Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026

    ভুতুড়ে ট্রেন – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026

    ব্রাহ্মণ ভূত – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    সোমনাথ সুন্দরী – হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত

    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত এক পাতা গল্প332 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    সোমনাথ সুন্দরী – ১৪

    ১৪

    আকাশে প্রায় পূর্ণিমার চাঁদ, নিজের কক্ষ ছেড়ে নিঃশব্দে বাইরের চত্বরে বেরিয়ে এল রাজশ্রী—সোমনাথ মন্দিরের দেবদাসী সমর্পিতা। ভালো করে একবার চারপাশে তাকালো সে। আপাত দৃষ্টিতে তার কোথাও কাউকে চোখে পড়লনা।

    চন্দ্রালোকে দাঁড়িয়ে আছে স্তম্ভ সমৃদ্ধ বিশাল চত্বরটা। থামগুলোর আড়ালে যেখানে চন্দ্রালোক প্রবেশ করছে না, সে সব জায়গাতে খেলা করছে অন্ধকার। মাথার ওপর চাঁদের অবস্থান দেখে সে অনুমান করল, এখন ঠিক মধ্যরাত। ধীর পায়ে চত্বর অতিক্রম করে সে গিয়ে দাঁড়াল প্রাকারের গায়ে সেই বেদিটার কাছে। বাইরে থেকে সমুদ্রের শব্দ ভেসে আসছে। অঙ্গিরা নামের সেই যুবকের আসার কথা।

    সারা দিন নিজের কক্ষেই ছিল সমর্পিতা। সোমেশ্বর মহাদেবের সামনে নৃত্যগীত পরিবেশনের জন্য ডাক পড়েনি তার। পড়ার কথাও নয়। দ্বিপ্রহরে একবার কিছু সময়ের জন্য তার সংবাদ নিতে এসেছিল উত্তরা। সে তাকে জানিয়েছে তার সম্বন্ধে এখনও কোনও সিদ্ধান্ত জানাননি পুরোহিতশ্রেষ্ঠ ত্রিপুরারিদেব।

    উত্তরা চেষ্টা করছে অতি দ্রুত অমন একটা ঘুঙুরদানা তার প্রেমিকের মাধ্যমে গোপনে বানিয়ে আনার। সমর্পিতা তার কথা নিশ্চুপ ভাবে শুনেছে, কিন্তু গতরাতে তার সঙ্গে যে অঙ্গিরার সাক্ষাৎ হয়েছে বা সে তাকে ঘুঙুরদানা ফিরিয়ে দেবার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, সে ব্যাপারে উত্তরাকে কিছু জানায়নি অঙ্গিরা। হয়তো বা তাতে উত্তরার মনে কোনও ভুল ধারণার জন্ম হতে পারে।

    তবে একটা অদ্ভুত ব্যাপার, গত রাতে অঙ্গিরার সঙ্গে সাক্ষাৎ হবার পর থেকে সারা দিন রাজশ্রীর খালি বারবার মনে পড়েছে তার কথাই। চোখ বন্ধ করলেই সে বার বার দেখতে পেয়েছে চাঁদের আলোতে তার সামনে দাঁড়িয়ে আছে ধনুর্বাণ কাঁধে এক সুঠাম সুন্দর যুবক।

    অঙ্গিরার কথা কি তার বারবার মনে এসেছে শুধুমাত্র ঘুঙুরদানা ফেরত পাবার প্রত্যাশাতে? রাজশ্রী ব্যাপারটা ঠিক বুঝে উঠতে পারছে না। সারাদিন খালি তার মনে হয়েছে কখন চাঁদ উঠবে মাঝ আকাশে, তার সঙ্গে সাক্ষাৎ হবে সেই যুবকের। তার জন্য প্রতীক্ষা শুরু হল সোমনাথ সুন্দরী সমর্পিতার।

    কিন্তু সময় যত এগোতে লাগল তত আশঙ্কা তৈরি হতে লাগল সমর্পিতার মনে। যদি সে না আসে? সময় এগিয়ে চলল, তার সঙ্গে বেড়ে চলল উত্তেজনাও। যখন তার মনে হতে লাগল সে আর আসবে না, ঠিক তখনই থামের আড়াল থেকে তার সামনে আবির্ভূত হল অঙ্গিরা। তাকে দেখেই মুহূর্তের মধ্যে সোমনাথ সুন্দরীর সব মলিনতা যেন মুছে গেল! চাঁদের আলোতে তার মুখমণ্ডলে ফুটে উঠল উচ্ছল এক আনন্দের ভাব। আর অঙ্গিরার চোখেও যেন ফুটে উঠল অদ্ভুত এক ভালোলাগা, ঠোঁটের কোণে আবছা স্নিগ্ধ হাসির টুকরো। পরস্পরের এ ব্যাপারটা তাদের কারোরই চোখ এড়াল না।

    অঙ্গিরা তার সামনে এসে দাঁড়াতেই দেবদাসী সমর্পিতা বলল, ‘আমি অনেকক্ষণ প্রতীক্ষা করে আছি তোমার জন্য।’

    অঙ্গিরা জবাব দিল, ‘আমি ঠিক মধ্যরাতেই কক্ষ ত্যাগ করেছিলাম। বাইরে বেরিয়ে দেখি প্রধান পুরোহিত দণ্ডায়মান। তিনি আমার সঙ্গে বাক্যালাপ করতে করতে অনেকটা দূর পর্যন্ত এলেন। তাঁর ফিরে যাওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হল। তাই আসতে বিলম্ব হল।’

    তার কথা শুনে সমর্পিতা বলল, ‘আমি জানি তুমি আসবে। কিন্তু, তবু বিলম্ব দেখে মনের ভিতর আশঙ্কা তৈরি হচ্ছিল। আসলে ভাগ্য আমার সঙ্গে এতটাই প্রতারণা করেছে যে আমি আর কোনও কিছুতেই আস্থা রাখতে পারি না। আমার পিতা-মাতার হত্যা বা মৃত্যু, নিজের সিংহাসন নিষ্কণ্টক করার জন্য অথবা পুণ্য লাভের লক্ষে চালুক্যরাজের আমাকে এই মন্দিরে দেবদাসী হবার জন্য তুলে দেওয়া থেকে শুরু করে গর্ভগৃহর সামনে সেদিন প্রায় মৃত্যুর মুখে পতিত হওয়া। দুর্যোগ যেন কিছুতেই আমার পিছু ছাড়ছে না! রাজকন্যা থেকে আমি এখন সোমনাথ মন্দিরের নগণ্য দেবদাসী।’

    সোমনাথ সুন্দরীর কথা শুনে অঙ্গিরা বিস্মিত ভাবে বলে উঠল, ‘তুমি রাজকন্যা! শুনেছিলাম বটে তুমি নাকি চালুক্য রাজবংশীয়া।’

    সে মৃদু হেসে জবাব দিল, ‘হ্যাঁ, ছিলাম। পিতা অম্বরীষ ছিলেন চালুক্য যুবরাজ। সিংহাসনে বসার ঠিক পূর্বদিনেই সস্ত্রীক নিহত হলেন তিনি। সিংহাসনে বসলেন খুল্লতাত অম্বুজ। আমাকে তিনি তুলে দিলেন সোমনাথ মন্দিরের হাতে। চালুক্য বংশীয়া নারীদের সিংহাসনে বসার নজির আছে। নিষ্কণ্টক হলেন তিনি। রাজকন্যা রাজশ্রী থেকে আমি হলাম সোমনাথ সুন্দরী সমর্পিতা।’

    অঙ্গিরা ব্যাপারটা বুঝতে পেরে বলল, ‘সেখানে তোমার নিকটজন কেউ ছিলো না। যিনি তোমাকে এই মন্দিরে পাঠানো থেকে নিরস্ত করতে পারতেন চালুক্যরাজ অম্বুজকে?’

    দেবদাসী সমর্পিতা বলল, ‘পিতা-মাতার মৃত্যুর পর আমি এক বৃদ্ধা পরিচারিকার কাছে মানুষ হয়েছি। হ্যাঁ, আর এক জন হয়তো ছিলেন, তবে তিনি রক্তের সম্পর্কর কেউ নন। অমাত্য চন্দ্রদেব। তিনি স্নেহ করতেন আমাকে। আমার পিতা যদি সিংহাসনে বসতেন তবে তিনিই হয়তো প্রধানমন্ত্রী বা মহা অমাত্য হতেন। কিন্তু রাজার বিরুদ্ধাচরণ করার মতো ক্ষমতা তার ছিল না। তা ছাড়া গোপনে অন্ধকার রাতে শিবিকাবন্দি অবস্থাতে সৈন্যরা আমাকে এখানে পৌঁছে দেয়। রাজা অম্বুজ অত্যন্ত চতুরতা দেখিয়েছেন এ ব্যাপারে। আমাকে হত্যা করার পাপ নিলেন না, উপরন্তু সোমনাথ মন্দিরের ধন্যবাদগ্রাহ্য হলেন।’

    চাঁদের আলোতে সোমনাথ সুন্দরীর দিকে তাকিয়ে অঙ্গিরার মনে হল সমর্পিতার চোখের কোণে যেন অশ্রুবিন্দু চিকচিক করছে। তার বিষণ্ণতা এবার যেন অঙ্গিরাকেও স্পর্শ করল। কয়েক মুহূর্ত চুপ করে থেকে সমর্পিতার বিষণ্ণতা কাটিয়ে দেবার জন্য অঙ্গিরা হেসে বলল, ‘ও এই জন্যই তোমাকে গতকাল পরিচয় জিগ্যেস করাতে তুমি প্রথমে তোমার রাজশ্রী নাম বলেছিলে। তা আমি কী নামে ডাকব তোমাকে? রাজশ্রী নাকি সমর্পিতা?’

    সোমনাথ সুন্দরী বলল, ‘দেবদাসী হবার পর পূর্ব পরিচয় মুছে ফেলতে হয়। যদিও মনের ভিতর তা কোনওদিন মুছে ফেলতে পারব কিনা জানি না। সমর্পিতা নাম শুনতে সুন্দর হলেও জন্ম থেকে শুনে আসা রাজশ্রী নামই আমার প্রিয়। ভালোবাসা জড়িয়ে আছে ও নামের সঙ্গে। ও নামই শুনতে আমার ভালো লাগত। কিন্তু সর্ব সময়ে ও-নামে তো তুমি আমাকে ডাকতে পারবে না।’

    নিজের অজান্তেই যেন অঙ্গিরা বলে ফেলল, ‘সব সময়ে কেন, যখন নিভৃতে সাক্ষাৎ হবে তখন তোমায় রাজশ্রী নামে ডাকব।’

    কথাটা বলে ফেলেই একটু লজ্জাবোধ করল অঙ্গিরা। তার সঙ্গে কেনই বা নিভৃতে দেখা হবে রাজশ্রীর? সেই বা কেন একান্তে সাক্ষাৎ করবে অঙ্গিরার সঙ্গে!

    অঙ্গিরার কথা শুনে রাজশ্রীর মনের গভীরে হঠাৎই যেন একটা কাঁপন লাগল। এক অজানা অনুভূতির কাঁপন।

    কয়েক মুহূর্ত স্থির দৃষ্টিতে অঙ্গিরার দিকে তাকিয়ে থেকে সে বলল, ‘তবে তুমি আমাকে রাজশ্রী নামেই ডেকো।’

    এ কথা বলার পর রাজশ্রী হেসে বলল, ‘আমার কথা তো অনেক শুনলে, এবার তোমার কথা বলো? তোমার পিতা, মাতা, পরিজন আছে নিশ্চই?’

    অঙ্গিরা বলল, ‘আমারও অবস্থা তোমারই মতো। পিতা-মাতা কেউ জীবিত নেই। তারা প্রাণ বিসর্জন দেবার পর তাদের অন্তিম নির্দেশ পালনের জন্য এখানে এসেছি। আমারও কেউ নেই।’

    ‘প্রাণ বিসর্জন’ শব্দটা কানে বাজল রাজশ্রীর। সে বলল ‘প্রাণ বিসর্জন— অর্থাৎ?’

    অঙ্গিরা একটু ইতস্তত করে সত্যি কথাই বলল ‘আমি একবিংশ বৎসরে পদার্পণ করলে তাঁরা দুজন সরস্বতী নদীতে নিজেদের বিসর্জন দেন। তাঁরা মৃত্যুর আগে আমাকে নির্দেশ দিয়েছিলেন যে আমি যেন এই সোমনাথ মন্দিরে এসে প্রধান পুরোহিতের সঙ্গে সাক্ষাৎ করি। তিনি আমাকে যা নির্দেশ দেবেন তা পালন করতে হবে আমাকে। তবে তাদের আত্মার মুক্তি ঘটবে। মৃত্যুর পর সব আত্মারাই তো এই সোমনাথ মন্দিরে মুক্তিলাভের জন্য উপস্থিত হন। হয়তো বা তাঁরাও এখানেই আছেন। যতটুকু জানি তারা এক সময় এ মন্দিরেই থাকতেন।

    রাজশ্রী, অঙ্গিরার জবাব শুনে মৃদু বিস্মিত ভাবে প্রশ্ন করল, ‘তাঁরা আত্মহনন করলেন কেন? এ মন্দিরে তাঁরা কি কাজে নিয়োজিত ছিলেন?’

    অঙ্গিরা উত্তর দিল, ‘তার কারণ, আমার জানা নেই, তাঁরা এ মন্দিরে কী কাজে নিয়োজিত ছিলেন সে সম্পর্কে কোনওদিন অবগত করেননি আমাকে। তবে আমার মা ছিলেন অতীব সুন্দরী। বাবা, রক্ষী বা এ ধরনের কোনও পেশাতে নিয়োজিত থাকতে পারেন। তিনি অস্ত্রবিদ্যাতে পারদর্শী ছিলেন। আমাকে তিনিই ও বিদ্যা শিখিয়েছেন।’

    কথাটা শুনে রাজশ্রী বলল, ‘যদি তোমার মা দেবদাসী হয়ে থাকেন, তবে তিনি মুক্তি পেলেন কী ভাবে? ঘর বাঁধলেন কী ভাবে?’

    অঙ্গিরা জবাব দিল, ‘এ প্রশ্নের উত্তরও আমার কাছে নেই। এমনও হতে পারে তিনি দেবদাসী নয়, মালিনী বা চয়নিকা ছিলেন। আসলে আমার পিতা-মাতা, কখনোই প্রয়োজনের অধিক বাক্যালাপ আমার সঙ্গে করতেন না।’

    রাজশ্রী আবারও প্রশ্ন করল, ‘তাদের সম্বন্ধে তোমার আরও কথা জানতে ইচ্ছা করে না? বিশেষত তুমি যখন এ মন্দিরে এসেছ, তারা যখন এ মন্দিরে তোমাকে পাঠিয়েছেন, নিজেরাও এ মন্দিরে ছিলেন। নিশ্চই তো কোনও সম্পর্ক আছে পুরো ঘটনাটার মধ্যে?’

    অঙ্গিরা প্রশ্ন শুনে একটু চুপ করে থেকে বলল, ‘হ্যাঁ, কোনও সম্পর্ক হয়তো আছে। আসলে ব্যাপারটা নিয়ে আমি এ ভাবে কোনওদিন ভাবিনি। সোমনাথ মন্দিরের কথা আমি পিতা-মাতার কাছ থেকে শুনলেও এখানে না উপস্থিত হলে বুঝতেই পারতাম না, প্রত্যহ কত বিচিত্র রকমের ঘটনা প্রবাহ অহর্নিশ পরিচালিত হয় এখানে। তাই এ মন্দিরের সঙ্গে তাদের সম্পর্ক নিয়ে আমার খুব একটা কৌতুহলও ছিল না। যাই হোক তা হয়তো আজ আর আমার জানার উপায় নেই।’ কথা গুলো বলার পর অঙ্গিরার হঠাৎই কেন জানি মনে পড়ে গেল নরসুন্দর খগেশ্বরের কথা। সে যদি তাঁর পিতা-মাতা সম্পর্কে কোনও তথ্য উদ্ধার করে দিতে পারে অঙ্গিরাকে। তবে একজন নিশ্চিত জানেন ব্যাপারটা। প্রধান পুরোহিত ত্রিপুরারিদেব। কিন্তু তাঁকে তো আর প্রশ্ন করা যাবে না?

    অঙ্গিরা এরপর হেসে বলল, ‘যাই হোক না কেন অন্তত এক যুগ, অর্থাৎ বারোটা বছর আমাকে কর্মে নিয়োজিত থাকতে হবে। তেমনই জানিয়েছেন ত্রিপুরারিদেব।’

    রাজশ্রী বলল, ‘এখানে থাকতে ভালো লাগবে তোমার? দম বন্ধ লাগবে না? আমার তো প্রতিটা দিন মনে হয় দমবন্ধ হয়ে আসছে। প্রাসাদে আমার প্রতি উপেক্ষা হয়তো ছিল, গোপন নজরদারী যে নিশ্চিত ভাবে ছিল তা এখন বুঝি। কিন্তু এমন কঠিন অনুশাসন সেখানে ছিল না। অন্তত নগরী পরিভ্রমণে যাওয়া যেত, বাগিচায় ভ্রমণ করা যেত, হরিণ শাবক, ময়ূর-ময়ূরিদের নিয়ে খেলা করা যেত।’

    অঙ্গিরা বলল, ‘আমার কিন্তু এ মন্দির, প্রভাসপত্তন মন্দ লাগছে না। কত ধরনের, কত দেশের মানুষের নিত্য আনাগোনা। অবশ্য আমার তো আর তোমার মতো বিধিনিষেধ নেই। মন্দির বা নগরীর যে-কোনও স্থানে আমি যেতে পারি।’

    রাজশ্রী বিষণ্ণভাবে বলল ‘আমারতো সে সুযোগ নেই। আমি পিঞ্জরবদ্ধ।’

    অঙ্গিরা তাকে প্রশ্ন করল, ‘আচ্ছা, ধরো যদি তোমাকে মুক্তি দেওয়া হল, তবে কোথায় যাবে তুমি? চালুক্য প্রাসাদে কি আবার তোমার স্থান হবে?’

    প্রশ্নর জবাবে রাজশ্রী একটু ভেবে নিয়ে বলল, ‘না, তা হবে না। আর সেখানে আমার স্থান হলেও মৃত্যু ওৎ পেতে থাকবে। যদি দূরে অচেনা, অজানা কোনও স্থানে চলে যাওয়া যায়। স্বাধীন ভাবে নর্তকীর জীবনও তো কাটাতে পারি?’

    অঙ্গিরা হেসে বলল ‘তা হয়তো কাটাতে পারো। হয়তো বা কোনও রাজ সভাতে রাজনর্তকীও হতে পারো। এ ব্যাপারে তোমার দক্ষতা সম্পর্কে কোনও সংশয় নেই।

    রাজশ্রী বলল, ‘চালুক্য রাজ পরিবারের রমণীদের মধ্যে নৃত্যগীতের চল আছে। সে শিক্ষা আমি এ স্থানের আসার পূর্বেই পেয়েছি। এখানে যারা দেবদাসী, তারা অনেকেই এখানে আসার পর নৃত্যের তালিম পায়। আমার ব্যাপারটা তা নয়।’

    অঙ্গিরার এবার খেয়াল হল, যে ব্যাপারের জন্য তার এখানে আসা সেই আসল কাজটাই তো বাকি থেকে গেছে! অঙ্গিরা পোশাকের ভিতর থেকে ঘুঙুরদানাটা বার করে তালুর ওপর রেখে বাড়িয়ে দিল দেবদাসী সমর্পিতার দিকে।

    রাজশ্রীও যেন ভুলেই গেছিল ঘুঙুরদানার কথা। যুবক অঙ্গিরার উপস্থিতিই যেন তার কাছে শুধুমাত্র আকাঙ্ক্ষিত মনে হচ্ছিল। হাসি ফুটে উঠল তার মুখে। চাঁদের আলোতে ঝলমল করছে অঙ্গিরার হাতে রাখা ঘুঙুরদানাটা।

    রাজশ্রী হাত বাড়াল সেটা নেবার জন্য। কিন্তু অঙ্গিরার হাত স্পর্শ করতেই কেমন যেন অদ্ভুত অনুভূতির সৃষ্টি হল রাজশ্রীর মনে। অঙ্গিরার করতলের ওপর প্রথমে হাতটা রাখল সে। তারপর ধীরে ধীরে চেপে ধরল হাতটা। এ যেন সেই হাত, যে হাতের ওপর ভরসা করা যায়! এ হাত সেই হাত যে হাত তার নিজের জীবনকে বিপদের মুখে ঠেলে দিয়ে অগ্নিবলয় থেকে রক্ষা করেছে তুচ্ছ দেবদাসীকে!

    যুবক অঙ্গিরার হাতও এ ভাবে কোনও দিন স্পর্শ করেনি কোনও নারী। এক অনাস্বাদিত ভালোবাসার শিহরন যেন তার ধমনীতে ছড়িয়ে পড়তে লাগল! এক অদ্ভুত ভালোলাগার পরশ। তার চোখের দিকে তাকিয়ে আছে অঙ্গিরা। সে দৃষ্টিতে কেমন যেন এক আর্তি ফুটে উঠেছে অঙ্গিরার প্রতি।

    সমুদ্রর বাতাসে চুল উড়ছে রাজশ্রীর। মুখমণ্ডলে জ্যোৎস্নার আলো। যেন এক অপ্সরা! অঙ্গিরার পাথর কুঁদে তৈরি করার মতো দেখতে শরীর বেয়েও চুঁইয়ে নামছে জ্যোৎস্নার আলো।

    দীর্ঘক্ষণ সে ভাবেই হাতে হাত রেখে নিঃশব্দে দাঁড়িয়ে রইল তারা। যেন তারা সোমনাথ মন্দিরের প্রস্তর মূর্তি। যুগ যুগ ধরে ওভাবেই যেন দাঁড়িয়ে আছে! নিশ্চুপ দুজনেই, কিন্তু যেন কত কথা হয়ে চলেছে তাদের দুজনের মধ্যে!

    চাঁদের আলো যখন ম্লান হয়ে এল তখন সম্বিত ফিরল অঙ্গিরার। রাজশ্রীর হাতটা তুলে নিয়ে সে নিঃশব্দে চুম্বন করে, ঘুঙুরদানাটা রাজশ্রীর মুঠিতে ধরিয়ে দিয়ে বলল ‘এবার ফিরতে হবে আমাকে।’

    রাজশ্রী অস্ফুটভাবে বলল, ‘আমি তোমার প্রতীক্ষায় থাকব।’

    দেবদাসীদের আবাসস্থল ত্যাগ করে অঙ্গিরা যখন বাইরে উদ্যানে বেরিয়ে এল তখনও তার ঘোর কাটেনি। সে যেন তখনও তার করতলে অনুভব করছে রাজশ্রী-দেবদাসী সমর্পিতার উষ্ণ স্পর্শ, কানে বাজছে তার কণ্ঠস্বর।

    কক্ষে ফিরে আজ আর নিদ্রার অবকাশ নেই অঙ্গিরার। প্রধান পুরোহিতের নির্দেশমতো সূর্য ওঠার পর তাকে সমুদ্র তীরে যেতে হবে, মস্তক মুণ্ডণ-সহ তাঁর পিতা-মাতার পারলৌকিক কার্য সম্পাদনের জন্য।

    রাজশ্রীর কথা ভাবতে ভাবতে ক্ষয়াটে চাঁদের আলোতে মূল মন্দির চত্বর সংলগ্ন অতিথিশালাতে ফেরার পথ ধরল অঙ্গিরা। মন্দিরের প্রাচীন ধ্বংসস্তূপের পাশ দিয়ে যাবার সময় হঠাৎই থমকে দাঁড়িয়ে পড়ল অঙ্গিরা। প্রাচীন চন্দ্রমন্দিরের ভিতর থেকে বেরিয়ে এল একজন। অঙ্গিরাকে সে খেয়াল করেনি। যে পথ ধরে অঙ্গিরা ফিরবে সে পথ ধরেই হাঁটতে লাগল সে।

    চাঁদের আলো ক্ষীণ হয়ে এসেছে। রাত শেষ আর ভোরের আলো ফোটার মধ্যবর্তী এ সময়টাতে আবার অন্ধকার গাঢ় হয়, তা ছাড়া কুয়াশাও আছে। অঙ্গিরাও নিশ্চুপ ভাবে অনুসরণ করল লোকটাকে। কিছু সময়ের মধ্যেই লোকটাকে অঙ্গিরা যেন চিনতে পারল। এ লোক নিশ্চিত নাপিত শিরোমণি খগেশ্বর। অবয়ব তো তারই মতন, হাঁটার ভঙ্গিও এক। তা ছাড়া অঙ্গিরা যতটুকু বুঝতে পারছে তাতে লোকটার মাথার চুল ধবধবে সাদা! অমন সাদা চুল তো সোমনাথ মন্দিরে বা নগরীতে দ্বিতীয় কোনও ব্যক্তির দেখেনি সে। কিন্তু রাতে কোথায় গেছিল নরসুন্দর শ্রেষ্ঠ? তাছাড়া সে তো মন্দিরের বাইরে বাস করে! তোরণ এখনও উন্মুক্ত হয়নি, তবে নিশ্চই গতরাতে মন্দির চত্বরেই ছিল!

    ব্যাপারটা ভেবে একটু অবাক হয়ে, খগেশ্বরের কাছে পৌঁছবার জন্য দ্রুত পা চালাল সে। কিন্তু তার কাছে পৌঁছবার আগেই হঠাৎই যেন কোথায় মিলিয়ে গেল সে! সম্ভবত কোনও ধংসস্তূপের আড়ালে চলে গেল লোকটা। অঙ্গিরা বেশ কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে রইল সে জায়গাতে। কিন্তু খগেশ্বরকে আর দেখতে পেল না। অগত্যা ফেরার পথ ধরল সে। অঙ্গিরা কক্ষে ফেরার কিছু সময়ের মধ্যেই ধ্রুবতারা ফুঠে উঠল। ঝমঝম শব্দে বাজল সোনার শিকল।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleরানি হাটশেপসুটের মমি – হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    Next Article ভয় ভয়ঙ্কর – হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত

    Related Articles

    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত

    সাদা বিড়াল – হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত

    January 31, 2026
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত

    নেকড়ে খামার – হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত

    December 10, 2025
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত

    অ্যাডভেঞ্চার সমগ্র ১ – হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত

    December 10, 2025
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত

    অ্যাডভেঞ্চার সমগ্র ২ – হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত

    December 9, 2025
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত

    জাদুকর সত্যচরণের জাদু কাহিনি – হিমাদ্রি কিশোর দাশগুপ্ত

    December 9, 2025
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত

    আঁধার রাতের বন্ধু – হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত

    December 9, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026
    Our Picks

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026

    ভুতুড়ে ট্রেন – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026

    ব্রাহ্মণ ভূত – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }