Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    সোফির জগৎ – ইয়স্তেন গার্ডার

    জি. এইচ. হাবীব এক পাতা গল্প761 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    ০২. টপ হ্যাট

    ০২. টপ হ্যাট

    …ভালো দার্শনিক হওয়ার জন্যে একমাত্র যে-জিনিসটি আমাদের প্রয়োজন তা হলো বিস্মিত হওয়ার ক্ষমতা।…

    সোফি নিশ্চিত অজ্ঞাত পরিচয় পত্রলেখকের কাছ থেকে আবার চিঠি আসবে। আপাতত এ-ব্যাপারে কাউকে কিছু বলবে না বলে ঠিক করল সে।

    স্কুলে শিক্ষকদের কথায় মনোযোগ দেয়া সমস্যা হয়ে দাঁড়াল সোফির জন্যে। ওর মনে হলো তারা কেবল গুরুত্বহীন ব্যাপার নিয়ে কথা বলে যাচ্ছেন। মানুষ কী বা পৃথিবী কী এবং সেটা কীভাবে সৃষ্টি হলে সে-ব্যাপারে তারা কিছু বলেন না কেন?

    এই প্রথমবারের মতো সে এ-ব্যাপারে সচেতন হলো যে স্কুলে, কিংবা বলা চলে সব জায়গাতেই, লোকজন কেবল তুচ্ছ বিষয়েই মাথা ঘামাচ্ছে। অথচ এরচেয়ে গুরুতর অনেক সমস্য রয়েছে যেগুলোর সমাধান হওয়া দরকার।

    কারো কি এ-সব প্রশ্নের উত্তর জানা আছে? সোফির কাছে মনে হলো ইরেগিউলার ভার্ব মুখস্ত করার চেয়ে এ-সব প্রশ্ন নিয়ে মাথা ঘামানোটা অনেক বেশি জরুরি।

    শেষ ক্লাসের পরে ঘণ্টা পড়তেই সে এতো দ্রুত স্কুল থেকে বেরিয়ে এলো যে দৌড়ে ওর নাগাল ধরতে হলে জোয়ানাকে। কিছুক্ষণ পর জোয়ানা জিগ্যেস করল, আজকে সন্ধ্যায় কার্ড খেলবি?

    সোফি কাঁধ ঝাঁকাল।

    কার্ড খেলার ব্যাপারে আমার আর উৎসাহ নেই

    অবাক দেখাল জোয়ানাকে।

    নেই? তাহলে চল, ব্যাডমিন্টন খেলি।

    ফুটপাতের দিকে দৃষ্টি নামাল সোফি, তারপর মুখ তুলে তাকাল বন্ধুর দিকে।

    ব্যাডমিন্টনের ব্যাপারেও আমার আর আগ্রহ নেই।

    ফাজলামি করছিস তুই।

    জোয়ানার গলায় ঝাঁঝ, টের পেল সোফি।

    তোর বলতে অসুবিধে আছে হঠাৎ কী এত জরুরি হয়ে গেল?

    সোফি ঘাড় নাড়ল শুধু। ব্যাপারটা … ব্যাপারটা একটু গোপনীয়

    হু, বুঝেছি! তুই প্রেমে পড়েছিস!

    কিছুক্ষণ কোনো কথা না বলে হাঁটল মেয়ে দুটো। ওরা ফুটবল মাঠের কাছে পৌঁছাতে জোয়ানা বলে উঠল, আমি মাঠটার ওপর দিয়ে যাবো।

    মাঠের উপর দিয়ে। জোয়ানার অবশ্য ওদিক দিয়েই সবচেয়ে তাড়াতাড়ি হয়, কিন্তু বাসায় মেহমান থাকলে বা দাঁতের ডাক্তারের সঙ্গে অ্যাপয়েন্টমেন্ট থাকলে তবেই সে ও-পথটা ব্যবহার করে।

    ওর সঙ্গে দুর্ব্যবহার করার জন্যে খারাপ লাগল সোফির। কিন্তু আর কী-ই বা সে বলতে পারত? ও কি বলতে পারত যে সে কে আর পৃথিবীটা কোথা থেকে এলো, এই নিয়ে হঠাৎ করেই সে এত ব্যস্ত হয়ে পড়েছে যে ব্যাডমিন্টন খেলার কোনো সময়-ই নেই তার জোয়ানা কি ব্যাপারটা বুঝতে পারত।

    সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আর এক হিসেবে, সবচেয়ে স্বাভাবিক প্রশ্ন নিয়ে চিন্তিত হওয়াটা এত কঠিন ব্যাপার কেন?

    সোফি টের পেল, ডাক বাক্সটা খোলার সময় তার হৃদস্পন্দন বেড়ে গেছে। প্রথমে, তার মায়ের কাছে ব্যাংক থেকে আসা একটা চিঠি আর কিছু বাদামি রঙের খাম পেল সে। যত্তসব! সোফি দেখতে এসেছে অজ্ঞাত প্রেরকের কাছ থেকে কোনো চিঠি এসেছে কিনা।

    গেটটা বন্ধ করার সময় সে খেয়াল করল একটা বড় খামের ওপর তার নাম লেখা আছে। সেটা উল্টে সে দেখল ওটার ওপর লেখা রয়েছে: দর্শন বিষয়ক কোর্স। যত্নের সঙ্গে ব্যবহার করুন।

    নুড়ি-বিছানো পথ ধরে ছুট লাগাল সোফি, স্কুল ব্যাগটা ছুঁড়ে ফেলল সিঁড়ির উপর। ডোেরম্যাটের নিচ দিয়ে অন্য চিঠিগুলো গুঁজে দিয়ে দৌড়ে পেছনের বাগানে চলে এসে গুহার ভেতর আশ্রয় নিল সে। বড় চিঠিটা খোলার এটাই একমাত্র স্থান।

    শিয়াকান-ও ওর পিছু নিল লাফাতে লাফাতে এবং সোফিকে ব্যাপারটা মেনে নিতে হলো। সে জানে, বেড়ালটা নাছোড়বান্দা।

    দেখা গেল, খামটার ভেতরে একটা পেপার ক্লিপ দিয়ে আটকান টাইপ করা তিনটে পৃষ্ঠা আছে। সোফি পড়তে শুরু করল।

    দর্শন কী?

    প্রিয় সোফি,

    অনেক লোকেরই অনেক হবি থাকে। কেউ কেউ পুরনো মুদ্রা (কয়েন) বা বিদেশি ডাকটিকেট সংগ্রহ করে, কেউ সেলাই করে, অন্যরা আবার তাদের অবসরের বেশির ভাগ সময় ব্যয় করে বিশেষ কোনো খেলার পেছনে।

    অনেক মানুষ আছে যারা পড়তে ভালোবাসে। তবে পড়ার রুচি একেক জনের একেক রকম। কেউ শুধু খবরের কাগজ বা কমিক্স পড়ে, কেউ ভালোবাসে উপন্যাস পড়তে, আবার অন্যরা পছন্দ করে জ্যোতির্বিদ্যা, বন-জঙ্গল আর জন্তু-জানোয়ার বা প্রযুক্তিগত আবিষ্কারের ওপর লেখা বই-পত্র।

    ঘোড়া বা দামি পাথরের ব্যাপারে আমার উৎসাহ থাকলেই আমি আশা করতে পারি না যে প্রত্যেকেই ও-সব বিষয়ে আমারই মতো উৎসাহী হবে। আমি হয়ত খেলাধুলা বিষয়ক সমস্ত অনুষ্ঠান টিভিতে দেখতে খুবই আনন্দ পাই, কিন্তু সেই সঙ্গে আমাকে এ-ব্যাপারটা মেনে নিতে হবে যে অন্যদের কাছে খেলাধুলা জিনিসটা রীতিমত একঘেয়ে একটা বিষয়।

    এমন কিছু কি নেই যা সবাইকেই আকর্ষণ করে? এমন কিছু কি নেই যা সবাইকে উদ্বিগ্ন করে, তা তাদের পরিচয় যা-ই হোক না কেন বা তারা পৃথিবীর যেখানেই থাকুক না কেন? হ্যাঁ, প্রিয় সোফি, কিছু কিছু প্রশ্ন বা প্রসঙ্গ আছে যে ব্যাপারে সবারই আসলে আগ্রহ বোধ করার কথা। ঠিক এইসব প্রশ্ন নিয়েই এই কোর্স।

    জীবনের সবচেয়ে জরুরি জিনিসটি কী? যে-মানুষটি অনাহারের দ্বারপ্রান্তে বাস করে তাকে যদি প্রশ্নটি করা হয় সেক্ষেত্রে উত্তরটি হবে, খাদ্য। শীতে মরণাপন্ন লোকটিকে জিগ্যেস করলে জবাব আসবে, উষ্ণতা। এই একই প্রশ্ন যদি এমন কোনো মানুষকে করা যায় যে নিঃসঙ্গ বোধ করছে আর ভাবছে সে সবার কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন, তাহলে সম্ভবত উত্তরটি হবে, অন্য মানুষের সাহচর্য।

    কিন্তু এ-সব মৌলিক চাহিদার সমাধান যখন হয়ে যাবে, তখনো কি এমন কিছু রয়ে যাবে যা প্রত্যেকেরই দরকার? দার্শনিকরা সে-রকমই মনে করেন। তাঁরা বিশ্বাস করেন মানুষ কেবল অন্ননির্ভর নয়। এ-কথা অস্বীকার করার যো নেই যে সবারই খাদ্য দরকার এবং সবাই ভালোবাসা ও আদর-যত্ন চায়। কিন্তু এসবের বাইরেও কিছু রয়েছে যা সবারই দরকার আর তা হচ্ছে এটা জানা যে আমরা কে এবং আমরা কেন পৃথিবীতে রয়েছি।

    আমরা কেন পৃথিবীতে রয়েছি তা জানার ব্যাপারে উৎসাহী হওয়াটা ডাকটিকেট সংগ্রহের মতো কোনো খেয়ালি বিষয় নয়। যারা এ-প্রশ্ন করছেন তারা এমন এক বিতর্কে অংশ নিচ্ছেন যে-বিতর্ক মানুষ এই গ্রহে বসবাস শুরু করার পর থেকেই চলে আসছে।

    সর্বশেষ অলিম্পিকে সবচেয়ে বেশি সোনার পদক কে পেয়েছে এই প্রশ্নের চেয়ে অনেক বড় আর গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হচ্ছে এই মহাবিশ্ব, পৃথিবী এবং জীবন কী করে সৃষ্টি হলো।

    .

    দর্শনের সঙ্গে পরিচিত হওয়ার সবচেয়ে ভালো উপায় হচ্ছে দর্শনবিষয়ক কয়েকটি প্রশ্ন করা:

    পৃথিবী কী করে সৃষ্টি হয়েছে? যা ঘটে তার পেছনে কি কোনো ইচ্ছা বা অর্থ রয়েছে। মৃত্যুর পরে কি জীবন আসে? কী করে এ-সব প্রশ্নের জবাব দেব আমরা? আর সবচেয়ে যেটা জরুরি, কীভাবে জীবনযাপন করা উচিত আমাদের? অনাদি কাল ধরে এসব প্রশ্ন করে আসছে মানুষ। মানুষ কী এবং পৃথিবীটা কোথা থেকে এসেছে, এই প্রশ্ন দুটি নিয়ে মাথা ঘামায়নি এমন কোনো সংস্কৃতির কথা জানা যায় না।

    আসলে কিন্তু খুব বেশি দার্শনিক প্রশ্ন করার নেই। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নগুলোর কয়েকটি আমরা এরিমধ্যে করে ফেলেছি। কিন্তু ইতিহাস আমাদেরকে প্রতিটি প্রশ্নেরই ভিন্ন ভিন্ন অনেকগুলো উত্তর উপহার দিয়েছে। কাজেই বোঝাই যাচ্ছে, দার্শনিক প্রশ্ন করা সোজা, সেগুলোর উত্তর দেয়াই কঠিন।

    এমনকী আজও প্রত্যেককেই এই প্রশ্নগুলোর নিজস্ব উত্তর নিজেকেই খুঁজে বের করে নিতে হয়। ঈশ্বর আছেন কিনা বা মৃত্যুর পরে জীবন আছে কিনা তা বিশ্বকোষের পাতা উল্টে জানা যাবে না। বিশ্বকোষ আমাদের এ-কথাও বলবে না। কীভাবে আমাদের জীবনযাপন করা উচিত। অবশ্য লোজন কী বিশ্বাস করত সে কথা পড়লে জীবন সম্পর্কে আমাদের নিজেদের দৃষ্টিভঙ্গি গড়ে তোলার ব্যাপারে সাহায্য হতে পারে।

    দার্শনিকের সত্যানুসন্ধান অনেকটা গোয়েন্দা-গল্পের মতোন। কেউ ভাবছে খুনটা করেছে অ্যান্ডারসন, অন্যেরা ভাবছে, না, এটা নিলসেন বা জেনসেনেরই কাজ। পুলিশ কখনো-সখনো সত্যিকারের কোনো অপরাধের সমাধান করে বটে। কিন্তু এমন ঘটনা ঘটাও সম্ভব যে, কোথাও না কোথাও একটা সমাধান থাকা সত্ত্বেও তারা হয়ত ব্যাপারটার কোনো কিনারাই করতে পারল না। কাজেই কোনো প্রশ্নের উত্তর দেয়া কঠিন হলেও সে-প্রশ্নের হয়ত একটা এবং মাত্র একটাই উত্তর থাকে। হয় মৃত্যুর পরে কোনো ধরনের অস্তিত্ব রয়েছে, নয়ত নেই।

    শতাব্দীপ্রাচীন বহু ধাঁধা বিজ্ঞানের কল্যাণে খোলাসা হয়ে গেছে। চাঁদের অন্ধকার দিকটা দেখতে কেমন সেটা অনেক দিন রহস্যে ঘেরা ছিল। এটা এমন একটা ব্যাপার যার সমাধান আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে হওয়ার নয়, তাই যার যার কল্পনার হাতেই ছেড়ে দেয়া হয়েছিল সেটাকে। কিন্তু আজ আমরা জানি চাঁদের অন্ধকার দিকটা দেখতে ঠিক কেমন এবং আজকাল আর কেউ এ-কথা বিশ্বাস করে না যে চাঁদের মানুষ বলে কিছু আছে বা সেটা সবুজ পনিরে তৈরি।

    দুহাজার বছর আগের এক গ্রীক দার্শনিক বিশ্বাস করতেন দর্শনের জন্ম মানুষের বিস্মিত হওয়ার ক্ষমতার মধ্যে। বেঁচে থাকাটা এতো আশ্চর্য বলে বোধ হয়েছিল মানুষের কাছে যে আপনা থেকেই দার্শনিক প্রশ্নগুলো জেগে উঠেছিল তাদের মনে।

    ব্যাপারটা অনেকটা একটা জাদুর খেলা দেখার মতোন, আমরা ঠিক বুঝতে পারি না কাজটা কীভাবে করা হলো। কাজেই আমরা জিগ্যেস করি: জাদুকর কী করে কয়েকটা সাদা সিল্কের স্কার্ফকে একটা জ্যান্ত খরগোশে রূপান্তরিত করতে পারেন?

    একজন জাদুকর যখন হঠাৎ করে একটা খরগোশ বের করে আনেন একটা টুপির ভেতর থেকে– যে-টুপিটা কিনা একটু আগেই খালি হিসেবে দেখানো হয়েছে– তখন যেমন সবাই অবাক হয়ে যায়, অনেক মানুষই ঠিক সে-রকম অবিশ্বাস নিয়ে পৃথিবীর বুকে জীবনযাপন করে।

    খরগোশের বেলায় আমরা জানি যে জাদুকর আমাদের ধোকা দিয়েছেন। আমরা কেবল জানতে চাইবো কাজটা কীভাবে করা হলো। কিন্তু পৃথিবীর বেলায় ব্যাপারটা একটু ভিন্ন। আমরা জানি পৃথিবীটা মোটেই হাত সাফাই আর ধোঁকার বিষয় নয়, তার কারণ আমরা এই পৃথিবীরই বাসিন্দা, আমরা এরই অংশ। আসলে আমরা হচ্ছিটুপির ভেতর থেকে টেনে বের করা সাদা সেই খরগোশ। সাদা খরগোশ আর আমাদের মধ্যে একমাত্র পার্থক্য হচ্ছে খরগোশটা উপলব্ধি করে না যে সে একটা জাদুর খেলায় অংশ নিচ্ছে। আমরা করি। আমরা অনুভব করি রহস্যময় একটা কিছুর আমরা অংশ এবং আমরা জানতে চাইব এগুলো সব কীভাবে কাজ করে।

    পুনশ্চ: সাদা খরগোশটার ক্ষেত্রে সেটাকে গোটা মহাবিশ্বের সঙ্গে তুলনা করাই সঙ্গত হবে। আমরা যারা এখানে বাস করি তারা হচ্ছি খরগোশের গায়ের রোমের গভীরে বাস করা আণুবীক্ষণিক পোকামাকড়। কিন্তু দার্শনিকরা সব সময় চেষ্টা করে যাচ্ছেন সেই মিহি রোম বেয়ে উপরে উঠে সরাসরি জাদুকরের চোখে চোখ রাখতে।

    তুমি কি এখনো পড়ছ, সোফি? টু বি কন্টিনিউড..

    .

    সোফি একেবারে অবসন্ন হয়ে পড়ে। এখনো পড়ছ? সে তো এমনকী মনেও করতে পারছে না পড়ার সময় সে শ্বাস নেবার ফুরসত পেয়েছিল কিনা।

    কে নিয়ে এসেছিল চিঠিটা? হিল্ডা মোলার ন্যাগকে যে জন্মদিনের কার্ড পাঠিয়েছে সে নিশ্চয়ই নয়, তার কারণ কার্ডটাতে স্ট্যাম্প আর পোস্টমার্ক দুটোই আছে। বাদামি রঙের খামটা, ঠিক সাদা দুটো খামের মতোই, হাতে করে এনে রাখা হয়েছিল ডাকবাক্সে।

    সোফি ঘড়ি দেখে। তিনটে বাজতে পনের মিনিট বাকি। কাজ থেকে বাসায় ফিরতে এখনো দুঘণ্টারও বেশি সময় লাগবে তার মায়ের।

    হামাগুড়ি দিয়ে আবার বাগানে বেরিয়ে আসে সোফি। ছুটে চলে যায় ডাকবাক্সের কাছে। হতে পারে আরেকটা চিঠি এসেছে।

    নিজের নাম লেখা আরেকটা বাদামি রঙের খাম পায় সে ওখানে। এবারে সে চারদিকটায় ভালো করে নজর বুলায়, কিন্তু কাউকে দেখা যায় না। দৌড়ে বনের প্রান্তে চলে যায় সোফি, তাকায় রাস্তাটার দিকে।

    কেউ নেই ওখানে। হঠাৎ তার মনে হয় বনের বেশ ভেতরে ডাল ভাঙার একটা শব্দ হলো। কিন্তু পুরোপুরি নিশ্চিত হতে পারে না সে আর তাছাড়া, পালিয়ে যাওয়ার ব্যাপারে যে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ, তাকে তাড়া করার কোনো মানেই হয় না।

    বাড়িতে এসে ঢোকে সোফি। দৌড়ে চলে যায় সে ওপরতলায় নিজের ঘরে। সুন্দর সুন্দর পাথরভর্তি বড়সড় বিস্কিটের টিনটা নেয়। পাথরগুলো খালি করে ফেলে সে মেঝের ওপর, তারপর বড় খাম দুটো ভরে রাখে টিনের ভেতর। এরপর তাড়াতাড়ি শিয়াকানের জন্যে কিছু খাবার বের করে রাখে সে।

    কিটি, কিটি, কিটি।

    গুহায় ফিরে দ্বিতীয় বাদামি খামটার মুখ খোলে সে, বের করে আনে নতুন টাইপ করা পৃষ্ঠাগুলো। শুরু করে পড়তে।

    .

    একটি অদ্ভুত প্রাণী

    আবারো শুভেচ্ছা। বুঝতেই পারছ, দর্শনবিষয়ক এই ছোট্ট কোর্সটি সুবিধেজনক কলেবরে হাজির হবে। এবারে আরো কিছু প্রাথমিক কথাবার্তা:

    ভালো দার্শনিক হওয়ার জন্যে একমাত্র যে-জিনিসটি আমাদের প্রয়োজন তা হলো বিস্মিত হওয়ার ক্ষমতা– এ-কথা কি আমি বলেছি? যদি না বলে থাকি তাহলে এখন বলছিঃ ভালো দার্শনিক হওয়ার জন্যে একমাত্র যে-জিনিসটি আমাদের প্রয়োজন তা হলো বিস্মিত হওয়ার ক্ষমতা।

    শিশুদের এই ক্ষমতাটি আছে। তাতে অবাক হওয়ার কিছু নেই। মাতৃগর্ভে অল্প কটা মাস কাটিয়ে তারা একেবারে নতুন এক বাস্তবতার মধ্যে এসে পড়ে। কিন্তু তারা যখন বড় হয় তখন এই বিস্মিত হওয়ার ক্ষমতাটি যেন নষ্ট হয়ে যায়। কেন এমনটা হয়? তুমি কি জানো?

    একটি সদ্যোজাত শিশু যদি কথা বলতে পারত তাহলে হয়ত যে অসাধারণ বিশ্বে সে এসে পড়েছে সেই বিশ্ব সম্পর্কে কিছু কথা জানাতে পারত। কীভাবে সে চারদিকে তাকায় আর যা কিছু দেখে সেদিকেই কীভাবে কৌতূহলের সঙ্গে হাত বাড়িয়ে দেয় সে তা তো আমরা প্রায়ই দেখে থাকি।

    ধীরে ধীরে যখন তার শব্দ সঞ্চয় হতে থাকে তখন সে কুকুর দেখলেই মুখ তুলে বলে ওঠে, ভেউ-ভেউ! তার স্ট্রলারের ভেতর বসে সে লাফিয়ে ওঠে হাত নাচিয়ে, ভেউ-ভেউ ভেউ-ভেউ। বাচ্চাটির এই অতি-উৎসাহে ক্লান্তি বোধ করি আমরা, অর্থাৎ তারা যাদের বয়স আর জ্ঞানগম্যি বেশি। ঠিক আছে, ঠিক আছে, বাবা, ওটা একটা ভেউ, নির্লিপ্ত ভঙ্গিতে আমরা বলি তাকে। এবার চুপটি করে বসে থাকো।

    আমরা মুগ্ধ হই না। কারণ, আগেই কুকুর দেখেছি আমরা।

    অসংখ্যবার এই পরমানন্দপূর্ণ কাণ্ড করার পর তবেই হয়ত সে কুকুর দেখলেই আর অমন পাগল হয়ে উঠবে না। নির্লিপ্তভাবে পাশ কাটিয়ে চলে যাবে। হাতি বা জলহস্তী দেখলেও অস্থির হবে না। কিন্তু শিশুটি ভালো করে কথা শেখার অনেক আগেই এবং দার্শনিকভাবে চিন্তা করতে শেখার অনেক আগেই পৃথিবীটা একটা অভ্যাসে পরিণত হবে তার।

    আমার মতো যদি জানতে চাও তাহলে বলব, ব্যাপারটা রীতিমত দুঃখজনক।

    প্রিয় সোফি, পৃথিবীর ব্যাপারে অতি অভ্যস্ততার কারণে এর সঠিক গুরুত্ব উপলব্ধি করতে যারা অক্ষম হয়ে পড়ে তুমিও যাতে তাদের মতো না হও সেটাই আমার চিন্তার বিষয়। কাজেই স্রেফ সে-ব্যাপারটা একটু যাচাই করে নিতে কোর্সটা শুরু করার আগে আমরা মনে মনে কয়েকটা পরীক্ষা করব:

    মনে কর, একদিন তুমি বেড়াতে গিয়েছ। হঠাৎ করে তোমার সামনেই, পথের ওপর একটা মহাকাশযান দেখতে পেলে তুমি। মঙ্গল গ্রহের এক ক্ষুদে প্রাণী মহাকাশযানটা বেয়ে মাটিতে নেমে এসে সোজা তোমার দিকে মুখ তুলে তাকাল…

    কী ভাববে তুমি? কিছু মনে করো না, এটা তেমন গুরুত্বপূর্ণ কিছু নয়। কিন্তু কখনো কি তোমার মনে হয়েছে যে তুমি নিজেই মঙ্গল গ্রহের এক প্রাণী?

    হঠাৎ করে একটি ভিনগ্রহের প্রাণীর মুখোমুখি হওয়ার সেরকম কোনো সম্ভবনাই তোমার নেই। আমরা এমনকী জানিও না যে অন্য গ্রহে প্রাণের অস্তিত্ব রয়েছে কি না। তবে একদিন কিন্তু তুমি হঠাৎ করে নিজের মুখোমুখি হয়ে যেতে পারো আর তখন হয়ত তুমি থমকে দাঁড়াবে এবং সম্পূর্ণ এক নতুন আলোতে নিজেকে দেখবে। বনের মধ্যে ঠিক এভাবেই একবার হেঁটে বেড়ানোর সময়।

    তখন তুমি ভাববে, আমি এক আশ্চর্য সত্তা। আমি একটি রহস্যময় প্রাণী।

    তোমার মনে হবে তুমি জাদুর ঘোর-লাগা প্রশান্তিভরা এক ঘুম থেকে জেগে উঠছে। তুমি জিগ্যেস করবে, কে আমি? তুমি জানো যে মহাবিশ্বের একটি গ্রহের ওপর তুমি টলমল পায়ে হেঁটে যাচ্ছে। কিন্তু মহাবিশ্ব নামক জিনিসটি কী?

    এভাবে তুমি যদি নিজেকে নিজে আবিষ্কার কর তাহলে বলা যাবে এই কিছুক্ষণ আগে আমরা মঙ্গল গ্রহের যে-প্রাণীটির কথা বললাম সে-রকমই রহস্যময় কিছু আবিষ্কার করবে তুমি। তুমি কেবল মহাশূন্য থেকে আসা একটি প্রাণীকে দেখবে না; তোমার মনের গহীন ভেতরে তুমি অনুভব করবে যে তুমি নিজেই একটি অসাধারণ প্রাণী। তুমি কি আমার কথা বুঝতে পারছ, সোফি? চলল, মনে মনে আরেকটা পরীক্ষা করা যাক।

    একদিন সকালে মা, বাবা আর দুতিন বছর বয়েসী ছোট টমাস মিলে রান্নাঘরে বসে সকালের নাশতা করছে। খানিক পর মা টেবিল ছেড়ে সিংকের কাছে গেলেন আর বাবা –হ্যাঁ, বাবা– সিলিং-এর নিচে ভেসে বেড়াতে লাগলেন টমাসের চোখের সামনে। তো, এ-অবস্থায় টমাস কী বলবে বলে মনে হয় তোমার? হয়ত সে বাবার দিকে আঙুল উঁচিয়ে বলে উঠবে, বাবা উড়ছে! টমাস অবশ্যই অবাক হবে, কিন্তু সে তো সে প্রায়ই হচ্ছে। বাবা এতোসব অবাক কাণ্ডকারখানা ঘটান সারাদিন যে নাশতার টেবিলের ওপর দিয়ে এই মামুলি ওড়াওড়ির ব্যাপারটা আলাদাভাবে নজরে পড়ে না টমাসের। প্রতিদিন একটা মজার যন্ত্র দিয়ে বাবা শেভ করেন। কখনো কখনো উঠে যান ছাদে টিভির এরিয়েলটা ঘোরাতে, বা কখনো হয়ত গাড়ির হুডের নিচে মাথাটা গলিয়ে দেন আর যখন সেটা বের করে আনেন, দেখা যায়, তার সারা মুখে কালি।

    তো, এবার মা-র পালা। টমাসের কথা শুনতে পেয়ে ঝট করে ঘুরে দাঁড়িয়েছেন তিনি। রান্নাঘরের টেবিলটার ওপর বাবা দিব্যি ভেসে বেড়াচ্ছেন, এই দৃশ্যটা দেখে মা-র কী প্রতিক্রিয়া হবে বলে মনে হয় তোমার, সোফি?

    জ্যামের বয়ামটা তার হাত খসে পড়ে গেল আর সেই সঙ্গে তিনি ভয়ে চেঁচিয়ে উঠলেন। বাবা ভালোয় ভালোয় তার চেয়ারে ফিরে এলে এমনকী খানিকটা চিকিৎসারও দরকার হতে পারে মা-মণির। (এতোদিনে বাবার ভালোভাবে টেবিল ম্যানার্স শেখা উচিত ছিল, নাকি বলল!) সে যাই হোক, এখন বলল, টমাস আর মা একই ঘটনায় এমন ভিন্ন দু-ধরনের আচরণ কেন করল?

    এটা আসলে অভ্যাসের ব্যাপার। (খেয়াল করো!) মা জানেন যে মানুষ উড়তে পারে না। টমাস সেটা জানে না। এখনো সে ঠিক নিশ্চিতভাবে জানে না এই পৃথিবীতে মানুষ কী করতে পারে বা পারে না।

    কিন্তু খোদ পৃথিবীর ব্যাপারটা কী, সোফি? পৃথিবীটা করে, তোমার কি ধারণা তা সেটা করতে পারে? পৃথিবীটাও কিন্তু মহাশূন্যে ভেসে বেড়াচ্ছে।

    দুঃখজনক ব্যাপার হলো, আমরা যে শুধু মাধ্যাকর্ষণ শক্তির ব্যাপারটাতেই অভ্যস্ত হয়ে যাই তা নয়। নিমেষের মধ্যে গোটা পৃথিবীর ব্যাপারেই অভ্যস্ত হয়ে পড়ি আমরা। মনে হয় যেন বড় হয়ে ওঠার প্রক্রিয়াটি চলার সময় আমরা বিস্মিত হওয়ার ক্ষমতাটি হারিয়ে ফেলি। আর তাতে করে খুব গুরুত্বপূর্ণ একটা কিছু হারিয়ে ফেলি– আর সেই হারিয়ে ফেলা জিনিসটিই ফের খুঁজে বের করার চেষ্টা করেন দার্শনিকেরা। কারণ, আমাদের ভেতরে কোথাও থেকে কিছু একটা বলে ওঠে যে, জীবন এক বিশাল রহস্য। আর ঠিক এই ব্যাপারটিই আমরা উপলব্ধি করেছিলাম অনেক আগে, যখন এই কথাটি আমরা ভাবতে শিখিনি।

    .

    আরো সঠিকভাবে বলতে গেলে: দার্শনিক প্রশ্নগুলো আমাদের সবাইকেই ভাবিত করলেও আমরা সবাই কিন্তু দার্শনিক হই না। নানান কারণে বেশিরভাগ লোকই প্রাত্যহিক কর্মকাণ্ডে এমনই বাঁধা পড়ে যায় যে বিশ্ব সম্পর্কে তাদের বিস্ময় এসবের আড়ালে চলে যায়। (তারা হামাগুড়ি দিয়ে সেই খরগোশটার রোমের গহীন ভেতরে ঢুকে পড়ে, গুটিসুটি মেরে থাকে আয়েশের সঙ্গে আর তারপর ওখানেই কাটিয়ে দেয় সারাটা জীবন।)

    বাচ্চাদের কাছে এই বিশ্ব আর তার সমস্ত কিছুই নতুন; এমন একটা কিছু যা দেখে বিস্ময় জাগে। বড়দের কাছে ব্যাপারটা সে-রকম নয়। বিশ্বটাকে বড়োরা একটা স্বাভাবিক ঘটনা বলেই ধরে নেয়।

    ঠিক এই জায়গাটাতেই দার্শনিকেরা এক বিরাট ব্যতিক্রম। একজন দার্শনিক কখনোই এই বিশ্বের ব্যাপারে ঠিক পুরোপুরি অভ্যস্ত হয়ে পড়েন না। তিনি পুরুষ বা নারী যা-ই হোন না কেন, তাঁর কাছে বিশ্বটা খানিকটা অযৌক্তিক বলে ঠেকতে থাকে– মনে হতে থাকে হতবুদ্ধিকর, এমনকী হেঁয়ালিভরা। দার্শনিক আর ছোট্ট শিশুদের মধ্যে তাই একটা গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় খুব মিল। তুমি বলতে পারো যে, সারা জীবন একজন দার্শনিক একটা শিশুর মতোই স্পর্শকাতর রয়ে যান। কাজেই এখন তোমাকে অবশ্যই বেছে নিতে হবে, সোফি। তুমি কি সেই বালিকা যে এখনো জীবন সম্পর্কে বীতস্পৃহ হয়ে পড়েনি? নাকি তুমি এক দার্শনিক যে প্রতিজ্ঞা করবে সে কখনোই তা হবে না?

    নিজেকে একটি বালিকা বা একজন দার্শনিক হিসেবে স্বীকৃতি না দিয়ে তুমি যদি স্রেফ মাথা ঝাঁকাও, তাহলে বুঝতে হবে এই বিশ্বের ব্যাপারে তুমি এরিমধ্যেই অভ্যস্ত হয়ে পড়েছ। সাবধান! তুমি কিন্তু পাতলা বরফের স্তরের ওপর দাঁড়িয়ে। রয়েছ। আর সেই কারণেই দর্শনের ওপর এই কোর্সটি তোমাকে দেয়া হচ্ছে, যাতে তোমার কোনো বিপদ না ঘটে। উদাসীন আর নিস্পৃহ মানুষের সারিতে অন্যরা। ভিড়লেও তোমাকে ভিড়তে দেবো না আমি। আমি চাই তুমি একটি অনুসন্ধানী মনের অধিকারী হও।

    পুরো কোর্সটিই বিনামূল্যে দেয়া হচ্ছে তোমাকে, কাজেই যদি এটা সম্পূর্ণ না করো তাহলে কোনো টাকা ফেরত পাচ্ছো না তুমি। কোর্সটা মাঝপথে ছেড়ে দেবার ব্যাপারে তোমার পূর্ণ স্বাধীনতা রয়েছে। সেক্ষেত্রে ডাকবাক্সে তুমি অবশ্যই একটি মেসেজ রেখে দেবে। জ্যান্ত একটা ব্যাঙ হলে খুব ভালো হয়। কিংবা অন্তত সবুজ রঙের কোনো কিছু, নইলে ডাকপিয়ন আবার ভয় পেয়ে যেতে পারে।

    তো, সংক্ষেপে ব্যাপারটা হচ্ছে একটা টপ হ্যাঁটের ভেতর থেকে সাদা একটা খরগোশ বের করা হয়েছে। খরগোশটা যেহেতু বিশাল বড় তাই খেলাটা খেলতে বেশ কয়েক বিলিয়ন বছর লেগেছে। খরগোশটার মিহি-মসৃণ রোমের ডগায় জন্ম নিয়েছে সমস্ত মানুষ আর সেখানে বসে তারা ভাবছে কী করে অসম্ভব চাতুর্যপূর্ণ এই কাজটি সম্ভব হলো। কিন্তু তাদের বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তারা সেই রোমের আরো গভীরে ঢুকে যেতে থাকে। তারপর সেখানেই থাকে তারা। এমন চমৎকারভাবে থিতু হয়ে যায় যে কখনোই আর সেই পলকা রোম বেয়ে ওপরে ওঠার ঝুঁকি নেয় না। দার্শনিকেরাই কেবল ভাষা ও অস্তিত্বের দূরতম প্রদেশে পৌঁছানোর বিপজ্জনক অভিযানে নেমে পড়েন। তাঁদের কেউ কেউ পিছু হটে যান। কিন্তু বাকিরা মরিয়া হয়ে লেগে থাকেন আর চেঁচাতে থাকেন আরামদায়ক কোমলতার গভীরে বাসরত লোকজনের উদ্দেশে, যারা তাদের উদরপূর্তি করছে মজাদার খাবার-দাবার আর পানীয় দিয়ে।

    দার্শনিকরা চেঁচিয়ে বলে ওঠেন, ভদ্রমহিলা এবং দ্রমহোদয়গণ, আমরা মহাশূন্যে ভেসে বেড়াচ্ছি। কিন্তু নিচের লোকজনের তাতে বয়েই গেল।

    তারা বরং বলে ওঠে, যত্তসব আপদ! তারপর ফিরে যায় নিজেদের গালগল্পে: মাখনটা একটু এগিয়ে দেবে, দয়া করে? শেয়ারবাজার আজ কতটা চাঙ্গা হলো? টমেটোর দর কত এখন? শুনেছো, প্রিন্সেস ডায়ানা নাকি আবার মা হচ্ছেন?

    সেদিন বিকেলবেলা যখন সোফির মা পরে বাড়ি ফিরলেন, সোফির অবস্থা তখন আসলেই শোচনীয়। রহস্যময় দার্শনিকের পাঠানো চিঠিগুলো টিনের যে-কৌটোর মধ্যে আছে সেটা খুব নিরাপদে গুহার মধ্যে লুকিয়ে রাখা হয়েছে। সোফি হোমওয়ার্ক শুরু করার চেষ্টা করছে, কিন্তু খানিক আগেই পড়া জিনিসগুলো নিয়ে চিন্তা করা ছাড়া আর কিছুই করতে পারেনি সে।

    এর আগে কোনো কিছু নিয়ে এত মাথা ঘামায়নি সে। এখন আর সে ছোট্ট খুকিটি নেই ঠিকই, কিন্তু তাই বলে সে-অর্থে বড়-ও হয়নি সে। সোফি উপলব্ধি করল, মহাবিশ্বের টপ হ্যাটটার ভেতর থেকে যে-খরগোশটাকে বের করে আনা হয়েছিল সেটার আরামদায়ক রোম বেয়ে এরিমধ্যে সে গুঁড়ি মেরে নিচে নামতে শুরু করেছিল। কিন্তু দার্শনিক লোকটি তাকে থামিয়ে দিয়েছেন। উনি –তিনি কি পুরুষ না নারী?– তার ঘাড়ের পেছনে ধরে টেনে তাকে ফের তুলে এনেছেন রোমের ডগায়, যেখানে ছোটবেলায় সে খেলে বেড়িয়েছে। আর সেখান থেকে মিহি-মসৃণ রোমের সবচেয়ে ওপরের ডগা থেকে যেন প্রথমবারের মতো আবার জগৎটাকে দেখছে সে।

    দার্শনিক তাকে বাঁচিয়েছেন। কোনো সন্দেহ নেই এ-ব্যাপারে। নিত্যদিনের পরিচিত জীবনযাত্রার নানান তুচ্ছতার হাত থেকে বাঁচিয়েছেন তাকে অজ্ঞাতপরিচয় লোকটি।

    পাঁচটার সময় মা বাসায় ফিরতে সোফি তাকে লিভিংরুমে টেনে এনে একটা আর্মচেয়ারে বসিয়ে দিল ধাক্কা দিয়ে। তারপর সে শুরু করল, মা, তোমার কি মনে হয় না বেঁচে থাকাটা একটা আশ্চর্য ব্যাপার?

    সোফির মা এতই অবাক হলেন যে প্রথমে কোনো জবাবই দিলেন না। তিনি বাড়ি ফিরতে ফিরতে তাঁর মেয়ে সচরাচর তার হোমওয়ার্ক নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়ে।

    তিনি বললেন, তা হয় অবশ্য– কখনো, কখনো।

    কখনো, কখনো? বুঝলাম, কিন্তু তোমার কি মনে হয় না, বিশ্বটা যে আদৌ টিকে আছে সেটাই একটা আশ্চর্য ব্যাপার?

    দ্যাখ, সোফি, এ-সব কথাবার্তা বন্ধ কর।

    কেন? তাহলে কি তোমার ধারণা পৃথিবীটা বেশ সহজ আর স্বাভাবিক অবস্থাতেই আছে?

    আছেই তো, তাই না? কম-বেশি স্বাভাবিকই তো আছে।

    সোফি দেখলো দার্শনিক লোকটার কথাই ঠিক। বড়রা পৃথিবীটাকে বিনা তর্কেই মেনে নিয়েছে। তাদের নীরস অস্তিত্বের মোহমুগ্ধ ঘুমের মধ্যে নিজেদেরকে পুরোপুরি সমর্পিত হতে দিয়েছে তারা।

    এই বিশ্বের ব্যাপারে তুমি এতোটাই অভ্যস্ত হয়ে পড়েছে যে কিছুই আর অবাক করে না তোমাকে।

    এ-সব কী বলছিস তুই?

    আমি বলছি তুমি সবকিছুর ব্যাপারেই অভ্যস্ত হয়ে গেছে। অন্য কথায় বলতে গেলে, একেবারে ভোতা হয়ে গেছে।

    আমার সঙ্গে কেউ এভাবে কথা বলুক আমি তা চাই না, সোফি?

    ঠিক আছে, ব্যাপারটা আমি ঘুরিয়ে বলছি। মহাবিশ্বের টপ হ্যাঁটের ভেতর থেকে যে সাদা খরগোশটা এই মুহূর্তে বের করে আনা হচ্ছে সেটার রোমের অনেক গভীরে তুমি আরাম করে বসে আছে। এক মিনিটের মধ্যেই তুমি চুলোয় আলুগুলো চড়িয়ে দেবে। তারপর খবরের কাগজটা পড়বে আর তারপর, আধঘণ্টার একটা ঘুম দিয়ে উঠে টিভিতে খবর দেখতে বসে যাবে।

    উদ্বেগের একটা ছায়া নেমে এলো সোফির মায়ের মুখে। আসলেই তিনি রান্নাঘরে গিয়েছিলেন, আলুগুলো চুলোয় চড়িয়ে দিয়ে খানিক পর বসার ঘরে ফিরে এসেছেন। তো, এবার তিনিই সোফিকে ঠেলে একটা আর্মচেয়ারে বসিয়ে দিলেন।

    বললেন, একটা ব্যাপারে তোর সঙ্গে কথা বলতেই হচ্ছে আমাকে। তাঁর গলা শুনেই সোফি বুঝে গেল জরুরি কোনো বিষয়ে কথা বলবেন মা।

    তুই ড্রাগ-ট্রাগ নিতে শুরু করিসনি তো, মা?

    সোফি প্রায় হেসে উঠতে যাচ্ছিল, কিন্তু কেন প্রশ্নটা করা হচ্ছে সে বুঝতে পারল। সে বলল, তুমি কি পাগল হলে? প্রশ্নটা করে আরো বোকা-ইসাজলে।

    ড্রাগ বা খরগোশ নিয়ে সেদিন সন্ধ্যায় আর কোনো কথা হলো না।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleদুধ চা খেয়ে তোকে গুলি করে দেব – জাহিদ হোসেন
    Next Article শুনছ, কোথাও আছো কি কেউ?
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Our Picks

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }