফেলে না রেখে একটা ওয়ারিশানের হাতে তুলে দেব। যুদ্ধ করে করে আক্লান্ত হয়ে গেছি।’

    তুলসী আঁচল তুলে ঘাড়ের ঘাম মোছে।

    সুখেন, রাজেন, জগাই পরস্পরের মুখের দিকে তাকায়।

    তুলসীর কথায় এ যে এক অদ্ভুত নতুন সুর!

    এই অদ্ভুত কথাটার যথার্থ মানে কী?

    তাহলে কি তুলসী তলে তলে কিছু ব্যবস্থা করে ফেলেছে?

    কিন্তু তুলসী যে বড় ‘আক্লান্ত’।

    তুলসীর মুখটা দেখে মায়া আসছে। চিরদিনের সেই তেজে—মটমটে তুলসী যেন উদাস বিষণ্ণ!

    কে কি বলবে ঠিক বুঝে উঠতে পারে না বলেই বোধহয় তিনজনেই উসখুস করে, অথচ কিছুই বলতে পারে না।

    তুলসী আবার বলে, ‘পোড়ারমুখো ভগবান, মেয়েজাতটাকে এমন অসহায় করেও গড়েছিল! দেহখানাকে সন্দেশ মণ্ডার মতন লোভের বস্তু করে রেখে দিয়েছে। এ শাস্তিটা ভগবান দিল কেন মেয়েমানুষকে তাই বল? এ পাপ না থাকলে মেয়ে পুরুষ সমান হয়েও পৃথিবীতে চলতে পারতো। তা হবে কেন? বিধাতা পুরুষ যে নিজে পুরুষ, তাই মেয়েজাতটার সুখ—দুঃখ বোঝেনি। মরুকগে—যা করেছে তার তো আর চারা নেই! মেয়েমানুষ জাতটাকে চিরটাকাল ফাঁসির আসামী হয়েই থাকতে হবে। যাক ওসব কথা—আসল কথাটাই বলি স্পষ্ট করে—ভেবে দেখলাম একটা বিয়ে করে ফেলাই হচ্ছে সমিস্যে সমাধানের উপায়।’

    ‘বিয়ে! মানে তোর?’

    জগাই বলে ফেলে বোকার মত।

    ‘তোরও হতে পারে—’

    তুলসী হেসে ওঠে, ‘বিয়ে করতে হলে তোদের মধ্যেই একজনকে করা ভাল। এই বয়সে আর একটা অচেনা অজানা নতুন লোকের সঙ্গে ভাব ভালবাসা জমানো পোষাবে না। তোদের সঙ্গে চিরকালের ভালবাসা! এখন বল কে রাজী আছিস?’

    কে রাজী আছে!

    তিন তিনটে সা—জোয়ান ছেলে হাঁ হয়ে তাকিয়ে থাকে।

    এ আবার কেমন ধরনের প্রস্তাব।

    তুলসীর যেন সবটাই অদ্ভুত!

    তবু সুখেনই তাড়াতাড়ি প্রস্তাবটাকে হাতে তুলে নেয়। বলে ওঠে, ‘রাজী না থাকার কথা উঠছে কোথা থেকে?’

    ইস!

    সুখেনটা কী চালু! ফটকরে উত্তরটা দিয়ে বসলো!

    রাজেন আর জগাই জিভ কামড়ায়।

    এ কথাটা তো আমিও বলতে পারতাম!

    তবে রাজেন পিঠোপিঠিই বলে, ‘সত্যি, রাজী হওয়া না হওয়ার কথাই নেই তুলসী, তুই যাকে পছন্দ করবি—’

    ”হ্যাঁ হ্যাঁ, সেই কথাই তো ঠিক—’জগাইও নিজের কথাটা বলে নেয়, ‘তুলসীর যখন এতোদিনে বিয়ের ইচ্ছে, মানে বিয়ের মত হয়েছে—’

    তুলসী গম্ভীর মুখে বলে,—ইচ্ছেও নয়, পছন্দও নয়, মত হওয়া—হয়িও নয়, স্রেফ দায়ে পড়ে তোদের কাছে এসে পড়েছি। বলতে পারিস, তোদের শরণ নিচ্ছি। নিজের ভার আর নিজে বইতে পারছি না। একজনের বিয়ে করা বৌ হয়ে গেলে পাঁচজনে আর মানুষটাকে পাবলিকের সম্পত্তি ভাবতে সাহস করবে না।’

    তিনজনেই একসঙ্গে কিছু কথা বলে ওঠে।

    ঠিক বোঝা যায় না, তাদের ব্যাকুলতা বোঝা যায়।

    অকস্মাৎ এই প্রস্তাবের আঘাতে ওরা প্রায় বিমূঢ়।

    আশ্চর্য! তুলসী যদি বললোই তো এই ভাবে বললো!

    সুখেন মনে মনে কপালে করাঘাত করে।

    তুলসী কি জানেনা সেই শৈশবকাল থেকে সুখেন তুলসী বলে মরে যায়? জানে না তুলসীকে সে কী চক্ষে দেখে? অথচ একটি বার একা সুখেনকে ডেকে বলতে পারলো না, ‘সুখেন, ভাবছি এবার বিয়েটা করে ফেলি।’ বাকি কথা সুখেনই বলতো।

    ওর ইচ্ছেটুকু প্রকাশের পর আর কিছু করতে হত না তুলসীকে। …সুখেনও তো ঠিক করে ফেলেছিল, এবার একটা বিয়েই করে ফেলবে। সে বিয়ের কনে যদি তুলসী হয়, তার থেকে সুখের আর কী আছে।

    কিন্তু তুলসী কিনা রাজরাস্তার মাঝখানে একসঙ্গে তিন তিনটে লোককে বলে বসলো, ‘আমায় কেউ বিয়ে করবি?’

    ছি ছি, এতো বুদ্ধি ধয়ে তুলসী, আর এই বুদ্ধির পরিচয় দিল!

    সুখেন গাঢ়স্বরে বললো, ‘তুই তো জানিস তুলসী, তোকে আমি চিরকাল কী চক্ষে দেখি—’

    ‘আহা সে তো জানিই।’

    তুলসী অনায়াসেই বলে, ‘তোদের তিন জনকেই জানি। আমার কোন ‘সারপর’ নেই। তোদের মধ্যে যার সুবিধে হবে, যার অবস্থায় কুলোবে, তার সঙ্গেই বিয়েয় বসে যেতে রাজী। কিন্তু এই দণ্ডে জবাব চাইছি না, দুটো দিন সময় দিলাম, ভেবে—চিন্তে দেখ ঘরে গিয়ে। নিজের নিজের মনকে জিজ্ঞেস কর। আমার আর কী! এতো এতো দিনই যদি পারলাম আর ক’টা দিন চালিয়ে দেব। বুড়ো বদমাইসটা এখন দু’চারটে দিন বোধহয়—’ তুলসী উঠে দাঁড়ায়।

    হাত বাড়িয়ে বলে, ‘দে আর একটা দে। চলি।…ভেবে—চিন্তে উত্তর দিবি আমায়। সুখেনের তো মস্ত একটা অসুবিধে, ওই পিসি! সে কি আর একটা সরকারী হাসপাতালের আয়াকে বৌ করে ঘরে তুলতে রাজী হবে?’

    ‘পিসিকে আমি থোড়াই কেয়ার করি।’

    বীরবিক্রমে গর্জন—করে সুখেন, ‘আমার যে মেয়েকে ইচ্ছে তাকেই বিয়ে করবো।’

    ‘বাপও তো আছে তোর।’

    ‘বাবার কথাও বাদ দে। সাতেও নেই পাঁচেও নেই, দুটো বাড়াভাত পেলেই হলো।’

    রাজেন মনে মনে নিশপিশ করে।

    সব কথাগুলো সুখেনটাই বলে নিচ্ছে।

    আচ্ছা দুটো দিন তো সময় দিয়েছে, তার মধ্যে রাজেনের নিজের যা বলার বলবে।

    সুখেন যতই বলুক, ওর ওই পিসি বুড়ি ফ্যাচাং তুলবেই। সে দিক থেকে আমার বাবা বেপরোয়া।

    আর জগাই মনে মনে হিসেব করতে থাকে, তিনজনের মধ্যে চাকরীটা কার সবচেয়ে ভালো, মাইনেটা কার আর দুজনের থেকে বেশী…জগাই তোদের মতন কথায় অতো চৌকস না হতে পারে, তাস খেলতে হেরে মরতে পারে, কিন্তু চাকরীটা তারই ভালো, মাইনেটা তারই বেশী।…তা ছাড়া তুলসীর নিজের আয়ও তো কম নয়। সংসার সুখেই চলবে।

    ভাবে জগাই, যা বলবার পরে বলবো।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleতিন ভুবনের কাহিনী – আশাপূর্ণা দেবী
    Next Article শিকলি কাটা পাখি – আশাপূর্ণা দেবী

    Related Articles

    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়

    বিপিনের সংসার – বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়

    January 8, 2026
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    ভয় সমগ্র – হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    December 9, 2025
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    কিশোর অ্যাডভেঞ্চার সমগ্র – হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    December 9, 2025
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    প্রকাশ্য দিবালোকে – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    November 18, 2025
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    তারপর কী হল – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    November 17, 2025
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত

    শর্ম্মিষ্ঠা নাটক – মাইকেল মধুসূদন দত্ত

    November 11, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Our Picks

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }