Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026

    ভুতুড়ে ট্রেন – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026

    ব্রাহ্মণ ভূত – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    সোমনাথ সুন্দরী – হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত

    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত এক পাতা গল্প332 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    সোমনাথ সুন্দরী – ১৮

    ১৮

    মাধেরা সূর্যমন্দির। সোমেশ্বর মহাদেব মন্দিরের মতো এ মন্দির অতি প্রাচীন নয়। সোলাঙ্কি রাজা ভীমের পিতামহ মাত্র একশত বৎসর পূর্বে অপূর্ব শিল্প সুষমা মণ্ডিত এ মন্দির নির্মাণ করান। তবে এ স্থানেরও বিশেষ স্থান মাহাত্ম্য বর্তমান। ব্রহ্ম পুরাণে এ স্থানের কথা আছে।

    মাধেরার অতি প্রাচীন নাম ধর্মারণ্য। পুষ্পবতী নদীতীরে ধর্মারণ্য বা অরণ্য ভূমি ছিল উপাসনা স্থল। শ্রীরামচন্দ্র লঙ্কা জয় করেন ও লঙ্কেশ্বর রাবণকে হত্যা করেন। রাবণ ছিলেন ব্রাহ্মণ। তাঁকে হত্যা করার পর শ্রীরামচন্দ্র ব্রহ্ম হত্যার পাপ থেকে মুক্ত হবার জন্য ঋষি বশিষ্ঠের পরামর্শে ধর্মারণ্যে এসে সূর্যদেবের তপস্যা করে পাপ মুক্ত হন এবং সীতাপুর নামে এক গ্রাম স্থাপন করেন।

    শ্রীরামচন্দ্রের পদধূলিতে ধন্য এ পুণ্য ভূমিতেই সোলাঙ্কি রাজারা সূর্যমন্দির স্থাপন করেছেন। জ্যোতির্বিদ্যা ও জ্যোতিষ শাস্ত্রের ওপর নির্ভর করেই গড়ে তোলা হয়েছে অদ্ভুত স্থাপত্য ও অলঙ্কৃত এই মন্দির।

    সোমনাথ মন্দিরের স্থাপত্য শৈলীর থেকে অনেক উৎকৃষ্ট স্থাপত্য শৈলীতে নির্মিত মাধেরা সূর্য মন্দির। যদিও তার ব্যাপ্তি আকারে ক্ষুদ্রকায় সোমেশ্বর মহাদেব মন্দির থেকে। প্রশস্ত চত্বরে প্রধান সূর্য মন্দিরকে ঘিরে রয়েছে গণেশ, বিষ্ণু, নটরাজ, কালি প্রভৃতি দেবদেবীর একশত সাতটি উপমন্দির বা মন্দির। অর্থাৎ মন্দিরের সর্বমোট সংখ্যা মোট একশত আটটি। হিন্দুদের জপমালাতে মোট একশত আটটি রুদ্রাক্ষই থাকে। তাই শ্রীরামচন্দ্রের জপস্থানে নির্মিত হয়েছে একশত আটটি মন্দির।

    সূর্যদেব যখন বিষুবীয় সময় পৌঁছন তখন ভোরের প্রথম আলো উন্মুক্ত তোরণ পথে গিয়ে পড়ে সুর্যদেবতার মূর্তির ওপর। সূর্যদেবতার মন্দিরটি তাকে ঘিরে থাকা অন্য মন্দিরগুলির তুলনায় বৃহৎ এবং দেখতে ওল্টানো পদ্মফুলের ন্যায়। পদ্মফুল সূর্যালোকের স্পর্শ পেলে পাপড়ি মেলে, আবার সূর্যাস্ত হলে পাপড়ি মুদে ফেলে। এ কারণে পদ্মকে বলে সৌরপুষ্প।

    সৌরদেবতা বা সূর্যদেবের মন্দির তাই রচনা করা হয়েছে প্রস্ফুটিত ওল্টানো পদ্মফুলের আঙ্গিকে। চতুষ্কোণ পিটিকা বিশেষের ওপর। গর্ভগৃহতে সূর্যদেবের বিগ্রহ সোনার রথে আসীন। সাতটি ঘোড়া টানছে সে রথ। শুধু বিগ্রহই নয়, রথের সোনার ঘোড়াগুলিও বহুমূল্য রত্ন সমৃদ্ধ। আর এই রথ সমেত বিগ্রহকে ঘিরে আছে দশ হাত গভীর ও পাঁচ হাত চওড়া এক পরিখা। যা রাজা ও ভক্তবৃন্দের দান করা স্বর্ণমুদ্রাতে পরিপূর্ণ। ওই কূপই এই মন্দিরের সূর্যদেবের প্রধান মন্দির।

    অন্য দেবদেবীর মন্দির ছাড়াও মন্দির চত্বরে রয়েছে সুবিশাল এক উপাসনাস্থল। তার বাহান্নটি খিলান এক সৌরবৎসর অর্থাৎ বাহান্ন সপ্তাহকে এবং কারুকার্যমণ্ডিত বারোটি স্তম্ভ বারোটি মাসের পরিচয় বহন করে। এ ছাড়াও আছে একশত আটটি ধাপ সমন্বিত বিশাল জলকুণ্ড, অতিথিশালা, পুরোহিত, সেবায়েতদের বাসস্থান ইত্যদি যা যা থাকার কথা, সবই আছে এখানে। বারো জন দেবদাসীও আছে। তারা নৃত্যগীত পরিবেশন করে সূর্যদেবের বিগ্রহের সামনে। মন্দিরের জনসংখ্যা দুই শত। আরও তিন শত লোক বসবাস করে মন্দির সংলগ্ন অঞ্চলে।

    সোমনাথ মন্দিরের মতো সূর্যদেবের মন্দিরে লক্ষাধিক মানুষের সমাগম না হলেও প্রতিদিন কয়েকশত মানুষের, পুণ্যার্থীদের সমাগম হতো এখানে, কেউ বা আসত সোলাঙ্কি রাজাদের অপূর্ব শিল্পকীর্তি প্রত্যক্ষ করার জন্য। কিন্তু তাদের সবারই আসা বন্ধ হয়েছে।

    পুণ্যার্থীদের বদলে মন্দির চত্বরে সমবেত হয়েছে চালুক্য, সোলাঙ্কি, আহরিয়া রাজপুত সেনারা। অতিথিশালার কক্ষগুলি হয়ে উঠেছে বিভিন্ন করদ নৃপতি ও সেনাপতিদের বাসস্থান রূপে। মহারাজ মাণ্ডলিক নিজেও উপস্থিত হয়েছেন। তার রাত্রিবাসের জন্য প্রধান পুরোহিত বিভাবসু নিজ কক্ষ ত্যাগ করে আশ্রয় নিয়েছেন গর্ভগৃহ প্রাঙ্গণে।

    রক্ষা করতে হবে মাধেরা সূর্য মন্দির। তবে রাজা হোক বা সৈনিক কারো চোখেই ঘুম নেই। মন্দির চত্বর আর মন্দির প্রাকারকে বেষ্টন করে অহর্নিশ পাহারা দিচ্ছে হিন্দু সেনারা।

    অন্যদিনের মতোই কুয়াশার জাল ছিন্ন করে সেদিনও সূর্যোদয় হল মাধেরার বুকে। ভোরের প্রথম আলো এসে পড়ল স্বর্ণরথে আসীন সূর্যদেবের স্বর্ণ কিরিটে। জলকুণ্ডে অবগাহন করে সূর্যদেবের বিগ্রহর সামনে পুজোতে বসলেন প্রধান পুরোহিত বিভাবসু।

    মন্দির রাজপুত সেনাদলের ঘেরার মধ্যে থাকলেও নিত্য দিনের পূজাপাঠ ব্যাহত হয় না। গর্ভগৃহ থেকে বিভাবসুর উদাত্ত কণ্ঠের স্তোত্র পাঠ ও ফুল-ধূপ-ঘৃতর সুগন্ধ ছড়িয়ে পড়তে লাগল মন্দির চত্বরে। এ মন্ত্রোচ্চারণের শব্দ সেনাবাহিনীর মধ্যেও ভোরের আলোর সঙ্গে সঙ্গে এক অদ্ভুত মনোবলের সঞ্চয় করে।

    প্রাত্যহিক পুজাপাঠ চলল বেশ কিছু সময় ধরে। তারপর ঠিক সোমনাথ মন্দিরের মতোই বিগ্রহর সামনে নৃত্য প্রদর্শন শুরু করল দেবদাসীর দল। যদিও সংখ্যাতে তারা নগণ্য। তাদের নৃত্যগীত সমাপ্ত হলে গর্ভগৃহ চত্বরের বিশাল ঘণ্টাটা বাজালেন মাধেরা মন্দিরের প্রধান পুরোহিত বিভাবসু। প্রধান মন্দিরকে কেন্দ্র করে উপমন্দিরের ঘণ্টাগুলোও বেজে উঠল।

    এই ঘণ্টাধ্বনি শুনে মন্দির থেকে প্রসাদকণা সংগ্রহ করতে থাকে সৈনিকরা। এদিনও তার ব্যতিক্রম হল না। ঘণ্টাধ্বনি থামতেই প্রধান মন্দির চত্বরে ভিড় জমাতে শুরু করল সৈনিকরা। কয়েকজন সেবায়েত কাঠের প্রকাণ্ড বারকোষ থেকে তণ্ডুলকণা তুলে দিতে লাগল সৈনিকদের হাতে। সে কাজের তত্ত্বাবধান করছিলেন সূর্যমন্দিরের প্রধান পুরোহিত বিভাবসু।

    ঠিক সেই সময় মন্দির চত্বরে হঠাৎ চিৎকারের শব্দ শোনা গেল। আর সেই শব্দ কানে যাওয়া মাত্রই প্রসাদকণা গ্রহণকারী সেনারা কোনওক্রমে সেই তণ্ডুলপ্রসাদ কপালে ঠেকিয়ে প্রণাম করে উষ্ণীষে বেঁধে ছুটল চত্বরের দিকে। আর এর পরই উপমন্দিরের ঘণ্টাগুলো এক সাথে বাজতে লাগল। একজন সেবক ছুটে এসে বিভাবসুকে জানাল, ‘এসে গেছে! এসে গেছে! মন্দির শীর্ষে প্রহরারত সৈনিকরা তাদের দেখতে পেয়েছে! এখনই যুদ্ধ শুরু হল বলে!’

    তার কথা শোনার সঙ্গে-সঙ্গেই বিভাবসুও মন্দিরের সবাইকে সতর্ক করে দেবার জন্য মূল মন্দিরের বিশাল ঘণ্টাটাও আবার বাজাতে শুরু করলেন। সেই শব্দ কানে যেতেই নিজেদের কক্ষ ত্যাগ করলেন চালুক্য, সোলাঙ্কি আর আহরিয়া নৃপতি সেনাপতিরা।

    পরিকল্পনা আগেই রচনা করা ছিল। ত্রিস্তরীয় বলয় রচনা করা হবে যবন বাহিনীকে প্রতিহত করার জন্য। প্রাকারের বহিঃবলয়ে থাকবে চালুক্যরাজ অম্বুজের নেতৃত্বে চালুক্য বাহিনী। যারা প্রথম আক্রমণ করবে যবন বাহিনীকে। অসি চালনাতে দক্ষ তারা। সোলাঙ্কিদের তিরন্দাজ বাহিনী থাকবে মন্দির প্রাকার ও প্রধান মন্দির-সহ উপমন্দিরগুলোর শীর্ষ দেশে। তাতে তির নিক্ষেপে সুবিধা হবে তাদের। আর প্রধান মন্দিরকে ঘিরে আর মন্দির চত্বরে থাকবে মহারাজ মাণ্ডলিকের নেতৃত্বে আহরিয়া রাজপুত বাহিনী। অন্য দুই বাহিনীকে অস্ত্র, রসদ যুগিয়ে সাহায্য করবে। আর যদি শেষ পর্যন্ত যবনরা মন্দির চত্বরে প্রবেশ করে তবে শেষ রক্তবিন্দু দিয়ে যবন বাহিনীর বিরুদ্ধে শেষ লড়াই চালাবে তারা। তিন নৃপতির নেতৃত্বে তাদের সেনাদল পরিকল্পনা মতো নিজেদের স্থানে উপনীত হল।

    প্রথমে সূক্ষ্ম চুলের মতো কালো দাগ দৃশ্যমান হল দিকচক্রবালে। ক্রমশ সে দাগ পুরু হতে শুরু করল। অস্পষ্ট শব্দ পরিণত হল বিরাট চিৎকারে। রাজপুত সৈন্যরাও ‘হর হর মহাদেব’ ধ্বনি দিতে লাগল। দু-পক্ষের প্রচণ্ড চিৎকারে আতঙ্কিত পাখির ঝাঁক আকাশে উড়তে শুরু করল। এসে পড়ল যবন বাহিনী।

    আরব মামুদ। তিনি অবশ্য সেনাদলের পুরোভাগে নেই। দিকচক্রবালে যেখানে কৃষ্ণবর্ণের দাগের মতো তাঁর বাহিনী দৃশ্যমান হয়েছিল, সেখানেই তিনি তাঁর তাঁবুতে অবস্থান করছেন। যাঁরা মন্দিরের দিকে উটের বা ঘোড়ার পিঠে এগোচ্ছে, তারা সবাই স্বেচ্ছাসেবী বাহিনীর আরব যুবক। এরাইতো ভবিষ্যতে আরব ধর্ম ভাবনার পতাকাকে ছড়িয়ে দেবে হিন্দ মুলুকে। তাই তাদের সাহস ও দক্ষতা দেখার জন্য, তারা যাতে অভিজ্ঞতা সঞ্চয় করতে পারে সেজন্য একজন প্রধান সেনাপতির নেতৃত্বে তাদেরকে অগ্রগামী বাহিনীতে রাখার নির্দেশ দিয়েছেন সুলতান।

    লম্বা লম্বা পা ফেলে মন্দির প্রাকারকে চারদিক থেকে ঘিরে ফেলার জন্য প্রথমে এগিয়ে এল উষ্ট্র বাহিনী। তাদের একজনের হাতে পতাকাদণ্ডে খলিফার সবুজ নিশান। সে তিরের পাল্লার মধ্যে আসতেই মন্দির শীর্ষে বসা এক সোলাঙ্কি তিরন্দাজ তির নিক্ষেপ করল সেই নিশান বাহককে লক্ষ্য করে। অব্যর্থ লক্ষ্য। তির গিয়ে বিদ্ধ হল লোকটার কণ্ঠদেশে। উটের পিঠ থেকে গড়িয়ে পড়ল নিশান বাহক। তা প্রত্যক্ষ করে আকাশবাতাস কাঁপিয়ে ‘হর হর মহাদেব’ বলে উল্লাসধ্বনি করে উঠল রাজপুত বাহিনী।

    লোকটা মাটিতে পড়লেও, পতাকাটা মাটি স্পর্শ করার আগেই তা আবার উঠিয়ে নিল এক আরব। যে পতাকা হিন্দ ভূমিতে প্রোথিত করার সংকল্প নিয়ে তারা মরুভূমির প্রচণ্ড ভয়াবহতা সহ্য করে এত দূর এসেছে, তাকে ভুলুণ্ঠিত হতে দেওয়া চলে না। পতাকাবাহী উটের পিঠ থেকে ভূপতিত হলেও উষ্ট্রবাহিনী কিন্তু থামল না প্রথমে। ধুলোর ঝড় তুলে মন্দিরের দিকে এগোবার চেষ্টা করল তারা। তাদের উদ্দেশ্য ছিল চারপাশ থেকে মন্দির প্রাকারকে ঘিরে ফেলে উটের পিঠ থেকে প্রাকার ডিঙিয়ে মন্দির চত্বরে লাফিয়ে পড়ার। কিন্তু অনেক্ষণ ধরে চেষ্টা চালালেও তা ফলপ্রসূ হল না। প্রাকার আর মন্দিরগুলির শীর্ষদেশ থেকে রাজপুত বাহিনীর মুহুর্মুহু তির বর্ষণ যবনদের উষ্ট্র বাহিনীর গতি রুদ্ধ করল।

    এরপর পরিকল্পনা বদল করল যবন সেনাপতি। উষ্ট্র বাহিনীকে পিছু হটিয়ে আগুয়ান হল আরব ঘোড় সওয়াররা। পরনে তাদের ঢোলা পাজামা, পাগড়ির কাপড় দিয়ে মাথা-মুখমণ্ডল আবৃত। হাতে বাঁকানো তলোয়ার। ‘তকবির’ ধ্বনি তুলে তারা এগিয়ে আসতে লাগল মাধেরা সূর্য মন্দিরের প্রধান তোরণের দিকে।

    চালুক্যরাজ অম্বুজের নেতৃত্বে হিন্দু সেনারাও ঝাঁপিয়ে পড়ল তাদের ওপর। সম্মুখ সমর শুরু হয়ে গেল। ‘তকবির’ আর ‘হর হর মহাদেব’ ধ্বনি, অস্ত্রের ঝনঝন শব্দ আর আর্তনাদের বীভৎস শব্দে কাঁপতে থাকল চারদিক। প্রবল বিক্রমে যবনদের প্রতিহত করছে চালুক্যবাহিনী।

    এমন প্রতিরোধের যে সম্মুখীন হতে হবে তা ভাবতে পারেনি আরব বাহিনী। বিশেষত লম্বা শূলধারী চালুক্য সেনা দলের যে অংশ ছিল, তারা আরব ঘোড়সওয়ারদের ভয়ঙ্কর শূলের আঘাতে ভূপতিত করতে লাগল।

    দুপুর গড়িয়ে যখন বিকাল হল তখন আরব বাহিনী পিছু হটল। এদিনের মতো মাধেরা সূর্যমন্দির দখল করতে ব্যর্থ হল তারা। উল্লাস ধ্বনি ছড়িয়ে পড়ল রাজপুত শিবিরে। প্রায় দুই শতর মতো যবন হানাদারকে নিহত করেছে চালুক্যরাজ অম্বুজের সেনাদল।

    তবে চালুক্য সেনাবাহিনীর হতাহতের সংখ্যাও প্রচুর। মাধেরা মন্দিরের প্রবেশ তোরণের বাইরে ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়ে আছে আরব সেনাদের সঙ্গে চালুক্য সেনাদের দেহও। সৎকারের ব্যবস্থা করতে হবে সেই চালুক্য দেহগুলোর। মন্দির চত্বরের ভিতর যেখানে সোপনশ্রেণী বিশিষ্ট জলকুণ্ড আছে, তার পাড়েই চিতা সাজানো হবে। তাই চালুক্যরাজ অম্বুজের নেতৃত্বে চালুক্য সেনাদের দেহগুলি, তাদের ছিন্ন অঙ্গগুলি সনাক্ত করে তা মন্দিরের ভিতর সেই নির্দিষ্ট স্থানে পাঠাবার কার্য শুরু হল।

    সূর্য অস্ত যেতে বসেছে। আর কিছু সময়ের মধ্যেই অন্ধকারে আবৃত হবে চারপাশ। চালুক্য সেনাদের দেহগুলো মন্দিরের ভিতরে নিয়ে যাবার কাজ তখন প্রায় শেষ। ঠিক সেই সময়ে এক অপ্রত্যাশিত ভয়ঙ্কর ঘটনা ঘটল। এক যবন আর এক চালুক্য সেনার মৃতদেহ আলিঙ্গনবদ্ধ অবস্থায় ভূপতিত ছিল। যেন মৃত্যু মুহূর্ত পর্যন্ত পরস্পরকে প্রচণ্ড আক্রোশে নিষ্পেষণের চেষ্টা করছিল তারা। একজন চালুক্য সৈনিক মৃতদেহ দুটিকে আলিঙ্গন মুক্ত করতে যেতেই হঠাৎই মৃতের ভান করে পড়ে থাকা সেই আরব লাফিয়ে উঠে একটা তীক্ষ্ন ছুরিকা নিয়ে ছুটল, কিছুটা তফাতে তার দিকে পিছন ফিরে দণ্ডায়মান চালুক্যরাজ অম্বুজের দিকে। ব্যাপারটা চোখে পড়তেই চালুক্য মন্ত্রী তার হাতের ভল্ল নিক্ষেপ করলেন সেই যবনের দিকে। সেই ভল্ল যবনের মুণ্ড ছিন্ন করল ঠিকই, কিন্তু শেষরক্ষা হল না। সেই কবন্ধ শরীর গিয়ে আছড়ে পড়ল চালুক্যরাজের দেহের ওপর। আর তার হাতের তীক্ষ্ন ছুরি চালুক্য রাজের পৃষ্ঠদেশে প্রবেশ করে বুক ফুড়ে বেরিয়ে গেল। ঠিক সেই সময় সূর্য ডুবে গেল।

    চালুক্য সেনারা দ্রুত তাদের মহারাজের দেহটা তুলে নিয়ে মন্দির চত্বরে প্রবেশ করে কাছেই একটা উপমন্দিরের চাতালে নিয়ে গিয়ে শুইয়ে দিল। কিন্তু তাঁকে নিয়ে কারোরই আর তখন বিশেষ কিছু করার নেই। যবনের ছুরি ফুঁড়ে দিয়েছে চালুক্যরাজের হৃৎপিণ্ড। মৃত্যু সমাগত। চালুক্যরাজ নিজেও বুঝতে পারলেন ব্যাপারটা। শ্বাস টানতে টানতে সে অবস্থাতে তাঁর শরীরের ওপর ঝুঁকে থাকা চালুক্যমন্ত্রী চন্দ্রদেবকে বললেন, ‘কোন পাপে আমার এ অবস্থা হল মন্ত্রী?’

    প্রশ্ন শুনে নিশ্চুপ রইলেন মহামন্ত্রী চন্দ্রদেব।

    চালুক্যরাজ অম্বুজ অবশ্য নিজেই এরপর উত্তরটা দিলেন। মৃত্যুপথযাত্রী ব্যক্তির অনেক সময় আত্ম-উপলব্ধি হয়। হয়তো তাই চালুক্যরাজ অম্বুজ বললেন, ‘হ্যাঁ, ভ্রাতৃ হত্যার পাপ। তাঁর সন্তানকে বঞ্চিত করার পাপ। যে সিংহাসন আমার ছিল না তা গ্রহণ করার পাপ!’

    মহামন্ত্রী চন্দ্রদেব বললেন ‘আমার প্রতি আপনার কোনও নির্দেশ আছে মহারাজ? চালুক্য সিংহাসনে কে বসবেন?’

    অন্তিম শ্বাস উঠতে শুরু করেছে চালুক্যরাজ অম্বুজের। মৃত্যু যন্ত্রণাতে বিকৃত হয়ে উঠেছে তার মুখ। সেই অবস্থাতেই অনেক কষ্টে তিনি মন্ত্রী চন্দ্রদেবকে বললেন ‘পাপ স্খলন না হলে আমার মুক্তি ঘটবে না। ভ্রাতুষ্পুত্রী রাজশ্রীকে আমি তুলে দিয়েছিলাম সোমেশ্বর মন্দিরে। সে সেখানেই আছে। আপনি সোমেশ্বর মন্দির থেকে তাকে মুক্ত করে নিয়ে গিয়ে চালুক্য সিংহাসনে অভিষিক্ত করুন। সোমেশ্বর সমুদ্রতটেই আমার পারলৌকিক কার্য সম্পাদন করবেন আপনি।’ এ কথা বলার পরই প্রচণ্ড কেঁপে উঠল চালুক্যরাজ অম্বুজের দেহ। মাথা থেকে খসে পড়ল তাঁর রাজমুকুট। মাধেরা সূর্য মন্দিরে সেই বিষণ্ণ সন্ধ্যার অন্ধকারে স্থির হয়ে গেল চালুক্যরাজের শরীর।

    মহারাজের বিস্ফারিত চোখের পাতা দুটো হাত দিয়ে বুজিয়ে দিলেন প্রবীণ চালুক্য মন্ত্রী চন্দ্রদেব। রাজ-মুকুটটা কুড়িয়ে নিলেন তিনি। সময় নষ্ট করা আর উচিত হবে না। চালুক্যরাজের দেহ উঠিয়ে নিয়ে যাওয়া হল জলকুণ্ডের তীরে। মাধেরা সূর্যমন্দিরের প্রধান পুরোহিত বিভাবসু আর নৃপতি মাণ্ডলিকের উপস্থিতিতে জ্বলে উঠল চালুক্যরাজের চিতার আগুন। সে আগুন নির্বাপিত হবার পর চালুক্যরাজের শেষ ইচ্ছা পালন করার জন্য কোমরবন্ধে তাঁর রাজমুকুট আবৃত করে মাধেরা সূর্য মন্দির ত্যাগ করে রাতের অন্ধকারে সোমনাথ মন্দিরের উদ্দেশ্যে ঘোড়া ছুটিয়ে দিলেন মহামন্ত্রী চন্দ্রদেব।

    ঠিক সেই সময় নিজের তাঁবুতে তাঁর অনুচরদের নিয়ে যুদ্ধের গতি প্রকৃতি নিয়ে আলোচনায় বসেছিলেন গজনীর মালিক। তাঁর শ্মশ্রু সম্মিলিত মুখমণ্ডলে ক্ষমাহীন হিমশীতল কাঠিন্য। না, কাফেরদের জন্য বিন্দুমাত্র দয়া-মমতা নেই তাঁর শরীরে। বেশ কিছুক্ষণ আলোচনা করার পর তিনি বললেন, ‘না, এখানে বেশি ওয়াক্ত বরবাদ করা যাবে না। আমাদের আসল লক্ষ্য সোমনাথ। এখানে বেশি দিন গুজরান করলে কাফেরগুলো হয়তো সোমনাথ থেকে সব ধনরত্ন নিয়ে পালাবে। তিন দিনের মধ্যে শেষ করতে হবে এই মাধেরার যুদ্ধ। বেরহম ভাবে মারতে হবে কাফেরদের। আমি কাল নিজে তলোয়ার ধরব।’

    মামুদ গজনীর একথা বলার সঙ্গে-সঙ্গেই হয়তো বা মাধেরার ভাগ্য নির্ধারিত হয়ে গেল। পরদিন সূর্যের আলো ফুটতেই গজনীবিদের নেতৃত্বে সর্বশক্তি দিয়ে মাধেরা সূর্য মন্দিরের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ল আরব বাহিনী। চালুক্য, সোলাঙ্কি, আহরিয়া রাজপুত বাহিনী প্রবল বিক্রমে লড়লেও, লড়াইতে পিছু হঠতে লাগল তারা। এর প্রধান কারণ মামুদ বাহিনীর সৈন্য সংখ্যা।

    হিন্দু ধর্ম রক্ষক সেনার একজন যবনের মাথা কাটলেই তার জায়গাতে আবির্ভূত হল পাঁচ জন জিহাদি! দ্বিতীয় দিন সুলতান বাহিনী মন্দিরে প্রবেশ করতে না পারলেও আরব বাহিনী কার্যত চারদিক থেকে দুর্গ প্রাকার ঘিরে ফেলল। অসীম সাহসের সঙ্গে যুদ্ধ করলেও দ্বিতীয় দিনের যুদ্ধে কার্যত নিশ্চিহ্ন হয়ে গেল চালুক্য বাহিনী। তাদের মৃত রাজার পদাঙ্ক অনুসরণ করল তারা। সোলাঙ্কি আর আহরিয়া রাজপুতরা মন্দির প্রাকারের ভিতর রুদ্ধ হয়ে প্রস্তুত হলো শেষ লড়াইয়ের জন্য।

    মামুদ দক্ষ যুদ্ধবাজ। দিনের শেষে রাজপুতরা দেখল যে আরব বাহিনীর উটগুলো ফিরে যাচ্ছে তাদের দূরবর্তী শিবিরের দিকে। কিন্তু রাতের গভীরে মামুদ তাঁর উষ্ট্রবাহিনীর কিছু অংশকে আবার ফিরিয়ে এনে স্থাপন করলেন মন্দির প্রাকারের পিছনের অংশে। ওই দিকের অংশে মন্দিরের দেবদাসীদের আবাসস্থল।

    পরদিন সূর্যোদয়ের মুহূর্তে গর্ভগৃহর সামনে পুজোতে বসলেন সূর্যদেবের প্রধান পুরোহিত বিভাবসু। যাই ঘটুক না কেন, দেবতার পুজো তো বন্ধ করা যায় না। ঠিক সেই সময় তিনি দেখতে পেলেন দেবতার মন্দিরের দিকে ছুটতে ছুটতে আসছে দেবদাসীরা। আর তাদের পিছু ধাওয়া করে আসছে একদল তলোয়ারধারী। প্রাকার অতিক্রম করে মন্দিরে প্রবেশ করেছে যবনরা!

    কিছু রাজপুত যোদ্ধা পথ অবরোধ করল যবনদের। ভোরের আলো ফোটার সঙ্গে-সঙ্গেই অস্ত্রের সংঘর্ষে কেঁপে উঠল মন্দির চত্বর। আতঙ্কিত দেবদাসীরা পুরোহিত বিভাবসুর সামনে উপস্থিত হয়ে বলল ‘হে প্রভু আমাদের রক্ষা করুন।’

    বিভাবসু বললেন, ‘তোমাদের রক্ষাকর্তা তোমাদের নাথ সূর্যদেব। তোমরা তাঁর কাছে আশ্রয় গ্রহণ করো। আতঙ্কিত নারীরা প্রবেশ করল মন্দিরের গর্ভগৃহে, তাদের শেষ আশ্রয়স্থলে সূর্যদেবের চরণে। গর্ভগৃহের কপাট বন্ধ করে পিছনের বড় প্রদীপ দণ্ডটা অস্ত্রের মতো উঁচিয়ে ধরে বিগ্রহ আর নারীদের রক্ষার জন্য দাঁড়ালেন মাধেরা মন্দিরের প্রধান পুরোহিত বিভাবসু।

    প্রাকার অতিক্রম করে ‘দীন দীন’ ধ্বনি তুলে মন্দির চত্বরে ঝাঁপিয়ে পড়তে লাগল যবন সেনারা। শুরু হল শেষ যুদ্ধ। যেন এক বিরামহীন ভয়ঙ্কর যুদ্ধ! সারাদিন অতিক্রান্ত হয়ে অন্ধকার হয়ে গেল। তবু যুদ্ধ থামে না। মশালের আলোতে উপমন্দিরের আনাচে কানাচে চলতে লাগল খণ্ডযুদ্ধ।

    পুরো প্রাকার তখন ঘিরে ফেলেছে যবন বাহিনী। মামুদ গজনী নিজেও তার তাঁবুতে ফেরেননি। প্রাকারের বাইরে দাঁড়িয়ে জিহাদি তরুণদের তিনি উৎসাহ দিচ্ছেন প্রাকারের ভিতরে ঝাঁপিয়ে পড়ার জন্য। একজন কাফেরকে হত্যা করার ইনাম দশ স্বর্ণমুদ্রা! তার কথা শুনে আরব ধর্ম যোদ্ধারা উটের পিঠ থেকে ঝাঁপিয়ে পড়ছে প্রাকারের ভিতর মন্দির চত্বরে। গজনীবিদ বুঝতে পারছেন মাধেরা জয় শুধু সময়ের অপেক্ষা।

    তাঁর অনুমান মিথ্যা হল না। শেষ রাতে গণপতি উপমন্দিরের সামনে প্রবল বিক্রমে লড়াই করে সবশেষে নিহত হলেন সূর্য মন্দিরের শেষ প্রহরী রাজা মাণ্ডলিক। শেষ হয়ে গেল মাধেরার যুদ্ধ। ভোরের আলো ফোটার মুহূর্তে গর্ভগৃহর দ্বার উন্মোচন করে দেবতার আরাধনাতে বসলেন প্রধান পুরোহিত বিভাবসু। যবনরাও তখন যুদ্ধ শেষে মন্দিরের তোরণ উন্মোচন করে ফেলেছে। সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে বন্যার স্রোতের মতো মাধেরা মন্দিরে প্রবেশ করছে যবন বাহিনী। বিভাবসু কিন্তু তার দেবতা বন্দনায় অচঞ্চল। একদল যবন উল্লাস করতে করতে উঠে এল মন্দির প্রাঙ্গণে। এক জিহাদি তলোয়ারের এক কোপে আলাদা করে দিলো প্রধান পুরোহিতের ধড়-মুণ্ড। বিভাবসুর ছিন্ন মুণ্ড মাটিতে পড়ে বিড় বিড় করে ঠোঁট নাড়িয়ে তখনও যেন বলে চলেছে, ‘ওঁ জবাকুসুম সঙ্কাশং কাশ্যপেয়ং মহাদ্যুতিং…।’

    যে পবিত্র গর্ভগৃহতে প্রধান পুরোহিত ছাড়া অন্য কেউ তাঁর অনুমতি ভিন্ন পা রাখতে পারত না, সেই গর্ভগৃহে চর্ম পাদুকা সহযোগে প্রবেশ করল যবনদের প্রথম দলটা। রত্নখচিত দেবতার অশ্ব, রথচক্র, স্বর্ণপূর্ণ পরিখা, সর্বোপরি হীরক-মরকত-নীলাকান্ত মণি খচিত সূর্যদেবতার স্বর্ণমূর্তি দেখে চোখ ধাঁধিয়ে গেল আরব যুবকদের। পাগলের মতো সেই রথ ধরে ঝাঁকাতে শুরু করল তারা।

    হতভাগ্য সেই বারোজন দেবদাসী লুকিয়ে ছিল সেই রথ ও সূবর্ণ বিগ্রহের আড়ালে। গাছের কোটরে পাখির বাসাতে সর্প প্রবেশ করলে যে অবস্থা হয় তাদেরও অবস্থা হল তেমনই। প্রবল আতঙ্কে চিৎকার করে উঠল তারা। কয়েকজন দেবদাসী যুবক জিহাদিদের নিষ্ঠুর হাতের ফাঁক গলে গর্ভগৃহ থেকে বাইরে বেরিয়ে দিগবিদিক জ্ঞান শূন্য হয়ে ছুটতে শুরু করল। কিন্তু কোথায় পালাবে তারা! একদল আরব ধরে ফেলল তাদের।

    সাপেদের মুখে ধরা পাখির পালক যেমন আকাশে ওড়ে তেমনই কয়েক মুহূর্তের মধ্যেই দেবদাসীদের ছিন্ন বসনগুলো বাতাসে উড়তে লাগল। উল্লসিত আরবদের মাঝে ঢাকা পড়ে গেল মাধেরা সূর্য মন্দিরের হতভাগ্য দেবদাসীদের আর্তচিৎকার। সুলতানের নির্দেশ, কাফেরদের কোনও মূর্তি, তা রত্নখচিত হোক বা না হোক, তা আস্ত রাখা যাবে না। সে কাজ শুরু হল এরপর। বিগ্রহের অঙ্গ থেকে খুবলে ফেলা হতে লাগল সোনার পাত, দুর্মূল্য মণি-মুক্তা। সেগুলো থলেতে ভরে তোলা হতে থাকল উটের পিঠে। সূর্যদেবের রথটাকে খণ্ডবিখণ্ড করে মূল্যবান ধাতু সমৃদ্ধ ঘোড়াগুলোকেও উটের পিঠে চাপানো হল আরব মুলুকে নিয়ে যাবার জন্য। সারাদিন ধরে চলতে লাগল এই কাজ। দিন শেষ হতে চলল একসময়।

    সূর্যাস্তের ঠিক পূর্বমুহূর্তে সূর্যমন্দিরের চত্বরের আসরে একলা দাঁড়িয়ে ছিল কাসেম। চত্বর প্রায় তখন ফাঁকা হয়ে গেছে। মাধেরা মন্দিরের সব সম্পদ উটের পিঠে বোঝাই করে নিজেদের শিবিরের দিকে রওনা দিয়েছে আরবরা। সামান্য কিছু আরব তখনও বিধ্বস্ত মন্দির চত্বরের আনাচে কানাচে সন্ধান চালাচ্ছে যদি কোথাও কোনও ধনরত্নের সন্ধান মেলে তার জন্য। যদিও তা মেলার সম্ভাবনা নেই বললেই চলে। যা ছিল তা সবই মন্দির গাত্র থেকে খুবলে নিয়েছে আরব স্বেচ্ছাসেবক বাহিনী। এমনকী দারুকাঠের টুকরোগুলো পর্যন্ত।

    কাসেম অবশ্য এসব কাজে যোগ দেয়নি। সে ইসলাম কবুল করতে বাধ্য হলেও তার ধমনীতে যে আদি সনাতন রক্ত প্রবাহিত হচ্ছে। সে রক্ত এ কাজে বাধ সেধেছে শুধু তাই নয়, সারাদিন ধরে তার চারপাশে চলতে থাকা এই ধ্বংসলীলার বিরুদ্ধে প্রবল ঘৃণা, বিভীষিকা জাগ্রত করেছে তার হৃদয়ে। পাথরের মূর্তির মতো অসহায় ভাবে দাঁড়িয়ে সে প্রত্যক্ষ করেছে সব কিছু।

    এমন বিষণ্ণ, রক্তাক্ত সন্ধ্যা কোনও দিন নামেনি মাধেরা মন্দিরে। চারপাশে শুধু ছড়িয়ে আছে ধ্বংসস্তূপ, পাথর, কাষ্ঠখণ্ড আর মৃতদেহ। যে মাধেরা মন্দিরে এ সময় সন্ধ্যারতির ধূপের সৌরভে পরিপূর্ণ থাকত সেখানের বাতাসে এখন শুধুই রক্ত আর উটের বিষ্ঠার দুর্গন্ধ!

    নিঃসঙ্গ কাসেম একলা দাঁড়িয়ে ভাবছিল, ‘এ আমি কী পাপ কাজে লিপ্ত হলাম! নিয়তি কি নিষ্ঠুর খেলা খেলছে আমাকে নিয়ে! এই অনাচার, পাপকার্যের পথ প্রদর্শক হতে হচ্ছে আমাকেই।

    সে যেখানে দাঁড়িয়ে ছিল তার কিছুটা তফাতে একজন আরব একটা বেশ বড় গোলাকৃতি ধরনের প্রস্তর খণ্ড নিয়ে বারবার মাটিতে আছাড় মারছিল সেটা চূর্ণ করার উদ্দেশ্যে। কাসেমকে একলা দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে সেই প্রস্তর খণ্ডটা নিয়ে এসে দাঁড়াল কাসেমের সামনে। সেটা সে কাসেমের দিকে বাড়িয়ে দিয়ে বলল, ‘দেখো তো এটা ভাঙতে পারো কিনা। এর ভিতরেও হিরা-জহরত লোকানো থাকতে পারে। শুনেছি এই পাথরের পুতুলগুলোর ভিতরেও ধনরত্ন পুরে রাখে কাফেররা!

    কাসেম কথাটা শুনে আরবের হাতে ধরা প্রস্তর খণ্ডর দিকে তাকিয়ে চমকে উঠল! যদিও তার গা থেকে খুবলে ফেলা হয়েছে সোনার পাত। অক্ষিকোটর থেকে বার করে ফেলা হয়েছে হীরক খণ্ডের তৈরি অক্ষিগোলকগুলো তবু জিনিসটা চিনতে অসুবিধা হল না কাসেমের। লোলুপ আরবের হাতে ধরা আছে মাধেরা সূর্য মন্দিরের সূর্য দেবতার ছিন্ন মস্তক। সুলতানের নির্দেশে অন্য আরবরা যা তাঁর দেহ থেকে ছিন্ন করে সোনা, হীরকখণ্ড খুলে নিয়ে মাটিতে ফেলে দিয়ে গেছিল, সেটাই আবার রত্ন লাভের আশাতে তুলে এনেছে এই আরব! বিদায়ী সূর্যের শেষ রক্তিম আভাতে কাসেমের দিকেই যেন চেয়ে আছে সেই ছিন্ন মস্তক! যেন রক্ত ঝরছে মস্তকের ছিন্ন কণ্ঠদেশ ধেকে!

    এ দৃশ্য আর সহ্য করা সম্ভব হল না জন্মসূত্রে সনাতন ধর্মাবলম্বী কাসেমের পক্ষে। যবনের হাত থেকে সেই ভারী সূর্যদেবের মস্তক তুলে নিয়ে কাসেম সেটা মাটিতে আছাড় না মেরে আছাড় মারল যবনের কপালে। মুহূর্তর মধ্যে চূর্ণ হয়ে গেল যবনের মস্তক। মাটিতে ছিটকে পড়ল তার দেহ!

    কাসেমের মনের ভিতর এরপর কে যেন বলে উঠল, ‘পালাতে হবে! পাপ স্খলন করতে হবে আমাকে! সোমনাথবাসী হয়তো জানে না যে গজনীবিদ মামুদের এ অভিযানের আসল লক্ষ সোমনাথ মন্দির। মামুদ সেখানে উপস্থিত হবার আগেই তাদের সে সংবাদ পৌঁছে দিতে হবে যাতে তারা বিগ্রহ রক্ষার চেষ্টা করেন।’

    কাসেমের হৃদয় থেকে কথাটা উঠে আসার সঙ্গে-সঙ্গেই সে মন্দির চত্বর থেকে বাইরে বেরোবার জন্য ছুটতে শুরু করল। মন্দির তোরণের ঠিক মুখেই একজন আরব কয়েকটা ঘোড়ার লাগাম ধরে মন্দিরের ভিতরে প্রবেশ করছিল ঘোড়াগুলোকে কুণ্ডের জল খাওয়াবার জন্য। কাসেম তার হাত থেকে একটা ঘোড়ার লাগাম কেড়ে নিয়ে ঘোড়ার মুখ ফিরিয়ে লাফিয়ে তার পিঠে উঠে বসল। বিস্মিত আরব আরও প্রশ্ন করল, ‘আমার ঘোড়া নিয়ে তুমি কোথায় যাচ্ছ?’

    কাসেম তার কথার কোনও জবাব না দিয়ে হাতের লাগামে ঝাঁকুনি দিয়ে ঘোড়াটাকে ছুটিয়ে দিল। কাসেম তার ঘোড়া নিয়ে পালাচ্ছে অনুমান করে আরব তার পিঠ থেকে তির-ধনুক খুলে নিয়ে তির চালাল কাসেমকে লক্ষ্য করে। ধাবমান কাসেমের পিঠে বিদ্ধ হল সেই তির। ঠিক সেই সময় ঝুপ করে অন্ধকার নেমে এল মাধেরার বুকে।

    তির বিদ্ধ অবস্থায় গজনীবিদ মামুদের শিবির ত্যাগ করে তাদের পথ প্রদর্শক কাশেম হারিয়ে গেল রাত্রির অন্ধকারে। সুলতান শিবিরে খবরটা পৌঁছতে দেরি হল না। তিনি বললেন, ‘হয়তো সোমনাথ মন্দিরে পৌঁছতে দুদিন দেরি হবে আমাদের, কিন্তু আমরা সেখানে পৌঁছবই। আর মাত্র অল্প পথ বাকি। কাসেমকে যদি ধরা যায় তবে তাকে জীবন্ত দগ্ধ করব আমি।’

    পরদিনও মাধেরাতেই অবস্থান করলেন গজনীবিদ মামুদ তার উষ্ট্র বাহিনীকে মন্দির কুণ্ডের জল পর্যাপ্ত ভাবে পান করিয়ে নেবার জন্য। তার পরদিন ভোরের আলো ফুটতেই শিবির উঠিয়ে মাধেরা ত্যাগ করে যাত্রা শুরু করল মামুদের বিশাল বাহিনী। গজনীবিদ মূর্তি ধ্বংসকারী আরব মামুদের শেষ লক্ষ সোমনাথ মন্দির।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleরানি হাটশেপসুটের মমি – হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    Next Article ভয় ভয়ঙ্কর – হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত

    Related Articles

    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত

    সাদা বিড়াল – হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত

    January 31, 2026
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত

    নেকড়ে খামার – হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত

    December 10, 2025
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত

    অ্যাডভেঞ্চার সমগ্র ১ – হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত

    December 10, 2025
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত

    অ্যাডভেঞ্চার সমগ্র ২ – হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত

    December 9, 2025
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত

    জাদুকর সত্যচরণের জাদু কাহিনি – হিমাদ্রি কিশোর দাশগুপ্ত

    December 9, 2025
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত

    আঁধার রাতের বন্ধু – হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত

    December 9, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026
    Our Picks

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026

    ভুতুড়ে ট্রেন – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026

    ব্রাহ্মণ ভূত – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }