Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026

    ভুতুড়ে ট্রেন – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026

    ব্রাহ্মণ ভূত – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    সোনার তরী – রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

    উপন্যাস রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এক পাতা গল্প96 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    নিরুদ্দেশ যাত্রা

    এই মনোরম মনোটোনাস শহরে অনেকদিন পর আজ সুন্দর বৃষ্টি হলো। রাত এগারোটা পার হয় হয়, এখনো রাস্তার রিকশা চলছে ছল ছল করে যেনো গোটিয়ার বিলে কেউ নৌকা বাইছে, ‘তাড়াতাড়ি করো বাহে, ঢাকার গাড়ি বুঝি ছাড়ি যায়।’ আমার জানলায় রোদন-রূপসী বৃষ্টির মাতাল মিউজক, পাতাবাহারের ভিজে গন্ধভরা সারি, বিষাদবর্ণ দেওয়াল; অনেকদিন পর আজ আমার ভারি ভালো লাগছে। ছমছম করা এই রাত্রি, আমারি জন্যে তৈরি এরকম লোনলী-লগ্ন আমি কতোদিন পাইনি, কতোকাল, কোনোদিন নয়। বৃষ্টি-বুনোট এইসব রাতে আমার ঘুম আসে না, বৃষ্টিকে ভারি অন্যরকম মনে হয়, বৃষ্টি একজন অচিন দীর্ঘশ্বাস। এইসব রাতে কিছু পড়তে পারি না আমি, সামনে বই খোলা থাকে, অক্ষরগুলো উদাস বয়ে যায়, যেনো অনন্ত-কাল কুমারী থাকবার জন্যে একজন রিক্ত রক্তাক্ত জন্মদান করলো এদের। চায়ের পেয়ালায় তিনটে ভাঙা পাতা ঘড়ির কাঁটা হয়ে সময়কে মন্থর কাঁপায়। ষাট পাওয়ারের বাল্বে জ্বলছে ভিজে আলো, আর চিনচিন করে ওঠে হঠাৎ কতোদিন আগে ভরা বাদলে আশিকের সঙ্গে আজিমপুর থেকে ফিরলাম সাতটা রবীন্দ্র সঙ্গীত শুনে, ‘তুই ফেলে এসেছিস কারে’, সেই সোনার শৈশবে ভুল করে দ্যাখা একটি স্বপ্ন, স্বপ্নের মতো টলটল করে। আমার ঘুম আসে না, আলোর মধ্যে একলা জেগে রই। সন্ধেবেলা আম্মার ঘরে যখন যাচ্ছি, আকাশ কালো, রাস্তার মানুষজন নেই, চারটে জানলায় আমাদের পাতাবাহারের ছায়া লুফে নিয়ে পালিয়ে গেলো দুটো ফক্সওয়াগন, কাক আর বাদুড়েরা চিৎকার করে উঠলো; আমার মনে হলো আজ আমি একটাও ঘুমোতে পারবো না। আধ ঘন্টা একা কাটিয়ে আম্মার ঘর থেকে যখন ফিরছি তখন ভরা স্বরে বৃষ্টি শুরু হয়েছে। আমার খারাপ লাগলো, আজ আমার একটুও ঘুম হবে না। আম্মার ঘরে কি যেনো ফেলে এসেছি।

    আম্মার ঘরে যাবার জন্যে রঞ্জু উঠে দাঁড়ালো। দরজার সামনে এসে ছিটকিনি খুলবে বলে হাত তুলতেই মনে পড়লো বাইরে থেকে এটা বন্ধ। মাঝখানে একটা ঘর পার হয়ে আম্মাদের ঘর। তবু দরজার ছোটো একটা ফুটোয় ছুঁচলো ঠোঁট রেখে নিচু ও নরম স্বরে ফিসফিস করে উঠলো, ‘আম্মা, দরজা খোলো, দরজা খোলো।’

    বৃষ্টি ধীরে ধীরে কমে আসছিলো, রঞ্জু জানলার বাইরে তাকিয়ে দেখলো এখন একেবারে নেই। বকুল পাতার নিশ্বাস বড়ো শূন্য মনে হয়। ল্যাম্পোস্টে ভিজে আলোয় ইলেক্ট্রিক তারের ওপর সার বেঁধে জ্বলছে বৃষ্টির শিশির, জলের ফোঁটাগুলো এক পলক পর পর গানের টুকরোর মতো নিচে ঝড়ে পড়ছে। কাজলা দিদি এই তারের মধ্যে দিয়ে কোথায়, কার বাল্বে জ্বলে উঠছে? কোথায়? ‘ফুলের গন্ধে ঘুম আসে না একলা জেগে রই, মাগো আমার শোলোক বলা কাজলা দিদি কই?’ এই জায়গায় এসে কাজলা দিদির জন্যে রঞ্জুর ভারি খারাপ লাগলো। ব্যাকুল ও দ্রুত হাতে ধাক্কা দিতে দিতে রুদ্ধ কণ্ঠে চিৎকার করতে থাকলো, ‘আম্মা দরজা খোলো, দরজা খোলো, আম্মা দরজা খুলে দাও, খোলো না তাড়াতাড়ি, খোলো। কয়েক সেকেণ্ড অনিয়মিত বিরতি দিয়ে এমনি চার পাঁচবার ডাকবার পর দীর্ঘ একটা বিরতির মধ্যে রঞ্জু জড়ানো একজোড়া স্বর শুনতে পায়।

    ‘কে? কে যেন ডাকছে না?’ স্বপ্নের মধ্যে থেকে আম্মা ছিঁড়ে আসছে, বেচারি মা আমার।

    ‘রঞ্জু।’ একটু থেমে আব্বা ফের বললো, ‘রঞ্জু না?’

    ‘রঞ্জু?’

    ‘হুঁ। এখনো ঘুমোয় নি।’

    ‘দরজা খুলে দিতে বলছে না?’

    ‘হুঁ। চ, চ। ডাক্তার কাল বললো না ওয়েদার পাল্টালে একটু ইম্প্রুভ করতে পারে?’

    ‘এই যে শোনো, ফের ডাকছে। কি করি, এ্যা? দরজা খুলে দেবো?’

    আম্মার ভীরু স্বর শুনে রঞ্জুরো একটু ভয় করলো।

    ‘দরজা? দাও, খুলেই দাও। নইলে আরো বাড়তে পারে।’

    ‘যদি বেরিয়ে যেতে চায়?’

    ‘যাবে। এতো রাতে এসব ভাল্লাগে না। খুলে দাও।’

    ‘চলো, তুমিও চলো।’

    ‘একা যেতে ভয় করছে?’

    পর্দার কাঁপা কাঁপা ছায়াকে মনে হয় অন্য কোনো মানুষ কিম্বা একজন মানুষ নয়। ‘পুকুর ধারে নেবুর তলে, থোকার থোকায় জোনাই জ্বলে,’ নেবুপাতার মর্মর শুনতে শুনতে রঞ্জু ফের বিমর্ষ হলো : একজন বিপরীত লোককে আমি মিছেমিছি প্ৰতিবিম্বিত করছি। বাইরে তালা খোলার শব্দ পেয়ে টেনে ছিটকিনি খুলে ফেললো। ঢেউ তোলা পর্দায় তাকিয়ে দ্যাখে এ্যাবসার্ড প্রতিবিম্ব টুকরো টুকরো ভেঙে পড়ছে।

    ‘এতো রাতেও ঘুমোসনি বাবা!’ বৃষ্টির পর আব্বার চুল শাদা, বিষণ্ন ও অল্প হয়ে গিয়েছে। আব্বার শুকনো কণ্ঠস্বরে প্রয়াস বড়ো করুণ।

    রঞ্জু যেনো ট্রাঙ্কলে একটা শোক সংবাদ শুনছে।

    ‘এখনো ঘুমোসনি বাবা, কতো রাত হয়ে গেছে, যাও শুয়ে পড়ো।’ ঘুমভাঙা জিভের মধ্যে লুটোপুটি খেয়ে আম্মার শব্দগুলো ক্লান্ত হয়ে বেরিয়ে এলো। আম্মা বেঁটে, ফর্সা ও গোলগাল। আম্মার ও আব্বার ছায়া তিরতির করে কাঁপছে দেখে রঞ্জু একটু অবাক হলো। এমন কেন হয়?

    ‘আম্মা, তোমাদের ঘরে ইয়ে ফেলে এসেছি।’

    ‘আমাদের ঘরে? কি ফেলে এসেছিস?’

    ‘কখন? কি ফেলে এলি?’

    ‘অই যে বিকেলবেলা, বৃষ্টি আসছে যখন’, সাজিয়ে কথা কইতে ভালো লাগছে, যেনো কথা এঁকে রঞ্জু সেই ছবি হাওয়ায় টাঙিয়ে দিচ্ছে, ‘আকাশে ভীষণ মেঘ করেছে, তুমি যে বলছিলে, ‘অঞ্জুটা এখনো ফিরলো না, কোথায় যে আছে, ‘ তালগাছ থেকে মস্ত একটা ডাল উড়ে এসে তারের ওপর ঝুলতে লাগলো, ধুলোয় চারদিক একাকার, তখন তোমার ঘরে ফেলে এসেছি।’

    ‘কি, কি ফেলে এসেছিস?’

    রঞ্জু ভারি বিব্রত হয়ে দেখলো ওর অনিচ্ছুক ছায়া আরো দ্রুত কাঁপতে শুরু করেছে। ঠাণ্ডা মেঝে, চেয়ারের গাঢ় খয়েরি পা ও টেবল ক্লথের লোটানো লতায় অগোছালো তাকিয়ে রইলো।

    ‘কি ফেলে এসেছিস কি?’

    হঠাৎ অপরাধী, বিনয়ী ও এলোমেলো বলে ফেললো রঞ্জু, ‘ঠিক মনে করতে পাচ্ছি না, ভুলে গেলাম, কি যেনো ফেলে এসেছি।’

    ‘আচ্ছা, অই ঘরে চলো আমাদের সঙ্গে, কি ফেলে এসেছো, দেখবে চলো।’

    আব্বা অসহিষ্ণু হাসলো একটুখানি, ‘চলো, তাড়াতাড়ি চলো।’

    পর্দার এপারে এলে আলোছায়া আর রইলো না। অঞ্জু মঞ্জু দুটো বিছানায় অনায়াস ঘুমোচ্ছে, স্বপ্নময়, নরম অন্ধকারে, সাধের মধ্যে সেঁধে। শেলফে আলমারিতে বইগুলো সারি সারি কফিনের মতো শুয়ে রয়েছে, এসব পার হয়ে ওরা একটা বড়ো ঘরে ঢুকলো, আব্বা, আম্মা আর রঞ্জু।

    দেওয়ালে কোনোদিন-উড়বে-না তুলোর শাদা প্রজাপতি ও সবুজ সুতোর প্রেমিক ময়ুর দম্পতি লালচে হয়ে গিয়েছে। ইজি চেয়ারের বিস্তৃত হাতায় বেহায়া বার্নার্ড শ’র ওপর আব্বার পুরু চশমা মশারিকে পানসে তাকাচ্ছে।

    ‘কোথায়? কি ফেলে গিয়েছো মনে পড়ছে?’

    সন্ধেবেলা, তখনো আকাশ ভারি মেঘলা, চারদিকে আঁধার করে আসছে, এই ঘরে কি যেনো ফেলে গেলাম।

    আলমারির লম্বা আয়নায় পেছনের দেওয়াল শাদা ও নিরুদ্বেগ প্রতিফলিত। আব্বার পালঙের মাথায় অন্তরঙ্গ টেলিফোনে কারো কণ্ঠস্বর জড়ানো রয়েছে স্পঞ্জের মধ্যে, রিসিভার তুললেই বাজতে শুরু করবে।

    ‘কোথায়, রঞ্জু?’ আব্বাকে বিকেলবেলা অনেক পুরুষ শোনা যায়, কিন্তু এখন এতো সাধারণ, রঞ্জুর একটু দুঃখ হলো, দিনদিন আব্বা বড়ো সাধারণ ও সংসারী হয়ে পড়ছে।

    ‘কোথায়, মনে পড়ছে এখন? কি ফেলে গিয়েছিলে? কি?’

    ‘রঞ্জু, ভেবে দ্যাখো না বাবা, মনে পড়ছে?’

    মৃত্যুমন্থর এই রাত্রি কেবলি সময়হীন ছড়িয়ে পড়ে। রোগা হয়ে রঞ্জু একটু কাঙাল হাসলো। ফ্যাকাশে বলতে লাগলো, ঠিক মনে করতে পাচ্ছি না আম্মা, একেবারে ভুলে গেলাম।’ কি জিনিশ বারবার ভুলে যাচ্ছি। সন্ধেবেলা, যখন চারদিক আঁধার করে এলো, না তবে বোধ হয় অন্য কোনো সময়ে কি যেনো ফেলে গেলাম, আমি ঠিক—কি যেনো। চোখের মনির মধ্যে তখন আশ্চর্য একটা অকাল আঁধার সূর্যোদয়ের মতো জেগে উঠলো ধীরে ধীরে, ঝাপশা ও নিরাকারকে নিরনুভব স্থির তাকিয়ে রঞ্জু কন্ঠের ঘন লবন-লালে মর্মর করে উঠলো, ‘তবে অন্য কোথাও বোধ হয়।’ ওর আরো ভেতরে হৃদপিণ্ড ও এ্যাবডোমেনের চামড়ার দেওয়ালে ভাসা ভাসা প্রতিধ্বনিত হলো, ‘কোথায় যেনো ফেলে এসেছি।’ চোখের চোপসানো চুলোয় বলকানো আঁধার ফুটিয়ে রঞ্জু আব্বা ও আম্মার সঙ্গে নিজের ঘরে ফিরলো।

    ‘আমরা যাই, তুমি ঘুমোও, কেমন?’ ওর গায়ে একটা চাদর টেনে দিয়ে আম্মা আব্বার দিকে তাকালো। আম্মা ও রঞ্জু দেখলো আব্বার চোখ ভারি ছলছলে।

    ‘রঞ্জু!’ আব্বার ডাক শুনে রঞ্জু অবাক হলো। কন্ঠস্বর ফের অন্যরকম হয়ে গিয়েছে, নিচু, ক্ষীণ ও নেই-নেই।

    ‘এখন ঘুমিয়ে পড়ো বাবা। দুটো দরজাই খোলা রইলো। যদি খুব খারাপ লাগে বারান্দায় যেও, রাস্তার বেরিয়ো না, আকাশ আজ ভারি বিশ্রী। ঘুমিয়ে পড়ো, কেমন?’

    ‘আমার ঘুম আসে না।’ রঞ্জু গুনগুন করে উঠলো।

    ‘চোখ বন্ধ করে চুপচাপ শুয়ে থাকো। ভাবতে থাকো, সামনে মস্ত এক মাঠ, মাঠে অনেকগুলো ভেড়া চরে বেড়াচ্ছে, অগুণতি ভেড়া, হাজার হাজার লাখ লাখ ভেড়া চরে বেড়াচ্ছে। অইগুলো গুনতে থাকো, মনে মনে গোনো, এক দুই তিন চার পাঁচ ছয়।’

    কোথায় যেনো আমি এমনি একটা মাঠ দেখেছি। সেই মাঠের একদিকে ধূসর রঙের পাহাড়, দীর্ঘ একজন মানুষ পাহাড়ের বিপরীত দিকে হাজার হাজার ভেড়ার পেছনে স্তব্ধ দাঁড়িয়ে রয়েছে। কবে দেখেছি? কবে? কোন জন্মে?

    ‘এমনি গুনতে থাকো, দেখবে টায়ার্ড হয়ে পড়ছো, তখন তোমার ঘুম পাবে।’

    ‘টায়ার্ড হয়ে পড়লে ঘুম আসবে?’ আমি তো সব সময়ই ভারি ক্লান্ত হয়ে থাকি, আমি এক জন্ম-ক্লান্ত লোক, আমার তবে ঘুম আসে না কেন? ‘হ্যাঁ বাবা, চোখ বন্ধ করে অনেকক্ষন ধরে গুনতে থাকো, দেখো, কেমন সুন্দর ঘুম পাবে। আমি কতোদিন এমনি করে ঘুমিয়েছি।’

    ওরা চলে যাবার পরো আম্মার শাড়ির ঘুম ঘুম গন্ধ সারা ঘরে নিথর জমে রইলো। নীল আলোর ফ্যাকাশে গন্ধ, বাইরের সোঁদা মাটির আভাস, আব্বার ছড়িয়ে যাওয়া সিগ্রেটের লুপ্ত ধোঁয়া, নিচে পুরোনো স্টেটসম্যান, ধুলোভরা স্লিপার, টেবলে শোপেনহাওয়ারের অনন্ত সৌরভ রঞ্জু নিবিষ্ট কুঁকড়ে শুয়ে সমস্ত ঘর ব্যাপী ঘন গভীর নিশ্বাস নিতে শুরু করলো।

    এই ঘরের গন্ধ দিন দিন পাল্টাচ্ছে। আগে ভোরবেলা এখানে নোতুন ‘ছড়ার ছবি’র গন্ধ করতো। মনে হল, জবাব এল, ‘আমরা নাই নাই’। —এই কথাগুলো যে পাতায় ছিলো সেখানে সুন্দর তেতো গন্ধে চোখ রাখলে আমার ঘুম আসতো। মাঝে মাঝে ঘুম ভেঙে গিয়েছে আম্মার নীল জর্জেটের শাড়ির গন্ধে। অই শাড়িটার পুরোনো পুরোনো গন্ধ ছিলো একটা। ন্যাপথলিন, বাক্সের চামড়া, বাতাস সব মিলিয়ে এই সুবাস কতোরাতে রঞ্জুকে জাগিয়ে তুলেছে।

    ‘আম্মা, ছবি দেখতে যাচ্ছো?’

    ‘ও মা, তুই ঘুমোসনি এখনো?’ শাড়ির কুঁচি ঠিক করতে করতে আম্মা মিষ্টি করে তাকাতো, ‘যাও বাবা ঘুমোও, এসব বড়োদের ছবি, তোমাদের দেখতে নেই।’ তখন রূপমহলে কেবল বাঙলা ছবি চলতো। আম্মা আমাকেও নিয়ে গেছে মাঝে মাঝে, ‘সেতু’ ছিলো একটা ছবির নাম, ‘সংসার’, ‘নিয়তি’, ‘বাবলা’, আরো সব কি নাম, মনে নেই। আব্বা একটু একটু রাগ করতো, ‘এসব ছবি তোমাদের জন্যে নয়, তোমাকে ‘টারজান’ দ্যাখাবো।’

    মঞ্জু আর আমি আব্বার সঙ্গে নিউ পিকচার হাউসে টারজানের ছবি দেখে এলাম। তখন বুঝি সিনেমায় সিগ্রেট খাওয়া বারণ নেই, আব্বা সিগ্রেট ধরিয়েছিলো, আমার মনে আছে। ইন্টারভ্যালের সময় সামনের সিটে একজন কাকে যেনো একটু জোরে জোরে বললো, ‘আরে না না, এবারো ফেল করেছে।’ কেউ বোধ হয় কোনো পরীক্ষায় ফেল করেছিলো। সে কি বারবার ফেল করতো?

    হঠাৎ দ্রুত ও বিরতিহীন ঘন্টাধ্বনি শুনে দিশেহারা বুকে রঞ্জু জানলার সামনে দাঁড়ালো। চাদরটা মেঝেতে লুটিয়ে পড়েছে, অর্ধেকটা বিছানায়, জমানো প্রবাহিত হচ্ছে বিছানা থেকে মেঝেয়। ঢং ঢং চিৎকার করে ছুটে গেলো ফায়ার ব্রিগেডের লাল রঙের দ্রুতশ্বাস গাড়ি, কার সর্বনাশ ঘটলো এতো রাতে, ফর হুম দ্যা বেল টলস্? কার বাড়ি ধ্বসে গিয়েছে, এইরাতে আগুন লেগেছে কোনখানে? চারদিকে জলের পাতলা জালে আলোর ইল্যুশন ফেলে গাড়িটা কোথায় মিলিয়ে গেলো। তখন কেমন হতাশ চিত্তে ও বাইরে এসে দাঁড়ালো। ঘর থেকে নীল আলোর একটুখানি এখানে এসে পড়েছে; আকাশে কালো মেঘ, কিন্তু বৃষ্টি থেমে গিয়েছে, গাছপালায় ভিজে অন্ধকার ছিপছিপে ছড়ানো; এই আলো ও আঁধারিতে, এই নীরব নিসর্গে ছমছম ভয় করে আমার।

    কাঠের পুরোনো ছোটো ভিজে গেটটা নরম হয়ে গিয়েছে। ডান হাতের নখ দিয়ে রঞ্জ অল্প একটু কাঠ তুলে ফেললো। খুব ফ্যাকাশে, নেই-নেই একটা ভিজে গন্ধে ভারি পাতলা করে দুবার নিশ্বাস নিলো।

    রাস্তার লাল সুরকির ফাঁকে ফাঁকে জল একটু একটু ঘোলা, ইলেক্ট্রিক তার, মেঘলা আকাশ, ল্যাম্পোস্টের বিনীত মাথা সেই জলে তির তির কাঁপে। ম্লানআলো বাল্বের অইটুকু ছায়ায় রঞ্জু দেখতে পেলো নিশ্চিন্তপুরের সময়-কাঁদা, নির্লিপ্ত মাঠে দুপুর ঝাঁ ঝাঁ করছে। ছোটো ছোটো ছায়া ফেলে দুর্গার সঙ্গে রঞ্জু রেললাইন দেখতে কতোদূরে পাড়ি দিচ্ছে। দুর্গা সিঁদুরের কৌটো চুরি করে তাকের ওপর লুকিয়ে রেখেছিলো বলে রঞ্জুর বড়ড়ো মন খারাপ করে। ‘দিদি, তুই সিঁদুরের কৌটা চুরি করলি কেন?’ দুর্গাকে শুধোবে বলে রঞ্জু সামনের দিকে সোজা স্পষ্ট তাকালো। দেখলো, অন্ধকার ও জলের মধ্যে নিশ্চিন্তপুর অতল ডুবে গিয়েছে। ল্যাম্পোস্টে ঠেস দিয়ে দুর্গা রঞ্জুকে ভারি সময়হীন তাকাচ্ছে। দুর্গার শরীর একজন নিপুণ প্রতিমা হয়ে রঞ্জুর সমস্ত স্মৃতিকে গেঁথে রেখেছে। রঞ্জ উদ্বেল বুকে কলকল করে উঠলো, ‘দিদি!’

    তখন প্রচণ্ড, নির্বাক, নিষ্পন্দ, সাংঘাতিক আতঙ্কে ওর গলা লম্বা হয়ে গেলো, শিরদাঁড়া বেয়ে স্রোতহীন দাঁড়িয়ে পড়লো শীতল প্রাণহীন রক্ত : কতোকাল হলো দুর্গা মারা গিয়েছে!

    ওকে নিরভর ও স্নায়ুহীন করে গামবুট রেনকোটে মোড়া দুর্গা হান্টার হাতে এগিয়ে এলো।

    ‘কে?’ উত্তর না পেয়ে লোকটা ওর মুখোমুখি দাঁড়ালো, ‘আপনি? ইলিয়াস সায়েবের লড়কা না? কুথায় যাচ্ছেন?’

    ‘কোথাও না।’

    ‘এতো রাতে ডাঁড়িয়ে আছেন কেনো?’ পুলিস জিগ্যেস করলো, ‘ঘরে চলে যান। এই মেঘলা রাতে বাহারে এসেছেন কেনো?’

    রঞ্জু বললো, ‘এমনি। ঘুম আসছে না। বাদলা রাতে আমার ঘুম হয় না।’

    ‘নিদ আসছে না, না? একটু পাইচারি করেন রাস্তায়, বেশ আরাম লাগবে, দেখবেন।’

    বৃষ্টি আর পড়ছে না। কিন্তু আকাশ জুড়ে কালো কানা মেঘ শেষ তারাটিকেও নিভিয়ে দিয়েছে। দুদিকের গাছ থেকে টিপটিপ জলপড়া শুনতে শুনতে পুলিসের সঙ্গে রঞ্জু হাঁটতে লাগলো।

    ‘আপনি কালিজে পড়েন?’

    ‘না।’

    ‘চাকরি করেন, না?’

    ‘না।’

    ‘কেনো? কিছু করেন না?

    ‘এমনি, ভালো লাগে না।’

    ‘ভালো লাগে না?’ পুলিস একবার রঞ্জুর দিকে তাকালো, আপনার দাদার তবিয়ত এখন কেমন?

    ‘আপনি দাদাকে চেনেন?’

    ‘হুঁহ্!’ পুলিশ একটুখানি হাসলো, ‘চিনি না? আপনের দাদা যখন কাটিহারে ছিলেন, তখুনি তো হামি পরথম কনস্টেবল হলাম। তারপর হাওড়া, শান্তাহারেও একসাথ ছিলাম। আপনের আব্বারা তো তখন সব ছেলেমানুষ।’

    ‘আপনি আমার আব্বাকে চেনেন?’

    ‘তোমার জন্মের আগে থেকে চিনি বাবা, বহুত দিন থেকে চিনি।’ উচ্ছাসে পুলিসের কন্ঠ বলকানো দুধের মতো শব্দ করে উঠলো। একাগ্রচিত্তে রঞ্জু এই স্মৃতিশিহরিত মানুষকে ব্যাকুল তাকিয়ে রইলো। ‘কাটিহারে থাকতে, তোমার দাদা যখন কাটিহারে ছিলো, খুব দাপটে থেকেছে, অমোন বড়োবাবু হামি আর দেখলাম না।’

    এক হাত কোমরে রেখে হান্টারটা নিজের হাঁটুতে ঠেকিয়ে পুলিস দাঁড়িয়ে পড়লো। বাঁ দিকের রাস্তার শেষে ল্যাম্পোস্টে তাকিয়ে স্বগতের মতো মর্মর করতে লাগলো, ‘তোমার আব্বা তখন কোলকাতায় পড়তো আর খালি মিটিং করতো ছাত্রদের সাথে মিলে। এই আজ রাণাঘাট তো কাল ঢাকা তো পরসোঁ বর্জোয়ান, ফের সেরাজগঞ্জ, কখনো পাটনা, দিল্লী চলে গিয়েছে—এই খালি ঘুরতো আর মিটিং করতো। বড়োবাবু কতো রাগ করেছে, তুমি এইসব করবে তো পঢ়ালিখা করবে কখন?’

    রঞ্জুর বুকের মধ্যে মোচড় দিয়ে ওঠে : এইসব দিন আমার জন্মের কতো আগে মিশে গিয়েছে। এদের জন্যে আমার এমন করে কেন? আব্বার রক্তের সঙ্গে এই দিনগুলো কি আমার শরীরে উজান বয়ে এলো? আমার ভারি ইচ্ছে করে একবার এদের ছুঁয়ে দেখি।

    তখন কোথায় যেনো বাজ পড়লো, অতর্কিত স্বাভাবিক কণ্ঠে পুলিস বললো, ‘আমি এই রাস্তায় চলে যাবো ডিউটি দিতে। বাদলা রাত পেয়ে শালারা বহুত সুবিধা পেয়ে যাবে। আপনি বাড়ি যান বাবা, কোথায় বাজ পড়লো, বিজলী চমকাচ্ছে, ফির বারিশ হোবে।’

    রেনকোটে ঢাকা কনস্টেবল স্মৃতি ও বিষাদে নুয়ে সাধহীন হেঁটে চলে গেলো ধীরে ধীরে। দুই দিকের বাড়িঘর সরে সরে গিয়ে ওকে পথ করে দিচ্ছে। মোড়ে ল্যাম্পোস্টের নিচে দাঁড়িয়ে পুলিস রঞ্জুকে অবশ হাত নাড়লো। এখন একটুও বাড়ি ফিরতে ইচ্ছে করছে না। মাথা নিচু করে সামনে তাকিয়ে রঞ্জ অন্ধকারের পানে পা বাড়ালো।

    গায়ের ওপর ঝিরঝির বৃষ্টি পড়লে রঞ্জু ওপরে তাকিয়ে দ্যাখে মেঘে মেঘে আকাশ কতো নিচে নেবে এসেছে। চারদিকটা কেমন ছায়া ছায়া। পুরোনো জামগাছটায় হাজার হাজার ভিজে পাতা উদ্বন্ধন আত্মহত্যায় অতৃপ্ত ঝুলছে। রঞ্জুর গা’টা শিরশির করে উঠলো, এই যে পুলিশ আমার গতরক্তের স্মৃতিকে রোদন করে গেলো এ কি পুলিস, না অন্য কেউ? এ কি কেউ, না কেউ-নয়? এ যদি কেউ-নয় হয়? না, আর ভাবা যায় না, মাথা নিচু করে কোনো দিকে না তাকিয়ে হন হন হাঁটতে শুরু করলো।

    এখানে শহর শেষ। নদীর ওপর ঢেউ-খেলানো লম্বা মাঠটা গেরুয়া নিশ্বাস নেয়, বৃষ্টিতে ভিজে এখন একেবারে নেতিয়ে পড়েছে। নদীর তীরে একটা পুরোনা শিমূল গাছ সারাদিনরাত ওপারে তাকিয়ে থাকে। মন্থর মেঘগুলো অনিয়মিত বিদ্যুতে মাঝে মাঝে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ছে, রঞ্জু বিদ্যুতের আলোয় দ্যাখে : এই মাঠে আমি আগে মেলা এসেছি। এক হাজার নয়শো তেতাল্লিশ বছর আগে আমার স্কুলের বন্ধুরা এখানে ক্রিকেট খেলতো। আমি নদী তীরে বসে, মাঝে মাঝে ওদের দিকে, কখনো নদীর পানে চেয়ে সময় ও বিষাদ কাটিয়েছি। শেলী কতোবার ডেকে গেলো, এই রঞ্জু, খেলবি নিকি? আমার ভয় করতো, আমি একদিনো খেলিনি। কতোদিন সন্ধে হতে দেখেছি এখানে। সন্ধের পরো উঠতে ইচ্ছে করতো না; মলিন নদীতে দুঃখী চাঁদ ফ্যাকাশে জ্যোস্না ঢেলে দিলো, আঁধারে নিসর্গ হয়ে উঠলো মূর্তি; নদীর শীর্ণ সুবাস, জলের অন্তর্বাস থেকে উঠে আসা নিরেট ভারী গন্ধের মধ্যে অকাললুপ্ত হয়ে গেলো, আমার কেমন লাগতো। একদিন ওরা ক্রিকেট বল হারিয়ে ফেলেছিলো। সারা বিকেল খুঁজলো, চাঁদমারির তিনদিকে ছোটো ছোটো ঝোপ, পশ্চিমে শিরীষ পাওয়া গেলো না, ছেলেরা অন্ধকার, শিমূলতলা—সেই বল কোথাও খারাপ করে বাড়ির দিকে চলে গেলো।

    আমি কোথায় কি যেনো হারিয়ে এসেছি। ওর চিত্ত ভারি এলোমেলো হয়ে পড়লে আমি কোন ভয়ানক উদ্বিগ্ন বোধ করে; উৎকণ্ঠ হয়ে কেবলি মনে করতে লাগলো, আমি কোথায় কি যেনো ফেলে এসেছি। কোথায়? তখন বিহ্বল রঞ্জু শিমূল গাছের নিচে শুয়ে পড়লো, নদীর জলে উন্মুখ কান পেতে।

    কালো আকাশ ভেঙে ঝমঝম বৃষ্টি পড়ছে। ওর এখন একটু একটু তেষ্টা পেয়েছে; জিভ দিয়ে ঠোঁট বুলোতে বুলোতে রঞ্জু শুনতে পায়, নদীর অনিকেত জলে পাগল ঢেউয়েরা জন্ম নিচ্ছে কেবলমাত্র মরবার জন্যেই। শিমূল গাছের বুকে মাতাল সমীরণ বেপরোয়া জায়গা করে নিচ্ছে। মেমোরি-মর্মরিত রঞ্জু তখন আব্বার শাদা রঙের তরল-ঘন সাধ, আম্মার রাঙা আঁধার থেকে শুরু করে নিশ্চিন্তপুরের মাঠ, নদীর জল, পাতার মর্মর সবাইকে এক ঠাঁই করে পাগলের মতো খুঁজে বেড়াতে লাগলো। এ রকম এক রাজ্য থেকে আরেক রাজ্য, এইকাল থেকে সেই কাল ঘুরে ঘুরে রঞ্জুর তেষ্টা ওর কণ্ঠের মধ্যে শুঁড় বসিয়ে দিলো।

    রঞ্জু জলের জন্যে কাঙাল হাঁ করে রইলো। বৃষ্টির জল ওর চিবুকে পড়ে গড়িয়ে যাচ্ছে, নাকের ডগা থেকে ছিটকে চলে যায় কোথায়, গালে জলের ছিটে লাগছে। চারদিকে এতো জল, একটি ফোঁটাও ওর পাতলা ঠোঁট বেয়ে পড়লো না যা কিনা এলোমেলো দাঁতের সারি পার হয়ে জিহ্বার সড়ক ধরে কণ্ঠে পৌঁছে যেতে পারে। রঞ্জু জনের প্রত্যাশায় জলে-ডোবা মানুষের মতো এলোপাথাড়ি ঢোঁক গিলতে লাগলো। প্রত্যেকটা ঢোক কাঁটা হয়ে ওর বুকের মধ্যে খোঁচা খোঁচা গেঁথে যাচ্ছে কেবল।

    প্রবলরকম ঝড় হইতে শুরু করেছিলো। আর দ্যাখো, এমন সময় শিমুল গাছের মস্ত একটা ডাল তার সমস্ত মর্মরিত পাতা, কাকলিশূন্য নীড়, বৃষ্টির ছড়ানো ফোঁটা ও রঞ্জুর জন্যে বুকভরা বর নিয়ে ঢেউয়ের মতো শব্দ করে ভেঙে পড়লো। রঞ্জুর মনে হলো, আমার ওপর, আমার বুকের মধ্যে, কালো, অন্ধকার ও ভারী কোনো নিরাকার নিশ্বাস স্থায়ী আশ্রয় নিয়েছে। দ্যাখার জন্যে ও চোখ খুলতে চেষ্টা করলো; কিন্তু ভিজে শিমুল ফুলের রাশি স্তূপাকার পড়ে রয়েছে ওর চোখের ওপর। বুকে জড়িয়ে ধরবার সাধ করে হাত দুটো তুলতে গেলো; ওর হাতে শিমুল ডাল শাস্ত, অনিবার্য ছড়িয়ে রয়েছে। শুঁকবে বলে রঞ্জু জোরে নিশ্বাস নিতে চাইলো; কিন্তু ওর নিশ্বাস তখন শেষ হয়ে এসেছে, রঞ্জু সুবাস নিতে পারলো না।

    নিরুদ্দেশ যাত্রা

    আর কত দূরে নিয়ে যাবে মোরে 
            হে সুন্দরী ? 
    বলো   কোন্‌ পার ভিড়িবে তোমার 
            সোনার তরী । 
    যখনি শুধাই , ওগো বিদেশিনী , 
    তুমি হাস শুধু , মধুরহাসিনী — 
    বুঝিতে না পারি , কী জানি কী আছে 
            তোমার মনে । 
    নীরবে দেখাও অঙ্গুলি তুলি 
    অকূল সিন্ধু উঠিছে আকুলি , 
    দূরে পশ্চিমে ডুবিছে তপন 
            গগনকোণে । 
    কী আছে হোথায় — চলেছি কিসের 
            অন্বেষণে ? 
      
      
    বলো দেখি মোরে , শুধাই তোমায় 
             অপরিচিতা — 
    ওই যেথা জ্বলে সন্ধ্যার কূলে 
             দিনের চিতা , 
    ঝলিতেছে জল তরল অনল , 
    গলিয়া পড়িছে অম্বরতল , 
    দিক্‌বধূ যেন ছলছল-আঁখি 
             অশ্রুজলে , 
    হোথায় কি আছে আলয় তোমার 
    ঊর্মিমুখর সাগরের পার , 
    মেঘচুম্বিত অস্তগিরির 
             চরণতলে ? 
    তুমি হাস শুধু মুখপানে চেয়ে 
             কথা না ব ' লে । 
    
    হু হু ক ' রে বায়ু ফেলিছে সতত 
             দীর্ঘশ্বাস । 
    অন্ধ আবেগে করে গর্জন 
             জলোচ্ছ্বাস । 
    সংশয়ময় ঘননীল নীর , 
    কোনো দিকে চেয়ে নাহি হেরি তীর , 
    অসীম রোদন জগৎ প্লাবিয়া 
             দুলিছে যেন । 
    তারি ‘ পরে ভাসে তরণী হিরণ , 
    তারি ‘ পরে পড়ে সন্ধ্যাকিরণ , 
    তারি মাঝে বসি এ নীরব হাসি 
             হাসিছ কেন ? 
    আমি তো বুঝি না কী লাগি তোমার 
             বিলাস হেন । 
      
      
    যখন প্রথম ডেকেছিলে তুমি 
             ‘ কে যাবে সাথে ' 
    চাহিনু বারেক তোমার নয়নে 
              নবীন প্রাতে । 
    দেখালে সমুখে প্রসারিয়া কর 
    পশ্চিম-পানে অসীম সাগর , 
    চঞ্চল আলো আশার মতন 
              কাঁপিছে জলে । 
    তরীতে উঠিয়া শুধানু তখন 
    আছে কি হোথায় নবীন জীবন , 
    আশার স্বপন ফলে কি হোথায় 
              সোনার ফলে ? 
    মুখপানে চেয়ে হাসিলে কেবল 
              কথা না ব ' লে । 
    
    তার পরে কভু উঠিয়াছে মেঘ 
              কখনো রবি — 
    কখনো ক্ষুব্ধ সাগর , কখনো 
              শান্ত ছবি । 
    বেলা বহে যায় , পালে লাগে বায় — 
    সোনার তরণী কোথা চলে যায় , 
    পশ্চিমে হেরি নামিছে তপন 
              অস্তাচলে । 
    এখন বারেক শুধাই তোমায় , 
    স্নিগ্ধ মরণ আছে কি হোথায় , 
    আছে কি শান্তি , আছে কি সুপ্তি 
              তিমির-তলে ? 
    হাসিতেছ তুমি তুলিয়া নয়ন 
              কথা না ব ' লে । 
      
      
    আঁধার রজনী আসিবে এখনি 
              মেলিয়া পাখা , 
    সন্ধ্যা-আকাশে স্বর্ণ-আলোক 
              পড়িবে ঢাকা । 
    শুধু ভাসে তব দেহসৌরভ , 
    শুধু কানে আসে জল-কলরব , 
    গায়ে উড়ে পড়ে বায়ুভরে তব 
              কেশের রাশি । 
    বিকল হৃদয় বিবশ শরীর 
    ডাকিয়া তোমারে কহিব অধীর , 
    ‘ কোথা আছ   ওগো   করহ পরশ 
              নিকটে আসি । ' 
    কহিবে না কথা , দেখিতে পাব না 
              নীরব হাসি ।
    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40 41 42
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleচিত্রা – রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    Next Article সন্ধ্যাসংগীত – রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

    Related Articles

    উপন্যাস বুদ্ধদেব গুহ

    নগ্ন নির্জন – বুদ্ধদেব গুহ

    May 28, 2025
    উপন্যাস বুদ্ধদেব গুহ

    কোয়েলের কাছে – বুদ্ধদেব গুহ

    May 23, 2025
    উপন্যাস সত্যজিৎ রায়

    রবার্টসনের রুবি – সত্যজিৎ রায়

    April 3, 2025
    উপন্যাস সত্যজিৎ রায়

    বোম্বাইয়ের বোম্বেটে – সত্যজিৎ রায়

    April 3, 2025
    উপন্যাস সত্যজিৎ রায়

    রয়েল বেঙ্গল রহস্য – সত্যজিৎ রায়

    April 3, 2025
    উপন্যাস সত্যজিৎ রায়

    যত কাণ্ড কাঠমাণ্ডুতে – সত্যজিৎ রায়

    April 3, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026
    Our Picks

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026

    ভুতুড়ে ট্রেন – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026

    ব্রাহ্মণ ভূত – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }